Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শুভ্র গেছে বনে – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প161 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. আজহার অফিসে যান নি

    আজহার অফিসে যান নি। গতকাল রাতে দুবার খাওয়ায় শরীর বিগড়ে গেছে। ঘনঘন বাথরুমে যেতে হচ্ছে। অ্যাসিডিটিতে বুক জ্বলে যাচ্ছে। দুধ খেলে অ্যাসিডিটির আরাম হয়। যুথী মোড়ের দোকান থেকে এক প্যাকেট মিল্কভিটা নিয়ে এসেছে। তিনি পুরোটা খেয়ে কিছুক্ষণ আগে বমি করেছেন। বমির পর মাথা ঘুরছে। এই উপসৰ্গ দুধ খাওয়ার আগে ছিল না। আজহার যুথীকে বললেন, আমি তো মনে হয় মারা যাচ্ছিরে মা।

    যুথী বাইরে যাবে। শাড়ির কুচি ঠিক করতে করতে নির্বিকার গলায় বলল, এত সহজে কেউ মারা যায় না। বাবা।

    আজহার বললেন, মানুষ সহজেই মারা যায়। আলেকজান্ডারের মতো মহাবীর ইলিশ মাছ খেয়ে মারা গেছে। কাল রাতে তোর বান্ধবীর বাড়ি থেকে যে খাবার এসেছে, সেখানে ইলিশ মাছের আইটেম ছিল। স্মোকড় হিলসা। আমি ঐ আইটেমটাই বেশি খেয়েছি।

    মহাবীর আলেকজান্ডারের ইলিশ মাছ খেয়ে মৃত্যুর গল্প আজহার তাঁর বস ইমতিয়োজ সাহেবের কাছে শুনেছেন। ইমতিয়োজ সাহেব সুন্দর সুন্দর গল্প করেন। তাঁর সব গল্পই আজহার সুযোগমতো ব্যবহার করেন।

    যুথী বলল, বেশি খেলেও তুমি মরবে না। বাবা। কারণ তুমি মহাবীর আলেকজান্ডার না। তুমি কাপুরুষদের একজন।

    সালমা মাছ কুটছিলেন। মাছ ফেলে উঠে এসে বললেন, এইসব কী ধরনের কথা? বাজারের নটিরাও তো বাপের সঙ্গে এইভাবে কথা বলে না।

    যুথী বলল, বাজারের নটিদের বাবারা নটিদের সঙ্গে বাস করে না। কাজেই নটিরা এ ধরনের কথা বলে না।

    আজহার বললেন, বাদ দাও। কথা চালাচালি বন্ধ। তুই যাচ্ছিস কোথায়?

    চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছি।

    কিসের চাকরি? কী ইন্টারভিউ? আমি তো কিছুই জানি না।

    সবকিছু তোমাকে জানতে হবে?

    অবশ্যই। আমি এই সংসারের প্রধান। আমাকে সবকিছু জানতে হবে। তোর মা দুপুরে কী রাধবে তাও আমি জানব।

    তোমার সবকিছু জানার দরকার নেই।

    আজহার মেয়েকে কঠিন কিছু কথা বলার প্রস্তুতি নিলেন। কথাগুলি বলতে পারলেন না। তাকে অতি দ্রুত বাথরুমে ঢুকতে হলো। যুথী তার মাকে বলল, মা যাই। দোয়া করো যেন চাকরিটা হয়।

    সালমা বললেন, কিসের চাকরি?

    যুথী বলল, এখনো জানি না কিসের চাকরি। বেতন অনেক। কুড়ি হাজার টাকা। কোম্পানির গাড়ি এসে নিয়ে যাবে, দিয়ে যাবে।

    বলিস কী!

    যাই মা।

    মাকে কদমবুসি করে দোয়া নিবি না?

    হলো না-কদম বুসি মাঠে মারা গেল। এটা তো ঠিক না।

    যুথী বের হয়ে গেল। বাথরুম থেকে আজহার ডাকছেন, যুথী, পাঁচটা মিনিট অপেক্ষা কর। জাস্ট ফাইভ মিনিটস।

    যুথী চলে যাবার আধঘণ্টার মধ্যে গিফটয়্যাপে মোড়া বিশাল প্যাকেট এসে উপস্থিত। সঙ্গে মুখবন্ধ খাম। খামের ওপর লেখা মিস যুথী।

    আজহার খাম হাতে নিয়ে বললেন, একটা ধারালো ব্লেড আনো। চিঠিতে কী লেখা দেখি।

    সালমা বললেন, যুথীর চিঠি তুমি পড়লে ও খুব রাগ করবে।

    রাগ করলেও চিঠি পড়তে হবে। কোথায় কী চিঠি চালাচালি হচ্ছে জানতে হবে না? তাছাড়া যুথী কিছু জানতে পারবে না। খাম এমনভাবে খুলব যে ডিটেকটিভ। শার্লক হোমস সাহেবও ধরতে পারবেন না। চুলায় পানি দিয়ে কেতলি বসাও।

    কেন?

    আজহার বললেন, কেতলির মুখ দিয়ে ষ্টিম বের হবে। খামটা স্টিমে ধরলে পাম নরম হবে। তখন ব্লেড় দিয়ে খুলব। চিঠি পড়া শেষ হলে আগের মতো লাগিয়ে রাখা হবে। ক্লিয়ার?

    আজহার চিঠি খুলে পড়লেন। চিঠিতে লেখা——

    যুথী,

    আমার ছেলে শুভ্ৰ বিপদে পড়েছিল। তাকে তুমি সাহায্য করেছি। তার জন্যে তোমাকে ধন্যবাদ। সামান্য কিছু ফল পাঠালাম। গ্রহণ করলে খুশি হব।

    ইতি
    শুভ্রর মা।

    আজহার বললেন, শুভ্ৰটা কে?

    সালমা বললেন, জানি না কে।

    তুমি তার মা। তুমি কিছুই জানো না?

    আমাকে না বললে জানব কীভাবে?

    তুমি অতি মুর্থ একজন মহিলা। মূর্থিশ্রেষ্ঠ। মেয়ের সঙ্গে মায়ের থাকবে সৌহার্দ্যমূলক সম্পর্ক। যেন মেয়ে পেটে কথা রাখতে না পারে। রাতে এক বিছানায় মা-মেয়ে শোবে। মেয়ে গুনগুন করে সব কথা বলবে। তুমি সময়মতো আমাকে জানাবে। তা-না, সন্ধ্যা হতেই ঘুম। বুদ্ধির কোনো নাড়াচাড়া আমি তোমার মধ্যে দেখলাম না। অপদার্থ মেয়েছেলে!

    গালাগালি করছি কেন?

    গালাগালি করছি কারণ গালাগালি তোমার প্রাপ্য। চিঠি পড়ে তো আমার গায়ের রক্ত পানি হবার উপক্রম হয়েছে। শুভ্ৰ মহাবিপদে পড়েছে, এমনই বিপদ যে উদ্ধারের পর তার মা একগাদা ফল পাঠিয়েছে। আর উদ্ধার কে করেছে? তোমার মেয়ে। আমি নিশ্চিত ড্রাগঘটিত কিছু! শুভ্র ড্রাগ চালাচালিতে পুলিশের হাতে ধরা খেয়েছিল। তোমার মেয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে হাতে-পায়ে ধরে তাকে ছাড়িয়ে এনেছে। তোমার মেয়ে তো কথার রানি। ও কি তার ঘর তালা দিয়ে গেছে?

    হুঁ।

    এইটাও তো একটা কথা, যখনই বাইরে যাবে ঘর তালা দিয়ে যাবে কেন? এমন কী আছে ঘরে যা কেউ দেখতে পারবে না? আমি তালা খোলার লোক নিয়ে আসছি। তালা খুলে আজ তার ঘর চেক করা হবে।

    তোমার শরীরটা খারাপ! শুয়ে থাকে। অন্য কোনোদিন তালা খোলা হবে।

    আজহার শার্ট পরতে পরতে বললেন, এইসব জিনিস দেরি করতে নাই। কুইক অ্যাকশানে যেতে হয়। শরীর খারাপের আমি কেঁথা পুড়ি।

    ইন্টারভিউ বোর্ডে সাধারণত বেশ কয়েকজন থাকেন। এখানে বোর্ডে একজনই আছেন। মধ্যবয়স্ক একজন মানুষ। সুন্ট-টাই পরা না। হালকা সবুজ রঙের টিশার্চ পরা। ভদ্রলোকের চুল কোঁকড়ানো। চেহারা সুন্দর। তাঁর সামনে কোনো ফাইলপত্র নেই। আছে কোনো একটা গল্পের বই। ইন্টারভিউ নেওয়ার চেয়ে গল্পের বই পড়ার ব্যাপারে তার আগ্ৰহ বেশি দেখা যাচ্ছে। কথাবাতাঁর ফাঁকে ফাঁকে তিনি বইও পড়ছেন। তাঁর নাম আহসান। তিনি চিকেন ফেদার কোম্পানির সৰ্বেসৰ্ব্ব। চেয়ারম্যান সাহেবের ঘরটাও খুব সুন্দর। দেয়ালে তিনটা পেইনটিং। প্রতিটাই সুন্দর। একটা পেইনটিং-এ গ্রামের মেয়ে ঘোমটা দিয়ে তাকিয়ে আছে। এটা এত সুন্দর যে যুথীর চোখ বারবার সেখানে চলে যাচ্ছে।

    আহসান বললেন, বিএসসি অনার্স পাশ করেছেন। রেজাল্টও বেশ ভালো। প্রথম শ্রেণী। এমএসসি শেষ করলেন না কেন? কারণটা কি আর্থিক?

    জি।

    অনার্সে সাবজেক্ট কী ছিল?

    ম্যাথমেটিকস।

    ইন্টারেস্ট্রিং।

    ইন্টারেস্টিং কেন?

    মেয়েরা সাধারণত অঙ্কের দিকে যায় না। তারা সাইকোলজি, সাহিত্য, এইসব পড়ে। মেয়েদের ছোট করার জন্যে বলছি না। এটাই জেনারেল ট্রেন্ড। ভুল বললে সরি।

    যুথী বলল, স্যার ভুল বলেন নি।

    ভদ্রলোক বললেন, বাংলা সাহিত্যের এক দিকপাল ছিলেন অঙ্কের ছাত্র। তাঁর নাম জানেন?

    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।

    ভেরি গুড। তাঁর কোনো বই পড়েছেন?

    দুটা বই পড়েছি—পুতুল নাচের ইতিকথা আর জননী। আমার এক বান্ধবী আছে, তার নাম নীপা। সে খুব বই পড়ে। নীপা যেসব বই আমাকে পড়তে দেয়, আমি তা-ই পড়ি।

    আপনি যদি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসল নাম বলতে পারেন, আমি আপনাকে চাকরি দিয়ে দেব। বলতে পারবেন?

    নাম বলতে না পারলে চাকরি পাব না?

    যুথী বলল, এই চাকরির সঙ্গে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক কী?

    কোনো সম্পর্ক নেই। এই মুহূর্তে আমি উনার একটা বই পড়ছি বলে এরকম সিদ্ধান্ত নিলাম।

    যুথী বলল, উনার আসল নাম প্ৰবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।

    কনগ্রাচুলেশনস।

    ভদ্রলোক বোতাম টিপলেন। এবার সুন্ট-টাই পরা একজন ঢুকলেন। আহসান বই থেকে মুখ না তুলে বললেন, জহির, এই মেয়েটির নাম যুথী। সে আমাদের কোম্পানিতে জয়েন করছে। অফিস এক্সিকিউটিভ। অ্যাপিয়েন্টমেন্ট লেটার ইস্যু করার ব্যবস্থা করুন।

    জয়েনিং ডেট কবে স্যার?

    সামনের মাসের এক তারিখ।

    জহির যুথীর দিকে তাকিয়ে বলল, ম্যাডাম আসুন আমার সঙ্গে।

    যুথীর সবকিছু স্বপ্নের মতো লাগছে। এটা কেমন চাকরির ইন্টারভিউ? এত বড় একটা কোম্পানি চলবে খামখেয়ালিভাবে? যুথী কী জানে বা জানে না। এই সম্পর্কে এরা তো কিছুই জানে না। বর্তমান সময়ের কাজের প্রধান যে বিষয় কম্পিউটার জানা তাও সে জানে না। ইংরেজিতে সে খুবই কাঁচা। কারও সঙ্গে ইংরেজিতে কথাবার্তা চালানো তার জন্যে অসম্ভব ব্যাপার।

    জহির বলল, ম্যাডাম! এইটা আপনার রুম। একটু অগোছালো আছে। আজ দিনের মধ্যেই গুছিয়ে দেওয়া হবে। আপনার পার্সেনাল অ্যাসিসটেন্টের নাম গফুর। সে বিরাট ফাঁকিবাজ। তাকে সবসময় ধমকের ওপর রাখবেন।

    আমার আগে এখানে কে বসতেন?

    শর্মি ম্যাডাম বসতেন। উনি ছিলেন কম্পিউটারের জাদুকর। যে-কোনো প্রবলেম নিমিষে solve করতে পারতেন।

    উনার চাকরি কি নেই?

    গত মাস থেকে তাকে অফ করা হয়েছে।

    কেন?

    ম্যাডাম জানি না কেন! চা খান, চা দিতে বলি?

    বলুন।

    আমি দশ মিনিট পর কাগজপত্র রেডি করে নিয়ে আসব।

    যুথী তার ঘরে বসে আছে। ঠান্ডা ঘর। এসি চলছে। বিজবিজ করে এসির শব্দটা এমন অদ্ভুত লাগছে। যুথীর এখন মনে হচ্ছে, এটা কোনো স্বপ্ন। মাঝে মাঝে সে নিখুঁত স্বপ্ন দেখে। একবার স্বপ্নে দেখল, বাসে করে যাচ্ছে। তার পাশেই বুড়োমতো এক ভদ্রলোক। ভদ্রলোকের কোলে পাঁচ-ছয় বছরের একটা মানসিক প্রতিবন্ধী ধরনের মেয়ে। সে হা করে আছে। তার মুখ থেকে ক্রমাগত লালা পড়ছে। মেয়েটা ই ই ই করে শব্দ করছে এবং লালা মাখানো হাত দিয়ে যুথীকে ধরার চেষ্টা করছে। অতি বাস্তব ধরনের স্বপ্ন।

    নিজের অফিসঘরে সে বসে আছে—এটাও নিশ্চয় সেরকম স্বপ্ন। এক্ষুনি বাবার কাশির শব্দে ঘুম ভাঙবে। প্রতিদিনই যুথীর ঘুম ভাঙে বাবার কাশির শব্দে। ঘুম ভাঙার পর তিনি ঘণ্টাখানিক কেশে শরীরের কলকব্জা ঠিক করেন। বাকি দিন আর কাশেন না।

    যুথী টেলিফোন করে তার চাকরি পাওয়ার খবর নীপকে দিল। নীপা বলল, এক কথায় চাকরি দিয়ে দিল? ব্যাটার অন্য কোনো মতলব নাই তো?

    অন্য কী মতলব?

    হয়তো চাকরির অলিখিত শর্ত, সে যখন দেশের বাইরে যাবে তোকেও সঙ্গে যেতে হবে।

    আমাকে সঙ্গে যেতে হবে কেন?

    ঘুমপাড়ানো মাসিপিসি হিসেবে যেতে হবে। রাতে বসের ঘুম আসছে না। তুই যাবি, বসের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে তাকে ঘুম পাড়াবি।

    কী বলছিস এইসব!

    ঠাট্টা করছি। আজ সন্ধ্যায় বাসায় চলে আয়, আমরা সেলিব্রেট করব। করিম আংকেলও আসবেন। তার মাথায় নতুন এক আইডিয়া এসেছে। তিনি আইডিয়া শোনাবেন। তুই অবশ্যই আসবি। ঠিক আছে?

    হ্যাঁ ঠিক আছে।

    গাড়ি পাঠাব?

    গাড়ি পাঠাতে হবে না।

    যুথী! তুই কি সত্যি চাকরি করবি?

    হুঁ।

    M.Sc. শেষ করবি না?

    না।

    সেকেন্ড থাট দিবি?

    না।

    যুথী টেলিফোন রেখে দিল। গফুর যুথীর জন্যে চা এনে কচুমাচু মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে।

    আপনার নাম গফুর?

    জি ম্যাডাম।

    যুথী কিছুক্ষণ গফুরের দিকে তাকিয়ে রইল। একে সে যখন-তখন ধমকাতে পারবে, এই চিন্তাটাও আনন্দদায়ক।

    আজহার মেয়ের ঘরের তালা খুলে পুরো ঘর। তন্নতন্ন করে খুঁজেছেন। একটা ডায়েরি পাওয়া গেছে। সেই ডায়েরি তিনি নিয়ে এসেছেন। রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে গোপনে এই ডায়েরি পড়তে হবে। এর মধ্যে মেয়ে যদি ডায়েরির খোঁজ করে তিনি বলবেন, তোর ডায়েরির বিষয়ে আমরা জানব কী করে? তুই তো তোর ঘর তালা দিয়েই রাখিস।

    যুথী বাসায় ফিরল। বিকেল চারটায়। আজহার বসার ঘরের সোফায় পা তুলে বসা। মনে হচ্ছে মেয়ের ফেরার অপেক্ষায় আছেন। সালমাও স্বামীর পাশে বাসা। আজহার যতক্ষণ বাসায় থাকেন এই মহিলা চেষ্টা করেন। স্বামীর আশেপাশে থাকতে।

    যুথী বলল, তোমার শরীরের অবস্থা কী বাবা?

    শরীর ভালো; কে যেন তোকে একটা চিঠি দিয়েছে। আর একটা বক্স পাঠিয়েছে। ব্যাপার কী বলা তো? আগে চিঠিটা পড়।

    যুথী চিঠি পড়ল।

    আজহার বললেন, চিঠিতে কী লেখা?

    যুথী বলল, চিঠিতে কী লেখা তুমি জানো বাবা। তুমি চিঠি খুলে পড়েছ। তারপর খামের মুখ বন্ধ করে রেখেছি। কীভাবে বুঝলাম জানতে চাও? চিঠি থেকে ভকভক করে বিড়ির গন্ধ আসছে। যে ভদ্রমহিলা চিঠি লিখেছেন তিনি নিশ্চয়ই বিড়ি খান না।

    সালমা বললেন, বাবার সম্পর্কে হুট হাট কথা বলবি না মা। তোর বাবা খাম হাতে নিয়েছিল, সেখান থেকে বিড়ির গন্ধ পাচ্ছিস।

    যুথী বলল, মা, আমি চিঠিটা তোমার হাতে দিচ্ছি। তুমি শুকে দেখো। খাম না, শুধু চিঠি।

    আজহার দুঃখিত গলায় বললেন, সালমা, তোমার মেয়ের মাথা খারাপ হয়েছে। টোটাল মস্তিষ্কবিকৃতি। ওর কথা ধরে মন খারাপ করার কিছু নাই। ফল কে পাঠিয়েছে তোমার মেয়েকে জিজ্ঞেস করো। আমি ঠিক করেছি, বাকি জীবন আর সরাসরি তোমার মেয়ের সঙ্গে কোনো কথা বলব না।

    যুথী বলল, ফল পাঠিয়েছে তুমি বুঝলে কী করে? তুমি তো চিঠি পড়ে নি।

    সালমা বললেন, ভকভক করে ফলের গন্ধ এসেছে, সেখান থেকে তোর বাবা বুঝেছে।

    আজহার বললেন, এই মেয়ের সঙ্গে বাক্যালাপ করা মানে সময়ের অপচয়। আমি শোবার ঘরে যাচ্ছি। কিছুক্ষণ শুয়ে থাকব। সালমা, যদি সম্ভব হয়। আমাকে এককাপ আদা চা দিয়ো।

    আজহার উঠে চলে গেলেন। যুথী মার পাশে বসতে বসতে বলল, সবসময় তুমি বাবার লেজ ধরে থাকো কেন মা? নিজের স্বাধীন চিন্তাভাবনা থাকবে না? বাবাকে আড়াল করে রাখার এই অভ্যাসটা খুব খারাপ। বাবাকে যখন চা দিচ্ছ আমাকেও এককাপ দিয়ে। আমার মাথা ধরেছে। আমি কিছুক্ষণ বিছানায় চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকব।

    সালমা উৎকৰ্ণ হয়ে রইলেন। তাঁর বুক ধ্বক ধ্বক করছে। মনে হচ্ছে এক্ষুনি যুথী চেঁচিয়ে বলবে, আমার ঘরের তালা কে খুলেছে?

    সেরকম কিছু হলো না। সালমা চা নিয়ে মেয়ের ঘরে ঢুকে ভীত গলায় বললেন, তোর বাবা ডাকছে। একটু শুনে যা লক্ষ্মী মা। যুথী উঠে দাঁড়াল।

    যুথীকে ঘিরে ঢুকতে দেখে আজহার হাসিমুখে বললেন, যুথী মা বোস। যেন একটু আগের ঘটনা তার কিছুই মনে নেই। যুথী বসল।

    আজহার বললেন, ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছিলি, সেই বিষয়ে তো কিছুই শুনলাম না। ইন্টারভিউ কেমন হয়েছে?

    খারাপ।

    কোয়েশ্চেনের আনসার করতে পারিস নাই?

    না।

    কোয়েশ্চেন কী করেছে?

    জিজ্ঞেস করেছে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভালো নাম কী?

    এটা আবার কী রকম প্রশ্ন! এই হিন্দুটা কে?

    একজন লেখক।

    হিন্দু লেখক তো একজনই—শরৎ বাবু। উনার একটা বই আছে, নাম চরিত্রহীন। ক্লাস নাইনে জিওগ্রাফি ক্লাসে এই বই পড়ে শেষ করেছিলাম। লাস্ট পাতা পড়তে গিয়ে ধরা খেলাম! চোখের পানি মুছছি, আজজ স্যার বললেন, কী বই পড়ছিস?

    আমি বললাম, জিওগ্রাফি বই স্যার।

    স্যার বললেন, জিওগ্রাফি বই পড়ে কাঁদছিস কেন? দেখি বই নিয়ে আয়।

    বই নিয়ে গেলাম। শুরু হলো শাস্তি। আমাদের সময় শাস্তি ছিল মারাত্মক। পেটে পেন্সিল দিয়ে ডলা। আজকাল শাস্তি উঠে গেছে, শাস্তির সঙ্গে সঙ্গে পড়াশোনাও উঠে গেছে।

    যুথী বলল, বাবা, তোমার কথা শেষ হয়েছে? আমি উঠি।

    আজহার বললেন, ছোট্ট একটা কথা বাকি আছে মা! ইন্টারভিউ নিয়ে মন খারাপ করবে না। Next কোনো ইন্টারভিউ দেওয়ার আগে আমার কাছে পরামর্শ নিবে। ইন্টারভিউ বোর্ডের কিছু আদিবাকায়দা আছে। আমি শিখিয়ে দিব। যেমন, সালাম দিয়ে ঢুকবে। ঢুকেই চেয়ার টেনে বসে পড়বে না। মিষ্টি করে বলবে, স্যার আমি কি বসব? তোমাকে বসতে কলার পর শব্দ করে চেয়ার টানবে না। শব্দ হয় না। এমনভাবে চেয়ার টেনে বসবে। আবারও মিষ্টি করে হেসে বলবে, স্যার ধন্যবাদ। বুঝতে পারছি কী বলছি?

    পারছি।

    যুথী মা। এখন সর্বশেষ কথা। আমাদের নবী-এ-করিমের একটা হাদিস। তিনি বলেছেন, আল্লাহপাক ছাড়া আমি যদি আর কাউকে সেজদার হুকুম দিতাম তাহলে পিতাকে সেজদার হুকুম দিতাম।

    যুথী বলল, যেহেতু নবী পিতাকে সেজদার হুকুম দেন নি, তোমাকে সেজদা করছি না।

    যুথী বের হয়ে গেল। আজহার দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। সালমা স্বামীর পিঠে হাত রেখে বললেন, মন খারাপ করো না।

    আজহার বললেন, আমি মন খারাপ করছি না। সিচুয়েশন অ্যানালাইসিস করছি! আর শোনো, তুমি যখন-তখন আমার গায়ে হাত দিবে না এবং সারাক্ষণ ঘেসাঘেঁসি করবে না। তোমার গা থেকে কড়া রসুনের গন্ধ আসে, এটা জানো? এখন থেকে ভালোমতো সাবান ডলে গরম পানি দিয়ে গোসল করবে।

    আচ্ছা।

    তার পেট থেকে কথা বের করো। শুভ্ৰ কে? শুভ্র কী বিপদে পড়েছিল? এইসব। তোমাকে চব্বিশ ঘণ্টা সময় দিলাম! ক্লিয়ার?

    কলিংবেল বাজতে শুরু করেছে। সালমা দরজা খোলার জন্যে উঠলেন। আজহার স্ত্রীর পেছনে পেছনে গেলেন। কেন জানি তাঁর মনে হয়েছে বাড়িতে পুলিশ এসেছে। শুভ্রর কোনো ব্যাপারেই এসেছে। বাড়ির সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

    দরজা খুলে দেখা গেল টুনু এসেছে। তার সঙ্গে একগাদা জিনিসপত্র। চাল এনেছে দুই বস্তা। মাষকলাইয়ের ডাল দশ কেজি। দুটা লাউ দুটা কুমড়া। পাট শাক, সজিনা। কেরোসিনের একটা টিন দেখা যাচ্ছে। টিনের মুখ খোলা।

    আজহার বললেন, টিনের ভেতর কী?

    টুলু বলল, জিয়ল মাছ বাবা।

    আজহার বললেন, গুড। ভেরি গুড। ঐ পুঁটলার ভেতর কী?

    কাঁচামরিচ আর লেবু। বড় চাচা বললেন, এবারের কাঁচামরিচে ঝাল বেশি হয়েছে নিয়ে যা।

    টাকা পয়সা কিছু দিয়েছেন?

    এগারো হাজার সাতশ টাকা দিয়েছেন।

    বলিস কী?

    গত বছরের ধান বেচা কিছু টাকা ছিল। সেটা নিয়ে এগারো হাজার সাতশ হয়েছে।

    ভাইজানের শরীর কেমন?

    শরীর বেশি ভালো না। হাঁটাচলা তেমন করতে পারেন না। সম্পত্তি ভাগাভাগি করে দিতে চান। তোমাকে যেতে বলেছেন।

    আজহার আনন্দিত গলায় বললেন, এই হলো আদর্শ বড়ভাই। পিতৃতুল্য। অন্যকেউ হলে সম্পত্তি মেরে দেয়ার তালে থাকত; ঠিক না সালমা?

    অবশ্যই ঠিক।

    আজহার বললেন, ভাইজানকে কিছুদিন আমার এখানে এনে রাখতে চাই। কিছুদিন সেবা-যত্ন করলাম। ভালো ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা করলাম। সালমা কী বলো?

    সালমা বললেন, বলাবলির তো কিছু নাই। তুমি গিয়ে উনাকে নিয়ে আসো।

    অফিসে ছুটির দরখাস্ত করব। ছুটি পেলেই উনাকে নিজে গিয়ে নিয়ে আসব। তুমি একটা গামলা আনো। গামলায় মাছ ঢেলে গুনে দেখি কয়টা। ডিমওয়ালা কয়েকটা শিং মাছ রান্না কোরো। ডিম আলাদা ভুনা করবে।

    টুনু যুথীর ঘরে ঢুকাল। টুনু বলল, শুয়ে আছিস কেন?

    যুথী বলল, মাথার যন্ত্রণা। ভাইয়া, তোকে চাষার মতো দেখাচ্ছে।

    টুনু বলল, চাষার মতো দেখানোরই কথা। এতদিন চাষবাসই করেছি। লাউ কুমড়ার বীজ লাগিয়েছি। ডাঁটা বুনেছি। ট্রাক্টর ভাড়া করে দুটা ক্ষেত চাষ দিয়েছি। খুবই ইন্টারেস্টিং। আমি নিজেই ট্রাক্টর চালিয়েছি।

    গ্রামে ট্রাক্টর ভাড়া পাওয়া যায়?

    পাওয়া যায়। এখনকার গ্রাম আর আগের গ্রাম না। তোর খবর কী?

    আমি বিরাট একটা চাকরি পেয়েছি।

    সত্যি!

    এখনও স্বপ্ন মনে হচ্ছে; তবে সত্যি। অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার টেবিলে রাখা আছে।

    তোর কাজ কী?

    কাজ কী জানি না। পোষ্টের নাম অফিস এক্সিকিউটিভ। কুড়ি হাজার টাকা বেতন। ভাইয়া, মাথা টিপে দে।

    টুলু আয়োজন করে মাথা টিপতে বসল। যুথীর ঘুম এসে যাচ্ছে, সে কষ্ট করে জেগে আছে! ঘুমিয়ে পড়লে আরামটা পাওয়া যাবে না। টুকু বলল, গ্রাম থেকে একটা খবর শুনে এসেছি। বাবাকে খবরটা দেব কি না বুঝতে পারছি না।

    কী খবর?

    বড় চাচা না-কি আমাদের সব সম্পত্তি জাল দলিল-টলিল করে নিজের নামে লিখিয়ে নিয়েছেন।

    খবর দিয়েছে কে?

    মেম্বার কুদ্দুস বলেছেন। আরো কয়েকজন বলেছেন। বাবাকে কি বলব?

    যুথী বিছানায় উঠে বসতে বসতে বলল, না। বাবা তাঁর বড়ভাইকে দেবতার মতো দেখেন। ঘটনা সত্যি হলে বাবা যে শক পাবে, সেই শকেই মারা যাবে।

    একদিন তো জানবেনই।

    যখন জানবেন তখন জানবেন। এখন ঝামেলা করে লাভ নাই।

    আজহার মাছ গোনা শেষ করেছেন। আঠারোটা কই মাছ। এদের মধ্যে পাঁচটা বেশ বড়। শিং, মাছ আছে বাইশটা। সবই মাঝারি সাইজের। আজহার বললেন, ভাইজানের শরীরটা খারাপ শোনার পর থেকে মনটা অস্থির হয়ে আছে। কী করি বলে তো?

    একটা মুরগি সদগা দিয়ে দাও।

    গুড আইডিয়া। মসজিদে একটা মিলাদও দিয়ে দেই।

    দাও।

    তোমার গুণবতী মেয়েকে ডেকে আনো। দেশ থেকে কী এসেছে একটু দেখুক। দেখার মধ্যেও তো আনন্দ। সে রাতে কী খেতে চায় জিজ্ঞেস করো। সেই মতো রান্না করো।

    সালমা বললেন, ও রাতে খাবে না। তার বান্ধবী নীপার বাড়িতে রাতে খাবে।

    নিষেধ করো। দুদিন পর পর দাওয়াত খাওয়া আমার অত্যন্ত অপছন্দ। টুনু এতদিন পরে এসেছে, সবাই রাতে একসঙ্গে খাব। ভালো কথা, ফলের বাক্সটা তো খোলা হয় নাই?

    না।

    খোলো। দেখি কী আছে। তোমার কাজের কোনো সিস্টেম নাই।

    ফলের বাক্স খুলে আজহার মুগ্ধ হয়ে গেলেন। দেশী ফল একটাও না। সবই বিদেশী। এর মধ্যে কয়েকটা ফল তিনি চিনতেই পারলেন না। তিনি বললেন, সালমা, আমার মোবাইল টেলিফোনটা আনো, ছবি তুলে রাখি। তুমি এই ফলটা হাতে নিয়ে বসে। আমি ছবি তুলে দেই।

    ফলটার নাম কী?

    নাম জানি না। এইজন্যেই তো ছবি তুলছি। স্যারকে ছবি দেখাব। উনি নাম বলে দেবেন। অত্যন্ত জ্ঞানী একজন মানুষ! অহঙ্কার একেবারেই নাই। আমার ভাইজানের সঙ্গে উনার চেহারার মিলও আছে। প্রায়ই ভাবি, দাওয়াত করে উনাকে খাওয়াব।

    দাওয়াত করলেই পার।

    এই সপ্তাহেই করি। কী বলো?

    আজহার ফলের চারটা ছবি তুললেন। একটা তুললেন নিজের ছবি। সালমাকে দিয়ে তোলালেন। এই ছবিতে তিনি একটা স্ট্রবেরি নিয়ে মুখের সামনে ধরে আছেন।

    রেহানা শুভ্রর কিছু কর্মকাণ্ড মোটেই বুঝতে পারছেন না। শুভ্রর ঘরে ঝকঝকে নতুন একটা হারমোনিয়াম। একটা বয়সে যুবকদের গানবাজনার শখ হয়। তারা হারমোনিয়াম কেনে না। গিটার কিংবা কি-বোর্ড পর্যন্ত যায়। অতি দ্রুত গানবাজনার শখের মৃত্যু ঘটে।

    তিনি শুভ্ৰকে ডেকে হাসিমুখে জিজ্ঞেস করতে পারেন, তোমার ঘরে হারমোনিয়াম কেন?

    জিজ্ঞেস করতে মন সায় দিচ্ছে না। শুভ্ৰ নিজ থেকে কেন বলবে না? কেন তার মধ্যে লুকাছাপা চলে এসেছে? হারমোনিয়াম সে।চাঁদর দিয়ে ঢেকে রেখেছে, এর অর্থ সে আড়াল করতে চাইছে।

    বিকেলে চা খেতে শুভ্র ছাদে যায়। চায়ের কাপটা থাকে ছাদের মাঝামাঝি জায়গায় রাখা শ্বেতপাথরের বেদিতে; শুভ্ৰ ছাদের এক মাথা থেকে আরেক মাথায় দ্রুত হাঁটাইটি করে। মাঝে মাঝে বেদির কাছে এসে চায়ে চুমুক দেয়। শুভ্ৰ এই হাঁটাহাঁটির নাম দিয়েছে চিন্তাচিন্তি। হাঁটতে হাঁটতে সে নাকি চিন্তা করে।

    রেহানা ছেলের খোঁজে ছাদে এলেন। শুভ্ৰ হাঁটাহাঁটি করছে না। বেদিতে বসে। আছে। হাতে চায়ের কাপ। রেহানা বললেন, হাঁটাহঁটির পর্ব শেষ না-কি?

    শুভ্ৰ জবাব দিল না। মায়ের দিকে তাকিয়ে হাসল।

    রেহানা বললেন, দেখি তোমার কাপ থেকে এক চুমুক চা খাই।

    শুভ্ৰ মার হাতে চায়ের কাপ তুলে দিল। রেহানার সুচিবায়ুর মতো আছে। কিন্তু ছেলের চায়ের কাপে এক চুমুক দিতে কিংবা তার পেপসির গ্লাসে এক চুমুক দিতে তাঁর ভালো লাগে। এটা তার পুরনো অভ্যাস।

    তোমার ঘরে একটা হরমোনিয়াম দেখলাম। কিনেছ?

    হুঁ।

    হারমোনিয়াম দিয়ে কী করবে?

    একজনকে গিফট করব মা।

    রেহানা পরের প্রশ্নটা করবেন কী করবেন না বুঝতে পারছেন না। পরের প্রশ্নটা হলো, সেই একজনটা কে? শুভ্ৰ মনে হয় সেই একজনের পরিচয় দিতে চাচ্ছে না। পরিচয় দিতে চাইলে শুরুতেই তার নাম বলত।

    রেহানা হাত থেকে চায়ের কাপ নামিয়ে রাখতে রাখতে বললেন, যাকে হারমেনিয়াম গিফট করবে তাকে কি আমি চিনি?

    না। তবে তার নাম শুনেছ।

    নাম জানতে পারি?

    হারমোনিয়ামটা আমি যুথীর জন্যে কিনেছি মা।

    রেহানা প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। গলার স্বর স্বাভাবিক রাখতে। শুভ্রর হাস্যকর কাণ্ডকারখানায় গলার স্বর স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। রেহানা বললেন, যুথী মেয়েটা কি তোমাকে হারমোনিয়াম কিনে দিতে বলেছে?

    না।

    তাহলে তাকৈ হারমোনিয়াম গিফট করছ কেন?

    মা। যুথীর গলার স্বর অস্বাভাবিক মিষ্টি। আমি চাই ও গান শিখুক।

    তুমি কি তার অভিভাবক?

    শুভ্র বলল, না মা, আমি ওর কিছুই না। কিন্তু আমি চাই ও গান শিখুক। আমি খুব সুন্দর একটা চিঠি তাকে লিখেছি। হারমোনিয়াম এবং চিঠিটা তাকে পাঠাব। আমার ধারণা চিঠিটা পড়লেই সে গান শিখবে।

    সেই চিঠিটা কি আমি পড়ে দেখতে পারি?

    অবশ্যই পার। কেন পারবে না? চিঠিটা আমার বুকসেলফের তিন নম্বর তাকে, বইয়ের ওপর রাখা আছে। ড্রাইভারকে দিয়ে চিঠি এবং হারমোনিয়াম পাঠাবার ব্যবস্থা কোরো তো মা। আমার নিজের যেতে লজা লাগবে।

    তুমি কি ছাদে আরও কিছুক্ষণ থাকবে?

    সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত থাকব।

    তোমাকে কি আরেক কাপ চা পাঠাব?

    পাঠাও।

    রেহানা ছাদ থেকে নেমে গেলেন। শুভ্রর জন্যে চায়ের ব্যবস্থা করে তিনি চিঠি পড়তে বসলেন।

    যুথী
    এই হারমোনিয়ামটা আমি আপনার জন্যে কিনেছি। আগেই রেগে যাবেন না। কেন কিনেছি তা শুনুন। আপনার গলার স্বর অস্বাভাবিক মিষ্টি। আমি নিশ্চিত, অনেকেই এই কথা আপনাকে বলেছে। তবে আপনি নিজে বিষয়টা জানেন
    প্রকৃতি যখন কাউকে বড় ধরনের গিফট দিয়ে পাঠায় তখন তার উচিত বহুজনকে সেই গিফটের ভাগ দেওয়া। আপনি যদি গান শেখেন এবং গান করেন। তবেই আপনার কিন্নরকণ্ঠের আনন্দ অন্যরা নিতে পারবে।
    প্লিজ, আমার ওপর রাগ করবেন না।
    শুভ্র।

    শুভ্রর ড্রাইভার যখন হারমোনিয়াম এবং চিঠি নিয়ে যুথীদের বাসায় পৌঁছ তখন যুথী নেই। সে নীপার কাছে গেছে।

    আজহার টুনুকে ডেকে বললেন, টুনু, ঘটনা কী?

    টুনু বলল, বাবা, আমি তো জানি না ঘটনা কী।

    ঘরে হারমোনিয়াম চলে এসেছে, ব্যাপার কী? এখন থেকে কি বাড়িতে বাদ্যবাজনা হবে? আমার বাসাটা হবে বাইজি বাড়ি? হারমোনিয়ামের সঙ্গে নাকি চিঠিও এসেছে?

    হ্যাঁ।

    চিঠি খুলে পড়ে দেখ।

    টুনু বলল, যুথীর কাছে লেখা চিঠি আমি কেন পড়ব?

    তোকে পড়তে বলছি। এইজন্যে পড়বি। এটা আমার অর্ডার।

    টুনু হতাশ গলায় বলল, বাবা, এটা আমি করব না।

    আজহার বললেন, তুমি ষাড়ের গোবর ছাড়া কিছু না। প্লেইন এন্ড সিম্পল cowdung. তিনবার ইন্টারমিডিয়েট ফেল করে এখন গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াও। ঢাকা শহরে তুমি ঠেলাগাড়ি চালিয়ে জীবন কাটাবে, আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। এখন আমার চোখের সামনে থেকে বিদায় হও। স্টুপিড কোথাকার!

    টুনু মাথা নিচু করে বের হয়ে গেল। আজহার খাম খোলার প্রস্তুতি নিলেন। তবে এবার ভুল করলেন না, সাবান দিয়ে বেশ কয়েকবার হাত ধুয়ে নিলেন; যেন চিঠিতে বিড়ির গন্ধ লেগে না থাকে।

    করিম আংকেল যুথীর চাকরি পাওয়া সেলিব্রেট করার জন্যে শ্যাম্পেনের বোতল খুলতে খুলতে বললেন, বিশেষ কোনো ঘটনা সেলিব্ৰেট করার জন্য আছড়ে নারিকেল ভাঙার প্রথা ছিল। পশ্চিমা দেশে নারিকেলের পরিবর্তে শ্যাম্পেনের বোতল খোলা হয়। যুথী, তুমি যদি গ্লাসে একটা চুমুক না দাও। তাহলে সেলিব্রেশন সম্পন্ন হবে না।

    শ্যাস্পেনের গ্লাসে শ্যাম্পেন ঢালা হয়েছে। চারজন মানুষ চারটা গ্লাস। নীপা, যুথী, করিম, আংকেল এবং যমুনা।

    নীপ বলল, যুথী যখন খেতে চাচ্ছে না। ওকে জোর করার কিছু নেই, ও খালি গ্লাসেই চুমুক দিক।

    করিম আংকেল বললেন, তা তো হবে না।

    নীপা বলল, আমি নারিকেল আনার ব্যবস্থা করছি। নারিকেল ভাঙা হোক।

    যুথী কিছু না বলে একটা শ্যাম্পেনের গ্লাস হাতে নিয়ে চুমুক দিল।

    করিম আংকল বললেন, খেতে কেমন লাগছে বলো?

    যুথী বলল, তেঁতুলের পানির মতো লাগছে।

    করিম অ্যাংকেল প্লাস উঁচু করে বললেন, যুথীর চাকরি পাওয়া উপলক্ষে উল্লাস অর্থাৎ Cheers.

    যুথী ছাড়া সবাই বলল, চিয়ার্স! যুথী গ্লাসে দ্বিতীয় চুমুক দিল।

    নীপা বলল, যুথীকে অদ্ভুত একটা প্রশ্ন করে হুট করে চাকরি কেন দিল। ব্যাপারটা বুঝতে পারছি না। করিম আংকেল, আপনার কী ধারণা?

    করিম আংকেল বললেন, যে চাকরি দিয়েছে সে যে-কোনো কারণেই যুথীর প্রতি প্রবল শারীরিক আকর্ষণ অনুভব করেছে। বডি কেমিষ্ট্র কাজ করেছে। আর কিছু না।

    নীপা বলল, ভদ্র কথা বলুন করিম আংকেল।

    এরচেয়ে ভদ্রভাবে বিষয়টা বলা অসম্ভব। যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যে চাকরি হয়েছে তিনিও এরচেয়ে ভদ্রভাবে বলতে পারতেন না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হয়তো পারতেন। তিনি বলতেন, যুথীকে দেখিয়া উনার শরীর জাগিয়া উঠিল। বাজিল বুকে সুখের মতো ব্যথা।

    যমুনা বলল, শ্যাম্পেন খেতে ভালো লাগছে না। আমি হুইঙ্কি খাব।

    করিম আংকেল বললেন, হুইস্কির বোতল যথাসময়ে খোলা হবে। তার আগে আমি যে বিশেষ কথাটি বলতে চাচ্ছি তা বলে ফেলি। আমি একটা ছবি বানাব। ফুল লেংথ ফিচার ফিল্ম। ছবির নাম প্তহামানব! পাইপের ভেতর বাস করে এমন কিছু নরনারীর দিবারাত্রির কাব্য। সবাই বলো, উল্লাস।

    সবাই উল্লাস বলল।

    আজহার দরজা বন্ধ করে যুথীর ডায়েরি নিয়ে বসেছেন। প্রথম পাতায় তারিখ দিয়ে লেখা–

    করিম আংকেল আজ আমাকে মদ খাওয়ানোর জন্যে অনেক ঝুলাঝুলি করলেন। যে এই জিনিস খায় না তাকে এত পীড়াপীড়ি কেন! আমাকে বললেন, যুথী, এসো আমরা কারণ ছাড়া কারণ পান করি।

    আমি বললাম, কারণ জিনিসটা কী?

    করিম আংকেল বললেন, কারণ হলো কারণবারি। তান্ত্রিক সন্নাসীরা মদ বলে না। বলে কারণবারি। এতে মদের দোষ কেটে যায়।

    আজহার ডায়েরি বন্ধ করে ঘামতে থাকলেন। এইসব কী? তার বুক ধড়ফড় করতে লাগল। তাঁর মনে হলো এক্ষুনি তিনি মাথা ঘুরে মেঝেতে পড়ে যাবেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশুভ্র – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article সাজঘর – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }