Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শব্দযাত্রা লেখক সংঘ – জুবায়ের আলম

    জুবায়ের আলম এক পাতা গল্প333 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শব্দযাত্রা লেখক সংঘ – ৪

    নিয়তির প্রহেলিকা

    একটা চাপা শব্দ হল কোথায় যেন। ভদ্রলোক থামলেন, থামতে বাধ্য হলেন। বোঝার চেষ্টা করলেন, শব্দটা কোথা থেকে আসছে। কিছুক্ষণ বিরতি। শব্দটা যখন দ্বিতীয়বার আর হল না, ভদ্রলোক আবার পৃষ্ঠা ওল্টালেন। বললেন, “লেখকের কাছে সব থেকে গুরুত্বপুর্ণ বিষয় হল- অভিজ্ঞতা। জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতাই মানুষকে কিছু বলতে চায়। যারা সেটা বুঝতে পারে আর ব্যাখ্যা করতে পারে- তারা দার্শনিক, যারা সেটা লিখতে পারে- তারা লেখক আর যারা এগুলো পাশ কাটিয়ে যায়- তারা সাধারণ মানুষ। কাজেই অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা জরুরী। একজন লেখকের জন্য তো বটেই। আর এই জন্য নিজেকে বিচিত্র পরিস্থিতির ভেতরে ফেলতে হবে। বিচিত্র কষ্টের স্বাদ নিতে হবে। বিচিত্র মানুষের কাছে যেতে হবে। বিচিত্র মানুষের কষ্টও যেমন বিচিত্র, তেমনই সুখও- দুটোই লেখককে আস্বাদন করতে হবে।”

    ****

    “আজকে শুক্রবার। সুভাষদা আজ বাড়িতেই থাকবে।” সুকান্ত বলল। সিএনজির পেছনের সিটে বসে গ্রিলের বাইরেটা দেখার চেষ্টা করল সে। কথাটা যেন নিজেকে নিজেই বলল। ভোরের আলো ফুটছে। আস্তে আস্তে পরিষ্কার হচ্ছে চারপাশ। শনশন করে ভোরের পূবালী বাতাস বয়ে যাচ্ছে।

    “সুভাষদার বাড়ি কোনটা?” তৈমুর জিজ্ঞাসা করল। সে চালকের আসনে বসে আছে। যাত্রীর আসনের গেটে বাইরে থেকে তালা মেরে রেখেছে সে, যেন সুকান্ত কোথাও পালিয়ে যেতে না পারে।

    জায়গাটা পুরাতন বোস পাড়া। শহর থেকে কিছুটা বাইরে। হিন্দুদের বসবাস এদিকটাতে বেশি। বড় বাড়ি খুব কমই আছে। বেশিরভাগই একতলা আর দোতলা। সবগুলো বাড়িই পুরনো। এখানকার সময় যেন সাতচল্লিশ সালেই থমকে গিয়েছে। বিকালবেলা ছেলেরা রাস্তার মাঝখানে স্ট্যাম্প পুঁতে ক্রিকেট খেলে। বাড়ির মহিলারা বাড়ির সামনে জটলা করে গল্প গুজব করে। সন্ধ্যার সময় গুনে গুনে আটবার শাঁখ বাজে প্রায় সবগুলো বাড়িতে। তারপরই সব শুনশান।

    “কি হল? বলেন কোন বাড়িটা?” তৈমুর খেঁকিয়ে উঠল। সুকান্ত আমতা আমতা করে বলল, “আমি এদিকটায় কখনও আসিনি। ওই সামনের চায়ের দোকানটা খুলছে, ওখানে একটু শুনে নেন সুভাষ সরকার কোন বাড়িটায় থাকে।

    ভ্ররর করে সিনএনজিটা স্টার্ট নিলো। এগিয়ে গেলো চায়ের দোকানটার দিকে। একটা খুনখুনে বুড়ো কুঁজো হয়ে দোকান খুলছিল। দোকানের সামনে তিনটা কুকুর শুয়ে ছিল, সিএনজি আসতে দেখেই ঘেউ ঘেউ করে ডাকা শুরু করল ওরা। তৈমুর কুকুরের ঘেউ ঘেউ উপেক্ষা করেই জিজ্ঞাসা করল, “ও মুরুব্বি, সুভাষ সরকারকে চেন? কোন বাড়িতে থাকে বলতে পারবা?”

    মুরুব্বি খুব ধীর পায়ে সিএনজির দিকে এসে বলল, “পেরেসে কাজ করে ঐ সুভাষ তো?”

    সুকান্ত পেছন থেকে বলল, “হ্যাঁ হ্যাঁ উনিই।” বৃদ্ধ কেমন করে যেন তাকালো। যেন তাকে খুব অদ্ভুত কোন প্রশ্ন করা হয়েছে। সে একটু উঁকি দিয়ে সিএনজির ভেতরটা দেখার চেষ্টা করল।

    “সোজা গিয়ে একটা বাড়ি আছে। বাড়িসসামনে মাধবীলতার গাছ আছে। পরেশদের বাড়ি। ওই বাড়িন নিচেত্তলায় থাকে।”

    সিএনজি সোজা গেল। রাস্তাগুলো গলির মত। সরু। একটু আবছা অন্ধকার। বৃদ্ধের চাহনি মোটেই ভালো লাগেনি। কি যেন ছিল চাহনিটায়। সুকান্তের ভেতরে একটা চাপা অস্থিরতা কাজ করতে শুরু করল।

    মাধবীলতায় মোড়া একটা লোহার গেটের সামনে সিনএনজিটা থামল। দোতলা বাড়ি। অনেক পুরনো। বড় বড় জানালা। বাড়ির একটা পাশ টিনের ছাউনি দেওয়া আছে। তৈমুর সিএনজির স্টার্ট বন্ধ করে প্যান্টের পেছন থেকে রিভলভার বের করে বলল, “কোন ধরনের ঝামেলা করার চেষ্টা করবেন না। মনে রাখবেন আমি আপনাকে সাহায্য করতে এসেছি। উল্টা-পাল্টা কিছু হলে তার ফলাফল ভালো হবে না। যাই হোক, আপনি ভেতরে যাবেন। আমি বাইরে সদর দরজার কাছে আছি। আপনি পেনড্রাইভ আর চিরকুটটা নিয়ে বের হয়ে আসবেন। বেশি কথা বাড়ানোর দরকার নেই। যদি দেখি আপনি দশ মিনিটের ভেতরে ফিরছেন না, তাহলে আমি ভেতরে ঢুকব। আর সেটা অবশ্যই ভালো হবে না। পেনড্রাইভ কার কাছে সেটা আমি জানি। কাজেই আপনাকে মেরে ফেললে আমাদের খুব বেশি কিছু আসবে যাবে না। জিনিসটা বুঝতে পারলেন?” সুকান্ত মাথা নাড়ল। সে জিনিসটা বুঝেছে। ঢুকে গেল বাড়ির ভেতরে।

    পেনড্রাইভটা নিয়ে সুকান্ত যদি পালিয়ে যায়? তাহলে কে ঠেকাবে? তৈমুর? লোকটা শক্ত সমর্থ আছে। হাতে রিভলভারও আছে। মেয়েটা যে আসলেই ইমন মোস্তাফিজের মেয়ে তার প্রমাণ কি? তাছাড়া, এই মেয়েটার কাছে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করাটা কেন জরুরী? সে কে? পেনড্রাইভটা ভুল মানুষের হাতে পড়তে দেওয়া যাবে না। মনে মনে ঠিক করল পেনড্রাইভটা নিয়ে সে পালাবে। যেভাবেই হোক। সোজা চলে যাবে বাড্ডা। তারপর সেই পুরনো বন্ধুর কাছে পেনড্রাইভটা ডিক্রিপ্ট করে দেখবে এটাতে কি আছে। পেনড্রাইভটা তার কাছেই পাঠানো হয়েছিল, অন্য কারো কাছে না। কাজেই অন্য কারো দেখার চেয়ে তার অধিকার সবার আগে।

    বাড়ির ভেতরে ঢুকেই একটা ছোট্ট আঙিনা চোখে পড়ল। একপাশে কলপাড়। ছোট্ট একটা চৌবাচ্চা। চৌবাচ্চার পাশে একটা খড়ের ছাউনি। ছাউনির ভেতরে জমাট অন্ধকার। সুকান্ত উঁকি দিয়ে দেখল, একটা দরজা আছে ছাউনির ভেতরে। আস্তে করে দরজার হুড়কো খুলে উঁকি দিতেই বুঝতে পারল, এটা বাড়ির পেছনের দরজা। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল সে। এদিক দিয়েই বের হয়ে যাওয়া যাবে।

    বুকের ভেতরে হাতুড়ি পেটা শুরু হয়ে গিয়েছে। নিঃশ্বাস বন্ধ করে সে বাড়িটার দিকে তাকালো। তিনটা দরজা চোখে পড়ছে। এর মধ্যে কোনটাতে নক করলে সুভাষদাকে পাওয়া যাবে? তিন চার মিনিট পার হয়ে গিয়েছে এতক্ষণে। যা করার দ্রুত করতে হবে।

    নিচতলার একটা কাঠের দরজায় নক করল সুকান্ত। একবার। দুবার। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে তিনবার। চতুর্থবারের বার দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মুখে জমাট অন্ধকারে কি যেন নড়তে দেখল। “কেউ আছেন ওখানে? আমি সুভাষদাকে খুঁজছিলাম।” সে বলল।

    হঠাৎ দোতলা থেকে লাফ দিয়ে ‘কি যেন একটা’ সুকান্তের ঘাড়ের ওপরে পড়ল।

    ভারি কিছু। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভারি জিনিসটার নিচে চাপা পড়ে গেল সুকান্ত। ভোরের আবছায়াতে জিনিসটা কি বুঝে ওঠার আগেই সিঁড়ির অন্ধকার থেকে বের হয়ে আসল একজন মানুষের অবয়ব। বিদ্যুৎ বেগে দৌড় দিল চৌবাচ্চার দিকে।

    গায়ের ওপর থেকে ভারি জিনিসটা সরাতে গিয়ে সুকান্ত বুঝল, এটা একটা মৃতদেহ। মানুষের মৃতদেহ। বালির বস্তার মত ভারি। হাতে স্পর্শ পেল চটচটে আঠালো তরলের। রক্ত। ঈষদুষ্ণ রক্ত।

    ভোরের আলোয় সুকান্ত দেখতে পেল, এটা সুভাষদার লাশ। নিথর। নিস্তব্ধ।

    কয়েক মুহূর্ত লাগল নিজেকে গুছাতে। এরকম কিছু আশা করেনি সুকান্ত। ঘটনার আকস্মিতায় সব কিছু তালগোল পাকিয়ে গেল মাথার ভেতরে। সুকান্ত পালিয়ে যাওয়া লোকটার পিছু নিল। মানুষটা ততক্ষণে চৌবাচ্চার ওপরে দাঁড়িয়ে পাঁচিল টপকে দৃষ্টি সীমানার বাইরে চলে গিয়েছে। তৈমুরও বাড়ির ভেতরে ঢুকল। ধপ করে কিছু একটা পড়ার আর দৌড়াদৌড়ির শব্দ সে ও শুনেছে।

    “ঐ থাম। ঐ”, চিৎকার করে উঠল তৈমুর। পেছনের দরজা দিয়ে পলায়নপর সুকান্তের দিকে রিভলভার তাক করল। ট্রিগার টিপতে এক সেকেন্ডও লাগল না। হঠাৎ চোখ পড়ল উঠোনে পড়ে থাকা নিথর দেহটার দিকে। মুহূর্তের জন্য কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে গেল সেও।

    গলির বাড়ির বাকি বাসিন্দারের ঘুম ভেঙে গিয়েছে। আস্তে আস্তে দরজাগুলো খুলে যেতে শুরু করেছে। আশপাশ থেকে ঘুম জড়ানো কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে। তৈমুরের চোখে মুখে এই প্রথম আতঙ্ক ফুটে উঠল। রিভলভার হাতে একজন মানুষের সামনে একটা লাশ, আর রিভলভার থেকে একটু আগেই চালানো হয়েছে গুলি- এর মানে খুব পরিষ্কার।

    ****

    লোকটাকে দেখতে পেল সুকান্ত। দুই বাড়ির মাঝখানের সরু জায়গা দিয়ে কোনরকমে দৌড় দিচ্ছে। সুকান্তের মাথার ভেতরে একটাই চিন্তা খেলে গেল, লোকটাকে ধরতে হবে। যেভাবেই হোক। ছুটল সুকান্ত। পায়ের সস্তা স্যান্ডেলটা খুলে তীব্র বেগে ছুটল।

    লোকটা একটা বাড়ির আড়ালে চলে গিয়েছে। দূর থেকে যেটুকু বোঝা যাচ্ছে, একটা কালো মাফলারে মুখ আর মাথা মুড়িয়ে নিয়েছে। এর চেয়ে আর বেশি কিছু বোঝা যাচ্ছে না।

    সুকান্ত দুই হাতে দুই পাশের পুরনো বাড়িগুলোর দেয়ালগুলোতে ধাক্কা দিয়ে সামনে এগোতে শুরু করল। সাপের শরীরের মত শীতল দেয়ালগুলো যেন আস্তে আস্তে সুকান্তের দিকে সরে আসছে। ধীরে ধীরে আরো সরু হয়ে যাচ্ছে যেন গলিগুলো।

    ভোরের আলো ফুটে গিয়েছে। সেই রোদেই লোকটা ঝলসে উঠল সুকান্তের চোখে। খালি গা আর পরনে জিন্স। হাচড়ে-পাচড়ে একটা বাড়ির ছাদে ওঠার চেষ্টা করছে। সুকান্ত চিৎকার করে উঠল, “খুনি… খুনি।” কিন্তু আশেপাশে কোন সাড়া নেই।

    বাড়ির ছাদে উঠে যেতেই লোকটাকে হারিয়ে ফেলল সুকান্ত। আরো জোরে পা চালাল। লোকটা একেবারে বাঁশের মত চিকন। সরু গলিগুলো অবলীলায় পার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সুকান্তের জন্য সেটা একটু হলেও কঠিন। তাছাড়া বেশ কয়েকটা পাঁচিল টপকাতে হয়েছে তাকে। বুকের ভেতর থেকে অনেকখানি বাতাস বেরিয়ে যাচ্ছে। হাপরের মত ওঠা নামা করছে বুক। গলা শুকিয়ে যাওয়ার ফলেই হয়ত মাথা ব্যথা করছে। জ্বলতে শুরু করেছে চোখ।

    যতই সময় যাচ্ছে, ততই লোকটার সাথে দূরত্ব বাড়ছে। কমে যাচ্ছে লোকটাকে ধরার সম্ভাবনা। চোখের সামনে সুভাষদার নিথর দেহটা ভেসে উঠল। শরীরের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে আরো জোরে দৌড় দিল সুকান্ত। আরো জোরে, আরো।

    হঠাৎ সামনে একটা বিরাট পাঁচিল পড়ল। এই পাঁচিল সুকান্তের পক্ষে টপকানো দুঃসাধ্য। এদিক ওদিক তাকাতে লাগল সে। বাম দিকে একটা বাগান আছে। ওটার শেষ মাথায় একটা শিশু গাছ চোখে পড়ল। গাছটা পার হতে পারলেই লোকটাকে পাওয়া যেতে পারে।

    কিছুক্ষণ হাচড়ে-পাচড়ে গাছে ওঠার চেষ্টা করতেই সুকান্ত বুঝতে পারল, সে গাছেও উঠতে পারবে না। কনুই আর কবজির কাছে ছড়ে গেল। বাধ্য হয়ে আবার আগের জায়গায় ফিরে গেল সে। তারপর বাম দিকে দৌড় দিল। সময় কম। খুব কম।

    বাম দিকে দৌড় দিতেই একটা মোড় এলো। আর কিছুক্ষণের ভেতরেই আবিষ্কার করল, এটা একটা কানাগলি।

    বিষাক্ত এক হতাশায় ডুবে গেল সে। খুনি হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে।

    পেছনে ফিরে গেলে তৈমুর তাকে ছেড়ে দেবে না। সব কিছু গুছিয়ে বলার আগেই হয়ত গুলি করে বসবে। তাহলে সুকান্ত এখন কি করবে?

    জানোয়ারের মত হাঁপাতে লাগল সে। হৈচৈয়ের কারণে এতক্ষণে আসল জিনিসটাই ভুলে গিয়েছে। পেনড্রাইভ। পেনড্রাইভটার কথা মনে পড়তেই সুকান্ত দেয়াল ধরে নিজেকে টেনে তুলল। পেনড্রাইভটা কি খুনি নিয়ে গেল নাকি? ঐ একটা জিনিসই ছিল যেটা থেকে বোঝা যেত ইমন মোস্তাফিজ কি বলতে চাচ্ছিলেন। ওটাই ছিল সব রহস্য সমাধানের একমাত্র উপায়।

    সৰ্বনাশ!

    আরো গাঢ় অন্ধকারে

    চিনি ছাড়া আদা চায়ের কাপটায় চুমুক দিতে দিতে আমানুল্লাহর ভ্রু আরো কুঁচকে গেল। ফাইলটা আরো কাছে নিয়ে কী যেন একটা দেখতে লাগলেন তিনি। চায়ের কাপটা টেবিলের ওপরে রাখতে রাখতে ইন্টারকমের রিসিভার হাতে নিলেন। চোখ আটকে থাকল ফাইলের পাতায়।

    “ফরেনসিক এনালিস্ট এলিনকে একটু পাঠাও তো।” আমানুল্লাহ বললেন।

    কিছুক্ষণ পরে একটা মোটা কাঁচের চশমা পরা মেয়ের মাথা উঁকি দিল দরজা দিয়ে। বলল, “আসতে পারি স্যার?” আমানুল্লাহ মাথা নাড়লেন।

    এলিন ভেতরে ঢুকে বলল, “স্যার?”

    আমানুল্লাহ বললেন, “ফরেনসিক রিপোর্টে এগুলো কী লিখেছ? লাশের কাছে যে চুল পাওয়া গিয়েছে সেটা মানুষের চুল না? ওটা উইগ থেকে পাওয়া গিয়েছে?”

    এলিন বলল, “জি স্যার। ওটাতে বায়োলজিক্যাল কোন এলিমেন্ট পাওয়া যায়নি। ওটা পলেস্টারের ফাইবার দিয়ে বানানো উইগের চুল, স্যার। কাজেই ডিএনএ পাওয়ার প্রশ্নই আসে না।”

    আমানুল্লাহর কুঞ্চিত ভ্রুর খাঁজ আরো গাঢ় হল। তিনি বললেন, “ইমন সাহেবের লাইসেন্স করা রিভলভারটার ব্যপারে কোন খোঁজ নেওয়া হয়েছে?”

    “হয়েছে স্যার। আর্মস রেগুলেশন এক্ট এর সবগুলো শর্ত মেনেই ওটা কিনেছিলেন তিনি। বেআইনি কিছুই পাওয়া যায়নি।”

    আমানুল্লাহ বললেন, “অস্ত্র কেনার উদ্দেশ্য কি বলা ছিল?”

    “স্যার, ফর্মে লেখা ছিল, তিনি নিজের ও নিজের পরিবারের নিরাপত্তার জন্য রিভলভারটি কিনছেন। রিভলভারের ফাইলটা বিকেলের মধ্যে পাঠিয়ে দেব, স্যার।”

    আরেক চুমুক চা খেয়ে আমানুল্লাহ বললেন, “আচ্ছা, যেতে পার।”

    এলিন চলে গেল।

    সৈকত সারওয়ারের ওখান থেকে খুনির কোন ধরনের চিহ্নই পাওয়া যায়নি। ফরেনসিকের ফাইল সেটাই বলছে। কিন্তু এটা তো ক্রিমিনোলজির প্রিন্সিপ্যালের বাইরে চলে যাচ্ছে। খুনি যত পেশাদারই হোক, কোন না কোন প্রমাণ তো রেখে যাবেই। এতটা নিখুঁত খুন কেউ কিভাবে করে?”

    হঠাৎ কথাটা মনে পড়ে গেল। আবার ইন্টারকমের রিসিভার তুললেন, “প্রণবকে একটু পাঠাও তো।”

    প্রণব হাজির হল ঠিক চার মিনিটের মধ্যে। সিনিয়র ফিল্ড এজেন্ট তিনি। পুরুষ্ঠ গোঁফে ঢেকে থাকে ওপরের ঠোঁট আর নাকের দুটো ফুটো। ভারি শরীর নিয়ে রুমে ঢুকতেই আমানুল্লাহ বললেন, “প্রণব, একটা কাজ করেন তো। পাছাখানার ভূত নামে কোন বই যদি পান, তাহলে একটু ম্যানেজ করেন তো। বইটা নাকি বেশ কয়েক বছর আগে নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছে। লেখক বা প্রকাশক কাউকেই নাকি খুঁজে পাওয়া যায়নি। বইটা ম্যানেজ করেন, আর বই সম্পর্কে যতগুলো পুলিশ ফাইল আছে সবগুলো সংগ্রহ করার ব্যবস্থা করেন। আর খোঁজ নিয়ে দেখেন, মুনশী মোয়াল্লেম নামে এক ভদ্রলোককে খুঁজে পান কিনা। তিনি পুরনো বই সংগ্রহ করেন।”

    প্রণব মূর্তির মত বলল, “জি স্যার।”

    প্রণব চলে যাওয়ার পরে গতরাতের কথা মনে পড়ল আমানুল্লাহর। স্টাডির তালা খুলে নিমির ঢুকে পড়া। তন্দ্রানীলার ফাইল পড়া। এত ফাইল থাকতে কেন তন্দ্রানীলা ওই ফাইলটাই পড়ল? আর কেন এত আগ্রহ নিয়ে সে ‘পাছাখানার ভূত’ বইটার কথা বলল? ভেতরে ভেতরে ভীষণ অস্থির বোধ করতে লাগলেন তিনি। জেগে থাকা অবস্থাতেই যেন তাকে বোবায় ধরেছে। নিমির মূর্তির মত বসে থাকার দৃশ্যটা ঝলসে উঠল চোখের সামনে। হিসাবটা অনেক কঠিন হয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে।

    ইন্টারকম বেজে উঠল।

    “আমানুল্লাহ বলছি।”

    “স্যার, বোসপাড়ায় একটা খুন হয়েছে।”

    “জয়েনুদ্দীনকে খবর দাও। আমি বের হচ্ছি।” খুব স্বাভাবিক গলায় বললেন আমানুল্লাহ।

    নিজের কেবিন থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই একজন লোক কাঁচুমাচু হয়ে সালাম দিল। আমানুল্লাহ যথারীতি আলগোছে মাথা নাড়লেন।

    ****

    বেশ বেকায়দায় পড়ে আছে সুভাষ সরকারের লাশ। ঘাড়টা মটকে গিয়েছে; ঘুরে গিয়েছে তিনশ বিশ ডিগ্রী কোণে। ডান হাতটা পেটের নিচে চাপা পড়েছে। হঠাৎ দেখলে কাপড়ের পুতুল বলে মনে হবে। জমাট বাঁধা টমেটো সসের মত রক্তের ভেতরে পড়ে আছে লাশটা। আঁশটে গন্ধ ছুটেছে।

    ভিড় ঠেলে আমানুল্লাহ আসলেন। পেছনে পেছনে এলো আরো কয়েকজন এজেন্ট। এইবার কয়েকজন পুলিশও এসেছে সাথে। তবে তারা ভিড় সামলাতে ব্যস্ত। ভিড়ের ভেতরে বেশিরভাগই মহিলা। নাকে মুখে শাড়ি চাপা দিয়ে সাগ্রহে লাশের দিকে তাকিয়ে আছে। পুলিশ আসতে দেখেই সবাই মিলে কি যেন একটা বলা শুরু করল। কিন্তু এলোমেলো কোলাহল ছাড়া কিছুই শোনা গেল না।

    জয়েনুদ্দীন আসলেন সবার শেষে।

    বাড়ির আঙিনা হলুদ টেপ দিয়ে ঘিরে ফেলা হল। ক্রিমিনাল সিন, ডোন্ট ক্রস।

    আমানুল্লাহ ক্লিনিক্যাল মাস্ক পরে লাশের দিকে তাকাতেই শিউরে উঠল সারা শরীর। তীক্ষ্ম কিছু দিয়ে মোরব্বার মত খোঁচানো হয়েছে মানুষটাকে।

    জয়েনুদ্দীন ভাবলেশহীন। ক্লিনিক্যাল মাস্ক আর গ্লাভস পরে লাশটার কাছে গেলেন। জমাট রক্তে জুতার সোলের ছাপ পড়ল। লাশটাকে খুব মনোযোগ দিয়ে দেখলেন, একটু ঝুঁকে শুকলেন লাশটাকে। তারপর দোতলার বারান্দার দিকে তাকালেন। একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা একজন এজেন্টকে ডেকে বললেন, “দোতলায় যাওয়া যাবে কি না দেখো তো।” এজেন্টটা আমানুল্লাহর কাছে অনুমতি চাইতে গেলেন।

    আমানুল্লাহর কাছে তখন বোসপাড়া থানার ওসি দাঁড়িয়ে আছেন। হাত পা নেড়ে চেড়ে বলছেন, “এই বাড়িতে দুই ঘর পরিবারের বাস। সুভাষ দোতলার কোনার ঘরটায় ভাড়া থাকতেন। সাবলেট আর কি।”

    “সাবলেট বলতে?” আমানুল্লাহ বললেন।

    ”সাবলেট বলতে, দোতলার মাঝখানের দুইটা ঘর নিয়ে সপরিবারে থাকতেন মনিচরণ ঘোষাল। উনারাও ভাড়া থাকতেন। নিচতলায় থাকতেন বাড়ির আসল মালিক, বিষ্ণুমোহন সার্নাল।” ওসি সাহেব বললেন। উনি আরো কিছু বলতেন।

    আমানুল্লাহ তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, “বাড়ির মালিককে একটু ডাকেন কথা বলব।” ওসি সাহেব মাথা নেড়ে সরে গেলেন। এজেন্ট এসে দোতলায় ওঠার অনুমতি চাইতেই আমানুল্লাহ মাথা নেড়ে অনুমতি দিলেন।

    বিষ্ণুমোহন সার্নাল আমানুল্লাহর সামনে দাঁড়াতেই হড়বড় করে কথা বলতে শুরু করল, “সকালে একটা ভোঁতা শব্দ শুনি। গুরুত্ব দেই নাই। পরে যখন গুলির শব্দ শুনতে পাই, তখন তাড়াতাড়ি উঠে দরজা খুলতেই দেখি সদর দরজা খুলে এক লোক দৌড়ে বেরিয়ে গেল। আমরা তো চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করি।”

    “আমরা বলতে?” আমানুল্লাহ বললেন। “আমরা বলতে আমি আর আমার ওপরের ভাড়াটিয়া। আমরা সদর দরজা দিয়ে বের হতেই দেখি একটা সিএনজি চলে গেল। খুনি ওই সিএনজিতে করেই এসেছিল অফিসার।” হঠাৎ কণ্ঠ আর্দ্র হয়ে গেল তার। “আর কাউকে দেখেননি?” লোকটা মাথা নাড়লেন, আর কাউকে দেখেননি তিনি। কান্না মাখা গলায় বললেন, “খুব মিশুকে লোক ছিল সুভাষ, খুব। কোন লোকের সাথে লাগতে দেখিনি। কথায় বলে না, ঠাকুর ভালো ফুলগুলোকেই আগে তুলে নেন।”

    আমানুল্লাহ বললেন, “সিএনজিটার নাম্বার খেয়াল করেছিলেন?”

    বিষ্ণুমোহন মাথা নাড়লেন, দেখেননি।

    আমানুল্লাহ ওসি সাহেবকে ডেকে শহরের সবগুলো সিএনজি আর সিএনজি চালকদের ব্যপারে খোঁজ করতে বললেন। তারপর বিষ্ণুমোহনের দিকে ঘুরে বললেন, “আপনাদেরকে একটু থানায় যেতে হবে আমার সাথে। ওখানে কিছু কথা বলে আপনাদেরকে আবার বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে যাব।’ বিষ্ণুমোহন কিছুই বললেন না। ফিছ ফিছ করে কাঁদতে লাগলেন।

    জয়েনুদ্দীন দোতলার বারান্দা থেকে লাশটা দেখলেন। তিনি যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন ঠিক সেখান থেকেই ফেলা হয়েছে লাশটাকে। কিন্তু লাশটাকে নিচে কেন ফেলল খুনি? নাকি ভিকটিম একাই লাফ দিয়েছে? নাহ। যে মুহূর্তে লাশটাকে ফেলা হয়েছে সেই মুহূর্তে লাশটার নিজে থেকে লাফ দেওয়ার সামর্থ্য থাকার কথা না। তিনি এজেন্টটাকে বললেন, “সুভাষের ঘর কোনটা?” বারান্দার একেবারে শেষ মাথার দরজাটার দিকে আঙুল তুলল এজেন্ট। হঠাৎ জয়েনুদ্দীনের চোখ গেল আঙিনার কোণায় চৌবাচ্চাটার দিকে। চোখজোড়া সরু হয়ে গেল তার। কিছু না বলে সুভাষের দরজার দিকে হাঁটা শুরু করলেন।

    আমানুল্লাহ সিঁড়ি ধরে উঠে আসলেন। পেছনে পেছনে উঠে আসলেন ওসি সাহেব। ওসি সাহেব বললেন, “ভিকটিমের ঘর সার্চ করে ফেলেছি।”

    “এরই মধ্যে ঘর সার্চ করে ফেললেন!” আমানুল্লাহ বললেন।

    “হ্যাঁ। যা কিছু পাওয়া গিয়েছে সেগুলো সব এভিডেন্স বক্সে রেখে দিয়েছি। আনবো?”

    আমানুল্লাহ মাথা নাড়লেন। এই মুহূর্তে জয়েনুদ্দীনের কি বলে সেটা আগে শুনতে হবে।

    সুভাষের ঘরের মেঝেতে আর বুক শেলফে রক্তের ছিটা। সারা ঘরে বইপত্র ছড়ানো ছিটানো। যেন ঝড় বয়ে গিয়েছে। দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে আঁকানো একটা প্রতিকৃতি। নিচে ছোট্ট করে স্বাক্ষর করা, চন্দন। প্রতিকৃতিতে রক্তের ছিটা লেগেছে। ঘরের মেঝেতে এলোমেলোভাবে রক্তের ছিটা। কয়েক জায়গায় ছোপ ছোপ রক্ত।

    জয়েনুদ্দীন ক্লিনিক্যাল মাস্কটা খুলে ফেললেন। বারান্দায় এসে রেলিং-এর ওপরে হেলান দিয়ে দাঁড়ালেন। আমানুল্লাহ বললেন, “কিছু বুঝতে পারলেন?”

    “লোকটা খুব কষ্ট পেয়ে মরেছে। খুনি এলোপাতাড়িভাবে অস্ত্র চালিয়েছে।” জয়েনুদ্দীন একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বললেন।

    “ঠিক আগের খুনটার মত?” আমানুল্লাহর প্রশ্ন

    “হ্যাঁ” জয়েনুদ্দীনের ছোট্ট জবাব।

    “খুনি প্রথমে দরজায় নক করে। নক করার কিছুক্ষণ পরে খুনি দরজা খোলে। খুনি সুভাষের পূর্বপরিচিত। তাই দরজা খোলার সময় খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি খুনিকে। দরজার কাছে ঝাপটাঝাপটির কোন চিহ্ন নেই। খুনি প্রথমে চেয়ারটাতে বসে। ওই যে ঐ বেতের চেয়ারটাতে। সুভাষ বসে খাটে। বেশ কিছুক্ষণ দুইজনের ভেতরে কথা হয়। কথার বিষয় বস্তু যা ছিল তা নিয়ে দুজনের ভেতরে একটা টেনশন কাজ করছিল। এশট্রেতে জমে থাকা বেশ কয়েকটা সিগারেটের ফিল্টারই তার প্রমাণ। ওগুলো এক-দেড় ঘণ্টার বেশি পোড়ানো হয়নি। যাই হোক, এক পর্যায়ে হয়ত দুজনের ভেতরে তর্ক শুরু হয়। আর খুনি তর্কের ভেতরেই অস্ত্র দিয়ে সুভাষের গলায় অথবা গলার আশেপাশে প্রথম আঘাতটা করে। কারণ ওই জায়গাটাতে রক্তের চাপ থাকে সব থেকে বেশি। কোন একটা শিরা কেটে যাওয়ার ফলে ফিনকি দিয়ে রক্ত ছিটকে পড়ে ঘরের মেঝেতে আর বইয়ে। সুভাষ পড়ে যায়। খুনি এলোপাতাড়িভাবে আরো কয়েকটা আঘাত করে। আঘাত করার পরে সুভাষ অচেতন হয়ে পড়ে। কিন্তু খুনি ভাবে সুভাষ মারা গিয়েছে। সে কিছু একটা খুঁজতে থাকে। এলোমেলো ঘরটাই তার প্রমাণ। এরই মধ্যে সুভাষ চেতনা ফিরে পায়। সে আস্তে আস্তে দরজার দিকে এগোতে থাকে। ওই যে, রক্তের দাগটা দেখলেই বোঝা যাবে। সেই সময়ে হয়ত সে সাহায্যের জন্য কাউকে ডেকেছিল। তাই খুনি রাগের মাথায় তীক্ষ্ম অস্ত্র দিয়ে সুভাষের গাল ফুটো করে দেয়। এবারকার এলোপাতাড়ি আঘাতে সুভাষের মৃত্যু নিশ্চিত হয়। তারপর সে চলে যায়। কিন্তু লাশটাকে এভাবে বারান্দা থেকে ফেলে দেবে কেন? জয়েনুদ্দীন নিজেকেই যেন নিজে প্ৰশ্ন করলেন।

    “বাড়ির লোকজন খুনিকে পালাতে দেখেছে একটা সিএনজিতে করে।” আমানুল্লাহ বললেন, “কিন্তু বিষ্ণমোহন যে বলল ওরা গুলির শব্দ শুনেছে? নাহ, কোথাও একটা ঝামেলা হচ্ছে জয়েনুদ্দীন।”

    জয়েনুদ্দীন এবার এগিয়ে এসে বললেন, “চৌবাচ্চার পাশের দরজাটা কি সব সময় খোলাই থাকে?”

    আমানুল্লাহ এতক্ষণ খেয়াল করেননি। খুনি সদর দরজা দিয়ে পালিয়েছে। কাজেই ওই দরজাটার দিকে সেভাবে চোখ পড়েনি।

    “কেন বলেন তো?” আমানুল্লাহ বললেন।

    “না এমনি” জয়েনুদ্দীন বললেন।

    আমানুল্লাহ তারপর গম্ভীর মুখে নিচে নেমে গেলেন। সিঁড়ির মুখে দাঁড়িয়ে বললেন, “জয়েনুদ্দীন সাহেব, এবারের মার্ডারের ওয়েপনটাও কি ……”

    “হ্যাঁ, কলম।”

    আমানুল্লাহ বারান্দার রেলিং-এর ওপরে ভর দিয়ে আশেপাশের বাড়িগুলোর ছাদ দেখার চেষ্টা করলেন। বেশিরভাগ ছাদেই কৌতূহলী মানুষের ঢল। নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করলেন তিনি- খুনি কি এমন খুঁজছিল? কি এমন থাকতে পারে সুভাষের কাছে? সেটা কি সে পেয়েছে? নাকি সেটা না নিয়েই পালিয়েছে?

    ওসি সাহেব ছোট্ট একটা পলিব্যাগ নিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে ওপরে উঠে আসলেন। আমানুল্লাহর দিকে বাড়িয়ে ধরলেন সেটা। বললেন, “ভিকটিমের খাটের নিচের কাঠ সরিয়ে এইটা পাওয়া গিয়েছে।”

    কি ওটা?

    একটা পেনড্রাইভ।

    আর্টেমিসের পরিকল্পনা

    একটা ভোঁতা শব্দ হল আবার। তবে এবারকার আওয়াজটা একটু জোরেই হল। ভদ্রলোক কান পাততেই শব্দটা থেমে গেলো। পৃষ্ঠা উল্টালেন তিনি। আবার বলতে শুরু করলেন, “লেখকের মনের ভেতরে একটা চাপা আগুন থাকা বাঞ্ছনীয়। এমন এক আগুন, যা নিভবে না। কিন্তু সেটা সাবধানে সংরক্ষণ না করলে সবাইকে জ্বালিয়ে দেবে। যেমন রুশো আর ভলতেয়ারের ভেতরের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল পুরো ফ্রান্স। যে লেখক যত সাবধানে সেই আগুন বয়ে নিয়ে বেড়াবে- তার লেখা ততটাই তপ্ত হবে। লেখককে নিজের আগুনে পুড়তে হবে।”

    ***

    ফ্রিজ খুলে বরফের কেসটা খুঁজতে লাগল নীরু। ফ্রিজের ভেতরের জ্বলে ওঠা আলোতে আলোকিত হয়ে উঠল ক্ষুরধার তীক্ষ্ণ মুখটা। ডান দিকের ড্রয়ার থেকে বরফের কেসটা নিয়ে ড্রইং রুমে আসল। একটা তোয়ালে এনে তাতে সবগুলো বরফ ঢালল। কড় কড় করে শব্দ হল। তোয়ালেটা মুড়িয়ে পুঁটলির মত করে বাড়িয়ে ধরল তৈমুরের দিকে।

    “আগেই বলছিলাম ম্যডাম, ওই সুকান্ত শয়তানটাই স্যারকে খুন করছে। আমি সাত বছর স্যারের বডিগার্ড হিসাবে কাজ করেছি। বুঝতে পারি কে শয়তান আর কে ফেরেশতা।” বরফ ভর্তি গামছার পুঁটলিটা কাঁধে চেপে ধরতে ধরতে বলল তৈমুর। তাড়াতাড়ি করে দরজা দিয়ে বের হয়ে আসতে গিয়ে কাঁধের মাংসপেশীতে খুব বাজেভাবে ধাক্কা খেয়েছে। থেঁতলে গিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। “আমি জানতাম কিছু একটা হবেই। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ভেতরে ধুপধাপ শব্দ হতেই দৌড়ে গিয়ে দেখি সুকান্ত একটা লাশ ফেলে রেখে বাড়ির পেছন দরজা দিয়ে পালাচ্ছে। আমি গুলিও চালিয়েছিলাম পা বরাবর। অন্ধকারে সুবিধা করতে পারিনি।” বলল তৈমুর।

    নীরু সব কথা শুনল। একটা কাঁচের গ্লাসে গ্রিন টি রাখা ছিল। একটা বরফের কিউব তুলে নিয়ে সেটাতে দিয়ে আলতো করে চুমুক দিল। গ্লাসটা ঝাকিয়ে ভালো করে বরফটা গুলাতে গুলাতে প্রশ্ন করল, “পেনড্রাইভটা পাওয়া গিয়েছে?”

    তৈমুর বলল, “না। গুলির শব্দ শুনে বাড়ির বাকিদের ঘুম ভেঙে যায়। আমি রিস্ক নিতে পারিনি। চলে এসেছি। আমার যতদূর মনে হয় সুকান্তের কাছেই পেনড্রাইভটা আছে। ওই জানোয়ারটাই লোকটাকে মেরে পেনড্রাইভটা নিয়ে পালিয়েছে।”

    ঠং করে কাঁচের গ্লাসটা টেবিলের ওপরে রাখতে রাখতে বলল নীরু, “ওইটুকু সময়ের ভেতরে কাউকে মেরে আবার পেনড্রাইভ নিয়ে আসাটা কঠিন। তবে, কি যেন নাম বলছিল? সুভাষ না? হ্যাঁ, যেহেতু সুভাষ ওর পরিচিত ছিল, তাই খুন করে পেনড্রাইভ নিয়ে পালিয়ে যেতে বেশি সময় লাগার কথা না।”

    “আমিও তো সেটাই বলছি ম্যডাম।”

    “কিন্তু গুলি চালানোটা তোমার ঠিক হয়নি তৈমুর। এটা নিয়ে অনেক ঝামেলা হবে। এরকম যেন আর না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবা।”

    “জ্বি ম্যাডাম।”

    গ্লাসের শেষ গ্রিন টি টুকু গলায় ঢেলে নীরু বলল, “ওকে বিশ্বাস করাটাই ভুল হয়েছে। আগে জানলে কোল্ড স্টোরেজের ভেতরেই শেষ করে দিতাম। ওই জানোয়ারটা অনেকদিন ধরেই বাবার খ্যাতির প্রতি হিংসা করত। যদি জানতাম ও বাবাকে এইভাবে খুন করবে…” ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিয়ে রাগ চাপা দিল সে। তারপর বলল, “আমি যখন আর্মিতে ছিলাম, তখন আমাদেরকে একটা বিষয় শেখানো হত। সব সময় এটা চিন্তা করতে হবে, শত্রু কি চায়। শত্রুর পরের পদক্ষেপ কেমন হবে। শত্রুর পরের পদক্ষেপ কি সেটার অনুমানের ওপর নির্ভর করে যুদ্ধে জয়ের সম্ভাবনা। যত স্ট্র্যাটেজিই ফলো করা হোক না কেন, শত্রুর গতিবিধি না জানতে পারলে কিছুই হবে না। যদি ওর কাছে পেনড্রাইভটা থাকেই, তাহলে প্রথমে ও কোথায় যাবে? বাবা কি এমন তথ্য ঐ পেনড্রাইভের মধ্যে রেখে গিয়েছে? সময় কম তৈমুর। ওর কাছে যদি পেনড্রাইভ থাকে, তাহলে ও সেটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নষ্ট করে ফেলার চেষ্টা করবে। কারণ, ও জানত, বাবা ওই পেনড্রাইভের ভেতরে ওর যত অপকর্মের কথা লিখে রেখে গিয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওর কাছ থেকে পেনড্রাইভটা উদ্ধার করতে হবে তৈমুর।” চাপা রাগে কাঁচের গ্লাসটা আঁকড়ে ধরল সে। নখগুলো সাদাটে হয়ে গেল। অনেক কষ্টে নিজের রাগ সংবরণ করছে সে।

    তৈমুর বরফের পুঁটলিটা হাত বদল করতে করতে বলল, “ওকে কোথায় পাওয়া যেতে পারে ম্যডাম?”

    কাঁচের গ্লাসটা দেয়ালে ছুঁড়ে মারল নীরু। চিৎকার করে এতক্ষণের চেপে রাখা রাগের বহিঃপ্রকাশ করল সে। গলা চিরে তীক্ষ্ম চিৎকার বেরিয়ে এলো। বলল, “তুমি ওকে পালাতে কেন দিলে তৈমুর!” জেদ মাখানো রাগে থর থর করে কাঁপতে লাগল নীরু।

    ড্রইংরুমে নেমে এলো রাজ্যের নীরবতা।

    নীরু ভেতরের ঘরে চলে গেল। রাগ লুকাতে। অথবা অন্য কোন কারণে।

    তৈমুর নিরুত্তর। হয়ত সে ও তার ভুল বুঝতে পেরেছে। যে মানুষটার বডিগার্ড ছিল সে, তাকে তো বাঁচাতে পারলই না, সেই মানুষটার আততায়ীকেও কে পালাতে দিল। এই তার হাতের নিশানা? কয়েকগজ দূরের একটা টার্গেট সে মিস করল? হঠাৎ পাশের টি’পয়ের রাখা ফটো ফ্রেমের ওপরে রাখা একটা ছবিতে চোখ পড়ল।

    নীরুর ছবি, সেনাবাহিনীর ইউনিফর্মে। হাতে ধরা একটা স্নাইপার রাইফেল। তের বছর আগের ছবি এটা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্যতম সেরা স্নাইপার ছিল সে। দুটা শান্তি রক্ষা মিশনেও অংশ নেয়। কিন্তু দুই বছর আগে কোন এক কারণে তাকে সেনাবাহিনী থেকে ডিসচার্জ করা হয়েছিল। কেউ বলে, রগচটা স্বভাবের কারণে তাকে ডিসচার্জ করা হয়। কেউ বলে সে নিজেই অব্যহতি পত্র দিয়ে সেনাবাহিনী থেকে বের হয়ে আসে। কিন্তু কেন সে সেনাবাহিনী ছেড়ে আবার সাধারণ মানুষের জীবনে ফিরে এলো, এটা একটা রহস্য।

    নীরুর পায়ের শব্দ পেতেই সোজা হয়ে বসল তৈমুর। টেবিলের ওপরে একটা লেখার প্যাড আর একটা কলম রাখতে রাখতে বলল খুব স্বাভাবিক গলায় বলল, “মন দিয়ে শোন। প্ল্যানটা বলি।”

    ****

    একটা বাড়ির ছাদের ওপর থেকে সব দেখতে পেয়েছিল সুকান্ত। পুলিশ আর ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চের লোকজনে ভরে গিয়েছিল পুরো বাড়িটা। চোখের সামনে সব শেষ হতে দেখাটা সহজ না। সুভাষদার লাশটাকে সাদা স্ট্রেচারে তুলে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যটা দেখে বুকের ভেতরটা যেন শ্মশানের আগুনের মত দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল। রমাকান্তের পরে এই মানুষটাকেই সে বাবা বলে মেনে এসেছে। হাতে ধরে এই মানুষটাই তো তাকে কাজ দিয়েছিল, কাজ শিখিয়েছিল। তার জীবনের দুঃখ, আনন্দ, অভিমান আর ক্ষণস্থায়ী রাগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই মানুষটা। আঁকড়ে ধরেছিল সে মানুষটাকে। এতগুলো বছর এই লোকটা তাকে কাজ এনে দিয়েছে, একবারের জন্যও কমিশন চায়নি; বলেনি- সুকান্ত, তোরে কাজ আইন্যা দেই বদলে আমারে কিছু দে।

    কিন্তু মানুষটাকে বাঁচাতে পারল না সুকান্ত। লেখক হয়ে সে কত গল্পের কত উপন্যাসের চরিত্রকে অবলীলায় জীবন দান করেছে। কিন্তু বাস্তব জীবনে তাকে মেনে নিতে হয়েছে প্রিয়জন হারানোর পরাজয়। নীহারিকা, রমাকান্ত, লক্ষমন্ত; আর আজ সুভাষ। রাগে ক্ষোভে কাঁধ আর গলার ক্ষতটা যেন জ্বলে উঠল দপ করে। দাঁতে দাঁত চেপে চোখের পানি ফেলা ছাড়া সুকান্তের আর কি করার আছে?

    সুভাষদা যে বাড়িতে থাকত সেই বাড়ির বারান্দা থেকে এক মাঝবয়সী ভদ্রলোক ছাদের দিকে তাকাতেই সুকান্ত সরে গেল। এই মুহূর্তে মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হবে যেভাবেই হোক। সরু সিঁড়িটা দিয়ে নামতে নামতে নিজেকে বোঝাল সে। খুনি যদি পেনড্রাইভ নিয়ে থাকে, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব সেটা উদ্ধার করতে হবে। যেহেতু খুনি সুভাষদাকে খুন করেছে, সেহেতু সে পেনড্রাইভটাও নিয়েছে। ওটা না পাওয়া পর্যন্ত অনেকগুলো জীবন এভাবে ঝরে যাবে।

    তোলপাড় হতে থাকা ভেতরটা নিয়ে সুকান্ত ভিড়ের ভেতরে হারিয়ে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅন্যমনস্ক – জুনায়েদ ইভান
    Next Article প্রায়শ্চিত্ত প্রকল্প – জুবায়ের আলম

    Related Articles

    জুবায়ের আলম

    প্রায়শ্চিত্ত প্রকল্প – জুবায়ের আলম

    August 14, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }