Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প905 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভুল – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    ভুল

    আগস্ট মাসের এক সকালবেলায় বিধুভূষণ নামক চল্লিশ–পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সের এক ভ ভদ্রলোক অফিসে যাওয়ার জন্য কলেজ স্ট্রিটের এক বাসস্টপে দাঁড়িয়েছিলেন।

    রাস্তা গিলতে গিলতে দোতলা বাসগুলো একটার–পর–একটা আসছিল। বিধুভূষণ সকলের মতো হাত তুলছিলেন, কিন্তু অতিরিক্ত বোঝাই ছিল বলে বাসগুলো থামল না। ড্রাইভার হাত নেড়ে পরের বাস–এ ইঙ্গিত করে গেল। এইভাবে পরপর তিনবার।

    বিধুভূষণ একবার আড়চোখে দেখে নিলেন এখানকার পুরোনো বাসস্টপটা উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে কি না। না, সেরকম কোনও ঘটনা ঘটেনি। হাতে সময় ছিল। তিনি নিশ্চিন্তভাবে অপেক্ষা। করতে লাগলেন।

    অবশেষে একটা বাস থামল। ‘নামতে দিন আগে–’ হাঁকল কন্ডাক্টর। সে দিকে কান না দিয়ে বিধুভূষণ সকলের সঙ্গে একজোটে ঢেউয়ের মতো ঝাঁপ খেলেন। কে নামল, কে উঠল তা তিনি বুঝলেন না, কিন্তু বাসটা ছেড়ে দেওয়ার পর বুঝলেন যে, তিনি উঠতে পারেননি। দু তিনজন লোক হইহই করে বাসটার পিছনে ছুটল। তিনি সেরকম কিছু না করে সতর্কভাবে হাত ঘড়ি, চশমা, মানিব্যাগ ঠিকঠাক আছে কি না দেখে নিয়ে শান্তভাবে অপেক্ষা করতে লাগলেন। আবছাভাবে তাঁর মনে হল একটা মোটা মতো লোক তাঁর সামনে পা–দানিটা আড়াল করেছিল–নইলে তিনি উঠতে পারতেন।

    পরের বাসটাও এসে থামল। ‘নামতে দিন আগে–’ কন্ডাক্টর হাঁকল। সকলে ঢেউয়ের মতো ঝাঁপ খেল। সেই ভিড়ে বিধুভূষণ ইঁদুরের মতো দ্রুত চেষ্টায় একটা গর্ত খুঁড়ে নিলেন। এবারে হ্যান্ডেলটা ধরতে পারলেন তিনি। কিন্তু পা–দানিতে পা রাখতে পারলেন না। বাসটা ছেড়ে দেওয়ার পর তিনি হ্যান্ডেল ছাড়লেন এবং বুঝলেন এবারও তিনি উঠতে পারেননি। এবারও তিনি অপেক্ষা করতে লাগলেন, কেন না এখনও সতেরো মিনিট সময় আছে। কিন্তু এবার তাঁর স্পষ্ট মনে হল একটা মোটামতো লোক–পাঞ্জাবি–পরা, ঘাড়ের চুল পুলিশদের মতো ছোট করে ছাঁটা–তাঁর পথ আটকে ছিল। তিনি দু-একবার চোখ বুলিয়ে লোকটাকে খুঁজলেন, সম্ভবত লোকটা উঠে গেছে। তিনি বিরক্তিকর ভিড় থেকে চোখ তুলে ল্যাম্পপোস্টে লটকানে চৌকো বাক্সের গায়ে একটা সিনেমার পোস্টার দেখতে লাগলেন। ‘এই তো আমাদের জাতীয় চরিত্র’–ভাবলেন তিনি–’মানুষের পথ আটকে রাখা, নিজে উঠে যাওয়া–এই সব।’

    পরের বাসটা আসতে দেখে এবার সর্তক হলেন। এ বাসটাও থামল। ‘নামতে দিন আগে’–হাঁক কন্ডাক্টর। এবার তিনি ঢেউয়ে গা ছাড়লেন না। আগে থেকে সতর্ক ছিলেন বলে শক্ত থেকে কৌশলে তিনি হ্যান্ডেল ধরলেন। বারবার তিনবার। এইবার তিনি পাদানিতে পা রাখলেন।

    কিন্তু নিয়তি। টের পেলেন কে যেন পিছন থেকে তাঁর কোমর ধরেছে। লোকটা টাল খাচ্ছে–তার নিশ্বাস বিধুভূষণের ঘাড়ের ওপর পড়ছিল। ‘আমি পড়ে যাচ্ছি যে, ও মশাই’ বিধুভূষণ। আর্তকণ্ঠে বললেন–’আমার কোমরটা ছেড়ে দিন।’ বিধুভূষণকে অবশেষে নামতে হয়। লোকটাই টেনে নামায় তাঁকে।

    কখনও যা করেন না-এমনিতেই ভিতু, শান্তপ্রকৃতির বিধুভূষণ হঠাৎ তাই করলেন। ‘এটা কী হল?’ বলে লোকটার মুখোমুখি দাঁড়ালেন। দেখলেন এই সেই লোক–পরনে পাঞ্জাবি, মাথার চুল পুলিশের মতো ছোট করে ছাঁটা–চর্বির পাহাড়। কোনও উত্তর দিল না লোকটা বিধুভূষণের দিকে চেয়েও দেখল না। অলসভাবে পান চিবোচ্ছিল। আধখোলা চোখ দুটো দেখে হঠাৎ মনে হয় লোকটা ঘুমিয়ে আছে।

    এত রেগে গিয়েছিলেন বিধুভূষণ যে, তিনি তার পুরোনো হাঁপানির চাপটা অনুভব করলেন। তাঁর গলা আটকে আসছিল এবং হাত পা কাঁপছিল। মনে পড়ল তাঁর প্রেসার সম্প্রতি দু-শোর খুব কাছাকাছি গিয়েছিল–কোনওরকম উত্তেজনা ডাক্তারের বারণ। প্রায় সঙ্গে-সঙ্গে বিধুভূষণ ঠান্ডা হয়ে গেলেন। রাস্তাঘাটে হাঙ্গামা উত্তেজনা তিনি সব সময়ে এড়িয়ে চলেন–তা ছাড়া তাঁর ভয় আছে হঠাৎ করোনারি অ্যাটাক হতে পারে। দুম করে মরে যেতে তিনি চান না।

    বিধুভূষণ সরে এলেন। লোকটার থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে তিনি দাঁড়িয়ে দেখলেন পরপর তিনখানা একই নম্বরের বাস আসছে। তিনি সাবধানে লোকটাকে দূর থেকে একবার দেখে নিলেন। আশ্চর্য! বিধুভূষণের মনে হল তাঁর কোনও কথাই লোকটার কানে যায়নি। লোকটা বিধুভূষণ যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন সেদিকে তাকাল–কিন্তু বিধুভূষণকে দেখল বলে মনে হল না। যেন বিধুভূষণের দেহ ভেদ করে লোকটার দৃষ্টি সরে গেল। কোথাও বাধা পেল না। নির্বিকার লোকটির দিকে বিধুভূষণ তাকিয়ে রইলেন, আশ্চর্য!

    তৃতীয় বাসটাতে জায়গা পেলেন বিধুভূষণ। যদিও ঠেলাঠেলি ভিড় ছিল তবু ভিতরে ঢুকতে পারলেন এবং রড ধরে দাঁড়ালেন। তাঁর অফিস পার্কস্ট্রিটে, ডালহৌসিতে বাসটা খালি হয়ে গেলে পার্কস্ট্রিট পর্যন্ত বসে যাওয়া যাবে। ঘড়ি দেখলেন বিধুভূষণ–প্রায় কুড়ি মিনিট কিংবা তারও কিছু বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। তা হোক! আঠারো বছরের পুরোনো পোষা। চাকরি তাঁর–এটুকু খাতির তিনি পেতে পারেন–পানও।

    ডালহৌসিতে বাসটা খালি হতে শুরু করল। ঠিক বিধুভূষণের সামনের সিট থেকে দুজনেই উঠে গেল–তাদের যাওয়ার জায়গাটা করে দিতে গিয়ে একটু কাত হলেন বিধুভূষণ। জানলার ধারের সিট বিধুভূষণের প্রিয়। লোকদুটো বেরিয়ে যাওয়া এবং বিধুভূষণের বসবার চেষ্টা করার ভিতরে যেটুকু সময়ের এবং দুরত্বের ব্যবধান ছিল তারই এক ফাঁক দিয়ে কী করে যে তা বিধুভূষণ বুঝলেন না-একটা মোটা মতো লোক ঢুকে গেল এবং জানলার ধারে বসে পড়ল। বিধুভূষণ তাকিয়ে দু-চোখকে বিশ্বাস করতে পারলেন না। আশ্চর্য! এ সেই লোকটা মোটামতো, পাঞ্জাবি পরা ঘাড়ের চুল পুলিশদের মতো ছোট করে ছাঁটা! মুহূর্তেই অন্যমনস্ক হয়ে গেল লোকটা, জানলার বাইরে তাকিয়ে রইল, বিধুভূষণের দিকে ফিরেই তাকাল না। কার পাছার ধাক্কা খেয়ে বিধুভূষণ লোকটার পাশেই বসে পড়লেন।

    তাহলে এসব কী হচ্ছে! বিধুভূষণ চোখ বুজে ভেবে দেখবার চেষ্টা করলেন। ছেলেবেলায়। লজিকে চান্স আর প্রব্যাবিলিটির যে কথা পড়েছিলেন তা মনে করবার চেষ্টা করে দেখলেন। কিছুই মনে পড়ল না। একবার সন্তর্পণে চোখ খুলে দেখলেন লোকটা তেমনি অন্যমনস্ক, বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। বিধুভূষণ যে পাশে আছেন তা জানে বলে মনে হল না। বিধুভূষণ লক্ষ করলেন লোকটার মুখের বাঁ-পাশেঠিক চোখের কাছেই একটা লালচে আঁচিল রয়েছে।

    তারপর ময়দানের খোলা হাওয়া লাগতেই বিধুভূষণের একটু ঢুলুনি এল। বারকয়েক ঝুঁকে পড়ল মাথা। নিজেকে এইভাবে ঘুমিয়ে নিতে দেন তিনি! জানেন, ঠিক স্টপেজে গাড়ি থামলেই তাঁর ঘুম ভেঙে যাবে। এই কোনওদিন অন্যথা হয়নি। এর সঙ্গে পাভলভের কন্ডিশনড রিফ্লেক্সের কোনও সম্পর্ক আছে কি না তা বিধুভূষণ ভেবে দেখেননি। কন্ডিশনড রিফ্লেক্সের কথা আবছাভাবে শুনেছেন তিনি। একটা কুকুরকে নিয়ে এই ধরনের পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। কিন্তু পৃথিবীর কোনও কুকুরের সঙ্গেই আজ পর্যন্ত তিনি নিজের সাযুজ্য খুঁজে পাননি।

    আজও ঠিক স্টপেজে ঘুম ভাঙল এবং বিধুভূষণ ভাতঘুম থেকে জেগে উঠে আজকের যাবতীয় ঘটনার কথা ভুলে গিয়ে অফিসের দিকে হাঁটতে লাগলেন। ঘাড়ে মাথায় ময়দানের খোলা বাতাস লাগছিল। ভারী খুশি হয়ে উঠলেন তিনি।

    অফিসে গিয়েই তিনি একগ্লাস জল খান। আজও খেলেন। হাজিরা খাতায় সই করলেন হাতঘড়ি দেখে। ঠিক পঁচিশ মিনিট লেট! তাই লিখে দিলেন। তারপর চক্রবর্তীর মুখোমুখি একই টেবিলে বসলেন বিধুভূষণ। চক্রবর্তী মাথা গুঁজে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে একটা ফাইল খুলে দেখছিল যা সে কখনও করে না। চক্রবর্তী মুখ তুলেই খুব নীচু গলায় বলল , ‘আজই লেট করলেন!’

    ‘কেন! আজ কী!’ জিগ্যেস করেন বিধুভূষণ।

    ‘আজ নতুন ম্যানেজার চার্জ নিয়েছে যে! বম্বে অফিসের লোক একটু কড়া ধাতের।’

    হাসলেন বিধুভূষণ। সে হাসিতে আত্মপ্রত্যয় ছিল–চক্রবর্তী আড়চোখে দেখল।

    দিনটা যেমন খারাপ যাবে বলে প্রথমটায় মনে হয়েছিল বিধুভূষণের তেমনটা হল না। লাঞ্চ পর্যন্ত বেশ কেটে গেল। বাকিটাও যাবে–এই ভেবে তিনি দুটি কলা দু-খানা বিস্কুট ও এক কাপ চায়ের টিফিন সেরে এসে চেয়ারে বসতেই বেয়ারা একটা চিরকুট নিয়ে এল। তাতে লেখা ‘ব্যাপারটা জরুরি। তাড়াতাড়ি আসুন।’ নীচে অস্পষ্ট সই। তার নীচে লেখা–’ম্যানেজার।’ একটু ভড়কে গেলেন বিধুভূষণ। গত আঠারো বছরে তিনি তিনবার মাত্র ম্যানেজারের ঘরে গিয়ে তাঁর। মুখোমুখি হয়েছেন–তার মধ্যেও প্রথমবার সেই ইন্টারভিউয়ের সময়। দেখলেন চিরকুটটিতে সই ছাড়া আর বাদবাকি অংশ সুন্দর ঝরঝরে টাইপ করা। বুঝলেন–নতুন ম্যানেজার কাজের লোক কোনও বিষয় অস্পষ্ট রাখতে চান না। বেয়ারার মুখে সেলাম পাঠালেও হত–কিন্তু তা তিনি করেননি।

    বিধুভূষণ কাউকে কিছু বললেন না। ব্যাপারটা গোপন রেখে তিনি দোতলা থেকে তিনতলায় উঠে এলেন। তিনতলায় মাত্র দুখানা ঘর–একখানা কমিটি রুম, অন্যটি ম্যানেজারের। দুটিই এয়ারকন্ডিশন করা–করিডোরে দাঁড়িয়েও সেই ঠান্ডা ভাব টের পাওয়া যায়। বিধুভূষণের প্রায় শীত ধরে গেল।

    নিজের নামধাম লিখে একটা চিরকুট ভিতরে পাঠানোর পরও অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হল। দুজন লোকসুটপরা–ম্যানেজারের ঘর থেকে বেরিয়ে আসবার পর তাঁর ডাক পড়ল। বিধুভূষণ প্রকাণ্ড দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলেন। দরজাটা তাঁর পিছনে আবার নিঃশব্দে বন্ধ হয়ে গেল।

    সবকিছুই প্রকাণ্ড দেখলেন বিধুভূষণ। প্রকাণ্ড জানলা, প্রকাণ্ড শেলফ, প্রকাণ্ড টেবিল–সবকিছুই খুব চকচকে ঝকঝকে। দেখলেন আরও অনেক আসবাব রয়েছে যার নাম তাঁর জানা নেই। এত কিছুর ভিতরে লোকটাকে চোখেই পড়ে না।

    লোকটা–নতুন ম্যানেজার–কিন্তু মুখ তুলল না, বিধুভূষণের নামধাম লেখা চিরকুটটার দিকে চোখ রেখে বলল , ‘আপনি ব্যাঙ্কিংয়ের কিছু জানেন?’

    বিধুভূষণকে কেউ একবার শূন্যে তুলেই নামিয়ে দিল–কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই তার ওজনটা চুরি করে নিল। নিজেকে খুব হালকা অনুভব করলেন বিধুভূষণ–পাছে পাখার বাতাসে উড়ে যান সেই ভয়ে সামনের চেয়ারে পিছনটা চেপে ধরতেই তাঁর খেয়াল হল–এই ঘরে পাখা নেই।

    চেয়ারটা চেপে ধরতে গেলে কোনও শব্দ হয়ে থাকবে। ম্যানেজার তাঁর অন্যমনস্ক চোখ তুলে বিধুভূষণকে দেখলেন। আবার একে না-দেখাও বলা যায়। সে দৃষ্টি বিধুভূষণকে ভেদ করে গেল। কোনওখানে বাধা পেল না। কিন্তু বিধুভূষণ দেখলেন বাঁ-চোখের পাশে সেই লালচে আঁচিল–মাথার চুল পুলিশদের মতো ছোট করে ছাঁটা, চর্বির পাহাড়। কী করে সম্ভব হল! আশ্চর্য!

    ‘স্যার…!’ বিধুভূষণ বললেন।

    ‘আমাদের কাজের সঙ্গে ব্যাঙ্কিংয়ের যোগাযোগ বেশি। আমার মনে হয়, আপনার ব্যাঙ্কিংটা শিখে নিতে হবে।’ ম্যানেজার বললেন, ‘আপনার বয়স কত?

    ‘আজ্ঞে?’ বিধুভূষণ কোনওরকমে মাথা ঠিক রেখে বললেন, ‘তেতাল্লিশ।’

    ‘তা এমন আর বেশি কী? এই বয়সেও অনেকে শেখে।’ ম্যানেজারকে একটু চিন্তিত দেখাল, ‘কিন্তু আপনাকে আরও বুড়ো দেখায়। ধরুন পঞ্চাশ টঞ্চাশ!’ একটু হাসলেন ম্যানেজার

    সার্টিফিকেটের বয়স তা হলে তেতাল্লিশ?’

    ‘মানে, আমার আসল বয়সও…’

    “ঠিক আছে।’ হাত তুলে বিধুভূষণকে থামালেন ম্যানেজার ‘কয়েকটা বই আপনাকে পড়তে হবে।’ ম্যানেজার খানিকক্ষণ চুপ করে রইলেন। বিধুভূষণকে দেখেও দেখলেন না। কিন্তু চোখ দুটো বিধুভূষণের দিকেই রাখা আছে।

    ‘স্যার…’ বিধুভূষণ প্রায় লিত কণ্ঠে বলবার চেষ্টা করলেন ‘বাসের সেই ব্যাপারটা।’

    ‘আপনাকে একটা অফিসিয়াল পরীক্ষাতেও পাশ করতে হবে।’ বিধুভূষণের কথায় কান না দিয়ে ম্যানেজার বললেন।

    ‘…ব্যাপারটার জন্য আমি দুঃখিত।’ বিধুভূষণ তাঁর কথা শেষ করেন।

    ‘কোন ব্যাপারটা?’ ভ্রূ কোঁচকালেন ম্যানেজার।

    ‘কলেজ স্ট্রিটে পৌনে দশটা–না, দশটা বাজতে সতেরো মিনিটের সময়…’

    ‘কী হয়েছিল?

    বিধুভূষণ অসহায়ভাবে মেঝের কার্পেটের দিকে চোখ রেখে বললেন, ‘ব্যবহারটা খুবই খারাপ হয়েছিল স্যার–আমি স্বীকার করছি। আপনাকে চিনতে পারিনি!’

    ‘কখন? কোথায়?’

    ‘কলেজ স্ট্রিটে স্যার, পৌনে দশটায়না,দশটা বাজতে সতেরো মিনিটের সময়…’

    ‘পৌনে দশটা! কলেজ স্ট্রিট!’ ম্যানেজারকে খুব অন্যমনস্ক দেখাল, ‘কিন্তু আমি তো অনেক আগে অফিসে এসেছি! সাড়ে ন’টায়।’ বলেই সকৌতুকে বিধুভূষণের দিকে তাকিয়ে নিষ্ঠুরভাবে হাসলেন ম্যানেজার, ‘আপনি আমাকে পেলেন কোথায়? আর আমার ফ্ল্যাট তো বালিগঞ্জে!’

    বিধুভূষণ কথা খুঁজে পেলেন না। কিন্তু তাঁর মনে হচ্ছিল এর উত্তরে উপযুক্ত যে কথাগুলো বলা যায় সেগুলো তাঁর মাথার চারপাশে বাতাসের ভিতরে বিজবিজ করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারই দু-একটা ধরবার জন্য তিনি মাথা ঝাঁকালেন, কান চুলকোলেন, হাত দিয়ে মশা তাড়ানোর মতো বাতাসে  ঝাঁপটা মারলেন। শেষপর্যন্ত তাঁর মুখ দিয়ে বেরোল, ‘ভুল স্যার…সবই ভুল…’

    ‘Crasy?’ হাসলেন ম্যানেজার, ‘কিন্তু ব্যাঙ্কিংটা ভুললে চলবে না। মনে থাকবে?

    অসহায় বিধুভূষণ মাথা নাড়লেন–থাকবে।

    ‘আর দেখছি–আপনি আজ পঁচিশ মিনিট লেট!’ বলে সোনার চেনে বাঁধা গাড়ির চাবিটা বোঁ করে ঘোরালেন ম্যানেজার। বিধুভূষণের মনে পড়ল ম্যানেজারের গাড়ি আছে–অফিস থেকেই গাড়ি দেওয়া হয়। চাবিটা ঘোরাতে–ঘোরাতেই ম্যানেজার বললেন, ‘এরকম যেন আর না হয়।’

    কি না হওয়ার জন্য বলেছেন ম্যানেজার, তা না বুঝেই বিধুভূষণ মাথা নাড়লেন–হবে না।

    ‘আপনি আসুন তাহলে…’ ম্যানেজার বললেন, তাঁর হাতে তখনও চাবিটা ঘুরছে, তিনি অস্ফুট গলায় বললেন, ‘পৌনে দশটা! কলেজ স্ট্রিট!’

    বিধুভূষণ ফিরে আসছিলেন, কী একটা শব্দে পিছন ফিরে দেখলেন ম্যানেজারের হাত থেকে চাবিটা ছিটকে প্রথমে গ্লাসটপ টেবিলের ধারে লেগে মেঝের কার্পেটের ওপর পড়ে গেল। অন্যমনস্ক ম্যানেজার সেটা তুলতে নীচু হতেই ভীষণ চমকে উঠলেন বিধুভূষণ। তাঁর মনে হল ম্যানেজারের পিছন দিকটা কলকবজায় ভরা। রেডিওর পিছনের ঢাকনাটা খুলে ফেলল ভেতরটা যেমন দেখায়, অনেকটা তেমনি। মনে হল কোমরে একটা প্লাগ লাগানো আছে যার তার কোনও গুপ্ত প্লাগ পয়েন্ট পর্যন্ত গেছে! বিস্ময়ে ঘুরে দাঁড়ালেন বিধুভূষণ। এক পলকের ভুল সংশোধন করে ম্যানেজার আবার সোজা হয়ে বসেছেন তখন, গম্ভীর মুখ, চোখ অন্যমনস্ক। ধীরে বললেন, ‘আপনি আসুন।’

    বিধুভূষণ কিছুই বললেন না। তাঁর মনে হল তিনি এক অদৃশ্য বেতার সংকেত পেলেন, ম্যানেজারের দূরমনস্ক চোখ যেন বলল , ‘কী করা যাবে বলুন, চাবিটা পড়ে গেছে–সুতরাং সেটা কুড়িয়ে নেওয়াই নিয়ম! একটা ভুল হয়ে গেছে–আপনি আমার কলকবজা দেখে ফেলেছেন। কিন্তু আমার কি করার ছিল?

    বিধুভূষণ একটু ইতস্তত করলেন। কিন্তু ম্যানেজারের পিছন দিকটা আর দেখা গেল না। এবার উনি খুব সতর্ক। বিধুভূষণকে উঁকিঝুঁকি দিতে দেখে বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘কী ব্যাপার?

    ‘কিছুনা স্যার!’ বিধুভূষণ খানিকটা দুঃসাহসে ভর করে হাসলেন, ‘আপনার পিছনটা…’

    ‘আমার পিছনটা..! ম্যানেজার হাঁ করে বিধুভূষণকে দেখতে লাগলেন।

    ‘আজ্ঞে, আমি দেখে ফেলেছি!’ দুষ্টু ছেলের মতো মুখ করলেন বিধুভূষণ।

    কী দেখেছেন?’ প্রশ্ন করলেন ম্যানেজার।

    ‘আপনার পিছনে…’বলতে গেলেন বিধুভূষণ।

    প্রায় লাফিয়ে উঠলেন ম্যানেজার, ‘কী? কাঁকড়াবিছে? আরশোলা?’ উঠে দাঁড়ালেন ম্যানেজার।

    বিধুভূষণ দেখলেন। না, কলকবজা কিছুই নেই। পাঞ্জাবির সাদা পিঠ দেখা যাচ্ছে। এ কি চোখে দেখবার ভুল। নিজের চোখ কচলালেন বিধুভূষণ। কোনওক্রমে বললেন, ‘ভুল স্যার…সবই ভুল…’

    মুহূর্তেই ম্যানেজারের ফরসা মুখ রাঙা হয়ে গেল। তিনি উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। দু-হাতে পাঞ্জাবির পিছন দিকটা ঝাড়বার চেষ্টা করেছিলেন। হঠাৎ বিধুভূষণের কথা শুনে তিনি যেন আরশোলা বা কাঁকড়াবিছে খুঁজে না পেয়ে ভয়ংকর রেগে গিয়ে বললেন, ‘নাউ গেট ইওরসেলফ আউট! ইউ…ইউ…!’

    বিধুভূষণ নিঃশব্দে দরজা ঠেলে বেরিয়ে এলেন। আসতে-আসতে শুনলেন ম্যানেজার চাপা রাগের গলায় বলছেন, ‘কলেজ স্ট্রিট…পৌনে দশটা…আমার পিছনটা…কাঁকড়াবিছে…আরশোলা! এর মানে কী?’

    ‘ভুল…স্যার…সবই ভুল…’ বিধুভূষণ মনে-মনে বললেন। বাইরে এসে করিডোর ধরে এগিয়ে গেলেন তিনি। চাকরিটা বোধহয় আর রাখা গেল না। কিন্তু কেন? কেন? কোথায় ভুল হচ্ছে।

    নিজের সিটে এসে বসবার কিছুক্ষণ পরেই সেকশন ইনচার্জ-এর একটা চিরকুট পেলেন বিধুভূষণ। তাতে লেখা : ‘ম্যানেজারের আদেশ মতো আপনাকে জানানো হচ্ছে যে, ম্যানেজার মনে করেন আপনি আজ খুব সুস্থ নন। আপনাকে অফিস ছেড়ে যাওয়ার এবং বিশ্রাম নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। আজ এখন আপনার ছুটি।’ নীচে অস্পষ্ট সই। তার নীচে লেখা ‘সেকশন ইনচার্জ।’

    মুহূর্তেই খুশি হয়ে উঠলেন বিধুভূষণ। গত আঠারো বছর চাকরিতে এই প্রথম তিনি একা ওপরওয়ালার ইচ্ছেয় ছুটি পেয়েছেন। কাউকে কিছু বললেন না বিধুভূষণ, চক্রবর্তীকেও না। তাড়াতাড়ি ফাইলে কাগজপত্র বেঁধে–হেঁদে রাখলেন। আশ্চর্য! তাঁর বিশ্রাম দরকার! কথাটা তাঁর নিজেরও অনেকবার মনে হয়েছে। আশ্চর্য!

    বেরিয়ে পড়লেন বিধুভূষণ। বেরিয়েই একটা ট্যাক্সি ধরলেন। পিছনের সিটে গা এলিয়ে দিয়ে চোখ বুজে বললেন, ‘কলেজ স্ট্রিট–না, না, কলেজ রো…’

    ট্যাক্সি দ্রুত চলল। হুহু করে হাওয়া লাগছিল বিধুভূষণের চোখে–মুখে। মুহূর্তেই ভাতঘুমটা ফিরে আসতে চাইছে টের পেয়ে যেন আধাস্বপ্নের ভিতর হাসলেন বিধুভূষণ। অনেক কিছুর শখ ছিল তাঁর। নিজের এমনি একটা গাড়ি থাকলে এমনি ঘুমিয়ে–ঘুমিয়ে অফিসে আসতে পারতেন তিনি, ঘুমিয়ে যেতেও পারতেন। না, কিছুই হয় না নিজের মনোমতো, কখনওই হয় না। কিন্তু কেন?

    সামান্য চোখ খুলে তিনি বাইরের দিকটা দেখলেন। খানিকক্ষণ দেখেই চমকে উঠলেন তিনি –এ তো রেড রোড। আশ্চর্য! এ রাস্তায় তো তাঁর আসবার কথা নয়। ঝাঁঝিয়ে উঠলেন তিনি ‘এটা কী হল, অ ট্যাক্সি ড্রাইভার?’ ‘এটা তো রেড রোড…ধর্মতলা যে…’ ট্যাক্সিওয়ালা মুখ ঘোরাতেই খানিকটা থতমত খেয়ে আমতা-আমতা করে বিধুভূষণ বললেন, ‘ভুল স্যার…সবই ভুল…’ তিনি চোখ বুজে ফেললেন। কেন না ততক্ষণে ট্যাক্সি ড্রাইভারের বাঁ চোখের পাশে লালচে আঁচিলটা। দেখে ফেলেছেন, সেই পুলিশদের মতো ছোট করে ছাঁটা চুল, পরনে পাঞ্জাবি। আশ্চর্য! আর কিছুই দেখতে চাইলেন না বিধুভূষণ। শুধু আর-একবার বিড়বিড় করলেন ‘ভুল স্যার…’

    ড্রাইভার ঘাড় ঘুরিয়ে নিলে অনেকক্ষণ পর আর-একবার অতি সন্তর্পণে চোখ খুললেন বিধুভূষণ। টেলিভিশন তিনি কখনও দেখেননি। কিন্তু তাঁর হঠাৎ মনে হল সামনের উইন্ডস্ক্রিন। জুড়ে ছবি ভেসে উঠেছে, অচেনা পথঘাট, অচেনা গাছ, অদেখা বাড়ি–ঘর, লোকজন। এ কি বিদেশ! এত সহজে বিদেশ! এত অল্প সময়ে! না কি টেলিভিশন! মোটা ফরসা ম্যানেজারের কাঁধের পাশ দিয়ে কিছুক্ষণ সেই টেলিভিশন দেখে তিনি আর-একবার বলবার চেষ্টা করলেন ‘ভুল স্যার..সবই ভুল…’ম্যানেজার–এখন ড্রাইভার–তাঁকে লক্ষই করল না।

    চোখ বুজে হঠাৎ পরম আরামে ঘুমিয়ে পড়লেন বিধুভূষণ।

    কলেজ রো–তে নেমে ট্যাক্সি ভাড়া মিটিয়ে দিলেন তিনি। ভাড়াটা সরাসরি ম্যানেজারের হাতে দিতে একটু লজ্জা করছিল তাঁর। ম্যানেজার সেদিকে ক্ষেপও করল না, তাঁর দিকেও তাকাল না। এমন কি ভাড়ার এক টাকা কুড়ি পয়সা গুনেও নিল না। বিধুভূষণ বিনীতভাবে নমস্কার করলেন তাঁকে।

    ট্যাক্সিটা চলে গেল। সেইদিকে চেয়ে রইলেন বিধুভূষণ। আশ্চর্য!

    বাড়িতে ঢুকতেই একটা হইচই পড়ে গেল। বড় দুই ছেলেমেয়ে ছুটে এল, গিন্নি নেমে এলেন হাঁপাতে-হাঁপাতে, ‘কি গো, কী হয়েছে তোমার? শরীর–টরীর?

    মৃদু হেসে বরাভয়ের ভঙ্গিতে হাত তুলে তাদের নিরস্ত করলেন বিধুভূষণ, ‘কিছু হয়নি।’

    ‘তাহলে অফিস?’

    ‘ছুটি হয়ে গেল আজ।’

    ‘কেন গো?’

    হঠাৎ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন বিধুভূষণ, ‘একজন কেরানি মারা গেল হঠাৎ। তাই..’ একটু চুপ করে থেকে বললেন, ‘আমাকে বিরক্ত কোরো না কেউ। আমি একটু ঘুমোব।’ বলে সিঁড়ি ভেঙে নিজের ঘরে এলেন বিধুভূষণ। সন্তর্পণে দরজা বন্ধ করে ছিটকিনি তুলে দিলেন।

    কী করে, কোন পথে গেলে লোকটাকে এড়ানো যায়–তা বিধুভূষণ ভেবে পেলেন না। চাকরি ছেড়ে দিয়ে ঘরে বসে থাকবেন! কিন্তু সেটা কেমন দেখাবে? তা ছাড়া তাঁর ছেলেমেয়েরাও বড় হয়নি–বুড়ো মা-বাবাকে টাকা পাঠাতে হয়–গিন্নিকে নিয়ে তাঁর সাধআহ্লাদ এখনও মেটেনি। কী করবেন বিধুভূষণ?

    অনেক ভেবে–টেবে দেখলেন বিধুভূষণ। তাঁর মনে হল এ ব্যাপারটা কাউকে জানিয়ে দিলে হয়। কাকে জানাতে হবে তার কিছুই তিনি জানেন না। তবু আবছাভাবে তাঁর মনে হল এ ব্যাপারে একটা যুক্তিপূর্ণ অভিযোগ তিনি খাড়া করতে পারেন।

    কিছুই জানেন না বিধুভূষণ কাকে জানাবেন কী জানাবেন–এবং কীভাবে জানাবেন–তবু তিনি গোটা দুই ফুলস্ক্যাপ কাগজ তাঁর ছেলের লম্বা খাতা থেকে ছিঁড়ে নিলেন। তারপর কলম বাগিয়ে বসলেন তিনি।

    পাঠ লিখলেন : ‘মান্যবরেষু।’

    তারপর লিখলেন : আমার একটি অভিযোগ আছে…

    তারপর কী লিখবেন ভেবে না পেয়ে কলম কামড়ে ধরে জানালার বাইরের দিকে তাকিয়ে রইলেন। কোথায় কী একটা গোলমাল রয়েছে, ষড়যন্ত্র রয়েছে যা কিছুতেই ধরতে পারছেন না তিনি। উঠে খানিকক্ষণ পায়চারি করলেন। আবার বসলেন, খানিকটা আঁকিবুকি করলেন কাগজটার ওপর। আরও কাগজ ছিড়লেন খাতা থেকে। তারপর টেবিলে মাথা রেখে আস্তে-আস্তে ঘুমিয়ে পড়লেন বিধুভূষণ।

    ঘুম ভাঙল গিন্নির ডাকে। ধড়মড় করে উঠে দেখলেন অন্ধকার হয়ে এসেছে। দরজা খুলে দিতেই গিন্নি বললেন ‘এত ঘুম!’ বেঁকিয়ে উঠতে যাচ্ছিলেন বিধুভূষণ হঠাৎ তাঁর মনে পড়ল। এতক্ষণ অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেছেন তিনি। স্বপ্ন দেখেছেন যে একটা স্বপ্ন দেখে তাঁর ঘুম ভেঙে গেছে–কিন্তু আশ্চর্য হচ্ছে এই যে সেই ঘুম ভাঙাটাও আসলে স্বপ্নের ভিতরেই ঘটেছে–তারপর আরও একবার ঘুম ভাঙল, তাঁর মনে হল আগের জেগে ওঠাটাই স্বপ্ন ছিল। এইভাবে একটার–পর একটা স্বপ্ন ভাঙছিল তাঁর আরও মনে হচ্ছিল আগের স্বপ্নটাই ছিল স্বপ্ন, আগের ঘুমটাই ছিল ঘুম। স্বপ্নের ভিতরে স্বপ্ন, তার ভিতরে স্বপ্ন এবং প্রতিটি স্বপ্নই ভেঙে যাওয়ার স্বপ্ন। এই ভাবে ঘুমের ভিতরে ঘুম ভেঙে যাওয়ার স্বপ্ন এবং তারও ভিতরে ঘুম ভেঙে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে-দেখতে কতদূর তলিয়ে গিয়েছিলেন বিধুভূষণ? ভেবেই উত্তেজিত হলেন বিধুভূষণ। রক্তচাপ বেড়ে গেল। গিন্নিকে বললেন, ‘আমায় একটা রামচিমটি কাটো তো! প্রথম-প্রথম যেমন কাটতে!’

    ‘কেন গো?’

    ‘বুঝতে পারছি না জেগে আছি কি না।’

    ‘আহা।’ গিন্নি বললেন।

    ‘দ্যাখো না!’

    গিন্নি ফিক করে হেসে ফেললেন। হাসিটা চমৎকার, দুপাশে দুটি ছোট-ছোট আক্কেল দাঁত দেখা যায়–এখনও বুকের ভিতর তোলপাড় করে ওঠে বিধুভূষণের। তিনি দুই ব্যগ্র হাত বাড়িয়ে দিতেই গিন্নি ছুটে পালালেন।

    বিধুভূষণ হাই তুললেন। লাইট জ্বাললেন। তারপর চুপচাপ টেবিলের ওপর অভিযোগ পত্রটার দিকে তাকিয়ে রইলেন : ‘মান্যবরেষু, আমার একটি অভিযোগ আছে…’ ব্যস, আর কিছু লেখা নেই।

    গিন্নি চা নিয়ে এলেন কিছুক্ষণ পর। চায়ের কাপটা রেখে সদ্য বাঁধা খোঁপাটা ঠিকঠাক করতে করতে হঠাৎ বললেন, ‘ওঃ, তোমায় বলতে ভুলে গেছি। তুমি যখন ঘুমোচ্ছিলে তখন তোমায় খুঁজতে একটা লোক এসেছিল।’

    চায়ের কাপটা প্রায় উলটে ফেলে ঘুরে দাঁড়ালেন বিধুভূষণ, ‘কে?’

    গিন্নি হেসে বললেন, ‘কে যেন চিনি না। একটা চিরকুট দিয়ে গেছে।’

    ‘কেমন চেহারা লোকটার?’ রুদ্ধশ্বাসে বললেন বিধুভূষণ।

    ‘তেমন লক্ষ করিনি তো! তবে বেশ সুন্দর চেহারা। ফরসা, মোটা–সোটা, ছোট করে ছাঁটা চুল।’

    ‘পুলিশদের মতো?’

    ‘না, পুলিশ–টুলিশ মনে হল না তো?’

    ‘আহা, পুলিশ কে বলছে! বলছি চুলটা কি পুলিশদের মতো?’

    ‘কী জানি বাপু!’ রসালো ঠোঁট উলটে বললেন গিন্নি। কিন্তু সেদিকে লক্ষ করলেন না বিধুভূষণ, জিগ্যেস করলেন, ‘বাঁ-চোখের পাশে একটা লালচে আঁচিল ছিল? মনে করে দ্যাখো তো?’

    গিন্নি খানিকক্ষণ ভেবে বললেন, ‘ঠিক মনে পড়ছে না, তবে হতে পারে। চোখ দুটো যেন কেমন বাপু, এমন হাঁ করে দেখছিল। মনে হচ্ছিল কোথায় যেন…’

    ‘ম্যানেজার…’ প্রায় আর্তকণ্ঠে বললেন বিধুভূষণ।

    ‘কে? কার কথা বলছ!’

    জবাব দিলেন না বিধুভূষণ, হঠাৎ দু-হাত বাড়িয়ে বললেন, ‘কই দেখি!’

    চমকে দু-হাত পিছিয়ে গেলেন, গিন্নি, বললেন, ‘কী চাইছ? তোমার লজ্জা শরম…’

    ‘আহা ওসব নয়, চিরকুটটা দেখি!’

    ‘ওঃ! যেন খানিকটা হতাশ হলেন গিন্নি। আঁচলের গেরো খুলে চিরকুটটা দিলেন বিধুভূষণের হাতে। চলে যেতে-যেতে প্রায় হতাশ অস্ফুট গলায় বললেন, ‘কী যে হয়েছে তোমার…’

    চিরকুটটা খুলে স্তব্ধ হয়ে গেলেন বিধুভূষণ। ঝকঝকে টাইপ পরা ছোট্ট একটু চিঠি : ‘এতদ্বারা শ্ৰীবিধুভূষণ সরকারকে জানানো যাইতেছে যে আমরা তাহার অভিযোগপত্রটির প্রাপ্তি স্বীকার করিতেছি…’

    তাড়াতাড়ি আবার টেবিল হাতড়ে দেখলেন বিধুভূষণ–অভিযোগপত্রটা তখনও লেখাই হয়নি, শুধু পাঠটুকু লেখা আছে: মান্যবরেষু, আমার একটি অভিযোগ আছে…।’

    আস্তে-আস্তে আবছাভাবে বুঝলেন বিধুভূষণ–এই অদ্ভুত খানাতল্লাশি থেকে তাঁর কোনও রেহাই নেই। আবছাভাবে তিনি ম্যানেজারের পিছনের সেই কলকবজা, প্লাগ ও গুপ্ত প্লাগ পয়েন্ট, বেতার সংকেত ও টেলিভিশনের অর্থ ধরতে পারলেন।

    হতাশভাবে বসে রইলেন বিধুভূষণ। না, তাঁর আর কিছুই করবার নেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ২৫টি সেরা ভূত – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }