Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শৈল-ভবন – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প58 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২. টেনিসের শেষে লীলার সঙ্গে

    টেনিসের শেষে লীলার সঙ্গে সমর এসে দূরের বেঞ্চটায় বসল বিশ্রামের জন্যে। পরিশ্রমে তখনও তাদের মুখে রক্তাভা, নিশ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত। চোখে অপরাহ্নের আলোয় দেখা যাচ্ছিল বিচিত্র এক মদিরতা।

    সমর ভাবছিল আর চুপ করে থাকা সম্ভব নয়। লীলার কাছে সোজাসুজি বিয়ের প্রস্তাব করবে সে। কিন্তু সুযোগ মিলল না। তার আগেই একজন ভৃত্য এসে জানাল, আপনার টেলিফোন ডাক্তারবাবু। আমি ভদ্রমহিলাকে ধরে রাখতে বলেছি।

    নিতান্ত অনিচ্ছাভরেই সমরকে উঠে দাঁড়াতে হয়। লীলা ভ্রূভঙ্গি করে বলল, তোমার নার্সটিই করছেন বোধহয়। তার মানেই তোমায় এখনি ছুটতে হবে। আমি ভেবেছিলুম কোথায় ব্রিজ নিয়ে বসা যাবে!

    সে-লোভ সমরের নিজেরও বড় কম ছিল না; তবু যেতেই হয়। রিসিভারটা তুলে নিয়ে অপ্রসন্ন কণ্ঠেই ডাকল, হ্যালো!

    ওপার থেকে ভেসে এল মায়ার সঙ্কুচিত কণ্ঠ, আমি মায়া বলছি। অজয়বাবু এসেছেন। আপনার সঙ্গে দেখা করতে চান। কি একটা জরুরী কথা আছে। অবশ্য আপনার যদি কোন ক্ষতি না হয়—

    যাচ্ছি। ওকে একটু অপেক্ষা করতে বলুন। রিসিভারটা যথাস্থানে নামিয়ে রেখে আবার যখন সমর লীলার কাছে ফিরে এল, মুখখানা তখন তার অপ্রসন্নতায় থমথম করছে। ক্ষুব্ধকণ্ঠে সে বলল, আমাকে ক্লিনিকে একবার যেতেই হবে। এক বন্ধু সেখানে

    বাধা দিয়ে লীলা বলে উঠল, শুনে সত্যিই খারাপ লাগছে। আবার ফিরে আসবে তো? তোমায় ছেড়ে দিতে একেবারে ইচ্ছে করছে না।

    সমরের বুকের ভেতর রক্তস্রোত উত্তাল হয়ে উঠল। কি উত্তর দেবে চট করে ভেবে পেল না।

    লীলা সাগ্রহে জিজ্ঞেস করল, কি, জবাব দিচ্ছ না কেন?

    ততক্ষণে একটা পথ সমর আবিষ্কার করে ফেলেছে। সেটাই আন্তরিক কন্ঠে ব্যক্ত করল, চেষ্টা করব—নিশ্চয়ই চেষ্টা করব। সঙ্গে যদি বন্ধুটি আসতে চান, অসুবিধে হবে কি?

    ছি ছি। কি বলছ তুমি? নিশ্চয় নিয়ে আসবে।

    অনেকখানি নিশ্চিন্ত হল সমর।

     

     

    তার সঙ্গে যেতে যেতে লীলা প্রশ্ন করল, তোমার বন্ধুটিও কি ডাক্তার?

    না। সেন এ্যান্ড সন বিজনেস ফার্মের নাম হয়তো শুনে থাকবে। অজয় হচ্ছে সেই সেন অ্যান্ড সনের সন।

    খিলখিল করে হেসে উঠল লীলা। সমরের মনে হল বেলোয়ারি ঝাড়ে অকস্মাৎই ঝড়ের দোলা লাগল। বুকের ভেতরেও সেই ঝড়ের মাতন। সংক্ষেপে বিদায় নিয়ে সে দ্রুত পা চালাল।

    চেম্বারে অজয় অপেক্ষা করছিল ঠিকই; কিন্তু সমরকে ফিরিয়ে আনার তাগিদ সে সত্যিই দেয়নি। সমর বেরিয়ে গেছে শুনে স্বাভাবিক কৌতূহলেই মায়াকে জিজ্ঞেস করেছিল, কোথায় গেল এমন অসময়ে? পেশাদার কলে?

    ইতস্তত করে মায়া জবাব দিয়েছিল, আমি ঠিক জানি না, মিস্টার সেন—তবে—তবে মনে হয় না

    তার ভঙ্গি দেখে অবাক হয়েছিল অজয়। বিস্ময়ের সুরে বলে উঠেছিল, তবে? আজকাল কি ও সামাজিক জীব হয়ে গেল নাকি?

     

     

    কোথায় যেন পার্টিতে নিমন্ত্রণ ছিল—

    খবরটা শুনেও অজয় যেন বিশ্বাস করতে পারেনি। কিছুক্ষণ স্তব্ধভাবে দাঁড়িয়ে থেকে বলেছিল, আচ্ছা চলি। তাকে বলবেন, সুবিধে মত আবার একদিন আসবখন।

    ফিরে যাবার জন্যে ঘুরে দাঁড়াতেই মায়া ব্যাকুল কণ্ঠে বলে উঠেছিল, না, না, যাবেন না, মিস্টার সেন। আমি জানি তিনি কোথায় গেছেন। এক্ষুনি তাঁকে ফোন করে দিচ্ছি।

    বাধা দেবারও অবসরও পায়নি অজয়। এমন কোন জরুরী কাজ নেই এটুকু বলবার সুযোগও মায়া তাকে দেয়নি। ছুটে গিয়ে সমরের দিয়ে যাওয়া নম্বরটা ডায়াল করতে শুরু করে দিয়েছিল।

    সমর এসে পৌঁছল। তার কর্তব্য পালন যেন শেষ হয়েছে, এমনই ভঙ্গিতে মায়া নিঃশব্দে ঘর ছেড়ে গেল।

    অজয় ক্ষমা ভিক্ষার সুরে বলল, বিশ্বাস কর ভাই, আমি ঠিক টেনে আনতে তোকে চাইনি। জানি তো, তোদের মত জহ্লাদের ভাগ্যে আমোদ আহ্লাদের শিকে কদাচিৎই ছেঁড়ে।

     

     

    বিশেষজ্ঞর চোখ দিয়ে সমর তখন অজয়ের সর্বাঙ্গ যেন লেহন করছিল। বন্ধুকে ঠিক সুস্থ বলে মনে হল না তার। চিন্তিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, কি হয়েছে তোর বল তো। চেহারা এমন ভেঙে গেল কেন? লিভার?

    অজয় হেসেই উড়িয়ে দিতে চাইল। বলল, না, না, লিভার আমার ক্যানাডিয়ান ইঞ্জিনের মতই চলছে। একটু ক্লান্ত লাগে, এই পর্যন্ত। হয়তো খাটাখাটুনিটা বেশি হচ্ছে বলেই

    বাধা দিয়ে সমর জিজ্ঞেস করল, সত্যি বলছিস তো? ওমর খৈয়ামের মত দাও পেয়ালা পূর্ণ করে চালাচ্ছিস না?

    না হে ডাক্তার, না। সে প্রবৃত্তিও নেই, সময়ও নেই। যে জোয়াল বাবা কাঁধে চাপিয়েছেন।

    আচ্ছা, জামাটা খুলে ফেল তো। একবার পরীক্ষাটা করে নিই।

    আপত্তির সুরে অজয় বললে, তোকে বলছি কিচ্ছু না। বরং একটা সর্বরোগহর জাতীয় টনিক দে, তাতেই

    সমর প্রায় ধমকের সুরে বলে উঠল, কি করতে হবে, আমি জানি। তুই খোল জামা। অগত্যা অজয়কে সোফার ওপরেই শুয়ে পড়তে হল। সমর গভীর অভিনিবেশের সঙ্গে পরীক্ষা করে চলল তাকে। ফাঁকে ফাঁকে অজয় বর্ণনা করে গেল তার দুঃখের কাহিনী, জানিস, বাবা নিজেকে হঠাৎই গুটিয়ে নিয়েছেন—সব কিছু ভার চাপিয়ে দিয়েছেন আমার কাঁধে। এখন ভদ্রলোক বারান্দায় বসে বসে চুরুট টানেন, আর আমি ছ্যাকড়া গাড়ির ঘোড়ার মত যখন বাড়ি ফিরি, তখন তাকিয়ে তাকিয়ে মুচকি হাসেন। ভাবটা এই, বোঝ বাছাধন কত ধানে কত চাল।

     

     

    হাতের কাজ বন্ধ না রেখে সমর জিজ্ঞেস করল, বাড়ি ফিরে কি করিস?

    করি? করিটা কখন? ফিরতে ফিরতে তো কোনদিন রাত এগারোটা বারোটা, কোনদিন বা রাত কাবার।

    বিস্ময়ভরে সমর একবার না তাকিয়ে পারল না।

    হা হা করে হেসে উঠল অজয়। বলল, অবাক হচ্ছিস? ভাগ্য ভাল যে বিয়েটা করিনি। তাহলেই উদ্বাহ বন্ধনটা উদ্বন্ধনে দাঁড়াত রে! নিত্য বিরহের এই জ্বালা দুনিয়ার কোন সতী-সাধ্বীই বোধ হয় সইতেন না।

    বন্ধুকে পাশ ফিরে শোবার ইঙ্গিত করে সমর নিরুত্তাপ গলাতেই প্রশ্ন করল, কিন্তু তুইই বা এত বাড়াবাড়ি করিস কেন?

    অজয় অকস্মাৎ গম্ভীর হয়ে গেল। সুর পালটে বলল, করি নিছক বাহাদুরি দেখাবার জন্যে নয়, সমর। বিরাট একটা কিছু গড়ে তোলার মধ্যে, চালানোর মধ্যে যেন একটা মোহ আছে। সুন্দরী মেয়ের তীব্র আকর্ষণও বলতে পারিস।

    সমর ভূকুঞ্চিত করল। পাশ ফিরে ছিল বলে অজয় সেটা লক্ষ্য করতে পারল না। নিজের খেয়ালেই বলে চলল, এই তো সবে মইয়ের প্রথম ধাপে পা দিয়েছি। অদুর ভবিষ্যতে মনে হয় একেবারে শেষ ধাপে উঠে যেতে পারব। ভদ্রলোককে তখন দেখাব মুচকি হাসতে আমিও পারি।

     

     

    সমর পরীক্ষা শেষ করে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল, শেষেরও তো শেষ থাকে শুনেছি।

    হ্যাঁ, সেটা প্রস্থান; তবে মহাপ্রস্থান কিনা ঠিক বলতে পারব না।

    হাত ধুতে সমর বাথরুমে গিয়ে ঢুকতেই অজয় উঠে বসে তার ছেড়ে রাখা জামাটা গায়ে গলিয়ে নিল। সমর তোয়ালে দিয়ে হাত মুছতে মুছতে বেরিয়ে আসতেই সে হালকা সুরে প্রশ্ন করল, শরীর-যন্ত্রের কোথাও কি বৈকল্য ঘটেছে বন্ধু?

    সমর তার পেশাসুলভ গম্ভীর ভাবে জবাব দিল, এখনও নয়। তবে সারারাত ধরে কাজের মোহ তোকে ছাড়তে হবে। মানুষের স্নায়ুরও তো সহ্য করবার একটা সীমা আছে। মাথা থেকে বর্তমানে তোকে রাজমুকুটটি খুলে ফেলতে হবে। দুর্ভাবনা দুশ্চিন্তাগুলো দূরে ঠেলে, খেলাধুলো আর খুশিমত ঘুরে বেড়ানো—এইতেই কিছুদিন মেতে থাকতে হবে।

    বিষ হাসি হাসল অজয়। বলল, ডানা দুটো ছেঁটে দেওয়া হয়েছে রে, কাজেই ওসব আর পারব না। তুই বরং একটা টনিক-ফনিক কিছু দে।

     

     

    তাই দোব। এক বোতল চলতি-হাওয়ার-পন্থী নরনারীর সাহচর্য। উচ্ছল প্রাণের ধারায় ছুটে চলেছে, এমন একদল তরুণ-তরুণী। আয়।

    বন্ধুর মুখে এমন কাব্যিক কথাবার্তা শোনবার আশা অজয় কোনদিন কল্পনাও করতে পারেনি। কতক্ষণ বিমূঢ়ের মত তাকিয়ে থেকে বলল, তুই কি কোথাও নিয়ে যেতে চাস?

    সমর উত্তেজনায় উদ্দীপ্ত কণ্ঠে বলল, হাঁ, স্বাস্থ্যনিবাসে। উঠে পড়, আর দেরি করিসনি।

    তার ভাবভঙ্গি দেখে অজয় বেশ খানিকটা কৌতূহলী হয়ে উঠল। অনিচ্ছা সত্ত্বেও বেরিয়ে পড়ল বন্ধুর সঙ্গে।

    লীলার সঙ্গে আলাপ সেই দিন থেকে।

    প্রথম পরিচয়েই বিচিত্র এক প্রতিক্রিয়া দেখা দিল দুজনের মনেই। অজয়ের মনে হল জীবন-নদীতে অতি অকস্মাৎ একটা নতুন প্রাণশক্তির জোয়ার দেখা দিয়েছে। আর লীলার বুকের ভেতর রক্তস্রোতটা উত্তাল হয়ে উঠে শ্বাসরোধ করে আনল তার। কেমন যেন থিতিয়ে গেল সে।

     

     

    গভীর রাতে দত্তবাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে সমর যখন নিজের চেম্বারে ফিরে এল, তখন তার মনে প্রচ্ছন্ন একটা অস্বস্তি। মাথার ভেতর এলোমেলো চিন্তা। নিত্যকার মত আন্তরিক আপ্যায়ন সে পায়নি। সে অবহেলিত, সে অনাদৃত।

    সন্ধ্যার প্রতিশ্রুতি রাতের অন্ধকারে হারিয়ে গেছে।

    .

    পরদিন থেকে সমর কাজের চাপে নিশ্বাস নেবার ফুরসতটুকুও পেল না। নতুন নতুন রোগীর আনাগোনা তো ছিলই, সেই সঙ্গে ছিল শক্ত শক্ত গোটাকয়েক অস্ত্রোপচার।

    হপ্তাখানেক পরে কাজের চাপ যখন একটু হালকা হল, তখন প্রথমেই তার মনে হল অজয় আর লীলার কথা। এতদিনের ভেতর কেউ তো আসেইনি, বা তার খবরটুকুও নেয়নি। টেলিফোনটা তুলে নিয়ে সে প্রথমেই অজয়কে ডাকল; কিন্তু শুনল সে বেরিয়ে গেছে।

     

     

    এর পর সে লীলাকে ফোনে ডাকল। অনুরোধের সুরে বলল, হপ্তাখানক পরে আজ একটু ছুটি মিলেছে। কোথাও ঘুরে আসবে?

    লীলা কিছুটা নিরুত্তাপ গলাতেই জবাব দিল, না, আজ বেরোতে পারব না।

    মনঃক্ষুণ্ণ কিছুটা হলেও সমর সহজ কণ্ঠেই বলল, বেশ, তাহলে আমিই একটু পরে যাচ্ছি।

    ঠিক সন্ধ্যার মুখেই সমর দত্তবাড়ি গিয়ে হাজির হল এবং প্রথমে যে লোকটির ওপর তার দৃষ্টি পড়ল সে হচ্ছে অজয়। বাড়িতে আর কোন অতিথি ছিল না; সুতরাং

    ব্যথা পেল সমর। বুকের ভেতরটা মনে হল কে যেন সাঁড়াশি দিয়ে টানছে। তবু মুখের হাসি তাকে বজায় রাখতে হল। অজয়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি দেখে আনন্দ প্রকাশও করতে হল।

    বন্ধুর সঙ্গে লীলার সম্বন্ধটা জানত না বলেই অজয় সত্যকার খুশিতে একেবারে উপচে উঠল। তার পিঠে গোটাকয়েক চাপড় কষিয়ে বলল, এর সব কৃতিত্বই তোর। বিনা ওষুধে এমন প্রেসক্রিপশন করতে আর কোন ডাক্তারই বোধহয় পারতেন না।

     

     

    সমর স্নানভাবে একটু হেসে একধারে বসে পড়ল। চোখ দুটো তার ঘুরে বেড়াতে লাগল লীলার চলাফেরার সঙ্গে। তার হাসি, কথা বলার ভঙ্গি ঘুঁটিয়ে ঘুঁটিয়ে দেখতে লাগল। বদলে গেছে, তার সম্বন্ধে লীলা অনেকখানি বদলে গেছে। যতবারই তার চোখে চোখ পড়ল, লীলা ফিরিয়ে নিল মুখখানা। দৃষ্টি তার অপরাধ কুণ্ঠিত। অথচ অজয়ের ওপর চোখ পড়তেই তার চোখে বিচিত্র এক আলো ঝলসে উঠছিল। মুখে নেমে আসছিল অপরূপ কমনীয়তা। বিমুগ্ধা কুরঙ্গিণীর ভঙ্গি তার কথা বলায়, হাসিতে।

    বিক্ষুব্ধ মন নিয়েই সমর তাড়াতাড়ি ফিরে এল নিজের ক্লিনিকে। অকারণে রূঢ় হয়ে উঠল মায়ার ওপর। পরক্ষণে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে, একরকম জোর করেই তাকে হোস্টেলে পাঠিয়ে দিল।

    অবশ্য প্রতিবাদ করেনি মায়া। শুধু নিজের ঘরে শুয়ে শুয়ে সারারাত চোখের জল ফেলল।

    এর পরও বহুবারই সমর দত্তবাড়িতে গেল। নিমজ্জমান ব্যক্তি যেন বাঁচবার দুস্তর চেষ্টায় হাত-পা ছুঁড়ছে। তাতে জলেই ঢেউ উঠেছে, আবর্তের সৃষ্টি হয়েছে, বাঁচবার মত মাটি মেলেনি পা রাখার।

     

     

    প্রতিবারই তার দেখা হয়েছে অজয়ের সঙ্গে।

    .

    সেদিন রাত এগারোটা বেজে যেতে সমর রোগীদের হাত থেকে বিশ্রামের অবসর পেল। ক্লান্ত শরীরটাকে এলিয়ে দিল আরামকেদারাটার ওপর। চুরুট একটা ধরাল বটে, কিন্তু টানতে পারল না। কি এক গভীর অস্বস্তি যেন রক্তকোষের ভেতরে ভেতরে সঞ্চারিত হয়ে চলেছে। রগের শিরাদুটো দপদপ করছে। চোখ দুটোয় আগুনের হলকা।

    মায়া তার হোস্টেলে ফিরতে গিয়েও পারল না। থেকে থেকেই উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে তার দিকে উঁকি দেয়।

    বিরক্ত হল সমর। পুরুষকণ্ঠে বলল, কাজ হয়ে গেলেই আপনাকে তো কত দিন বাড়ি চলে যেতে বলেছি, মিস দে।

    মায়ার মুখ বিবর্ণ হয়ে উঠল। কি একটা বলতে গিয়েও পারল না।

    বোধ করি অকারণেই রূঢ় হয়ে উঠল সমর, আপনার এই বাড়াবাড়িতে আমার সুনামটা যে নষ্ট হতে পারে, সেটা ভাবেন না কেন?

     

     

    মায়া চমকে উঠল। মনে হল কে যেন তার পিঠে কশাঘাত করেছে। চোখের জল চাপতে চাপতে ছুটেই সে ঘর থেকে পালিয়ে গেল।

    একটু পরেই অজয় এসে হাজির হল। সেদিন লীলার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবার পর আজই প্রথম এল।

    সমর বেশ খানিকটা অবাকই হল। দেওয়াল ঘড়িটার দিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে বলল, এই রাত দুপুরে? দত্তবাড়ি থেকে নাকি?

    অজয় সংক্ষেপে জবাব দিল, হ্যাঁ। তারপরই নিজের জন্যে নির্দিষ্ট চেয়ারখানায় বসে পড়ল।

    সমর চুরুটের বাক্সটা তার দিকে এগিয়ে দিল।

    কতক্ষণ চুপ করে বসে রইল অজয়। কোন কিছুতেই যেন তার উৎসাহ নেই। এক সময় সোজাসুজি বন্ধুর দিকে তাকিয়ে সে প্রশ্ন করল, লীলাকে তুই ভালবাসিস, সমর?

    বেশ কিছুক্ষণ স্তব্ধতার ভেতর দিয়ে কাটল। তারপর একসময় নীরস কণ্ঠে সমর জবাব দিল, হ্যাঁ বাসি। তাতে আপত্তির কোন কারণ আছে?

    অজয় একটা চুরুট বেছে নিয়ে ধরাচ্ছিল; অসহিষ্ণু গলায় বলে উঠল, আমরা দুই যুযুধান শত্রু নই, সমর। বন্ধুর মতই আলোচনা করতে চাই। কারণ আমিও তাকে ভালবেসেছি।

    আমায় কি করতে বলিস? সরে দাঁড়াই?

    না। তবে বন্ধু হিসেবে আমার কর্তব্য, কথাটা তোকে খুলে বলা।

    ধন্যবাদ। কিন্তু তার কোন দরকার ছিল কি?

    আবার কিছুক্ষণ স্তব্ধতা। অজয় একসময় ক্ষুণ্ণ কণ্ঠে বলল, এমন একটা জিনিস যে আমাদের মধ্যে ঘটবে, কোনদিন কল্পনাও করিনি। তোর কিন্তু আগে থাকতেই আমাকে একটু আভাস দেওয়া উচিত ছিল, সমর।

    সমর মুখ তুলে তাকাল। ঈষৎ বিদ্রূপের সুরে বলল, কেন? এ তো কারও ইজারা করা সম্পত্তি নয়। লীলাকে ভালবাসার অধিকার আর সবায়ের মত তোরও আছে।

    মুখ সে একথা বললেও তার মন বলল, এটা বিশ্বাসঘাতকতা।

    অজয় ক্লান্ত সুরে বলল, এখন ও নিয়ে তর্ক করে লাভ নেই। তবে জেনে রাখ, বরমাল্য যার গলাতেই দুলুক আমার তাতে কোন ক্ষতিবৃদ্ধি নেই।

    ক্ষতিবৃদ্ধি বলতে কিসের ইঙ্গিত করছিস?

    আমাদের বন্ধুত্বের।

    সমর তিক্ত হাসি হেসে উঠল। উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল, কথাটা অতিনাটকীয় হয়ে যাচ্ছে না?

    না। অজয় আবেগ ভরা কণ্ঠে বলে উঠল, আমি চাই তুই-ই আগে লীলার কাছে বিয়ের প্রস্তাব কর। কারণ দাবিটা তোরই প্রথম।

    সমরের দৃষ্টিতে ফুটে উঠল ইস্পাত কঠিনতা। শুষ্ককণ্ঠে সে বলল, তাতে লাভ হবে কিছু? বেশ, তুই যখন বলছিস, তখন আমিই যাব। গিয়ে প্রস্তাব করব তার কাছে।

    ভগবান তোর মনস্কামনা পূর্ণ করুন।

    অপরিচিত দুই ব্যক্তির মত সেদিন রাত্রে দুই বন্ধু পরস্পরের কাছ থেকে বিদায় নিল।

    পরদিন সত্যিই সমর দত্তবাড়ি গিয়ে হাজির হল। তার ভাগ্য ভাল, তাই লীলাকে একাই পেল। সমস্ত রকম ভূমিকা পরিহার করে সে সোজাসুজি প্রস্তাব করল লীলার কাছে।

    লীলা প্রথমটা অবাক হল। তারপরই তার মুখে দেখা দিল ক্রোধের রক্তিমা। রূঢ়কণ্ঠেই সে বলল, তুমি আমাকে পেয়েছ কি? তোমার ক্লিনিকের নার্স, না বাড়ির দাসীবাদী?

    সমর ভ্রুক্ষেপই করল না তার বিরূপ মন্তব্যে। বক্তব্যটা আবার বলল, বিয়ে করতে আমায় রাজী আছ, লীলা? তুমি তো জানো, আমি তোমায় ভালবাসি।

    তুমি অভদ্র, বর্বর। তোমাকে কোনদিনই বিয়ে করতে পারব না আমি।

    ওটা ছাড়া, অন্য কোন কারণ আছে?

    লীলা বিদ্রূপের সুরে বলল, শুনলে যদি খুশি হও তাহলে বলতে আমার বাধা নেই। তোমার চেয়ে যোগ্য পাত্র আমি পেয়েছি। কথাটা বলে ফেলেই সে সঙ্কুচিত হয়ে পড়ল। এতখানি রূঢ় না হলেও সে পারত।

    সমর কিন্তু স্থিরদৃষ্টিতে তার মুখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, যোগ্যতর পাত্রটি কি অজয়?

    হ্যাঁ। অস্ফুট কণ্ঠে লীলা জবাব দিল।

    সমরের মুখখানা কঠিন হয়ে উঠল। চোখে দেখা দিল শাণিত দৃষ্টি। উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল, সত্যভাষণের জন্য ধন্যবাদ। তবে অসভ্য বর্বর বলে পরিহাসটা না করলেই পারতে।

    লম্বা লম্বা পা ফেলে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল।

    অতএব অজয় আর লীলার বিবাহের দিন ধার্য হয়ে গেল। নির্দিষ্ট তারিখের আগের রাত্রে অজয় এল সমরের ক্লিনিকে। চেম্বারে পা দিয়েই সে রাগতকণ্ঠে বলে উঠল, তুই আমাকে ভুল বুঝছিস, সমর। তোর সামনে লীলা যা-ই বলে থাকুক, আসলে সে

    বাধা দিল সমর, আমি কৈফিয়ৎ চাইনি, অজয়

    তুই না চাইলেও, আমাকে তো

    রক্ষে কর ভাই, আমার অনেক কাজ।

    হতাশ হয়ে পড়ল অজয়। অভিমানহত কণ্ঠে বলল, ঠিক আছে। একদিন না একদিন সব বুঝবি তুই। আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি চিরকাল থাকতে পারে না।

    তাই নাকি?

    হ্যাঁ তাই। তাছাড়া শুধু এইটুকু বলতেই আমি তোর কাছে আসিনি।

    সমর স্থিরদৃষ্টিতে তার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, আমাকে বিয়ে বাড়ি যেতে হবে—এই তো?

    হাঁ, যাওয়া চাই-ই।

    কতক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইল। চোখে তার এক বিচিত্র আলো ঝলসে উঠল। হেসে বলল, ঠিক আছে, যাব আমি। বিদায়টা জমবে ভাল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleব্যোমকেশের ডায়েরী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article অভিজাতক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }