Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শুভ্র গেছে বনে – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প161 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৪. চিকেন ফেদার-এর হেড অফিস

    সকাল এগারোটা। চিকেন ফেদার-এর হেড অফিসে হঠাৎ করেই তুমুল ব্যস্ততা। এমডি সাহেব এসেছেন। তাঁর ঘরের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে! ইলেকট্রিসিটি নেই বলে এসি চালু করা যাচ্ছে না। জরুরি ভিত্তিতে জেনারেটার দিয়ে এমডি সাহেবের এসি চালু করা হয়েছে।

    চিকেন ফেদারের জেনারেল ম্যানেজার আহসান টেবিলের স্মাওনে দাঁড়িয়ে আছেন। এমডি সাহেবের অনুমতি ছাড়াই তিনি বসবেন কি বসবেন না। এই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তাকে খুবই চিন্তিত দেখাচ্ছে।

    শুভ্ৰ বলল, বসুন। দাঁড়িয়ে আছেন কেন?

    আহসান বসলেন।

    শুভ্র বলল, মনে হয় আজ সন্ধ্যায় বাবার জাপান থেকে ফেরার কথা।

    আহসান বিস্মিত হয়ে বললেন, উনি তো গতকাল ফিরেছেন! স্যার আপনি জানেন না?

    শুভ্ৰ বলল, আমি বাড়িতে ছিলাম না। আমার এক বোনের সঙ্গে ছিলাম। বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ নেই। যাই হোক, আমার কিছু টাকা দরকার। কীভাবে পাব?

    টাকার পরিমাণ কত স্যার?

    দুলাখ হলেই চলবে।

    আহসান বললেন, একটা ক্লিপ দিয়ে ক্যাশিয়ারের কাছ থেকে নিয়ে নিতে পারেন। কিংবা চেক কাটতে পারেন। আপনার ড্রয়ারে চেক বই আছে। চেক কাটলে একটু সময় লাগবে।

    শুভ্ৰ স্লিপ লিখে টাকা নিল।

    আহসান বললেন, চা খাবেন স্যার?

    শুভ্ৰ বলল, চা খাব। চা দিতে বলুন। আমি দুটা চিঠি লিখে দিচ্ছি। একটা যাবে আমার মার কাছে। আরেকটা যাবে একটা মেয়ের কাছে। তার ঠিকানা জানি না, তবে বাসা চিনি। আমার গাড়ির ড্রাইভার তার বাসা চেনে। তাকে সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন।

    আহসান বলল, অবশ্যই নিয়ে যাব। স্যার, আপনার বোনের বাসা কোথায়?

    ও বস্তিতে থাকে। ঠিক বস্তিও বলা যাবে না। পাইপের ভেতর সংসার। জায়গাটা কটাবনের আশেপাশে। রোডস অ্যান্ড হাইওয়েজের গুদামঘরের বাউন্ডারির ভেতর।

    আহসান বলল, স্যার, আমি খুবই কনফিউজড বোধ করছি।

    শুভ্র বলল, কনফিউজড় হবার কিছু নেই। অনেকেই এ ধরনের বাড়িতে থাকে। ফুটপাতে থাকার চেয়ে ভালো।

    স্যার, আপনি কি বড় সাহেবের সঙ্গে কথা বলবেন? আমি লাইন করে দেব?

    শুভ্র বলল, বাবার সঙ্গে এখন কথা বলব না। চা খেয়ে বিদায় হব।

    কোথায় যাবেন?

    কিছু বইপত্র কিনব।

    স্যার, বইয়ের লিষ্ট দিয়ে দিন, আমি কিনে নিয়ে আসছি।

    আমি নিজে দেখেশুনে কিনব।

    আহসান বিব্রত গলায় বলল, স্যার, আপনার বোনের নামটা কি জানতে পারি?

    শুভ্র বলল, অবশ্যই পারেন। ওর আসল নাম মর্জিনা। তবে ওকে সবাই ফুলকুমারী নামে চেনে। ওর বাবার নাম ইসহাক। আগে রিকশা চালাতেন। ট্রাকের ধাক্কায় পা কাটা পড়েছে। এখন পাইপেই বেশির ভাগ সময় থাকেন। উনার রান্নার হাত খুবই ভালো।

    আহসান হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে। তার মনে হচ্ছে এক্ষুনি তার বড় সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করা দরকার। সেটাও করা সম্ভব হচ্ছে না। এমডি সাহেব সামনে বসে আছেন।

    শুভ্ৰ চা খেয়ে টাকা নিয়ে উঠে দাঁড়াল।

    আহসান বলল, স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে আসব?

    শুভ্ৰ বলল, না।

    আপনি তো গাড়ি আনেন নি। অফিসের গাড়ি দিয়ে দেই?

    শুভ্র বলল, না। রিকশায় করে ঘুরতে আমার চমৎকার লাগে।

    শুভ্রর লেখা চিঠিটা রেহানা এই নিয়ে চারবার পড়লেন। পঞ্চমবার পড়তে যাচ্ছেন তখন মেরাজউদ্দিন বললেন, দেখি কী লিখেছে। রেহানা স্বামীর হাতে চিঠি দিয়ে চোখ মুছলেন। শুভ্র চলে যাবার পর থেকে একটু পর পর তাঁর চোখে পানি আসছে।

    শুভ্র লিখেছে—

    মা,
    কাল রাতে তোমাকে স্বপ্নে দেখেছি। স্বপ্নটা বেশ মজার। আমি চশমা হারিয়ে ফেলেছি। আর তুমি বলছি, কান্না বন্ধ করো। একটা স্পেয়ার চশমা সবসময় তোমার ড্রয়ারে থাকে। তুমি কি ড্রয়ার খুলে দেখেছ?

    আমি ড্রয়ার খুললাম। দেখি ড্রয়ারে শুধু আমার মানিব্যাগটা আছে। আমি মানিব্যাগ খুলে দেখি মানিব্যাগের ভেতর আমার চশমা।

    স্বপ্নে অনেক অদ্ভুত ব্যাপার হয় মা। মানিব্যাগের ভেতর টাকার বদলে চশমা পাওয়া যায়। তবে স্বপ্ন যত অদ্ভুতই হোক তার ব্যাখ্যা থাকে। চশমা ছাড়া আমি আচল, কাজেই যে-কোনো দুঃস্বপ্নে আমি চশমা দেখব। এটাই স্বাভাবিক।

    টাকা পয়সার হঠাৎ অভাবে ঝামেলায় পড়েছিলাম বলে মানিব্যাগ স্বপ্নে দেখেছি।

    মা শোনো। আমি চিকেন ফেদার অফিসের ক্যাশিয়ারের কাছ থেকে দুলক্ষ টাকা স্লিপ কেটে নিয়েছি। বাবা ঘটনাটা জানলে হয়তো মনে কষ্ট পাবেন। বাবা আমার আইডল। আমি কোনো অবস্থাতেই বাবাকে কষ্ট দিতে চাই না। মা, তুমি তোমার কাছ থেকে দুলক্ষ টাকা অফিসে জমা দিয়ে দিয়ে। আমি ভালো আছি। বেশ ভালো আছি। তুমি এবং বাবা তোমাদের দুজনের ধারণা আমি তোমাদের প্রটেকশন ছাড়া অচল। ধারণা মিথ্যা।

    মা শোনো। ঐদিন একটা অসহায় মেয়েকে তুমি সাহায্য করো নি। আমার খুব মন খারাপ হয়েছিল। ছোটবেলা থেকেই আমি জেনে এসেছি, তুমি এবং বাবা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ। এর ব্যতিক্রম যখনই দেখি তখন অস্থির লাগে।

    মা, তুমি ভালো থেকে এবং আমার ওপর রাগ করো না। কেউ আমার ওপর রাগ করে থাকলে আমার কেমন জানি লাগে। নিজেকে তখন ক্ষুদ্র এবং তুচ্ছ মনে হয়।

    ইতি
    শুভ্র

    মেরাজউদ্দিন বললেন, রেহানা, তুমি upset হয়ে না। সবকিছু কনট্রোলের ভেতর চলে আসবে। আমাদের হিসেবে সামান্য ভুল হয়েছে। ভুল হবেই। ভুল থেকে আমরা শিখব। আহসান কি এসেছে?

    হ্যাঁ, ড্রয়িং রুমে বসে আছে।

    ওকে ডাকো। ওর সামনে এমন কিছু করবে না যাতে অস্থিরতা প্রকাশ পায়। যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাপতি অস্থির হলে সেই অস্থিরতা সৈন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

    রেহানা বললেন, আমরা কি যুদ্ধে নেমেছি?

    প্রচুর বিত্ত মানেই যুদ্ধ। বিত্ত সামলানোর যুদ্ধ। বিত্ত বাড়ানোর যুদ্ধ।

    মেরাজউদ্দিন এবং রেহানা খাবার টেবিলে বসে ছিলেন। আহসানকে ভীত এবং সংকুচিত ভঙ্গিতে তাদের সঙ্গে বসতে হলো। মেরাজউদ্দিন বললেন, আহসান, কেমন আছ?

    আহসান বলল, স্যার ভালো আছি।

    আজ আমার বাড়িতে কেক কাটার মতো একটা আনন্দময় ঘটনা ঘটেছে। এই বিষয়ে কি কিছু জানো?

    জানি না স্যার।

    শুভ্রর M.Sc. পরীক্ষার রেজাল্ট হয়েছে। ও রেকর্ড নাম্বার পেয়ে প্রথমশ্রেণীতে প্রথম হয়েছে। সে যে KNS তা জানো?

    জানি না। স্যার। KNS কী?

    কালিনারায়ণ স্কলার। যাই হোক, চিকেন ফেদার অফিসে এই উপলক্ষে তোমরা একটা কেক কাটবো।

    অবশ্যই স্যার।

    মেরাজউদ্দিন আহসানের দিকে সামান্য ঝুঁকে এসে বললেন, এডোলোসেন্স পিরিয়ড ১৯ বছরেই শেষ হবার কথা। অনেকের হয় না। শুভ্রর হয় নি। হয় নি বলেই সে পাইপের ভেতর বাস করার অদ্ভুত কাণ্ড করছে। তার বিষয় হচ্ছে Physics, পাইপ না।

    অবশ্যই স্যার।

    সে কোথায় থাকে কী ব্যাপার খোঁজ নিয়েছ?

    নিয়েছি স্যার। তারা কেউ এখন সেখানে নেই। কোথায় গেছে কেউ বলতে পারছে না।

    রেহানা বললেন, যে মেয়েটিকে সে বোন বলছে, মর্জিনা না কী যেন নাম, ওই মেয়েটি কে?

    আহসান বিব্রত গলায় বলল, বলতে লজ্জা পাচ্ছি ম্যাডাম। মেয়েটা একটা প্রস্টিটিউট।

    কী বললে?

    ম্যাডাম, ভাসমান পতিতা।

    রেহানা এবং মেরাজউদ্দিন দুজনের কেউ বেশ কিছুক্ষণ কোনো কথা বলতে পারলেন না। দুজন অবাক হয়ে আহসানের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

    আহসান বলল, স্যার, আমাকে আটচল্লিশ ঘণ্টা সময় দিন, আমি খোঁজ বের করে ফেলব। সব জায়গায় খবর চলে গেছে। থানাতে জানিয়েছি। থানাওয়ালরা কিছু করতে পারবে না; আমি দালাল লাগিয়েছি।

    মেরাজউদ্দিন সিগারেট ধরাতে ধরাতে রেহানার দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমার ছেলে পুরো বিষয়টাকে যথেষ্ট ইন্টারেস্টিং করে তুলেছে। তাই না?

    রেহানা কিছু বললেন না। আহসান বলল, ম্যাডাম, আমার ওপর আর কোনো নির্দেশ কি আছে?

    রেহানা বললেন, তুমি বলেছ শুভ্র আরেকটি মেয়েকে চিঠি লিখে গেছে। ওই চিঠি কি পৌঁছানো হয়েছে?

    না। চিঠিটা আমার সঙ্গেই আছে। আপনি কি পড়ে দেখবেন?

    রেহানা বললেন, দেখব।

    মেরাজউদ্দিন বললেন, অবশ্যই তুমি সেই চিঠি পড়বে না। প্রাইভেসি আমাদের সবাইকে রক্ষা করতে হবে।

    রেহানা বললেন, একটা সময় আসে যখন প্রয়োজনেই প্রাইভেসি ভাঙতে হয়। এখন সেই সময়। চিঠিটা আমি অবশ্যই পড়ব।

    আহসান চিঠি এগিয়ে দিল।

    যুথী,

    আপনি কি আমার ওপর রাগ করেছেন? সন্ধ্যাবেলা বাসায় চা খাবার দাওয়াত দিয়েছিলেন। আমি আসি নি। কেন আসতে পারি নি। সেই ব্যাখ্যাও করি নি।

    এখন নিশ্চয়ই ব্যাখ্যাটা আপনি জানেন। আপনার বান্ধবী নীপা আপনাকে বলেছে। লাইলি কি ফিরেছে আপনাদের বাসায়?

    No man is an island. আমরা কেউ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ না। আমরা খুবই ঘনিষ্ঠভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। যে কারণেই লাইলি আপনাদের কাছে ফিরেছে কি না জানার জন্যে আমি আগ্ৰহী।

    আপনি কি গান শেখা শুরু করেছেন? আমি নিশ্চিত, একদিন গায়িকা হিসেবে আপনার খুব নাম হবে। পত্রিকায় ইন্টারভিউ, অটোগ্রাফ দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে যাবেন। সেইসব ইন্টারভিউতে আমার নাম চলে আসবে। আপনি বলবেন, আমার গানের সিঁড়ির প্রথম ধাপ শুভ্ৰ নামের একজন প্রতিবন্ধী মানুষ করে দিয়েছিলেন। আমাদের সবারই প্রথম কয়েকটি সিড়ি অন্যদের কেটে দিতে হয়। বাবা-মা-বন্ধুরা কাটেন। আবার নিতান্ত অপরিচিতজনও কাটেন। যেমন, আপনার একটি সিঁড়ি হলেও আমি কেটেছি।

    আমার খুব ইচ্ছা অসংখ্য মানুষের জন্যে আমি সিঁড়ি কাটব। তখন আপনি আর আমাকে গাধামানব বলবেন না। বলবেন সিঁড়ি-মানব।

    ইতি
    শুভ্র

    রেহান চিঠিটা স্বামীর দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বললেন, তোমার ছেলে রাজমিস্ত্রি হয়েছে। সিঁড়ি বানাবার কারিগর। চিঠিটা পড়ো।

    মেরাজউদ্দিন চিঠি পড়লেন। আহসানকে বললেন, মেয়েটিকে তুমি আমার এখানে নিয়ে আসবে। মেয়েটির সাহায্য আমাদের প্রয়োজন। শুভ্ৰ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করলেও এই মেয়েটির সঙ্গে যোগাযোগ করবে।

    স্যার, আমি এখনই যাচ্ছি।

    মেরাজউদ্দিন বললেন, তোমাকে এখনই যেতে হবে না। তুমি আটচল্লিশ ঘণ্টা সময় চেয়েছ। আটচল্লিশ ঘণ্টা পারু হোক। তারপর যাবে। আটচল্লিশ ঘণ্টার ভেতর শুভ্রর সন্ধান পাওয়া মেয়েটির আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। বুঝতে পারছি?

    পারছি। স্যার, আমি কি উঠাব?

    হ্যাঁ।

    আহসান চলে যাবার পর মেরাজউদ্দিন বললেন, রেহানা! চা খাব। চা দিতে বলো।

    মেরাজউদিনের অসময়ে চা খাওয়ার অর্থ তিনি কোনো আলোচনায় যাবেন। চা তার পছন্দের পানীয় না। আলোচনার অনুষঙ্গ।

    চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে মেরাজউদ্দিন বললেন, একটা বয়সে প্রতিটি যুবক কিছুদিনের জন্যে কার্ল মার্কস্ হয়ে যায়। নিপীড়িত অবহেলিত মানুষের জন্যে কিছু করতে হবে-এই ভূত মাথায় ভর করে। এটা হলো এক ধরনের ভাইরাস সংক্রমণ। ভাইরাসের কোনো ওষুধ নেই। এই অসুখেরও ওষুধ নেই। কিছুদিন পর আপনাআপনি ভাইরাস মারা যায়। রোগী সেরে ওঠে। তোমার ছেলের ক্যাপারেও একই ঘটনা ঘটবে।

    রেহানা বললেন, আমার ছেলে অন্য দশটা ছেলের মতো না।

    মেরাজউদ্দিন বললেন, সব মায়ের ধারণা তার ছেলে অন্য দশজনের মতো না।

    রেহানা বললেন, রবীন্দ্রনাথের মায়েরও নিশ্চয়ই এরকম ধারণা ছিল। রবীন্দ্ৰনাথ কি আলাদা না?

    মেরাজউদ্দিন বললেন, তোমার ছেলে রবীন্দ্রনাথ না। আইনস্টাইনও না। সে পরীক্ষায় ফার্স্ট সেকেন্ড হওয়া একজন গৰ্ধব।

    গৰ্ধব?

    অবশ্যই। আমি চাই তার শিক্ষা সফর হোক। শিক্ষা সফর শেষে এই বাড়িতে সে ঢুকবে। তবে হেঁটে ঢুকবে না। হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকবে।

    এত রেগে গেছ কেন?

    তোমার ছেলে একজন প্রস্টিটিউটের সঙ্গে বোন পাতাবো। পাইপে বাস করবে। আমি রাগ করব না? অফিস থেকে সে দুলক্ষ টাকা নিয়েছে। এক অর্থে চুরি করেছে। সে শুধু যে গর্ধব তা-না, চোর গর্ধব।

    রেহানা বললেন, ওই টাকা আমি পাঠিয়ে দিচ্ছি।

    মেরাজউদ্দিন বললেন, গুড। পাঠিয়ে দাও।

    এখন যুথীদের বাড়ির পরিস্থিতি বর্ণনা করা যেতে পারে।

    টুনুর কোনো খোঁজ পাওয়া যায় নি। সে কোনোরকম যোগাযোগ করে নি। লাইলি এখনো নীপাদের বাড়িতে আছে। যুথীদের কারও সঙ্গে তার এখনো দেখা হয় নি বা টেলিফোনে কথা হয় নি। নীপা কয়েকবার টেলিফোন করেছে। যুথী টেলিফোন ধরে নি। টেলিফোন ধরার মতো অবস্থা তার ছিল না। জ্বরে এই কদিন অচেতনের মতো ছিল।

    আজ তার জ্বর নেই। সে শুকনা মুখে বসার ঘরে বসে আছে। তার সামনে গানের টিচার অশোক মিত্র বসে আছেন। তিনি তবলা নিয়ে এসেছেন। ঝালর দেওয়া ওয়ার দিয়ে তবলা এবং বাঁয়া দুটাই ঢাকা। এই দুই বস্তু তাঁর অতি আদরের তা বোঝা যাচ্ছে।

    অশোক মিত্র বললেন, আসুন শুরু করে দেই। হারমোনিয়াম কোথায়? কী হারমোনিয়াম, টিউনিং ঠিক আছে কি না দেখা দরকার।

    যুথী বলল, কিছু মনে করবেন না, আমি গান শিখব না।

    অশোক মিত্র বললেন, এটা কেমন কথা! আমার হিসাবের টিউশনি। আপনার জন্যে যে জায়গা রেখেছিলাম সেটা এখন কী করব? নতুন ছাত্র কই পাব?

    যুথী বলল, আমার বিরাট বড় একটা আর্থিক সমস্যা হয়েছে। মাসে মাসে এক হাজার টাকা দেওয়া এখন আমার পক্ষে সম্ভব না।

    যখন সম্ভব হবে তখন দিবেন। আপাতত আসা-যাওয়ার রিকশা ভাড়া আর যৎসামান্য নাস্তা দিলেই হবে। বাসে করেই আসা-যাওয়া করতাম। তবলা নিয়ে তো বাসে ওঠা সম্ভব না। হারমোনিয়াম নিয়ে পাশে বসেন।

    যুথী বলল, আমার গলায় কোনো সুর নেই।

    অশোক মিত্র বললেন, সুর আমি দিব। তিন বছর আমার সঙ্গে শিখবেন। তারপর বিটিভিতে অডিশন। এখন বিটিভিতে গানের অডিশন যে নেয় সে আমার ছাত্র। নাম রকিব। অডিশনে যেন পাশ করিয়ে দেয়। সেই দায়িত্ব আমার। ইদানীং শুনেছি সে অডিশনে পাশ করানোর জন্যে পার ক্যান্ডিডেট দশ হাজার করে টাকা নেয়। দেনদরবার করে সেটা হাফ করে দেব। আমি তার শুরু। গুরুর কথা সে ফেলতে পারবে না। কী হরমোনিয়াম কেনা হয়েছে একটু দেখি। খাতা লাগবে। খাতায় সরগম লিখে দিব। প্রথম দিন সারেগা এই তিনটা স্বরু। এর বেশি না। আমার শিক্ষাপদ্ধতি ভিন্ন।

    যুথী দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে হরমোনিয়াম আনতে গেল।

    ছুটির দিন। আজহার ঘুমাচ্ছিলেন। হারমোনিয়ামের শব্দে তাঁর ঘুম ভাঙল। তিনি বিছানায় উঠে বসে রাগী গলায় ডাকলেন, সালমা! সালমা!

    সালমা ভীত মুখে উপস্থিত হলেন। আজহার বললেন, পেঁ পুঁ শব্দ কিসের?

    সালমা বললেন, যুথীর গানের টিচার এসেছে।

    আজহার বললেন, যুথীর গানের টিচার এসেছে মানে কী?

    সে গান শিখবে বলে ঠিক করেছে।

    আজহার বিস্মিত গলায় বললেন, সংসারের এই হাল। তার বড়ভাই নিখোঁজ। হারামজাদা গোপনে বিয়ে করেছে। সেই বৌ পড়ে আছে আরেক বাড়িতে। আর সে গান ধরেছে? নাচটা বাকি কেন? নাচ শিখুক। তারপর কোনো যাত্ৰাদলে ভর্তি হয়ে যাক। মেয়েকে ডাকো।

    রেগাসা।

    রেগাসা।

    রেগা সাসারে।

    রেগা সাসারে।

    অশোক মিত্র বললেন, আপনার গান হবে এবং খুবই ভালো হবে। আপনার গলার স্বরে অস্বাভাবিক মিষ্টতা আছে। এই ধরনের কণ্ঠস্বরের একটা নাম আছে–কিন্নর স্বর। কিন্নর হলো দেবগায়ক। এখন আমার জন্যে একটু টিফিনের ব্যবস্থা করেন। ঘরে যদি ডিম থাকে একটা ডিম হাফবয়েল করে দিতে বলেন। আলাদা করে লবণ আর গোলমরিচ গুঁড়া। আর চিনি ছাড়া এককাপ দুধ-চা। আমার ডায়াবেটিস। ট্যাবলেট সঙ্গে আছে।

    সন্ধ্যাবেলা যুথীর বড় চাচা হাজি মোবারক এক টিন মুড়ি, এক টিন চিড়া এবং কলার কাদি নিয়ে উপস্থিত। তাঁর কিছুদিন ধরে পেটে ব্যথা। কোনো চিকিৎসাতেই আরাম হচ্ছে না। তিনি ঢাকায় বড় ডাক্তার দেখাতে এসেছেন।

    বাড়িতে পা দিয়েই তিনি সবাইকে কলা খাওয়ানোর জন্যে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। আজহার বড়ভাইকে খুশি করার জন্যে পর পর চারটা কলা খেয়ে ফেললেন।

    মোবারক বললেন, এই কলার নাম স্বর্ণচাঁপা কলা। এখনো ঠিকমতো পাকে নাই। পাকলে মধুর চেয়ে মিষ্ট হবে। তুই আরেকটা কলা খা।

    আজহার পঞ্চম কলা খেলেন।

    মোবারক বললেন, আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যা। পেটে আলসার না। কী যেন রোগ আছে, ওইটা হয়েছে। মফস্বলের চিকিৎসায় কিছু উনিশ-বিশ হয় না। ঢাকার চিকিৎসা লাগবে।

    আজহার বড়ভাইকে নিয়ে সেদিনই ডাক্তারের কাছে গেলেন। ডাক্তার নানান টেস্ট করতে দিয়ে বললেন, আমার সন্দেহ ক্টোমাক ক্যানসার। আমি সাজেষ্ট করব হাসপাতালে বা ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে যেতে। হাসপাতালে থেকে টেষ্ট করাতেও সুবিধা।

    তৃতীয় দিনে ডাক্তার নিশ্চিতভাবে বললেন, ক্যানসার। তিনি আজহারকে আলাদাভাবে ডেকে নিয়ে বললেন, ক্যানসারের শেষ পর্যায়। চিকিৎসায় ব্যথা কমবে, এর বেশি কিছু হবে না। ক্যানসার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। আপনারা এতদিন কোথায় ছিলেন?

    আজহার বললেন, সুস্থ সবল মানুষ। হাঁটাচলা করছে। একা চলে এসেছে ঢাকায়। ঠিকমতো দেখেছেন?

    ঠিকমতোই দেখেছি। অন্য কাউকে দেখাতে চাইলে দেখান।

    আজহার ভাইকে নিয়ে বাসায় ফিরলেন। মোবারক বললেন, গাধা ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছিস। চেহারা দেখেই বুঝা যায় কিছু জানে না।

    আজহার বললেন, কাল আরো বড় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব। আপনি ঠিকই বলছেন। গাধা ডাক্তার।

    দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ডাক্তার একই কথা বললেন। মোবারক বললেন, ঢাকার সব ডাক্তারই তো মনে হয় গাধা। হয়েছে আলসার, বলে ক্যানসার। সব ডাক্তার আছে দুটা টাকা বেশি কামানোর ধােন্দায়। ক্যানসারের ভয় দেখিয়ে দুটা টাকা বেশি কামানো। আমি বাড়িতে চলে যাব। চিকিৎসা নাই খামাখা টাকা নষ্ট।

    তিনি ঘুমান টুনুর ঘরে। সারা রাত ব্যথায় চিৎকার করেন। বাসার অন্য কেউ তাঁর গোঙানির শব্দে ঘুমাতে পারে না। হঠাৎ তার ব্যথা পুরোপুরি কমে যায়। তিনি উঠে বসে আনন্দিত গলায় ডাকেন, আজহার কই! আজহার!

    আজহার ছুটে আসেন। মোবারক বললেন, ব্যথা একেবারেই নাই। আয় দুই চারটা সাংসারিক আলাপ করি। টুনুর কোনো সন্ধান কি পাওয়া গেল?

    না।

    আগে কখনো বাড়িঘর ছেড়ে গেছে?

    আগেও গিয়েছে। পরীক্ষায় ফেল করলেই কিছুদিনের জন্যে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যায়। দ্বিতীয়বার ইন্টারমিডিয়েটে ফেল করার পর তিন মাস বাসায় আসে নাই।

    এইবার ঘরে ফিরা মাত্র বিয়ে দিয়ে দিবি। আমার হাতে পাত্রী আছে। মেয়ে শ্যামলা, তবে মুখের কাটিং ভালো। যুথী আম্মার চেয়েও ভালো। মেয়ের বাবার টাকা পয়সা আছে। মেয়ের জন্যে খরচপাতি করবে। আমি আভাস দিয়ে রেখেছি। তুই রাজি থাকলে ফাইনাল কথা বলব।

    আজহার বিরসমুখে বললেন, আপনাকে কিছু বলতে হবে না। লোকমুখে শুনতে পাই হারামজাদা গোপনে বিয়ে করেছে।

    মোবারক চিন্তিত গলায় বললেন, কী সৰ্ব্বনাশ! কই আমি তো কিছু জানি না। আপনাকে ইচ্ছা করে কিছু জানাই নাই। জানানোর মতো বিষয় তো না। টুনু কি ওই বউয়ের সঙ্গে আছে?

    জানি না। মেয়েটাকে যে বিয়ে করেছে তার নাম কী?

    জানি না।

    লাইলিকে দেখে যে-কেউ বলবে নীপাদের বাড়িতেই সে বড় হয়েছে। এই বাড়ির বাইরে তার আলাদা কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রথম দুদিন সে গেস্টরুমে ছিল, এখন সে নীপার সঙ্গে ঘুমায়।

    নীপার বাবা আবদুর রহমান এর মধ্যে তিন দিনের জন্যে এসেছিলেন। নীপা লাইলিকে বাবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

    বাবা, অনেকের পালক ছেলে পালক মেয়ে থাকে। এ আমার পালক বান্ধবী। এর নাম লাইলি। তবে আমি সংক্ষেপে ডাকি লা।

    আবদুর রহমান হাসিমুখে বললেন, হ্যালো লা।

    লাইলি কী বলবে বুঝতে পারল না। আবদুর রহমান বললেন, বিশাল বাড়িতে আমার মেয়ে একা থাকে। তার যে একটা সঙ্গী হয়েছে এতেই আমি খুশি। শুধু খুশি না, very happy.

    আবদুর রহমান তিন দিনের জন্যে এসেছিলেন, এই তিন দিনের দুদিন ঘুমিয়ে কাটালেন। তৃতীয় দিনে ঘণ্টা চারেকের জন্যে বাইরে গেলেন এবং খুবই অল্পবয়স্ক এক তরুণীকে নিয়ে ফিরলেন। সুইমিংপুলে পানি দেওয়া হলো। দুপুরবেলা তরুণীকে নিয়ে তিনি সুইমিংপুলে নামলেন। নীপা এবং লাইলিকে খবর পাঠালেন তারাও যেন আসে।

    লাইলি নীপকে বলল, ওই মেয়েটা কে?

    নীপা বলল, জানি না। প্রথম দেখছি। বাবার কোনো বান্ধবী হবে। আগে কখনো দেখি নি। চলো সুইমিং করি।

    লাইলি বলল, আমি না।

    নীপা বলল, আমি না। আবার কী! চলো তো। সুইমিং করার সময় বাবা প্রচুর বিয়ার খায়। মজার মজার কথা বলে। শুনলে মজা পাবে।

    লাইলি বলল, না।

    নীপা বলল, দুবার না বলে ফেলেছ। তৃতীয়বার বললে কিন্তু চড় খাবে।

    লাইলি পানিতে নেমেছে। তার গায়ে নীপার সুইমিং কস্টিউম; লজ্জায় সে নিজের দিকে তাকাতে পারছে না। অন্যদের দিকেও তাকাতে পারছে না। আবদুর রহমান বললেন, এই যে দুই বান্ধবী! পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি, এই অতি রূপবতী মেয়েটির নাম অনিক। সে ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী। চমৎকার কবিতা আবৃত্তি করে। অনিকা, শুরু করো।

    অনিকা সঙ্গে সঙ্গে আবৃত্তি শুরু করল। তবে ইংরেজি কিছু না, বাংলা। সে এত সুন্দর করে আবৃত্তি করল যে শুনে লাইলির চোখে পানি এসে গেল। এ বাড়িতে ওঠার পর সে টুনুর কথা ভুলেই গিয়েছিল। টুনুর কথা মনে পড়ল।

    শুধু তোমার বাণী নয় গো
    হে বন্ধু, হে প্ৰিয়,
    মাঝে মাঝে প্রাণে তোমার
    পরশাখানি দিয়ো।
    সারা পথের ক্লান্তি আমার
    সারা দিনের তৃষা
    কেমন করে মেটাব যে
    খুঁজে না পাই দিশা।
    এ আধার যে পূর্ণ তোমায়
    সেই কথা বলিয়ো।
    মাঝে মাঝে প্রাণে তোমার
    পরশাখানি দিয়ো।
    হৃদয় আমার চায় যে দিতে
    কেবল নিতে নয়,
    বয়ে বয়ে বেড়ায় সে তার
    যা-কিছু সঞ্চয়।
    হাতখানি ওই বাড়িয়ে আনো,
    দাও গো আমার হাতে,
    ধরব তারে, ভরব তারে
    রাখব তারে সাথে
    একলা পথে চলা আমার
    করব রমণীয়!
    মাঝে মাঝে প্রাণে তোমার
    পরশাখানি দিয়ো।

    আজহার তাঁর বড়ভাইকে ক্যানসার হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। নানান ধরনের চিকিৎসা একসঙ্গে শুরু হয়েছে। বিখ্যাত হোমিওপ্যাথ (গ্যারান্টি দিয়ে ক্যানসার এবং হাঁপানীর চিকিৎসা করেন। তিনবার স্বর্ণপদক প্রাপ্ত) এস নন্দি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করছেন। চব্বিশ ঘণ্টায় সাগুদানা সাইজের একটা বড়ি খেতে হয়।

    ভেষজ চিকিৎসা চলছে। ওলট কম্বল গাছের পাতা ভেজানো পানি সকালে একগ্লাস করে খাচ্ছেন।

    স্বপ্নযোগে পাওয়া বিকট দুর্গন্ধের সিরাপ খালিপেটে এক চামচ করে খাওয়া হচ্ছে। যে মহিলা এই সিরাপ দিয়েছেন তিনি বলেছেন, এই ওষুধের কাছে ক্যানসার সর্দিজ্বরের মতো মামুলি। সমস্যা একটাই, এই ওষুধ খেলে অন্য ওষুধ বন্ধ রাখতে হবে। ওষুধ যদি কাজ না করে এই একটা কারণেই করবে না।

    রোগী এখন কোনো খাবারই খেতে পারছেন না। তবে তার নানাবিধ অদ্ভুত খাবার খেতে ইচ্ছা করছে। যেমন করলা দিয়ে টেংরা মাছের ঝোল। খইলাসা মাছের টক সালুন। ওলকচুর ভর্তা। চিতল মাছের ডিমের ভুনা।

    আজহার ভাইয়ের খাবারের জন্যে প্রচুর ছোটাছুটি করছেন। রাতে তিনি হাসপাতালেই থাকেন। মাদুর এবং মশার কয়েল সঙ্গে নিয়ে যান। বারান্দায় মশার কয়েল জ্বালিয়ে মাদুর পেতে শুয়ে থাকেন। রাতে তার ঘুম একেবারেই হয় না। তিনি কয়েকবার ভাইয়ের বিছানার কাছে যান। হতাশ চোখে তাকিয়ে থাকেন। চোখের সামনে মৃত্যুকে এগিয়ে আসতে দেখে ভয়ে তার শরীরে মাঝে মাঝে কঁপুনি আসে। ভাইয়ের সঙ্গে কিছু কথাবার্তাও মাঝে মাঝে হয়। সবই সাংসারিক কথা।

    আজহার, আমার দুই পুলার কারবার দেখছস? বাপ মৃত্যুশয্যায়, আর দুইভাই আছে সংসার নিয়া। এই সময় পুলাপানের মুখ দেখলেও শরীরে কিছু বল হয়। হয় না?

    আজহার চুপ করে থাকেন। খবর দেওয়ার পরেও দুই ছেলের কেউ আসে নি। এই ঘটনা সত্য।

    এরা কী জন্যে আসে না জানস? আসলেই চিকিৎসা খরচ দিতে হবে। এই ভয়ে আসে না। এমনিতে দুই ভাইয়ের মধ্যে কোনো মিল নাই! একটা দিকে মিল। বাপের জন্যে কিছু করব না; তোর ভাগ্য ভালো, তোর পুলাপান এরকম হয় নাই। টুনু তো বাপ ভক্ত। তার কোনো খোঁজ আছে?

    না।

    নখপড়ার ব্যবস্থা কর। নখাপড়ার মাধ্যমে সব জানা যাবে।

    আজহার বললেন, কোনো প্রয়োজন নাই। বাকি জীবন এই ছেলের আমি মুখ দর্শন করব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাড়িতে যদি আসে। পাছায় লাখি দিয়ে রাস্তায় বের করে দিব।

    এটা ঠিক না। নিজের সন্তানের দিকে মুহাব্বত না দেখালে আল্লাপাক নারাজ হন।

    তিনি যে নিজের সন্তানদের প্রতি যথেষ্টই মুহাব্বত দেখিয়েছেন তা জানা গেল বুধবার রাতে। ওইদিন রাতে তিনি ইমাম সাহেবের কাছে তওবা করলেন এবং ভাইকে ডেকে বললেন, একটা অন্যায় করেছি, মাফ দিয়া দে।

    আজহার বললেন, কী অন্যায় করেছেন?

    তোর বিষয়সম্পত্তি জাল দলিল করে দুই ছেলের মধ্যে ভাগ করে দিয়ে দিয়েছি। এখন মামলা মোকদ্দমা করে এই দুইজনরে তুই ঝামেলা করিস না। বড়ভাই হিসাবে তোর কাছে এইটা আমার আবদার। আমার গায়ে হাত দিয়া তুই কথা দে।

    আজহার বললেন, হুঁ।

    হুঁ কী? বল কথা দিলাম।

    আজহার বললেন, প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা তুলে আপনাকে যে জমি কেনার জন্যে দিয়েছিলাম। সেই জমিরও কি এই অবস্থা?

    হাজি মোবারক জবাব দিলেন না।

    হাজি সাহেব যে মৃত্যুর প্রস্তুতি হিসেবে তওবা করলেন তা-না। রাত বারোটার পর থেকে শুরু হবে জিন চিকিৎসা। ইমাম সাহেবের পোষা জিন কোহিকাফ নগর থেকে তাঁর জন্যে ওষুধ নিয়ে আসবে। যে রোগীর এই চিকিৎসা হবে তাকে নিষ্পাপ হতে হবে। তওবার মাধ্যমে নিষ্পাপ হবার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।

    রাত বারোটায় জিনের আনা দুটা কিসমিস খেয়ে রোগী বললেন, শরীর এখন ভালো। জুলাযন্ত্রণা নাই বললেই হয়। নিঃশ্বাসের কষ্ট কমে গেছে।

    রাত দুটায় তিনি মারা গেলেন।

    বাবার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে দুই ছেলে এসে উপস্থিত হলো। তারা খুবই হৈচৈ শুরু করল, কারণ বাবার ঠিকমতো চিকিৎসা হয় নাই! সেবাশুশ্রূষা হয় নাই। ইত্যাদি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশুভ্র – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article সাজঘর – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }