Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শী – হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড

    নিয়াজ মোরশেদ এক পাতা গল্প227 Mins Read0
    ⤶

    ২৬-২৮. আমি, লিও, আর জব

    ২৬.

    আমি, লিও, আর জব গায়ে গায়ে সেঁটে দাঁড়িয়ে আছি। আয়শা সম্ভবত মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। কারো মুখে কথা নেই।

    তারপর, মনে হলো অনেক দূর থেকে ভেসে এলো প্রথম শব্দটা। ক্রমশ বাড়ছে এবং এগিয়ে আসছে। শোনার সঙ্গে সঙ্গে আয়শা দ্রুতহাতে খুলে ফেললো তার পোশাক। কোমরের দুমাথাওয়ালা সোনার সাপটা একটু উঁচু করে ধরে শরীরে একটা ঝাকি দিতেই ঢিলে পোশাকটা পিছলে নেমে গেল পায়ের কাছে। আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আয়শা, সম্পূর্ণ নগ্ন। তার সাদা শরীরের প্রতিটি অংশ দেখতে পাচ্ছি আমরা। একটা মাত্র শব্দে সৌন্দর্যের বর্ণনা দিতে পারি আমি স্বর্গীয়।

    বজ্রগর্জনের মতো হয়ে উঠেছে শব্দ। ঘুরতে ঘুরতে মাথা তুলছে বর্ণিল উজ্জ্বল আগুনটা। এগিয়ে এসে লিওর গলা জড়িয়ে ধরলো আয়শা।

    প্রিয়তম, প্রিয়তম! বিড়বিড় করে বললো সে। কোনোদিন কি বুঝবে কতটা ভালোবাসি তোমাকে? আলতো চুমু খেলো ওর কপালে। তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে এগিয়ে গেল আগুনের ভেতর।

    বাড়ছেই গুরুগম্ভীর শব্দটা। আগুনও ক্রমশ উজ্জ্বল হচ্ছে। লকলকে শিখা ঘিরে ধরলো আয়শাকে। ওর সাদা শরীর আগুনের রঙধনু রঙে রঙিন হয়ে উঠলো। এই দেখতে পাচ্ছি ওর অসম্ভব সুন্দর মুখটা, পরমুহূর্তে হারিয়ে যাচ্ছে আগুনের আড়ালে। ঘুরেফিরে হাত-পা নেড়ে শরীরের সব জায়গায় আগুন স্পর্শ করানোর চেষ্টা করছে সে। কিন্তু আশ্চর্য। কোনো জ্বালা যন্ত্রণা বা কষ্টের ছাপ নেই তার মুখে বা আচরণে। বরং পরম পরিতৃপ্তির একটা ভঙ্গি আয়শার চেহয়।

    তারপর হঠাৎ আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই অবর্ণনীয় এক পবির্তন লক্ষ্য করলাম ওর মুখে। পরিতৃপ্তির ভাবটা মিলিয়ে গেছে, সেখানে টে উঠেছে শুকনো কাঠোর একটা অভিব্যক্তি। ওর লাবণ্যও কি ম্লান হয়ে গেছে একটু? চোখের অপূর্ব উজ্জ্বলতা মিইয়ে এসেছে। ভুল দেখছি না তো? দুহাতে চোখ ডললাম আমি। ইতিমধ্যে শব্দ কমে আসতে শুরু করেছে। আগুনের উজ্জ্বলতাও ক্রমে ম্লান হয়ে আসছে। কয়েক মুহূর্তের ভেতর মিলিয়ে গেল দুটোই।

    লিওর সামনে এসে দাঁড়ালো আয়শা। আমার মনে হলো, ঝরনার সেই সাবলীল ছন্দ যেন নেই তার হাঁটায়! দুহাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরতে গেল লিওকে, কিন্তু ওর হাতের সেই সৌন্দর্য কোথায়? সরু কাঠির মতো হয়ে গেছে। আর তার মুখ-ও, ঈশ্বর!-আমার চোখের সামনে বুড়োটে হয়ে যাচ্ছে আয়শার মুখ! লিও-র চোখে পড়েছে এই পরিবর্তন; ছিটকে দুপা পেছনে সরে গেল ও।

    কি ব্যাপার, প্রিয়তম ক্যালেক্রেটিস? বললো আয়শা, কিন্তু কোথায় সেই মধুর সঙ্গীতের মতো কণ্ঠস্বর? কেমন ফ্যাসফেসে কর্কশ শোনালো গলাটা।

    আরে, এ কি-একি? বিভ্রান্ত ভঙ্গিতে বললো সে। এমন ঝিমুনি আসছে কেন? আগুনের গুণ নিশ্চয়ই বদলে যায়নি? ক্যালিক্রেটিস, ও ক্যালিক্রেটিস! আমার চোখে কি হয়েছে? সব কিছু ঝাঁপসা হয়ে আসছে কেন? দুহাতে মাথা আঁকড়ে ধরলো সে। কিন্তু ওই—ওহ! তার আজানুলম্বিত চুলগুলো খসে পড়েছে মাটিতে! সবগুলো! একটাও নেই মাথায়! কুৎসিত একটা টাক যেন ভেংচাচ্ছে আমাদের।

    ওহ, দেখুন, স্যার!-দেখুন!–দেখুন! তীক্ষ্ণ্ণ স্বরে চিৎকার করে উঠলো জব। আতঙ্কে কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে ওর চোখ দুটো, ঠোঁটের কোনায় ফেনা জমে গেছে। দেখুন!-দেখুন! ও কেমন কুঁচকে যাচ্ছে! বানর হয়ে যাচ্ছে। আর একটা কথাও উচ্চারণ করতে পারলো না জব, গোঁ গোঁ করতে করতে পড়ে গেল মাটিতে।

    আমার অবস্থাও মোটেই ভালো নয়। চোখেব সামনে সেই আয়শার এ কি চেহারা হলো? এখনো সঙ্কুচিত হচ্ছে ওর দেহ। সোনার সাপটা পিছলে নেমে গেছে সুগঠিত কোমর থেকে। সাদা ত্বকের রঙ বদলে ময়লা ময়লা হলদেটে বাদামী হয়ে গেছে। নিখুঁত হাত দুটোয় হাড় আর চামড়া ছাড়া কিছু নেই। আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না আয়শা। পড়ে গেল মেঝেতে। তারপর রক্তহিম করা তীক্ষ্ণ্ণ কর্কশ গলায় চিৎকার করে উঠলো একবার, ওহ!

    ছোট্ট একটা বানরের চেয়ে ছোট হয়ে গেছে আয়শার আকৃতি। মুখটার দিকে তাকালে ভয় করে। শরীরের দিকে তাকালে ঘেন্না লাগে। এই কি সেই দোর্দণ্ড প্রতাপ, অনন্ত যৌবনা আয়শা?

    কঙ্কালসার হাত দুটোয় ভর দিয়ে অনেক কষ্টে শেষ বারের মতো উঠে বসলো সে। কচ্ছপের মতো ধীরে ধীরে এপাশে ওপাশে মাথা দোলালো। কিছু দেখতে পাচ্ছে না আয়শা, সাদাটে চোখ দুটোর ওপর ঘষা কাচের মতো একটা পর্দা পড়ে গেছে।

    ক্যালিক্রেটিস, খসখসে কাঁপা কাঁপা গলায় বললো সে। আমাকে ভুলো না, ক্যালিক্রেটিস। আমার লজ্জায় দুঃখবোধ করো। আমি মরবো না, আমি আবার আসবো, অন্তত আর একবার আমি সুন্দর হবো, শপথ করে বলছি! ওহ-হ-হ- মুখ থুবড়ে পড়ে গেল সে।

    কুড়ি শতাব্দী আগে আয়শা যেখানে হত্যা করেছিলো আইসিসের পুরোহিত ক্যালিক্রেটিসকে, ঠিক সেখানেই মারা গেল সে।

    তীব্র আতঙ্কের ধাক্কাটা সামলাতে পারলাম না আমরা। প্রথমে লিও পরে আমি পড়ে গেলাম মাটিতে। তারপর আর কিছু মনে নেই।

    .

    এভাবে কতক্ষণ ছিলাম জানি না। যখন চোখ মেললাম, দেখলাম, জব আর লিও তখনও পড়ে আছে মাটিতে। সেই গোলাপী আলোয় তখনো ভরে আছে গুহা। কিছুদূরে বানরের মতো অবয়বটা পড়ে আছে। হায়, এককালে ওটাই ছিলো মহামহিমাময়ী অপরূপা আয়শা!

    কেন এমন হলো? রহস্যময় প্রাণদায়ী আগুনের প্রকৃতি কি বদলে গেছে? মাঝে মাঝে ওটা প্রাণের বদলে মৃত্যুর নির্যাস বয়ে আনে? নাকি একবার যে ওতে স্নান করে দ্বিতীয়বার সে ওতে ঢোকার ক্ষমতা হারায়—অর্থাৎ প্রথমবারে যে প্রাণশক্তি পাওয়া যায় দ্বিতীয়বারে তা-ই আবার নষ্ট হয়ে যায়? হতে পারে। এটাই সম্ভব বলে মনে হলো আমার কাছে। সত্যি সত্যি যদি আয়শা ওতে স্নান করেই অন্তত যৌবন লাভ করে থাকে তাহলে এছাড়া আর কোনো কারণ থাকতে পারে না তার অমন পরিণতি হওয়ার।

    জ্ঞান ফেরার পর কিছুক্ষণ শুয়ে শুয়ে ভাবলাম এসব। তারপর উঠে বসলাম ধীরে ধীরে। স্বাভাবিক শারীরিক শক্তি ফিরে পেতে শুরু করেছি। উঠে প্রথমে যে কাজটা করলাম তা হলো, আয়শার সাদা পোশাকটা কুড়িয়ে নিয়ে ঢেকে দিলাম বানরের মতো দেহটা। পাছে লিও জেগে উঠে ওটা দেখে আবার জ্ঞান হারায় তাই খুব তাড়াতাড়ি করলাম কাজটা।

    তারপর আয়শার সুগন্ধি চুলের গোছা ডিঙিয়ে জবের কাছে গেলাম। মুখ মাটিতে দিয়ে পড়ে আছে বেচারা। ঝুঁকে চিৎকার করতেই অদ্ভুত এক ভঙ্গিতে আছড়ে পড়লো ওর একটা হাত। শিরশির করে ঠাণ্ডা একটা স্রোত বয়ে গেল আমার শরীর বেয়ে। তীক্ষ্ণ্ণ চোখে তাকালাম ওর মুখের দিকে। এবং একবার দেখেই বুঝে নিলাম যা বোঝার। আমাদের পুরানো বিশ্বস্ত ভূত জব মারা গেছে। আতঙ্কের প্রচণ্ডতা সামলাতে পারেনি বেচারার স্নায়ু। গভীর দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো আমার বুক চিরে। কিন্তু এ নিয়ে বেশিক্ষণ আক্ষেপ করার অবসর পেলাম না। জ্ঞান ফিরেছে লিওর। জবের মৃত্যুসংবাদ দিলাম ওকে। ওহ! এ ছাড়া আর কিছু বলতে পারলো না সে। আয়শার ভয়ানক পরিণতি দেখে স্নায়ুগুলো কেমন ভোঁতা হয়ে গেছে আমাদের।

    উঠে গিয়ে লিওর পরিচর্যায় লাগলাম আমি। জবের মতো ও-ও আতঙ্কে মরে যায়নি দেখে কি স্বস্তি যে পেলাম তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। কিছুক্ষণের ভেতর উঠে বসলো ও। এবং তারপর আরেকটা ভয়ঙ্কর ব্যাপার আমার নজরে পড়লো। এই ভয়ানক জায়গায় যখন ঢুকি তখনও লিওর কোঁকড়া চুলগুলো সোনালি ছিলো। এখন দেখছি ধীরে ধীরে ছাইরঙা হয়ে যাচ্ছে সেগুলো। আরো কিছুক্ষণ পর তুষারের মতো সাদা হয়ে গেল সব। দেখে মনে হচ্ছে বিশ বছর বেড়ে গেছে ওর বয়েস।

    এবার কি করবো আমরা? ক্লান্ত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো লিও।

    ভাগার চেষ্টা! অবশ্য তুমি যদি ওর ভেতর যেতে চাও তাহলে আলাদা কথা। আগুনের স্তম্ভটার দিকে ইশারা করলাম আমি, ইতিমধ্যে আবার উদয় হয়েছে সেটা।

    যদি জানতাম ওর ভেতর ঢুকলে নিশ্চিত মরবো তাহলে সত্যি যেতাম, একটু হেসে জবাব দিলো লিও। আমার দ্বিধাই কাল হয়েছে। আমি যদি ইতস্তত না করতাম তাহলে হয়তো প্রমাণ করার জন্যেও ঢুকতে না ওতে, এই করুণ পরিণতি-ও হতো না। আমিই দায়ী ওর মৃত্যুর জন্যে। তবে হ্যাঁ, ওর শেষ কথা মনে আছে আমার, আবার ও আসবে। আমি ওকে খুঁজবো। আর বেশি দিন হয়তো বাঁচবো না–কিন্তু যে কদিনই, ওর খোজেই থাকবো।

    সম্ভবত কথাগুলোর সঠিক অর্থ অনুধাবনে ব্যর্থ হলো আমার মস্তিষ্ক। জবাবে শুধু বললাম, চলো, লিও, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চলে যেতে হবে এই ভয়ঙ্কর জায়গা থেকে।

    .

    ২৭.

    কোনো ঝামেলা ছাড়াই গুহাগুলো পেরিয়ে এলাম আমি আর লিও। ওল্টানো চোঙের মতো ঢালটার কাছে পৌঁছে দেখা দিলো সমস্যা। একটা নয় দুটো। প্রথমত, কোন পথে যাবো; দ্বিতীয়ত, আলোর অভাব। প্রদীপ দুটো এমন টিম টিম করে জ্বলছে যে, সে আলোয় পথ ঠাওরানো দুষ্কর। তিন-চারবার বিভিন্ন দিকে মুখ করে উঠে গেলাম ঢাল বেয়ে, কিন্তু যে সরু সিঁড়ি বেয়ে নেমেছিলাম সেটার খোঁজ পেলাম না। দিশেহারা অবস্থা। ক্লান্ত হয়ে পড়ছি ক্রমশ। অবশেষে এক জায়গায় বসে ভাবার চেষ্টা করলাম নামার সময় কি কি দেখেছিলাম, সেগুলোর চেহারা কেমন। অস্পষ্টভাবে মনে পড়লো কয়েকটা জিনিসের কথা। একটা হলো বিশাল একটা পাথর। কিছুদূর নামার পরই ওটার পাশ কাটিয়ে এসেছিলাম। সেই সাথে এ-ও মনে পড়লো, শেষবার যখন ওঠার চেষ্টা করেছিলাম তখন ওটার পাশ দিয়ে গেছি একবার, তবে সমকোণে। অর্থাৎ এখন যদি আবার ওটার কাছে পৌঁছতে পারি তাহলে পথ চিনে নিতে পারবো।

    উঠলাম আবার। না, এবার আর ভুল হলো না, ঠিক পৌঁছে গেলাম পাথরটার কাছে। এবং কয়েক মিনিটের ভেতর সেই সরু সিঁড়িটার কাছে। একটু পরেই বৃদ্ধ দার্শনিক লুটের কুঠুরিতে উঠে এলাম আমরা।

    কিন্তু এবার কি করবো? তক্তা নেই, খাদ পেরোবো কি করে?

    দুটো মাত্র বিকল্প এখন আমাদের সামনে: হয় লাফিয়ে পেরুতে হবে ফাঁকা জায়গাটা, নয়তো, এখানেই না খেয়ে শুকিয়ে মরতে হবে। পাথর আর সেতুর মাঝের দূরত্ব খুব বেশি না, এগারো কি বারো ফুট হবে। কলেজে থাকতে লিওকে দেখেছি, বিশ ফুট দূরত্ব অনায়াসে লাফিয়ে পার হতে। আমিও কম নই এ ব্যাপারে, বিশ ফুট না হলেও পনেরো ষোলো ফুট সহজেই লাফিয়ে পেরোতে পারি। কিন্তু এখানকার পরিবেশ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। ক্লান্ত, বিধ্বস্ত দুজন মানুষ; যেখানে লাফাতে হবে সে জায়গাটাও ভয়ঙ্কর; এক পাশে টলমলে একটা পাথর, অন্য পাশে সরু একটা প্রাকৃতিক সেঁতু, তার ওপর তীব্র বাতাস। একটু এদিক ওদিক হলেই পড়তে হবে অতল গহ্বরে। তবে এটাও ঠিক এ ছাড়া কোনো উপায় নেই। অনাহারে মরতে না চাইলে ঝুঁকিটা নিতেই হবে।

    লিওকে বললাম কথাটা। সঙ্গে সঙ্গে রাজি হলো ও। ও-ও বুঝতে পেরেছে আর কোনো পথ নেই। কিন্তু জায়গা মতো যাচ্ছি কিনা অন্ধকারে বুঝবো কি করে? যাওয়ার সময় যেমন ছিলো, এখনো তেমনি অন্ধকার জায়গাটা। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম আপাতত অপেক্ষা করবো। ফোকর গলে আবার যখন অস্তায়মান। সূর্যের আলো এসে পড়বে তখন চেষ্টা করবো। ইতিমধ্যে একটু বিশ্রামও নেয়া হয়ে যাবে। এমন সময় খেয়াল করলাম নিবু নিবু অবস্থা একটা প্রদীপের, অন্যটা নিবে গেছে আগেই।

    তাড়াতাড়ি নুটের কুঠরি থেকে বেরিয়ে এলাম আমরা। হাঁচড়ে-পাঁচড়ে উঠে পড়লাম বিশাল চোঙাকৃতি পাহাড়ের মাথায় পাথরের চাইটার ওপর। নুটের গুহার মেঝে থেকে পাথরটার উপরিভাগের উচ্চতা হবে, খুব বেশি হলে, আট কি নফুট। লাফ দিয়ে দুহাতে ওটার কিনারা ধরলাম প্রথমে, তারপর আরেক লাফে উঠে গেলাম ওপরে।

    আমরা উঠলাম প্রদীপটাও নিবে গেল।

    বিশাল পাথরটার ওপর বসে আছি আমরা। সময় বয়ে যাচ্ছে। তীব্র বাতাস শোঁ-শোঁ শব্দে বইছে। একটু পর পরই মনে হচ্ছে, এই বুঝি উড়িয়ে নিয়ে গেল। শুয়ে পড়লাম আমি। এবার বাতাসের ঝাঁপটা তত লাগছে না। একটু পরে লিও-ও আমার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করলো।

    কত ঘণ্টা যে এভাবে কেটে গেল জানি না। হঠাৎ, বিন্দুমাত্র পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই লাল আলোর ছুরি ফালা ফালা করে ফেললো অন্ধকার। তড়াক করে উঠে বসলাম আমরা।

    এখনই! বলে লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালো লিও।

    আমিও উঠলাম। জিজ্ঞেস করলাম, কে আগে?

    তুমি, বুড়ো। পাথরটা যাতে স্থির থাকে সেজন্যে ঐ দিকটায় বসে থাকবো আমি। যতটা সম্ভব দ্রুত দৌড়ে যাবে, আর একটু উঁচু করে লাফ দেয়ার চেষ্টা করবে। বাকিটা ঈশ্বরের হাতে।

    মেনে নিলাম আমি। তারপর এমন একটা কাণ্ড করলাম যা লিও যখন ছোট্ট বাচ্চা ছিলো তখনও করিনি। ঘুরে দাঁড়িয়ে ওকে জড়িয়ে ধরলাম, এবং আলতো করে চুমু খেলাম ওর কপালে। আমি নিশ্চিত ভাবেই ধরে নিয়েছি, ওর সাথে আর দেখা হবে না কোনো দিন।

    তাহলে যাই, লিও, বললাম আমি। আশা করি আবার দেখা হবে আমাদের, সে যেখানেই হোক না কেন।

    পাথরের যেদিকে খাদ তার বিপরীত প্রান্তে গিয়ে দাঁড়ালাম। তেত্রিশ কি চৌত্রিশ ফুট লম্বা পাথরটা। এই দূরত্ব দৌড়ে গিয়ে লাফ দিতে হবে। বাকিটা আমার কপাল। লম্বা করে শ্বাস নিয়ে শুরু করলাম দৌড়। প্রান্তে পৌঁছুলাম, তারপরই ঝাঁপ দিয়ে উঠে গেলাম শূন্যে। এবং সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারলাম, ঠিক মতো হয়নি লাফটা। শূন্যে উড়ন্ত অবস্থায়ই আতঙ্কের একটা স্রোত বয়ে গেল আমার শরীর বেয়ে।

    সেকেণ্ডেরও কম সময়ের মধ্যে নেমে এলো আমার শরীর। এবং ঠিকই। সেতুর কিনারা স্পর্শ করতে পারলো না আমার পা। নেমে যাচ্ছি খাদের ভেতর। এমন সময় কিনারা ছুঁলো আমার হাত ও দেহের কিছুটা অংশ। সঙ্গে সঙ্গে দুহাতে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করলাম কিনারাটা। এক হাতে ঠিকই ধরতে পারলাম, অন্যটা গেল ফসকে।

    এক হাতে সেতুর কিনারা ধরে ঝুলে আছি আমি। যেখান থেকে লাফিয়ে এসেছি সেদিকে মুখ। ভীষণ বেকায়দা অবস্থা। দু’এক সেকেণ্ডের বেশি থাকতে পারবো না এভাবে। প্রাণপণে চেষ্টা করলাম অন্য হাতটা দিয়েও কিছু একটা ধরার। ভাগ্য ভালো, সফল হলাম। মাথা বের করা একটা পাথরের টুকরো ধরে ফেলতে পারলাম। কিন্তু যেটাকে এক মুহূর্ত আগে মনে করেছিলাম সৌভাগ্য সেটাই দুর্ভাগ্য হয়ে দেখা দিলো এখন। সরু সেতুটার দুপাশে দুহাত দিয়ে ঝুলে আছি আমি। এখনো আমার মুখ সেই পাথরটার দিকে। হাজার চেষ্টা করলেও, ওপরে তো দূরের কথা, এক ইঞ্চিও উঠতে পারবো না। যতক্ষণ হাতে সইবে ঝুলে থাকবো, তারপর পড়ে যাবো।

    সেই নিরুপায় মুহূর্তটার অপেক্ষায় আছি, এমন সময় একটা চিৎকার শুনলাম লিওর। পরমুহূর্তে পাথর আর সেতুর মাঝখানের ফাঁকে মাঝ আকাশে দেখলাম ওকে। দুসেকেণ্ড পর বলিষ্ঠ দুটো হাত ধরলো আমার ডান হাত। এ যাত্রা বেঁচে গেলাম আমি। কয়েক সেকেণ্ড পর অদৃশ্য হয়ে গেল লালচে আলোটা।

    প্রায় আধ ঘণ্টা মরার মতো শুয়ে রইলাম আমরা সরু জায়গাটায়। কেউ কোনো কথা বললাম না। তারপর উঠে গুড়ি মেরে এগোলাম সুড়ঙ্গের দিকে। বেড়ালের মতো তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছি, তবু অত্যন্ত ঝাঁপসা একটা আভাস ছাড়া পথের কিছু দেখতে পাচ্ছি না। এভাবেই এগিয়ে চললাম, অবশেষে পৌঁছুলাম সুড়ঙ্গের মুখে।

    কবরের মতো অন্ধকার সুড়ঙ্গের ভেতর। আসার সময় আলো থাকা সত্ত্বেও কেমন হোঁচট খেতে হয়েছিলো মনে পড়লো। কিন্তু, কিছু করার নেই, এবারও চার হাত পায়ে ভর দিয়ে অন্ধের মতো এগোলাম। আমাদের একমাত্র অবলম্বন, সুড়ঙ্গের এক পাশের দেয়াল। কতবার যে পাথরের সাথে বাড়ি খেলাম, হুমড়ি খেয়ে পড়লাম গর্তের ভেতর, কোন হিসেব নেই তার। রক্তাক্ত হয়ে গেল শরীরের বিভিন্ন অংশ। এদিকে প্রায় নিঃশেষ হয়ে এসেছে দেহের সমস্ত শক্তি। কয়েক পা এগোনোর পরই পাঁচ-দশ মিনিট বিশ্রাম না নিলে চলছে না। আগেরবার বিশ মিনিটে সুড়ঙ্গের এ মাথা থেকে ও মাথায় গিয়েছিলাম, এবার লাগলো কয়েক ঘণ্টা। যাহোক শেষ পর্যন্ত ওটা পেরোতে পারলাম আমরা। বাইরে তখন ভোর হচ্ছে।

    একই রকম হামাগুড়ি দিয়ে সরু কার্নিসের মতো জায়গাটাও পেরিয়ে এলাম। এবার নামতে হবে। কিন্তু বেঁকে বসতে চাইছে আমাদের শরীর। আর এক ইঞ্চি এগোনোর শক্তিও অবশিষ্ট নেই। লিওর অবস্থা আরো খারাপ, মাথা-ই তুলতে পারছে না বেচারা।

    আরেকটু চেষ্টা করো, লিও, হাঁপাতে হাঁপাতে কোনোরকমে বললাম আমি, যতটা না লিওর উদ্দেশে তার চেয়ে বেশি নিজের উদ্দেশেই। কোনোমতে ঢালের কাছে পৌঁছুতে পারলেই হয়, বিলালি আছে ওখানে। এসো, হাল ছেড়ে দিও না।

    আমার কথায় একটু যেন আশার আলো দেখলো লিও। উঠে একজন আরেক জনের গায়ে হেলান দিয়ে টলতে টলতে নেমে যেতে লাগলাম। কেমন যেন ঘোর। লাগা অবস্থা। কিছুই গুছিয়ে ভাবতে পারছি না।

    কেমন করে নামলাম, গড়িয়ে পড়ে গেলাম না কেন, কিছুই জানি না। হঠাৎ সফেদ বৃদ্ধ বিলালিকে দৌড়ে আসতে দেখে সংবিৎ ফিরলো আমার।

    ওহ, বেবুন! আমার বেবুন! চিৎকার করলো সে। তুমি আর সিংহ-ই তাহলে? কিন্তু ওর পাকা ধানের মতো চুলগুলো অমন তুষারের মতো সাদা হয়ে গেছে কেন? কোত্থেকে এলে তোমরা? শূকরছানা কোথায়? সে-ই বা কোথায়?

    মরে গেছে, দুজনই মরে গেছে। হাঁপাতে হাঁপাতে কোনোরকমে জবাব দিলাম আমি। কিন্তু ওসব কথা থাক এখন, খাবার-পানি কিছু থাকলে দিন দয়া করে।

    মরে গেছে। ঢোক গিলে বললো বৃদ্ধ। অসম্ভব! অমর সে–মরে গেছে, কি করে তা সম্ভব?

    ইতিমধ্যে আয়শার বাহকরা এগিয়ে এসেছে। সম্ভবত ওদের দেখেই সামলে নিলো বিলালি। ইশারায় জানালো, আমাদের বয়ে নিয়ে যেতে হবে ঝোপের

    আড়ালে। সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশ পালন করলো তারা।

    ঝোপের আড়ালে তখন আগুনের ওপর ঝোল তরকারি রান্না হচ্ছে। বিলালি খাইয়ে দিলো, নিজের হাতে খাওয়ার শক্তিটুকুও অবশিষ্ট নেই আমাদের গায়ে। কোনোমতে খাওয়া শেষ করে শুয়ে পড়লাম আমরা। তারপর আর কিছু মনে নেই।

    .

    ২৮.

    পুরো এক দিন, এক রাত ঘুমালাম আমি। জেগে উঠে দেখলাম বিলালি ঝুঁকে আছে আমার মুখের ওপর। লিও এখনো ঘুমোচ্ছে।

    অমর সে-যাকে-মানতেই-হবে কি করে মারা গেল, জানতে চাইলো বিলালি। সঙ্গে সঙ্গে এ-ও জানালো, সত্যিই যদি সে মরে গিয়ে থাকে, সমূহ বিপদ আমাদের সামনে। আমাহ্যাগাররা চরম ভাবে খেপে আছে, সে নেই জানতে পারলেই আমাদের বিশেষ করে লিওকে গরম পাত্র করে খাওয়ার জন্যে ব্যস্ত হয়ে উঠবে ওরা। ওদের বিশ্বাস, আমাদের কারণেই শাস্তি পেয়েছে ওদের জাতভাইরা।

    যা হোক, ঘটনাটা আগে বলো, শুনি, বললো সে। তারপর দেখবো কি করা যায়।

    বললাম আমি। অবশ্যই পুরোপুরি নয়, যতটুকু বললে বৃদ্ধের বিশ্বাস হবে সত্যিই আয়শা আগুনে পুড়ে মারা গেছে, এবং তাতে আমাদের কোনো দায় নেই। ততটুকু বললাম। কি কষ্ট করে সেখান থেকে পালিয়ে এসেছি তা-ও বললাম। কিন্তু মুখ দেখেই বুঝলাম, আয়শা মরে গেছে এ কথা বিশ্বাস করেনি সে। তার ব্যাখ্যা হলো, কিছুক্ষণ বা কিছুদিনের জন্যে অদৃশ্য হয়েছে সে। সময় হলেই আবার ফিরে আসবে।

    এবার কি করবে তোমরা, বেবুন? জানতে চাইলো বিলালি।

    জানি না, পিতা, আমি বললাম। এদেশ থেকে পালাতে পারি না আমরা?

    মাথা নাড়লো বৃদ্ধ। কাজটা খুবই কঠিন, পুত্র। কোর-এর ওপর দিয়ে যেতে পারবে না। তোমাদেরকে একা দেখার সঙ্গে সঙ্গেই ঝাঁপিয়ে পড়বে পশুগুলো। তারপর একটু চুপ করে থেকে বললো, তবে হ্যাঁ, ঐ পাহাড়ের ওপর দিয়ে একটা পথ আছে। তোমাকে বোধহয় একবার বলেছিলাম পথটার কথা? ও পথে ওরা পশুর পাল নিয়ে যায় চারণভূমিতে। চারণভূমি পেরিয়ে জলার ওপর দিয়ে। তিনদিনের পথ। তারপর আর কিছু জানি না আমি। শুনেছি, ওখান থেকে সাত দিনের পথ পেরোলে বিরাট এক নদী পড়ে। ঐ নদী চলে গেছে কালো পানি। পর্যন্ত।

    পিতা, বললাম আমি। আমি একবার প্রাণ বাঁচিয়েছি আপনার, এবার প্রতিদান দিন। এ পথেই নিয়ে চলুন আমাদের। জলাভূমিটা পার করে দিন, বাকিটা আমরাই চলে যেতে পারবো।

    পুত্র, আমাকে অকৃতজ্ঞ ভেবো না। আমার প্রাণের প্রতিদান আমি দেবো। কাল ভোর নাগাদ তৈরি হয়ে থাকবে। আমি এখন যাচ্ছি, কয়েকটা পালকি জোগাড় করে আনতে পারি কিনা দেখি। আশা করি পিরবো, ওদের বলবো, সে যাকে-মানতেই-হবের নির্দেশ এটা, যে এ নির্দেশ মানবে না সে হায়েনার খাদ্য হবে। এ কথা শুনলে ওরা রাজি না হয়ে পারবে না। জলা পেরোনোর পর দরকার। হলে ওদের নিহত করে পালাতে হবে তোমাদের। এখন দেখ, সিংহ বোধহয় জাগলো। তোমরা খাওয়া-দাওয়া করে নাও। আমি যাই।

    চলে গেল বিলালি। দীর্ঘ ঘুম দিয়ে মোটামুটি তাজা হয়ে উঠেছে লিও। দুজন গোগ্রাসে খেয়ে নিলাম পাঁচ জনের খাবার। তারপর কাছের এক ঝরনায় গিয়ে গোসল করে এলাম। তারপর আবার ঘুম।

    একটানা সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুমোলাম। তারপর আবার খেয়ে নিয়ে আবার ঘুম।

    ভোর রাত নাগাদ পাকি বেহারা এবং দুজন পথ প্রদর্শক নিয়ে হাজির হলো। বিলালি।

    ‘সে’র ভয় দেখানোতে কাজ হয়েছে, বললো বৃদ্ধ। তোমরা তৈরি হয়ে নাও। ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে পড়তে হবে। আমিও যাবো তোমাদের সাথে।

    বৃদ্ধের শেষ কথাটায় অত্যন্ত স্বস্তি বোধ করলাম। যত-ই সের ভয় দেখানো হোক না কেন, মানুষখেকোগুলোকে বিশ্বাস নেই। বিলালির জন্যে গভীর এক শ্রদ্ধাবোধে পূর্ণ হয়ে গেল অন্তর।

    ভোরের প্রথম আলো ফুটবার সঙ্গে সঙ্গে সামান্য কিছু খেয়ে নিয়ে পাকিতে চাপলাম আমরা। সমভূমির ওপর দিয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর শুরু হলো পাহাড়ের উঁচু নিচু ঢাল বেয়ে ওঠা। ঝাকুনির চোটে অস্থির হয়ে উঠলাম।

    দুপুর নাগাদ পাহাড়টার সমতল চূড়ায় পৌঁছুলাম। এখানে কিছু খেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে নিলো বাহকরা। আমরাও খাওয়া সেরে নিলাম। তারপর আবার পথ চলা। আগ্নেয়গিরির মতো দেখতে পাহাড়টার ঢাল বেয়ে ক্রমশ নেমে যাচ্ছি। জলাভূমির দিকে।

    সন্ধ্যার একটু আগে জলাভূমির কিনারে পৌঁছুলাম। রাতটা এখানেই কাটানোর সিদ্ধান্ত নিলো বিলালি। পরদিন সকাল এগারোটা নাগাদ আবার শুরু হলো আমাদের যাত্রা, সেই ভয়ানক জলাভূমির ওপর দিয়ে।

    পুরো তিন দিন কাদা আর দুর্গন্ধের ভেতর দিয়ে পালকি বয়ে নিয়ে গেল বাহকরা। চতুর্থ দিন সকালে আমাদের বিদায় জানালো বিলালি।

    বিদায়, পুত্র বেবুন, বললো সে। বিদায় তোমাকেও, সিংহ। তোমাদের আর কোনো সাহায্য আমি করতে পারবো না। তবে একটা পরামর্শ দি-ই, যদি ভালোয় ভালোয় দেশে ফিরে যেতে পারে, আর কখনো এমন অজানা অচেনা দেশের পথে পা বাড়িও না। পরের বার হয়তো আর প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারবে না, একটু থামলো বৃদ্ধ। তোমার কথা আমার মাঝে মাঝেই মনে পড়বে, বেবুন, তুমিও সম্ভবত ভুলবে না আমাকে, কারণ আমি বুঝেছি, তুমি কুৎসিত হলেও, মনটা তোমার খাঁটি।

    আর কিছু বললো না বুড়ো। ঘুরে দাঁড়িয়ে চলতে শুরু করলো। অনুসরণ করলো দীর্ঘ বলিষ্ঠ আমাহ্যাগারগুলো। আমরা দেখতে লাগলাম, আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে শূন্য পাকির মিছিলটা। একটু পরেই হারিয়ে গেল একটা বাকের আড়ালে।

    মাত্র তিন সপ্তাহ আগে কোর-এর জলাভূমিতে ঢুকেছিলাম আমরা। তখন চারজন ছিলাম। তিন সপ্তাহ পর আজ যখন বেরিয়ে এলাম, দুই-এ নেমে এসেছে আমাদের সংখ্যা। মাত্র তিন সপ্তাহে কত কিছু ঘটেছে একবার কল্পনা করার চেষ্টা করলাম। থই পেলাম না কোনো। মনে হলো, শেষ যখন আমাদের তিমি নৌকাটা দখেছিলাম, ত্রিশ বছর পেরিয়ে গেছে তারপর।

    এবার নদীটা খুঁজে বের করতে হবে, বললাম আমি।

    নিঃশব্দে মাথা ঝাঁকিয়ে পা বাড়ালো লিও। গায়ের পোশাক ছাড়া আমাদের সঙ্গে এখন একটা ছোট কম্পাস, দুটো রিভলভার, দুটো এক্সপ্রেস রাইফেল আর শদুয়েক গুলি ছাড়া আর কিছু নেই। এখানেই শেষ আমাদের কাহিনি।

    এরপর কি করে আমরা ইংল্যাণ্ডে পৌঁছুলাম, সে আর এক ইতিহাস। অমানুষিক পরিশ্রম করে নদীটার কাছে পৌঁছতে পেরেছিলাম। এ জন্যে বিলালি যেখানে ছেড়ে যায় সেখান থেকে প্রায় একশো সত্তর মাইল দক্ষিণে আসতে হয়েছিল আমাদের। ওখানে জংলী এক উপজাতির হাতে বন্দী হই। লিওর অসম্ভব সুন্দর চেহারা আর তুষারশুভ্র চুল দেখে ওকে অতিপ্রাকৃত কোনো জীব মনে করেছিল ওরা। ছমাস পর ওদের হাত থেকে পালাতে পারি আমরা। তারপর সাঁতরে নদী পার হয়ে আরো দক্ষিণে এগোতে থাকি। এক পর্যায়ে অনাহারে মৃত্যু যখন নিশ্চিত তখন এক পর্তুগীজ হাতি শিকারি দেখতে পায় আমাদের। তার সাহায্যে অনেক কষ্ট ও পরিশ্রম করে ডেলাগোয়া উপসাগরে পৌঁছাই। সেখান  থেকে অন্তরীপ ঘুরে চলাচল করে যে স্টীমবোটগুলো তার একটাতে করে ইংল্যাণ্ড। যেদিন রওনা হয়েছিলাম তার ঠিক দুবছর পর আমরা পা রাখলাম। সাউদাম্পটন বন্দরের জেটিতে।

    .

    দুহাজার বছরেরও আগে যে কাহিনির শুরু তা শেষ হলো এভাবে। কিন্তু সত্যিই কি শেষ হয়েছে? কেন জানি না, আমার কেবলই মনে হয়, না, শেষ হয়নি। দূর ভবিষ্যতের গর্ভে হয়তো এর শেষ লুকিয়ে আছে।

    সেই প্রাচীন ক্যালিক্রেটিস কি সত্যিই লিও হয়ে পুনর্জন্ম নিয়েছে পৃথিবীতে? নাকি দুজনের চেহারার অদ্ভুত সাদৃশ্য দেখে ভুল করেছিল আয়শা? আরেকটা প্রশ্ন: পুনর্জন্মের এই নাটকে উস্তেনের ভূমিকা কি? প্রাচীন মিসরীয় রাজকুমারী আমেনার্তাসের সঙ্গে কি কোনো সাদৃশ্য আছে ওর? এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর জানা নেই আমার। শুধু এটুকু আমার মনে হয়, লিওর ব্যাপারে কোনো ভুল। করেনি সে।

    আজকাল প্রায় রাতেই আমি একা বসে বসে ভাবি, এই নাটকের শেষ দৃশ্যের অভিনয় হবে কবে? এবং মিসরীয় রাজকন্যা সুন্দরী আমেনার্তাস কি ভূমিকা নেবে তাতে?

    ***

    ⤶
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমেমসাহেব – নিমাই ভট্টাচার্য
    Next Article সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও বাংলা ভাষা – সম্পাদনা : নিরুপম আচার্য
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }