Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শেষ – জুনায়েদ ইভান

    জুনায়েদ ইভান এক পাতা গল্প106 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শেষ – ৯

    ৯

    শিহাব বললো, “আমি তোমার গল্পটা ঠিক বুঝে উঠছি না। তুমি সবকিছুই বলছো আবার কিছুই বলছো না।”

    হাসান বিস্মিত হয়ে বললো, “কীরকম?”

    “তোমার সাথে নিতুর বিয়ে হলো কেমন করে? দুবছর আগে সে তোমাকে ছেড়ে চলে গেছে। তোমাদের কি ডিভোর্স হয়েছে?”

    হাসান বললো, “এই প্রশ্নের আগে আরও একটা প্রশ্ন আসে। নিতুর সাথে রুদ্রের বিয়ে হলে পরে খুলনায় সে পালিয়ে এসেছে কেন? যে মুহূর্তে আমরা দুজন নদীর কিনারায় রূপসার ঘোলা জলে এক লক্ষীপেঁচার ডাক শোনার জন্য অপেক্ষা করছি, তখন রুদ্র কোথায়? তাদের কি ছাড়াছাড়ি হয়েছিল?”

    হাসান চুপ করে থাকে। তার গল্পের চরিত্রগুলো ভাগ হয়ে ছোটো ছোটো গলির ভেতরে মিশে গেছে। তাদের আলাদা আলাদা জীবন, কিন্তু সবাই একটা জায়গায় এসে মিলিত হয়। সেখান থেকে সবাই আবার আলাদা হয়ে যায়।

    হাসান বললো, “সেদিন রূপসা নদী থেকে ফিরে আসার সময় নিতুর কাছে একটা ফোন আসে। মুহূর্তেই তার মুখটা কেমন শুকনো হয়ে গেল। ফোন রাখার পর জিজ্ঞাসা করলাম, “কী হয়েছে?”

    নিতু বললো, “আমাকে একটা ট্রেনের টিকেট যোগাড় করে দিবেন?”

    “কোথায় যাবেন আপনি?”

    “ঢাকা। কাল সকালেই।”

    “আপনি বাসায় ফিরে যাচ্ছেন তাহলে?”

    নিতু কথার জবাব না দিয়ে তিশাকে ফোন করে।

    “হ্যালো তিশা, রুবা আন্টি কি দেশে এসেছেন?”

    ফোনের ওপাশ থেকে তিশা কী বলছে সেটা জানি না। তবে হঠাৎ করে নিতু চোখ ভর্তি জল নিয়ে বললো, “আমি চলে আসছি।”

    জিজ্ঞাসা করলাম, “কী হয়েছে?”

    নিতু কথার জবাব না দিয়ে বললো, “পারবেন তো?”

    “কী?”

    “ট্রেনের টিকেট।”

    আমি নিতুর দিকে তাকিয়ে থাকি। তার চোখের অগণিত জলের সমাবেশ আমাকে নবজাত করে। একটা কবিতা লেখার সময় সঠিক শব্দের সন্ধানে যেরকম কাঠখড় পোহাতে হয়, তেমন একটা নিরেট থমথমে মুহূর্ত।

    পরদিন সকাল নয়টা। খুলনা জংশন রেলওয়ে স্টেশন। নিতু জানালার দিকে মুখ করে তাকিয়ে আছে। আমি বললাম, “সামনেই আমাদের ভুল স্টেশন। দেখবেন দিনের আলোয় সব কেমন ফ্যাকাশে লাগে।”

    ট্রেন ছেড়ে দিলো। নিতু কথার প্রত্যুত্তর না দিয়ে তাকিয়ে থাকে জানালায়। রোদ পড়েছে।

    আমি বললাম, “সেবার একটা বৃষ্টিকে কেন্দ্র করে আমরা বসে ছিলাম।” নিতু বললো, “আপনি ঢাকায় যাচ্ছেন কেন?”

    আমি বললাম, “অফিসের কাজ প্রায় শেষ। দুদিন আগে ফিরে যাচ্ছি।” হাসানকে থামিয়ে দিয়ে শিহাব বললো, “কিন্তু তুমি তো অফিস থেকে ছুটি নিয়ে গিয়েছিলে।”

    সেটা তাকে মিথ্যা বলেছিলাম।’

    শিহাব জিজ্ঞাসা করে, “তারপর? একটু যদি সংক্ষেপে বল।”

    “আমরা ট্রেনে উল্টো দিকের বগিতে বসেছিলাম। যাচ্ছি সামনে, তাকিয়ে আছি পেছনে। নিতুকে জিজ্ঞাস করলাম, “হঠাৎ ঢাকায় ফিরে যাচ্ছেন কেন?”

    নিতু বললো, “বাবা চলে গেছেন।”

    “কোথায়?”

    “রুবা আন্টির কাছে।”

    “রুবা আন্টি দেশে ফিরেছেন?”

    “তাই তো বললো।”

    “কিন্তু এখানে আপনার কী করার আছে? আলাদা থাকার জন্যই তো ডিভোর্স হয়েছে।”

    নিতু চুপ করে থাকে। সম্ভবত তার কী করার আছে সেটা সে জানে না। জিজ্ঞাসা করলাম, “আপনার রাগটা কার উপর?”

    নিতু বললো, “অনেক বছর আগে বাবা-মা দুজনেই রুবা আন্টির সাথে অন্যায় করেছিল। একজন তার বান্ধবী, অন্যজন প্রেমিক। কিন্তু সেটা অতীত। সেটার জন্য অন্য একটা অন্যায়কে আমি সমর্থন করি না।”

    বাইরে স্টেশনের রাস্তা, এই গ্রাম এই মফস্বল, খালি জমিনে টেপ টেনিসের টুর্নামেন্ট, দুপুরের কাক, বিষণ্ন পুকুর, নির্জন গোরস্থান, একটা দুটো শান্ত প্ল্যাটফর্ম পেছনে ফেলে আমাদের ট্রেন ছুটে চলে যাচ্ছে। নিতু খুলনায় আসার পথে তার পাশের সিটে যে অপরিচিত মানুষটা বসে ছিল, ফিরে যাচ্ছে সেই মানুষটাকে সাথে করে নিয়ে।

    আমি বললাম, “কথা হয়েছে বাবার সাথে?”

    নিতু না সূচক মাথা নেড়ে বললো, “বাবা চলে গেছেন রুবা আন্টির কাছে। সংসারটা আর নেই কোথাও।”

    আমি বললাম, “রুদ্র? রুদ্র কোথায়?”

    নিতু চুপ করে থাকে। কিন্তু এই প্রশ্নটা মাথা থেকে তাড়াতে পারছিলাম না। সেদিন তাদের বিয়ে হলে নিতু এখানে কেন? নিতুর সাথে পরিচয় হবার পর তিনটা কঠিন সত্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। প্রথমটি রুদ্রের চিঠির মধ্য দিয়ে এক প্রেমিকের আগমন। দ্বিতীয়টি, মগবাজার কাজী অফিসে সেই প্রেমিকের সাথে বিয়ে। আর তৃতীয় সত্যটা আমি জানি না, রুদ্র কোথায়!

    নিতু সিটে হেলান দিয়ে ঘুমাবার চেষ্টা করছে। ট্রেনের রেডিওতে বেজে চলেছে রবীন্দ্রসঙ্গীত। ব্যাকুল মনের ভেতরে স্পৃহা জাগে, একটা সুন্দর স্বপ্নকে বর্ণনা করতে গেলে স্বপ্নের ভেতরে যে রুঢ় বাস্তবতা এসে বিরক্ত করে, সেটাকে আপন করে নিতে হয়।

    “কবে তুমি গেয়েছিলে, আঁখির পানে চেয়েছিলে
    ভুলে গিয়েছি।
    শুধু মনের মধ্যে জেগে আছে ওই নয়নের তারা।
    তুমি কোন কাননের ফুল কোন গগনের তারা।”

    রবীন্দ্রনাথ ভালো করেই জানতেন, মানুষের আবেগ অনুভূতি কোথায় গিয়ে শেষ হয়। জীবন সায়াহ্নে এসে বলেছিলেন, “আমাকে ভুলতে পার, আমার গান ভুলবে কী করে?”

    আসলেই তো! গানের অক্ষর মনের ভেতরে লেপ্টে থাকে বিভীষিকাময় রাতে কিংবা যান্ত্রিক কংক্রিটের দেয়ালে।

    বললাম, “কাটলেট খাবেন?”

    নিতু কোনো জবাব দিলো না। বোধ হয় সে ঘুমিয়ে গেছে। সে কী স্বপ্ন দেখছে? আমার তার স্বপ্নটা দেখতে ইচ্ছে করছিল। দুজন মানুষ যদি ঘুমের ঘোরে একই সময়ে একই স্বপ্ন দেখতে পেত, তখন স্বপ্নের ভেতরে দ্বন্দ্ব বাঁধলে সেটা কার নিয়ন্ত্রণে থাকতো?

    বিস্তীর্ণ খেলার মাঠ, ফসলের জমিন, মসজিদ, খোলা জানালায় উন্মুক্ত সংসার অতিক্রম করে আমরা তখন প্রায় ঢাকার কাছাকাছি। ঢাকার কাছাকাছি চলে এসেছি এই ব্যাপারটা আমাকে একটা ঝাঁকুনি দিল। শরীর ঘুমিয়ে যাবার আগে যদি কেউ কেউ স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দেয়, তখন মস্তিস্কের ভেতর থেকে এরকম একটা ঝাঁকুনি সৃষ্টি হয়। এর নাম হিপনিক জার্ক।

    বললাম, “আমরা প্রায় চলে এসেছি। কিছু খাবেন আপনি?”

    নিতু চোখ মিটমিট করে বললো, “সব তো শেষ হয়ে গেছে।”

    আমি শক্ত করে বললাম, “আপনি শেষ না হলে কিছুই শেষ হবে না।”

    “আমি খাবারের কথা বলছি। এইসময় ট্রেনে থাকে না কিছু।”

    আমি প্যাকেট থেকে একটা ঠান্ডা কাটলেট আর দুই পিস চিকেন বের করে দিলাম।

    “চা খাবেন?”

    “চিনি কম করে দিতে বলবেন।”

    ট্রেনের শেষ এক ঘণ্টা হয় সব থেকে দীর্ঘতম এক ঘন্টা। কিন্তু আমি সময়টাকে ধরে রাখতে চেয়েছিলাম। মুহূর্তের সৃষ্টি সময়ের হাত ধরে। অথচ দুটো কত ভিন্ন স্বভাবের। সময় বয়ে চলে; আর মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থাকে।

    মানুষও ঠিক তাই। যেতে যেতে কিছু পথ বয়ে বেড়ায় আর কিছু পথ দাঁড়িয়ে থাকে। শত বছর আগে জিবরান বলে গেছেন, “মানুষই পথ, আবার মানুষই পথিক।”

    বললাম, “রাতে ঘুম হয়নি?”

    “না।”

    “খুব আনন্দে আর খুব কষ্টে মানুষ ঘুমাতে পারে না।”

    “তাহলে কী করা উচিত?”

    “খুব সহজ। আনন্দ এবং দুঃখ সংক্রামক। কাউকে আনন্দের কথা বললে আনন্দ হয় দ্বিগুণ। আর দুঃখের কথা বললে দুঃখটা দুভাগ হয়ে যায়।”

    “এই সমীকরণ কোথা থেকে পেয়েছেন?”

    “ভেবে বের করেছি। এর একটা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও আছে। আমাদের হরমোনের…”

    আমাকে থামিয়ে দিয়ে নিতু বললো, “জ্ঞানের কথা শুনতে ইচ্ছে করছে না।”

    আমি বললাম, “আপনি নিজেকে কষ্ট দিচ্ছেন কেন?”

    “কষ্ট তৈরি করতে নিশ্চয়ই কিছু কাঁচামাল লাগে। কেউ নিজেকে এমনি এমনি কষ্ট দেয় না”

    .

    আমরা প্রায় চলে এসেছি। সন্ধ্যার একটু আগে আমরা তখন ঢাকা বিমান- বন্দর রেল স্টেশনে। মনে হলো এটা একটা ট্রেনের দীর্ঘতম গল্প। যে গল্প শুরু হয়েছিল একটা ভুল স্টেশন দিয়ে। আর শেষ হয়েছে এই নিরেট থমথমে সন্ধায়।

    আমি বললাম, “একটা ব্যাপার জিজ্ঞাসা করা হয়নি।”

    “কী?”

    “আপনি ঢাকা থেকে পালিয়ে এসেছিলেন কেন?”

    নিতু বললো, “আমি হারাতে চেয়েছিলাম” তারপর একটু যেন চিন্তা করে বললো, “নিজেকে খোঁজার জন্য।”

    “নিজেকে খোঁজার জন্য হারাতে হয় নাকি?”

    “আমরা মানুষকে বিচার করি তার কনশাস মাইন্ডের কর্মকাণ্ডে। কিন্তু সেটা মানুষের ছায়া।”

    “তাহলে মানুষটা কোথায়?”

    “একজন মানুষ প্রতিদিন প্রায় বারো থেকে ষাট হাজার চিন্তা অবচেতন মনে করে।”

    “অবচেতন মনে চিন্তাগুলো আসে কোথা থেকে?”

    “চিন্তা করতে ভাষার দরকার হয়। কার্ল মার্কস মানুষকে নিয়ে দারুণ একটা ব্যাখ্যা করেছেন। বাবুই পাখি শত শত বছর ধরে একই কায়দায় বাসা বাঁধে। কোথাও তার পরিবর্তন নেই। কিন্তু মানুষ? এখানেই তার অলংকার।

    ট্রেন থেকে নেমে নিতুকে একটা সিএনজি ঠিক করে দিলাম। বললাম, “চলুন আপনাকে বাসা পর্যন্ত পৌঁছে দেই।”

    নিতু বললো, “আমি একা যেতে পারব।”

    আমার মন খারাপ হলো। এতটা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি, পথেরও একটা নির্লিপ্ত চাহনি থাকে।

    নিতু বললো, “আপনার বাসা কোথায়?”

    আমি বললাম, “আপনার বাসা থেকে একটু সামনেই, মহাখালী।”

    “আমার বাসা কোথায় সেটা আপনি কীভাবে জানেন?”

    “কতবারই তো বললেন বনানীর বাসার কথা।’

    আমাদের সিএনজি বনানীর রাস্তা ধরে এগোচ্ছে। বাইরে থেকে বাতাসের শাঁ শাঁ শব্দ। আমি বললাম, “যখন দরকার হবে, আমাকে জানাবেন।”

    নিতু মৃদু হেসে বললো, “দরকার না হলে?”

    “দরকার না হলেও জানাবেন।”

    খানিকক্ষণ আমরা দুজন চুপ করে ছিলাম। আমাদের নীরব কথোপকথনে কেবল আমি একাই ছিলাম কি না সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারব না। ফেলে আসা একটা শহর ছেড়ে একসময় নিতুর বাসার সামনে এসে সিএনজি থামে।

    নিতু জিজ্ঞাসা করে, “আপনি যাবেন কী করে?”

    “এই সিএনজি নিয়েই চলে যাবো।”

    “বাসায় কে থাকেন?”

    “মেজো মামা।“

    “আর কেউ না?”

    “জি না।”

    বাসায় ফেরার পথে মাঝরাস্তায় সিএনজি থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করলাম। মন খারাপের কারণ নির্দিষ্ট করতে না পারলেও এইটুকু বুঝেছি, এই দুঃখটা আমার কাছে একেবারেই নতুন।

    কবি আরণ্যক বসুর কবিতার মতো।

    “আসলে কথারা সব বিলুপ্ত পাখির ঠোঁটে শিলালিপি হয়ে আছে
    আসলে কথারা সব নিঃশেষে মুছে গেছে আলোকবর্ষ দূরে
    তারাহীন নীল অন্ধকারে
    আসলে কথারা এসে ফিরে চলে গেছে সেই
    মটরশুঁটির ক্ষেতে, সবুজে সবুজে।”

    অনেকটা পথ হেঁটে রাত দশটায় বাসায় ফিরি। দরজা খুলে দেয় রহমত। রহমতের বয়স উনিশ। তার একমাত্র কাজ মামার সাথে থাকা। একেতো বয়স হয়েছে। তার উপর প্যারালাইজড। বেশিরভাগ সময় বারান্দায় হুইল চেয়ারে বসে থাকেন। আমি একদিন জিজ্ঞাসা করলাম, “আপনি সারাদিন বারান্দায় বসে থাকেন কেন?”

    মামা নির্বিকার ভঙ্গিতে বললেন, “আকাশ দেখি।’

    “আকাশ?”

    “হু।”

    “আকাশ দেখে শেষ করতে পারবেন?”

    “কক্ষনো না।”

    “তাহলে সারাক্ষণ তাকিয়ে কী দেখেন?”

    “দূর থেকে সব নক্ষত্রকে একই রকম দেখায়, অথচ কাছে গেলে দুটো আলাদা জগত।”

    “মানুষের মতো?”

    মামা হেসে বললেন “মানুষ আরও জটিল।”

    “কীরকম?”

    “দুটো মানুষের মাঝখানে একটা সেতু থাকে। আমরা হয়তো সেতুর দূরত্ব কমাতে পারব, কিন্তু সেতুর অস্তিত্ব বাতিল করতে পারব না।”

    .

    একদিন রাস্তার ধারে দেখা মেজো মামির সাথে। মামির সাথে সেই অফিসের কলিগ। ভদ্রলোকের নাম ইমতিয়াজ। যিনি প্রায় সময় আমাদের বাসায় এসে মামার সাথে গল্প করতেন। দেশের খবর কী, ব্যবসা বাণিজ্য কেমন যাচ্ছে এইসব হালকা কথা বার্তার এক পর্যায় দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতেন “মানুষ চেনা বড়ো শক্ত কাজ।”

    আমাদের দূরত্ব এমন ছিল, আমি জানতাম মামি আমাকে দেখতে পাবেন। আমাকে দেখে আগ বাড়িয়ে কথা বলে কি না, সেই ইতস্তত মুহূর্তের দায়ভার মামির উপর ছেড়ে দিয়ে চোখ সরিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। মামি ডাক দিলেন “হাসান!”

    মামিকে দেখে চমকে উঠেছি এরকম একটা মুখ করে বললাম, “আপনি? এদিকে কোথায়?”

    মামি বললেন, “চেহারার এ অবস্থা কেন?” শুকনো হাসি দিয়ে বললাম, “কাজের চাপ প্রচুর।”

    আমাকে কোলে-পিঠে বড়ো করেছে এই মানুষটা। দু-পা শক্ত করে যতটুকুই আজ দাঁড়িয়ে আছি, সেখানে এই মানুষটার ত্যাগ আছে। সেই সব বিকেল ভর্তি ভালোবাসা কোনো ফিরতি ধন্যবাদের আশা না করে কাতারে কাতারে দাঁড়িয়ে আছে। গড়গড়া কুলি করে অযু করা কিংবা ফুলের মতো গোল্লা করে জুতার ফিতা বাঁধা, এরকম ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীবনের ঋণ আমার তার কাছ থেকে পাওয়া।

    ইমতিয়াজ আংকেল বললেন, “অফিস কি আগেরটাই?”

    আমি মাথা নাড়ালাম, “জি।”

    আগে প্রায় আসতেন আমাদের বাসায়। বিয়ের পর সেদিনই প্ৰথম দেখা। সেটা কতখানি অপ্রত্যাশিত, কতখানি হবার কথা ছিল জানি না। শুধু জানতাম একদিন সবাইকে তার হিসেব দিতে হয়। বাইরে থেকে দেখতে গেলে একরকম, কিন্তু ভেতরে অন্য আরেকটা সত্যের মানে থাকে। জিবরান খুব সুন্দর একটা কথা বলেছেন, “যে বাঁশি তোমার আত্মাকে প্রশাসিত করে তা কি সেই বাঁশ নয় যাকে ছুরি দিয়ে ছিদ্র করা হয়েছে?”

    মামি বললেন, “বিয়ে করেছো?”

    “করলে তো জানতেন।” বলেই একটু চিন্তা করলাম আমি। কেমন করে জানবেন? ডিভোর্স হবার পর থেকে মামির সাথে আমাদের পরিবারের কারো সাথে কোনো যোগাযোগ নেই।

    হঠাৎ মেজো মামা অসুস্থ হয়ে পড়লে একদিন শুধু এসেছিলেন মামি। হসপিটালে নেবার পর ডাক্তার বললেন, “বাঁচার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

    মামাকে কিছু বুঝতে না দিলেও কীভাবে যেন মামা আঁচ করেছিলেন। বললেন, কেবিন বদলাতে চান।

    “এখানে কোনো সমস্যা?”

    “জানালা নেই।”

    “জানালা দিয়ে কী করবেন?”

    “এই শেষ যাত্রায় একটু আকাশ দেখে যাই।”

    আমি হেসে বললাম, “শেষ যাত্রা না ছাই। মামিকে একটা খবর দিবো?”

    মামা নিষেধ করলেও কোথায় যেন একটা ভয় করছিল। মামিকে ফোন করে খবর দেই। পরদিন সকালে হসপিটালে যখন এলেন, মামার কাছে আসেননি। কেবিনের বাইরে দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন যতটা দেখা যায়, অন্ধকারের ভেতর থেকে অধিক গাঢ় অন্ধকার।

    এরকম একটা অস্থিরতার ভেতরেও জীবনের একটা মৌলিক চাহিদা বোঝার চেষ্টা করছিলাম। মানুষ যখন হারায়, সম্পর্কগুলোর কী হয় তখন? মানুষ হারায়। সম্পর্কও কি হারায়?

    সেদিন পথের ধারে ইমতিয়াজ আংকেলকে তার কথাটা ফেরত দিয়ে বললাম, “মানুষ চেনা বড়ো শক্ত কাজ। কথাটা আসলে সত্য না, মানুষ চেনা খুব সহজ।”

    তিনি ভ্রু কুচকে বললেন, “মানুষ চেনা খুব সহজ?”

    “হুম, এর জন্য মানুষকে বিশ্বাস করতে হবে। অবিশ্বাসী দুজন মানুষ কেউ কাউকে জানতে পারে না।”

    মামি ইতস্তত হয়ে বললেন, “কোথায় যাচ্ছিলে?”

    “ডাক্তারের রিপোর্ট নিতে। মামার শরীর ভালো না।”

    “কী হয়েছে আবার?”

    “ডান পাশের হাতেও সমস্যা হচ্ছে।”

    পড়ন্ত রোদে জীবনের অদ্ভুত এক সমীকরণে দাঁড়িয়ে আমরা তিনজন। কারো প্রতি আমার কোনো অধিকার নেই তবু এই যে অভিমান, সেটা হয়তবা আমার ইচ্ছা শক্তির ফসল। কারো ন্যায় অন্যায় নির্ধারণ করে দেবার আমি কেউ না, কিন্তু আবেগতাড়িত হয়ে এই যে অভিমান বুকে পুষে রাখি, সেটা আমার একান্ত নিজের।

    ইমতিয়াজ আংকেল একটু সামনে গিয়ে একটা সিএনজি দাঁড় করালেন।

    মামি বললেন, “একদিন আসব আমি।”

    আমি বললাম, “বাসা বদলেছে।”

    “আর কী কী বদলেছে?”

    “হুইল চেয়ার। বারান্দার আকাশ।”

    মামি অবাক হয়ে বললেন, “বারান্দার আকাশ?”

    “হুম, মামা প্রায় সময় বারান্দায় বসে আকাশ দেখেন। জিজ্ঞাসা করলে বলেন, “দেখতে একই রকম অথচ দুটো আলাদা জগৎ।”

    মামি অসহায় মুখ করে তাকিয়ে রইলেন। কেন অসহায় বোধ করছেন সেটা অবশ্য আমার কাছে পরিষ্কার না। যে অন্যায় করে না সে অন্যকে দোষারোপ করে হালকা হতে পারে। কিন্তু আপনি যখন কাউকে দোষারোপ করতে পারছেন না আবার একই সাথে কষ্ট পাচ্ছেন, এটা আরও বেশি কষ্টের।

    অথবা এসবই মুহূর্তের একটা বিভ্রম। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাবার সময় পেছন থেকে একটা স্মৃতি এসে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় অতীতে। নিমিষেই চলে যাওয়া অসংখ্য পালতোলা সারি সারি নৌকার কাছে, যেখানে অপেক্ষমাণ মুহূর্তরা ঘাপটি মেরে থাকে।

    তারপর আবার হাঁটার সময় রাস্তায়, সেই সব মুহূর্ত অতীত থেকে সারি সারি অতীত পেছনে ফেলে এসেই কদম ফেলতে হয় পায়ে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঝরা পালক – জীবনানন্দ দাশ
    Next Article অন্যমনস্ক – জুনায়েদ ইভান

    Related Articles

    জুনায়েদ ইভান

    অন্যমনস্ক – জুনায়েদ ইভান

    August 14, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }