Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শুভ্র – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প307 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৬. জাহানারার জ্বর এসেছে

    জাহানারার জ্বর এসেছে।

    এমন কিছু না, থার্মোমিটার একশ হয়ত উঠবে না, কিন্তু তিনি বিছানায় পড়ে গেছেন এবং কাতরাচ্ছেন। মাথায় ঘূর্ণির মত হচ্ছে। মনে হচ্ছে তিনি নৌকায় বসে আছেন। নদীতে প্রবল ঢেউ উঠেছে। তিনি কেবলি ওঠা-নমা করছেন।

    তিনি বিনুকে ডাকলেন। বিনু সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঢুকাল। উদ্বিগ্ন গলায় বলল, কী হয়েছে? জ্বর এসেছে? তিনি জবাব দিলেন না। বিনুকে দেখে এখন তাঁর বিরক্ত লাগছে। সে জ্বর দেখার জন্যে হাত বাড়াতেই তিনি বললেন, গায়ে হাত দিও না তো। কেউ গায়ে হাত দিলে আমার ভাল লাগে না। বিনু বলল, ডাক্তারকে খবর দিব?

    জাহানারা। থমথমে গলায় বললেন, ডাক্তারকে খবর দিতে হলে আমি খবর দিব। তোমাকে খবর দিতে হবে কেন? তুমি কে?

    এ ধরনের অপমানসূচক কথা শোনার পর বিনুর দাঁড়িয়ে থাকার কথা না। কিন্তু সে দাঁড়িয়ে আছে। বিনু বলল, জ্বর মেপেছেন?

    জাহানারা বললেন, না।

    জ্বর মাপার থার্মোমিটার জাহানারার সাইড টেবিলের ড্রয়ারে থাকে। সেখানে পাওয়া গেল না। বিনু ব্যস্ত হয়ে থার্মোমিটার খুঁজছে। জাহানারা ভুরু কুঁচকে বিনুর দিকে তাকিয়ে আছেন। তাঁর ইচ্ছা কঠিন কোনো কথা বলে বিনুকে আহত করা। কঠিন কথাগুলি মনে আসছে না। তাছাড়া তিনি চাচ্ছেনও না বিনু তাঁর ঘরে থাকুক। শুভ্র তার মার অসুখের খবর পেয়েছে। সে মাকে দেখতে আসবে। মায়ের বিছানার কাছে চেয়ার টেনে বসবে। মাতা-পুত্রের কথার মাঝখানে তৃতীয় কারোর থাকা छेद्धि ना।

    জাহানারা বললেন, বিনু আমি বাঁচি না মাথার যন্ত্রণায়— তুমি কী খটখট শুরু করেছ? কী খোঁজ?

    থার্মেমিটার।

    তোমাকে ডাক্তারনী সাজতে হবে না। তুমি ঘর থেকে যাও। শুভ্রর সকালের চা আমার ঘরে পাঠাবার ব্যবস্থা কর। তাহলেই হবে।

    বিনু বলল, উনি নেই। বের হয়ে গেছেন।

    জাহানারা হতভম্ব হয়ে বললেন, ও কখন গেল?

    দশ মিনিট আগে।

    আমার শরীর খারাপ করেছে এটা কি সে জানে?

    জ্বি জানেন। আমাকে বলে গেছেন ডাক্তার আনার ব্যবস্থা করতে।

    আমাকে দেখে যাবার কথা তার মনে হল না?

    উনার অফিসে কী-না-কী জরুরি কাজ আছে। চাচি আপনাকে এক কাপ আদা চা দেব?

    জাহানারা যন্ত্রের মত বললেন, দাও।

    তার হাত-পা কাঁপতে শুরু করেছে। এসব কী হচ্ছে? শুভ্ৰ জানে তাঁর জ্বর। তারপরেও সে ঘরে উঁকি না দিয়েই চলে গেল? এ রকম তো কখনো হয় নি। প্রথম হল। প্ৰথমের পরই দ্বিতীয় আসে, দ্বিতীয়র পরে আসে তৃতীয়। হচ্ছেটা কী? বিনুর সঙ্গে তিনি এ বিষয়ে আলাপ করবেন? না, তা কেন করবেন? বিনু কে? বিনু কেউ না। তাদের ব্যক্তিগত কোনো কিছুর সঙ্গেই বিনুর যোগ থাকবে না। বিনু ছাড়া আর কে আছে যার সঙ্গে কথা বলা যায়! ঢাকা শহরে তাঁর আত্মীয়স্বজনের অভাব নেই। কোনো একটা খবর পেলেই এরা বীকে বাকে কাকের মত উড়ে আসে। চা-নাশতা খায়, বিজ্ঞের মত কথা বলে। অসহ্য।

    বিনু চা নিয়ে ঢুকল। এক হাতে চা অন্য হাতে একটা থার্মোমিটার; জাহানারা বললেন, থার্মেমিটার কোথায় পেলে?

    কিনিয়েছি।

    আগেরটা পাওয়া যাচ্ছে না বলে ফন্ট করে নতুন কিনে ফেললে? অন্যের টাকা বলে মায়া নেই তাই না? সরকারি মাল, দরিয়ামে ঢাল।

    বিনু কিছুই বলল না। প্রায় যন্ত্রের মতই থার্মোমিটার এগিয়ে দিল। জাহানারা থার্মেমিটার মুখে দিলেন। এখন তাঁর মনে হচ্ছে জ্বর চেপে আসছে। মাথা ঝিমঝিম করছে। বমি ভাবও হচ্ছে। তবে খুবই আশ্চর্যের ব্যাপার নৌকার দুলুনির মত অবস্থাটা আর নেই।

    বিনু বলল, আপনার সঙ্গে একটা মেয়ে দেখা করতে এসেছে! আরেকদিন আসতে বলব?

    জাহানারার ইচ্ছা করছে হাত বাড়িয়ে বিনু মেয়টার গালে একটা চড় মারেন। তাঁর মুখে একটা থার্মোমিটার ঢুকিয়ে সে ইচ্ছা করে প্রশ্নটা করেছে যাতে তিনি জবাব দিতে না পারেন। কী রকম বজ্জাত একটা মেয়ে! বজ্জাত মেয়েটার অস্থি মজ্জায়। এইসব মেয়েদের একমাত্র অষুধ হল সকাল বিকাল চড় থাপড় দেয়া।

    জ্বর একশ এক। এমন কিছু বেশি না, কিন্তু জ্বর বাড়ছে। জাহানারা লক্ষ করলেন তাঁর নিঃশ্বাসের কষ্ট শুরু হয়েছে। এটা নতুন এক উপসর্গ। শরীর একটু খারাপ করলেই নিঃশ্বাসের কষ্ট শুরু হয়।

    মেয়েটা কে?

    আমি চিনি না।

    আমার কাছে চায় কী?

    জিজ্ঞেস করি নি।

    জিজ্ঞেস করবে না কেন? না-কি জিজ্ঞেস করলে তোমার সম্মান যাবে? মানসম্মান নিয়েতো তালগাছের ওপর বসে আছ। এতদিন এখানে পড়ে আছ। কেউতো খোঁজ নিতেও আসে না। কীসের আশায় তুমি পড়ে আছ?

    বিনু চুপ করে আছে। তার মুখ ভাবলেশহীন। কে কী বলছে বা বলছে না তা যেন সে শুনছে না। বা শোনার প্রয়োজন বোধ করছে না। জাহানারা বললেন, যাও মেয়েটাকে এখানে নিয়ে এসে।

    আপনার শরীরটা খারাপ, তাকে বরং আরেকদিন আসতে বলি?

    মাতব্বরি করবে না। মাতব্বরি আমার ভাল লাগে না। তাকে এখানে নিয়ে এসো।

    এখানে আনার দরকার নেই। আপনি একটু কষ্ট করে নিচের বসার ঘরে চলুন।

    এত কথা বলছি কেন? তাকে নিয়ে আসতে বললাম নিয়ে আস। হড়বড় করে এত কথার দরকার কী? বেশি কথা বলা অভ্যাস হয়ে গেছে? কথা না বললে পেটের ভাত হজম হয় না? অসুস্থ শরীরে আমি নিচে যাব? আমাকে কোলে করে কে নিয়ে যাবে–তুমি?

    বিনু চলে গেল। জাহানারা খাটে হেলান দিয়ে বসলেন। অপরিচিত একটা মেয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে। কে এই মেয়ে? শুভ্রর পরিচিত কেউ? মীরা নাতো? শুভ্র যার গলার হাসি রেকর্ড করে এনেছিল। কী যে পাগল ছেলে! মানুষ রাত জেগে ক্যাসেটে গান শুনে। এই ছেলে শুনে হাসি। একবার রাত তিনটায় খিলখিল হাসির শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। শুভ্রর ঘর থেকে হাসির শব্দ আসছে। তিনি জানেন ক্যাসেটে রেকর্ড করা হাসি, তারপরেও ভয়ে তার হাত পা ঠাণ্ড হয়ে গিয়েছিল। নিশি রাতে মেয়েদের উঁচু গলার হাসি খুবই ভয়ঙ্কর। যেই কন্যা নিশিরাত্ৰিতে শব্দ করিয়া এবং শরীর দুলাইয়া হাসে, সেই কন্যা স্বামী ঘাতাকিনী। লক্ষণ বিচার বইতে এই কথা পরিষ্কার লেখা আছে।

    জাহানারা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন। কী সুন্দর মেয়ে! পাতলা ঠোঁট। বড় বড় চোখ। গায়ের রঙও কত ভাল। ধবধবে সাদা না, অন্যরকম সাদা! চুল লম্বা, সেই চুলে সামান্য খয়েরি আভা আছে। অতিরিক্ত ফর্স মেয়েদের চুলের রঙে সব সময় এই সমস্যাটা হয়। জাহানারা খুব আগ্রহ নিয়ে মেয়েটার চোখের মণির দিকে তাকালেন। অসম্ভব রূপবতীদের কোনো-না-কোনো সমস্যা থাকেই। দেখা যায় তাদের চোখে ট্যারা ভাব থাকে, চোখের মণি হয় কটা। দাঁতের সমস্যা তো থাকেই। দাঁত ফাঁক থাকে, গোঁজা দাঁত থাকে। এই মেয়েটার দাঁত কেমন বোঝা যাচ্ছে না, কারণ এখনো দাঁত দেখা যাচ্ছে না। মেয়েটা যেভাবে ঠোঁট চেপে আছে তাতে মনে হয় দাঁতে সমস্যা আছে। অনেক রূপবতী মেয়ে আছে যাদের সবই সুন্দর, দাঁতও সুন্দর; শুধু তারা যখন হাসে তখন মাঢ়ি বের হয়ে যায়। এ রকম কিছু নাতো?

    জাহানারা আগ্রহ নিয়ে বললেন, মা বোস। এই চেয়ারটায় বোস।

    মেয়েটা বসল। তিনি ভেবেছিলেন বসার সময় মেয়েটা সামান্য হলেও হাসবে, সেই সুযোগে তিনি মেয়েটার দাঁতগুলি দেখে ফেলতে পারবেন। তাঁর মনের খুঁতখুঁতনিটা দূর হবে। মেয়েটার দাঁত না দেখা পর্যন্ত তাঁর অস্থির ভাব যাচ্ছে না।

    আমি কি তোমাকে চিনি?

    মেয়েটা বলল, না, চিনেন না। তবে আমি আপনাকে চিনি।

    জাহানারা মনে মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। এইবার মেয়েটা হোসেছে। তার দাঁত ঠিক আছে। এবং গলার স্বরও সুন্দর। একটু ভারী। মনে হয় ঠাণ্ডায় বসে। যাওয়া গলা। তারপরেও ভাল। জাহানারা লক্ষ করলেন মেয়েটা খুব আগ্রহ নিয়ে ঘর দেখছে। সাজসজ্জা দেখছে। দেয়ালে টানানো ছবিগুলি দেখছে। জাহানারা বললেন, এইটা আমার ছেলের ছবি। শুভ্ৰ। ও যখন কলেজে। সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে তখন তোলা ছবি।

    আমি উনাকে চিনি।

    তুমি কি তার সঙ্গে পড়?

    জ্বি না। তোমার নাম কী মা?

    নাম বললে আমাকে চিনতে পারবেন বলে মনে হয় না। আমার নাম আসমানী।

    জাহানারা তাকিয়ে আছেন। তাঁর কাছে মনে হচ্ছে খাটটা দুলছে। খাটের দুলুনির সঙ্গে সঙ্গে তাঁর শরীর দুলছে এবং মাথার ভেতরটা দ্রুত ফাঁকা হতে শুরু হয়েছে। বুক শুকিয়ে গেছে। পানির তৃষ্ণা হচ্ছে। কেউ যদি বরফ মেশানো এক গ্লাস পানি দিত! বিনু নেই কেন? সে থাকলে তার দিকে তাকিয়ে একটু ভরসা। পাওয়া যেত। তিনি কি ডাকবেন বিনুকে? আচ্ছা এই জন্যেই কি বিনু মেয়েটাকে শেবার ঘরে আসতে দিতে চায় নি? বিনু কি চিনতে পেরেছিল মেয়েটাকে? অবশ্যই চিনতে পেরেছে। গরম লাগছে কেন? মনে হচ্ছে তিনি জ্বলন্ত চুলার সামনে বসে আছেন। মুখে শীত লাগছে, কিন্তু পিঠের দিকে ঠাণ্ডা লাগছে।

    আসমানী আরেকটু ঝুঁকে এসে বলল, আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন?

    জাহানারা জবাব দিলেন না; আসমানী বলল, আমি খারাপ মেয়ে। এখন চিনেছেন?

    জাহানারা প্ৰায় ফিসফিস করে বললেন, তুমি এখানে এসেছ কেন? কী চাও তুমি?

    কথা বলতে আসছি।

    কী কথা তোমার?

    আপনার কি শরীর খারাপ?

    আমার শরীর খারাপ না ভাল তা দিয়ে তোমার দরকার নেই! তুমি এ বাড়িতে এসেছে কেন?

    আসমানী হাসি মুখে বলল, আপনার স্বামী, আপনার ছেলে যদি আমাদের বাড়িতে আসতে পারে, আমরা আসতে পারব না কেন?

    চাও কী তুমি?

    কথা বলতে আসছি।

    কার সঙ্গে কথা বলতে এসেছ?

    আপনার সাথে। আপনি ছোট সাহেবের মা। আপনার সাথেই কথা বলা দরকার।

    বল কী বলবে।

    ছোট সাহেব প্রায়ই আমার কাছে যায়। এইটা আপনারে জানালাম।

    তার যেখানে ইচ্ছা সে সেখানে যাবে। সে যদি নরকের কৃমির সঙ্গে সময় কাটাতে চায়, কাটাবে। আমাকে বলার দরকার নেই। তোমার এত বড় সাহস, তুমি আমাকে বলতে আস! জুতা দিয়ে পিটিয়ে আমি তোমাকে…

    উত্তেজনায় জাহানারার কথা আটকে গেল। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল। বিনু চলে এসেছে। সে দরজা ধরে দাঁড়িয়েছে। জাহানারা চাপা গলায় বললেন, বিনু লাথি দিয়ে এই হারামজাদি মেয়েকে রাস্তায় বের করে দাও। এত বড় সাহস!

    বিনু আসমানীর দিকে তাকিয়ে বলল, উনার শরীর ভাল না। তুমি বাইরে এসে বস। কী কথা বলতে এসেছ আমাকে বল।

    আসমানী খুবই সহজ গলায় বলল, আমার কথা বলা শেষ। এখন আমি চলে যাব। ছোট সাহেব যদি অন্য মানুষদের মত হত, আমি কিছুই বলতে আসতাম না। নষ্ট পুরুষ মানুষ ফূর্তি করার জন্যে খারাপ পাড়ায় যাবেই। এটা নতুন কী! কিন্তু ছোট সাহেব তো অন্যদের মত না। হঠাৎ একদিন যদি বলে, আসমানী আমারে বিবাহ করা। তখন কী উপায় হব? আপনার ছেলের বউ হিসেবে আমারে ঘরে নিবেন?

    জাহানারা চেঁচিয়ে বললেন, বিনু এই হারামজাদি মেয়ে এইসব কী বলছে? সে এখনো কোন যাচ্ছে না?

    আসমানী উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল, যেটা সত্য সেটা বলতেছি। কিছু সত্য কথা আছে বলতে খারাপ লাগে, কিছু শুনতে ভাল লাগে। আমারটা সেই রকম।

    জাহানারা বললেন, বের হ। এই মেয়ে তুই বের হ। তুই এই মুহূর্তে বের হ। বলতে বলতে জাহানারা খাট থেকে নামতে গেলেন। বিনু এসে তাকে ধরে ফেলল। তিনি শরীর এলিয়ে বিনুর কাঁধে পড়ে গেলেন। আসমানী এখনো দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে–তাকে ঘিরে যে নাটকটা তৈরি হয়েছে, সেই নাটক দেখে সে খুব মজা পাচ্ছে।

     

    জাহানারার জ্বর খুব বেড়েছে। তার মাথায় অনেকক্ষণ ধরে পানি ঢালা হচ্ছে— জ্বর তেমন নামছে না। বরং যতই সময় যাচ্ছে চোখ ততই লালচে হয়ে আসছে। ডাক্তার এসে দেখে গেছেন। অষুধপত্র দেন নি। অষুধপত্র দেবার মত কিছু হয় নি। বুক পরিষ্কার, প্রেসার নরম্যাল।

    বিনুর কাছে কোনো কিছুই নরম্যাল মনে হচ্ছে না। জাহানারা একবার বললেন, শুভ্রর বাবা কি এসেছে? বিনু চমকে উঠে বলল, কী বলছেন? জাহানারা চোখ বন্ধ করতে করতে বললেন, কিছু না। হঠাৎ মনে হল শুভ্ৰর বাবা বেঁচে আছে। শুভ্ৰ এর মধ্যে বাড়িতে টেলিফোন করে নি?

    বিনু বলল, না।

    ও যদি টেলিফোন করে, আমার অসুখের খবর দিবে না।

    জ্বি আচ্ছা।

    ঐ হারামজাদি মেয়ের কথাও কিছু বলবে না।

    জ্বি আচ্ছা।

    যদি কিছু বল— ঐ হারামজাদিকে আমি যেভাবে জুতাপেটা করে তাড়িয়েছি, তোমাকেও সেভাবে জুতাপেটা করে তাড়াব।

    জ্বি আচ্ছা।

    যে চেয়ারে ঐ হারামজাদি বসেছিল, সেই চেয়ারটা ডাস্টবিনে ফেলে দিতে বলেছিলাম, এখনো ফেলছ না কেন? আর শোন, তোমাকে না বললাম— আমার গায়ে হাত না দিতে। গায়ে হাত দিচ্ছ কেন?

    টেলিফোনের রিং হচ্ছে। জাহানারা মাথা উঁচু করে বললেন, শুভ্ৰ টেলিফোন করেছে। বিনু, টেলিফোন ধর।

    চবিনু টেলিফোন ধরল। শুভ্ৰই টেলিফোন করেছে। শুভ্ৰ খুশি খুশি গলায় বলল, কে, বিনু?

    হ্যাঁ।

    বিনু তোমার বিষয়ে আমার ইন্টারেস্টিং একটা অবজারভেশন আছে। অবজারভেশনটা হচ্ছে- টেলিফোনে তোমার গলা একেকদিন একেক রকম শোনায়।

    ও।

    কথাটা কি তোমার বিশ্বাস হচ্ছে?

    বিশ্বাস হবে না কেন? আপনি নিশ্চয়ই মিথ্যা কথা বলবেন না।

    শুধু তোমার ব্যাপার না, আমি অনেকের ব্যাপারেই লক্ষ করেছি- একই টেলিফোন সেটে কথা বলছে তারপরেও গলার স্বর সকালে এক রকম, আবার দুপুরে এক রকম।

    ও।

    আমার ধারণা টেলিফোন লাইনে যে ভোল্টেজ থাকে তার ওঠানামাতে এটা হয়।

    আপনি কি এই কথাগুলি বলার জন্যেই টেলিফোন করেছেন?

    উঁহু। মার খবর জানার জন্যে টেলিফোন করেছি। এখন জ্বর কেমন?

    কম।

    মা কি আমার ওপর রেগে আছে?

    রেগে থাকার মত কিছু কি করেছেন?

    জ্বর শুনেও মাকে দেখতে যাই নি।

    দেখতে যান নি কেন?

    বিনু, আসলে কী হয়েছে শোন। আমি মাকে দেখার জন্যে ঘর থেকে বের হলাম। বারান্দায় এসে ভুলে গেলাম কী জন্যে ঘর থেকে বের হয়েছি। সিঁড়ি দিয়ে নেমে গাড়িতে উঠে পড়লাম। তখন মনে পড়ল। কিন্তু তখন আর গাড়ি থেকে নামতে ইচ্ছা করল না। এই হল ঘটনা।

    এখন আপনি কোথায়?

    রাস্তায়। ড্রাইভারকে বলে দিয়েছি আমাকে নিয়ে শহরে ঘুরপাক খেতে। বৃষ্টি হচ্ছে তো। গাড়িতে বসে বৃষ্টি দেখতে ভাল লাগছে। আমি তোমার সঙ্গে কথা বলছি মোবাইল টেলিফোনে।

    ও।

    মোবাইল টেলিফোনটা আমার না। অসমানীর। ওর টেলিফোন যে পকেটে করে নিয়ে চলে এসেছি বুঝতেই পারি নি। সে বেচারি হয়ত কোথাও টেলিফোন না পেয়ে খুব টেনশন করছে। কারুক টেনশন।

    বিনু শুভ্রর আনন্দময় হাসি শুনল।

    হ্যালো বিনু!

    জ্বি বলুন।

    হঠাৎ মনে হল টেলিফোনের কানেকশন কেটে গেছে। মোবাইল সেটগুলির এই সমস্যা- জরুরি কথার মাঝখানে লাইন কেটে যাবে।

    আপনিতো কোনো জরুরি কথা বলছেন না।

    এই জন্যেইতো লাইন কাটছে না। আমি এখন কী করছি বলতো?

    একটু আগেই আমাকে বলেছেন কী করছেন— গাড়ি নিয়ে ঘুরছেন। বৃষ্টি দেখছেন।

    ফিফটি পারসেন্ট হয়েছে। আমি আসলে ডায়েরি লিখছি। আমি মাঝে মাঝে অদৃশ্য খাতায় অদৃশ্য কলমে ডায়েরি লিখি। বুঝতে পারছ?

    জ্বি না।

    আরেক দিন বুঝিয়ে দেব। আচ্ছান্ন শোন বিনু, আমাকে কি খুব আনন্দিত মনে হচ্ছে?

    হ্যাঁ হচ্ছে।

    আমি খুবই আনন্দিত।

    কেন?

    কারণটা আমি জানি। কিন্তু তোমাকে বলব না। হ্যালো বিনু।

    জ্বি শুনছি।

    তোমার সঙ্গে আরো কিছুক্ষণ কথা বলতে পারলে ভাল হত। কিন্তু আমি কথা বলতে পারছি না। মোবাইলের ব্যাটারি শেষ হয়ে গেছে। টিক টিক করে শব্দ হচ্ছে। শব্দটা শুনতে পােচ্ছ না?

    পাচ্ছি।

    হ্যালো বিনু!

    জ্বি বলুন।

    আমি খুব বড় একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজকের টেলিফোনটা করেছি। সেই সিদ্ধান্তটা তোমাকে জানানোর জন্যে।

    বলুন আমি শুনছি।

    বিনু কিছু শুনতে পেল না। শুভ্রর মোবাইল সেটের ব্যাটারি শেষ হয়ে গেছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশঙ্খনীল কারাগার – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article শুভ্র গেছে বনে – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }