Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শ্রেষ্ঠ গল্প – ইমদাদুল হক মিলন

    ইমদাদুল হক মিলন এক পাতা গল্প513 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বদ্যিবুড়োর জীবনকথা

    বারবাড়ির সামনে একটা নাড়ার পালা। ধান মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। এখন ক্ষেতখোলা সাফ করার সময়। পোলারা সারাদিন ক্ষেত সাফ করে। নাড়া তুলে এনে বারবাড়ির সামনে পালা দেয়। সকালে ক্ষেতে যাওয়ার সময় বুড়ো বাপ বদ্যিকে ধরে এনে নাড়ার পালার সামনে বসিয়ে দিয়ে যায়।

    নিজে আজকাল হাঁটাচলা করতে পারে না বদ্যিবুড়ো। পোলারা, পোলাদের বউরা নয়তো নাতিনাতকুররা ধরে ধরে ঘরের বার করে। ভেতরে নেয়। আর দিনে সতেরবার বুইড়ার মরণ নাই, বুইড়ারে আল্লায় চোক্কে দেহে না বলে গাল দেয়।

    সংসারে এখন বাড়তি মানুষ বদ্যিবুড়ো। বয়স হয়েছে তিন কুড়ির ওপর। অকেজো হয়েছে একযুগ আগে। কী একটা কঠিন ব্যারাম হয়েছিল বদ্যিবুডোর। এখন মরে, তখন মরে অবস্থা। টানা দেড় বছর পাটাতনের ওপর পড়ে থাকল। তারপর আস্তেধীরে সেরে উঠল একদিন। গতরখান তখন আর নেই বদ্যির। চুল দাড়ি পেকে পাটের আঁশ, দাঁত পড়ে মুখটা ফোকলা, কান দুটো গেছে বয়রা হয়ে, চোখে পড়েছে মোটা ছানি। গায়ের চামড়া এত ঝুলে গেছে বদ্যির, জোরে বাতাস দিলে জলের মতন চামড়ার ওপর ঢেউ খেলে। রুজিরোজগারের পথটা বন্ধ হয়ে যায় বদ্যির। পোলাদের মাথায় ধানের বস্তার মতো চেপে বেঁচে থাকে সে।

    ততদিনে সংসারের সবাই বদ্যির শত্রু। পোলারা, বউরা এমনকি আণ্ডাবাচ্চা নাতি নাতকুরগুলোও সইতে পারে না বদ্যিকে। অচল মানুষ টানাহ্যাঁচড়া করে, হেগেমুতে ঘর দোর নষ্ট করে সেসব সাফ করা, হাতে ধরে নাওয়া খাওয়াও, কে অত ঝামেলা সইবে! তার ওপর কানের সামনে টিকারা বাজলেও শব্দ পাবে না বদ্যি। চোখের সামনে ক্ষেমটা নাচ হলেও দেখতে পাবে না, এই মানুষের মরণ ছাড়া কে কী চাইবে সংসারে।

    কিন্তু বদ্যিবুড়োর মরণ নেই। ধুকেধুকে এখন বেঁচে আছে মানুষটা। সারাদিন খ্যাক খ্যাক করে কাশে, জামরুলের মতো দলা দলা কফ ফেলে বাড়িঘর নষ্ট করে, গোঁফ দাড়িতে মাখামাখি হয়, কে অত সাফ করবে! তাই সকালবেলা বারবাড়ির সামনে নাড়ার পালার ছায়ায় বসিয়ে রাখা হয় মানুষটাকে। গায়ে তেনাটা পর্যন্ত নেই। ন্যাংটোভুতুম বদ্যিবুড়ো ধুলোবালির ওপর বসে দিন কাটায়। পেলে খায়, না পেলে চেঁচিয়ে পোলাদের, বউদের গালাগাল করে। কখনো মনের দুঃখে বুক চাপড়ে, কপাল চাপড়ে কাঁদে। বুড়োকালে এই দুঃখু আর সয়না আল্লা। লইয়া যাও, আমারে তুমি লইয়া যাও।

    এসব শুনে ভেতর বাড়ি থেকে বউরা টিপ্পনী দেয়, নিলে তো বাঁচতাম। জানডা আরাম পাইত।

    তয় বয়সকালে বেডা আছিল একখান বদ্যি। ওঝা মানুষ। গাইগরুর চিকিৎসা করত। দশ গেরামে বদ্যির নামডাক আছিল। মইরা যায় যায় এমন গাইগরুও খাড়া কইরা হালাইছে বদ্যি। মাইনষে খাতির করত। টাকা-পয়সা দিত। বাগানের ফল পাকুরটা দিত, তরিতরকারিটা দিত।

    টোটকাফাটকা ওষুধ দিত বদ্যি। ফেন খৈলের সঙ্গে ব্যারামি গাইগরুকে খাওয়াত বনেলা গাছের শিকড়বাকড়। পানিপড়া দিত, মন্ত্র পড়ে ফুঁ দিত। বদ্যির চিকিৎসার পর কোন গাইগরু মারা পড়ছে এমুন কথা দশ গেরামের মাইনষে শোনে নাই।

    কাজটা বদ্যি শিখেছিল ধাইদার কাদের খাঁর কাছে। ওঝা আছিল একখান কাদের খাঁ। তল্লাটে বেজায় নাম আছিল মানুষটার। কত ব্যারামের চিকিৎসা যে জানত। ভূতপেত্নির আছর ছাড়াতে জানত, বান জানত বায়ান্ন জোড়া, ফিরানী জানত। টোনা সেরও জানত! লোকের ভালোটা মন্দটা সবই করত।

    জোয়ান বয়সে কাদের খাঁর নাম শোনে বদ্যি। তল্লাটে জুড়ে তখন কাদের খাঁর নামডাক। বিশ-তিরিশ মাইল পথ ভেঙে লোক যেত কাদের খাঁর কাছে ওষুধবিষুধ আনতে, পানি পড়া আনতে, বানের ফিরানী আনতে। দিনরাত বাড়ি ভর্তি লোক থাকত কাদের খাঁর। আর চারদিকের মাটিতে দলবেঁধে বসে থাকত মানুষ। মরদ, মাইয়া মানুষ।

    নূরানি চেহারা আছিল কাদের খাঁর। মুখে হাসিখান লাইগা থাকত। রাইত দুইফরে গিয়া ডাকলেও ফিরাইত না মাইনষেরে। হাসি মুখে কাম কইরা দিত।

    কাদের খাঁর কাছে বদ্যি গিয়েছিল মন্দের ভাগী হয়ে। বিলের এক কানি জমি নিয়ে বদ্যির বাপের আমল থেকে কন্দিপাড়ার মাজেদ দেওয়ানের সঙ্গে গণ্ডগোল ছিল। জমিটা জবরদখল করে রেখেছিল মাজেদ দেওয়ান। সেই আমলে মামলামোকদ্দমায় যেত না। লোকে। বদ্যির বাপও যায়নি। লাঠিসড়কি নিয়ে মারামারি করেছিল বার কয়েক। শেষবার নিজেই সড়কির পার খেয়ে এল বদ্যির বাপ। সেই পাড়েই মরল। তিন চারমাস ভুগে।

    বদ্যির তখন জোয়ান বয়েস। বাপের এক পোলা। মা মেয়েমানুষটা বদ্যির ছিল দুনিয়ার ডরহিয়াইল্লা। জমির দখল নিতে গিয়ে পতি মরছে মরুক। পুতটা যেন না মরে। জমি দিয়া কাম নাই। পোলাডা আমার বাঁইচা থাউক।

    বদ্যিকে দিনরাত আগলে রাখত মা। চোখে চোখে রাখত, আড়াল হতে দিত না।

    কিন্তু বদ্যির ভেতর তখন আগুন জ্বলছে। এক কানি জমি তাও ধানি বিলে। এক মৌসুমে যে ধান হয়, তাতে সংসারের এক বছরের ব্যবস্থা হয়ে যায় মাজেদ দেওয়ানের। জমিটা বদ্যির হাতে গেলে দুনিয়াতে আর কিছু চাওয়ার নেই বদ্যির। হেসে, খেলে একটা জীবন কেটে যাবে। বদ্যি তখন জমিটা পাওয়ার লোভে ভেতরে ভেতরে পাগল হয়ে উঠেছে। লোক বলে, লাঠি বলে মাজেদ দেওয়ানের সঙ্গে বদ্যি পারবে না। জমিটা। পেতে হলে তাকে ধরতে হবে অন্য পথ। সেটা কোন পথ?

    টোনা সের করে মাজেদ দেওয়ানের বংশ নির্বংশ করতে হবে। বান মেরে মাজেদ দেওয়ানের গলা দিয়ে রক্ত তুলে মারতে হবে। একে একে মাজেদ দেওয়ানের সাত পোলাকেও খতম করতে হবে।

    এক দুপুরে সাত মাইল পথ ভেঙে বদ্যি ধাইদা, কাদের খাঁর বাড়ি গিয়া হাজির। মানুষটার চারদিকে তখন ম্যালা লোকজনের ভিড়। চৌকিতে বসে একেকজনকে একেক কিসিমের রোগব্যারামের চিকিৎসা দিচ্ছে কাদের খাঁ। বদ্যি গিয়ে পা জড়িয়ে ধরল তার। তারপর হাউমাউ কান্না, আমারে বাঁচান ফকির।

    কাদের খাঁ, দেড় মণি ডেগের ভেতর মুখ দিয়ে কথা বললে যেমন শব্দ হয় তেমন শব্দে বলল, বাজান, কী অইছে তর?

    বদ্যি ইনিয়েবিনিয়ে ঘটনাটা বলল। শুনে কাদের খাঁ হাসে। তুই আমারে কী করতে কস?

    বান মাইরা দেওয়ানের বংশ নির্বশ কইরা দেন! জমিনডা আমারে ব্যবস্থা কইরা দেন। আমি আর কিছু চাই না। টেকা-পয়সা যা লাগে দিমু। আপনে কইলে ক্ষেতখোলা যা আছে বেবাক বেইচা দিমু।

    কাদের খাঁ আবার হাসে। তারপর বলে, তুই আমার বাইত্তে দুইদিন বেড়া। চাই ডাইলবাত খা। দেহি কী করন যায়।

    বদ্যি থেকে গেল।

    পরদিন বিয়ান রাতে বদ্যিকে ডেকে তুলল কাদের খাঁ। ডেকে উঠোনে নিয়ে গেল। তারপর নিজ হাতে পশ্চিমের ঝোপ থেকে কেটে আনল লম্বা একটা বিচিকলার পাতা। পাতাটা উঠোনের সাদা মাটিতে রেখে নিজে গিয়ে বসল তার সামনে। বদ্যিকে বসাল। তারপর বলল, আয় তরে একখান খেইল দেহাই।

    বলে কী সব মন্ত্র পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাটির ওপর লাফাতে শুরু করেছে কলাপাতাটা। লাফাতে লাফাতে সবুজ কলাপাতা গেল খয়েরি হয়ে। কাদের খাঁ বলল, কী বুঝলি বদ্যি?

    বদ্যির তখন দমবন্ধ। কথা বলতে পারে না। দেখে কাদের খাঁ ঠাটা পড়ার মতো হাসে। খালি একখান বান মারছিলাম। এমুন বায়ান্ন জোড়া বান জানি আমি।

    তারপর একটু চুপ করে থেকে বলল, মাইনষের ক্ষতি সহজে আমি করি না; ভালোডাই করি। বান মারলে মাজেদ দেওয়ানের বংশ ছাই অইব। তুই বাইত যা। আল্লায় যা করে মাইনষের ভালার লেইগাই করে। জমিন দিয়া কী অইব! আইজ মরলে কাইল দুইদিন।

    বদ্যি দুঃখি গলায় বলল, খামু কী ফকির? যেডু জমিন আছে, যেডু ফসল অয়, সংসার চলে না।

    কাদের খাঁ বলল, আল্লার দুনিয়ায় কেঐ না খাইয়া থাকে না। রেজেগের মালিক হ্যয়।

    তুইও মরবি না।

    বদ্যি তখন কাদের খাঁর পা জড়িয়ে ধরেছে। আমারে কিছু দেন ফকির। কইরা খাই। শুনে কাদের খাঁ খানিক ঝিম মেরে থাকে। তারপর বলে, একটা চিকিৎসা আমি করি না। তরে দিতে পারি। তয় বহুৎ সাবধান অইয়া করতে অইব, পারবি? পারুম ফকির। কী?

    গরুর ব্যারামের চিকিৎসা। ঐডা করলে আবার হকুনে ধরে। দিন দুইফরে একলা পাইলেই দেকবি কোনহান থনে যেন হকুন আইয়া পড়ছে ঝাকে ঝাকে। তরে ঠোকরাইয়া খাইয়া হালাইব। বুজলি না, গরু না মরলে তো হকুনের খাওনের আকাল পড়ে। তর পেড আছে, হকুনেরও তো পেড আছে। তর খিদা আছে, হেগও তো খিদা আছে। চিকিৎসা কইরা তুই গরু বাচাবি, নিজের পেডখান ভরবি আর হকুনরা থাকব না খাইয়া। ফাঁক পাইলে হেরা তাইলে তরে খাইব না! জীবের মুখের আহার কাইরা লইতে নাই। হের লাইগাঐ চিকিৎসাডা আমি করি না। তুই পায়আতে দরলি যহন তরে দিতে পারি। তয় বহুৎ সাবধানে থাকতে অইব। একলা একলা নিটাল জাগায় যাবি না, দূরের পথ পাড়ি দিবি না, পারবি?

    বদ্যি বলল, পারুম ফকির।

    তারপর পুরো একমাস কাদের খাঁর বাড়ি থেকে গেল বদ্যি। গাইগরুর চিকিৎসাটা শিখেই বাড়ি ফিরল। দিনে দিনে বদ্যির নাম ছড়িয়ে পড়ল দশ গেরামে। বিলের জমির লোভ ততদিনে চলে গেছে বদ্যির। গাইগরুর চিকিৎসা করে বদ্যির আয় বরকত ম্যালা। কে চায় বিলের জমি। তবে কাদের খাঁর একটা কথা কিন্তু ফলেছিল। চিকিৎসা শিখিয়ে কাদের খাঁ আবার সাবধান করেছিল বদ্যিকে। সাবধানে পথ চলিস বদ্যি। শকুনে একলা পেলে ছিঁড়ে খাবে। শকুনের মুখের আহার কেড়ে নিবি। ফাঁক পেলে শকুনে তোকে খাবেই।

    কথাটা পালন করেছিল বদ্যি। কিন্তু মানুষ তো। কতটা সাবধান হতে পারে। একবার বিপাকে পড়েছিল। ঐ একবারই। জশিলদার খনকার বাড়ির একটা গাইগরুর ব্যারাম হল। গাভীন গাই। পেচ্ছাব-পায়খানা বন্ধ হয়ে গেল। খবর পেয়ে বদ্যি গেছে দেখতে। অনেকক্ষণ দেখে ওষুধ দিল, পানিপড়াটা দিল। দিয়ে ঠায় বসে থাকল দুঘণ্টা। দুঘণ্টায় গাইটা পেচ্ছাব করল চারবার। পায়খানা করল চারবার। দেখে খনকাররা বেজায় খুশি। দুপুরে সুপারির সঙ্গে রাখল একখান পাঁচ টাকার কড়কড়ে নোট। টাকাটা ট্র্যাকে খুঁজে পান চিবাতে চিবাতে, বিড়ি টানতে টানতে বাড়ির পথ ধরেছিল বদ্যি। সেদিন আর কাদের খাঁর কথা মনে ছিল না তার। কাদের খাঁ বলেছিল বদ্যিরে সাবধান সাবধান।

    জশিলদা থেকে দোগাছীর কোনাকুনি পথে ধানি বিলটা পড়ে। বিশাল বিল। ধানিজমি, পুকুর ডোবা আর বিলের ঠিক মাঝমধ্যিখানে উঁচু ভিটের ওপর গোরস্থান। গোরস্থানের কোণে বিশাল একটা শিমুল গাছ। বহুদূর থেকে নজরে আসে গাছটা।

    গোরস্তানটা আগে, বহুকাল আগে ছিল একটা বাড়ি। লোকে বলত বিলের বাড়ি। চারদিকে বিল, মাঝখানে বাড়ি। লোক টিকতে পারেনি। ভূতপেত্নি আর চোর, ডাকাতের ভয়। বসতি ছেড়ে কবে ভিটের মালিক পালিয়েছিল কে জানে। পরে দিনে দিনে বাড়িটা হল গোরস্থান। দশ গেরামের মানুষ মাটি পড়ে।

    গোরস্তানের কাছে গভীর কালো জলের একটা দিঘি। নাম কৌপটাহার। দিঘিটা ভালো না। বর্ষার মুখে মুখে বিলে মাছ মারতে বেরিয়ে কত লোক যে এই দিঘিতে ডুবে মরেছে। দিন দুপুরেও দিঘিটার সামনে দিয়ে একা চলতে ভয় পায় লোকে। কখন কনধনাইয়া এসে চুবিয়ে মারবে দিঘিতে।

    সেই দিঘিটার সামনে এসেই বদ্যির মনে পড়েছিল কাদের খাঁর কথা। সঙ্গে সঙ্গে বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠেছিল। হায় হায় করলাম কী এইডা।

    কিন্তু তখন আর কিছু করার নেই। বিলের দুদিকেই প্রায় মাইলখানেক করে দূর গ্রাম। কোনও দিকে ফেরার উপায় নেই। কী করে, বদ্যি কী করে! আল্লা খোদার নাম নিয়ে দ্রুত পা চালায়। দিঘিটা মাত্র পেরিয়েছে বদ্যি, হঠাৎ চারপাশে শোনে শাঁ শাঁ শব্দ। চারদিকের রোদ মুছে দিয়ে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। বদ্যি ভাবে, আকাশে বুঝি মেঘ জমেছে। ঝড়বৃষ্টি নামবে।

    অবাক হয়ে আকাশের দিকে তাকায় বদ্যি। তাকিয়ে মাথা খারাপ হয়ে যায়। সর্বনাশ। ঝড়বৃষ্টি নয়, চারপাশ অন্ধকার করে ঝাঁক বেঁধে আসছে শকুনের দল। কাদের খাঁ বলেছিল, বদ্যিরে সাবধান। হকুনের আহার কাইরা নিবি, বাগে পাইলে হকুনে তরেই ছিঁড়া খাইব।

    বদ্যির আজ সে কথা মনে ছিল না। আজই হকুনে ছিইড়া খাইব বদ্যিরে।

    কিন্তু রাখে আল্লাহ মারে কে! বগলে ছাতাটা ছিল বদ্যির। মোলায়েম রোদে খোলার দরকার হয়নি। বুদ্ধি করে ছাতাটা হাতে নিয়েছিল বদ্যি।

    ততক্ষণে শকুনের পাল নেমে গেছে তার চারপাশে। কি হি কি হি শব্দ করে, লম্বা গলা বাড়িয়ে তেড়ে আসছে বদ্যির চারদিক থেকে। সামনে পেছনে, ডানে বাঁয়ে শয়ে শয়ে শকুন।

    তখুনি ফটাশ করে ছাতাটা সামনের দিকে মেলে ধরে বদ্যি। উকট শব্দে, গোল কালো একখান জিনিশ সামনে দেখে ভয়ে কি হি কি হি শব্দ করে দৌড় লাগায় সামনের দলটা। তারপর আকাশে উড়াল দেয়।

    বদ্যি তখন বুকে বল পেয়ে গেছে। সাহস করে সামনে পেছনে, ডানে বাঁয়ে অবিরাম ফটাশ ফটাশ করে ছাতা ফোঁটায়, বন্ধ করে। আস্তেধীরে শকুনের পাল ভয়ে পালায়। ধানি বিলের ওপর দিয়ে দৌড়ে গিয়ে আকাশে উড়াল দেয়।

    একবার, ঐ একবারই বিপাকে পড়েছিল বদ্যি। তারপর থেকে বড় সাবধানে কাটিয়েছে জীবনটা। কিন্তু জীবের মুখের আহার কেড়ে নেয়ার পাপ বদ্যিকে ছাড়েনি। জোয়ান বয়সে ভাটি পড়তে পড়তেই ব্যারামে পড়ল। ভুগে ভুগে সারা হলো। এখন অথর্ব। যার দাপটে সংসারটা একদিন রাজার হালে চলত, সে এখন সংসারের জঞ্জাল হয়ে বেঁচে আছে। ওঠতে বসতে গঞ্জনা, অভিশাপ। বুইড়া মরে না ক্যা? আল্লায় বুইড়ারে চোক্কে দেহে না!

    বয়রা হয়ে যাওয়া কানে সব কথা যায় না। দু একটা শুনতে পায় বদ্যি। তাতে অনুতাপটা হয়। জীবের মুখের আহার কেড়ে নেয়া, দুনিয়ায় সে বড় পাপকর্ম। পাপের প্রায়শ্চিত্ত এই শেষ বয়সে করছে বদ্যি। আর মনের অনুতাপটা তো আছেই। সেই অনুতাপেই যখন তখন কাঁদে বদ্যি। পোলাপানের মতো চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে কাঁদে। আর দিনমান বারবাড়ির সামনে, নাড়ার পালার ছায়ায়, ধুলোবালির ওপর ন্যাংটো হয়ে, ঝোপঝাড়ের মতো বসে থাকে। লোকে এসব বোঝে না।

    হুনছেন নি? ও ফকির

    ঠাঠা পোড়া রোদে আধ মাইল পথ ভেঙে এসেছে সীতারামপুরের গেরস্থ হাতেম। গা গতর ঘামে ভিজে জবজবে। নাড়ার পালার ছায়ায়, বদ্যি বুড়োর পাশে মাটিতে বসে পড়ে সে। বসে কোমর থেকে ছেঁড়া গামছা খুলে মুখটা-গলাটা মোছে। তারপর গামছা ভাঁজ করে মুখের সামনে নাড়তে থাকে। তাতে একটু হাওয়া পায়। আরাম হয় হাতেমের। কিন্তুক বুইড়া হুনতাছে না ক্যা?

    হাতেম বদ্যিবুডোর মুখের কাছে ঝুঁকে যায়, তারপর আবার ডাকে, হুনছেন নি, ও ফকির?

    নাড়ার পালার ছায়ায় হাত পা মুড়ে, প্রাচীন ঝোপঝাড়ের মতো ন্যাংটা বদ্যিবুড়ো বসে আছে। হাড্ডিসার, ছুলুম বদলানো সাপের মতো ধূসর শরীর। চামড়া ফেটে ইরল চিরল দাগ পড়েছে। পাটের আঁশের মতো চুল দাড়ি। হা করে শ্বাস টানছে মানুষটা। দমের তালে তালে কামারবাড়ির হাপরের মতন পুরো শরীরটা ওঠানামা করছে। দেখে হাতেমের বড় মায়া হয়। আহারে! কী মানুষ কী অইয়া গেছে! এত বড় ফকির। দশ গেরামে নামডাক আছিল। নিজের চিকিৎসা নিজে করতে পারে নাই।

    দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাতেম আবার ডাকে। হুনছেননি? ও ফকির।

    এবার মুখ তোলে বদ্যি। পচা ডিমের মতো ঘোলা চোখের কোণে জমে আছে কেতুরের সবুজ দলা। গোঁফ মাখামাখি হয়ে আছে গাঢ় হলুদ কফে। আহা সেই বদ্যি আর নাই। মুখটা ভেঙেচুরে শুকনো আতাফলের মতো হয়ে গেছে। চোখে দেখে না, কানে শোনে না।

    উপায় না দেখে বদ্যির কাঁধ ঝাঁকুনি দেয় হাতেম। চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলে, আমি সীতারামপুরের হাতেম। একটা কামে আইছিলাম আপনার কাছে।

    ঘোলা চোখ তুলে বদ্যি বলল, কী কাম?

    আমার গাইডার দুদ কইম্যা যাইতাছে।

    এ্যা। কী কইম্যা যাইতাছে?

    দুদ। গাইয়ের দুদ।

    বিয়াইছে কবে?

    আড়াই মাস।

    পয়লা পয়লা কয় সের দুদ অইত?

    চাইর পাঁচ সের।

    কয় সের?

    হাতেম চেঁচিয়ে বলল, চাইর পাঁচ সের।

    অহন?

    দেড় সের, দুই সের।

    শুনে বদ্যি চুপচাপ কী ভাবে। তারপর বলে, পেড বইরা খাওন দেচ না?

    কন কী, জবর খাওন দেই।

    তয়?

    হেইডাঐ তো বুজতাছি না।

    পচা ডিমের মতো চোখ তুলে বদ্যি আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে।

    তারপর বলে, চনায় কেমুন?

    আগের লাহানঐ।

    লাদে কেমুন?

    এই হগলে কুনো দোষ নাই।

    বদ্যি তারপর একদম চুপ। কী ভাবে কে জানে। অনেকক্ষণ চুপচাপ দেখে হাতেম একটু বিরক্ত হয়। কতা কয় না ক্যান হালায়?

    খানিকপর বদ্যি বলল, তর গাইয়ের কুনো ব্যারাম নাইরে। একখান হাপ আছে তর সীমানায়। দুধরাজ হাপ। দুদের লাহান ফকফইক্কা। নিশি রাইতে হেয় আইয়া তর গাইর দুদ খাইয়া যায়।

    শুনে হাতেম একটু চমকে ওঠে। কতাডা তো ফকির ঠিকই কইছে। হাপ তো একখান আছে। বাঁশঝাড় তলায় ছুলুম বদলাইছে।

    হাতেম বলল, যাঐ থাউক, আপনে অষইদ দেন।

    চোখে পরপর কয়েকটা পলক ফেলে, কপালের চামড়ায় গিঁট ফেলে বদ্যি বলল, কি কইলি?

    কইলাম হাপের অষইদঐ দেন।

    না। অষইদ দেওন আমি ছাইড়া দিছি।

    শুনে হাতেম চুপ মেরে যায়। বদ্যি উদাস হয়ে কী ভাবছে। হাতেম ভাবে, ফকির চিন্তা করতাছে। কইলে কী অইব, অষইদ না দিয়া পারবনি।

    বদ্যি বুক কাঁপিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তারপর বিড়বিড় করে বলে, জীবের মুকের। আহার কাইরা নেওয়া বড় পাপ। হারা জীবন ফকরালি করছি, জীবের মুকের আহার কাইরা লইছি, হের লেইগাঐ শেষকালে আমার এই দশা। কুত্তা বিলাইয়ের লাহান, বাইচ্চা রইছি। ঠিক মতন খাওনডা পাইনা। আহার জোডে না।

    শুনে হাতেম খুব অবাক। কন কী ফকির! গাইয়ের দুধ বেইচ্চা আমার সংসার চলে। দুদ না বেচতে পারলে আমার সংসার চলব না। পোলাপানের খাওন জুটব না। জাইনা শুইনা আপনে আমাগ না খাওয়াইয়া রাকবেন, এইডা পাপ অইব না!

    কথাগুলো বলেই হাঁফাতে থাকে হাতেম। এতক্ষণ ধরে চেঁচিয়ে কথা বলছে। এত জোরে মানুষ কথা বলতে পারে। বদ্যি বলল, অন্য ব্যারাম অইলে অমুইদ কইরা দিতাম। হাপের অমুইদ আমি দিতে পারুম না। দিলে ঐ হাপে আমারেঐ খাইব। বুড়া মানুষ। চোক্কে দেহি না, কানে হুনি না, বাইর বাইত বইয়া থাকি, কুনসুম আইয়া দংইশা যাইব। উদিস পামু না। দুদ খাইতে চাইলে হারারাইত গাই পাহারা দিচ। অষইদ আমি দিতে পারুম না।হাতেম কথা বলে না। দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওঠে দাঁড়ায়। তারপর পথে নেমে শুনতে পায় বুড়োবদ্যি চেঁচিয়ে বলছে, বাত দেচ না গোলামের জিরা। খিদায় মইরা গেলাম। আল্লারে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনূরজাহান – ইমদাদুল হক মিলন
    Next Article প্রিয় – ইমদাদুল হক মিলন

    Related Articles

    ইমদাদুল হক মিলন

    ইমদাদুল হক মিলনের বিবিধ রচনা

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    অন্তরে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    এসো – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    গোপনে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    দুই বাংলার দাম্পত্য কলহের শত কাহিনী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও ইমদাদুল হক মিলন সম্পাদিত

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }