Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শুভ্র – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প307 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৪. ঘুম এবং জাগরণের মাঝখানের পর্দা

    ঘুম এবং জাগরণের মাঝখানের পর্দা ক্রমেই হালকা হয়ে যাচ্ছে। এবং এই পর্দা কাঁপছে। দুলছে! শুভ্ৰ জেগে উঠছে এবং প্রায় সঙ্গেই সঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়ছে! মজার ব্যাপার ঘুমের সময় সে যে স্বপ্ন দেখছে এই স্বপ্লের ধারাবাহিকতা তাতে নষ্ট হচ্ছে না। স্বপ্নটা যেখানে শেষ হচ্ছে সেখান থেকেই আবারো শুরু হচ্ছে। স্বপ্নের ঘটনা সামান্য বদলে যাচ্ছে কিন্তু মূল পাত্র-পাত্রী ঠিকই থাকছে। তবে পত্ৰিপাত্রীদের চেহারা পাল্টাচ্ছে।

    স্বপ্নে মীরা ছিল। মীরার সঙ্গে প্ৰায় তালগাছের মত লম্বা একটি মেয়ে ছিল। সেই মেয়েটা হাঁটছিল খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। লম্বা মেয়েটা স্বপ্নে শুধুই হাসছিল। পুরুষদের মত হাসছিল। ভরাট গম্ভীর গলার হাসি। মাঝখানের বিরতির পর স্বপ্ন আবার যখন শুরু হল। তখনো মীরা আছে, এবং মীরার সঙ্গিনীও আছে। তবে সে আর আগের মত লম্বা না বরং মীরার চেয়েও বেঁটে হয়ে গেছে। এবং তার চেহারাও পাল্টে গেছে। তাকে দেখাচ্ছে খানিকটা বিনুর মত। এই বিনু যে প্রথমে দেখা তালগাছ মেয়ে তা বোঝা যাচ্ছিল তার হাসি থেকে। সবকিছু বদলালেও তার হাসি বদলায় নি। সেই আগের মত ভরাট গম্ভীর গলার হাসি। শুভ্ৰ ঠিক করল তাকে জিজ্ঞেস করবে- আপনি তো একটু আগেই প্রায় তালগাছের মত লম্বা ছিলেন। এখন এমন বেটে হয়ে গেছেন কেন? আপনাকে দেখাচ্ছে স্লীপিং বিউটির সাত বামুনের একজনের মত।

    যে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার কথা থাকে সেই প্রশ্ন স্বপ্লে কখনোই করা হয় না। সম্পূর্ণ অন্য প্রশ্ন করা হয়। কাজেই শুভ্র যা বলল তা হচ্ছে- আপনি খুঁড়িয়ে হাঁটছেন কেন? মেয়েটা বলল (হাসতে হাসতে), আমি খুঁড়িয়ে হাঁটছি কারণ আমার একটা পা কাঠের। দেখতে চান?

    শুভ্ৰ বলল, না।

    স্বপ্নে সময়ের ব্যাপারটা বদলে যায়। দীৰ্ঘবাক্য বলতে খুব কম সময় লাগে, আবার সামান্য না বলতেও অনেক সময় লাগে। শুভ্র দীর্ঘ সময় নিয়ে না বলল, তার আগেই মেয়েটা তার কাঠের পা দেখাবার জন্যে তার শাড়ি তুলে ফেলেছে। শুভ্ৰ অবাক হয়ে দেখছে মেয়েটার পা মোটেই কাঠের না। রক্ত-মাংসের পা। শুভ্র বলল, আপনার পা তো কাঠের না। মেয়েটা বলল, হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখ। হাত দিয়ে ছুঁয়ে না দেখলে কী করে বুঝবে?

    মেয়েটার গলার স্বর বিনুর মত। সে এখন হাসছেও খুব স্বাভাবিকভাবে। শুভ্র বিনুর পা ছুঁয়ে দেখতে গেল তখনি তার ঘুম ভাঙিল। সে খুবই অপরিচিত জায়গায় শুয়ে আছে। তার বিছানা নরম। বিছানার উপর বালিশ নরম। গায়ের উপর পাতলা চাঁদর দেয়া। সে যে দেয়ালের দিকে মুখ করে শুয়ে আছে, সেই দেয়ালটা অপরিচিত। দেয়ালে পেন্সিল দিয়ে কয়েকটা টেলিফোন নাম্বার লেখা। শুভ্র দেয়ালের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতেই দেখল। খাটে আসমানী বসে আছে। আসমানীর হাতে মগ। মগ থেকে ধোঁয়া উঠছে। আসমানীর চেহারা সম্পূর্ণ অন্য রকম লাগছে। শান্ত সুখী সুখী মুখ। সে চোখে টেনে কাজল দিয়ে চোখ দুটিকে সুন্দর করে ফেলত ঠিকই। তবে খানিকটা অপরিচিতও করে ফেলত। মেয়েটা এখনো চোখে কাজল দেয় নি বলে তার চোখ খুবই পরিচিত লাগছে।

    আসমানী বলল, চা আনছি।

    শুভ্র বলল, ও।

    নেন, আগে কুলি করেন।

    মেয়েটা মগে করে শুধু যে চা এনেছে তা না, তার এক হাতে পানির গ্লাসও ধরা আছে। পানির গ্লাস চোখে পড়ে নি। ধোয়া উঠা মগ চোখে পড়েছে।

    আসমানী বলল, নেন। কুলি করেন। চিলমচিতে কুলি ফেইলা চা খান।

    মেয়েটা এত স্বাভাবিকভাবে কথা বলছে যেন শুভ্র দীর্ঘদিন ধরে এ বাড়িতে বাস করে। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে চিলমচিতে কুলি ফেলে চা খায়।

    চায়ে চিনি টিনি সব ঠিক হইছে?

    চায়ে চিনি ঠিক হয় নি, সামান্য কম হয়েছে। তারপরেও শুভ্র বলল, হ্যাঁ ঠিক হয়েছে।

    আপনার ঘুম ভাল হইছে?

    হুঁ।

    হুঁ বললেন কেন? আপনার ঘুম মোটেই ভাল হয় নি। ঘুমের মইধ্যে খুব ছটফট করছেন। দুঃস্বপ্ন দেখেছেন।

    তুমি জানলে কী করে?

    জানব না কেন? আমি তো আপনার পাশেই বইসা ছিলাম।

    বলতে বলতে আসমানী হাসল; এই হাসিও কী স্বাভাবিক! যেন শুভ্ৰর বিছানার পাশে বসে থেকে রাত কাটানো এই মেয়েটির অনেক পুরনো অভ্যাস।

    আপনি রাতে খুবই খারাপ স্বপ্ন দেখেছেন ঠিক না? ভাং এর সরবতের এই একটা খারাপ ব্যাপার আছে। কম খেয়ে ঘুমুতে গেলে সবাই দুঃস্বপ্ন দেখে। বেশি কইরা খাইলে দেখে শান্তির স্বপ্ন।

    ও আচ্ছা।

    আমি একবার কী স্বপ্ন দেখছিলাম জানেন? আমি স্বপ্নে দেখছিলাম। আমাকে ঘিরে ভন ভন করে নীল মাছি উড়তেছে। মাছিগুলি দেখতে মানুষের মাথার মত। পরিচিত সব মানুষের মাথা যেন ছোট হয়ে গেছে। যেখানে কান থাকার কথা সেখানে পাখা। সবাইরে চেনা যাইতেছে।

    ইন্টারেস্টিং।।

    আপনি এই এ রকম কোনো স্বপ্ন দেখছেন?

    না। এখন কটা বাজে?

    দশটা এখনো বাজে নাই। কিছুক্ষণের মইধ্যে দশটা বাজব। আপনি কি মাশতা খাইবেন?

    আমি কোনো নাশতা খাব না। আমি এখন চলে যাব।

    আচ্ছা।

    আরেক কাপ চা খেতে পারি। চা-টা ভাল হয়েছে।

    আসমানী কোনো কথা না বলে চলে যাচ্ছে। সে একবারও বলল না— নাশতা খেয়ে যান। নাশতা না খেয়ে যাবেন কেন? যে মেয়ে খুব যত্ন করে তাকে সারা রাত রেখে দিয়েছে, সে সকালে নাশতা না খাইয়ে বিদেয় করে দিচ্ছে। ব্যাপারটা মিলছে না। তারপরেও মনে হচেচ্ছ ঠিক আছে।

    যা ঘটছে সব। এত স্বাভাবিক লাগছে কেন? এখন যা ঘটছে তা স্বপ্নের অংশ নাতো? একমাত্র স্বপ্নদৃশ্যেই সব স্বাভাবিক লাগে। শুভ্র একবার আকাশে উড়ার স্বপ্ন দেখেছিল। উড়তে উড়তে সে যেন কোথায় কোথায় চলে যাচ্ছে। সে মোটেই বিস্মিত হয় নি। তার কাছে মনে হচ্ছিল- সে তো উড়বেই।

    তুমি যখন স্বপ্ন দেখ। তখন স্বপ্নটাকেই বাস্তব মনে হয়। স্বপ্নভঙ্গের পর বুঝতে পার— এতক্ষণ যা ঘটেছে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। পৃথিবীতে যখন তুমি বাস কর, তখন এই পৃথিবীটাকে তোমার কাছে বাস্তব মনে হয়। পৃথিবীর জীবনটাও যে স্বপ্লের জীবনের মত অলিক ভ্রান্তি তা তুমি বুঝতে পারবে যখন তুমি পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে।

    কথাগুলি কার? প্রতিটি লাইন মনে আছে অথচ লাইনগুলি করে তা মনে আসছে। না কেন? শুভ্ৰ ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। তার মাথা কি কাজ করছে না? মস্তিষ্কের নিওরোনে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে? এই বিশ্বব্ৰহ্মাণ্ডের সবচে জটিলতম বস্তু হল মানুষের মস্তিষ্ক। জঠিল এবং রহস্যময়। মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র একটি অংশই শুধু মানুষের নিয়ন্ত্রণে। বাকি অংশ কাজ করে সম্পূর্ণ তার মত।

    কাগজ পোড়ার গন্ধ আসছে। এই গন্ধের সঙ্গে মিশেছে জুতা পালিশের গন্ধ। শুভ্রর ঘুম পাচ্ছে। আসমানী চা নিয়ে এলে, চা খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লে কেমন হয়? আসমানীর উপর তার রাগ করা উচিত। প্রচণ্ড রাগা! আসমানী যা করেছে। তাকে সমর্থন করার কোনোই কারণ নেই। সে তাকে ইচ্ছে করে ড্রাগ মেশানো অষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতে পারে না।

    ভাং-এর সরবত শুনলে তেমন কিছু মনে হয় না। কিন্তু ধুতুরা পাতা কচলে ভাং-এর সরবত বানানো হয়। ধুতুরা গাছ এই পৃথিবীর খুবই রহস্যময় গাছ। এই গাছ মানুষের চেতনার উপর কাজ করে।

    শুধু মানুষ না, যাবতীয় পশুপাখি এই গাছের ফল, গাছের পাতা এবং শিকড়ে আক্রান্ত হয়। মানুষ-পশু-পাখি এক চেতনা থেকে অন্য চেতনায় চলে যায়। তখন সেই চেতনার জগতকেই মনে হয় সত্যি জগৎ। বাকি সব মিথ্যা।

    আসমানী চা নিয়ে এসেছে। তার হাতে একটা পিরিচ্চে মাখন লাগানো টেষ্ট বিসকিট। আসমানী বলল, আপনের নতুন ম্যানেজার সাহেব আপনারে নিতে এসেছেন।

    শুভ্র বলল, ও।

    আসমানী বলল, উনি আমার সঙ্গে খুব রাগারগি করছেন।

    কেন?

    কারণ উনার ধারণা হয়েছে আমি কৌশল করে আপনাকে এখানে রেখে দিয়েছি।

    তোমার ধারণা তুমি কৌশল কর নি?

    না।

    ভাং-এর সরবত দিয়ে তুমি আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিলে। সারারাত আমি মরার মত ঘুমুলাম। এখন বলছি তুমি কৌশল কর নি!

    আমি কোনো কৌশল করি নাই। আপনের খুব ইচ্ছা করতেছিল এখানে রাত কাটাবার। সাহস করে কথাটা বলতে পারতেছিলেন না। আমি সেই সাহসটা দিয়েছি।

    শুভ্ৰ শান্ত গলায় বলল, আমার খুব ইচ্ছা করছিল এখানে থাকার?

    আসমানী হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ল।

    শুভ্র বলল, সেটা কী করে বুঝে ফেললে?

    ইচ্ছা করতেছিল বলেই আপনি বলামাত্র থেকে গেলেন। একবারও আপত্তি করলেন না। ঘুম থেকে উঠেও কিছু বলেন নাই।

    সব মানুষ এক রকম না। একেক মানুষ একেক রকম।

    আসমানী শব্দ করে হাসল। শুভ্র বলল, তুমি হাসছ কেন? আসমানী বলল, আপনের কথা শুনে হাসতেছি।

    হাসার মত কী বললাম?

    আপনের ধারণা আপনে অন্যদের চেয়ে আলাদা। আপনে মোটেই আলাদা না। সব মানুষই এক রকম। যদিও তারা মনে করে তারা একেক জন একেক রকম। এইটা মনে করে সে আনন্দ পায়।

    তুমি কী করে বুঝলে সবাই এক রকম?

    আমার পক্ষে বোঝা সবচে সহজ। কত পুরুষের সাথে আমি বসি। চা ঠিক আছে?

    হ্যাঁ ঠিক আছে।

    চিনি ঠিক হইছে?

    হ্যাঁ।

    আসমানী আবারো শব্দ করে হেসে ফেলল। শুভ্র বলল, হাসছ কেন? আসমানী বলল, আপনের চায়ে আমি এক দানা চিনি দেই নাই। অথচ আপনে বলছেন চায়ে চিনি হইছে। এই জন্যে হাসতেছি। আপনে এখন একবার চুমুক দিন

    শুভ্ৰ চায়ে চুমুক দিল। আসলেই চায়ে কোনো চিনি নেই। আসমানী এখনো হাসছে। তবে এখন আগের মত শব্দ করে হাসছে না। নিঃশব্দ হাসি। শুভ্ৰ বলল, তুমি এই কাজটা কেন করলে?

    দেখার জন্যে যে আপনে বুঝতে পারেন কি না।

    তুমি কি অনেকের সঙ্গেই এই কাজটা করি?

    হ্যাঁ।

    কেন করে?

    একবারতো বললাম, মজা করার জন্যে করি।

    কীসের মজা?

    কীসের মজা সেটা আরেক দিন বলব। আইজ না।

    আজই বল। শুনে যাই।

    আইজ না। আরেক দিন। আপনার ম্যানেজারের খুব রাগ হইতেছে। আপনে আইজ চলে যান। আপনের আগের ম্যানেজারটা ভাল ছিল। রাগারগি কম করত—এই ম্যানেজারের রাগ বেশি। খালি ছ্যাঁৎ ছ্যাঁৎ করে। আমি এই ম্যানেজারের নাম দিলাম ছাঁৎ ম্যানেজার।

    শুভ্রর যেতে ইচ্ছা করছে না। সে চিনি ছাড়া চায়ে চুমুক দিচ্ছে। চা-টা খেতেও তার খারাপ লাগছে না। ভালই লাগছে।

     

    জাহানারার মনে হল তাঁর মুখ দিয়ে আগুন বের হচ্ছে। শুধু মুখ না, সারা শরীর দিয়েই বের হচ্ছে। বাথটাব ভর্তি পানি নিয়ে সেই পানিতে গলা পর্যন্ত ড়ুবিয়ে বসে। থাকতে পারলে ভাল হত। সেটা সম্ভব না। বাথটাবের পানিতে তিনি গোসল করতে পারেন না; শরীরের ময়লা পানিতে মেশে। সেই নোংরা পানিই আবার গায়ে দেয়া— কী কুৎসিত, কী নোংরা! তিনি এখন বেসিনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। দুহাতে চোখে মুখে পানির ঝাপটা দিচ্ছেন। তাতে মুখের গরম কমছে না। সারা মুখে বরফ ঘষলে গরমটা বোধহয় কমত। ফ্রিজে বরফ নেই। বরফের ট্রে-টা খালি।

    বিনু কাছে এসে দাঁড়িয়ে আছে। সে তাঁকে কৌতূহলী চোখে দেখছে। এমনভাবে দেখার কী আছে! তিনি অস্বাভাবিক কিছু তো করছেনও না। চোখে মুখে পানি দিচ্ছেন। এটা নতুন কিছুও তো নয়। মাঝে মধ্যেই তাঁর মনে হয় চোখ মুখ দিয়ে আগুনের হালকা বের হচ্ছে। ডাক্তারের সঙ্গে কথাও হয়েছে। ডাক্তার বলেছেন। এটা স্নায়ুর একটা অসুখ। স্নায়ুর অসুখ তো মানুষের হতেই পারে। এই অসুখের সঙ্গে শুভ্ৰর কোনো সম্পর্ক নেই। শুভ্র একটা রাত বাইরে কাটিয়েছে এটা এমন কোনো ব্যাপার না। ছেলে বড় হয়েছে। মাঝে মধ্যে সে বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে থাকবে। এটাই স্বাভাবিক।

    বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে বসলে সময়ের হিসেব থাকে না, রাত হয়ে যায়। এত রাতে ফেরার চেয়ে না ফেরাই ভাল। তবে খবরটা দিতে পারত। শুভ্ৰ কোনোই খবর দেয় নি। রাত একটার দিকে টেলিফোন করে অফিসের নতুন ম্যানেজার জানিয়েছে – ছোট সাহেব রাতে ফিরবেন না। সকালে ফিরবেন।

    জাহানারা বললেন, রাতে ফিরবে না কেন?

    বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে গল্প করছেন।

    জাহানারা বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে। ম্যানেজার বলল, আম্মা আপনি দুশ্চিন্তা করবেন না। ঘুমিয়ে পড়েন।

    ম্যানেজারের টেলিফোন পেয়ে জাহানারার দুশ্চিন্তা পুরোপুরি চলে গিয়েছিল। তিনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ঘুমুতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিছানায় শোয়ামাত্র তাঁর মনে হল— শুভ্ৰ বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে গল্প করছে এই খবরটা তার ম্যানেজার কীভাবে জানল? ম্যানেজারের তো জানার কথা না! শুভ্ৰ নিশ্চয়ই ম্যানেজারকে সঙ্গে নিয়ে বন্ধু বান্ধবের বাসায় গল্প করতে যায় নি।

    শুভ্রর বাবা যখন বেঁচে ছিলেন তখন এরকম ঘটনা ঘটত। হঠাৎ হঠাৎ ম্যানেজার টেলিফোন করে বলত— বড় সাহেবের একটা কাজ পড়ে গেছে। রাতে তিনি আসতে পারবেন না। জাহানারা বলতেন, আচ্ছা। কী কাজে বড় সাহেব আটকা পড়েছেন, তিনি কোথায় রাত কাটাবেন- কিছুই জিজ্ঞেস করতেন না। ম্যানেজার টেলিফোন রাখার আগে বলতো- আপনি দুশ্চিন্তা করবেন না। ঘুমিয়ে পড়েন।

    গতকাল রাতে ম্যানেজার শুভ্ৰ সম্পর্কে একই কথা বলেছে। এর মানে কী? দুই এবং দুই যোগ করলে চার হয়। মানুষের ব্যাপারে এমন অংক করা কি ঠিক? মানুষ কোনো অংক না। শুভ্র এবং শুভ্রর বাবা এক না। দুজন দুধরনের মানুষ। জাহানারার সারারাত এক ফোঁটা ঘুম হল না। ভোর থেকে শুরু হল— গরম লাগার অসুখ। মনে হচ্ছে কেউ তাঁর শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। চোখ মুখ দিয়ে আগুনের হালকা বের হচ্ছে।

    বিনু বলল, আপনার কী হয়েছে?

    তিনি বিনুর দিকে তাকিয়ে খুব সহজ গলায় বললেন, কিছু হয় নি।

    কিছু যে হয় নি এটা ভাল করে বুঝানোর জন্যে তিনি সামান্য হাসলেন। তারপর আগ্রহ নিয়ে বললেন, বিনু তুমি আমের টক রাঁধতে পার? ছোট মাছ দিয়ে কাঁচা আম দিয়ে টক। আমের টক রান্না কর তো। আজ কেন জানি আমের টক খেতে ইচ্ছা করছে।

    বিনু তাকিয়ে আছে! কিছু বলছে না। জাহানারা বললেন, গরমের সময় টক খেলে গরম কমে এটা কি তুমি জান বিনু?

    বিনু না-সূচক মাথা নাড়ল। জাহানারা বললেন, গরম দেশের সব ফল এই কারণেই টক হয়। ঠাণ্ডার দেশে তুমি কোনো টক ফলের গাছ পাবে না। যেমন ধর তেঁতুল গাছ। এই গাছ হয় আমাদের গরমের দেশে। শীতের দেশে হয় না। কারণ ওদের তেঁতুল খাবার কোনো দরকার নেই। আমাদের আছে। কথাগুলি আমাকে বলেছে শুভ্ৰ। শুভ্রের কথা মন দিয়ে শুনলে অনেক কিছু শিখা যায়।

    বিনু বলল, আপনার কি জ্বর এসেছে?

    জাহানারা বিরক্ত গলায় বললেন, জ্বর আসবে কেন?

    বিনু বলল, আপনার চোখ টকটকে লাল হয়ে আছে।

    বারবার চোখে পানির ঝাপটা দিচ্ছি। এই জন্যে চোখ লাল হয়েছে।

    বলয়ে বলতে জাহানারা আয়নায় নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে নিজেই চমকে উঠলেন। মনে হচ্ছে এক্ষুণি চোখ ফেটে রক্ত বের হবে।

    বিনু বলল, আপনার শরীর খারাপ লাগলে আপনি বিছানায় শুয়ে থাকুন। আমি আপনার মাথায় পানি চালার ব্যবস্থা করছি।

    জাহানারা হঠাৎ নিজের অজান্তেই মুখ ফসকে বলে ফেললেন, কাল রাতে শুভ্র কোথায় ছিল তুমি কি জান?

    বিনু বলল, জানি।

    জাহানারা অবাক হয়ে বললেন, কীভাবে জান?

    বিনু বলল, উনি আমাকে বলেছেন।

    কখন বলেছে?

    এইত কিছুক্ষণ আগে।

    শুভ্ৰ কি বাড়িতে এসেছে?

    বিনু হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ল।

    জাহানারা বললেন, গত রাতে শুভ্ৰ কোথায় ছিল?

    বিনু জবাব দিল না।

    টেলিফোন বাজছে। জাহানারা বিনুকে ইশারা করলেন। টেলিফোন সেট তার কাছে এগিয়ে দিতে। এ বাড়িতে টেলিফোন আসে খুব কম। সব সময় টেলিফোন তিনি ধরেন। কয়েকদিন ধরে লক্ষ করছেন বিনু টেলিফোন ধরছে। এটা ঠিক না; ধমক দিয়ে নিষেধ করে দিতে হবে। শরীরে রাগটা উঠলে ধমক দিতে হবে। জুরের কারণে রাগ ঠিকমত উঠছে না বলে ধমক দিতে পারছেন না। ধমকটা আজকেই দিতে পারলেই সবচে ভাল হত।

    জাহানারা টেলিফোন ধরতেই ওপাশ থেকে মিষ্টি গলায় একটা মেয়ে বলল, শুভ্ৰ কি বাসায় আছে? ওকে দিতে পারবেন? খুব জরুরি।

    তুমি কে?

    আমার নাম মীরা। আমি ওর ক্লাসমেট।

    জাহানারা কিছু সময় চুপ করে থেকে বললেন, এটা শুত্রদের বাড়ি না। শুভ্র নামে এখানে কেউ থাকে না।

    আমার কথাটা আপনি একটু মন দিয়ে শুনুন। আমি নিশ্চিত এটা শুভ্রদের বাড়ি এবং খুব সম্ভব। আপনি তার মা। শুভ্ৰকে টেলিফোন দিতে না চাইলে দেবেন না। কিন্তু একটা খবর তাকে দিতে হবে- আপনি শুভ্ৰকে বললেন আলতাফুর রহমান স্যার মারা গেছেন। রোড এ্যাকসিডেন্টে মারা গেছেন। উনি শুভ্রকে খুব পছন্দ করতেন। তার ডেডবিডি ধানমণ্ডির বাড়িতে রাখা আছে। শুভ্ৰ যেন অবশ্যই সেখানে যায়। দয়া করে এক্ষুণি শুভ্রকে খবরটা দিন।

    এই মেয়ে, তোমাকে বললাম এটা শুভ্রর বাসা না।

    আমার নাম মীরা। বলবেন মীরা টেলিফোন করেছিল। স্যারের নামটা মনে রাখুন— ড. আলতাফুর রহমান। চেয়ারম্যান, ডিপার্টমেন্ট অব ইলেক্ট্রনিক্স এন্ড এপ্লায়েড ফিজিক্স। মনে থাকবে?

    জাহানারা টেলিফোন নামিয়ে রেখে শুভ্ৰকে ডেকে পাঠালেন। শুভ্ৰ সঙ্গে সঙ্গে এল। তিনি শুভ্ৰর দিকে তাকালেন না। কথা বললেন দেয়ালের দিকে তাকিয়ে যেন শুভ্ৰ বুঝতে পারে তিনি রাগ করেছেন।

    শুভ্ৰ, তোর একজন টিচার মারা গেছেন। নাম আলতাফুর রহমান। রোড একসিডেন্টে মারা গেছেন। তাঁর ডেডবডি ধানমণ্ডির বাসায় রাখা আছে। তুই ধানমণ্ডির বাসা চিনিস?

    হ্যাঁ।

    ওখানে যেতে বলেছে। টেলিফোন কে করেছে?

    বুড়ো মত এক ভদ্রলোক। নাম জিজ্ঞেস করেছিলাম— বলল না। তাদের কোনো আত্মীয়স্বজন হবে।

    আচ্ছা ঠিক আছে।

    শুভ্ৰকে দেখে মনে হচ্ছে না— সে খুব দুঃখিত হয়েছে। কেমন নির্বিকার ভঙ্গিতে চলে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে সে তার শিক্ষকের ডেড়বডি দেখতেও যাবে না।

    শুভ্ৰ।

    হুঁ।

    তুই তোর স্যারুকে দেখতে যাবি না?

    না।

    যাবি না কেন?

    শুভ্ৰ শান্ত গলায় বলল, উনি তো এখন আর আমার স্যার না। একটা মৃত দেহ। মৃত মানুষ কিছুই না মা। তোমার কি শরীর খারাপ?

    না।

    দেয়ালের দিকে তাকিয়ে আছ কেন?

    তুই তো আমার কথা শুনতে পাচ্ছিস। পাচ্ছিস না?

    পাচ্ছি।

    কথা শুনতে পাওয়াটাই আসল। দেয়ালের দিকে তাকিয়ে কথা বলা যা আসমানের দিকে তাকিয়ে কথা বলাও তা।

    বিনুর কাছে শুনলাম তুমি পর পর দু রাত সেই প্রেতটাকে দেখছ। বারান্দায় হাঁটাহাটি করছিল। তোমাকে নাকি হয়ত ইশারায় ডাকছিল। সত্যি?

    না, সত্যি না। আমি বানিয়ে বানিয়ে বলেছি।

    জাহানারা এতক্ষণ বসেছিলেন। এখন শুয়ে পড়লেন। চাঁদরে মুখ ঢেকে ফেললেন। তিনি মীরা মেয়েটার কথা ভাবছেন। মেয়েটা দেখতে কেমন?

    গলার স্বর মিষ্টি কাজেই দেখতে ভাল হবে না। যে মেয়ের গলার স্বর যত মিষ্টি সে দেখতে তত খারাপ। আর যে মেয়ের গলার স্বর যত চিকন সে তত মোটা।

    এটা সহজ হিসেব। এই হিসেবে কখনো ভুল হয় না। অনেক চিন্তা ভাবনা করে এইসব কথা বের করা হয়েছে।

    কোনো নারীর পায়ের পাতা যদি হাতির পায়ের পাতার মত থ্যাবড়া হয় তাহলে সেই নারী হয় স্বামী ঘাতকিনী। মীরা মেয়েটার পায়ের পাতা কেমন কে জানে।

    যে মেয়ের চুলের আগা ফেটে যায়। সেই মেয়ে হয় স্বৈরিণী। স্বামী ছাড়াও অন্য পুরুষের সঙ্গে রাত্রি যাপন করে।

    যে নারী নিতম্ব স্থূল, সে হয় কামাতুরা। কামজ্বরে কাতর।

    উচ কপালী
    চিড়িল দাঁতী
    পিঙ্গল কেশ
    ঘুরবে কন্যা নানা দেশ।

    জাহানারার উঁচু কপাল, চিড়ল দাঁত এবং মাথার চুলও পিঙ্গল। তিনি নানান দেশ ঘুরেন নি। তিনি তাঁর জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন— দশের এক গোলাপলাল রোডের দোতলা বাড়ির উত্তরের একটা ঘরে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশঙ্খনীল কারাগার – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article শুভ্র গেছে বনে – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }