Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শাহজাদা দারাশুকো – কালিকারঞ্জন কানুনগো

    কালিকারঞ্জন কানুনগো এক পাতা গল্প337 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৯. দারাশুকোর পাণ্ডিত্য ও তত্ত্বজ্ঞান

    নবম অধ্যায় – দারাশুকোর পাণ্ডিত্য ও তত্ত্বজ্ঞান

    শাহজাহান স্বয়ং বিদ্যোৎসাহী ও পাকা মুসলমান ছিলেন; পুত্র-চতুষ্টয়ের সুশিক্ষা ও শরিয়ত-অনুযায়ী নৈতিক ও ধর্মজীবন গঠনের জন্য তিনি শাস্ত্রজ্ঞ ও নিষ্ঠাবান মোল্লাদিগকে তাঁহাদের শিক্ষক নিযুক্ত করিয়াছিলেন। মোল্লা আবদুল লতিফ সুলতানপুরীর নিকট শাহজাদা দারার বিদ্যাশিক্ষা আরম্ভ এবং সম্ভবত তাঁহার কাছেই সমাপ্ত হইয়াছিল––অন্তত তাঁহার অন্য কোন শিক্ষকের নামোল্লেখ দরবারী ইতিহাসে নাই। দারা অসাধারণ মেধাবী ও মনীষাসম্পন্ন ছিলেন এবং জ্ঞানচর্চায় তাঁহার ঐকান্তিক আগ্রহ ও অসীম উৎসাহ ছিল। খেলাধূলা, কবুতরবাজী, শিকার কিংবা বয়ঃপ্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে আয়েস ও শরাব তাঁহার মনের উপর স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করিতে পারে নাই; লেখাপড়ার নেশা ও তত্ত্বজ্ঞানের তৃষ্ণা বরং বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত বাড়িয়া চলিয়াছিল। তিনি মুসলমানের অবশ্য পঠিতব্য বিষয়গুলি, যথা—কোরান হদিস তফসীর বিশেষভাবে আয়ত্ত করিয়াছিলেন। ব্যাকরণ ও মুসলমানী আইন (ফেকা) অধ্যয়নে তাঁহার বিশেষ অনুরাগ ছিল বলিয়া মনে হয় না, গণিত অপেক্ষা ফলিত জ্যোতিষে তাঁহারা আগ্রহ ছিল অধিক। তর্কশাস্ত্র হয়তো তিনি পড়িয়াছিলেন; আরিস্ত (অ্যারিস্টটল) ও আফলাতুনের (প্লেটোর) সহিত তাঁহার মোটামুটি পরিচয় ছিল। বিধিনির্দিষ্ট সুনিশ্চিত উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, পিতার অপার স্নেহ, মোগল দরবারে তৎকালীন বিবিধ বিদ্যাপারগ হিন্দু ও মুসলমান পণ্ডিতমণ্ডলীর অপূর্ব সমাবেশ ও তাঁহাদের সাহচর্য এবং নিজের সুদীর্ঘ অখণ্ড অবসর দারার জ্ঞানচর্চার পক্ষে বিশেষ অনুকূল ছিল। মুসলমান রাজাদের মধ্যে বিদ্বান ও বিদ্যোৎসাহী বহু ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করিয়াছেন; কিন্তু আব্বাসী খলিফা মামুন ও তৈমুর বংশে শাহজাদা দারা ব্যতীত অন্য কেহ প্রকৃত পণ্ডিত ও দার্শনিক বলিয়া প্রসিদ্ধিলাভ করিতে পারেন নাই।

    জগতের জ্ঞানভাণ্ডারে মামুনের সর্বশ্রেষ্ঠ দান—আরিস্ত-প্রমুখ যবন-মনীষীগণের লুপ্তপ্রায় দর্শন ও তর্ক-শাস্ত্রসমূহের সংগ্রহ ও আরবী ভাষায় অনুবাদ। কিন্তু শাহজাদা দারাই সর্বপ্রথমে উপনিষদের অনুবাদ করাইয়া সভ্য জগৎকে হিন্দুর ব্রহ্মবিদ্যার সন্ধান দিয়াছিলেন। খলিফা মনসুর, হারুন ও মামুনের সময় ভারতীয় আয়ুর্বেদ, পাটীগণিত, বীজগণিত, জ্যোতিষ, পশুচিকিৎসা ও রসায়ন গ্রন্থের অনুবাদ ও আলোচনা আরম্ভ হইয়াছিল। ইহার পর খ্রিস্টীয় একাদশ শতাব্দীর প্রারম্ভে অলবেরুনী তাঁহার তহকিক-ই-হিন্দ গ্রন্থে ভারতীয় সংস্কৃতি ও চিন্তাধারার সহিত মুসলমান সমাজকে পরিচিত করিবার চেষ্টা করিয়াছিলেন। ষোড়শ শতাব্দীর পূর্বে দিল্লি সম্রাটগণ হিন্দুর জ্ঞানভাণ্ডার ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবান ছিলেন না; বরং উহা নিশ্চিহ্ন করিয়া হিন্দুজাতির মেরুদণ্ড ভঙ্গ করিবার জন্য অশেষ চেষ্টা করিয়াছেন। সম্রাট আকবরের সময় হইতে এক নূতন যুগের সূচনা হইয়াছিল। তাঁহার রাজত্ব ভারতীয় সংস্কৃতির পুনরভ্যুদয়ের যুগ। হিন্দুর ধর্মসাহিত্য ও গণিতসম্বন্ধীয় পুস্তকসমূহ সংস্কৃত হইতে পারস্য ভাষায় অনুবাদ কিংবা ওইগুলির সারসঙ্কলন করিয়া মুসলমানের জ্ঞানভাণ্ডার স্থায়ীভাবে সুসমৃদ্ধ করিবার আয়োজন তিনিই করিয়াছিলেন।

    আকবরের রাজত্বে মহাভারত, রামায়ণ, অথর্ববেদ, লীলাবতী (বীজগণিত), দ্বাত্রিংশৎ পুত্তলিকা (বত্রিশ সিংহাসন) ইত্যাদির ভাবমূলক অনুবাদ হইয়াছিল। হিন্দুর ষড়দর্শন, জ্যোতিষ, পুরাণ ইত্যাদির অনুবাদ কিংবা সংক্ষিপ্তসারের সহায়তা ব্যতীত আবুল ফজলের পক্ষে ‘আইন-ই-আকবরী’ পুস্তকে উক্ত বিষয়সমূহের আলোচনা নিশ্চয়ই সম্ভবপর হয় নাই। কিন্তু শেষোক্ত পুস্তকগুলির ফার্সি অনুবাদের অস্তিত্ব এখন অনুমানের বিষয় হইয়াছে। পুণ্যশ্লোক সম্রাট আকবরের রাজনীতি, ধর্মমীমাংসা, শিক্ষানীতি, সমাজ-সংস্কার এবং জ্ঞানচর্চায় উৎসাহ প্রভৃতি সমস্ত ব্যাপারের একটি প্রশংসনীয় মূলনীতি ছিল—হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিগণের পরস্পরের ধর্ম, সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতি সুলতানী আমলের ঘৃণা ও তাচ্ছিল্যভাব দূর করিয়া অভিনব সশ্রদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টির প্রয়াস। জাহাঙ্গীর ও শাহজাহানের রাজত্বে রাজনীতিক্ষেত্রে আকবরের নীতি কথঞ্চিৎ বাধাপ্রাপ্ত হইলেও ইসলাম ও আর্য সংস্কৃতির ভাবধারাপুষ্ট যথার্থ ভারতীয় সংস্কৃতি ও সভ্যতার নবরোপিত অক্ষয়বট তাঁহাদের সযত্ন-সিঞ্চিত দাক্ষিণ্য-বারি দ্বারা পরিবর্ধিত হইতেছিল। শাহজাহানের পুত্র-চতুষ্টয়ের মধ্যে দারাশুকো প্রপিতামহ আকবরের স্বপ্ন সফল করিবার মহান উদ্দেশ্যে আত্মনিয়োগ করিয়াছিলেন। দারার পারিবারিক জীবনের সহিত তাঁহার শাস্ত্রালোচনা, ধর্মজীবন ও জ্ঞানচর্চার এবং ধর্মমতের সহিত তাঁহার রাজনীতির ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ রহিয়াছে। এইজন্য প্রথমে উহার কিঞ্চিৎ আলোচনা আবশ্যক।

    ১৬৩৩ খ্রিস্টাব্দের ১লা ফেব্রুয়ারি শুক্রবার শাহজাদা দারার সহিত তাঁহার জ্যেষ্ঠতাতপুত্রী নাদিরা বেগমের বিবাহ হইয়াছিল। ইহার এক বৎসর পরে তাঁহার একটি কন্যা জন্মিয়াছিল (১৯ জানুয়ারি, ১৬৩৪ খ্রিঃ); কিন্তু মাত্র তিন মাস পরে ওই বৎসর দিল্লি হইতে লাহোরে যাইবার সময় রমজানের ঈদের (ঈদ-উল-ফিতর) দিন মহাকাল নাদিরার ক্রোড় শূন্য করিয়া দারার প্রথম সন্তানকে হরণ করিল। উনিশ বৎসর বয়সে এই নিদারুণ শোকে শাহজাদার দেহ ও মন ভাঙিয়া পড়িয়াছিল। তিনি প্রবল জ্বর ও হৃৎকম্পে আক্রান্ত হইলেন। এই সময়ে শাহজাদা পিতার সহিত লাহোরে যাইতেছিলেন। সম্রাট অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হইয়া লাহোর হইতে হেকিম উজীর খাঁকে আনাইলেন এবং শাহজাদার শুশ্রূষার সুবিধার জন্য জাহানারা বেগমের তাঁবু দারার তাঁবুর কাছে খাটাইবার হুকুম দিলেন।

    জননীর প্রতিনিধি ভগ্নী জাহানারার স্নেহে তাঁহার ছোট ভাই-বোনেরা মায়ের শোক ভুলিয়াছিল। সকলের প্রতি সমান স্নেহশীলা হইলেও দারার প্রতি তাঁহার টান একটু বেশি ছিল। যৌবনে পদার্পণ করিলেও ভাই-বোন যাহাতে নিঃসঙ্কোচে মিলামিশা করিতে পারে, সেজন্য সম্রাট শাহজাহান দারাকে জাহানারার স্তন ধোয়া জল (স্তন্যের অভাবে) পান করাইয়া উভয়ের মধ্যে সে-যুগের প্রথানুযায়ী ধর্মের মাতা-পুত্র সম্বন্ধ স্থাপন করিয়াছিলেন। জাহানারার সান্ত্বনা-বাক্যে দারা শোকে শান্তি ও স্নেহস্পর্শে রোগমুক্ত হইলেন। মৃত্যু ও শোকের মহাশিক্ষায় উভয়ের জীবনের গতি পরিবর্তিত হইল; চিত্ত ভোগবিমুখ হইয়া বৈরাগ্যকে আশ্রয় করিল। সম্রাট শাহজাহান লাহোরে পৌঁছিয়া ৭ই এপ্রিল ও ৯ই এপ্রিল (১৬৩৪ খ্রিঃ) প্রসিদ্ধ সুফী-সাধক মিয়াঁ মীরের আস্তানায় পদার্পণ করিয়াছিলেন। এই সময় হইত মিয়াঁ মীরের প্রতি শাহজাদা ও জাহানারা অত্যন্ত আকৃষ্ট হইয়া পড়িলেন; তাঁহাদের শ্মশান বৈরাগ্য মোহমুক্ত সন্ন্যাসে পরিণত হইল। অসামান্যা রূপবতী বিদুষী জাহানারা যৌবনে যোগিনী সাজিয়া সেবাধর্ম অবলম্বন করিলেন; দারার চক্ষে বাদশাহী অপেক্ষা ফকিরিই স্থায়ী সম্পদ বলিয়া প্রতিভাত হইল। কাশ্মীর হইতে ফিরিয়া আসিয়া শাহজাহান ১৮ই ডিসেম্বর তৃতীয় বার মিয়াঁ মীরের সাক্ষাৎকার লাভ করিয়াছেন। পর বৎসর শীতকালে দারা সম্রাটের সঙ্গে লাহোরে ছিলেন; এই সময়ে (১৬৩৫ খ্রিঃ) মিয়াঁ মীর ও তাঁহার শিষ্য সম্প্রদায়ের সহিত দারার ঘনিষ্ঠতা আরও বৃদ্ধি পায়। মিয়াঁ মীরের নিকট হইতে দারা ও জাহানারার দীক্ষালাভ করিবার সৌভাগ্য ঘটে নাই। দারার পত্নী নাদিরা বেগমও মিয়াঁ মীরের প্রতি অত্যন্ত অনুরক্ত হইয়া পড়িয়াছিলেন। এবং বোধ হয় মনে মনে তাঁহাকেই গুরুরূপে বরণ করিয়াছিলেন; স্বামীর কাছে তাঁহার শেষ প্রার্থনা ছিল, যেন মিয়াঁ মীরের কবরের পার্শ্বে তাঁহার মৃতদেহ সমাহিত করা হয়। ১৬৩৫ খ্রিস্টাব্দে মিয়াঁ মীর দেহরক্ষা করেন। শাহজাদা দারার আধ্যাত্মিক জীবনের বিভিন্ন স্তরে তিনি অনেকগুলি পুস্তক ও পুস্তিকা লিখিয়াছিলেন। তাঁহার ধর্মমত ও সাধন পদ্ধতি তাঁহার রচনাবলী হইতেই সঠিক জানা যায়। অতঃপর আমরা এগুলির আলোচনা করিব।

    সফিনাৎ-উল-আউলিয়া। ——ইহা দারাশুকোর প্রথম পুস্তক। ইহার পাণ্ডুলিপি ইংলন্ড ও ভারতবর্ষের অনেক প্রসিদ্ধ পুস্তাকাগারে রক্ষিত আছে এবং নওলকিশোর প্রেস হইতে এই পুস্তকের একটি লিথো-সংস্করণ বহু বৎসর পূর্বে ছাপা হইয়াছিল। Ethe-সঙ্কলিত তালিকায় ( Catalogue of Persian Manuscripts, Vol 1, p. 274; No 647 ) উল্লিখিত পাণ্ডুলিপি অনুসারে শাহজাদার ২৫ বৎসর বয়সে ১০৪৯ হিজরীর ২৭শে রমজান তারিখে (২১ জানুয়ারি ১৬৪০ খ্রিঃ) এই পুস্তক রচনা সমাপ্ত হইয়াছিল।* হজরত মহম্মদ, চারি খলিফা এবং দ্বাদশ ইমাম হইতে আরম্ভ করিয়া শাহজাদার সমকালীন মিয়া মীর পর্যন্ত ৪১১ জন প্রসিদ্ধ ধর্মগুরু ও সুফী সাধক-সাধিকার অতি সংক্ষিপ্ত পরিচয়––অধিকাংশ স্থলে কেবল জন্ম-মৃত্যুর তারিখ—এই পুস্তকে নিবদ্ধ হইয়াছে। ফরিদউদ্দীন আক্তর রচিত তজকিরাৎ- উল-আউলিয়া এবং অন্যান্য আউলিয়া জীবনী সংগ্রহ এবং হজরত ও খলিফাগণের সমকালীন ইতিহাস হইতে শাহজাদা তাঁহার পুস্তকের উপাদান সংগ্রহ করিয়াছেন। ইহা একাধারে দারাশুকোর ঐতিহাসিক গবেষণা এবং নিজের অধ্যাত্মজীবনের প্রাথমিক ইতিবৃত্ত। তারিখ অনুসারে জীবনীসমূহ পর পর সাজানো হইয়াছে। এই পুস্তকের বিশেষ সার্থকতা ও বৈশিষ্ট্য—যেখানে তারিখ সম্বন্ধে মতভেদ আছে, সেখানে মতান্তরে অমুক তারিখ যথারীতি সন্নিবিষ্ট করা হইয়াছে। হজরতের জন্ম তারিখ সম্বন্ধে মতভেদ উল্লেখ করিয়া তিনি সাহস ও ঐতিহাসিক সত্যনিষ্ঠার পরিচয় দিয়াছেন। সুফী সাধিকাগণের জীবনী আলোচনায় তাঁহাদের কৃচ্ছ্রসাধনার উল্লেখ পাওয়া যায়। মিশরের একজন নারী-উপাসিকা নাকি এক জায়গায় শীতগ্রীষ্মে অবিচলিত ভাবে এক স্থানে ত্রিশ বৎসর দাঁড়াইয়া ছিলেন এবং পঁচিশ বৎসর পর্যন্ত আহার-নিদ্রা পরিত্যাগ করিয়া ছিলেন। এই গ্রন্থ রচনার সময় মিয়া মীরের ভগ্নী বিবি জামাল খাতুন সিবিস্তানে (সিন্ধুনদের পশ্চিমে) একজন পুণ্যশীলা সাধিকা হিসাবে প্রসিদ্ধিলাভ করিয়াছিলেন; তখন তাঁহার বয়স ৬০ বৎসর। ‘সফিনাৎ-উল-আউলিয়া’র ভূমিকাই** ইহার সর্বাপেক্ষা প্রয়োজনীয় ও মনোরম অংশ। শাহজাদা লিখিয়া গিয়াছেন, এই গ্রন্থ আরম্ভ করিবার পূর্বে যখন তিনি সুফী মহাপুরুষগণের জীবনীধ্যানে তন্ময় ছিলেন, তখন একদিন তাঁহার স্বপ্নপ্রয়াণ হইয়াছিল। তিনি দেখিলেন, এক উচ্চ স্থানে হজরত রসুলাল্লা দাঁড়াইয়া আছেন; ঠিক তাঁহার নীচে প্রথম চারি খলিফা––আবু বকর, ওমর, ওসমান ও আলী সমব্যবধানে দণ্ডায়মান। ‘সফিনাৎ-উল-আউলিয়া’ রচনার সময় পর্যন্ত তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে সুফী সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রবেশ করেন নাই; সত্যানুসন্ধানের পরিশ্রম ও কষ্টের মধ্যে এ গ্রন্থ রচিত হইয়াছিল; তখনও তাঁহার তত্ত্বজ্ঞান লাভ হয় নাই। সৎসঙ্গের মাহাত্ম্য, ফকিরদের বিভিন্ন সাধনার ধারা, আদর্শ ও উপদেশ, কোন্ অবস্থায় এবং কি ভাবে মহাপুরুষগণকে চেনা যায় এবং তাঁহাদের সাক্ষাৎকার লাভ হইলে কথোপকথনের সময় কোন্ কোন্ বিষয়ে সাবধান হওয়া উচিত—এ সমস্ত বিষয়ের চমৎকার আলোচনা এই পুস্তকের ভূমিকায় আমরা দেখিতে পাই। এই ভূমিকায় মুসলমান সাধকগণের যে সমস্ত উপদেশ শাহজাদা সংগ্রহ করিয়াছেন উহার প্রভাব তাঁহার দৈনন্দিন জীবনে বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়। দারা পাগল খুঁজিয়া বেড়াইতেন এবং তাঁহাদের সাহচর্য ভালোবাসিতেন— এইগুলি অবশ্য ভাবের পাগল; কেননা মহাপুরুষেরা অনেক সময় স্বেচ্ছায় পাগল সাজিয়া জনসমাজে আত্মগোপন করিয়া থাকেন। তিনি প্রার্থী ও ভিক্ষুককে কোনোদিন বিমুখ করে নাই; কারণ কৃপণ কোনোদিন নির্মল ভগবৎপ্রেম কিংবা তত্ত্বজ্ঞানের অধিকারী হইতে পারে না। প্রাণদণ্ডের পূর্বে অত্যন্ত দীনবেশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় যখন শোভাযাত্রা সহকারে দিল্লির রাজপথ দিয়া তাঁহাকে লইয়া যাওয়া হইতেছিল, ফকিরদের চিৎকারে স্থির থাকিতে না পারিয়া শাহজাদা নিজের ছোঁড়া ময়লা শালখানা তাহাদিগকে দান করিয়াছিলেন। দুনিয়াদারি কাহাকে বলে এ সম্বন্ধে তিনি একটি চমৎকার কথা এই পুস্তকের ভূমিকায় উদ্ধৃত করিয়াছেন—

    Chist duniya az Khuda ghafil shudan;
    Ne lebas wa naqra wa farzand wa zan.

    —সংসারাসক্তি কি? পোশাক, ধনদৌলত কিংবা স্ত্রীপুত্র নয়; খোদার এবাদতে গাফেলী করাই দুনিয়াদারি।

    এখানে ফকিরি ও আমিরির সামঞ্জস্য-সমস্যার সমাধান করা হইয়াছে। অবশিষ্ট জীবনে শাহজাদা এই পন্থাই অনুসরণ করিয়াছিলেন।

    [* আমার ইংরেজি Dara Shukoh পুস্তকে (পৃ. ১৪০ ) সফিনাৎ-উল-আউলিয়া’র সমাপ্তিকাল ১৬৩৯ খ্রিঃ বলিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে। আমার পুস্তকের অন্যত্র (পৃ. ১০৩) ‘সফিনাৎ ‘ রচনার তারিখ ১১ই জানুয়ারি ১৬৪০ খ্রিঃ দেওয়া হইয়াছে। মুসলমানী তারিখ ২৭শে রমজান ১০৬৯ হিজরী। নিউ স্টাইল এবং ওল্ড স্টাইলে ইংরেজি তারিখ গণনা করিলে কিছু তফাত হয়। সার যদুনাথের History of Aurangzib (i. 271, 2nd ed.) পুস্তকে ২১ স্থলে ১১ই জানুয়ারি লিখিত হইয়াছে।

    ** ইহার কিয়দংশ রায় বাহাদুর শ্রীশচন্দ্র বসু কর্তৃক অনূদিত (পাণিনি আপিস হইতে প্রকাশিত) দারাশুকোর ‘রিসালা-ই-হকমা’র পরিশিষ্ট হিসাবে ইংরেজিতে মোটামুটি অনুবাদ করা হইয়াছে।]

    সকিনাৎ-উল-আউলিয়া। -এই পুস্তকের ভূমিকায় প্রকাশ, শাহজাদা দারাশুকো পঁচিশ বৎসর বয়সে (অর্থাৎ যে বৎসর তিনি প্রথমোক্ত গ্রন্থ রচনা সমাপ্ত করেন) পরলোকগত পীর মিয়াঁ মীরের অন্যতম শিষ্য মহম্মদ শাহ লিসান্-উল্লার কাছে দীক্ষাগ্রহণ করিয়া কাদেরিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত হইয়াছিলেন। দারার গুরু সাধারণত মৌলানা বদর্শী (বদশান নিবাসী) নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁহার উপাধি ছিল ‘লিসান্ উল্লা’ অর্থাৎ খোদাতালার জিহ্বা—পণ্ডিতদের ‘সরস্বতী’ উপাধির তুল্য। মৌলানা শাহ কাশ্মীরেই তাঁহার খাকা বা মঠ স্থাপন করিয়াছিলেন। দরবারী ইতিহাস ‘বাদশা-নামা’ হইতে আমরা জানিতে পারি, সম্রাটের সঙ্গে শাহজাদা ১৬৩৯ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাস হইতে ১৬৪০ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত লাহোরে এবং ২২শে মার্চ হইতে ১৪ই সেপ্টেম্বর (১৬৪০ খ্রিঃ) পর্যন্ত কাশ্মীরে ছিলেন। সুতরাং লাহোরেই তাঁহার প্রথম পুস্তক সমাপ্ত হয় এবং কাশ্মীরে অবস্থানকালে তিনি দীক্ষাগ্রহণ করেন। ভূমিকায় শাহজাদা লিখিয়াছেন, ক্ষমতা ও অতুল পার্থিব ঐশ্বর্যের অধিকারী হইয়াও গুরুর কৃপায় তাঁহার মন ও মেজাজ খাঁটি দরবেশের মতো হইয়াছে। ১০৫২ হিজরী, অর্থাৎ ১৬৪২ খ্রিস্টাব্দে তিনি এই গ্রন্থ রচনা সমাপ্ত করেন।

    ‘সকিনাৎ-উল-আউলিয়া’র হস্তলিখিত পুথি ইন্ডিয়া অফিস লাইব্রেরি (Ethe, Vol I, No. Or, 223 ) এবং খুদা বখ্শ ওরিয়েন্টাল পাবলিক লাইব্রেরিতে রক্ষিত আছে। এই পুস্তকের এ-যাবৎ কোনও ইংরেজি বা বাংলা অনুবাদ হয় নাই। শাহজাদা দারাশুকোর দাদা-পীর (গুরুর গুরু) মিয়াঁ মীরের জীবন বৃত্তান্ত এবং তাঁহার মুরীদ (শিষ্য)-গণের সংক্ষিপ্ত পরিচয় এই গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে। গ্রন্থকার প্রথমে তাঁহার স্ব সম্প্রদায় কাদেরিয়া পন্থীদের “সিলসিলা” (গুরুপরম্পরা কুলজী), চিন্তিয়া নকশবন্দীয়া ইত্যাদি সম্প্রদায়ের সিলসিলা হইতে যে শ্রেষ্ঠতর, ইহাই প্রমাণ করিবার চেষ্টা করিয়াছেন। মিয়াঁ মীরের আসল নাম মীর মহম্মদ; তিনি ৯৩৮ হিজরীতে সিন্ধু দেশের অন্তর্গত সিবিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার পিতার নাম কাজী সৈন্দতা (স্বামীদত্ত?), প্রপিতামহ কাজী কালন্দর। শাহজাদা ইতিহাসকে জবাই করিয়া স্বামীদত্তের পুত্র মিয়া মীরের কুলজী একেবারে খলিফা ওমর পর্যন্ত টানিয়া তুলিয়াছেন। আমাদের মনে হয়, তিনি মুসলমান ধর্মে দীক্ষিত কোনও হিন্দু পরিবারের সন্তান; নামের শেষে “ফরুকী” থাকিলেই ওমরের অওলাদ হয় না। বেচারাম কিংবা ছেদিলালের বংশধরেরাও উদার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করিয়া সিদ্দিকী (প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিক) কিংবা ফরুকী হইতে পারে; শেখ সৈয়দের তো কথাই উঠে না। মিয়াঁ মীরের শিষ্যদিগকে গ্রন্থকার দুই ভাগে (ফিরকা) বিভক্ত করিয়াছেন, যাঁহারা ‘সকিনাৎ- উল-আউলিয়া’ রচনার পূর্বে মারা গিয়াছেন এবং যাঁহারা সমাপ্তির তারিখ পর্যন্ত বাঁচিয়া ছিলেন। প্রথম ফিরকার সর্বপ্রথম স্থান সুফী নিয়ামৎ-উল্লা সরহিন্দিকে (সরহিন্দ শহরবাসী) দেওয়া হইয়াছে; দ্বিতীয় ফিরকার প্রথম স্থানে আছেন মৌলানা শাহ লিসান্-উল্লা।

    ‘সকিনাৎ-উল-আউলিয়া’ পুস্তকে তাঁহার নিজ গুরু-সম্প্রদায় অর্থাৎ কাদেরিয়া শেখদের অলৌকিক কার্যাবলী, তাঁহাদের ধ্যানধারণা, সাধনার বিভিন্ন স্তর বা মোকামের বিষয় আলোচনা করিয়াছেন। পুস্তকখানির কোনও ইংরেজি, উর্দু কিংবা বাংলা অনুবাদ হয় নাই। বাংলাদেশে কাদেরিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত মুসলমান সংখ্যায় সর্বাপেক্ষা বেশি। দারার এই পুস্তকখানির বঙ্গানুবাদ হইলে ‘খোদা-প্রাপ্তিতত্ত্ব’ ইত্যাদি পুস্তকের ন্যায় মুসলমান সমাজে বিশেষ সমাদৃত হইবে।

    রিসালা-ই-হমা (The Compass of Truth) শাহজাদা দারা ধর্মজীবনের সোপান অতিক্রম করিবার পর এই পুস্তিকা রচনা করিয়াছিলেন। ইহার ভূমিকায় তিনি লিখিয়াছেন—১০৫৫ হিজরীর ১৭ই* রজব শুক্রবার রাত্রিকালে তিনি এই পুস্তক লিখিবার জন্য খোদার হুকুম পাইয়াছিলেন। নিম্নলিখিত কবিতা দ্বারা তিনি পুস্তকের সমাপ্তি এবং পুস্তক রচনায় তাঁহার নিজ অভিপ্রায় নিবেদন করিয়াছেন–

    ঈ / রিসালা-ই-হকমা / বাশদ্ / তামাম্;
    দর্ / হাজার ওয়া পঞ্জা ওয়া যশ্ / শুদ্ / তামাম।
    হস্ত / আজ / কাদের। মদাঁ / আজ / কাদেরী;
    আঁচে / মা / গোপ্তেম্ / ফাফেহেম্ / ওয়া / আস্ সালাম্।

    —১০৫৬ হিজরীতে সত্য-স্বরূপ খোদাতালার পথে দিকনির্ণয় যন্ত্রস্বরূপ এই পুস্তিকা- রিসালা-ই-হনুমা রচনা সমাপ্ত হইল। ইহার রচয়িতা একজন সামান্য কাদেরী বলিয়া মনে করিও না; বস্তুতপক্ষে স্বয়ং যিনি কাদের, সর্বশক্তিমান আল্লা, এই পুস্তকে তাঁহারই অনুপ্রেরিত বাণী (এল্হাম) বলিয়া জানিবে।

    [* নওলকিশোর প্রেস হইতে প্রকাশিত সংস্করণে ৮ই রজব লেখা আছে। কিন্তু ওই তারিখ বুধবার ছিল; সুতরাং সম্ভবত ১৭ই রজব হইবে।]

    কাদেরিয়া তরিকা বা সাধনা পদ্ধতিকে শাহজাদা কেন সর্বাপেক্ষা সুগম ও শ্রেষ্ঠ মনে করেন, তাহা তিনি বিশদভাবে বুঝাইয়া দিয়াছেন। কাদেরিয়ার রাস্তা “বৈরাগ্যসাধনে মুক্তি”র পথ নয়; এই পথে কঠোর সন্ন্যাসের অগ্নিপরীক্ষা নাই; প্রেম-প্রীতি, দিলদারি ও আয়েস, অনাবিল ও অখণ্ড আনন্দ এই মার্গাবলম্বীর নিত্যসম্পদ। মৌলানা জালালউদ্দিন রুমী বলিয়াছেন-খোদাতালা তোমাকে এই পথ দিয়া আনিয়াছেন, অপরাধীর মতো তোমাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়; পরন্তু অতিথির মতো তোমার উপর মেহেমানির মেহেরবানি বর্ষণ করাই তাঁহার অভিপ্রায়। এই পুস্তকের চারি অধ্যায়ে সুফীদিগের কল্পিত নাসুৎ (স্থূল), মালাকুত্ (স্বপ্নময়), জাবরুৎ বা স্থির নির্বিকল্প, এই তিন আলম বা জগৎ এবং সাধকের অবস্থাত্রয়, মুসলমানী প্রাণায়াম (রেচন-পূরক), শরীরস্থ ত্রিচক্র (ষট্‌চক্র নয়) ইত্যাদি আলোচনা করিয়াছেন।

    বস্তুতপক্ষে শাহজাদা দারার জীবনাদর্শ, মন ও চিন্তাধারা, সংস্কার ও বিশ্বাসপ্রবণতা, অসংযত উৎসাহ ও আশাবাদিতা (optimism), সদ্য যোগরহস্য -প্রাপ্তিতে বালকের নূতন জামা কিংবা সুন্দর খেলনা প্রাপ্তির মতো অধীরতা ও আনন্দের আতিশয্য ইত্যাদি দোষগুণ এই ক্ষুদ্র পুস্তিকায় সঠিক প্রতিবিম্বিত হইয়াছে। তিনি মহম্মদের সশরীরে নিমেষের মধ্যে সপ্তম স্বর্গে আরোহণ, খোদাতালার সহিত সাক্ষাৎ এবং পুনরায় নিজের গরম লেপের ভিতর প্রবেশ — যাহাকে মুসলমানেরা “মিরাজ-ই-জিমানী” বলে, উহার এক অভিনব ব্যাখ্যা ‘রিসালা-ই-হনুমা’ পুস্তকে দিয়াছেন। হজরত স্থূল শরীরে, কি সূক্ষ্ম শরীরে এই কার্য করিয়াছিলেন, ইহা লইয়া মুসলমান শাস্ত্রে বিস্তর তর্কবিতর্ক আছে। মোল্লাদের মতে “মিহরাজ্-ই-জিস্‌মানী” অক্ষরে অক্ষরে সত্য; ইহা মানিয়া চলা ইমানের অঙ্গস্বরূপ; যাহারা অন্যরূপ বিশ্বাস করে, তাহার নাস্তিক তার্কিক (জিন্দিক) কিংবা ধর্মদ্রোহী স্বাধীনচিন্তাপন্থী মোতাজেলা। একদিন আকবরের দরবারে এই লইয়া পণ্ডিতগণের মধ্যে মহাতর্ক চলিতেছিল; এমন সময় বাদশা এক পায়ের উপর খাড়া হইয়া বলিলেন, এ অবস্থায় আমি আমার অন্য পা-খানি মাটি হইতে উঠাইতে পারি না; তবে কেমন করিয়া হজরত বেমালুম নিজের দেহখানি হাওয়ায় উড়াইয়া মিরাজ করিলেন। বাদশা ভুলিয়া গিয়াছিলেন, তিনি হিন্দুস্থানের মালিক হইলেও হজরত রসুলাল্লার সমপর্যায়ে উঠিতে পারেন নাই। সেইজন্য তাঁহারই প্রপৌত্র হজরতের পক্ষে এ কাজ করা যে সম্ভব ছিল, সে কথা প্রমাণ করিতে চেষ্টা করিয়াছেন। দারা লিখিয়াছেন, হজরত হারার গুহায় বসিয়া যোগাভ্যাস ও প্রাণায়াম করার দরুন তাঁহার শরীরের ধর্মই অন্য রকম হইয়াছিল; প্রমাণ––হজরত রসুলাল্লার দেহের উপর কখনও মাছি বসে নাই কিংবা মাটিতে তাঁহার ছায়া পড়ে নাই। ইহার কারণ––মাটি, জল, আগুন ও হাওয়া (মুসলমানেরা আকাশকে স্বীকার করে না), এই চারি উপাদানে প্রত্যেক জীবের দেহ গঠিত হইলেও যোগাভ্যাসের দ্বারা মহাপুরুষগণ স্থূল দেহকে পরিবর্তিত করিয়া বায়ুধর্মী অথচ পরিদৃশ্যমান শরীর লাভ করিতে পারেন। দারাকে অনেকে পাগল মনে করিবেন, কিন্তু সেকালের পক্ষে দারার যুক্তি আজকালকার একাদশী কিংবা টিকির বৈজ্ঞানিক ভাষ্যকারগণের যুক্তি অপেক্ষা দৃঢ়তর বলিয়া গৃহীত হইবার যোগ্য।

    এই পুস্তিকায় দারা একরকম ধ্যানযোগের উল্লেখ করিয়াছেন; ইহাকে সুলতান- উল্-আজাকের অর্থাৎ “জেকেরের সুলতান” বা শ্রেষ্ঠ বলা হইয়াছে। এই যোগের দ্বারা মানুষ অলৌকিক শক্তি লাভ করে; সে অনাহত ধ্বনি শুনিতে পায়; বাজারের গোলমালের মধ্যেও সাধকের কানে ইহা ভ্রমরগুঞ্জন কিংবা পিপীলিকাশ্রেণীর চলাচলের শব্দের ন্যায় ধ্বনিত হয়। শাহজাদা লিখিয়াছেন, মিয়াজী (মিয়া মীর) খোলাখুলি ভাবে এই যোগের রহস্য তাঁহার অতি অন্তরঙ্গ মুরীদ (শিষ্য)-গণের কাছেও ব্যক্ত করেন নাই। হজরত আখুন্দ (দারার গুরু মৌলানা শাহ লিসানুল্লা) মিয়াঁ মীরের নিকট হইতে ইহার ইশারা পাইয়া এক বৎসর অভ্যাসের পর সফলতা লাভ করিয়াছিলেন। তাঁহার গুরুও দারাকে উপদেশ মূলক গল্পচ্ছলে এই যোগের রহস্য ব্যক্ত করিয়াছিলেন। কিন্তু শাহজাদা ছয় মাসের মধ্যেই ইহার গুপ্ত তত্ত্ব আয়ত্ত করিয়াছিলেন। তিনি লিখিয়াছেন, “আমি (আমার গুরু অপেক্ষা) ইহা অধিকতর সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করিয়াছি; এমন কি যাহাদের কাছে আমি ইহার কথা বলিয়াছি, তাহারা তিন-চারি দিনের মধ্যেই ফল পাইয়াছে। ইহার কারণ, আমার পীর এবং দাদাপীর যাহা গল্প কিংবা ইশারার ছলে শিক্ষা দিয়াছিলেন, আমি তাহা পরিষ্কারভাবে কোনও প্রকার অস্পষ্টতার পর্দায় কিছু গোপন না করিয়া বলিয়াছি।

    .

    আমরা শাহজাদার সত্য ও সরলতা এবং প্রাপ্ত বিদ্যা অকুণ্ঠিতভাবে মনুষ্য সমাজকে দান করিবার প্রশংসা করিলেও তাঁহার লোকচরিত্রজ্ঞান ও সহজাত সাংসারিক বুদ্ধি এবং অধিকারী-অনধিকারী বিচারের উপেক্ষাকে প্রশংসা করিতে পারি না। উদ্দেশ্য সাধু হইলেও তিনি বুদ্ধিমানের মতো কাজ করেন নাই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleক্যাপিট্যাল / ডাস কাপিটাল – কার্ল মার্ক্স (অনুবাদ : পীযুষ দাসগুপ্ত)
    Next Article আলীবর্দী ও তার সময় – কালিকিঙ্কর দত্ত
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }