Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শুভ্র – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প307 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৭. শুভ্ৰ যে ঘরে বসে আছে

    শুভ্ৰ যে ঘরে বসে আছে সেটা বেশ বড়। মোটামুটিভাবে পরিচ্ছন্ন। শুভ্ৰ আসবে এই জন্যেই কি ঘর পরিষ্কার করা হয়েছে? কার্পেটের ধূলা ঝাড়া হয়েছে? তিনটা গদি আটা চেয়ার। চেয়ারে গাদির ভেলভেটের লাল রং চটে গিয়েছে। তাতে অসুবিধা হচ্ছে না, কারণ সাদা কাপড়ের কভার লাগানো হয়েছে। কভারগুলি ধুয়ে ইস্ত্রি করা। পরিষ্কার-পরিষ্কার গন্ধ বের হচ্ছে।

    শুভ্র বসেছে মাঝখানের চেয়ারে। ম্যানেজার সাহেব সঙ্গে এসেছেন। তিনি ইচ্ছা করলেই শুভ্রর পাশের কোনো একটা চেয়ারে বসতে পারতেন। তিনি তা করেন নি— শুভ্রর বা পাশে ডিভানে বসেছেন। সেই ডিভানেও সাদা কাপড়ের চান্দর। এই চাঁদরও ধুয়ে ইস্ত্রি করা। মাথার উপর ফ্যান ঘুরছে। ফ্যানে বাতাসের চেয়ে শব্দ হচ্ছে বেশি। পুরনো কালো রঙের একটা ওয়ারডোব দেয়ালের সঙ্গে লাগানো। ওয়ারডোবের ওপর বড় ক্যাসেট প্লেয়ার। ক্যাসেট প্লেয়ারটা নতুন। দুটা সাউন্ড বক্স ওয়ারডোবের দুপাশে মেঝেতে নামানো। ক্যাসেট প্লেয়ারের ওপর গাদা করে রাখা ক্যাসেট।

    শুভ্রর ডান পাশে বেতের বড় ইজিচেয়ার। ইজিচেয়ারে একটা বালিশ এবং কোলবালিশ। দুটাতেই সাদা ওয়ার। ইজিচেয়ারটা দেখে শুভ্রর খানিকটা অস্বস্তি লাগছে। ঠিক এ রকম একটা ইজিচেয়ার তাদের বাড়িতে আছে। বারান্দায় থাকে। মোতাহার সাহেব এই চেয়ারে অনেক সময় কাটিয়েছেন। তবে সেই চেয়ারে বালিশ বা কোলবালিশ কোনোটাই নেই। এ ব্লকম একটা চেয়ার শুভ্ৰ তার বাবার অফিসেও দেখেছে। সেখানে বালিশ আছে কি-না শুভ্ৰ মনে করতে পারছে না।

    শুভ্রর বাবা কি এই বাড়িতে প্রায়ই আসতেন? এই বড় ঘরটা কি বিশেষভাবেই তার জন্যে সাজানো? ম্যানেজার সাহেবকে জিজ্ঞেস করলে জানা যাবে। এই মুহূর্তে তাঁকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা করছে না। মঞ্জুকে জিজ্ঞেস করলেও জানা যাবে। মোতাহার সাহেবের খাস বেয়ারা মঞ্জু শুভ্ৰর সঙ্গে এসেছে। সে ভেতরে ঢুকে নি, বারান্দায় মোড়ায় বসে আছে। এবং একটু পরপরই মাথা ঘুরিয়ে শুভ্রকে দেখার চেষ্টা করছে। মঞ্জুর ভাবভঙ্গি দেখে শুভ্রর মনে হচ্ছে তার বাবা যতবার এই বাড়িতে এসেছেন, মঞ্জুও ততবার এসেছে। তবে কখনো ঘরে ঢুকে নি। মঞ্জুকে ঘরের বাইরে মোড়াতে বসেই সময় কাটাতে হয়েছে।

    শুভ্র ঘরের দৃশ্য দেখায় মন দিল। দেয়ালে তিনটা ছবি আছে। তিনটা ছবিই রঙ পেন্সিলে আঁকা। ছবির নিচে শিল্পীর নামের আদ্যক্ষর ইংরেজিতে লেখা— A, চার বছর আগের তারিখ দেয়া। শিল্পীর পছন্দের বিষয়বস্তু মনে হয়। সূর্যস্ত। নদীতে সূর্যস্ত হচ্ছে। পাখি উড়ে যাচ্ছে। মেঘের ওপর সূর্যের লাল আলো পড়েছে। ছবিগুলি কাচা তারপরেও দেখতে ভাল লাগছে। ঘরে মোট তিনটা দরজা। একটা বাইরে থেকে ঘরে ঢোকার জন্যে। আর দুটা দরজা অন্দরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্যে। তিনটা দরুজাতেই লাল ভেলভেটের পর্দা। মনে হচ্ছে লাল ভেলভোটের পর্দা এদের খুব পছন্দ। ঘরের দেয়াল ঝকঝকি করছে। খুব সম্ভব অল্প কিছুদিন হল প্লাষ্টিক পেইন্ট করা হয়েছে। রঙের গন্ধ ঘরের ভেতর আটকা পড়ে আছে, এখনো যায় নি। শুভ্রর ঠিক মুখোমুখি একটা দেয়াল ঘড়ি আছে। পেন্ডুলাম ঘড়ি— তবে ঘড়ির ঘণ্টা নষ্ট। কিছুক্ষণ আগে এগারোটা বেজেছে। কিন্তু কোনো ঘণ্টা বাজে নি। দেয়াল ঘড়ির পেন্ডুলাম বাক্সে লেখা–Swing Burn Company Calcutta. ঘরে কোনো ফুলদানী দেখা গেল না। তাঁর কেন জানি মনে হচ্ছিল। ফুল ভর্তি ফুলদানী দেখবে। হলুদ রঙের বড় বড় ফুল। সূর্যমুখী ফুল। এত ফুল থাকতে সূৰ্যমুখী ফুলের কথা তার মনে হচ্ছে কেন তাও পরিষ্কার হচ্ছে না।

    কোনো গ্রান্ডমাস্টারের আঁকা ব্রথেল হাউসের ছবির ক্লিপ্রিন্ট-এ কি সে সূৰ্যমুখী ফুলের ছবি দেখেছে। শুভ্ৰ মনে করতে পারল না। সূর্যমুখী ফুলের ছবি সবচে বেশি কে এঁকেছেন? গাগিনী। কান কেটে প্রেমিককে তিনিই কি পাঠিয়েছিলেন?

    শুভ্রর নিজের কাছে খুব অদ্ভুত লাগছে। আজ রবিবার, সময় সকাল এগারোটা। সে তার ম্যানেজার এবং অফিসের খাস বেয়ারা নিয়ে এসেছে তার মৃত বাবার একটি বিশেষ ধরনের ব্যবসার খোঁজখবর করতে। পুরো ব্যাপারটায় এক ধরনের সূক্ষ্ম হিউমার আছে। হিউমারটা ঠিক কোথায় শুভ্র ধরতে পারছে না। শুধু বুঝতে পারছে তার কেন জানি হাসি পাচ্ছে। মানুষ পৈতৃক সূত্রে অনেক কিছু পায়। কেউ পায় বৈভব, কেউ দেন, কেউ সম্মান, কেউ বা অসম্মান। সে পৈতৃক সূত্রে ছোটখাট একটা ব্রোথেল পেয়েছে। একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। চোরাকারবারির মত কোনো বেআইনি ব্যবসা না। খুবই আইনসম্মত ব্যবসা। এর জন্যে যথারীতি ট্যাক্স দেয়া হয়। এই বাড়িতে একটা লিকার হাউস আছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স পাওয়া লিকার হাউস! ক্যাশিয়ার সাহেবের কাছে শুভ্ৰ শুনেছেএই ব্যবসাটাই সবচে লাভের এবং ঝামেলা সবচে কম। লিকার শপটাও শুভ্ৰর দেখার শখ ছিল। অফিস থেকে বলা হয়েছে, লিকার শপ দেখার কিছু নাই। ছোটখাট গুদামের মত। দুজন কর্মচারী লিকার শপ চালায়। যার দরকার বোতল কিনে নিয়ে যায়; বাকিতে কোনো বিক্রি হয় না। দোকান খুলে সন্ধ্যার পর, চালু থাকে। সারা রাত। ফজরের আজানের সঙ্গে সঙ্গে দোকান বন্ধ হয়ে যায়। শুভ্র অবাক হয়ে বলেছে- দোকান যারা চালায় তারা ঘুমায় না?

    ম্যানেজার সাহেব বলেছেন, দিনে ঘুমায়।

    খারাপ লাগে না?

    খারাপ লাগবে কেন? অভ্যাস হয়ে গেছে।

    লিকার শপ যে চালায় তার নাম কী?

    তার নাম সগীর মিয়া। সে আসবে। তাকে বলেছি। এইখানে আপনার সঙ্গে দেখা করতে।

    এখনতো দিন, সগীর মিয়া নিশ্চয়ই ঘুমাচ্ছে।

    জ্বি ঘুমাচ্ছে।

    এই বাড়ির মেয়েগুলিও নিশ্চয়ই ঘুমাচ্ছে।

    না তারা ঘুমায় নাই। আপনি আজ আসবেন সবাই জানে।

    শুভ্ৰ তাকিয়ে আছে দেয়াল ঘড়ির পেন্ডুলামের দিকে। পোণ্ডুলাম দুলছে। পোণ্ডুলামের টাইম পিরিয়ড T ইজ ইকুয়েলস টু…

    আচ্ছা সে এইসব ভাবছে কেন? তার চিন্তা স্থির হচ্ছে না। দ্রুত সরে সরে যাচ্ছে। ব্রোথেলি হাউসের কোনো ঘড়ি দেখে যদি মনে হয়। টাইম পিরিয়ড T ইকুয়েলস টু তাহলেতো মুশকিল। আচ্ছা মস্ত বড় একটা পেণ্ডুলাম তৈরি করলে কেমন হয়? পোণ্ডুলামের কেন্দ্ৰবিন্দু থাকবে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্ৰবিন্দুতে। পেন্ডুলামের দৈর্ঘ্য ধরা যাক দশ আলোকবর্ষ। পেণ্ডুলামের দোলনপথ যদি দশ আলোকবর্ষ হয় তাহলে টাইম পিরিয়ড T কত হবে? এই দোলকের দোলনকালের ওপর দর্শকের কোনো ভূমিকা কি থাকবে না? দর্শক যদি পেণ্ডুলামের ওপর বসে। থাকে তাহলে কী হবে? শুভ্রর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে। মাথার ভেতরের চিন্তাগুলি জট পাকিয়ে যাচ্ছে।

    তোমার চারদিকে আমি অসংখ্য ছোট ছোট ধাঁধা তৈরি করে রেখেছি। এইসব ধাধা। যদি তোমার চোখে পড়ে তাহলে সমাধান করতে শুরু করা। তখন তোমাকে জটিল ধাঁধা দেয়া হবে? তোমার যদি ভাগ্য ভাল হয় তাহলে তোমাকে এমন ধাধা দেব যার সমাধান আমি নিজেও করি নি।

    দ্য ব্লাইন্ড কসমস নামের এক উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কথাগুলি বলছে। প্রধান চরিত্র মানুষ না, সে একটি কম্পুটার। আচ্ছা হঠাৎ করে ব্লাইন্ড কসমস:- এর নায়কের কথা মনে হল কেন? সে কি নিজেকে ব্যস্ত রাখার জন্যে এসব ভাবছে?

    ভেলভেটর পর্দা সরিয়ে একজন মহিলা ঢুকছেন। তাঁর বয়স পঁচিশ থেকে ত্ৰিশের ভেতর। গোলগাল মুখ। মাথা ভর্তি চুল। চুল কালো না, লালচে ভাব আছে। স্বাস্থ্য ভাল। তিনি তেমন কোনো সাজসজ্জা করেন নি, তবে চোখে গাঢ় করে কাজল দিয়েছেন। মহিলা সাধারণ বাঙালি মেয়েদের চেয়ে লম্বা। গায়ের রঙ গোলাপি না হলেও গোলাপির কাছাকাছি। শুভ্র কী করবে? উঠে দাঁড়াবে? উঠে দাঁড়িয়ে মেয়েদের প্রতি সম্মান দেখানো একটি প্রাচীন নিয়ম। এই সন্মান শুধু মেয়ে বলেই কাউকে দেখানো হচ্ছে না।– মেয়ের ভেতরে একজন মা বাস করছেন, তাকে দেখানো হচ্ছে। সম্মান দেখানোর এই নিয়মটা সুন্দর এবং শোভন। শুভ্ৰ উঠে দাঁড়াল। ম্যানেজার সাহেব অবাক হয়ে শুভ্রর দিকে তাকালেন। তাঁর উঠে দাঁড়ানো হয়ত ঠিক হয় নি। মহিলাও মনে হয় লজ্জা পেয়ে গেছেন। কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। ম্যানেজার সাহেব ধমকের গলায় বললেন, তোমার মা কোথায়?

    মার শরীর খুব খারাপ। একশ তিন জ্বর।

    ম্যানেজার বিরক্ত মুখে বললেন, যখনি আসি শুনি জ্বর। আজ ছোট সাহেবকে নিয়ে এসেছি। উনার কিছু জরুরি কথা ছিল। আসতে বল।

    শুভ্ৰ বলল, না না আমার কোনো জরুরি কথা নেই। আমি শুধুইনাদের দেখতে চেয়েছিলাম। এর বেশি কিছু না।

    মহিলা বসতে বসতে বললেন, সবাইরে ডাক দিব। দেখবেন?

    না দরকার নেই। ম্যানেজার শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বললেন, আপনার কী সব প্রশ্ন ছিল। আপনি জিজ্ঞেস করেন। এই মেয়ের নাম আসমানী।

    আসমানী বসেছে মেঝের কার্পেটে। তার মনে হয়। কার্পেটে বসে অভ্যাস আছে। সে সুন্দর করে বসেছে এবং খুবই কৌতূহলী চোখে শুভ্ৰকে দেখছে। শুভ্র অনেক কিছু বলবে বলে ভেবে এসেছিল, এখন কোনো কিছুই মনে আসছে না। বরং মেয়েটির কৌতূহলী চোখের সামনে নিজেকে খুবই অসহায় লাগছে। মেয়েটা এমন ভাবে তার দিকে তাকিয়ে না থাকলে হয়ত তার ভাল লাগত। শুভ্র নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নিল। তারপর মনে হল এই কাজটাও ঠিক হয় নি। সে মেয়েটার সঙ্গে কথা বলবে। আর তাকিয়ে থাকবে। Swing Born company-র ঘড়ির দিকে। এটা কেমন কথা? মেয়েটা কানে সাদা পাথরের দুল। পরেছে! দুলগুলি সুন্দর। ঝকঝাক। করছে। শুভ্র বলল, আপনি ভাল আছেন?

    আসমানী হোসে ফেলে বলল, ভাল আছি।

    ম্যানেজার সিগারেট ধরাতে ধরাতে বিরক্ত মুখে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বললেন, এদেরকে আপনি করে বলার দরকার নাই।

    আসমানী এবার শব্দ করে হোসে ফেলল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই হাসি থামিয়ে শুভ্ৰকে বলল, আপনের ময়না পাখিটা কি বেঁচে আছে?

    শুভ্ৰ বিস্মিত হয়ে বলল, ময়না পাখির খবর আপনি জানেন কীভাবে?

    আসমানী বলল, পাখিটা আমার মা আমার জন্যে কলমাকান্দা থেকে আনছিল। বড় সাহেবের পাখিটা দেখে খুব পছন্দ হল। তিনি নিয়ে গেলেন। কাজটা ঠিক হয় নাই। একজনের পছন্দের জিনিস আরেকজনরে দিতে নাই। বড় সাহেব যখন দোজখে যাবেন তখন এই ময়না পক্ষী ঠোকর দিয়া তার চোখ গেলে দিবে। হি হি হি।

    শুভ্র আসমানীর হাসি সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে বলল, বাবা কি প্রায়ই এখানে আসতেন?

    মাঝে মধ্যে আসতেন।

    বাবা মানুষ কেমন ছিলেন?

    আসমানী কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে সহজ গলায় বলল, একেকজন মানুষ একেকজনের কাছে একেক রকম। আপনের বাবা আপনের কাছে এক রকম, আপনের মার কাছে আরেক রকম আবার আমার কাছে অন্য আরেক রকম।

    শুভ্ৰ মেয়েটির কথায় সামান্য ধাঁধার মধ্যে পড়ে গেল। সে বেশ গুছিয়ে কথা বলছে। কথা বলার মধ্যে সামান্য গ্ৰাম্য টান আছে, তবে অস্পষ্টতা নেই।

    শুভ্র বলল, আপনি পড়াশোনা কতদূর করেছেন?

    সামান্য।

    সামান্যটা কতটুক?

    বাংলা বই পড়তে পারি। স্কুল কলেজে কোনোদিন যাই নাই।

    আপনে কি গান জানেন?

    না, আমি গান জানি না।

    আসমানী আবারো শব্দ করে হাসতে গিয়েও হাসল না। হঠাৎ গম্ভীর হয়ে বলল, আপনে যে কথা বলেছেন, বড় সাহেবও যেদিন আমাকে প্রথম দেখলেন এই কথা বললেন। বললেন, আসমানী তুমি গান জান? আমি যখন বললাম, না— তখন তিনি মনে দুঃখ পেলেন।

    দুঃখ পেলেন বুঝলেন কী করে?

    দেখে বুঝলাম। কেউ দুঃখ পেলে বোঝা যায়।

    সব সময় বোঝা যায় না। আমি আপনাকে দেখে খুবই দুঃখ পাচ্ছি। কিন্তু আপনি বুঝতে পারছেন না।

    আসমানী কিছু বলল না। তাকিয়ে রইল।

    শুভ্র বলল, বাবা কি আপনাকে খুব পছন্দ করতেন?

    জানি না। কোনোদিন জিজ্ঞাস করি নাই। তবে আমার বুক তাঁর খুব পছন্দ ছিল। আপনেরও পছন্দ হবে। ব্লাউজ খুলব? বুক দেখবেন?

    ম্যানেজার ছালেহ উদ্দিন ক্ষিপ্ত গলায় বললেন, আসমানী খবরদার। তোমার বেয়াদবী অনেক সহ্য করেছি। আর না।

    আসমানী মিষ্টি করে হাসল। ম্যানেজারের কথায় সে ভয় পেয়েছে বলে মনে হল না। শুভ্ৰ বলল, বাবা মারা গেছেন এই খবর শুনে কি আপনার মন খারাপ হয়েছিল?

    না হয় নাই। আমার দুঃখ কষ্ট কম।

    শুধু আপনারই দুঃখ কষ্ট কম না-কি আপনার মত যারা এখানে থাকেন তাদের সবারই দুঃখ কষ্ট কম?

    সবারই কম। তবে আমার একটু বেশি কম।

    ম্যানেজার শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি আসল কথা যা বলতে এসেছ বলে শেষ কর। চল যাই। এইখানকার মেয়েরা সব দুষ্ট প্রকৃতির। আসল কথাটা বল।

    আসমানী বলল, আসল কথাটা কী?

    শুভ্ৰ বলল, আসল কথাটা হচ্ছে আমি এসেছি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্যে। আমি কোনোদিন কল্পনাও করিনি যে এমন কিছুর সঙ্গে আমরা যুক্ত।

    আপনে আর যুক্ত থাকবেন না?

    না।

    আমরা যাব কোথায়? আমাদের যাবার কোনো জায়গা নাই। আমাদের দেশের বাড়ি বলে কিছু নাই। বাড়ি ঘর বলে কিছু নাই। এইটাই আমাদের ঠিকানা।

    আমি আপনাদের সবার জন্যে ব্যবস্থা করে দেব। বলতে পারেন ক্ষতিপূরণ।

    কী দিয়া ক্ষতিপুরণ করবেন? টাকা দিয়া?

    যেভাবেই হোক আমি ক্ষতি পূরণ করব।

    আচ্ছা ভাল। আর কিছু বলবেন?

    শুভ্র বলল, দেয়ালের এই ছবি তিনটা কি আপনার আঁকা?

    আসমানী বলল, না। পুরুষ মানুষের সঙ্গে শোয়া ছাড়া আমার অন্য কোনো গুণ নাই। আমি আপনের বাবার সঙ্গে বিছানায় গেছি- আপনে চাইলে আপনার সঙ্গে যাব।

    আসমানী তীক্ষ্ণ এবং তীব্র দৃষ্টিতে শুভর দিকে তাকিয়ে আছে। সেই দৃষ্টিতে ঘৃণা ছাড়া আর কিছু নেই। শুভ্র এই ঘৃণার কারণ ধরতে পারল না। ম্যানেজার শুভ্ৰর দিকে তাকিয়ে বললেন, চলতো উঠি। যথেষ্ট হয়েছে। তোমাকে এখানে আনা ভুল হয়েছে। বিরাট ভুল।

    শুভ্ৰ উঠে দাঁড়াল। সে সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে অস্বস্তি বোধ করছে। তার বারবারই মনে হচ্ছে কী একটা জরুরি কথা জিজ্ঞেস করার ছিল। জিজ্ঞেস করা হয় নি। কথাটা এখন মনে পড়ছে না, পাৱে মনে পড়বে; তখন খুব কষ্ট লাগবে। এইসব ক্ষেত্রে প্রশ্নটা সাধারণত খুবই তুচ্ছ ধরনের হয়। তুচ্ছ প্রশ্ন বলেই মস্তিষ্ক প্রশ্নটা উপস্থিত সময়ে ভুলে যায়, পরে মনে করে। তখন তুচ্ছ প্রশ্ন আর তুচ্ছ থাকে না। ভারী একটা প্রশ্ন হয়ে মাথায় চাপ ফেলতে থাকে।

     

    রাস্তার পাশেই গাড়ি দাঁড়ানো। সরু রাস্তা, ছোট্ট গাড়িতেই রাস্তা আটকে গেছে। রিকশাওয়ালা গালি দিতে দিতে অনেক কস্টে গাড়ির পাশ দিয়ে রিকশা পার করছে। শুভ্র ম্যানেজারকে বলল, গাড়িকে চলে যেতে বলুন, আমি হেঁটে যাব।

    ম্যানেজার বলল, হাঁটার দরকার কী?

    দরকার নেই। তবু হাঁটব। এমন কিছু দূরতো না। দেখতে দেখতে যাই।

    ছালেহ উদ্দিন বললেন, এইসব জায়গায় দেখার কিছু নাই। নোংরা, ময়লা। ডাস্টবিন পরিষ্কার করার জন্যে মিউনিসিপালটির গাড়ি পর্যন্ত আসে না। নরকের রাস্তাঘাট এরকমই থাকে।

    মঞ্জু গাড়ির দিকে ছুটে গেল। ড্রাইভারকে হাতের ইশারায় চলে যেতে বলে আবারো ছুটে ছোট সাহেবের কাছে চলে এল; মঞ্জু গত এক সপ্তাহ ধরে ছোট সাহেবকে ছায়ার মত অনুসরণ করছে। সম্ভবত তাকে কিছু বলা হয়েছে। মঞ্জু এখন আর অফিসে ঘুমায় না। ছোট সাহেবের বাড়ির বারান্দায় শুয়ে থাকে। সে রাতে ঘুমায় না বলেও মনে হয়। রাতে শুভ্ৰ যতবার দরজা খুলে বাইরে আসে ততবারই মঞ্জু বিছানায় উঠে বসে শুভ্রর দিকে তাকায়। শুভ্ৰ আবার ঘরে ঢুকলে মঞ্জু শুয়ে পড়ে।

    রাস্তার লোকজন শুভ্ৰর দলটার দিকে তাকাচ্ছে। তাদের চোখে কৌতূহল। কৌতূহলের সঙ্গে চাপা কৌতুক। রাস্তার পাশের পান-সিগারেটের ছোট ছোট দোকানগুলির মালিকরা কি শুভ্রকে চিনে? তারা প্ৰত্যেকেই শুভ্রকে সালাম দিল। দোকানিদের আরেকটা ব্যাপারও শুভ্ৰকে বিস্মিত করল। তাদের সবার মাথায় টুপি। সবার চেহারাতেই ধাৰ্মিক ভাব। কারো কারো চোখে সুরমা।

    ছালেহ উদ্দিন শুভ্রর পাশে পাশে হাঁটছেন। তার হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। সিগারেটের ধোঁয়ায় শুভ্রর কষ্ট হচ্ছে; শুভ্ৰ আগে তাঁকে কখনো সিগারেট খেতে দেখে নি। বাবার মৃত্যুর দিন দেখেছে আর আজ দেখছে। আজ তাঁকে মনে হচ্ছে চেইন স্মোকার। সে একটার পর একটা সিগারেট খেয়ে যাচ্ছে। মুখের সামনে ধোঁয়া না থাকলে লোকটার মনে হয় ভাল লাগে না। ধোয়ার ভেতর দিয়ে কথা বলতেই তার বোধহয় ভাল লাগে।

    ছোট সাহেব।

    জ্বি।

    শুনেছেন বোধহয় সাপ মাঝে মাঝে ব্যাঙ গিলে খুব অসুবিধায় পড়ে। না পারে ব্যাঙটাকে পুরোপুরি গিলতে, না পারে পুরোপুরি উগরে ফেলতে।

    হ্যাঁ শুনেছি।

    আমাদের হয়েছে সাপে ব্যাঙ গেলার অবস্থা। আমরা ব্যাঙ গিলতেও পারব না, উগরাতেও পারব না। আমাদের পক্ষে হাজার চেষ্টা করেও এই ব্যবসা থেকে বের হওয়া সম্ভব না।

    আপনি এক সময় বলেছেন সম্ভব। চব্বিশ ঘণ্টার ভেতর সম্ভব। আপনার হাতে পার্টি আছে। তাদেরকে ব্যবসা বিক্রি করে দেবেন।

    আপনাকে সান্ত্বনা দেবার জন্যে বলেছিলাম। আসলে সম্ভব না। আমাদের ব্যাঙ গিলে ফেলেছি। ছোটখাট ব্যাঙ না, বিরাট গঁতা ব্যাঙ।

    এরকম অবস্থা যখন হয় তখন সাপটায় কী হয়? সাপটা কি ব্যাঙ মুখে নিয়ে মারা যায়?

    ছালেহ উদ্দিন কিছু বললেন না। তাকিয়ে রইলেন। তার ভুরু কুঁচকে আছে। তাকে খুবই চিন্তিত মনে হচ্ছে। সেই তুলনায় শুভ্রকে হাসি খুশি দেখাচ্ছে। মনে হচ্ছে সে তার দল নিয়ে বেড়াতে বের হয়েছে।

    ম্যানেজার সাহেব।

    জ্বি।

    চা খেতে ইচ্ছা করছে। ঐ যে দোকানটায় চা বানাচ্ছে, লোকজন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছে- ওদের খাওয়া দেখে মনে হচ্ছে চা-টা ভাল। চলুন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চা খাই।

    শুভ্রর ধারণা হয়েছিল ম্যানেজার আপত্তি করবে। তা করল না। শুভ্রর মনে হল— ম্যানেজার ভদ্রলোকের বুদ্ধি আছে। একজন বুদ্ধিমান ম্যানেজার মালিকের প্রতিটি ইচ্ছা পালন করবে। শুধু বিশেষ বিশেষ ইচ্ছার ক্ষেত্রে বলবে— না। সেই না বলা হবে শক্ত গলায়। সেই না কখনো হ্যাঁ হবে না।

    ম্যানেজার সাহেব।

    জ্বি।

    আপনার ধারণা বাবার এই ব্যবসা থেকে আমরা মুক্তি পাব না?

    পাব না কেন, অবশ্যই পাব। তবে সময় লাগবে।

    কত সময় লাগবে?

    এখনো বুঝতে পারছি না।

    এটা কি বুঝতে পারছেন যে আমি এই ব্যবসা থেকে মুক্তি চাই।

    বুঝতে পারছি।

    একটা কাজ করতে পারবেন?

    কী কাজ বলুন দেখি পারি কি-না।

    যে কটি মেয়ে ঐ বাড়িতে থাকে তাদের সবার নাম, বয়স, কে কোথেকে এখানে এসেছে, তাদের পড়াশোনা, তাদের শখ, তাদের স্বপ্ন এইসব খুব গুছিয়ে লিখে আমাকে দিতে পারবেন?

    তার দরকার কী?

    দারকার আছে।

    আচ্ছা আমি দেব।

    কবে দেবেন?

    খুব শিগগীরই দেব। তুমি কি চা খেয়ে অফিসে আসবে? অফিসের কাগজপত্র তোমাকে বুঝে নিতে হবে।

    আজ থাক। আরেক দিন যাব।

    আচ্ছা থাক।

    আপনাকে আরেকটা কাজ করতে হবে।

    বল কী কাজ।

    ময়না পাখিটা আসমানীকে পৌঁছে দেবেন।

    আচ্ছা।

    চায়ের দোকানি শুভ্ৰকে দেখে খুবই অবাক হল। চা বানানো বন্ধ করে সে ছুটে গিয়ে কোথেকে যেন একটা টুল নিয়ে এল। শুভ্র বলল, আপনি কি আমাকে চেনেন?

    দোকানদার হাসি মুখে বলল, জ্বি চিনি।

    আমার নাম জানেন?

    জ্বি না। নাম জানি না।

    আমার নাম শুভ্ৰ। আপনার নাম কী?

    আমার নাম কেরামত আলি।

    আপনি আমার নাম জানেন না, অথচ আমাকে চেনেন। এটা কীভাবে হল?

    আপনার পিতাকে চিনতাম। সেইভাবে আপনারে চিনি।

    আমার বাবা কি আপনার দোকানো কখনো চা খেয়েছেন?

    জ্বি না।

    আপনার সঙ্গে তার কি কখনো কোনো কথা হয়েছে?

    জ্বি না।

    তারপরেও আপনি তাকে চেনেন? আমার বাবা তাহলে একজন বিখ্যাত ব্যক্তি ছিলেন?

    জ্বি অবশ্যই।

    একজন বিখ্যাত মানুষের পুত্র আপনার দোকানে এসে চা খাচ্ছে। আপনার সঙ্গে গল্প করছে। আপনার ভাল লাগছে না?

    কেরামত কিছু বলল না। ভীত চোখে তাকাল ম্যানেজারের দিকে। ম্যানেজার সিগারেট ধরিয়াছে। সিগারেটের ধোঁয়ায় সে তার মুখ ঢেকে ফেলেছে।

    চা খেতে ভাল হয় নি। গাদাখানিক চিনি দেয়া হয়েছে। সর ভাসছে। কিন্তু শুভ্ৰ আগ্রহ করেই সেই চায়ে চুমক দিচ্ছে। সে হঠাৎ চায়ের কাপ নামিয়ে কেরামতের দিকে তাকিয়ে বলল, আপনার দোকানে আগরবাতি পুড়ছে কেন? শুধু আপনার দোকানো না- সব দোকানেই দেখছি আগরবাতি। কারণটা জানতে পারি?

    কোনো কারণ নাই। অনেকদিন থাইকাই চলতাছে। আমার বাপজানরেও দেখছি আগরবাতি জ্বালাইতে। আমিও জ্বালাই।

    আপনার বাপজান এখন কোথায়?

    উনার ইন্তেকাল হয়েছে।

    বাবার পর আপনি এইখানেই দোকান দিলেন।

    জ্বে। এই জাগায় একবার যে বসে হে আর বাইর হইতে পারে না। বড় কঠিন জায়গা।

    ছালেহ বলল, শুভ্ৰ চা খাওয়াতো হয়েছে। চল এখন উঠি।

    শুভ্র বলল, আমি পান খাব। হাফিজ মিয়ার দোকানের পান। আর আমি এখন যাব না। কেরামতের সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প করব। আপনার কাজ থাকলে চলে যান।

    ম্যানেজার গেলেন না। একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ালেন। তাঁর ভুরু কুঁচকে আছে। তিনি বিরক্তি সামলাতে পারছেন না। মঞ্জু ছুটে গেছে পান আনতে।

    শুভ্ৰ কেরামতের দিকে তাকিয়ে বলল, এই জায়গাটা সম্পর্কে কিছু বলুনতো শুনি।

    কী বলব। কন? এইটা সাক্ষাত হাবিয়া দোজখ।

    আপনার রুটি রুজি সবই এইখানে— আপনারতে হাবিয়া দোজখ বলা উচিত না।

    কেরামত নিঃশ্বাস ফেলে বলল, এই জায়গা থাকব না। এইটা উইঠা যাইব।

    কোন?

    পরিষ্কার আলামত আছে। অন্য কেউ বুকুক না বুঝুক আমরা বুঝি।

    কীভাবে বুঝেন?

    এইসব জায়গায় সব সময় কিছু হিজড়া থাকে। এরার নিজেরার কোনো ভাগ্য নাই বইল্যা এরা যে জায়গায় থাকে সেই জায়গার জন্যে ভাগ্য নিয়া আসে। এইখান থাইক্যা সব হিজড়ারা উঠাইয়া দিছে।

    উঠিয়ে দিল কেন?

    জানি না। জানার চেষ্টাও করি না। আমি দোকানদার মানুষ। অত জানলে আমার পুষে না। আমি চা বেচি। আর রং দেখি।

    শুভ্ৰ উঠে দাঁড়াল। চায়ের দাম দিতে গেল। কেরামত জোড়হস্ত করে বিনীত গলায় বলল, চায়ের দাম দিলে মনে কষ্ট পাব ছোট সাহেব। বড়ই কষ্ট পাব।

    শুভ্র তার মনে কষ্ট দিল না। চায়ের দাম না দিয়েই রওনা হল। তার এখন বাড়িতে যেতে ইচ্ছা করছে না। অফিসেও যেতে ইচ্ছা করছে না। ইচ্ছে করছে। পরিচিতি কারো সঙ্গে গল্প করতে। মীরার সঙ্গে গল্প করতে পারলে ভাল হয়। অনেকদিন মীরার সঙ্গে গল্প করা হয় না।

    ম্যানেজার সাহেব।

    জ্বি।

    একটা টেলিফোন করা দরকার।

    বাসায় চলে যান। বাসা থেকে কথা বলেন।

    না বাসায় যাব না। অফিসেও যাব না।

    আচ্ছা ব্যবস্থা করছি।

     

    টেলিফোন ধরলেন ইয়াসিন সাহেব। শুভ্ৰর হ্যালো বলা শুনেই বললেন, কে শুভ্র না?

    শুভ্র বলল, জ্বি।

    কেমন আছ তুমি?

    ভাল।

    মীরার কাছে তোমার অসাধারণ রেজাল্টের কথা শুনেছি। আমি মীরাকে বললাম, ছেলেটাকে একদিন নিয়ে আয়। সারদিন থাকবে তার সঙ্গে গল্প করব। মীরা মনে হয় তোমাকে কিছু বলে নি।

    জ্বি না।

    তুমি নিশ্চয়ই আমার সঙ্গে কথা বলার জন্যে টেলিফোন কর নি। মীরাকে দেব?

    জ্বি দিন।

    ও টেলিফোন ধরবে কি-না বলতে পারছি না। ওর প্রচণ্ড মাথা ধরেছে বলে স্টিমেটিল খেয়ে দরজা বন্ধ করে শুয়ে আছে। আমাকে বলে গেছে কিছুতেই তাকে ডাকা যাবে না।

    তাহলে থাক।

    উঁহু তুমি ধরে থাক। প্রিয় মানুষের সঙ্গে কথা বলা মাথা ধরার সবচে ভাল অষুধ। তবে শোন ও যদি টেলিফোন না ধরে তুমি কিন্তু মন খারাপ করো না।

    মীরা এসে টেলিফোন ধরল। শুভ্ৰ বলল, তোমার নাকি খুব মাথা ব্যথা?

    আরে দূর মাথা ব্যথা ফ্যথা কিছু না। বাবা সকাল থেকে এমন বক বক শুরু করেছে। বাবার হাত থেকে বাঁচার জন্যেই মাথা ব্যথার কথা বলে দরজা বন্ধ করে গান শুনছিলাম।

    কী গান?

    ট্রাম্পেট। তুই বোধহয় জানিস না। ট্রাম্পেট আমার খুব প্রিয় বাজনা।

    আগে জানতাম না। এখন জানলাম।

    তোর খবর কী?

    ভাল।

    কী রকম ভাল?

    বেশ ভাল।

    আমার কিন্তু মনে হচ্ছে না। তুই খুব ভাল আছিস। আমার ধারণা তুই বদলে যাচ্ছিস। দ্রুত বদলাচ্ছিস।

    এ রকম ধারণ হচ্ছে কেন?

    কেন হচ্ছে বলতে পারছি না। আমার কোনো সিক্সথ সেন্স নেই। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি। আমি কি তোকে একটা ছোট্ট উপদেশ দিতে পারি? উপদেশ যে তোকে কাজে লাগাতে হবে তা না। দেব উপদেশ।

    না।

    না কেন?

    উপদেশ মানুষকে কন্ডিশান্ড করে ফেলে। আমি কিছু সময় প্রভাব মুক্ত হয়ে থাকতে চাই। যে-কোনো বড় এক্সপেরিমেন্ট প্রভাব মুক্ত হয়ে করতে হয়।

    তোর ধারণা তুই বড় কোনো এক্সপেরিমেন্ট করছিস?

    হ্যাঁ।

    শুভ্ৰ তুই কিন্তু বোকা। আমরা ক্লাসের সবাই তোকে বোকা হিসেবে জানি। যখন তোর চারপাশে বইপত্র থাকে তখন তুই অসম্ভব বুদ্ধিমান। কিন্তু সেই বুদ্ধি শুধুমাত্র পড়াশোনাতেই সীমাবদ্ধ। এর বাইরে তোর কোনো বুদ্ধি নেই।

    পড়াশোনার বাইরে আমার বুদ্ধির কোনো পরীক্ষা হয় নি! এবার হবে।

    যদি হয় তার ফলাফল মারাত্মক হবে।

    শুভ্ৰ হাসল। মীরা বলল, তোর হাসি আগের মত নেই। অন্যরকম হয়ে গেছে।

    বোকা বোকা ধরনের হয়ে গেছে?

    বোকা বোকা আগেই ছিল। এখন তার সঙ্গে ধূর্ততা মিশেছে বলে মনে হচ্ছে।

    ও আচ্ছা।

    শুভ্ৰ তুই কি আমার কথায় রাগ করছিস?

    না।

    রাগ করছিস না কেন? আমি তোকে রাগাতে চাচ্ছি।

    আমি টেলিফোন ধরে আছি। মীরা তুমি চেষ্টা চালিয়ে যাও। আমি নিজেও রাগ করতে চাচ্ছি। পারছি না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশঙ্খনীল কারাগার – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article শুভ্র গেছে বনে – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }