Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শ্রেষ্ঠ গল্প – ইমদাদুল হক মিলন

    ইমদাদুল হক মিলন এক পাতা গল্প513 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পাগল সাহেব

    বাগানের গাছপালায় বিকেল শেষ হয়ে আসছে দেখে এসডিও সাহেব একটু বিরক্ত হন। শ্রীনাথ হারামজাদা গেল কোথায়? বিকেল পড়ে গেল, এখনও আসছে না কেন? শ্মশানখোলায় গিয়ে একা একাই চিতায় ওঠল নাকি!

    কারো ওপর রেগে গেলে সাহেব একটু ঘন ঘন সিগ্রেট খান। আর চা। খালি কাপেও অনেক সময় চুমুক দিয়ে ফেলেন। অন্যমনস্কতা। এই যেমন এখন। আনমনে হেঁটে হেঁটে টেবিলটার সামনে যান সাহেব। বিকেলবেলা, শীতকাল গরমকাল নেই সাহেবের একটু বাগানে বসার অভ্যেস বলে, বেতের গোলটেবিল আর একটা চেয়ার চিরকালের জন্য পাতা আছে বাগানে। বিকেলবেলা চাকর আবদুল কাদের চিনেমাটির কেটলি ভর্তি চা, একটা কাপ আর সিগ্রেট-ম্যাচ রেখে যায়। একা বাগানে, গাছপালার ছায়ায় ফুলের গন্ধে আর মফঃস্বল শহরের পুরোনো হাওয়ায় বসে চা খেতে, সিগ্রেট খেতে সাহেব খুব পছন্দ করেন। তার পরনে তখন আশি সুতোর মিহি লুঙি, গায়ে স্যান্ডো গেঞ্জি।

    এই দেখে প্রথম প্রথম স্ত্রী খুব আপত্তি করতেন। তুমি এই শহরের এসডিও। বড় সাহেব। সবাই তোমাকে চেনে, শ্রদ্ধাভক্তি করে। বিকেলবেলা তুমি যে লুঙিগেঞ্জি পরে বাগানে বস, বাড়ির পাশ দিয়ে সারা শহরের লোকজনের চলাচল, তারা দেখে কী ভাবে বলো তো!

    শুনে সাহেব তাঁর মোটা কাঁচের চশমা নাকের ওপর একটুখানি ঠেলে দেন। তারপর ডানদিকের জ্বতে ছোট বড় তিনটে গিঁট ফেলে বললেন, কী ভাবে?

    স্ত্রী বুঝতে পারেন, সাহেব রেগে গেছেন। রেগে গেলে তার ডানদিকের জতে ছোট বড় তিনটে গিঁট পড়ে। গলার স্বর অচেনা হয়ে যায়।

    স্ত্রী আর কথা বলেন না। সাহেব বললেন, যতক্ষণ কাছারিতে থাকি, আমি ততক্ষণ এসডিও। বাইরে আমি একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত বাঙালি। লোকের ভাবাভাবিতে আমার কিছু এসে যায় না। এসডিও হয়েছি বলে, নিজের বাড়িতেও কি আমি আমার প্রিয় অভ্যেসগুলো পালন করতে পারব না! তাছাড়া লুঙি পরে, বিকেলবেলা একা একা বাগানে বসে চা সিগ্রেট খাওয়ার সুখ আমি ছাড়া কে বোঝে।

    প্রথম প্রথম স্ত্রী দুএকদিন তার সঙ্গে বাগানে গিয়ে বসেছেন। কিন্তু বসেই টের পেয়েছেন সাহেব তার উপস্থিতি পছন্দ করেন না, কিন্তু সাহেব মুখে কিছুই বলেননি। মেয়েমানুষেরা চিরকালই মেয়েমানুষ বলে এসব ব্যাপার বুঝতে পারে। সাহেবের স্ত্রীও বুঝতে পেরেছিলেন। তারপর আর কখনো যাননি। বিকেলবেলা দোতলার রেলিঙে দাঁড়িয়ে মাঝেমধ্যে স্বামীকে দেখেন। একাকী বাগানে বসে আছে কিংবা পায়চারি করছে, চা সিগ্রেট খাচ্ছে। এতকালের চেনা লোকটাকে তখন যে কী অচেনা মনে হয়! এই লোকটাই তাঁর সন্তানের পিতা। বিকেলবেলা রেলিঙে দাঁড়িয়ে প্রায়ই তার এই কথাটা মনে হয়।

    এই শহরে আসার কিছুদিন পরে, স্কুল থেকে ফিরে মেয়ে রাণী একদিন বলল, মা জানো বাবা কী করেছেন?

    কী?

    পেশকার সাহেব তাঁর মেয়েকে নাটকে পার্ট করতে দেবেন না বলে বাবা নাকি তাঁকে খুব বকেছেন। এই নিয়ে স্কুলের মেয়েরা, আপারা খুব হাসাহাসি করেছে আজ। দু একজনকে বলতে শুনলাম, এসডিও সাহেবের মাথায় ছিট আছে।

    রাতেরবেলা কথাটা বলতেই এসডিও সাহেব রেগে গেলেন। ডানদিকের জাতে তিনটে গিঁট ফেলে বললেন, মেয়েটার পার্ট করার খুব ইচ্ছে, বুঝেছ। স্কুলে কয়েকবার করেছেও। একবার নাকি বেগম রোকেয়ার চরিত্রে চমৎকার পার্ট করেছিল। তাছাড়া নীলকণ্ঠবাবুরা এবার যে নাটকটা করছে, তার নায়িকার পার্ট ঐ মেয়ে ছাড়া আর কাউকে দিয়ে হবে না।

    স্ত্রী গম্ভীর গলায় বললেন, হোক না হোক তাতে তোমার কী?

    এ কথায় সাহেব ভীষণ অবাক হয়ে যান। কী বলছ, আমি তো নীলকণ্ঠবাবুদের উপদেষ্টা। ওদের নাটকটি যাতে ভালোভাবে হয়, তা আমি দেখব না! তাছাড়া মেয়েটার যদি উৎসাহ না থাকত তাহলে অন্য কথা। ওর ইচ্ছে তো ষোলোআনা। নীলকণ্ঠবাবু বলার সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়েছে। বলেছে, বাবাকে বলবেন। কিন্তু পেশকার সাহেবকে বলায়, তিনি পারলে নীলকণ্ঠবাবুকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বিদেয় করেন। তখন বাধ্য হয়েই আমি—

    এসডিও সাহেব একটু থামেন। তারপর কথা নেই বার্তা নেই হো হো করে হেসে ওঠেন। বুঝলে, পেশকার সাহেবকে কীরকম ম্যানেজ করলাম। লোকটার ঘুষফুষ খাওয়ার অভ্যেস। আমি এখানে আসার পরপরই কিছু কাগজপত্র হাতে এসেছে। প্রমাণাদি। সেগুলো হাতে নিয়ে ধীর গলায় বললাম, পেশকার সাহেব চাকরিটা করার ইচ্ছে থাকলে আজ থেকে মেয়েকে রিহার্সেলে পাঠিয়ে দেবেন।

    তারপর আবার সেই হাসি। প্রাণখোলা। দেখে স্ত্রী সেই মুহূর্তে আরেকবার ভেবেছেন, সত্যি কি এই লোকটা তার সন্তানের পিতা!

    সেই নাটকের টাকা-পয়সাও জোগাড় করে দিয়েছিলেন এসডিও সাহেব। কোর্ট থেকেই টাকা উঠেছিল বেশি। যাকে যাকে জামিন দিয়েছেন, তাদের উকিলদের বলেছেন, জামিন দিলাম। কিন্তু একটা কথা আছে আমার। নীলকণ্ঠবাবুদের নাটকে পঞ্চাশ টাকা চাঁদা দেবেন।

    সেই নাটক স্ত্রীকন্যা নিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন এসডিও সাহেব। মফঃস্বল শহরের নাটক ইত্যাদি শুরু হয় রাত আটটার পর। চলে রাত একটা দুটো অব্দি। এই ব্যাপারটা স্ত্রীর খুব অপছন্দ। তিনি যেতে চাননি। বলেছিলেন, রাণীকে নিয়ে তুমি যাও।

    শুনে সাহেবের ডান ভ্রূতে সেই তিনটে ছোটবড় গিঁট। দেখে স্ত্রী আর আপত্তি করেননি। কিন্তু এই লোকের সঙ্গে কে যায় নাটকফাটক দেখতে। মফঃস্বল শহরের ওই নাটক, ছেলেপানদের পার্ট, তাই দেখে কী খুশি সাহেব! তিন চারটে সিন রিপিট করিয়েছেন। নাটক চলছে, একটা সিন শেষ হয়েছে, সামনের সারি থেকে অমনি চেঁচিয়ে উঠলেন সাহেব, আহা এই সিনটা বড় চমৎকার হয়েছে। রিপিট করো।

    আবার শুরু হল পুরোনো সিন। এইভাবে তিন চারবার। দেখে পাবলিক তো বিরক্ত হয়েছেই, স্ত্রী কন্যাও কম হয়নি। কিন্তু কারও কিছু বলার নেই।

    এই তো গেল এক উৎপাত। সবচে বাজে ব্যাপারটা ছিল, হাতে একটা বেত নিয়ে বসেছিলেন সাহেব। মঞ্চের সামনে, মেঝেতে বাচ্চাকাচ্চারা বসেছিল। অকারণে তারা তো চেঁচামেচি করবেই। আর তাতেই সাহেবের মাথা গরম। প্রায়ই বেত হাতে দাঁড়িয়ে পড়েন। দুচার ঘা লাগিয়ে দেন। তখন তাকে দেখায় পাঠশালার পণ্ডিত মশায়দের মতো। ওই শ্রেণীর লোকদের স্ত্রীর খুব অপছন্দ।

    তারপরও মাসে মাসে নাটক হয় শহরে। সাহেব হলেন বড় উদ্যোক্তা। প্রায়ই রিহার্সেল দেখতে যান। চাঁদাফাদা তুলে দেন। আর নাটকের দিন তো তিনিই সব। কিন্তু স্ত্রী আর যান না। কোনও না কোনও অছিলায় বাড়ি থাকেন। কষ্টটা যায় রাণীর ওপর দিয়ে।

    কিন্তু সবচে বাজে কাজটা সাহেব করলেন কিছুদিন আগে। শহরের কলেজে পড়া মুসলমান একটা ছেলের সঙ্গে কবিরাজ বেণীমাধববাবুর বড় মেয়ের প্রেম। শহরের সবাই জানে। কিন্তু হিন্দু মুসলমানের প্রেম, ব্যাপারটা কেউ ভালো চোখে দেখে না। কিন্তু দুজনেই ডেসপারেট। বিয়ে করবেই।

    এসব শুনে কবিরাজ মশাই দুতিনবার মেয়েকে কোলকাতা পাঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। বারবারই ছেলেটা তার দলবল নিয়ে স্টেশানে গিয়ে উপস্থিত হয়। উপায় না দেখে কবিরাজ মশায় কেস করেন।

    একদিকে ছেলের বাপও খুব রেগে গেছে ছেলের ওপর। সে ছেলেকে ত্যাজ্যপুত্র করবে, কাছারিতে গেছে।

    এসডিও সাহেব ঘটনাটা আগেই শুনেছিলেন। ছেলেটা নাটকফাটক করে। তার কাছে। গিয়ে কেঁদে পড়েছে, ওকে ছাড়া আমি বাঁচব না স্যার।

    এসডিও সাহেব একদিন সকালে কাছারিতে গিয়েই কবিরাজ মশায় আর ছেলের বাপ দুজনকেই পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে এনেছেন। এনে সোজা হাজতে ভরেছেন। তারপর নিজে টাউন হলে কাজি ডাকিয়ে, শহরের আরো দুচারজন নিয়ে বিয়ে পড়িয়ে দিলেন। মিষ্টি কেনার টাকা আর কাজির খরচ ছেলেটার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, নিশ্চিন্তে সব করো। দুজনকেই আমি হাজতে আটকে রেখেছি। বিয়ে শেষ হলেই ছাড়া পেয়ে যাবে। আমি বলে দিয়ে এসেছি।

    সেই বিকেলে কী যে হৈ চৈ শহরে। ছেলে ছোঁকরারা সাহেবের খুব ভক্ত হয়ে গেল। শোনা যায়, ছেলের বাপ আর কবিরাজ মশায়কেও নাকি সেই বিয়ের মিষ্টি খাইয়ে ছেড়েছেন সাহেব। কিন্তু এসবের ফলে এসডিও সাহেবের বাসায় ছোট্ট একটা সমস্যার সৃষ্টি হয়। স্ত্রী তার সঙ্গে কয়েকদিন কথা বলেন না।

    তিন চারদিন দেখে সাহেব একদিন নিজেই স্ত্রীকে বললেন, তুমি অযথা রাগ করে আছ। আমি কোনও অধর্ম করিনি, কোনও পাপ করিনি। সত্যিকারের প্রেমই তো বড় ধর্ম। ওরা দুজন দুজনকে ছাড়া বাঁচবে না। তোক হিন্দু মুসলমান। আমি দুজনকে মিলিয়ে দিয়েছি।

    সেই সাহেব এখন এই শেষ বিকেলে অস্থিরভাবে বাগানে পায়চারি করছেন। পরনে আশি সুতোর মিহি লুঙি, গায়ে স্যান্ডো গেঞ্জি। হাতে সিগ্রেট জ্বলছে। আর ঘুরে ঘুরে চায়ের টেবিলের সামনে গিয়ে শ্রীনাথ রিকশাঅলার জন্যে অপেক্ষা করছেন। আজ পূর্ণিমা। শ্রীনাথকে সকালবেলা বলে রেখেছেন, সন্ধ্যেবেলা তার রিকশা চড়ে শহরের বাইরে যাবেন পূর্ণিমা দেখতে। বহুকাল খোলা আকাশের তলায় দাঁড়িয়ে পূর্ণিমা দেখা হয়নি তার।

    কিন্তু শ্রীনাথ হারামজাদা আসছে না কেন? সন্ধ্যে হয়ে এল!

    সাহেব আবার একটা সিগ্রেট ধরান। কেটলি থেকে ঠাণ্ডা চা ঢালেন কাপে। তারপর পায়চারি করতে করতে কাপে চুমুক দেন।

    তখন কোয়ার্টারের পেছনে মরা ব্রহ্মপুত্র তার ওপারে শস্যের যে উদার মাঠ, সেই জায়গাটা ভেঙেচুরে পূর্ণিমার চাঁদ আকাশে ওঠে আসে। ওঠেই লক্ষকোটি জ্যোত্সর রেখা পাঠিয়ে দেয় শহরের ওপর। মরা ব্রহ্মপুত্রের পুরোনো হাওয়াটা সেই মুহূর্তে একটুখানি জোরদার হয়। জ্যোৎস্নার রেখা বয়ে আনে এসডিও সাহেবের বাগানে। চা খেতে খেতে দৃশ্যই দেখেন সাহেব, দেখে মাথা খারাপ হয়ে যায় তার। এই রকম একটা। দৃশ্যই আজ শহরের বাইরে, ভোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে দেখার ইচ্ছে ছিল। সকালবেলা শ্রীনাথকে বলে রেখেছিলেন।

    কিন্তু শ্রীনাথ হারামজাদাটা এখনো আসছে না। সাহেব ঘন ঘন সিগ্রেটে টান দেন। প্রচণ্ড রেগে গেলে যা হয় তার।

    তখন নিঃশব্দে শ্রীনাথের রিকশা এসে দাঁড়িয়েছে বাগানের ওপারে। গাছপালার ফাঁক ফোকর দিয়ে বুড়ো শ্ৰীনাথকে দেখতে পান সাহেব। খালি গা, কোমরের তলায় কোরা ধুতিটা লুঙির মতো করে পরা। আর শ্রীনাথের কোমরে যে ময়লা গামছাটা দিনমান বাঁধা থাকে, সেটা এখন তার হাতে। শ্রীনাথ কি খুব ক্লান্ত! বহুদূর থেকে রিকশা চালিয়ে এসেছে!

    গাছপালার আড়াল থেকে সাহেব দেখেন শ্রীনাথের বুকের হাড় শ্বাস-প্রশ্বাসের তালে খেলা করছে। দাড়িগোঁফঅলা কালো মুখটা হা করে ব্রহ্মপুত্রের পুরোনো হাওয়া খাচ্ছে শ্রীনাথ। জলের মতো স্বচ্ছ জ্যোৎস্নায়ও শ্রীনাথের চোখ দেখা যায় না। দু খাবলা অন্ধকার জমে আছে দুচোখে। হাওয়ায় বুড়ো শ্রীনাথের পাতলা চুল ফুরফুর করে ওড়ে। দেখে সাহেব তার যাবতীয় রাগের কথা ভুলে যান। পূর্ণিমা দেখতে যাবেন শ্রীনাথকে বলে রেখেছিলেন, ভুলে যান। মনে মনে এই মুহূর্তে সাহেব কেবল একটা কথাই বলেন, ভাই আমার ভাই।

    তারপর আশি সুতোর মিহি লুঙি পরা, গায়ে স্যান্ডো গেঞ্জি, সাহেব গিয়ে দাঁড়ান শ্রীনাথের রিকশার সামনে। লুঙি গেঞ্জি পরে তিনি কখনো গেটের বাইরে যান না, একথা তাঁর মনে থাকে না।

    সাহেবকে দেখেই সিট থেকে লাফিয়ে নেমেছে শ্রীনাথ। দেরি হইয়া গেছে সাব। ক্ষমা কইরেন। ম্যালা দূরে গেছিলাম।

    সাহেবের ঠিকই সেই মুহূর্তে, পুর্ণিমা দেখতে যাবেন মনে পড়ে। কথা না বলে তিনি রিকশায় ওঠে বসেন।

    গেঞ্জি গায়ে লুঙি পরা সাহেবকে রিকশায় ওঠতে দেখে শ্রীনাথ খুব অবাক। আগেই খানিকটা হয়েছিল। দেরি করেছে, সাহেব তাকে একটুও বকল না যে! আবার এখন যে খালি গায়েই রিকশায় ওঠে! তবুও শ্রীনাথের কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস হয় না। সিটে বসে জিজ্ঞেস করে, টাউনের বাইরে যামু সাব?

    সাহেব গম্ভীর গলায় বললেন, যা।

    তখন জ্যোৎস্নায় ধুয়ে যাচ্ছে শহর। রাস্তার আলোগুলো জ্যোৎস্নায় মার খেয়ে পিটপিট করে জ্বলছে। দেখে ভীষণ বিরক্ত হন সাহেব। মনে মনে ইলেকট্রিক সাপ্লাইয়ের লোকজনের ওপর বেজায় চটে যান তিনি। এই রকম জ্যোৎস্নায় ইলেকট্রিসিটির দরকার কী! কালই অর্ডার দিতে হবে পূর্ণিমা রাতে যেন শহরের রাস্তাঘাটে ইলেকট্রিসিটি না থাকে। অযথা অপচয়।

    কিন্তু ততক্ষণ সারা শহরে খবর হয়ে গেছে, এসডিও সাহেব গেঞ্জি গায়ে রিকশা করে বেরিয়েছেন, রাস্তার দুপাশ থেকে বাড়িঘর থেকে, মুদিমনোহারি, পান-বিড়ি-সিগ্রেট চায়ের দোকান, ডিসপেনসারি, লাইব্রেরি থেকে লোকজন সব অবাক হয়ে এসডিও সাহেবকে দেখছে। কেউ কেউ সালাম দিচ্ছে। সাহেব এসবের কিছুই দেখছেন না। . সালাম নিচ্ছেন না। কেবল মোটা কাঁচের ভেতর থেকে চাঁদ দেখছেন, জ্যোৎস্না দেখছেন।

    ব্যাপারটা খেয়াল করছিল শ্রীনাথ। সাহেবকে দেখে পাবলিক মজা পাচ্ছে। গেঞ্জি গায়ে, লুঙি পরা এসডিও সাহেব রিকশা চেপে শহরে বেরিয়েছেন এমন মজার দৃশ্য যেন জগতে আর নেই। কথাটা ভেবে শ্রীনাথ খুব বিরক্ত হয়। সওয়ারি হল গিয়ে দেবতা। দেবতাকে দেখে লোকে হাসাহাসি করবে শ্রীনাথ তা সয় কেমন করে। সারা দিনের ক্লান্ত শরীর। জোর বল নেই গায়ে। বয়স। রিকশা চালাতে পা টনটনায়, অবশ হয়ে আসে। তবুও প্রাণপণে হাওয়ার বেগে রিকশা চালায় শ্রীনাথ। পাপিষ্ঠদের চোখ থেকে যত দ্রুত নিকেশ হওয়া যায়।

    মুন্সেফ কোর্ট ছাড়িয়ে একটা সিনেমা হল। সবে ইভিনিং শো শুরু হয়েছে। রিকশা হলের পাশ দিয়ে যাচ্ছে, কথা নেই বার্তা নেই হৈচৈ করে যাবতীয় লোকজন হল ছেড়ে রাস্তায়।

    শ্রীনাথ বুঝতে পারে, সিনেমার দৃশ্যের চেয়েও মজার দৃশ্য রাস্তায়, সেই দৃশ্য দেখতে লোকজন সব বেরিয়ে আসছে।

    কিন্তু সাহেব কি এসবের কিছু খেয়াল করেন? করেন না। করে শ্রীনাথ। আর রাগে জ্বলে যায়। সওয়ারি হল দেবতা। দেবতার অপমান শ্ৰীনাথ সইতে পারে না। বুড়ো শরীরের যাবতীয় শক্তি দুপায়ে এনে রিকশা চালায়। মুহূর্তে পেরিয়ে যায় জায়গাটা।

    শহরের শেষপ্রান্তে পাকা বড় রাস্তাটা যেখানে শেষ, সেখানে হাসপাতাল। রিকশা সেখানে আসতেই সাহেব আকাশের দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে অবাক হয়ে হাসপাতাল বিল্ডিংটা দেখেন। শাদা বিল্ডিঙে জ্যোত্সা পড়ে কী যে একটা দৃশ্য! রূপকথার ঘুমন্ত রাজপুরী মনে হয়! ভেতরে কি সোনার কাঠি রুপোর কাঠি শিয়রে রাজকন্যা ঘুমিয়ে আছে! সাহেব ছেলেমানুষের মতো এই কথাটা ভাবেন। তারপরই চমকে ওঠেন। চিনতে পারেন, এটা হাসপাতাল। মনটা খারাপ হয়ে যায়। আহা, শরীরে অসুখ নিয়ে মানুষেরা শুয়ে আছে ওখানে! কষ্ট যন্ত্রণায় কাতর হয়ে আছে। রোগকাতর মানুষের উদ্দেশ্যে যিশুখৃস্টের মতো অস্পষ্ট স্বরে সাহেব তারপর বললেন, ঈশ্বর উহাদের পরিত্রাণ করুন।

    শ্রীনাথ বলল, এইবার কুন দিকে যামু সাব? পাকা রাস্তা তো এহেনেঐ শেষ!

    জ্যোত্সায় সাহেব দেখেন বুড়ো শ্রীনাথ ক্লান্তিতে ভেঙেচুরে যাচ্ছে।

    দুটো কথা সম্পূর্ণ করতে চারবার শ্বাস টেনেছে।

    সাহেব বললেন, শহরের বাইরে যাওয়ার পথ নেইরে শ্রীনাথ?

    আছে সাব। কাঁচা। ঝাঁকানি লাগব আপনের।

    লাগুক। তুই যা।

    রিকশা থেকে নেমে আস্তেধীরে রিকশাটা হাতে টেনে নেয় শ্রীনাথ।

    কাঁচা রাস্তায় নামায়। তারপর আবার রিকশায় ওঠে।

    সাহেব দেখেন, শহরের বাইরে উদার শস্যের মাঠ প্রান্তর অব্দি। তাতে নিজের যাবতীয় জ্যোৎস্না ঢেলে দিয়েছে চাঁদ। আর চিরকালের পরোনো হাওয়াটা তো আছেই। এখন জ্যোত্সায় শস্যের মাঠে দুরন্ত শিশুর মতো লুটোপুটি খাচ্ছে।

    সাহেব অস্পষ্ট স্বরে বললেন, আহা!

    শ্রীনাথ সে সময় খুকখুক করে খানিক কাশে। সাহেব শোনেন শ্রীনাথের গলায় সারা জীবনের ক্লান্তি। তারপর হঠাৎই চমকে ওঠেন তিনি। আহা, ভাই আমার ভাই। আমাকে এই এতদূর টেনে এনেছো। আমি মূঢ় তোমার কষ্ট বুঝিনি।

    তারপরই চেঁচিয়ে ওঠেন সাহেব। শ্রীনাথ তুই পেছনের সিটে যা।

    শুনে শ্রীনাথ হাসে। কেন সাব?

    তুই তো আমাকে অনেক দূর নিয়ে এলি, এবার আমি তোকে খানিক দূর নিই।

    শ্রীনাথ মূর্খ। প্যাচানো কথা বোঝে না। বলল, কী কন সাব?

    তুই আরাম করে পেছনে বস। আমি রিকশা চালাই।

    শুনে আঁতকে ওঠে শ্রীনাথ। হায় হায় কন কী সাব! আমার কুন দোষ অইছে! আস্তে চালাইছি! আপনে বহেন। দেহেন এহন কেমুন জোরে চালাই।

    সাহেব হাসেন। না না ওসব কিছু না। তুই পেছনে বোস।

    শ্রীনাথ কিছু বুঝতে পারে না। সিট থেকে নেমে কাচুমাচু হয়ে সাহেবের সামনে দাঁড়ায়।

    সাব আমার অপরাধ অইছে? আপনে রাগ করেছেন?

    আরে না পাগল। তুই বোস। আমি চালাই। তুই তো অনেকক্ষণ চালালি। তাছাড়া নিজে তো সারাজীবন মানুষ টেনে গেলি, আজ কেউ তোকে টানুক।

    এবার কথাটা বোঝে শ্রীনাথ। বুঝে হা হা করে ওঠে। এইডা অয় না সাব। ভগবান মানুষরে এমুন কইরাঐ পয়দা করছে। কেঐ চিরদিন টাইন্না যায়, আর কেঐ যায় বইয়া আপনে বহেন।

    একথায় সাহেব একটু রেগে যান। গলা ভারি করে বলেন, শ্রীনাথ যা বলছি কর।

    তারপর লুঙিটা হাটুর ওপর তুলে পরেন। চশমাটা খুলে দেন শ্রীনাথের হাতে। এটা চোখে পরে বোস। আর তোর গামছাটা দে আমাকে।

    শ্রীনাথ কিছুই বুঝতে পারে না। বোকার মতো চশমাটা পরে। আর গামছাটা খুলে দেয় সাহেবের হাতেই। তারপর জবুথবু হয়ে পেছনের সিটে ওঠে বসে। সাহেবের পুরু কাঁচের চশমা তার চোখে। সেই চোখে এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবকিছু অন্যরকম দেখে শ্রীনাথ।

    শ্রীনাথের গামছাটা শ্রীনাথের মতো করে কোমরে বাঁধে সাহেব। তারপর রিকশা চালাতে শুরু করেন। প্রথম কয়েকটি প্যাডেল মারতে তার একটু অসুবিধা হয়। হ্যাঁন্ডেল এদিক ওদিক ঘুরে যায়। তাই দেখে শ্রীনাথ হাসে। নামেন, পারবেন না সাব। যার কাম তারে করতে দেন। আমি রিকশায় বইয়া থাকুম আর আপনে রিকশা চালাইবেন, ভগবান সইব না।

    সাহেব ততক্ষণে কায়দাটা শিখে ফেলেছেন। এখন আস্তেধীরে চালিয়ে যাচ্ছেন। চোখে তার চশমা নেই। চশমা ছাড়া পৃথিবীটা তিনি খুব অন্যরকম দেখেন। দুপাশে শস্যের মাঠ। তাতে নীল জ্যোৎস্না উপুড় হয়ে পড়েছে। আবহমান হাওয়াটা আছেই। শস্যচারা আর জ্যোৎস্নার উপর লুটোপুটি খাচ্ছে। এসবের মাঝমধ্যিখান দিয়া সাদা পথ। কোথায় কোন দূরে যে চলে গেছে। সেই পথে রিকশা চালান এসডিও সাহেব। পেছনের সিটে চশমা চোখে শ্রীনাথ। পৃথিবীটা সে এখন খুব অন্যরকম দেখছে।

    সাহেব বললেন, শ্রীনাথ আজ তোর ভগবানের সঙ্গে দেখা করব।

    চশমা পরা চোখে মাঠের দিকে তাকিয়ে থাকে শ্রীনাথ। কথা বলে না। শস্যের মাঠে, আবহমান হাওয়ায় আর জ্যোৎস্নায় ভগবান যে কোথায় লুকিয়ে আছেন, দুজন মানুষের কেউ তা জানে না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনূরজাহান – ইমদাদুল হক মিলন
    Next Article প্রিয় – ইমদাদুল হক মিলন

    Related Articles

    ইমদাদুল হক মিলন

    ইমদাদুল হক মিলনের বিবিধ রচনা

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    অন্তরে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    এসো – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    গোপনে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    দুই বাংলার দাম্পত্য কলহের শত কাহিনী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও ইমদাদুল হক মিলন সম্পাদিত

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }