Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শুভ্র – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প307 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২১. আমি কী করছি

    আমি কী করছি? আমি কেন এই বাড়িতে পড়ে আছি? এদের সঙ্গে আমার যোগটা কোথায়? জাহানারা নামের একজন মহিলা অসুস্থ, পাগলের মত আচরণ করছেন— শুধুমাত্র এই কারণে আমি থেকে গেছি। এটা আর যে-ই বিশ্বাস করুক আমি নিজেতো করছি না। আমার বাবা মারা গেছেন। মার এখন দিশেহারা অবস্থা। অথচ আমি দিব্যি থেকে গেলাম। সন্ধ্যাবোলা রাণীর মা চা দিয়ে গেল। আমি স্বাভাবিকভাবেই চা খেলাম। তারপর সে জিজ্ঞেস করল, রাতে কী রান্না হবে? আমি তাও বললাম; রাতে শুভ্ৰ নামের মানুষটার গল্প শুনলাম। বৃদ্ধার ভালুকা যাবার গল্প। আমি উঠে যেতে চাচ্ছিলাম, শুভ্ৰ নামের মানুষটা হাত ধরে আমাকে বসাল। আমার তাতে কোনোরকম অস্বস্তি বোধ হল না, সংকোচ বোধ হল না। মনে হল এটাইতো স্বাভাবিক।

    আমি কি আশা করে আছি। এই মানুষটার সঙ্গে আমার বিয়ে হবে? না, আমি কোনো কিছুই আশা করে নেই। যে পরিবারে আমার জন্ম, যে পরিবেশে আমি বড় হয়েছি সেখানে কেউ কখনো আশা করে না। স্বপ্ন দেখে না। বেঁচে থাকার চেষ্টাতেই আমরা সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকি— আশাটা করব কখন? তবে আমার বাবা আশা করতেন। তিনি স্বপ্ন দেখার অসাধারণ ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছিলেন। এসএসসি’র রেজাল্ট বের হবার পরের এক মাস যার সঙ্গেই দেখা হয়েছে তাকেই বলেছেন, আমার মেয়ে একটা বিরাট কিছু হবে। তার জীবনী লেখা হবে। বেগম রোকেয়ার জীবনী যেমন লোকে পাঠ করেছে, আমার মেয়েরটাও পাঠ করবে ইনশাল্লাহ।

    সত্যি সত্যি যদি কখনো আমার জীবনী লেখা হয়। সেখানে নিশ্চয়ই আমার ছেলেবেলার কথা থাকবে। সেখানে কি উল্লেখ থাকবে অতি শৈশবে হাটবারে আমি এক হাটে যেতাম? সঙ্গে থাকতো হাঁস-মুরগির ডিম, পাকা পেঁপে। হাটের এক কোণায় পেঁপে এবং ডিম নিয়ে বসে থাকতাম খরিদ্দারের আশায়।

    আমি এখন সুন্দর একটা ঘরে শুয়ে আছি। ঘরে বাতি জ্বলছে। জানোলা দিয়ে চাঁদের আলো এসে বিছানায় পড়েছে। ইচ্ছা করলেই আমি চাঁদ দেখতে পারি। ইচ্ছা করছে না। নিজেকে কেমন যেন অশুচি এবং নোংরা মনে হচ্ছে; মনে হচ্ছে। আমি যেন কোনো দুষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এ বাড়িতে বাস করছি। পরিকল্পনার শেষ না দেখে আমি নড়তে পারছি না। অথচ আমার কোনোই পরিকল্পনা নেই। আমার কোনো স্বপ্ন নেই। আমার কিছুই নেই।

    বাবা আমাকে এ বাড়িতে নিয়ে আসেন। তাঁর কত বড় বড় কথা— বিনু দেখবি তোকে তারা কত আদর করে। খানদানী ফ্যামিলি- এদের ব্যাপারই আলাদা। বড় মানুষদের মনও বড় হয়। যে গর্তে বাস করে তার মনটা হয়। গর্তের মত, যে রাজপ্রাসাদে বাস করে তার মন হয় রাজপ্ৰসাদের মত বড়। আমি বাবার সঙ্গে তর্ক করতে পারতাম। বাবাকে উদাহরণ দিয়ে বলতে পারতাম পৃথিবীর সব বড় মানুষরা অতি ক্ষুদ্র ঘরে জনেছিলেন। তর্ক করি নি। তর্ক করতে আমার ভাল লাগে না।

    এই বাড়িতে এসে প্রথম দেখা হল বাড়ির কর্ত্রী জাহানারা নামের মহিলার সঙ্গে। বাবা বললেন, মাগো সালাম কর— তোমার চাচি। পায়ে হাত দিয়ে দোয়া নাও।

    মহিলা কঠিন গলায় বললেন, পায়ে হাত দিও না। জার্নি করে এসেছি। শরীর নোংরা। তাছাড়া কেউ গায়ে হাত দিলে আমার ভাল লাগে না।

    মহিলা এমনভাবে আমার দিকে তাকাচ্ছেন যেন আমি সত্যি সত্যি নর্দমার ংরা মেখে উঠে এসেছি। আমার সমস্ত শরীর থেকে বিকট দুৰ্গন্ধ আসছে। মহিলা তাঁর নোকও খানিকটা কুঁচকে আছেন। তিনি বিরক্ত গলায় বললেন- এই মেয়ে থাকবে কোথায়? আমরাতো দোতলায় কাউকে রাখি না। শুত্র পড়াশোনা করে অপরিচিত কাউকে দেখলে বিরক্ত হয়।

    বাবা বোকার মত বললেন, অপরিচয় থাকবে না ভাবি সাহেবা। পরিচয় হবে। বিনু তার ছোটবোন। দুনিয়ার কোনো ভাইকে দেখেছেন বোনের ওপর বিরক্ত হয়েছে। হা হা হা।

    চাচি বললেন, ভাই-বোন পাতাতে হবে না। কয়েকটা দিন থাকার দরকার— থাকবে। এটা খেয়াল রাখতে হবে যে, এই বন্দোবস্তু চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত না। পরের বার যখন ঢাকায় আসবেন— দয়া করে এই বাড়িতে আসবেন না। আর শোন মেয়ে, বাড়িতে কখনো স্যান্ডেল ফট ফট করে হাঁটবে না। খালি পায়ে হাঁটবে। স্যান্ডেলের ফটফট শব্দ আমার সহ্য হয় না।

    বাবা আমাকে রেখে চলে গেলেন। বিশাল একটা ঘরে আমার জায়গা হল। সারা রাত এক ফোটা ঘুম হল না। সকালবেলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি, হঠাৎ দেখি– রাজপুত্রের মত একটা ছেলে হাসিমুখে আমার দিকে আসছে। শুভ্র তাহলে ইনি। এত সুন্দরও হয় মানুষ! তিনি আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন। হাসি মুখে বললেন, বিনু তোমার দেখি সকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস। ভালই হয়েছে, যাওতো আমার জন্যে দুকাপ চা বানিয়ে আন। একটা কাপে কোনো চিনি থাকবে না, আরেকটা কাপে দুচামচ চিনি থাকবে। পিরিচে করে আলাদা চিনি নিয়ে এসো। এমনভাবে চা বানাবে যেন কারোর ঘুম না ভাঙে। এত সকালে মার ঘুম ভাঙলে ভয়াবহ ব্যাপার হবে। খুবই বদরাগী মহিলা।

    আমি শুভ্ৰ নামের মানুষটার কথায় কী যে অবাক হলাম! নিতান্তই অপরিচিত একটা মেয়ের সঙ্গে তিনি কথা বলছেন। অথচ কত স্বাভাবিকভাবেই না কথা বলছেন। শুরুতে তিনি বলতে পারতেন, তোমার নাম বিনু না? তা করেন নি, সরাসরি বিনু নাম দিয়ে কথা আরম্ভ করেছেন। যেন অনেক দিন থেকেই তিনি আমাকে চেনেন। তাঁকে চা বানিয়ে খাওয়াবার দায়িত্ব আমিই এতদিন পালন করে এসেছি।

    এ বাড়ির রান্নাঘর কোথায়, চা-চিনি কোথায়— কিছুই জানি না। গ্যাসের চুলা কীভাবে ধরাতে হয় তাও জানি না। তারপরেও আমি ঠিকই দুকাপ চা বানিয়ে তার কাছে নিয়ে গেলাম। তিনি বললেন, যে কাপে দুচামচ চিনি সেই কাপটা আমাকে দাও। যে কাপে চিনি নেই সেটা তোমার। তুমি তোমার পরিমাণমত চিনি নাও। তারপর এসো চ খেতে খেতে গল্প করি।

    সামান্য দুকাপ চা বানিয়ে আনতে বলার মত তুচ্ছ ঘটনাটাকে মানুষটা কত সুন্দর করে করল। আমি যথেষ্ট বুদ্ধিমতী মেয়ে, তারপরেও কিন্তু উনি না বলা পর্যন্ত বুঝতে পারি নি এক কাপ চা আনা হয়েছে আমার জন্যে।

    বিনু তোমার চা ভাল হয়েছে।

    আমি কিছু বললাম না। এই ক্ষেত্রে রীতি নিশ্চয়ই থ্যাংক ইউ বলা। আমার মুখ দিয়ে থ্যাংক ইউ বের হল না।

    বিনু শোন, চা বানানোর ব্যাপারটা নিয়ে আমি অনেক চিন্তা ভাবনা করেছি। চায়ের পানি ফুটিয়ে চা বানানো হয়। পানি ফুটালে কী হয় জানতো— পানিতে যে ডিজলভড অক্সিজেন এবং অন্যান্য গ্যাস থাকে তা চলে যায়। চা তাতে টেষ্টলেস হয়ে যায়। ফুটন্ত পানি খেতে বিস্বাদ হয় এই কারণে। কাজেই আমার মতে চা বানাতে হবে পানি না ফুটিয়ে। পানির টেম্পারেচার কিছুতেই ৯৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের ওপর উঠতে দেয়া যাবে না। বুঝতে পারছি কী বলছি?

    জ্বি।

    আমার মা তোমাকে বকাঝকা কেমন দিচ্ছে? শোন বিনু, মার কথায় কখনো কিছু মনে করবে না। মার স্বভাব হল বকা দেয়া। কোনো আসমানী ফেরেশতাও যদি আমাদের বাড়িতে থাকতে আসেন, মা তাকে সকাল-বিকাল-সন্ধ্যা তিনবেলা বকা দেবেন। স্যান্ডেল পায়ে হাঁটলে বলবেন স্যান্ডেল খুলে ফেলতে। খালি পায়ে হাঁটলে বলবেন স্যান্ডেল পরতে।

    শুভ্ৰ নামের মানুষটা হাসছে। আমি মুগ্ধ হয়ে তাঁর হাসি দেখছি। তার হাসি দেখতে দেখতেই আমার শরীর বিমঝিম করতে লাগল; আমি চোখের সামনে আমার সর্বনাশ দেখতে পেলাম। পরিষ্কার বুঝলাম, আমার পক্ষে কোনোদিনও এই মানুষটা ছাড়া অন্য কিছু ভাবা সম্ভব হবে না। মানুষটা আমাকে সারাজীবনের জন্যে কিনে নিয়েছেন। তিনি যদি এখন আমাকে বলেন, বিনু শোন, পত্রিকায় পড়ি মানুষ ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে। আমার খুব শখ ঘটনোটা দেখার। তুমি কি কাজটা করবে- আমি দেখব। উনার কথা শেষ হবার আগেই আমি বলব, ছাদ থেকে লাফ দিচ্ছি। আপনি নিচে গিয়ে দাঁড়ান। তাহলে ভাল দেখতে পাবেন।

    আমি এই মানুষটাকে নিয়ে অল্প কদিনে যত ভেবেছি তত ভাবনা কোনো কিছু নিয়েই কখনো ভাবি নি। মানুষটাকে বোঝার চেষ্টা করেছি। তাঁর প্রতিটি কর্মকাণ্ড ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি। প্রথমে একটা ব্যাখ্যা দাঁড়া করাই, তারপর অন্য আরেকটা, আবার তৃতীয় কোনো ব্যাখ্যা।

    যেমন শুরুতে ব্যাখ্যা করলাম– শুভ্ৰ নামের মানুষটা সরল প্রকৃতির। মনের ভেতর কিছুই রাখেন না। কোনো কিছু লুকাতে হবে এটা তাঁর প্রকৃতির ভেতর নেই, যে কারণে নিজের বদরাগী মা প্রসঙ্গে এত অবলীলায় কথা বলতে পারছেন। মার আড়ালে যে বলছেন তা না, মার সামনেও বলছেন। কেউ তার কথায় আহত হচ্ছে কি-না এটা শুভ্র কখনো ভেবে দেখেন না। শিশুদের সঙ্গে এইখানে তার মিল আছে। শিশুরাও অবিকল এ রকম।

    তারপরই মনে হল ব্যাখ্যাটা ঠিক না। তিনি গোপন করেন। অনেক কিছুই গোপন করেন। তার মা আমাকে এক সময় চোর প্রমাণ করার প্রাণান্ত চেষ্টা করলেন। এই ঘটনা তিনি জানেন। কিন্তু আমাকে তিনি কখনো কিছু বলেন নি। যে কোনো কিছুই গোপন করে না সে এত বড় ঘটনা গোপন করবে না। সে হাসতে হাসতে বলবে, বিনু শোন, মার কী অদ্ভুত ধারণা! তুমি না-কি মার টাকা চুরি করেছি। উনি এই প্ৰসঙ্গটা চেপে গেছেন।

    বাচ্চাদের স্বভাব যখন বয়স্ক মানুষদের মধ্যে দেখা যায়। তখন ধরে নিতে হয়। যে মানুষটা হয় বোকা, আর তা যদি না হয় তাহলে সে ভান করছে। শিশু সাজার চেষ্টা করছে। শুভ্ৰ মানুষটা অবশ্যই বোকা নন, তাহলে তিনি কি ভান করছেন? যদি ভান করেন তাহলে ভানটা করছেন কেন? আশেপাশের মানুষদের বিভ্রান্ত করার জন্যে? আশেপাশের মানুষকে কে বিভ্রান্ত করতে চায়? যে নিজে বিভ্রান্ত সে করবে। শুভ্ৰ বিভ্রান্ত না। নিজের ওপর, নিজের বিচার বুদ্ধির ওপর তাঁর আস্থা সীমাহীন। তাহলে তিনি কেন বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছেন? কোনো স্বাৰ্থ সিদ্ধির জন্যে না মজা করার জন্যে?

    উনার সম্পর্কে ভেবে ভেবে আমি কিছু বের করতে পারি না। আমার কাছে মাঝে মাঝে মনে হয়। কেউ যেন তাঁর সম্পর্কে পরিষ্কার কোনো ধারণা না পায় এই জন্যেই তিনি অদ্ভুত ব্যবহারগুলি করেন।

    তাঁর এখন খুব দুঃসময় যাচ্ছে। এই দুঃসময়ে আমি তাঁকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাচ্ছি। আমার কাছে মনে হচ্ছে দুঃসময়টা তিনি উপভোগ করছেন। যুদ্ধবাজ মানুষ যেমন যুদ্ধ করে মজা পায় তেমন মজা। জটিল কোনো সরল অংক ধীরে ধীরে করার মজা। ধাপে ধাপে অংকটা তিনি করছেন। তিনি জানেন সঠিক উত্তরটা তিনি বের করবেন। এটা জানেন বলেই অংকটা করতে তার ভাল লাগছে। তাঁর খুব কষ্ট হচ্ছে কিন্তু এক সময় অংকের উত্তর পেয়ে যাবেন— একারণেই কষ্টটা ভাল লাগছে।

    মাঝে মাঝে মনে হয় তিনি প্ৰতিশোধ নেবার চেষ্টা করছেন। বাবার ওপর প্ৰতিশোধ, মার ওপর প্রতিশোধ। প্রতিশোধ নেবার ভঙ্গিটা গ্ৰাম্য। তার মত মানুষ এই ভঙ্গিতে প্ৰতিশোধ নেবে তা ভাবা যায় না।

    আমি তাঁর কেউ না। তারপরেও আমার খুব ইচ্ছা করে অংকের সমাধানে আমি তাকে সামান্য হলেও সাহায্য করি। জানি তাঁর সাহায্যের প্রয়োজন নেই, তারপরেও পাশে থাকি। মাঝে মাঝে যখন রাতে তার ঘুম হয় না। তিনি আমাকে ডেকে তাঁর ঘরে নিয়ে যান। গল্প করেন। তার ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে কোনো গল্প না। অন্য প্রসঙ্গ— ধর্ম-বিজ্ঞান। যার কোনোটাই আমি জানি না। ধর্ম বলতে আমি জানি বাবাকে দেখে যা জানা। আর আমার বিজ্ঞান হল স্কুল কলেজে পড়া বিজ্ঞানের বই। উনি বলতেন ভিন্ন কথা।

    শোন বিনু, আমরা এক আল্লাহর কথা বলি না? একে বলে একেশ্বরবাদ। সর্ব প্রথম একেশ্বরবাদ কে প্রচার করেন জান? মিশরের এক ফেরাউন। তাঁর নাম ফারাও ইখনাইন। খুব জোরালোভাবে একেশ্বরবাদী ছিল হিব্রুরা। হিব্রুদের নবী কে বল দেখি।

    জানি না।

    জানবে না কেন! অবশ্যই জান। হযরত মূসা আলাইহেস সালাম। হযরত দাউদ, হযরত সুলায়মান আলাইহেস সালাম। আমরা মুসলমানরাও তাদেরকে নবী স্বীকার করি। আচ্ছা বল দেখি, এবার কঠিন প্রশ্ন, বল কোন ধর্মে আল্লাহ বা ঈশ্বর বলে কিছু নেই।

    জানি না।

    অবশ্যই জান, কেন জানবে না। বৌদ্ধ ধৰ্ম।

    আচ্ছা এবার সহজ প্রশ্ন। গৌতম বৌদ্ধ এক পূর্ণিমার রাতে ঘর ছেড়ে বের হয়েছিলেন। কোন পূর্ণিমা?

    জানি না।

    আচ্ছা এখন বিজ্ঞান বল দেখি-বৃত্তকে ৩৬০ ডিগ্রিতে প্রথম কারা ভাগ করতে শেখে।

    জানি না।

    টাইগ্ৰীস নদীর তীরের শহর আশুর নগরের বিজ্ঞানীরা। এই কাজটা তারা করেন খ্রিষ্টের জন্মের ৬০০ বছর আগে। আশুর নগর অতি সুসভ্য ছিল। এই সভ্যতাকে বলা হয় আশেরীয় সভ্যতা।

    শুভ্ৰ মানুষটার এইসব গল্পকে তাঁর মা বলেন জ্ঞানী-গল্প। তিনি তাঁর পুত্রের জ্ঞানী-গল্প খুব আগ্রহের সঙ্গে শোনেন। আমিও শুনি। গল্পগুলি শুনে উনি কী ভাবেন আমি জানি না। আমি ভাবি কেন তিনি গল্পগুলি করছেন? আমাকে মুগ্ধ করার জন্যে? না, তা হবে না। যে মুগ্ধ হয়েই আছে তাকে মুগ্ধ করার কিছু নেই। তাহলে তার উদ্দেশ্যটা কী?

    জ্ঞানের গল্পের ফাঁকে ফাঁকে হঠাৎ করে তিনি কিছু ব্যক্তিগত কথা বলে ফেলেন। জ্ঞানের গল্পের চেয়েও অনেক আগ্রহ নিয়ে আমি এই গল্পগুলি শুনি।

    বিনু শোন, ঐ মানুষটাকে আমার খুঁজে বের করতে হবে।

    কোন মানুষটা?

    ভদ্রলোক মারা গেছেন। বুড়ো একজন মানুষ। আমাকে শুবরু বলে ডাকতেন।

    যিনি মারা গেছেন তাঁকে খুঁজে বের করবেন কীভাবে?

    ও আচ্ছা, তাইতো! তবে তাঁকে আমি খুঁজছি। তাঁকে মানে তাঁর ফ্যামিলির কাউকে। তাঁর স্ত্রী ছেলেমেয়ে।

    কী জন্যে খুঁজছেন?

    খুবই তুচ্ছ একটা কারণ। বলতে ইচ্ছা করছে না।

    বলতে ইচ্ছা না করলে বলবেন না।

    বিনু, তুমি কি লক্ষ করেছ মাঝে মাঝে তুচ্ছ ব্যাপারগুলি বিরাট কিছু হয়ে পড়ে।

    না, লক্ষ করি নি।

    শূন্য হচ্ছে শূন্য— অতি তুচ্ছ। সেই শূন্য কত বড় যে ব্যাপার তা শুধু জানেন গণিতবিদরা। আচ্ছা বিনু, বল দেখি ভারতবর্ষে একজন বিরাট গণিতজ্ঞ জন্মেছিলেন। পৃথিবীর প্রথম পাঁচ জন গণিতজ্ঞের নাম বলতে হলে তাঁর নাম বলতে হয়। বল উনার নাম কী?

    রামানুজন।

    বাহ চমৎকার! এই নামটা তুমি জানতে?

    জানতাম। আপনি বলেছিলেন।

    ও আচ্ছা আমি তাহলে আমার গল্প রিপিট করতে শুরু করেছি। খুবই খারাপ লক্ষণ। বুঝলে বিনু আমার মেন্টাল মেকাপ ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। খুব খারাপ সময় আমার সামনে। আমি ভাঙতে শুরু করেছি।

    উনি যে ভাঙতে শুরু করেছেন তা আমি দেখতে পাচ্ছি। কিছুক্ষণ আগেই তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি প্রচুর মদ্যপান করে দুদিন পর ঘরে ফিরেছেন। তিনি খুব স্বাভাবিক আচরণ করার চেষ্টা করেছেন। তিনি ভাবছিলেন তিনি স্বাভাবিক আছেন। কিন্তু তিনি তা ছিলেন না। এক পর্যায়ে আমাকে বললেন— বিনু তোমার কী ধারণা আমি মানুষ হিসেবে কেমন?

    আমি বললাম, সত্যি জানতে চান?

    তিনি আগ্রহ নিয়ে বললেন, হ্যাঁ, সত্যি জানতে চাই।

    আপনি মানুষ হিসেবে নিম্নশ্রেণীর।

    তুমি এটা কি আমাকে আহত করবার জন্যে বললে? না-কি তুমি সত্যি বিশ্বাস কর মানুষ হিসেবে আমি নিম্নশ্রেণীর।

    আমি আপনাকে আহত করবার জন্যে কখনোই কিছু বলব না। আপনি একটা সত্যি কথা জানতে চাচ্ছিলেন- আমি সত্যি কথাটা বললাম।

    তুমি কেন বলছ? মানুষ হিসেবে আমি নিম্নশ্রেণীর— আচ্ছা ঠিক আছে, এই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে না। তোমার মত অনেকেই আমাকে এখন নিম্নশ্রেণীর ভাবছে। আচ্ছা একটা কাজ কর— তুমি তোমার কনসেপ্টে একজন উচ্চশ্রেণীর মানুষের কথা বল। আমি দেখতে চাচ্ছি। সে আমার চেয়ে কতটা আলাদা।

    আমি শান্ত গলায় বললাম, আমার বাবা ছিলেন একজন উচ্চ শ্রেণীর মানুষ। কোনটা ভাল কোনটা মন্দ তা আমি আমার বাবার কাছ থেকে শিখেছি। তিনি আমাকে শেখাতে পেরেছেন। আপনি অনেক কিছু জেনেও আসল জিনিসটা জানেন না। আপনি ভাল মন্দ জানেন না। আপনার কাছে ভাল যা মন্দও তা। আপনি কিছু মনে করবেন না। অনেক কঠিন কথা বললাম।

    শুভ্ৰ চোখ থেকে চশমা খুলে ফেললেন। তিনি চোখ থেকে চশমা কেন খুলছেন আমি জানি। এই মুহুর্তে তিনি আমাকে দেখতে চাচ্ছেন না। তাঁকে মুখে বলতে হল না, বিনু, তোমাকে আমার অসহ্যবোধ হচ্ছে। তুমি আমার সামনে থেকে যাও। তিনি চশমা খুলে ফেলে আমাকে সামনে থেকে সরিয়ে দিলেন। কোনো কিছু থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার এই অস্বাভাবিক ক্ষমতার জন্যেই তিনি আলাদা। অন্য সবার চে আলাদা। এই বিশেষ ক্ষমতা ছাড়া তার আর কিছু আছে বলে আমার মনে হয় না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশঙ্খনীল কারাগার – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article শুভ্র গেছে বনে – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }