Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শ্রেষ্ঠ গল্প – ইমদাদুল হক মিলন

    ইমদাদুল হক মিলন এক পাতা গল্প513 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দরগাতলার জোড়া সাপ

    দরগাতলার ইটপাজা থেকে মাথা বের করে সাপ দুটো দেখে চমঙ্কার জ্যোৎস্না ফুটেছে।

    চারদিকের পৃথিবীতে অবিরাম ডাকছে কীটপতঙ্গ, পোকামাকড় আর ঝিঁঝি পোকা। এ ছাড়া কোনো শব্দ নেই। রাত কী নিঝুম হয়ে এল।

    দরগাতলার সামনে কানি দুয়েক পোড়ো জমি। বাজা। ফসল ফলে না। সেই জমির মাঝামাঝি জায়গায় বিশাল এক বটবৃক্ষ। বৃক্ষটা কতকাল ধরে আছে এখানে, কে জানে। মাথায় ঝাঁপড়ানো ডালপালা। শরীর থেকে নেমেছে গোঁফদাড়ির মতো শেকড় বাকড়, ঝুরি। তীব্র জ্যোত্সা গায়ের জোরে আটকে রেখেছিল গাছটা। ফলে তলায় পড়ে সাপ দুটো সেই অন্ধকারের দিকে তাকাল।

    বটবৃক্ষের অদূরে কোদালের মতো চিরল একখানা নদী, নদীর নাম করতোয়া। আগে নদীটা ছিল বেশ দূরে। দিনে দিনে পাড় ভেঙে এগিয়ে এসেছে। এখন পাড়ে তার বেশ কিছু ঝোপঝাড়। দিনমান নিঝুম হয়ে পড়ে থাকে জায়গাটা।

    সাপ দুটো নদী তীরের দিকে একবারও তাকাল না। বটবৃক্ষের তলার অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে ইটপাজা থেকে প্রাচীন লম্বা শরীর টেনে বের করল। তারপর মাথা তুলে পোড়ো জমিটা বেশ মনোযোগ দিয়ে দেখল। পোড়ো জমির সাদা মাটি জ্যোৎস্নায় চকচক করছে।

    পোড়ো জমি ছাড়িয়েই ধানি মাঠ। দিগন্তব্যাপী। সেই মাঠে রাতের বেলা ধাড়ি সব মেঠো ইঁদুরের চলাচল। নাগালের মধ্যে দুটো ইঁদুর পেলেই দুজনের ভরপেট আহার হয়ে যাবে। চব্বিশ ঘণ্টা নিশ্চিন্ত। প্রাচীন লম্বা শরীর বিড়া পাকিয়ে দরগাতলার ইটপাজার আড়ালে পড়ে থাকা যাবে।

    সাপ দুটো একত্রে জিভ বের করল। পর পর কয়েকবার। তারপর চলতে শুরু করল।

    ধানি মাঠের দিকে যেতে হলে বটবৃক্ষের তলা হয়ে যেতে হয়।

    জায়গাটা অন্ধকার। সেই অন্ধকারে চোখ চলে না। মুখের সামনে আহার থাকলেও দেখা যায় না।

    তবুও আলগোছে অন্ধকার বটবৃক্ষ তলাটা পেরিয়ে এল তারা। পেরুবার মুহূর্তে দুজন একসঙ্গে দেখতে পেল নদীর তীরের ঝোপঝাড়ের সামনে একটি মানুষ বসে আছে। দূর থেকে মুখটা দেখা যায় না তার। হাতের বিড়িটা টানে টানে জ্বলছে, দেখতে পায়। মানুষটা একাকী কেন বসে আছে এখানে! কী মতলব তার!

    সাপ দুটো ব্যাপারটা নিয়ে আর ভাবে না। পেটে চব্বিশ ঘণ্টার খিদে। বিশাল লম্বা, তেল চকচকে কালো শরীর জ্যোৎস্নায় সম্পূর্ণ মেলে, জ্যোৎস্না কেটে কেটে ধানি মাঠের দিকে এগোয় তারা।

    .

    দরগাতলার অদূরে নদীতীরের ঝোপঝাড়ের সামনে সন্ধ্যার পর থেকে বসে আছে গজু। এখন রাত এক প্রহর। চরাচর নিঝুম হয়ে গেছে। কেবল ঝিঁঝি পোকার ডাক, কেবল নদী নিরন্তর বয়ে যাওয়ার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ। আর কোনও শব্দ নেই কোথাও।

    নদী থেকে ওঠে আসছিল আবহমান হাওয়া। রাতের বেলা হাওয়াটা শীতল হয়। খালি গায়ে একটু একটু শীত টের পাচ্ছিল গজু। সেই শীতভাব কাটাবার জন্যে অবিরাম বিড়ি টেনে যাচ্ছিল সে।

    কিন্তু মেয়েমানুষটা এখন আসছে না কেন?

    গজু তো নিজ কানে শুনল, রতনকে বলল, বাড়িডা নিটাল অইলেই বাইর অমু। তুমি দরগাতলার সামনে গাঙপাড়ে বইয়া থাইকো। গজু কি ভুল শুনেছে?

    এত বড় ভুল তো সারা জীবনেও হয়নি গজুর। জীবন কাটল কালু ওস্তাদের সাগরেদি করে। চোখকান বড় সজাগ গজুর। চোখে দেখা জিনিস কখন ভুল হয় না তার, কানে শোনা জিনিস ভুল হয় না।

    তাহলে?

    পারু যে রতনারে কইল, তুমি থাইকো।

    গজু কি ভুল শুনল।

    কিন্তু ওস্তাদ যে কইত, তুই না থাকলে আমার দল ভাইঙ্গা যাইত গজু। হারা জীবন ডাকাতি করণ লাগত না। এতদিন জেলে পইচ্চা মরতাম। বরবাদ অইয়া যাইতাম। কথাটা সত্য। গজু টো না রাখলে, চোখকান সজাগ না রাখলে, কালু ওস্তাদের দল থাকত না। বহু আগে ভেঙে ছারখার হয়ে যেত। তাহলে আজ এতকালের সজাগ চোখকান কী করে গজুর সঙ্গে বেইমানি করে।

    নাভির কাছে, লুঙ্গির কোচর থেকে বিড়ির প্যাকেটটা বের করে গজু। ম্যাচ বের করে। নদীর হু হু হাওয়াটা আছেই। সেই হাওয়া বাঁচিয়ে কায়দা করে বিড়ি ধরায় তারপর বিড়ির প্যাকেট আর ম্যাচ জায়গামতো রাখতে গিয়ে আনমনে কোমরের সঙ্গে বাঁধা লাল গামছার আড়ালে যত্নে গুঁজে রাখা ভোজালিটা একবার ছুঁয়ে দেখে।

    জিনিসটার উত্তাপই অন্যরকম। একবার ছুঁয়ে দিলেই শরীরে ফিরে আসে দশ মরদের বল। সাহস। ভোজালিটা কোমরে থাকলে পৌষ মাসের শীতেও খালি গায়ে নদীতীরে বসে থাকা যায়। শীত লাগে না। কিন্তু মেয়েমানুষটা?

    নদীর দিকে তাকিয়ে পারুর কথা ভাবে গজু। ভাবে আর ফুক ফুঁক করে বিড়ি টানে। চারদিকের জ্যোৎস্না তখন এতটা তীব্র হয়েছে, নদীর জলে মুহূর্তের জন্যে উয়াস ছাড়তে ওঠা মাছও বুঝি দেখা যাবে। চাঁদখানা গোল হয়ে আছে মাথার ওপর। নদীর জলে জ্যোৎস্না পড়ে চকচক করছে। সেই জ্যোৎস্নার দিকে, জলের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলে মাথা খারাপ হয়ে যায়।

    গজু চোখ তুলে নদী তীরের ঝোপঝাড়গুলো দেখে। তারপর মোটা গর্দানটা ঘুরিয়ে দেখে বটবৃক্ষটা। তলায় গাঢ় হয়ে ছায়া জমে আছে গাছটার। ম্যালা দিনের পুরোনো গাছ। বয়স কত কে জানে! সারা গায়ে খোড়ল। অজস্র ঝুরি নামিয়ে দিয়েছে চারদিকে। যেন বুড়ো মানুষের লম্বা দাড়িমোচ। বাতাসে পাতাগুলো ঝিরঝির করে নড়ছে। তার ওপর পড়েছে জ্যোৎস্না, দেখতে বেশ লাগে।

    গজু খানিকক্ষণ গাছটার দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর আবার মুখ ফেরায় নদীর দিকে। নদীটিও! করতোয়া যার নাম। ভাঙে বছর বছর। আগে বটগাছটা ছিল নদীর পোয়া মাইল দূরে। ভাঙতে ভাঙতে কতদূর এগিয়েছে নদী। বটের গোড়া প্রায় ধরে ফেললো আর কী! এবার বর্ষায় কি এতকালের পুরোনো গাছটাও খাবে নদী?

    গজু মনে মনে বলল, রেহাই নাই। আর রেহাই নাই।

    কিন্তু পারুর হইল কী। মাগিডা বাইর অয় না কেন অহনতরি?

    ঝোপঝাড়ের ফাঁকফোকর দিয়ে তাঁতীপাড়াটার দিকে তাকাল গজু। নদীর পাড় ঘেঁষে কয়েক ঘর তাঁতীর বাস। বছর দশেক হল দরগাতলায় এসে ঘর বেঁধেছে। দরগাতলার এখন যিনি পীর সাহেব তিনি খুবই দয়ালু ব্যক্তি। নদী তীরে নিজের বিরান জমি ছিল। বিশ-পঞ্চাশ কানির মতো। সেই জমির বেশির ভাগটা দিয়ে দিলেন তাঁতিদের। লোকগুলো থাক এখানে।

    বড় দিলদরিয়া মানুষ পীর সাহেব। ফেরেশতার মতো উদার। হাত পেতে, বিপদে পড়ে সাহায্য চাইতে এসে কোনও মানুষ কখনও ফিরে যায়নি তার কাছ থেকে। তাঁতীরা এসে বলেছিল, হুজুর, আমরা গরিব হিন্দু। দয়া করেন। আমাগো জাগা দেন।

    নদীতীরে নিজের জমি দিয়ে দিলেন হুজুর। দয়ালু মানুষ তো।

    আর দয়ালু হবেন না কেন? কোন বংশের লোক দেখতে হবে না। তার ওপর নিজেও পীর। কামেলদার লোক। জগৎসংসারে এই একজন লোককেই মান্যগণ্য করে গজু। সমীহ করে। ভয় পায়। মানুষটার সামনে চোখ তুলে কথা বলতে পারে না। এই একটা জায়গায় বুকটা কাঁপে গজুর। হুজুরের চেহারা দেখলেই কাঁপে। চেহারায় কী একটা আছে হুজুরের।

    নূরানি চেহারা কি একেই বলে?

    আর গলার স্বর শুনলে তো কথাই নেই। মনটা শীতল হয়ে যায়। শরীরের ভেতরটা কাঁপে।

    ওস্তাদ একবার গজুকে বলেছিল, ল, যাই, একদিন দরগাতলার পীর সাবের বাইত যাই। নগদ টেকা-পয়সা পাওয়া যাইব। সোনাদানা পাওয়া যাইব। হুজুরের বড় মাইয়া আইছে ঢাকা থন।

    শুনে আঁতকে ওঠেছিল গজু। জীবনে প্রথমবারের মতো দৃঢ়ভাবে কালু ওস্তাদকে বলল, ক্ষমা চাই ওস্তাদ। ইচ্ছা হইলে আমারে মাইরা হালান। তাও আমি ঐ বাইত যাইতে পারুম না। গলা দা রক্তা উইট্টা মরুম।

    শুনে খ্যাক খ্যাক করে হেসেছে ওস্তাদ। হুজুররে তুই খুব মানচ গজু?

    হ ওস্তাদ। হেয় দয়ালু পীর। ফেরেশতার লাহান। হের বাইত্তে ডাকাতি করলে নিবংশ অইয়া যামু।

    তর তো পোলা একখানঐ।

    হ। রতনা। পোলাডা মইরা গেলে আমি একদম পাগল অইয়া যামু।

    কালু ওস্তাদ বলেছিল, পীর হুজুররে আমিও খুব মানি। জান গেলেও হের বাইতে আমি ডাকাতি করতে যামু না।

    তয় আমারে কইলেন ক্যা?

    দেকলাম, পীর হুজুররে তুই কেমন মানচ।

    দেকলাম তুই ঠিকঐ আছচ। আর একখান কতা তরে জিগাই গজু, পোলাডারে তুই বহুত মহব্বত করচ?

    হ ওস্তাদ, হ। নিজের থিকাও বেশি।

    সেই ছেলে রতনের পিরিতের মেয়েমানুষ হল পারু। যার জন্যে দরগাতলার নদীতীরে রাত এক প্রহরঅব্দি বসে আছে গজু। এই কথাটা যদি কালু ওস্তাদ শোনে? শুনলে হাসবে না! শুয়োরের বাচ্চা বলে গাল দেবে না গজুকে।

    দিলে দিবে।

    বিড়িতে শেষ টান দিয়ে নদীর জলে ছুঁড়ে ফেলল গজু। কী করুম, আমারডা মাইনষের শইল না। রতনার মায় মরছে ম্যালা দিন অইল। বয়েস অইল দুই কুড়ির উপরে। শইল্লে তাপখান অহনতরি কমে নাই। পারুরে দেইকা ম্যালাদিন ধইরা আমার শইল্লের ভিতরে উসপিস উসপিস করে। শইলডা কী ছেমড়ির! করতোয়ার বানের লাহান। হাইটা গেলে মনে অয় দশখান মাইয়ামাইনষের তেজ আছে ছেমড়ির শইল্লে। আমি পাগল অমুনা? কোন মাইনষে পারুরে দেইকা পাগল না অইয়া পারে। যে অইব না, হেই হালায় বেডাঐ না। রতনা তো এর লেইগাঐ গিয়া ভাজ খাইছে ছেমড়ির লগে। ছেমড়িডাও হালায় রতনারে দেইক্কা মইজা গেল। আরে আমি অইলাম রতনার জন্মদাতা বাপ। রতনার থেইকা আমার শইল্লে রস কম আছেনি! আমি তারে মজাইতে পারুম না।

    ভেবে, ভেতরে ভেতরে রেগে গেল গজু। আমার পোলার লগে পিরিত কর আর যাই কর মাগি, তোমারে আইজ আমি ছাড়ুম না। তাঁতীপাড়ার দিকে তাঁত চলার শব্দটা থেমে গেছে অনেকক্ষণ। রাত অনেক হল। মানুষ এখন ঘুমুবে। এই সময়টার কথাটা রতনকে বলেছিল পারু।

    সেই অপেক্ষায় আছে গজু। রাত যাই হোক, না বেরিয়ে পারবে না পারু। পিরিতের মানুষকে কথা দিয়েছে।

    কিন্তু গজুর আর তো তর সয় না। শরীরের ভেতর একটা জন্তু ঢুকে বসে আছে দুপুরের পর থেকে। যখন তখন মাথাচাড়া দেয় জন্তুটা। জোর করে তাকে দমিয়ে রেখেছে গজু। কতক্ষণ, এইভাবে কতক্ষণ থাকতে পারে মানুষ।

    গজু একসময় ওঠে দাঁড়াল। পারুদের বাড়ির দিকটা ঘুরে এলেই হয়। কী হালচাল দেখে এলেই হয়। বাড়িটা তো তাতীপাড়ায় ঢোকার মুখেই।

    বসে থাকতে থাকতে কোমরে বাঁধা গামছাটা ঢিলে হয়ে গেছে। ওঠে দাঁড়াবার সঙ্গে সঙ্গে নড়েচড়ে ওঠল গামছায় গুঁজে রাখা ভোজালিটা। কষে গামছাটা বাঁধল গজু। ভোজালিটা যত্ন করে খুঁজে রাখল জায়গামতো। তারপর ঝোপঝাড়ের আড়াল দিয়ে আস্তেধীরে তাঁতীপাড়ার দিকে হাঁটতে লাগল।

    দরগাতলাটা তাঁতীবাড়ি যাওয়ার মুখেই। নাড়ি ধোয়া পীরের মাজারটা আছে। লালসালু কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা। আর আছে পুরোনো দরদালানের ধ্বংসাবশেষ। ইট পাঁজা। বড় কামেলদার লোক ছিলেন নাড়ি ধোয়া পীর। এইরকম জ্যোৎস্না রাতে করতোয়ায় নেমে পেটের ভেতর থেকে নাড়িভুঁড়ি বের করে নদীর জলে ধুয়ে নিতেন তিনি। একজন তালবেলাম একরাতে হঠাৎ করে দেখে ফেলল ব্যাপারটা। দেখে ভয় পেয়ে গেল। তারপর পালাল। হুজুর অত বড় পীর, টের পেলেন সবই। পরদিনই তালবেলামকে ডেকে বললেন, যা দেখেছ কাউকে বোলে না। বললে গলা দিয়ে রক্ত ওঠে মরবে।

    তালবেলাম নালায়েক লোক। বয়সও কম ছিল। লোভ সামলাতে না পেরে একরাতে বউর পাশে শুয়ে বলল, আমি একখান জিনিস দেখছি। কেউরে কইলে গলা দিয়া রক্ত উইঠা মরুম।

    .

    বউটার কাঁচা বয়েস, ভাবল স্বামী তার কাছে মনের কথা কইতে চায় না। রঙ্গ করতাছে। জোর করে স্বামীকে ধরল সে। কী দেকছ, কওন লাগব আমারে। নইলে থাকুম না তোমার বাইত। এই রাত্রেই বাপের বাইত যামুগা।

    তালবেলাম যত বোঝায়, কয়, হুজুর আমারে নিষুদ করছে। কইলে গলা দিয়ে রক্ত উইঠা মরুম।

    বউটা কথা শোনে না। মান করে। আমারে তুমি ভাইল দিতাছ। এইভাবে সাতদিন গেল। বউর মান কমে না। তালবেলাম আর কী করে। সংসারে অশান্তি। একরাতে কথাটা সে বউকে বলে দিল। যেই না বলা, গলা দিয়ে রক্ত ওঠে মরল। পীর হুজুরের নিষেধ অমান্য করেছিল যে। মরণ ছাড়া আর কী হবে তার!

    নাড়ি ধোয়া পীর হুজুর গত হয়েছে তিন পুরুষ আগে। মাজারটা আছে। বর্তমান পীর হুজুর নিজে তদারক করেন। তিনি ছাড়া মাজারে অন্য কেউ যায় না। গরম মাজার। একটু গরমিল হলে গলা দিয়ে রক্ত ওঠবে। নিশ্চিত মরণ। দুনিয়ার বেবাক ডাক্তার বাইটা খাওয়ালেও বাঁচাইতে পারব না কেউ।

    আর নাড়ি ধোয়া পীর হুজুরের মাজারে আছে দুখান সাপ। কী সাপ কে জানে। তেল চকচকে কালো লম্বা শরীর। যখন তখন মাজারের আশেপাশে দেখা যায় তাদের। ইট পাজার আড়ালে দেখা যায়। কারো অনিষ্ট করে না।

    লোকে বলে, সাপ দুখানা নাড়ি ধোয়া পীর হুজুরের প্রিয় দুই তালবেলাম। দেহান্তরিত হয়ে সাপ হয়েছে। কারো অনিষ্ট করে না সত্য, কিন্তু চোখের সামনে, পীর হুজুরের মাজারের আশেপাশে কোন পাপ কর্ম দেখলে সহ্য করবে না। বাড়ি গিয়ে হলেও দংশাবে।

    সাপ দুটোর কথা মনে হতেই গজু একটু কেঁপে ওঠল। জ্যোৎস্নারাতে আহারে বেরোন তেনারা। বাগে পেলে পাপী মানুষের জান কবচ করবেন। পীর হুজুরের প্রিয় শিষ্য। হুজুর নিজেই দেহান্তরিত করিয়ে মাজার পাহারায় রেখে গেছেন তাদের।

    কথাটা মনে করে, নাড়ি ধোয়া পীরহুজুরের মাজারের বহুদূর দিয়ে তাঁতীপাড়ার দিকে পা চালায় গজু। মনে মনে পীরহুজুরের উদ্দেশে বলে, পীরহুজুর আমি মহাপাপী। ম্যালা পাপ করছি জীবনে। ম্যালা মাইনষের গলায় ছুরি ধরছি, মালসামানা ছিনাইয়া লইছি! শইল্লের জ্বালায় আর একখান পাপ কাম করতে আইছি হুজুর। আপনে তো বেবাকঐ জানেন হুজুর। শইল্লের জ্বালা বড় জ্বালা। হের লেইগাই হুজুর, আপনা পেডের পোলার পিরিতির মাইয়া ছেইলাডারে ভোগ করুম আইজ। তয় আপনেরে আমি কতা দিতাছি, নাড়ি ধোয়া পীর, হুজুর, আপনেরে আমি কতা দিতাছি, এইডাই আমার শেষ পাপ কাম। কাইলথন আমি ভালা অইয়া যামু। জীবনে আর কুন পাপ করুম না।

    পারুদের বাড়ির দিকটা খুব নিঝুম হয়ে আছে। তাঁত বন্ধ করে পারুর বাপভাইরা ঘুমিয়ে পড়েছে। এটাই বেরুবার সময় পারুর। প্রায় রাতেই রতনের সঙ্গে নদীতীরের ঐ ঝোপটার আড়ালে দেখা করে সে। গজু সব খবর রাখে। আজ দুপুরে নিজ কানে শুনেছে, পারু বলেছে রাইতে যামু। তই কইলাম থাইক্কো।

    গজু তখন নাইতে যাচ্ছিল করতোয়ায়। রতন-পারু কেউ দেখেনি তাকে।

    তখন থেকেই শরীরটা গরম হয়ে আছে গজুর। শরীরের ভেতর হিংস্র এক জন্তু যখন তখন ছটফটানি শুরু করেছে। গজু মনে মনে বলেছে, ডাকাতি ছাইড়া দিছি ম্যালাদিন। অইলে অইব কী, আইজ শেষ ডাকাতিডা করুম আমি। পারুর সতীত্ব ডাকাতি করুম। বিকেলবেলা কায়দা করে রতনকে পাঠিয়ে দিল বাদলবাড়ি। কালু ওস্তাদের কাছে।

    কালু ওস্তাদ নিজেও আজকাল কামকাজ করে না। ছেড়ে দিয়েছে। বয়েস হয়েছে তো! কিন্তু দলটা আছে। সাগরেদরা আছে। ডাকাতি করেই ওস্তাদের বখরাটা দিয়ে যায়। ওস্তাদ একা মানুষ। বিয়ে-শাদি করে নাই। বউপোলাপান নাই। অত টেকা-পয়সা তার লাগে না। গজুকে দেয় কিছু।

    সেই টাকা আনতে রতনকে ওস্তাদের কাছে পাঠিয়েছে গজু। আসলে ভাঁওতা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছে। টাকাটা জরুরি না। হাতে যা আছে বাপপুতের মাসখানেক চলে যাবে। ব্যাপারটা কি টের পেয়েছিল রতন।

    বিকেলবেলা গজু যখন বলল, ওস্তাদের কাছে যা রতন। টেকা-পয়সা লইয়া কাইল বিয়ানে আইয়া পড়িছ।

    রতন জানে বাদলবাড়ি গেলে আজ রাতে ফেরার উপায় নেই অথচ পারু বলেছে—

    রতন কাঁচুমাচু গলায় বলেছিল, কাইল বিয়ানে গেলে খাবি কী মামদার পো। উপাস দিবি! বুড়ো বয়সে আমারে না খাওয়াইয়া রাকবি!

    রতন তারপর মন খারাপ করে চলে গেছে।

    তখন থেকেই আমোদে আছে গজু। নন্দর দোকান থেকে দুপ্যাকেট বিড়ি কিনেছে। সেই বিড়ি কোমরে, ভোজালিটা কোমরে, গজু এসে বসেছে নদীতীরের ঝোপঝাড়ের আড়ালে।

    বিড়ি টানতে টানতে, পারুর অপেক্ষায় থাকতে থাকতে রাত একপ্রহর।

    কিন্তু পারু এখন বেরুচ্ছে না কেন?

    ঠিক তখনি ঘরের ঝপ খুলে একটি মেয়েমানুষ নিঃশব্দে উঠোনে নামল। জ্যোৎস্নায় দূর থেকে মেয়েমানুষটাকে চিনতে পারল গজু। পারু।

    দেখে উত্তেজনায় বুকটা ফেটে যেতে চাইল গজুর।

    পারু তখন নাজুক পায়ে বাড়ি থেকে নামছে। সাবধানে চারদিক তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। জ্যোৎস্নায় স্পষ্ট দেখা যায় তাকে। শাড়ি খান পাছকোমর করে পরেছে। হাঁটছে। এত সুন্দর ভঙ্গিতে, পরীর মতো লাগে পারুকে। আর সেই দৃশ্য দেখে দমবন্ধ হয়ে আসে গজুর। শরীরের উত্তাপ বেড়ে যায়। ঝোপঝাড়ের আড়ালে ঘাপটি মেরে বসে থাকে। মনে মনে ডাকে আয় পারু, আয়। কখন কোন ফাঁকে কোমর থেকে ভোজালিটা বের করে হাতে নিয়েছিল, গজুর খেয়াল নেই। জ্যোৎস্নায় ভোজালির ধারটা নদীর জলের মতো ঝিলিক দিচ্ছিল।

    হাতের ভোজালিটা একবার তাকিয়ে দেখে গজু। দেখে বুকের ভেতরটা জীবনে প্রথমবারের মতো কেন যে একটু কেঁপে ওঠে, বুঝতে পারে না।

    পারু আসছে।

    ধানি মাঠে অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরি করে সাপ দুটো। আহার পায় না। ইঁদুরগুলো বেজায় চালাক। কেমন করে যে টের পেয়ে গেল সামনেই ওত পেতে আছে মৃত্যু। ঝুপঝাঁপ করে সাপ দুটোর মুখের ওপর দিয়ে পালিয়ে গেল তারা। সাপ দুটো ছোবল মারল কয়েকটাকে। ধরতে পারল না। ফলে মেজাজ তাদের তিরিক্ষি হয়ে গেল।

    রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে ধানি মাঠ থেকে ফিরল তারা। ফিরে সোজা চলতে লাগল নদীতীরের ঝোপঝাড়ের দিকে।

    তখনি দৃশ্যটা চোখে পড়ল তাদের। সেই মানুষটা এখন ওত পেতে বসে আছে ঝোপঝাড়ের আড়ালে। আর অন্য একটা মানুষ আস্তেধীরে,এগিয়ে আসছে তার দিকে। দৃশ্যটা দেখেই পাপের গন্ধ টের পেল তারা। মুহূর্তে মাথায় লাফিয়ে ওঠল রক্ত। গতি বেড়ে গেল তাদের। মুহূর্তে মানুষ দুটোর মাঝামাঝি চলে এল। তারপর দুজন দুদিকে। মুখ করে, বিশাল ফনা তুলে মানুষ দুটোর মুখোমুখি দাঁড়াল। তীব্র জ্যোৎস্নায় সাপ দুটোর কুলোর মতো ফনা শূন্যে দুলতে লাগল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনূরজাহান – ইমদাদুল হক মিলন
    Next Article প্রিয় – ইমদাদুল হক মিলন

    Related Articles

    ইমদাদুল হক মিলন

    ইমদাদুল হক মিলনের বিবিধ রচনা

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    অন্তরে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    এসো – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    গোপনে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    দুই বাংলার দাম্পত্য কলহের শত কাহিনী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও ইমদাদুল হক মিলন সম্পাদিত

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }