Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শাহজাদা দারাশুকো – কালিকারঞ্জন কানুনগো

    কালিকারঞ্জন কানুনগো এক পাতা গল্প337 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৬. দারাশুকোর কান্দাহার-অবরোধের প্রথম পর্ব

    ষষ্ঠ অধ্যায় – দারাশুকোর কান্দাহার-অবরোধের প্রথম পর্ব

    প্রমাণ-পঞ্জী

    দারার কান্দাহার অভিযান ও অবরোধের বিবরণ আমরা মোটামুটি তিনটি প্রামাণিক ফার্সি ইতিহাস হইতে সবিস্তার জানিতে পারি। শাহজাহানের দরবারী ইতিবৃত্ত ‘বাদশাহ-নামা’র তৃতীয় খণ্ডে (জুলুসী সন ২০ হইতে ৩০ বর্ষ পর্যন্ত) মোল্লা ওয়ারেস এই অভিযানের কথা লিপিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন। বাদশাহ-নামা সরকারি দলিলপত্র ও সংবাদ-তালিকা দৃষ্টে লিখিত; স্বয়ং বাদশাহকে ইহা পড়িয়া শুনানো হইত এবং তাঁহার নির্দেশক্রমে আবশ্যক মতো সংশোধন করা হইত। সুতরাং ইহাতে তারিখ, মানুষের নাম, মোটামুটি ঘটনা নির্ভুল দেওয়া হইয়াছে ধরিয়া লইতে হইবে। কিন্তু সঠিক এবং নিরপেক্ষ ইতিহাস বলিতে যাহা বুঝায়, তাহা কদাচিৎ সরকারি ইতিবৃত্তে পাওয়া যায়। আজকালকার দিনে যেমন কোনও গুরুতর ঘটনার সরকারি ও বে-সরকারি সংবাদে মাঝে মাঝে পার্থক্য দৃষ্ট হয়, সেকালেও তাহাই ছিল। সরকারি সাফাই ও বে-সরকারি অভিযোগগুলিকে বিচারকের সূক্ষ্মদৃষ্টি, নিরপেক্ষতা ও সাক্ষ্য-আইনের মূলসূত্রসমূহের কষ্টিপাথরে পরীক্ষা করিয়া লওয়া ঐতিহাসিকের প্রধান কর্তব্য; কিন্তু বাদশাহী আমলে––তথা যথেচ্ছাচার রাজতন্ত্র-শাসিত পৃথিবীর সর্বত্র- বেসরকারি সংবাদ কিংবা বিরুদ্ধ সমালোচনা বলিয়া কিছুই ছিল না। রাজা, রাজপুত্র, বা সুবাদারের বিরুদ্ধে অতি সত্য হইলেও কেহ কিছু প্রকাশ্যভাবে লিখিতে সাহস করিত না। শত বাধা সত্ত্বেও এখনকার বে-সরকারি কাগজে সরকারের বিরুদ্ধে যাহা প্রকাশ করা সম্ভব, মধ্যযুগে উহা ছিল কল্পনার অতীত-মোগল সরকারের বিরুদ্ধে কেহ টু শব্দ করিলে তাহার রক্ষা ছিল না।

    সৌভাগ্যক্রমে কান্দাহার অভিযানের বে-সরকারি বিবরণ একজন বেনামী লেখক মোগল-শিবিরে বসিয়াই লিখিয়া গিয়াছেন। তাঁহার লিখিত পুস্তকের নাম ‘লতাইফ-উল- আখার’; উহার ভূমিকায় তিনি লিখিয়াছেন:

    আমি দরবারের বিশেষ অনুগ্রহভাজন অন্তরঙ্গ আমীর-উমরা কিংবা দরবারী মোসাহেব নই। সরকারি দপ্তরের কেরানি, রাজদূত কিম্বা ওয়াকীয়া নবিস (সংবাদ প্রেরক) হিসাবে চাকরি আমি করি না; সুতরাং মিথ্যা কথা বলিবার আমার প্রয়োজন হয় না; মিথ্যা সংবাদ সরবরাহ করা আমার উপজীব্য নহে। প্রকৃত ঘটনা গোপন, যাহা ঘটে নাই উহা ঘটিয়াছে বলিয়া সাক্ষ্য প্রমাণ দেওয়া কিংবা কান্দাহারের খবর শুনিবার জন্য হিন্দুস্থানে যাহারা কান খাড়া করিয়া আছে তাহাদের জন্য ‘মজার খবর লেখা আমার উদ্দেশ্য নহে। যে ক্ষেত্রে কোনও মতলব নাই কিংবা কাহারও অনুগ্রহলাভের উপর নজর নাই, সে ক্ষেত্রে মানুষ সত্য হইতে বিচলিত হওয়ার কিংবা স্পষ্টবাদী না হওয়ার হেতু থাকিতে পারে না। লোকের কাছে অপরিচিত সামান্য ব্যক্তি হইলেও আমি বলিতে পারি খোদার কসম––এই সফরে আমি যাহা দেখিয়াছি, অন্য কেহ তাহা দেখে নাই; কেহ যদি দেখিয়া থাকে সে দুনিয়াদারির মতলবে উহা গোপন করিয়াছে; কিছু যদি বলিয়া থাকে সে উল্টাই বলিয়াছে। যাহারা গোশা-নশীন, লোকচক্ষুর অন্তরালে যাহারা এক কোণে পড়িয়া আছে, এই জমানার হাল তাহারাই বরং ভালো জানে।

    এই বেনামী লেখকের পরিচয় সর্বপ্রথম দিয়াছেন ঐতিহাসিক মহম্মদ হাশিম খাপি খাঁ। রিউ সাহেব ঠিক অনুমান করিয়াছেন ‘লতাইফ্-উল্-আখ্টার’ ও খাপি খাঁ কর্তৃক উদ্ধৃত ‘তারিখ-ই-কান্দাহার’ একই পুস্তক––ইহার লেখক মহম্মদ বদী, পুরা নাম রসীদ খাঁ ওরফে বদীউজ্জমা-মহাবত-খানী। আওরঙ্গজেব-রাজত্বের চতুর্বিংশ বর্ষে তিনি দেওয়ান-ই-খালিশা পদ লাভ করিয়াছিলেন এবং উহার একচল্লিশ বৎসরে তাঁহার মৃত্যু হইয়াছিল। প্রথম মহাবত খাঁর পুত্র মির্জা লোহারস্প—যিনি পিতার মহাবত খাঁ উপাধি লাভ করিয়াছিলেন— কান্দাহার অভিযানে মহম্মদ বদীকে সম্ভবত কোন অসামরিক কর্মচারী হিসাবে সঙ্গে লইয়াছিলেন। ‘লতাইফ্-উল্-আখার’ পড়িলে প্রথমে সন্দেহ নয়, লেখক দারার দরবারে একজন অনাদৃত এবং শাহজাদার প্রতি বিদ্বেষভাবাপন্ন ব্যক্তি— যেমন আকবরী দরবারের মোল্লা বদায়ুনী। এই বেনামী লেখক যাহা স্বচক্ষে দেখিয়াছেন এবং অন্যের কাছে শুনিয়াছেন, উহাই দৈনিক বিবরণ হিসাবে লিপিবদ্ধ করিয়াছেন। গল্পগুজব কিছু কিছু থাকিলেও তাঁহার লিখিত যে সমস্ত ঘটনা দারার সর্বজনবিদিত দোষগুণ ও দুর্বলতার উদাহরণ স্বরূপ গ্রহণযোগ্য, ঐতিহাসিক ওইগুলি উপেক্ষা করিতে পারে না। সম্রাট মহম্মদ শাহর রাজত্বকালে সুপণ্ডিত ও নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক মহম্মদ হাশিম-প্রচলিত নাম খাপি খাঁ তাঁহার ‘মুস্তাখাব উল-লুবাব’ নামক ইতিহাসগ্রন্থে দারার কান্দাহার অভিযানে বর্ণনায় পূর্বোক্ত বেনামী লেখকের ‘লতাইফ্-উল্-আথ্রার’ সর্বপ্রথমে উদ্ধৃত করিতে সাহসী হইয়াছিলেন, কেননা তিনি দরবারী ইতিহাস লেখক ছিলেন না; বিশেষত তখন শাহজাহান-দারা- আওরঙ্গজেব জনশ্রুতিতে পরিণত হইয়াছেন। খাপি খাঁ আওরঙ্গজেবকেও রেহাই দেন নাই; বাদশাহর শত্রুকে ইসলামের শত্রুজ্ঞানে হিন্দুদের উপর অযথা গালিবর্ষণ করিয়া ধর্মান্ধতার পরিচয়ও তিনি দেন নাই। সুতরাং দারার প্রতি কোন আক্রোশ না থাকিলেও খাপি খাঁ যাহা সত্য বলিয়া গ্রহণ করিয়াছেন, উহা কখনও ভিত্তিহীন হইতে পারে না।

    বাদশাহী ফৌজের মোর্চাবন্দী ও থানা কায়েম

    ২৮শে এপ্রিল বৃহস্পতিবার বাদশাহী ফৌজের বিভিন্ন মনসবদারগণ তাঁহাদের নির্দিষ্ট স্থান গ্রহণ করিয়া কান্দাহার-দুর্গের অবরোধ-বেষ্টনী সম্পূর্ণ করিলেন। কান্দাহার দুর্গের উত্তর-পূর্ব কোণ হইতে আরম্ভ করিয়া বিভিন্ন দরওয়াজার সামনে সেনাধ্যক্ষগণ নিম্নলিখিত ক্রমে তাঁবু গাড়িয়া বসিলেন-

    বাবা ওয়ালী দরওয়াজা–মহাবত খাঁ (পাঁচ হাজারী)

    ওয়েস্ করন দরওয়াজা–কিলিচ খাঁ (পাঁজ হাজারী)

    ওয়েস্ করণ ও খ্বজা খিজির দরওয়াজার মধ্যবর্তী স্থান––মির্জাফর (দারার তোপখানার মীর-অতিশ)

    খ্বজা খিজির দরওয়াজা––পদাতিক বাহিনী সহ শাহজাদার মীর বকশী আবদুল্লা

    খ্বজা খিজির দরওয়াজা এবং মাশুরী দরওয়াজার মধ্যবর্তী স্থান—বাদশাহী তোপখানার মীর অতিশ কাসিম খাঁ (চার হাজারী)

    মাশুরী দরওয়াজা—মির্জা রাজা জয়সিংহ (পাঁচ হাজারী)

    চেহেল-জিনা বুরু––ইখলাস্ খাঁ (তিন হাজারী)

    লাখা উপদুর্গ––বাকী খাঁ চম্পৎ রায় বুন্দেলা, সৈয়দ মির্জা ও অন্যান্য মনসবদারগণ।

    .

    কান্দাহার দুর্গের তিনদিকে পরিখা; অন্যদিকে উচ্চ সুরক্ষিত পাহাড়, পরিখার পরে কোথাও প্রস্তর নির্মিত প্রাচীর; কোন কোন স্থানে খড় ও পাথর মিশানো মাটির তৈয়ারি দশ গজ চওড়া পর্দা। পরিখা জলশূন্য করিয়া ভরাট না করিলে প্রাচীরের নিকটবর্তী হওয়া অসম্ভব, এজন্য শাহজাদা দারার মীর-সামান মোল্লা ফাজিল পরিখার জল নিষ্কাশনের কার্যে নিযুক্ত হইলেন। ১০৭০ খনক (sapper) এবং একদল রক্ষী সৈন্যসহ সৈয়দ মামুদ (বারাহ্ সৈয়দ) তাঁহাকে সাহায্য করিবার জন্য আদিষ্ট হইলেন। ৪ঠা মে শাহজাদা দারা কামরান মির্জার উদ্যানে নিজ তাঁবুতে পদার্পণ করিলেন। বুস্ত হইতে কান্দাহার আসিবার রাস্তায় পারস্যবাহিনীকে প্রতিরোধ করিবার জন্য রুস্তম খাঁ বাহাদুর ফিরোজ-জঙ্গ এক ভারী ফৌজ লইয়া মাটি আগলাইয়া বসিলেন। অন্যান্য থানাগুলির ভারও সুযোগ্য মনসবদারগণের উপর অর্পিত হইল।

    দুর্গরক্ষীগণ কর্তৃক অতর্কিত আক্রমণ ও ছোটখাটো সংঘর্ষ

    অবরোধের প্রথম দিনই হঠাৎ একদল ইরানী সৈন্য খিজিরী দরওয়াজা খুলিয়া হিন্দুস্থানীদিগকে যুদ্ধার্থ আহ্বান করিল। খ্বজা খাঁ (ইয়ুজবেগ) তাহাদিগকে পরিখা পর্যন্ত তাড়া করিল, কিন্তু দুর্গ প্রাচীর হইতে বর্ষিত গুলির ঘায়ে তাহার ঘোড়াটি ধরাশায়ী হইল; নিজেও আহত হইল। ফিরিবার সময় পলাতক ইরানীরা তাহাকে পাল্টা তাড়া করিয়া বধ করিবার উপক্রম করিল। এমন সময় তাহাদের সর্দার বলিয়া উঠিলেন, “ছি! উহাকে ছাড়িয়া দাও।” এই খবর শুনিয়া শাহজাদা খ্বজা খাঁকে একটি ঘোড়া ও খাসা খেলাত বকশিশ করিলেন এবং তাহার মনসবে দুই শত সওয়ার বৃদ্ধি করিয়া দিলেন। ইরানীরা রাত্রির অন্ধকারে হিন্দুস্থানীদের আশ্রয় সুড়ঙ্গের ভিতর প্রবেশ করিয়া সিপাহী ও বেলদার (কোদালিয়া) গুলির মাথা কাটিয়া লইয়া যাইত। একদিন সন্ধ্যার সময় বেলদার দারোগা ফতে মহম্মদ কালাল (শুঁড়ি) চারিজন লোক লইয়া বাদশাহী মীর-অতিশ কাসিম খাঁর আশ্রয়-পরিখার মাথায় কাজ করিতে গিয়াছিল। পরদিন সকালে দেখা গেল, ওই জায়গায় তাহাদের ছিন্নমুণ্ড দেহগুলি পড়িয়া আছে। ওই রাত্রিতেই ইরানীরা মহাবত খাঁ ও কিলিচ খাঁর থানার মধ্যবর্তী স্থান অতিক্রম পূর্বক লাইনের পিছনে গিয়া তিনজন লোককে খুন ও চারিটা ঘোড়ার পায়ের রগ কাটিয়া দিয়া বেমালুম পলাইয়া গেল (২৪শে মে), এমন কি চুরি-ডাকাতিতে পাকা ওস্তাদ বুন্দেলা রাজপুতগণও ইরানীদের অতর্কিত আক্রমণ হইতে রেহাই পায় নাই; একদিন দুপুরবেলা পাহাড় সিং বুন্দেলার সিপাহীরা একটু অসাবধান ছিল। ইরানীরা হঠাৎ চড়াও করিয়া তাঁহার ৬০ জন লোককে হত্যা করিল। ইহাদিগকে তাড়া করিতে গিয়া দুর্গপ্রাচীর হইতে নিক্ষিপ্ত গোলাগুলির ঘায়ে তাঁহার আরও বিশজন সিপাহী মারা গেল। আর একদিন লাখা পাহাড়ের উপদুর্গ হইতে ত্রিশ জন ইরানী বন্দুকচী চুপচাপ পাহাড় সিং বুন্দেলা ও বাকী খাঁর মোর্চার মধ্যবর্তী স্থান দিয়া অগ্রসর হইল। সেখানে কয়েকটি উট ও গরু চরিতেছিল। ইরানীরা চারিটা উট ও পাঁচটা গরু জবাই করিয়া মাংসগুলি লইয়া পলাইতেছিল, এমন সময় হিন্দুস্থানীরা তাহাদিগকে তাড়া করিল; অন্য দিক হইতে ইরানীরাও তাহাদের দলকে সাহায্যার্থ অগ্রসর হওয়াতে উভয় পক্ষে গুলি চলিল; কিন্তু ইরানীরা ঘায়েল হইয়াও হালালের গোত ছাড়িল না (১৮ই জুলাই)। ইহার পূর্ব দিন ইরানীদের সঙ্গে একটি বড় রকমের সংঘর্ষ হইয়াছিল। ২রা রমজান ইজ্জৎ খাঁর সিপাহীরা ফজরের নমাজ পড়িতেছিল; এমন সময় তিনশত ইরানী হঠাৎ তাঁহার মোর্চার উপর হামলা করিয়া অনেক লোককে হতাহত করিল। নজর বাহাদুর খাঁ খেশগীর পুত্রদ্বয় কুতব খাঁ ও শমস খাঁ ইজ্জৎ খাঁকে প্রাণপণ সাহায্য না করিলে তাঁহার রক্ষা ছিল না। ইরানীরা পিছু হটিবার সময় মহাবত খাঁ তাহাদিগকে আক্রমণ করিলেন। মোটের উপর এই সংঘর্ষে ইজ্জৎ খাঁর ৯০ জন, কুতব খাঁ ও শমস খাঁর ৩১ জন এবং মহাবত খাঁর ১৪ জন সিপাহী হত ও ৩১ জন আহত হইয়াছিল। ইজ্জৎ খাঁ বুঝিলেন, সত্য ঘটনা প্রকাশ হইলে শাহজাদার দরবারে তাঁহার ইজ্জৎ আর থাকিবে না; জাফরও টিটকারি দিবে। তিনি তাড়াতাড়ি এক ফন্দী আঁটিলেন। তাঁহার যত সিপাহী মরিয়াছিল, তিনি তাহাদের লাশগুলি সরাসরি গায়েব করিলেন। তাঁহার লোকেরা মহাবত খাঁর মোর্চার কাছ হইতে ইরানীদের দুটা লাশ নিজেদের পরিখার কাছে টানিয়া লইয়া আসিল। সেদিন এত বড় একটা ব্যাপার ঘটিলেও শাহজাদা স্বয়ং কিছু তদন্ত করিতে আসিলেন না; উর্দুবেগী আসিয়া ইজ্জৎ খাঁর কাছে যাহা শুনিল এবং তাঁহার বাহাদুরির নিশান ইরানী লাশ দুটি দেখিয়া যাহা সিদ্ধান্ত করিল, উহাই লিখিয়া লইল। দারা ওই রিপোর্ট অবলম্বনে বা কায়দা আরদস্ত লিখিয়া দরবারে পাঠাইলেন। সে-যুগে এ ধরনের মিলিটারি ডেসপ্যাচও গোপন থাকিত না। সংবাদ তালিকা হিসাবে ওইগুলি প্রায়ই প্রকাশ্য দরবারে পঠিত হইত; পরে সরকারি দপ্তরখানায় রক্ষিত সমস্ত আখারাত সমূহের সাহায্যে দরবারী ঐতিহাসিক ইতিহাস রচনা করিতেন। ওয়ারেস-লিখিত বাদশাহ-নামায় দারার কান্দাহার-অভিযানের বর্ণনায় লিখিত আছে :-

    ‘দুর্গরক্ষীদের হানা খুব কম এবং প্রায়ই বিফল হইত। কিন্তু একবার মহাবত খাঁর সিপাহীদের অসতর্কতার দরুণ ইরানীদের অতর্কিত আক্রমণে তাঁহার কয়েক জন লোক হতাহত হইয়াছিল। যখন ইরানীরা দুর্গাভিমুখ ফিরিতেছিল, ইজ্জৎ খাঁর মোর্চার সিপাহীরা কয়েকজনকে বধ করিয়া তাহাদিগকে সমুচিত শিক্ষা দিয়াছিল।‘

    বাদশাহী দরবারে প্রত্যেক বড় বড় আমীরের একজন করিয়া “উকিল” বা প্রতিনিধি থাকিত; দরবারের সমস্ত প্রয়োজনীয় সংবাদ উকিলেরা নিজ নিজ মনিবের কাছে লিখিয়া পাঠাইত। সুতরাং দারা যে মিথ্যা রিপোর্ট বাদশাহের কাছে পাঠাইয়াছেন, কয়েক দিন পরে কান্দাহার-শিবিরে উহা মুখে মুখে প্রচারিত হইল। এ সম্বন্ধে ‘লতাইফ্-উল্‌-আখার’ রচয়িতা লিখিয়া গিয়াছেন–

    ‘এই অভিযানের প্রথম হইতে ইহা সুস্পষ্ট বুঝা গেল শাহজাদার অভিপ্রায় ছিল দুর্গজয়ের চেষ্টার সমস্ত প্রশংসাটুকু যেন তাঁহার নিজ তারিনের অফিসারগণ বিশেষত জাফর ও ইজ্জৎ খাঁর ভাগেই পড়ে। …মহাবত খাঁর সিপাহীরা ইরানীদিগকে তাড়া করিয়া তাহাদের মৃত সঙ্গীদের লাশ লওয়ার অবসর দেয় নাই। অথচ বাদশাহর কাছে রিপোর্ট গেল ইজ্জৎ‍ খাঁই যাহা কিছু বাহাদুরি দেখাইয়াছেন— প্রমাণ তাঁহার মোর্চার কাছে দুটা ইরানীদের লাশ পড়িয়াছিল, যদিও আসলে এই মড়াগুলি মোর্চার কাছ হইতে তিনি উঠাইয়া লইয়াছিলেন। …এই রিপোর্টের কোথাও কুতব খাঁ ও শমস্ খাঁর নামটুকুও উল্লেখ করা হয় নাই।‘

    একটি ঘটনার সরকারি ও বেসরকারি বর্ণনায় কি আশমান-জমিন তফাত ইহাই তাহার অন্যতম প্রমাণ। ইহাও অবশ্য অসম্ভব নয়, মহাবত খাঁর আশ্রিত এই বেনামী লেখক মহাবত খাঁর বিরুদ্ধে দারার অভিযোগ খণ্ডন করিবার জন্য সাফাই গাহিয়াছেন। “সত্য মিথ্যা একমাত্র খোদাতালাই জানেন”– ঐতিহাসিক ইহার অধিক কিছু বলিবার স্পর্ধা রাখিতে পারেন না এবং ইহাই চরম গবেষণা।

    চেহেল-জিনা পাহাড় আক্রমণ

    যে পর্বতশ্রেণীর ক্রোড়ে কান্দাহারের অন্তদুর্গ আত্মগোপন করিয়া আছে, তাহার উত্তর পার্শ্বে সিকি মাইল দূরে সুকঠিন প্রস্তরময় একটি খাড়া পাহাড় কান্দাহারের রন্ধ্রপথ রুদ্ধ করিয়া দণ্ডায়মান। এই পাহাড়ের গায়ে চল্লিশটি ধাপ কাটিয়া উপরে উঠিবার একটি সংকীর্ণ পথ ছিল। এইজন্য এই পাহাড়ের ফার্সি নাম ‘চেহেল-জিনা’। অর্ধেক পথে যেখানে ধাপ শেষ হইয়াছে, সেখানে ছিল একটি গুহা; গুহার ভিতরে ধনুকাকৃতি গম্বুজওয়ালা একটি ঘর। শত্রু যদি চেহেল-জিনার পাহাড়ে তোপ টানিয়া উঠাইতে পারে তবে কান্দাহারের আশা ছাড়িতে হয়। ইহার দুই দিকে দুইটি টিলা শহরের মণ্ডী (বাজার) ও অন্তদুর্গের দিকে ঝুঁকিয়া পড়িয়াছে। কান্দাহার যখন মোগল-অধিকারে ছিল, তখন চেহেল-জিনা পাহাড়কে সুরক্ষিত করিবার জন্য এই দুটি টিলার উপর উন্নত ও সুদৃঢ় সান্ত্রী-গৃহ নির্মিত হইয়াছিল। পারস্য সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আব্বাস ১৬৪৯ খ্রিস্টাব্দে এই স্থান অধিকার করিয়া শহরের উপর তোপ দাগিয়াছিলেন। কিন্তু এ স্থান দখল করা সোজা নয়; মুষ্টিমেয় সৈন্য অসংখ্য শত্রুকে এখানে অনায়াসে বাধা দিতে পারে; অথচ হাতাহাতি যুদ্ধ না করিয়া উপায়ান্তর নাই। শাহজাদা ‘চেহেল-জিনা’ দখল করিবার জন্য সচেষ্ট হইলেন। যুদ্ধবিদ্যায় অনভিজ্ঞতাবশত তিনি মনে করিলেন, পাহাড়ের নীচে হইতেই “হাওয়াই” ছুঁড়িলেই ইরানীরা চেহেল-জিনা ছাড়িয়া পলাইবে। ৭ই ও ৮ই মে ক্রমাগত দুই রাত্রি কয়েক হাজার হাওয়াই-বাজির অগ্নিবৃষ্টি হইল। ইহাতে ইরানীরা ভয় পাওয়া দূরের কথা বরং আতশবাজির তামাশা বেশ উপভোগ করিতেছিল। এই সুযোগে উপযুক্ত সেনাধ্যক্ষের অধীনে যদি একদল পার্বত্য সৈন্য সন্তর্পণে চেহেল-জিনায় উঠিতে পারিত, তাহা হইলে ইরানীদের আনন্দ হয়তো নিরানন্দে পরিণত হইত। কিন্তু লড়াইয়ের ফিকিরের চেয়ে সুফীয়ানা “জিকির” (নামকীর্তন) শাহজাদা দারা ভালো বুঝিতেন। তিনি এই প্রকার যুগপৎ আক্রমণের কথা ভাবিতেও পারেন নাই। যাহা হউক, যাহারা হাওয়াই ছুঁড়িয়াছিল, তাহাদের প্রত্যেককে শাহজাদা বিশ টাকা হিসাবে ইনাম দিলেন এবং তাহাদের মনসবদারদ্বয়কে এক-শতী ইজাফা মঞ্জুর করা হইল।

    হাওয়াই ব্যর্থ হওয়ায় শাহজাদা চেহেল-জিনার দুর্গবুরুজ লক্ষ্য করিয়া তোপখানার মোর্চা কায়েম করিলেন। প্রথমে জাফর এবং পরে কাঙ্গড়ার পাহাড়ি অঞ্চলের ডোগরা রাজপুত-সামন্ত রাজা রাজরূপকে এই মোর্চার ভার দেওয়া হইয়াছিল (৬ই জুন)। শাহজাদা রাজরূপকে পাঁচ-শতী ও পাঁচ শত সওয়ার ইজাফা দিলেন। তিনি প্রথম প্রথম তাঁহার খুব প্রশংসা করিতেন; কিন্তু দারার একটি দোষ ছিল—তিনি লোক চিনিতেন না; অধিকন্তু চাটুকারদের কানভাঙানি বেশি শুনিতেন। রাজরূপের কাজ অনেকখানি অগ্রসর হইয়াছে দেখিয়া তাঁহার প্রতিবেশী জন্মশত্রু রাজা মান্ গোয়ালিয়ারী কোন্ মতলবে শাহজাদার কান ভারী করিয়া দিলেন। এই মোর্চায় রাজরূপের ৪৬ জন সিপাহী হত ও ১৪৬ জন আহত হইয়াছিল বটে, কিন্তু কাজও অনেক দূর অগ্রসর হইয়াছিল। তিনি শাহজাদার ভাবপরিবর্তন লক্ষ্য করিয়া স্থির করিলেন, কপালে যাহা থাকে একবার চেহেল-জিনা আক্রমণ করিবেন। তাঁহার ডান ও বাঁ দিকের মোর্চার সেনাধ্যক্ষগণকে জানাইলেন ২০শে জুন দিন ৫ ঘড়ি গতে হামলা শুরু হইবে। অনুমতি পাওয়ার জন্য তিনি একথা শাহজাদাকেও জানাইলেন। শাহজাদা জ্যোতিষীগণকে ডাকাইয়া মুহূর্ত বিচার করিতে বসিলেন। জ্যোতিষীরা কান্দাহারে আসিয়া কান্দাহার ও তৎসংলগ্ন স্থানসমূহের রাশিচক্র ও কোষ্ঠীবিচারে তৎপর ছিল। তাহারা শাহজাদাকে বলিল, ৫ ঘড়ির পর ওইদিন চেহেল-জিনার কর্কটরাশিতে সূর্য অবস্থিত আছেন; সুতরাং ওইসময় আক্রমণকারীদের পক্ষে অশুভ; ১৮ ঘড়ির (৮ ঘড়ি?) পর সময় ভালো আছে। রাজরূপ ও অন্যান্য সেনাধ্যক্ষগণকে সংবাদ দেওয়া গেল, আক্রমণ ৫ ঘড়ি গতে না হইয়া ১৮ ঘড়ি (৮ ঘড়ি?) গতে হইবে; সে সময় সকলেই যেন প্রস্তুত থাকেন। কিন্তু ওইদিনই শাহজাদার প্রিয়পাত্র জাফরের এক ভাই অনেক দিন রোগে ভুগিয়া মারা গেল। কুসংস্কারাচ্ছন্ন দারা এই সামান্য ঘটনাকে অতি অশুভ লক্ষণ মনে করিয়া আক্রমণের হুকুম সম্পূর্ণ বাতিল করিয়া দিলেন। অগ্রগামী দলকে ফিরাইয়া আনিতে রাজরূপের আরও পাঁচজন লোক হত ও কুড়িজন আহত হইল।

    তিনদিন পরে শাহজাদার খাস মজলিসে রাজরূপের কথা উঠিতেই তিনি বিষম চটিয়া গেলেন––নিমকহারাম বুজদিল খেঁকশিয়াল: রাজা মান্ গোয়ালিয়ারীকে উহার মোর্চা সোপর্দ কর। লইয়া যাও উহাকে জাফরের মোর্চায়; খেদমত কাহাকে বলে জাফর তাহাকে ভালোরকম শিখাইবে। কাজী আফজল দৃঢ়ভাবে রাজরূপের পক্ষ সমর্থন করাতে বেচারা দারুণ অপমান হইতে এ যাত্রা রক্ষা পাইল। ক্ষণে তুষ্ট, ক্ষণে রুষ্ট শাহজাদা একবার কান মলিয়া আবার লোকের পিঠ চাপড়াইতেন, মাসখানেক পরে রাজরূপ জাফরের সহকারিরূপে অন্য মোর্চায় বদলি হইলেন, তাঁহাকে নগদ ৫০০০ টাকা ইনাম দিলেন এবং “শের হাজী” বুরুজের তলদেশ পর্যন্ত সুড়ঙ্গ খুঁড়িতে পারিলে আরও ৫০০০ টাকা পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেন। বল্লভ চৌহান নামক রাজপুত মনসবদারকে চেহেল-জিনার মোর্চায় যাইবার জন্য আদেশ করাতে সে সিধা জবাব দিল- আমরা ময়দানের লোক; পাহাড়ি নই; পাহাড়ের লড়াইয়ের কায়দা আমরা জানি না। শাহজাদা ক্রোধে অধীর হইয়া হুকুম দিলেন, “নিয়ে যাও বেটা বেতমীজকে জাফরের মোর্চায়।” চোবদার বল্লভ চৌহানকে জাফরের কাছে লইয়া চলিল; কিন্তু অল্পদূর যাইতে-না-যাইতেই শাহজাদার রাগ পড়িয়া গেল। ফিরাইয়া আনিয়া তাহাকে তিনি দেবী সিংহ বুন্দেলার থানার ভার দিলেন এবং দেবী সিংহ রাজরূপের স্থানে চেহেল-জিনা মোর্চায় নিযুক্ত হইল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleক্যাপিট্যাল / ডাস কাপিটাল – কার্ল মার্ক্স (অনুবাদ : পীযুষ দাসগুপ্ত)
    Next Article আলীবর্দী ও তার সময় – কালিকিঙ্কর দত্ত
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }