Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শেষ নাহি যে – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    ইন্দ্রনীল সান্যাল এক পাতা গল্প182 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শেষ নাহি যে – ৮

    ট্রেনের হাতল ফসকে যাওয়ার ফলে গতিজাড্যের কারণে বিহান ছিটকে গিয়েছে। প্ল্যাটফর্ম শেষ হয়ে আসছে। চলন্ত ট্রেন তাকে টানছে, যেভাবে লোহাকে কাছে টানে চুম্বক। বিহান এইবার খোয়ায় মাথা ঠুকে জ্ঞান হারাবে। অথবা ধাতব চাকার তলায় ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে। এলোমেলো পা ফেলে সে ছুটছে…

    হঠাৎ সবল দুটো হাত তাকে ধরে এক ঝটকায় ট্রেনে তুলে নিল।

    ট্রেনের মেঝেতে বসে হাঁপাচ্ছে বিহান। চোখ বুজে রয়েছে বলে কিছু দেখতে পাচ্ছে না। অতটা দৌড়নোর ফলে ফুসফুসে একফোঁটা বাতাস নেই। বুক হাপরের মতো ওঠানামা করছে। কবাডি খেলোয়াড়রা যেভাবে বিপক্ষ দলের এলাকায় ঢুকে একে-তাকে ছুঁয়ে আবার নিজের কোর্টে ফিরে আসে, সেইভাবেই মৃত্যুর কোর্টে গিয়ে যমরাজকে ছুঁয়ে আবার জীবনের কোর্টে ফিরে এসেছে বিহান। তার ফুসফুস এখন বাতাস চাইছে, বাতাস।

    এক যাত্রী বললেন, “সুদাম না থাকলে তুমি এতক্ষণে পটলডাঙার টিকিট কেটে ফেলতে।”

    অন্য যাত্রী বললেন, “শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হলে সুদামকে একটা পেন্নাম কোরো। ওর জন্যই তুমি আজ বেঁচে গেলে।”

    বিহান এবার চোখ খুলল। ট্রেন যাচ্ছে ঝড়ের গতিতে। কামরায় অনেক যাত্রী। বিহান আন্দাজ করল, এঁরা কলকাতার বাসিন্দা। চাকরির কারণে পোর্ট এলাকায় থাকেন। গন্ডগোলের আঁচ পেয়ে বাড়ি ফিরছেন।

    প্রথম যাত্রী স্মার্টফোনে নিউজ় চ্যানেল দেখতে দেখতে বললেন, “শিলিগুড়ি আর উত্তর দিনাজপুরে গন্ডগোল শুরু হয়েছে। সরকারি বাস জ্বালিয়ে দিয়েছে। সুবীরদা, এবার আপনার দলের ছেলেরা মার খাবে।”

    দ্বিতীয় যাত্রী, যাঁর নাম সুবীর, বললেন, “আমিও মোবাইলে নিউজ় চ্যানেল দেখছি কিশোর। চ্যানেল বলছে, পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ডে মাইন বিস্ফোরণ। ওখানে তো গণতান্ত্রিক মোর্চার দাদাগিরি।”

    প্রথম যাত্রী কিশোর বললেন, “ওরকম বলবেন না সুবীরদা। মানসী বসুকে আপনার দল খরাজ পার্টির লোক মেরে দিল। সেটা অন্যায় নয়?”

    সুবীর বললেন, “শোনো কিশোর, আমরা সবাই জানি যে তুমি পোর্টে কিশলয় পার্টি করো আর পাড়ায় গণতান্ত্রিক মোর্চা। গিরগিটিও তোমার কাছে লজ্জা পাবে।”

    সুবীর আর কিশোরের মধ্যে জোর তরজা শুরু হয়ে গেছে। কামরার বাকি যাত্রীরা দুই পক্ষে ভাগ হয়ে ভার্বাল ডুয়েল চালাচ্ছে। সেসবে কান না দিয়ে, মাথা তুলে বিহান বলল, “সুদামদা, একটু জল খাওয়াবে?”

    সুদাম মেঝেতে বসে ট্রেনের দরজা দিয়ে বাইরে তাকিয়েছিল। নিজের নাম শুনে বিহানের দিকে তাকাল। জলের বোতল এগিয়ে বলল, “আমাকে চেনো?”

    সুদামের পরনে ঢোলা সাদা পায়জামা আর গেরুয়া পাঞ্জাবি। গলায় উড়নি জড়ানো। মাথার চুল কাঁধ ছাপিয়েছে। গলায় আর হাতে নানারকমের মালা আর হার। একপায়ে ঘুঙুর পরা। হাতে একতারা। অজস্র কাপড়ের টুকরো সেলাই করে বানানো ঝোলা কাঁধে। সুদামকে দেখে ট্রেনে-গান-গাওয়া-ভিখারি বলে মনে হচ্ছে না।

    ঢকঢক করে আধ বোতল জল খেয়ে তেষ্টা মিটেছে বিহানের। সুদামকে বোতল ফেরত দিয়ে, হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে মুখ মুছে বলল, “মিনুদির রিকশা চেপে স্টেশন পর্যন্ত এলাম। মিনুদিই বলল, তুমি এই ট্রেনের প্রথম কামরায় থাকো।”

    ঘাড় ঘুরিয়ে একমাত্র ভাল চোখটি দিয়ে বিহানকে দেখল সুদাম। বলল, “তোমাকে চিনতে পারলাম না!”

    “না চেনারই কথা,” মৃদু হাসল বিহান, “তুমি একবার একটা দরকারে আমার বাড়ি এসেছিলে। আমি তোমার আধার কার্ডের গন্ডগোল ঠিক করে দিয়েছিলাম।”

    এক চোখে উজ্জ্বলতা ফুটে উঠল। মুখময় ফুটে উঠল হাসি। সুদাম বলল, “হ্যাঁ। এবার মনে পড়েছে। তুমি পোর্টে চাকরি করো। নামটা ভুলে গেছি।”

    “আমার নাম বিহান। তুমি এই গন্ডগোলের দিনে হাওড়া যাচ্ছ কেন? যদি ফিরতে না পারো?”

    “আমি যখন বাড়ি থেকে বার হয়েছিলাম, তখন সব শান্ত ছিল। বেরনোর পরে গন্ডগোল শুরু হয়েছে। ওই নিয়ে চিন্তা কোরো না। একটু পরেই সব ঠিক হয়ে যাবে। আর যদি গন্ডগোল চলতে থাকে, তা হলে রাতটা হাওড়া স্টেশনে কাটিয়ে দেব।”

    “দেখা যাক।” চিন্তিত মুখে বলল বিহান।

    বিহানের কথা শেষ হতে না হতেই সুবীর বললেন, “এই যে! লেনিন সরণির ভিডিয়ো দেখো। রাজপথে প্রকাশ্যে মারামারি এবং লুঠতরাজ শুরু হয়েছে। গণতান্ত্রিক মোর্চার মারমুখী কর্মীদের সামলাতে পারছে না পুলিশ।”

    কিশোরও কম যান না। নিজের স্মার্টফোন বাড়িয়ে বললেন, “শ্যামবাজারে বাস পুড়িয়ে দিয়েছে খরাজ পার্টির ক্যাডাররা। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা শহরে অঘোষিত বন্‌ধ।”

    সুবীর মোবাইল উঁচিয়ে বললেন, “খরাজ পার্টির একাধিক কর্মী খুন হয়েছেন।”

    কিশোরও মোবাইল উঁচিয়ে বললেন, “আমাদের পার্টির ছেলেদের কারা মারছে? আপনারা! সরকার মিলিটারি নামানোর কথা চিন্তা করছে।”

    কামরার যাত্রীরা আবার দু’ভাগে ভাগ হয়ে ঝগড়া শুরু করেছে। চিৎকারে কান পাতা দায়। তারই মধ্যে বিহান শুনতে পেল, তার মোবাইল বাজছে।

    মিনুর রিকশায় বসেই সে ব্যাকপ্যাকের সাইড পকেটে মোবাইল ঢুকিয়ে রেখেছিল। তাড়াতাড়ি ব্যাগ থেকে ফোন বার করল বিহান। কে ফোন করেছে? শ্বশুরমশাই? না মা?

    দু’জনের কেউ নয়। ফোন করেছে সনৎ। মোবাইল কানে দিয়ে বিহান বলল, “বল।”

    “কোথায়?” আয়েশি গলায় জিজ্ঞেস করছে সনৎ। তার কথার মধ্যে হাওয়ার শনশন শব্দ শোনা যাচ্ছে।

    “ট্রেনে,” উত্তর দিল বিহান, “তুই কোথায়? বাইকে চেপেছিস না কি? এত হাওয়া দিচ্ছে কেন?”

    বিহানের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সনৎ পাল্টা প্রশ্ন করল, “ট্রেন এখন কোথায়? লাইনে কোনও গন্ডগোল আছে নাকি?”

    “এখনও পর্যন্ত সব ঠিক আছে,” সামান্য থেমে বিহান বলল, “তুই কোথায় বললি না তো?”

    “সেটা জেনে তোর কী লাভ?” খিঁচিয়ে উঠল সনৎ।

    বিহান ম্লান হেসে বলল, “কালকেই বকুলতলা চলে আসব। ডেটা এন্ট্রির পেন্ডিং কাজ সোমবারের মধ্যে তুলে দেব। প্রমিস।”

    “আমাকে প্রমিস করে কী লাভ? আমি তোকে চাকরি দিয়েছি নাকি?”

    “হ্যাঁ। তুই-ই আমায় চাকরি দিয়েছিস। তুই প্লিজ় দেখ, চাকরিটা যেন থাকে। না হলে বউ-বাচ্চা নিয়ে না খেতে পেয়ে মরে যাব!”

    বিহানের আকুতি সনতের কানে ঢুকল কি না কে জানে! সে ফোন কেটে দিয়েছে। মোবাইল ফোনটা ব্যাকপ্যাকের সাইড পকেটে ঢুকিয়ে বিহান সুদামের দিকে তাকাল। সুদাম এতক্ষণ ফোনালাপ শুনছিল। কিন্তু সে বিহানকে একটাও কথা জিজ্ঞেস করল না। বাইরের দিকে তাকিয়ে গুনগুন করে গান গাইতে লাগল।

    গানের সুর বিহানের চেনা। রবীন্দ্রসঙ্গীত। লাইনগুলো মনে পড়ছে না। দীনবন্ধু ইনস্টিটিউশনে নবীনবরণ উৎসবের দিন গানটা গাওয়া হয়েছিল। বিহান অল্পসময়ের জন্য অনুষ্ঠানে ছিল। শুরু হওয়ার একটু পরেই সুযোগ বুঝে টুক করে কলেজ কাটে।

    * * *

    হাওড়া গার্লস কলেজটা হাওড়া ময়দান ফ্লাইওভারের নীচে। সোম আর মঙ্গলবার মঙ্গলাহাটের কারণে মানুষ আর মালপত্রে পুরো এলাকাটা নরক হয়ে থাকে। তখন রাস্তা দিয়ে হাঁটা দায়। সপ্তাহের বাকি দিনগুলো অবশ্য পরিষ্কার-পরিছন্ন।

    মেয়েদের কলেজ বলেই বোধহয় ডিসিপ্লিন বেশি। দরিয়াদের ইতিমধ্যে ক্লাস শুরু হয়ে গিয়েছে। দরিয়া এমন ভাব করে, যেন একটা ক্লাস কাটলে পরীক্ষায় ফেল করে যাবে! সেই তুলনায় মণিদীপা ডাকাবুকো। সে-ই দরিয়াকে ফুসলে কলেজ থেকে বার করেছে। বিহানের সঙ্গে দু’জনে চলে এসেছে হাওড়া স্টেশনে। ফেরি সার্ভিস ধরতে। হাওড়া থেকে লঞ্চে করে ফেয়ারলি প্লেসে যাওয়া হবে। গঙ্গার ওপারে পৌঁছে, ইচ্ছে হলে এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করা হবে। ইচ্ছে না হলে ফিরতি লঞ্চের টিকিট কেটে হাওড়া ফিরে আসা। পরিচিত মুখের সঙ্গে লঞ্চে দেখা হয়ে গেলে মণিদীপা ভরসা। তিনজন কলেজের ছেলেমেয়ে একসঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছে। কেউ সন্দেহ করবে না।

    সেটা ছিল হেমন্তকাল। সকাল সাড়ে এগারোটা বাজে। গঙ্গায় একটু আগে জোয়ার এসেছে। অফিসযাত্রীদের ভিড় নেই। এখন লঞ্চে যাত্রী হাতে গোনা। লঞ্চের ডেকে উঠে দরিয়া বিহানকে জিজ্ঞেস করল, “যারা লঞ্চ চালায়, তাদের কী বলা হয়?”

    “পাইলট।” আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে উত্তর দিল বিহান।

    “ভ্যাট!” হাসিতে ফেটে পড়েছে মণিদীপা।

    “ভ্যাট বললে কেন?” সিরিয়াস মুখে জিজ্ঞেস করল বিহান, “তুমি জানো? কী বলে?”

    “যারা গাড়ি চালায় তাদের ড্রাইভার বা শফার বলে। যারা প্লেন চালায় তাদের পাইলট বলে। যারা জাহাজ চালায় তাদের সেলর বলে। যারা সাইকেল চালায় তাদের সাইক্লিস্ট বলে।”

    “কুমোরপাড়ার গোরুর গাড়ি চালাত বংশীবদন। তাকে কী বলে?” মণিদীপাকে জিজ্ঞেস করল বিহান।

    “অত জানি না বাবা! ” বিহান আর দরিয়াকে একা থাকার সুযোগ করে দিয়ে মণিদীপা লঞ্চের সামনের দিকে চলে গেল।

    চড়া রোদ উঠেছে। সঙ্গে শুরু হয়েছে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। ছোট ছোট ঢেউ খলবলিয়ে উঠে একে অপরের গায়ে ঢলে পড়ছে। বিহান হাত বাড়িয়ে বৃষ্টির ফোঁটা মাখতে মাখতে বলল, “এইরকম ওয়েদারে শেয়াল-কুকুরের বিয়ে হয়।”

    দরিয়া ওড়নায় মুখ লুকিয়ে কুলকুলিয়ে হাসছে। বিহান অপ্রস্তুত হয়ে বলল, “স্যরি!”

    “কী জন্য?”

    “ওই কথাটা বললাম বলে।”

    “কোন কথাটা?”

    “ওই যে! শেয়াল কুকুরের…”

    “আমি কিছু মনে করিনি। আমি জানি যে আমাকে খারাপ দেখতে।”

    দরিয়ার কথা শুনে বিহান আকাশ থেকে পড়ল, “যাব্বাবা! সে-কথা আমি কখন বললাম?”

    “তুমি যে কথাটা বলেছিলে সেটা আর একবার বলো।”

    “আরে! ওই কথাটা তুমি সিরিয়াসলি নিলে নাকি? ওটা তো প্রবাদ! মানে কথার কথা! সব্বাই বলে তো! এর মাধ্যমে তোমাকে শেয়াল বা কুকুর— কিছুই বলা হচ্ছে না। মানে, ওগুলো কাউকেই বলা হচ্ছে না। এটা জাস্ট…”

    বিহান তোতলাচ্ছে। এক কথা বলতে গিয়ে অন্য কথা বলে ফেলছে। একেবারে ল্যাজেগোবরে অবস্থা। এই সময়ে মরার উপরে খাঁড়ার ঘা দেওয়ার কায়দায় দরিয়া বলল, “তুমি তা হলে আমাকে বিয়ে করবে না?”

    কিছু না বুঝেই বিহান বলল, “আমি সে-কথা কখন বললাম?” পরমুহূর্তে প্রচণ্ড ঘাবড়ে গিয়ে বলল, “এর মধ্যে বিয়ের কথা আসছে কোথা থেকে?”

    দরিয়া নীচের ঠোঁট কামড়ে, ভুরু কুঁচকে সিরিয়াস গলায় বলল, “জানতাম।” তারপর লঞ্চচালকের কেবিনের পাশ দিয়ে হেঁটে গিয়ে মণিদীপার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। ফেয়ারলি প্লেসের লঞ্চঘাট এসে গিয়েছে।

    লঞ্চ থেকে নেমে দুই বান্ধবী পাশাপাশি হাঁটছে। বিহান একটু পিছনে। স্ট্র্যান্ড রোডে পড়ে মিলেনিয়াম পার্কের দিকে হাঁটা লাগাল দু’জনে। বিহান কী আর করে! রাস্তার কোণে বসে থাকা বুড়ির কাছ থেকে একটা সিগারেট কিনে আয়েশ করে ধরাল। বিড়ি-সিগারেট খাওয়ার অভ্যেস তার নেই। সনতের সঙ্গে থাকলে দু’-একটা খেতেই হয়। এখন খাচ্ছে রাগ করে।

    মণিদীপা হঠাৎ বান্ধবীকে ছেড়ে পিছিয়ে এল। বিহানকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি দরিয়াকে কী বলেছ? ও তোমার সঙ্গে কথা বলতে চাইছে না কেন?”

    “আমি জানি না বস!” হাত তুলে দিয়েছে বিহান, “তোমরা, মেয়েরা, খুব জটিল জিনিস। তোমাদের বোঝার জন্য সরকারের তরফ থেকে টোল ফ্রি নম্বর রাখা উচিত। ওয়ান এইট জিরো জিরো…” মোবাইল হাতে নিয়ে ফোন করার অভিনয় করে বিহান, “হ্যালো? স্যর? আমার বান্ধবী মুখ গোঁজ করে আছে। কী করব?”

    “দুই টিপুন,” বলল মণিদীপা।

    “কী বললে?” বিহানের চোখ ছানাবড়া হয়ে গিয়েছে।

    মণিদীপা বিহানের দিকে নিষ্পাপ দৃষ্টি বিছিয়ে বলল, “হিন্দিকে লিয়ে এক দাবাইয়ে, বাংলায় কথা বলার জন্য দুই টিপুন, ফর ইংলিশ ডায়াল থ্রি।”

    “ও আচ্ছা!” হুশ-হুশ করে সিগারেটে টান দিচ্ছে বিহান।

    “কেন? তুমি কী ভাবলে?” জানতে চাইছে মণিদীপা।

    “কিছু না। কিছু না। নাথিং।”

    “টোল ফ্রি নাম্বার ছাড়া সরকার বাহাদুর অন্য কোনওভাবে তোমাদের সাহায্য করতে পারে?”

    “খবরের কাগজ আর টিভিতে বিজ্ঞাপন দেওয়া, সিনেমা শুরু হওয়ার আগে নিউজ়রিল দেখানো, স্কুল আর কলেজে সাবজেক্ট হিসেবে ‘মেয়েলজি’ ইনক্লুড করা, অনেক কিছু আছে। মিনিস্ট্রি অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং উইমেন খোলাটাও খুব জরুরি।”

    বিহান আর মণিদীপা কথা বলতে বলতে হাঁটছে। সামনে দরিয়া। হঠাৎ সে পিছন ফিরে একগাল হেসে মণিদীপাকে বলল, “হ্যাঁ ভাই বকুলফুল! সেইটা কখন হবে মনে আচে?” দুই বান্ধবী যখন নিজেদের মধ্যে কথা বলে তখন পুরনো দিনের বাংলা সিনেমায় মেয়েরা যেভাবে কথা বলত, সেইভাবে বলে।

    মণিদীপা স্মার্টলি বলল, “তা আবার মনে নেই কো! সেই আঁটকুড়োর বেটা তো গালে হাত দিয়ে বসে রয়েচে!”

    “হায় ভকোপান! থালে কী করা উচিত? বল না লো সই!”

    “ফিরে চল, বকুলফুল! ফিরে চল! বেশিক্ষণ অপেক্ষা করালে সে যদি বিরক্ত হয়?”

    দরিয়া এবার বিহানের দিকে তাকিয়ে একগাল হেসে বলল, “চলো গো প্রাণনাথ! আমরা এবার ফিরে যাই।”

    “আমরা মানে কারা?” কঠিন গলায় জিজ্ঞেস করেছে বিহান, “আজকে ঘুরতে আসার কথা ছিল তোমার আর আমার। তোমার বন্ধু কেন এসেছে?”

    “আমার কোনও দোষ নেই রাজাধিরাজ!” দু’হাত জোড় করেছে মণিদীপা, “বকুলফুল ডেকেচিল বলে এয়েচি। আমার ভুল হয়ে গেচে। আমি এই ঘাট মানলুম,” স্ট্র্যান্ড রোড দিয়ে শিবপুর ট্রামডিপোগামী মিনিবাস যাচ্ছে। সেটায় চড়ে উধাও হয়ে গেল মণিদীপা।

    সেদিকে না তাকিয়ে রাস্তার কোণে বসে থাকা বুড়ির কাছ থেকে আর একটা সিগারেট কিনে ধরাল বিহান। দরিয়া বলল, “এবার কী হবে?”

    “কার কী হবে? তোমার বান্ধবীর কথা বলছ?” সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে বিহান বলল, “মণিদীপা হল গিয়ে আইএসআই ছাপযুক্ত, আগমার্কা চালু মাল। ওর কোনও বিপদ হবে না। আমার বরং মিনিবাসের প্যাসেঞ্জারদের জন্য চিন্তা হচ্ছে।”

    “মণিদীপাকে নিয়ে তুমি আজেবাজে কথা বলবে না। ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। আর তুমি সিগারেটটা হাত থেকে ফেলে দাও। ওসব খেলে ক্যানসার হয়।”

    “পয়সা দিয়ে কিনলাম। একটু ধোঁয়া খেয়ে নিই।” মুচকি হাসল বিহান।

    সেদিন দু’জনে হাঁটতে হাঁটতে স্ট্র্যান্ড রোড পেরিয়ে কত জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছিল, তার হিসেব নেই। প্রথমবার কলেজ কাটা, প্রথমবার বন্ধুর সঙ্গে কলকাতার রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো, প্রথমবার কলকাতার রাস্তা থেকে নানারকমের খাবার খাওয়া— দিনটা ভোলার নয়। সন্ধে নেমে আসার মুখে দু’জনে মিলে দাঁড়িয়েছিল বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটের একটা চায়ের দোকানের সামনে। দুটো স্পেশ্যাল চা অর্ডার করে বিহান বলল, “বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে যাবে। বাবা-মা’কে কী বলবে?”

    “আমার কোনও চাপ নেই। সত্যি কথাই বলে দেব। তুমি কী বলবে?”

    “কী বলব?” ভাঁড়ে চুমুক দিয়ে বিহান বলল, “সত্যি কথা মা’কে বলতে আমারও কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু সত্যি কথাটা কী, সেটাই তো আমি জানি না।”

    দরিয়া বিহানের কথা শুনে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “মানে?”

    চায়ের ভাঁড় ডাস্টবিনে ফেলে, দুটো চায়ের দাম মিটিয়ে বিহান বলল, “সরস্বতী পুজোর দিন তোমাকে দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম যে তোমাকে আমি ভালবাসি। মানে, ভালবাসা কাকে বলে আমি জানি না। তাও…”

    দরিয়ার চা খাওয়া শেষ। দুটি ছেলেমেয়ে কলকাতা শহরের রাস্তা দিয়ে টুকটুক করে হেঁটে যাচ্ছে। রাস্তায় অফিস-ফেরতা মানুষের ঢল নেমেছে। তিলধারণের স্থান নেই। বাস, প্রাইভেট গাড়ি আর ট্যাক্সির উপদ্রবে রাস্তা পেরনো অসম্ভব ব্যাপার। দরিয়া সন্তর্পণে বিহানের হাত নিজের মুঠোয় নিয়ে বলল, “আমার কাছ থেকে তুমি কী শুনতে চাও? আমি তোমাকে ভালবাসি কি না?”

    বাসকে পাশ কাটিয়ে, ট্যাক্সিকে ডজ করে, পথচারীদের গুঁতো খেয়ে রাস্তা পেরল দু’জনে। বিহানের হাত ছাড়েনি দরিয়া। ওপারের ফুটপাথে উঠে বলল, “হ্যাঁ বিহান। আমি তোমাকে ভালবাসি। এই যে তোমাকে ছুঁয়ে আছি, এতেই আমি খুশি। এই যে তোমার চুলে হাত বোলাতে পারছি, এতেই আমি খুশি। এখন মরে গেলেও আমার আর কোনও দুঃখ থাকবে না। তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকার কায়দা যদি জানতাম, তা হলে এক্ষুনি তোমাকে ছেড়ে চলে যেতাম। কিন্তু সেটা জানি না। তুমি ছাড়া নিজেকে অসম্পূর্ণ বলে মনে হয়।”

    * * *

    “অন্যমনস্ক হয়ে কী ভাবছ ভায়া?” জিজ্ঞেস করল সুদাম। চটকা ভেঙে বিহান দেখল, ট্রেন বাহারবেড়িয়া জংশনে দাঁড়িয়ে। এটা বেশ বড় স্টেশন। এখান থেকে হাওড়া পৌঁছতে বেশিক্ষণ লাগার কথা নয়। বিহান বলল, “কী আর ভাবব? বউটার কথা ভাবছিলাম। কখন যে ওর কাছে পৌঁছতে পারব…”

    “গিন্নিকে খুব ভালবাসা হয়?” ভাববাচ্যে জিজ্ঞেস করল সুদাম।

    উত্তর না দিয়ে হাই তুলে বিহান বলল, “ক’টা বাজে গো?”

    সুদাম বলল, “সাড়ে বারোটা। ট্রেন ঠিকঠাক চললে বাহারবেড়িয়া থেকে হাওড়া স্টেশন পাক্কা এক ঘণ্টা।”

    “এখনও পর্যন্ত তো ঠিকই চলছে,” বলল বিহান। তার কথার মধ্যে কিশোর বললেন, “আর চলবে বলে মনে হয় না। খরাজ পার্টির লোকেরা আমাদের ধরে খুব পেটাচ্ছে। এবার আমাদের পাল্টা মার দিতেই হবে।”

    সুবীর তাঁর থুতনি নেড়ে দিয়ে বললেন, “ও লে বাবা লে! কী মিত্তি ছেলে সব। সারা রাজ্য জুড়ে লুঠতরাজ চালিয়ে এখন ভিকটিম কার্ড খেলা হচ্ছে।”

    আবার ঝগড়া শুরু হয়ে গিয়েছে কিশোর আর সুবীরের মধ্যে। ট্রেনের যাত্রীরা দু’ভাগে ভাগ হয়ে চেঁচাচ্ছে। তার মধ্যে বেজে উঠেছে বিহানের ফোন। তড়িঘড়ি ব্যাগ থেকে ফোন বার করে সে দেখল সাম্যব্রত ফোন করেছেন।

    কানে ফোন দিয়ে বিহান বলল, “হ্যালো!”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমধুরেণ – ইন্দ্রনীল সান্যাল
    Next Article অপারেশন ওয়ারিস্তান – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    Related Articles

    ইন্দ্রনীল সান্যাল

    অপারেশন ওয়ারিস্তান – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 10, 2025
    ইন্দ্রনীল সান্যাল

    মধুরেণ – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }