Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শুভ্র গেছে বনে – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প161 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৮. যুথী এসেছে নীপাদের বাড়িতে

    অনেকদিন পর যুথী এসেছে নীপাদের বাড়িতে। নীপা তাকে সরাসরি শোবার ঘরে ডাকল। নীপার ঘুম পুরোপুরি কাটে নি। সে বাসিমুখে এককাপ ব্ল্যাক কফি খেয়েছে। এখন খাচ্ছে গ্ৰীন টি। এতেও ঘুম যাচ্ছে না। নীপার গায়ে পাতলা চাঁদর; চাঁদরের ভেতর দিয়ে তার নগ্ন শরীর দেখা যাচ্ছে।

    নীপা বলল, কাল রাত তিনটা পর্যন্ত জেগে ছিলাম। ভূতের ছবি দেখেছি। বাতি জ্বালিয়ে আমি ঘুমুতে পারি না। ভয়ে নিভাতেও পারি না। ঘুম এসেছে ভোর পাঁচটায়। এই কারণে এখন পর্যন্ত ঘুমাচ্ছি। যুথী, কয়টা বাজে?

    এগারোটা দশ।

    চা খাবি?

    না।

    নীপা বিছানায় উঠে বসতে বসতে বলল, অনেকদিন একা ঘুমাই না। কাল একা ঘুমিয়েছি বলে ঘুমাও ভালো হয় নি।

    নীপার গা থেকে চাঁদর সরে গেছে। তাতে সে মোটেই বিব্রত বোধ করছে না। এতদিন পর যুথীর সঙ্গে দেখা–এই নিয়েও তার কোনো মাথাব্যথা নেই। যুথী বলল, একা ঘুমাচ্ছিস না মানে কী? কে তোর সঙ্গে ঘুমুচ্ছে?

    নীপা হাই তুলতে তুলতে বলল, লাইলি। তোর ভাইয়ের বৌ। অসাধারণ একটা মেয়ে। অসাধারণ টু দা পাওয়ার ফাইভ।

    যুথী বলল, সে কোথায়?

    নেপালে। কাঠমুণ্ডুতে। করিম আঙ্কেলের সঙ্গে গেছে। করিম আঙ্কেলের ছবির স্ক্রিপ্ট পড়া হবে। সেই উপলক্ষে যাওয়া। আমারও যাওয়ার কথা ছিল। শেষ মুহূর্তে যেতে ইচ্ছা করল না। পাঁচ মিনিট অপেক্ষা কর, আমি হাতমুখ ধুয়ে আসি। বাথরুমের দরজা খোলা। কথাবার্তা চালাতে সমস্যা নেই।

    যুথী বলল, তুই কি বস্ত্ৰ পুরোপুরি বিসর্জন দিয়েছিস?

    নীপা বাথরুম থেকে বলল, মোটামুটি সেরকমই। মনে হয় কাপড়ে এলাৰ্জি হচ্ছে। কাপড় গায়ে লাগলেই হালকা র‍্যাশের মতো হয়।

    লাইলিরও কি এই অবস্থা?

    নীপা হাসতে হাসতে বলল, হুঁ।

    আমার ভাইয়ের স্ত্রীর তাহলে অনেক উন্নতি হয়েছে!

    নীপা বলল, পুরো বিষয়টা দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করছে। প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টার সাহেবের দৃষ্টিতে চরম অবনতি। আবার করিম আঙ্কেলের দৃষ্টিতে উন্নতি।

    যুথী বলল, সে কি মদটদও খাচ্ছে?

    শুধু টাকিলা খাচ্ছে। অন্যকিছু না। দুপুরে নিয়ম করে বিয়ার খাচ্ছে। বিয়ারকে মদ বলা ঠিক না।

    ড্রাগস?

    ড্রাগসের মধ্যে ইয়াবা। সবসময় না। যখন পার্টি থাকে তখন।

    যুথী বলল, আমি এখন উঠব। লাইলিকে একটা বিশেষ খবর দিতে এসেছিলাম। সে যখন নেই, তোকে দিয়ে যাচ্ছি। আমার ভাই মারা গেছে।

    Oh God! কবে?

    জানি না। লাইলি এখন যা ইচ্ছা করতে পারে। আমাদের দিক থেকে কোনো বাধা নেই।

    নীপা বাথরুম থেকে বের হলো। এখন তার গায়ে টাওয়েল জড়ানো। সে যুথীর সামনে বসতে বসতে বলল, Every cloud has a silver lining. আমার ধারণা, লাইলি তার হাসবেন্ডের মৃত্যুর খবর শুনে তেমন দুঃখিত হবে না। তবে সামাজিক নৰ্ম বজায় রাখার জন্যে দুঃখিত হবার ভান করবে।

    যুথী বলল, উঠি?

    নীপা বলল, উঠি মানে! দুপুরে আমার সঙ্গে লাঞ্চ করবি, তারপর যাবি। আরেকটা কাজ করবি—নেপাল যাবি? সন্ধ্যায় ড্রক এয়ারের একটা ফ্লাইট আছে। চল কাঠমুণ্ডু চলে যাই। ভিসার ঝামেলা নাই। নেপালের ভিসা অন এরাইভেল। তোর পাসপোর্ট আছে না?

    না।

    নীপা বলল, কোনো বিষয়ই না। তিন ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট করিয়ে দিচ্ছি। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হবে। আমি ভিডিও ক্যামেরা সেট করে রাখব, তুই লাইলিকে তার স্বামীর মৃত্যুসংবাদ দিবি। তার রিঅ্যাকশান অন রেকর্ড থেকে যাবে। রাজি?

    না।

    যুথী বলল, না। আমি এখন উঠব।

    লাঞ্চও করবি না?

    না।

    আমার সঙ্গে লাঞ্চ করলে মজার একটা গল্প বলতাম। গল্পটা আগে মজার ছিল না। তোর ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদ শোনার পর গল্পটা মজার হয়েছে।

    যুথী বলল, মজার গল্প শুনব না।

    নীপা বলল, শুনতেই হবে। লাঞ্চ খেতে রাজি না হলেও শুনতে হবে। এই গল্প না শুনে তুই যেতে পারবি না। করিম আঙ্কেল লাইলিকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। পুরোটাই ফান। তবে এখন তো আর ফান হবে না। করিম আঙ্কেল বলেছেন, লাইলি, তুমি যে দিন যে সময়ে আমাকে বিয়ে করতে রাজি হবে, আমি বিয়ে করব। পুরুষ হিসেবে এটা আমার Promise. এই বলে তিনি একটা নোংরা। কাজ করলেন। তখন আমরা নেশার ঘোরে ছিলাম বলে নোংরামি ধরা পড়ে নি। নোংরা কাজটা কী শুনবি?

    না।

    তারপরেও শুনতে হবে। নোংরা কাজটা হচ্ছে তিনি বললেন, প্রাচীন গ্ৰীসে পুরুষরা কঠিন প্ৰতিজ্ঞা করত তাদের Testicles চেপে ধরে। সেখান থেকে ইংরেজি শব্দ Testimony এসেছে। এখন আমিও নিজের Testicles চেপে ধরে করব।

    যুথী উঠে পড়ল। নগ্ন নীপার দিকে তাকিয়ে থাকতে ভালো লাগছে না। গায়ে জড়ানো টওয়েল নীপা বিছানায় ছুড়ে ফেলেছে। এর মধ্যে কাজের মেয়ে এসে চায়ের কাপ নিয়ে গেছে। নীপার মধ্যে কোনো অস্বস্তি নেই। নীপা আগে এরকম ছিল না। মানুষ যখন বদলাতে শুরু করে তখন দ্রুত বদলায়।

    করিম আঙ্কেল ছয়জনের একটা দল নিয়ে নেপালের এভারেস্ট হোটেলে আছেন। এই দলে ক্যামেরাম্যান আছে, মিউজিক ডাইরেক্টর আছে, শিল্পনির্দেশক আছে। তিনজন মেয়ের টিকিট কাটা হয়েছিল, শেষ মুহূর্তে নীপা না আসায় এখন আছে লাইলি এবং যমুনা।

    স্ক্রিপ্ট পড়া এখনো শুরু হয় নি। করিম আঙ্কেল নীপকে sms করে জানিয়েছেন, সে না আসা পর্যন্ত স্ক্রিপ্ট পড়া হবে না। নীপা জানিয়েছে সে আসছে। এখন দল বেঁধে কাঠমুণ্ডু দর্শন চলছে। নগরকেটে সূর্যস্ত দেখা, হনুমানজির মন্দির দেখা—এইসব। সন্ধ্যার পর ক্যাসিনোতে জুয়া খেলা। করিম আঙ্কেল লাইলিকে পাঁচ  হাজার ইন্ডিয়ান টাকা দিয়েছেন জুয়া খেলার জন্যে। তিনি মিনি-ফ্ল্যাস নামের একটা খেলা লাইলিকে শিখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রথম যারা জুয়া খেলে তাদের বিগিনার্স লাক বলে একধরনের লাক থাকে। আজ তুমি অবশ্যই জিতবে। গুড লাক। আমি যাচ্ছি ফ্ল্যাস খেলতে। আসল জুয়া হচ্ছে ফ্ল্যাস। রবীন্দ্ৰনাথ ছাড়া এই গ্রহে যত ক্রিয়েটিভ লোক জন্মেছেন, সবাই ছিলেন ফ্ল্যাস জুয়ায় আসক্ত। উদাহরণ—

    দস্তয়োভসকি
    দা ভিঞ্চি
    আর্নেষ্ট হেমিংওয়ে
    পাবলো পিকাসো

    রবীন্দ্রনাথ ফ্ল্যাস খেলতেন না বলে তার সাহিত্যে খানিকটা কবুতরের বাকবাকুম ঢুকে গেছে। কেউ তাঁকে ফ্ল্যাস ধরিয়ে দিলে বাংলা সাহিত্য আরো অনেকদূর যেত। আফসোস!

    করিম অঙ্কেল রাত বারোটায় লাইলি কী করছে খোঁজ নিতে এসে দেখেন, সে কুড়ি হাজার টাকা জিতে জম্বি অবস্থায় চলে গেছে। তার হাত-পা শক্ত হয়ে গেছে। অদ্ভুত চোখ করে তাকাচ্ছে।

    করিম আঙ্কেল বললেন, যথেষ্ট জিতেছ। আর খেলতে হবে না। চলো আমার সঙ্গে।

    লাইলি বলল, আরও কিছুক্ষণ খেলি। প্লিজ।

    করিম আঙ্কেল বললেন, না। আজকের মতো যথেষ্ট। এখন তুমি হারতে শুরু করবে। তাই নিয়ম। তুমি হুইস্কি খেয়েছ না-কি? মুখ থেকে গন্ধ বের হচ্ছে।

    যখন জিতেছিলাম তখন ওরা ফ্রি হুইঙ্কি খাওয়াচ্ছিল। তাই খেয়েছি।

    কয় পেগ খেয়েছ মনে আছে?

    না।

    করিম আঙ্কেল লাইলির কোমর জড়িয়ে ধরে তাকে ক্যাসিনো থেকে বের করলেন। বিষয়টা কারও কাছেই অস্বাভাবিক মনে হলো না। লাইলির কাছেও না। ক্যাসিনো থেকে বের হয়েই লাইলি হঠাৎ হড়বড় করে করিম আঙ্কেলের গায়ে বমি করে নেতিয়ে পড়ল। করিম আঙ্কেল বললেন, নো প্রবলেম। করিম আঙ্কেল মানুষটা এত ভালো কেন—এই ভেবে লাইলির চোখ ভিজে উঠল।

    করিম আঙ্কেল লাইলিকে নিজের হাতে গোসল করিয়ে দিলেন। টাওয়েল দিয়ে শরীর মুছে বিছানায় শুইয়া দিতে দিতে বললেন, আরাম করে একটা ঘুম দাও। সকালে দেখবে শরীয়-মন দুই-ই ফ্রেশ। তখন জেতার টাকা নিয়ে বের হয়ে একসেট গয়না কিনে ফেলো। তা না করলে জেতা টাকা জুয়াতেই চলে যাবে।

    লাইলি বিড়বিড় করে বলল, আপনি কি চলে যাচ্ছেন?

    করিম আঙ্কেল বললেন, হ্যাঁ। আমার দায়িত্ব শেষ।

    লাইলি বলল, আপনি যাবেন না। আপনি চলে গেলে আমার ভয় লাগবে। আমি একা ঘুমাতে পারি না।

    তাহলে অবশ্যই থাকব। তোমাকে পাহারা দেব। ভালো কথা, তোমাকে একটা খবর দেওয়া হয় নি। নীপা জানিয়েছে তোমার হাসবেন্ড টুনু মারা গেছে।

    লাইলি কী যেন বলল, পরিষ্কার বোঝা গেল না।

    করিম আঙ্কেল লাইলির পিঠে হাত রেখে বললেন, তুমি ঘোরের মধ্যে আছ বলেই খবরটা এখন দিলাম। মৃত্যুকে সহজভাবে নিতে হবে লাইলি। মৃত্যু হলো জীবনেরই অংশ। বুঝতে পারছ?

    হুঁ।

    মৃত্যু আছে বলেই জীবনকে আমরা তিলেতিলে অনুভব করব। জীবন কী? জীবন হলো একগ্লাস শ্যাস্পেন। আমরা বেঁচে আছি মানে আমরা শ্যাম্পেন্ন খাচ্ছি। যখন তলানিতে এসে যাব তখনই মৃত্যু। মৃত্যু থাকার কারণেই শ্যাম্পেন পানের প্রতিটি মুহুর্তকে আনন্দময় করে রাখতে হবে। হবে না?

    মনে রাখতে হবে, এ জগতে আনন্দই সত্য, আর সব মিথ্যা। আমার সঙ্গে বলো, আনন্দই সত্য আর সব মিথ্যা।

    লায়লী বিড়বিড় করে বলল, আনন্দই সত্য, আর সব মিথ্যা।

    করিম আঙ্কেল বললেন, তোমার মন ঠিক করার জন্যে এখন অন্য প্রসঙ্গে আলাপ করি। করব?

    হুঁ।

    কারও গায়ে থাকে পদ্মের গন্ধ। তাদেরকে বলে পদ্ম নারী। কারও গায়ে থাকে বাসি বকুল ফুলের গন্ধ। এরা হলো বকুলগন্ধা। একজনের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল, তার গায়ে ধুতরা ফুলের গন্ধ। ভয়ঙ্কর অবস্থা! এখন তুমি কি জানতে চাও তোমার গায়ে কিসের গন্ধ?

    জানতে চাই। আমার গাঁ শুকে বলে দিন।

    করিম আঙ্কেল বললেন, ব্যাপারটা এত সহজ না। আগামী সাতদিন তুমি গোসল করবে। সাবান ছাড়া। চুলে শ্যাম্পু দেবে না। গায়ে কোনো সেন্ট বা লোশন। ব্যবহার করবে না। তখনই তোমার গায়ের আসল গন্ধ ফুটে বের হবে। এবং আমি বলে দেব। আমার নাক কুকুরের নাকের চেয়েও শার্প। এখন ঘুমিয়ে পড়।

    লাইলি ঘুমিয়ে পড়ল।

    যুথী মেরাজউদ্দিন সাহেবের অফিসে এসেছে। বিশাল অফিস। অনেক লোকজন কাজ করছে। সেই তুলনায় মেরাজউদ্দিন সাহেবের অফিসঘর ছোট। তাঁর সামনে একটি মাত্র চেয়ার। একজন ছাড়া দ্বিতীয় দর্শনার্থীকে তিনি সম্ভবত সাক্ষাৎ দেন না। ঘরে দেখার মতো জিনিস একটাই। প্ৰকাণ্ড একটা ঘড়ি; ঘড়ির সেকেন্ডের শব্দটাও শোনা যাচ্ছে। ঘড়ির নিচে লেখা–

    You can stop time
    If you really want to stop.

    যুথীর কাছে লেখার অর্থটা পরিষ্কার হচ্ছে না। —তুমি চাইলেই সময় আটকাতে পার, যদি তা সত্যিকার অর্থেই চাও।

    মেরাজউদ্দিন বললেন, তোমার নাম যুথী?

    যুথী বলল, জি।

    তোমাকে তো আমি আসতে বলি নি। তুমি কি কোনো বিশেষ কারণে এসেছ?

    যুথী বলল, আপনারা কি শুভ্রর খোঁজ পেয়েছেন?

    সে তার মাকে একটা চিঠি লিখেছে। চিঠিটা পাঠিয়েছে আমার ঠিকানায়। আমি চিঠিটা নিয়ে এসেছি।

    চিঠিতে সে কোথায় থাকে তা কি লেখা আছে? কোনো ঠিকানা কি দিয়েছে?

    না। তবে আমি ঠিকানা বের করে ফেলেছি।

    কীভাবে বের করলে?

    খামে মুন্সিগঞ্জ পোষ্টাপিসের ছাপ আছে। শুভ্ৰ লিখেছে সে থাকে এক বিশাল চরে। আমার ধারণা মুন্সিগঞ্জের আশেপাশে পদ্মায় যেসব নতুন চর জেগেছে, সেখানে খোঁজ করলেই তাকে পাওয়া যাবে।

    মেরাজউদ্দিন বললেন, তুমি স্মার্ট মেয়ে, তবে শুভ্ৰ যে চিঠি তার মাকে লিখেছে সেই চিঠি তুমি পড়লে কেন?

    যুথী বলল, চিঠির সঙ্গে আমাকে লেখা একটা চিরকুট ছিল। সেখানে লেখা আমি যেন তার মার চিঠিটা পড়ি। স্যার, আমি কি চিঠিটা আপনাকে দেব?

    দাও।

    মেরাজউদ্দিন সাহেবের সামনে চিঠি রেখে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে যুথী বলল, স্যার আমি উঠি?

    না। তুমি বসবে এবং আমরা একসঙ্গে লাঞ্চ করব। এটা আমার অর্ডার।

    যুথী বলল, আপনার অর্ডার মানতে বাধ্য এমন কেউ তো আমি না।

    মেরাজউদ্দিন বললেন, অবশ্যই তুমি আমার অর্ডার মানতে বাধ্য। পুলিশ যখন তোমাকে অ্যারেক্ট করে নিয়ে গেল, তখন আমি তোমাকে উদ্ধার করি। নয়তো রিমান্ডের ঝামেলায় পড়তে। তোমার সবকিছু আমি জানি। আমি স্পাই লাগিয়ে রেখেছিলাম।

    কেন?

    আমার ছেলের জন্যে। ভালো কথা, শুনলাম তোমার ভাই তোমার অ্যাকাউন্টে যে টাকা রেখেছে তুমি তা নিতে অস্বীকার করেছ। তার কেনা ফ্ল্যাটেও উঠছ না।

    যুথী বলল, আপনি কীভাবে জানেন?

    মেরাজউদ্দিন বললেন, ইনফরমেশন গেদার করার আমার অনেক মেকানিজম আছে। দুপুরে কী খাবে বলো। এমন কিছু বলো যা জোগাড় করতে আমার কষ্ট হবে এবং হয়তো জোগাড় করতে পারব না। আমি কতটুক পারি তারও একটা পরীক্ষা হয়ে যাবে।

    যুথী বলল, মানুষকে আপনি আপনার ক্ষমতা দেখিয়ে চমকে দিতে ভালোবাসেন, তাই না?

    হয়তোবা।

    আপনার ছেলে কিন্তু আপনার মতো হয় নি। সে গিনি সোনা হয়েছে।

    গিনি সোনাটা কী?

    বাইশ ভাগ শোনা দুই ভাগ তামা।

    তার তামার অংশ কোনটা?

    যুথী বলল, তার বোকামিটা।

    এখনো তো বললে না তুমি কী খাবে? কী খেতে ইচ্ছা করছে?

    যুথী বলল, আপনার এখানে আমার কোনো কিছুই খেতে ইচ্ছা করছে না।

    কারণ কী?

    যুথী বলল, আমি দীর্ঘ সময় আপনার সঙ্গে আছি। আমি আপনার জন্যে একটি আনন্দসংবাদ নিয়ে এসেছি। আমি আপনার মেয়ের বয়েসী, অথচ একবারও আপনার মুখ থেকে মা শব্দটি বের হলো না। এই বিস্ময়ের কারণেই খেতে ইচ্ছা করছে না। যুথী উঠে দাঁড়াল।

    মেরাজউদ্দিন বললেন, বোস। বোস বললাম।

    যুথী বলল, কী আশ্চর্য, আমাকে ধমকাচ্ছেন কেন?

    মেরাজউদ্দিন বললেন, মেয়েকে ধমকানো যায়। তোমাকে মেয়ে হিসাবে গ্রহণ করলাম। You are my daughter that I never had. মা, বলো কী খাবে?

    যুথী কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে গম্ভীর গলায় বলল, পোলাওয়ের চালের ভাত, টাটকা পুঁটি মাছ ভাজা, সরিষা দিয়ে সজিনা, কৈ মাছের ঝোল, মুগ ডাল।

    আরও দেখুন
    বই
    বইয়ের
    Libraries & Museums

    মেরাজউদ্দিন কিছুটা বিস্ময় এবং কিছুটা আনন্দ নিয়ে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছেন। সহজ স্বাভাবিক একটা মেয়ে। প্রায় বিশেষত্বহীন। তবে এই মেয়ে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে। পরিবেশের সঙ্গে রঙ বদলানোর ক্ষমতা এর অবশ্যই আছে।

    যুথী বলল, আপনার ঘড়ির নিচের লেখাটার অর্থ বুঝতে পারছি না।

    মেরাজউদ্দিন বললেন, লেখাটার অর্থ একেকজন একেকভাবে করে। তুমি নিজে একটা অর্থ বের করো।

    যুথী বলল, মানুষ আত্মহত্যা করতে পারে। আত্মহত্যার অর্থ তার কাছে সময় আটকে যাওয়া।

    মেরাজউদ্দিন বললেন, মানুষকে আত্মহত্যায় উৎসাহ দেয় এমন একটা লেখা আমি কেন ঘরে সাজিয়ে রাখাব? চিন্তা করে আসল অর্থটা বের করো। যেদিন বের করবে সেদিন তোমাকে একটা পুরস্কার দেওয়া হবে।

    মেরাজউদ্দিন সন্ধ্যার ঠিক আগে আগে বাড়ি ফিরেন। বারান্দায় বসে স্ত্রীর সঙ্গে এককাপ চা খান। এই অভ্যাস তাঁর অনেকদিনের। চায়ের এই আসরে শুভ্ৰকে কখনো ডাকা হয় না। মেরাজউদ্দিন মনে করেন চা পানের এই উৎসব শুধুমাত্র স্বামী-স্ত্রী দুজনের।

    আজ তিনি ঠিক সময়ে ফিরেছেন, কিন্তু চায়ের আসরে বসতে পারেন নি। রেহানার কাছে একজন পীর সাহেব এসেছেন। তিনি নখে তিল তেল দিয়ে কী সব মন্ত্র (বা দোয়াদুরুদ) পাঠ করেন। তখন নখে হারানো ব্যক্তির ছবি ফুটে ওঠে। সে কোথায় আছে কী করছে সবই জানা যায়।

    পীর সাহেবের নাম কাশেম কুতুবি। বয়স পঞ্চাশের মতো। মাথার চুল এবং দাড়ি মেন্দি দিয়ে লাল করা। মেন্দি মনে হয় বেশ ভালো জাতের। চুল-দাড়ির লাল রঙ চকচক করছে। তার চোখে ভারী চশমা। গায়ের লেবাস গেরুয়া। পায়ে জুতা বা স্যান্ডেল নেই। মোটা কাঁঠাল কাঠের লাল খড়ম।

    কাশেম কুতুবি মেরাজউদ্দিনকে দেখে বললেন, স্যার আমার হলো টেলিভিশন সিস্টেম। পর্দা ছোট, মাত্র আধা ইঞ্চি। কালার নাই। ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট।

    মেরাজউদ্দিন স্ত্রীর পাশে বসলেন। শুভ্ৰ বিষয়ে তাঁর সব দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে। এখন আদিভৌতিক কর্মকাণ্ড দেখা যেতে পারে।

    কাশেম কুতুবি তাঁর বুড়ো আঙুলের নখের দিকে পলকহীন চোখে তাকিয়ে আছেন। যদিও ঘরে এসি চলছে, তারপরেও উনার এক অ্যাসিসটেন্ট হুজুরের মাথায় তালপাখা দিয়ে বাতাস করছে।

    কাশেম কুতুবি ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, আপনার ছেলেকে দেখতে পাচ্ছি। সে ঘন জঙ্গলের মধ্যে আছে।

    রেহানা আগ্রহ নিয়ে বললেন, সুন্দরবন নাকি পাৰ্বত্য চট্টগ্রাম?

    বলা মুশকিল। পর্দা ছোট তো। সব পরিষ্কার দেখা যায় না। তাছাড়া আমার নিজের চোখেও কিছু সমস্যা হয়েছে। ভালো দেখি না। এইজন্যে চশমা খরিদ করতে হয়েছে।

    রেহানা বললেন, ছেলে কি দেশের ভেতরে আছে?

    কাশেম কুতুবি বললেন, বর্ডার এলাকায় আছে।

    মেরাজউদ্দিন বললেন, বর্ডার এলাকায় আছে। এটা বুঝলেন কীভাবে?

    কুতুবি বললেন, আমি নখে যেমন দেখি কিছু আবার ইশারাতেও পাই। বর্ডারের বিষয়টা ইশারাতে পেয়েছি।

    মেরাজউদ্দিন বললেন, ইশারায় আর কী পাচ্ছেন?

    ছেলে ঘরে ফিরতে চায় না। একটা মেয়ের সঙ্গে তার ভাব-ভালোবাসা হয়েছে। তার সঙ্গে সে সংসার করতে চায়।

    মেরাজউদ্দিন বললেন, ঘন জঙ্গলের মধ্যে সে মেয়ে পেল কোথায়?

    কুতুবি হাসিমুখে বললেন, মেয়েছেলে সব জায়গায় পাওয়া যায় জনাব। ঘন জঙ্গলে পাওয়া যায়, আবার মরুভূমিতেও পাওয়া যায়।

    রেহানা বললেন, তুমি সামনে থেকে যাও তো। তোমার কারণে উনি ঠিকমতো দেখতে পারছেন না।

    মেরাজউদ্দিন উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললেন, কুতুবি সাহেব। ভালোমতো দেখুন। আমার ছেলের সন্ধানদাতার জন্যে পাঁচ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। পুরস্কারটা নিতে পারেন কি না দেখুন।

    মেরাজউদ্দিন বারান্দায় চা খেতে খেতে শুভ্রর চিঠি আরেকবার পড়লেন। বিশেষ কোনো চিঠির পুরো অর্থ ধরতে হলে চিঠিটা তিনবার পড়তে হয়। তিনি দুবার পড়েছেন। আরও একবার পড়তে হবে।

    যুথীর বাবা আজহারের মাথা পুরোপুরিই গেছে। এখন তাঁকে আনন্দিত এবং সুখী মানুষ বলে মনে হয়। নিজের বাড়ির কাউকেই তিনি এখন চেনেন না। চিনলেও অল্প সময়ের জন্যে চেনেন। বাড়ির মানুষদের অতিথি হিসেবে দেখেন এবং যথেষ্ট আদরষত্ব করেন। গতকাল যুথী দুপুরে বাইরে থেকে ফিরেছে, তিনি মেয়েকে দেখে অত্যন্ত ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

    মা, যুথী তো এখনো ফিরে নি। একটু অপেক্ষা করতে হবে। তবে সে চলে আসবে। দুপুরে তার বাসায় খাবার অভ্যাস। মা, তোমাকে চা দিতে বলি। চা খেতে খেতে আমার সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প করো। যুথী চলে এলে তার সঙ্গে ভাত খাবে। দুপুরে কেউ আমার বাড়িতে এসে না খেয়ে যাবে তা হবে না। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এলেও একই অবস্থা। তাকেও পার্টিতে বসে আমাদের সঙ্গে খেতে হবে। একেক বাড়ির একেক সিষ্টেম। এটা হলো আমার বাড়ির সিষ্টেম। আমাদের বাড়ির আরেকটা সিষ্টেম হলো-ইলিশ মাছ নিষিদ্ধ। মহাবীর আলেকজান্ডার ইলিশ মাছ খেয়ে মারা গিয়েছিলেন, জানো নিশ্চয়ই? উনার মতো মহাবীরের এই অবস্থা হলে আমাদের অবস্থাটা চিন্তা করো। তবে তোমার যদি ইলিশ মাছ খেতে খুব ইচ্ছা করে তাহলে তার ব্যবস্থাও হবে।

    আজহার কাউকে চিনতে না পারলেও ডাক্তার আমিরুল ইসলামকে চিনতে পারেন। তাঁর সঙ্গে ষড়যন্ত্র করছেন এমন ভঙ্গিতে গলা নামিয়ে কথা বলেন। কথাগুলি আমিরুল ইসলাম এবং যুথী দুজনের জন্যেই অস্বস্তিকর। তাঁর মাথায় কী করে যেন ঢুকে গেছে ডাক্তার গোপনে যুথীকে কাজি অফিসে বিয়ে করেছে। ডাক্তারের সঙ্গে তার কথাবাতাঁর নমুনা–

    ডাক্তার, তুমি গৰ্হিত অন্যায় করেছ। বিবাহ একটা সামাজিক ব্যাপার। দশজন আসবে, আমোদ ফূর্তি হবে। বাচ্চারা গেট ধরবে; তোমার জুতা লুকিয়ে ফেলবে। তুমি কী করলে? চলে গেলে কাজি অফিসে। ছিঃ ডাক্তার ছিঃ। তোমার কাছে মেয়ে বিয়ে দিতে আমার তো আপত্তি ছিল না। হীরার টুকরা ছেলে বলতে যা বুঝায় তুমি তা-ই। যাই হোক, যা হবার হয়েছে। এখন মেয়ে উঠিয়ে নিয়ে যাও। স্ত্রী থাকবে স্বামীর সঙ্গে। বাবা-মার সঙ্গে না। আমি যুথীকে ডেকে বলে দিচ্ছি। সে যেন ব্যাগ গুছিয়ে রাখে। আজ তুমি যখন যাবে সেও তোমার সঙ্গে চলে যাবে। আমার সেবাযত্ন নিয়ে তোমাকে চিন্তা করতে হবে না। টুনুর স্ত্রী যা পারে করবে। বিয়ে হয়ে যাওয়া মেয়ের সেবা নেওয়া যায় না। তবে ছেলের বৌয়ের সেবা নেওয়া যায়। একটা শাস্ত্ৰকথা শোনো—

    মেয়ে হচ্ছে গলার কাঁটা
    জামাই বুকের শেল
    পুত্র হলো মাথার ছাতা…

    বাকিটা মনে আসছে না। মনে আসলে বলব। এখন তোমরা দুজন আমার সামনে দাঁড়াও। দুজনকে একসঙ্গে একটু দেখি। যুথী মা কই? আয় দেখি।

    যুথীর ধারণা তার বাবার এই পাগলামিটা অভিনয়। তিনি পুরোপুরি সুস্থ একজন মানুষ। বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে তিনি পাগলামির ভান করে যাচ্ছেন। যুথী এই বিষয়ে তার মার সঙ্গে কথা বলেছে। সালমা দুঃখে কেঁদে ফেলেছেন। কাঁদতে কাঁদতে বলেছেন, জন্মদাতা পিতাকে নিয়ে এই ধরনের কথা! ছিঃ ছিঃ! পাগল সেজে তার লাভ কী?

    যুথী বলল, তাঁর সবচেয়ে বড় লাভ তিনি তাঁর মনের কথাগুলি বলে ফেলতে পারছেন। কেউ কিছু মনে করছে না।

    তার মনের কথা কী?

    তার মনের কথা হচ্ছে ডাক্তারটার সঙ্গে আমার বিয়ে দেওয়া। পাগল সোজে বাবা ওইদিকেই এগুচ্ছেন।

    সালমা ফোঁপাতে ফোঁপাতে বললেন, জন্মদাতা পিতার সঙ্গে যে মেয়ে এই ধরনের কথা বলে তার সঙ্গে আমি থাকব না। তোর বাবাকে নিয়ে আলাদা বাসা করব।

    যুথী বলল, আলাদা বাসা করার তো দরকার নেই। ভাইয়া তোমাদের জন্যে ফ্ল্যাট কিনে রেখেছে। সেখানে গিয়ে ওঠে। বাবা পাগল সেজেছে, তুমি পাগলি সাজো। পাগল-পাগলির সংসার।

    সালমা বললেন, যুথী, তুই আর আমার সঙ্গে কথা বলবি না।

    যুথী বলল, আচ্ছা যাও বলব না। শেষ কথাটা শুধু বলি। বাবা পাগল সাজার আইডিয়া কেথেকে পেয়েছে সেটা শোনো। বাবা আইডিয়া পেয়েছে একটা হিন্দি ছবি থেকে। ছবিটা বাবার সঙ্গে তুমিও দেখেছি। আমি নাম মনে করতে পারছি না। তোমার নিশ্চয়ই মনে আছে।

    সালমা বললেন, ওই ছবিতে লোকটা একটা খুন করেছিল। খুনের দায় থেকে বাঁচারু জন্যে পাগল সেজেছিল। তোর বাবা কি খুন করেছে?

    বাবা খুন না করলেও তার পুত্র শীর্ষ সন্ত্রাসী টুনু সাহেব করেছেন। ওই বিষয়টা ভুলে থাকার জন্যে পাগল সাজা একটা উত্তম পন্থা।

    সালমা গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে যুথীর গালে চড় বসালেন। তিনি কখনোই তাঁর ছেলেমেয়ের গায়ে হাত উঠান নি। এই প্রথম।

    নীপা সফিককে নিয়ে করিম আঙ্কেলের স্ক্রিপ্ট শুনতে উপস্থিত হয়েছে।

    আজ সন্ধ্যায় স্ক্রিপ্ট পড়া হবে। হোটেলের একটা হলঘর সেই উপলক্ষে ভাড়া করা হয়েছে। করিম আঙ্কেল কয়েকবার বলেছেন, স্ক্রিপ্ট পড়ার আগে বিশেষ ঘোষণা আছে। সবার জন্যে চমক আছে। চমকটা কী বোঝা যাচ্ছে না।

    নীপা লাইলিকে আড়ালে নিয়ে জিজ্ঞেস করেছে, করিম আঙ্কেল কি তোমাকে বিয়ে করে ফেলেছে?

    লাইলি বলল, না তো!

    তাহলে কিসের চমক?

    লাইলি বলল, আমি জানি না কিসের চমক। উনার কাজকর্ম তো আগে থেকে কিছু বুঝা মুশকিল।

    শ্যাস্পেনের বোতল খুলে অনুষ্ঠান শুরু হলো। করিম আঙ্কেল ঘোষণা করলেন, আজ তার জীবনের একটা বিশেষ দিন। আজ স্ক্রিপ্ট পড়া হবে এবং এই ঘটনা চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্যে তিনি বিয়ে করবেন। কনের নাম লাইলি। এই মেয়ে জুইগন্ধা মেয়ে। তার গায়ে জুই ফুলের সৌরভ। বিয়েটা হবে অত্যন্ত দায়সারাভাবে। একজন মাওলানা জোগাড় করা হয়েছে। তার সামনে আমরা কবুল কবুল বলব।

    তুমুল হাততালি শুরু হলো। লাইলি লজ্জালজ্জা মুখ করে বসে রইল। আজ সে সাদা একটা লং ফ্রক পরেছে। তাকে দেখাচ্ছে ইন্দ্ৰাণীর মতো। সে বসেছে করিম আঙ্কেলের পাশে। যমুনাকে আশেপাশে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।

    স্ক্রিপ্ট পড়া শুরু করার ঠিক আগমুহূর্তে করিম আঙ্কেল একটা টেলিফোন পেলেন; হোটেল লিবীতে তাকে দুই মিনিটের জন্যে যেতে হবে। অতি জরুরি। তার জন্যে ঢাকা থেকে গিফট প্যাকেট নিয়ে একজন এসেছে। প্যাকেটটা দিয়েই চলে যাবে।

    হোটেল লবীতে অচেনা এক যুবক দাঁড়ানো। যুবকের মুখ হাসি হাসি। বিনয়ী চেহারা। যুবক বলল, স্যার কেমন আছেন?

    করিম আঙ্কেল বললেন, আমি সবসময়ই ভালো থাকি। আমি কি তোমাকে চিনি?

    যুবক বলল, আমাকে আপনি চেনেন না। তবে আমার স্ত্রীকে চেনেন। আমার স্ত্রীর নাম লাইলি। আমার নাম টুনু।

    করিম আঙ্কেল সিগারেট ধরাতে ধরাতে বললেন, কোয়াইট ইন্টারেস্টিং। যুবক বলল, পুলিশের ধারণা আমি ক্রসফায়ারে মৃত। ওদের সেই ধারণা দেওয়া হয়েছে। মৃত মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকা খুবই ইন্টারেস্টিং। তাই না স্যার?

    বুঝতে পারছি না। মৃত মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার অভিজ্ঞতা আমার নেই। দুই মিনিট সময় নিয়ে এসেছিলাম, এখন আমাকে যেতে হবে; সবাই অপেক্ষা করছে।

    যুবক বলল, আপনাকে তো যেতে দেওয়া যাবে না। আপনি আমার ভয়ঙ্কর গোপন তথ্য জানেন।

    তুমি কী করতে যােচ্ছ? আপনার যাতে সহজ মৃত্যু হয় সেই ব্যবস্থা করব। আমি পিস্তল নিয়ে এসেছি। আমার লোকজন আপনাকে ঘিরে আছে। তবে আমি আপনার সঙ্গে একটা নোগোসিয়েশনে যেতে পারি।

    কী রকম নেগোসিয়েশন?

    যুবক বলল, নেগোসিয়েশনের ব্যাপারটা এখানে বলা যাবে না। সুইমিংপুলের কাছে চলুন। লোকজন সেখানে কম আছে। দেরি না করে আসুন। আপনার যে কোনো চয়েস নেই। এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া আপনার উচিত। আপনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান মানুষ।

    করিম আঙ্কেল ভাঙা ভাঙা গলায় বললেন, সুইমিংপুলটা কোন দিকে?

    আসুন, আমি নিয়ে যাচ্ছি।

    করিম আঙ্কেল বললেন, আমি একটা বিষয় পরিষ্কার করতে চাচ্ছি। মেয়েমানুষঘটিত কোনো সমস্যা আমার নেই। কোনো মেয়ে যদি আমার কাছে ছুটে আসে তখন না বলি না। কিন্তু আমি কাউকে ডাকি না।

    যুবক বলল, লাইলি কেমন আছে স্যার?

    করিম আঙ্কেল বললেন, লাইলি ভালো আছে। আমি তার অভিনয় প্রতিভায় মুগ্ধ। গুহামানব নামে আমি যে ছবিটি বানাচ্ছি। সেখানে লাইলিকে প্রায় সেন্ট্রাল একটা ক্যারেক্টর দেওয়া হয়েছে। একটা পপুলার হিন্দি গানের চারটা লাইনও সে গাইবে— বাচপানকে দিন ভুলানা দেনা।

    যুবক বলল, স্যার চলুন গল্প করতে করতে এগিয়ে যাই। গল্প লম্বা করে আপনার কোনো লাভ হবে না। আপনাকে উদ্ধার করতে কেউ আসবে না। আপনি কি একা একা হাঁটতে পারবেন? নাকি আমি আপনার হাত ধরব?

    করিম আস্কেলের ডেডবডি সুইমিংপুলে ভাসছে—এই খবর দলের বাকিদের কাছে পৌঁছল রাত দশটায়। যে পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছে সেই পিস্তলটিা ছিল তার হাতে। পাথরচাপা দেওয়া একটা সুইসাইড নোটও পাওয়া গেল। সেখানে লেখা— জীবন সম্পর্কে চূড়ান্ত হতাশায় এই কাজ করতে আমি বাধ্য হচ্ছি। আমার মৃত্যুর জন্যে আমিই দায়ী।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশুভ্র – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article সাজঘর – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }