Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শার্লক হোমস সমগ্র ২ – অনুবাদ : অদ্রীশ বর্ধন

    লেখক এক পাতা গল্প1414 Mins Read0
    ⤶

    রং-ব্যাপারীর বিরং ব্যাপার

    [ দি অ্যাডভেঞ্চার অফ দ্য রিটায়ার্ড কালারম্যান ]

    বিষণ্ণ দার্শনিক মেজাজে সেদিন সকালে দেখলাম শার্লক হোমসকে।

    দেখেছ লোকটাকে? শুধোল আমাকে।

    এইমাত্র বেরিয়ে গেল যে-বুড়োটা?

    হ্যাঁ।

    দরজার কাছে দেখলাম।

    কী মনে হল?

    দেহমনে ভেঙে পড়া মানুষ। দেখলে মায়া হয়। জীবন যেন শূন্য, অসার।

    আহা, এক্কেবারে খাঁটি কথা। তবে কী জান ওয়াটসন, সব জীবনই তো এমনি। শূন্য, অসার। বড়ো মায়া হয়। বিন্দুতে সিন্ধুদর্শন ঘটিয়ে গেল বুড়ো। সারাজীবন মানুষ মরীচিকার পেছনেই ছুটে ছুটে যা চায় তা হাতের মুঠোয় পাওয়ার পর দেখে–সব ফক্কা, সব মিথ্যে, সব ছায়া। জীবনে এত দৈন্যতা তো সেই কারণেই। ছায়াবাজির চাইতেও যা মর্মান্তিক।

    তোমার মক্কেল বুঝি?

    তা বলতে পার। পাঠিয়েছে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড। হালে পানি না-পেলে বিশেষজ্ঞ যেমন রুগি পাঠায় হাতুড়ের কাছে–জানে তো আর কিছু করার নেই, এও তেমনি।

    ব্যাপারটা কী?

    টেবিল থেকে একটা বেশ ময়লা কার্ড তুলে নিয়ে হোমস বললে, জোসিয়া অ্যামবার্লি। ছবি আঁকার সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক ব্রিকফল অ্যান্ড অ্যামবার্লি কোম্পানির জুনিয়ার পার্টনার। পেন্টবক্সের গায়ে কোম্পানির নামটা দেখে থাকবে। একষট্টি বছর বয়সে রিটায়ার করে জমানো টাকা নিয়ে লুইহ্যামে একটা বাড়ি কিনে ভেবেছিলেন শেষ জীবনটা শান্তিতে কাটাবেন।

    তারপর।

    খামের পেছনে কয়েকটা পয়েন্ট টুকে রেখেছিল হোমস। এখন দেখে নিয়ে বলল, অবসর নিলেন ১৮৯৬ সালে। বিয়ে করলেন ১৮৯৭ সালে। বউয়ের বয়স ওঁর চাইতে কুড়ি বছর কম। সুন্দরী–ছবি তাই বলছে। স্বচ্ছন্দে বাস করার মতো টাকাপয়সা, সুন্দরী স্ত্রী, অখণ্ড অবসর জীবনটা মধুময় হওয়াই উচিত ছিল। কিন্তু হল না। দু-বছরের মধ্যেই সব গেল। ভেঙে পড়লেন দেহে মনে নিজের চোখেই তো দেখলে।

    কিন্তু কেন?

    ওয়াটসন, গল্প সেই পুরোনো। বিশ্বাসঘাতক বন্ধু আর চপলমতি স্ত্রী। জীবনে একটাই শখ ছিল অ্যামবার্লির দাবা খেলা। বাড়ির কাছেই থাকতেন এক দাবাড়ে ছোকরা ডাক্তার। ডক্টর

    রে আর্নেস্ট। যাতায়াত ছিল ফলে স্ত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গতা জন্মায়। বুড়োকে তো দেখলে ভেতর সুন্দর হলেও বাইরেটা নয়। কাজেই স্ত্রীর আর দোষ কি। গত হপ্তায় নিরুদ্দেশ যাত্রা করেছে এই দুজন। যাবার সময়ে বুড়োর সারাজীবনের জমানো বেশ কিছু টাকা আর দলিলের বাক্সটাও নিয়ে গেছে। মেয়েটিকে খুঁজে বার করতে হবে, টাকাপয়সা উদ্ধার করতে হবে। সামান্য মামুলি কিন্তু বুড়োর কাছে মর্মান্তিক।

    কী করবে ঠিক করেছ?

    তুমি হলে কী করতে? হাতের কেস নিয়ে এখন ভীষণ ব্যস্ত আমি। লুইহ্যামে যাওয়ার সময় নেই, অথচ অকুস্থলের প্রমাণের বিশেষ দাম আছে। বুড়ো চাইছিল আমি যাই। কিন্তু অসুবিধেটা বুঝে আমার বদলি কাউকে পাঠাতে বলেছে।

    তাহলে, আমি যাব—যদিও খুব একটা কাজে লাগবে বলে মনে হয় না।

    বিকেলের দিকে রওনা হলাম লুইহ্যাম অভিমুখে। তখন বুঝিনি মামুলি এই ব্যাপার নিয়েই ইংলন্ডের হাট বাজার পর্যন্ত গরম হয়ে উঠবে দু-দিনেই!

    একটু রাত করেই ফিরলাম বেকার স্ট্রিটে। পাইপ টানতে টানতে অর্ধনিমীলিত চোখে রিপোর্ট শুনে গেল হোমস। মাঝে মাঝে ঝকঝকে ধারালো ধূসর চোখ পুরোপুরি তাকিয়ে দু-চারটে প্রশ্ন না-করলে মনে হত যেন দীর্ঘকৃশ শরীর এলিয়ে ঘুমিয়েই পড়েছে।

    বললাম, জোসিয়া অ্যামবার্লির বাড়ির নাম হ্যাভেন। ইট বাঁধানো একঘেয়ে রাস্তার মাঝে সংস্কৃতি আর সুখ স্বাচ্ছন্দ্যে অপরূপ যেন একটা দ্বীপভূমি। রোদূর পোড়া, শ্যামলা ছাওয়া পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। এমন একটা পাঁচিল যা—

    কবিতা রাখো ওয়াটসন, কড়া গলায় বললে হোমস, ইটের উঁচু পাঁচিল, এই তো?

    হ্যাঁ। রাস্তায় একটা লোককে জিজ্ঞেস করে জানলাম হ্যাভেন কোথায়। লোকটা সিগারেট খাচ্ছিল দাঁড়িয়ে। লম্বা, ময়লা। মিলিটারি-মিলিটারি চেহারা। ইয়া মোটা গোঁফ। হ্যাভেন কোথায় জিজ্ঞেস করতেই অদ্ভুত চোখে তাকাল আমার দিকে।

    ফটক পেরোতে-না-পেরোতেই দেখলাম এগিয়ে আসছেন মিস্টার অ্যামবার্লি। সকালে এক ঝলক দেখে বিচিত্র জীব মনে হয়েছিল–এখন দেখলাম আরও বেশি। লোকটা স্বাভাবিক মোটেই নয়।

    আমিও লক্ষ করেছি, বলল হোমস।

    পিঠ বেঁকে গেছে যেন ভারী জিনিস তুলে তুলে। অথচ রোগাপটকা দুর্বল মোটেই নন–অসুর কাঁধ আর বুকের ছাতি দেখলেই মালুম হয়। পা দুটো কিন্তু নেমে এসেছে আলপিনের মতো সরু হয়ে।

    বাঁ-পায়ের জুতো ভাজ খাওয়া। ডান পায়ের জুতো মসৃণ।

    অত দেখিনি।

    আমি দেখেছি। নকল পা লাগিয়ে হাঁটেন বুড়ো। তারপর?

    স্ট্র-হ্যাটের তলা দিয়ে ঝুলন্ত সাপের মতো তেল চুকচুকে চুলের গোছা আর বলিরেখা আঁকা ভীষণ মুখচ্ছবি দেখেও অবাক হয়েছি।

    বেশ করেছ। কী বলেছেন তাই বলো!

    দুঃখকষ্টের কথা বলে গেলেন হাউ হাউ করে। গাড়ি চলার পথ বেয়ে হাঁটতে হাঁটতে আশপাশ দেখে নিলাম। যত্ন-আত্তির চিহ্ন নেই কোথাও, বাড়ি আর বাগানের সর্বত্র অযত্ন আর হেলাফেলার ছাপ। বাগান হবে ছবির মতো কিন্তু যা দেখলাম তা জঙ্গলের মতো। কোনো সুরুচিম্পন্না মহিলা এ-পরিস্থিতি বরদাস্ত করতে পারেন না। বাড়ির অবস্থাও তথৈবচ। এই একটি ব্যাপারে বুড়োর টনক নড়েছে মনে হল। কেননা হল ঘরে মস্ত গামলা বোঝাই সবুজ রং আর বুড়োর হাতে রঙের বুরুশ দেখলাম। কাঠে রং লাগাচ্ছিলেন।

    আমাকে নিয়ে গেলেন নিজের নোংরা ঘরে। অনেকক্ষণ কথা বললেন। তুমি নিজে–যাওয়ায় হতাশ হয়েছেন দেখা গেল। বললেন, পথের ফকির হয়ে গেছি, কাজেই আমার মতো দীনহীন মানুষের বাড়িতে শার্লক হোমসের মতো বিখ্যাত পুরুষ আসবেন–এতটা আশা করাই অন্যায়।

    বুঝিয়ে বললাম, টাকাকড়ির প্রশ্নই এখানে ওঠে না। বুড়ো বললেন, তা ঠিক। তবে কি জানেন, ক্রাইমও একটা আর্ট–সেদিক দিয়ে এই কেসে মনের খোরাক পেতেন উনি। মানুষকে চেনা মুশকিল। স্ত্রীর কোন আবদারটা রাখিনি বলুন। সে-ছোকরাকেও ছেলের মতোই দেখেছিলাম। তারপরেও কিনা এই ব্যবহার! ডক্টর ওয়াটসন, সংসার বড়ো ভয়ংকর!

    ঘন্টাখানেক ধরে শুরু এই পালাগানই শুনে গেলাম। এতবড়ো একটা ষড়যন্ত্র ঘুণাক্ষরেও আঁচ করতে পারেননি বুড়ো। বাড়িতে কর্তাগিন্নি ছাড়া আর জনমনিষি নেই। একজন ঠিকে ঝি সকালে আসে সন্ধ্যায় যায়। এ-ঘটনা যেদিন ঘটে, সেদিন হে-মার্কেট থিয়েটারে দুটো বেশি দামের আপার সার্কেলের টিকিট কেটেছিলেন বুড়ো নিজের আর স্ত্রীর জন্যে। শেষ মুহূর্তে মাথাব্যথা করছে বলে বউ আর যায়নি। বুড়ো একাই গেছিলেন। বউয়ের না-যাওয়া টিকিটটাও দেখালেন।

    হোমস বললে, আশ্চর্য! সত্যিই আশ্চর্য! কৌতূহল জাগিয়ে দিলে দেখছি। টিকিটটা নিজে দেখাচ্ছিল? নম্বরটা মনে আছে?

    সগর্বে বললাম–তা আছে। একত্রিশ–আমার পুরোনো স্কুলের নাম্বার বলেই মাথার মধ্যে থেকে গেছে।

    অপূর্ব! বুড়োর সিট নাম্বার তাহলে নয় তিরিশ নয় বত্রিশ।

    একটু গোলমাল লাগল হোমসের অকস্মাৎ আগ্রহ আর কথাবার্তা শুনে। বললাম, তা তো বটেই। B সারির টিকিট, তাও দেখেছি।

    খুব ভালো করেছ। আর কী বললেন বুড়ো?

    স্ট্রংরুম দেখালেন! স্ট্রংরুমই বটে। ব্যাঙ্কে যেমন থাকে–অবিকল তাই। দরজা জানলা সব লোহার। চোরের বাবার সাধ্যি নেই ভেতরে ঢোকে। ভদ্রমহিলা কিন্তু নকল চাবি জোগাড় করেছিলেন। উপপতির সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে প্রায় সাত হাজার পাউন্ড নগদ নোট আর কোম্পানির কাগজ নিয়ে ভাগলবা হয়েছেন।

    কোম্পানির কাগজ নিয়ে বিক্রি করবে কী করে?

    সে-পথ বন্ধ করে দিয়েছেন বুড়ো। পুলিশকে লিস্ট দিয়েছেন। মাঝরাতে থিয়েটার থেকে ফিরে দেখেন বাড়ি খালি, দরজা জানলা খোলা, স্ট্রংরুম লুঠ হয়ে গেছে। যাবার সময়ে চিঠিপত্র

    পর্যন্ত রেখে যায়নি স্ত্রী। সঙ্গেসঙ্গে পুলিশকে খবর দেন বুড়ো।

    মিনিট কয়েক কী ভাবল হোমস!

    তারপর বলল, কোথায় রং করছিলেন অ্যামবার্লি?

    প্যাসেজ। স্ট্রংরুমের দরজা জানলা আগেই করেছিলেন।

    তোমার খটকা লাগেনি? এই পরিস্থিতিতে রং করা নিয়ে ব্যস্ত থাকাটা একটু অদ্ভুত নয় কি?

    মন খারাপ থাকলে কিছু একটা নিয়ে ভুলে থাকে সবাই। কথাটা বুড়োর। মাথার ছিট আছে, তাই এমন কথা বলতে পারলেন। আমার সামনেই চিলের মতো চেঁচাতে চেঁচাতে বউয়ের একটা ফটোগ্রাফ ছিঁড়ে কুচিকুচি করে ফেললেন–কালামুখ এ-জীবনে যেন আর না-দেখি।

    আর কিছু লক্ষ করলে?

    একটা ব্যাপার খুব বেশি চোখে পড়েছে। ব্ল্যাকহীদ স্টেশনে ফিরে ট্রেনে উঠলাম। যেই ট্রেন ছেড়েছে অমনি আমার পাশের কামরায় একটা লোক লাফিয়ে উঠে পড়ল। তুমি তো জান, যে-মুখ একবার দেখি, চট করে আর তা ভুলি না। লোকটাকেও ওই ঝকিদর্শনেই চিনে ফেললাম। রাস্তায় যাকে হ্যাভেন কোথায় জিজ্ঞেস করেছিলাম, সেই লোক। আবার তাকে দেখলাম লন্ডন ব্রিজে। তারপর ভিড়ে হারিয়ে গেল। আমাকেই ফলো করছিল–কোনো সন্দেহ নেই।

    ঠিক… ঠিক… কোনো সন্দেহ নেই। লোকটা ময়লা, লম্বা ফো আর গগলস পরা–তাই?

    হোমস! তুমি কি গণকার? চোখে গগলস আছে আমি তো বলিনি।

    ম্যাসোনিক টাই-পিনও আছে নেকটাইতে।

    হোমস!

    ভায়া ওয়াটসন এ তো খুবই সোজা ব্যাপার। সেটা কিন্তু জমে উঠছে, আগে ভেবেছিলাম সাদামাটা আমার মাথা ঘামানোর উপযুক্ত নয়। যদিও গুরুত্বপূর্ণ সবকটা ব্যাপারই তোমার চোখ এড়িয়ে গেছে, তাহলেও যা দেখেছ তার মধ্যেই গভীর চিন্তার খোরাক পাওয়া যাচ্ছে।

    আরে ভায়া, আঘাত দেওয়ার জন্য কথাটা বলিনি। যা করে এসেছ, অন্য কেউ তা করতে পারত না। কিন্তু কয়েকটা পয়েন্ট একদম খেয়াল করনি। যেমন ধরো, আমবার্লি আর তার স্ত্রী সম্পর্কে প্রতিবেশীরা কী বলে? খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। ডক্টর আর্নেস্ট সম্পর্কেই-বা পাড়াপ্রতিবেশীর মন্তব্য কী? লক্কাপায়রা লম্পট কি? ওয়াটসন, তোমার একটা মস্ত সুবিধে হচ্ছে যে তুমি ডাক্তার। মেয়েরা সহজেই মন খোলে তোমার কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ওদের কাছেই অনেক খবর পেতে। যেমন ধর পোস্টঅফিসের কেরানি মেয়ে অথবা মুদির বউ এরাই তোমার স্যাঙাত হয়ে উঠতে পারত। সরাইখানার মেয়েটাকেও কানে মন্ত্র দিলে অনেক কথা বেরিয়ে আসত। কিন্তু কিছুই তুমি করনি।

    এখনও করা যায়।

    করা হয়ে গেছে। এ-ঘর থেকে না-বেরিয়েই টেলিফোন আর স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের দৌলতে তা করেছি। বুড়ো যা বলেছে তা সত্যি। পাড়ার সবাই তাকে মহাকিপটে আর চামার স্বামী বলে জানে। স্ত্রীর সঙ্গে মিষ্টি কথা পর্যন্ত বলত না। স্ট্রংরুমে টাকা থাকত কাঁড়িকাড়ি। আইবুড়ো ডক্টর আর্নেস্ট দাবা খেলত বুড়োর সঙ্গে অন্য খেলা বুড়োর বউয়ের সঙ্গে। সবই যেন জলের মতো পরিষ্কার–তবুও যেন কোথায় একটা লটঘট ব্যাপার থেকে যাচ্ছে!

    সেটা কী?

    স্রেফ কল্পনা বলেই মনে হচ্ছে। আপাতত তা নিয়ে আর মাথা ঘামাতে চাই না। চলো, অ্যালবার্ট হলে গিয়ে ক্যারিনার গান শুনে আসা যাক।

    সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে রুটির গুঁড়ো আর জোড়া ডিমের খোলা দেখেই বুঝলাম আমার আগেই উঠেছে হোমস। টেবিলে একটা হাতে-লেখা চিঠি পেলাম।

    প্রিয় ওয়াটসন,

    জোসিয়া অ্যামবার্লির সঙ্গে মোলাকাত করে দু-একটা পয়েন্ট পরিষ্কার করে নিতে চাই। তারপর ভাবব কেসটা হাতে রাখব না ছেড়ে দেব। তিনটের সময়ে তৈরি থেকো। দরকার হতে পারে।

    সারাদিন টিকি দেখা গেল না হোমসের। বাড়ি ফিরল ঠিক তিনটের সময়ে। মুখ গম্ভীর, চিন্তাবিষ্ট এবং অন্যমনস্ক। এ-অবস্থায় ওর সঙ্গে কথা না-বলাই সংগত।

    অ্যামবার্লি এসেছিলেন?

    না।

    আসবেন এখুনি।

    একটু পরেই ভীষণ উদবিগ্ন ও ভ্যাবাচ্যাকা মুখে আবির্ভূত হলেন বুড়ো ভদ্রলোক।

    মিস্টার হোমস, এই টেলিগ্রামটা পেয়ে ছুটে এলাম। মাথামুণ্ডু কিছুই তো বুঝছি না, হাত থেকে টেলিগ্রাম নিয়ে জোরে জোরে পড়ে গেল হোমস।

    এখুনি আসুন। আপনার সাম্প্রতিক লোকসান সম্পর্কিত খবর দিতে পারব।–এলমান, পল্লি পুরোহিত ভবন।

    হোমস বললে, টেলিগ্রাম পোস্ট করা হয়েছে দুটো দশ মিনিটে লিটল পার্লিংটন থেকে! জায়গাটা এসেক্স ফ্লিনটমের কাছে! এখুনি বেরিয়ে পড়ুন। গাঁয়ের পুরুত বাজে কথা বলার লোক নন। ট্রেন ক-টায়, ওয়াটসন?

    পাঁচটা পঁচিশে একটা আছে লিভারপুল থেকে।

    চমৎকার। ওয়াটসন, তুমিও যাও সঙ্গে। কেসটা চূড়ান্ত আকার নিতে চলেছে। তোমার থাকা দরকার।

    কিন্তু রওনা হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখালেন না বৃদ্ধ মক্কেল।

    বললেন, মিস্টার হোমস, এ বড়ো উদ্ভট ব্যাপার। আমার ব্যাপার গাঁয়ের পাদরি জানবেন কী করে? মিছিমিছি সময় আর পয়সা খরচই হবে।

    না-জানলে টেলিগ্রাম করতেন না। পালটা টেলিগ্রাম করে জানিয়ে দিন আপনি আসছেন।

    আমার যাওয়ার দরকার দেখছি না।

    কঠোর হয়ে গেল হোমসের চোখ-মুখ কণ্ঠস্বর।

    মিস্টার অ্যামবার্লি, এ-রকম স্পষ্ট একটা সূত্র পাওয়ার পর আপনি যদি তার সুযোগ না-নেন, তাহলে আমি আর পুলিশ ধরে নেব কেসটার ফয়সালা করায় আপনার আগ্রহ নেই।

    যেন আঁতকে উঠলেন বৃদ্ধ মক্কেল।

    আরে মশাই, তাই যদি মনে করেন, তাহলে এক-শোবার যাব। মনে হচ্ছিল গিয়ে লাভ নেই, তাই বলছিলাম–

    কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আপনার যাওয়াই দরকার। জোর দিয়ে বললে হোমস।

    রওনা হওয়ার আগে আমাকে ঘরের বাইরে ডেকে নিয়ে হোমস এমন একটা কথা বললে যা শুনে বুঝলাম বিষয়টা ওর কাছে কতখানি গুরুত্বপূর্ণ। বলল, বুড়ো যেন সত্যিই যান–এইটুকুই শুধু দেখবে। যদি ভেঙ্গে পড়েন বা ফিরে আসেন, পোস্টঅফিসে গিয়ে টেলিগ্রাম করবে আমাকে। লিখবে, ভাগলবা। যেখানেই থাকি না কেন, সে-টেলিগ্রাম যাতে আমার কাছে পৌঁছোয় সে-ব্যবস্থা করে যাব!

    লিটল পার্লিংটন স্টেশনটা ব্রাঞ্চ লাইনে বলে যাওয়া একটু মুশকিল। যাত্রাপথও খুব সুখকর হল না। একে তো গরম পড়েছে, ট্রেনও টিকিয়ে টিকিয়ে চলেছে, তার ওপর বুড়ো অ্যামবার্লি মুখখানা শুকনো আমসির মতো গোমড়া করে চুপচাপ বসে রইল তো বসেই রইল। মাঝে মাঝে এক-আধবার বাঁকা সুরে শুধু বলল–পণ্ডশ্রম হচ্ছে–গিয়ে কোনো লাভ হবে না। স্টেশনে পৌঁছে মাইল দুয়েক পথ ঘোড়ার গাড়িতে পাড়ি দিয়ে হাজির হলাম পল্লিপুরোহিত ভবনে। হৃষ্টপুষ্ট বিরাটকায় সৌম্যমূর্তি পুরুতমশায় সাদর অভ্যর্থনা জানালেন। টেলিগ্রাম দেখে বললে, এ কী! এ-টেলিগ্রাম তো আমি পাঠাইনি! জোসিয়া অ্যামবার্লির নামও কখনো শুনিনি।

    ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলাম আমি আর বুড়ো। বললাম, তাহলে বোধ হয় ভুল ঠিকানায় এসেছি। আর একটা পল্লিপুরোহিত ভবন নিশ্চয় এ-গ্রামে আছে। পাদরি সাহেবের নামটা দেখুন এলমান।

    দেখুন মশায়, এ-গাঁয়ে পুরুত-ভবন একটাই, পুরুতও একজন। এই টেলিগ্রাম জাল এবং জালিয়াতি নিয়ে তদন্ত করার দায়িত্ব পুলিশের। আপাতত আর কথা বাড়াতে চাই না।

    বেরিয়ে এলাম ইংলন্ডের আদিমতম গ্রামের রাস্তায়। পোস্টাফিসে গেলাম টেলিগ্রাম করতে অফিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় করা গেল না। শেষ পর্যন্ত রেলওয়ে আর্মস থেকে টেলিফোন করলাম হোমসকে।

    সব শুনে ও বললে, আশ্চর্য! সত্যিই বড়ো আশ্চর্য! আজ রাতে ফেরবার ট্রেনও তো নেই, ওয়াটসন। রাতটা গাঁইয়া চটিতে কাটিয়ে দাও প্রকৃতি আর জোসিয়া অ্যামবার্লির সান্নিধ্যে। খুক। খুক হাসির আওয়াজ শুনলাম শেষের দিকে।

    বুড়ো অ্যামবার্লিকে কেন যে লোকে হাড়কিপটে বলে, সেদিন তা হাড়ে হাড়ে বুঝলাম। ট্রেনে আসার খরচপত্র নিয় গজগজ করছিলেন গোড়া থেকে, জোরজবরদস্তি করে থার্ডক্লাসে টিকিট দেওয়া নিয়ে। পরের দিন লন্ডন পৌঁছোনোর পর দুজনের মধ্যে কার মেজাজ যে বেশি খিঁচড়ে ছিল, সেটাও বলা মুশকিল হয়ে দাঁড়াল।

    বললাম, বাড়ি ফেরার আগে বেকার স্ট্রিট ঘুরে যান। মিস্টার হোমসের নতুন নির্দেশ থাকতে পারে।

    বিচ্ছিরি রকমের ভ্রুকুটি করে অ্যামবার্লি বললেন, কালকের মতো নির্দেশ হলে শুনে লাভ কিছু হবে কি? মুখে বললেন বটে, কিন্তু সঙ্গে গেলেন বেকার স্ট্রিটে। হোমসকে আগেই টেলিগ্রাম করে আমার ফেরার সময় জানিয়ে দিয়েছিলাম! কিন্তু বাসায় ফিরে দেখলাম হোমস নেই। একটা চিঠি রেখে গেছে। লুইহ্যামে গেলেই তাকে পাওয়া যাবে। আশ্চর্য হলাম চিঠি পড়ে। আরও অবাক হলাম বুড়োর বসবার ঘরে হোমসের সঙ্গে ম্যাসোনিক টাইপিন পরা চোখে গগলস আঁটা ময়লা চেহারার কঠোর প্রকৃতির সেই লোকটাকে বসে থাকতে দেখে যে আমাকে এখান থেকে লন্ডন পর্যন্ত ফলো করেছিল।

    হোমস বললে, ইনি আমার বন্ধু মিস্টার বার্কার। আপনার কেস তদন্ত করেছি দুজনেই আলাদা আলাদাভাবে। এখন দুজনেই একটা প্রশ্ন করতে চাই আপনাকে।

    কী প্রশ্ন?

    লাশ দুটি কোথায় পাচার করলেন?

    বিকট চিৎকার করে তড়াক করে চেয়ার ছেড়ে ছিটকে গেলেন জোসিয়া অ্যামবার্লি। সরু সরু হাড় বার করা আঙুল দিয়ে খামচে ধরলেন বাতাস। চোয়াল ঝুলে পড়ল, মুখ হাঁ হয়ে গেল, ভয়ানক বাজপাখির মতো দেখাল ক্ষণেকের জন্যে। চকিতের মধ্যে স্পষ্ট দেখলাম আসল অ্যামবার্লিকে, দানব প্রকৃতিপিশাচ অ্যামবার্লি–যার মন দেহের মতই বিকৃত, বীভৎস, ক্রূর, কুটিল। ধপাস করে পড়ে গেলেন চেয়ারে, পর মুহূর্তেই ঠোঁট চেপে ধরলেন উদগত কাশি আটকানোর প্রয়াসে। বাঘের মতো লাফিয়ে গেল হোমস। মুখখানা সবলে চেপে ধরে কঁকিয়ে নামিয়ে ধরল মেঝের দিকে। খাবি খাওয়া ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে টুপ করে খসে পড়ল একটা সাদা বড়ি।

    শর্টকাট রাস্তায় যেতে চাইলেই কি যাওয়া যায়, জোসিয়া অ্যামবার্লি? যা হবার তা আইনসংগতভাবেই হবে। বার্কার, আপনি কী বলেন?

    গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখেছি।

    ওয়াটসন, তুমি বোসা এখানে। থানায় ছেড়ে দিয়ে ফিরছি আধঘণ্টার মধ্যে।

    জোসিয়া অ্যামবার্লি বুড়ো হলে কী হবে, বিরাট শরীরে সিংহের শক্তি ছিল। কিন্তু দু-দুজন অভিজ্ঞ পালোয়ানের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে সুবিধে হল না। হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে বুড়োকে তোলা হল ছ্যাকড়াগাড়িতে। আধঘণ্টার আগেই স্মার্ট চেহারার এক ছোকরা পুলিশ ইনস্পেকটরকে নিয়ে ফিরে এল হোমস।

    বললে, ওয়াটসন, বার্কার আমার পয়লা নম্বর প্রতিদ্বন্দ্বী। সারি উপকূলে খুব টক্কর দিয়েছে এককালে। লম্বা ময়লা একজন তোমাকে ফলো করেছে শুনেই চেহারার নিখুঁত বর্ণনা দিতে পেরেছিলাম সেইজন্যেই। বেশ কিছু কেসের ফয়সালা ওর হাতে হয়েছে, তাই না ইনস্পেকটর?

    সংযত কণ্ঠে ইনস্পেকটর বললেন, নাক গলিয়েছে বলা যায়।

    আমার মতোই ধরাবাঁধা পদ্ধতিতে বার্কার কাজ করে না–হাতে হাতে তাই পাওয়া যায়।

    এ-কেসে যে আমরা আমাদের পদ্ধতিতে তদন্ত করে ফল পেতাম না, এমনটা ভাববেন না মিস্টার হোমস। আপনাদের উলটোপালটা পদ্ধতি দিয়ে তদন্ত করে প্রাপ্য কৃতিত্ব থেকে আমাদের বঞ্চিত করাটা আমি ভালো চোখে দেখছি না কিছু মনে করবেন না সোজাসুজি বলছি বলে।

    আরে মশাই, কৃতিত্ব থেকে কে বঞ্চিত করছে আপনাদের? কেস শেষ হল–আমিও সরে দাঁড়াচ্ছি।

    শুনে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন ইনস্পেকটর। উত্তম কথাই বলেছেন। প্রশংসা বা নিন্দায় আপনার কিছু হয় না কিন্তু খবরের কাগজের টিটকিরিতে আমাদের ক্ষতি হয়।

    প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারলে টিটকিরি দেবে কেন? যেমন ধরুন আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় কী দেখে বুড়োর গোপন পাপ আঁচ করতে পারলেন, জবাব দেবেন কী?

    ঘাবড়ে গেলেন ইনস্পেকটর।

    তিনজন সাক্ষীর সামনে আসামি স্বীকার করেছে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিল স্ত্রী আর স্ত্রীর প্রেমিককে হত্যা করার পর। এ ছাড়া আর কী থাকতে পারে বলুন?

    বাড়ি তল্লাশির ব্যবস্থা করেছেন?

    তিনজন কনস্টেবলকে পাঠিয়েছি।

    তাহলে লাশের খবরও এবার পাবেন। বাড়িটায় জলের পাইপ লাগানো হয়েছে বাড়ি তৈরির অনেক পরে। তার মানে এমন একটা কুয়ো কোথাও পাবেন যা এখন ব্যবহার করা হয় না। লাশ দুটো তার মধ্যে থাকতে পারে অথবা বাগানে বা পাতালঘরেও থাকতে পারে।

    কিন্তু আপনি জানলেন কী করে? খুনটাই-বা হল কী করে?

    খুন করলেন কী করে, আগে তাই বলি। বুড়ো অ্যামবার্লির ঠাঁই হওয়া উচিত পাগলাগারদে, ফাঁসিকাঠে নয়। বউয়ের ওপর এমন অত্যাচার করেছেন টাকাকে বেশি ভালোবাসার দরুন, যার ফলে ভদ্রমহিলা বাধ্য হয়েছে পরপুরুষে আসক্ত হতে। অ্যামবার্লি কুচক্রী বলেই দাবাটা ভালো খেলতেন। হাড়কিপটেরা বড়ো ঈর্ষাকাতর হয়–অ্যামবার্লিও তাই ছিলেন। ডাক্তারের সঙ্গে স্ত্রীর গোপন প্রণয় আঁচ করে ফেলেছিলেন। তাই প্ল্যান করে ফেলেছিলেন দুজনকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন। এ-রকম পৈশাচিক পরিকল্পনা কোনো সুস্থ মস্তিষ্কে আসে না। আসুন দেখাচ্ছি।

    যেন এ-বাড়িতেই দীর্ঘদিন বাস, এমনিভাবে পথ দেখিয়ে আমাদের ভেতরে নিয়ে গেল হোমস, দাঁড়াল স্ট্রংরুমের খোলা দরজার সামনে।

     

    হোমস বললে, প্রথম সূত্র হল এই রঙের গন্ধ। ধন্যবাদটা ডক্টর ওয়াটসনের প্রাপ্য। গন্ধটা ওর নাকেও এসেছিল কিন্তু ঠাহর করতে পারেনি। আমি কিন্তু লাইন করে ফেলেছিলাম। এই পরিস্থিতিতে বাড়িময় রঙের গন্ধ কেউ ছড়ায় কেন? কী উদ্দেশ্যে? নিশ্চয় অন্য কোনো গন্ধ ঢাকবার মতলবে–এমন একটা গন্ধ যা বাইরের লোকের নাকে সন্দেহ হতে পারে। তারপরেই শুনলাম এইরকম একটা ঘর রয়েছে বাড়ির মধ্যে দরজা জানলা লোহার–বাতাস পর্যন্ত বেরুতে পারে না। দুটো বিষয় পাশাপাশি রাখুন–কী পাচ্ছেন? নিজের চোখে বাড়ি দেখার পর আমি নিজে বুঝে ফেলেছিলাম আসল ব্যাপার। কেসটা যে সিরিয়াস আঁচ করেছিলাম আগেই। হে-মার্কেট থিয়েটারের বি-সারিতে তিরিশ, আর বত্রিশ নম্বর সিটে কেউ যে আসেনি বিশেষ সেই রাতে–তা নিজে গিয়ে জেনেছিলাম। এ-সূত্রটাও ডক্টর ওয়াটসনের বাঘের চোখে ধরা পড়েছিল কিন্তু তলিয়ে দেখেনি। কাজেই অ্যামবার্লির অন্যত্র স্থিতি ধোপে টিকল না–কেননা থিয়েটারে উনি যানইনি সেই রাতে। বউয়ের জন্য কাটা টিকিট দেখাতে গিয়ে ডক্টর ওয়াটসনকে টিকিট নাম্বার দেখিয়ে ফেলে বিরাট ভুল করেছিলেন। বাড়ির মধ্যে থেকে অ্যামবার্লিকে সরানোর জন্যে একটা কায়দা করতে হল। আমার এক এজেন্টকে পাঠিয়ে দিলাম এমন একটা দূর গ্রামে যেখান থেকে রাত্রে ফেরা যায় না–ট্রেন থাকে না বলে। গাঁয়ের পাদরির নাম দিয়ে এজেন্ট একটা টেলিগ্রাম পাঠাল অ্যামবার্লিকে। ডক্টর ওয়াটসনের সঙ্গে অ্যামবার্লিকে একরকম জোর করেই পাঠালাম সেখানে। কী বুঝলেন?

    দারুণ!ইনস্পেকটরের সশ্রদ্ধ মন্তব্য।

    পথ পরিষ্কার করার পর হানা দিলাম বাড়িতে। সিঁধেল চোরের ব্যবসায়ে নামলে নাম করতে পারতাম। কী পেলাম নিজের চোখে দেখুন। এই যে গ্যাসপাইপটা দেখছেন–এই দেখুন পাইপের গায়ে কোণের দিকে একটা কলও রয়েছে। দেখতেই পাচ্ছেন পাইপটা দেওয়াল বেয়ে উঠে স্ট্রংরুমের ভেতরে গিয়েছে–কড়িকাঠের যেখানে কারুকাজ করা–সেইখানে পাইপের খোলা মুখটা লুকোনো রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বাইরের কল খুলে দিয়ে ঘরের ভেতরে গ্যাস ঢুকিয়ে দেওয়া যায়। বাঁচবে না। স্ত্রীর আর ছোকরা ডাক্তারকে এই গ্যাস চেম্বারে ঢুকিয়ে খুন করেছেন আমবার্লি–পৈশাচিক পন্থাটা বুড়োর মাথায় এল কী করে জানি না।

    পাইপ দেখলেন ইনস্পেকটর। বললেন, আমাদের এক অফিসার গ্যাসের গন্ধ পেয়েছিলেন। তখন অবশ্য দরজা জানলা খোলা ছিল–রঙের গন্ধও ছিল। অ্যামবার্লি রং করা শুরু করেছিলেন নাকি আগের দিন থেকে। তারপর মিস্টার হোমস?

    তারপর একটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটল। ভোররাতে ভাড়ার ঘরের জানলা দিয়ে বেরিয়ে আসার সময়ে খপ করে কে যেন কলার খামচে ধরে চাপা গলায় হুংকার ছাড়ল, রাসকেল, এবার যাবি কোথায়? ফিরে দেখলাম প্রতিদ্বন্দ্বী বন্ধু মিস্টার বার্কারকে। হাসতে লাগলাম দুজনেই। অদ্ভুত পরিস্থিতি। বার্কারকে এ-কাজে লাগিয়েছে নিখোঁজ ছোকরা ডাক্তারের বাড়ির লোক–বাকারও আঁচ করেছিল জঘন্য কিছু একটা ঘটেছে বাড়ির মধ্যে। ক-দিন ধরেই বাড়ির ওপর নজর রেখেছিল। ডক্টর ওয়াটসনকে বাড়ি থেকে বেরুতে দেখেই ওঁকে সন্দেহ করে এবং পেছন নেয়। গ্রেপ্তারও করত ওয়াটসনকে, কিন্তু ভঁড়ার ঘরের জানলা বেয়ে আর একটা লোককে চোরের মতো বেরোতে দেখে আর ধৈর্য ধরতে পারেনি। এরপর থেকেই দুজনে কাজ করেছি একসঙ্গে।

    আমাদের সঙ্গে না-করে তার সঙ্গে কাজ করার কী দরকার ছিল?

    দুজনে মিলে ছোট্ট যে-পরীক্ষা করলাম এবং সফলও হলাম–সে-পরীক্ষা আপনাদের দিয়ে হত না বলে।

    যাই হোক, কেস থেকে এখন সরে দাঁড়াচ্ছেন তো?

    নিশ্চয়। আমার কাজের রীতিই তাই।

    পুলিশ বাহিনীর তরফ থেকে ধন্যবাদ রইল।

    আপনাকে আরও একটা প্রমাণ দিয়ে যাই। ধরুন আপনাকে এ-ঘরে কেউ আটকে রেখে গ্যাস ঢোকাচ্ছে আর বাইরে থেকে টিটকিরি দিচ্ছে। মাত্র দু-মিনিট সময় পেয়েছেন মৃত্যুর আগে। কী করবেন তখন?

    চিঠি লিখে যাব।

    খাঁটি কথা। কীভাবে মারা যাচ্ছেন–তা লিখে রাখার চেষ্টা করবেন। কাগজে লিখলে তা চোখে পড়ে যাবে। তাই এই দেখুন এখানে দেওয়ালের নীচের দিকে বেগনি কপিং পেনসিলে লেখা : আমরা খু– ব্যস আর লেখা হয়নি।

    আপনি কী বুঝেছেন?

    মেঝে থেকে মাত্র এক ফুট ওপরে লেখা। অর্থাৎ মরবার আগের মুহূর্তে–শেষ করার আগেই জ্ঞান লোপ পেয়েছে।

    বুঝেছি। লিখছিলেন : আমরা খুন হচ্ছি।

    আমারও তাই বিশ্বাস। লাশ পেলে পকেটে পেনসিলও পেতে পারেন।

    দেখব। কিন্তু কোম্পানির কাগজগুলো গেল কোথায়?

    কোথাও লুকিয়ে রেখেছেন নিশ্চয়। কিছুদিন পরে নিজেই বলতেন পলাতকরা পাঠিয়ে দিয়েছে কাজে লাগবে না বলে অথবা কোথাও ফেলে গিয়েছিল, এখন পাওয়া গেছে।

    আপনার কাছে সাহায্য নিতে গেল কেন?

    অত্যন্ত সেয়ানা বলে। বড়ো বেশি বিশ্বাস ছিল নিজের ওপর। পাড়াপ্রতিবেশীকে পরে বলতেন–দেখছ, শুধু পুলিশ নয়–খোদ শার্লক হোমসকে দিয়েও খোঁজবার ব্যবস্থা করেছি।

    হেসে ফেললেন ইনস্পেকটর, কাজটা চমৎকার করেছেন বলেই খোদ শব্দটা মাপ করে দেওয়া গেল, মিস্টার হোমস।

    দিন দুই পরে নর্থ সারি অবজারভার পত্রিকার একটা সংখ্যা আমার দিকে ছুঁড়ে দিলে হোমস। পত্রিকাটা দ্বিসাপ্তাহিক। প্রথম পৃষ্ঠাতেই চোখ-কেড়ে-নেওয়া চনমনে কয়েকটা শিরোনামা শুরু হ্যাভেন বিভীষিকা দিয়ে, শেষ চমকপ্রদ পুলিশ তদন্ত দিয়ে। তলায় অত্যাশ্চর্য এই কাহিনির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ। উপসংহারটাই আসল। তাতে লেখা :

    সরকারি গোয়েন্দাদের প্রখর বুদ্ধির প্রকৃষ্ট উদাহরণস্বরূপ অপরাধ ইতিহাসে চিরকাল সুবর্ণ অক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে ইনস্পেকটর ম্যাকিননের অসাধারণ সূক্ষ্মদর্শিতা। রঙের গন্ধ শুকেই তিনি বুঝেছিলেন গ্যাস জাতীয় কোনো উৎকট গন্ধ ঢাকবার জন্যেই বিকট রঙের গন্ধ ছড়ানো হয়েছে বাড়িময়, এই থেকেই উনি সিদ্ধান্তে এসেছিলেন যে স্ট্রংরুমকে গ্যাস চেম্বারে রূপান্তরিত করা হয় এবং এই সূত্র অনুসরণ করেই লাশ দুটোকে শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করেন কুকুরশালা দিয়ে সুকৌশলে আচ্ছাদিত একটা অব্যবহৃত কুয়োর তলদেশ থেকে। জয়তু ইনস্পেকটর ম্যাকিনন!

    কাষ্ঠ হেসে হোমস বললে, ম্যাকিনন লোকটা তো খারাপ নয়। কেসটা খাতায় লিখে রাখো। একদিন আসল ব্যাপার সবাই জানবেখন।

    ———

    টীকা

    ১. রং-ব্যাপারীর বিরং ব্যাপার : লিবার্টি পত্রিকার ১৮ ডিসেম্বর ১৯২৬ সংখ্যায় এবং স্ট্র্যান্ড ম্যাগাজিন-এর জানুয়ারি ১৯২৭ সংখ্যায় দি অ্যাডভেঞ্চার অব দ্য রিটায়ার্ড কালারম্যান প্রথম প্রকাশিত হয়।

    হে-মার্কেট থিয়েটার : ১৭২০ সালে হে-মার্কেট থিয়েটার নির্মাণ করেন জন পটার। ১৮২১-এ এর লাগোয়া বড়ো থিয়েটার হল নির্মিত হয়। তার নাম থিয়েটার রয়্যাল হে-মার্কেট।

    টেলিফোন : এই গল্প ছাড়া বেকার স্ট্রিটে হোমসের বাড়ির টেলিফোনের উল্লেখ পাওয়া যায় দি অ্যাডভেঞ্চার অব দ্য ইলাসট্রিয়াস ক্লায়েন্ট এবং দি অ্যাডভেঞ্চার অব দ্য থ্রি-গ্যারিডেবস গল্পে। এই দুটি গল্পই ১৯০২ সালের ঘটনা।

    অ্যালবার্ট হল : ২৯ মার্চ ১৮৭১-এ খোলা হয়েছিল রয়্যাল অ্যালবার্ট হল, পরলোকগত প্রিন্স অ্যালবার্টের স্মৃতিতে। সাত হাজার আসনবিশিষ্ট এই হল ইংলন্ডের বৃহত্তম কনসার্ট হল।

    ক্যারিনা : ক্যারিনা নামটি কাল্পনিক। তবে কিছু গবেষক মনে করেন এই কল্পনার পেছনে আমেরিকান শিল্পী অ্যানি লুই ক্যারি (১৮৪১-১৯২১) কিংবা ক্রোয়েশিয় গাইয়ে মিলিকা তেরনিনা (১৮৬৩-১৯৪১) অথবা ভেনিজুয়েলার পিয়ানো-বাদিকা, সুরস্রষ্টা এবং কণ্ঠশিল্পী মারিয়া টেরেসা ক্যারেননার (১৮৫৩-১৯১৭) প্রভাব থাকা সম্ভব।

    পকেটে পেনসিলও পেতে পারেন : মরবার আগের মুহূর্তে লেখাটা শেষ করার আগেই যে লেখকের জ্ঞান লোপ পেয়েছে, তার পক্ষে কি পেনসিলটা পকেটে রাখা সম্ভব?

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅতল জলের শহর – অদ্রীশ বর্ধন
    Next Article শার্লক হোমস সমগ্র ১ – অনুবাদ : অদ্রীশ বর্ধন

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }