Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শার্লক হোমস সমগ্র ২ – অনুবাদ : অদ্রীশ বর্ধন

    লেখক এক পাতা গল্প1414 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কাঠের জাহাজ গ্লোরিয়া স্কট

    শীতকাল। রাত হয়েছে। অগ্নিকুণ্ডের পাশে বসে গা তাতাচ্ছি আমি আর শার্লক হোমস।

    এমন সময়ে হোমস বললে, ওয়াটসন, এই কাগজগুলো পড়ে দেখো। অসাধারণ কেস গ্লোরিয়া স্কট-এর সব কথা লেখা আছে। আর এই খবরটা পড়েই আঁতকে উঠে মারা গিয়েছিলেন সমাজের মাথা ট্রেভর।

    ড্রয়ার খুলে একটা রংচটা ছোট্ট চোঙা বার করল বন্ধুবর। ভেতর থেকে বেরোল স্লেট পাথরের মতো ধূসর একটুকরো কাগজ।

    কাগজটায় টানা হাতে লেখা একটা বিচিত্র সংবাদ :

    খেল মুরগি আবার খতম। মুরগিওলা বুড়ো হাডসন কাঁদছে। যত্তোসব গাধার দল। বলে কিনা চালান দিয়েছে লন্ডনে। বলছে, প্রাণপ্রিয় মুরগি নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালাও। তোমার মুরগিও মরবে।

    এ কী গোলকধাঁধা! আমার ভ্যাবাচ্যাকা মুখ দেখে খুক খুক করে শুষ্ক হাসি হাসল হোমস।

    বললাম, এ তো দেখছি একটা আবোল-তাবোল ব্যাপার। আঁতকে ওঠার মতো তো কিছু।

    কিন্তু এই খবর পড়েই ধড়াস করে পড়ে মারা গেছেন একজন শক্তসমর্থ বুড়ো ভদ্রলোক।

    কেসটা আমাকে পড়তে বলছ কেন?

    কারণ এই হল আমার জীবনের প্রথম কেস।

    নিমেষে জাগ্রত হল আমার কৌতূহল। শার্লক হোমসের প্রথম মামলা নিয়ে অনুসন্ধিৎসা ছিল বরাবর।

    পাইপ টানতে টানতে ও বলল, কলেজে থাকতে আমার বন্ধু বলতে ছিল একজনই–ভিক্টর ট্রেভর। কারো সঙ্গে মিশতাম না। ঘরে বসে নিজের পড়া নিয়ে থাকতাম, তরবারি যুদ্ধ

    আর মুষ্টিযুদ্ধ ছাড়া আর কোনো ব্যায়ামে ঝোকও ছিল না।

    ভিক্টরের বুলটেরিয়ার কুকুরটা একদিন আমার পায়ে কামড়ে দেয়। পা নিয়ে শুয়ে রইলাম দশদিন। খোঁজখবর নিতে আসত ভিক্টর। সেই থেকেই নিবিড় হল বন্ধুত্ব। ছুটি কাটানোর জন্যে নেমন্তন্ন করল ওর দেশের বাড়িতে নরফোকের ডনিথর্পে।

    জায়গাটা ভালো। ছোট্ট গ্রাম হলেও বেশ ছিমছাম। মাছধরা আর বুনো হাঁস শিকার নিয়ে একটা মাস দিব্যি কাটিয়ে নেওয়া যায়। লাইব্রেরিতে বাছাই-করা বইয়ের সংগ্রহ। সব দিক দিয়ে ছুটি কাটানোর আদর্শ জায়গা।

    ভিক্টরের বুড়ো বাবা মানুষটা চমৎকার। ও অঞ্চলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ জমিদার তিনি। বিপত্নীক। ভিক্টর ছাড়া সংসারে আর কেউ নেই। এক মেয়ে ছিল–ডিপথেরিয়ায় মারা গেছে। বৃদ্ধ হলেও বেশ শক্তসমর্থ। নীল-নীল চোখে ভয়ংকরের ইশারা। রোদেপোড়া তামাটে রং। সারাজীবন তিনি প্রকৃতির মধ্যে কাটিয়েছেন যা কিছু শিখেছেন, সারাপৃথিবীতে টহল দিয়ে শিখেছেন–বই-পড়া-বিদ্যে বিশেষ নেই। গ্রামের লোক কিন্তু তাকে মাথায় করে রাখে দরাজ হৃদয়ের জন্যে।

    ডনিথর্পে যাওয়ার দিনকয়েক পরের ঘটনা। রাত্রে খাওয়ার পর টেবিলে বসে গল্পগুজব করছি। আমার বিশ্লেষণী শক্তি আর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার গল্প বলছিল ভিক্টর। তখনও অবশ্য জানতাম না এ-শক্তিকে ভবিষ্যতে কী কাজে লাগাব।

    ভিক্টরের বাবা সব শুনে মুচকি হেসে বললেন, বেশ তো, আমার সম্বন্ধে দেখি কী বলতে পার।

    আমি বললাম, গত এক বছর ধরে মার খাবার ভয়ে আধখানা হয়ে আছেন আপনি।

    হাসি মিলিয়ে গেল বুড়োর মুখ থেকে। চোখ বড়ো বড়ো করে কিছুক্ষণ চেয়ে রইলেন। আমার দিকে। তারপর তোক গিলে বললেন, খাঁটি কথা। গত বছর চোরাশিকারীদের দলটা তছনছ করার পর থেকেই আমাকে চোরাগোপ্তা করার ফিকিরে ঘুরছে ওরা। স্যার এডওয়ার্ড হবিকে তো ছুরিও মেরেছে। আমাকে হুঁশিয়ার থাকতে হয় সেই কারণেই। কিন্তু বাবা হোমস, তুমি জানলে কী করে?

    আপনার লাঠি দেখে। লাঠির ওপর খোদাই করা তারিখটা একবছর আগেকার। একবছর আগে কেনা লাঠির মাথায় কিন্তু ছাদা করে তরল সিসে ঢেলে সাংঘাতিক হাতিয়ার বানিয়েছেন। মারধরের ভয় না-থাকলে এ-রকম অস্ত্র অষ্টপ্রহর কেউ সঙ্গে রাখে না।

    আর কী জান বল?

    বয়সকালে খুব বক্সিং লড়েছেন।

    নাক দেখে বললে বুঝি? ঘুসি খাওয়া থ্যাবড়া নাক নাকি?

    কান দেখে বললাম। বক্সারদের কানের মতো আপনার কানও চেপটা আর পুরু।

    আর কিছু?

    খোঁড়াখুঁড়ি করে হাতে কড়া ফেলেছেন।

    সোনার খনি থেকেই যে এত টাকা করেছি।

    নিউজিল্যান্ডে ছিলেন এককালে।

    এক্কেবারে ঠিক।

    জাপানেও ছিলেন।

    ঠিক, ঠিক।

    এমন একজনকে আপনি চিনতেন যাকে আপনি মন থেকে ঝেড়ে ফেলবার অনেক চেষ্টা করছেন। তার নামের প্রথম দুটো অক্ষর–জে. এ.।

    চেয়ার ছেড়ে আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ালেন মি. ট্রেভর। বিশাল নীল চোখে ভয়ংকরভাবে চেয়ে রইলেন আমার দিকে। তারপরেই দড়াম করে মুখ থুবড়ে পড়লেন এঁটোকাটা ছড়ানো টেবিলের ওপর। দেখলাম, অজ্ঞান হয়ে গেছেন।

    এ-রকম একটা কাণ্ড হবে ভাবতেই পারিনি। যাই হোক, চোখ-মুখে জল দেওয়ার পর তো উঠে বসলেন।

    কাষ্ঠ হেসে বললেন, বাইরেটা আমার শক্ত হলেও ভেতরটা খুবই কমজোরি। হোমস, কীভাবে এত অনুমান কর জানি না। কিন্তু পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা হওয়ার ক্ষমতা তোমার আছে। এবং গোয়েন্দাগিরিই তোমার পেশা হওয়া উচিত। গল্পের বা বাস্তবের কোনো গোয়েন্দাই তোমার কাছে পাত্তা পাবে না।

    ওয়াটসন, সেই প্রথম মনে হল, শখ করেও যদি এই বিশ্লেষণী শক্তিকে কাজে লাগাই, দু-পয়সা রোজগার করা অসম্ভব হবে না।

    মি. ট্রেভর বললেন–এত কথা জানলে কী করে, হোমস? দেখলাম, চোখের তারায় তখনও আতঙ্ক থিরথির করে কাঁপছে।

    বললাম, আপনি আস্তিন গুটোতেই দেখেছি কনুইয়ের ভঁজে জে.এ. এই অক্ষর দুটো উল্কি দিয়ে লেখা। কিন্তু বেশ আবছা। ছাল তুলে লেখাটা মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। তাই বললাম, এককালে নামটা আপনার প্রাণে গাঁথা ছিল, পরে ভুলতে চেয়েছেন।

    শুনে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন মি. ট্রেভর। বললেন, আশ্চর্য ক্ষমতা বটে তোমার?

    সেইদিন থেকে কিন্তু বুড়ো সন্দেহের চোখে দেখতে লাগলেন আমাকে। সবসময় ভয়, যেন আরও অনেক জেনে ফেলেছি বা জেনে ফেলতে পারি। ভিক্টরসুষ্ঠু ব্যাপারটা লক্ষ করেছিল। বলেছিল, বাবা দেখছি আর কোনোদিনই তোমাকে নিয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারবে না। ভদ্রলোকের অস্বস্তি ক্রমশ বেড়েই চলেছে দেখে ঠিক করলাম চলে আসব। ডনিথর্প ছাড়ব বলে ঠিক করলাম। সেইদিনই অদ্ভুত একটা ঘটনা ঘটল।

    বাগানে বসে ছিলাম তিনজনে। এমন সময়ে ঝি এসে বললে, একটা লোক মি. ট্রেভরের সঙ্গে দেখা করতে চায়–এখুনি। মি. ট্রেভর তাকে আনতে বললেন।

    ঝিয়ের পেছন পেছন এল একটা বেঁটে মতন শুকনো চেহারার কুটিল-মুখ লোক। চালচলনে চাকরবাকরের মতো ত্রস্ত। হাঁটছে খুঁড়িয়ে। পোশাক সস্তা। হলদে দাঁতে নোংরা কুচুকুরে হাসি। হাত দেখে মনে হয় নাবিক।

    লোকটাকে দেখেই হেঁচকি তুলে দৌড়ে বাড়ির ভেতর চলে গেলেন মি. ট্রেভর–ফিরে যখন এলেন, মুখে ব্র্যান্ডির গন্ধ পেলাম।

    বললেন, কী চাই?

    চোখ কুঁচকে নোংরা হাসিতে এঁটো করা মুখে ঠায় চেয়ে রইল লোকটা। ক্রূর কণ্ঠে বললে, চিনতে অসুবিধে হচ্ছে?

    আরে, হাডসন নাকি!

    আজ্ঞে হ্যাঁ, তিরিশ বছর পর দেখা। বেশ তো ঘরবাড়ি বানিয়ে জাঁকিয়ে বসেছেন দেখছি। শুকনো মাংস আর ক-দিন চিবোই বলুন তো?

    তাই কি হয়? তাই কি হয়? বলেই হেঁট করে লোকটার কানে কানে কী যেন বললেন মি. ট্রেভর। তারপর জোর গলায় বললেন, পুরোনো দিনের কথা কি ভোলা যায়? যাও, রান্নাঘরে গিয়ে পেট ভরে খেয়ে নাও। তারপর এখানেই চাকরি নিয়ে থেকে যাও।

    বাঁচালেন! জাহাজের চাকরিটা গিয়ে অবদি হাত খালি। তাই ভাবলাম আপনার বা মি. বেডোজের কাছে গেলে নিশ্চয় একটা হিল্লে হয়ে যাবে।

    মি. বেডোজের ঠিকানাও জানো?

    সব জানি। পুরোনো দোস্তরা যে কোথায় আছে, সে-খবর রাখি, বলে কুটিল হাসি হাসতে হাসতে ঝিয়ের পেছন পেছন বিদেয় হল লোকটা। বিড়বিড় করে মি. ট্রেভর বললেন, খনিতে যাওয়ার সময়ে জাহাজে আলাপ হয়েছিল। তারপর উঠে গেলেন বাড়ির মধ্যে, কিছুক্ষণ পরে গিয়ে দেখলাম মদ খেয়ে বেংশ হয়ে পড়ে আছেন। আমি থাকায় ভিক্টর খুব অস্বস্তিতে পড়েছে দেখলাম। পুরো ব্যাপারটা আমার কাছে খুবই কদর্য লাগল। পরের দিনই চলে এলাম লন্ডনে।

    ছুটির শেষের দিকে, মানে সাত সপ্তাহ পরে ভিক্টরের টেলিগ্রাম পেলাম। এখুনি যেতে হবে ডনিথর্পে।

    এক ঘোড়ায় টানা হালকা গাড়ি নিয়ে স্টেশনে এসেছিল ভিক্টর। চেহারা দেখে চমকে উঠলাম। উদবেগ উৎকণ্ঠায় শুকিয়ে গেছে, যেন প্রচণ্ড ধকল সয়েছে এই দুটি মাস। প্রাণোচ্ছলতা ওর বৈশিষ্ট্য–কিন্তু তার চিহ্নমাত্র দেখলাম না–একেবারে ভেঙে পড়েছে।

    আমাকে দেখেই প্রথমে বললে, হোমস, বাবা মরতে বসেছে।

    সেকী!

    স্নায়ুতে দারুণ চোট লেগেছে। বাড়ি ফিরে গিয়ে দেখব হয়তো আর নেই।

    হঠাৎ চোট লাগল কেন?

    সেই যে লোকটা বাড়িতে এসেছিল, মনে আছে?

    হ্যাঁ, হ্যাঁ।

    আস্ত শয়তান যে, একটা দিনও শান্তি পাইনি সেদিন থেকে। তার জন্যেই বাবার আজ এই অবস্থা। চলো, যেতে যেতে বলছি।

    গাড়িতে উঠে বসলাম। ভিক্টর বললে, বাবা ওকে প্রথমে মালির কাজ দেয়, সে-কাজে ওর মন উঠল না, বাবা তখন খাসচাকরের কাজ দিল তাকে। তারপর থেকে বাড়ির চাকরবাকররা অতিষ্ঠ হয়ে উঠল ওর ব্যবহারে। দিনরাত অশ্রাব্য গালিগালাজ, মাতলামি কঁহাতক আর সওয়া যায়। পুরো বাড়িটাই যেন তার, এমনি একটা ভাব দেখাতে লাগল সবসময়। অপমানে গা রি-রি করত যখন দেখতাম বাবার সবচেয়ে ভালো বন্দুক নিয়ে বাবারই নৌকোয় চেপে শিকারে বেরোচ্ছে। এমন একটা ইতরামি একটা বিদ্রুপের ভাব ফুটে বেরোত ওর প্রতিটি কথা আর কাজে যে কতবার ভেবেছি মেরে পাট করে দিই রাসকেলকে। দিলেই বরং ভালো করতাম–বাড়তে দেওয়াটাই ভুল হয়েছে।

    একদিন অপমান করে বসল আমার বাবাকেই আমার সামনে! সেদিনই ঘাড় ধাক্কা দিলাম ঘর থেকে। ভীষণ চোখে বেরিয়ে গেল সে। পরদিন বাবা এসে বললে, হাডসনের কাছে আমাকে ক্ষমা চাইতে হবে। বললে, খুব ঝামেলায় পড়েছি, ভিক্টর। একদিন সব জানতে পারবি। সারাদিন ঘর থেকে বেরোল না। দেখলাম, একনাগাড়ে লিখে চলেছে।

    সন্ধের দিকে হাডসন এল ঘরে। আমরা তখন খাওয়া সেরে বসে আছি। বাজখাই গলায় বললে, এখানে আর নয়। এবার চললাম মি. বেডোজের কাছে। তিনিও আমাকে মাথায় তুলে রাখবেন।

    বাবা যেন সিটিয়ে গেল কথাটা শুনে। বলল, রাগ করে যাচ্ছ না তো?

    বিষ-চোখে আমার দিকে তাকিয়ে হাডসন বললে, এখনও কিন্তু ক্ষমা চাওয়া হয়নি আমার কাছে।

    ভিক্টর, বাবা হুকুম দিল আমাকে, হাডসনের মতো লোক হয় না। ক্ষমাটা চেয়ে নাও।

    আমি বেঁকে বসলাম। রক্ত চোখে তাকিয়ে দেখে নেব বলে শাসিয়ে বেরিয়ে গেল হাডসন। আধঘণ্টা পর বিদেয় হল বাড়ি থেকে।

    সেইদিন থেকে বাবা যেন অস্থির হয়ে পড়ল। সারারাত ঘুমোত না। ঘরে পায়চারি করত।

    গতকাল একটা অদ্ভুত ব্যাপার ঘটল। ফোডিব্রিজ পোস্টাপিসের ছাপ-মারা একটা খাম এল বাবার নামে। চিঠিটা পড়েই বাবা কপাল ঠুকতে ঠুকতে উন্মাদের মতো ঘরময় দৌড়াতে লাগল। জোর করে শুইয়ে দিলাম বটে, কিন্তু মুখের চেহারা দেখে বুঝলাম প্যারালিসিস আরম্ভ হয়েছে মুখের একপাশ থেকে দারুণ আঘাতে স্ট্রোক হয়ে গেছে। ডাক্তার এল। পক্ষাঘাত ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ল। সেই থেকে এখনও পর্যন্ত জ্ঞান ফেরেনি। জানি না ফিরে গিয়ে জীবিত অবস্থায় দেখতে পাব কি না।

    কী সাংঘাতিক কথা! কী ছিল চিঠিতে?

    বলতে বলতে গাড়ি পৌঁছে গেল বাড়িতে। পড়ন্ত আলোয় দেখলাম সব জানলা বন্ধ। কালো পোশাক পরা ডাক্তার বেরিয়ে এল বাইরে।

    বললেন, ভিক্টর, তুমি বেরিয়ে যাওয়ার পরেই উনি দেহ রেখেছেন। মৃত্যুর আগে জ্ঞান ফিরে পেয়ে তোমাকে একটা কথা বলতে বলে গেছেন।

    শোকে দুঃখে ভিক্টর তখন পাথর। কোনোমতে বলল, কী?

    ডাক্তার বললেন, কাগজপত্র জাপানি ক্যাবিনেটের পেছনে রইল।

    ডাক্তারের সঙ্গে ভিক্টর গেল ভেতরে বাবার মৃতদেহের কাছে।

    প্রায়ান্ধকার ঘরে বসে মি. ট্রেভরের দুর্দান্ত অতীত এবং আমার মুখে জে.এ. নামের আদ্যক্ষর বৃত্তান্ত শুনেই তার জ্ঞান হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা ভাবতে লাগলাম। কদাকার হাডসনের আবির্ভাবে তিনি ভয় পেয়েছিলেন, হাডসন চলে যাওয়ার পর আরও ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। মি. বেড়োজের কাছে গিয়ে এই হাডসন তাহলে ব্ল্যাকমেলিং শুরু করেছে এবং চিঠিখানায় সেই খবর পেয়েই নিশ্চয় আর সইতে পারেননি। চিঠিখানা দেখতে পেলে এ-রহস্যের কিনারা করা যেত।

    এমন সময় ঝি এল আলো হাতে পেছনে ভিক্টর। ওর হাতে একরাশ কাগজপত্র আর একটা চিঠি–সবই তোমাকে এনে দিলাম। চিঠিখানা তখনই পড়লাম : খেল মুরগি এবার খতম। মুরগিওলা বুড়ো হাডসন কাঁদছে। যত্তো সব গাধার দল। বলে কিনা চালান দিয়েছে লন্ডনে। বলছে, প্রাণ প্রিয় মুরগি নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালাও। তোমার মুরগিও মরবে।

    প্রথমবার পড়ে তোমার মতোই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। আবার পড়লাম। নিশ্চয় সংকেতে লেখা চিঠি। আগেই আঁচ করেছিলাম। শব্দগুলো আসলে বেড়াজাল–আসল মানেটাকে ঢেকে রেখে দিয়েছে। মুরগি কথাটার বিশেষ কোনো অর্থ কি ঠিক করা ছিল আগে থেকে? হাডসন শব্দটা দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে পত্ৰলেখক মি. বেডোজ—হাডসন নয়। পেছন থেকে পড়লাম। একটা শব্দ ছেড়ে ছেড়ে পড়লাম। তার পরেই ফরসা হয়ে গেল। দেখলাম প্রথম শব্দের পর দুটো করে শব্দ ছাড়তে হবে।

    ছোট্ট চিঠি। কিন্তু ভয়ংকর। বুড়ো ট্রেভর অকারণে ঘায়েল হননি।

    চিঠিটা এই—খেল খতম। হাডসন সব বলে দিয়েছে। প্রাণ নিয়ে পালাও। মরবে।

    ভিক্টরকে জিজ্ঞেস করলাম, মি. বেডোজ কে?

    ফি বছর শরৎকালে বাবা ওখানে যেত শিকার করতে।

    এ-চিঠি তিনিই লিখে তোমার বাবাকে সাবধান করে দিয়েছেন। তিনি নিজেও বিপদে পড়েছেন। হাডসন কী এমন গোপন কথা ফাঁস করে দিয়েছে যার জন্যে দুজন সম্ভ্রান্ত মানুষ এতটা। ভয় পেয়েছেন, তা জানা দরকার।

    ভিক্টর বললে, হোমস, সে-কাহিনি নিশ্চয় বড়ো মুখ করে বলার নয়, নিশ্চয় বিরাট কোনো অপরাধের ইতিহাস। জানি কলঙ্কের শেষ থাকবে না। হাডসন দেখে নেব বলে শাসিয়ে যাওয়ার পর বাবা সব লিখেছিল। তুমি পড়ো, আমার সাহস নেই।

    ওয়াটসন, সেদিন যেভাবে এই কাগজ থেকে আশ্চর্য সেই কাহিনি ভিক্টরকে পড়ে শুনিয়েছিলাম, আজও তোমাকে সেইভাবে পড়ে শোনাচ্ছি। শোনো। ওপরে লেখা : ১৮৮৫ সালের আটই অক্টোবর ফলমাউথ থেকে গ্লোরিয়া স্কট জাহাজ রওনা হওয়ার পর ১৫° ২৯ নর্থ ল্যাটিচিউডে ও ২৫° ১৪ ওয়েস্ট লঙ্গিচিউড়ে পৌঁছে ছয়ই নভেম্বর জাহাজ ধ্বংস হয় কীভাবে, তার বর্ণনা।

    প্রিয় ভিক্টর, যে-অপরাধ আমি করেছিলাম, তার শাস্তি পেতে চলেছি। মানসম্মান ধুলোয় লুটোতে চলেছে। সব তোমাকে জানিয়েছি। পড়বার পর পুড়িয়ে ফেলো।

    হয় আমাকে গ্রেপ্তার হতে হবে অথবা আঘাতের আকস্মিকতায় মারা যেতে পারি। সেক্ষেত্রে এ-কাহিনি নিয়ে লুকোছাপার আর দরকার নেই।

    আমার নাম ট্রেভর নয়… জেমস আর্মিটেজ। আদ্যক্ষর, জে.এ.। কনুইয়ের ভাজে উল্কি দিয়ে লেখা আদ্যক্ষর দুটো মুছে ফেলার চেষ্টা করেও পারিনি, তোমার বন্ধু ধরে ফেলেছিল। ভয় হয়েছিল, হয়তো আমার গুপ্ত কাহিনি সে জানে।

    জেমস আর্মিটেজ নামে আমি লন্ডনের এক ব্যাঙ্কে চাকরি করার সময়ে ব্যাঙ্কের তহবিল তছরূপ করি। একটা দেনা শোধ করার জন্যেই এই কুকর্ম করেছিলাম। আর একটা টাকা পাওয়ার আশা ছিল, সেটা পেলেই ব্যাঙ্কের টাকা ব্যাঙ্কে ফিরিয়ে দিতাম, কেউ জানতে পারত না।

    কিন্তু সব ফাঁস হয়ে গেল… প্রত্যাশিত টাকা আর পেলাম না। চুরির দায়ে মাত্র তেইশ বছর বয়সে সাঁইত্রিশ জন অপরাধীর সঙ্গে শেকলে বেঁধে আমাকে চালান করা হল অস্ট্রেলিয়ায়, গ্লোরিয়া স্কট জাহাজে।

    জাহাজটা কাঠের। ভীষণ ভারী। সেকেলে জাহাজ বলে চীনদেশে চায়ের কারবারে কাজে লাগত। সবসুন্ধু লোক ছিল এক-শো। আটত্রিশ জন কয়েদি… বাদবাকি নাবিক, সৈন্য আর জাহাজি অফিসার। সময়টা ১৮৫৫ সাল। ক্রিমিয়ার যুদ্ধ চলছে। কয়েদি জাহাজের অভাবে এই জাহাজটাই কাজে লাগাল সরকার।

    কয়েদি জাহাজ নয় বলেই ঘরের দেওয়ালগুলো হালকা কাঠ দিয়ে তৈরি, তেমন মজবুত নয়। আমার পাশের ঘরে সাড়ে ছ-ফুট লম্বা একজন কয়েদি থাকত। ভীষণ হুল্লোড়বাজ। সব সময়ে হইচই করত। দেমাকি। পরিষ্কার মুখ, পাতলা নাক, চওড়া চোয়াল। মনের জোর যে খুব বেশি, ওই অবস্থাতেই অত ফুর্তি দেখেই বোঝা যেত। একদিন রাতে কানের কাছে শুনলাম তার খাটো কণ্ঠস্বর।

    দেখি কি, মাঝের পাতলা দেওয়াল ফুটো করে ফেলে মুখ বাড়িয়ে আছে সে। পরিচয় হল তখনই। নাম তার জ্যাক প্ৰেন্ডারগাস্ট। বড়ো ঘরের ছেলে। কিন্তু অপকর্মে ওস্তাদ। লন্ডনের বেশ কয়েকটা কারবারি মানুষের পকেট হালকা করে দিয়েছিল অদ্ভুত কৌশলে।

    ওর মুখেই শুনলাম, ধরা পড়লেও সে নগদ আড়াই-লক্ষ পাউন্ড সে লুকিয়ে রেখেছে পরে ভোগ করবে বলে। ফিসফিস করে বললে, ওহে, তুমি কি মনে কর এই পচা কাঠের চীনে জাহাজে আমি মরতে এসেছি? টাকা যখন আছে, তখন তা ভোগও করব। দেখ না কী করি, ঠিক পালাব। তোমারও একটা হিল্লে হবে।

    তারপর জানলাম বারোজন কয়েদির সঙ্গে জাহাজ দখলের ষড়যন্ত্র করেছে জ্যাক প্রেডারগাস্ট। আমার বাঁ-পাশের কেবিনের ইভান্স বলে কয়েদিও আছে সেই দলে। সে এখন দক্ষিণ ইংলন্ডে রাজার হালে থাকে, আমার মতোই নাম পালটেছে।

    ষড়যন্ত্রের মূল হোতা জাহাজের পুরুত-ঠাকুর স্বয়ং, জ্যাকের পুরোনো দোস্ত। জলের মতো টাকা ঢেলে সে হাত করেছে নাবিকদের। দুজন ওয়ার্ডার আর দুজন মেট-ও হাতে এসে গেছে। সৈন্য, ডাক্তার, ক্যাপ্টেন, লেফটেন্যান্টদের নিয়ে পঁচিশজন জানে না এই চক্রান্ত-কাহিনি, তারাই আমাদের শত্রু। এই কয়েকজনকে খতম করে জাহাজ দখল করতে হবে।

    গুণধর পুরুত-ঠাকুর গোড়া থেকে নাবিক সাজিয়ে মারদাঙ্গা-স্যাঙাতদের জাহাজে তুলেছিল। এখন কয়েদিদের ঘরে ঘরে ব্যাগভরতি ধর্মের বইয়ের সঙ্গে দিয়ে গেল উকো পিস্তল, বারুদ আর গুলি। প্রত্যেকের বালিশের নীচে জমা হল অস্ত্রশস্ত্র।

    যেদিন জাহাজ দখল করা হবে বলে ঠিক হয়েছিল, তার আগেই কিন্তু লেগে গেল হাঙ্গামা। সমুদ্রে রওনা হওয়ার তিন হপ্তা পরে সন্ধের দিকে একজন অসুস্থ কয়েদিকে দেখতে এসেছিল ডাক্তার। বালিশের তলায় হাত ঠেকে যেতে পিস্তল দেখে ষাঁড়ের মতো চেঁচিয়ে ওঠে সে। বেগতিক দেখে তৎক্ষণাৎ তাকে বেঁধে ফেলা হয় বিছানায়। পিস্তল হাতে ছুটে বেরিয়ে যায় কয়েদিরা। দমাদম গুলি চালিয়ে জনা ছয়েককে খুন করে ফেলা হয় চক্ষের নিমেষে। ক্যাপ্টেনের খুলি উড়িয়ে দেয় পুরুত-ঠাকুর নিজে।

    ব্যস, জাহাজ দখলে এসে গেল ভেবে আনন্দে আত্মহারা সবাই। বড়ো কেবিনে মদের বোতল খুলে সবাই যখন গলায় মদ ঢালছি, এমন সময়ে এক আঁক গুলি উড়ে এল ঘরের মধ্যে। ধোঁয়া কেটে গেলে দেখা গেল আমাদের ন-জন রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করছে মেঝের ওপর–টেবিলে রক্ত আর মদ গড়িয়ে যাচ্ছে।

    দেখেই প্রেভারগাস্ট বিকট চেঁচিয়ে মূর্তিমান শয়তানের মতো ধেয়ে গেল বাইরে। অসীম সাহস তার। জাহাজের পেছনে ঘরের ঘুলঘুলি ভেঙে লেফটেন্যান্ট দশ জন সৈন্য নিয়ে গুলিবর্ষণ করেছিল আমাদের ওপর। বন্দুকে নতুন করে গুলি ভরবার সময় পর্যন্ত দিল না প্ৰেন্ডারগাস্ট। আমাদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল। পাঁচ মিনিটেই সব শেষ হয়ে গেল।

    প্রেডারগাস্টের কাঁধে তখন যেন শয়তান ভর করেছে। আহত সৈন্যদেরও তুলে ছুঁড়ে ফেলে দিল জলে। একজন জখম অবস্থাতেও সাঁতরে আসছে দেখে গুলি করে উড়িয়ে দিল খুলি। বেঁচে রইল কেবল কয়েকজন ওয়ার্ডার, মেট আর ডাক্তার মোট পাঁচজন।

    এই পাঁচজনকে মেরে ফেলা হবে কি বাঁচিয়ে রাখা হবে–এই নিয়ে ঝগড়া লাগল আমাদের মধ্যে। নৃশংস প্ৰেন্ডারগ্রাস্ট আর তার পিশাচ স্যাঙাতরা পাঁচজনকেই খতম করে দিতে চাইল। কিন্তু আমরা পাঁচজন কয়েদি আর তিনজন নাবিক নিরস্ত্র কাউকে খুন করতে চাইলাম না। সশস্ত্র সৈন্যদের মারা যায় এদের ছেড়ে দেওয়া হোক।

    কথা কাটাকাটি চরমে পৌঁছোতে প্ৰেন্ডারগ্রাস্ট আমাদের একটা নৌকোয় চেপে বিদেয় হতে বললে। আমরা সেই ব্যবস্থাই মেনে নিলাম। চার্ট আর অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে ভেসে পড়লাম নৌকোয়।

    ইভান্স আর আমি চার্ট দেখে নৌকো চালাচ্ছি, এমন সময়ে দেখলাম প্রচণ্ড শব্দে গ্লোরিয়া স্কট ফেটে উড়ে গেল। মেঘগর্জনের মতো গুরু গুরু শব্দ ধেয়ে গেল দিকে দিকে ব্যাঙের ছাতার মতো কালো ধোঁয়া ঠিকরে গেল আকাশের দিকে।

    তক্ষুনি নৌকো ঘুরিয়ে দাঁড় টেনে চললাম সেইদিকে। গিয়ে যখন পৌঁছোলাম, গ্লোরিয়া স্কট ততক্ষণে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। জনপ্রাণীর চিহ্ন নেই।

    হতাশ হয়ে ফিরে আসছি, এমন সময়ে আর্ত চিৎকার শুনে ফিরে দেখি ভাঙা কাঠের ওপর শুয়ে আছে একজন ছোকরা নাবিক। নাম হাডসন। সারাশরীর পুড়ে গেছে। অপরিসীম ক্লান্ত।

    পরের দিন সকালে তার মুখে শুনলাম কী কাণ্ড ঘটেছিল গ্লোরিয়া স্কটে। পাঁচজনকে একে একে খুন করা হয়। ডাক্তারের টুটি কাটে প্রেডারগাস্ট স্বয়ং। একজন মেট বাঁধন খুলে পালিয়ে যায় জাহাজের খোলে। সেখানে এক-শোটা বারুদভরতি পিপের পাশে জ্বলন্ত দেশলাইয়ের কাঠি নিয়ে সে হুমকি দিয়েছিল, কাছে এলেই বারুদে আগুন দেবে। তারপরেই ঘটে প্রলয়ংকর বিস্ফোরণ। হাডসনের বিশ্বাস, দেশলাইয়ের আগুন নয়… মারমুখখা কয়েদিদের পিস্তলের গুলি ফসকে গিয়ে লেগেছিল একটা পিপেতে।

    যাই হোক, গ্লোরিয়া স্কট ধ্বংস হল এইভাবে। পরের দিন অস্ট্রেলিয়াগামী একটা জাহাজে ঠাঁই পেলাম আমরা। সিডনি পৌঁছে নাম পালটে নিলাম আমি আর ইভান্স। খনি অঞ্চলে গেলাম। বিদেশিদের মধ্যে মিশে গেলাম। নিজেদের আগের পরিচয় মুছে গেল। অনেক টাকা নিয়ে দেশে ফিরলাম, জমিদার হলাম। কুড়ি বছর শান্তিতে কাটানোর পর মূর্তিমান উপদ্রব হয়ে এল সেই হাডসন–যাকে ভাঙা কাঠের ওপর থেকে তুলে এনে প্রাণে বাঁচিয়েছিলাম।

    সে জানে আমার দুর্বলতা কোথায়। কেন তাকে রাগাতে চাই না। তাই ভয় দেখিয়ে চলে গেছে। ভিক্টর, তোমার সহানুভূতি যেন আমি পাই।

    এর নীচে কাঁপা হাতে লেখা–সংকেতে খবর পাঠিয়েছে বেড়োজ–হাডসন সব ফাঁস করে দিয়েছে!

    ওয়াটসন, এই হল গ্লোরিয়া স্কট জাহাজের অত্যাশ্চর্য কাহিনি। ভিক্টরের মন ভেঙে যায়। টেরাইতে চলে যায় চাষবাসের কাজ নিয়ে। বেডোজ আর হাডসন দুজনের আর খবর পাওয়া যায়নি। হয় হাডসন বেডোজকে খুন করেছে, অথবা বেডোজ হাডসনকে খুন করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। মি. ট্রেভর কিন্তু স্রেফ আতঙ্কে মারা গিয়েছিলেন–হাডসন আদৌ পুলিশে খবর দেয়নি–মিথ্যে ভয় দেখিয়েছিল।

    ওয়াটসন, যদি মনে কর, আমার এই প্রথম রহস্যভেদের কাহিনি কাজে লাগাতে পারো।

    ———-

    টীকা :

    কাঠের জাহাজ গ্লোরিয়া স্কট : দ্য গ্লোরিয়া স্কট প্রথম প্রকাশিত হয় স্ট্র্যান্ড ম্যাগাজিনে, ফেব্রুয়ারি ১৮৯৩ সংখ্যায় এবং হার্পার্স উইকলির ১৫ এপ্রিল ১৮৯৩ তারিখের সংখ্যায়।

    কলেজে : কোন কলেজে পড়তেন শার্লক হোমস? তার তলোয়ার খেলা এবং বক্সিং-এর প্রতি অনুরাগ থেকে গবেষকদের মতে, তার কলেজ হল অক্সফোর্ড।

    ভিক্টরের বুলটেরিয়ার কুকুরটা : সেই সময়ে ইংলন্ডের বেশিরভাগ কলেজের চৌহদ্দির মধ্যে কুকুর নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল বলে জানা যায়।

    ডনিথর্প : ইংলন্ডের মানচিত্রে এই নামে কোনো এলাকা, শহর বা গ্রাম খুঁজে পাওয়া যায় না।

    ডিপথেরিয়ায় : জীবাণুঘটিত ছোঁয়াচে অসুখ ডিপথেরিয়ায় বেশিরভাগ আক্রান্ত হত শিশুরা। গলায় একটি আস্তরণ তৈরি হয়ে শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি হয় এই রোগে। ঊনবিংশ শতকে এই রোগের মহামারি প্রায়ই দেখা যেত। ১৯২৮-এ আলেকজান্ডার ফ্লেমিঙের আবিষ্কার পেনিসিলিন এই রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়।

    স্যার এড়োয়ার্ড হবি : একই নামে একজন পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন। তিনি ছিলেন রাজা প্রথম জেমসের রাজসভার বিশিষ্ট সভাসদ। জীবৎকাল ১৫৬০ থেকে ১৬১৭।

    হাডসন : হাডসন নামের একাধিক চরিত্র শার্লক হোমসের বিভিন্ন কাহিনিতে দেখা গিয়েছে। হোমসের হাউসকিপার মিসেস হাডসন ছাড়াও দ্য সিক্স নেপোলিয়ন গল্পের মর্স হাডসন, দ্য ফাইভ অরেঞ্জ পিপস গল্পের আমেরিকাপ্রবাসী হাডসন, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

    চালান করা হল অস্ট্রেলিয়া : ইংলন্ডের কয়েদিদের প্রথম দিকে চালান করা হত আমেরিকায়। আমেরিকা স্বাধীন হওয়ার পর ১৭৮৮ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ায় কয়েদি পাঠানো শুরু হয়। প্রথম খেপে এগারোটি জাহাজে প্রায় এক-শো মেয়ে-পুরুষকে পাঠানো হয়েছিল সিডনির নিকটবর্তী বটানি বে-তে। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এবং ভ্যান ডিয়েমেন ল্যান্ড বা আজকের টাসমানিয়ায় কয়েদি পাঠানো হয়েছে ১৮৬৮ সাল পর্যন্ত।

    গ্লোরিয়া স্কট জাহাজে : শার্লক হোমসের বিভিন্ন গল্পে বর্ণিত প্রতিটি জাহাজের নাম কোনো মহিলার নামে; লক্ষ করেছেন রিচার্ড ডবলু, ক্লার্ক। গ্লোরিয়া ছাড়াও আছে নোরা এবং সোফি। দ্য রেসিডেন্ট পেশেন্ট গল্পের জাহাজ নোরা ক্রেইনা, দ্য ফাইভ অরেঞ্জ পিপস গল্পের জাহাজ সোফি অ্যান্ডারসন।

    ক্রিমিয়ার যুদ্ধ : রাশিয়ার সঙ্গে ব্রিটেন, ফ্রান্স, সার্ডিনিয়া এবং অটোমান তুর্কদের যৌথবাহিনীর এই যুদ্ধ চলেছিল ১৮৫৩ থেকে ১৮৬৫ পর্যন্ত।

    টেরাই : বা তরাই ভারতবর্ষের পূর্বাঞ্চলে এবং নেপালে হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এলাকা। ইংরেজরা তরাই অঞ্চলে আসত প্রধানত চা চাষের কারণে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ – আরিফ আজাদ
    Next Article শার্লক হোমস সমগ্র ১ – অনুবাদ : অদ্রীশ বর্ধন

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }