Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শেষ নাহি যে – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    ইন্দ্রনীল সান্যাল এক পাতা গল্প182 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শেষ নাহি যে – ৯

    “তুমি কোথায়?” জিজ্ঞেস করলেন সাম্যব্রত।

    বিহান উত্তর দিল, “বাহারবেড়িয়া জংশন। আর ঘণ্টাখানেক লাগবে। দরিয়াকে একবার ফোন দিন।”

    সাম্যব্রত নিচু গলায় বললেন, “ও একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছে।”

    “একটু অসুস্থ মানে?” চিৎকার করে উঠেছে বিহান, “কী হয়েছে ওর?”

    সাম্যব্রত বললেন, “তুমি রাস্তায় রয়েছ। উত্তেজিত হোয়ো না। এক্ষুনি মেয়েটা অজ্ঞান হয়ে গেল। তুমি তাড়াতাড়ি এসো, প্লিজ়!”

    বিহান কিছু বলার আগেই ফোন কেটে দিয়েছেন সাম্যব্রত। কারণ একজন সেবিকা কোমরে হাত দিয়ে, ভুরু কুঁচকে তাঁকে দেখছে। সাম্যব্রত ফোন কাটতেই সেবিকা বলল, “আমি আপনাকে ডেকে পাঠালাম যাতে মেয়ের অবস্থা নিজের চোখে দেখতে পারেন। আপনি এসেই মিডিয়াকে ফোন করা শুরু করে দিলেন?”

    সাম্যব্রত অবাক হয়ে বললেন, “মিডিয়া? আমি তো জামাইকে ফোন করেছিলাম।”

    “আপনাদের ওইসব কোড ওয়ার্ড আমি জানি না ভেবেছেন?” গলা সপ্তমে তুলে চেঁচাচ্ছে সিস্টার, “মামা মানে পুলিশ, জামাই মানে মিডিয়া, ভাইপো মানে পাড়ার গুন্ডা— সব জানি।”

    “বিশ্বাস করুন দিদি! আমি আমার মেয়ের বরকে ফোন করেছিলাম। কোনও মিডিয়াকে চিনি না।”

    “সব্বাই তাই বলে,” কাঁসরের মতো গলায় বলল সিস্টার, “এরপর পেশেন্ট মরে গেলে জামাইদের নিয়ে চলে আসে। তাই না মন্টুদা?”

    মন্টু ট্রলির পাশে দাঁড়িয়ে দরিয়ার মুখে জলের ঝাপটা দিচ্ছিল। সঙ্গে সঙ্গে বলল, “যা বলেছেন নমিতাদি। এক্কেবারে খাঁটি কথা।”

    জলের ঝাপটায় দরিয়ার জ্ঞান ফিরেছে। সে সাম্যব্রতর দিকে তাকিয়ে বলল, “বিহান এসেছে?”

    “না। আমি এক্ষুনি ওকে ফোন করেছিলাম। সিস্টার বকাবকি করলেন বলে লাইন কেটে দিলাম।” নিচু স্বরে বললেন সাম্যব্রত।

    নমিতা সিস্টার গলা আবার চড়িয়ে বলল, “মেয়ের জ্ঞান ফিরেছে। পেশেন্ট পার্টি বাইরে যান।”

    সাম্যব্রত তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেলেন। মন্টু ট্রলি ঠেলে একটা বড় হলঘরে দরিয়াকে ঢুকিয়ে দিয়ে নিজে বেরিয়ে গেল।

    দরিয়া বুঝতে পারছে, এটা লেবার রুম। আশেপাশে হবু মায়েরা শুয়ে। হঠাৎ ‘ট্যাঁ ট্যাঁ’ করে বাচ্চার গলার আওয়াজ শোনা গেল।

    সদ্যোজাত শিশুর কান্না শুনে বুকের ভিতরটা ভারী হয়ে এল দরিয়ার। তার মধ্যে অজস্র অনুভূতি খেলা করছে। কখনও ভয় করছে, কখনও দুশ্চিন্তা হচ্ছে, কখনও বিহানের উপরে তীব্র অভিমান হচ্ছে। পরমুহূর্তে মনে হচ্ছে, তার গর্ভের সন্তান বিহান আর তার ভালবাসার ফসল। বিহানকে ছাড়া তার জীবন অসম্পূর্ণ।

    দরিয়ার চিন্তাস্রোতে বাঁধ দিতে চলে এসেছে নমিতা সিস্টার। খ্যারখ্যার করে বলছে, “গুনগুন মাসি, এদিকে এসো।”

    গুনগুন মাসি আবার কে? ঘাড় ঘুরিয়ে দরিয়া দেখল, বছর ষাটের এক মহিলা দুটো সদ্যোজাতকে কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাচ্চাগুলোকে রেলিং দেওয়া কটে রেখে দরিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে বলল, “এর স্যালাইন শেষ হয়ে গেছে। বদলে দিই?”

    “দাও,” ছোট্ট উত্তর দিল নমিতা সিস্টার। সে এতক্ষণ দরিয়াকে পরীক্ষা করছিল। হাত থেকে গ্লাভস খুলে বলল, “তোমার ডেলিভারি হতে দেরি আছে মা ঠাকরুন। এখন লেবার রুমে ঢুকে ভিড় বাড়িয়ো না। ওয়ার্ডে গিয়ে শুয়ে থাকো।”

    গুনগুন মাসি স্যালাইনের পাউচ বদলে দিয়েছে। ডেকে এনেছে মন্টুকে। তাকে দেখেই নমিতা সিস্টার চেঁচাল, “একে এখানে আনলে কেন? বাচ্চা হতে দেরি আছে। শিগ্‌গির মেটারনিটি ওয়ার্ডে নিয়ে যাও।”

    মন্টু বলল, “আমি কী জানি! ঘোষ স্যর এখানে পাঠিয়ে দিলেন। এই মেয়েটার পায়ে বোমা লেগেছিল।”

    “ইনজুরি?” নমিতা সিস্টারের চোখ কপালে উঠেছে, “একে সার্জারি ওয়ার্ডে ভরতি না করে এখানে কে ভরতি করল?”

    “ঘোষ স্যর,” হাসছে মন্টু।

    “লোকটা পাগল হয়ে গেছে। কমপ্লিট ম্যাড!” আবার চেল্লাচ্ছে নমিতা, “মন্টুদা, তুমি টিকিট আর পেশেন্ট নিয়ে আবার ইমার্জেন্সিতে যাও। এই পেশেন্ট মেটারনিটি ওয়ার্ডে নয়, সার্জারি ওয়ার্ডে ভরতি হবে।”

    মন্টু আবার ট্রলি ঠেলে লেবার রুম থেকে বেরিয়েছে। সিমেন্টের চোকলা-ওঠা মেঝে দিয়ে ট্রলির নড়বড়ে চাকা যাওয়ার সময়ে সেটা থরথর করে কাঁপছে। কিছুক্ষণ ট্রলি চলার পরে দরিয়া দেখল, তাকে আবার ইমার্জেন্সিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ট্রলি দাঁড় করিয়ে মন্টু বলল, “স্যর! নমিতা সিস্টার এই পেশেন্টকে ভরতি নিল না।”

    ডক্টর ঘোষ মোবাইলে কথা বলছিলেন। মন্টুর কথা শুনে ফোন কেটে বললেন, “একজন পেশেন্টকে সিস্টার ওয়ার্ডে ভরতি করতে চাইছে না! কেন জানতে পারি?”

    মাথা চুলকে মন্টু বলল, “সিস্টার বলল, বাচ্চা হতে দেরি আছে। এখন একে সার্জারি ওয়ার্ডে ভরতি করে দিন। পায়ের সমস্যা মিটলে তার পরে মেটারনিটি ওয়ার্ডে যাবে।”

    “আচ্ছা?” দরিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে, কণ্ঠস্বরে শ্লেষ মিশিয়ে ডক্টর ঘোষ বললেন, “রুগি কোন ওয়ার্ডে ভরতি হবে, সেটা কে ঠিক করবে? ডাক্তার না সিস্টার? সিস্টারের এত সাহস হয় কী করে?”

    “আমি জানি না স্যর,” মন্টু হাসছে। মন্টুর হাসি দরিয়ার বিসদৃশ লাগছে। পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ খাওয়ার পরেও এই লোকগুলো তাকে একটা বেড জোগাড় করে দিতে পারছে না! সেই জন্যে কোনও লজ্জাও নেই। বোকার মতো হাসছে!

    ডক্টর ঘোষের হাতে টিকিট দিয়ে মন্টু বলল, “আপনি যা করার করুন। আমি একটু বসি।”

    মন্টু টুলে বসে পা নাচাচ্ছে। ডক্টর ঘোষ মোবাইলে কাউকে ধরেছেন। এবার যেটা শুরু হল, সেটা শুনে কিছুক্ষণের জন্য দরিয়া যাবতীয় শারীরিক এবং মানসিক অসুবিধে ভুলে গেল।

    ফোনালাপ শুনে বোঝা যাচ্ছে, ওপারে রয়েছে নমিতা সিস্টার। ডক্টর ঘোষ বলছেন, “নমস্কার। আপনার একটা অটোগ্রাফ পাওয়া যাবে? নিদেনপক্ষে সেলফি? অথবা খুরের ধুলো? হ্যাঁ হ্যাঁ, খুর। যাকে আমরা ভাল বাংলায় লেগ ডাস্ট বলি। আপনার লেগ ডাস্ট না নিলে আর কার নেব বলুন? আপনার পাণ্ডিত্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। পেশেন্ট কোন ওয়ার্ডে ভরতি হবে, সেটা আপনি যেভাবে একজন ডাক্তারকে ডিক্টেট করছেন তাতে আমি আপ্লুত। সেই কারণেই অটোগ্রাফ চাইছিলাম!”

    ওদিক থেকে নমিতা সিস্টার কী বলল শোনা গেল না। কিন্তু এদিকে ডক্টর ঘোষের মুখচোখ বদলে গেছে। তিনি মন্টুর দিকে তাকিয়ে বললেন, “সর্বনাশ! সিস্টার এখানেই আসছে। আজ আমাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না!”

    ডক্টর ঘোষের কথা শেষ হওয়ার আগেই ইমার্জেন্সিতে চলে এসেছে নমিতা সিস্টার। সে গটগট করে ডক্টর ঘোষের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলল, “এবার বলুন।”

    ডক্টর ঘোষ মিনমিন করে বললেন, “পেশেন্ট কোন ওয়ার্ডে ভরতি হবে, সেটা ঠিক করার দায়িত্ব আপনার না আমার?”

    নমিতা সিস্টার কিছুক্ষণ ডক্টর ঘোষের দিকে তাকিয়ে রইল। তার পরে বিকট চিৎকার করে বলল, “মেটারনিটি ওয়ার্ডে ভরতি থাকার সময়ে ইনজুরির কারণে পেশেন্ট মারা গেলে তার দায়িত্ব কে নেবে? আপনি?”

    দরিয়া অবাক হয়ে ভাবল, এরা সবাই ভাবছে কেন যে সে মরে যাবে? তার তো কোনওরকম অসুবিধে হচ্ছে না। তা হলে?

    নমিতার চিৎকার শুনে ডক্টর ঘোষ ধড়ফড়িয়ে উঠে বললেন, “ঠিক আছে! ঠিক আছে। অত চেঁচাতে হবে না। আমি পেশেন্টকে সার্জারি ওয়ার্ডে ভরতি করছি। এবারে চুপ করুন, প্লিজ়!”

    “যা বলি আপনার ভালর জন্যেই বলি। কথাটা মনে থাকে না কেন?” নাক সিঁটকে বলল নমিতা সিস্টার। তারপরে জুতোর টকাটক আওয়াজ তুলে লেবার রুমে চলে গেল।

    ইমার্জেন্সিতে এখন নীরবতা। ভাগ্য ভাল যে অন্য কোনও পেশেন্ট নেই। ডক্টর ঘোষ কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন। তারপর মন্টুর দিকে তাকিয়ে দাঁত খিঁচিয়ে বললেন, “বোকার মতো হাসছ কেন? যাও! মেয়েটাকে সার্জারি ওয়ার্ডে ভরতি করে দাও।”

    “ঠিক আছে স্যর!” এখনও হাসছে মন্টু।

    দরিয়ার জন্য আবার নতুন বেড টিকিট বানানো হল। ডক্টর ঘোষ নতুন নিদানপত্র লিখলেন।

    মন্টু আবার ট্রলি ঠেলতে ঠেলতে দরিয়াকে নিয়ে যাচ্ছে। এবারে সম্পূর্ণ অন্যদিকে। দরিয়ার অল্প অল্প ভয় করছে। হাসপাতালে ভরতি হওয়ার আগেই যদি এত ঝামেলা, তা হলে চিকিৎসা পেতে না জানি কত অশান্তি অপেক্ষা করে আছে! সে নিজের মনকে এই বাস্তবের থেকে দূরে রাখার জন্যে মন্টুর সঙ্গে কথা বলা শুরু করল। “ডাক্তারবাবু যখন কথা বলছিলেন, তখন তুমি হাসছিলে কেন মন্টুদা?”

    মন্টু এখনও হাসছে, “মা জননী, আজ অবধি দেখেছ, কোনও সিস্টার কোনও ডাক্তারকে এইরকম বকুনি দিচ্ছে?”

    দরিয়ার হাসপাতালে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নেই বললেই হয়। কী সরকারি, কী প্রাইভেট। অনেক বছর আগে একবার এই বঙ্গবাসী হাসপাতালেই এসেছিল। সেদিনের অভিজ্ঞতা দরিয়া কিছুতেই মনে করতে চায় না। অবশ্য তার কারণ স্বাস্থ্যকর্মী নন। অন্য একজন।

    সেসব কথা এখানে বলার কোনও মানে হয় না। দরিয়া বলল, “না গো মন্টুদা!”

    মন্টু বলল, “এমন ঘটনা ডাক্তার ঘোষ আর সিস্টারের মধ্যে রোজ ঘটে। কেন বলো তো?”

    “জানি না।”

    “ওরা সোয়ামি-ইস্তিরি। কলেজ জীবনে লাভ ছিল। পরে ম্যারেজ হয়েছে। এরা বাড়িতে লাঠালাঠি করে। হাসপাতালেও লাঠালাঠি করে। বাড়িতে ‘তুমি’ বলে। এখানে ‘আপনি’। এদের জন্য বঙ্গবাসী হাসপাতালে কাক-চিল কমে গেছে!”

    মন্টুর কথা শুনে হাসছে দরিয়া। যাবতীয় অসুবিধের কথা ভুলে যেতে চেষ্টা করছে। ভাল কোনও কথা মনে করার চেষ্টা করছে। সেই দিনটার কথা, যেদিন সে আর বিহান প্রথম একসঙ্গে কলকাতায় এসে চা খেয়েছিল। যেদিন হাওড়ায় পৌঁছে বিহান তাকে চুমু খেয়েছিল! অনেক বছর আগে, সরস্বতী পুজোর সন্ধেবেলা একাত্তর নম্বর বাসের পিছনের সিটে বসে গালে ঠোঁট ছোঁওয়ানো নয়। সত্যিকারের চুমু!

    * * *

    কলকাতার আকাশে তখন আতশবাজির রোশনাই। ঘোড়ায় চড়ে অবাঙালি বর যাচ্ছে বিয়ে করতে। সঙ্গে রয়েছে তাসাপার্টি। তারা জনপ্রিয় হিন্দি গানের সুর বাজাচ্ছে। দরিয়া দাঁড়িয়ে পড়ে বলল, “দাঁড়াও। বরকে একবার দেখে নিই।”

    দরিয়ার হাত ধরে টানতে টানতে বিহান বলল, “তোমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। কাকু-কাকিমা চিন্তা করবেন।”

    আবার ফেয়ারলি প্লেস। আবার লঞ্চ। এবার ফেরার পালা। আসার সঙ্গে যাওয়ার তফাত হল এই যে, এখন লঞ্চ অফিসযাত্রীতে গিজগিজ করছে। একটু দূরে আলোকোজ্জ্বল হাওড়া ব্রিজ অলৌকিক ভাস্কর্যের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। পিছন দিকে ঘুরলে দেখা যাচ্ছে দ্বিতীয় হুগলি সেতু। কিন্তু সেটির মধ্যে স্থাপত্য বেশি, মায়া কম। ঢেউয়ের মাথায় প্রতিফলিত হয়ে অর্বুদ টুকরোয় ভেঙে যাচ্ছে হাওড়া ব্রিজের লাল নীল হলুদ সবুজ আলো। ভাঙছে, জুড়ছে, আবার নতুন প্যাটার্ন তৈরি করছে। দেখে দেখে আশ যেন মেটে না।

    দরিয়া জলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। বিহান তার পিঠে হাত দিয়ে বলল, “চলো। হাওড়া এসে গেছে। নামতে হবে।”

    ঘোর কাটিয়ে জল থেকে ডাঙার দিকে এগোল দরিয়া।

    হাওড়া স্টেশনের পুরনো কমপ্লেক্সের সামনে দু’জনের রাস্তা আলাদা হয়ে যাবে। দরিয়া ট্রেন ধরে লিলুয়া যাবে। বিহান হাঁটাপথে হাওড়া ময়দান। গঙ্গার ধারের দোকান থেকে সিগারেট কিনে ধোঁয়া ছেড়ে, দরিয়ার ঘাড়ে সুড়সুড়ি দিয়ে বিহান বলল, “কাল কখন দেখা হবে?”

    শিউরে উঠে বিহানের হাত সরিয়ে দরিয়া বলল, “সিগারেট খাওয়া বন্ধ করো তো! মুখ দিয়ে বিচ্ছিরি গন্ধ বেরচ্ছে!”

    বিহানকে এবার পায় কে! সে দরিয়ার হাত ধরে টানতে টানতে হাওড়া স্টেশনের নিউ কমপ্লেক্সের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এটা পেরলেই রেল মিউজিয়ামে যাওয়ার রাস্তা। জনহীন। ফাঁকা। কম আলো।

    “কোথায় যাচ্ছি?” জানতে চাইল দরিয়া। উত্তর না দিয়ে হকারের কাছ থেকে মিন্ট লজেন্স কিনে মুখে পুরেছে বিহান। শিউরে উঠে মুখে হাত চাপা দিয়ে দরিয়া বলছে, “অসভ্য কোথাকার! আমি কিছুতেই তোমার সঙ্গে ওই অন্ধকারে যাব না।”

    বিহান উত্তর দিল না। দরিয়া বলল, “তুমি প্রমিস করো যে সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দেবে। তা হলে আমি তোমার সঙ্গে ওদিকে যাব।”

    বিহান দাঁড়িয়ে পড়েছে। তাদের পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে রেলের বিরাট ডাকবাক্স। সিলিন্ডারের মতো গড়ন। মাথাটা গোল। গায়ে লাল রং। তার উপরে কালো ডোরাকাটা। ঠোঁট থেকে সিগারেটের শেষ প্রান্তটা নিয়ে চিঠি ফেলার খোপের মধ্যে ফেলে দিয়ে বিহান বলল, “ধূমপানের বিরুদ্ধে খোলা চিঠি লিখলাম। প্রমিস! আর কোনও দিনও সিগারেট খাব না।”

    বিহানের কাণ্ড দেখে ঘাবড়ে গিয়েছে দরিয়া। দৌড় লাগিয়েছে রেল মিউজিয়ামের দিকে। অন্ধকার রাস্তায় তাকে চেপে ধরল বিহান। কিছু বোঝার সুযোগ না দিয়ে ঠোঁটে ঠোঁট ডোবাল।

    দরিয়া আর বিহান হাঁটতে হাঁটতে পুরনো কমপ্লেক্সের দিকে ফেরত আসছে। দরিয়া বিহানকে জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা, এর আগে তুমি কখনও…”

    “কিস-কিন্ধা কাণ্ড ঘটিয়েছি কি না? এটাই জানতে চাইছ? উত্তর হল, না। তুমিই প্রথম এবং তুমিই শেষ। তুমি না থাকলে চুমুহীন জীবন কাটিয়ে দেব।”

    দরিয়া স্টেশনের ভিতরে ঢুকে যাওয়ার আগে বিহানের হাতে হাত রেখে বলল, “একটা সত্যি কথা বলব?”

    “বলো।”

    “সরস্বতী পুজোর দিন তোমার সঙ্গে দেখা না হলেও তোমাকে আমি মিস করতাম।” বিহানের হাত ছেড়ে দিয়ে স্টেশনে ঢুকে যাচ্ছে দরিয়া।

    * * *

    সেইসব ছেলেমানুষি ভরা দিনের কথা ভেবে দরিয়ার ঠোঁটে পাতলা একটা হাসি ফুটে উঠেছিল। ভীষণ জোরে চারবার শব্দ হওয়ায় হাসি মিলিয়ে গেল। মন্টু তার ট্রলি ঠেলে ইমার্জেন্সি বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে অন্য একটা বিল্ডিংয়ের দিকে যাচ্ছে। আওয়াজটা এত জোরে হল যে শুয়ে থাকা অবস্থাতেই দরিয়া কানে হাত চাপা দিয়ে বলল, “কী হল মন্টুদা?”

    খোলা আকাশের নীচে ট্রলি ফেলে রেখে মন্টু হাসপাতালের গেটের দিকে দৌড় দিল। দরিয়া দেখল, সে গাছতলায় ট্রলিতে শুয়ে রয়েছে। আশেপাশে জনপ্রাণী নেই। এবার কী হবে?

    ভয়ের চোটে দরিয়ার বুক ধড়ফড় করছে। মন্টুদা গেল কোথায়? সাম্যব্রতই বা কোথায়? সে কি ট্রলি থেকে নেমে যাবে? না এখানেই শুয়ে থাকবে? লোকগুলো তো এদিকেই আসছে!

    হঠাৎই তার ট্রলি চলতে শুরু করেছে। দরিয়া দেখল, মন্টু ফিরে এসেছে। সে ট্রলি ঠেলতে ঠেলতে দৌড়চ্ছে অন্য একটা বাড়ির দিকে। একই সঙ্গে চিৎকার করে বলছে, “হাওড়া কোর্টের সামনে বোম পড়েছে। আজ ব্যাপক বাওয়াল হবে।”

    যারা চিৎকার করছিল তারা ইমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ের দিকে চলে গিয়েছে। ট্রলি ঢুকেছে সার্জারি বিল্ডিংয়ে। এদিকটা এখনও শান্ত। পরিষ্কার ওয়ার্ডে ঢুকে মন্টু সিস্টারকে বলল, “মা জননীকে ভরতি করে আমাকে তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিন। ওদিকে ক্যাচাল শুরু হয়ে গেছে।”

    এই ওয়ার্ডের সিস্টার এক পলক দরিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল, “ডক্টর ব্যানার্জি ওয়ার্ডেই আছেন। উনি পেশেন্টকে ওটি-তে নিয়ে গিয়ে পায়ের উন্ড দেখবেন।”

    দরিয়ার মাথা এতক্ষণে ঠান্ডা হয়েছে। সে ভাবল, যাক বাবা! মসৃণভাবে কাজ হচ্ছে। ডাক্তার ব্যানার্জি লোকটা ভাল হলেই ভাল।

    মন্টু দরিয়াকে একটা বেডে শুইয়ে দিল। স্যালাইনের পাউচ ঝুলিয়ে দিল স্ট্যান্ডে। ওটা এতক্ষণ কোলের ছেলের মতো ট্রলিতে দরিয়ার পাশে শুয়ে ছিল। একই সঙ্গে দরিয়া দেখল, সাম্যব্রতকেও সার্জারি ওয়ার্ডের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। স্বস্তির শ্বাস ফেলল সে।

    ডক্টর ব্যানার্জি এলেন মিনিট পাঁচেকের মধ্যে। লম্বা, ফরসা, রোগা। ইনি হলেন সেই রকম ডাক্তার, যাঁকে দেখলেই রোগীর অর্ধেক রোগ ভাল হয়ে যায়। গা দিয়ে সুন্দর গন্ধ বেরচ্ছে। ডক্টর ব্যানার্জি দরিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, “একসঙ্গে কতগুলো প্রবলেম বাঁধিয়েছিস? পেটে বাচ্চা, পায়ে বোমা! তোকে তো ‘পেশেন্ট অফ দি ইয়ার’ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া উচিত!”

    দরিয়া ফিক করে হাসল। বলল, “আপনি আমাকে ভাল করে দিন।”

    “সিস্টার! মেয়েটাকে ওটি-তে পাঠান।” টর্চ জ্বেলে দরিয়ার চোখ দেখছেন ডক্টর ব্যানার্জি, “এর কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করে মেটারনিটি ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেব। এখানে একটু পর থেকেই বোমা খাওয়া পেশেন্টদের ভিড় শুরু হবে।”

    সিস্টার দরিয়াকে ওটি-তে পাঠানোর আগে বলল, “বাবার সঙ্গে কথা বলবে?”

    দরিয়া ঘাড় নাড়ল, “হ্যাঁ।”

    সাম্যব্রত মেয়ের পাশে এসে দাঁড়ালেন। গত কয়েক ঘণ্টায় তাঁর চোখের কোল বসে গিয়েছে। মুখ শুকনো। জোর করে হাসলেন তিনি। সাম্যব্রতকে দেখে খারাপ লাগল দরিয়ার। সে বলল, “চিন্তা কোরো না। আমি একটু বাদেই চলে আসব।”

    মন্টু ট্রলি ঠেলে দরিয়াকে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকিয়ে দিল।

    সাম্যব্রত অপারেশন থিয়েটারের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন। দরিয়াকে ভিতরে নিয়ে গিয়েছে অনেকক্ষণ আগে। এত সময় লাগছে কেন কে জানে! এর মধ্যে বোমায় আহত মেয়েরা এই ওয়ার্ডে ভরতি হয়েছে। ছেলেদের পাঠানো হয়েছে পাশের ওয়ার্ডে। পুলিশ আর মিডিয়া; কিশলয় পার্টি, খরাজ পার্টি আর গণতান্ত্রিক মোর্চার নেতা-নেত্রী, লোকাল গুন্ডায় হাসপাতাল সরগরম। আগের সেই শান্তির পরিবেশ আর নেই। সাম্যব্রত বাধ্য হয়ে তিনবার বাইরে গিয়ে সিগারেট ফুঁকে এলেন। দু’বার ইনহেলার নিলেন। হাওড়া কোর্টের লাগোয়া পাইস হোটেল থেকে এক থালা ভাত-ডাল-সবজিও খেয়ে নিলেন। আবার কখন খাওয়ার সময় পাওয়া যাবে কে জানে! এক পিস মাছ বা একটা ডিম নেওয়ার ইচ্ছে ছিল। নিলেন না। এখন প্রতিটি পাইপয়সা হিসেব করে খরচ করতে হবে।

    সাড়ে তিনটের সময় সাম্যব্রত দেখলেন, ডাক্তার অপারেশন থিয়েটারের সবুজ পোশাক পরে বিল্ডিং-এর বাইরে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছেন। সাম্যব্রত টুকটুক করে হেঁটে তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন।

    ডক্টর ব্যানার্জি সাম্যব্রতর দিকে তাকিয়ে বললেন, “পেশেন্টের লেবার পেন অ্যাসেস করার জন্য গাইনিকলজিস্ট ডলি সেনকে কলবুক দিয়ে ডেকে পাঠিয়েছি। উনি চলে আসবেন। সেই ফাঁকে বলি, আপনাকে দুটো খবর দেওয়ার আছে। একটা ভাল আর একটা খারাপ খবর। কোনটা আগে শুনবেন?”

    “ভালটাই আগে শুনি,” বললেন সাম্যব্রত।

    সিগারেটে টান দিয়ে ডক্টর ব্যানার্জি বললেন, “আপনার মেয়ের পায়ে একটা পেরেক ঢুকেছিল। সেটা বার করে ক্ষতস্থান সেলাই করে দিয়েছি। এখন ওই জায়গাটা নিয়ে কোনও সমস্যা নেই।”

    “খারাপ খবরটা?” ঢোক গিলে জিজ্ঞেস করলেন সাম্যব্রত।

    “পায়ের ইনজুরি থেকে অনেকটা ব্লিডিং হয়েছে। হেমারেজিক শক থেকেই বোধহয়, আপনার মেয়ে হঠাৎ হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে।”

    সাম্যব্রত ঘাবড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “মেয়েটা বাঁচবে তো?”

    গম্ভীর মুখে ডক্টর ব্যানার্জি বললেন, “সেটা বলার সময় এখনও আসেনি।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমধুরেণ – ইন্দ্রনীল সান্যাল
    Next Article অপারেশন ওয়ারিস্তান – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    Related Articles

    ইন্দ্রনীল সান্যাল

    অপারেশন ওয়ারিস্তান – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 10, 2025
    ইন্দ্রনীল সান্যাল

    মধুরেণ – ইন্দ্রনীল সান্যাল

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }