Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শক্তিপদ রাজগুরু সাহিত্যের সেরা গল্প

    শক্তিপদ রাজগুরু এক পাতা গল্প234 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বেসাতি

    ঘোষবাড়ি আজ জমাট। অবশ্য দীনবন্ধু ঘোষের নাম এই অঞ্চলের সবাই জানে। পাতিপুকুর বাজার—ঘোড়ার মাঠ, মায় যশোর রোড—ওদিকে নাগেরবাজার আর এদিকে বেলগাছিয়া তক দীনু ঘোষকে সবাই চিনত। খালের ধারে বিশাল গুদাম। তখন বেলগাছিয়ার খাল ছিল চালু জলপথ। যশোর, খুলনা, পূর্ব বাংলা থেকে বড় বড় মহাজনী নৌকা বোঝাই হয়ে খুলনা; বরিশালের সোনা রঙের আঁশওয়ালা পাট, বস্তা বস্তা বালাম চাল, সুপারি-ধান-গুড় নানা কিছু মালপত্র আসত আর দীনু ঘোষের গুদামে উঠত। এই দিগরের নাম করা মহাজন।

    দীনু ঘোষের ব্যবসা তখন রমরমিয়ে চলছে। তখন উত্তর কলকাতার বেলগাছিয়া পার হলেই দেখা যেত জলা, হোগলা বন, মাঝে মাঝে দু-একটা বাগানবাড়ি। যশোর রোডের পাশ দিয়ে তখন বসিরহাট যাওয়ার ছোট রেলগাড়ি যেত। ওই রেলগাড়িই ছিল যোগাযোগের পথ।

    দীনবন্ধু ঘোষ তখন বেলগাছিয়া ছাড়িয়ে একটু আগে যশোর রোডের ওদিকে একটা বাগানবাড়ি কেনে। বেশ কিছু আম-কাঁঠাল-লিচু গাছও রয়েছে। আশেপাশে দু-চারজন বাসিন্দা আছে।

    দীনু ঘোষ তখন ওই বাড়িটা কিনে চাল-পাটের আড়ত করেছিল।

    সে এখন অতীতের কথা। এখন দীনবন্ধুর ছেলেরাও গত হয়েছে। দুই ছেলে মারা যাওয়ার পর বিষয়-পত্রও ভাগ হয়ে গিয়েছে। আর বেলগাছিয়ার খাল এখন বন্ধ। পূর্ববাংলা এখন ভিন্ন রাজ্য। তাই ব্যবসা-বাণিজ্যও বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

    তবু দীনু ঘোষের নামটাই রয়েছে মাত্র। ছোট তরফের ভাগে পড়েছিল ওই বাগানবাড়িটা। এখন দীনু ঘোষের তিন নাতি আর এক নাতনীর দখলে ওই বাড়িটা।

    ঘোষবাড়ির হাঁক-ডাক ছোটবাবু নরেন ঘোষ বেঁচে থাকা অবধি ছিল।

    নরেনবাবু দীনু ঘোষের ছোট ছেলে। দীনু ঘোষ কষ্ট করে ব্যবসা করে সম্পত্তি কিনেছে, আর ছোট ছেলে নরেন ভোগই করেছে।

    বাবা মারা যাওয়ার পর ভারত দু’টুকরো হয়ে গেল। বদলে গেল কলকাতার হাল। বড় ছেলে ব্যবসা সামলাবার চেষ্টা করেও পারেনি। ফলে ব্যবসাও উঠে গেল। দুই ভাই দু’দিকে।

    নরেন ঘোষ এসব ভাবে না। তার ভাবার দরকারও নেই। ব্যবসা-দোকান-গুদাম বিক্রী করে ভাগে বেশ কিছু টাকা পেয়ে সে পাতিপুকুরের এই বাড়িতে উঠে এসেছে তার ছেলেমেয়েদের নিয়ে।

    ক’বছরেই এদিকের চেহারাটা বদলে গিয়েছে। দেশ বিভাগের পর পূর্ববাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষ এসে কলকাতার আশেপাশে যে যেখানে পেরেছে বসত গড়েছে। ফলে আশেপাশের সব জায়গার দামও বেড়েছে চড় চড় করে। আর, জলা, নীচু জমি বুজিয়ে চারিদিকে বাড়ি আর বাড়ি উঠেছে। যে ভাবেই হোক একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই চাই। ফলে সারা অঞ্চলে এখন বাড়ি আর মানুষ।

    নরেন ঘোষ গানের চর্চা নিয়েই থাকে। ক্রমশ বয়স হচ্ছে—কলসীর জমা জল গড়াতে গড়াতে তলানিতে এসে ঠেকেছে।

    ছেলেরা কোনমতে স্কুল কলেজের গণ্ডী টপকে এবার চাকরির সন্ধানে ঘুরছে। তারাও বুঝেছে তাদের জন্যে পিতৃদেব এমন কিছু রেখে যাবেন না যা দিয়ে সংসার নামক নৌকাটাকে জীবনের স্রোতে তারা বাইতে পারে।

    বড় ছেলে দীপক তবু বাবার সংসারে কিছুটা সুদিন দেখেছে। সে স্কুল পার হয়ে কলেজের বেড়া টপকে এখানে ওখানে চাকরির চেষ্টা করেছে। শেষে কলকাতায় হালে পানি না পেয়ে কোনও এক ভদ্রলোকের দয়ায় রাঁচিতে একটা কারখানাতে চাকরি পেয়েছে।

    তাই সে কলকাতা ছেড়ে রাঁচিতেই থাকে। দীপকের মেজ ভাই প্রদীপ কোনমতে বি-এ পাশ করে কলকাতার এক সওদাগরি অফিসে কাজ করে।

    মেয়ে দীপার বিয়ে-থা দিয়েছিল নরেনবাবু কোনওমতে কিছু টাকা সংগ্রহ করে, স্ত্রীর গহনাও কিছু গেছে সেই বিয়েতে। কিন্তু বিয়ের দু’বছরের মধ্যেই দীপার স্বামী মারা যায়। বেলেঘাটার শ্বশুরবাড়িতে দীপার থাকার জায়গাও হয়নি। কারণ শ্বশুর-শাশুড়ি সকলেই বিশ্বাস করে যে বৌয়ের জন্যেই মারা গিয়েছে তাদের সন্তান। তাই চোটটা পড়ে দীপার ওপরই। ফলে দীপার আর সেখানে থাকা হয়ে ওঠেনি। এই বাড়িতে বাবা মায়ের কাছেই ফিরে আসে দীপা।

    মেজ ভাই প্রদীপের তখন বিয়ে-থা হয়েছে। মিতা এসেছে এই ঘোষবাড়ির বৌ হয়ে। ক্রমশ দেখে মিতা এ বাড়ি সম্বন্ধে মিথ্যা একটা ধারণাই দিয়েছিলেন তার বাবাকে।

    বেশ বড় বাগান ঘেরা বাড়ি। বনেদী আমলের বাড়ি। গেটে এখন আর দারোয়ান নেই। অতীতে থাকত। এখন ফাঁকাই পড়ে থাকে। বাগানের ওদিকে বাড়িটা। এখনও তার আভিজাত্য অনেকেরই নজরে পড়ে।

    সেই বড় বাড়ির বৌ হয়ে এসে মিতা দেখেছে এদের সংসারের অবস্থাটা। গাছের আম-নারকেল-কাঁঠাল বিক্রী করে দিন চালাতে হয়।

    স্বামী প্রদীপের রোজগারে এত বড় সংসার চলে না। বড় ছেলে দীপক এখন রাঁচিতেই ঘর বেঁধেছে। তারও সংসার বড় হয়েছে ফলে বাবা মাকে টাকাও তেমন পাঠাতে পারে না।

    ছোট ছেলে প্রবীর স্কুলের গণ্ডীতেই আটকে পড়েছে। বার তিনেক এক ক্লাশে গড়ান দিয়ে এখন পড়া ছেড়ে রেল-লাইনের ওদিকে রাতের অন্ধকারে এই এলাকার কিছু উঠতি মস্তানদের সঙ্গে আড্ডা মারে।

    তার বাড়ি ফেরার কোনও সময় নেই। কোনও দিন রাতে বের হয়ে যায় ফেরে মধ্য রাত্রে। এই এলাকার চিৎপুর রেল ইয়ার্ডে মাঝে মাঝে ওয়াগন লুট হয়। ট্রাক ট্রাক মাল পাচার হয়ে যায় রাতের অন্ধকারে। মাঝে মাঝে বোমা-গুলি-গোলার শব্দ ওঠে। অন্ধকারে ছায়ামূর্তির দল এদিকে ওদিকে দৌড়াদৌড়ি করে। পুলিশের ভারি বুটের শব্দ, বাঁশীর শব্দ ছাপিয়ে গুলির তীক্ষ্ণ আওয়াজও কানে আসে।

    মিতা চুপ করে শোনে। প্রদীপ বলে—এই এলাকা এখন ওয়াগন ব্রেকার আর চোরাচালানিদের রাজ্যি হয়ে উঠেছে।

    দিনের বেলাতেও দেখা যায় লোকাল ট্রেন, দূরপাল্লার নামী-দামী ট্রেনগুলোও দাঁড়িয়ে যায় কোনও অদৃশ্য ইঙ্গিতে। লাইনের ধারে দুমদাম করে চালের বস্তা পড়তে থাকে। আর নিচেও লোকজন তৈরি থাকে। দেখতে দেখতে পাহাড় প্রমাণ চালের বস্তা—অন্য জিনিস-পত্রও তুলে নিয়ে যায় তারা। আবার ট্রেন ছাড়ে।

    প্রবীরকে দেখা যায় দামী জিনস-জ্যাকেট পড়ে পাড়ায় ঘুরতে। একটা লালরঙের মোটরবাইক হাঁকায়। পাড়ার দোকানদার, বেলগাছিয়ার মাছের আড়তদার, ফড়েরাও সমীহ করে চলে। ভোটের সময় প্রবীরের সময় থাকে না। এই এলাকার এম-এল-এ সাহেবের জিপের আগে তার লাল মোটরবাইক এগিয়ে যায় তাতে দলের পতাকা ওড়ে।

    পাড়ার অন্যত্র মিটিং-এ প্রবীরের দলই শান্তি বজায় রাখার জন্যে মোতায়েন থাকে। প্রবীরের দলের সামনে প্রতিপক্ষের সমর্থকরাও মুখ খুলতে সাহস করে না। কারণ ওদের দু-একজন মাতব্বরকে অন্ধকারে ভোজালি-চেম্বার দেখিয়ে শাসায়—লাশ গিরিয়ে দেব।

    ওদের মিটিংও হতে পারে না। মুড়ি মুড়কির মতো বোমা বৃষ্টি হয়। দু-চারজন জখম হয়। থানা অফিসাররাও কোন বিশেষ কারণে প্রবীরকে কিছু বলে না। সময়মত তাদেরই লোক এসে খবর দিয়ে যায়—আর প্রবীরও সরে পড়ে।

    দীপা দেখছে প্রবীরের এই কাণ্ড। বাড়ির বাইরের ঘরে পাড়ার ওর দলের অনেকেই আসে।

    ওদিকে এসে এখন বাড়ি করেছে ভূতনাথ সাহা। বাজারে একটা দোকানও কিনেছে। আর ভূতনাথের ছেলে ভবনাথ প্রবীরের বন্ধু। ছেলেটা বেশ চালু।

    এর মধ্যেই ভবনাথ বাবার দোকান বাড়িয়েছে আর নেতাকে ধরে রেশনের ডিলারশিপও পেয়েছে। ওই এলাকার একটা চালাঘর জবরদখল করে সেখানে আটা-চাকি বসাবার চেষ্টা করছে। তাই সেই নেতার ভোটে ভবনাথও জোর প্রচার চালায়। প্রবীরদের বাড়িতে আসে।

    প্রবীরকে এখন বাড়িতেও সমীহ করে। নরেন ঘোষের শরীর ভেঙে পড়েছে। হাঁপানীর রোগী, টান উঠলে মনে হয় যে কোনও মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু হয় না। পুঁটিমাছের প্রাণ—সামান্য জলেও ছটফট করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে।

    মেজ ছেলে প্রদীপ মাস গেলে সামান্য মাইনেটাই সংসারে ধরে দেয় মাকে।

    দীপা এ বাড়ির পোষ্য। সে বলে, মেজদা, দুখানা সাদা খোলের শাড়ি দিবি? সব ছিঁড়ে গেছে।

    মিতা এই বাড়ির বৌ হয়ে এসে দেখছে পদে পদে তাকে বঞ্চনাই সইতে হয়। স্বামীর রোজগারে তার কোনও অধিকার নেই। ওই নরেন ঘোষ আর তার বিধবা মেয়ে সবাই যেন ভাগ বসাবার জন্যে ওত পেতে থাকে।

    মিতারও নিজের ছেলে-মেয়ে হয়েছে। তার ছেলে সুবীর এখন ক্লাশ টুতে পড়ে। মিতার সাধ ছেলেমেয়েকে ভালভাবে রাখবে। কিন্তু পদে পদে অনুভব করে এখানে থাকলে সেটা কোনও মতেই সম্ভব নয়। তাই বলে মিতা প্রদীপকে—এই বাড়িতে কেন পড়ে আছ? বড়দা কেমন বাইরে শান্তিতে আছে।

    প্রবীর বলে, কিন্তু বাবা মাকে ছেড়ে এই সংসার ছেড়ে, বাড়ি ছেড়ে যাই কোথায়?

    এই বাড়িটাকে সবচেয়ে বেশি ভাল লাগে প্রদীপের ছেলে সুবীরের। ছোট ছেলেটা বাড়ির বাগানে ঘোরে। চারিদিকে এখন ঘিঞ্জি, বাড়ি দোকান বস্তি সব যেন জায়গাটাকে ভরিয়ে দিয়েছে। তার মাঝে তাদের পাঁচিল ঘেরা এই সবুজ বাগান—শিশু সুবীরের কাছে এক সুন্দর জগৎ বলে মনে হয়।

    আমগাছে মুকুল আসে, বাতাসে ওঠে মিষ্টি গন্ধ। মৌমাছির গুনগুন শব্দ শোনে সে কান পেতে। কাঁঠালিচাঁপা ফুলের মিষ্টি সুবাস তার কাছে বিচিত্র এক অনুভূতি আনে। সকালে উঠে বাগানে আসে—পাখিদের কলরব ওঠে এখানে। চাঁপাগাছের হলুদ ফুলের সমারোহ, রঙিন ডানা মেলে ওড়া প্রজাপতির দল—সুবীর যেন রূপকথার রাজ্যে হারিয়ে যায়।

    এই তার জগৎ—এখানে যেন নীলপরীরা ভেসে আসবে। তাকে নিয়ে যাবে কোনও এক স্বপ্নরাজ্যে। ছোট সুবীর মাঝে মাঝেই বাড়ি থেকে বের হয়ে চলে আসে বাগানে।

    নরেন ঘোষ এতদিন ভুগে ভুগে হঠাৎ সেদিন হার্টফেল করে মারা যায়। যেন বেঁচেই যায় সে। আর নরেনবাবুর স্ত্রী, এবাড়ির গিন্নীও কমাস পরই জ্বরে পড়ে। বেঘোর জ্বর। হুঁশ নেই।

    প্রদীপ কি করবে ভেবে পায় না। বাবার কাজের জন্যে বড়দাকে লিখেছিল কিছু টাকা আনতে। বড় ভাই দীপক এসেছিল তার স্ত্রী ছেলেমেয়েদের নিয়ে। কিন্তু টাকার কথায় সে বলে, এ বাড়ির আয় পয় কিছুই নিই না। বাবারও কিছু জমা টাকা ছিল। তার থেকেই শ্রাদ্ধ কর। আমার দেওয়ার মতো অবস্থা নেই।

    মিতা শোনে কথাগুলো। ছোট ভাই প্রবীর কিছুদিন বেপাত্তা। রেললাইনের ধারে কে যেন খুন হয়েছিল। সেই ব্যাপারে নাকি পুলিশ প্রবীরকে খুঁজছে।

    প্রদীপই ধার দেনা করে কোনও মতে ঘোষবংশের দ্বিতীয় পুরুষের সৎকার শেষ করে। তার কয়েক মাস পরই মা অসুখে পড়ে।

    দীপাও দেখে সংসারের হাল। প্রবীর বাড়িতে নেই। সেও বোঝে দাদার অবস্থা। তার মনে হয় কিছু করা দরকার। আজকাল মেয়েরাও কাজকর্ম করছে। কিন্তু দীপা লেখাপড়া তেমন শেখেনি। বিয়ে-থার পর নিজের সংসারে গিয়েছিল। সেখানেও ঠাঁই হয়নি তার—সব আশা আশ্বাস, নির্ভরতা হারিয়ে গিয়েছে।

    বাবা মায়ের ভরসাতেই মেয়েরা বাপের বাড়িতে থাকে। ভাই-ভাইয়ের বৌরা তাদের মেনে নিতে পারে না। বোঝা বলেই ভাবে। পদে পদে দীপা দেখে ওদের ব্যবহারে সেই ভাবটাই ফুটে উঠছে।

    ভবনাথ অবশ্য মাঝে মাঝে আসে। প্রবীরের গোপন আস্তানার খবর সে-ই জানে। ভবনাথ এখন মনে হয় ভালই আছে। প্রবীর সেই নেতাদের হয়ে গোপনে লড়াই করে। ভোটের সময় দলবল নিয়ে বুথে ভিড় জমায়। ওর দল বুথ দখল করে নেতার ভোটের বাক্স ভরিয়ে দেয়। বাধা দিলে বোমাও ছোড়ে।

    আর ভবনাথ দাদার দলের হয়ে মিটিং করে, মিছিল করে বেশ গুছিয়ে নিয়েছে। এখন আটা-চাকি করেছে। ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে তেলকলও বসাচ্ছে।

    দীপা সেদিন ভবনাথকে বলে, মায়ের অসুখ। কিছু টাকার দরকার।

    বাগানে তখন বৈকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। পাখিদের কলরব শোনা যায়।

    দীপা ক্রমশ জেনেছে প্রবীরের বন্ধুদের মধ্যে ভবনাথকেই বিশ্বাস করা যায়। এর আগেও ভবনাথ দীপাকে এটা সেটা এনে দিয়েছে। শাড়িও দেয়। দীপা প্রথমে অনুযোগ করত, এসব কেন আনো?

    ভবনাথ বলে, দিতে মন চায়, তুমি নেবে না?

    দীপা চুপ করে যায়। দেখছে ভবনাথই একমাত্র মানুষ যে তার জন্যে ভাবে, কিছু করার চেষ্টা করে। প্রথমে দীপার এটা ভাবতেও সংস্কারে বাধত। কিন্তু ক্রমশ ভেবেছে দীপা। তার কোনও অপরাধ নেই। স্বামী মারা যেতে শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হল। এখানেও আজ তার পাশে কেউ নেই। অথচ তার বাঁচতে হবে—একটা অবলম্বন চাই। ভবনাথকেই মনে হয় সেই নির্ভর।

    দীপা আজও বলে, কি হবে ভব। প্রদীপ আর কত দেবে? ছোটনেরও খবর নেই।

    ভবনাথের তখন ব্যবসায় কাঁচাপয়সা আসছে। সেও ব্যবসাদার। হিসেব করেই চলে। ভবনাথ বলে, আমি তো আছি। ভবনাথই টাকা দেয়।

    মিতাও দেখেছে ব্যাপারটা। বাড়ির বাগানে মিতা দেখেছে ভবনাথ আর দীপাকে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলতে।

    প্রদীপকে বলে মিতা, ছেলে মেয়েরা বড় হচ্ছে, তারাও এই প্রেমের নাটক দেখছে। তোমার বিধবা বোনকে একটু বুঝে শুনে চলতে বল। এসব আমার ভাল ঠেকছে না।

    প্রদীপ জানে সব। দীপা মাঝে মাঝে তাকে গোপনে কিছু টাকা দেয়। আর সেই টাকা কি ভাবে কোথা থেকে আসে তাও জানে প্রদীপ। বোনের সম্মান, এই ঘোষবাড়ির সম্মানের থেকেও আজ তার কাছে টাকাটাই বড়। তাই সব জেনেও প্রদীপ কিছু বলেনি, বলতে পারেনি।

    আজও তাই স্ত্রীর কথায় প্রদীপ একেবারে যেন আকাশ থেকে পড়ে। বলে সে, এসব কি বলছ?

    মিতা বলে, ঠিকই বলছি। সব ব্যাপারটাই আমার চোখে পড়েছে। সাবধান না হলে বিশ্রী কাণ্ড একটা ঘটে যাবে। তখন আর করার কিছুই থাকবে না।

    প্রদীপ বলে, দেখছি। এ সময় প্রবীরও নেই। সারা সংসারের দায় যেন আমারই।

    মিতা বলে, এখানে থাকলে সব তো ঘাড়ে চাপবেই। চলে যেতে পারো না এখান থেকে?

    কথাটা প্রদীপও ভেবেছে। কিন্তু প্রথমত, বাড়ি ঘর ভাড়া পাওয়াই এখন কঠিন সমস্যা হয়ে উঠেছে। মানুষজনই বেড়েছে সেই তুলনায় বাড়ি-ঘর তো বাড়েনি। ফলে বাড়ি-ঘরের চাহিদা যত বেড়েছে ভাড়াও বেড়েছে, তার ওপর রয়েছে সেলামী। তার পরিমাণও কম নয়। তাই বাড়িভাড়ার কথা ভাবতেও পারে না প্রদীপ।

    মিতা বলে, তাহলে পড়ে পড়ে মারই খাও। এক ভাই তো দেশান্তরী হয়ে গেছে, অন্যজনের পাত্তা নেই, আর এক বোন শাঁখা সিঁদুর মুছে ঘোমটার নিচে খেমটা নাচ শুরু করেছে। ভাল চলছে যা হোক।

    প্রদীপের মা ছিল একটা সমস্যা—বাবা আগেই গিয়েছেন—এবার মা-ও ক’দিন জ্বরে ভোগবার পর চলে গেল। মা বাবাই সংসারকে কিছুটা বেঁধে রাখে, ভাই বোনদের একটা সুরে বাঁধার চেষ্টা চালায় যত দিন পারা যায়। তারপর নানা কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়, এক সংসার তখন পাঁচ সংসারে বিভক্ত হয়ে যায়।

    প্রদীপও দেখে এবার সে যেন দায়মুক্ত। কিন্তু দীপা রয়েছে। মিতা বুঝেছে ওই বিধবা মেয়েটা এখন তাদেরই বোঝা। আজীবন সেই বোঝা টানতে হবে। তাই তার মনও বিদ্রোহী হয়ে ওঠে আর সেই ভাবটাও প্রকাশ পায় কথাবার্তায়।

    প্রদীপের ছেলে সুবীর আর মেয়ে পিয়া অবশ্য এইসবের খবর রাখে না। ছেলে মেয়ে দুটোকে ছোট থেকে দীপাই কোলে পিঠে করে মানুষ করেছে। মিতা সংসারের কাজে ব্যস্ত। তাদের নাওয়ানো-খাওয়ানো, স্কুলে নিয়ে যাওয়া ফিরিয়ে আনা—এসবই করে দীপাই। তার শূন্য জীবনে ওই শিশুদুটোই যেন অবলম্বন।

    বৌদি ঠারে-ঠোরে বলে, হুঁশিয়ার হয়ে থাকতে হবে। বদলোকের অভাব নেই।

    অর্থাৎ ভবনাথ সম্বন্ধেই মন্তব্যটা করে। কখনও বলে মিতা—একজনের রোজগারে পাঁচজন আজকাল চলে না। নিজেদেরও হাত-পা বের করতে হয়।

    দীপা বোঝে এসবের অর্থ। তবুও মুখে কিছু বলে না। ধারালো কথার খোঁচাগুলো নীরবে হজম করে।

    দীপা বাগানে ঘোরে সুবীর-পিয়াকে নিয়ে। ছায়া মাখা স্নিগ্ধ পরিবেশ। রোদের তীব্রতা এখানে নেই। বাতাসে ওঠে কাঁঠালিচাপা, বেলফুলের সুবাস। পাখিডাকা শান্ত জগৎ। গাছের নিচে বসে দীপা কোনদিন রাজপুত্র তেপান্তরের মাঠের গল্প বলে। শিশুমনের কল্পনায় ফুটে ওঠে পঙ্খীরাজের ছবি। সুবীর বলে, পিসি, রাজপুত্র খুব বড়লোক, না?

    সে খবরটা দীপাও জানে না। তার চোখে এক রাজপুত্রের ছবি ভেসে ওঠে—সে ওই ভবনাথ। ওই ভবনাথকে কেন্দ্র করে দীপার বঞ্চিত মনও স্বপ্ন দেখে।

    ছোট ভাই প্রবীর হঠাৎ ফিরে আসে। এখন তার চেহারাতে এসেছে একটা উদ্ধত ভাব। সে দেখেছে জীবনকে নানা পটভূমিকায়। দেখেছে টাকা-প্রতিপত্তিটাই বড় কথা। এখন বাড়িতে আসে, তবে আলাদাই থাকে। তার আসা-যাওয়ারও ঠিক-ঠিকানা নেই। কখন খায় কি খায় কোথায় খায় তাও জানা যায় না।

    দীপা বলে, ছোড়দা, কি করিস তুই? কাজকর্ম দ্যাখ কিছু।

    প্রবীর ওদিককার ঘরে থাকে। দরজাটা বন্ধই থাকে—ওপাশ দিয়ে তার যাতায়াতের পথ। প্রবীর বলে, আমার জন্যে কাউকে ভাবতে হবে না। আর আমিও কারোর জন্য ভাবি না। সে সব টাইম আমার নেই।

    মাঝে মাঝে পাড়ার গোপেশবাবুর জিপ এখানে আসে। কি সব মালপত্র নামায়। না হয় তুলে নিয়ে চলে যায়। গোপেশবাবুই এখন এই এলাকার অলিখিত সম্রাট। বড় রাস্তার ওদিকে বিস্তীর্ণ জলা বুজিয়ে তার হাউসিং কমপ্লেক্স গড়ে উঠছে। ইদানীং এদিকেও ফ্ল্যাট বাড়ি তৈরি হচ্ছে যত্রতত্র। আর পড়তে পাচ্ছে না। আড়াই তিন চারলাখ টাকাতেই বিক্রী হয়ে যাচ্ছে শুয়োর খুপরীর মতো দু’ঘরের ফ্ল্যাট।

    প্রবীর এখন গোপেশদার কাছের মানুষ। আর এই এলাকার উঠতি মস্তানদের নিয়ে প্রায়ই ঘোরাফেরা করে।

    দীপাকে সেদিন প্রবীর বলে, ওই ভবা ব্যাটার সঙ্গে শুনি বেশ মেলামেশা করছিস?

    দীপা কথা বলে না। ওই উদ্ধত প্রবীরকে সে পাত্তাই দিতে চায় না।

    প্রবীর বলে, ও ব্যাটা আজকাল ধরণীর দলে মিশছে। গোপেশদা বিশুদাকে লেঙ্গি মারতে গেলে ওকেই ফুটিয়ে দেব।

    এইসব অন্ধকারের রাজনীতি বোঝে না দীপা। তবু বলে, এই গোপেশদাই কি সাধু?

    প্রবীর দেখে বোনকে। চটে ওঠে সে গোপেশদার নিন্দায়। বেশ জানে ধরণীবাবুর দল এবার এখানে ক্ষমতায় আসতে চায়। তারা এলে প্রবীরের মস্তানি-তোলা আদায় বন্ধ হয়ে যাবে। তাই প্রবীর ভবনাথকে সহ্য করতে পারে না। প্রবীর বলে, ওই ধরণীর চেয়ে অনেক সৎ। ভবনাথের মতো ধান্দাবাজ নয়।

    এর ক’দিন পরই কাণ্ডটা ঘটে যায়। অবশ্য এর প্রস্তুতি চলছিল আগে থেকেই। দীপা সেদিন ভোররাতে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। বেলা অবধিও ফেরে না। সুবীর পিয়াকে স্কুলে পাঠানো যায় না। দীপা নেই। গেল কোথায় সে?

    মিতা বলে, দ্যাখ কি সর্বনাশ করে গেল মুখপুড়ি। বার বার বলেছিলাম— সাবধান হও। এবার হল তো?

    প্রদীপ প্রবীরকে ডাকে। প্রবীর বেলা অবধি ঘুমোয়, কারণ রাতে তার ফেরার ঠিক নেই। তার বেশির ভাগ কাজ হয় রাতের অন্ধকারে। সেদিন দাদার ডাকে ধড়মড় করে ওঠে। অভ্যাসবশতঃ বালিশের নিচে থেকে চেম্বারটা তুলে নেয়। কারণ সে যে সব কাজ করে শত্রুর অভাব নেই। সে চেম্বারটা তুলে লাফ দিয়ে ওঠে।

    —কে!

    প্রদীপ ভাইয়ের হাতে অস্ত্রটা দেখে ঘাবড়ে যায়। ভাই সম্বন্ধে তার বেশ কিছু ধারণাই ছিল। কিন্তু সে রিভলবার নিয়ে ঘোরে তা জানতো না। প্রদীপ বলে, ওসব রাখ। দীপাকে পাওয়া যাচ্ছে না।

    —সে কি!

    প্রবীর কি ভেবে বের হয়ে যায়। তার মনে হয় এ ভবনাথেরই কাজ। তাই ওর বাড়িতেই সটান গিয়ে হাজির হয়। কিন্তু ভবনাথও বাড়িতে নেই। কোথায় যেন বেড়াতে চলে গেছে কাল রাতে। প্রবীর ফেরে। বাড়িতে এসে বলে, ওই ব্যাটার সঙ্গেই কেটেছে। ব্যাটাকে পেলে লাশ গিরিয়ে দিতাম।

    ক্রমশ প্রবীরও বুঝেছে ধরণীবাবুর দলও তৈরি। তাকেও সাবধান হতে হবে।

    প্রবীর ভবনাথের ভাইকেই শাসায়, কোথায় ভবা? বল—না হলে ভাল হবে না।

    পরদিন সন্ধ্যাতে প্রবীরের ওপরই একটা বোমা পড়েছিল—নেহাৎ বরাত জোরেই বেঁচে গেছে। প্রবীরের দলের গোপেশদাও ব্যস্ত ওঠে। বলে, ধরণীদের দেখে নেব।

    ভয় হয় মিতারও। তাদের বাড়ির সামনেই বোমা পড়েছে। ভীত মিতা বলে, এখান থেকে চল যেখানে হোক, এই ডাকাত গুণ্ডার রাজ্য থেকে চল। মেয়েটাও গেছে। একা দুটো বাচ্চাকে নিয়ে পড়ে থাকি এই বনপুরীতে।

    কথাটা ভাবছে প্রদীপও।

    এমন দিনে প্রবীরই বলে, এত বড় বাড়ি বাগান এ সব রাখা যাবে না। বিক্রী করলে ভাল দামই দেবে গোপেশদা। সেই টাকার কিছু দিয়ে বাড়ি না হয় ফ্ল্যাট কিনে বাকীটা ব্যাঙ্কে রাখলে সুদও আসবে।

    কথাটা মনে ধরে প্রদীপের। এই ভূতের রাজ্য থেকে অন্যত্রই চলে যাবে সে। সিঁথির দিকে দুলাখের মধ্যে দুই কামরা ফ্ল্যাট পাওয়া যাবে।

    গোপেশবাবু ওত পেতেই ছিল। প্রায় বার বিঘে জায়গায় বাড়ি-বাগান। উঁচু জমি। রাস্তার ধারেই।

    মিতা বলে, সেই ভাল। চল, এখান থেকে। কোনদিন বোমা গুলিতেই না- হলে প্রাণ যাবে।

    বড় ভাই দীপকও এসেছে রাঁচী থেকে। তার স্ত্রী ছেলে টুকাই বুবাইদেরও এনেছে। শেষ বারের মতো পৈত্রিক ভিটে এই সবুজ বাগান দেখাতে।

    প্রবীরও ব্যস্ত। কাগজপত্র করতে হবে।

    প্রদীপ এর মধ্যে একটা ফ্ল্যাটের জন্যে বায়নাও করেছে। তবে ফ্ল্যাট তৈরি হতে দেরী হবে তাই ওই সিঁথি অঞ্চলে বেশি টাকা কবুল করে একতলার দু’খানা এঁদো ঘরই নিয়েছে। কল পায়খানাও কমন। মিতা ওই দিয়েই আপাতত চালাতে চায়। বলে—যা করার তাড়াতাড়ি কর, না হলে দীপা ফিরে এলে তাকেও টাকার সমান ভাগ দিতে হবে।

    তাই ওরা তাড়াতাড়িই লেখাপড়া শেষ করে এখানে থেকে চলে যেতে চায়।

    সুবীর-পিয়া এখন খুব খুশি। বুবাই-টুকাইদের সঙ্গে বাগানে ঘোরে।

    আমগুলো পাকছে। সুবীর বলে, ওটা হিমসাগর। আর লাল মতো ওটা দাদুর হাতে লাগানো গোলাপখাশ। ওইটা বোম্বাই—খুব মিষ্টি। ওদিকে টিয়াপাখির বাসা আছে—আর এই চাঁপা ফুলের গাছ—হলুদ ফুলে ভরে যাবে বৃষ্টি পড়লেই। কি মিষ্টি গন্ধ! কোকিল ডাকছে। পিয়া বলে, কি মিষ্টি ডাকে!

    রাতে অনেক পাখি থাকে এখানে। ডিম দেয়—

    বুবাইকে সুবীর তার স্বপ্নজগৎ দেখায়। বাগানেই বেলা কেটে যায় তাদের।

    সেদিন দলিলপত্র হয়ে যায়। যে যার টাকাও বুঝে নিয়েছে। এবার ঘোষবাড়ির আনন্দের হাট ভেঙে যায়। বুবাই টুকাইদের নিয়ে দীপক কলকাতার ঠিকানা চিরকালের জন্যে মুছে দিয়ে চলে গেল। আর কোনদিন এখানে আসবে না সে।

    তার পরদিন সকালে ট্রাকে মালপত্র উঠছে। সুবীর-পিয়া বাগানে। আমগুলোও সব পাড়া হয়ে গিয়েছে। যেন বাগানটাকে কারা লুট করেছে। ছড়িয়ে আছে পাতা-ডাল। একটা ফলও নেই গাছে।

    তবু কোকিলটা ডাকে। বলে পিয়া, আমরা এখানে থেকে চলে যাচ্ছি রে। কোকিলটার সঙ্গে আর দেখা হবে না। শালিখগুলোকেও দেখতে পাবি না। দোয়েলের গানও শোনা যাবে না। চাঁপাফুল ফুটবে, আর বকুল ফুলও কুড়ানো যাবে না।

    সুবীর ভাবতেই পারে না। বলে সে, ধ্যাৎ! সিঁথিতে মাসীর বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছি আমরা। ফিরে আসব এখানেই।

    ট্রাকে মাল তোলার পর ওদের নিয়ে বের হয়ে এল প্রদীপ। মিতা বলে, চল শীগগির।

    দীপক চলে গেছে। প্রবীরও নেই। সাতসকালে সেও চলে গেছে দমদমে তার কোনও বন্ধুর বাড়িতে। এই বাড়ি ছেড়ে শেষজন বের হল। প্রদীপ ঘোষ, বাড়ির অন্যতম বংশধর।

    সিঁথির এঁদো গলির মধ্যে এসে মালপত্র বোঝাই করে মিতা এবার নতুন সংসার পাতে। এতদিন পর সে এসেছে নিজের সংসারে।

    কিন্তু সুবীরের সারা মনে হাহাকার। এই এঁদো অন্ধকার ঘরে সকালের আলো আসে না। আসে না আমের বোল, বাতাবি ফুলের সুবাস, শোনা যায় না কোকিলের ডাক। ঘোরার জায়গাও নেই। ক’দিন ধরেই যেন কোকিলের ডাক শুনছে। মনে পড়ে পিসীর কথা, সেই সবুজ জগতের সুর।

    বেশ দূর পথই। সুবীর তবু হেঁটে হেঁটেই আসে এখানে। তাদের সেই পুরোনো বাড়িতে। কাছে এসে চমকে ওঠে। চোখ ফেটে জল আসে। তাদের বাগানের সব গাছ কেটে ফেলেছে কারা। সেখানে এর মধ্যে বিশাল গর্ত করে লোহার রড দিয়ে ঢালাই হচ্ছে। তাদের পুরোনো বাড়িটাও নেই। নেই কোনও সবুজের স্পর্শ। চাঁপা, বকুল, আমগাছ সব সাফ—কোকিলটাকেও আর দেখা যায় না।

    সুবীরের জীবন থেকে আর সব সুর বর্ণ সৌরভ বিদায় নিয়েছে। চোখ দিয়ে জল নামে। সরে এল ছোট ছেলেটা। তার সব সম্পদকে বিক্রী করে দিয়েছে ওরা।

    —

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমেঘে ঢাকা তারা – শক্তিপদ রাজগুরু
    Next Article বরদা সমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শক্তিপদ রাজগুরু

    মেঘে ঢাকা তারা – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    পটলা সমগ্র – শক্তিপদ রাজগুরু (দুই খণ্ড একত্রে)

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    অমানুষ – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    জীবন কাহিনি – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    পরিক্রমা – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    তিল থেকে তাল – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }