Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প905 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চারুলালের আত্মহত্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    চারুলালের আত্মহত্যা

    ট্রাম থেকে হিরণ দেখল প্রেসিডেন্সি কলেজের সামনে ফুটপাথ দিয়ে চারুলাল উত্তরমুখো হেঁটে যাচ্ছে। হাতে একরাশ বই, চুল উশকোখুশকো। এতদূর থেকেও বোঝা যায় চারুলালের হ্যান্ডলুমের গেরুয়া পাঞ্জাবি বড় ময়লা হয়ে গেছে। চারুলালের কাছে পাঁচটা টাকা পাওনা ছিল–হঠাৎ মনে পড়ায় হিরণ হাত নেড়ে ‘চারু’ বলে ডাকল। চারুলাল শুনতে পেল না। লক্ষ করে হিরণ তাড়াহুড়ো করে ট্রাম থেকে নেমে পড়ল।

    নেমে খেয়াল হল যে, তার ট্রামের টিকিট কাটা হয়ে গিয়েছিল। এসপ্লানেডের টিকিট। এখন যদি চারুলালকে না পাওয়া যায় তবে আর একবার টিকিট কাটতে হতে পারে! কিংবা সে দ্বিতীয়বার যদি টিকিট না কাটে এবং পরবর্তী কোনও ট্রামের কন্ডাক্টর যদি ভদ্র ও অন্যমনস্ক হয়। তবে সে একবার ভাড়া দিয়ে এসপ্লানেড না গিয়ে অন্যবার ভাড়া না দিয়ে এসপ্লানেডে পৌঁছতে পারে। একটু অন্যমনস্ক হিরণ হাত তুলে একটা ধীরগতি ফিয়াট গাড়িকে দাঁড় করিয়ে তার সামনে দিয়েই রাস্তা পার হল এবং যথাসম্ভব দ্রুত গতিতে ভিড় ঠেলে চারুলালের পিছু নেওয়ার চেষ্টা করল। সে হ্যারিসন রোড পার হল এবং কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের ডাবপট্টি পর্যন্ত এগিয়ে গেল। হিরণ একটু বেটে, ভিড়ের গড়পড়তা উচ্চতাকে অতিক্রম করে চারুলালের মাথা কিংবা পাঞ্জাবির অংশ কোথাও দেখতে পেল না। তা ছাড়া চারুলাল যে সহজ সোজা পথে যাবে তারও কোনও নিশ্চয়তা ছিল না-কেন না চারুলাল কবি, অন্যমনস্ক, অমিতব্যয়ী ও বিপথগামী।

    হতাশ হিরণ একটু দীর্ঘতর শ্বাস ছাড়ল। হাতের টিকিটটার দিকে চেয়ে সে আর একবার অন্যমনস্ক হয়ে গেল। এ কথা ঠিক যে তার চিন্তা ভাবনা সব সময়েই অর্থনীতির ধার ঘেঁষে যায়। এখন তাকে একজন ভদ্র ও অন্যমনস্ক ট্রাম কন্ডাক্টর খুঁজে বের করতে হবে। অথচ ব্যাপারটা ঠিক আইনমাফিক হবে না। হাতের ট্রামের টিকিটটা ক্রমশ তার অর্থনৈতিক চিন্তাকে উজ্জীবিত করে। সে ভেবে দেখছিল এসব ক্ষেত্রে কন্ডাক্টরের কাছে ‘জার্নি ইনকমপ্লিট’ লেখা কোনও স্ট্যাম্প থাকলে সে ভদ্রভাবে এবং আইনমাফিক লক্ষ্যস্থলে পৌঁছোতে পারত।

    যে স্টপেজে নেমেছিল আবার সে স্টপেজের দিকেই ফিরে আসছিল হিরণ। পুরানো বইয়ের দোকানের ধার ঘেঁষে, ফড়ে, দোকানি, ছাত্র–ছাত্রীর ভিড়ের ভিতর দিয়ে ইঁদুরের মতো দ্রুত গর্ত খুঁড়ে এগোতে গিয়ে সে লক্ষ করল কলেজ স্ট্রিটে মন্থর একটি ট্রাফিক জ্যাম সৃষ্টি হচ্ছে। ‘ধুত্তোর’ বলে ট্রাম–বাস থেকে নেমে পড়ছে লোক। ‘শালার মিছিল’–হিরণের প্রায় কান ঘেঁষে একজন চলতি মানুষ বলে গেল।

    হিরণ মিছিল ভালবাসে না, আবার বাসেও। সে লক্ষ করল উত্তর দিকে কলেজ স্ট্রিট হয়ে মাঝারি এক মিছিল সামনে লাল সালুর ওপর রূপালি লেখা ভাসিয়ে দক্ষিণমুখো আসছে। অতএব কিছুক্ষণের জন্য এসপ্লানেডের ট্রামবাস বন্ধ। মন্দ নয়। হিরণ ভেবে দেখল মিছিলের সঙ্গ ধরলে সে দ্বিতীয় বারের ট্রামভাড়া সঞ্চয় করতে পারে এবং এসপ্লানেড পর্যন্ত এতটা পথ গোলেমালে কাটিয়ে দিতে পারে।

    কিন্তু তার আর দরকার হল না। কেননা সে দেখতে পেল চারুল উলটোদিকের ফুটপাথে দাঁড়িয়ে এইমাত্র একটা সিগারেট ধরাল। ‘চারু’ বলে চিৎকার করে হিরণ হাত নাড়ল এবং থেমে থাকা গাড়ি ও ট্রামগুলি অতিক্রম করে দেখল মিছিলটা ধীরগতিতে চারু আর তার মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে। চারু মিছিল দেখছে। ‘চারু’ বলে আবার ডাকল হিরণ, আর সেই মুহূর্তে মিছিলের উন্মত্ত স্লোগান…’চাই’ ধ্বনিতে শেষ হলে হিরণ দেখল ‘চারু’ ও ‘চাই’ দুটি শব্দ মিলে মিশে ‘চাইরু’ গোছের একটা শব্দ ধ্বনিত হল। ‘চাইরু’ শব্দটা বিস্মিত হিরণ আপন মনে উচ্চারণ করল। কিমিদং এর অর্থ কী! ভাবল সে। সে চারুকে আর ডাকল না, মিছিলটাকে চলে যেতে দিল। তার চারুলালকে নিয়ে ভাবনা হচ্ছিল। কেননা চারুলাল ইতিমধ্যে পূর্ব-পশ্চিম বা উত্তর দক্ষিণ যে কোনও দিকে খামোকা রওনা হয়ে পড়তে পারে। কেননা ইতিপূর্বে সে চারুলালকে উত্তর দিকে যেতে দেখেছিল, এবং এখন দেখা যাচ্ছে যে, সে আবার দক্ষিণ দিকে উজিয়ে এসেছে। চারুলালের চলাফেরার মধ্যে কোনও পরিকল্পনা নেই। কোনও লক্ষে পৌঁছোবার একমুখিনতা নেই। এবং আশ্চর্যের বিষয় এই যে, বাস্তবিক মিছিলটা শেষ হওয়ার পর দেখা গেল চারুলাল যথাস্থানে নেই। পুলিশের কালো গাড়িটা কয়েক মুহূর্তের আড়াল তৈরি করেছিল এবং সেটুকু সময়েই অস্থিমনস্ক চারুলাল মত পরিবর্তন করেছে।

    রাস্তা পার হয়ে হিরণ হতাশ হল। কেননা হিরণ কয়েক মুহূর্তের চিন্তায় ঠিক করে নিয়েছিল সে চারুলালকে পেলে জিগ্যেস করে বাঙলা অভিধানে ‘চাইরু’ বলে কোনও শব্দ পাওয়া যায় কি না এবং পাওয়া গেলে তার অর্থ কী। কেননা শব্দ সঞ্চয় করা চারুলালের স্বভাব এবং এইসব নিয়ে আলোচনা করাও তার প্রিয়। হিরণ ঠিক করেছিল শব্দ নিয়ে আলোচনা ক্রমশ জমে উঠলে সে একসময়ে আকস্মিকভাবে হঠাৎ মনে পড়ার মতো করে পাওনা টাকাটার কথাও বলে ফেলতে পারবে। কিন্তু আপাতত চারুলালকে একটা সমস্যার মতো মনে হচ্ছে।

    হিরণ কফিহাউসের মোড় থেকে কলেজ স্ট্রিটের মোড়ের লাল ডাকবাক্সটা পর্যন্ত এবং লাল ডাকবাক্সটা থেকে কফিহাউসের মোড় পর্যন্ত জঙ্গল ভেদ করে চারুলালকে বারকয়েক খুঁজে দেখল। অবশেষে হতাশ হয়ে আবার ট্রাম স্টপেজে দাঁড়াল হিরণ।

    মানুষের চলাফেরার মধ্যে একটা অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য থাকলে হিরণ খুশি হয়। এমন মানুষকে ধরা ছোঁয়া বোঝা সহজ। অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যসম্পন্ন কোনও মানুষের সারাদিনকার চলাফেরার একটা ম্যাপ যদি আঁকা হয় তা হলে দুই রকম মানুষের উদ্দেশ্য ও উদ্দেশ্যহীনতার একটা বাস্তব তফাত পাওয়া যেতে পারে। মনে-মনে চারুলালের সম্ভাব্য গতিবিধির একটা ম্যাপ ছকে ফেলবার চেষ্টা করে দেখল হিরণ। কিন্তু ম্যাপটা ক্রমশ তার মনে নানাবিধ বক্র ও অর্ধবৃত্তাকার রেখায় এমন জটিল অ্যাবস্ট্রাক্ট রূপ ধারণ করল যে, সে ভয় পেয়ে হাল ছেড়ে দিল, সহজ অন্য কিছু ভেবে দেখবার চেষ্টা করতে লাগল। এ কথা ঠিক যে, চারুলাল কিংবা চারুলালের মতো মানুষগুলিকে হিরণ বোঝে না। তবে চারুলাল কিংবা চারুলালের মতো মানুষগুলি কী উদ্দেশ্য নিয়ে জটিল এবং অ্যাবস্ট্রাক্ট বক্ররেখাগুলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে? এই জটিল এবং অ্যাবস্ট্রাক্ট রেখাগুলিকে হিরণ বোঝে না। হিরণ ভাবতে-ভাবতে হাতে তখনও ধরে থাকা ট্রামের টিকিটটার দিকে তাকাল। সে এসপ্লানেডে যায়নি অথচ তার হাতে এসপ্লানেডের এই টিকিটটা বাতিল হয়ে গেল। এই অব্যবহৃত–উপযোগ সরবরাহে অক্ষম টিকিটটা তার কোন কাজে লাগবে? যদিও ব্যাপারটি দুর্বোধ্য তবু অস্পষ্টভাবে তার মনে পড়ল একদিন কফিহাউসে চারুলাল বাড়তি কাগজ খুঁজে না পেয়ে এমন একটি ব্যবহৃত টিকিটের পিছনে তার কবিতার পয়েন্ট টুকে রাখছিল।

    যতদূর মনে পড়ে কবিতাটার নাম চারুলাল দিয়েছিল ‘শিল্পের কারণে আত্মহত্যা।’ বাস্তবিক আলাদা আলাদাভাবে ধরলে হিরণ শিল্প, কারণ ও আত্মহত্যা এই তিনটি শব্দের অর্থ বুঝতে পারে। কিন্তু এই তিনটি শব্দের দ্বারা বাক্য গঠিত হলে সে ‘চাইরু’ শব্দটার যে জটিলতা তেমনি এক জটিলতার সম্মুখীন হয়। হিরণ বুঝে উঠতে পারে না শিল্পের কারণ ও আত্মহত্যার কারণ এক কি না, কিংবা চারুল কি বোঝাতে চেয়েছে যে, শিল্প আত্মহত্যার এবং আত্মহত্যা শিল্পের কারণ স্বরূপ!

    চারুলালকে হিরণ বুঝে উঠতে পারে না। চারুল অদ্ভুত। একবার তারা দুজন ‘নাইট শো’ সিনেমা দেখে ফিরছিল। ফুটপাথে এক গাড়ি–বারান্দার তলায় জনা দশবারো লোক টানটান হয়ে ঘুমোচ্ছে দেখে চারুলাল বলল  ‘দাঁড়াও।’ হিরণ ফিরে দেখল অত্যন্ত অন্যমনস্ক চারুলাল হিরণের মুখের দিকে তাকিয়ে যেন কোনও পোকামাকড় খুঁজছে এমনি ভঙ্গিতে বলল , ‘তোমার কি মনে হয় না যে এই লোকগুলো এখন প্রত্যেকেই ঘুমের ভিতরে স্বপ্ন দেখছে!’ ‘হতে পারে।’ হিরণ হেসে জবাব দিল, ‘তাতে কি?’ খানিকটা যেন লজ্জা পেয়ে চারুলাল বলল , ‘না, কিছু না। আমার মনে হল প্রতিবার পা ফেলে আমি ভিন্ন ভিন্ন লোকের ভিন্ন ভিন্ন স্বপ্নগুলোকে মাড়িয়ে যাচ্ছি। অদ্ভুত! খানিকক্ষণ নিঃশব্দে হেঁটেছিল তারা। একবার শুধু হিরণের অস্পষ্টভাবে মনে হয়েছিল চারুলাল তাকে পিছন থেকে ‘হিরণ’ বলে ডাকল, পিছু ফিরে হিরণ দেখল চারুল অন্যমনস্কভাবে হাঁটছে, তার দিকে চাইছে না, অস্ফুট স্বরে কিছু বলছিল চারুলাল

    ‘ব্যাবিলনে…শূন্যোদ্যানে…স্বপ্নে…হিরণ কতবার গিয়েছি যে… স্বপ্নেদ্যানে… শূন্যে… ব্যাবিলনে…!’

    হিরণ অন্যমনস্কভাবে এইসব রহস্যের কিনারা করবার চেষ্টা করছিল, এমন সময় একজন লোক ভদ্রভাবে তার সামনে দাঁড়িয়ে গলা চুলকোতে–চুলকোতে জিগ্যেস করল, ‘আজকের খেলার রেজাল্ট কি দাদা?’ মুহূর্তে সংবিৎ ফিরে পেয়ে লোকটার কথার উত্তরে অস্পষ্ট ‘জানি না’ বলেই সে ঘড়ি দেখল ছ’টা বেজে পাঁচ মিনিট। সাধারণত হিরণ উদ্দেশ্যহীনভাবে কোথাও বেরিয়ে পড়ে না, কিন্তু এখন চারুলালের কথা বেশ কিছুক্ষণ ভাববার পর, তাকে এ কথা বেশ কষ্ট করে মনে করতে হল যে, সে কেন এসপ্লানেড যাচ্ছিল। মনে পড়ল গ্লোবের ছবিটা দেখবে বলে সে এসপ্লানেড যাচ্ছিল, হল-এর সামনে অমিয় তার জন্য অপেক্ষা করবে। কিন্তু এখন আর গিয়ে লাভ নেই! খেলার মাঠের ভিড় ট্রাম বাস বোঝাই হয়ে ফিরছে! ইস্টবেঙ্গল এক গোলে জিতেছে–চিৎকার শুনতে পেল হিরণ। ট্রাফিক জ্যাম, মিছিল, খেলার ভিড়–এই সব কিছুর মধ্যে স্বপ্নবিষ্ট চারুলাল কোথায় থাকতে পারে ভেবে না পেয়ে হিরণ ধীরে-ধীরে অনেকদিন পর গোলদিঘির দিকে চলল।

    চারুলাল সম্পর্কে কি একটা শেষ কথা জানবার ছিল হিরণের। এখনও জানা হয়নি। কিংবা কে জানে, হয়তো চারুলালকে জানবার ও বুঝবার মতো শক্তি হিরণের কোনওদিন ছিল না। তার আজ হঠাৎ মনে হল অনেকদিন থেকেই সে চারুলালকে একটু অবহেলা করে এসেছে। দুঃখ হচ্ছিল চারুলালের জন্য। সে ট্রাম থেকেও দেখতে পেয়েছিল যে চারুলালের পাঞ্জাবিটা বড় ময়লা হয়ে গেছে; মনে পড়ল, চারুলাল বড় আস্তে-আস্তে হাঁটছিল। এক মুহূর্তের জন্য হিরণ চারুলের প্রতি গোপন ও তীব্র একটা আকর্ষণ বোধ করল। ব্যাবিলনে…শূনে…স্বপ্নেদ্যানে…কোথায় যেন। যেতে চায় চারুলাল, হিরণ জানে না। অমন যাওয়ার ইচ্ছে হিরণের কখনও হয়নি। তাই সে কখনও বুঝতে পারে না চারুলালের কল্পনার মধ্যে কেন একটানা দুশো মাইল উড়ে এসে একটা শকুন হাওড়ার পুলের ওপর বসে, আর অন্যদিকে ইউনিকর্ন লাল ইমলি, লিপটনের নিয়নগুলি দপদপিয়ে ওঠে, মন্থর ট্রাফিক কলকাতায় ক্রমশই কঠিনতর জ্যাম-এর দিকে অগ্রসর হয়, কোনও কিছুতেই তার প্রয়োজন নেই বলে আবার হাওয়ায় ডানা ভাসিয়ে দেয় শকুন গোপনে সে যেন কার প্রাণ হরণ করে নিয়ে যায়। স্বপ্নের শকুন’ নামক এই কবিতা হিরণ শুনেছে। চারুলালকে খানিকটা বিখ্যাত করেছে।

    গোলদিঘির ভিড় তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে, হিরণ লক্ষ করল। সে বুঝল ফাঁকা কোনও বেঞ্চ পাওয়া অসম্ভব। সে আস্তে-আস্তে লক্ষ রেখে এগোতে লাগল এবং ভাগ্যক্রমে একটা বেঞ্চে। দুজন বুড়োমানুষ এবং তাঁদের পাশে একটা খালি জায়গা দেখে অবিলম্বে ঝপ করে বসে পড়ল হিরণ। নানা অনভ্যস্ত শিল্পচিন্তায় তার মাথা ঘুরছিল। টের পেল পাশের দুই বুড়োমানুষ তার। বসার ভঙ্গি ও ঘাড় হেলিয়ে দেওয়ার ঢঙ লক্ষ করছে। বুড়োমানুষদের সঙ্গী হিসেবে ভালো লাগে হিরণের। এঁরা অচেনা লোক পাশে এসে বসলে অসন্তুষ্ট হলেও উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন না। অন্য সময় হলে হিরণ এঁদের সঙ্গে আলাপ জমানোর চেষ্টা করত। আজ করল না, কারণ তার মন অস্থির ছিল, ঠান্ডা বাতাস তার চোখে মুখে লাগছিল, ঘুম পাচ্ছিল হিরণের। সে চোখ বুজল। এবং প্রায় সঙ্গে-সঙ্গে সে নানা এলোমেলো স্বপ্ন দেখতে শুরু করল।

    আধোঘুমের ভিতর সে শুনতে পেল পাশের বুড়োমানুষ দুজন অবিশ্রাম একঘেয়ে গলায় পূর্ববঙ্গের গল্প করে যাচ্ছে। সেখানে রোদ ছিল আলাদা বর্ষা ও মেঘ ছিল আলাদা, ঋতুগুলি ছিল ভিন্নরকম। তরমুজের খেত ও কাশবনকশাড়ের জঙ্গল, বালুচর ও ব্রতকথার সেই দেশ ছিল। কেমন সেই দেশ–উনিশশো চৌষট্টির সেপ্টেম্বরের কলকাতা থেকে আধোঘুমের ভিতরে সেই দেশকে বিদেশ বলে মনে হয়। খাঁড়ি দিয়ে বিলের জল বর্ষাশেষে নেমে যেতে থাকলে কাকামশাই চাঁদা মাছ ধরতেন, খাঁড়ির জলে ধারালো ইস্পাতের মতো ঝলসে উঠত রূপালি ইলিশ। যেন শরৎকাল ঘন হয়ে এসেছে, পাল খাটানো হয়েছে–দুলে–দুলে নৌকো চলেছে পূর্ববাংলার দিকে, স্মৃতি ও বিস্মৃতিময় দুটি নৌকো পাশাপাশি অনায়াস পাল তুলে উনিশশো চৌষট্টির কলকাতা ছেড়ে গেল। হিরণ রূপকথার মতো সেই গল্প শুনছিল।

    তারপর ঘাড় কাত করে হিরণ অনেকক্ষণ আধোঘুমের ভিতরে স্বপ্ন দেখল। মাটির উনুনের আঁচে ইলিশ মাছের ঝোল ফুটছে, রূপশালির ভাত ফুটছে, ফুটফুট। কাঠের উনুনের ধোঁয়ার গন্ধ…আর দেখল উজান বিল, রাজহাঁস, কালকাসুরে ঝোঁপ ও জোনাকি পোকা। দেখল চারুলালের স্বপ্নের শকুন হাওড়ার ব্রিজ ছেড়ে গেল বুড়িগঙ্গা বিশালাক্ষীর ওপর কশাড়বন ও কাশফুলের ওপর তার ছায়া বিস্তার করবে বলে। স্বপ্নের নৌকো ধীরে-ধীরে দুলতে থাকে।…হঠাৎ হিরণ চারুলালকে দেখছিল ইউনিভার্সিটির নতুন অন্ধকার উঁচু বাড়িটার ভিতর ঢুকে যাচ্ছে–তড়িৎগতিতে অন্ধকার লিফট চালু করল চারুলাল–সশব্দ ইলেকট্রিকের তার চারুলালকে টেনে নিতে থাকে, হিরণ প্রাণপণে সিঁড়ি ভাঙতে থাকে, চিৎকার করতে থাকে ‘চারু চারু’ বলে। স্তুপাকৃতি সিমেন্ট, কংক্রিটের থাম ও সিঁড়ি পেরিয়ে এই অকারণ আত্মহত্যাকে নিবারণ করতে চায় সে। কিন্তু দ্রুত ধাবমান ‘এলিভেটর’ চারুলালকে শকুনের মতো ছোঁ মেরে তুলে নিচ্ছে। হিরণ দু-হাত তুলে বলতে থাকে, ‘তোমার উদ্দেশ্য কি চারুলাল? তুমি কত দূর যেতে চাও?’ ধাবমান ‘এলিভেটর’ থেকে চারুলালের দূর গলার ধীর আবৃত্তি কানে আসে, ‘কতবার গিয়েছি যে হিরণ…স্বপ্নে…শূন্যোদ্যানে…ব্যাবিলনে।’ হিরণ অন্ধকারে বিম–কাঠের ঠেকা, কার্নিস, জ্যামিতিক সিঁড়ি ও লিফটের খাঁচার অরণ্যকে লক্ষ করে হাল ছেড়ে দেয় হঠাৎ।

    কিমিদং এর অর্থ কী! হিরণ বোকার মতো ফ্যালফ্যাল করে ঘুম ভেঙে চেয়ে দেখল বেঞ্চটা খালি হয়ে গেছে। সন্ধ্যা রাত্রির দিকে গড়িয়ে গেল। গোলদিঘির দক্ষিণ কোণে ভিড় জমেছে খুব। কিছু একটা হয়েছে ওখানে। হিরণ ভালোভাবে জেগে উঠে এইসব স্বপ্ন কিংবা স্বপ্ন ও চিন্তার সংমিশ্রণ পরিষ্কার করে নিতে চেষ্টা করল। কেন না সে তার জীবনে কখনও শিল্পের জন্য আত্মহত্যার কথা ভাবেনি, স্বপ্নের শকুনের কথাও না। উদ্ভটের প্রতি কোনও মোহ ছিল না। হিরণের, তবু কেন উদ্ভটই আজ তাড়া করে ফিরছে! তার ব্যাবিলন ছিল না, মধ্যাহ্নের ভূতের মতো জাগর–স্বপ্ন ছিল না-তবু মনে হচ্ছে আজ চারুলালের ব্যবিলন পিছু নিয়েছে তার। এ কি চারুলালের সম্মোহন প্রভাব সে অনেকক্ষণ চারুলালের কথা ভেবেছে আজ সেই জন্যে?

    গোলদীঘির দক্ষিণ কোণে গোলমালটা বেড়ে চলেছে। হিরণ দেখে অনেক লোক ছুটে যাচ্ছে ওদিকে। দারুণ ভিড়। কী হতে পারে! হিরণ ভাবল। পরমুহূর্তেই অকারণে অন্যমনস্ক হয়ে গেল হিরণ। আলস্যের সঙ্গে সে ভেবে দেখল চারুলালের সঙ্গে তার তফাতটা কোথায়। দারুণ অভাব। আছে চারুলালের সংসারে। চাকরিও খোঁজে চারুলাল–কিন্তু তেমন উৎসাহের সঙ্গে নয়। টিউশনি করে সে নিজের খরচ চালায়, গাঁটের ট্রামভাড়া খরচ করে নানা পত্রিকার অফিসে কবিতা ফিরি করে বেড়ায়, সংসারে কিছু দেয় চারুলাল–কিন্তু সে তেমন কিছু না। আর হিরণ বারো বছর বয়সে কলকাতার রাস্তায় একদিন ধূপকাঠি ফিরি করে বেড়াত, ওইভাবে কলকাতা চেনা হয়। প্রথম উনিশশো সাতচল্লিশ থেকে। ক্রমশ চিনতে পেরেছে সে পথঘাট ও চরিত্র। হিরণ এখন সংসার চালায়–সংসারের তরুণ অভিভাবক সে-তাকে আয়কর দিতে হয় এখন, লোককে ধারও দিতে পারে হিরণ। পথঘাট ও চরিত্র হিরণের চেনা হয়ে গেছে। তবে কেন খামোকা চারুলালের ব্যাবিলন তার পিছু নেয়, কেন স্বপ্নের শকুনের কথা ভাবতে গেল হিরণ? ‘দ্যাখো হে। চারুলাল’, হিরণ মনে-মনে বলল , ‘আমাকে আয়কর দিতে হয়। বেশিরভাগ অফিসবাড়ি, কারবারি ও দোকানদারদের আমার জানা হয়ে গেছে। আমি যতদূর বুঝতে পারি বুলডোজারের মুখে তৈরি হচ্ছে পৃথিবী–সাদামাটা আমার চিন্তা। কিন্তু তুমি একি তৈরি করছ চারুলাল–যা আমাকেও তাড়া করে দেখছি!’

    বিষণ্ণ হিরণ বসে দেখল গোলদিঘির দক্ষিণ কোণটা লোকে লোকারণ্য হয়ে গেল। কিছু একটা হয়েছে ওখানে। কী হতে পারে! ভিড় দেখলে সাধারণত উৎসাহী হয় হিরণ–ভিড়ের কারণ খুঁজে দেখে। কিন্তু আজ তার উঠতে ইচ্ছে করল না, কাউকে কিছু জিগ্যেস করল না হিরণ। চুপচাপ বসে রইল খানিকক্ষণ। তারপর উঠে পড়ল। ধীরে-ধীরে সে ভিড়ের কাছেই এসে দাঁড়ায়। কথাবার্তা না বলেও সে বুঝতে পারে কে একজন জলে পড়েছে–এখন তাকে তোলা হচ্ছে।

    জলের মধ্যে কয়েকজন মানুষকে দেখতে পেল হিরণ, জলের ধারে একজন ‘বিট’-এর পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে। ক্রমশ হিরণ দেখল জল থেকে কয়েকটা হাত একটা দেহকে ধরে তুলল। পুলিশটার পায়ের কাছেই শুইয়ে দিল তাকে। ভিড় ক্রমশ বাড়ছে, হিরণের দম নিতে কষ্ট হচ্ছিল। চলে যাওয়ার জন্য উদ্যত হয়েও আবার ফিরে এল হিরণ। লোকটা চেনাও তো হতে পারে–কত লোককেই তো চেনে হিরণ–এই ভেবে সে ভিড় ঠেলে সামনে এগোতে লাগল। রেলিঙের কাছে সে যখন এসে পৌঁছোল তখন লোকটাকে একটা স্ট্রেচারে শুইয়ে তোলা হচ্ছে। কিন্তু যতদূর মনে। হল লোকটা মারা গেছে কাছাকাছি যারা ছিল তারা হতাশার ভঙ্গিতে মাথা নাড়ছিল।

    বাহকেরা হিরণের চোখের তলা দিয়ে স্ট্রেচারটা ধীরে-ধীরে নিয়ে গেলে প্রথমটায় একবার চমকে উঠেই কাঠ হয়ে গেল হিরণ। চারুলালের চোখ খোলা ছিল না, তবু হিরণের মনে হল চারুলাল তাকে সারাক্ষণ দেখতে-দেখতে গেল। এত কাছাকাছি ছিল চারুল! কিন্তু মুহূর্তেই পারিপার্শ্বিক সম্বন্ধে সচেতন হিরণ বুঝতে পারল এখন কোনও শব্দ করলে তার মুশকিল হবে। সে সাক্ষী থাকতে চায় না। নিঃশব্দে ভিড় ঠেলে বেরিয়ে এল হিরণ। পুলিশ চারুলালের পরিচয় ঠিক খুঁজে বের করবে। আপাতত হিরণের দায়িত্ব শেষ হয়ে গেল স্থির নিশ্চিতভাবে সে জেনে গেল যে, চারুলাল আত্মহত্যাই করেছে।

    ‘কিন্তু এটা কেমন হল!’ ‘এটা কী হল হে চারুলাল’, মনে-মনে বলল  হিরণ, ‘এমন তো কথা ছিল না হে!’ হিরণ গম্ভীরভাবে অন্যমনস্ক হয়ে গেল। আজ বিকেলে চারুলালকে দেখবার পর থেকে যেসব অকারণ চিন্তা হিরণকে পেয়ে বসেছিল, এখন হিরণ টের পেল এর কোনও অর্থ আছে। এই আত্মহত্যা নিশ্চিন্ত অকারণ-এর কোনও মানে নেই। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ এতদিনের মধ্যে কোনও দুর্ঘটনায় পড়েনি হিরণ–তার হাত পা অটুট আছে, ইন্দ্রিয়গুলি সতেজ ও কর্মক্ষম আছে। এইজন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। সে শিল্পের কারণ ও আত্মহত্যার প্রয়োজন ও উপযোগ বোঝে না বলে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

    সম্ভবত এতটুকুই আসবার কথা ছিল চারুলালের, এর বেশি নয়। হাত পা ইন্দ্রিয়গুলির মতো মৃত্যুও সহজাত–হিরণের একথা অজানা নয়। বেঁচে থাকলে চারুলেরও মৃত্যু হত। সুতরাং চারুলাল নামক যে ব্যক্তিকে সে চিনত তার জন্য দুঃখ ছিল না হিরণের। তার পরিতাপ ছিল চারুলালের পরিকল্পনাহীনতা ও উদ্দেশ্যহীনতা লক্ষ করে। নিয়তিকে কে ঠেকাতে পারে? কিন্তু চারুলাল’, হিরণের ঠোঁট নড়ছিল, ‘এ উচিত নয়। এ আইন ভঙ্গ করা।’ কিন্তু পরিতাপের বিষয়, এই আইনভঙ্গের কোনও আসামি নেই।

    বিষণ্ণ হিরণ পথে–পথে খানিকটা ঘুরল। ট্রামে উঠল, ট্রাম থেকে নেমে পড়ল হঠাৎ, সিগারেট ধরিয়েই ফেলে দিল। তার চোখের ওপর দিয়ে ভেসে গেল নিওনের সাইন–বিনাকার বাচ্চা মেয়েটা হাসছে…লিপটনের কেটলি থেকে পতনশীল আলো…লুফৎহানসার উড়ন্ত অ্যাবস্ট্রাক্ট হাঁসের চিহ্ন…হ্যান্ডলুম ফ্যাব্রিকস…ক্রয় করুন, ক্রয় করুন…সেল সেল। হিরণ ভেবে দেখল…আলো ও অন্ধকারময় এই যা আছে, পাপপূণ্যময়, ধর্মাধর্মময় এই যা আছে, সবকিছুকেই বড় গোপনে ও নিঃশব্দে অবহেলা করে চারুলাল। এইখানেই কি তার জিৎ? না কি এখানেও নয়! আরও দূর বহুদূর কোনও জায়গায় চারুলাল জিৎ রেখে গেছে, যেখানে অন্য কেউ কখনও নাগাল পাবে না! সেইখানে যা যা চেয়েছিল চারুলাল সবকিছু দু হাত ভরে পেয়েছিল। আর প্রয়োজন ছিল না বলেই কি চারুলাল অবশেষে সাঁতার না শেখার প্রয়োজন হিরণকে–একমাত্র হিরণকেই বুঝিয়ে দিয়ে গেল!

    আরও খানিকক্ষণ পরিকল্পনাহীন ও উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরল হিরণ। একটু রাত করে বাড়ি ফিরল এবং খুব তাড়াতাড়ি ঢাকা দেওয়া খাবারের সামান্য কিছু খেয়ে নিয়ে বাতি নিভিয়ে শুয়ে পড়ল। তড়িৎগতিতে অন্ধকার তাকে কামড়ে ধরল। বুঝতে পারছিল আজ রাতে তাকে অনিদ্রা রোগ আক্রমণ করবে। মশারির সাদা আবছা চালের দিকে চেয়ে হিরণের হঠাৎ মনে পড়ল অনেকদিন আগে হিরণ একটা লোককে চিনত–তার ছিল যক্ষ্মারোগ। কিন্তু সে কখনও রুগির মতো থাকেনি কয়েকবার বিভিন্ন জায়গায় হাসপাতাল থেকে সে পালিয়ে এসেছিল। রোগগ্রস্ত সেই লোকটাকে হিরণ কখনও সাহায্য করেছে কিন্তু খুশিমনে নয়। হিরণ জানত এই সাহায্য নানা লোকের কাছ থেকে পাওয়া যায় বলেই লোকটা বারবার হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আসে-নিরাময়কে বড় ভয় ছিল সেই লোকটার, কেননা, দীর্ঘকাল ধরে রোগে ভুগে–ভুগে সে সেই রোগটাকে ভালোবেসে ফেলেছিল যেমন আমরা আমাদের হাত পা নাক মুখ চোখ বিশ্বাস আত্মপ্রবঞ্চনা ও বৃথাগবগুলিকে, মেধা ও বোধগুলিকে ভালোবাসি। এর থেকে প্রতিসারিত কোনও অস্তিত্বের কথা আমরা কখনও ভেবে দেখিনি। শেষবার হিরণ লোকটাকে দেখেছিল লিন্ডসে স্ট্রিটের মুখে দাঁড়িয়ে একটা চোরাই ঘড়ি সম্ভাব্য খদ্দেরকে গছাবার তালে আছে। বিরক্ত হিরণ তাকে পাকড়াও করে প্রশ্ন করেছিল ‘এ সব কী? আপনি এখানে এভাবে কেন?’ লোকটা অনেকক্ষণ হিরণের দিকে চেয়ে বিড়বিড় করে বলেছিল তার রোগটা জটিল, এমন রোগ সহজে হয় না, সহজে সারেও না, এবং মৃত্যু অনিশ্চিত। হিরণ নিজের ধর্মবোধ ও পরোপকার প্রবৃত্তির দ্বারা চালিত হয়ে লোকটাকে প্রায় কোণঠাসা করে এনেছিল। লোকটা অবশেষে দৃঢ়ভাবে হিরণকে বলে দিল, ‘মশাই, যদি আমার ঘড়িটা কিনতে হয় তো কিনুন, নইলে নিজের পথে যান। আমি আত্মহত্যা করছি না-কেউই কখনও তা করতে পারে না।’

    এই জটিল কথাটা এতকাল হিরণ বুঝতে পারেনি। আজ হিরণ সেই লোকটার মুখ মন করতে পারে না। কিন্তু এতদিনে সে যেন সেই রোগটার অর্থ ধরতে পারছে। যদিও জটিল রোগ দুরারোগ্য–কিয়দংশে পরিকল্পিত ক্ষয় ও স্বপ্নের দ্বারা গঠিত, তবু হিরণ এর অর্থ বুঝতে পারে।

    এখন মর্গে চারুলালের মৃতদেহের ওপর তার শিল্পচিন্তাগুলি মাছির মতো এসে বসেছে। তার মেদ–মজ্জা শুষে নিচ্ছে। দুরারোগ্য সেই ব্যাধি–বড় সংক্রামক। ভাবতে-ভাবতে হঠাৎ ভয়াবহ চিৎকার করে উঠতে ইচ্ছে করে হিরণের। তার মনে হয় এক অচেনা কিন্তু সুসংবদ্ধ কার্যকারণ সূত্রে চারুলালের আত্মহত্যা সংঘটিত হয়েছে। এ আইনসম্মত এবং এ কারও অনুমতিসাপেক্ষ নয়।

    চারুলালের সঙ্গে নিজেকে সম্পূর্ণ যোগাযোগহীন ও সম্পর্কশূন্য অনুভব করে সে একবার ভাবল–এ অন্যায়। পরমুহূর্তেই ভেবে দেখল–কিন্তু হায়, চারুলালের এই মৃত্যু ধর্ম ও অধর্মে গঠিত এক ধাঁধার মতো–যার সমাধান কখনও সম্ভব নয়।

    চারুলালের কাছে পাঁচটা টাকা পাওনা ছিল। কিন্তু আজ রাত্রে হিরণ সেই পাঁচটা টাকার যাবতীয় স্বত্ব ও দাবিদাওয়া ছেড়ে দিল।

    হিরণ অনুভব করে এবার সে আস্তে-আস্তে কিংবা এক্ষুনি ঘুমিয়ে পড়বে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ২৫টি সেরা ভূত – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }