Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শ্রেষ্ঠ গল্প – ইমদাদুল হক মিলন

    ইমদাদুল হক মিলন এক পাতা গল্প513 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    লালীদের কথা

    ও লালীর মা, মাইয়া লইয়া কই যাও?

    লালী হাঁটছিল আগে আগে। লালীর পরনে কটকটে গোলাপি রঙের নাইলনের শাড়ি। বগলের লোম দেখা যায় এমন হাতকাটা ব্লাউজ। ব্লাউজের রঙটাও গোলাপি। তবে কাপড়টা সুতি বলে অল্প ব্যবহারেই ব্লাউজের রঙটা ক্ষয়ে গেছে। শাড়ির জেল্লাটা এখন রয়ে গেছে। জিনিসটা নাইলনের তৈরি বলে। তার ওপর সোনালি জরি লাগানো পাড়। ফলে শাড়িটা যত উজ্জ্বল দেখায় ব্লাউজটা দেখায় তত মলিন।

    লালীর পায়ে ছিল উঁচু হিলের তীব্র লাল স্যান্ডেল। গ্রামের দাদরা-খাদরা পথে লালী তাই সহজ ভঙ্গিতে হাঁটতে পারছিল না। তার চলা ছিল গাভীন গাইগরুর মতো ধীর। মন্থর। লালীর দুহাতে ছিলো অনেকগুলো করে ইমিটেশনের ঝলমলে চুড়ি। গলায় ছিল ইমিটেশনের চেন। সকালবেলা পুকুরে ডুব দিয়ে মাথায় চপচপা তেল দিয়েছিল লালী। তারপর পিঠের মাঝমাঝি অব্দি লম্বা চুলের মাঝ মধ্যিখানে অর্থাৎ ঘাড়ের ওপর চুলে পরেছে রাবার ব্যান্ড লাগানো প্লাস্টিকের গোলাপি একটা ফুল। কপালে দুপাশের চুলে ছিল তার দুটো করে চওড়া সোনালি ক্লিপ।

    লালীর গায়ের রং আগে বেশ কালো ছিল। রোগা টিংটিংয়ে ছিল লালী। মাস ছয়েক টাউনে আছে বলে গায়ের রং খানিকটা ফর্সা হয়েছে তার। শরীরে মাংস লেগেছে। ব্লাউজের বাইরে লালীর বাহু দুটো কলা চারার মতো সতেজ। আগের শুকনো চিটচিটে বুকও আর নেই লালীর। তার বুক এখন চালকুমড়োর মতো। শাড়ি-ব্লাউজের আড়ালেও তা বেশ স্পষ্ট। লালীর নিতম্ব ছ মাস আগে কারো চোখে পড়ত না, এখন, ঐ দেখা যায়, ধীরমন্থর হাঁটার তালেও ডানবাঁ ডানবাঁ করছে।

    মুখে স্নোপাউডার মেখেছে লালী। ঠোঁটে গাঢ় করে লাগিয়েছে লিপিস্টিক। নাকে সস্তা পাথরের ফুল লালীর। কানে ইমিটেশনের রিং। চোখে গাঢ় করে টানা কাজল। তবুও চোখের কোলের কালি ঢাকা পড়েনি।

    দশদিন আগে লালী যেদিন গ্রামে এল সেদিনও লালীর পরনে ছিল আজকের মতো শাড়ি ব্লাউজ। শুধু চুলগুলো ছিল উস্কখুষ্ক। আর হাতে ছিল সবুজ রঙের, তার ওপর লাল, নীল ফুল আঁকা টিনের ছোট্ট বাক্স। যেটা আজ হাতে নিয়েছে লালীর মা। সেই শীর্ণকায় বৃদ্ধা, যার মাথার চুল ময়লা নোংরা পাটের আঁশের মতো। ভাঙাচোরা ফোকলা মুখ। খোলা চোখে তার ঝাপসা দৃষ্টি। পরনে তার মেটে রঙের কাপড়। কতকাল দেয়া হয়নি কে জানে। লালীর টিনের বাক্সটা হাতে নিয়ে, ট্যাংরা মাছের মতো একদিকে বাঁকা হয়ে লালীর পেছন পেছন হাঁটছিল সে।

    বাক্সটা মার হাতে দিতে চায়নি লালী। বুড়ি জোর করে নিয়েছে। এতকাল পরে এসে, মাত্র দশদিন থেকে মেয়ে আজ চলে যাচ্ছে, বুড়ি কোন প্রাণে মেয়েকে বাক্স হাতে নিতে দেবে।

    এই তো দশদিন আগে লালী যেদিন গ্রামে এল সেদিন তার চোখের কোলের কালিটা ছিল আরও গাঢ়। চেহারায় ছিল জগৎসংসারের যাবতীয় ক্লান্তি। মার কাছে এসে এই কটা দিন লালী কেবল ঘুমিয়েছে। ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠেছে বেলা অনেকটা ওঠে যাওয়ার পর। তারপর প্রাতঃকালীন কাজকর্ম সেরে, মুখে কিছু দিয়ে আবার ঢুকে গেছে তাদের ভাঙাচোরা কুঁড়েঘরে। হোগলার বিছানায় শুয়ে আবার ঘুম। দুপুরে ঢলে যাওয়ার পর ভাত বেঁধে, গুড়াগাড়া মাছের ঝোল বেঁধে মা তাকে ডেকে তুলেছে। ও লালী, ওট মা। ভাত অইয়া গ্যাছে। ঘুম ভেঙে গামছাকাপড় হাতে লালী চলে গেছে খালপাড়। তারপর খালে ডুব দিয়ে এসে চুপচাপ ভাত খেয়েছে। তখন ঘুমে-ক্লান্তিতে তার চোখ টানছে।

    মেয়েকে খেতে দিয়ে, দুটো একটা কথা জিজ্ঞেস করেছে লালীর মা বুড়ি। জামাইয়ের কথা, লালীর সংসারের কথা। লালীর সঙ্গে তার জামাই এল না কেন। বিয়ের পর বাপের বাড়ি এল মেয়ে, জামাই ছাড়া এল কেন? না হয় লালীর মা বুড়ির কোন ক্ষমতা নেই মেয়ে জামাইকে একবেলা খাওয়াবার। না হয় নিজেদের টাকা-পয়সা ব্যয় করেই খেত তারা, তবুও দুজন একত্রে এলো তাদের দেখে সুখে বুক ভরে যেত বুড়ির।

    লালী এসব কথা শুনে কোন কথা বলত না, বুক কাঁপিয়ে কেবল দীর্ঘশ্বাস পড়ত তার। তারপর হোগলার বিছানায় শুয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়ত সে। লালীর মা ভাবত, টাউনে স্বামীর সংসার করতে করতে জানটা শেষ হয়ে গেছে মেয়ের। কদিন জিরাক মেয়েটা। আহা বাছা! কিন্তু দশটা দিন এইভাবে ঘুমিয়ে কাটিয়েও চোখের কোলের কালিটা একেবারে মুছে যায়নি লালীর। তীব্রতাটা একটু কমেছে এই যা। তীক্ষ্ণ চোখে তাকালে গাঢ় কাজল টানা চোখেও ক্লান্তির কালিমা দেখা যায় লালীর।

    লালীর মা চোখে ভালো দেখতে পায় না। লালীর স্বাস্থ্য খুব ভালো হয়েছে শুধু এটুকুই সে দেখতে পেয়েছে। তার চোখ দিয়ে নয়, দেখেছে লালী যেই মুহূর্তে বাড়ি এল, তাকে জড়িয়ে ধরে হাতাপিতা করে। ওটুকু দেখেই ফোকলা মুখে হাসি ফুটেছিল তার। বুড়ি। ভেবেছে, জামাই খুব সুখে রেখেছে তার মেয়েকে। হল্লাচিল্লা করে পড়শিদের ডেকে এনেছিল সে। তারাও আপাতদৃষ্টিতে দেখেছিল লালীকে। লালীর স্বাস্থ্য এবং শাড়ির জেল্লা দেখে তারা কেউ খুশি হয়েছে, কেউ হয়েছে ঈর্ষান্বিত।

    কিন্তু লালীর গল্পটা এরকম নয়।

    আজ সকালবেলায় বাড়ি থেকে বেরুতেই পড়শীরা কেউ কেউ জিজ্ঞেস করেছে, ও লালীর মা মাইয়া লইয়া কই যাও?

    সকালবেলার রোদে লালী তখন জ্বলছিল। লালীর কাপড়চোপড়ে ভরা বাক্সটা হাতে নিয়ে, কষ্টে কষ্টে লালীর পেছনে পেছনে হাঁটছিল লালীর মা। পেছন থেকে মেয়েকে দেখে গর্বে তার বুক ভরে গেছে। আহা, টাউনে জামাইর কাছে মাইয়া আমার সুখে আছে, পড়শীদের উদ্দেশে বলেছে, মাইয়া আজই জামাইর কাছে যাইতাছে। মাইয়ারে লঞ্চ ঘাডে দিয়াহি।

    বেড়ান অইয়া গেলনি মাইয়ার?

    হ। দশদিন বেড়াইছে।

    লালীর তখন বুকের ভেতরটা তোলপাড় করে ওঠেছে। জামাইর কাছে যাচ্ছে সে। নিজের সংসারে যাচ্ছে। এই ভেবে মুখে, যেন নিজেকেই বিদ্রূপ করছে এমন একটা হাসি ফুটে ওঠেছে লালীর। মনে মনে নিজের সঙ্গে কথা বলেছে লালী। আমার জামাই কেডা? হেই মানুষটা! কয় কী! আমার তো দিহি রোজ রোজ, বেলায় পাড়াডা। মায়নি এই হগল জানে!

    না মাকে কিছুই জানায়নি লালী। শেষ বয়সে মানুষটার মনে দুঃখ বেলায় নতুন জামাই। দিনের মইদ্যে দশ বিশটা। সংসার তো হেই দিয়ে! কী লাভ! জামাইর সংসারে মেয়ে তার সুখে আছে এটুকু ভেবে নিজেও সুখে থাক লালীর মা। লালীর সব কথা শুনলে মেয়েকে নিয়ে যাবতীয় স্বপ্ন ভেঙে যাবে বুড়ির। লালীকে সে আর টাউনে যেতে দেবে না। টাউনে না গেলে শরীরের জেল্লা থাকবে না। আবার অনাহার। মা ভিক্ষা করে দুজন মানুষের ভাত জোটাতে পারবে না। তার এই রকম খোলামেলা বাড়িতে, ভাঙা কুঁড়েঘরে একলা যুবতী মেয়ে। গ্রামের ফক্কা লোকেরা উৎপাত করবে। রাতবিরাত বাড়ি এসে হামলা করবে। টাউনে যাওয়ার আগে দুবার এমন হয়েছিল। একদিন দুপুরবেলা, মা গেছে ভিক্ষা করতে, লালী একা ঘরে। চারজন লোক এসে ঘরের ভেতরই লালীকে ধর্ষণ করে গেল। একজন হাত মুখ চেপে রাখল, একজন কাজ সারল। আর দুজন থাকল। পাহারায়। এইভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চারজন সারা দুপুর। লালী অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। সন্ধ্যেবেলা মা ফিরে আসার আগেই জ্ঞান ফিরেছিল তার। বসে বসে অনেকক্ষণ ধরে কেঁদেছিল সে। তবুও মাকে বলেনি।

    তারপর টাউনে যাওয়ার কয়েকদিন আগে আবার। সেদিন দুপুরের মুখে মুখে। সেই চারজনেই। তবে ঘরের ভেতর নয় ঝোপঝাড়ের আড়ালে তুলে নিয়েছিল লালীকে।

    তবুও এই ব্যাপারেও হয়তো আপত্তি করত না লালী। কাজ সেরে যদি কিছু পয়সা দিত তারা। যদি দুবেলা পেটপুরে ভাত পেত। যেটা এখন পায় লালী। পয়সা এবং ভাত। থাকার ব্যবস্থাও খারাপ নয়। এ সবই লালী পাচ্ছে শরীর দিয়ে।

    কিন্তু লালী কি জানত এরকম একটা জীবন হবে তার।

    লোকটা বিয়ের প্রস্তাব দিতেই লালী ভুলে গিয়েছিলে দুদুবার ধর্ষিতা হয়েছে সে। অনাহারে দিন যায়। স্বামীসংসার পেয়ে, ভাতকাপড় পেয়ে সুখি মেয়েমানুষের জীবন হবে তারও। লোকটার ঘরবাড়ি কোথায়, সংসারে কে আছে, না আছে না জেনেই একরাতে নিজেদের কুঁড়েঘরে বিয়ে হয়েছিল তার। শুধু ঐ একটা রাতই লোকটার সঙ্গে ছিল সে। বুড়ি মা রাত কাটিয়েছিল বাইরে। পরদিন সকালে ওঠেই লোকটার হাত ধরে টাউনে চলে গিয়েছিল সে। কিন্তু লোকটার সঙ্গে আর একটি রাতও থাকা হয়নি তার। জীবনে শুধু ঐ একটি রাতই কেটেছে তার স্বামীর সঙ্গে।

    টাউনে নিয়ে সেই লোকটা লালীকে সোজা তুলেছিল পাড়ায়। তারপর এক বুড়ির হাতে লালীকে বুঝিয়ে দিয়ে কোথায় যে চলে গেল, লালীর সঙ্গে ছমাসে লোকটার আর কখন দেখা হয়নি।

    পাড়ায় লালীর মতো দুচারশো মেয়ে। তাদের ভাতকাপড়, থাকা এবং পয়সার উৎস বুঝতে দুচারটা দিন লেগেছিল লালীর। সেই কটা দিন লালী খুব কেঁদেছে। বুড়ির কাছে স্বামীর কথা জানতে চেয়েছে। কোন ফল হয়নি।

    তারপর থেকে দিনে দশ বিশটা করে স্বামী লালীর। বাপের বয়সী, ছোট ভাই, বড় ভাইর বয়সী, দাদা নানার বয়সী। দিনে দিনে দিন যেতে লাগল লালীর। তিনবেলা ভরপেট খাওয়া, অর্ধেক পয়সা বুড়িকে দিয়ে, ঘর ভাড়া দিয়েও লালীর হাতে পয়সা জমতে লাগল প্রতিদিন। মাস ঘুরতে না ঘুরতে শরীর বদলে গেল লালীর। চেহারা বদলে গেল। নতুন শাড়ি সায়াব্লাউজ। ফেরিঅলার কাছ থেকে কেনা ইমিটেশানের চুড়ি, গলার মালা, কানের দুল, নাকফুল। টিনের বাক্সটা মাসখানেকের মাথায়ই কিনে নিয়েছিল লালী। পয়সাকড়ি সেই বাক্সে জমা হতে লাগল। কারণ স্বামীর কথা লীলা ভুলতে পেরেছিল, বুড়ি মাটার কথা ভুলতে পারেনি। ভিক্ষে করে খেয়ে, না খেয়ে তার জীবন চলছে। কখনও মার কাছে যেতে পারলে জমানো টাকা-পয়সা তার হাতে দিয়ে আসবে লালী। তাতে মা মেয়ে-মানুষটার বেশ কিছুদিন সুখে কাটবে। কিন্তু প্রতিদিন দশ বিশটা স্বামী সামলাতে মাস ছয়েকের মাথায় ক্লান্ত হয়ে পড়ল লালী। চোখের কোলে গাঢ় হয়ে কালি পড়ল তার। শরীর আর চলতে চায় না। বাক্সে কিছু টাকা-পয়সাও জমা হয়েছে। একবার গ্রামে যেতে পারলে টাকা-পয়সাটা মার হাতে দিয়ে আসা যাবে, কয়েকটা দিন জিরানো যাবে।

    লালী একদিন বুড়িকে বলল, খালা আমি ইট্টু বাইত যাইতে চাই। শুনে বুড়ি হা হা করে ওঠল, কচ কী মাগি, আ?

    হ। দশদিনের বেশি থাকুম না।

    পাড়ার মেয়েরা অনেকেই মাঝে মাঝে বাড়ি যায়। আট দশদিন থেকে ফিরে আসে। কিন্তু লালী নতুন মেয়ে, একবার বাড়ি গিয়ে যদি আর ফিরে না আসে। যে দামে লালীকে কিনেছে বুড়ি সেই টাকাটাই তো ওঠেনি এখনও। তাহলে?

    অনেকক্ষণ লালীর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল বুড়ি। বুড়ির তাকানো দেখে লালী বুঝতে পেরেছিল বুড়ি তাকে সন্দেহ করছে। বুঝে ম্লান হাসছিল লালী। তুমি ঘাবড়াইয়ো না খালা। আমি দশদিন থাকইক্কাই আইয়া পড়ুম।

    তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেছে। এহেনে না আইয়া যামু কই। এই কাম না করলে খামু কী!

    লালীর মতো বহু মেয়ে চরিয়ে খেয়েছে বুড়ি। লালীর কথায় বুঝতে পেরেছিল এখানে না এসে আর উপায় নেই লালীর। কপালটা এই পাড়ায় বাঁধা হয়ে গেছে ছেমড়ির।

    লালীকে সে ছুটি দিয়েছিল। ঐ দশদিনের জন্যেই।

    তারপর বাড়ি এসেছিল লালী। মায়ের কাছে এসেছিল। এসেই লুকানো টাকা-পয়সার বেশির ভাগটা তুলে দিয়েছিল মায়ের হাতে। আর কিছু রেখে দিয়েছিল নিজের ফিরে যাওয়ার খরচা হিশেবে। কিন্তু এতগুলো টাকা হাতে পেয়েও খুব একটা খুশি হয়নি মা। প্রথমেই জিজ্ঞেস করেছে এত টাকা তুই কই পাইলি?

    লালী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছে, তোমার জামাইর টেকা।

    জামাই এত টাকা দিল?

    না, আমি সংসার খরচা থিকা বাঁচাইছি।

    তয় জামাইরে লইয়া আইলি না ক্যা?

    এ কথায় লালী খুব উদাস হয়ে গিয়েছিল। চোখে জল এসে গিয়েছিল তার। অন্যদিকে তাকিয়ে চোখের জলটা সামলিয়েছে সে। পুরো ব্যাপারটা মার কাছে চেপে গেছে। সত্যি। কথা বলে মার মনে দুঃখ দিতে চায়নি। কপাল, সবই কপাল লালীর। তবুও মা জানুক, স্বামীর ঘরে সুখে আছে লালী। লালীর দুঃখী জীবনের কথা নাই বা জানল সে।

    লালীর মা আর কোনও কথা বলেনি। মিথ্যে সুখে বিভোর হয়ে মেয়ের জন্যে এটাওটা তৈরি করেছে। দশদিন ভিক্ষা করতে বেরোয়নি।

    হায়রে মানুষের সুখ।

    কাল সকালেই লালী তার মাকে জানিয়েছিল, মাগো আমি কইলাম কাইল বিয়ানে যামু গা।

    শুনে বুড়ি হা হা করে ওঠেছিল। বিয়ার পর পয়লা বাপের বাড়ি আইলি আর দুইডা দিন থাইক্কা যা মা।

    লালীরও খুব থাকতে ইচ্ছে করছিল। চিরকালের জন্যে থেকে যেতে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু থেকে গেলেই অনাহার। যখন তখন গ্রামের ফক্কর লোকেরা এসে ঘরের ভেতর নয়ত ঝোপজঙ্গলে কাপড় খুলবে লালীর। বিনি মাগনা কাজ সেরে যাবে। লালীর তাতে লাভ কী। পেটের আহার তো আর কেউ দেবে না!

    লালী বলেছিল, আর দুদিন থাকলে তুমার জামাই রাগ করব। আসলে লালীর মনে ছিল। ভয়। দেরি করে গেলে বুড়ি যদি তাকে আর পাড়ায় ঢুকতে না দেয়। তাহলে সব যাবে লালীর। লালীর কথা শুনে তার মা বলেছিল, কাম নাই থাকনের। যা গা। আবার যহন আবি জামাই লইয়াবি। দুমাস থাইক্কা যাবি। তারপরই বুড়ি বসে গিয়েছিল বোড়া পিঠা ভাজতে। ভাত-তরকারি রান্নার ফাঁকে ফাঁকে সারাদিন পিঠা ভেজেছে বুড়ি। রাতের বেলা সেই পিঠার কিছুটা লালীকে খেতে দিয়ে বাকিগুলো পুরনো একটা ন্যাকড়ায় বেঁধে লালীর টিনের বাক্সে ভরে দিয়েছে। জামাইরে বেবাকটি পিডা খাওয়াবি লালী। কবি তুমার হরি দিছে। খাও, বেবাকটি খাওন লাগব।

    শুনে লালীর চোখে জল এসে গিয়েছিল। ইচ্ছে করেছিল মার গলা জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদে লালী। কাঁদতে কাঁদতে সব কথা খুলে বলে মাকে।

    কিন্তু কী লাভ। যে জীবন স্বামী-সংসার নিয়ে সুখী মেয়েমানুষের জীবন, লালী কি সেই জীবন কখনও ফিরে পাবে। ওই যে দেখুন, লালী তার নিয়তির কাছে ফিরে যাচ্ছে।

    লঞ্চঘাটে এসে দেখা গেল টাউনে যাওয়ার লঞ্চটি ছাড়ার উপক্রম করছে। যাত্রীরা বেশির ভাগ ওঠে পড়েছে। দুচারজন লঞ্চের সিঁড়ির কাছে দাঁড়িয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে কথা বলছে। লঞ্চওয়ালারা তাড়া দিলেই লাফিয়ে ওঠবে।

    মার হাত থেকে বাক্সটা নিয়ে লালী বলল, তুমি যাওগা মা, অহনঐ লঞ্চ ছাইড়া দিব।

    মা বলল, লঞ্চ ছাড়লেই যামুনে। তুই কইলাম বেবাকটি পিডা জামাইরে খাওয়াইচ।

    লালী অন্যদিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল, আমার তো জামাইর আকাল নাই মা। আইজ রাইত্রে যেই যেই জামাই আইব আমার ঘরে তাগো বেবাকতেরেঐ খাওয়ামু।

    মা বলল, আবার যহন আবি জামাই লইয়াবি। একলা কইলাম আহিচ না। আমি কবে মইরা যামু ঠিক নাই। তগ দুজনরে একলগে দেখলে মোনে শান্তি পামু।

    এ কথায় বুকের ভেতরটা তোলপাড় করে ওঠে লালীর। নিজেকে আর সামলাতে পারে না সে। বাক্সটা হাত থেকে ফেলে দুহাতে মাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। মা দুহাতে লালীর মাথাটা বুকে চেপে ধরে। সেও কাঁদে। এই কান্নায় জগৎ সংসার মুহূর্তের জন্য থেমে থাকে।

    আপনারা কি জানেন, ওটুকু কান্নাই লালীদের ক্ষণকালের মুক্তি!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনূরজাহান – ইমদাদুল হক মিলন
    Next Article প্রিয় – ইমদাদুল হক মিলন

    Related Articles

    ইমদাদুল হক মিলন

    ইমদাদুল হক মিলনের বিবিধ রচনা

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    অন্তরে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    এসো – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    গোপনে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    দুই বাংলার দাম্পত্য কলহের শত কাহিনী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও ইমদাদুল হক মিলন সম্পাদিত

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }