Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শ্রাবণমেঘের দিন – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প196 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. পায়ের কাছে প্রকাণ্ড জানালা

    পায়ের কাছে প্রকাণ্ড জানালা।

    শহরের গ্রীলদেয়া জানালা না, খোলামেলা জানালা। এত প্রকাণ্ড জানালা যে মনে হয় আকাশটা জানালা গলে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ার চেষ্টা করছে। ঘন নীল আকাশ, যেন কিছুক্ষণ আগে গাদাখানিক নীল রঙ আকাশে লাগানো হয়েছে। রঙ এখনও শুকায়নি। টাটকা রঙের গন্ধ পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে।

    নীতুর ঘুম ভেঙেছে অনেকক্ষণ হল। সে শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখছে। বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছা করছে না। নৌকায় ঘুমিয়ে পড়ার পর থেকে তার আর কিছু মনে নেই। কখন সে পৌঁছল, কে তাকে এনে বিশাল এই বিছানায় শুইয়ে দিল কিচ্ছু মনে আসছে না। এই তার সমস্যা–একবার ঘুমিয়ে পড়লে আর ঘুম ভাঙতে চায় না। এখন ঘুম ভেঙেছে কিন্তু বিছানা থেকে নামতে ইচ্ছা করছে না। সে ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চারদিক দেখছে।

    বিছানায় পাশাপাশি দুটা বালিশ। আপা আজ রাতে তার সঙ্গে ঘুমিয়েছে–এটা জেনে ভাল লাগছে। রাতে ঘুম ভেঙে সে যদি দেখত এতবড় বিছানায় একা শুয়ে। আছে–অপরিচিত ঘর, চারদিকে সব অপরিচিত আসবাবপত্র, তাহলে ভয়েই মরে যেত।

    পুরানো দিনের আসবাবপত্র সব এমন গাবদা ধরনের হয় কেন? খাট এত উঁচু যে গড়িয়ে পড়লে মাথা ফেটে ঘিলু বের হয়ে যাবে। নীতুর আবার খাট থেকে গড়িয়ে পড়ার অভ্যাস আছে। ভাগ্যিস সে দেয়ালের দিকে শুয়েছিল। ন্যাপথলিনের কড়া গন্ধে গা কেমন কেমন করছে। পুরানো দিনের মানুষরা এত ন্যাপথলিন পছন্দ করে কেন? ওদের গা থেকেও ন্যাপথলিনের গন্ধ বের হয়।

    আকাশের দিকে তাকিয়ে নীতু আঁচ করতে চেষ্টা করল কটা বাজে। সূর্য দেখা যাচ্ছে না–নীল আকাশ আর নীল আকাশে ধবধবে শাদা মেঘ। এমন শাদা মেঘ শুধু শরৎকালেই দেখা যায়। শ্রাবণ মাসের মেঘে কালো রঙ মাখানো থাকে। আল্লাহর স্টকে বোধহয় কালো রঙ শেষ হয়ে গেছে। আকাশের দিকে তাকিয়ে কটা বাজছে নীতু বুঝতে পারছে না। বারান্দায় থপ থপ শব্দ হচ্ছে–মনে হয় চারপায়ে একটা প্রকাণ্ড ভালুক যেন হাঁটছে। ঘরে এসে যে দাঁড়াল সে ভালুকের মতই। এ বাড়ির প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড আসবাবের মতই প্রকাণ্ড একটা মানুষ–যার মাথার চুল শাদা। মনে হচ্ছে শাদা রঙের সঙ্গে ম্যাচ করে তিনি শাদা একটা লুঙ্গি পরেছেন। খালি গা—গা ভর্তি ভালুকের পশমের মত শাদা লোম।

    ভালুকটা মেঘের মত গর্জনে বলল, কি রে, এখনও ঘুমুচ্ছিস?

    নীতু কিছু বলল না, চোখ পিট পিট করতে লাগল। ভালুকটা বলল, আরো ঘুমুবি? নাকি নাশতা-পানি করবি? তোর জন্যে আমিও না খেয়ে আছি। আমাকে চিনতে পারছিস? চেনার কথা না–একবারই শুধু দেখেছিস তোর যখন তিন বছর বয়স। এখন বয়স কত?

    বার।

    হুঁ, ন বছর আগের ঘটনা। মনে থাকার কথা না। তুই এত রোগা কেন? নিজে নিজে খাট থেকে নামতে পারবি না-কি কোলে করে নামিয়ে দেব?

    নীতু চট করে নেমে পড়ল। ভালুক টাইপ মানুষ হয়ত সত্যি সত্যি কোলে করে নামাতে আসবে।

    কোন ক্লাসে পড়িস?

    ক্লাস সেভেন।

    রোল নাম্বার কত?

    পঁচিশ।

    রোল পঁচিশ! তুই তো দেখি গাধা টাইপ মেয়ে। পড়াশোনা করিস না?

    করি।

    পড়াশোনা করলে রোল পঁচিশ কি করে হয়? বল দেখি তিন উনিশে কত?

    ফিফটি সেভেন।

    হয়েছে। এখন হাত-মুখ ধুয়ে খেতে আয়–সব গরম আছে… চালের আটার রুটি আর ঝাল ঝাল ভুনা মুরগি। দুপুরে খাবি পাংগাস মাছ। খাস তো? শহরের মানুষ মাছ খাওয়া ভুলে গেছে…

    নীতু বলল, বাথরুম কোন দিকে?

    দূর আছে। শোবার ঘরের ভেতরে টাট্টিখানা এইসব নোংরামি শহরে চলে, এখানে চলে না–আয় আমার সঙ্গে–কই, কদমবুসি করেই রওনা হয়ে গেলি–মুরুব্বীদের সালামের ট্রেনিং বাবা-মা দেন না?

    নীতু লজ্জিত ভঙ্গিতে নিচু হল। কদমবুসির নিয়ম-কানুন সে ঠিক জানে না। দুহাত দিয়ে দুপা ছুঁতে হয় না-কি এক হাত দিয়ে? পা ছোঁয়ার পর হাতের আঙুলে চুমু খেতে হয়, না হাতের আঙুল মাথায় ছোঁয়াতে হয়? পা কবার ছুঁতে হয়–একবার না দুবার? নীতুর মনে হচ্ছে–ছোটখাট কোন ভুল করলেই এই মানুষটা ধমক দেবেন। ধমক দেয়াই হয়ত তার স্বভাব।

    নীতু পুরোপুরি নিচু হবার আগেই ইরতাজুদ্দিন দুহাতে তাকে ঝাপ্টে ধরে শূন্যে তুলে ছুঁড়ে ফেলার ভঙ্গি করে আবার ধরে ফেলে বললেন–তোরা এসেছিস, আমি এত খুশি হয়েছি। রাতে তোরা ঘুমুচ্ছিলি, আমি তোদের খাটের মাথায় বসে বসে কেঁদেছি। জ্ঞানবুদ্ধি হবার পর আমি মোট কবার কেঁদেছি জানিস?–চারবার। প্রথম তিনবার দুঃখে কাদলাম–শেষবার আনন্দে।

    নীতু অস্বস্তিতে মরে যাচ্ছে–মানুষটা তাকে কোলে করে আছেন। মনে হচ্ছে। কোলে করেই বাথরুমে নিয়ে যাবেন। কি লজ্জা! আবার তার ভালও লাগছে। বড় হবার পর এত আদর করে কেউ কি তাকে কোলে নিয়েছে? না, কেউ কোলে নেয়নি। এই বুড়ো মানুষের গায়ে শক্তি তো অনেক। কি ভাবে তাকে শূন্যে ছুঁড়ে ফেলে আবার। লুফে নিল…।

    নীতু তোর নাম?

    হুঁ।

    তুই দেখতে যেমন সুন্দর তোর নাম তত সুন্দর না। আমি তোর সুন্দর নাম দিয়ে। দেব। এত আনন্দ হয়েছে তোদের দেখে–কেঁদে ফেলেছিলাম–এই জীবনে। চারবার কাঁদলাম।

    চারবার না–পঁচবার। এখনও তো কাঁদছেন।

    আরে তাই তো, এখনও তো চোখে পানি এসে গেছে। লক্ষ্য করিনি। নীতু, তোর। তো অনেক বুদ্ধি। তোর বাবা ছিল অকাট গাধা–তার মেয়েগুলি এত বুদ্ধিমতী হবে ভাবাই যায় না।

    বাবা মোটেই গাধা না।

    বাবার সাফাই গাইতে হবে না। তোর বাবার বুদ্ধি কেমন তা তোরা আমার চেয়ে বেশি জানবি না।

    ইরতাজুদ্দিন সাহেব সত্যি সত্যি নীতুকে কোলে করে একেবারে বাথরুমের দরজায় নামিয়ে দিলেন। শুধু শুধু বাথরুমে গিয়ে নীতু করবে কি? তার টুথপেস্ট লাগবে, ব্রাস লাগবে… এই কথা মানুষটাকে বলতেও ইচ্ছা করছে না–বললে তিনি হয়ত আবার কোলে করে ঘরে নিয়ে যাবেন। এ তো দারুণ সমস্যায় পড়া গেল।

    শাহানার সঙ্গে ইরতাজুদ্দিন সাহেবের এখনও কথা হয়নি। শাহানার ধারণা, দাদাজান সব কথা জমা করে রেখেছেন–নাশতার টেবিলে কথা হবে। তিনি নিশ্চয়। জানতে চাইবেন–কেন তারা খোঁজখবর না দিয়ে হুট করে চলে এল। কেন কাউকে সঙ্গে আনল না। অথচ তিনি কিছুই জিজ্ঞেস করছেন না। সকালে দেখা হলে জিজ্ঞেস। করেছেন, ঘুম ভাল হয়েছে? তার সঙ্গে এই পর্যন্তই কথা। তার পর পরই তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন নাশতার আয়োজনে। শাহানা রান্নাঘরে উঁকি দিয়ে দেখে–বড় কড়াইয়ে কি যেন জ্বল হচ্ছে। তিনি খুন্তি হাতে কড়াইয়ের পাশে। বৃদ্ধা একজন মহিলা লম্বা ঘোমটা দিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে–সে মনে হয় রাধুনী।

    শাহানা বলল, দাদাজান, আপনি রান্না করছেন না-কি?

    ইরতাজুদ্দিন হাসিমুখে বললেন–হুঁ। তোরা কি ঝাল বেশি খাস না কম খাস?

    মোটামুটি খাই।

    মুরগির ঝোল ঝাল না হলে মজা নেই। ও রমিজের মা, দেখ, এই হচ্ছে আমার নাতনী। তুখোড় ছাত্রী, ডাক্তার। অসুখ-বিসুখ থাকলে চিকিৎসা করে নিও। এমবিবিএস পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়েছে। এখন আমেরিকায় জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটিতে পিএইচ. ডি. করতে যাচ্ছে। কি রে শাহানা, ঠিক বলছি না?

    ঠিকই বলেছেন–এত কিছু জানেন কি ভাবে?

    আমি সবই জানি। তোরাই আমার ব্যাপারে কিছু জানিস না। আমাকে সাপে কেটেছিল, তোরা জানিস?

    না তো। বলেন কি?

    দুর্বল ধরনের সাপ। বিষদাঁত ফুটিয়েও বিষ ঢালতে পারেনি, তার আগেই পা দিয়ে কচলে ভর্তা বানিয়ে ফেলেছি।

    কি সর্বনাশ!

    সাপের জন্যে সর্বনাশ, আমার জন্যে না। আমি তো ভালই আছি। রান্নাঘরের ধোঁয়ার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। বারান্দায় হাঁটাহাঁটি কর, খিদেটা জমুক। চালের আটার রুটি খাস তো?

    খাই। পরোটা খেতে চাইলে পরোটা করে দেবে। খাবি পরোটা?।

    চালের আটার রুটিই ভাল।

    রাঁধতে জানিস?

    না

    রমিজের মা ট্রেনিং দিয়ে দিবে। তিন দিনে পাকা রাঁধুনি হবি। ডাক্তার মেয়েদেরও তো বেঁধে খেতে হবে।

    ধোয়ায় শাহানার কষ্ট হচ্ছিল। সে বারান্দায় চলে এল। বিশাল টানা বারান্দার পুরোটা কাঠের। ধুলো-ময়লা নেই–পরিষ্কার ঝকঝক করছে। কে পরিষ্কার করে এত বড় বাড়ি? রমিজের মা ছাড়া দ্বিতীয় কোন কাজের লোক এখনো শাহানার চোখে পড়েনি। তবে আছে নিশ্চয়ই–এত বড় বাড়িতে দুজন মানুষ বাস করে—এটা হতেই পারে না।

    শাহানা বাড়ির চারদিক কৌতূহলী হয়ে দেখছে। জায়গাটা অদ্ভুতভাবে অন্যরকম। চারদিকে জেলখানার পাচিলের মত পঁচিল। শ্যাওলা পড়ে ঘন সবুজ হয়ে আছে। পুরো বাড়িটা যেন সবুজ দেয়ালে ঘেরা। বাড়ির পেছনটায় গাছ-গাছালিতে জঙ্গল হয়ে আছে। আম এবং কাঠাল এই দুই ধরনের গাছ ছাড়া শাহানা আর কোন গাছ চিনতে পারছে না। একটা বোধহয় তেতুল গাছ–চিড়ল চিড়ল পাতা। তেতুল। ছাড়া অন্য কোন গাছের পাতা কি এমন চিড়ল চিড়ল হয়? শাহানা জানে না। নিজের দেশের গাছপালা সে নিজে চিনে না–কি লজ্জার কথা! শাহানা ঠিক করে ফেলল, এই গ্রামের সব কটা গাছের নাম সে এবার জেনে যাবে। শুধু যে জানবে তাই না, খাতায় নোট করবে। গাছের বর্ণনা লেখা থাকবে, মোটামুটি ধরনের একটা ছবি আঁকবে এবং গাছের একটা করে পাতা স্কচ টেপ দিয়ে সঁটা থাকবে। গাছগুলি হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছা করছে। বাগানে নামাটা ঠিক হবে কি না শাহানা বুঝতে পারছে না। হাঁটু সমান উঁচু ঘাস। ঘাস না থাকলে বাগানটা বেড়ানোর জন্যে সুন্দর হত। কাঠাল গাছের নিচু ডাল থেকে বড় একটা দোলনা ঝুলিয়ে দিলে সুন্দর হবে। ভরদুপুরে দোলনায় দোল খেতে খেতে বই পড়ার আনন্দই অন্য রকম।

    নাশতার টেবিলেও ইরতাজুদ্দিন সাহেব কিছু বললেন না। শাহানা বলল, দাদাজান, আপনি কি আমাদের দুজনকে আসতে দেখে অবাক হননি?

    না।

    না কেন?

    তোরা যে আসবি সেটা জানতাম।

    কি ভাবে জানতেন?

    স্বপ্নে দেখেছি।

    নীতু বিস্মিত হয়ে বলল–স্বপ্ন দেখেছেন?

    হুঁ। সোমবার শেষরাতে স্বপ্ন দেখলাম। তোরা দুইজন হাতে দুটা ভারী স্যুটকেস নিয়ে আসছি। আমাকে জিজ্ঞেস করছিস–ইরতাজুদ্দিন সাহেবের বাড়িটা কোথায়?–আমরা তাঁর নাতনী। আমি স্বপ্নের ভেতরই ভাবছি। আমার নাতনী তো তিনজন। আরেকজন এল না কেন? স্বপ্ন ভাঙতেই শুনি আজান হচ্ছে… তখনই বুঝেছি, তোরা আসছিস। লোকজন এনে ঘর-টর পরিষ্কার করালাম।

    শাহানা বলল, সত্যি বলছেন দাদাজান।

    হুঁ। তোদের সায়েন্স এসব স্বপ্ন স্বীকার করে না–তাই না?

    স্বীকার-অস্বীকারের কিছু না। আপনার মনের মধ্যে ছিল যেন আমরা আসি। এই জন্যেই স্বপ্ন দেখেছেন। মনের ইচ্ছাগুলি স্বপ্নে চলে আসে। আপনি নিশ্চয়ই মাঝে মধ্যে স্বপ্ন দেখেন–দাদীজান এসেছেন। দেখেন না?

    দেখি।

    দাদীজান কিন্তু আসেন না। মৃত মানুষ আসতে পারে না।

    তোর বুদ্ধিও তো ভাল হয়েছে। বাবার মত গাধা হয়ে জন্মাসনি।

    কথায় কথায় বাবাকে গাধা বলবেন না দাদাজান, আমার ভাল লাগে না।

    যে গাধা তাকে গাধা বলায় দোষ হয় না।

    দোষ হয়ত হয় না তবে গাধার মেয়েদের জন্যে মনোকষ্টের কারণ হয়। বিশেষ করে তারা যখন তাদের বাবাকে বুদ্ধিমান হিসেবে জানে।

    তোরা তোর বাবাকে বুদ্ধিমান হিসেবে জানিস?

    হুঁ।

    কেন?

    শাহানা জবাব দেবার আগে নীতু বলল–আমরা বাবাকে খুব কাছ থেকে দেখছি বলেই জানি। আমার কাছে বরং আপনাকে একটু বোকা বোকা লাগছে।

    ইরতাজুদ্দিন নীতুর দিকে তাকালেন। তার চোখে হাসি ঝলমল করতে লাগল। তবে মুখ গম্ভীর। নীতু বলল, আশা করি আপনি আমার কথায় রাগ করেননি।

    কি জন্যে আমাকে বোকা মনে হচ্ছে সেটা বল, তাহলে রাগ করব না।

    আমাদের সামনে একটু পর পর বাবাকে গাধা বলছেন এই জন্যেই আপনাকে বোকা মনে হচ্ছে। কোন বুদ্ধিমান মানুষ এটা করবে না।

    ইরতাজুদ্দিন শব্দ করে হাসতে শুরু করলেন। হাসি বাড়তেই থাকল। নীতুর মনে হল, হাসির শব্দে ঘর-বাড়ি কাঁপতে শুরু করেছে। একটা মানুষ এতক্ষণ হাসতে ধরে পারে! নীতু বিস্মিত হয়ে তার বোনের দিকে তাকাচ্ছে…

     

    ঘাট থেকে ধরাধরি করে একটা পাংগাস মাছ আনা হচ্ছে। মাছের দিকে তাকিয়ে নীতু হকচকিয়ে গেল। এতবড় মাছ। জীবন্ত। ছটফট করছে। ইরতাজুদ্দিন হাসি থামিয়ে বললেন–মাছটা লম্বা করে ধর। নীতু, যা মাছের পাশে গিয়ে দাঁড়া। দেখি, কে লম্বা, তুই না মাছটা।

    মাছের সঙ্গে নিজেকে মাপতে ইচ্ছা করছে না দাদাজান।

    দাঁড়াতে বললাম। দাঁড়া। আমি বোকা মানুষ, ফট করে রেগে যাব।

    নীতু মাছের পাশে দাঁড়াল। দেখা গেল মাছটা তারচে সামান্য বড়। ইরতাজুদ্দিন খুশি খুশি গলায় বললেন–এই মাছ খেয়ে আরাম পাবি। খাওয়ার শেষে দেখবি হাতে চর্বি জমে গেছে। সাবান দিয়ে চবি ধুতে হবে।

    নীতু বলল–ভাবতেই আমার ঘেন্না লাগছে।

    ঘেন্না-টেন্না ভুলে যা। আমার রাজত্বে এসেছিস, আমার হুকুমমত চলতে হবে। আজ পাংগাস মাছ। কাল খাবি চিতল। হাওরের চিতল–এর স্বাদই অন্য। তোদের শহরের বরফ দেয়া এক মাসের বাসি চিতল না।

    শাহানা বলল, আমরা কিন্তু আগামীকাল চলে যাব। বাবাকে তাই বলে এসেছি। আমেরিকায় যাবার আগে আপনার সঙ্গে দেখা করার শখ ছিল, তাই এসেছি।

    তোরা কবে যাবি বা যাবি না সেটা আমি ঠিক করব। সব মিলিয়ে তোরা এখানে থাকবি দশদিন। এই দশদিন যেন আনন্দে থাকতে পারিস সেই ব্যবস্থা আমি করব।

    সেটা তো দাদাজান সম্ভব না।

    সবই সম্ভব। আমার রাজত্বে সম্ভব।

    নীতু বলল, বাবা ভয়ংকর চিন্তা করবে।

    চিন্তা করবে না, তাকে খবর পাঠিয়েছি।

    নীতু অসহায়ের মত তার আপার দিকে তাকাল।

    ইরতাজুদ্দিন কঠিন গলায় বললেন–এই ভাবে তাকালে হবে না। তোর ভুল করে আমার এলাকায় চলে এসেছিস। আমার এলাকা আমার হুকুমে চলে।

    শাহানা বলল, আমরা তাহলে বন্দি!

    হ্যাঁ বন্দি। আগামী দশদিন আমার রাজত্বে যেখানে ইচ্ছা যেতে পারবি–রাজত্বের বাইরে পা ফেলতে পারবি না।

    আপনার রাজত্ব কতদূর পর্যন্ত?

    আপাতত, সুখানপুকুর, নিন্দালিশ আর মধ্যনগর এই তিন গ্রাম। আমাদের পূর্বপুরুষরা এককালে এই তিন গ্রামের জমিদার ছিল।

    নীতু বলল, তিন গ্রামের মানুষদের অত্যাচার করে মেরেছে, তাই না?

    হ্যাঁ অত্যাচার করেছে। ভয়ংকর অত্যাচার করেছে। জমিদারর কখনো প্রজাদের কোলে বসিয়ে আদর করে না। তাদের খাজনা আদায় করতে হয়। ডাণ্ডা বেড়ি ছাড়া খাজনা আদায় হয় না।

    নীতু ভীত মুখে বলল, এখন যদি গ্রামের মানুষ আমাদের উপর সেই অত্যাচারের শোধ নেয় তখন কি হবে! ধরুন আমি একা একা বেড়াতে বের হয়েছি–ওরা ধরে আমাকে শক্ত মার লাগাল—তখন? ইরতাজুদ্দিন তার বিখ্যাত হাসি আবার হাসতে শুরু করলেন–ঘর-বাড়ি কাঁপতে লাগল।

    দ্রুতগামী একটা গাড়িকে হঠাৎ ব্রেক কষে থামার মত তিনি হঠাৎ হাসি থামিয়ে ফেলে শাহানাকে বললেন–শাহানা, তুই আয় তো আমার সঙ্গে। তোকে একটা গোপন কথা জিজ্ঞেস করি।..

    শাহানা উঠে গেল। ইরতাজুদ্দিন তাকে বারান্দার এক কোণায় নিয়ে গেলেন।

    গলা নিচু করে বললেন–তোর কি কোন পছন্দের ছেলে আছে?

    শাহানা বিস্মিত হয়ে বলল, পছন্দের ছেলে মানে!

    পছন্দের ছেলে মানে–এমন কেউ যাকে খুব পছন্দ? যাকে নিয়ে ঘোরাঘুরি করিস, কফি হাউসে কফি খাস…

    না আমার এমন কেউ নেই।

    যদি থাকে তাকেও আসতে বলে চিঠি লিখে দে–আমি তোক দিয়ে পাঠিয়ে দেব। ও এলে তোদের ভাল লাগবে। সঙ্গে নিয়ে ঘুরবি–দূর থেকে দেখে আমার ভাল লাগবে।

    দাদাজান, আমার এমন কেউ নেই।

    মহসীন নামের একটা ছেলের কথা তো জানতাম। ওকে কি এখন আর ভাল লাগে না?

    শাহানা বিস্মিত এবং কিছুটা হতভম্ব হয়ে বলল–দাদাজান, আপনি স্পাই লাগিয়ে রেখেছেন না-কি?

    ইরতাজুদ্দিন হাসিমুখে বললেন–খবর দেবার লোক লাগিয়ে রেখেছি–করব কি–তোরা খবর দিবি না। গত সাত বছরে তোর বাবা কোন চিঠি লিখেনি।

    আপনিও লিখেননি।

    সে না লিখলে আমি কেন লিখব? আমার কিসের দায় পড়েছে? আমি কি তার খাই না তার পরি? যাই হোক, খবর পাঠাবি মহসীনকে?

    না।

    ও এলে তুই আনন্দে কাটাচ্ছিস দেখে আমার ভাল লাগত। নয়ত মুখ গোমড়া করে থাকবি…।

    মুখ গোমড়া করে থাকব না দাদাজান, যদি সত্যি দশ দিন থাকতে হয়–আমি থাকব। আনন্দেই থাকব।

    ঐ ছেলের সঙ্গে এখনও ভাব আছে?

    অন্য কিছু নিয়ে আলাপ করুন তো।

    ইরতাজুদ্দিন সাহেব তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছেন। তিনি তাঁর নাতনীর গালে লালচে আভা দেখতে চাচ্ছেন। আজকালকার মেয়ে লজ্জায় লাল হওয়া ভুলে গেছে। হয়ত এই মেয়েও ভুলে গেছে।

    কি ব্যাপার দাদাজান, আপনি এভাকে তাকিয়ে আছেন কেন?

    ইরতাজুদ্দিনের মুখে হাসি দেখা গেল। না, তাঁর নাতনী লজ্জায় পুরোপুরি লাল হওয়া ভুলে যায়নি। এই তো চোখে-মুখে রক্ত এসে গেছে। মাথা নিচু করে ফেলেছে। তিনি ঠিক করে ফেললেন–চিঠি দিয়ে লোক পাঠিয়ে দেবেন। ছেলে চলে আসুক। এই বাড়িতেই বিয়ের উৎসব করা যেতে পারে। এ পরিবারের শেষ বিয়ে এখানেই হোক। তার মৃত্যুর পর কে কোথায় যাবে বা যাবে না তাতে কিছু আসে যায় না।

    শাহানা!

    জ্বি।

    তোদের শোবার ঘরের টেবিলে চিঠি লেখার কাগজ-খাম সবই আছে। তোর চিঠি লেখার ইচ্ছা হলে লিখে ফেল–আমি লোক মারফত পাঠাব।

    দাদাজান, আপনি অসহ্য একটা মানুষ। নীতু ঠিকই বলেছে–আপনি আসলেই খানিকটা বোকা।

    শাহানা রাগ করে চলে যাচ্ছে। ইরতাজুদ্দিন মনে মনে হাসছেন। তিনি তার দুই নাতনীকে নিয়ে সোমবার ভোররাতে যে স্বপ্ন দেখেছেন সেই স্বপ্নের শেষ অংশটি তাদের বলেননি। স্বপ্নের শেষ অংশে পরিষ্কার দেখলেন–শাহানার বিয়ে হচ্ছে এই বাড়িতে। বিয়ে উপলক্ষে তিন গ্রামের সবাইকে তিনি দাওয়াত করেছেন। বিয়ের খাওয়া হচ্ছে তিনদিন তিনরাত ধরে…।

    দীর্ঘ দিন তার এই প্রকাণ্ড বাড়ি খালি পড়ে আছে। নীরব নিস্তব্ধ পাষাণপুরী। ভূতের বাড়িতে এরচে বেশি শব্দ হয়। কত রাতে ঘুম ভেঙে ইরতাজুদ্দিন শুনেছেন–বাড়ি কাঁদছে। জনমানবহীন বাড়ি মানুষের সঙ্গের জন্যে কাঁদে। অল্পবয়েসী কচি মেয়েদের গলায় বিনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে।

    আগামী দশদিন এই বাড়ি কাঁদবে না। বাড়ি জেগে ওঠবে। এরচে আনন্দের আর কিছুই হতে পারে না। ইরতাজুদ্দিন ডাকলেন, নীতু, নীতু।

    নীতু সামনে এসে দাঁড়াল।

    এক কাজ কর, বারান্দার এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত দৌড়ে যা।

    কেন?

    শব্দ হোক।

    শব্দ হোক মানে কি?

    কাঠের উপর দিয়ে হেঁটে যাবি, ধুপধাপ শব্দ হবে।

    তাতে কি হবে?

    বাড়ি ঘুমিয়ে ছিল তো–বাড়ি জাগবে।

    নীতু হতভম্ব গলায় বলল, বাড়ি কি কোন জন্তু দাদাজান যে সে জাগবে, ঘুমিয়ে পড়বে?

    বাড়ি জন্তু না হলেও বাড়ির প্রাণ আছে। যা, কথা বাড়াবি না, দৌড়ে এ-মাথা ও মাথা কর।

    নীতু চোখ সরু করে তার দাদাজানের দিকে তাকিয়ে আছে। সে কিছু বুঝতে পারছে না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশ্যামল ছায়া – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article সবাই গেছে বনে – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }