Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শ্বেতপাথরের টেবিল – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প279 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আমার বিয়ে

    ঠিক যেমনটি চেয়েছিলুম। উচ্চতা, পাঁচফুট তিন ইঞ্চি। ফর্সা রঙ। সুশ্রী। ছিপপিছে। এম, এ পাঠরতা। পিতা সরকারের উচ্চপদে প্রতিষ্ঠিত। যোগাযোগের জন্যে বক্স নম্বর দেওয়া আছে। বয়েস তিরিশ। আমার বয়েস পঁয়ত্রিশ। আমার উচ্চতা, পাঁচ চার। আমার গায়ের রঙ মেটে ফর্সা। আমি এম. এ। ভূতের মতো নিঃসঙ্গ। আপনজন কেউ কোথাও নেই। দূর সম্পর্কের আত্মীয়স্বজন দু-এক ঘর আছে। তারা তাদের প্রয়োজনে আসে। স্বার্থ ফুরিয়ে গেলেই চম্পট দেয়। তিরিশটা বছর ধরে আমি স্ট্রাগল করে, জীবনের এই পঁয়ত্রিশ বছরে একটা জায়গায় এসে স্থিত হয়েছি। পাকা চাকরি। মাইনে নেহাত খারাপ নয়। ছোট একটা ফ্ল্যাট হয়েছে। রোগজ্বালা তেমন কিছু নেই। মনটা মাঝেমাঝে খারাপ হয়। হুহু করে পাম্প দেওয়া কেরোসিন স্টোভের মতো। প্রথমে ভেবেছিলুম সংসার-টংসার করব না। সংসার মানেই বন্ধন। সংসার মানেই বোঝা। খাবদাব, বেড়িয়ে বেড়াব। দেখলুম, তাতে খরচ অনেক বেশি। বাইরে খেতে গেলে প্রচুর খরচ। থেকে থেকে পেটের অসুখ। লোকে সাহায্য চায়, চাঁদা চায় পাগল করে মারে। রাতে একলা বিছানায় ঘুম আসে না, ভয় ভয় করে। আমার আবার ভূতের ভয় আছে। গা ছমছম করে। মনে হয় মাথার কাছে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। পিঠে সুড়সুড়ি দিচ্ছে। কানের কাছে ঠাণ্ডা নিঃশ্বাস ফেলছে। মনে হয় ফ্রিজের দরজা খুলে গেছে। এখন আমার একটা বিয়ে করা উচিত। কচি খুকি বউ নয়। বেশ বড়সড় একটা কমলালেবু রঙের বউ। গায়ের রঙ নয় শাড়ির রঙ। ঘরের ছিরিটাই ফিরে যাবে। মেয়েলি জিনিস। মেয়ে মেয়ে গন্ধ। এখানে ওখানে বড় বড় চুল। তার অন্তর্বাস। বিছানায় একটার জায়গায় দুটো বালিশ। টেবিলে জেন্টস ঘড়ির পাশে একটা লেডিজ ঘড়ি। চুড়ির শব্দ। কিছুটা বাস্তব, কিছুটা স্বপ্ন। জীবনের অন্য এক মানে।

    বিজ্ঞাপনটাকে আন্ডারলাইন করলুম। এই আমার বউ। নাম নিশ্চয় অর্পিতা। অর্পিতা নামের একটা মেয়ের সঙ্গে আমার একটু প্রেম মতো হয়েছিল ছাত্রজীবনে। সামলাতে পারিনি। যারা আমার চেয়ে পকেট খরচের টাকা বেশি পেত, তারা আমাকে ল্যাং মেরে দিল। একটা মেয়েকে প্রেমের সরোবর থেকে খেলিয়ে তোলা কী সহজ কাজ রে বাবা! ওর চেয়ে ফুটবল খেলা অনেক সহজ। বিয়ে করা তো একেবারেই ইজি ব্যাপার। একটা টোপর মাথায় দিয়ে গোধুলি লগ্নে পিড়েতে গিয়ে বোস, ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে গরম গরম একটা মেয়ের মালিক। অর্পিতাকে আমার ভীষণ ভাল লেগেছিল। সুন্দর বড় বড় চোখ। ফুরফুরে তিন চারটে প্রেমপত্র লিখেছিল। আমার ভালবাসাকে এমনভাবে উস্কে দিয়েছিল যে, সেই সময় আমি এক খাতা ভয়ঙ্কর উদ্বেল কবিতা লিখে ফেলেছিলুম। ছন্দ না থাকলেও গভীর আবেগ ছিল। এত গাছ ছিল যে একটা জঙ্গল হয়ে যেত। এত ফুল ছিল যে তিরিশটা নার্সারি হয়ে যেত। ঘুড়ি আর মেয়ে বেশিক্ষণ হাতে ধরে রাখা যায় না। ছেলেবেলায় দেখেছি, একটা ঘুড়ি কেটে এসেছে, ধরেছি, পেছন থেকে তিনজন লাফিয়ে এসে খামচাখামচি। হয় কেড়ে নেবে, না হয় ছিঁড়ে দেবে। আমাদের সঙ্গে কিছু ব্যবসাদারের ছেলে পড়ত। বড়দা টাইপের। পকেটে অনেক পয়সা। অর্পিতাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল। মেয়েরা খেতে ভালবাসে, সিনেমা দেখতে ভালবাসে, উপহারে খুশি হয়। তিনটেই টাকার ব্যাপার। নো মানি নো লাভ। হানিদের মানি দিয়ে বশে আনতে হবে। একটা হিরো হিরো চেহারা চাই। গায়ে থাকা চাই ফাইন সেন্ট আর সিগারেটের গন্ধ। মজার মজার কথা বলতে হবে। কথায় কথায় পকেট থেকে চকোলেট বের করে খাওয়াতে হবে। অম্লানবদনে ফাইফরমাস খাটতে হবে। শরীরের শক্তি দেখাতে হবে। তোয়াজ করতে হবে। প্রেম করা কঠিন কাজ। ওর চেয়ে ব্যায়াম করা সহজ। প্রেম হতেও যতক্ষণ, চটকে যেতেও ততক্ষণ। কলেজে যেমন হাজিরার পার্সেন্টেজ থাকে, প্রেমেরও সেইরকম পার্সেন্টেজ থাকে। প্রেমিকার কাছে রোলকলের খাতা। পার্সেন্টেজ কম পড়লেই হয়ে গেল। নামকাটা সেপাই। অর্পিতা আমাকে মাসখানেক নাচিয়ে বুঝে গেল একেবারেই ফোঁপরা মাল। একটা টাকা নিয়ে কলেজে আসে। যাওয়া-আসা পঞ্চাশ-পয়সা, আর পঞ্চাশ পয়সায় প্রেম হয় না। অর্পিতার চারে অনেক বড়লোকের ছেলে ঘুরছিল। তারা আমাকে কনুইয়ের কানকি মেরে চারে ঢুকে গেল। আমি উদাস মুখে বসে রইলুম প্রেমের পুকুরপাড়ে।

    বিজ্ঞাপনটা দেখে সেই ছাত্রজীবনের অর্পিতার কথা মনে পড়ে গেল। মেয়েটাকে সত্যিই আমি ভালবেসেছিলুম। ভাল না বেসে উপায় ছিল না। দুর্বার আকর্ষণ। সেই রূপকথার রাজকন্যার মতো। হাসলে মুক্ত ঝরে। কাঁদালে হিরে। দু’হাত দিয়ে হাঁটু ধরে, শরীরটাকে পেছনে হেলিয়ে যখন গাছতলায় বসে থাকত, মনে হত প্রেমের উপন্যাসের কোনও নায়িকা বসে আছে। ঘাড়ের কাছে জমাট রহস্যের মতো আলগা খোঁপা। পৃথিবীর সমস্ত স্নেহের মতো জমাট বুক। হারিয়ে যাওয়া কোনও নারীর মতো ভারী নিতম্ব। কালিদাসের নায়িকা। সূর্য ওঠা কপাল। ছোরার মতো নাক। অর্পিতা বাস্তব থেকে আমার স্বপ্নে চলে এসেছিল। স্বপ্নেই পেতে বসেছিল তার ঘরকন্যা।

    খুব লজ্জা করছিল। তবু নিজের পরিচয় দিয়ে একটা চিঠি লিখে কাগজের বক্স অফিসের ডাব্বায় ফেলে এলুম। নিজের কথা নিজে লেখা যায়! সেই অসভ্যতাটাই করতে হল। আমার বংশপরিচয়, আমার রোজগার। আমার ভবিষ্যৎ, আমার স্বভাবচরিত্র। আমি কতটা মুক্তপুরুষ! আমার তিনকুলে কেউ নেই। আমাকে দেখতে কেমন। যেন সাবানের বিজ্ঞাপন। দেয়ালের সামনে খাড়া হয়ে মাথার ওপর দিয়ে পেনসিল চালিয়ে একটা দাগ মেরে স্কেল দিয়ে মাপতে বসলুম। হাইট পাঁচফুট সাড়ে চার ইঞ্চি। বিয়ের দরখাস্ত চলে গেল। এতকাল গাদাগাদা চাকরির দরখাস্ত হয়েছে, এইবার বিয়ের দরখাস্ত। চিঠিটা ছাড়ার পর থেকেই আমার মনে হতে লাগল, বিয়েটা হয়েই গেছে। নতুন শাড়ির গন্ধ পাচ্ছি। ঘরটা ভরা ভরা লাগছে। নিজেকে দেখাচ্ছে লাজুক লাজুক। একদিন অন্তর দড়ি কামাচ্ছিলুম। এখন রোজ কামাচ্ছি। গালে উল্টোদিকে হাত চালিয়ে দেখি মাখনের মতো মোলায়েম হয়েছে কি না! সব সময় বেশ ফিটফাট থাকার চেষ্টা করি। সপ্তাহে দু’বার শ্যাম্পু করি।

    এক মাসের মধ্যে একটা উত্তর এসে গেল। মেয়েলি হাতের লেখা। পাকা কথা বলার আহ্বান। সঙ্গে একটা রঙিন ছবি। সেই ছবি থেকে সারাদিন চোখ ফেরাতে পারলুম না। মনে ধরার মতো মেয়ে। আয়নার সামনে ছবি আর আমি পাশাপাশি। দুটো মুখের প্রতিফলন, একেবারে মেড ফর ইচ আদার, সিগারেটের বিজ্ঞাপন। মেয়েটি যেন গাইছে, ওগো, আমি যে তোমার, আমি যে তোমার। এতদিন কোথায় ছিলে গোপাল আমার।

    আমার এক বন্ধু ও তার স্ত্রীকে নিয়ে পাত্রী দেখতে গেলাম। ছোটখাটো একটা ফ্ল্যাট। ছোট সংসার। মেয়ের বাবা নেই, মা আছেন। বেশ জাঁদরেল। খুব ব্যক্তিত্ব। মুখটা একেবারে সলিড। চোখে চশমা। কেঁচোর মতো একটা ছেলেও আছে। পশু চিকিৎসক। যে-ঘরে বসলুম, সেই ঘরের দেয়ালে নানারকম কুকুরের ছবি। মায়ের দাপটে ছেলে কেমন যেন খ্যাঁতখ্যাঁতে হয়ে আছে। কাঁচা ঘুম ভেঙে গেলে শিশুদের যেমন হয় সেই রকম। কিছুক্ষণের মধ্যেই চা আর মিষ্টি এসে গেল। আমরা যথারীতি বলতে লাগলুম, ‘এ আবার কেন? এ আবার কেন?’

    ভদ্রমহিলা যেন ধমকে উঠলেন, ‘কথা না বাড়িয়ে খেয়ে নাও।’

    প্রথম থেকেই তুমি সম্বোধন। তা ভাল। শাশুড়ি তো জামাইকে তুমিই বলবেন। ভদ্রমহিলা আমার বন্ধুর বউকে বললেন, ‘চুল কেটেছ বুঝি। আজকালকার মেয়েদের এই এক মদ্দা ফ্যাশন হয়েছে। মনে করে কী ভালই না দেখাচ্ছে! চুল হল মেয়েদের শোভা।’

    ভদ্রমহিলার ছেলে বললেন, ‘আজকাল আর বড় চুল কেউ রাখে না মা।’

    ভদ্রমহিলা ছেলেকে এক দাবড়ানি দিলেন, ‘তুমি চুপ করো।’

    ছেলের মুখটা গোবদা মতো হয়ে গেল। মা একটা হুঙ্কার ছাড়লেন, ‘রেখা চলে এসো।’ অদ্ভুত একটা ব্যাজার মুখে মেয়েটি ঘরে এল। মা বললেন, ‘মুখে একটু হাসি টেনে নমস্কার করো। মুখটা বেগুনের মতো করে রেখেছ কেন?’

    মেয়েটি হাসল না, কেঠো একটা নমস্কার করে বসল।

    মহিলা বললেন, ‘এই আমার মেয়ে। কর্মঠ কোনও ন্যাকামি নেই, আদিখ্যেতা নেই। অনেকটা আমার ধাতের। কোনও প্রশ্ন আছে তোমাদের? বোকা বোকা প্রশ্ন। মুড়িঘন্ট রাঁধতে পারে কি না। চাইনিজ জানে কি না! কার লেখা বই পড়তে ভালবাসে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নাম কী?’

    আমার বন্ধু আমার চেয়ে অনেক স্মার্ট। সে বলল, ‘একটাই প্রশ্ন, মাসে কতবার সর্দিকাশি হয়?’

    মেয়ের মা সঙ্গে সঙ্গে বললেন, ‘পাগল ছাড়া সুস্থ মানুষের যতবার হওয়া উচিত ততবারই হয়। একমাত্র পাগলদের অসুখ করে না।’

    এ যেন ব্যাডমিন্টন খেলার চাপ্স। ভদ্রমহিলা আমার বন্ধুকে আর বল ফেরাতে দিলেন না।

    মা মেয়েকে বললেন, ‘তুমি যেতে পারো।’ মেয়ে উঠে চলে গেল। খাওয়ার আগে আমাকে ভাল করে দেখে গেল। আমি চোখে যথেষ্ট প্রেম আনার চেষ্টা করলুম। কেমন এল বলতে পারব না। মেয়ে উঠে যাওয়ার পর মা জিজ্ঞেস করলেন, ‘পছন্দ হয়েছে? হাঁ, কি না! ঝুলিয়ে রাখাটা আমি পছন্দ করি না।’

    বন্ধু বলল, ‘যে বিয়ে করবে সে-ই বলুক।’

    ‘তোমরা তাহলে এসেছ কেন?’

    ‘একা আসতে লজ্জা পাচ্ছিল তাই।’

    মহিলা আমাকে প্রশ্ন করলেন, ‘বেশ! তুমিই বলো, পছন্দ হয়েছে?’

    মেয়েটিকে আমার বেশ পছন্দই হয়েছিল। টেরিয়ে টেরিয়ে যা দেখার দেখে নিয়েছিলুম। এখন না হাসলেও পরে হাসবে। মায়ের চাপে ছেলে আর মেয়ে দুটোই কেমন হয়ে আছে। লাজুক লাজুক মুখে বললুম, ‘পছন্দ হয়েছে।’

    ‘তোমাকে কত দিতে হবে?’

    ‘আজ্ঞে, প্রশ্নটা ঠিক বুঝলুম না।’

    ‘ঠিকই বুঝেছ। দেনা-পাওনার কথা হচ্ছে। কী কী চাই? দাবি কত?’

    ‘এক পয়সাও নয়। আমার সবই আছে।’

    ‘পরে অশান্তি করবে না তো?’

    ‘সে ভয় নেই। আমি লোভী নই।’

    মহিলা তখন ছেলেকে বললেন, ‘নাদু, পাঁজিটা নিয়ে এসো।’

    পাঁজি এসে গেল। মহিলা তরতর করে পাতা উল্টে গেলেন। অবশেষে মুখ তুলে বললেন, ‘বাইশে অঘ্রাণ। ভাল দিন। গোধূলি লগ্ন। এখনও একমাস সময় আছে। বিয়ে তাহলে পাকা হয়ে গেল। তোমাদের যা করার করো। আমাদের যা করার করি। তোমার বরযাত্রী ক’জন আসবে?’

    ‘বেশি না। দশ বারো।’

    ‘খুব ভাল। এই বাজারে ভূতভোজন করিয়ে কোনও লাভ নেই।’

    আমরা বেরিয়ে এলাম। বন্ধুর বউ বলল, ‘মেয়েটা ভালই। শরীরস্বাস্থ্য আছে। দেখতেও সুন্দরী। কিন্তু মেয়ের মা অস্বাভাবিক। অহঙ্কার মটমট করছে, ক্যাঁট ক্যাঁট কথা।’

    বন্ধু বলল, ‘সে মরুকগে! বিয়েটা তো শাশুড়ির সঙ্গে হল না। এক এক মা এক এক রকম। ছেলেমেয়েকে ভদ্রমহিলাই মনে হয় মানুষ করেছেন। তাই একটা কর্তা কর্তা ভাব। কড়া মা।’

    একটা মাস কেটে গেল। আমার কেউ কোথাও নেই। বন্ধু নির্মল আর তার স্ত্রী মিতাই সব করতে লাগল। কেনাকাটা, হ্যানাত্যানা। ফ্যাচাঙ তো অনেক। ওই ঘনিষ্ঠ দশ বারোজন ছাড়া কাউকেই বলা হবে না। অকারণ অশান্তি করে কোনও লাভ নেই। ব্যাপারটা চুপিচুপি সেরে নেওয়াই ভাল। আগের দিন মিতা তরিবাদি করে আইবুড়ো ভাত খাওয়াল। বিয়েরদিন সকালে নমোনমো করে গায়েহলুদও হল। একটা মিনিবাস ভাড়া করা হল। সেইটাতেই বর, বরযাত্রী একসঙ্গে যাবে, এইরকমই ঠিক হয়েছিল। মিতা বলল, ‘আমাদের একটা প্রেস্টিজ আছে। বরের গাড়ি আলাদা হবে। ফুল দিয়ে সাজতেও হবে। আমারা ছেলের তরফ। বিয়ে একবার, খরচও একবার’। মিতা আমার মা না-থাকার অভাব পূরণ করে দিল। কোমর বেঁধে একাই সব করছে। নিজেকেই নিজে অনেক কিছু দিয়েছি। একটা বক্স টাইপ খাট। স্টিলের আলমারি। নতুন প্রেসার কুকার। তিন ভাঁজ আয়না লাগানো ভাল একটা ড্রেসিংটেবল, আমার বউ এসে চুল বাঁধবে, সাজবে গুজবে। আমি তখন তার পেছনে এসে দাঁড়াব। আবেগে আদর করব। আয়না সাক্ষী। বেশ ভালই খরচ করেছি। মিতা হল পরিচালিকা। সে জানে জীবনের মতো একটা মেয়ে এলে সংসারটাকে কীভাবে সাজাতে হয়। রান্নাঘর থেকে শোবার ঘর মিতা সব সাজিয়ে গুছিয়ে ছবির মতো করে দিয়েছে। মিতা ভীষণ গুছনে মেয়ে। নিজের সংসারটাকে অলকাপুরীর মতো করে রেখেছে। মাঝেমাঝে মনে হচ্ছে, মিতার মতো একটা বউ পেলে জীবনটা হয়ে যেত যন্ত্রসঙ্গীতের মতো। পরস্ত্রীর ওপর লোভ করা মহাপাপ।

    পাঁচটার সময় মিতাই আমাকে সাজিয়ে দিল। সিল্কের ধুতি, পাঞ্জাবি। গায়ে সুগন্ধী স্প্রে। মিতাই চুলের স্টাইল করে দিল হেয়ার ক্রিম দিয়ে। মুখে লবঙ্গ দিয়ে চন্দনের ফোঁটা। পায়ে ঝকঝকে নিউকাট। হাতে কোঁচার ফুল। ভাল করে তাকিয়ে বলল, ‘বেশ দেখাচ্ছে। হঠাৎ ঠোঁটে একটা চুমু। ভিজে ভিজে। সারা শরীর শিউরে উঠল। নারীর স্পর্শের কী জাদু!

    দোরগোড়ায় আকাশি রঙের গাড়ি। রজনীগন্ধার ঝালর ঝোলানো। তার পেছনে তাল তোবড়ানো একটা মিনি। নির্মলের হাতে টোপর। মিতার নির্দেশ, বরের গাড়ি যেন ছাগলগাদাই না হয়। ফাঁকা ফাঁকা যাবে। সূর্য অস্ত গেছে। পশ্চিম আকাশ আবীর-লাল। রজনীগন্ধার প্রেমিক সুবাস। দুধসাদা টোপরে অভ্রের চুমকি। গাড়ি থামল বিয়ে বাড়িতে। শাঁখ। উলু। মেয়ের মামা হাত ধরে বাসরে নিয়ে গিয়ে মখমলের গদিতে বসিয়ে দিলেন। খুব একটা হইচই নেই। লোকজন কম। একটু টানাটানির বিয়ে। হতেই পারে। সহায় সম্বলহীন বিধবা মহিলা যতটা পেরেছেন সাধ্যমতো করেছেন।

    লগ্ন এসে গেল। আমার হাত ধরে বিয়ের পিঁড়িতে বসানো হল। একটু পরেই আমার জীবন বদলে যাবে। শ্রীর পাশে শ্ৰীমতী যোগ হবে। উল্টোদিকে বসে আছে লাল বেনারসী বউ। দারুণ দেখাচ্ছে। কাশীর পাকা পেয়ারার মতো গায়ের রঙ। গোলাপী গাল। একটা দুটো লাল ব্ৰনর ছিট। ভারী চোখের পাতা। নারকোল পাতা ঘেরা দীঘির মতো। একবার তাকাই তো পরক্ষণেই লজ্জায় চোখ নামিয়ে নি।

    সম্প্রদান করবেন মেয়ের মা। তিনি বসে আছেন পাশে। পুরোহিতমশাই মন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। কোনওটা উচ্চারণ হচ্ছে, কোনওটা হচ্ছে না। সম্প্রদান হবে, চার হাত এক হতে চলেছে। হঠাৎ কে আমাকে ভুঁইকুমড়োর মতো পিঁড়ে থেকে তুলে ধুম করে পাশে ফেলে দিল।

    হই হই ব্যাপার। গুণ্ডামতো সাত আটটা ছেলে আমাদের ঘিরে ধরেছে। যে-ছেলেটাকে কম্যান্ডের মতো দেখতে, সে বলছে, ‘জগাকে নিয়ে এসে পিঁড়েতে বসা। সাতবছর প্রেম করার পর পাখি নিয়ে যাবে বেপাড়ার কেষ্ট। এটা মগের মুল্লুক! আমরা কী মরে গেছি! মালটাকে তুলে নর্দমায় ফেলে দিয়ে আয়।’

    মেয়ের মা চিৎকার করছেন, ‘বাবা পল্লব, ফাইট দাও, ফাইট দাও। তোমার জিনিস তুমি লড়ে নিয়ে যাও। আর লড়ে! আমাকে তুলে বরণডালার ওপর ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। পেছনে কী একটা ফুটে গেছে। বরযাত্রীরা ভয়ে পালিয়ে গেছে রাস্তায়। নির্মল একটু লড়তে চেয়েছিল, কষকষে করে তার কান মলে দিয়েছে। জগা পিঁড়িতে বসে পড়েছে। মন্ত্র চালু হয়ে গেছে। পরাজিত রাজপুত্রের মতো আমরা রাস্তায়। রাস্তায় আরও একটা দল। তারা প্যাঁক দিচ্ছে। একজন আমার কাছাটা ফচাং করে খুলে দিল, ‘শালা কার ফল পাড়তে এসেছিলে, পেছনে হুড়কো দিয়ে দেব।’

    মিতা বলল, ‘ডিফিট। আমরা হারব না। আজই বিয়ে হবে। গাড়ি ভবানীপুর।’

    মিতা আমার পাশে। তার একটা হাত আমার কাঁধে। আমার বোনকে তোমার বিয়ে করতে আপত্তি আছে?

    ‘তোমার বোন তো তোমার মতোই হবে। তবে সে কি আমায় বিয়ে করবে!’

    সেটা আমার ব্যাপার।

    গাড়ি যাদবপুর থেকে ভবানীপুরের দিকে চলল। পেছনে বসে আছে হাফ-বিয়ে বর। পেছনে ফুটে গেছে কাজললতা। টোপরটা জগার মাথায়। মিতা আমাকে মায়ের মতো জড়িয়ে ধরে আছে। গাড়ি চলো ভবানীপুর।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপরমপদকমলে – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article একা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }