Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শুভ্র – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প307 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. মোতাহের সাহেব তাঁর অফিস ঘরে বসে আছেন

    মোতাহের সাহেব তাঁর অফিস ঘরে বসে আছেন। পুরানা পল্টনের গলির ভেতর অফিস। অফিসটা যে বেশ বড় সড় বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই। ভেতরে অনেক জায়গা। বাইরে থেকে দেখে মনে হয়। ভেতরে প্রেস আছে। প্রেসের মালিক নতুন যামানা ধরনের নামের কোনো সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করেন। যদিও অফিস ঘরের একটা সাইনবোর্ড আছে— M. Khan and Sons General Merchant, সাইনবোর্ডটা শ্বেতপাথরে লেখা। সেই শ্বেতপাথর অফিসের গেটে বসানো। এম খান হলেন মেরাজ উদ্দিন। মোতাহার উদিনের বাবা। তাঁর দুই ছেলের একজন দেশে আছে— অন্যজন সাবের খান থাকেন নিউজার্সিতে। একুশ বছর বয়সে দেশ ছেড়েছিলেন এখন তাঁর বয়স পাঁচপঞ্চাস। এর মধ্যে দেশে আসেন নি। দেশের কারোর সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগও নেই।

    মোতাহার সাহেবের অফিস ঘর অন্য সব অফিস ঘরের মত না। বৈঠকখানা বৈঠকখানা ভাব। চেয়ার টেবিলের সঙ্গে একটা সিঙ্গেল খাটিও এক পাশে পাতা। খাটে মশারির স্ট্যান্ড লাগানো। মোতাহার সাহেব মাঝে মাঝে দুপুরে খাটে শুয়ে থাকেন। তখন মাছি খুব বিরক্ত করে বলে মশারি খাটান। তার খাস বেয়ারা মঞ্জু মশারির বাইরে বসে হাত বাড়িয়েঞ্জার পায়ের আঙুল টেনে দেয়। অফিস ঘরের দুটা বড় জানালা আছে। বাইরের হৈচৈ, বিশেষ করে ট্রাকের হর্ণ মোতাহার সাহেবের অসহ্য লাগে বলে জানালা সব সময় বন্ধ থাকে। শুধু বন্ধ না, জানালায় ভারি পর্দা টেনে দেয়া থাকে। কাজেই অফিস ঘরে সারাক্ষণ বাতি জ্বলে। লোড শেডিং-এর সময় মঞ্জু মোমবাতি জ্বেলে দিয়ে যায়। হলুদ রঙের মোমবাতি। কোনো এক বিচিত্র কারণে মোতাহার সাহেব সাদা মোমবাতি সহ্য করতে পারেন না।

    আজ সকাল থেকেই লোড শেডিং। মোতাহার সাহেব পা তুলে কাঠের চেয়ারে বসে আছেন (গদিওয়ালা চেয়ারে তিনি বসতে পারেন না; তাঁর না-কি সুড়সুড়ি লাগে)। ঘরে মোমবাতি জ্বলছে। মোতাহার সাহেব নাক কুঁচকে মোমবাতির দিকে তাকিয়ে আছেন; মোমবাতির শিখা ঠিকমত জ্বলছে না। বাঁকা হয়ে জ্বলছে বলে প্রচুর মোম গলে গলে পড়ছে। অন্যসময় হলে শিখাটা ঠিক করে দিতেন। আজ তা করছেন না, কারণ তাঁর শরীর খুবই খারাপ লাগছে। গায়ে জ্বর নেই, কিন্তু থার্মোমিটার ধরতে পারে না এমন জুরে শরীর কাহিল হয়ে আছে। শরীরের ভেতরে শীত লাগছে। শরীরের বাইরে লাগছে না। বাইরে বরং সামান্য গরম লাগছে। তিনি বিশ্ৰী গন্ধ পাচ্ছেন। যে-কোনো বড় ধরনের অসুখের আগে আগে মোতাহার সাহেব এরকম গন্ধ পান। টাইফয়েড় হবার আগে পেয়েছেন, জণ্ডিস হবার আগে পেয়েছেন। সেই দুবারই তাঁর জীবন সংশয় হয়েছিল।

    তিনি টেবিলে লাগানো কলিং বেল কয়েকবার টিপলেন। মঞ্জু ঘরে ঢুকাল না। ইলেকট্রিসিটি নেই বলে কলিংবেল কাজ করছে না – এটা তার মাথায় নেই! ডাকা-মাত্ৰ মঞ্জুকে না দেখলে তিনি অত্যন্ত বিরক্ত হন। তিনি রাগী গলায় ডাকলেন, মঞ্জু, মঞ্জু।

    মঞ্জু দরজা টেনে প্ৰায় ঝড়ের মত এসে উপস্থিত হল। মঞ্জুকে তিনি কেন ডেকেছেন মনে করতে পারলেন না। তিনি মনে করার চেষ্টা করলেন, মনেও পড়ল না। তিনি খুবই বিরক্ত হলেন। দুৰ্গন্ধটা আরো কড়া হয়ে নাকে আসছে। কোনো ইদুর কি মরে পড়ে আছে? মঞ্জু করে কী! ভালমত দেখবে না। তিনি মঞ্জুর উপর রাগটা কমানোর চেষ্টা করছেন। কমাতে পারছেন না। রাগটা পুরোপুরি না কমা পর্যন্ত মঞ্জুর সঙ্গে কথা বলা ঠিক হবে না। মনে রাগ নিয়ে তিনি কারো সঙ্গে কথা বলেন না। এটা তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস।

    মঞ্জু।

    জ্বে।

    পঁচা গন্ধ পাচ্ছিস?

    জ্বে না।

    আমিতো পাচ্ছি। তুই পাচ্ছিস না কেন? নাক বন্ধ?

    মঞ্জু, জবাব দিল না। মাথা নিচু করে রাখল। মোতাহার সাহেব বললেন, চা দে।

    মঞ্জু ঘর ছেড়ে চলে গেল। যাবার সময় খুব সাবধানে দরজা বন্ধ করল। দরজা বন্ধের শব্দ মোতাহের সাহেবের অসহ্য লাগে। দরজায় প্যাডের মত লাগানো হয়েছে। তারপরেও দরজা বন্ধ করলে, খুললে ঘ্যাস ঘ্যাস শব্দ হয়। সেই শব্দও তাঁর সহ্য হয় না।

    পিরিচে ঢাকা চায়ের কাপ টেবিলে রাখতে রাখতে মঞ্জু বলল, ম্যানেজার সাহেব কথা বলতে চান। আসতে বলব?

    মোতাহার সাহেব মাথা কান্ত করলেন। পিরিচে ঢাকা চায়ের কাপ পড়ে আছে। তিনি চা খাচ্ছেন না। এটা নতুন কিছু না। তিনি প্রায়ই চা চান। তাকে চা দেয়া হয়। পিরিচে ঢাকা চায়ের কাপ সামনে পড়ে থাকে, তিনি ছুঁয়েও দেখেন না।

    ম্যানেজার ছালেহ ঘরে ঢুকলেন। চেয়ার টেনে সাবধানে বসলেন। ভদ্রলোকের বয়স পঞ্চাশের উপর। মোটা থলথলে শরীর। বয়স যত বাড়ছে তাঁর শরীর তত বাড়ছে। মোতাহার সাহেব তাঁর এই ম্যানেজারকে অত্যন্ত পছন্দ করেন। ম্যানেজার শ্রেণীর মানুষ কখনো সৎ হয় না। এই মানুষটা সৎ। ব্যবসা অত্যন্ত ভাল বুঝেন। হাস্যমুখী মানুষ। মুখের কােটাটা এমন যে সব সময় মনে হয়। ভদ্রলোক হাসছেন। মোতাহার সাহেব যেমন কখনোই রাগেন না, ইনি আবার অন্যরকম, চট করে রেগে যান।

    মোতাহার সাহেব সামান্য ঝুঁকে এসে বললেন, ছালেহ কেমন আছ?

    জ্বি ভাল।

    কোনো খবর আছে?

    ম্যানেজারের মুখে হাসি দেখা গেল। আসল হাসি। মুখে লেগে থাকা সাৰ্বক্ষণিক হাসি না।

    পনেরো লাখ টাকার চেকটা ক্যাশ হয়েছে। আমিতো আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম।

    ক্যাশ হয়েছে?

    জ্বি। ব্যাংকের ম্যানেজার সাহেব কিছুক্ষণ আগে টেলিফোন করেছিলেন।

    মোতাহারু সাহেব ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, ভাল খবর; তুমি অসাধ্য সাধন করেছ।

    স্যার আপনার কি শরীর খারাপ?

    শরীরটা ভাল লাগছে না।

    বাসায় চলে যান।

    শরীর যদি ভাল না লাগে, কোনোখানে ভাল লাগবে না।

    প্রেসারটা মাপবেন? ডাক্তার সাহেবকে খবর দেই?

    মোতাহার সাহেব জবাব দিলেন না। ছালেহ উদ্দিন বললেন, এক কাজ করুন, শুয়ে থাকুন, মঞ্জুকে বলি পা টিপে দিক।

    আচ্ছা বল।

    ছালেহ উঠতে যাচ্ছিলেন, মোতাহার সাহেব বললেন, তুমি বোস। তোমার সঙ্গে কিছু জরুরি কথা আছে।

    ছালেহ সাথে সাথে বসে পড়লেন। মোতাহার সাহেব জরুরি কথা কিছু বললেন না। আগের মত মাথা নিচু করে বসে রইলেন। ছালেহ বললেন, ছোট বাবু কি ময়না পাখিটা পছন্দ করেছে?

    হুঁ করেছে। খুব পছন্দ করেছে। সে খুবই খুশি।

    ইলেকট্রিসিটি চলে এসেছে। মাথার ওপর পাখা ঘুরছে। ফ্যানের বাতাসে। মোমবাতি নিভে গেছে। ফ্যান থেকে খট খট শব্দ আসছে। ফ্যানের এই আওয়াজ মোতাহার সাহেবের খুবই অপছন্দ। এসির আওয়াজ তার চেয়েও বেশি অপছন্দ। প্ৰচণ্ড গরমেও এই ঘরে ফ্যান কিংবা এসি চলে না। যদিও নিজের বাড়িতে এসি চলে। সেই শব্দে তার কোনো সমস্যা হয় না। মঞ্জু হাত পাখা দিয়ে তাঁকে হওয়া করে। ঝালর দেয়া বিরাট একটা তালপাখা এই ঘরে ঝুলানো আছে।

    ছালেহ বললেন, স্যার ফ্যান বন্ধ করে দেব?

    মোতাহার সাহেব বললেন, না থাক।

    জরুরি কথা কী বলবেন বলছিলেন।

    মোতাহার সাহেব পা নামিয়ে বসলেন। তিনি বসেছিলেন রিভলভিং চেয়ারে। সেই চেয়ার খুব সাবধানে ম্যানেজারের দিকে ঘুরালেন যেন চেয়ারে ক্যাচ ক্যাচ শব্দ না হয়। তারপরেও শব্দ হল।

    ছালেহ।

    জ্বি।

    শুভ্ৰকে তোমার কেমন ছেলে মনে হয়?

    ছালেহ কিছুক্ষণ তাঁর বড় সাহেবের তাকিয়ে নরম গলায় বললেন, আপনার প্রশ্নটা বুঝলাম না। শুভ্ৰ কেমন ছেলে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। মালিকের ছেলে বলে না… এই জীবনে আমি অনেক ছেলেপুলে দেখেছি, এরকম দেখি নাই।

    তোমার কি মনে হয় আমার মৃত্যুর পর শুভ্র আমার ব্যবসা দেখবে?

    জ্বি না। স্যার, দেখবে না। তবে…

    তবে আবার কী?

    মানুষ বদলায়…

    মোতাহার সাহেব। আবারো চেয়ারে পা তুলতে তুলতে বললেন, এটা তো ছালেহ তুমি ভুল কথা বললে। কিছুই বদলায় না। একটা বড় পাথর ক্ষয় হয়ে ছোট পাথর হয়। কিন্তু পাথর পাথরই থাকে। মানুষের বেলাতেও এটা সত্যি। মানুষও পাথরের মত। শুভ্ৰ বদলাবে না। এখন যে রকম আছে পঞ্চাশ বছর পরেও তাই থাকবে।

    ঠিক বলেছেন। ছোট বাবুর জন্যে কথাটা খুব সত্যি।

    শুধু ছোট বাবুর জন্যে সত্যি না। সব বাবুর জন্যেই সত্যি। যে সৎ সে জন্ম থেকেই সৎ, যে অসৎ সে জন্ম থেকেই অসৎ।

    ছালেহ কিছু বললেন না। তাঁর চোখের উদ্বেগ আরো বাড়ল। বড় সাহেবের শরীর খারাপটা কোন পর্যায়ের তা তিনি ধরতে চেষ্টা করছেন।

    মোতাহার সাহেব ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, আমার মৃত্যুর পর আমার ব্যবসা কে দেখবে?

    ছালেহ চুপ করে রইলেন। মঞ্জু ঘরে ঢুকল। তার হাতে কর্ডলেস টেলিফোনের রিসিভার। মঞ্জু কঁচুমাচু মুখে বলল, আম্মার ফোন। টেলিফোনের শব্দে মোতাহার সাহেবের সঙ্গে সঙ্গে মাথা ধরে যায় বলে টেলিফোন সেট দোতলায় রাখা। জরুরি। টেলিফোন হলেই মঞ্জু রিসিভার নিয়ে ছুটে আসে। নিতান্ত জরুরি না হলে মোতাহার সাহেব টেলিফোন ধরেন না। টেলিফোনে সূক্ষ্ম এক ধরনের শব্দ হয়— যে শব্দ অন্য কেউ শুনতে পায় না। কিন্তু তিনি শুনতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মাথা ঝিমঝিম করে।

    মোতাহার সাহেব রিসিভার কানে দিয়ে ক্ষীণ স্বরে বললেন, হ্যালো জাহানারা। কী ব্যাপার?

    জাহানারা উত্তেজিত গলায় বললেন, তুমি কি আজ দুপুরে বাসায় খাবে?

    কেন?

    ভয়ংকর একটা ঘটনা ঘটেছে, তোমার আসা দরকার। অফিসে যদি তেমন কোনো কাজ না থাকে তুমি চলে এসো।

    ঘটনাটা কী?

    বাসায় আস তারপর বলি। সব কিছু কি আর টেলিফোনে বলা যায়!

    জরুরি কাজ আছে, আসতে পারব না। ঘটনা। কী বল।

    টাকা চুরি গেছে।

    ও আচ্ছা।

    পাঁচশ টাকার তিনটা নোট। খাবার ঘরে যে হলুদ ম্যাট আছে। ম্যাটের নিচে রেখেছিলাম। দুধের বিলের টাকা। দুধের বিল প্লাস টাকা। বিলটা আছে, নোট তিনটা নেই।

    ও।

    টাকাটা কে নিয়েছে আমি বের করেছি। আমার হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসছে। টাকাটা নিয়েছে বিনু। উচ্চ শিক্ষার জন্যে যিনি ঢাকা এসে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছেন সেই বিনু।

    তুমি তাকে কিছু বলেছ?

    এখনো কিছু বলি নি।

    ভাল করেছ। আমি এসে যা বলার বলব। টাকা চুরি গেছে এটা সে জানে?

    হ্যাঁ জানে। ভাল মানুষের মত সে নিজেও খোঁজাখুঁজি করছে। এই খাটের নিচে ঝাঁট দিচ্ছে, এই বালিশ উল্টাচ্ছে। কত বড় হারামজাদি ভাবছে তার অভিনয় কেউ বুঝতে পারছে না।

    তুমি কিছু বলো না।

    আমি বলব না। কিন্তু এই চুরানী মেয়েকে তুমি আজই বিদায় করবে। দরকার হলে হোটেলে ঘর ঠিক করে দিবে। হোটেলে থাকবে। এই চুরুনীর সঙ্গে আমি এক ছাদের নিচে থাকব না।

    আচ্ছা। শুভ্র কোথায়?

    ঘরেই আছে। কথা বলবে?

    না।

    তুমি কি শুভ্ৰকে বিকেলে গাড়ি দিতে পারবে? সে তার কোন বন্ধুর বাসায় যাবে। শুভ্র অবশ্য বলছে গাড়ি নেবে না। কিন্তু গাড়ি ছাড়া ওকে আমি কোথাও যেতে দেব না। আজই পত্রিকায় দেখেছি – রিকশা করে এক হাসবেন্ড-ওয়াইফ। যাচ্ছিল, পেছন থেকে ট্রাক ধাক্কা দিয়েছে, মেয়েটা মারা গেছে। ইত্তেফাকের প্রথম পাতায় নিউজটা আছে। ছবি দিয়ে ছেপেছে। তোমার অফিসে ইত্তেফাক রাখা হয়?

    না।

    তাহলে কাউকে দিয়ে ইত্তেফাকটা আনিয়ে নিউজটা পড়।

    আচ্ছা পড়ব।

    টেলিফোনের পাতলা রিনারিনে শব্দ মোতাহার সাহেবকে যন্ত্রণা দিতে শুরু করেছে। এতক্ষণ তিনি রিসিভার কানের সঙ্গে লাগিয়ে রেখেছিলেন, এখন একটু দূরে সরিয়ে রাখলেন। জাহানারার সঙ্গে কথা বলার প্রধান সমস্যা হল জাহানারা কিছুতেই টেলিফোন ছাড়তে চায় না। কথা বলার মত প্রসঙ্গ তার থাকেই।

    হ্যালো হ্যালো।

    শুনতে পাচ্ছি।

    তোমার অফিস থেকে কাউকে বলবে যেন একজন গ্যাসের চুলার মিস্ত্রি নিয়ে আসে। চুলটার কী হয়েছে গ্যাসের কোনো প্রেসার নেই।

    বলব।

    তোমার গলার স্বর এরকম কেন? শরীর খারাপ করছে?

    না, শরীর ঠিক আছে। জাহানারা এখন রাখি- একটা জরুরি কাজ করছি।

    মোতাহার সাহেব টেলিফোন রিসিভার মঞ্জুর হাতে দিতে দিতে বললেন, মঞ্জু আরেক কাপ চাপ দে। কড়া করে দিস। পানসে চা খেতে পারি না।

    মঞ্জু আগের কাপটা নিয়ে চলে গেল। ভরা কাপ। মোতাহার সাহেব একটা চুমুকও দেন নি। ছালেহ উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললেন, স্যার একজন ডাক্তার নিয়ে আসি প্রেসারটা মাপুক।

    মোতাহার সাহেব ডাক্তার লাগবে না। এমন ভঙ্গিতে মাথা নাড়লেন। তিনি বুঝতে পারছেন তাঁর শরীরটা দ্রুত খারাপ করছে। আগে বমি ভাব ছিল না। এখন বমি ভাব হচ্ছে। বিশ্ৰী গন্ধ অনেকক্ষণ ধরে নাকে আসছে বলেই বমি ভাব হচ্ছে।

    ছালেহ।

    জ্বি স্যার।

    বাসায় একজন গ্যাসের চুলার মিস্ত্ৰি পাঠাতে হবে।

    জ্বি আচ্ছা!

    তুমি একটু ব্যাংকে যাও- কিছু ক্যাশ টাকা নিয়ে আসা। ব্যাংক খোলা আছে না?

    জ্বি খোলা আছে।

    নতুন নোট আনবে। একশ টাকার নতুন নোট।

    জ্বি আচ্ছা।

    পঞ্চাশ টাকার নোটও এন। নতুন হয় যেন। পুরনো না। ব্যাংকে যদি নতুন নোট না থাকে তুমি মানি চেঞ্জারদেরকে দিয়ে নতুন নোটের ব্যবস্থা করবে।

    জ্বি আচ্ছা।

    মোতাহার সাহেব মানিব্যাগ খুলে চেক বের করে দিলেন। চেক আগেই লেখা ছিল। ছালেহ চেকের ওপর চোখ বুলিয়ে বিস্মিত চোখে তাকাল। তিন লাখ টাকার চেক। হঠাৎ করে এত ক্যাশ টাকার দরকার পড়ল কেন? তাও সব নতুন নোট।

    মোতাহার সাহেব ক্ষীণ গলায় বললেন, গাড়ি নিয়ে যাও। টাকা ক্যাশ করে নিজের কাছে রেখে দিও। আমাকে দেয়ার দরকার নেই। আমি পরে চেয়ে নেব। বুঝতে পারছ?

    জ্বি।

    কাজ শেষ করে গাড়ি বাসায় পাঠিয়ে দিও। শুভ্ৰ কোথায় যেন যাবে।

    জ্বি আচ্ছা। স্যার আপনার কি শরীর বেশি খারাপ?

    মোতাহার সাহেব জবাব দিলেন না। মঞ্জু, দ্বিতীয় চায়ের কাপ এনে সামনে রেখেছে। সে বড় সাহেবের দিকে ভীত চোখে তাকাচ্ছে। মোতাহার সাহেব চায়ের কাপের দিকে ফিরেও তাকালেন না। তিনি বারবার নাক কুঞ্চিত করছেন। তিনি দুৰ্গন্ধ এখনো পাচ্ছেন। তবে এখন আগের চেয়ে কিছু কম। সিলিং ফ্যানের খট খটক শব্দটাও এখন আর আগের মত কানো লাগছে না।

    তিনি বিছানায় শুতে গেলেন- কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলে যদি শরীর ভাল লাগে। মঞ্জু মশারি খাটিয়ে দিল। সে হাত বাড়িয়ে পায়ের আঙ্গুল টানতে শুরু করেছে। মোতাহার সাহেব ঘুমুতে চেষ্টা করছেন। ঘুম আসছে না। এতক্ষণ মাথা ঘুরছিল না। এখন মাথাও ঘুরছে। এটা হচ্ছে ফ্যানের দিকে তাকিয়ে থাকার জন্যে। অসুস্থ অবস্থায় ঘুরন্ত কোনো কিছুর দিকে তাকাতে নেই। বাইরের ঘূর্ণিমাথার ভেতর ঢুকে যায়। তিনি মঞ্জুকে ফ্যান বন্ধ করতে বললেন। মঞ্জু লাফ দিয়ে উঠে। ফ্যান বন্ধ করল। তখন তাঁর গরম লাগতে লাগল। মনে হচ্ছে তিনি ভদ্র দুপুরে নৌকার ওপর ছাতা ছাড়া বসে আছেন। রোদের ঝাঁঝাঁটা পড়ছে মাথায়। নদীর পানির গরম ভাব মুখে লাগছে! সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নৌকার দুলুনি। মঞ্জুকে তিনি আবার ফ্যান চালু করতে বললেন। মঞ্জু ফ্যান চালু করল। তিনি অসহিষ্ণু গলায় বললেন, মঞ্জু স্পীড বাড়িয়ে দে। বাতাস লাগছে না।

    মঞ্জু ফ্যানের স্পীড বাড়িয়ে সঙ্কুচিত গলায় বলল, বড় সাহেব একজন ডাক্তার ডেকে আনি?

    মোতাহার সাহেব ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, দরকার নাই; তুই আমাকে ঠাণ্ড এক গ্লাস পানি এনে দে। বরফ দিয়ে খুব ভাল মত ঠাণ্ড করে আনবি।

    মঞ্জু পানি নিয়ে এসে দেখে বড় সাহেব। ঘুমিয়ে পড়েছেন। সে খুব সাবধানে পানির গ্রাস টেবিলে রেখে বের হয়ে গেল। বড় সাহেব ঘুমিয়ে পড়লে তাঁর ঘুম ভাঙ্গানো নিষেধ। শুধু নিষেধ না, কঠিন নিষেধ। তখন জরুরি টেলিফোনও আঁকে দেয়া যায় না। বলা আছে, শুধু যদি ছোট বাবু টেলিফোন করেন। তবেই তাঁর ঘুম ভাঙ্গানো যাবে। তবে ছোট বাবু কখনো টেলিফোন করেন না। মঞ্জুর কি উচিত বড় বড় সাহেবের বাড়িতে টেলিফোন করে তাঁর অসুখের খবরটা দেয়া? উচিত তো বটেই, কিন্তু সমস্যা আছে। অফিসের কারোরই কোনো অবস্থাতেই বড় সাহেবের বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগের অনুমতি নেই। বৎসর খানেক আগেই এই সামান্য কারণে একজনের চাকরি চলে গিয়েছিল। তার অপরাধ হলো সে টেলিফোনে জানতে চেয়েছিল— বড় সাহেব কখন অফিসে আসবেন।

    জাহানার আছরের নামাজে বসার প্রায় সাথে সাথে ঝেঁপে বৃষ্টি এল। তিনি তখন সূরা ফাতেহার মাঝামাঝি। তিনি খুবই অস্থির বোধ করলেন। এই বাড়িটা এমন যে বৃষ্টি এলেই পূর্ব দিকের বারান্দার গ্ৰীল দিয়ে বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে। রান্নাঘর আর শুভ্ৰর ঘরে পানি থৈথৈ করতে থাকে। শুভ্ৰ তাতে খুবই মজা পায়। তিনি অস্থির বোধ করেন।

    বাড়িতে দুদিন ধরে কোনো কাজের লোক নেই যে, এরা বুদ্ধি করে জানালা বন্ধ করবে। আর শুভ্র এমন ছেলে যে হা করে বৃষ্টি দেখবে— জানালা বন্ধ করবে: না। তারপর বৃষ্টির পানিতে নিজেই হোঁচটি খেয়ে পড়বে।

    নামাজ ছেড়ে উঠে যাওয়া ঠিক হবে না— বড় রকমের গুনাহর কাজ হবে। জাহানারা অতি দ্রুত সূরা শেষ করতে চেষ্টা করলেন। এতে সব কিছু আরো জন্ট পাকিয়ে যেতে লাগল। সূরা ফাতিহা আবার প্রথম থেকে ধরলেন। সূরা শেষ করার আগেই মনে হল— প্রথম রাকাতটা কি পড়া হয়েছে? না, হয় নি। একই সঙ্গে বৃষ্টি কোন দিকে থেকে আসছে তিনি ধরতে চেষ্টা করছেন। উত্তর দিক থেকে এলে তেমন সমস্যা নেই। কারা যেন পায়ের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। বিনু হাঁটছে। মেয়েটার মতলবটা কী? বৃষ্টি হচ্ছে জানালা বন্ধ করতে হবে এই অজুহাতে সে শুভ্রর ঘরে ঢুকে যাবে নাতো? যে সব গ্রামের মেয়ে শহরে পড়তে আসে তারা তলে তলে হাড় বজ্জাত হয়। মুখ দেখে কিছু বোঝা যায় না, কিন্তু আখের গোছাতে তারা ওস্তাদ। তারচেয়েও ওস্তাদ অজুহাত তৈরি করতে। রাত তিনটার সময়ও যদি এই মেয়েকে শুভ্রর ঘরে পাওয়া যায়। সে শুকনো মুখে এমন এক অজুহাত দেবে যে মনে হবে। রাত তিনটায় শুভ্ৰর ঘরে থাকা খুব প্রয়োজন ছিল। তিনি হয়ত তার জন্যে বিনুকে ধন্যবাদও দেবেন। শুভ্ৰর সঙ্গে এই মেয়ের ভালই যোগাযোগ আছে। এটা থাকবেই। এই মেয়ে শুভ্রর মত ছেলেকে যে-কোনো মূল্যে হাতে রাখবে।

    জাহানারার নামাজে গণ্ডগোল হয়ে গেলা— তিনি সিজদায় গিয়ে আত্তাহিয়াতু পড়লে শুরু করলেন। ভুল নামাজ চালিয়ে যাবার অর্থ হয় না। তিনি নামাজ বাদ দিয়ে উঠে পড়লেন। মাগরেবের সময় কাজা পড়ে নিলেই হবে। ভুলভাল নামাজ পড়তে সোয়াবের চেয়ে গুণ বেশি হয়। দরকার কী?

    বৃষ্টি পূর্ব দিক থেকেই এসেছে। তবে ঘরে পানি ঢুকে নি। এতক্ষণ ঘরে যে হাঁটাহাঁটির শব্দ শুনছিলেন সেটাও কানের ভুল। বিনুর ঘর বন্ধ; শুভ্রর ঘরাও বন্ধ।

    তিনি শুভ্রর ঘরের দরজায় হাত রাখতেই দরজা খুলে গেল। ঘর অন্ধকার। সব কটা জানোলা বন্ধ। শুভ্র ইজিচেয়ারে মূর্তির মত বসে আছে। খুবই অস্বাভাবিক দৃশ্য। বৃষ্টি হবে। আর শুভ্র জানালা খুলে বৃষ্টি দেখবে না, এটা হতেই পারে না।

    কী হয়েছে রে, শুভ্ৰ?

    শুভ্ৰ অবাক হয়ে বলল, কিছু হয় নি তো। কিছু কি হবার কথা?

    এরকম বিম ধরে বসে আছিস কেন?

    একটা ইন্টারেস্টিং জিনিস ভাবছিলাম মা। ঝুমঝুম করে বৃষ্টি নামতেই মনে হল— ময়না পাখি শুধু কি মানুষের কথা নকল করে না-কি প্রাকৃতিক শব্দও নকল করে! যেমন ধর বৃষ্টির শব্দ। কিংবা ঝড়ের শব্দ। সমুদ্রের ঢেউ-এর শব্দ।

    জাহানারা ছেলের খাটের এক কোণায় বসলেন। শুভ্ৰর উদ্ভট উদ্ভট কথা শুনতে তাঁর খুবই ভাল লাগে। উদ্ভট কথাগুলি সে বলে এত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে!

    তোর যে বাইরে যাবার কথা যাবি না?

    যাব।

    কখন যাবি?

    বৃষ্টি থামলেই যাব। আজ আমার ইচ্ছা করছে হুড খুলে রিকশা করে যেতে। বৃষ্টি থাকলে ভিজে যাব। কাক ভেজা হয়েতো কারোর বাসায় উপস্থিত হওয়া যায় না। কিন্তু আমার ইচ্ছা করছে এইভাবে যেতে।

    রিকশা করে যাবি কেন? তোর বাবা গাড়ি পাঠাচ্ছে।

    গাড়িতে যাব না মা। তোমাকে কী বললাম, আজ আমার রিকশা করে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে। মা তুমি কি একটা কাজ করবে।— বিনুকে বলবে একটু আসতে?

    জাহানারা অবাক হয়ে বললেন, কেন?

    ওকে একটা কথা জিজ্ঞেস করব। কী কথা?

    কী কথা?

    শুভ্ৰ হাসতে হাসতে বলল, কথাটা তোমাকে বলা যাবে না মা। যার কথা তাকেই বলতে হবে। তোমাকে বলা গেলে আমি নিশ্চয়ই বিনুকে ডাকতাম না।

    এমন কী কথা যে আমাকে বলা যাবে না?

    শুভ্ৰ হাসল। মিষ্টি করে হাসল। জাহানারায় হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসতে শুরু করল— বিনুর প্রসঙ্গে ছেলেটা এমন মিষ্টি করে হাসছে কেন? কোনো ঘটনা নেই তো?

    জাহানারা গম্ভীর মুখে বললেন, শুভ্ৰ এখন তোকে একটা কথা বলব। না বললেও হত— কিন্তু বলা দরকার। বিনু প্রসঙ্গে একটা কথা।

    বল শুনি।

    জাহানারা নিচু গলায় বললেন, মেয়েটা ভাল না।

    শুভ্ৰ হাসি হাসি মুখে বলল, ভাল না কেন?

    ওর অনেক আজেবাজে স্বভাব আছে। আমার কাছে যেটা সবচে খারাপ লাগছে সেটা হচ্ছে – মেয়েটা চোর। বিরাট চোর। গরীবের ঘরে জন্মেছে তো।

    শুভ্ৰ যতটা অবাক হবে বলে জাহানারা ভেবেছিলেন সে ততটা অবাক হল না। বরং স্বাভাবিক গলায় বলল, বিনু চোর না-কি? ইন্টারেস্টিং তো! কী চুরি করে?

    জাহানারা গুছিয়ে গল্প শুরু করলেন। শুভ্র খুব আগ্রহ নিয়ে শুনছে। তার চোখ জ্বলজ্বল করছে। তবে তার মুখ হাসি হাসি।

    জাহানারা চাপা গলায় বললেন, খাবার ঘরের টেবিলে চায়ের কাপে চাপা দিয়ে তিনটা পাঁচশ টাকার নোট রেখেছিলাম দুধের বিল দেব বলে। কিছুক্ষণ পরে এসে দেখি নোট তিনটা নেই। শুধু দুধের বিলটা আছে। কাজের মেয়েটা ছুটিতে। ঘরে মানুষ বলতে- তুই, আমি আর বিনু বাতাসে নোট তিনটা উড়ে জানালা দিয়ে চলে যায় নি। যদি যেত দুধের বিলটাও যেত। দুধের বিল ঠিকই আছে, নোট তিনটা নেই। টাকাটা নিলে হয় আমি নেব, নয়ত তুই নিবি, কিংবা বিনু। তুই নিশ্চয় টাকা নিয়ে যাস নি।

    শুভ্ৰ হাসছে। শব্দ করে হাসছে। যেন জাহানারা এই মাত্র মজার কোনো গল্প বলে শেষ করেছেন। জাহানারা রাগী গলায় বললেন, তুই হাসছিস কেন?

    তুমি বানিয়ে বানিয়ে বানিয়ে একটা গল্প বলছ— এই জন্য হাসছি। তোমার ফেব্রিকেটেড লাইনগুলি খুবই হাস্যকর হয়।

    জাহানারা থমথমে গলায় বললেন, বানিয়ে গল্প বলছি মানে?

    শুভ্ৰ শান্ত গলায় বলল, মা আজ হচ্ছে মাসের ২৮ তারিখ। আজ তুমি দুধের বিল দেয়ার জন্যে টাকা বের করবে না। এটা ৩১-এ মাস, দুধওয়ালা দুধের বিলই দেয় নি।

    জাহানারা ছেলের দিকে তাকিয়ে আছেন। কী বলবেন বুঝতে পারছেন না। শুভ্র খুব সহজ গলায় বলল, মা আমি খুব ছোটবেলা থেকে লক্ষ করছি— তুমি বানিয়ে বানিয়ে অনেক কথা বল। এবং এক সময় তোমার বানানো কথা তুমি নিজে বিশ্বাস করতে শুরু করা। আমার মনে হয় এটা তোমার এক ধরনের অসুখ।

    জাহানারা যন্ত্রের মত বললেন, আমার অসুখ?

    হ্যাঁ অসুখ। আমি যখন ক্লাশ গ্ৰীতে পড়ি তখন স্কুলের সিঁড়িতে পা পিছলে পড়ে ব্যথা পেয়েছিলাম। চশমা ভেঙ্গে গিয়েছিল। চশমার কাচে কপাল কেটে গিয়েছিল। তুমি সবাইকে বলেছ- রিকশায় করে বাসায় ফেরার সময় আমি এ্যাকসিডেন্ট করেছি। পেছন থেকে একটা প্ৰাইভেট কার ধাক্কা দিয়ে আমার রিকশা ফেলে দিয়েছে। কত বছর আগের ব্যাপার অথচ এই ঘটনা সেদিনও তুমি আমার ইউনিভার্সিটির বন্ধুদের বললে।

    কখন বললাম?

    আমার হাম হয়েছিল। সবাই দলবেঁধে আমাকে দেখতে এসেছিল, তখন বললে।

    যখন বলেছিলাম। তখন তুই আমাকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দিলি না কেন? তখন কেন বললি না— আমার মা মিথ্যে কথা বলছে। আমার মা মিথ্যাবাদী।

    শুভ্র বলল, মা তুমি রাগ করছ?

    জাহানারা কোঁদো কাঁদো গলায় বললেন, তুই আমাকে মিথ্যাবাদী বলবি আর আমি রাগ করতে পারব না? তুই চুপ করে বসে থাক, নড়বি না। আমি দুধের বিল নিয়ে আসছি। এই নতুন দুধওয়ালা প্রতি মাসেই পঁচিশ-ছাব্বিশের দিকে দুধের বিল দিয়ে দেয়। এখন আমি ডেইরি ফার্ম থেকে দুধ নিচ্ছি। ওরা খুব নিয়মকানুন মেনে চলে।

    শুভ্ৰ বলল, একটা মিথ্যা বললে পরপর অনেকগুলি মিথ্যা বলতে হয় মা। তুমি দুধওয়ালা বদলাও নি, আগের দুধওয়ালাই দুধ দিচ্ছে। গতকালও তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে।

    আচ্ছা যা আমি মিথ্যাবাদী। এখন আমাকে কী করতে হবে? তোর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে না, বিনুর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে?

    শুভ্র বিব্রত গলায় বলল, মা শোন, তাকাও আমার দিকে।

    জাহানারা তাকালেন না। ছেলের ঘর থেকে উঠে চলে এলেন। তাঁর মনে আশা ছিল শুভ্ৰ তাঁর পেছনে পেছনে উঠে আসবে। শুভ্র তা করল না। জাহানারা খুবই অবাক হয়ে দেখলেন বৃষ্টি থামা মাত্র শুভ্ৰ বের হয়ে গেল।

    জাহানারা আড়াচোখে লক্ষ্য করলেন, বেড়াতে যাচ্ছে অথচ সে পরেছে ইস্ত্রি ছাড়া একটা শার্ট। চুল আঁচড়েছে, কিন্তু আঁচড়ানো ভাল হয় নি। সিঁথি বাঁকা হয়েছে। রিকশা করে যে সে যাচ্ছে, মানিব্যাগ কি সঙ্গে নিয়েছে? আর সঙ্গে নিলেও মানিব্যাগে কি ভাংতি টাকা আছে? দশ টাকা ভাড়া দেবার জন্যে সে হয়ত পঁচিশ টাকার একটা নোট বের করবে। রিকশাওয়ালাকে টাকা ভাঙ্গিয়ে আনতে বলবে। সে টাকা নিয়ে ভোগে চলে যাবে।

    জাহানারা শুভ্রর ঘরে ঢুকলেন। তিনি যা ভেবেছিলেন। তাই। শুভ্ৰ মানিব্যাগ ফেলে গেছে। বিছানার ঠিক মাঝখানে মানিব্যাগ এবং রুমাল পড়ে আছে। বোঝাই যাচ্ছে শেষ মুহূর্তে সে মানিব্যাগ এবং রুমাল নিতে ভুলে গেছে।

    জাহানারা বিনুর ঘরের সামনে এসে দাঁড়ালেন। বিনুকে খুব কঠিন কিছু কথা বলতে ইচ্ছা করছে। কঠিন কথাগুলি গুছিয়ে নিতে পারলে ভাল হত। কিছু গোছানো নেই। অবশ্য কথা গোছানো থাকারও সমস্যা আছে। তিনি লক্ষ করেছেন গোছানো কথা তিনি প্ৰায় কখনোই বলতে পারেন না।

    বিনুর ঘরের দরজা ভেজানো। জাহানারা ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে গেলেন। বিনু বিছানায় শুয়েছিল। ধড়মড় করে উঠে বসল। জাহানারা বিকেলের অস্পষ্ট আলোতেও লক্ষ করলেন মেয়েটার চোখ ভেজা। নিশ্চয়ই শুয়ে শুয়ে কাঁদছিল। জাহানারা গলার স্বর যতদূর সম্ভব কঠিন করে বললেন, আছর ওয়াক্তে শুয়ে ঘুমাচ্ছ কেন? আছর ওয়াক্তে শুয়ে থাকা যে কতবড় অলুক্ষণে এই শিক্ষা কি বাবা-মা দেয় নাই? নামাজও তো কখনো পড়তে দেখি না। তোমাদের বাড়িতে নামাজের চল নাই? তোমার বাবা নামাজ পড়েন?

    বিনু নিচু গলায় বলল, জ্বি পড়েন।

    আমারতো মনে হয় না তুমি ঠিক বলছি। আমাদের এখানে যখন এলেন আমি খেয়াল করেছি – মাগরেবের ওয়াক্ত হয়ে গেছে। তিনি গল্পই করছেন গল্পই করছেন।

    বিনু চুপ করে আছে। তার চোখের পানি এখনো বন্ধ হয় নি। জাহানারা লক্ষ করলেন মেয়েটা অন্যদিকে তাকিয়ে চোখ মোছার চেষ্টা করছে এবং চোখের পানি বন্ধ করার চেষ্টা করছে। চোখে পানি কেন?— এই প্রশ্ন কি করবেন? জাহানারা বুঝতে পারছেন না।

    তোমার বাবাতো আজও এলেন না। ব্যাপারটা কী বলতো? মেয়েকে এখানে ফেলে রেখে মেয়ের ব্যাপারে হাত ধুয়ে ফেলেছে। না-কি কারো বাড়িতে গিয়ে গল্পে মজে গেছে। এমন গল্পবাজ মানুষ আমি আমার জীবনে দেখি নি। কী মনে হয়— তোমার বাবা কবে আসবে? না-কি কোনোদিন আসবেই না।

    বাবা বৃহস্পতিবার আসবেন।

    কী করে বললে? গান গুনে?

    বাবার চিঠি পেয়েছি।

    বাবার চিঠি পেয়েছ বৃহস্পতিবারে আসবে এই খবরটা আমাকে জানাবে না?

    চিঠিটা আজ দুপুরে পেয়েছি।

    চিঠিতে কী লিখেছেন?

    লিখেছেন বৃহস্পতিবারে এসে আমাকে নিয়ে যাবেন। আর বলেছেন আপনাকে সালাম দিতে।

    দেখি চিঠিটা।

    বিনু অবাক হয়ে তাকাল। জাহানারা বললেন, চিঠিটা দাও দেখি কী লেখা! বাবা নিশ্চয়ই চিঠিতে মেয়েকে এমন কিছু লিখবে না যে সেই চিঠি অন্য কেউ পড়তে পারবে না।

    বালিশের নিচ থেকে বিনু চিঠি বের করে দিল। জাহানারা বুঝতে পারছেন চিঠি পড়া উচিত হচ্ছে না। কিন্তু তিনি কৌতূহল আটকাতে পারছেন না। বিনু যে ভর সন্ধ্যায় শুয়ে শুয়ে কাঁদছে তার সঙ্গে বাবার কাছ থেকে আসা চিঠির নিশ্চয়ই কোনো সম্পর্ক আছে। সম্পর্কটা জানতে ইচ্ছে করছে। মেয়েকে এই বাড়িতে রেখে ইউনিভার্সিটিতে পড়াবে এ ধরনের ইঙ্গিততো চিঠিতে থাকতে পারে। যদি থাকে তাহলে এ বিষয়েও আগে ভাগে ব্যবস্থা নিতে হবে। জাহানারা চিঠি পড়লেন।

    আমার অতীব আদরের কন্যা
    মোসাম্মত হামিদা বানু (বিনু)
    মাগো আমার,
    আমার শত সহস্ৰ দোয়া এবং আদর নিও। পর সমাচার এই যে মা— তোমাকে আমি যে যথাসময়ে বাড়িতে নিতে পারি নাই তার জন্যে আমার দুঃখের সীমা নাই। ইনশাল্লাহ আমি আগামী বৃহস্পতিবার দ্বিপ্রহরে চলিয়া আসিব। এবং সন্ধ্যার ট্রেনে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হইব (ইনশাল্লাহ)। মাগো ঢাকায় আসা যাওয়ার ভাড়া জোগাড় করিতে পারি নাই বলিয়া এই সমস্যা হইয়াছে; সব সমস্যার যেমন সমাধান আছে, এই সমস্যারও সমাধান আছে। বুধবার নাগাদ প্রয়োজনীয় টাকার ব্যবস্থা হইবে। এই বিষয়ে তুমি কোনোরকম দুঃশ্চিন্তা করিও না। বাকি আল্লাহপাকের ইচ্ছা।
    ভাবি সাহেবকে আমার সালাম দিবে। অতি মহীয়সী মহিলা। তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলিয়া আমার অন্তর জুড়াইয়া গিয়াছে। নিজের মাতার মতই তাহাকে দেখিবে এবং তাহার দোয়া নিবে। মাগো, আমরা অতি দরিদ্ৰ— মানুষের দোয়াই আমাদের একমাত্র সম্বল।
    এখন একটা সুসংবাদ দেই— তুমি লিচু গাছের যে চারাটি রোপন করিয়াছিলে সেই চারাতে এই বৎসর মুকুল আসিয়াছে। ইনশাল্লাহ তুমি এই বছর তোমার নিজের রোপন করা গাছের লিচু খাইতে পরিবে। ইহা বিরল সৌভাগ্যের বিষয়। যদিও তোমার মা গাছ কাটাইয়া ফেলিবার জন্যে ঘ্যান ঘ্যান করিতেছে, কারণ আমাদের অঞ্চলে প্ৰবাদ আছে যে বসত বাড়িতে লিচু গাছ বাপন করা হয় সেই বাড়িতে বংশে বাতি দিবার কেহ থাকে না। তবে আমার ধারণা ইহা কথার কথা। গাছের সাথে বংশের কোনো সম্পর্ক নাই! তুমি মোটেও দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হইবে না। আমার অতি আদরের কন্যা মোসাম্মত হামিদা বানু যে বৃক্ষ রোপন করিয়াছে আমার জীবন থাকিতে কেহ সেই বৃক্ষের ক্ষতি সাধন করিতে পরিবে না।
    দোয়াগো
    তোমার পিতা
    মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশঙ্খনীল কারাগার – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article শুভ্র গেছে বনে – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }