Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প905 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হারানো জিনিস – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    হারানো জিনিস

    নস্যির কৌটোটা কোথায় যে রাখলেন সুধন্য, কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছেন না। নাক দিয়ে জল আসছে, সুড়সুড় করছে, ভারী অস্বস্তি। সম্ভব অসম্ভব সব জায়গাতেই খুঁজেছেন। দু-একবার মিনমিন করে বউ হেমন্তবালাকেও জিগ্যেস করেছেন, জবাব পাওয়া যায়নি। হেমন্তবালা রেগে আছেন, ছোট মেয়ে কুঁচি পুরোনো তেঁতুলের শেষ একটা ডেলাও চুরি করে নিয়ে গেছে। পুরোনো। তেঁতুলের একটা মাখা করতে গিয়ে হেমন্তবালা ডেলাটুকু বের করে ধনেপাতা, গুড়, লংকা সব গুছিয়ে রেখেছিলেন। পুরোনো তেঁতুলের এই মাখাটা তাঁর বড় প্রিয়। সবই পড়ে আছে। ধনেপাতা, লংকা, গুড়, কেবল তেঁতুলটুকুই নেই। একটু আগে ফ্রকের কোঁচড় ভরে মুড়ি নিয়ে গেল রান্নাঘর থেকে ওই হতচ্ছাড়া মেয়েটা। ওরই কাজ। সেই থেকে হেমন্তবালা কারও কথার উত্তর দিচ্ছেন না।

    সুধন্যও তেমন সাহস পাচ্ছেন না বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করতে। যৌবনকালটা এই নস্যি নিয়ে বড় অশান্তি গেছে।

    ফুলশয্যার রাতে বউয়ের সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের প্রাক্কালে সুধন্য এক টিপ প্রচণ্ড নস্যি নিয়ে স্নায়ু ঠিক রাখার চেষ্টা করেছিলেন। নতুন বউ হেমন্তবালা প্রথম কাছে এসে খুব অবাক হয়ে বলল, তুমি নস্যি নাও?

    লজ্জিত সুধন্য বললেন, নিই মাঝে-মাঝে।

    —এ মা গো। ননাংরা জিনিস। সিগারেট খেতে পারো না?

    সুধন্য নিভে গিয়েছিলেন। নতুন বউ নস্যি ঘেন্না পায়, কিন্তু তিনি করেন কী! ইস্কুলের নীচু ক্লাস থেকে নেশা ছাড়ানোও যায় না।

    তবুনতুন বউয়ের ঘেন্না দেখে বিয়ের পর-পর নস্যি ছেড়ে সিগারেট ধরেন। কিন্তু তাতে চোখে জল আসে, গলা খুসখুস করে। নেশা আসে না। উপরন্তু নস্যির অভাবে সারাদিন নাকে জল আসে, হাঁচি আসে, মাথাটা ঘোলাটে লাগে। এক টিপ নস্যির জন্য প্রাণ আনচান করে।

    হেমন্তবালা বলতেন, নস্যি নেওয়া পুরুষ বড় বিশ্রী।

    সুধন্যর বিশ্রী হওয়ার ইচ্ছে ছিল না। তবু পুরুষকার দিয়ে নস্যির ওপর জয়ী হওয়া যায়নি। তাঁর অবস্থা দেখে অবশেষে তাঁর মা তাঁকে ডেকে বলেন, বাবা, নস্যি না নিলে তুই কি বাঁচবি? সারাদিন তোর মুখচোখ কেমনধারা জলেডোবা মানুষের মতো দেখায় যে! নতুন বউ রাগ করে তো করুক, মেয়েরা বড় ট্যাটন হয়। ওসব মন বুঝে অত চলতে নেই। পেয়ে বসবে। তুই পুরুষ, পুরুষের মতো হ। নস্যি ধর আবার, নইলে শরীর পাত হয়ে যাবে। নেশা কি সহজে ছাড়া যায়?

    মায়ের আদেশে সুধন্য আবার নস্যি ধরেন। নস্যি ধরে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন বটে, কিন্তু হেমন্তবালা এক সপ্তাহ কথা বললেন না। তারপর যখন বললেন সেই কথাও আগ্নেয়গিরির মুখ। থেকে বেরিয়ে আসা লাভা ছাড়া কিছু নয়। তবু সুধন্য যেমন নস্যি ছাড়তে পারলেন না, তেমনি হেমন্তবালাও স্বামীকে ছাড়তে পারলেন না। তবে নস্যি তাদের বিবাহিত জীবনের একটা স্থায়ী অশান্তির কারণ হয়ে রইল। পরে হেমন্তবালা সুধন্যর নস্যির ন্যাকড়াও কেচে দিয়েছেন, তবু এই বুড়ো বয়সেও সুধন্যকে নস্যির জন্য কথা শুনতে হয়। রাগ হলে হেমন্তবালা এখনও সুধন্যর নস্যির কৌটো বাইরে ছুড়ে ফেলে দেন। কতবার নতুন ডিবে কিনতে হয়েছে।

    আজ সকালেও নস্যি নিয়েছেন বেশ কয়েকবার। আজকাল কিছু বেশি নেন। সম্প্রতি চাকরি থেকে অবসর পেয়েছেন, হাতে কাজ নেই, ফালতু দিন, ফালতু সব সময়। এত ছুটি কাটাবেন কী করে তাই ভাবতে-ভাবতে টিপের-পর-টিপ নস্যি নিয়ে নেন। হিতাকাঙ্ক্ষীরা বলে—কপালে নস্যি জমে নাকি মানুষ মরে যায়!

    সুধন্য ভাবেন—তা হবে। সিগারেট, তামাকপাতায় ক্যানসার হয়। মদে লিভার সিরোসিস হয়। আফিং খেলেও কিছু-না-কিছু হয়। নেশা করলে ওসব তো আছেই।

    নস্যির কৌটোটা খুঁজে না পেয়ে খুবই অস্বস্তি হচ্ছিল। বিছানার তোশক উলটে দেখলেন, খাটের তলা খুঁজলেন, তাকটাকগুলো সবই খুঁজলেন। কোথাও নেই। একটা জীবন ধরে নিজের একটু বাড়ি করতে পেরেছেন তিনি। মফসসল শহর বলে জমির দাম বেশি লাগেনি, চুন-সুরকির গাঁথুনি দেওয়ার খরচ কমই হয়েছে। দু-খানা মাত্র ঘর মাঝখানে একটু উঠোন, ওধারে রান্না আর স্নান ইত্যাদির ঘর। কিছুই না। তবু খুব কষ্ট গেছে এটুকু করতেই। দেওয়াল ওঠে তো ছাদ হয় না, ছাদ হল তো পলেস্তারা বাকি থাকল, সেটা করলেন তো বারান্দা সিমেন্ট করা বাকি থাকল। সে একটা লড়াই গেছে। লড়াই যখন শেষ হয়েছে তখন বয়সও শেষ। বাড়ি ভোগ করার বাকি আর অল্প দিনই। তবু একটু তৃপ্তি, শেষ তো হল। সারা জীবনে নিজের বাড়ি’ বলে বলার মতো কিছু

    তো হল।

    অন্যমনস্কভাবে ডিবেটা খুঁজতে-খুঁজতে বাইরের দিককার ঘরটায় এলেন। জোড়া বিছানায় বুঁচি আর তার দিদি শেফালি শোয়। দুটোই মেয়ে সুধন্যর। বেশি বয়সে বেশ পরপর দুটো মেয়ে হল। বিয়ে দেওয়ার সময় পাওয়া যাবে কি? বড় মেয়ে শেফালির বিশ বছর বয়স চলছে, বঁচির মোটে বারো। শেফালির জন্য তোড়জোড় করতে হয়। হাত খালি বলে তেমন উৎসাহ পান না। মেয়ে তেমন সুন্দর নয়, যদিও খুবই আদরের।

    এ-ঘরটায় পড়ার টেবিল রয়েছে কেরোসিন কাঠের। সস্তা আলনা, বইয়ের র্যাক। এসো-জন বোসো-জনের জন্য কয়েকখানা টিনের চেয়ার। তাতে শেফালি আর হেমন্তবালার নিজেদের হাতে কাজ করা সব ঢাকনা। দেওয়ালে রবি ঠাকুর আর বালগোপালের ছবি। পড়ার টেবিলের ওপর একটা সস্তা ট্রানজিস্টার রেডিও, নেভানো হারিকেন, ছড়ানো বইপত্র। সবই হাতড়ে দেখেছেন সুধন্য, তবু আর-একবার দেখলেন। হারিকেনের তলায় নস্যির ডিবে থাকার কথা নয়। তবু সন্দেহ থাকে কেন ভেবে সুধন্য হারিকেনের তলাও দেখলেন।

    নাকটা সুড়সুড় করছে, জল আসছে। দীর্ঘ চল্লিশ বছরেরও বেশি কালের নেশা। নস্যি না হলে পাগল-পাগল লাগে।

    দেওয়ালের পেরেকে একটা লাল ভ্যানিটি ব্যাগ ঝুলছে। শেফালির। আজকাল গরিবের মেয়েদেরও এসব থাকে—ভ্যানিটি ব্যাগ, লিপস্টিক, ঘড়ি। তাঁর মেয়েরও আছে। একটা জীবন। ধরে ল্যান্ড সেটেলমেন্ট অফিসের কেরানি ছিলেন, বুড়ো বয়সে রিটায়ারমেন্টের আগে কিছুদিনের জন্য বড়বাবু হয়েছিলেন। কিন্তু নিজেরই পুরোনো অফিসের বড়বাবু হওয়ায় পুরোনো সহকর্মীরা তেমন মানসৎমান করত না, মানতও না খুব একটা। তবু বড়বাবু হয়েছিলেন। কিন্তু গা থেকে গরিব-গরিব গন্ধটা আর গেল না। নস্যির গুঁড়োর মতো লেগে রইল গায়ে। কিন্তু মেয়ে বউকে কষ্ট দেননি তেমন। যথাসাধ্য অভাব মিটিয়ে গেছেন। যতদিন মা বেঁচেছিলেন ততদিন মাকেও সুখেই রেখেছেন। ধকল যা কিছু নিজের ওপর দিয়ে গেছে।

    সেটেলমেন্ট অফিসের লোকদের কিছু উপরি আয় থাকে। সে তেমন কিছু নয়। সুধন্যরও ছিল। এ-বাড়ির গাঁথুনিতে সবই গাঁথা হয়ে গেছে। হাতে তেমন কিছু নেই।

    ভ্যানিটি ব্যাগের মধ্যে ডিবেটার যাওয়ার কথা নয়। তবু তিনি শেফালির ব্যাগটা পেরেক থেকে নামিয়ে আনলেন। কিন্তু খুলতে পারছিলেন না। এ সময়টায় শেফালি তার কোন বান্ধবীর বাড়িতে পড়া বুঝতে যায়। পার্ট টু পরীক্ষা দিচ্ছে এবার। ধারেকাছে কেউ নেই। ব্যাগটার মুখ এমন হাঁসকল দিয়ে লাগানো যে নানা রকম টিপ আর চাপ দিয়েও অনেকক্ষণ খুলতে পারলেন না।

    তারপর হড়াক করে টান দিতেই সহজে খুলে গেল। ভিতরে বেশি কিছু নেই। কয়েকটা খুচরো পয়সা, লিপস্টিক আর খুদে গোল আয়না, কলেজের মাইনের রসিদ বই, পেন, ভুরু আঁকার পেনসিল, একজোড়া গগলস। ডিবেটা নেই। কলেজের মাইনের রসিদ-বইটার ভিতর থেকে একটা ভাঁজ করা চিঠি বেরিয়ে আছে।

    আজকাল সময় কাটে না। তাই চিঠিটা দেখে খুশি হলেন সুধন্য। মেয়ে চিঠিপত্র পাচ্ছে তাহলে! দেখতে ভালো নয় মেয়েটা, চিঠি পাওয়াটা সুলক্ষণ। ছেলেটা যদি জাতের হয় তো বরং উৎসাহই দেবেন!

    চিঠিটা খুলে চশমা এঁটে দেখে একটু হতাশ হলেন। প্রেমপত্র নয়। আবার নয়ও বলা যায় না। অমল নামে একটা ছেলের চিঠি। সে পলাশি ছেড়ে কলকাতায় চলে গেছে। সেখান থেকে পলাশির জন্য মন-কেমন-করা চিঠিতে নানা জনের খবর জানতে চেয়েছে। কেষ্টনগর কলেজে একসঙ্গে পড়ত বোধ হয় একসময়ে। চিঠির শেষে ‘ভালোবাসা’র বদলে ‘প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে। নীরস চিঠি। বানান ভুলও অনেক চোখে পড়ে। বাঙাল ছেলে বোধহয়। বাড়ি বানান ‘বারি’ লিখেছে।

    যথাস্থানে চিঠিটা রেখে দিলেন। ডিবেটা পাওয়া গেল না। কোথায় যে নিজেই রাখলেন, বা হেমন্তবালা ফেলে দিলেন—তা বোঝা যাচ্ছে না। আবার নতুন ডিবে আর নস্যি কিনতে বাজার পর্যন্ত ধাওয়া করা বড় ঝামেলার ব্যাপার।

    পলাশিতে বাড়ি করাটাই কি ভুল হয়েছিল? এ অঞ্চলটা আসল পলাশি নয়, এর নাম মীরবাজার, আসল পলাশি অনেকটা দূর, সেখানে চিনিকল হয়েছে, আশেপাশে আখের চাষ হয়। সিরাজদ্দৌল্লার যুদ্ধক্ষেত্র এখন মাঠ জঙ্গল পড়ে আছে। সে আমবাগানও নেই। তবু পলাশি নামটা বড় বেশি ইতিহাসপ্রসিদ্ধ। কিন্তু স্টেশনের কাছে এই মীরবাজারও সেই আদ্যিকালে পড়ে আছে। কলকাতা চার ঘণ্টার পথ লালগোলা প্যাসেঞ্জারে। কেষ্টনগর না গেলে ভালো জিনিস পাওয়া মুশকিল। কলেজও কেষ্টনগরে। সেখানেই চাকরি করতেন সুধন্য। ত্রিশ টাকায় ঘর ভাড়া করে থাকতেন। তারপর বন্ধু সুধীর বাঁড়ুজ্যের পাল্লায় পড়ে মীরবাজারে বাড়ির জন্য জমি কিনলেন। কোনও মানে হয় না। কতগুলো টাকা বাড়িটায় আটকে রইল। কেউ-কেউ পরামর্শ দিয়েছিল আরও ক’খানা ঘর তুলে ভাড়া দিতে। সেটা করেননি ভালোই করেছেন। কারণ ভাড়া নেওয়ার লোক জুটত না। মীরবাজারে কে আর থাকতে আসবে? তাই ভাবেন বাড়িটা করাই ভুল হয়েছিল। ত্রিশ টাকা করে বছরে তিনশো ষাট টাকা টেনে গেলেও হাতের পাত্রে কিছু থাকত, শেফালির বিয়েটা দিতে পারতেন; বঁচিরও একটা গতি হত।

    বুঁচি কোথায় খেলতে গিয়েছিল। সারাদিনই পাড়া বেড়ায়, ঘেমো শরীর নিয়ে হাঁসফাঁস করতে-করতে দৌড়ে ঘরে এল। বিছানার তোশক থেকে একটা ন্যাকড়ার পুতুল বের করে নিয়ে চলে যাচ্ছিল, হেমন্তবালা তক্কে ছিলেন, উঠে এসে ডাকলেন বুঁচি?

    বুঁচি দৌড়।

    হেমন্তবালার হাতে একটা বেলনা। সেইটে বাগিয়ে নিয়ে তিনিও দৌড়ে বেরোলেন।

    –বুঁচি-ই!

    সুধন্যর সময় কাটে না।

    তিনিও দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে বাইরে বেরিয়ে এলেন। খুবই চমৎকার দৌড় হচ্ছে। বুঁচি হরিণের মতো দৌড়োয় বটে, কিন্তু হেমন্তবালাও যে এ-বয়সে এত জোর ছুটতে পারেন তা সুধন্যর জানা ছিল না।

    সামনের একটু মাঠ মতো, তারপর রাস্তা। বুঁচি রাস্তায় উঠে গিয়েও রেহাই পায়নি। হেমন্তবালা শাড়ি সামলে চমৎকার দ্রুতবেগে ঝুঁচির চার হাতের মধ্যে চলে গেছেন।

    বুঁচি একবার পিছু ফিরে চেয়ে এত অবাক যে প্রায় ধরা পড়ে গিয়েছিল আর কি? একেবারে এক চুলের জন্য বেঁচে গেল। ‘উ মা গো!’ বলে আবার উধ্বশ্বাসে বুঁচি দৌড়ে নাগালের বাইরে চলে গেল।

    হেমন্তবালা কদমগাছটার তলায় দাঁড়িয়ে হাঁফাচ্ছেন।

    কষ্ট হয় সুধন্যর।

    হেমন্তবালা করুণ সুরে চেঁচিয়ে বললেন, বুঁচি!

    বুঁচি দূরে দাঁড়িয়ে হিহি করে হাসে।

    হেমন্তবালা প্রায় কান্নার মতো স্বরে বলেন, বঁচি রে, তোর ধর্ম কি এই বলে? অ্যাঁ? তোর ধর্ম তোকে এই বলে?

    কী করুণ আবেদন! শুনে সুধন্যরও মায়া হয়।

    কিন্তু হেমন্তবালার গলার স্বর হঠাৎ বদলে গেল। হাতের বেলনাটা তুলে পুলিশের মতো আস্ফালন করে চিৎকারে পাড়া মাত করে কর্কশ স্বরে বলতে থাকেন, আসিস আজকে। ভাতের পাতে ছাই বেড়ে দেব। খাবি না বুঁচি, অ্যাঁ? খেতে আসবি না? তখন দেখিস।

    এই বলে হেমন্তবালা ফিরে আসছিলেন।

    এ সময়টায় মুখোমুখি হওয়া ভালো নয়। অভিজ্ঞতাবলে সুধন্য জানেন, মেয়েদের ওপর রাগ করলে হেমন্তবালা আবার সুধন্যর ওপরেও অকারণে চটে যান।

    সুধন্য ঘরের পিছনদিকে গা ঢাকা দিয়ে রইলেন একটু।

    হেমন্তবালা যখন উঠোন পার হয়ে রান্নাঘরে যাচ্ছেন, তখনই সুধন্য দেখলেন চোর একটা বেড়াল দুটো খয়রা মাছ মুখে নিয়ে জবা গাছটার তলায় গিয়ে বসল। সুধন্য বড় ব্যথিত হলেন। সপ্তাহে তিনদিন মাছ হয়। একপো খয়রা মাছ কিনতে আজ তাঁকে দুটো টাকা নগদ দিতে হয়েছে। তার দুটো ওই গেল বেড়ালের পেটে।

    বেড়ালটাকে তেড়ে গেলেন না সুধন্য। গিয়ে লাভ কী? বেড়ালের মুখের মাছ তো হেমন্তবালা আর হেঁশেলে তুলবে না, খাচ্ছে খাক।

    হেমন্তবালার চিক্কার শোনা গেল একটু বাদেই, চোখের পলকে দু-দুটো মাছ হাওয়া হয়ে গেল। বুঁচির বাপ কি একটু চোখে-চোখেও রাখতে পারে না বাড়িঘর, না কি! কোথায় গেল লোকটা, অ্যাঁ?

    নস্যির ডিবেটা এখনও পাওয়া যায়নি। সুধন্যর খুব অস্বস্তি হচ্ছে। বুঁচিটা বাড়ি ফিরলে ওর মায়ের হাতে আজ খুব পেটান খাবে।

    দুপুরের কলকাতা যাওয়ার ট্রেনটা এসে স্টেশনে ঢুকল। সামনের মাঠ ভেঙে দুজন ধুতিপরা লোক গাড়ি ধরতে দৌড়োচ্ছ। চমৎকার দৌড়, কিছুক্ষণ চেয়ে থাকেন সুধন্য। পাবে কি? না, পাবে। স্টেশনের হাতায় প্রায় পৌঁছে গেছে। ঘন্টি বাজল, গার্ড হুইশল দিল, ইঞ্জিন কু দিল, সব। নিয়ম মাফিক। ছেলেবেলা থেকে দেখে আসছেন, ঠিক একইভাবে ট্রেন ছাড়ে। লোক দুটোর একজন সিগন্যালের তারে হোঁচট খেয়ে পড়তে-পড়তে সামলে গেল। সুধন্য হাঁ করে চেয়ে আছেন।

    শেফালির গলা পেলেন–বাবা!

    উত্তর দিলেন না, দেখছেন। না, পেয়ে গেল। ওই প্রথম লোকটা উঠে পড়েছে কামরায়। উঠে হাত বুলিয়ে দ্বিতীয় লোকটাকে চলন্ত গাড়িতে তুলে নিল টেনে।

    বাঁচা গেল।

    —বাবা! হাঁ করে দেখছ কী?

    —উঁ!

    মনটা ভালো নেই। কেন যে বুঁচিটা তেঁতুল চুরি করতে গেল! আজ দুপুরে খাওয়ার সময়ে ফিরে এলে খুব মার খাবে মেয়েটা। ছোট মেয়েটা যতই দামাল দুষ্টু হোক, ওর কান্না শুনলে সুধন্যর বুকটা কেমন করে যেন। ওটার ওপর তাঁর বড় মায়া। ছোট মেয়েটা।

    –কী দেখছিলে? শেফালি জিগ্যেস করে ফের।

    —দুটো লোক দৌড়ে ট্রেন ধরল, তাই দেখলাম। আজকাল আর দেখার আছেটা কী? যা চোখে পড়ে দেখি।

    শেফালি এমনিতে শান্ত মেয়ে। কিন্তু খুব জেদি। রাগিও। তা ছাড়া বাপকে বাপ বলে বিশেষ গ্রাহ্য করে না। বেশি আদর দিলে যা হয়। যারা আদর দেয় তাদের ওজন কমে যায় এদের। কাছে।

    শেফালি বিরক্ত হয়ে বলল শোনো, আমাদের বায়োসায়েন্স থেকে মহারাষ্ট্রে পাঠাচ্ছে স্পেসিমেন কালেকশনে। প্রায় কুড়িজনের টিম যাবে।

    —ও।

    –কলেজ একটা গ্র্যান্ট দিচ্ছে, যাতায়াতের ভাড়া ওরাই দেবে। থাকাখাওয়ার খরচ আমাদের। পার হেড দেড়শো টাকার মতো লাগবে।

    —ও। আমাকে সিলেক্ট করেছে।

    সুধন্য চুপ করে থাকেন, শোনেন হেমন্তবালা বেড়ালের চোদ্দপুরুষ উদ্ধার করছেন, সেই সঙ্গে বুঁচি আর সুধন্যকেও।

    –টাকাটা দেবে বাবা?

    –টাকা!

    –টাকা মোটে দেড়শো। আচ্ছা, না হয় তুমি আরও কম দিও। একশোতেই আমি চালিয়ে নেব। একটা জায়গায় ঘোরাও হবে।

    সুধন্য শ্বাস ফেলেন। দেবেন বইকী! না দিয়ে যাবেন কোথায়! বরাবর দিয়ে আসছেন। বুঁচিটা বড্ড মার খাবে আজ। বেড়ালটা দুটো মাছ নিয়ে গেল, মোট পাঁচটার মধ্যে দুটো। শেফালি একশো টাকার ধাক্কায় ফেলে দিল। বাড়িটায় কত টাকা আটকে আছে। ছেলেও নেই যে ভোগ করবে। কী লম্বা ছুটি চলছে রে বাবা!

    নস্যির ডিবেটা কখন কীভাবে হাতে এসে গেল কে জানে! ঠিক ম্যাজিশিয়ানের মতো, কোথাও কিছু না, হঠাৎ হাতে চেয়ে দেখেন, নস্যির ডিবেটা হাসছে।

    বড় খুশি হন সুধন্য। ভগবান মঙ্গলময়। সুধন্য পৃথিবী ভুলে নস্যির ডিবের মুখে টোকা মারেন। খুব জোর একটা টিপ নেবেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ২৫টি সেরা ভূত – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }