Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শুভ্র – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প307 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৭. শুবরু, শুবরু

    কে যেন ডাকল, শুবরু, শুবরু।

    আমি চোখ বন্ধ করে গাড়ির পেছনের সীটে বসে আছি। বৃষ্টির শব্দ শোনার চেষ্টা করছি। গাড়ির কাচ উঠানো। তারপরেও বৃষ্টির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এর মধ্যে হঠাৎ কানো এল শুবরু শুবরু! কেউ যেন এই নামে ডেকে গাড়ির পেছনে পেছনে ছুটে আসছে।

    আমি নিজের অজান্তেই কে বলে চোখ মেললাম। গাড়ির ড্রাইভার গাড়িতে হঠাৎ ব্রেক করে আমার দিকে তাকাল। আমি বললাম, কিছু না তুমি চালাও। সে আবার একসিলেটার চাপ দিল। সে এখনো স্বস্তিবোধ করছে না। তার চোখ ব্যাক ভিউ মিররের দিকে। আমাকে মনে হয়। সেই আয়নায় খানিকটা দেখা যাচ্ছে। এই ড্রাইভারকে নতুন রাখা হয়েছে। যে-কোনো কারণেই সে আমাের ভয়ে সারাক্ষণ অস্থির হয়ে থাকে। যতবারই আমি তাকে ডাকি সে চমকে ওঠে। অফিসের বারান্দায় বসে সে চা খাচ্ছিল। আমি তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ তার দিকে তাকলাম— দেখি, তার চোখ ভয়ে ও আতংকে কাঁপছে।

    আমাকে সে কেন ভয় পায়? আমরা যে জিনিস বুঝতে পারি না তাকেই ভয় পাই! সে আমাকে বুঝতে পারছে না বলেই ভয় পাচ্ছে। এই মুহুর্তে সে কী ভাবছে? সে ভাবছে ছোট সাহেব চোখ বন্ধ করে শুয়েছিলেন, হঠাৎ কেন জেগে উঠে বললেন- কে? আমি তাকে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করলে সে কি আশ্বস্ত হবে? আমি কি তাকে বলব, রশীদ শোন, দুটা জিনিস মানুষকে তাড়া করে। একটার নাম স্বপ্ন। সে সামনে থেকে তাকে ডাকে। মানুষ তার দিকে ছুটে যায়। আরেকটার নাম স্মৃতি। সে ভয়ংকর কোনো জন্তুর মত পেছন থেকে তাড়া করে। একজন বুড়ো মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। তিনি প্রচুর জর্দা খেতেন। ফুলের সৌরভের মত, জর্দার সৌরভ তাঁকে ঘিরে থাকতো। ঐ ভদ্রলোক আমাকে ডাকতেন শুবরু নামে। তিনি চলে গেছেন, নামটা ফেলে রেখে গেছেন। ঐ নামটা মাঝে মাঝেই আমাকে তাড়া করে। একটু আগেও করছিল বলে ভয়ে পেয়ে আমি বলেছিলাম— কে?

    ঐ বুড়ো ভদ্রলোকের ছেলেমেয়ে বা তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে আমার খুব কথা বলার শখ। তাদের কাছে আমি জানতে চাইব।— বুড়ো ভদ্রলোক শুবরু নামের বাচ্চা একটা ছেলেকে এতটা ভাল কেন বেসেছিলেন। কার্যকরণহীন ভালবাসা বলে এ জগতে কিছু নেই। সব কিছুর পেছনে কারণ আছে। প্রথমে cause তারপর affect, ভালবাসাটা যদি affect হয় তার পেছনের cause টা কী?

    আমি ঐ বুড়ো মানুষের পরিবারের সদস্যদের কাছে জানতে চাইব— আপনারা কি আমাকে উনার সম্পর্কে বলবেন? আমি ভাসা ভাসা ভাবে শুনেছি। মৃত্যুর আগেও তিনি শুবরুকে ডেকেছেন। কেন ডেকেছেন? তিনি শুবরু সম্পর্কে কি বলতেন? আচ্ছা শুবরুকে কোলে নিয়ে তার কি কোনো ছবি আছে? একটা ছবি তিনি আমাকে নিয়ে স্টুডিওতে গিয়ে তুলেছেন। এবং আমাকে লজ্জিত গলায় বলেছেন— ছবি তোলার কথা বড় সাহেবরে বলব না। উনি রাগ হতে পারেন।

    আমি বলেছিলাম, রাগ হবেন কেন? ছবি তোলা কি খারাপ?

    না খারাপ না। ব্যাপারটা হল কী শুবরু, মানুষ আল্লাহপাকের আজব সৃষ্টি। সে খারাপ কাজে রাগ হয়, ভাল কাজের জন্যেও রাগ হয়। আবার ধর ভাল না, খারাপ না এমন কাজের জন্যেও রাগ। মানুষ বড়ই আজব জানোয়ার।

    মানুষ আজব জানোয়ার কেন?

    আল্লাহপাক মানুষকে আজব করে বানিয়েছেন এই জন্যে।

    আল্লাহপাক মানুষকে আজব করে কেন বানিয়েছেন?

    এইটাইতো বাবা বুঝি না। প্রায়ই চিন্তা করি— কুল পাই না। তিনিতো কত কিছুই সৃষ্টি করলেন। মানুষকে আজব করলেন কেন? তিনি নিজে খুবই আজব এই জন্যে?

    উনি কি খুবই আজব?

    উনি কী, কেমন কিছুই জানি না বাবা।

    আপনি জানেন না কেন?

    আমার তখন প্রশ্নকাল চলছে। শুধুই প্রশ্ন করি। এবং তিনি ক্লান্তিহীন ভাবে আমার প্রশ্নের জবাব দিয়ে যান। আমার প্রশ্ন এবং তার উত্তরগুলি লিখে রাখলে অদ্ভুত কিছু ব্যাপার জানা যেত। একজন অত্যন্ত সাধারণ মানুষের পৃথিবী সম্পর্কে ধ্যান ধারণা?

    বুড়ো মানুষের পরিবারের কাউকেউ আমি খুঁজে পাই নি। বুড়ো মানুষটার মত সবাই হারিয়ে গেছে। আমার সকল চেষ্টাই বিফলে গেছে। আমি হাল ছেড়ে দেই নি। সবশেষে চায়না ভাইকে বললাম, এদের কাউকে খুঁজে বের করতে পারবে?

    চায়না ভাই আমাকে চমকে দিয়ে বলল— অবশ্যই। আপনি হুকুম দেন। আমি বাইর করি। একমাসের ভিতরে যদি বাইর করতে না পারি চায়না ভাই নাম বদলাইয়া আমি নিজের নাম রাখব চায়না ভইন।

    কীভাবে বের করবে?

    মানুষ খুঁজে বের করা কোনো ব্যাপার না ছোট সাহেব। মানুষ যেখানে যায় গন্ধ রেখে যায়। মানুষরে বাইর করুন যায়। গন্ধে গন্ধে।

    এক মাসের মধ্যে পারবে?

    অবশ্যই। আইজ আশ্বিন মাসের তিন তারিখ। কার্তিকের তিন তারিখের মধ্যে আপনি খবর পাইবেন। ইনশাল্লাহ।

    আচ্ছা ঠিক আছে।

    আপনে নিশ্চিন্ত থাকেন ছোটসাহেব। আজরাইল মানুষরে খুঁইজ্যা বাইর করে না? আমিতো আজরাইলের মতই।

    খুবই আশ্চর্যের ব্যাপার বুড়ো মানুষটা যেভাবে আমার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন- চায়না ভাই নামের এই ভয়ংকর মানুষটাও একই ভাবে আমার দিকে আকৃষ্ট হয়েছে। রোজ একবার আমাকে না দেখলে তার না-কি ভাল লাগে না।

    আচ্ছা মানুষের শরীরে কি বিশেষ কোনো গন্ধ আছে? কিংবা কোনো ম্যাগনেটিক ফিল্ড? একেকজনের জন্যে একেক রকম। যার সঙ্গে সেই ম্যাগনেটিক ফিল্ডের রেসোনেন্স হচ্ছে সে-ই ভয়ংকর ভাবে আলোড়িত হচ্ছে। সে-ই আটকা পড়ে যাচ্ছে।

    রশীদ!

    রশীদ স্টিয়ারিং হুইল হাতে নিয়েই চমকে উঠল। গাড়ির ব্রেকেও পা দিয়ে দিয়েছে। সে ভীত গলায় বলল, জ্বি স্যার।

    ক্যাসেটটা দাও তো, ক্যাসেট চলুক।

    রশীদ। আমার হাত থেকে ক্যাসেট নিল! ক্যাসেট বাজতে শুরু করলে সে আরেকটা ছোটখাট চমক খাবে। ক্যাসেটে কোনো গান বাজনা নেই। এই ক্যাসেটে আছে মীরার হাসি।

    ক্যাসেট বাজছে। আমি মীরার হাসি শুনছি। ড্রাইভার চোখ-মুখ শক্ত করে হাসি শুনছে।

    রশীদ!

    জ্বি স্যার।

    হাসি কেমন লাগছে?

    জ্বি স্যার ভাল।

    কী রকম ভাল?

    খুব ভাল স্যার।

    আচ্ছা ঠিক আছে। এখন এই হাসিটা শোন। দাও, এই ক্যাসেট দাও।

    এখন বাজছে বিনুর হাসি। সে মীরার মত এক নাগাড়ে হাসে নি। লজ্জা পেয়ে থেমে থেমে হেসেছে।

    রশীদ!

    জ্বি স্যার।

    এই হাসিটা কেমন?

    ভাল স্যার।

    এই হাসিটা বেশি ভাল না। আগের টা?

    দুটাই ভাল। আচ্ছা ঠিক আছে, এখন দাও এই ক্যাসেট। তিন নম্বর হাসি।

    রশীদ ভীত মুখে তিন নম্বর ক্যাসেট চালু করল। এবার হাসছে আসমানী। আসমানীর হাসির সঙ্গে মীরার হাসির মিল আছে। বেশ ভাল মিল; আমি চোখ বন্ধ করে মিল এবং অমিলগুলি ধরার চেষ্টা করছি। ধরতে পারছি না।

    ড্রাইভার রশীদ কি আমাকে পাগল ভাবছে? মনে মনে নিশ্চয়ই ভাবছে। রশীদ একা না, অনেকেই তাই ভাবছে। ঐ দিন মীরার সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। বিয়ের পর সে কতটা বদলেছে সেটা দেখার জন্যে যাওয়া। কোথায় যেন পড়েছিলাম— বিয়ে হবার আগ পর্যন্ত মেয়েদের চোখে ভরসা হারা দৃষ্টি থাকে। বিয়ের পর পর সেই দৃষ্টি বদলে যায়। দৃষ্টিতে ভরসা ফিরে আসে। মীরার মধ্যে কোনো পরিবর্তন দেখলাম না। কিন্তু সে আমাকে দেখেই চমকে উঠে বলল, তোর চোখে পাগল পাগল ভাব এসে গেছে।

    পাগল পাগল ভাবটা কী রকম?

    পাগলদের চোখের মণি কোনো খানে স্থির হয় না। তোরও হচ্ছে না।

    আমি তোমার ঘর সংসার দেখছি বলে আমার চোখের মণি নড়াচড়া করছে।

    তুই কিছুই দেখছিস না। আমাকে ভুলানো এত সহজ না। শুভ্ৰ তুই কি খুব কষ্টে আছিস?

    না।

    তোকে দেখে মনে হচ্ছে তুই কষ্টে আছিস।

    আমার প্রতি তোমার প্রবল মমতা আছে বলে তুমি এ রকম ভাবছ। প্রবল মমতার কারণে মনে হয় মমতার মানুষটা বুঝি কষ্টে আছে। সব মাকে দেখবে। যদি সে তার সন্তানকে কয়েক দিন অদর্শনের পর দেখে তাহলে বলে- আহরে রোগা হয়ে গেছে। এটা হল Mother complex.

    তুই কথাও বেশি বলছিস। কথা বেশি বলাও পাগলামির লক্ষণ।

    তোমার ধারণা আমি পাগল?

    এখনো না, তবে তুই ঐ পথ ধরেছিস। কিছুদিনের মধ্যেই তুই ট্রাফিক কনট্রোল শুরু করবি।

    আমি হাসলাম। মীরা কঠিন গলায় বলল, হাসবি না। আমি ঠাট্ট তামশা করছি না। রাতে তোর ঘুম ভাল হয়?

    খুব ভাল ঘুম হয়।

    তোমার ঘুমের খবর বল। আখলাক সাহেব তোমাকে রাতে ঘুমুতে দেন?

    সে দেয়, আমিই তাকে জাগিয়ে রাখি। বকবক করি। রাত তিনটার সময় বলি- বৃষ্টি হচ্ছে ছাদে, চলতো ভিজব। বেচারা মহাবিপদে পড়েছে।

    তুমিতো মনে হয়। উনার প্রেমে হাবুড়ুবু খাচ্ছ।

    তা খাচ্ছি। এই প্রেমটা শুরু হয়েছে বিয়ের পর। এই প্রেমের সঙ্গে শরীরের একটা ব্যাপার আছে। তাই বলে সেই প্রেমকে তুচ্ছ বা ছোট করার কিছু নেই। শুভ্র তুই আমার কথা শোন— বিয়ে করে ফেল।

    কাকে বিয়ে করব?

    যে কাউকে— রহিমা, ফাতেমা, উর্মি, টুর্মি any one. আমার ধারণা তুই যাকেই বিয়ে করিস না কেন তার জন্যে তোর ফিলিংস একই থাকবে। ফাতেমাকে তুই যতটা ভালবাসবি, উর্মিকেও তুই ততটাই ভালবাসবি। একটু বেশিও না, একটু কমও না। চা খাবি?

    না।

    মদ খাবি? এটা হল মদের বাড়ি- পৃথিবীর হেন মদ নেই যা এই বাড়িতে নেই।

    না, মদ খাব না।

    কিছু একটা খা। সরবত খাবি? প্লেইন এন্ড সিম্পল লেবুর সরবত?

    আচ্ছা দাও।

    মীরা লেবুর সরবত বানাতে বানাতে বলল, তোর কি অন্ধ মেশকাত সাহেবকে মনে আছে।

    হুঁ।

    উনি সেদিন এসেছিলেন। আমি দাওয়াত করে এনেছিলাম। হাত দেখাতে ইচ্ছা করছিল। উনি হাত দেখলেন। মানে চোখে দেখলেন না, উনি যেভাবে দেখেন সেভাবে দেখলেন। তারপর কী বললেন জানিস?

    কী বললেন?

    উনি খুবই অদ্ভুত কথা বললেন, উনি বললেন— বিয়ের প্রথম বছরেই আমার একটি কন্যা সন্তান হবে। সে তার নিজের প্রতিভায় দেশের সকল মানুষের হৃদয় হরণ করবে। মেশকাত সাহেবের কথা শুনেই আমার গা শিরশির করতে শুরু করল। কারণ কী জানিস? উনার হাত দেখার আগেই আমি কনসিভ করেছি। এখনো ডাক্তারি পরীক্ষায় কনফার্ম করা হয় নি— But i Knew, আমার যে মেয়ে হবে সেটাও আমি জানি।

    খুব আনন্দ লাগছে?

    হ্যাঁ খুবই আনন্দ লাগছে। আমার মাথায় এখন কিছু নেই; শুধুই আমার মেয়ে। আখলাক বিছানায় যাওয়া মাত্র ঘুমিয়ে পড়ে। আমি জেগে থাকি এবং মেয়ের সঙ্গে কথা বলি।

    মেয়ের সঙ্গে কথা বল?

    হ্যাঁ। সিরিয়াস ধরনের কথা। তোকে নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক কথা হয়। অনেক আঙ্গুমেন্ট হয়। তর্কে আমি ওর কাছে সব সময় হেরে যাই। আমি ওর নাম দিয়েছি তর্ক-সমাজ্ঞী। তোকে নিয়ে যখন তর্ক হয় তখন সে সব সময় তোর পক্ষ নেয়।

    মীরা কথা বলছে- আমি অস্বাক হয়ে দেখলাম মেয়ের কথা বলতে বলতে তার চোখ ভিজে উঠছে।

    ভালবাসা ব্যাপারটা কী? যে মানুষটি পৃথিবীতেই এখনো আসে নি তার প্রতি এমন গভীর গাঢ় ভালবাসা কীভাবে তৈরি হয়? এই ভালবাসা কেমন ভালবাসা?

    মীরার কাছ থেকে বিদায় নেবার সময় সে বলল, তুই একটা কাজ করিাসতো— মেশকাত সাহেবের সঙ্গে দেখা করিস। দেখি উনি কী বলেন। বিশেষ কিছু জানতে চাইলে উনাকে স্পেসিফিক্যালি জিজ্ঞেস করবি।

    আমি বললাম, আধুনিক পদাৰ্থ বিদ্যা কি এইসব বিশ্বাস করে?

    তোর ধারণা করে না?

    না।

    আমার ধারণা করে। সাবে এটমিক লেভেলে চিন্তা কর শুভ্ৰ— মানুষ সেই লেভেলে কি দিয়ে তৈরি? আপকোয়ার্ক, ডাউন কোয়ার্ক, চার্ম। জিনিসগুলি আসলে কী? নাথিং।

    জিনিসগুলি আসলে কী তার সঙ্গে মেশকাত সাহেবের বলার কোনো সম্পর্ক নেই।

    তোর সঙ্গে তর্ক করতে চাচ্ছি না— শুভ্ৰ তোকে আমার ধারণার কথাগুলি বলি– we really do not exist, এই যে তুই আমার সঙ্গে বসে আছিস, আমি তোর সঙ্গে গল্প করছি— এগুলি কিন্তু ঘটছে না। আমরা হচ্ছি কোনো একজনের কল্পনা। সেই কোনো একজনটাই হয়ত God. The one and the only.

    আমি তাকিয়ে আছি। মীরা হাত নাড়তে নাড়তে গল্প করছে। তাকে দেখতে ভাল লাগছে। আমি মীরার গল্পে বাধা দিয়ে বললাম, আমার ধারণা তুমি এইসব উদ্ভট থিয়োরি রাত জেগে জেগে আখলাক সাহেবকে শোনাও। এবং উনি খুব মন দিয়ে বাধ্য ছাত্রের মত শুনেন।

    মীরা হাসতে হাসতে বলল, তা শুনে এবং যা বলি বিশ্বাস করে। আখলাকের এই অংশটি আমার খুব পছন্দ। তোকে বিয়ে করলে পছন্দের এই অংশটি থেকে আমি বঞ্চিত হতাম। ভাগ্যিস তোকে বিয়ে করি নি।

    আমাকে বিয়ের প্রশ্ন আসছে কেন?

    কথার কথা বললাম। তোকে কিংবা তোর মত কাউকে। অবশ্যি তোর কথা একেবারেই যে ভাবি নি তা না।

    মীরা হাসছে। এই হাসি এবং ক্যাসেটের হাসি এক না। অনেক আলাদা। মানুষের হাসি নিয়ে কেউ গবেষণা করে নি। করা উচিত ছিল। চিস্তা চেতনার পরিবর্তনের সঙ্গে হাসির শব্দ বদলে যায়। শব্দের ফ্রিকোয়েন্সি বদলায়। কিছু ফ্রিকোয়েন্সি বাদ পড়ে কিছু নতুন ফ্রিকোয়েন্সি যুক্ত হয়; কেন এইসব নিয়ে কেউ ভাবছে না? রহস্যময় মানুষ কেন রহস্যের কুঠুরি থেকে বের হয়ে আসতে পারছে। না? মেশকাত সাহেবের মত মানুষরা আসলে কী করেন?–অর্জন উঁচিয়ে রহস্যময় সেই জগতের প্রতি ইঙ্গিত করেন? বুঝেই করেন না বুঝেই করেন?

     

    মেশকাত সাহেব আমাকে চিনতে পারলেন। চোখের মত শক্তিমান ইন্দ্রীয় থেকে বঞ্চিত মানুষদের অন্য ইন্দ্রীয়গুলি তীক্ষ্ম হয় এটা জানা কথা। তাই বলে এত তীক্ষ্ণ!

    মেশকাত সাহেব লুঙ্গি পরে আছেন, খালি গী। গায়ের ওপর পাতলা চাঁদর জড়ানো। মানুষটা ধবধবে ফর্সা। আখলাক সাহেবের বাড়িতে তাঁর গায়ের এমন রঙ চোখে পড়ে নি। মেশকাত সাহেব কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে সহজ গলায় বললেন, আপনি শুভ্ৰ? আখলাক সাহেবের বাড়িতে আপনার সঙ্গে কথা হয়েছিল।

    জ্বি।

    পার্টি শুরু হবার আগেই আপনি মীরার সঙ্গে চলে গেলেন। মীরা ফিরে এল, আপনি ফিরলেন না।

    জ্বি। এতসব আপনার মনে আছে?

    অবশ্যই মনে আছে। মনে রাখাই আমার কাজ। অন্য কোনো কাজতো হাতে নেই। আমার মত অবস্থা যদি আপনার হোত আপনিও সব কিছু মনে রাখতেন।

    ব্রেইলী পদ্ধতি ব্যবহার করে পড়াশোনা করার কথা কখনো ভেবেছেন?

    ভেবেছি। সেই সুযোগ কোথায়?

    আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারি।

    শুভ্ৰ, আমি কারো সাহায্য নেই না।

    যে কারোর সাহায্য নেয় না, সে তো কাউকে সাহায্যও করে না।

    আপনি কি আমার কাছে কোনো সাহায্যের জন্যে এসেছেন?

    না। জানতে এসেছি।

    আমার কাছে কী জানতে চান?

    অতীন্দ্রীয় ক্ষমতা বলে কিছু কি আছে? ইন্দ্রীয়গ্রাহ্য ক্ষমতার বাইরে কোনো ক্ষমতা।

    মূল ক্ষমতার সবটাইতো ইন্দ্রীয়ের ধরা ছোয়ার বাইরে। সামান্য যে ইলেকট্রন একেও তো আপনি হাত দিয়ে ছুঁতে পারছেন না, অনুভব করতে পারছেন না, গন্ধ নিতে পারছেন না, দেখতে পারছেন না।

    আমি না পারলেও আমার তৈরি যন্ত্রপাতি পারছে। পারছে বলেই আমরা বলতে পারছি ইলেক্ট্রন কী, তার ধর্ম কী?

    তাও পারছেন না। পারছেন না বলেই একবার বলছেন ইলেক্ট্রন বস্তু, আরেকবার বলছেন তরঙ্গ।

    ইলেকট্রন হচ্ছে একই সঙ্গে বস্তু এবং একই সঙ্গে তরঙ্গ।

    খুব হাস্যকর কথা বলছেন না? আপনি নিজের মনকে জিজ্ঞেস করুন—কথাটা হাস্যকর না?

    আমি চুপ করে রইলাম। মেশকাত সাহেব বললেন, মীরার কাছে শুনেছি আপনি ছাত্র হিসেবে অসাধারণ, মানুষ হিসেবে অসাধারণ। দুই অসাধারণ যার মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে তার হাতটা আমি একটু ছুঁয়ে দেখি।

    দেখুন বলে আমি হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললাম, শুনেছি আপনি মানুষের হাত ছুঁয়ে অনেককিছু বলতে পারেন। আমার ব্যাপারে বলুন তো শুনি।

    মেশকাত সাহেব হালকা গলায় বললেন, ভুল শুনেছেন। আমি হাত ধরে কিছুই বলতে পারি না। তবে হাত ধরাটাকে তুচ্ছ করবেন না। যেই মুহুর্তে আমি আপনার হাত ধরলাম। সেই মুহূর্তে কী হয় জানেন— আপনার শরীরের কিছু ইলেকট্রন কিছু সাব এটোমিক পার্টিকেল আমার শরীরে চলে আসে। আমার কিছু চলে যায় আপনার মধ্যে। হাত ধরা মানে তার কিছু অংশ নিজের ভেতর নিয়ে নেয়া।

    আমি এরকম করে ভাবি নি।

    খুব বড় মাপের মানুষদের আমরা স্পর্শ করতে চাই- কারণ, আমরা তার শরীরের কিছু অংশ নিজের ভেতর নিয়ে নিতে চাই। ঠিক যে কারণে ভয়ঙ্কর মানুষদের স্পর্শ করতে নেই।

    মেশকাত সাহেব্ব আমাকে চা খাওয়ালেন। নিজেই বানিয়ে খাওয়ালেন। একবারের জন্যেও মনে হল না মানুষটা চোখে দেখতে পান না। তিনি বাস করেন। আলোহীন জগতে।

    শুভ্র।

    জ্বি।

    একটা হাইপোথেটিক্যাল ব্যাপার কল্পনা করুন। আমি হাত দিয়ে আপনাকে ছয়ে দিলাম। সেই কারণে আপনার শরীর থেকে কিছু ইলেকট্রন চলে এল আমার শরীরে। এমনওতো হতে পারে তাদের কাছে আপনার ব্যাপারে যাবতীয় তথ্য থাকতে পারে। সেই তথ্য হয়তো সবাই ধরতে পারে না। কেউ কেউ পারে।

    আমি চায়ে চুমক দিতে দিতে বললাম, আপনি কি বলতে চাচ্ছেন— ইলেকট্রনের ভাষা পড়ার ক্ষমতা আপনার আছে?

    মেশকাত সাহেব শান্ত গলায় বললেন, আমি কিছুই বলতে চাচ্ছি না। আমি একটা হাইপোথিসিস দাঁড় করলাম। এর বেশি কিছু না। বিজ্ঞান রহস্যময়তা অপছন্দ করে অথচ সবচে রহস্যময় ব্যাপারগুলি কিন্তু ঘটাচ্ছে বিজ্ঞান। আমাদেরকে পরম রহস্যের দিকে এই বিজ্ঞানই কিন্তু ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। বলুন নিয়ে যাচ্ছে না?

    হ্যাঁ, নিয়ে যাচ্ছে।

    আমাদের সাধারণ মানুষের কাছে সময় আছে- অতীত আছে, বর্তমান আছে, অনাগত ভবিষ্যত আছে। সেখানে আপনাদের বিজ্ঞান যদি বলে বসে। অতীতবর্তমান-ভবিষ্যত বলে কিছু নেই তখন ধাক্কার মতো লাগে না?

    হ্যাঁ, লাগে। আপনি কি বিজ্ঞান নিয়ে প্রচুর পড়াশুনা করেন?

    মোটেই পড়াশুনা করি না। অন্যরা বলে, আমি শুনি। যা ভাল লাগে মনে করে রাখি। মানুষকে চমকে দেবার জন্যে আহরিত এই জ্ঞান ব্যবহার করি। সত্যি করে বলুন তো শুভ্ৰ- আপনি চমকান নি?

    হ্যাঁ, চমকেছি।

    অন্যকে চমকে দিয়ে মজা দেখার প্রবণতা মানুষের মধ্যে খুব বেশি আছে। আর সবচে বেশি আছে প্রকৃতির মধ্যে। প্রকৃতি সবসময়ই মানুষকে চমকাচ্ছে। প্রকৃতির কাণ্ডকারখানা দেখে আমার মনে হয়— মানুষকে চমকে দিয়ে সে খুব মজা পায়। কাজেই, শুভ্ৰ শুনুন–যদি কখনো ভয়ঙ্কর ভাবে চমকে ওঠার মত কোনো ঘটনা আপনার জীবনে ঘটে আপনি বিচলিত হবেন না। সহজ থাকবেন। শান্ত থাকবেন। এবং ভেবে নিবেন— এটা কিছুই না। প্রকৃতির মজা মজা খেলার অংশ।

    এটাই কি আমার বিষয়ে আপনার ভবিষ্যত বাণী?

    মেশকাত সাহেব হাসলেন। হাসতে হাসতে বললেন, এটা আমার একটা খেলাও হতে পারে। চমক চমক খেলা। গম্ভীর ভঙ্গিতে কিছু কথা বলে চমকে দেয়া।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশঙ্খনীল কারাগার – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article শুভ্র গেছে বনে – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }