Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শাহজাদা দারাশুকো – কালিকারঞ্জন কানুনগো

    কালিকারঞ্জন কানুনগো এক পাতা গল্প337 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৫. দারাশুকোর কান্দাহার-অভিযানের উদ্যোগ-পর্ব

    পঞ্চম অধ্যায় – দারাশুকোর কান্দাহার-অভিযানের উদ্যোগ-পর্ব

    শাহজাদা দারা ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসের শেষে কাবুল হইতে লাহোর চলিয়া আসিলেন। সেখানে তিন মাস ধরিয়া উদ্যোগ পর্বের ধুমধাম চলিল; দারা লেখাপড়া ছাড়িয়া যুদ্ধের সাজসরঞ্জাম সংগ্রহে মনোযোগ দিলেন। সব কাজেই তাঁহার উৎসাহ, ঐকান্তিক আগ্রহ ও পরিশ্রম করিবার ক্ষমতা ছিল; তবে তিনি ঝোঁকের মাথায় কাজ করিতেন। বিচক্ষণ সেনাপতির মতো সুস্থির বুদ্ধি ও চারি দিকে কড়া নজর রাখিয়া ভবিষ্যৎ প্রয়োজনানুযায়ী ছোটখাট জিনিসের বন্দোবস্ত করিতে তিনি পটু ছিলেন না; বিশেষত লড়াইয়ের কাজে তাঁহার পূর্ব অভিজ্ঞতা কিছুই ছিল না। দরবারী ঐতিহাসিক ওয়ারেস লিখিয়াছেন, এক বৎসরে যে আয়োজন অন্য কেহ করিতে পারে নাই শাহজাদা লাহোরে থাকিয়া তিন মাস নয় দিনে তাহা সুসম্পন্ন করিয়াছিলেন।

    কান্দাহার দুর্গের সুদৃঢ় প্রাচীর ধ্বংস করার জন্য সর্বপ্রথমে দরকার বড় বড় কামান, ভারী তোপখানা ও উৎকৃষ্ট গোলন্দাজ। পূর্বে দুইবারই দেখা গিয়াছে ইরানী গোলন্দাজ ও তোপখানার সামনে হিন্দুস্থানী তোপখানা জোরে পাল্টা জবাব দিতে পারে না। তুর্কীদের সহিত অবিরাম সংঘর্ষের ফলে ইরানীরা তোপের লড়াইয়ে সুনিপুণ হইয়া উঠিয়াছিল। তাহাদের কামানের পাল্লা হিন্দুস্থানী তোপখানার পাল্লার চেয়ে অনেক বেশি এবং নিশানাও প্রায় অব্যর্থ। ভারতবর্ষের লোকেরা তোপখানার কাজে বরাবরই কাঁচা। এজন্য বেশি বেতন দিয়া বাদশাহী তোপখানায় রুমী বা ইস্তাম্বুলের তুর্কী ও ফিরিঙ্গি গোলন্দাজ ভর্তি করা হইত। ঠিক জায়গায় কামান বসান, গোলাবারুদ-ভরা, সলিতায় আগুন দেওয়া, তোপ ফাটিয়া মারা যাওয়া ইত্যাদি বিপদের ঝুঁকি ও মোটা কাজ সব হিন্দুস্থানী “খালাসী”রা করিত; রুমী ও ফিরিঙ্গিরা শুধু নিশানা ঠিক ও কামান দাগিবার হুকুম দিত। শাহজাদা এবার মোটা বেতনে ফিরিঙ্গি গোলন্দাজ ও কয়েকজন তোপখানার এঞ্জিনিয়ার নিযুক্ত করিলেন। লাহোরে কামানের কারখানায় তিনটি ভারি কামান ও সাতটি হালকা তোপ (তোপ-ই-হাওয়াই) তৈয়ার করা হইল; বড়গুলির নাম “ফতে মোবারক”, “কিশোয়ার-কুশা” ও “গড়-ভঞ্জন”। প্রথম দুটি ৪৫ সের ও ৩২ সের ভারী গোলা ছুঁড়িবার মতো মজবুত ছিল, ইহার চেয়েও ভারী একটি শাহী তোপ ছিল, নাম “কিলা-কুশা”; তাকত ৫২ সেরী গোলা। কান্দাহারের ভাবী সুনিশ্চিত পতনের স্বপ্নে বিভোর শাহজাদা নিজের বাহাদুরি কামানগুলির গায়ে আগেই খোদাইয়া নিলেন।

    “ফতে মোবারক” তোপের উপর ফার্সি কবিতায় লেখা হইল-

    তোপ-ই-দারাশুকো শাহই-জাহান
    মি-কুনদ্ “কান্দাহার-রা বৈয়রান”

    “কিলা-কুশা” তোপ-এ :-

    তোপ-ই-দারাশুকো “কিলা-কুশা”
    সর্-ই গর্জাসপ মি-বুরদ বে হাওয়া।

    এই অভিযানের জন্য মোট সাতটি ভারী কামান, সতেরটি দূর-পাল্লাবিশিষ্ট হালকা তোপ (তোপ-ই-হাওয়াই), ত্রিশটি ছোট তোপ এবং এইগুলির খোরাক বাবদ ত্রিশ হাজার গোলা এবং ইহার উপযুক্ত পরিমাণ বারুদ, চৌদ্দ হাজার “হাওয়াই” আতসবাজি এবং বন্দুকের গুলি তৈয়ার করিবার জন্য ১৫০০ মান্ (প্রত্যেক মান্ প্রায় ৩ সের; ৪০ সেরী মণ নয়*) সীসা বারুদখানায় জমা করা হইল। ইহা অবশ্য সরকারি কাগজপত্রের হিসাব; কিছু বাদসাদ দিয়া লইতে হইবে। সেকালে শক্ত পাথর গোল করিয়া কাটিয়া গোলা তৈয়ার হইত; শুধু বড় বড় কামানে লোহার গোলা ব্যবহৃত হইত। তাঁহার এক দারোগা আসিয়া বলিল, ‘হুজুর! লাহোর হইতে খামকা কান্দাহারে পাথরের গোলা বোঝা করিয়া লইয়া ফায়দা কি? ওইখানে বিস্তর শক্ত পাথর পাওয়া যায়। মিস্ত্রিরা সেখানে বসিয়া গোলা তৈয়ারি করিলে মেহনত কম হইবে।’ দারাকে চাটুকার ঠকবাজ কর্মচারীরা যাহা বুঝাইত তাহাতেই সায় দেওয়া ছিল তাঁহার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। তাহাদের দ্বারাই এই ভাবে তাঁহার সব কাজ পণ্ড হইত। এক্ষেত্রে তাহাই হইল। তোপের ঠিক মতো গোলা সঙ্গে না লইলেও শাহজাদা ৬০০০ বাঁশ পূর্বেই মজুত করিয়া রাখিয়াছিলেন; প্রত্যেকটি বাঁশ দশ গজ (৪২ আঙুলে এক গজ) লম্বা ছিল। দেওয়াল চড়াও করিবার সময় অনেক বাঁশের মই দরকার হইবে, এই জন্য বাঁশের ব্যবস্থা।

    [*ফার্সি “মান্”কে আমার পূর্ববর্তী ঐতিহাসিকগণ এবং আমি স্বয়ং এ যাবৎ ৪০ সেরী মণ বলিয়া ভুল করিয়া আসিয়াছি। বিভিন্ন বস্তুর মানের ওজন যথা, সোনা ও লোহা বিভিন্ন ছিল।]

    সরকারি দপ্তরের হিসাবে কান্দাহার-অভিযানের মনসবদারী ফৌজ ৭০,০০০ সওয়ার ও ১৭০টি হাতি ছিল। প্রকৃত পক্ষে এই সওয়ারের অন্তত তিন ভাগের এক ভাগ ছিল পায়দল সিপাহী। স্বয়ং শাহজাদা (ত্রিশ হাজারী মনসবদার) এবং ১১০ জন মুসলমান ও ৫৮ জন রাজপুত মনসবদারের সওয়ার একত্র করিয়া এই বাহিনী গঠিত হইয়াছিল। পাঁচ-হাজারী হইতে পাঁচ-শতী মনসবদারকেই শুধু এই হিসাবের মধ্যে ধরা হইয়াছে। এই সমস্ত মনসবদারী ফৌজ ব্যতীত হুজুর রিসালার পাঁচ হাজার বন্দুকধারী ও তিন হাজার তীরন্দাজ অশ্বারোহী আহদী সৈন্য, খাস তৈনাতী পদাতিক বাহিনীর দশ হাজার বন্দুকধারী বরকন্দাজ সিপাহী এবং বাদশাহী পিলখানার ষাটটি হাতি বাদশাহের হুকুমে এই লড়াইয়ে সামিল হওয়ার জন্য লাহোরে পৌঁছিল। পথঘাট মেরামত, বনজঙ্গল পরিষ্কার ও আশ্রয় পরিখা খননের জন্য ৬০০০ বেলদার, পাঁচ হাজার পাথর কাটা মিস্ত্রি ও পাঁচ হাজার ভিত্তি কান্দাহার যাইবার জন্য ভর্তি করা হইল।

    এই সমস্ত লোকের রসদ সরবরাহ করার ব্যবস্থা শাহজাদা যথোপযুক্ত ভাবেই করিয়াছিলেন। আধুনিক সমর বিভাগের কমিসারিয়েট বাদশাহী আমলে ছিল না। এখনকার দিনে ফৌজী ঠিকাদারেরা রসদ জোগায়; টাকা সরকারি তহবিল হইতে দেওয়া হয়। সরকার প্রত্যেক সিপাহীর বেতন হইতে ছয়-সাত টাকা নির্দিষ্ট নিরিখে কাটিয়া রাখেন। প্রত্যেক কোম্পানি ও রিসালার সঙ্গে সঙ্গে পাচক, ধোপা ইত্যাদি থাকে। মাথাপিছু রসদ সরকারি ভাণ্ডার হইতে মাপিয়া দেওয়া হয়। খাওয়া এমন কি দাড়ি কামাইবার কোনও ভাবনাও সিপাহীর থাকে না; ঘোড়া, খচ্চর এবং বলদের খোরাক ও খেদমত সরকারি লোকেরাই করিয়া থাকে। সেকালের ব্যবস্থা ছিল অন্য রকম। সিপাহীরা সকলেই আপ্‌-খোরাকি; কাপড় পোশাক হাতিয়ার (বন্দুক গোলাগুলি বাদ) ঘোড়া জিন লাগাম সবই সিপাহীর। নিজের ও ঘোড়ার খোরাকের বন্দোবস্ত প্রত্যেককেই করিতে হইত। তবে সরকারি তরফ হইতে এই ব্যবস্থা করা হইত যে, সিপাহীরা যেখানেই থাকুক ন্যায্য দামে উর্দুবাজার হইতে সমস্ত খাদ্যদ্রব্য ঘাস-দানা প্রয়োজন অনুসারে খরিদ করিতে পারে। শহরের প্রায় সকল রকম আরাম, খাদ্যদ্রব্য ও জিনিসপত্র স্বাভাবিক অবস্থায় সফর ও লড়াইয়ের ছাউনিতে পাওয়া যাইত। যে যাহার ভড্ডু চড়াইয়া খিচুড়ি পাক করিয়া কিংবা রুটি সেঁকিয়া লইত। লোটা কম্বল বদনা পিঠে কিংবা জিনের পিছনে বাঁধিয়া পথ চলিত। পাকের সুবিধা না হইলে হয়তো ইংরেজের কনোজিয়া সিপাহীর মতো চানা চিবাইয়াই ক্ষুন্নিবৃত্তি করিত।

    সে যুগে ভারতবর্ষের সর্বত্র “বন্‌জারা” (বণিজয়ারা) নামক এক জাতির লোক ছিল, তাহারা যুদ্ধের সময় উর্দুবাজারে এবং শহর ইত্যাদিতে সর্বদা খাদ্যশস্য জোগাইত। দলবদ্ধভাবে বনজারাগণ বলদ কিংবা খচ্চরের পিঠে যব গম ডাল চালের থলি বোঝাই করিয়া এক স্থান হইতে অন্য স্থানে যাইত; স্ত্রী-পুত্র-পরিবার সঙ্গে সঙ্গে থাকিত। এক-এক দলে হাজার দুই হাজার ব্যবসায়ী, আট-দশ হাজার বলদ ও খচ্চর থাকিত। তাহাদের সঙ্গে ভীষণ প্রকৃতির কুকুর ও যথেষ্ট অস্ত্রশস্ত্র থাকিত। মহারাষ্ট্র ও উত্তর ভারতে ইহারা এখন ছোটখাট ব্যবসা চালাইয়া থাকে। ইহাদের অগম্য কোনও স্থান ছিল না। যুদ্ধাদিতে খাদ্য সরবরাহের ঠিকাদারি ইহারাই লইত; এবং এজন্য সরকার হইতে টাকা দাদন লইত। শাহজাদা দারাশুকো লাহোরের বনজারাদিগকে এই অভিযানে খাদ্যদ্রব্য জোগাইবার ভার দিলেন; বনজারা চৌধুরীদের পরিবারবর্গকে জামিন-স্বরূপ শহরে নজরবন্দী করিয়া রাখা হইত।

    শাহজাদা দারার যুদ্ধায়োজনে একটু রকমারি ছিল। পূর্ব হইতেই তাঁহার হয়তো ধারণা ছিল এই সব সিপাহী তোপ গোলা বারুদ কিছুই দরকার হইবে না; হয়তো ফকিরেরা যেরকম বলিয়াছে কান্দাহার পৌঁছিবা মাত্রই শুনিবেন ইরানের শাহ দ্বিতীয়-আব্বাস মরিয়া গিয়াছে এবং সাত দিনের মধ্যেই কান্দাহার খালি করিয়া ইরানীরা পলাইয়াছে। যুদ্ধের আয়োজন পুরুষকারের অবলম্বন মাত্র; কিন্তু আসলে দৈবই শ্রেয়। আওরঙ্গজেবের পুরুষকার যেখানে দুইবার ব্যর্থ হইয়াছে, দুইবার দিল্লির ফৌজ ও তোপখানা যেখানে হার মানিয়াছে, সেখানে তোপের ভরসায় বসিয়া থাকা চলে না। এজন্য তিনি জটাজুটধারী এক সন্ন্যাসীকে সঙ্গে লইলেন। সন্ন্যাসীর নাম ইন্দ্রগীর গোসাই; মন্ত্রের জোরে চল্লিশটি “দেও” তাঁহার হুকুম তামিল করে। ইন্দ্রগীর শাহজাদাকে বলিয়াছিলেন, কান্দাহারে তোপের কোনও দরকারই হইবে না। তিনি নিজের চোখেই দেখিবেন তাঁহার এই “দেও”গুলি রাতারাতি কান্দাহারের দেওয়াল খন্দকের ভিতর টানিয়া ফেলিয়া শাহী ফৌজের জন্য একেবারে সিধা সরকারি রাস্তা করিয়া দিয়াছে।

    অদ্ভুত ও অতিপ্রাকৃত কিছু দারা কোনোদিন অবিশ্বাস করেন নাই। ইন্দ্রগীরের জন্য দুই বেলা ভোজন ও দৈনিক এক সুরাই মদ সরকারি রসদখানা হইতে বরাদ্দ হইল। কয়েকজন জাদুকরও ফৌজের সঙ্গে কান্দাহার চলিল। ইহারা বলিয়াছিল, কান্দাহারে ইরানীরা যে-সমস্ত খাদ্যদ্রব্য জমা করিয়া রাখিয়াছে, তাহাদের তুকতাকের জোরে ওইগুলিতে পোকা কিলবিল করিবে; কমবপ্ত ইরানীরা না খাইয়া মরিবে। গুণী জ্ঞানী মোল্লা ও কোরানশরীফের উপরও দারার বিশ্বাস ছিল অসীম। খোদার ফজল ছাড়া মানুষের কাজ হাসিল হয় না, এজন্য শাহজাদা ব্যবস্থা করিলেন এক দল মোল্লা দোয়া দরুদ পড়িতে পড়িতে শাহী ফৌজের সহিত কান্দাহার যাইবে এবং সেখানে নিত্যস্বস্ত্যয়ন করিবে। যেমন প্রভু তেমনই ভৃত্য; শাহজাদার তোপখানার মীরআতশ জাফরও চুপি চুপি এই ভরসায় একজন বামমার্গী ফকির সঙ্গে লইল—যেন জাদুর সাহায্যে সেও সকলের সেরা বাহাদুরি দেখাইয়া সাত-হাজারী মনসবদার হইতে পারে।

    একজন সমসাময়িক মুসলমান ঐতিহাসিক লিখিয়াছেন, একদিন লাহোরে শাহজাদার মাথায় খেয়াল চাপিল তিনি নকল কান্দাহার-দুর্গ অধিকারের কৃত্রিম অভিনয় দেখিবেন। কান্দাহার-দুর্গের নকশানুযায়ী লাহোরের বাহিরে এক নকল গড় নির্মিত হইল। নকল দুর্গের ভিতর গারদী সিপাহী কিংবা কামান ইত্যাদি কিছুই বসানো হইল না। এই দুর্গের বাহিরে দুইটি কামানের মোর্চা (battery) খাড়া করা হইল; এক মোর্চা হইতে হিন্দুস্থানী এবং অন্যটি হইতে ফিরিঙ্গি গোলন্দাজগণ তোপ দাগিয়া দেওয়াল ভাঙিবে; ঢুকিবার রাস্তা হওয়ামাত্র এক পল্টন সিপাহী দুর্গ হাতাহাতি চড়াও করিয়া দখল করিবে। কান্দাহার দুর্গ কি ভাবে আক্রমণ করা হইবে শাহজাদা ফিরিঙ্গি এঞ্জিনিয়ারগণকে ডাকাইয়া পরামর্শ জিজ্ঞাসা করিলেন। তাহাদের কাছে নাকি কতকগুলি কেতাব ছিল। ওইগুলিতে যত রকম দুর্গ মানুষের কল্পনা ও বুদ্ধিতে তৈয়ারি করা সম্ভব সবগুলির নকশা আঁকা ছিল এবং কোন্ রকম দুর্গ অধিকার করিতে হইলে কি উপায়ে অগ্রসর হইতে হইবে সবই লেখা ছিল। ফিরিঙ্গিরা ওই সমস্ত নকশা দেখাইয়া শাহজাদাকে আক্রমণকৌশল হাতে-কলমে বুঝাইয়া দিল। নির্দিষ্ট দিনে কৃত্রিম যুদ্ধ দেখিবার জন্য শাহজাদা ময়দানে উপস্থিত হইলেন। অবরোধ-কার্য ও তোপ দাগা আরম্ভ হইল; কয়েক ঘড়ির মধ্যেই হাতাহাতি হামলা ও কিল্লা ফতে সবই শেষ। তিনি হিন্দুস্থানীদের তোপের মোর্চার চেয়ে ফিরিঙ্গিদের তোপের মোর্চা ভাল বলিয়া তাহাদিগকে খুব প্রশংসা করিলেন। কথাটা সত্য হইলে খোলাখুলি বলা সেনাপতির পক্ষে বুদ্ধিমানের কাজ হইল না। এই উপলক্ষে শাহজাদাকে মনসবদারগণ যথারীতি মোবারকবাদ জানাইল এবং এই নকল কান্দাহার বিজয়ের আক্ষরিক তারিখও (chronogram) পুরাদস্তুর উদ্ভাবিত হইল—ফতে আওয়াল-ই দারাশুকো––অর্থাৎ দারাশুকোর প্রথম বিজয়! ছেলেমানুষি আর কাহাকে বলে?

    এইভাবে উদ্যোগ পর্ব শেষ হইল। দারার নিজ তাবিনের সিপাহী ও সর্দারগণের মধ্যে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা এবং ততোধিক ছিল তাহাদের বাগাড়ম্বর। কোনোদিন লড়াইয়ে মশা-মাছি না মারিলেও তাহাদের ধারণা জন্মিয়াছিল তাহারা এক-এক জন এই জমানার রুস্তম আফ্রাসিয়াব। যাঁহারা আজীবন লড়াই করিয়া চুল পাকাইয়াছেন, তাঁহারাও শাহজাদার তালপাতার সিপাহী ও নিধিরাম সর্দারদের দাপটে অস্থির হইয়া উঠিলেন। তাঁহারা বুঝিলেন, শাহজাদা যদি কোনও গতিকে এবার কান্দাহার ফতে করিতে পারেন তাহা হইলে ডিমের খোলস হইতে সদ্যোনির্গত এই মুরগীর বাচ্চাগুলিই তাঁহাদের দাড়ি ঠোকরাইবে। যাহা হউক, এবার যাত্রার শুভ মুহূর্ত গণনার ধুম পড়িয়া গেল। হজরত রসুলাল্লা মুসলমানদিগকে যোগিনী-দিকশূল মঘা অশ্লেষার পা-বন্দী হইতে আজাদ করিয়াছিলেন বটে, কিন্তু খলিফা মনসুরের সময় হইতে এগুলি আবার মুসলমানদিগকে পাইয়া বসিল। দারার পিতামহ জাহাঙ্গীর লিখিয়া গিয়াছেন—জীবনে একবার মাত্র তিনি ফলিত জ্যোতিষ বিচার না করিয়া পা ফেলিয়াছিলেন। সে-বারের ফল অশুভ না হইলেও তিনি দ্বিতীয় বার ওইরূপ দুঃসাহসিক কার্য করেন নাই। গোঁড়া মুসলমান হইলেও শাহজাহান এ বিষয়ে আরও সাবধানী ছিলেন। কোন মুহূর্ত বিচারে হিন্দু জ্যোতিষী ও ইউনানী নজুমী সম্পূর্ণ একমত না হইলে বাদশাহ মুহূর্ত বা “ছায়াত” কবুল করিতেন না। দারা লাহোর হইতে লিখিয়া পাঠাইলেন দৈবজ্ঞেরা ১১ই ফেব্রুয়ারি যাত্রা এবং ২৫শে এপ্রিল কান্দাহার-অবরোধের দিন ধার্য করিয়াছে। সম্রাট উক্ত বিচার অনুমোদন করিয়া শাহজাদাকে রোখসতের ফরমান পাঠাইলেন। এই উপলক্ষে মোট পাঁচ লক্ষ টাকা মূল্যের হাতি, ঘোড়া, জহরত ও হাতিয়ার শাহজাদা বাদশার তরফ হইতে খেলাত স্বরূপ পাইয়া অনুগৃহীত হইলেন। মনসবদারগণের খেলাত ও রাহাখরচ এবং সিপাহীদিগকে অগ্রিম বেতন ও বখশিশ ইত্যাদির বাবদ আরও বিশ লক্ষ টাকা যাত্রার পূর্বেই খরচ হইল। অধিকন্তু ফৌজি তহবিলে নগদ এক লাখ আশরফি ও এক কোটি টাকা শাহজাদার সঙ্গে লওয়ার জন্য মঞ্জুর হইল। সম্রাট হুকুম দিলেন শাহী ফৌজ এবার মুলতান হইয়া থল-চোটিয়ালীর পথে অগ্রসর হইবে; এ রাস্তায় রসদ সংগ্রহের সুবিধা বেশি। এ রাস্তা দিয়া আওরঙ্গজেব দ্বিতীয়বার কান্দাহার আক্রমণ করিয়াছিলেন এবং এই রাস্তায় কান্দাহার হইতে ভূতপূর্ব আমীর আমানুল্লার সেনাপতি নাদির খাঁ (পরে যিনি নাদির শাহ হইয়াছিলেন) এই পথে সীমান্ত অতিক্রম পূর্বক তৃতীয় আফগান যুদ্ধে ইংরেজ সৈন্যকে অপদস্থ করিয়াছিলেন। এখনও এই বিজয়ের বাৎসরিক উৎসবে ইংরেজ প্রতিনিধি কাবুলের রাজপতাকায় দেখিতে পান পোষা কুকুরের মতো সিংহের গলায় শিকল লাগাইয়া এক জন কাবুলী সদম্ভে উহাকে টানিয়া লইয়া যাইতেছে।

    ১৬৫৩ খ্রিস্টাব্দের ১১ই ফেব্রুয়ারি দিবা তিন প্রহর (? ঘড়ি) গতে শাহজাদা দারা লাহোর ত্যাগ করিয়া শহরের বাহিরে তাঁবুতে পদার্পণ করিলেন। দুই দিন পরে দারাচালিত বিরাট বাহিনী সঞ্চরমাণা দিল্লি নগরীর মতো মূলতানের পথ ধরিয়া ধীর মন্থর গতিতে দক্ষিণ পশ্চিমাভিমুখে অগ্রসর হইল। ভারী তোপ গোলা লোহা-লক্কড় বোঝাই বড় বড় নৌকা রাবী নদী দিয়া সিন্ধুতীরাভিমুখে ভাঁটি চলিল।*

    [* সেকালে লাহোর হইতে মুলতান হইয়া রোরী সক্কর পর্যন্ত যে বাদশাহী রাস্তা ছিল ভীমকর্মা পাঠান সম্রাট শেরশাহ উহা নির্মাণ করাইয়াছিলেন। এই রাস্তা কোন কোন স্থানে দিক পরিবর্তিত হইয়া আজও বিদ্যমান; আমিও এ রাস্তায় কিছুদূর চলিয়াছি। মন্টোগোমারী জেলার ভিতর দিয়া উহার যে অংশ গিয়াছে স্থানীয় লোকেরা উহাকে “কাক্কা-ওয়ালী সড়ক” বলে। শের শাহর আমল হইতে সরকারি হুকুম ছিল রাস্তার উভয় পার্শ্বস্থ গ্রামের বাসিন্দাগণ এই রাস্তার উপর “কাক” বা নল-খাগড়ার আঁটি বিছাইয়া রাখিবে। এই ব্যবস্থা না থাকিলে এ রাস্তায় গাড়ি, ঘোড়া, সিপাহী চলা অসম্ভব হইত। এই সরকারি রাস্তার “পরাও” বা বিশ্রাম মঞ্জিলগুলির নাম পাঠক স্যর যদুনাথ সরকারের India of Aurangzib পুস্তকে পাইবেন।]

    শাহী ফৌজ ২৩শে এপ্রিল “পঞ্চমুদ্রা” গিরিসঙ্কট পার হইয়া ২৫শে এপ্রিল কান্দাহার হইতে পাঁচ ক্রোশ দূরে “মরদ-ই-কিলা” নামক স্থানে উপস্থিত হইল। রুস্তম খাঁ বাহাদুর ফিরোজ জঙ্গ অগ্রগামী সৈন্যদলসহ ইতিপূর্বেই কান্দাহার পৌছিয়াছিলেন, এবং উভয়পক্ষে গোলাগুলিও চলিয়াছিল। যে তারিখ অর্থাৎ ২৫শে এপ্রিল দৈবজ্ঞেরা অবরোধ কার্যারম্ভের দিন ধার্য করিয়াছিল, সে তারিখ গত হওয়ায় শাহজাদার মীর আতশ ও ফৌজ বকশি আবদুল্লা বেগ গোঁ ধরিল––আমাদের জন্য আর একটা শুভদিন চাই। এজন্য সৈন্যেরা পরের দিন কান্দাহার ঘেরাও না করিয়া পথে আরও দিনদুই দেরি করিল। কান্দাহারের দুর্গপরিখার কিছু দূরে সম্রাট হুমায়ুনের অকৃতজ্ঞ ভ্রাতা কামরান মির্জা এক সুবিস্তৃত মনোরম উদ্যান প্রস্তুত করাইয়াছিলেন। সেখানে শাহজাদার তাঁবু পড়িয়াছিল। তিনি বোধ হয় আর এক শুভ মুহূর্তের অপেক্ষায় অবরোধ আরম্ভের সাতদিন পরে তরা কি ৪ঠা মে বাগ-ই-কামরানে পৌঁছিলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleক্যাপিট্যাল / ডাস কাপিটাল – কার্ল মার্ক্স (অনুবাদ : পীযুষ দাসগুপ্ত)
    Next Article আলীবর্দী ও তার সময় – কালিকিঙ্কর দত্ত
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }