Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শার্লক হোমস সমগ্র ২ – অনুবাদ : অদ্রীশ বর্ধন

    লেখক এক পাতা গল্প1414 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আবাসিক রুগির আশ্চর্য কাহিনি

    বন্ধুবর শার্লক হোমসের সব কেসই যে কাহিনি-বৈচিত্র্যে জমজমাট, তা নয়। কিছু কেস স্মরণীয় তার নিজস্ব বিশ্লেষণী বৈচিত্র্যের জন্যে কিছু স্রেফ কাহিনি বৈচিত্র্যের প্রসাদে, হোমসের অবদান সেখানে অকিঞ্চিৎকর, তবুও ঘটনা-পরম্পরার দৌলতে তা মনের মণিকোঠায় সাজিয়ে রাখবার মতো। বর্তমান কেসটি শেষোক্ত শ্রেণির।

    অগাস্ট মাস। বর্ষাকাল। গুটিসুটি মেরে সকালের ডাকে আসা একটা চিঠি বার বার পড়ছে। হোমস। আমি পড়ছি খবরের কাগজ। কিন্তু ভালো লাগছে না। খবর তো নেই। পার্লামেন্ট মুলতুবি। ছুটি কাটাতে সবাই এখন শহরের বাইরে। আমারও মন উড়ু উড়ু কিন্তু পকেটে পাথেয় নাস্তি বলেই বেরোতে পারছি না। তা ছাড়া আমার এই সৃষ্টিছাড়া বন্ধুটির গ্রাম্য শোভার দিকে কোনো আকর্ষণই নেই যদি না সেখানে কোনো রহস্যের আকর্ষণ থাকে।

    হোমস আত্মনিমগ্ন। কথাবার্তা সম্ভব নয় বুঝে খবরহীন খবরের কাগজখানা নিক্ষেপ করে বিভোর হলাম আকাশপাতাল ভাবনায়। এমন সময়ে ভাবনার ঘুড়ি ডোকাট্টা হয়ে গেল হোমসের গায়ে-পড়া আচমকা মন্তব্যে।

    ওয়াটসন, ধরেছ ঠিক। বোকারাই এভাবে ঝগড়া মিটোয়। পন্থাটা খুবই অসংগত।

    অত্যন্ত অসংগত! অত্যন্ত ভ্রান্ত! বললাম সোচ্ছ্বাসে। পরমুহূর্তেই খেয়াল হল, আরে! আমার মনের কথার প্রতিধ্বনি হোমসের কণ্ঠে কেন? সোজা হয়ে বসে বিষম বিস্মিত হয়ে বিস্ফারিত চোখে চাইলাম ওর পানে।

    বললাম, ব্যাপার কী হোমস? এ যে কল্পনারও অতীত।

    আমার ভ্যাবাচ্যাকা মুখচ্ছবি দেখে অট্টহাসি হাসল হোমস।

    বললে, বন্ধু হে, কিছুদিন আগে এডগার অ্যালান পো-র রচনাবলি থেকে লেখা তোমাকে পড়ে শুনিয়েছিলাম। একজন যুক্তিবিশারদ তার সঙ্গী ভদ্রলোকের মনের অব্যক্ত ভাবনাগুলো হুবহু বলে গিয়েছিল। শুনে তুমি বলেছিলে, এ হল লেখকের কল্পনার লাগামছাড়া দৌড়। আমি বলেছিলাম, ঠিক ওইরকমটি কিন্তু আমিও করি। তোমার বিশ্বাস হয়নি।

    না তো!

    অবিশ্বাসটা মুখে প্রকাশ করনি চোখে-মুখে ফুটিয়ে তুলিয়েছিলে, তাই এখন কাগজ ফেলে দিয়ে যখন সাত পাঁচ ভাবতে বসলে তোমার প্রত্যেকটা চিন্তার চেহারা বাইরে থেকে দেখছিলাম।

    কিন্তু আমি তো চুপ করে বসে আছি। পো যার কথা লিখেছেন, মানে, যার ভাবনার চেহারা বাইরে থেকে আঁচ করা গিয়েছে, সে এক জায়গায় এভাবে বসে থাকেনি! কখনো আকাশের তারা দেখেছে, কখনো পাথরে হোঁচট খেয়েছে।

    মানুষের মুখ হল মনের আয়না। অবয়ব তার নিত্যসঙ্গী।

    তার মানে? অবয়ব দেখে মনের কথা বুঝতে পার?

    অবয়ব আর চোখের ভাষা–দুটোর মধ্যে মনের চিন্তা ফুটে ওঠে। চিন্তার শুরু কখন খেয়াল আছে?

    না।

    আমি বলছি, শোনো। খবরের কাগজখানা ছুঁড়ে ফেলতেই আমার চোখ পড়ে তোমার ওপর। দেখলাম, তিরিশ সেকেন্ড শূন্য চোখে তাকিয়ে রইলে। অর্থাৎ মনও চিন্তাশূন্য। তারপরই চোখ পড়ল জেনারেল গর্ডনের বাঁধানো ছবিটার ওপর। মুখ-চোখের চেহারা একটু পালটাল। অর্থাৎ, ভাবনার আনাগোনা শুরু হল। এরপরেই হেনরি ওয়ার্ড বীচারের না-বাঁধানো ছবিখানার দিকে তাকিয়ে যা ভাবলে–তা মুখেই প্রকট হল। ভাবলে, আহারে! এ-ছবি বাঁধালে ফাঁকা জায়গাটা তো ভরাট হবেই, গর্ডনের ছবির পাশে মানাবেও ভালো।

    অপূর্ব! ঠিক ধরেছ দেখছি! উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠি আমি।

    আবার তাকালে বীচারের ছবির দিকে। এবার নিবিড়ভাবে বীচারের চোখ-মুখ নিরীক্ষণ করলে। আস্তে আস্তে তোমার মুখ থেকে আলোড়ন মিলিয়ে গেল মুখ নিস্তরঙ্গ, অর্থাৎ মন। স্মৃতির রোমন্থনে ব্যাপৃত। অথচ তাকিয়ে আছ ছবির দিকে। তাকিয়ে তাকিয়ে ভাবছিলে মানুষটার মহান কীর্তির কথা, গৃহযুদ্ধে তাঁর অবদানের কথা। তখন কিন্তু আমাদের অনেকেই তাঁকে ভুল বুঝেছিল, অবিচার করেছিল তার প্রতি। আমার মনে আছে, তখন তুমি ঘৃণায় ফেটে পড়েছিলে। আস্তে আস্তে তোমার চাহনি ছবির ওপর থেকে সরে এল–কিন্তু ভাবনা তখনও অব্যাহত রইল। অর্থাৎ ছবির মানুষকে নিয়ে আর ভাবছ না, ভাবছ এবার সেই ভয়ংকর গৃহযুদ্ধের কথা। কেননা, তোমার চোখ জ্বলে উঠল, ঠোঁট শক্ত হয়ে গেল, হাত মুঠো করে ফেললে। তারপরেই মুখটা বিষণ্ণ হয়ে গেল। আপন মনে মাথা নাড়লে। যুদ্ধে যারা প্রাণ হারিয়েছে, তাদের কথা ভেবে মুখটা তোমার ম্লান হয়ে গেল। আস্তে আস্তে তোমার নিজের ক্ষতচিহ্নটায় হাত বুলোলে, ফিকে হাসি হাসলে, এ-হাসি আমি চিনি, দেশে দেশে ঝগড়া মিটোনোর জন্যে রক্তক্ষয়ী এ-পন্থটা যে কতখানি নির্বুদ্ধিতা আর অসংগত, তা ভেবে তুমি নিজের মনেই হেসে উঠলে। চিন্তার এই পর্যায়ে একমত হলাম তোমার সঙ্গে এবং তা ব্যক্ত করলাম সরবে।

    এক্কেবারে ঠিক!

    সেদিনকার সন্দেহ তাহলে মিটল তো? চলো এবার রাস্তার হাওয়া খেয়ে আসা যাক।

    ঘণ্টা তিনেক টো-টো করে বেকার স্ট্রিটে ফিরে দেখলাম দরজার সামনে দাঁড়িয়ে একটা গাড়ি।

    ডাক্তারের গাড়ি দেখছি, বললে হোমস। নতুন পসার শুরু করেছেন। জেনারেল প্র্যাকটিশনার, বিশেষজ্ঞ নন। তবে খাঁটিয়ে ডাক্তার। এসেছেন পরামর্শ করতে, কপাল ভালো ঠিক সময়ে ফিরেছি!

    হোমসের পদ্ধতি আমি জানি। ব্রহাম গাড়ির আলোর পাশে ঝোলানো বেতের বাস্কেটে কী-কী ডাক্তারি যন্ত্রপাতি রয়েছে এবং তাদের অবস্থা দেখেই বুঝলাম ঝট করে এত কথা কী করে বলল সে। ঘরের জানলায় আলো জ্বলছে। রাত দশটায় এসেছেন নিশ্চয় সমস্যা নিয়ে। কৌতূহলী হয়ে ঢুকলাম ঘরে।

    বালি রঙের জুলপিওলা পাণ্ডুবর্ণ বছর তেত্রিশ-চৌত্রিশ বছরের একজন অস্থিচর্মসার ভদ্রলোক অগ্নিকুণ্ডের পাশে বসেছিলেন। বিগতযৌবন শক্তিহীন চেহারা, একটু নার্ভাস আর লাজুক। শিল্পীসুলভ সরু হাত, ডাক্তার বলে মনে হয় না।

    হোমস খুশি উজ্জ্বল কণ্ঠে বললে, গুড ইভনিং ডক্টর, মিনিট কয়েক হল এসেছেন দেখছি।

    উঠে দাঁড়িয়ে ভদ্রলোক বললেন, কোচোয়ান বলল বুঝি?

    আপনার পাশের মোমবাতিটা এইমাত্র জ্বালাননা হয়েছে দেখে বললাম।

    বলুন কী করতে পারি আপনার জন্যে?

    আমার নাম ডক্টর পার্সি ট্রেভেলিয়ান, থাকি ৪০৩ নম্বর ব্রুক স্ট্রিটে।

    আমি জিজ্ঞেস করলাম, স্নায়ুরোগ সম্বন্ধে বিরল গ্রন্থটি তাহলে আপনার লেখা?

    খুশি হলেন ভদ্রলোক। রক্তিম মুখে বললেন, যাক, বইটা পড়েছেন তাহলে। প্রকাশকের হিসেব অনুযায়ী নাকি বিক্রিই হয় না। আপনি ডাক্তার?

    যুদ্ধে ছিলাম–অবসর নিয়েছি।

    স্নায়ুরোগে বিশেষজ্ঞ হওয়ার ইচ্ছে আমার আছে। মি. হোমস। আমার বাড়িতে পর-পর এমন সব ঘটনা ঘটছে যে আপনার কাছে ছুটে না-এসে আর পারলাম না।

    বসল হোমস। পাইপ ধরিয়ে বললে, খুলে বলুন।

    ডক্টর ট্রেভেলিয়ানও বসলেন, কতকগুলো কথা এতই তুচ্ছ যে শুনলে আপনার হাসি পাবে। কিন্তু না-বললেও রহস্যটা স্পষ্ট হবে না। তাই সব বলব, বাদসাদ আপনি দেবেন।

    প্রথমেই বলি, ছাত্র হিসেবে আমি ভালো ছিলাম। ডিগ্রি নেওয়ার পর মুছারোগ সম্পর্কে কৌতূহল জাগানো কিছু গবেষণা করেছিলাম। তারপর স্নায়ুরোগের ওপর ওই বইখানা লিখে ব্রুস পিনকারটন পদক আর পুরস্কার দুটোই পাই।

    কিন্তু জমিয়ে প্র্যাকটিস করার মতো আমার পয়সা ছিল না। ক্যাভেন্ডিশ স্কোয়ারের ধারে কাছে ঘরভাড়া আকাশছোঁয়া, ডাক্তারি সরঞ্জামের খরচও অনেক। পসার না-জমা পর্যন্ত হাতে টাকাও দরকার। এত রেস্ত আমার ছিল না। হঠাৎ কিন্তু বেড়ালের ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ে পড়ল। আশ্চর্য একটা সুযোগ পেলাম।

    বছর কয়েক আগে ব্লেসিংটন নামে এক অচেনা ভদ্রলোক সকালে আমার সঙ্গে দেখা করলেন এবং গায়ে পড়ে আমাকে সাহায্য করতে চাইলেন। ছাত্রজীবনে, আমার সুনাম তিনি শুনেছেন, আমি যে পদক আর পুরস্কার পেয়েছি, সে-খবরও রাখেন। জিজ্ঞেস করে জেনে নিলেন, আমি মদ খাই না, বদ নেশায় আসক্ত নই, অথচ পকেটে রেস্ত নেই বলে পসার জমাতে পারছি না। উনি তখন বললেন, দেখুন মশায়, আমার বেশ কিছু টাকা এমনিই পড়ে আছে। আমি তা খাটাতে চাই। তাতে আপনার লাভ, আমারও লাভ।

    শুনে তো আমার দম বন্ধ হয়ে আসে আর কি! এ যে মেঘ না-চাইতেই জল! উনি তখন খুলে বললেন প্রস্তাবটা। ঘরভাড়া, সাজসরঞ্জাম কেনা, তোকজনের মাইনে, সব খরচ ওঁর। আমার কাজ হবে কেবল রুগি দেখা। রোজগার যা হবে, যার তিন ভাগ উনি নেবেন, এক ভাগ আমি পাব।

    আমি রাজি হয়ে গেলাম। লেডি ডে-তে প্র্যাকটিস শুরু করলাম। দোতলার সবচেয়ে ভালো ঘর দুটোয় উনি নিজে রইলেন, হার্ট খারাপ বলেই সবসময়ে ডাক্তারের সান্নিধ্যে থাকতেন। ঘর থেকে খুব একটা বেরোতেন না, কারো সঙ্গে মিশতেন না, কিন্তু প্রতিদিন সন্ধে হলেই নীচে এসে আমার খাতাপত্র দেখে গিনি পিছু পাঁচ শিলিং তিন পেনি আমাকে দিয়ে বাকিটা নিজের ঘরে নিয়ে বাক্সে মজুত করতেন। রোজগারও ভালো হচ্ছিল। দেখতে দেখতে আমার পসার জমে গিয়েছিল। এই কয়েক বছরেই ভদ্রলোক বড়োলোক হয়ে গেলেন আমার দৌলতে।

    কয়েক সপ্তাহ আগে হন্তদন্ত হয়ে এসে ব্লেসিংটন বললেন, দরজা জানলায় মজবুত খিল লাগানো দরকার। ওয়েস্টএন্ডে নাকি সাংঘাতিক ডাকাতি হয়ে গেছে। ভীষণ উত্তেজিত দেখলাম ভদ্রলোককে। কয়েক সপ্তাহ কাটল অদ্ভুত অস্বস্তির মধ্যে–সবসময়ে জানলা দিয়ে উঁকি মেরে দেখতেন বাইরে। রাত্তিরে ডিনারের পর একটু বেড়ানোর অভ্যেস ছিল, তাও বন্ধ হয়ে গেল এরপর। দেখে শুনে মনে হল ভয়ে সিটিয়ে আছেন অষ্টপ্রহর। কাকে বা কীসের জন্যে এত আতঙ্ক, জিজ্ঞেস করতে গিয়ে হল বিপত্তি। তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন। কাজেই আমি আর ও নিয়ে কথা বলিনি। আস্তে আস্তে সুস্থির হলেন। আগের মতো ডিনারের পর আবার বেড়ানো শুরু করলেন। তারপরেই এমন একটা ঘটনা ঘটল যে একেবারে বিছানা নিলেন।

    দু-দিন আগে একটি চিঠি পাই আমি। চিঠিতে তারিখ নেই, ঠিকানা নেই। শুনুন, পড়ছি।

    একজন খানদানি রুশ ভদ্রলোক বিখ্যাত বিশেষজ্ঞ ডক্টর পার্সি ট্ৰেভেলিয়ানকে দিয়ে তাঁর মূৰ্ছারোগের চিকিৎসা করাতে চান। কাল সন্ধে ছটা পনেরো মিনিটে তিনি আসবেন ডাক্তারের চেম্বারে। ডাক্তারবাবু যেন হাজির থাকেন।

    মূৰ্ছারোগের চিকিৎসায় সবচেয়ে বড়ো অসুবিধে হল রুগি পাওয়া। তাই খুব উৎসাহ পেলাম চিঠি পেয়ে। পরের দিন চেম্বারে এলেন দুই ব্যক্তি। একজন রোগা লম্বা, গম্ভীর, বয়স্ক অতি মামুলি চেহারা–আভিজাত্যহীন। আর একজন কান্তিমান যুবক, চওড়া বুক, ধারালো নাক মুখ।

    ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে যুবকটি পরিচয় দিলেন নিজেদের। বয়স্ক পুরুষ তার বাবা। মূৰ্ছারোগের প্রকোপে বড্ড কষ্ট পাচ্ছেন। চোখে দেখা যায় না। কানে শোনা যায় না। বাবাকে আমার কাছে রেখে তাই তিনি পাশের ঘরে থাকবেন।

    বয়স্ক ভদ্রলোককে পরীক্ষা শুরু করলাম। জবাব দিলেন উলটোপালটা। বোধ হয় ভাষাটা ভালো জানা নেই বলেই। কিছুক্ষণ পরে কোনো জবাব না-দিয়ে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলেন সামনে। চোখ-মুখ শক্ত হয়ে গেছে দেখে বুঝলাম রোগের আক্রমণ শুরু হয়ে গেছে। নাড়ি, জ্বর, মাংসপেশি, প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করে অবাক হলাম–সব স্বাভাবিক। তাই অ্যামাইল নাইট্রেট শুকিয়ে ঘোর কাটানো দরকার ভেবে ল্যাবরেটরিতে গেলাম ওষুধটা আনতে। মিনিট পাঁচেক পরে এসে দেখলাম ঘর খালি। তিনি নেই। পাশের ঘরে তার ছেলেও নেই। চাকরটা নতুন, তেমন চটপটে নয়। রুগি কোথায়, সে বলতে পারল না। আওয়াজ-টাওয়াজও নাকি পায়নি। দরজাটা ভেজানো, বন্ধ নয়। পুরো ব্যাপারটা একটা বিরাট রহস্য রয়ে গেল আমার কাছে।

    ব্লেসিংটন বেড়ানো শেষ করে ফিরে এলেন একটু পরে। ইদানীং ওঁর সঙ্গে খুব কম কথা বলি। তাই এ-প্রসঙ্গে কোনো কথা বললাম না।

    রুশ ভদ্রলোকরা আবার আসবেন ভাবিনি। পরের দিন ব্লেসিংটন বেরিয়ে যাওয়ার একটু পরেই তাই ওঁদের ঘরে ঢুকতে দেখে অবাক হয়ে গেলাম। কাচুমাচু মুখে ওঁরা বললেন কালকের ব্যাপারটা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত। রোগের আক্রমণ কেটে যাওয়ার পর ভদ্রলোকের মনে হল একটা নতুন জায়গায় বসে আছেন। কেন এসেছেন, কোথায় এসেছেন কিছু মনে করতে পারলেন না। প্রতিবার ঘোর কেটে যাওয়ার পর এইরকমই হয়–আগের কথা খেয়াল থাকে না। তাই সোজা বেরিয়ে যান ঘর থেকে। বাবাকে বেরিয়ে যেতে দেখে ছেলে ভাবেন, ডাক্তারের সঙ্গে কাজ শেষ হয়েছে বলেই বুঝি বেরিয়ে যাচ্ছেন। পেছন পেছন তিনিও বেরিয়ে যান। বাড়ি যাওয়ার পর জানা যায় আসল ব্যাপারটা।

    শুনে একচোট হেসে নিয়ে নতুন করে রুগির সঙ্গে আলোচনা করতে বসলাম। ছেলে গেলেন পাশের ঘরে।

    আধ ঘণ্টা পরে প্রেসক্রিপশন লিখে দেওয়ার পর ছেলে এসে বাবাকে ধরে ধরে নিয়ে গেলেন বাইরে।

    একটু পরেই বেড়িয়ে ফিরলেন ব্লেসিংটন। সটান গেলেন ওপরের ঘরে। পরমুহূর্তেই দুমদাম করে বললেন, কে ঢুকেছিল আমার ঘরে?

    উন্মত্ত চেহারা দেখে মাথার ঠিক নেই বুঝে রুক্ষতাটা গায়ে মাখলাম না। সবিনয়ে বললাম, কেউ তো ঢোকেনি।

    শুনে ঠান্ডা হওয়া দুরে থাকুক, তুড়ুক নাচ নাচতে নাচতে সটান আমাকে মিথ্যেবাদী বলে বসলেন ব্লেসিংটন। ওপরের ঘরে টেনে নিয়ে গিয়ে দেখালেন, সত্যিই কার্পেটের ওপর কতকগুলো বড়ো আকারের পায়ের ছাপ–যা তাঁর নয় মোটেই।

    কালকে বিকেলে তুমুল বৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল মনে আছে নিশ্চয় আপনার। বেশ বুঝলাম, রুশ রুগির ছেলেটি ভিজে জুতো নিয়ে এই ঘরে ঢুকেছিলেন। জিনিসপত্রে হাত দেননি। কিন্তু বসবার ঘরে বসে না-থেকে ওপরের ঘরে ঢুকে পায়চারি করে গিয়েছেন কার্পেটে।

    ব্যাপারটা এমন কিছু গুরুতর নয় যে ভেঙে পড়তে হবে। কিন্তু মি. ব্লেসিংটন দেখলাম আতঙ্কে কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। আর্মচেয়ারে বসে হাউ হাউ করে কাঁদতে লাগলেন। কিন্তু কান্নাটা কেন, সেটা স্পষ্ট করে বলতে পারলাম না–আমিও কথা বলতে পারলাম না। তাই আপনার কাছে এলাম। খামোকা ভয় পাচ্ছেন মি. ব্লেসিংটন। আপনি গিয়ে যদি একটু বুঝিয়ে বলেন তো ভালো হয়।

    নিমীলিত চোখে পাইপ টানতে টানতে প্রত্যেকটা শব্দ কান খাড়া করে শুনল হোমস! ডাক্তারের কাহিনি যে তার প্রাণে সাড়া জাগিয়েছে, পাইপ থেকে ধুম উদগিরণের ধরন দেখেই তা বুঝলাম। কাহিনি শেষ হতেই উঠে পড়ল চেয়ার ছেড়ে। পনেরো মিনিটের মধ্যে এসে গেলাম ব্রুক স্ট্রিটে ডাক্তারের চেম্বারে। কার্পেট-মোড়া চওড়া সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠছি, এমন সময়ে—

    ফস করে নিভে গেল ওপরের আলো। অন্ধকারের মধ্যে থেকে ভেসে এল কম্পিত কণ্ঠে ব্রজনাদ : খবরদার! হাতে পিস্তল আছে। ওপরে উঠলেই খতম করে দেব?

    ডাক্তার বললেন, কী হচ্ছে মি. ব্লেসিংটন? মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছেন দেখছি।

    আরে ডাক্তার নাকি! সঙ্গে কারা? অন্ধকারেই টের পেলাম আমার এবং হোমসের সারা গায়ে হাত বুলিয়ে কে যেন পরীক্ষা করছে। তারপরেই জ্বলে উঠল গ্যাসবাতি। আসতে পারেন। আসতে পারেন। ঠিক আছে। কিছু মনে করবেন না একটু হুঁশিয়ার থাকা দরকার।

    আলোয় দেখলাম বিচিত্র ভদ্রলোককে। এককালে খুব মোটা ছিলেন। এখনও মোটা রয়েছেন কিন্তু আগের মতো নয়। বুলডগের মতো শিথিল চামড়া ঝুলছে মুখময়। ভীষণ ঘাবড়ে যাওয়ায় থির থির করে কাঁপছে গালের চামড়া। বালি রঙের পাতলা চুল যেন ভয়ের চোটে খাড়া হতে চাইছে। আমরা এগিয়ে যেতেই হাতের পিস্তলটা পকেটে রেখে বললেন–আসুন মি. হোমস। ডাক্তারের কাছে শুনেছেন তো ঘরে কারা যেন ঢুকেছিল?

    তারা কারা মি. ব্লেসিংটন? আপনাকে খুন করতেই-বা চাইছে কেন? প্রশ্ন করল হোমস।

    ঘাবড়ে গেলেন ব্লেসিংটন। আমতা আমতা করে বললেন, তা তো জানি না। আপনাকে তলব করলাম আপনার মুখেই শুনব বলে।

    আপনি জানেন না?

    আসুন, আসুন, ওপরে আসুন।

    গেলাম ওপরের ঘরে ভদ্রলোকের পেছন পেছন। সুন্দরভাবে সাজানো ঘরের এককোণে রাখা একটা পেল্লায় কালো বাক্সের দিকে আঙুল তুলে ব্লেসিংটন বললেন, আমার সারাজীবনের টাকা ওর মধ্যে আছে। ব্যাঙ্ক-কে আমি ভরসা পাই না। জীবনে একবারই টাকা খাঁটিয়েছি ডাক্তারের মারফত। ঘরে লোক ঢুকেছে দেখে সেই কারণেই এত ঘাবড়ে গেছি।

    মি, ব্লেসিংটন, আমাকে ঠকালে কিন্তু সাহায্য পাবেন না।

    সবই তো বললাম।

    বিরক্ত মুখে পেছন ফিরল হোমস, তাহলে চললাম।

    সে কী! কী করা উচিত বলে যান! ভাঙা গলায় বললেন ব্লেসিংটন।

    প্রাণ খুলে কথা বলা উচিত–যা সত্যি তা বলা উচিত, বলে আর দাঁড়াল না হোমস। আমাকে নিয়ে নেমে এল রাস্তায়।

    হাঁটতে হাঁটতে বললে, অযথা ঝামেলায় তোমাকে টেনে আনার জন্যে আমি দুঃখিত, ওয়াটসন। তবে ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং।

    তা তো বুঝলাম, কিন্তু মাথায় তো কিছু ঢুকছে না।

    দুজন অথবা তিনজন লোক রয়েছে এর মধ্যে। ব্লেসিংটনের ওপর তারা খেপে আছে। এদের একজন রুগির ছদ্মবেশে ডাক্তারকে আটকে রাখে–আর একজন সেই ফাঁকে ব্লেসিংটনের ঘরে ঢোকে।

    রোগটা?

    স্রেফ অভিনয়। কিন্তু কপালক্রমে দু-বারই ঘরের বাইরে রইল ব্লেসিংটন। তার মানে ওই সময়টা যে তার বেড়ানোর সময়, আততায়ীরা তা জানে। চুরির উদ্দেশ্যে ঘরে ঢুকলে জিনিসপত্র নাড়াচাড়া করত। তা ছাড়া প্রাণের ভয় থাকলে চোখ দেখলেই তা বোঝা যায়—ব্লেসিংটনের চোখে আমি মৃত্যুভয় দেখেছি। ও জানে কারা ঘরে এসেছিল কিন্তু চেপে যাচ্ছে।

    অথবা হয়তো ঘরের মধ্যে লোক ঢোকার ব্যাপারটা মনগড়া। ডক্টর ট্রেভেলিয়ান বানিয়ে বলেছেন। নিজেই হয়তো ঘরে ঢুকেছিলেন কোনো বদ মতলবে।

    মুচকি হাসল হোমস আমার কল্পনার দৌড় দেখে।

    বলল, ও-সম্ভাবনা বাতিল করে দিয়েছি সিঁড়ির কার্পেটে সেই জোয়ান লোকটার পায়ের ছাপ দেখে। মাপটা ডাক্তারের জুততার মাপের চেয়ে বড়ো। তা ছাড়া, ডাক্তার ছুঁচোলো জুতো পরেন–সে পরে এসেছিল চৌকোনা জুততা। যাকগে, আশা করছি, কালকেই নতুন খবর পাব ব্রুক স্ট্রিট থেকে।

    সত্যিই খবর এল, অত্যন্ত অভাবনীয়ভাবে। সাতসকালে ধড়মড়িয়ে বিছানায় উঠে বসলাম হোমসের ধাক্কায়। চিরকুট এসেছে ডা. ট্রেভেলিয়ানের কাছ থেকে। নোটবুক থেকে ছেড়া কাগজে দ্রুত লিখেছেন, ভগবানের নামে বলছি। এক্ষুনি আসুন, পি. টি.। চিরকুট পাঠিয়েছেন কোচোয়ানের হাতে গাড়ি নিয়ে সে দাঁড়িয়ে আছে নীচে।

    পনেরো মিনিট লাগল ডাক্তারের চেম্বারে পৌঁছোতে। আমাদের দেখেই মাথায় হাত দিয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন ভদ্রলোক, সর্বনাশ হয়ে গেল। মি. ব্লেসিংটন সুইসাইড করেছেন। গলায় দড়ি দিয়েছেন কাল রাতে।

    শিস দিয়ে উঠল শার্লক হোমস।

    কাতর কণ্ঠে ডাক্তার বললেন, কী করি বলুন তো? সব গুলিয়ে যাচ্ছে আমার। পুলিশ অবশ্য এসে গেছে, ওপরে আছে।

    জানলেন কখন?

    সকাল সাতটা নাগাদ রোজকার মতো চা নিয়ে গিয়েছিল ঝি। দেখল, ঘরের ঠিক মাঝখানে ঝুলছেন। ল্যাম্পের হুকে দড়ি বেঁধে কালো বাক্সটা থেকে লাফিয়ে ঝুলে পড়েছেন।

    চিন্তামগ্নভাবে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল হোমস। তারপর ডাক্তারের পেছন পেছন উঠল ওপরের ঘরে, সঙ্গে আমি। ঢুকেই দেখলাম ভয়াবহ সেই দৃশ্য। স্থূলকায় ব্লেসিংটন ঝুলন্ত অবস্থায় যেন আরও মোটা হয়ে গেছেন। ছাল-ছাড়ানো মুরগির গলার মতো লম্বা হয়ে বেরিয়ে রয়েছে গলা, বাদবাকি দেহটা নরদেহ বলে মনে হচ্ছে না। অত্যন্ত অস্বাভাবিক, অত্যন্ত বেমানান লাগছে সব কিছু। গোড়ালি ফুলে উঠেছে। পাশে দাঁড়িয়ে চটপটে চেহারার একজন পুলিশ ইনস্পেকটর নোটবই খুলে কী যেন লিখছে।

    হোমসকে দেখেই স্বাগত জানাল ইনস্পেক্টর। হোমস বললে, আরে, ল্যানার যে। কী সিদ্ধান্তে পৌঁছেলে?

    ভয়ের চোটে মাথার ঠিক রাখতে পারেননি ভদ্রলোক। ওই দেখুন না শোয়ার ফলে বিছানা দেবে রয়েছে–তারপর ভোর পাঁচটা নাগাদ উঠে ঝুলে পড়েছেন। জানেন তো বেশির ভাগ লোক ওই সময়ে আত্মহত্যা করে।

    লাশ পরীক্ষা করে আমি বললাম, মাসল যে-রকম শক্ত হয়ে গেছে মনে হচ্ছে ঘণ্টা তিনেক আগে মারা গেছেন ইনি।

    অস্বাভাবিক কিছু পেয়েছ ঘরে? হোমস শুধোয়।

    হাত ধোবার জায়গায় পেয়েছি একটা স্ক্র-ড্রাইভার আর কয়েকটা স্কু। কাল রাতে চারটে চুরুট খেয়েছিলেন ভদ্রলোক–পোড়া অংশগুলো পেয়েছি ফায়ারপ্লেসে। এই দেখুন।

    চুরুটের হোল্ডার?

    না।

    চুরুটের বাক্স?

    এই তো–কোটের পকেটে ছিল।

    বাক্স খুলে একটা চুরুট বার করে শুঁকল হোমস।

    বলল, হাভানার চুরুট। কিন্তু এই পোড়া চুরুটগুলো ওলন্দাজরা আমদানি করেছে তাদের পূর্ব ভারতীয় উপনিবেশ থেকে। এসব চুরুট খড়ে মোড়া থাকে, একটু বেশি লম্বাটে আর সরু হয়।

    বলতে বলতে পকেট-ল্যাম্পের আলোয় পোড়া চুরুট চারটে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে নিয়ে বললে হোমস, দুটো চুরুট ছুরি নিয়ে কাটা, বাকি দুটো সাজানো দাঁত দিয়ে কাটা। ল্যানার, এটা আত্মহত্যা নয়, খুন। ঠান্ডা মাথায় মার্ডার।

    অসম্ভব।

    কেন?

    এত ঝামেলা পাকিয়ে কেউ খুন করে না।

    সেটাই তো দেখতে হবে হে।

    খুনিরা বাড়িতে ঢুকল কীভাবে?

    সামনের দরজা দিয়ে।

    দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল।

    চলে যাওয়ার পর বন্ধ করা। হয়েছিল।

    জানলেন কী করে?

    চিহ্ন দেখে। আরও খবর দিচ্ছি, বলে হোমস দরজার কাছে গিয়ে চাবি ঘুরিয়ে চুলচেরা চোখে উলটেপালটে দেখল চাবিটা। দেখল চাবির ফোকর। তারপর বিছানা, কার্পেট, চেয়ার, ম্যান্টলপিস, মৃতদেহ আর দড়ি পরীক্ষা করল। সবশেষে দড়ি কেটে ডেডবডি শোয়ানো হল চাদরের ওপর।

    বললে, দড়িটা কোত্থেকে এল?

    ডক্টর ট্রেভেলিয়ান বিছানার তলা থেকে এক বান্ডিল দড়ি বার করে বললেন, এখান থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে। পুড়ে মরার ভয়ে দড়ি রাখতেন খাটের তলায় সিঁড়িতে আগুন লাগলে জানলা গলে যাতে পালাতে পারেন।

    ফলে ওদের ঝামেলাও কমে গেল। ম্যান্টলপিস থেকে ব্লেসিংটনের এই ছবিখানা নিয়ে চললাম–কাজে লাগবে।

    কিন্তু কিছু তো বলে গেলেন না?

    তিনজন এসেছিল এঁকে খুন করতে। রুশ রুগির ছদ্মবেশে বয়স্ক ব্যক্তিটিকে মাঝে রেখে সারি দিয়ে পা টিপে টিপে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠেছিল তিনজনে। সবার আগে ছিল সেই জোয়ান ছোকরা–ছদ্মবেশী রুগির সাজানো ছেলে। দরজা খুলে বাড়িতে ঢুকিয়েছিল যে তার হদিশ এখনও পেলাম না। ল্যানার, চাকরটাকে গ্রেপ্তার করো। ডাক্তারের মুখে শুনেছি সে নতুন এসেছে কাজে।

    পালিয়েছে ছোঁড়া! গজ গজ করে বললেন ডাক্তার।

    হোমস বললে, সে ছিল সবার পেছনে।

    অভিভূত কণ্ঠে বললাম, হোমস! এত কথা তুমি বলছ কী করে?

    ভায়া, পায়ের ছাপ যে পর পর পড়েছে। ভুল হবার জো টি নেই। কোন ছাপটা কোন শ্রীমানের, সেটা তো কাল রাতেই জেনে গেছি! ওরা দরজার সামনে পৌঁছে তার দিয়ে খুঁচিয়ে খুলে ফেলল তালা–খালি চোখেই আঁচড়গুলো দেখা যায়। আতশকাচের দরকার হয় না। তারপর কাবু করল ব্লেসিংটনকে খুব সম্ভব বিছানায় বসিয়ে নিজেরা বসল বিচারসভার মতো একটা পরামর্শসভায়। বুড়ো হোল্ডারে চুরুট লাগিয়ে বসল চেয়ারে। জোয়ান শাগরেদ এইখানে বসে চুরুট খেয়ে ছাই ঝাড়ল ড্রয়ার-আলমারিতে। তেসরা আদমি পায়চারি করতে লাগল ঘরময়। বিচারে সাব্যস্ত হল ফাঁসি দেওয়া হবে ব্লেসিংটনকে। ফাঁসি দেবে বলেই কাঠ বা পুলির মতো কপিকল জাতীয় কিছু একটা সঙ্গে এনেছিল নিশ্চয়। ফাঁসিকাঠ বানিয়ে নিত নিজেরাই স্কু ড্রাইভার আর ভ্রু পর্যন্ত এনেছিল কড়িকাঠে সেটা লাগাবে বলে। কিন্তু ল্যাম্পের হুকটা দেখে সে হাঙ্গামা করতে হল না। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিয়ে বিদেয় হল জল্লাদরা, ভেতর থেকে স্যাঙাত বন্ধ করে দিল দরজা।

    যেন প্রত্যক্ষ করে বলছে, এমনিভাবে প্রতিটি ব্যাপারে বিশদভাবে বলে গেল হোমস। ছোটো ছোটো চিহ্ন থেকে এইভাবে সাজানো খুনের দৃশ্য শুনে তাজ্জব হলাম প্রত্যেকেই। ইনস্পেকটর তক্ষুনি বেরিয়ে গেল চাকরের খোঁজে।

    বেকার স্ট্রিটে ফিরে ব্রেকফার্স্ট খেয়ে নিয়ে বেরিয়ে গেল হোমস। বেলা তিনটের সময়ে এলেন ডাক্তার আর ইনস্পেকটর। হোমস ফিরল আরও পঁয়তাল্লিশ মিনিট পরে। মুখ প্রসন্ন খবর শুভ নিশ্চয়।

    কী খবর ইনস্পেকটর? শুধোল ল্যানারকে।

    শাবাশ! আর আমি পাকড়াও করেছি বাকি দুজনকে।

    সে কী! একযোগে চেঁচিয়ে উঠলাম তিনজনেই।

    পাকড়াও করেছি মানে তাদের ঠিকুজি কুষ্ঠি জেনে ফেলেছি। ব্লেসিং. টনকে পুলিশমহল চেনে। যারা খুন করে গেল, তাদেরকেও চেনে। এদের নাম বিডল, হেওয়ার্ড আর মোফাট।

    ওয়াশিংটন ব্যাঙ্ক ডাকাত! আঁতকে উঠল ইনস্পেকটর।

    এক্কেবারে ঠিক!

    তাহলে ব্লেসিংটনের আসল নাম সাটন?

    তা আর বলতে।

    আমি আর ডক্টর ট্রেভেলিয়ান মূঢ়ের মতো দৃষ্টিবিনিময় করলাম।

    হোমস বুঝিয়ে দিল–পাঁচজনে মিলে ডাকাতি করেছিল ওয়ার্দিংটন ব্যাঙ্কে। চারজনের নাম এইমাত্র বললাম–পঞ্চমজন হল কার্টরাইট। গার্ড টোবিনকে খুন করে সাত হাজার পাউন্ড নিয়ে চম্পট দেয় এরা। ঘটনাটা ঘটে ১৮৭৫ সালে। পুলিশ পাঁচজনকেই ধরে। রাজসাক্ষী হয় এই ব্লেসিংটন বা সাটন। অথচ এদের মধ্যে সবচেয়ে বদমাশ ছিল এই সাটন। ফাঁসি হয়ে যায় কার্টরাইটের। বাকি তিনজন জেলে যায়। পনেরো বছরের মেয়াদ ফুরোনোর বছর কয়েক আগেই ছাড়া পেয়ে এরা হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে সাটনকে। দুবার খুন করতে এসে ফিরে যায়–ভাগ্যক্রমে বাড়ি থাকেনি সাটন। তৃতীয়বারে কাজ হাসিল করেছে।

    ডক্টর ট্রেভেলিয়ান বললেন, খবরের কাগজে তিনজনের খালাস পাওয়ার খবরটা পড়েই বোধ হয় অত ভয় পেয়েছিল ব্লেসিংটন?

    হ্যাঁ। ডাকাতির গল্প যা বলেছিল, সেটা গল্পই।

    কিন্তু আমার কাছে খুলে বললেই তো হত!

    খুলে বলা কি যায়? পুরোনো দোস্তদের হিংস্র প্রকৃতি সে যতটা জানে, আর কেউ তা জানে। জিঘাংসা যাদের রক্তে, তারা জেল থেকে বেরিয়ে কী করবে, তা হাড়ে হাড়ে বুঝেছিল বলেই আতঙ্কে আটখানা হয়ে গিয়েছিল পাপিষ্ঠ সাটন। অথচ লজ্জার মাথা খেয়ে আপনাকে বলতে পারেনি। তাই চেয়েছিল ব্রিটিশ কানুনের সাহায্য নিয়ে বাঁচতে। কিন্তু বিচার কানুনের চেয়ে বড়ো।

    ব্রুক স্ট্রিটের রহস্যকাহিনির পরিসমাপ্তি এইখানেই। কেননা, তিন বিচারক-জল্লাদের টিকি ধরা আর যায়নি। বছর কয়েক আগে পর্তুগিজ উপকূলে একটা জাহাজ নিখোঁজ হয়! স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের বিশ্বাস খুনি তিনজন আরোহীদের মধ্যে ছিল।

    ———

    টীকা

    আবাসিক রুগির আশ্চর্য কাহিনি : দ্য রেসিডেন্ট পেশেন্ট প্রথম প্রকাশিত হয় স্ট্র্যান্ড ম্যাগাজিনের অগাস্ট ১৮৯৩ সংখ্যায় এবং হার্পার্স উইকলি-র ১২ অগাস্ট ১৮৯৩ তারিখে প্রকাশিত সংখ্যায়।

    হোমসের অবদান সেখানে অকিঞ্চিৎকর : যেমন বলা যেতে পারে এ স্টাডি ইন স্কারলেটের কথা। সেখানে হোমস অপরাধীকে চিহ্নিত করলেও আসল রহস্যের সমাধান হয় অপরাধীর জবানবন্দিতে। খুনি মুখ না-খুললে হত্যার কারণ জানা সম্ভব নাও হতে পারত।

    এডগার অ্যালান পো : প্রথম খণ্ডের (উপন্যাস) টীকা দ্রষ্টব্য।

    জেনারেল গর্ডন : মেজর জেনারেল চার্লস জর্জ গর্ডন (১৮৩৩-১৮৮৫)। ব্রিটিশ সৈন্যবাহিনীর রয়্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স কোর-এর হয়ে ক্রিমিয়া, তাইপে, আফিং যুদ্ধ প্রভৃতি যুদ্ধে সফলতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন।

    হেনরি ওয়ার্ড বীচার : আমেরিকার কনগ্রেগেশনাল পাদরি হেনরি ওয়ার্ড বীচার (১৮১৩-১৮৮৭) ছিলেন একাধারে রাজনীতিক, বক্তা, সমাজসেবী এবং দাসপ্রথা বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বন্ধুপত্নী এলিজাবেথ টিলটনের সঙ্গে ব্যভিচারের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অপরাধে জর্জরিত হলেও তার অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।

    ক্যাভেন্ডিশ স্কোয়ার : ক্যাভেন্ডিশ স্কোয়ার লন্ডনের একটি অংশ। এখানকার লাগোয়া হার্লে স্ট্রিট এবং উইমপোল স্ট্রিটে শহরের বিশিষ্ট ডাক্তারদের চেম্বার অবস্থিত। ১৮৯১-এর মার্চ থেকে মে মাস ২, আপার উইমপোল স্ট্রিটে ছিল আর্থার কন্যান ডয়ালের চেম্বার।

    লেডি ডে : পঁচিশে মার্চ খ্রিস্টধর্মে ফিস্ট অব অ্যানানসিয়েশন পালিত হয়। ধর্মবিশ্বাসে মনে করা হয় এইদিন অ্যাঞ্জেল গ্যাব্রিয়েল মেরি মাতাকে জানান যে তিনি যিশুর জন্ম দেবেন।

    ল্যানার : ইনস্পেকটর ল্যানারকে হোমসের এই একটি গল্পেই দেখা গিয়েছে।

    মেয়াদ ফুরোনোর বছর কয়েক আগেই ছাড়া পেয়ে : ইংলন্ডের আইনে কোনো কয়েদি তার মোট মেয়াদের এক চতুর্থাংশ পর্যন্ত ছাড় পেতে পারত জেলখানায় তার ভালো ব্যবহারের ভিত্তিতে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত কয়েদিদের এমন ছাড়ের ব্যবস্থা নেই, তবে তাদের মেয়াদের বিশ বছর পার হলে কখনো এ-বিষয়ে পর্যালোচনা করে থাকেন কর্তৃপক্ষ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ – আরিফ আজাদ
    Next Article শার্লক হোমস সমগ্র ১ – অনুবাদ : অদ্রীশ বর্ধন

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }