Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শামুকখোল – তিলোত্তমা মজুমদার

    তিলোত্তমা মজুমদার এক পাতা গল্প229 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৭. গভীর ভাবনা তাকে পথ চলা

    গভীর ভাবনা তাকে পথ চলা বিষয়ে অন্যমনস্ক করেছিল। সে দেখতে পায়নি একটি উঁচু ও বিশাল দরজা খুলে যাচ্ছে এবং তার ধাক্কা লাগতে যাচ্ছে। অতএব সে এক ভারী ধাতব আঘাতে ছিটকে পড়ে মাটিতে। চশমা খুলে হারিয়ে যায়। ব্যাগ আছড়ে পড়ে। কপালে তীব্র মন্ত্রণা অনুভব করে সে, আর তার দৃষ্টিপাত অন্ধকার সংসর্গে লিপ্ত হয়।

    পরে সে শুনেছিল পাঁচ মিনিট তার জ্ঞান থাকেনি। বা গোটা সময়টা ধরলে দশ মিনিটই হবে।

    বিশাল ভারী ধাতব দরজা খোলার সময় এক চিৎকৃত সাবধানবাণী শুনতে পায়নি সে। এবং ধাক্কা খেয়ে অনিবার পড়ে গিয়েছে। তখন লোকবাহিত হয়ে সে সেই দরজারই ভিতরে প্রবেশ করে এবং দরজা আবার বন্ধ হয়ে যায়।

    একটি ছোট দপ্তরখানায় সে শুয়ে ছিল যখন তার জ্ঞান ফেরে। নিচু ঘরটির কাঠের জানালা গলে আলো পড়ছিল তার মুখে।

    দপ্তরখানা না বলে একে কারও বাসস্থানও অনুমান করা যায়। কারণ সে শুয়ে আছে একটি রীতিমতো বিছানায়। দেওয়ালের হুকে ঝোলানো দেখতে পাচ্ছে শার্ট-প্যান্ট। আবার দুটি আলমারি তার পায়ের দিকে। ফাইলে ঠাসা। সে অনুমান করে, একটি চেয়ার টেবিলও থাকবে নিশ্চয়ই। একটি টেবিল-আলো।

    তাকে ঘিরে আছে কয়েকজন। কিন্তু প্রায় মুখের ওপর ঝুঁকে আছে একটি মুখ। নিখুঁত দাড়িগোঁফ কামানো মেদবহুল মধ্যবয়সী মুখ। ভাঙাভাঙা বাংলায় সেই মুখ জানতে চায় ব্যথা করছে কি না। সে তখন কপালে ব্যথা অনুভব করে। মাথা তুলতেই মাথার মধ্যে ব্যথার ঝনঝন। সে মাথা নামিয়ে নেয় বালিশে আর শুনতে পায় মানুষগুলি হাত-মুখ নেড়ে সমবেতভাবে তাকে উঠতে বারণ করছে। সে তখন চশমার খোঁজ করে। ব্যাগ কোথায় জানতে চায়। একজন তাড়াতাড়ি চশমা এনে তার বালিশের পাশে রাখে। আরেকজন ব্যাগ তুলে তাকে দেখায় এবং নিশ্চিন্ত করে। বাইরে থেকে ভেসে আসে কুকুরের হিংস্র গর্জন।

    একটি লোক বরফকুচি ভর্তি পাত্র এনে সেই মধ্যবয়সীর হাতে দেয়। তিনি একটি রুমালে কুচিগুলি বেঁধে নিয়ে চেপে ধরেন তার ব্যথাদীর্ণ কপালে। সঙ্গে সঙ্গে সে জ্বালা টের পায়। আঘাতে থেঁতলে গেছে কপাল। সে ভ্রু কুঁচকোয়। মধ্যবয়সী ইংরিজিতে বলেন, বরফকুচিতে সে সেরে উঠবে তাড়াতাড়ি। ইতিমধ্যেই হয়তো আরাম পাচ্ছে সে।

    সে ক্লান্ত বোধ করে। একবার চোখ বন্ধ করে। চুপ করে থাকে। খোলে আবার। দেখে মধ্যবয়সীর ব্যগ্র উদগ্রীব মুখ। সেই সুৰ দুঃখপ্রকাশ করে। অনিচ্ছাকৃত আঘাত দেবার কারণে তার যেন অনুশোচনার অবধি নেই। সে মৃদু হাসে। মানুষটি নাম বলেন। জন। কথা বলতে বলতেই বরফের শুশ্রুষা চালিয়ে যান তিনি। তার কপাল যেয়ে বরফগলা জল গড়িয়ে চুলে লেগে যায়। কিছু বা বালিশ ভিজিয়ে ফেলে। এবার শুভদীপের নাম জানতে চান তিনি। বাড়ি কোথায় জানতে চান। সে নাম বলে। বাড়ি কোথায় বলে না। বরং উঠে বসতে চায়। জন তাকে শুইয়ে দেয় আবার বলেন, সে আহত। তার চিকিৎসা ও বিশ্রাম দরকার। তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাবার প্রস্তাব আসে। অথবা ট্যাক্সিতে চাপিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেবার প্রস্তাব। সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। মাথায় সাংঘাতিক কিছু যন্ত্রণা হচ্ছে এমন নয়। আজ তার অনেক কাজ। অনেকগুলি বিজ্ঞাপন তাকে সংগ্রহ করতে হবে।

    জন, চারপাশে ভিড় করে থাকা লোকজনকে কাজে যোগ দিতে অনুরোধ করেন। তারা চলে যায়। শুভদীপ জানতে চায় সে কোথায় আছে। মধুর হাসিতে মুখ ভরে যায় জনের। সে অত্যন্ত পুণ্যবান বলেই এখানে আসতে পেরেছে বলেন তিনি। যে-কোনও ব্যক্তি এখানে প্রবেশানুমতি পায় না। মুখে রহস্য মেখে প্রশ্ন করেন তিনি, শুভদীপ নৈঃশব্দ্যের স্তম্ভ কী তা জানে কি না। নৈঃশব্দ্যের স্তম্ভ। Tower of silence নৈঃশব্দ্যের স্তম্ভ। Tower of silence। শুভদীপ শোনেনি কখনও। বরফকুচির শুশ্রুষা দিতে দিতে জন শোনান তখন। Tower of silenceনৈঃশব্দ্যের স্তম্ভ। পাশি সম্প্রদায়ের পরমগতির স্থল। মৃত্যুর পর চরম প্রার্থিত শান্তি।

    তার আবছা মনে পড়ে। পার্শিরা মরদেহটি পাখির আহারের জন্য দান করে। তার সঙ্গে নৈঃশব্দের স্তম্ভ কীভাবে সম্পর্কিত।

    জন তার প্রশ্ন উপলব্ধি করেন। ব্যাখ্যা করেন তিনি। Tower of silence। একটি উঁচু স্তম্ভ—যেখানে কোনও মৃত পার্শির মরদেহ রাখা হয় শেষকৃত্যের জন্য। সে চোখ বিস্ফারিত করে। কল্পনা করার চেষ্টা করে দৃশ্যটি। এবং শিউরোয়। কিন্তু মানুষটির মুখে তৃপ্তির বিচ্ছুরণ দেশে সংযত হয় সে। পাখিরা ঠুকরে ঠুকরে মৃতদেহ খাচ্ছে—এ দৃশ্য দৃষ্টিসুখকর নয়। কিন্তু মানুষের শরীর প্রিয়জন, বাবা-মা-ভাই-বন্ধু-সন্তানের শরীর পুড়ে যাচ্ছে। মাথার খুলি ফেটে যাচ্ছে, রক্ত-মাংস পুড়ে গুটিয়ে দলা পাকিয়ে উঠছে, শব্দ উঠছে ফট-ফট-এই বা কী নয়নলোভন৷ সে শান্ত থাকে অতএব। শুয়ে শুয়ে জনের কথা শোনে। তার মুখের দিকে চেয়ে চেয়ে তার মনে হয়-জন মধ্যবয়সী নয়, যেন বৃদ্ধ, প্রবৃদ্ধ। গভীর বয়স তার ত্বকের গভীরে আছে।

    Tower of silence-এর দেখাশুনো করেন জন। রক্ষণাবেক্ষণ করেন। করছেন সেই আঠারো বছর বয়স থেকে পঁয়ত্রিশ বছর। এখানেই তার যৌবন এসেছে। চলে গেছে। এখানেই তার চুলে লেগেছে পাক। এখানেই তিনি থেকেছেন দিনের পর দিন, রাতের পর রাত এবং এই উচু প্রাচীর ঘেরা জায়গাটির বাইরে যে জগৎ তার সম্পর্কে হারিয়েছেন সব টান। সব তৃষ্ণা। বাইরে গেলে এখন তার প্রাণ ছটফট করে। দম বন্ধ হয়ে আসে। কতক্ষণে ফিরে আসবেন এই শান্তিস্থলে—এমনই মনে হয়।

    এখানকার বহু গাছ তাঁর হাতে লাগানো এবং তারই তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠা। এখানকার সব ফুল-পাখি-প্রজাপতি কীট ও পতঙ্গদের তিনি চেনেন আপনজনের মতো। দু’খানি কুকুর আছে, তাদের স্নান করানো ও খাওয়ানো—সারাদিনে তার এটুকুই হাতে-কলমে কাজ। বাকিটা তত্ত্বাবধান।

    মা-বাবা মারা গিয়েছেন তার শৈশবেই। চার ভাইবোনের মধ্যে ছোট জন। বোন সংসারে থিতু। দাদারা বড় ব্যবসায়ী। তিনি তাই পিছুটানহীন। অনায়াসে চলে এসেছেন শান্তিস্থলে। এই Tower of silence—এই শান্তিস্থল—এই কোলাহলপূর্ণ শহরের মধ্যে থেকেও যেন পরিপূর্ণ নীরবতাময়। বাইরের সব শব্দ এর উচু উচু প্রাচীরগুলিতে প্রতিহত হয়ে ফিরে যায়। এবং ভেতরকে শান্তিময় রাখে। এই শান্তির জন্য, নৈঃশব্দ্যের জন্য, তিনি নিবেদিতপ্রাণ। এমনকী যৌবনে বিয়ে করার কথাও মনে হয়নি তার।

    এই উঁচু প্রাচীরময় স্থানেই তার থাকা। তার জীবন। বহুজনের শেষ শান্তি দেখতে দেখতে, বহু পরিবারের শোক-সন্তাপের সঙ্গী হতে হতে আজ তার আত্মীয় শহরময়। এমন কোনও পার্শি পরিবার নেই যারা জনকে চেনে না। এমন কোনও পার্শি পরিবার নেই এ শহরে, যার কোনওনাকোনও সদস্যের শেষযাত্রায় জন সঙ্গী থাকেননি।

    মাঝে মাঝে যখন পথে বেরোন, দেখতে পান, কত দ্রুত বদলে যাচ্ছে এই শহর। জনবসতি হয়েছে আরও ঘন। যানবাহন হয়েছে আরও থিকথিকে। শব্দ হয়েছে অনেক বেশি বিবাদমান। বাতাসে ধোয়াধুলোময়লার পুরু স্তর। গাছের পাতার সবুজ রং টাঁকা পড়ে যায়। আকাশ থাকে নীল।

    এখান থেকে বিবর্ণ আকাশ তিনি দেখতে পান। কিন্তু এই বিশাল ক্ষেত্রে, উঁচু প্রাচীর ঘেরা, বৃক্ষমণ্ডিত এই পরিবেশে, শেষযাত্রার এই শান্তিভূমিতে ধোঁয়া-ধুলো-আবর্জনা নেই। শব্দ নেই। বিবদমান শব্দ নেই। ধ্বনি নেই এমন যাতে মস্তিষ্ক ভেদ করে তির চলে যায়।

    শুভদীপ উঠে বসে এবার। তার কিছুটা সুস্থ লাগছে। বিস্ময়ে অভিভূত সে এখন। এত ঘুরেছে সে এ শহরে, এত গিয়েছে এই রাস্তায়, কিন্তু Tower of silence-এর অস্তিত্ব জানে না। সে পুরো জায়গাটি ঘুরে দেখার ইচ্ছে প্রকাশ করে। জন সানন্দে রাজি থাকেন। কিন্তু জানিয়ে দেন, সে যেন Tower of silence-এ যাবার ইচ্ছে প্রকাশ না করে। জন এবং মৃতের আত্মীয় ছাড়া আর কারও সেখানে প্রবেশাধিকার নেই।

    সে রাজি হয়। বিছানা থেকে নামে। আর তার নামার সময় জন তার কাধ ধরে থাকেন। তার মাথা ঘুরে যায়। মাথায় এমনকী যন্ত্রণাও অনুভব করে সে। কপালেও। কিন্তু প্রকাশ করে না। শরীরের কোনও যন্ত্রণা, কোনও বৈকল্যই প্রকাশ করে না সে। ঘরজোড়া রোগ ও ওষুধগন্ধে নিজেকে জড়াতে চায় না।

    সে জনকে ধন্যবাদ দেয়। চশমা পরে। জল চায় খাবার। জন কারওকে জল আনতে আদেশ করলে সে জুতো পরতে থাকে। সে বিস্মিত হয়। কে তার জুতো খুলে দিল। পায়ে হাত দেওয়া সম্পর্কে আজকালের এ সংস্কার তাকে বিচলিত করে। জনের দিকে তাকিয়ে তার গতকালের সেই মুসলমান ভদ্রলোককে মনে পড়ে। কেন মনে পড়ে সে বুঝতে পারে না। জনের সঙ্গে তার চেহারার মিল ছিল না কোনও। তবু এই সমস্ত কিছুর মধ্যে একটি সংযোগ আছে বলে মনে হয় তার।

    গতকাল সে এক কবরখানায় ঢুকেছিল। আজ সে চলে এসেছে অন্য এক মৃত্যু-আয়োজনে। যেন কোন অদৃশ্য নিয়ন্ত্রক তাকে এভাবেই চালিত করছে এখন। সে ঈশ্বর মানেনি কখনও। নিজস্ব যুক্তিবোধ দ্বারা সমস্ত কার্যকারণের পেছনেই এতকাল মানুষের ইচ্ছা ও প্রবৃত্তিকে দেখে এসেছে সে। প্রকৃতির ভূমিকা ও ক্রিয়াকলাপ আবিষ্কার করেছে। ঈশ্বর মানার জন্য পুজো-পাঠের জন্য মাকে, শুচুকে এবং চাকলীকেও তিরস্কার করেছে সে। অথচ এখন তার মনে হচ্ছে সে সারাক্ষণ আপন ইচ্ছার বশে নেই।

     

    অন্য কেউ, অন্য কিছু তাকে চালিত করছে। এই বোধেরই নাম ঈশ্বর কিনা সে জানে না। এমনকী সে জানে না মৃত্যুর জন্য আকাঙিক্ষত তার চিত্ত দুর্বলতার বশবর্তী হল কি না।

    জনের সঙ্গে বেরিয়ে আসে সে। তার রোমাঞ্চ হয় কেমন। কেমন গাছমছমে ভাব। সে যেন ক্রমে দেখে নিচ্ছে মৃত্যুর কাছে তার পৌঁছনোর আগেই—দেহের পরিণতিগুলি। মানুষের অন্তিম লগ্নের প্রভূত, বিপুল ও বিচিত্র আয়োজন। সে চাক্ষুষ করে নিচ্ছে। অনুভব করে নিচ্ছে। মৃত্যু মানে এ দেহেরই মৃত্যু। নশ্বর দেহ ছেড়ে বেরিয়ে যচ্ছে অবিনশ্বর আত্মা আর জড়পদার্থে তৈরি শরীর মিলিয়ে যাচ্ছে জলে, মাটিতে, হাওয়ায়।

    জনের সঙ্গে পাশাপাশি হেঁটে যায় সে। এতক্ষণে জনকে সে সম্পূর্ণ দেখতে পায়। খর্বকায় কিন্তু বিপুলপ্রস্থ জন থপ থপ হেঁটে যাচ্ছেন। কিছুটা হেলেদুলে। চোখে মুখে লেগে আছে প্রশান্ত আবেশ। কথা বলছেন। এ শহরে পাৰ্শি পরিবার হাতে গোনা। তাই বন্ধনও প্রগাঢ়।

    শুভদীপ কিছু শোনে, কিছু শোনে না। দেখতে থাকে এই বিশাল বাগান। ঋজু বৃক্ষে ভরা। অথচ পাতা পড়ে জঞ্জাল হয়ে নেই। সবুজ ঘাসের গায়ে যত্নের ছোপ। পাখির গান ও কলরব শোনা যাচ্ছে নিরন্তর। গতকালও কবরস্থানে এই কলরব সে শুনেছিল। কিন্তু বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামছিল বলে সেই রবে গন্তি মেশা ছিল। এখন এই ডাক অনেক বেশি সতেজ, সমুজ্জ্বল।

    নানারকম ফুলের গাছেও ঝলমলে এই বাগান। সে ফুল দেখার জন্য দাঁড়ায়। জন কর্মরত মালি ইত্যাদি কর্মীর সঙ্গে কথা বলেন। তার দৃষ্টি ঝাপসা লাগে। চশমা খোলে সে। ধুলো ও হাতের ছাপে ময়লা হয়ে আছে পরকাদ্বয়। সে মুছে নেয় রুমালে। আর মুছতে মুছতে উঁটি দুখামি নজর করে। ভাঙেনি দেখে আশ্বস্ত হয়।

    এই চশমা। চন্দ্রাবলীর উপহার দেওয়া চশমা। ঘুরতে ঘুরতে, জনের কথা শুনতে শুনতে চন্দ্রাবলীর মধ্যে ডুবে যায় সে আজও। যেমন ডুবেছে। প্রত্যেক দিন। গত কাল। গত পরশু। গত তরশু[ ডুবে যাচ্ছে সেই কবে থেকে। ডাটিভাঙা চশমা পরত সে। চারীর ভাল লাগেনি। অর্থের বিনিময়ে আতিথ্য পদ্ধতিতে জীবনযাপন করত যখন চন্দ্রাবলী, রবিদাকে ছেড়ে এসে, তখন শুধুমাত্র ইস্কুলের ওপর নির্ভর না করে কয়েকটি বাড়ি গিয়ে গান শেখাতে শুরু করে সে। বস্তুত অর্থের প্রয়োজন ছিল তার। দুপুরেও কিছু করার ছিল না। তার ইস্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের সাহায্যে কয়েকজন গৃহিণীকে গান শেখাবার কাজ পেয়ে যায় সে। এই বাড়তি অর্ধের কিছু সে ব্যয় করত শুভদীপেরই জন্য। কিছু নাটক, চলচ্চিত্র বা উদ্যানের প্রবেশমুল্যে। আর মাঝে-মধ্যে বেরিয়ে পড়ত তারা। বিজ্ঞাপন সংগ্রহের কাজে শহরের বাইরে যাচ্ছে এমনই বলত শুভদীপ বাড়িতে। আর চন্দ্রাবলীর কোনও বাধা ছিল না। আতিথ্য নেওয়া জীবনে সে ছিল সর্বার্থেই মুক্ত। এইসব দিনগুলিতে সে কখনও শুভদীপাকে অর্থব্যয় করতে দেয়নি।

    বেড়াতে তারা ভালবাসত দু’জনেই। কিন্তু এই কয়েক মাস কেটে গেলেই যে ভ্রমণপিপাসা জেগে উঠত তাদের, তার মধ্যে শরীরও ছিল অনেকখানি। সে তো জেগেই থাকত, তৃষ্ণার্ত হয়েই থাকত মহুলির দ্বারা। সুতরাং সে শুধু মোচন করত নিজেকে। নিজের মোচন ঘটাত। উপভোগ করত না। উপভোগের জন্য তার চাহিদা সুন্দর শরীর। খেত, ক্ষীণ, নরম ও ভরাট। সুদৃশ্য ও সুগঠিত। মহুলির শরীর। যা সে সম্পূর্ণ পায়নি কখনও। এমনকী মহুলির না হলেও মালবিকাদির শরীর। কিন্তু সে কালকের মালবিকা মেয়েটির সাদামাটা বুক পেট নিমতল সৌন্দর্যের তরে চায় না। এবং বিরাট, বিশাল, কালো ও কুদর্শনে তার তৃপ্তি ছিল না এতটুকু। তবু শরীরের এত তীব্র খিদে সে চলে গিয়েছিল তালসারি। গিয়েছিল মাইথন। এবং কোণার্ক।

    তালসারিতে তাদের প্রার্থিত নির্জনতা ছিল। অনেকটা বালিয়াড়ি পার হয়ে তারা পেয়েছিল সুগভীর খাঁড়ি। খাঁড়ি পার হলে+ধু বালিয়াড়ি পার, হলে, সমুদ্রের রেখা। বহু দূর সে-সমুদ্র স্নানের উপযোগী নয়। নরম পাড় সমুদ্রকে ছুঁয়েই তলিয়ে গেছে হঠাৎ। যেন এই ছিল তার সারা জীবনের সাধনা। সমুদ্রকে ছোঁয়া। তবে ঢেউয়ের সঙ্গে আছড়ে পড়া জলে অল্প গা ভিজিয়ে নেওয়া যায়।

    খাঁড়ির গায়ে সার সার নৌকা বাঁধা। তারা দু’জন নৌকা চেপে পার হয়েছিল খাড়ি। আর সৈকতে পৌঁছেছিল। বালির মধ্যে পা ডুবছিল তাদের আর গতি হচ্ছিল শ্লথ। বর্ষা তখন লাগছিল সবে আকাশে। কিন্তু ছায়া ফেলেনি। গরম বালু। গরম হাওয়া। চন্দ্রাবলীর সালোয়ারে বালু মাখামাখি। কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছিল টুপটাপ। কী এক অপার খুশিতে দু’চোখে ছিল বালুকাবেলার চিকচিক। একটু হাঁপ-ধরা স্বরে গান গাইছিল সে। সুর ঝরিয়ে চলেছিল। তার দিকে তাকিয়ে হেসে প্রশ্ন করেছিল এ সুর সে চেনে কিনা। সে মাথা নেড়েছিল। চেনে না। ছায়াপট। বলেছিল সে। তারপর বাণী শুনিয়েছিল। সুর যে কথাগুলি আশ্রয় করে আছে সেই কথা। এমন বহু বাণী মুখস্থ ছিল তার।

    সাঁঈকে সঙ্গ সাসুর আঈ।
    সঙ্গ না রহি স্বাদ না জানৌ।
    বয়ো জোবন সুপনেকী নাঈ।
    সখী-সহেলি মঙ্গল গাবেঁ
    সুখদুখ মাথে হরদি চঢ়াঈ।
    ভয়ে বিবাহ চলি বিন দূলহ
    বাট জাত সমধী সমঝাঈ।
    কহৈঁ কবীর হম গৌণে জৈবে তরব কন্ত লৈ
    তুর বজাঈ।

    সে একটি বর্ণও বোঝেনি। তাই অর্থ জানতে চেয়েছিল। বুঝিয়েছিল সে। সে বিশ্বাস করত, সুর যে বাণীকে আশ্রয় করে, তার প্রত্যেকটি অর্থ বোধগম্য না হলে গানের প্রকাশ সঙ্গত হয় না। গান নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করত সে। পড়াশোনাও করত। কিন্তু গান মাধ্যমে কখনও সে বিখ্যাত হতে চায়নি। সে বরং তার জীবনের অর্ধেক দিয়েছিল গানকে। অর্ধেক সে লালন করত একটি নিটোল সংসারের স্বপ্নে ভরা।

    সেদিন, বালিতে পা ডুবিয়ে চলতে চলতে গানের অর্থ বলে সে। সে কি ভেবে এসেছিল, এটাই বলবে, এমনই গাইবে বালিয়াড়িতে পা দিয়েই? কিন্তু সে স্বীকার করতে বাধ্য হয় অন্তত নিজের কাছে ততখানি জটিল, ততখানি সুপরিকল্পিত ছিল না চন্দ্রাবলী মেয়েটি তার ছিল আবেগ। আপাদমস্তক চটচটে আবেগ।

    “স্বামীর সঙ্গে শ্বশুরবাড়ি এসেছি।
    কিন্তু থাকতে পারিনি সঙ্গে।
    জানি না স্বামীসঙ্গের স্বাদ। স্বপ্নের
    মতো কেটে গেল এ যৌবন। সখীরা
    ঙ্গলিক গায় আর আমার মাথায়
    দেয় সুখ-দুঃখের হলুদ। বিয়ে হয়ে
    গেল আমার। কিন্তু স্বামীকে ছাড়াই
    চলেছি। জ্ঞাতি-গোষ্ঠী পথ দেখিয়ে
    নিয়ে যাচ্ছে। কবীর বলছে, আমি
    দ্বিতীয় বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি যাব।
    প্রিয়তমকে নিয়ে তুরী বাজিয়ে চলে
    যাব।”

    সমুদ্রের গা-ঘেঁষা পারে যখন পৌঁছেছিল তারা, পেছনে তাকিয়ে দেখেছিল, খাঁড়ির পারে সার-সার নৌকাগুলিকে বিন্দুর মতো লাগছে। সুতরাং নৌকার মানুষের কাছে তারাও ছিল বিন্দুবৎ। বিপুল ঢেউ সমুদ্রে ছিল না। হাওয়ার আদরে জলের গায়ে অল্প অল্প দোলা। দিগন্তবিস্তৃত জল। তরঙ্গ নেই বলে সমুদ্র যেন তেমন করে সমুদ্র নয় এখানে। অনেকটা, সুন্দরবনে গিয়ে মোহনা যেমন দেখেছিল তেমনই। জলে নানা রঙের ছড়া। পারের বালুতে মিশে গৈরিক জল কিছু দূর অবধি গিয়ে বুজাভ। তারপর নীল। নীলের পর চকচকে। রৌদ্র পড়ে সুবিস্তৃত আলোয় প্রতিফলিত পরকলা। কোনও এক অদৃশ্য বৃহৎ চোখের বৃহত্তর কাচ।

    সে সমুদ্রের দিকে মুখ করে স্তব্ধ দাড়িয়েছিল। একটিও কথা বলতে তার ভাল লাগছিল না। কিন্তু চন্দ্রাবলী আনন্দে দিশেহারা হয়ে পড়ে। বড় অস্থির সে তখন। বড় চঞ্চল।

    একটা গোটা সমুদ্রবেলায় তারা মাত্র দু’জন। যেন এই বেলাভূমি, তারা আসবে বলেই সাজিয়ে রেখেছে প্রকৃতি। তার ওপর চন্দ্রাবলী খুশি বাজিয়ে ঘুরছিল। তার চলায় নৃত্যছন্দ প্রকাশ ছিল সেদিন। দু’হাত দু’পাশে ছড়িয়ে সে আঃ বলছিল, উঃ বলছিল। কিছুক্ষণ ছুটোছুটি করে হঠাৎ সে প্রশান্ত হয়ে যায়। ধীর পায়ে এগিয়ে আসে শুভদীপের কাছে এবং চোখে চোখ রাখে নিঃশব্দে কিছুক্ষণ।

    শুভদীপ সমুদ্র থেকে চোখ ফিরিয়ে চন্দ্রাবতীতে নিবদ্ধ করতে চায়নি। কিন্তু চন্দ্রাবলী দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার। এবং একটি ইচ্ছার কথা জানায়। খোলা আকাশের নীচে, গায়ে রোদুর মেখে, ধুলোবালি জড়িয়ে সঙ্গমের ইচ্ছা। স্বপ্নের পুরুষের সাথে সঙ্গম।

    অতএব সে তার দীর্ঘ কেশ মুক্ত করে দেয়। দোপাট্টা ফেলে দেয় বালুকাবেলায়। হাওয়ায় দোপাট্টা উড়ে যেতে থাকে। কামিজ খুলে ফেলে সে। অন্তর্বাস খুলে ফেলে। উথলে ওঠে কালো ভারী স্তন। সালোয়ার খুলে ফেলে। মেদবহুল পেট নেমে আসে নিষিদ্ধ বস্তার মতো। এবার সে শেষতম অন্তর্বাসে টান দেয়। তার চুল ওড়ে। পোশাক বিক্ষিপ্ত ছড়িয়ে যায়। মত্ত হস্তিনীর মতো হেলেদুলে সে এগোয়। চোখের পলক ফেলে না। শরীরের মেদ-মাংস থরথর নড়ে।

    আর শুভদীপের বিবমিষা আসে। সে পিছু হটে। দেখতে পায়, চন্দ্রাবলীর খোলা ঠোঁট ঝুলে আছে। নড়ছে। চোখ সম্মোহিত। শুভদীপ কেন তার জীবনে এত দেরি করে এল তাই বলছে বারবার। আর ঝাপ দিচ্ছে। শুভদীপকে জড়িয়ে নিতে ঝাপ দিচ্ছে অবলীলায়। আর শুভদীপ তাকে ঠেলে ফেলে দিচ্ছে, ঘৃণ্য ঘেয়ে লোম ওঠা কুকুরী যেমন ঠেলে ফেলে দেয় মানুষ।

    চন্দ্রাবলী বিস্ময়াহত তাকিয়েছিল তার দিকে। তারপর ধীরে ধীরে জল গড়িয়ে দিচ্ছিল চোখ থেকে। এই বিশাল বালুচর, যার ওপর তারা দু’জন ছাড়া আর কেউ ছিল না, যা ছিল তাদের একার, একান্তের—তার ওপর দাড়িয়ে এই প্রত্যাখ্যানে তার বুক ভেঙে খানখান।

    শুভদীপের দিকে পিঠ ফিরিয়ে একটি একটি করে পোশাক পরে নিয়েছিল সে। তারপর প্রশ্ন করেছিল, শুভদীপ কি ভালবাসেনি তাকে? কেন তা হলে সে থেকে যাচ্ছে তার সঙ্গে সারাক্ষণ? কে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছে তারা?

    কথা বলতে ভাল লাগছে না এমন অজুহাত দেয় সে। অতিথি নিবাসে ফিরে সে আলোচনায় যোগ দেবে—এমন বলে। চন্দ্রাবলী জোর করে না।

    সমুদ্র দেখার অভিলাষ চলে গিয়েছিল তাদের।নীরবে হাঁটতে হাঁটতে তারা খাড়ির কাছে পৌঁছয়। যাওয়া এবং প্রবর্তনের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত করে চন্দ্রাবলী স্তব্ধ হয়ে ছিল। হাতছানি দিয়ে নৌকা ডেকেছিল শুভদীপ। তারপর অতিথিনিবাসে ফিরে স্নান করে নেয় দু’জনে। এবং স্নান করা মাত্রই শুভদীপের তীব্র কাম জাগে। তৎক্ষণাৎ কামার্ত পুরুষ হিসেবে সে চন্দ্রাবলীকে শুইয়ে দেয় বিছানায়। চন্দ্রাবলী এতটুকু আপত্তি করে না।

    বরং নিজেকে সমর্পণ করে।

    এবং যখন সে অন্তঃস্থিত, যখন তার দেহ সংলগ্ন হয়ে আছে চন্দ্রাবলীর দেহে, যখন পরস্পরের পরামরাজিতে ঘটে গিয়েছে আলিঙ্গন—যখন সে, শুভদীপ, স্বদেহ প্রকাশ করে নগ্ন রাত্রির দেহে শুয়ে আছে টানটান আর আবিষ্ট নিদ্রার ন্যায়—তখন তার পিঠে হাত রেখে, গালে চেপে গাল, তাকে আবার পুরনো প্রশ্নের মুখোমুখি করে দেয় চন্দ্রাবলী। জিজ্ঞাসা করে, সে কি তবে ভালবাসাবিহীন শরীর সংযোগ করে? কেন করে? কেন?

    ঘোর টুটে যায়। শুভদীপ কঠোর মুখে তাকায় তখন। উঠে পড়তে থাকে। সংলগ্ন স্নানঘরে যায় আর পোশাকে আবৃত করে দেহ। চন্দ্রাবলী শুয়ে থাকে। খোলা। আনমনা। উদাস। শুভদীপ সহ্য করতে পারে না। যে-দেহে সে উপগত হয়েছে কয়েক মুহূর্ত আগে, স্বেচ্ছায়, স্বকামনায়, সেদেহ অবান্তর মনে হয়। উন্নত পেট ও বিপুল বক্ষদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় সে।

    চন্দ্রাবলী প্রশ্ন করে ফের। একই প্রশ্ন। অবিকল। শুভদীপ জল খায়। চন্দ্রাবলীর থেকে দূরত্ব বজায় রেখে বালিশে পিঠ ঠেকিয়ে বসে। তারপর কঠোর কণ্ঠে বলে সেই সেদিনের কথা। রায়মাটাং বনে যাবার পথে থেকে যাওয়া তাদের। শিলিগুড়ি শহরে। আর সে-রাত্রে পরিচয় গভীর ছিল না, প্রেম ছিল না, ভালবাসার সম্ভাবনা ছিল না, কিন্তু শরীর সর্বময় ছিল। স্বেচ্ছায়। কেন?

    চন্দ্রাবলী ভেঙে পড়েছিল। কান্না আটকে যাওয়া বিকৃত স্বর ভেঙে ভেঙে বোঝাবার চেষ্টা করেছিল, সুন্দরবনের সেই অসামান্য ভ্রমণকালে শুভদীপের শির চাঁদ স্পর্শ করে, আর সে, চন্দ্রাবলী, জল সাক্ষী রেখে, জ্যোৎস্না সাক্ষী রেখে, নৌকার গলুইয়ের শুভলক্ষ্মীকে সাক্ষী রেখে, বনবিবি ও দক্ষিণরায়ের আশীর্বাদ দিয়ে শুভদীপকে ভালবেসে ফেলে। এমন ভালবাসা সে কারওকে বাসেনি আগে। কখনওব্রসেনি। সে শুধু সর্বাংশে শুভদীপকেই নিয়ে নেয় সেদিন। তার ভুল-ভ্রান্তি ন্যায়-অন্যায় সমেত। তার ভাল-মন্দ, কল্যাণ-অকল্যাণ সমেত। তাই শরীর বিষয়ে কোনও দ্বিধা ছিল না তার। আজও নেই। যাকে মনের মধ্যে বসিয়ে দেওয়া যায়, সে যে শরীরেও থাকে সারাক্ষণ।

    শুভদীপ তখন মহুলির কথা বলে দেয়। বলে দেয় মহুলিকে সে ভালবাসে। ভালবাসবে। বলে দেয় আর রোষে দগ্ধ হতে থাকে। কেন এই রোষ সে নিজেও জানে না। এবং টের পায়, মহুলির কথা বলতে বলতে অদ্ভুত আরামে ভরে যাচ্ছে মন। চন্দ্রাবলী কাদছে। হো-হো কাঁদছে। বালিশে মুখ চেপে শব্দ কামড়ে কাঁদছে। খোলা চুল ভোলা পিঠময়। কান্নার দমকে ভারী নিতম্বে দোল লাগছে। তার খেয়াল নেই সে নগ্ন। অনাবৃত। কাদছে। আর শুভদীপের আরাম হচ্ছে। অদ্ভুত আরাম। সে ব্যাগ খুলে ছবি বার করছে। মহুলির ছবি। এই সফরেও সে মহুলিকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে।

    ছবি হাতে নিয়ে চন্দ্রাবলী আশ্চর্য শান্ত হয়ে যায়। রাগে না। চেচায় না। চোখের জল মুছে ফেলে। যত্ন করে পাশে ছবিটি রেখে সে একে একে পোশাক পরে নেয়। আবার ছবিটি হাতে নিয়ে দেখে। ফিরিয়ে দেয়। উদাস চোখে জানালার কাছে দাঁড়ায়। যেন, মহুলির সৌন্দর্যের কাছে বিনা যুদ্ধে তার আত্মসমর্পণ।

    বিছানায় মিলনের দাগ লেগে আছে তখনও। চন্দ্রাবলীর হালকা ঘরোয়া, পোশাকেও লেগে গিয়েছে দাগ। সে তার চুল তুলে মস্ত খোঁপা করছে। আরও একবার স্নানের আয়োজন নিয়ে চলে যাচ্ছে স্নানঘরে। নিঃশব্দে কেটে গিয়েছে কিছুক্ষণ। শুভদীপের আর মহুলির ছবি দেখতে ভাল লাগছিল না। যেন সুর বেপথুমান হল। তাল কেটে গেল সময়ের। সে ছবিটি ঢুকিয়ে রাখল ফের। আর তখন, নিঃশব্দ ধারাস্নানের ভেতর থেকে বেপথুমান সুর টেনে, বেতালকে তালে বেঁধে শব্দাবলি ছড়িয়ে দিল বাতাসে। বন্ধ দরজা ঠেলে সেই সব শব্দ এসে পৌঁছল বিছাৰ্যায়। সে শব্দগুলিকে আলাদা করতে পারল না। স্নানঘরের দরজা খুলে গেল। চন্দ্রাবলী সুরের ধারায় ভেজানোনা চুল সুরের হাওয়ায় শুকোতে লাগল। শুভদীপ চোখ বন্ধ করে শুয়ে রইল। সে না চাইলেও তার মন চন্দ্রাবলীর সুর ছাড়িয়ে অন্য কোথাও যেতে পারল না।

    নৈনা অন্তরি আব তু জু হে নৈন ঝঁপেউঁ।
    না হৌঁ দেখৌঁ ঔরকু না তুঝ দেখন দেউঁ

    –এসো আমার চোখে, আমি বুজে ফেলব চোখ। আমি আর কারওকে দেখব না। তোমাকেও আর দেখতে দেব মা অন্য একজনকেও।

    কবীর রেখ সিন্দুরকি কাজল দিয়া ন জাই।
    নৈ রমইয়া রবি রহা দুজা কহাঁ সমাই॥

    –কবীর বলে, যেখানে সিঁদুররেখা দেবার কথা, সেখানে দেওয়া যায় কাজল। আমার দু’চোখে রামকে দিয়েছি আসন, সেখানে অন্যের স্থান। কোথায় হবে।

    মন পরতিতি ন প্রেম-রস নাঁ ইস, তনমেঁ ঢংগ।
    কেয়া জানোঁ উস পীবসুঁ কৈসেঁ রহসি রংগ॥

    —বিশ্বাস করতে পারি না কিছু মনের মধ্যে প্রেমের নাগাল পাই না। এ শরীরে যে প্রিয়তমকে আকর্ষণ করার মতো কিছুই নেই। কী কৌশলে তার সঙ্গে রঙ্গরহস্যে ডুব দেব আমি?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন ও চারকন্যা – তিলোত্তমা মজুমদার
    Next Article বিফোর দ্য কফি গেটস কোল্ড – তোশিকাযু কাওয়াগুচি

    Related Articles

    তিলোত্তমা মজুমদার

    অর্জুন ও চারকন্যা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    ঝুমরা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    নির্জন সরস্বতী – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    বসুধারা – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 25, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    রাজপাট – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 23, 2025
    তিলোত্তমা মজুমদার

    কয়েদি – তিলোত্তমা মজুমদার

    August 23, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }