Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শ্বেতপাথরের টেবিল – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প279 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দাওয়াই

    যতীশবাবু শব্দ একদম সহ্য করতে পারেন না। আগে পারতেন কি না জানি না, এখন কিন্তু একেবারেই পারেন না। কোনওরকম শব্দ, চিৎকার, চেঁচামেচি হলেই যতীশবাবুর কপালে ঠিক নাকের উপর দুটো ভুরুর মাঝখানে খাঁজ দেখা দেয়, মাথার মধ্যে কে যেন হাতুড়ি পেটাতে থাকে, রক্তের চাপ বাড়তে থাকে, চিন্তা এলোমেলো হয়ে যায়, শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত হতে থাকে, হাতের আঙুল মুঠো হয়ে যায়, বহুদূর থেকে একটা পলতের আগুন এগিয়ে আসতে থাকে। যতীশবাবু একটা বোমার মতো প্রথমে একটু ফুল কেটে দড়াম্‌ করে ফেটে পড়েন।

    যতীশবাবুর এমনই বরাত, শব্দ থেকে তাঁর নিষ্কৃতি পাবার কোনও উপায়ই ভগবান রাখেননি। তাঁর বাড়ি বড় রাস্তার ধারে, সব সময় গাড়ির শব্দ, সাইকেল রিকশার প্যাঁক-প্যাঁক লেগেই আছে। যতীশবাবুর স্ত্রীর গলাও সাংঘাতিক। বারান্দা থেকে—‘বিনু’ বলে ছেলেকে ডাকেন যখন পাশের খাটালে খোঁটায় বাঁধা গরু-মোষ লাফিয়ে ওঠে, বাঁটের দুধ শুকিয়ে যায়। স্বামীকে যখন শোবার ঘরে—‘ওগো শুনছ’ বলেন তখন পাড়ার সকলেই শুনে থাকেন। যতীশবাবুর স্ত্রীর সব কিছুই সশব্দে। ঘটি-বাটি রাখা থেকে শুরু করে দরজা বন্ধ করা পর্যন্ত সব কিছুই পিলে চমকে দেয়। একবার যাত্রার আসরে বসে এমন হাততালি দিয়েছিলেন সকলে ভেবেছিলেন মড়মড় করে প্যান্ডেল ভেঙে পড়ছে। ছুটোছুটি, দৌড়োদৌড়ি। পায়ের চাপে বেশ কিছু আহত। তারপর থেকেই যতীশবাবুর স্ত্রীর কী ডিমান্ড! সভাসমিতি হাততালি দিয়ে পণ্ড করাবার জন্য তাঁকে খাতির করে বিরোধীপক্ষরা নিয়ে যেতেন। ঝগড়াতেও যতীশবাবুর স্ত্রীর সঙ্গে এঁটে ওঠা কারুর বাপের সাধ্যে কুলোবে না। মাঝে মাঝে ভাড়াটের স্ত্রীরা বাড়িওলার সঙ্গে ধুম ঝগড়া করার জন্য যতীশবাবুর স্ত্রীকে বায়না দিয়ে যায়। সময় সময় দুর্বল শাশুড়িরাও আসেন ডাকাবুকো বউদের একটু টাইট দেবার জন্য।

    যতীশবাবুর এমনই বরাত, বাড়ির পাশে এক টিন-মিস্ত্রি সম্প্রতি এক কারখানা খুলে বসেছে, অষ্টপ্রহর ধাঁইধাপ্‌পড় করে টিনের কেনেস্তারা হাতুড়ি পিটিয়ে সোজা করছে। এর উপর আছে রেডিও। পাশের বাড়ির গোটাকতক কাঁদুনে ছেলেমেয়ে। সবার উপরে আছে পাশের হিন্দুস্থানী খাটাল। সন্ধে যেই না হল ঢোল আর ঝুমর নিয়ে দলবেঁধে বসে গেল, ঝম ঝম ঝঁয় ঝঁয় করে চলল মাঝ রাত অবধি। কোথা থেকে একঘর মুচি এসে বসেছে—তারা আবার সকলকে ছাড়িয়ে গেছে। তাদের কাছে কী নেই। ক্লারিওনেট আছে, পিকলু আছে, সানাই আছে, ড্রাম আছে। সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে দু পাত্তর দিশি গলায় ঢেলে তাদের ভাব উথলে ওঠে। সব ক’টা যন্ত্র একসঙ্গে বের করে হিন্দি ছবির মতো হিট গান বে-সুরো বাজাতে থাকে। দলের পাণ্ডা হল কালু মুচি। সে ব্যাটা আবার মাঝে মাঝে কেয়াবাৎ, কেয়াবাৎ করে ষাঁড়ের মতো চেঁচাতে থাকে।

    যতীশবাবু প্রথমে বাড়ির লোকদের বোঝাতে চাইলেন। স্ত্রীকে একদিন মাঝরাতে ভুঁড়িতে সুড়সুড়ি দিতে দিতে বেশ নরম গলায় বললেন, ‘হ্যাঁ গো, বয়স তো বাড়ছে, এখন একটু চেঁচামেচি কম করলে হয় না! তোমার চিৎকারে বাড়িতে তো নোনা ধরে সব পলেস্তারা ঝরে গেল।’ যতীশবাবুর কথা শুনে যতীশবাবুর স্ত্রী আধশোয়া হয়ে সেই মাঝরাতেই গাঁক গাঁক করে চিৎকার করে উঠলেন, ‘কী বললে, আমি চিৎকার করি, আমি চিৎকার করি?’ যতীশবাবু তাড়াতাড়ি বললেন, ‘না না, তুমি ঘুমোও, আমার ঘাট হয়েছে।’ ‘কী বললে, ঘাট হয়েছে, ঘাট হলেই হল? বললে কেন আমি চিৎকার করি।’ স্ত্রী রণমূর্তি ধরে বিছানায় উঠে বসলেন। পাশের ঘরেই ছেলেমেয়েরা শুয়ে আছে। যতীশবাবু ঝগড়ার ভয়ে তাড়াতাড়ি খাট থেকে নেংটি ইঁদুরের মতো লাফিয়ে পড়ে বাইরের বারান্দায় পালিয়ে গেলেন। বাকি রাতটা সেখানেই ইজিচেয়ারে শুয়ে শুয়ে মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে কাটালেন। বুঝলেন স্ত্রীকে মেরামত করা তাঁর চোদ্দ পুরুষের কর্ম নয়।

    সাতসকালেই মেজ মেয়েটা একটা ঘ্যাড় ঘ্যাড় ট্রানজিস্টারে বিবিধ ভারতী ধরছিল। একে ব্যাটারির জোর কমে এসেছে। যতীশবাবু মেয়েকে ডেকে বললেন, ‘মা, রেডিওটাকে একটু বিশ্রাম দে না। এই শব্দ তোর ভাল লাগছে?’ মেয়ে অম্লান বদনে বলল, ‘কী বলছ বাবা? কিশোর গাইছে।’ বলেই নিজে সুরে সুর মিলিয়ে গাইতে লাগল, হ্যাঁক্কো, হ্যাঁক্কো ঘ্যাঁ ঘ্যাঁ। গাইতে গাইতে গজেন্দ্র গমনে চলে গেল। যতীশবাবু চুকচুক করে দুবার শব্দ করলেন, এর নাম গান! বুঝলেন, মেয়ে আউট অব কনট্রোল।

    রাত থেকেই স্ত্রী অগ্নিশর্মা হয়েছিলেন। অন্য দিন তিনি যখন হাঁটতেন ঘরবাড়ি কাঁপত, সেদিন তাঁর গমন পথে ভূমিকম্প শুরু হল। বাথরুমের দরজা বন্ধ হল, দ্রাম। রান্না ঘরে হাতা পড়ল, ঝনঝন। গলা সব সময়েই সপ্তমে। ছেলেমেয়েদের বলল, ‘তোরা সব নিখাকির মতো গলা করতে পারিস না। এটা বাড়ি নয়, গোরস্থান, সব ফিসফিস করে কথা বলবি।’ যতীশবাবু বুঝলেন সবই তাঁকে ঠেস দিয়ে বলা হচ্ছে।

    সাতসকালেই থলে হাতে বাজারের পথে বেরিয়ে পড়লেন। দরকার নেই বাবা, বাড়ি তাঁর জন্য নয়। সকলের জন্য কী সব কিছু হয়। রাস্তায় বেরিয়েও শান্তি নেই। একটা কুকুর বেশ শুয়েছিল, হঠাৎ ধড়মড় করে উঠে আকাশের দিকে মুখ তুলে কানফাটানো ঘেউ ঘেউ শুরু করল। যতীশবাবু বললেন, ‘এই কী হচ্ছে কী! ঘুমো ঘুমো’। ফল হল উল্টো। কুকুরটা যতীশবাবুর পেছন পেছন ডাকতে ডাকতে চলল। যতীশবাবু মনে মনে বললেন, ‘বুঝেছি, এ শালা ভগবানের কারসাজি। ভগবান পেছনে লাগলে কী করা যাবে।’ যার স্ত্রী কথা শোনে না, যার মেয়ে কথা শোনে না, তার কথা শুনবে একটা রাস্তার কুকুর!

    যতীশবাবুর পাশ দিয়ে একটা রিকশা হুড়মুড় করে চলে গেল, প্যাঁক প্যাঁক প্যাঁক, প্যাঁক প্যাঁক প্যাঁক করে হর্ন বাজাতে বাজাতে। আর একটু হলে তাঁর কাছার আধখানা খাবলে নিয়ে যেত। যতীশবাবু চিৎকার করে রিকশাওলাকে বললেন, ‘অ্যাই, আস্তে যেতে পারিস না, শুধু শুধু হর্ন বাজাচ্ছিস কেন!’ রিকশাওলা ঘাড় ঘুরিয়ে বলল, ‘ভাল লাগে দাদা’। ইতিমধ্যে আরও চারপাঁচটা রিকশা ওইভাবে সবেগে বেরিয়ে গেল। যতীশবাবু রাস্তার একপাশে নর্দমা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রইলেন—‘যা বাবা তোরাই যা, তোদের যা দাপট!’

    যতীশবাবু কোনওরকমে বাজার সেরে তাড়াতাড়ি ফিরে এলেন। বাড়ির রেডিও তখন ঘড়ঘড় করছে। স্ত্রী তেমনি অগ্নিশর্মা। বেড়ালটা পায়ে পায়ে ঘুরছে বলে অ্যাইসা এক লাথি হাঁকড়ালেন, সেটা ফুটবলের মতো সোজা বারান্দার রেলিং টপকে রাস্তায় একটা ফেরিওলার ঝুড়িতে গিয়ে পড়ল। অন্য দিন হলে যতীশবাবু একটু গড়িমসি করে, কাপ কতক চা খেয়ে তারপর অফিসের জন্য প্রস্তুত হতেন। সেদিন আর কোনও কথা নয়, যত তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়া যায় ততই শান্তি। দাড়ি পর্যন্ত কামালেন না। কোনও রকমে মাথায় দু ঘটি জল ঢেলে খেতে বসে গেলেন।

    খেতে বসে এ কী ব্যাপার! ছোট মেয়ে সুকুকে ডাকলেন। স্ত্রীর সঙ্গে বাক্যালাপ বন্ধ। সকাল থেকেই দেওয়ালের মধ্যস্থতায় ঠারেঠোরে কথা হচ্ছে। সুকুটার বয়স কম বলেই হোক, কিংবা মেয়েটা একটু বাপঘেঁষা বলেই হয়তো এখনও তেমন বিগড়ে যায়নি। যতীশবাবু মেয়েকে বললেন, ‘জিজ্ঞেস কর তো, আমাকে কী গরু ভেবেছে? এই জাবনাটা দেবার মানে কী?’ সুকু দেখল যতীশবাবুর পাতের ডানদিকে বিশাল এক থাবা শাকের তরকারি। যতীশবাবু একে আমাশার রোগী, শাকপাতা দেখলেই তাঁর পেট মুচড়ে ওঠে। স্ত্রী রান্নাঘর থেকে হেঁকে বললেন, ‘খেয়ে নিতে বল। আজ থেকে ওই ব্যবস্থা। শরীরে ভিটামিন কমে গেছে, তাই ওরকম খিটখিটে স্বভাব হয়েছে, আস্তে কথা বললে জোরে শুনছে।’ যতীশবাবু সাময়িকভাবে ভুলে গেলেন, স্ত্রীর সঙ্গে কথা বন্ধ। শাক থালা থেকে মেঝেতে নামিয়ে দিয়ে ভেঙচে উঠলেন, ‘থাক, খুব হয়েছে, আমার চিকিচ্ছে আর আপনাকে দয়া করে করতে হবে না, তার জন্য ডাক্তার আছে, আমি নিজে আছি।’ যতীশবাবুর স্ত্রী রান্নাঘর থেকে মুখ বাড়িয়ে বললেন, ‘সকলেই আছে তবে দাঁত চিরকুটে পড়লে আমাকেই তখন দেখতে হবে, কেউ আসবে না সেবা করার জন্য।’

    ‘ওরে আমার সেবিকারে, সেবাদাসী’ যতীশবাবু অদ্ভুত গলা করে বললেন, ‘সেবার ছিরি আমার জানা আছে। সেই যেবার আমার জ্বর হল, বললাম মাথাটা একটু টিপে দাও, উনি করলেন কী কপালে দুবার হাত বুলিয়ে বসে বসেই ভোঁস ভোঁস করে ঘুমোলেন, মোষের বাচ্চার মতো। সেবা! সেবা দেখিও না, সে সব আগেকার যুগের মানুষদের দেখেছি, বাবার জ্বর হল মা সাত রাত ঠায় জেগে।’

    এইবার যতীশবাবুর স্ত্রী রান্নাঘর থেকে পুরোপুরি নিজেকে বের করে আনলেন। ছোট মেয়ে সুকু হাঁ করে দাঁড়িয়েছিল, প্রথম ঝলটা তার উপর ঝাড়লেন, ‘তোর কাজ নেই, এখানে দাঁড়িয়ে সার্কাস দেখছিস?’ সুকু সুড়সুড় করে বাইরের ঘরের দিকে পালাল। স্বামীর দিকে ফিরে হাত পা নেড়ে বললেন, ‘যা বলবে আমাকে বলবে, বাপ তুলবে না।’

    ‘বাপ তুলবে না! বাপ আবার তুললুম কখন? আমার বাবার কথা বললুম।’

    ‘আজ্ঞে না, তোমার বাবাকে তুমি কাঁধে করে বসে থাকো আমার বয়ে গেছে। মোষের বাচ্চা কাকে বললে, তার মানে আমার বাবা ভঁইস! আমি জানি না, একটু মোটা ছিলেন বলে তোমরা কম হাসাহাসি করেছ? শেষে তিনি এ বাড়িতে আসাই ছেড়ে দিয়েছিলেন।’

    যতীশবাবু কথাটা অত ভেবেচিন্তে বলেননি। তিনি একটু বিব্রত হলেন, কিন্তু না, আজ আর সহজে তিনি হারবেন না। কেশে গলাটা ঝেড়ে নিয়ে বেশ জোরের সঙ্গে বললেন, ‘চোরের মন বোঁচকার দিকে, তোমার বাবার চেহারা এতদিনে আমি ভুলেই গেছি, আমি তোমার মতো অত ছোটলোক নই। মোটাকে মোটা বলব, বুড়োকে বুড়ো। ওটা তোমার শিক্ষা, ইওর কালচার।’ ইংরেজিটা এতক্ষণ আসছিল না, তাই যতীশবাবু ঠিক জোর পাচ্ছিলেন না। ‘আজকাল কথায় কথায় ছেলেমেয়েদের সামনে বুড়ো বুড়ো বলো, এমনকী সেদিন একবার মিনসে পর্যন্ত বলেছ, মোস্ট ইনসালটিং। আমি তোমার এই হতচ্ছেদ্দার খাবার খাব না, ভুখা মরেঙ্গে সেও ভী আচ্ছা, তবু এই গঞ্জনা কা তণ্ডুল, সব ভণ্ডুল করকে চলা জায়গা।’ যতীশবাবু হিন্দি দিয়ে তাঁর থিতিয়ে পড়া রাগকে একটু উসকে দিলেন, তারপর হাত দিয়ে ভাত তরকারি সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়ে আসন থেকে উঠে পড়লেন। ওঠা কী অত সোজা! বয়েস তো সত্যিই হচ্ছে। এক জায়গায় অনেকক্ষণ বসে থাকলে উঠতে অসুবিধে হয়। হাঁটুতে বাত। উঠতে গিয়ে একটু টাল খেলেন। ডালের বাটিতে একটু পায়ের ধাক্কা লেগে গেল, খানিকটা ছলকে মেঝেতে পড়ল।

    যতীশবাবুকে এত সহজে মুক্তি দেবার মেয়ে তাঁর স্ত্রী নন। দৌড়ে এসে যতীশবাবুর কোমর চেপে আসনে আবার বসিয়ে দিলেন। হাঁটুর জোর কমে গেছে, তার উপর কোমরে সুড়সুড়ি লাগছিল। যতীশবাবু ধপাস করে থেবড়ে বসে পড়লেন। যতীশবাবুর স্ত্রী এবার নিজ মূর্তি ধরলেন, সেই দনুজদলনী চেহারা, ‘পালাচ্ছ কোথায়? না খেয়ে এক পা নড়ো দেখি কেমন তুমি বাপের ব্যাটা! যা ফেলেছ সব আজ গেলাব, পয়সা খুব সস্তা তাই না। রক্ত জল করা পয়সা!’ ভাত যা ছড়িয়ে গিয়েছিল সব থালায় গুছিয়ে দিলেন, শাকের নাদাটা মেঝে থেকে থালায় তুলে দিলেন। যতীশবাবু সঙ্গে সঙ্গে নাদাটা আবার মাটিতে নামিয়ে দিলেন, যতীশবাবুর স্ত্রী আবার তুলে দিলেন, যতীশবাবু আবার নামিয়ে দিলেন, স্ত্রী আবার তুলে দিলেন। কারুর মুখে কোনও কথা নেই। ঝাঁপি খেলার মতো এই খেলা কিছুক্ষণ চলল, শেষে যতীশবাবু ধৈর্য রাখতে না পেরে তরকারির পুরো তালটা স্ত্রীর চাকাপানা মুখে আবীরের মতো মাখিয়ে দিলেন।

    ঘটনাটা মুহূর্তে ঘটে গেল। যতীশবাবুর স্ত্রী প্রথমটা ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু পারুলবালাও ছাড়বার পাত্রী নন। স্ত্রীর আক্রমণটা এবার কোন দিক থেকে আসবে বোঝার আগেই পারুলবালা যতীশবাবুর টাকে ডালের বাটিটা উপুড় করে দিলেন। বাটিটা মাথার মাঝখানে ফেজের মতো আটকে রইল হাওয়ার চাপে। সুকু এতক্ষণ বোধহয় দরজার ফাঁক দিয়ে বাবা আর মার কেরামতি দেখছিল। হাসি চাপতে না পেরে খুক খুক করে হেসে উঠল। যতীশবাবু নিজেকে সামলে নিলেন অনেক কষ্টে। ইচ্ছে করছিল হিন্দি ছবির কায়দায় ঘিচুং করে স্ত্রীর থ্যাবড়া নাকে একটু ঘুষি ঝেড়ে দেন। অনেকদিন ধরেই ঘুষিটা ভেতরে জমে আছে। তবে বলা যায় না, পারুলবালা যে টাইপের মেয়ে, ঘ্যাঁ করে কামড়ে দিতে পারে। একবার মানিব্যাগ নিয়ে হাতকাড়াকাড়ির সময় যতীশবাবুর হাতে কামড়ে দিয়েছিল। সামনের দুটো দাঁত হাতে বসে গিয়েছিল। ডাক্তারখানায় দৌড়তে হয়েছিল। ডাক্তার জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘মরে গেছে, না বেঁচে আছে। দিন কতক অবজার্ভ করবেন। যদি দেখেন ঝিমিয়ে পড়ছে তাহলে তলপেটে চোদ্দটা।’ যতীশবাবু প্রথমটা বুঝতে পারেননি, তলপেটে চোদ্দটা শুনে বুঝলেন, তাড়াতাড়ি বললেন, ‘না না, অনেকদিনের পোষা কুকুর, মোস্ট ফেইথফুল।’ ডাক্তার বললেন, ‘দূর মশাই ফেইথফুল, রাবিশ হতে কতক্ষণ! ভাদ্র মাসে কুকুরদের মেটিং সিজন। পেয়ার আছে?’ যতীশবাবু একটু ঢোঁক গিলে বললেন, ‘হ্যাঁ পেয়ার আছে!’

    ‘কী জাতের কুকুর, পেডিগ্রি?’

    যতীশবাবু বললেন, ‘টেরিয়ার ফেরিয়ার হবে, ফক্‌স কী বুল যা হয় একটা।

    ডাক্তারবাবু মারকিউরোক্রোম দিয়ে ছেড়ে দিলেন। হাতের ঘা নিয়ে দিন পনেরো ভুগেছিলেন। পারুলবালার দাঁতে কম বিষ!

    যতীশবাবু তাড়াতাড়ি সেই দক্ষযজ্ঞ থেকে উঠে পড়লেন। ভুঁড়ি বেয়ে মুগের ডালের স্রোত কুঁচকি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। সকালের লাথি খাওয়া বেড়ালটা ইতিমধ্যে কোন ফাঁকে উঠে এসেছে। সে ব্যাটা তক্কেতক্কেই ছিল। এক ফাঁকে মাছের টিকলিটা যতীশবাবুর থালা থেকে তুলে নিয়ে মিটসেফের তলায় গিয়ে ঢুকল। বাথরুম থেকে পারুলবালার গলা শুনলেন, ‘উনুনে এক ঘটি জল ঢেলে দে সুকু, পিণ্ডি আজ আর কাউকে গিলতে হবে না। আমিও ছোট দারোগার মেয়ে, দেখিয়ে দেব কত ধানে কত চাল।’ যতীশবাবু একটু নার্ভাস হয়ে গেলেন, তারপর মনে মনে বললেন, যতীশ তুমি বৃন্দাবন গাঙ্গুলির ছেলে, যাঁর দাপটে তোমার মা আধমরা হয়ে বিয়ের পর মাত্র সাত বছর বেঁচেছিলেন। যাঁর ভয়ে তুমি বিয়ের পর তিন বছর ব্রহ্মচারী হয়ে ছিলে। সেই বৃন্দাবন গাঙ্গুলি যাঁর বাটার-ফ্লাই-গোঁফ-শোভিত তিরিক্ষি মুখ মনে পড়লে তোমার তালু এখনও শুকিয়ে যায়। যতীশবাবু এইভাবে একটু বল সঞ্চয় করলেন তারপর কুরুক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণের মতো নিজেকে সম্বোধন করে বললেন, পার্থ ডোন্ট গেট নার্ভাস, ক্লীব হয়ো না, গাণ্ডীব পাকড়াও, পারুলবালা একটা প্রতিদ্বন্দ্বীই নয়, সে তো মরেই আছে, তুমি শুধু টাঁই করে তীরটা একবার ছেড়ে দাও। প্রথমটা বাথরুমের দরজা খুলতে ভয় পাচ্ছিলেন, পারুলবালা যদি তেড়ে আসে। কিন্তু কতক্ষণ বাথরুমে থাকা যায়। যা থাকে বরাতে। না, ত্রিসীমানায় গৃহিণী নাস্তি। হুঁ হুঁ হুঁ হুঁ বিপদে মোরে রক্ষা করো, হুঁ হুঁ বিপদে মোরে—যতীশবাবু গুন গুন করতে করতে এগোচ্ছিলেন, ‘কী রে, তুই?’ সামনে তাঁর মাসকাবারি রিকশাওয়ালা। ব্যাটা ওপরে উঠে এসেছে। ‘বাবু অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি, আধঘণ্টা ধরে হর্ন দিচ্ছি।’

    ‘দাঁড়া বাবা এখুনি আসছি।’ যতীশবাবু প্রাণে বাঁচলেন। রিকশাওলা ভজুয়ার সামনে পারুলবালা কিছু করবে না। বাড়ি থেকে বাসস্ট্যান্ড অনেকটা দূরে বলে যতীশবাবু মাসকাবারী রিকশার ব্যবস্থা করেছেন।

    সারাদিন অফিসে কাজে তেমন মন বসল না। অনেকদিন পরে এই রকম একটা বিশ্রী গোলমাল হল। আসলে ব্যাপারটা তিল থেকে তাল হয়ে গেল। যতীশবাবু ইদানীং নিজের অপছন্দের কথা তেমন বলেন না। প্রবল প্রতিপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করে মোটামুটি শান্তিতেই দিন কাটছিল। হঠাৎ যে কী হল। তাঁর পরিবারের ধারাই ছিল আস্তে কথা বলা, আস্তে চলা। পিতা বৃন্দাবন গাঙ্গুলি এই সব জিনিসকে আরিস্টোকেসি বলে মনে করতেন। শোনা যায় যতীশবাবুর বাবার বাবা সারাদিনে তিন চারটের বেশি কথা বলতেন না, আর তাও বলতেন এত আস্তে যে, কানে ‘হিয়ারিং এড’ না লাগালে শোনা যেত না। তাঁর সমস্ত কাজটা ছিল খুব আস্তে। ঠাকুমা মারা যাবার সময় স্বামীর হাতে জল চাইলেন। ঠাকুরদা বাটি থেকে চামচে করে গঙ্গা জল এত ধীরে ধীরে দিতে গেলেন যে সে জল ঠাকুমার ঠোঁট অবধি পৌঁছবার আগেই তিনি গঙ্গাযাত্রা করলেন। সকলে বললেন, নিবারণ, একটু তাড়াতাড়ি করা উচিত ছিল, আহা শেষ জলটা বুড়ির কপালে জুটল না! ঠাকুরদা নিবারণ গাঙ্গুলি ফিসফিস করে বলেছিলেন, ‘আমার একটা ধারা আছে, বুঝেছ, তার বাইরে আমি যেতে পারব না।’ সেই বংশের ছেলে যতীশবাবু এখন দারোগার মেয়ের পাল্লায় পড়ে টেকো মাথায় না খেয়ে অফিসের চেয়ারে বসে বিড়ি ফুঁকছেন।

    বেলা তিনটে নাগাদ দু’পিস টোস্ট, কাপ কয়েক চা খেয়ে যতীশবাবু একটু ধাতস্থ হলেন। সম্প্রতি অফিসে তাঁর একটি ছোকরা অ্যাসিস্টেন্ট জুটেছে, বেশ চৌকোস ছেলে, আধুনিক জগতের অনেক রকম ঘাঁতঘোঁত জানা আছে। যতীশবাবু ছেলেটিকে কাছে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আচ্ছা, কোথায় গেলে একটা ভাল হর্ন কিনতে পারা যাবে বলো তো?’ ছেলেটি প্রথমে একটু অবাক হয়ে গিয়েছিল। সামলে নিয়ে বলল, ‘কী হর্ন? ইলেকট্রিক না প্যাঁক প্যাঁক?’

    যতীশবাৰ বুঝিয়ে দিলেন, ‘সামনের দিকটা ঘোরানো চোঙার মতো আর পিছনে একটা রবারের বল থাকবে, আওয়াজটা বেশ গুরুগম্ভীর চাই, ঠিক প্যাঁক প্যাঁক নয়, ভ্যাঁক ভ্যাঁক’। ছেলেটি বলল, ‘নতুন কিনতে গেলে অনেক দাম পড়বে, মল্লিক বাজারে পুরনো ভাল জিনিস পাওয়া যায়, দাম কম’। যতীশবাবু খুব আশান্বিত হলেন, ‘তুমি আমাকে একটা কিনে দেবে?’ ছেলেটি প্রবীণ মানুষের অনুরোধ ঠেলতে পারল না।

    সন্ধের বেশ কিছু পরে যতীশবাবু বেশ বড় সাইজের একটি হর্ন কাগজে মুড়ে বুকের কাছে চেপে ধরে বাস থেকে নামলেন। সোজা বাড়ি ঢুকতে সাহস হচ্ছিল না। বাড়ির আবহাওয়া কী রকম কে জানে! প্রথমে পাড়ার চায়ের দোকানে বসে এককাপ চা খেয়ে একটু শক্তি সঞ্চয় করে নিলেন, তারপর যা থাকে বরাতে বলে গুটি গুটি বাড়ি ঢুকলেন। আবহাওয়া বেশ থমথমে মনে হল। বাইরের ঘরে সুকু পড়ছে। বাবাকে ঢুকতে দেখে সে একটু মুচকি হাসল। বেড়ালটা গুটিসুটি মেরে পাপপাশের ওপর শুয়ে আছে। বেড়ালটাকে দেখে যতীশবাবুর হিংসে হল, আহা তিনি যদি বেড়াল হতেন। মানুষের অনুভূতিই মানুষের দুঃখের কারণ। সকালে অমন একটা লাথি খেয়েও কেমন সুখে ঘুমোচ্ছে। যতীশবাবু এদিক ওদিক তাকিয়ে নিজের ঘরে ঢুকে পড়লেন। পারুলবালাকে দেখতে না পেলেও বুঝতে পারলেন কোথাও আপাদমস্তক মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে এবং সারাদিন জলস্পর্শ করেনি। সেই ওল্ড ডার্টি ট্রিক! যতীশবাবু গোঁফের ফাঁকে মুচকি হাসলেন। এবারে যতীশচন্দ্র আর মান ভাঙাবার জন্য কোনও চেষ্টা করবে না। অদৃশ্য পারুলবালার উদ্দেশে বললেন, ‘দিস টাইম ইউ উইল সি অ্যানাদার যতীশচন্দ্র।’

    টেবিলের ড্রয়ার খুলে যতীশবাবু একটা শক্ত দড়ি বের করলেন। ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সারা ঘরটা একবার ভাল করে দেখে নিলেন। কোন্‌ জানালাটা! ইয়েস দিস ওয়ান। বারান্দার দিকে দক্ষিণের জানালাটাই ভাল হবে। ফুর ফুর করে হাওয়া আসছে। কাগজের মোড়ক থেকে হর্নটা বের করলেন। তেমন চকচকে নয় তবে সাংঘাতিক আওয়াজ। অফিসের ছোকরাটির এলেম আছে! হর্নটাকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে বেশ ভাল করে বাঁধলেন। জীবনটাই হল সাধনা, জীবন সাধনা। ব্যাটা যতীশ, শব্দ তোমার সহ্য হয় না, না? দাঁড়াও, এইবার তোমাকে শব্দসমুদ্রে ভাসিয়ে দেব। তোমার স্পর্শকাতর শ্রবণেন্দ্রিয়কে একেবারে ভোঁতা করে দেব।

    অফিসের জামা কাপড় ছেড়ে ফেললেন। কাপড়টাকে লুঙ্গির মতো করে পরে একটা চেয়ার টেনে আনলেন জানালার কাছে। সারা বাড়ি অস্বাভাবিক নিস্তব্ধ। মুচিদের আসর আজ বসেনি। খাটালের কালোয়াতরাও আজ নিস্তব্ধ। বাড়ির রেডিওটাও বিশ্রাম করছে। পাশের বাড়ির বাচ্চাদের কী হয়েছে কে জানে? যতীশবাবু প্রথমে হর্নটার গায়ে একবার হাত বুলোলেন। বাঃ, রবারের থলথলে জিনিসটায় হাত দিতে বেশ ভাল লাগে তো? ও, তাই ব্যাটা রিকশাওয়ালারা কারণে-অকারণে হর্ন বাজায়, বুঝেছি! আচ্ছা প্রথমে কালোয়াতি নয়, কয়েকটা সহজ সরল ফ্ল্যাট শব্দ বের করা যাক। যতীশবাবু হর্ন টিপলেন। প্রথম আওয়াজটা তেমন হল না। ফস করে খানিকটা হাওয়া বেরিয়ে গেল। দ্বিতীয় শব্দটা বেশ জুতসই হল, ভঁঅক। যতীশবাবু বেশ উৎসাহিত হলেন। একটু সরে এলেন কাছে, তারপর বেশ জুতসই করে বসে পরপর কয়েকটা ছাড়লেন ভঁঅক, ভঁঅক, ভঁঅক। তারপর একটু দ্রুত ভঁক ভঁক, ভঁক ভঁক। হাতটা ক্রমশই অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। বাবা, সাধনায় কী না হয়? এবার বেশ খেলিয়ে বাজালেন ভ্যাঁক ভ্যাঁক।

    প্রথমেই সুকু দৌড়ে এল। ‘কী হচ্ছে বাবা?’

    ‘দেখতেই পাচ্ছ। গাড়ি গাড়ি খেলছি’ উত্তর দিতে দিতেই বার কতক বাজিয়ে নিলেন। না বাজিয়ে থাকা যাচ্ছে না, হাত নিসপিস করছে। যতীশবাবুর গলা দিয়ে পুরনো আমলের এক কলি গান বেরিয়ে এল, ‘আজ সবার রঙে রঙ মেশাতে হবে’ ভ্যাঁক ভ্যাঁক। আজ সবার রঙে রঙ মেশাতে হবে’ ভ্যাঁক ভ্যাঁক ভ্যাঁক ভ্যাঁক ভ্যাঁক। সুকু অবাক হয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে ঘরের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে রইল। ঘরে ঢুকতে সাহস হল না। বাবার মাথায় গোলমাল হয়নি তো। যতীশবাবু মেয়েকে বললেন, ‘রেডিওটা চালা না, রেডিওটা! বিবিধভারতী করে দে’ ভ্যাঁক ভ্যাঁক।

    পারুলবালা পাশের ঘরেই ছিলেন। সারাদিন অসম্ভব চোখের যন্ত্রণা হয়েছে। মাথা তুলতে পারেননি। শব্দটা শুনেছিলেন। ভেবেছিলেন রাস্তায় হচ্ছে। সুকুর গলা শুনে আস্তে আস্তে উঠে এলেন। মেয়েকে ধরা ধরা গলায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী হয়েছে রে? সুকু বলল, ‘বাবা’, বাকি কথা মুখ দিয়ে বেরোল না, কেঁদে ফেলল। সে ধরেই নিয়েছে বাবা পাগল হয়ে গেছে। পারুলবালা ব্যাপারটা একটু বুঝে নিয়ে ঘরে ঢুকে পড়লেন।

    ‘এটা কী হচ্ছে?’ যতীশবাবু হর্নের ভাষায় উত্তর দিলেন, ভ্যাঁক ভ্যাঁক।

    ‘জিজ্ঞেস করছি এটা কী?’ যতীশবাবু এবার বেশ খেলিয়ে বললেন, ভ্যাঁক ভ্যাঁক ভ্যাঁকা ভঁক।

    পারুলৰালার মাথায় তখন আগুন জ্বলছে, একে সারাদিন খাওয়া নেই। ‘ও, আজ আবার সিদ্দি গিলে আসা হয়েছে! বুড়ো বয়েসে ভীমরতি!’

    যতীশবাবু মাঝেমধ্যে সিদ্ধি খেয়ে থাকেন। পিতা বৃন্দাবন খেতেন, তস্য পিতা নিবারণচন্দ্র খেতেন, ফ্যামিলি ট্র্যাডিশান। যতীশবাবু একবার সত্যনারায়ণ পার্কের কাছে একটা দোকান থেকে তিনগুলি সিদ্ধি আর মালাই খেয়ে ভীষণ কেলেঙ্কারি করেছিলেন। বাসে আসতে আসতে নেশাটা বেশ চড়ে গেল। বাড়ির কাছে এসে তাঁর মনে হল, তিনি যতীশ নন, ভরত। পা থেকে জুতো দুপাটি খুলে মাথায় রাখলেন, শ্রীরামচন্দ্রের পাদুকা বহন করে নিয়ে আসছেন। সেই জুতো দুপাটি মাথায় নিয়ে বাড়ি ঢুকেই পারুলবালাকে বললেন, ‘বউদি, এই দেখে দাদার পাদুকা, আজ থেকে অযোধ্যার সিংহাসনে এই দুপাটি জুতো বসবে।’ সুকুকে বলেছিলেন, ‘লব-কুশ, তোদের বাবাকে দেখে এলাম অশোক বনে মর্তমান খাচ্ছেন। ব্যাটা একদম বখে গেছে।’ তারপর জুতো দুপাটি বুকে নিয়ে বিছানায় শুয়ে শুয়ে বুড়ো বয়েসে তোশক ভিজিয়ে ফেলেছিলেন।

    পারুলবালা ভাবলেন, সেই কেস। ‘দাঁড়াও মিনসে, তোমার নেশা কী করে ছোটাতে হয় আমি দেখছি। পারুল এখনও মরেনি। এই সুকু, যা তো রান্নাঘরে সেরখানেক তেঁতুল আছে, গুলে নিয়ে আয়।’ যতীশবাবু ঘাবড়ে গেলেও বাজানো বন্ধ করেননি। ইতিমধ্যে কালু মুচির কালোয়াতি শুরু হয়ে গেছে। খাটালওলাদের ঢোলের শব্দও শোনা যাচ্ছে।

    পারুলবালা দুমদুম করে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। বেরোতে বেরোতে বললেন, ‘আজও তুমি খাট ভাসাবে ভেবেছ, না। ভাঙখোর, তোমার শয়তানি আমি ভাঙছি।’ যতীশবাবুর হাতের জোর ততক্ষণে কমে এসেছে। হর্ন বাজছে, তবে কেঁপে কেঁপে।

    প্রথমে পারুলবালা ঘরে এলেন হাতে এক বালতি জল। যতীশবাবু বাধা দেবারও সময় পেলেন না, পারুলবালা হুড় হুড় করে মাথায় ঢেলে দিলেন, তারপর মেঝেতে সেই থই থই জলের উপর যতীশবাবুকে চিৎ করে ফেলে, একসের তেঁতুল গোলা জল জোর করে খাইয়ে দিলেন।

    প্রচণ্ড টকে দাঁত গলে যাবার জোগাড়। খালি পেটে চায়ের সঙ্গে তেঁতুল গোলা জল ঘুলিয়ে উঠল। মেঝেতে শিবনেত্র হয়ে শুয়ে শুয়ে শুনলেন, পারু বলছে, ‘আজ সারারাত ওইখানে থাকবে, নেশাখোরের মরণ, যা করার ওই মেঝেতে করবে। খাটে উঠেছ কী ফেলে দেব। আমার গতরটা সস্তা, না! কাল থেকে স্রেফ বাসভাড়াটা পাবে। দেখি নেশার পয়সা আসে কোথা থেকে।’

    যতীশবাবু মেঝেতে শুয়ে শুয়ে খাটের তলা দিয়ে বাইরের ঘরের অনেকটা দেখতে পাচ্ছিলেন। বেড়ালটা পাপপাশে সেভাবে মৌজ করে শুয়ে আছে। বেড়ালে আর যতীশে তফাত কোথায়! দুটোই এ বাড়ির পোষ্য জীব। ঝ্যাঁটা খাও, লাথি খাও, আবার ফিরে এসো। জোড়া জোড়া পা দেখা যাচ্ছে। ও! ছেলে মেয়েরা মজা দেখতে জড়ো হয়েছে, ছি ছি। ঠিক আছে, আজ সারারাত মেঝেতে জলে পড়েই কাটাব। নিমোনিয়া হোক, প্লুরিসি হোক, আমি তাই চাই। পাঁজরটা মেঝেতে জলের উপর ভাল করে ঠেকিয়ে রাখলেন। বেশ শীত করছে। করুক।

    মাঝরাতে যতীশবাবু দাঁতে দাঁত চেপে বললেন, ‘তোমাকে আমি বিধবা করে এর প্রতিশোধ নেব, আমার নাম যতীশচন্দ্র।’ পারুলবালা খাটে পাশ ফিরে শুতে শুতে উত্তর দিলেন, ‘আসুক না যম মুখপোড়া, ঝেঁটিয়ে বিদেয় করব। পারুলবালার শাঁখা খুলবে যমের বাবারও সাধ্যি নেই।’

    হর্নটা বিক্রি করে পারুলবালা তিনদিন মনের আনন্দে হিন্দি ছবি দেখলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপরমপদকমলে – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article একা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }