Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শাহজাদা দারাশুকো – কালিকারঞ্জন কানুনগো

    কালিকারঞ্জন কানুনগো এক পাতা গল্প337 Mins Read0
    ⤶

    ২১. এক বিয়োগান্ত ইতিহাসের পরিসমাপ্তি

    শেষ অধ্যায়- শাহজাদা দারাশুকো : এক বিয়োগান্ত ইতিহাসের পরিসমাপ্তি

    সামুগঢ়ের প্রাতিকূল্য পরাজয়ের পর, প্রায় ছয় মাইল দূরবর্তী এক ছায়াঘন বৃক্ষতলে হয়রানি ও হতাশায় অশ্বারূঢ় শাহজাদা দারা ‘পাগ’ খুলিয়া বসিয়া পড়িলেন। সংবিত্তি প্রায় অস্তমিত। দূর হইতে ভাসিয়া আসিতেছে বিজয়োল্লাসে নচ্ছার আওরঙ্গজেবের নিক্কারা’র ধ্বনি। সানয়নে বলিয়া উঠিলেন : এখন তো আমি সর্বনাশা নৈরাজ্যের এক্তিয়ারে। ইতর- ‘বদতবারে’র সম্মার্জনী-সম্পাত এইখানেই হইয়া যাক না কেন? কিন্তু সশঙ্ক সঙ্গীগণ তাঁহাকে স্বকীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করিতে তখনও উন্মুখ। রাত্রি নয় ঘটিকায় দারা আগ্রায় ফিরিয়া আসিলেন; পরাজয়ের গ্লানি ও অপমানে নিজ প্রাসাদ-প্রকোষ্ঠে আত্মগোপন করিয়া রহিলেন। কেবল আগ্রা দুর্গ ও বিভিন্ন মহল্লায় ‘গুমঘুম’– নিস্তরঙ্গতা — ভঙ্গ হইয়াছিল। সর্বত্র ‘হায় আল্লাহ্’-র বিলাপধ্বনি। শাহজাহান পুত্রকে ডাকিয়া পাঠাইলেন; কিন্তু দারার মনের অবস্থা তখন বিবাগী ‘দিওয়ানা’র মতো। পিতাকে লিখিলেন : এই পোড়াকপালের কলঙ্কিত চেহারা দেখিয়া লাভ কি? কেবল ‘দোআ’ ভিক্ষা করিতেছি—সম্মুখে এক অজানা দীর্ঘপথ—মুক্তিপথের মানচিত্রটি আঁকিয়া চলিয়া যাই।

    শেষরাত্রি তিন ঘটিকায় অন্যান্যদের মধ্যে বেগম নাদিরা বানু, পুত্র সিহর ও পিষ্ট পরিশ্রান্ত দশহাজারের একদল রিশলাহ্ – অশ্বারোহী সৈন্য––তাঁহার সহিত দিল্লির পথ ধরিলেন। আগ্রা দুর্গে যবনিকা পতনের সংবাদও আসিল সাতদিনের মধ্যে—বৃদ্ধ শাহজাহান মুসম্মন বুর্জ-এ নজরবন্দী (৮ জুন, ১৬৫৮)। প্রথমে এই বেইমান পুত্রটিকে আগ্রাদুর্গের ফাটক বন্ধ করিয়া ফাঁদ পাতিবার উপায় খুঁজিয়াছিলেন। কিন্তু উহা সীমিত প্রয়াস মাত্র। আওরঙ্গজেবী দাওয়াই ছিল, যমুনা হইতে পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা বানচাল করিয়া দেওয়া। বৃদ্ধ পিতা তিন দিন জল না খাইয়া ছিলেন। পরে পুত্রকে লিখিয়াছিলেন : হিন্দুরা মরণোন্মুখ ব্যক্তির মুখেও পানীয়রূপ শান্তিবারি দেয় আর তুমি পুত্র হইয়াও তৃষিত বৃদ্ধ পিতার প্রাণান্ত পরিচ্ছেদ টানিয়া আনিতেছ। আওরঙ্গজেবের ঔদ্ধত্য জবাব দিল : ‘ইহা আপনারই কৃতকর্মের সন্তাপ বলিয়া মনে করুন’।

    পশ্চিমে, বাস্তুচ্যুত দারা বার বার এই জীবনখেলায় প্রবঞ্চিত হইয়াও জম্মু পর্বতমালার রাজা রাজরূপ-এর সহায়তার আশ্বাস পাইলেন। নাদিরা নিজ স্তনাগ্র হইতে দুগ্ধ মন্থন করিয়া রাজরূপকে পাঠাইয়া দিলেন— পুত্রজ্ঞানে স্নেহ সম্ভাষণ জানাইতে; দারার উদ্ধারে তিনি যেন সহায় হন। কিন্তু নিছক কয়েক লক্ষ টাকার অপব্যয়ও অযৌক্তিক আসক্তি। বিপ্রতীপ মতের পরিচয় পাইতে বিলম্ব হইল না। আওরঙ্গজেব রাজরূপের নিহিত অনুরাগের বিলুপ্তি ঘটাইল, আরও মোটা অঙ্কের মুখ দেখাইবার প্রতিশ্রুতি দিয়া। আজমীরের নিকট (সাড়ে চার মাইল দক্ষিণে) দেওরাইর যুদ্ধে রাজরূপের মুখোশ খুলিয়া পড়িয়াছিল। দারাকে যখন বিশ্বস্ত শাহনওয়াজ খাঁ ও ইয়োরোপীয় গোলন্দাজ বাহিনী ব্যূহ রচনা করিয়া অবস্থা আয়ত্তে আনিবার চেষ্টা করিতেছেন তখন রণপণ্ডিত আওরঙ্গজেবের উপস্থিতিতে রাজরূপ নাদিরার দুগ্ধ চাখিয়াও খোক্‌মা পর্বতের পশ্চাদবর্তী এক অরক্ষিত পথ ধরিয়া উঠিয়া গেল, শাহনওয়াজের নিপাতনের পথ প্রশস্ত করিতে। এক কামানের গোলাতে শাহনওয়াজের মৃত্যু হয়। একমাত্র সেনাপতি ফিরোজ মেওয়াতি ছাড়া দেওরাইর যুদ্ধে দারার সমব্যথী সমর-কুশলীদের মধ্যে আর কেহ রক্ষা পায় নাই।

    ১৪ই মার্চ, ১৬৫৯ দেওরাইর ধকলের পর সারারাত একনাগাড়ে অশ্বারূঢ় হইয়া দারা তাঁহার আশংসিত দুঃখের ভাগীদারদের লইয়া যোধপুরের কাছাকাছি আসিয়া উপস্থিত হইলেন। কিন্তু পিছনে দ্রুতগতিতে অগ্রসর হইতেছিল জয়সিংহ ও যশোবন্তসিংহ–মতলবী আওরঙ্গজেবের স্নেহবৃত্ত দুই রাজপুত। পনের দিনে দারা আহমদাবাদের কাছাকাছি পৌঁছিতে পারিয়াছিলেন বটে; কিন্তু তাঁহাকে বন্দী করিবার ও পরিব্রাজন রোধ করিবার নির্দেশপত্র প্রায় সমগ্র কচ্ছ, গুজরাট ও রাজস্থান এলাকাতেও পাঠাইয়াছিল জয়সিংহ। ফরাসী চিকিৎসক বার্নিয়ে এই সময়ে তিনদিন দারার সহিত ছিলেন — জনৈকা মহিলার পায়ের দুষ্ট ক্ষত সারাইবার জন্য তাঁহার এই অনুব্রজা। কিন্তু তাঁহারা আহমদাবাদে প্রবেশ করিতে অসমর্থ হইলেন। সুবেদার সৈয়দ আহমদ বোখারী ওইস্থানে বন্দী, এই দুঃসংবাদে দারা হতোদ্যম—তাঁহার হিতাহিত জ্ঞান একেবারে লোপ পাইয়াছিল। ‘কি করণীয়, কোন্ পথ প্রশস্ত’, ইহা লইয়া একজন সাধারণ সৈনিকের সানুবন্ধ মন্ত্রণাও গ্রহণ করিতেছিলেন! ওই অঞ্চলে কৌনি ডাকাতের দলও সক্রিয় জানিতে পারিয়া দারা তাঁহার কারওয়া সরাইখানাতে বার্নিয়েকে রাত্রিবাস করিতে অনুরোধ করিয়াছিলেন। তাঁহার তাঁবু পর্যন্ত ছিল না, মহিলাদের পর্দা রক্ষা করিবার জন্য একখানি কনাত্‌ গাড়ির চাকার সহিত বাঁধিয়া দেওয়া হইয়াছিল। উহারই এক পার্শ্বে বার্নিয়ের এক বিভাবিত বিভাবরী; তাঁহার জন্য একটি অতিরিক্ত উট বা ঘোড়া সংগ্রহ করাও দারার সামর্থ্যের বাহিরে ছিল।

    আহমদাবাদের পথ অবরুদ্ধ দেখিয়া দারা স্বপারিষদ পশ্চিমে করী অঞ্চলের কোনি ডাকাতদলের ‘রবিনহুড’ কনহৌজির নির্ভেজাল সাহচর্যে কচ্ছের সীমান্তে উপস্থিত হইতে পারিয়াছিলেন। এই তস্কর যেন জয়সিংহ, যশোবন্তের রাজপুত ‘বীরধর্ম’ উপহাস করিয়া ছিন্নমূল এক শাহজাদার বিপত্তারণের ভূমিকায় অবতীর্ণ হইয়াছিলেন। দারার পরিধেয় বস্ত্র তখন একখানি পলকা ‘নীম’ (নিমা) ও এক জোড়া আধুলি মূল্যের পয়জার! কচ্ছের রাওয়ের রাজধানী ভূজ-এ দারা দুই দিনের অধিক অবস্থান করিতে পারিলেন না, কারণ রাও, জয়সিংহের পত্রে যে ভীতিপ্রদর্শন ছিল, উহাতে এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের সামিল হইতে চাহেন নাই। অতপর দারার একমাত্র গন্তব্যস্থল মনে হইয়াছিল কান্দাহার হইয়া পারস্য দেশ। কিন্তু প্রগমনে যেমন বাধা, পশ্চাতে জয়সিংহের জমাট আক্রমণ রচনা। দারাকে ধরিবার জন্য এক অদম্য উৎসাহে জয়সিংহ কচ্ছের ‘রান’-এর লোনা বিল অতিক্রম করিয়া ছুটিয়া আসিতেছিল। দুর্বার গতিতে এই অবিশ্রান্ত অগ্রগমন আশি মাইল–চন্দ্র অস্তমিত হইবার পরও মশালচী তাহাকে পথ দেখাইয়াছে। সিন্ধু নদের পূর্বপ্রান্তে আসিয়া দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ফিরোজ মৌওয়াতীও বিভ্রান্তি কামনা করিয়া বিদায় নিল। একমাত্র গুল মুহম্মদ ছিল দারার শেষ ভরসা––যিনি সামীপ্য রক্ষা করিয়া চলিয়াছিলেন।

    বালুচিস্তানে উপস্থিত হইবার পর ওই অঞ্চলের ময়অসি উপজাতিরা এই উদ্বাস্তুর দলটিকে কান্দাহারে পৌঁছাইয়া দিবার প্রতিশ্রুতি দিয়াছিল। কিন্তু হারেমের মহিলারা––বিশেষ করিয়া নাদিরা, এই প্রস্তাবে প্রমাদ গণিয়াছিলেন। আত্যন্তিক আশঙ্কায়, বে-ইমানের রূপ ধরিয়া ওই বালুচরা যদি লাম্পট্যে অদ্বিতীয় শাহ-র হারেমে তাহাদের ঢুকাইয়া ইজ্জত হানি করে! অবশেষে দারা সীমান্ত প্রদেশের দাদর-এ (বোলান গিরিবর্তের নয় মাইল পূর্বে) উপস্থিত হইলেন। হতাদর হতচেতন শাহজাদা দুর্গাধ্যক্ষ পাঠান মালিক জীওনের নিকট আশ্রয়প্রার্থনা করিয়াছিলেন। ভাগ্যবিধাতা তাঁহার বিবৃত্তির অবসান ঘটাইলেন এক বিবেকহীন বিভীষণের সম্প্রাপ্তিতে। এই পাঠানের রক্তে ছিল তুর্কি আর ইহুদির চারিত্রিক তমঃগুণ—অহংভাব, আসুরিক হিংস্রতা ও কামান্ধতা। জীবনের স্বাগত সম্ভাষণ ও সহাস্য বদনের অন্তরালে আদৌ কোনও আপীড়নের সম্ভাবনা থাকিতে পারে, দারা তাঁহার সহজ বুদ্ধিতে উহা বুঝিয়া উঠিতে পারেন নাই।

    কিন্তু মেঘাড়ম্বর আঁধির রূপ নিল। দাদরে উপস্থিত হইবার পূর্বেই নাদিরা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করিলেন (৬ই জুন, ১৬৫৯)। দারার ভগ্ন সংসারের সারটুকুই সেদিন যেন উবিয়া গেল। প্রায় নিরন্ন, নির্বস্ত্র, নির্গ্রহ দারার নিকট নাদিরা ছিলেন দুর্দিনের দীর্ঘিকা। সীমাহীন দুঃখে সান্ত্বনা জোগাইয়াছিলেন এই মহীয়সী মহিলা। হিন্দুস্থানের মাটিতেই কবরস্থ হইবার নাদিরার শেষ ইচ্ছাটুকু দারা পূর্ণ করিয়াছিলেন। লাহোরে পীর মিয়া মীরের পবিত্র সমাধি প্রাঙ্গণে দেহটি প্রোথিত। এই বিচ্ছেদবেদনায় শাহজাদা অন্যান্যদের বলিয়াছিলেন, তাঁহার দুঃখে হিস্যাদার না হইয়া, আওরঙ্গজেবের ‘তুহফাহ্’ হিন্দুস্থানেই তাহারা অবস্থান করিতে পারে। তিনি স্বেচ্ছায় পারস্যদেশে নির্বাসন দণ্ড ভোগ করিবেন, আজ্ঞাবহ হইবার আর কাহারও প্রয়োজন নাই। শেষ পর্যন্ত পুত্র সিপহর ও কয়েকজন প্রভুভক্ত পরিচালক ছাড়া অন্যান্য সকলেই স্ব স্ব স্থানে প্রস্থান করাই যুক্তিযুক্ত মনে করিয়াছিল। নিরবলম্ব দারা তখনও মালিক জীওনের জিম্মায় সান্ত্বনা খুঁজিতেছিলেন––বিশ্বাস ছিল, সে বদ-তবারী- ইতরের ভূমিকায় নামিবে না। উহার কারণও ছিল। একদা এক ঘৃণ্য অপরাধে অভিযুক্ত ওই মালিককে হাতির পায়ের তলায় ফেলিয়া দিবার হুকুম দিয়াছিলেন শাহজাহান; কিন্তু পুত্রস্নেহে সম্রাট তাঁহার দস্তানা-রূপী দারার মনোবেদনার ওকালতি উপেক্ষা করিতে পারিলেন না। জীওন হস্তিপৃষ্ঠে আরূঢ় হইয়া নিরাপদে গৃহাভিমুখে যাত্রা করিয়াছিল। সেই সম্প্রাপ্তি বিস্মৃত হইয়া জীওন ‘শিরিন্ গার্’– মুখে মধু লইয়া, লৌকিকতার ভণ্ডামির ভিরকুটি প্রদর্শন করিয়া, কান্দাহারের পথে তাহার পাঠান দানব-গোষ্ঠীকে লইয়া দারাকে ঘিরিয়া ফেলিল। সাধ, সাধ্য, রুটি— যাঁহার কোনটাই ছিল না, সেই শাহজাদা দারার দেশান্তরী হইবার স্বপ্নটুকুও মুছাইয়া দিল বিগত রজনীর ওই মুসাহির -চাটুকার মালিক। পুত্র সিপরকে যখন হাতবেড়ি পরানো হইতেছে তখন সন্তপ্ত দারা সখেদে বলিয়া উঠিয়াছিলেন, ‘এইবার কতল করিলেই তো হয়, দুশমন! কোনও শাহজাদার হাতে এই অশ্রদ্ধেয় অলঙ্কার কে কবে দেখিয়াছে? আজ তোমার এই বে-ইমানির প্রতিভাস! একদিন তোমারই জাল রিহাঈ-এর ওকালতি করিয়াছিল কে, স্মরণ করিতে পার?’ কিন্তু ওই পাথর ভ্রুকুটিভঙ্গে মর্দিত হইবার ‘মালিক’ নহে। মোহমদে সে তখন সদ্যধৃত শাহজাদাকে ‘জিন্দা পীর” আওরঙ্গজেবের নিকট পাঠাইয়া, উপাধিবৃষ্টির অতিরিক্ত, নূতন ‘মউরূস’-ই পাট্টার স্বপ্নও দেখিতেছে। দুই মাসের মধ্যেই তিন দুরাত্মা জয়সিংহ, বাহাদুর খাঁ ও বক্তিয়ার (জীওনের নবলব্ধ উপাধি), অব্যর্থ আওরঙ্গজেবী দাওয়াই প্রয়োগ করিবার জন্য দারা ও সিপরকে দিল্লি লইয়া আসিল।

    তড়িঘড়ি মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থা না করিয়া, আওরঙ্গজেব তাহার বিশ্বস্ত চেলা – আর এক মহাপাতক—নজরবেগকে বন্দীদের ‘তজবীজ’— তদারকির ভার দিয়াছিলেন। ২৯শে আগস্ট দিল্লির বর্তমান চাঁদনিচৌক ধরিয়া এক ‘শোভাযাত্রা’ বাহির হইল এক স্থূল রসিকতায়। উদ্দেশ্য, দিল্লির আবাসিকগণ নিঃসংশয় হউক, দ্রোহিতার দ্যুতি নিভিয়াছে। ওই আদাড়ের হাঁড়ির – দারার শেষ আদলটুকু তাহারা দেখিয়া যাক! ‘জিন্দা পীর’ বলিয়া ভক্তরা যাহার উপর দেবত্ব আরোপ করিয়াছিল, তাহার কি রসবোধ! হাওদা-হীন কর্দমলিপ্ত হ্রস্বকায় একটা মাদীন হাতিতে দারা ও সিপহর সমারূঢ়, পশ্চাতে খোলা তরওয়াল উচাইয়া রহিয়াছে নজরবেগ। ঝোড়ো হাওয়ায় বেতস দণ্ডের ন্যায় দারার আনত শির, মস্তকোপরি ভাদ্রের খররৌদ্র। বার্নিয়ে তাঁহার ‘আঁখো দেখা হাল’-এ এক হৃদয়বিদারক চিত্র তুলিয়া ধরিয়াছেন : কর্ণকুহরে কেবল ভাসিয়া আসিতেছিল উত্তাল ক্রন্দনধ্বনি, বিলোড়িত বিলাপোক্তি। দারার নসিবের এই নিকৃতিতে পুরুষ, মহিলা, শিশুর নয়নোপ্রান্ত হইতে অবিরল অশ্রুধারা। তাআর্জুর বলিয়া এক ভিক্ষুক হঠাৎ চেঁচাইয়া উঠিয়াছিল—’একদিন তোমার নিকট হইতে মুঠি ভরিয়া ভিক্ষান্ন লইয়া আসিয়াছি, সেই তোমারই আজ অপারগ, সম্বলহীনের সুরৎ! ভিখারি সাজাইয়া এই রঙ্গ!’ মর্মান্তিক বেদনায় বিচলিত অশ্রুসিক্ত দারা উত্তরীয়খানি উন্মোচন করিয়া ওই ভিখারিকে ছুঁড়িয়া দিয়াছিলেন। অথচ এই রাজর্ষিকেই ছোবল মারিতে উদ্যত এক রাগান্ধ রাজসর্প।

    ওইদিনই সন্ধ্যায় আওরঙ্গজেব দিওয়ান-ই-খাসে আসর বসাইলেন। আলোচ্য বিষয় : আসামির প্রাণদণ্ড না গোয়ালিয়র দুর্গে বন্দীদশায় পোস্ত-ভিজানো জল খাওয়াইয়া বিষক্রিয়ায় বিলম্বিত কিন্তু অব্যর্থ প্রাণনাশ। দনিশমন্দ খাঁ গোয়লিয়র দুর্গ ব্যবস্থা সমর্থন করিলেও আওরঙ্গজেবের আহ্লাদী ভগিনী রৌশনারার যেন একটা তাৎক্ষণিক তাগিদ ছিল––দারাকে ‘জাহান্নাম’-এ পাঠাইবার জঘন্য প্রস্তাব।

    পরদিন ৩০শে আগস্ট আর একটি শোভাযাত্রায় বাহির হইয়াছিল ‘বক্তিয়ার’–ওই মালিক জীওন। বজ্জাতি ও বকবৃত্তির খেতাব লইয়া, দারার গ্রেফতারির সম্মানে আদাব আদায় করিবার সঙ্কল্পে। কিন্তু এই নীচতাকে ক্ষমা করিবে কে? বাধিয়া গেল দাঙ্গা। ভ্ৰাম্যমাণ জীওনের ভাগ্যে জুটিয়াছিল ‘সাবাশ’ ধ্বনি নহে, মুর্দাবাদের উদ্যত মুষ্টি। উপরন্তু লোষ্ট্রাঘাত, ছাদের উপর হইতে মহিলারা ছাই, কুজাভর্তি মূত্র, এমন কি ‘মালিক’-এর মস্তকোপরি মল নিক্ষেপ করিয়া ক্রোধ প্রকাশের উপায় খুঁজিতেছিলেন। শেষ পর্যন্ত কোতোয়ালের প্রহরায়, বিমূঢ় জীওন মাথার উপর ঢালখানি ধরিয়া মস্তকাভিষেক’ পর্বের ইতি টানিয়াছিলেন। পরে এই দাঙ্গার উস্কানিতে যাহার মুখ্য ভূমিকা ছিল, আওরঙ্গজেবের নির্দেশে ওই বেতমীজ ধৈবত-এর দেহখানি আড়ি দ্বারা দ্বিখণ্ডিত করা হইয়াছিল। এই অপমানকর ঘটনাটি ছিল দারার ভাগ্য আবর্তনীয় যতি-চিহ্ন।

    অনতিকাল পরেই নজরবেগ কতিপয় কুপোষ্যসহ দারা ও সিপহর-এর কারাকক্ষে উপস্থিত হইল। বিষদিগ্ধ খাদ্যে ভ্রাতা তাহার ‘তদ্বীর’ করিবে এই শঙ্কায় দারা স্বপাক আহার করিতেন। যখন নজরবেগ উপস্থিত, তখন তিনি ডাল সিদ্ধ করিতে বাসিয়াছেন! উন্মুক্ত তরবারিসহ ওই তস্করদের দেখিয়া সিপ্‌হর আর্তনাদ করিয়া উঠিল। পিতা পুত্রকে বুকে ধরিয়া সশঙ্কচিত্তে প্রশ্ন করিলেন, ‘খুনের হুকুমনামা পাইয়াছ কি?’ কুব্জদেহী নজর সিপহরের প্রতি গর্জিয়া উঠিল, তফাত যাও! অশ্রুবিপ্লুত দারার শেষ মিনতি ছিল : ভ্রাতাকে একবার শুধু নিবেদন কর যেন এই নির্দোষ ভতিজাটিকে রেহাই দেয়। নজরের ঔদ্ধত্য জবাব : আমরা কোনও বাতুলের বার্তাবহ নহি! বাদশাহর হুকুমই তামিল করিয়া যাইব। ইহা বলিয়া আলিঙ্গনাবদ্ধ ওই আত্মজটিকে পিতার বুক হইতে টানিয়া তুলিল। হিংস্র পশু থাবা মারিবার আগে মানুষ মরিয়া হইয়া যেমন একবার রুখিয়া দাঁড়ায় সেই সংযতাত্মা দারা তকীআ-র ভিতরে রক্ষিত একখানি ক্ষুদ্র জেব-ছুরিকা বাহির করিয়া ছুটিয়া আসা এক বান্দার শরীরে সান্ধাইয়া দিলেন। মুহূর্তে ওই কতলগোষ্ঠী দারার উপর ঝাঁপাইয়া পড়িল। অতঃপর শিরশ্ছেদ। পার্শ্ববর্তী কক্ষে তখনও সিপহরের কাতরোক্তি ভাসিয়া আসিতেছিল। ছিন্ন মুণ্ডটি আওরঙ্গজেবের নিকট উপস্থিত করা হইলে শ্রদ্ধাহীনের ঔদ্ধত্য লইয়া ওই ‘জিন্দাপীর’ বলিয়াছিল : ‘হায়, বঢ়ে ভকত্ (হিন্দু-ঘেঁষা বড় ভক্ত)! এই স্বধর্মত্যাগীর জীবদ্দশায় তাহার মুখদর্শন করি নাই, এখনও করিব না।’ দারার দৌমনস্য ও প্রহর্তার ভূমিকায় আওরঙ্গজেবের ইতিহাস এষণার পরিসমাপ্তি এইখানেই হইতে পারিত। কিন্তু সমসাময়িক ফার্সি গ্রন্থে অনুল্লেখ থাকিলেও, ম্যানুসি তাঁহার ‘Storia Do Mogor’ এ যে হৃদয়মর্দিত দিনান্তের শেষ রাগিণী শুনাইয়াছেন তাহা উল্লেখ করিতে হয়। পরিহাসপ্রিয়তায় নহে, চরম নিষ্ঠুরতায়, ওই ‘অতিমানব’ বলিয়া চিহ্নিত আওরঙ্গজেব ছিন্ন মুণ্ডটি একটি পেটিকায় পুরিয়া বাদশাহ শাহজাহানের জন্য আগ্রায় পাঠাইয়াছিলেন! এই রগরগে প্রস্তাবটি আসিয়াছিল রোষাবিষ্টা রৌশনারার নিকট হইতে। Kipling -এর ওই মন্তব্যটি — The female of the species is more deadly than the male’ একেবারে নির্ভেজাল না হইলেও ক্ষেত্রবিশেষে যৌক্তিকতা হারায় নাই। যাহা হউক, অবসাদগ্রস্ত শাহজাহান পুত্রের নিকট হইতে এই ভেট প্রাপ্তির আনন্দে উল্লসিত হইয়া বলিয়াছিলেন, ‘পুত্র পিতাকে কি একেবারে বিস্মৃত হয়? খুলিয়া দেখ।’ কিন্তু স্মৃতিপটে যাহার মুখ, তাহারই এক অরুন্তুদ ছিন্ন মুণ্ড! মুহ্যমানে পিতার সংজ্ঞালোপ-প্রাপ্তি, কন্যা জাহানারার চিত্তবিক্ষোভে ও ক্ষুব্ধ ক্রন্দনে মুসম্মন্ বুর্জ নিনাদিত। যাহার নিদ্রায় রাত্রি ছিল না, অরুণোদয়ও ছিল না, সেই শোকসন্তপ্ত শাহজাহানের সরফরাজির বিলুপ্তি ঘটাইল জ্বলন্ত অঙ্গাররূপী আর এক পুত্র আপ্তগরজী আওরঙ্গজেব।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleক্যাপিট্যাল / ডাস কাপিটাল – কার্ল মার্ক্স (অনুবাদ : পীযুষ দাসগুপ্ত)
    Next Article আলীবর্দী ও তার সময় – কালিকিঙ্কর দত্ত
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }