Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শেষ নাহি যে – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    ইন্দ্রনীল সান্যাল এক পাতা গল্প182 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শেষ নাহি যে – ৬

    পৌনে বারোটা বাজে। বকুলতলা বাসস্ট্যান্ডে বিহান দাঁড়িয়ে আছে পনেরো মিনিট ধরে। একটাও বাস আসেনি। এগারোটা নাগাদ পোর্টের অফিস থেকে বেরিয়ে এখান দিয়ে হেঁটে সে মেসে ফিরেছিল। তখন বাসস্ট্যান্ডে অল্প কিছু লোক ছিল। অভিরুচি-তে খদ্দের না থাকলেও দোকান খোলা ছিল। এখন অভিরুচির ঝাঁপ বন্ধ। বাসস্ট্যান্ডে সে ছাড়া আর কোনও যাত্রী নেই। তখন যে বাসটা কলকাতা যাচ্ছিল, তার কন্ডাক্টর চেঁচাচ্ছিল, “যারা যাবেন বাসে উঠে পড়ুন। এর পরে আর বাস নেই। তাড়াতাড়ি!” কথাটা সিরিয়াসলি নেয়নি বিহান। এখন মনে হচ্ছে, কন্ডাক্টর ঠিকই বলেছিল।

    বাস নেই তো কী হয়েছে? বকুলতলা থেকে কলকাতা যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়। আজ গাড়িতে করেই হাওড়া যাবে বিহান। পার্সে ছ’হাজার টাকা আছে। খরচ করা যেতেই পারে। গাড়িচালকদের অফিসটা মূল রাস্তা থেকে সামান্য ভিতর দিকে। সেদিকে এগোল বিহান। অফিসের মধ্যে বসে ড্রাইভাররা টিভি দেখছে। বিহান গলাখাঁকারি দিয়ে বলল, “কলকাতা যাওয়ার কেউ আছেন না কি?”

    চালকদের মধ্যে একজন ঘুরে তাকাল। বছর পঞ্চাশ বয়স, কুচকুচে কালো গায়ের রং, বিশাল মোটা গোঁফ, পান খাওয়া ঠোঁট খয়েরের কারণে লাল টুকটুক করছে। অফিসের এক কোণে পিচ্‌ করে পানের পিক ফেলে বলল, “আজ কেউ গাড়ি বার করে? মাথাফাতা খারাপ না কি? দেকচেন না, খলিসানির মোড়ে বাসে আগুন লাগিয়ে দিয়েচে।”

    চালক যে জায়গাটার নাম করল, সেটা হাওড়া জেলায়। ন্যাশনাল হাইওয়ের ধারে। তা হলে কি গন্ডগোল কলকাতা থেকে অন্য জেলায় ছড়াচ্ছে?

    বয়স্ক চালক বলল, “হোয়াট্‌সঅ্যাপে ফোটো এসেচে। ওখানে খরাজ পার্টির পাঁচজনকে মেরে ফেলেচে।”

    কমবয়সি এক চালক বলল, “তুমি ওইসব ভাটের কথা বিশ্বাস করছ দাদা!”

    “ফোটো আচে। দেখতে চাস?”

    “ওইসব পুরনো ফোটো দেখিয়েই গুজব ছড়ায়। আমি তো খবরের কাগজে না বেরলে কিছুই বিশ্বাস করি না।”

    “খবরকাগজ যেন সতী সাবিত্রী!” খিঁচিয়ে ওঠে বয়স্ক চালক, “আর টিভিতেও তো বাস জ্বালানোটা দেখাচ্চে। চোকে ন্যাবা হয়েচে না কি?”

    “তা হলে ওইটুকুই বলো। ফালতু গুজব রটিয়ো না। এই হোয়াটস্‌অ্যাপটা হয়েছে যত নষ্টের গোড়া,” কথা থামিয়ে টিভি দেখতে থাকে কমবয়সি চালক।

    দুই চালকের ঝগড়ার মধ্য থেকে সরে আসে বিহান। যা বোঝার বোঝা হয়ে গিয়েছে। আজ আর প্রাইভেট গাড়ি পাওয়া যাবে না। তা হলে ট্রেকার! ওটায় চড়ে যতটা সম্ভব যাওয়া যাক। যেখানে নামিয়ে দেবে সেখান থেকে অন্য ট্রেকার ধরা যাবে। বিহান বুঝতে পারছে তার লিলুয়া ফেরাটা ক্রমশ অসম্ভবের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। কিন্তু চেষ্টা তাকে করতেই হবে। বকুলতলা বাসস্ট্যান্ডে অন্যদিন গাদা গাদা ট্রেকার দাঁড়িয়ে থাকে। আজ একটাও নেই। বিহান এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখছে, এমন সময়ে বিকট চিৎকার করে এক মহিলা বলল, “ও বাবু! তুমি কোথায় যাবে?”

    ঘাড় ঘুরিয়ে বিহান দেখল, মিনুদি।

    মিনু মিস্ত্রিকে বকুলতলার সব্বাই চেনে। কারণ সে বকুলতলার একমাত্র মহিলা রিকশাওয়ালা! উচ্চতা পাঁচ ফুটের এক সুতো বেশি নয়। বেশ মোটা। গাছকোমর করে শাড়ি পরে যখন সাঁইসাঁই করে রিকশা চালায়, তখন সবাই ঘুরে দেখে আর ফ্যাকফ্যাক করে হাসে। মিনুর নাম হয়ে গিয়েছে ‘রসগোল্লা রিসকাউলি’। মাস ছয়েক আগে পোর্টের অফিস থেকে বিহান সবে বেরিয়েছে, এমন সময়ে মিনু তাকে ধরেছিল। “এই যে ভালমানুষের পো! আমার একটা উব্‌গার করে দাও দিকি!”

    “কী উপকার?” জিজ্ঞাসা করেছিল ব্যস্ত বিহান।

    “আঁধার কার্ডে আমার বরের ঠিকানা ভুল আছে। কোনও সরকারি সুযোগ-সুবিধে পাচ্ছে না। তুমি ঠিক করে দেবে?”

    বিহান বলেছিল, “এইসবের জন্য আলাদা দফতর আছে। সেখানে যাও।”

    “থাক! আমাকে জ্ঞান দিতে এসো না। আঁধারের আপিসে গিয়ে গিয়ে পায়ে কড়া পড়ে গেল। আমাদের পাড়ার একজন বলল, তুমি কম্পিউটার নিয়ে কাজ করো। তাই বললুম। করে দাও না গো!”

    কম্পিউটার নিয়ে কাজ করলে যদি পৃথিবীর সব সমস্যার সমাধান করা যেত, তা হলে কী ভালই না হত। কিন্তু সেটা তো হওয়ার নয়। বাধ্য হয়ে মিনু আর সুদামকে মেসে ডেকেছিল বিহান। সমস্ত কাগজপত্র উল্টেপাল্টে দেখে বুঝেছিল, কাজটা শক্ত কিছু নয়। নিজে না পারলেও করিয়ে দেওয়া যাবে। আধার সহায়তা কেন্দ্রের ছেলেগুলো তার চেনা।

    দিন পনেরো সময় লাগলেও কাজটা করে দিয়েছিল বিহান। সংশোধিত আধার কার্ড পাওয়ার পরে মিনু আর সুদামের সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি বিহানের। ভুলেই গিয়েছিল ওদের কথা। আজ মিনুর চিৎকার শুনে বুকে বল পেল। যাক! একজন অন্তত বিপদের দিনে দাঁত খিঁচিয়ে কথা বলল না।

    বিহান মিনুর রিকশার কাছে গিয়ে বলল, “খুব বিপদে পড়েছি মিনুদি।”

    “কী হয়েছে?” কুটকুট করে সুপুরি চিবিয়ে জিজ্ঞেস করল মিনু। সে পরে রয়েছে ময়লাটে হলদে রঙের শাড়ি আর লাল ব্লাউজ়। পায়ে হাওয়াই চপ্পল।

    “আমার বউয়ের বাচ্চা হবে। ব্যথা উঠেছে। ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এদিকে গন্ডগোলের জন্যে আমি বাড়ি ফিরতে পারছি না।”

    “মা ষষ্ঠীর কৃপা কবে কার উপরে পড়বে, কেউ বলতে পারে না,” ঘাড় নাড়ছে মিনু, “তোমার বাড়ি কোথায়?”

    “হাওড়া স্টেশনের কাছে,” ইচ্ছে করেই লিলুয়া না বলে হাওড়া স্টেশনের নাম করল বিহান। মিনু লিলুয়ার নাম না-ও জানতে পারে।

    বিহানের উত্তর শুনে মিনু অবাক হয়ে বলল, “তুমি বাসের জন্য দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করছ কেন? ট্রেনে চলে যাও!”

    “এখন ট্রেন আছে?” বোকার মতো জিজ্ঞেস করল বিহান, “এখানকার ট্রেনের সময় সম্পর্কে আমার কোনও ধারণা নেই।”

    “হাওড়া এস্টেশনে যাওয়ার ট্রেন বকুলতলা এস্টেশনে আসে সাড়ে বারোটার সময়। এখন সওয়া বারোটা বাজে। তুমি আমার রিসকায় উঠে পড়ো।”

    “না!” ঘাড় নাড়ে বিহান।

    চোয়াল শক্ত করে মিনু বলল, “বকুলতলা এস্টেশন এখান থেকে তিন কিলোমিটার। দৌড়ে চলে যাও।”

    বিহান দৌড় দিল। সে বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে পঁয়তাল্লিশ মিনিট সময় নষ্ট করেছে। সে একটা গাধা। অন্য যে কেউ হলে একে-তাকে জিজ্ঞেস করে ট্রেনের সময় জেনে রাখত। সে পনেরো মিনিটে তিন কিলোমিটার দৌড়তে পারবে তো? পাঁচ মিনিটে এক কিলোমিটার! বাপ রে! স্কুলে পড়ার সময়ে ফুটবল খেলত বিহান। তার পরে শরীরচর্চার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ। এর মধ্যেই হাঁপ ধরছে। বাবা গো!

    রিকশার হর্নের প্যাঁকপ্যাঁকানি শুনে মুখ ঘোরাল বিহান। রিকশার প্যাডেল চালিয়ে দ্রুত এগিয়ে আসছে মিনু। মুহূর্তের মধ্যে পাশে এসে বলল, “দৌড়লে যতক্ষণে পৌঁছবে, রিসকায় তার আগে। বুঝেছ ভালমানুষের পো? নাও। এ বার উঠে পড়ো।”

    আজ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছে বিহান। সে রিকশায় উঠে বসল। মোবাইল রেখে দিল ব্যাকপ্যাকের সাইড পকেটে। দৌড়োদৌড়ির সময়ে মোবাইল রাস্তায় পড়ে গেলে খুব ঝামেলায় পড়বে। মিনু সাঁইসাঁই করে রিকশা চালাচ্ছে আর বলছে, “মেয়েমানুষের ঘাড়ে চাপবে না। সে খুব ভাল কথা। আমাকে অনেক সওয়ারি এই কতা বলে। কিন্তু তোমরা ঘাড়ে না চাপলে আমার সোমসার কী করে চলবে বলতে পারো?”

    বিহান উত্তর দিল না। রিকশায় বসে মনে হচ্ছে সবাই তাকে ঘুরে দেখছে। অস্বস্তি কাটাতে জিজ্ঞেস করল, “সুদামদা কী করে?”

    “গান গায়,” প্যাডেল মারছে মিনু।

    “কী গান?”

    “তোমার সঙ্গে যখন দেখা করেছিল, তখন বুঝতে পারোনি যে ও এক চোখে দেখতে পায় না?”

    লজ্জায় জিভ কাটল বিহান। এটা সে খেয়াল করেনি।

    “বিয়ের আগে ও পাড়ার ফাংসানে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইত। গান শুনেই তো পিরিত হল। তার পরে ওর চোখে কী একটা বাজে রোগ হল। সেই থেকে এক চোখে দেখতে পায় না। তবে গানটা ছাড়েনি। ট্রেনে গান গেয়ে ভালই রোজগার করে।”

    “অন্ধ কানাই পথের ধারে গান শুনিয়ে ভিক্ষে করে”। রবিঠাকুর মনে পড়ে গেল বিহানের। সুদাম মিস্ত্রি ট্রেনে গান গেয়ে ভিক্ষা করে সংসার চালায়।

    মিনু বকবক করেই যাচ্ছে। “ও রোজ পোর্ট এস্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে গান গাইতে গাইতে হাওড়া এস্টেশন চলে যায়। আবার ওই ট্রেনেই ফেরত আসে। পোর্টের পরের এস্টেশনই তো বকুলতলা।”

    “ওই টাকায় সংসার চলে?” জিজ্ঞেস করল বিহান। ‘ভিক্ষে’ শব্দটা ব্যবহার করতে পারল না সে।

    “আমি আছি কী করতে?” ফুঁসে ওঠে মিনু, “রসগোল্লা রিসকাউলি বলো আর যাই বলো, সারাদিনে পনেরো-কুড়িটা টিরিপ হয়েই যায়। দিনের শেষে তিনশো টাকা নিয়ে ঘরে ঢুকি। ও-ও নিয়ে আসে শ’দুয়েক টাকা। পনেরো হাজার টাকায় আরামসে সোমসার চলে যায়।”

    বিহান চুপ। রিকশা চালিয়ে আর ভিক্ষে করে স্বামী-স্ত্রী তার সমান রোজগার করে।

    মিনু বলল, “আমি রিসকা চালাই বলে সবাই খুব আওয়াজ দেয়। বেশি আওয়াজ দেয় ব্যাটাছেলে রিসকাওলারা। আমি ওদের ভাত মারছি কি না! তাই অত রাগ। আমি পাত্তা দিই না। ওদের বলি, একচোখো ভাতারকে যখন সহ্য করি, তখন তোদের একচোখোমিও সহ্য করে নেব।”

    “বাবা! তোমাদের খুব প্রেম তো!” হাসছে বিহান।

    “প্রেম কি শুদু তোমরাই করবে, ভালমানুষের পো? রসগোল্লা রিসকাউলি আর কানা গাইয়ে গরিব বলে পিরিত করবে না?”

    “না না! আমি তা বলিনি!” লজ্জা পেয়েছে বিহান। তার মনে পড়ে যাচ্ছে অনেক বছর আগের কথা। স্কুলজীবনের এক সরস্বতী পুজোর কথা। যে দিন সে দরিয়াকে প্রথম দেখেছিল।

    * * *

    “কাল তপন স্যরের বাড়িতে সরস্বতী পুজো আছে। যাবি তো?” বঙ্গবাসী সিনেমা হলের ফ্রন্ট রোয়ে বসে ‘মন মানে না’ দেখতে দেখতে জিজ্ঞেস করল সনৎ। সে আর বিহান স্কুল কেটে সিনেমা দেখতে এসেছে।

    ক্লাস ইলেভেনে পড়ার সময় থেকে স্কুল পালিয়ে সিনেমা দেখার শুরু। বিহানের মা শ্রীরূপা এখনও জানতে পারেননি। সনতের বাবা-মা সবই জানেন। কিন্তু তাঁরা ছেলেকে সামলাতে পারেন না। সনৎ বিড়ি-সিগারেট, পানমশলা-গুটখা, মদ-গাঁজা পর্যন্ত চেখে ফেলেছে বলে দাবি করে। দুই বন্ধু হরিহর আত্মা হলেও নেশার ব্যাপারে বিহান সনৎকে সঙ্গ দেয় না। দু’-একবার সিগারেট টেনে দেখেছে। ভাল লাগেনি।

    একটা নেশা দু’জনেরই হয়েছে। স্কুল পালিয়ে সিনেমা দেখার নেশা। এই সিনেমাটা রিলিজ় করেছে গত বছরের শেষের দিকে। নতুন বছরেও রমরমিয়ে চলছে। নেহাত ব্ল্যাকারদের সঙ্গে সনতের চেনাশোনা আছে, তাই আজ টিকিট পাওয়া গেল।

    তপন স্যর এই এলাকার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাস্টারমশাই। ওঁর কাছে ইংলিশ পড়লে সব প্রশ্ন কমন আসে। দুই বন্ধুই ইংলিশে কাঁচা। বাধ্য হয়ে তপনার টোলে নাম লিখিয়েছে।

    ‘তপনার টোল’ নামটা ছাত্রদের দেওয়া। হাওড়া ময়দান চত্বরের সব ছেলেমেয়ে ওঁর কাছে ইংরেজি পড়তে আসে। বাড়ির বাইরে যত চটি থাকে, তত চটি সেলের সময়ে জুতোর দোকানের স্টকেও থাকে না। আর সাইকেলের কথা না বলাই ভাল। বিশু নামের এক ছোকরা তপনার টোলের পাশে সাইকেল স্ট্যান্ড বানিয়ে ভালই কামাচ্ছে।

    সরস্বতী ঠাকুরের প্রতি সনতের ভক্তি কতটা, বিহানের জানা আছে। তার কাছে সরস্বতী পুজো মানে পাড়ার প্যান্ডেলে দাদাগিরি করা, ড্যাবড্যাব করে মেয়ে দেখা আর সন্ধে থেকে প্যান্ডেলের পিছনে লুকিয়ে মদ খাওয়া। তার হঠাৎ তপনার টোলের পুজোয় যাওয়ার ইচ্ছে হল কেন?

    সিনেমা দেখে বেরিয়ে প্রশ্নটা করেই ফেলল বিহান, “তুই পাড়ার পুজো ছেড়ে তপনার টোলের পুজোতে! ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।”

    সনৎ ঘোঁত করে একটা আওয়াজ করল। তার মানে ‘হ্যাঁ’, ‘না’, ‘তোর বাবার কী?’ যা খুশি হতে পারে। বিহান বলল, “ঠিক আছে। কাল তপনার টোলেই অঞ্জলি দেব। কিছু না খেয়ে থাকবি কিন্তু!”

    পরদিন সকাল আটটার সময়ে তপনার টোলে গিয়ে বিহানের মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড়। সপ্তাহের সাত দিন ধরে যতগুলো ব্যাচ এখানে টিউশনি নেয়, তার সব ছাত্রছাত্রী আজ মা সরস্বতীকে অয়েলিং করতে এসেছে। শাহরুখ খানের হাউসফুল সিনেমা চলার সময়ে হলের বাইরেও এত পাবলিক থাকে না। এর মধ্যে অঞ্জলি দেওয়া সম্ভব?

    বিহান কেটে পড়ার ধান্দা করছিল। হঠাৎ শুনল তপনা হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা করছে, “যারা অঞ্জলি দিবি তারা সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাক। দরিয়া আর মণিদীপা তোদের কাছে ফুল নিয়ে যাচ্ছে। কেউ যদি শয়তানি করিস, তা হলে তাকে কাল থেকে আর পড়াব না।”

    মোক্ষম শাসানি! সব্বাই চুপ করে গেল। তারই মধ্যে দুটো মেয়ে ঘুরে ঘুরে সবার হাতে ফুল দিচ্ছে। দু’জনেরই পরনে বাসন্তী রঙের শাড়ি। মাথার চুল খোলা।

    ক্লাস এইট থেকে বিহান বড় হতে শুরু করেছে। গোঁফদাড়ি গজাচ্ছে, বুকে লোমের পাপোশ, গলার স্বর ভেঙে ব্যাঙের মতো হয়ে গিয়েছিল। এখন বড়দের মতো। পায়ে লোম গজানোর পরে ফুলপ্যান্ট ছাড়া পরে না। স্নান করার সময়ে বাথরুমে ঢুকে অসভ্য কাজ করে। তারপরে লজ্জা আর অপরাধবোধে তিন-চারদিন ওইসব কথা ভাবে না। এইভাবেই সবাই বড় হয়। বিহান ভেবেছিল, আঠেরো বছর বয়স হয়ে গেল। সামনের নির্বাচনে ভোট দেবে। কয়েক মাস পরে কলেজে ভরতি হবে। তা হলে সে এখন অ্যাডাল্ট। বড়দের ব্যাপার-স্যাপারগুলো বোঝে।

    বাসন্তী রঙের শাড়ি পরা মেয়েটাকে দেখে বুঝল, তার মধ্যে এমন সব অনুভূতির জন্ম হচ্ছে, যা সে এতদিন টের পায়নি। বুকের বাঁদিকে গুবগুবি বাজছে। ঘামে হাত ভিজে গিয়েছে। জিভ শুকিয়ে আসছে। খালি মনে হচ্ছে, মেয়েটা যদি তাকে অঞ্জলির জন্যে ফুল না দেয়, তা হলে সে মরেই যাবে। কী যেন নাম মেয়েটার? সাগরিকা না মণিকা? না কি অন্য কিছু? পুরো দুনিয়া ভুলে গিয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রয়েছে বিহান। মেয়েটা ফুল বিলি করতে করতে তার দিকে আসছে। আচ্ছা, মেয়েটা কি স্লো মোশনে আসছে? তা না হলে ওর আসতে এত দেরি হচ্ছে কেন? চাতকপাখি যেভাবে রৌদ্রদগ্ধ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে, বিহান সেই ভাবে তাকিয়ে রয়েছে।

    হঠাৎ বিহানের কোমরে সনৎ কনুইয়ের খোঁচা দিয়ে বলল, “মালটাকে হেব্বি দেখতে না?”

    মাল! কার সম্পর্কে এই শব্দ ব্যবহার করল সনৎ? দাঁতে দাঁত চেপে বিহান বলল, “তুই মাল বললি কাকে?”

    “আরে! ওই দরিয়া নামের মেয়েটাকে। ওর সঙ্গে যেটা আছে, সেটাও ঘাপচু মাল। তবে দরিয়ার পাশে জাস্ট নস্যি!”

    বিহান সনতের কথা শুনছে না। সে তাকিয়ে রয়েছে হলুদ প্রজাপতির দিকে। পাখনা মেলে প্রজাপতি তার দিকেই আসছে। কী যেন নাম? ও হ্যাঁ! দরিয়া। দরিয়াও খেয়াল করেছে, একটা ছেলে ভ্যাবা গঙ্গারামের মতো তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। সে বিহানের দিকে তাকিয়ে পাতলা হাসল। বিহান জানে না তার মধ্যে কী ভর করেছে। সে দরিয়ার দিকে তাকিয়ে অবিকল একই কায়দায় হাসল।

    ফুল দিতে দিতে দরিয়া আরও কাছে চলে এসেছে। এবার সে তার দুটো ভুরু তুলে নাচাল। বিহান ঘোরের মধ্যে রয়েছে। সেও তাই করল। দরিয়া হার স্বীকার করে নিয়েছে। অসহায় বালিকার মতো কাঁধ ঝাঁকিয়ে বিহানের সামনে এসে একমুঠো ফুল এগিয়ে দিল। বিহান হাত পেতে ফুল নিল। নেওয়ার সময়ে সেকেন্ডের ভগ্নাংশের জন্য বিহানের আঙুল স্পর্শ করে গেল দরিয়ার আঙুল। কী নরম! কী তুলতুলে! ঠিক যেন পাখির

    পালক! ঢোক গিলে, ভারী গলায় বিহান বলল, “তেরা নাম কেয়া হ্যায় বাসন্তী?”

    বাসন্তী রঙের শাড়ি পরা মেয়ে দুটি হেসে কুটোপাটি। দরিয়া সনতের হাতে ফুল দেওয়ার সময়ে বিহানের দিকে তাকিয়ে বলল, “ওর নাম মণিদীপা। আর আমার নাম দরিয়া। অঞ্জলি দিয়ে চলে যেয়ো না। প্রসাদ খেয়ে যাবে।”

    “আচ্ছা,” ঘাড় নাড়ল বিহান। পুরোহিতমশাই মন্ত্রপাঠ শুরু করেছেন। বিহান চোখ বন্ধ করে পুজোর মন্ত্র বিড়বিড় করছে। এগুলো ছোটবেলা থেকে বলে বলে মুখস্থ। হঠাৎ তার কানের কাছে হিসহিস করে সনৎ বলল, “তুই দরিয়ার দিকে তাকাবি না বলে দিলাম। দরিয়া আমার!”

    মন্ত্রপাঠ বন্ধ করে সনতের দিকে তাকাল বিহান। গত এক মিনিটে তার জীবনে যা কিছু ঘটেছে, সেটা সে বুঝে উঠতে পারছে না। অচেনা একটা মেয়েকে দেখে এত উতলা হওয়ার কারণ তার কাছে পরিষ্কার নয়। সিনেমায় দেখেছে, শাহরুখ খানের সঙ্গে কাজলের প্রেম হয়। দেবের সঙ্গে কোয়েলের। সেই প্রেম নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া বিরাট চাপের ব্যাপার! হাজার প্রশ্ন, লক্ষ কনফিউশন। তার মধ্যে গাম্বাট সনৎ নতুন ঝামেলা ঢুকিয়ে দিচ্ছে। বিহান অবাক হয়ে বলল, “দরিয়া তোর? এই কথাটার মানে কী?”

    “আমি ওকে ভালবাসি।”

    “উরিত্তারা! এই কথাটা দরিয়া জানে?”

    “এখনও নয়। দু’-এক দিনের মধ্যেই মালটাকে তুলে ফেলব।”

    অঞ্জলি শেষ হয়ে গিয়েছে। হাতের ফুল সরস্বতী ঠাকুরের দিকে ছুড়ে বিহান বলল, “সবাই তোর কাছে মাল, তাই না রে সনৎ? মদও মাল, মণিদীপাও মাল, দরিয়াও মাল।”

    “ম্যাচ্ছেলে নিয়ে কী বুঝিস তুই?” বিহানের থুতনি নেড়ে দিল সনৎ, “সন্টা মনা! বাড়ি গিয়ে মায়ের আঁচলের তলায় ঢুকে বসে থাকিস আর দুদুভাতু খাস। এইসব হল অ্যাডাল্টদের ব্যাপার!”

    * * *

    “ট্রেন ঢুকে গিয়েছে!” মিনুর চিৎকারে ঘোর কাটল বিহানের। সে দেখল মিনু প্যাডেল মারছে ঝড়ের গতিতে। বকুলতলা স্টেশন এখনও অনেকটা দূর। প্ল্যাটফর্মে ট্রেন ঢুকে গেলেও এখনও দাঁড়ায়নি। তার মানে মিনিটখানেক সময় পাওয়া যাবে। মিনুদি হাঁপাতে হাঁপাতে বলছে, “ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য টাইম নষ্ট করবে না। সোজা উঠে যাবে।”

    “তুমি কথা বোলো না। হাঁপিয়ে যাবে।” স্টেশনের দিকে তাকিয়ে বলছে বিহান। ট্রেন বকুলতলা স্টেশনে দাঁড়িয়েছে। এখান থেকেই দেখা যাচ্ছে, যাত্রীরা ওঠানামা করছে।

    গম্ভীর হর্ন বাজিয়ে ট্রেন যাত্রা শুরু করল।

    রিকশা থেকে একলাফে নেমেছে বিহান। দৌড় দিয়েছে স্টেশনের দিকে। ট্রেনের গতি বাড়ছে। সে কি ট্রেনটা ধরতে পারবে?

    মিনু চিৎকার করে বলছে, “তুমি প্রথম কামরায় উঠে যাও। ওখেনে আমার বর আচে।”

    বিহান স্টেশনে ঢুকল। তরতর করে সিঁড়ি টপকে পৌঁছে গেল প্ল্যাটফর্মে। সামনে দিয়ে চলে যাচ্ছে হাওড়াগামী ট্রেন। গতি বেড়ে যাওয়ার ফলে কামরাগুলো আর আলাদা করে দেখা যাচ্ছে না। ঝাপসা প্রতিবিম্বর মতো লাগছে। বিহান গতি বাড়াল। দৌড়তে লাগল ট্রেনের পাশাপাশি। আর একটু দৌড়লেই প্ল্যাটফর্ম শেষ হয়ে গিয়ে পাথর আর খোয়ার ঢিবি শুরু হবে। ওইখানে মুখ থুবড়ে পড়লে আর দেখতে হবে না!

    আর কিছু ভাবছে না বিহান। ছুটন্ত অবস্থায় সে ট্রেনের হাতলের দিকে হাত বাড়াল। এবং ধাতব হাতল স্পর্শ করা মাত্র তার ঘেমো হাত পিছলে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমধুরেণ – ইন্দ্রনীল সান্যাল
    Next Article অপারেশন ওয়ারিস্তান – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    Related Articles

    ইন্দ্রনীল সান্যাল

    অপারেশন ওয়ারিস্তান – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 10, 2025
    ইন্দ্রনীল সান্যাল

    মধুরেণ – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }