Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শৈল-ভবন – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প58 Mins Read0
    ⤷

    ১. দুই বন্ধু—অজয় আর সমর

    দুই বন্ধু—অজয় আর সমর। যারা দেখে, তারাই বলে, আহা, যেন এক বৃন্তে দুটি ফুল, উপমাটা নিতান্ত সাবেকী। অজয় আর সমর হাসে। কৃপার হাসি। বন্ধুত্বটা তাদের হাওয়ার দোলায় দুলে শুধু বাগানের শোভা বর্ধনই করে না; শেকড় তার মাটির অনেক গভীরে। ক্লাস ফাইভে একদিন তারা পড়ল: উৎসবে ব্যসনে চৈব দুর্ভিক্ষে রাষ্ট্র বিপ্লবে। রাজদ্বারে শ্মশানে চ যঃ তিষ্ঠতি স বান্ধবঃ ॥

    পেছনের বেঞ্চে বসে এখনই সমর পকেট থেকে পেন্সিল কাটা ছুরিখানা বার করল। পেন্সিল কাটা করেই কাটল বাঁ-হাতের তর্জনী। ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটল। শিউরে উঠল অজয়। সমরের মুখে কিন্তু অমলিন হাসি। ধীর কণ্ঠে বলল, চাণক্য পণ্ডিত বাজেবাজেই লেখেননি রে। রক্ত ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা কর, উৎসবে, ব্যসনে, শ্মশানে, রাজদ্বারে—যেখানেই হোক, আমরা কেউ কাউকে ফেলে পালাব না। একজন আর একজনের পাশে এসে দাঁড়াব।

    প্রতিজ্ঞা করল অজয়। মনে বিচিত্র এক উত্তেজনা, রক্তে উন্মাদনার ঢেউ। সেদিন অলক্ষ্যে বসে বিধাতা বোধ করি হাসলেন।

    স্কুলের গণ্ডী একসঙ্গেই পেরোল তারা। ভর্তি হল একই কলেজে। অবশ্য অজয় নিল কমার্স। তার বাপ রমেন সেনের বিরাট সওদাগরী অফিস। ফলাও ব্যবসা। ভবিষ্যতে অজয়কে বাপের শূন্য সিংহাসনে বসতে হবে। আর সমর গিয়ে ভর্তি হল সায়েন্স ক্লাসে। ডাক্তার হতে হবে তাকে। আগ্রহ তার নিজের যতখানি, তার চেয়ে অনেক বেশি তার অভিভাবকদের।

    যে ধারা এতকাল ছিল একমুখী, তাই হল দ্বিমুখী। চাণক্য পণ্ডিত বন্ধুর যাচাইয়ের যে কষ্টিপাথর রেখে গেছেন, তাতে যেন প্রথম চিড় দেখা দিল।

    দিল উৎসবে, ব্যসনে। অজয় সান্ধ্য ক্লাসে পড়ে। সমরের ক্লাস সকালে। তাই ছুটিছাটা বা রবিবার ছাড়া দেখা-সাক্ষাৎ তাদের বিরল হয়ে উঠল। অজয়দের বাড়ির অত বড় বার্ষিক উৎসবে সমর যেতেই পারল না। সন্ধ্যায় নিত্য সাউথ ক্লাবে গিয়ে টেনিস খেলাও অজয়কে বন্ধ করে দিতে হল।

    হোক, তবু এমনি ভাবে হোঁচট খেতে খেতে তার ছাত্রজীবন পার হল।

    এর পর সংসার জীবনে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে পাথরের বুকে দেখা দেওয়া চিড়টা আরও অনেকখানি বেড়ে গেল।

    পাস করার সঙ্গে সঙ্গেই অজয়ের বাপ ছেলেকে অফিসে নিয়ে গিয়ে বসালেন। একা বোধ করি সব দিক আর সামলাতে পারছিলেন না তিনি। মৃদু আপত্তি জানিয়েছিল অজয়, আর কটা দিন যাক বাবা। সমর ডাক্তারীটা পাস করে বেরুক…

    থামিয়ে দিয়েছিলেন রমেন সেন। চোখের চশমাটা নামিয়ে রেখে কতক্ষণ ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে থেকেছিলেন; বলেছিলেন, আজকের দিনে বন্ধুত্ব নিয়ে কেউ জাহির করে না। আসলে ওটা একজাতীয় আত্মসচেতনতা। দায়িত্ব এড়ানোর মনোবৃত্তিও বলতে পারো।

    এর পর অজয় আর একটি কথাও বলেনি। পরদিন থেকেই গলায় টাই এঁটে, সাড়ে নটার সময় অফিসে হাজিরা দিতে শুরু করল।

    তবু অবসর পেলেই সে ছুটে আসত সমরের হোস্টেলে। তার ঘরে ঢুকে খোলা বইপত্রগুলো গুটিয়ে দিত। হুকুম করত, চা আনা, খাবার আনা। আলোটি নিভিয়ে দে। তারপরই এখানে তক্তপোশটার ওপর সবসুদ্ধ গড়িয়ে পড়ে বলত, ডি.ই আর ডি.টি-তে কোন তফাৎ নেই রে। জীবনে দুটোই মারাত্মক ব্যাধি।

    সমর কথা বরাবরই কম বলে। আত্মবিশ্বাসটা বেশি বলেই সব রকমের হৈচৈ এড়িয়ে চলে। খাবার সে সেদিনও আনাল, প্রচুর পরিমাণেই আনাল। নিজের হাতে চা তৈরি করে বন্ধুকে দিল; কিন্তু আলো নেভাল না। মৃদু কণ্ঠে বলল, ভুলে যাসনি, সামনে আমার এগজামিন।

    ধড়মড় করে উঠে বসল অজয়। চা আর খাবারের সদগতি করতে করতে কৃত্রিম কোপ প্রকাশ করে বলল, নদীর একপাড় ভাঙে, আর একপাড় জাগে, জানিস তো। তোর জন্যেই হয়তো এর পর বিয়ে করে বসব।

    সমরের ঠোঁটের কোণে শুধু একটু হাসি দেখা গেল। কোন কথা বলল না। উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে অজয় শাসনের সুরে বলল, তোর এই introvert স্বভাবটা ছাড়, সমর, নইলে রোগীর গায়ে যে ছুরি বসিয়ে হাত পাকাচ্ছিস, সেই ছুরিই একদিন নিজের বুকেই বসাবি।

    মচমচ করে জুতোর শব্দ তুলে বেরিয়ে গেল সে।

    হেসে সমর গুটানো বইটা আবার তুলে নিল। এমন অভিযোগ অজয় বহুবার করেছে, কিন্তু সে জানে, হাওয়ার মুখে পাল তুলে দিলে, জীবনতরী তার ঠিক ঘাটটিতে কোনদিনই ভিড়বে না। প্রতিটি মুহূর্তে তাকে শক্ত হাতে দাঁড় টানতে হবে। প্রতিকূল স্রোতের বিরুদ্ধে তিলে তিলে এগোতে হবে। অতি বড় প্রয়োজনের মুহূর্তেও কেউ গুণ টেনে কূলে ভেড়াবে না।

    অবশেষে একদিন সে ডাক্তার হয়ে বেরোল। শল্য চিকিৎসক। অস্ত্রোপচার করত সে সাবলীল ভঙ্গিতে, অনায়াস স্বাচ্ছন্দ্যে। যেটুকু সুনাম সে পেয়েছিল, সেইটুকু মূলধন নিয়েই শহরের প্রাণচঞ্চল পাড়ায় এক চেম্বার খুলে বসল। দরজার পাশেই নেমপ্লেট আটল, সমর রায়, সার্জেন।

    মেধাবী ছাত্র ছিল সে। বছরের পর বছর পরীক্ষার ফল যত ভাল হয়েছে, আত্মবিশ্বাসও গেছে সেই অনুপাতে বেড়ে। রোগীর আশায় নিয়মমাফিক চেম্বারে বসে থাকতে থাকতে কোনদিন সে হতাশায় ভেঙে পড়েনি।

    হাত ধরে পশারের তোরণদ্বারে পৌঁছে দেবে, এমন কোন শুভানুধ্যায়ী তার ছিল না। ভিড়ের মাঝে হারিয়েও গেল না সে।

    না-যাবার সব কৃতিত্বটুকু তার নিজেরই। চিকিৎসাটাকে সে একান্ত পেশাদার বৃত্তি করে তোলেনি। রোগীর পকেটের দিকে না তাকিয়ে, রোগের জড় ধরেই টান দিত সে। কথা বলত কম, ব্যবহারে থাকত প্রশান্ত হাসির বরাভয়।

    তাই একবার যে রোগী আসত, সে দ্বিতীয়বার আসতে দ্বিধা তো কতই না; বরং আত্মীয়-স্বজন বন্ধুবান্ধবকে ডাক্তার রায়কে দিয়ে দেখাতে সুপারিশ করত।

    নিন্দার মত প্রশংসাটাও বুঝি দাবানলের মতই ছড়িয়ে পড়ে। নইলে সকাল সন্ধ্যায় সমরের চেম্বারে রোগীর ভিড় বাড়তেই বা থাকবে কেন? নিয়মানুবর্তিতার বাঁধন শিথিল হয়ে গেল। বিশ্রামের অবকাশ গেল কমে। সব দিন সময়মত সমরের খাওয়াও হয় না। রাতের ঘুম বিঘ্নিত হয় টেলিফোনের ঝন্‌ঝন্‌ আওয়াজে।

    অজয়ের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎটাও বিরল হয়ে উঠল। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় বন্ধুত্বের স্রোতে এবার ভাটার টান ধরেছে।

    অফিস থেকে অজয় মাঝে মাঝে টেলিফোন তুলে অনুযোগ করে, নালিশ জানায়; তারপর হঠাৎই একদিন রাত্রে ধূমকেতুর মত এসে হাজির হয় সমরের চেম্বারের। অভিমানের বাঁকা সুরে বলে, পর্বত তো গেল না, তাই মহম্মদকেই ছুটে আসতে হল।

    অভ্যর্থনায় সমরের অকারণ উচ্ছ্বাস থাকে না। কিন্তু সেই মুহূর্তে পেশার জোয়ালটাকে নামিয়ে ফেলতে দেরি হয় না তার। সামনাসামনি গদিমোড়া চেয়ারে বসে তারা শুরু করে দেয় খোসগল্প। পেয়ালার পর পেয়ালা কফি আনে ভৃত্য রামলগন। ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলে। খোসগল্প একসময় এসে দাঁড়ায় স্মৃতিচারণে। তারপর রাজনীতি থেকে সমাজনীতি, অর্থনীতি থেকে চিকিত্সা বিজ্ঞান নিজেদের অগোচরেই পরিক্রমা করে চলে তারা। মাঝে মাঝে তর্ক তাদের উদ্দম হয়ে ওঠে। বাড়ি ফেরার কথা মনে থাকে না অজয়ের। অবশেষে ভোরের আলো জানলার শার্সি দিয়ে দেখা গেলে সমর অকস্মাৎ উঠে দাঁড়িয়ে বলে, আর নয়, বাড়ি যা অজয়। চান করে এবার আমায় চেম্বারে বসতে হবে। নটায় একটা অপারেশন।

    অজয়ের হুঁশ হয়। রাত জাগার ক্লান্তিটা এতক্ষণে যেন সর্বাঙ্গ ব্যেপে ছড়িয়ে পড়ে। অবসন্ন দেহটা টানতে টানতে সে সিঁড়ি দিয়ে নামতে থাকে, আর তখনই দেখা যায় শুভ্রবসনা মায়াকে ওপরে উঠতে। মায়া মানে কুমারী মায়া দে। নার্স। সমরের ক্লিনিকে কাজ করে। আগে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছিল। সমরের সঙ্গে পরিচয়টা সেইখান থেকেই।

    ডিউটি দিতে যেতে হত সমরকে। আরও অনেক ছাত্রই যেত; কিন্তু রোগীদের ওপর তার দরদ, রোগনির্ণয়ের ক্ষমতা, মিষ্টি মধুর ব্যবহার চুম্বকের মতই টানত মায়াকে।

    সহকর্মিণীদের কাছে সেটা বেশিদিন গোপন থাকেনি। সুযোগ পেলেই তারা ঠাট্টা করত, বিদ্রূপ করত, শ্লেষের চাবুক চালাত। শেফালি নাগই ও ব্যাপারে বোধ করি সবচেয়ে নির্মম ছিল। একটা দিনের কথা মায়া কখনও ভুলতে পারবে না। রাতের ডিউটি ছিল মায়ার আর সমরের। সারাক্ষণের মধ্যে একটিবারও তারা একান্ত হয়নি, অকারণে বাক্যবিনিময়ও করেনি; শুধু বারদুয়েক সমরের চোখে কৃতজ্ঞ দৃষ্টি ফুটে উঠেছিল।

    অনাস্বাদিত এক পুলকে ভরে উঠেছিল মায়ার সারা অন্তর। সেইটুকু সঞ্চয় নিয়েই সে ফিরেছিল হোস্টেলে।

    সামনের দালানটায় তখন চায়ের কাপ নিয়ে মজলিশ চলছিল। শেফালি নাগ তাকে দেখে টেনে টেনে বলে উঠেছিল, আহা। মায়ার আমাদের ধর্মে পাপ সয় না। আমরা ভাই পাপী-তাপী মানুষ। মনের মানুষ পেলেই লেপটে থাকি। প্লেটনিক লাভের কি বুঝব, বল।

    সব কজনের কণ্ঠে হাসির জলতরঙ্গ বেজেছিল। লজ্জা অপমানের হাত থেকে রেহাই পেতে মায়া তাড়াতাড়ি নিজের ঘরে ঢুকে আত্মগোপন করেছিল।

    আর একদিন ধরেছিল দীপা চৌধুরী। ডাক্তারির শেষ পরীক্ষা আসন্ন। পাস যে সমর করবে, ভালভাবেই করবে, তাতে কারোই সন্দেহ ছিল না। সেইটে উপলক্ষ্য করেই দীপা নিরীহের ভঙ্গিতে মায়াকে প্রশ্ন করেছিল, এবার কি করবি? ঘুঘুর বাসা তো পুড়তে চলল!

    মায়া কোন জবাব দেবার আগেই শেফালি উচ্চকণ্ঠে বলে উঠেছিল, না ভাই মায়া, শেষ কটা দিন তুই এমনভাবে সমর রায়ের বুকে জুড়ে থাক, যাতে ও ফেল করে। তবু তো ছটা মাস বিরহের কান্না কাঁদতে হবে না।

    মায়ার বুকটা ভয়ে কেঁপে উঠেছিল। ছুটে নিজের ঘরে এসে সে আকুলভাবে প্রার্থনা জানিয়েছিল, ভগবান, সমরবাবু যেন পাস করেন। সারা জীবন যদি আমার সঙ্গে দেখা না হয় সেও সইবে, কিন্তু

    সমর অবশ্য পাস করল। ভালভাবেই করল। শীর্ষস্থানে নাম তার।

    তারপর ঘনিয়ে এল বিদায় নেবার দিন। চেষ্টা করেও মায়া চোখের জল গোপন করতে পারল না। সমরের একখানা হাত চেপে ধরে ব্যাকুল কণ্ঠে বলল, কিন্তু আমি এখন কি করব, ডাক্তার রায়। আপনি যতদিন কাছাকাছি ছিলেন, নিজেকে যে কতখানি নিরাপদ ভাবতুম, এর পর-এর পর হয়তো—নেকড়ের পাল—। গলাটা তার বাষ্পভারে বুজে এল।

    সেদিন সমর শুধু সান্ত্বনাই দিতে পেরেছিল, নির্ভয় করতে পারেনি।

    তারপর সে নিজের চেম্বার খুলল। দাঁড়াবার মত পায়ের তলায় একটু মাটি পেতেই সোজা মায়ার কাছে গিয়ে প্রস্তাব করল, আমার ক্লিনিকের একজন নার্স তো লাগবেই। যদি ইচ্ছে করেন, চলে আসতে পারেন। অবশ্য মাইনে এখন বেশি দিতে পারব না। কোন রকমে থাকা-খাওয়াটা চলে যাবে, এই আর কি।

    এতখানি সৌভাগ্যের কথা মায়া বোধ করি কল্পনাও করতে পারেনি। কাঁপা গলায় বলল, মাইনের কথা বলে কেন আমায় লজ্জা দিচ্ছেন, ডাক্তার রায়? আপনার যা খুশি দেবেন। মোটে না দিলেও আমার আপত্তি নেই। হাতে যা আছে, তাতে কিছুদিন স্বচ্ছন্দে চলে যাবে। শুধু এই নরককুণ্ড থেকে আমার উদ্ধার করে নিয়ে চলুন।

    .

    পরদিনই মায়া হাসপাতালের চাকরিতে ইস্তফা দিল। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও সমরের মতই চেম্বারের এক কোণে তার নীড় রচনা করতে পারল না। শুধু যে সঙ্কোচে বাধল, তাই নয়; সমাজের চোখেও সেটা বিসদৃশ।

    তবু কতটুকুই বা হোস্টেলে থাকত সে? সকালে এসে যখন হাজিরা দিত, তখনও শহরে প্রাণের সাড়া জাগত না। ফিরত একেবারে গভীর রাতে। কর্মচঞ্চল শহর তখন ঘুমিয়ে পড়েছে। হাতে সব সময়ই কিছু ক্লিনিকের কাজ থাকত না; তবু বসে থাকত না মায়া। সমরের প্রত্যেকটি বই ঝেড়ে-মুছে আলমারিতে সাজিয়ে রাখত, ঘরের কোন কোণে এতটুকুও ঝুল আছে কিনা ঘুরে ফিরে নিরীক্ষণ করত; ফাঁক পেলে সমরের চাকরটাকে সরিয়ে দিয়ে নিজেই ভালমন্দ রাঁধতে বসত।

    মাঝে মাঝে হঠাৎ অসময়ে ফিরে আসায় সমরের নজরে সেগুলো পড়েছে। মৃদু তিরস্কারও করেছে মায়াকে, অব্যাপারেষুতে লাভ নেই, মিস দে। হাতে কাজ না থাকে, পড়াশুনোও তো করতে পারেন।

    কোন জবাব দিত না মায়া। ধীরে ধীরে সরে যেত তার সামনে থেকে। ছটা মাস এমনিভাবেই পার হয়ে গেল। এই ছমাসের চেম্বারে রোগীর ভিড় বেড়েছে, সমরের বিশ্রামের অবকাশ কমেছে, সেই সঙ্গে তার দুই চোখে দেখা গেছে নতুন এক আলো।

    হ্যাঁ, সমর ভালবেসেছে। ভালবেসেছে লীলা দত্তকে। তাদেরই পাড়ার এক প্রসিদ্ধ ব্যবহারজীবীর মেয়ে। বছর বাইশ বয়েস। শিক্ষিত, সুন্দরী, আধুনিক সমাজের মক্ষিরানী।

    প্রথম দেখাটা দত্তবাড়িতেই। কল পেয়ে রোগী দেখতে গিয়েছিল সমর। রোগীর সম্বন্ধে যে-সব প্রশ্ন সে করেছিল, লীলাকেই তার জবাব দিতে হয়েছিল। অপূর্ব ভঙ্গি তার কথা বলার, ব্যবহার নিরহঙ্কার, মিষ্টিমধুর; তাই পেশার ডাক যেদিন শেষ হয়ে গেল, সেদিন নেশার হাতছানি সে উপেক্ষা করতে পারল না।

    তরুণ সার্জেনকে লীলারও ভাল লেগেছিল। ভাল লেগেছিল তার সহজ সরল ব্যবহার, নির্ভীক মতামত, বলিষ্ঠ জীবন দর্শন। তাই অকুণ্ঠভাবে এগিয়ে এসেছিল। প্রথম প্রথম চায়ের নিমন্ত্রণ; তারপর বাড়িরই লনে টেনিস খেলায় যোগদানের অনুরোধ।

    সমর সাগ্রহেই সাড়া দিয়েছিল। দত্তবাড়ির আসরে সে এখন প্রায় নিত্য অতিথি। তার চোখে নতুন আলো দেখে মায়া যেটা অনুমান করেছিল, সেটাই স্থির বিশ্বাসে পরিণত হল সমরকে সেদিন র‍্যাকেট হাতে নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে দেখে। বিস্মিত হয়েছিল বৈকি মায়া; কিন্তু তার ধাক্কাটা এমনই আচমকা যে সে একটি কথাও বলতে পারেনি।

    সমর বোধ করি সেটা লক্ষ্য করেছিল। হালকা সুরেই বলেছিল, ডাক্তারদেরও সময় সময় নিজের চিকিৎসার দরকার। দেহের না হলেও, মনের, কি বলেন?

    মায়া নীরবে শুধু ঘাড় নেড়েছিল।

    শুনুন, যদি কেউ আসে, বা আমাকে আপনার দরকার হয়, হয়তো হবে না, তবু একটা ফোন নম্বর লিখে নিন। আমায় রিং করে দেবেন।

    লীলাদের বাড়ির ফোন নম্বর দিয়েছিল সে। আর খাতার পাতায় সেটা টুকে নিয়েছিল মায়া।

    যেতে গিয়েও আবার থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছিল সমর। কৌতুকের সুরে প্রশ্ন করেছিল, আচ্ছা, নার্সের জীবন ছাড়া কি আপনার আলাদা জীবন নেই, মিস দে? নার্সের পোশাক ছাড়া আটপৌরে শাড়ির কথা বলছি।

    বুকের ভেতর দুরদুর করে উঠেছিল মায়ার। এক ঝলক রক্ত দেখা দিয়েছিল দুই গালে।

    নতুনতর কৌতুকে সমরের দুই চোখ নেচে উঠেছিল। জিজ্ঞেস করেছিল, আচ্ছা, কোনদিন কাউকে ভালবাসেননি?

    ভীরু চোখ তুলে মায়া তাকাতে গিয়েও পারেনি। মুখ ফিরিয়ে কাঁপা গলায় জবাব দিয়েছিল, না ডাক্তার রায়।

    তাহলে আর দেরি করবেন না। কাউকে হৃদয় দান করে ফেলুন। বুঝবেন কি অপূর্ব সে অভিজ্ঞতা! আচ্ছা, চলি আমি।

    ভরা মনে হাসতে হাসতে বেরিয়ে গেল সে, আর দুহাতে মুখ ঢেকে বসে পড়ল মায়া। সে জানে সমর কোথায় যাচ্ছে। টেলিফোনটা যে দত্তবাড়ির সেটাও তার অজানা নয়। আর দত্ত সাহেবের মেয়ে লীলা। তাকেও দেখেছে মায়া। দেখেছে সমরেরই চেম্বারে, দত্ত সাহেবের গাড়িতে বারদুয়েক। সত্যই সুন্দরী, সে শিক্ষিতাও নিশ্চয়।

    উদ্গত নিশ্বাসটা গোপন করল মায়া।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleব্যোমকেশের ডায়েরী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article অভিজাতক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }