Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শুভ্র – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প307 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৫. আখলাক শব্দের অর্থ

    আখলাক শব্দের অর্থ জান?

    মীরা আখলাক সাহেবের দিকে তাকিয়ে বিরক্ত গলায় বলল, জানি। আখলাক শব্দের অর্থ চরিত্র।

    ঠিকই বলেছ, একটু শুধু ভুল করেছ— আখলাক হল সৎ চরিত্র। এখন বল দেখি চরিত্রের আর কী প্ৰতিশব্দ বাংলায় আছে?

    মীরা বিরক্তিতে ভুরু কুঁচকাল। তার কথা বলতে একেবারেই ইচ্ছা করছে না। রাতে জ্বর এসেছিল, সেই জুরের খানিকটা এখনো রয়ে গেছে। গাড়ির জানালার কাচ নামানো। জানালা দিয়ে হাওয়া আসছে। সেই হাওয়ায় শীত শীত লাগছে। এখন শীত লাগার কোনো কারণ নেই। শরীরে যে জ্বর আছে এটাই তার প্রমাণ।

    আখলাক গাড়ি চালাচ্ছেন। মীরা বসেছে ড্রাইভারের পাশের সিটে। ক্যাসেট প্লেয়ারে মিউজিকের ক্যাসেট বাজছে। জলতরঙ্গের মত একটা বাজনা। মাঝে মাঝে বাজনা থেমে যায়, তখন খুবই অস্পষ্ট গলায় দুটা মেয়ে হামিং করে। পুরো বাজনোটার মধ্যে ভৌতিক কিছু আছে। মীরা বাজনা শুনছে। বাজনোটা এমন যে মন দিয়ে শোনা যায় না, আবার মন পুরোপুরি সরিয়েও নেয়া যায় না। ছায়ার মত কানে লেগে থাকে।

    আখলাক বললেন, মীরা তোমার কি শরীর খারাপ?

    সামান্য খারাপ। জ্বর এসেছে নাকি? চোখ এবং নাকের ডগা লালচে হয়ে আছে। সিমটমগুলি ইনফ্লুয়েঞ্জার।

    জ্বর থাকতে পারে।

    আখলাক হাত বাড়িয়ে মীরার কপালে হাত রাখলেন। হাত ভর্তি সিগারেটের গন্ধ। শরীর ভাল থাকলেই মীরা তামাকের গন্ধ সহ্য করতে পারে না। এখন শরীর খারাপ। রীতিমত গা গুলাচ্ছে। মীরা কিছু বলল না। নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করতে লাগল— কখন তামাক ভর্তি হাতটা সরে যায়। সরতে সামান্য সময় নেবে। কোনো পুরুষ যখন জ্বর দেখার জন্যে কোনো মেয়ের কপালে হাত রাখে। তখন সে যতটা সময় জ্বর দেখার জন্যে দরকার তারচে বেশি সময় নেয়। কপাল থেকে হাতটা সরাসরিও উঠিয়ে নেয় না। হাতটা গাল স্পর্শ করে উঠে। এটাই নিয়ম।  এই নিয়ম মেনে নেয়া ছাড়া উপায় নেই। মীরা ক্লান্ত গলায় বলল, আমরা যাচ্ছি। কোথায়?

    তোমাকে তো আগেই বলেছি, লং ড্রাইভ। উদ্দেশ্যবিহীন ঘুরে বেড়ানো। ঘণ্টা খানিক ঝড়ের গতিতে গাড়ি চালিয়ে নাৰ্ভ ঠাণ্ড করা। আমার নার্ভ উত্তেজিত হয়ে আছে, নাৰ্ভ ঠাণ্ডা করতে হবে।

    গাড়ি তো ঝড়ের গতিতে চালাচ্ছ না।

    একটু পরেই শুরু করব। তুমি কিন্তু আমার প্রশ্নের জবাব দাও নি।

    তোমার প্রশ্নটা কী?

    বাংলায় চরিত্র শব্দের কী কী প্ৰতিশব্দ তোমার জানা আছে?

    প্ৰতিশব্দ জানা নেই।

    আমি বেশ কিছু ডিকশনারি ঘেঁটেছি। আমার কাছে মনে হচ্ছে— বাংলা ভাষায় চরিত্রের তেমন কোনো লাগসই প্রতিশব্দ নেই। চলন্তিকায় চরিত্রের প্রতিশব্দ হল, সদাচার, স্বভাব, চালচলন, আচরণ। এর বেশি কিছু নেই।

    না থাকলে কী আর করা!

    আখলাক সিগারেট ধরাতে ধরাতে বললেন, তুমি হয়ত শুনে একটু অবাক হবে। আমি বাংলা ভাষা নিয়ে কিঞ্চিৎ পড়াশোনা করছি। লোকে শিখে ফ্রেঞ্চ, আমি সংস্কৃত শিখব বলে মন ঠিক করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত ও পালী বিভাগের একজন শিক্ষক আছেন। তঁর কাছে শিখব। ভদ্রলোক ইন্টারেস্টিং মানুষ। একাহারী। একাহারী মানে জান?

    না।

    একবেলা খান। দুপুরবেলা। তাও নিরামিষ। গরম ভাত, এক চামচ ঘি, বেগুন ভর্তি এইসব। রাতে যখন ক্ষিধে লাগে। তখন ফল খান। একটা কলা, একটা শশা।

    ভালোতো।

    তুমি মনে হচ্ছে আমার কথা মন দিয়ে শুনছ না।

    বলেছি তো আমার শরীরটা ভাল না। তাছাড়া কথাগুলিও এমন কিছু ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে না।

    আখলাক সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে বললেন, তোমার স্নায়ুতে আমি যদি এখন বড় ধরনের একটা ধাক্কা দিতে পারি তাহলে তোমার জ্বর জ্বল্প ভাব চলে যাবে। শরীর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবে। আমার সাধারণ কথাও ইন্টাব্রেস্টিং মনে হবে। ধাক্কা দেব?

    কীভাবে ধাক্কাটা দেবে?

    স্নায়ুতে ধাক্কা দেবার অনেক টেকনিক আছে। আমি সহজ একটা টেকনিক ফলো করব। খুবই এফেকটিভ টেকনিক- আমি নিজে নিজে চিন্তা করে বের করেছি। আখলাকস টেকনিক নামে টেকনিকের নামকরণ করা যেতে পারে। টেকনিকটা আগে জানতে চাও না direct action-এ যেতে চাও?

    টেকনিকটা আগে বল।

    আমি করব কী জান? আমি গাড়ির স্পিড় বাড়াতে থাকব। যখন স্পিড় প্রায় একশ কিলোমিটারের কাছাকাছি চলে আসবে তখন লক্ষ করব। উল্টোদিক থেকে আমার কাছাকাছি স্পিডে কোনো ট্রাক বা বাস আসছে কি-না; এরকম কোনো বাস বা ট্রাককে টার্গেট করব। তারপর হঠাৎ চোখের পলকে আমাবু গাড়ি সেই বাসের বা ট্রাকের সামনে নিয়ে চলে যাবে। এত দ্রুত বেগে দুটো গাড়ি আসছে। চট করে এদের থামানো সম্ভব না। কাজেই আমাকে প্ৰস্তুত থাকতে হবে গাড়ি নিয়ে রাস্তার বাইরে চলে যাবার জন্যে। তোমাকে ব্যাপারটা বুঝাতে পেরেছি?

    হ্যাঁ।

    করব এরকম কিছু? রাজি থাকলে সিট বেল্ট বেঁধে নাও। আর ক্যাসেট প্লেয়ার বন্ধ কর। মোটামুটি রিস্কি খেলা খেলিব তো। নাৰ্ভ ঠাণ্ডা থাকা দরকার।

    মীরা সিট বেল্ট পরল। ক্যাসেট প্লেয়ার বন্ধ করল। আখলাক সাহেব বললেন, জানালার সব কাচ নামিয়ে দাও। দরজা আনব্লক করা। গাড়ি যদি উল্টে যায় দরজা ফুলক থাকলে বের হওয়া যাবে না। তোমার ভয় লাগছে নাতো?

    না।

    আমি তৈরিই আছি।

    তুমি সময়মত ট্রাকের সামনে থেকে সরে আসতে পারবে তো?

    অবশ্যই পারব। শুধু যদি ট্রাক ড্রাইভার তার সামনে হঠাৎ একটা গাড়ি চলে আসতে দেখে ভড়কে গিয়ে ব্রেকের বদলে একসিলেটরে চাপ দেয় বা আমি যেদিকে গাড়ি সরাচ্ছি। সেও সেদিকে সরায়। সে রকম কিছু ঘটলে ভিন্ন কথা।

    এ রকম কিছু ঘটলে তুমি কী করবে? বিকল্প ব্যবস্থা কি ভাবা আছে?

    হ্যাঁ আছে। জরুরি বিকল্প ব্যবস্থাগুলি নির্ভর করে পরিস্থিতির উপর।

    মীরা লক্ষ করল তার পাশে স্টিয়ারিং হুইল ধরে থাকা মানুষটা বড় বড় করে নিঃশ্বাস ফেলছে। এবং গাড়ির স্পীড ক্রমেই বাড়ছে। মীরা বলল, তুমি এ রকম করে নিঃশ্বাস নিচ্ছ কেন?

    আখলাক বলল, বেশি করে অক্সিজেন নিয়ে নিচ্ছি। ব্ৰেইনে যেন প্রচুর অক্সিজেন থাকে সেই ব্যবস্থা। অক্সিজেনের অভাব হলে লজিক্যালি চিন্তা করা যায় না। দূরে তাকিয়ে দেখ একটা ট্রাক আসছে। এই ট্রাকটাকে আমি টার্গেট করলাম।

    মীরা লক্ষ করল আখলাকের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। হাত সামান্য কাঁপছে। চোখের দৃষ্টি স্থির। মাথা স্টিয়ারিং হুইলের দিকে সামান্য ঝুঁকে এসেছে; মানুষটা অতি বিপদজনক একটা খেলা খেলতে যাচ্ছে। যে খেলা যত বিপদজনক ততই তার মজা। গভীর বনে মানুষ বাঘ শিকার করতে যায়। সে জানে যে-কোনো মুহুর্তে একটা বাঘ উল্টো দিক থেকে এসে তার ঘাড়ে ঝাপিয়ে পড়তে পারে। সে বিপদের ব্যাপারটা জানে বলেই শিকার শিকার খেলাটা তার কাছে মজার বলে মনে

    হয়।

    ট্রাক প্রায় চলে এসেছে। মীরা লক্ষ করল তার মুখ দিয়ে গরম বাতাস বের হচ্ছে। আখলাক বলল, মীরা ভয় লাগছে?

    মীরা বলল, সামান্য লাগছে। তবে যতটা লাগবে ভেবেছিলাম ততটা লাগছে না। I am enjoying the game.

    মীরা চোখ বন্ধ করে রাখ। আমি এক্ষুণি গাড়ি নিয়ে ট্রাকটার সামনে চলে যাব। তারপর ট্রাকটাকে পাশ কাটিয়ে উল্টো দিকের মাঠে গাড়ি নিয়ে যাব। খানিকটা ফাঁকা জায়গা পাওয়া গেছে, কাজেই কোনো সমস্যা নেই। বিসমিল্লাহ বলতে চাইলে বলতে পায়। রেডি গোট সেট গো।

    গাড়ি ঝড়ের মত ট্রাকের সামনে চলে গেল। মীরা কোনো দিকে তাকাচ্ছে না। সে তাকিয়ে আছে হতভম্ব ট্রাক ড্রাইভারের দিকে। ট্রাক ড্রাইভার এমন বিস্ময়কর দৃশ্য অনেকদিন দেখে নি।

     

    মীরাদের গাড়ি রাস্তার পাশের ফাঁকা জায়গাটায় কান্ত হয়ে আছে। মীরা এবং আখলাক সাহেব দুজনই গাড়ির বাইরে। বিশ পঁচিশ গজ দূরে ট্রাকটা থেমে আছে। মীরাদের ঘিরে ছোটখাট একটা ভিড়। আখলাক সিগারেট টানছেন। তাঁর মুখ বিষণ্ণ। তিনি ট্রাক ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে বললেন, ভাই হঠাৎ করে আমার মাথাটা ঘুরে গেছে। চোখের সামনে দেখি অন্ধকার। এরপর আমার কী হয়েছে কিছুই মনে নাই। আপনি যে হার্ডব্রেক করতে পেরেছেন এটা বিরাট ব্যাপার।

    ট্রাক ড্রাইভার অল্প বয়েসী। এত বড় বিপদের মুখোমুখি সে সম্ভবত আগে কখনো হয় নি। তার চোখে ঘোর লেগে আছে। সে পিচ করে থুথু ফেলল।

    আখলাক সিগারেটের প্যাকেট ট্রাক ড্রাইভারের দিকে বাড়িয়ে দিতে দিতে বললেন, নেন ভাই আমার কাছ থেকে একটা সিগারেট খান।

    ট্রাক ড্রাইভার সিগারেট নিতে নিতে বলল, আপনে ভাল ড্রাইভার। আমি হার্ড ব্ৰেক দেওনের আগেই আপনি গাড়ি নিয়া মাঠে নেমেছেন। শখের ড্রাইভার এই কাজ পারবে না।

    আখলাক বললেন, আল্লাহ বাঁচায়ে দিয়েছে।

    ট্রাক ড্রাইভার বলল, এইটা সত্য। আল্লাহ না বাঁচালে বাঁচা সম্ভব না। আপনের কী হয়েছিল বললেন— আন্ধাইর দেখছেন?

    জ্বি অন্ধকার। হঠাৎ সব অন্ধকার হয়ে গেল।

    এর নাম আঁধি লাগা। মাঝে মাঝে গাড়ির ড্রাইভাররা আন্ধাইর দেখে। বেশির ভাগ সময় রাইতে হয়। হাই বীম দিয়া হেড জ্বালাইয়া চলতেছেন। হঠাৎ মনে হইব- হেড লাইট নিভা। চউখে কিছুই দেখা যায় না। চউখের উপর পর্দা পাইরা যায়।

    আখলাক বললেন, আপনার দেরি করায়ে দিলাম। আপনি চলে যান। আমি এখানে কিছুক্ষণ থাকব। মাথাটা ঠাণ্ডা হলে তারপর যাব।

    চা খান। গরম চা খেলে উপকার হবে। আর ভাই সাহেব শুনেন বাড়িতে গিয়া একটা মুরগি সদাগ দেন।

    আখলাক কপালের ঘাম মুছতে মুছতে বললেন, মুরগি সদগা। অবশ্যই দেব। যাই দেখি চায়ের দোকান পাই কি-না।

    ট্রাক ড্রাইভার বলল, একটু সামনে গেলেই পাইবেন। ইদারিসের একটা দোকান আছে, ভাল চা বানায়।

    ধন্যবাদ। দেখি ইদারিসের দোকানেই যাই। আপনি কি আরেকটা সিগারেট নেবেন?

     

    মীরা ইদারিসের দোকানের সামনে একটা বেঞ্চিতে বসে আছে! আখলাক চা খাচ্ছেন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। আখলাক বললেন— মীরা তোমার অসুস্থ ভাবটা দূর হয়েছে না?

    মীরা বলল, হ্যাঁ।

    সত্যি সত্যি দূর হয়েছে, না-কি এমনি বলছ?

    সত্যি সত্যি দূর হয়েছে।

    আমার বাকি চিকিৎসা কেমন দেখলে?

    ভাল।

    আমি তোমার সাহস দেখেও মুগ্ধ হয়েছি। আমি কল্পনাও করি নি তুমি রাজি হবে। এবং শেষ পর্যন্ত চোখ খোলা রেখে তাকিয়ে থাকবে।

    আমি সাহসী মেয়ে। অবশ্যি তেলাপোকা দেখে এখনো ভয় পাই।

    আখলাকের চা শেষ হয়েছে। তিনি আরেক কাপ চা নিতে নিতে বললেন, মীরা তোমাকে নিয়ে আমি আজ যে বেড়াতে বের হয়েছি তার একটা কারণ আছে। কারণটা বলব?

    বল।

    গাড়িতে যেতে যেতে বলি– না-কি এখানেই বলব?

    এখানেই বল। এখানের পরিবেশটিাতো আমার কাছে খারাপ লাগছে না। রাস্তার পাশে গ্ৰাম্য ধরনের চায়ের দোকান। আকাশ মেঘমেদুর। এই রোদ এই মেঘ। আমার শরীরটাও এখন ভাল। শরীরটাকে নতুন কেনা গাড়ির মত ফিট মনে হচ্ছে।

    মনের অবস্থা কী? মনটা কি ফিট?

    আমার মন সব সময়ই ফিট। শরীর খারাপ থাকলেও ফিট। শরীর ভাল থাকলেও ফিট। আমার মনের সঙ্গে শরীরের সম্পর্ক নেই। বল তোমার কথা।

    আমি বিয়ে করার কথা ভাবছি।

    কেন?

    বয়স হয়েছে সেই কারণেই বোধহয়। রাত দুপুরে ঘুম ভাঙলে খুবই লোনলি লাগে। কথা বলার মানুষের জন্যে মন টানে।

    তোমার বিছানার পাশেই তো টেলিফোন। একগাদা নাম্বার তোমার মুখস্থ। যে কাউকে টেলিফোন করলে সে খুব আগ্রহ নিয়ে তোমার সঙ্গে কথা বলবে।

    যার সঙ্গে কথা বলব তাকে ছুঁতে ইচ্ছা করে। মুখে কথা বলব। কিন্তু একটা হাত থাকবে তার গায়ে; তুমি মেয়ে বলে আমার ফিলিংসটা বুঝতে পারছ না। পুরুষদের এই ফিলিংস শুধুমাত্র পুরুষরাই বুঝতে পারে।

    মীরা বলল, তোমাকে আমি একটা বুদ্ধি শিখিয়ে দেই। গভীর রাতে তোমার যদি কথা বলার ইচ্ছা করে তুমি টেলিফোনে তোমার পছন্দের কোনো মেয়ের সঙ্গে কথা বলবে। তখন গায়ে হাত রাখার জন্যে তোমার কাজের মেয়েটিকে রাখবে সামনে। সাপও মরাল, লাঠিও ভাঙল না।

    আখলাক বললেন, তোমাকে সরাসরি কথাটা বলি। জল স্পর্শ না করে জলের উপর উড়াউড়ি আমার ভাল লাগছে না। I want to marry you. আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই।

    কেন তুমি কি আমার প্রেমে পড়েছ?

    না। আমি তোমার প্রেমে পড়ি নি। প্রেমে কীভাবে পড়তে হয় আমি জানি না। তোমাকে আমার পছন্দ এইটুকু বলতে চাই। বেশ পছন্দ। May be তোমার শরীরটাই আমার পছন্দ।

    তোমাকেও আমার পছন্দ।

    তাহলে বিয়েতে বাধা কোথায়?

    মীরা বলল, বাধা আছে। বিশাল বাধা। সেই বাধাটা হল শুভ্ৰ।

    শুভ্র বাধা হবে কেন? Is he in ove with you?

    না। শুভ্ৰর স্বভাবও অনেকটা তোমার মত— সেও কাউকে ভালবাসতে পারে না। শুভ্রর সঙ্গে তোমার অনেক মিল আছে।

    আখলাক শান্ত গলায় বললেন, হ্যাঁ তা আছে। আমরা দুজন সম্পূর্ণ দুমেরুতে বাস করছি। তারপরেও আমাদের মধ্যে অনেক মিল। একটা সময় ছিল যখন আমি খারাপ পাড়ায় রাত কাটাতাম। নেশা টেশা করতাম। এখন শুনছি শুভ্রও তাই করছে। শুভ্রর সাম্প্রতিক কাণ্ডকারখানা কি তুমি জান?

    হ্যাঁ, জানি।

    মীরা হাসতে হাসতে বলল, চল গাড়িতে উঠি। তোমার সঙ্গে লং ড্রাইভে এসে খুব ভাল হয়েছে। শরীরটা ঘেমে গেছে। আমার নিজের শরীরটার জন্যেও ঝাঁকি দরকার ছিল। আমি শরীর নির্ভর মানুষ। আমার শরীর চলে যাওয়া মানে সবই চলে যাওয়া। থ্যাংক য়্যু।

     

    ইয়াসিন সাহেব ঘুমুতে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রস্তুতি পর্ব বেশ দীর্ঘ। দাঁত ব্রাশ করেন। সুতা দিয়ে ফ্লস করেন। গরম পানি দিয়ে হাত মুখ ধোন। মেপে মেপে ওয়ান পয়েন্ট ফাইভ লিটার পানি খান। পানি খাবার পর এক পেগ রোড ওয়াইন খান। তাঁর মদ্যপানের নেশা নেই। রেড ওয়াইন খান হার্ট ঠিক রাখার জন্যে। অষুধ হিসেবে রেডিওয়াইন খেতে হয়। ঘুমুতে যাবার আগে। এইসব নিয়ম কানুন তিনি পেয়েছেন। Natural Heading নামের একটা বিখ্যাত বই থেকে। বইটি তিনি আমেরিকা থেকে এনেছেন। সেখানে এই বই টু মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে। টু মিলিয়নের একটি আছে তাঁর কাছে। শুধু যে আছে তা না। তিনি বইটা মন দিয়ে পড়ছেন। নিয়ম কানুন মেনে চলছেন। নিজস্ব কিছু নিয়মও তার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। যেমন ঠিক ঘুমুতে যাবার আগে আগে নিম গাছের ডাল দিয়ে শেষবার দাঁত মাজেন।

    ঘুমুতে যাবার সব প্ৰস্তুতি তিনি শেষ করেছেন। নিমগাছের ডাল দিয়ে দাঁত মাজা শেষ হয়েছে। এখন তিনি অপেক্ষা করছেন যে দুগ্ৰাস পানি খেয়েছেন সেই পানি বের হয়ে যাবার জন্যে। পেট ভর্তি পানি নিয়ে ঘুমুতে গেলে মাঝ রাতে ঘুম ভাঙবে। একবার ঘুম ভাঙলে তাঁর আর ঘুম আসে না। একা জীবন যাপন করার এই সমস্যা। একাকীত্বটা ধরা পড়ে। শুধু রাতে ঘুম ভাঙার পর।

    দরজার পর্দা সরিয়ে মীরা ঢুকল। বাবার সামনে বসতে বসতে বলল, আজকের মত Natural Healing treatment কি শেষ হয়েছে?

    হুঁ।

    ঘুমুতে যাচ্ছে না কেন? অপেক্ষাটা কীসের? শেষ বাথরুম এখনো হয় নি?

    না।

    গল্প করতে এসেছি।

    বিশেষ কোনো গল্প?

    হ্যাঁ। আমি বিয়ে করতে যাচ্ছি বাবা।

    সেই ভাগ্যবান মানুষটা কে? আমি চিনি? শুভ্ৰ?

    না শুভ্ৰ না। আর্কিটেক্ট আখলাকুর রহমান।

    মনস্থির করে ফেলেছিস?

    হ্যাঁ।

    বিয়েটা কবে?

    আগামীকাল। দুজনে মিলে কোনো একটা কাজি অফিসে যাব। তুমি হবে সাক্ষীদের একজন।

    কোনো উৎসব হবে না?

    না। এই বিয়ে টিকবে না বাবা। কাজেই হাস্যকর উৎসবের কোনো অর্থ হয় না।

    যে বিয়ে টিকবে না। সেই বিয়েটা না করলে হয় না?

    উঁহু। হয় না।

    বিয়েটা করতে চাচ্ছিস কেন?

    জানি না কেন?

    না জেনে তুই কিছু করবি বিশ্বাস হচ্ছে না।

    মীরা ছোট্ট করে নিঃশ্বাস ফেলে বলল, বাবা আমি জানি। কিন্তু তোমাকে বলতে চাচ্ছি না।

    আমার মেয়ে তাহলে বিয়ে করতে যাচ্ছে!

    হ্যাঁ।

    My good wishes for you.

    মীরা উঠে দাঁড়াল। আবার বসে পড়ল। মীরা বলল, বাবা শোন ছোটবেলা থেকে আমি তোমাকে নিয়ে একটা খেলা খেলতাম। খেলাটার নাম দিয়েছিলাম–Marking game. বিভিন্ন সময়ে বাবা হিসেবে তোমাকে নাম্বার দিতাম। একশর ভেতর নাম্বার দেয়া হত। সব সময় তুমি আমার কাছ থেকে কম নম্বর পেতে। একশতে চল্লিশের উপায় নম্বর আমি তোমাকে কখনোই দিতে পারি নি।

    Sorry to hear that.

    আজ তোমাকে আমি শেষ বারের মত নাম্বার দিতে এসেছি। কাল আমার বিয়ে হয়ে যাবে। আমি আর কখনোই তোমাকে নাম্বার দেব না। তোমার পরীক্ষা শেষ।

    শেষ পরীক্ষায় কত পেলাম রে মা?

    শেষ পরীক্ষায় আমি তোমাকে দিলাম। একশতে একশ দশ। একশতে একশ তুমি এম্নিতেই পেয়েছ। দশ আমি দিলাম নিজের থেকে। খুশি হয়ে।

    মীরা কাঁদছে। ইয়াসিন সাহেব অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে আছেন। ক্ৰন্দসী। কন্যাকে তার দেখতে ইচ্ছা করছে না। কন্যার ক্রান্দসী রূপের সঙ্গে তার পরিচয় নেই।

    কফি খাবি মা? আজ বিশেষ এক রাত কাজেই Natural heading বই এর নিয়ম ভঙ্গ করে কফি খাওয়া যায়। কফি খেতে খেতে গল্প করা।

    কফি খেতে ইচ্ছা করছে না বাবা।

    ইচ্ছা না করলেও খা।

    মীরা বলল, তুমি বোস আমি বানিয়ে আনছি।

    ইয়াসিন সাহেব বললেন, ঘরে না বসে ছাদে বসলে কেমন হয়? আকাশে চাঁদ আছে কিনা জানি না। চাঁদ থাকলে খুব ভাল লাগবে।

    আমার সিঁড়ি ভেঙে ছাদে উঠতে ইচ্ছা করছে না। তোমার যখন ইচ্ছা— চল।

    আকাশে চাঁদ নেই। আর থাকলেও চাঁদ দেখা যেত না। আকাশ মেঘে ঢাকা। বাতাস দিচ্ছে। বাতাস মেঘ উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে না, বরং আরো মেঘ জড় করছে।

    ইয়াসিন সাহেব মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, আজ প্রচণ্ড বর্ষণ হবে। বুঝলি মীরা এসি ঘরে বাস করার জন্যে ঝুম বৃষ্টি কখনো বুঝতেই পারি না। আমি ভেবে রেখেছিলাম তোর বিয়ের পর গ্রামে গিয়ে থাকব। টিনের ঘর থাকবে। টিনের ছাদে বৃষ্টি – অসাধারণ ব্যাপার।

    আমার কারণে তোমার এই শখ মিটাতে পারছিলে না?

    তা না। তবে তুই নিশ্চয়ই— আমার সঙ্গে গ্রামে গিয়ে থাকতে রাজি হতি না।

    মীরা কফিতে চুমুক দিতে দিতে বলল, গ্রামে টিনের ঘরে গিয়ে থাকার শখটা তোমার না বাবা। এই শখটা মার। তুমি ছাদে তার শখ মিটাতে।

    ইয়াসিন সাহেব চুপ করে রইলেন। মীরা বলল, আমার খুব জানতে ইচ্ছা করে মারি প্রতি তোমার এই ভালবাসা কতটুকু সত্য।

    সত্য হবে না কেন?

    সত্য না হবার সম্ভাবনা আছে। মানুষ অনেক সময় দায়িত্ব পালনের মত ভালবাসে। সে বিশ্বাস করে তার ভালবাসা সত্য ও সুন্দর। আসলে তা না।

    ইয়াসিন সাহেব ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, আমি তোর মত জ্ঞানী না মা। তোর কথা সত্যি হতেও পারে। তবে তোর মা প্রায়ই বলত গ্রামে টিনের ঘরে বর্ষ। কাটাতে। কথাটা আমার মাথার মধ্যে ঢুকে গেছে। সত্য ভালবাসার কারণে ঢুকেছে, না দায়িত্ব পালনের জন্যে ঢুকেছে তা জানি না। জানতেও চাই না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশঙ্খনীল কারাগার – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article শুভ্র গেছে বনে – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }