Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শ্রেষ্ঠ গল্প – ইমদাদুল হক মিলন

    ইমদাদুল হক মিলন এক পাতা গল্প513 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গাছপালার ভূমিকা

    ঝোপঝাড়ের আড়াল থেকে মাথা বের করে সাপটা দেখে চারদিকের ঘন গাছপালায় সকালবেলার রোদ খেলা করছে। ডালপালার ফাঁকফোকর দিয়ে গাঁদা ফুলের পাপড়ির মতো রোদের টুকরো এসে ছড়িয়ে পড়েছে বনভূমিতে। চারদিকে পোকামাকড় ডাকছে, কীটপতঙ্গ ডাকছে। ফুলে ফুলে উড়ে বেড়াচ্ছে মধুপোকা, প্রজাপতি আর দু-একটা ফড়িং। কাছে কোথাও কোন ঝোপের আড়ালে কিংবা কোন গাছের ডালে, পাতার আড়ালে বসে মিষ্টি সুরে ডাকছে একটা পাখি। মোলায়েম বাতাসটা আছে। গাছের পাতায় মৃদু কাঁপন তুলে, ফুলের গন্ধ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে বনময়। কোথাও কোনও বিপদের সম্ভাবনা নেই দেখে সাপটা তার প্রাচীন লম্বা শরীরটা ঝোপঝাড়ের আড়াল থেকে টেনে বের করে। সামনে কোমল দুর্বাঘাসের ছোট্ট একটা মাঠ উদাস, বিষণ্ণ ভঙ্গিতে পড়ে আছে। মাঠের পাশে হলুদ ফুলের ঝোপটার কাছে দীর্ঘকায় কী একটা প্রাণী খানিক এদিক যাচ্ছে খানিক ওদিক যাচ্ছে। স্থির হয়ে প্রাণীটার দিকে তাকায় সাপটা। তারপর বুঝতে পারে, প্রাণীটা মানুষ। মানুষ দেখে মেজাজটা বিগড়ে যায় তার। এই সময় অন্য কোনও বিপজ্জনক জীব দেখলে মাথায় রগ চড়ে যায়। খানিকটা ভয়ও হয়। মানুষকে বিশ্বাস নেই।

    সাপটা তবুও ধীরমন্থর গতিতে দুর্বাঘাসের মাঠটা পাড়ি দেয়। খানিক চলেই থামে সে। মাথা তুলে মানুষটার গতিবিধি লক্ষ্য করে। এক সময় দেখে, ফুলের ঝোপ পেরিয়ে গাছপালার আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষটা। দেখে বড় নিশ্চিন্ত হয় সে, বড় খুশি হয়। মাঠ ভেঙে, একটা ঝোপের আড়াল দেখে, বুকের তলায় নরম ঘাস এবং মাথার ওপর মিঠেল ছায়া দেখে লম্বা শরীরটা বিছিয়ে দেয়। বয়স হয়েছে। খানিক চলাচলেই ক্লান্তবোধ করে সে। বসন্তকালেও সকালবেলার রোদে বেশ তেজ। মাথাটা ঘাসের ওপর রেখে পড়ে থাকে সাপটা। বনভূমির ভেতর কোথায় কী ঘটছে খেয়াল করে না সে।

    .

    বুড়ো মানুষটা কাল রাতে অদ্ভুত এক স্বপ্ন দেখেছে। ভোররাতের দিকে। দেখে, মাথার কাছে তার স্ত্রী দাঁড়িয়ে আছে। স্ত্রীকে দেখে স্বপ্নের ভেতরও চমকে ওঠেছে সে। স্ত্রী মারা গেছে সাত বছর। তাহলে মাথার কাছে এসে দাঁড়াল কোত্থেকে!

    মানুষটা অবাক হয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেছে, তুমি?

    মাথার ঘোমটা টেনে স্ত্রী বলেছে, তুমি আমাকে চিনতে পার না! সাত বছরেই আমার কথা ভুলে গেছ?

    মানুষটা তখন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেছে। কতকাল হয়ে গেল তোমাকে দেখি না। বয়স হয়ে গেছে, চোখে ছানি, কোনও কিছুই ঠিকঠাক চিনতে পারি না আজকাল।

    শুনে স্ত্রী হাসে। মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় মানুষটার। তোমাকে ফেলে আমি একদম থাকতে পারছি না। বড় অশান্তি, বড় মন খারাপ। তুমি কেমন আছ গো?

    শুনে স্বপ্নের ভেতরেই মানুষটার চোখে জল এসে গেছে। সংসারে বড় অশান্তি। ছেলেরা দেখতে পারে না। ছেলের বউরা দূর দূর করে। নাতি নাতনিরা গালাগাল দেয়। খেতেপরতে গঞ্জনা, ওঠতে বসতে গঞ্জনা। সংসারের বাড়তি মানুষ হয়ে গেছি আমি। কাজকাম করতে পারি না। দুটো টাকা কামাবার মুরোদ নেই। ছেলেদের ঘাড়ে বসে খাই। কী করব বল, গায়ে জোরবল নেই। চোখে ছানি। দশ কদম হাঁটলে জান বেরিয়ে যায়। এইভাবে বেঁচে থাকতে ভাল্লাগে না। আমাকে তুমি নিয়ে যাও।

    স্ত্রী বলল, দুঃখ কর না। আমি তোমাকে নিয়ে যাব।

    তখন হাসি ফুটে ওঠেছিল মানুষটার মুখে। স্ত্রীর একটা হাত টেনে এনে দুহাতে নিজের বুকে চেপে ধরেছে। সত্যি বলছ তুমি আমাকে নিয়ে যাবে?

    তারপরই ঘুম ভেঙে গেছে। তখন সকালবেলার আলো মাত্র ফুটেছে।

    ছেলেরা গাইগরু নিয়ে, লাঙল-জোয়াল নিয়ে মাঠে চলে গেছে। বউরা ওঠে সংসারকর্মে মন দিয়েছে। নাতি নাতনিরা কেউ ওঠেছে কেউ ওঠেনি। মানুষটা তখন বিছানা ছেড়েছে। তারপর ঘাট সেরে পুকুরে গিয়ে অজু করেছে। নামাজ পড়ে, টুপিটা মাথায় হাঁটতে হাঁটতে চলে এসেছে বাড়ির কাছের এই নিরালা বনভূমিতে। জায়গাটা খুব প্রিয়। তার। চারদিকে গাছপালা ঝোপঝাড়। ঘাস ফুল প্রজাপতি পাখি। সর্বোপরি অগাধ নির্জনতা। এখানটায় এলেই বুকভরে শ্বাস টানা যায়। সংসারের জটিলতার কথা, দুঃখ দারিদ্রের কথা, গঞ্জনা ও একাকিত্বের কথা মনে পড়ে না। মানুষটা বড় স্বস্তি পায়। কিন্তু আজ এখানটায় এসেও স্বস্তি পাচ্ছে না মানুষটা। স্বপ্নের কথা মনে পড়ছে। স্ত্রীর কথা মনে পড়ছে। স্ত্রী বলেছে, তাকে নিয়ে যাবে। এ কথার মানে কী!

    মনের ভেতরে কু-ডাক ডাকে। বুকটা আনচান করে মানুষটার। স্থির থাকতে পারে না সে। বয়সী দুর্বল শরীরেও বনভূমিটা চষে ফেরে সে। মাথার ওপর পাখি ডাকে, চারদিকে ডাকে পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ, সে শুনতে পায় না। বনে অনেক ফুল ফুটেছে, ফুলে ফুলে উড়ছে মধুপোকা, প্রজাপতি, সে দেখতে পায় না। মোলায়েম বাতাসে ফুলের মৃদু গন্ধ, সে টের পায় না। তার মনের ভেতর বসে স্ত্রী কেবল বলছিল, তোমাকে আমি নিয়ে যাব। এই দুঃখী সংসারে তোমাকে আমি আর রাখব না।

    .

    বনের গাছপালা দেখে পৃথিবীতে ভারী সুন্দর একটা সময় শুরু হয়েছে। বসন্তকাল। সূর্যের মিষ্টি তেজ পড়েছে তাদের ওপর। চমৎকার হাওয়া বইছে। ঝোপঝাড়ে ফুটেছে ফুল, ফুলে উড়ছে মধুপোকা, প্রজাপতি। ঘাসবনে মন খুলে ডাকছে পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ। তাদের ডালে বসে ডাকছে পাখিরা। বনের বয়সী একটা সাপ সুন্দর একটা ঝোপের মিঠেল ছায়ায় শুয়ে আরামে ঘুমুচ্ছে। বসন্তকালীন রোদও সইতে পারে না সাপটা। আর আছে, প্রায়ই বনে আসে যে বুড়ো মানুষটা, সে। মানুষটা বুঝি আজ খানিকটা অস্থিরচিত্ত। বনময় চক্কর দিয়ে বেড়াচ্ছে। দেখে গাছপালারা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, আহা বাছা, তোমার মনে কিসের দুঃখ!

    তারপর মন খারাপ করে গাছেরা তাকায় দূরপ্রান্তে। দেখে পরস্পর পরস্পরের হাত ধরাধরি করে তাদের দিকে এগিয়ে আসছে অল্পবয়সী একজোড়া মানব-মানবী। চেহারায় স্বপ্ন আর উদভ্রান্তির চিহ্ন তাদের। বনভূমির কাছাকাছি এসে মেয়েটি বলল, আমি আর হাঁটতে পারছি না। চল বনের ভেতরে, গাছপালার ছায়ায় বসে একটু জিরিয়ে নেই। ছেলেটি মৃদু হেসে মেয়েটির দিকে তাকায়। ছোটখাটো মিষ্টি চেহারার মেয়েটি। তীব্র লাল রঙের একটা শাড়ি পরেছে। তার বেণী করা লম্বা চুল কালনাগিনীর মতো পড়ে আছে পিঠে। কোমল পা দুটো ধুলোয় ধূসরিত। ছেলেটির একটা হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিল সে। মুখটা শুকিয়ে এতটুকু হয়ে গেছে। তার সুন্দর চোখ দুটো রাত্রি জাগরণের ফলে বসে গেছে।

    মেয়েটির মুখে তাকিয়ে গভীর ভালোবাসায় ছেলেটির বুকের ভেতরটা তোলপাড় করে। ছেলেটির পরনে সাদা পাজামা আর নীল রঙের ফুলহাতা শার্ট। মাথার কোঁকড়া চুল উসকো-খুসকো। বেশ কয়েকদিন ক্ষৌরকর্ম করা হয়নি বলে মুখের দাড়িগোঁফ বনভূমির দুর্বাঘাসের মতো। এসবের ফাঁকফোকর দিয়েও তার চেহারায় অদ্ভুত একটা স্বপ্ন, দুশ্চিন্তা আর উদভ্রান্তির মিশেল দেখা যায়। হাতে তার বেতের একটা স্যুটকেস। ধুলোবালি লেগে পাজামার পায়ের কাছটা মলিন। দেখে বোঝা যায়, বহুদূর পাড়ি দিয়ে এসেছে, বহুদূর যাবে। মেয়েটির মতো সেও ছিল অতিশয় ক্লান্ত।

    তবুও ছেলেটি বলল, লঞ্চঘাট খুব একটা দূরে নয়। একবার লঞ্চে ওঠে বসতে পারলে নিশ্চিন্তে জিরানো যেত।

    মেয়েটি বলল, লঞ্চঘাট খুব একটা দূরে নয়। বহুদূর চলে এসেছি আমরা। এখানে আমাদের কেউ চিনবে না। তাছাড়া ভীষণ খিদে পেয়েছে আমার।

    রাতে কিছু খাওনি?

    ওরকম দুশ্চিন্তায় খেতে পারে কোনও মানুষ!

    কিসের দুশ্চিন্তা?

    এবার মেয়েটি খুব সুন্দর করে হাসে। তুমি বলেছিলে দুপুররাতে আমাদের বাড়ির পেছন দিকের বাগানে থাকবে। আমি খুব সাবধানে, মা বাবা ভাইভাবীদের চোখ এড়িয়ে আমার স্যুটকেস গুছিয়েছি। তারপর নিজের ঘরে শুতে গেছি। খেতে বসেছিলাম ঠিকই, খেতে পারিনি। আমার ঘরে আবার আমাদের বাড়ির কাজের বুড়িটা থাকে। যুবতী মেয়ে একলা ঘরে থাকে কেমন করে। কিন্তু চিন্তা হল ঘর থেকে স্যুটকেস হাতে বেরুবার সময় বুড়িটা যদি টের পেয়ে যায়। তুমি তো জানোই আমাদের বাড়িতে এমনিতেই ম্যালা লোকজন। বাবা বড় গেরস্ত, ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। রাত-দুপুরঅব্দি লোকজন আসা-যাওয়া করে তার কাছে। তুমি বাগানে এসে দাঁড়িয়ে থাকবে আর আমি যদি না বেরুতে পারি! কেউ যদি ব্যাপারটা জেনে যায়, তাহলে তো আর রক্ষা নেই। ঘরে তালাবন্ধ করে দুদিনের মধ্যে বাবা আমাকে বিয়ে দিয়ে দেবে। তাহলে মরে যাওয়া ছাড়া আমার আর কোনও উপায় থাকবে না। জীবনে যদি তোমাকেই না পেলাম তাহলে বেঁচে থেকে লাভ কী। বল এরকম অবস্থায় মুখে খাবার রোচে কারো!

    ততক্ষণে বনভূমির ভেতরে ঢুকে গেছে দুজনে। মেয়েটি বলল, বা কী সুন্দর নিরিবিলি জায়গা। এখানে কিন্তু অনেকক্ষণ জিরাব।

    ছেলেটি আমতা আমতা করে বলল, লঞ্চ!

    তুমি না বললে ওই স্টেশনে দুতিন ঘন্টা পরপর একটা করে লঞ্চ আসে।

    তা আসে।

    তাহলে আর কি! এখনতো আর আমাদের কোনও তাড়া নেই। যে কোনও একটা লঞ্চ পেলেই হবে। যখন ইচ্ছে শহরে গিয়ে পৌঁছুলেই হবে।

    কিন্তু

    কী?

    তোমার বাবা যদি এই স্টেশানেও লোক পাঠায়।

    এতদূরে কাউকে পাঠাবে না। আমরা যে এই পথে যাচ্ছি তা সে অনুমানই করতে পারবে না। তাছাড়া

    কী?

    লোক পাঠালেই আমাকে ধরে নিতে পারবে নাকি! তুমি তো আর জোর করে আমাকে নিয়ে পালাচ্ছ না। আমি ইচ্ছে করেই তোমার সঙ্গে এসেছি। একবার যখন তোমার হাত ধরে পথে নেমেছি, মরে গেলেও আর ফিরে যাব না।

    তোমার বাবার অনেক ক্ষমতা। যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন তিনি।

    এখন আর কিছুই করার নেই তার। আমি তো একবার ভেবেছিলাম, বিয়ে ঠিক করলে সোজা তোমাদের বাড়ি গিয়ে ওঠব। সেখানেই তোমার বউ হয়ে থেকে যাব। তুমি সাহস পেলে না।

    একটা বনফুলের ঝোপ দেখে তার ছায়ায় হাতের স্যুটকেসটা নামিয়ে রাখল ছেলেটা। মেয়েটাও বসে পড়ল। কিন্তু ছেলেটা দাঁড়িয়ে থেকে চারদিকে তাকাচ্ছিল। তারপর কাছেপিঠে কেউ নেই দেখে নিশ্চিন্ত হয়ে সেও বসে পড়ল মেয়েটির পাশে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ওভাবে তোমাকে নিয়ে গ্রামে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব হত না। তোমার বাবা আমাকে ধরে নিয়ে, গলা কেটে লাশটা গুম করে ফেলত। কেউ টেরও পেত না। তাছাড়া, আমার মতো একটা ছেলের কাছে তোমার বাবা তোমাকে বিয়ে দেবেনই বা কেন বল! কোনও কারণ তো নেই।

    ওময়েটি অবাক হয়ে বলল, কীরকম?

    আমি গরিবঘরের বেকার ছেলে। লেখাপড়া যেটুকু শিখেছি তাতে শহরে গিয়ে যে চাকরি করব, হবে না। আবার মাঠে গিয়ে যে চাষাবাস করব, তাও পারি না। দেশের সবচে খারাপ শ্রেণী হল আমার মতো এই শ্রেণীটা। এই শ্রেণীর লোকের কাছে কেউ মেয়ে বিয়ে দেয় না। এদের প্রেম-ভালোবাসায় যাওয়াই উচিত নয়।

    মেয়েটি বিরক্ত হয়ে বলল, এখন ওসব কথা বল না তো। আমার ভালো লাগছে না। খিদে পেয়েছে।

    ছেলেটি দুঃখী গলায় বলল, কিন্তু এখানে তোমাকে আমি কী খাওয়াব।

    মেয়েটি কোনও কথা বলে না মুচকি হেসে স্যুটকেস খোলে। তারপর একটা পোটলা বের করে ছেলেটির পায়ের কাছে মেলে দেয়। তাতে কিছু সুস্বাদু পিঠা, নারকেলের নাড়, চালকুমড়োর মোরব্বা। দেখে চোখ দুটো চকচক করে ওঠে ছেলেটির। কাল রাতে তারও কিছু খাওয়া হয়নি। এখন পায়ের কাছে সুস্বাদু খাদ্য দেখে খিদে নাড়িভুঁড়ি লাফিয়ে ওঠে।

    ছেলেটি বলল, এগুলো।

    স্যুটকেসে ভরে রেখেছিলাম। পথে যদি খিদে পায়!

    তুমি খুব সংসারী মেয়ে হবে।

    মেয়েদের এসব বুঝতে হয়, বলে একটা পিঠা তুলে ছেলেটিকে খাইয়ে দেয় মেয়েটি। ছেলেটিও খাইয়ে দেয় তাকে। দুজনের চেহারায় ফুটে ওঠে পরিতৃপ্তির একটা চিহ্ন! ক্লান্তি দূর হয়ে যেতে থাকে।

    খাওয়া শেষ হলে ছেলেটি বলল, এখন পানি পাব কোথায়?

    মেয়েটি কোনও কথা না বলে স্যুটকেসের ভেতর থেকে পানিভর্তি একটা বোতল বের করে। দেখে ছেলেটি বলল, তাই তো, স্যুটকেসটা এত ভারি ছিল কেন এখন বুঝতে পারছি।

    তারপর ঢকঢক করে বোতল থেকে পানি খায় সে।

    মেয়েটি বলল, পেটে খাবার থাকলে যে কোনও বিপদে মানুষ খানিকটা শক্তি পায়। বলে নিজেও বোতল থেকে পানি খায়।

    ছেলেটি বলল, তুমি সত্যি খুব লক্ষ্মী মেয়ে। তারপর ঝোপের একটা ডাল টেনে, কয়েকটা বনফুল ছিঁড়ে মেয়েটিকে দেয়। নাও।

    মেয়েটি পেছন ফিরে বলল, পরিয়ে দাও।

    ফুলগুলো মেয়েটির বেণীর ভেতর গেঁথে দিল ছেলেটি।

    মেয়েটি তারপর ছেলেটির কোলে মাথা দিয়ে গুটিসুটি শুয়ে পড়ে।

    ধীরে মেয়েটির মাথায় ভালোবাসার হাত বুলিয়ে দেয়।

    মেয়েটি বলল, কি ভাবছ?

    ভাবছি শহরে গিয়ে বন্ধুর বাসায় ওঠব। কিন্তু কতদিন একজনের ঘাড়ে থাকা যায়। এই বিদ্যেয় চাকরি জুটবে না। কেমন করে চলব তোমাকে নিয়ে!

    ওসব এখন ভাবতে হবে না।

    না ভেবে উপায় কি বল। ঝোঁকের মাথায় তোমাকে নিয়ে পালালাম, শেষটা যদি সামলাতে না পারি।

    শেষটা মানে!

    যদি তোমাকে ঠিকমতো খাওয়াতে-পরাতে না পারি।

    সে ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

    কেমন করে হবে?

    আমি আমার সব গয়নাগাটি সঙ্গে নিয়ে এসেছি। বেশকিছু টাকাও আছে। ওই টাকা আর গয়না বিক্রি করে মোটামুটি ভালো একটা টাকা হবে তোমার। তোমার বন্ধুর বাসায় মাসখানেক থাকতে পারব না আমরা?

    তা পারব।

    ওই একমাসের মধ্যে তুমি সব গোছাবে।

    কি গোছাব?

    গয়না বেচার টাকা, আমার নগদ টাকা একত্র করে তুমি একটা ছোটখাটো দোকান করবে। তারপর একটা বাসা ভাড়া করে আমরা সেই বাসায় ওঠে যাব। আমরা কোনও পাপ করিনি সুতরাং আল্লাহ আমাদের সহায় হবে। দেখো তুমি খুব উন্নতি করবে। প্রচণ্ড আবেগে ছেলেটি কোনও কথা বলতে পারে না। চোখে জল আসে তার। মেয়েটি তখন আস্তেধীরে ঘুমিয়ে পড়ছিল।

    .

    মাথার ওপর দাঁড়িয়ে প্রেম-ভালোবাসার একটা মনোরম দৃশ্য দেখে বনের গাছপালা। বনফুল ঝোপটার আড়ালে, ছায়ায় বসে আছে একজন যুবা পুরুষ। আর তার কোলে মাথা দিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমুচ্ছে যুবতী এক নারী। একপাশে রাখা আছে বেতের স্যুটকেস। সামনে অবহেলায় পড়ে আছে খাদ্যদ্রব্য বাঁধার ন্যাকড়াটা, জলের খালি বোতল। বহুদূর থেকে এসেছে তারা, বহুদূর যাবে। দেখে গাছপালাদের বলতে ইচ্ছে করে, সুখে থাকো। বাছারা, সুখে থাকো। কিন্তু গাছপালারা কথা বলতে পারে না। ঈশ্বর তাদের কথা বলতে বারণ করেছেন।

    মন খারাপ করে অন্যদিকে মুখ ফেরায় গাছেরা। তখন দেখতে পায়, দীর্ঘকায় বুড়ো মানুষটা ক্লান্ত হয়ে জিরাতে বসেছে একটা ঝোপের মিঠেল ছায়ায়। দেখে চমকে ওঠে তারা। বিষধর প্রাচীন সাপটা যে ওখানেই নিদ্রামগ্ন। শব্দ পেলেই, শরীরে স্পর্শ পেলেই মাথায় রাগ চড়ে যাবে তার, দংশাবে।

    গাছপালাদের ইচ্ছে করে মানুষটিকে ওখান থেকে সরিয়ে আনে। কিন্তু তারা চলাফেরা করতে পারে না। ঈশ্বর তাদের চলাফেরা করতে বারণ করেছেন। ভয়ে ঝিম মেরে থাকে বনের সব গাছপালা।

    .

    অনেকক্ষণ হাঁটাচলার ফলে ভারী একটা ক্লান্তি বোধ করে বুড়ো মানুষটা। ঝোপের আড়ালে বসে হাত পা মেলে দেয় সে। তখনি ডানহাতে শীতল একটা ছোঁয়া পায়। কচুরিপানা ভর্তি পুকুরের জল শীতকালে যেমন হিম হয়, স্পর্শটা সেরকম। চমকে হাতটা টেনে নেয় সে। তার আগেই সুখন্দ্রিায় বিপ্ন দেখে ফুঁসে ওঠেছে সাপটা। মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে গেছে তার। মাথায় রাগ চড়ে গেছে। পাতার মতো ফনা তুলে মুহূর্তেই রাগটা ঝেড়ে দিল সে।

    তারপর বুড়ো মানুষটার দীর্ঘ চিৎকারে কেঁপে ওঠে বনভূমি। দুঃখে নীরব হয়ে থাকে অসহায় গাছপালা। ভয় পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় সাপটা। বসন্তকালীন মোলায়েম বাতাসটা মুহূর্তের জন্য থেমে যায়। একটাও পাতা নড়ে না। কোথাও রোদ থাকে স্থির হয়ে। ফুল কোন গন্ধ দেয় না। মধুপোকা, প্রজাপতি ওড়ে না। ঘাসবনের পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ স্তব্ধ হয়ে যায়। যুবাপুরুষের কোলে শুয়ে থাকা যুবতীটি ভয় পেয়ে লাফিয়ে ওঠে। ছেলেটি একহাতে স্যুটকেস অন্য হাতে মেয়েটির একটা হাত ধরে দৌড়াতে শুরু করে।

    নিরীহ গাছপালা নীরব দর্শক হয়ে জগৎসংসারের এইসব খেলা দেখে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনূরজাহান – ইমদাদুল হক মিলন
    Next Article প্রিয় – ইমদাদুল হক মিলন

    Related Articles

    ইমদাদুল হক মিলন

    ইমদাদুল হক মিলনের বিবিধ রচনা

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    অন্তরে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    এসো – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    গোপনে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    দুই বাংলার দাম্পত্য কলহের শত কাহিনী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও ইমদাদুল হক মিলন সম্পাদিত

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }