Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শ্রেষ্ঠ গল্প – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প311 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দ্রব্যগুণ

    ১

    বড়দিনের বাজার করিতে এটা-ওটা-সেটায় বোঝাটা বেজায় ভারী হইয়া গেল। এই দুঃখে বাজারে বড় একটা আসি না। সবার টানাটানিতে পড়িয়া কিছু কিছু করিতে বিষম হইয়া পড়ে।

    সবশেষে পড়িয়াছিলাম মুদির পাল্লায়। আমার প্রয়োজন-অপ্রয়োজনের অপেক্ষা না রাখিয়াই ছোট বড় নানারকম পুলিন্দা বাঁধিয়া ঝুড়ির ফাঁকটাকে বুজাইয়া দিতেছিল। শেষ হইলে ঝুড়ির চারিদিক একবার ভালো করিয়া নিরীক্ষণ করিয়া হাত দুইটা সশব্দে ঝাড়িয়া বলিল, এই কপির পাশটা খালি রয়েছে—বাঃ, কপি বটে একখানি! জিনিস কেনেন তো শৈলেনবাবু। সেই কাপড়-কাচা সাবান একটা বের কর তো রে।

    বললাম, আর চাই না এখন।

    নাঃ, চাই না! বড়দিন—বলে বসলেন কিনা কাপড় কাচা সাবান চাই না। হাসালেন আপনি।

    সত্যই কিছু হাসির কথা হইল নাকি। নিজের নিকট সংশয়ের উত্তর না পাইরা চুপ করিয়া গেলাম। একটা হাতখানেকেরও উপর চৌকা সাবান বাহির হইল।

    বাচ্চা চাকর ছোঁড়াটা একটু দূরে অশ্বত্থতলায় হাঁটুর মধ্যে মাথা গুঁজিয়া এক—একবার পরিবর্ধমান মোটটার পানে আড়চোখে চাহিয়া অসহায়ভাবে ফুঁপাইয়া ফুঁপাইয়া কাঁদিতেছিল। সাবানটা গুঁজিতে দেখিয়া ডুকরাইয়া কাঁদিয়া উঠিল, বাপরে, হামরা জান লে লি সব!

    মুদি ঘুরিয়া বলিল, একটা সাবানের ভরে অমনই তোর জান চলে যাবে?

    তাড়াতাড়ি তাহার হাতে দুইটা পয়সা গুঁজিয়া দিয়া বলিল, নেঃ, পুরোনো খদ্দরে বাবু—লাভ তো নিতে পারলামই না, উলটে ট্যাক থেকে দুটো পয়সা—তা হোক গিয়ে, বাবুর চাকর তুই, খুশি থাক।

    যাহারা পরার্থে প্রাণ দান করে, তাহাদের মতো মহৎ ঔদাসীন্যের সহিত ছোঁড়াটার মাথায় মোটটা তুলিয়া দিল। সে ডান হাতে চোখ মুছিতে মুছিতে বাড়িমুখো হইতে বলিলাম, দাঁড়া একটু, এই বোতল দুটো হাতে ঝুলিয়ে নে।

     

     

    পাজি তাড়াতাড়ি দুই-একবার টলমল করিয়া ডান হাতটাও ঝুড়িতে লাগাইয়া নাকি সুরে বলিল, দুনো হাত তো বঝল বা—অর্থাৎ দুটো হাতই তো জোড়া।

    রাগে গা-টা রি-রি করিয়া উঠিল; কিন্তু চটাইতে গেলে আবার টলিতে পারে—চাই কী আরও জোরে টলিতে পারে, এই আশঙ্কায় আর আপাতত কিছু বলিলাম না। নিরুপায় হইয়া ছড়িটা কাঁখে চাপিয়া বোতল দুইটা দুই হাতে তুলিয়া লইলাম। কিন্তু কয়েক পা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেমন একটা অস্বস্তিকর ভাব যেন বোতল দুইটার মসৃণ অঙ্গ বাহিয়া, আমার হাত দুইখানা বাহিয়া আমার সমস্ত শরীরটা আচ্ছন্ন করিয়া ফেলিল। কেমন যেন মনে হইল, এ ঠিক হইতেছে না–সন্ধ্যার এই গা-ঢাকা অন্ধকারে দুই হাতে দুইটা বোতল, বগলে ছড়ি—এ যেন কী-রকম বলিয়া বোধ হয়! বাজারের সব লোকের চোখের মধ্য দিয়া নিজের দিকে চাহিলাম। এ কী হইয়া গিয়াছে! মনটা যেন নিজের প্রতি নিজেই ইয়ারকির ঢঙে বলিয়া উঠিল, আরে, কে ও! কোত্থেকে?

    ছড়িটা বোতলের সঙ্গে ডান হাতে লইলাম, দৃশ্যটা কিন্তু বেশ শোধরাইল বলিয়া বোধ হইল না। তখন দুইটা বোতলই বাম কাঁখে পুরিলাম, ডান হাতে ছড়ি। এ যেন আরও মারাত্মক হইয়া উঠিল। মাথা ক্রমেই গুলাইয়া আসিতেছিল। র‍্যাপারটা জড়াইয়া লইলাম, ঠিক সেই সময় পিছনে গা ঘেঁষিয়া একটা লোক চলিয়া যাওয়ায় বোতল —জোড়ায় একটু ঠোকাঠুকি হইয়া একটা প্রচ্ছন্ন তরল শব্দ হইল। মনে হইল, যেন র‍্যাপারের মধ্যে আত্মগোপন করিতে গিয়া অপরাধী হীনচরিত্র বোতল দুইটি হাটের মাঝখানে জাহির হইয়া গেল।

     

     

    আমি ঘামিয়া উঠিতেছিলাম, চাকর ছোঁড়াটার তাগাদায় হুঁশ হইল। ভাবিলাম, আচ্ছা দুর্বলচিত্ত লোক তো আমি! একটা শরবতের খালি বোতল আর একটা ফেনাইলের বোতল রাস্তা দিয়ে বেপরোয়াভাবে লইয়া যাইবার সৎসাহসটুকু নাই? অন্ধকার? তাহা হইলে কোনও সাধু ব্যক্তিই অন্ধকারে আর নিজের গৃহস্থালির কাজ করিবে না? শিশি কিংবা বোতল না হইলে একদণ্ড চলে?

    বেশ স্বচ্ছন্দভাবে বোতল দুইটার লেবেল সামনে করিয়া দুই হাতে ধরিলাম এবং সমস্ত জড়তা দূর করিয়া মুখে একটা সহজ প্রসন্নতার ভাব ফুটাইয়া তুলিলাম।

    একটুর মধ্যেই বুঝিতে পারিলাম, অত প্রসন্নতার ভাবটা ফুলাইয়া তোলা সমীচীন হয় নাই। বাজারের নিচেই বিদ্যুৎ আলোকিত প্রশস্ত চৌমাথা রাস্তা, সেখানে নামিয়া অবিলম্বেই টের পাওয়া গেল যে, এই পাপ-পৃথিবীতে এমন লোকের অভাব নাই, যাহারা চাকরের মাথায় ভোজের গুরু আয়োজন এবং মনিবের হাতে বোতল এবং তৎসঙ্গে প্রচুর প্রসন্নতার ভাব দেখিলে একেবারে উলট রকম মীমাংসা করিয়া বসে।

     

     

    একজন আড়চোখে অর্থপূর্ণ দৃষ্টি হানিয়া গেল। আর একটু যাইতে এক ছোকরা তাহার বন্ধুর গা ঠেলিয়া আমায় দেখাইয়া দিল। একটু দূরে পানের দোকানের সামনে কয়েকজন হিন্দুস্থানি দাঁড়াইয়া জটলা করিতেছিল, একজন সকলের দৃষ্টি আমার দিকে আকর্ষণ করিয়া মাথা দুলাইয়া বলিল, আলবত বড়দিন হ্যায় ইয়ার; বড়ে খুশ—মেজাজমে হ্যায়।

    ইচ্ছা হইল, ব্যাটার মাথার উপর বোতল দুইটা আছড়াইয়া প্রমাণ করিয়া দিই যে, তাহার মধ্যে এমন কিছু ব্যাপার নাই, যাহাতে তাহাদের অর্থে খুশমেজাজ হইবার সম্ভাবনা আছে। কোনও রকমে রাগটা চাপিয়া চৌমাথাটা ছাড়াইয়া গেলাম। মুখের প্রসন্ন ভাবটা টানিয়া রাখা যুক্তিসংগত বলিয়া মনে হইল না; বেশ সহজে মিলাইয়া ও গিয়াছিল। বোতল দুইটি কিন্তু সেই ভাবেই রহিল! দুর্বল মনের সঙ্গে সে তর্কটা হইতে লাগিল, তাহাতে এই কথাটাই আমি ধরিয়া রহিলাম—কেন, আমার ভিতরে যখন কোনও রকম কু নাই, বিশেষ করিয়া বোতলের ভিতরেও কোনওরকম কু নাই, তখন ভয় পাইতে যাইব কেন? কাল এই সময় এই পথ দিয়াই এক হাতে একটা পশমের বান্ডিল আর অন্য হাতে সাবানের বাক্স লইয়া গিয়াছি। তফাতটা কী হইল এমন? আমায় যাহারা চেনে না, তাহারা যা ইচ্ছা মনে করুক—চেনে যাহারা, তাহারা তো আর—।

     

     

    চেনা লোকের সঙ্গে হঠাৎ দেখা হইয়াও গেল, আর বেশ ভালো লোকের সঙ্গেই। করুণাময়বাবু জেলা-বোর্ডের অফিসে কাজ করেন। বয়স হইয়াছে, অথচ খুব আমুদে আর মিশুকে! এইজন্য, আর তাঁহার নিষ্কলঙ্ক চরিত্রের জন্য সবাই চায় তাঁহাকে বেহারে চার পুরুষ আছেন—এইটি প্রয়োজনভেদে কখনও সগৌরবে, কখনও বা দুঃখের সহিত জাহির করিবার একটি বাতিক আছে; ভাষার মধ্য দিয়াও বেহার মাঝে মাঝে উঁকি মারে।

    একটু দূর হইতেই দুই হাত তুলিয়া নমস্কার করিয়া একগাল হাসিয়া বলিলেন, এই যে শৈলেনবাবু ভালো তো? আরে, এ যে বড়কা ভোজের আয়োজন! কী কপি মশায়! বেহারে চার পুস্তু কেটে গেল, কিন্তু এমন কপি তো দেখিনি—বাঃ, সঙ্গ নোব নাকি?

    একটু কম দেখেন, কাছে আসতে বোতল দুইটিতে নজর পড়িল। আমি হাসিয়া উত্তর দিতে যাইতেছিলাম, তাঁহার মুখের হঠাৎ নিষ্প্রভ ভাব দেখিয়া আর রা সরিল না। কুণ্ঠিতভাবে জিজ্ঞাসা করিলেন, ও দুটো? —

    আমি একটা ঢোক গিলিয়া হাসির সঙ্গে সহজভাবে বলিবার চেষ্টা করিলাম, কিছু নয়। বোতল দুটো,—একটাতে ফেনাইল আছে, একটা খালি, নারকোল তেল রাখবার জন্যে কিনে নিয়ে

     

     

    করুণাবাবু খুব আগ্রহের সহিত এবং অতি সহজে বিশ্বাস করিয়া লইলেন; আমাকে কথা শেষ করিতে না দিয়াই বলিলেন, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই—সে কী কথা, রাম কহো—ওই তো সাফ লেখা রয়েছে, ‘ফেনাইল’; আমি কানা মানুষ পড়তে পারছি, আর কার সন্দেহ হবে? ছি, ছি, সে কথা ভাবতে আছে?

    শীতেও আমার কপালে ঘাম জমিয়া উঠিতেছিল। অনেক কষ্টে কাষ্ঠহাসি হাসিয়া বলিলাম, হ্যাঁ, সঙ্গ নেবেন বললেন, চলুন না আজ বড়দিনের রাতটা পাঁচজনে একসঙ্গে বসে একটু আমোদ-প্রমোদ—

    হঠাৎ চমক ভাঙিল, ভাষা আমায় এ কোন দিকে লইয়া যাইতেছে? সামলাইয়া লইয়া বলিলাম, আজ আপনার মতো আমুদে-আহ্লাদে লোকই তো—

    আরও সাংঘাতিক হইয়া যায় দেখিয়া থামিয়া তাঁহার মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করিয়া চাহিয়া আন্তরিকতা ও সৌজন্যের হাসি হাসিবার চেষ্টা করিলাম এবং বেশ অনুভব করিলাম, সেটা মৃতের হাসির মতো মুখটাকে বিকৃত করিয়া তুলিয়াছে মাত্র।

     

     

    করুণাবাবুও কেমন এক অপ্রতিভ হাসি হাসিয়া তাড়াতাড়ি বলিয়া উঠিলেন, না, আমি আজ আসছি, আমায় আজ মাফ করবেন। যেতুম নিশ্চয়, আপনার বাড়ি যাব, তাতে আর—তবে কথা হচ্ছে, কী রকম শীত পড়েছে দেখছেন? বেহারে চার পু কেটে গেল মশায়, কিন্তু এবারের মতো শীত—একেবারে যাকে বলে ঠাড়—

    বলিলাম, শীতেই তো বড়দিনের খাওয়া-দাওয়ার জুত বেশি করুণাবাবু, একটু গান-বাজনার বন্দোবস্তও করেছি। যখন পাওয়া গেছে ভাগ্যক্রমে আপনাকে, তখন আর—

    করুণাবাবুর চোখ দুইটা আর একবার বোতলের উপর গিয়া পড়িল, তাহার পর নাছোড়বান্দা মাতালের হাতে পড়িলে লোকে যেমন বিব্রত হইয়া পড়ে, অনেকটা সেই ভাবে তাড়াতাড়ি বলিয়া উঠিলেন, না না শৈলেনবাবু, শীত এমনই কথায় বলছিলাম। চার পুস্তু বেহারের জান নেকলানো শীতের মধ্য দিয়ে কেটে গেল, আর এ তো সামান্য। একটা কাজ আছে এই দিকে—আচ্ছা, তবে আসি।

    হঠাৎ নমস্কার করিয়া হনহন করিয়া চলিয়া গেলেন।

     

     

    নিশ্চল হইয়া দাঁড়াইয়া রহিলাম। এ কী বিষম ফাঁপরে পড়া গেল! আমি যেন অপরিচিত একজন কে! এই দশ মিনিট পূর্বে যে আমি ছিলাম, যেন সে নয়। বোতল দুইটার পানে চাহিলাম; ইচ্ছা হইল, সামনে লোহার পোস্টে ঘা দিয়া চূর্ণ করিয়া ফেলি।—এই হতভাগা দুইটার জন্য নিতান্ত সহজ সাদা কথা যাহা বলিয়াছি, তাহারও মানে এক ধার হইতে বিগড়াইয়া গিয়াছে।

    ছোঁড়াটাকে জিজ্ঞাসা করিলাম, হ্যাঁ রে পুনিয়া, পোঁটলার মধ্যে গুঁজে গাঁজে দিলে বোতল দুটো নিয়ে যেতে পারবিনি?

    বলিল, কাহে না? উতার দি মোটরিঠো।—অর্থাৎ কেন পারব না? মোটটা নামাইয়া দাও।

    স্বস্তির নিশ্বাস ফেলিয়া তাড়াতাড়ি মোটটা নামাইয়া দিলাম। পুনিয়া ঘাড়ে গোটা তিন-চার ঝাঁকানি দিয়া এবং হাত দুইটা কয়েকবার ঝাড়িয়া দুই-তিনবার পায়চারি করিয়া লইল।

    রাস্তার ধারে মোটটা নামাইতেই গোটাকতক চ্যাংড়া জুটিয়া হাজার রকম আন্দাজ করিয়া তর্ক-বিতর্ক জুড়িয়া দিল। একটা বলিল, শাদি হ্যায়।—মানে বিয়ে আছে।

     

     

    একটা বলিল, কভি নেহি, বাঙালিলোক শাদিমে দারু পিতা নহি হ্যায়।—বলিয়া ইশারা করিয়া বোতলের দিকে দেখাইয়া দিল।

    ভাগো হারামজাদা সব।—বলিয়া খেদাইয়া দিয়া বোতল দুইটা গুঁজিবার জন্য একটা পোঁটলার গেরো খুলিতেই চাকরটা নাকি সুরে বলিয়া উঠিল, মোটরি গিরেসে হামনিকে না কহব

    চোখ তুলিয়া বিস্মিতকণ্ঠে কহিলাম, মোট পড়ে গেলে তোকে কিছু বলতে পারব না? বটে! এই দুটো বোতলের চাপেই তোর মোট পড়ে যাবে? বেয়াকুব পেয়েছিস আমায়?

    তাহার পর আমার কাছে উপর-চাল দিয়া, খানিকটা ও-রকমে আরাম করিয়া লইবার জন্য অত্যন্ত রাগ হওয়ায় বোতল দুইটি জবরদস্তি পোঁটলার মধ্যে ঠুসিতে ঠুসিতে বলিলাম, ফেল পুঁটলি তোর যদি সাহস থাকে, বেটা হারামজাদা কোথাকার! যত কিছু বলি না—

    বোতল বহাইতামই, সেও কিছু ফেলিতে সাহস করিত না, আর এইখানেই আমার বোতল-বিড়ম্বনার অবসানও হইত; কিন্তু ঠিক এই মোহড়ায় হঠাৎ অনাথ আসিয়া আমার ‘মর‍্যাল কারেজ’–কিনা সৎসাহসে উৎসাহিত করিবার জন্য একেবারে মরণবাঁচন জিদ করিয়া পড়িল।

     

     

    .

    ২

    অনাথের সঙ্গে আজিকার পরিচয় নয়,—সে আমার বাল্যবন্ধু। তাহার কথা মনে হইলেই, সঙ্গে সঙ্গে খুব ছেলেবেলার একটি দৃশ্য চোখের সামনে ভাসিয়া উঠে। রেলের পুলের নিচে দুই পা ফাঁক করিয়া, বুক চিতাইয়া অনাথ নাকের মধ্য দিয়া দুইটি নিরেট-গোছের ধোঁয়ার স্রোত ছাড়িতেছে; ডান হাতে একটি দগ্ধপ্রান্ত সিগারেট, সামনে আমরা হাঁ করিয়া সপ্রশংস বিস্ময়ে চাহিয়া আছি।

    এন্ট্রান্স ক্লাস পর্যন্ত একসঙ্গে ছিলাম, তাহার পর কে কোথায় ছিটকাইয়া পড়ি। আবার কালের স্রোতে ভাসিতে ভাসিতে আমরা দুইজনে এক জায়গায় আসিয়া পড়িয়াছি—অনাথের পক্ষে সুরার স্রোতেও বলা চলে। শুনা যায়, একদিন নাকি খুব গুলজার আড্ডা হইতে রাত করিয়া টলিতে টলিতে ফিরিবার সময় তাহার মনে এই কথাটা হঠাৎ গাঁথিয়া যায় যে, টাকাই যত অনর্থের মূল। মাহিনার টাকাটা পকেটে ছিল। কোনও রকমে পাপ বিদায় করিবার জন্যে সে দৃঢ়সংকল্প হইয়া উঠিল। কিছু স্টেশনের হোটেলে দিল; দিয়া সদ্য-বৈরাগ্যের তাড়নায় “পুরীধামের একখানি টিকিট কাটিয়া ফেলিল। তাহার পর দেরাদুন এক্সপ্রেসে চড়িয়া কেমন করিয়া পাটনার গঙ্গা পার হইয়া একেবারে এখানে—মজঃফরপুরে। তাহারই মুখে শোনা গল্প। বলে, ভাই, ভুলটা বুঝতে পেরে সারাদিন সারারাত যতই গাড়ি বদলাতে যাই, যতই আঁকুপাঁকু করি, ততই দেখি, উলটো পথে চলেছি! রেলগাড়িকে কখনও বিশ্বাস করিস নি শৈলেন : তবে এ একটা কথা, মহাপ্রভু রথের কাছি দিয়ে না টানলে তা হবার জো নেই কিনা!

     

     

    এখানে এক জমিদার-জহুরি এই মানিকটিকে চিনিতে পারিয়া মাথার মণি করিয়া রাখিয়াছেন। অনাথ বলে, যাক ভাই, নেপালের পশুপতিনাথের খুব কাছেই রইলাম, বুড়ো একটা ডাক দিলেই গাড়িতে গিয়ে উঠব।

    একটা বোতল পোঁটলায় পুরিয়া আর একটা তুলিয়াছি, অনাথ আসিয়া সামনে দাঁড়াইল। পা দুইটা একটু একটু টলিতেছে, চক্ষু অর্ধনিমীলিত। গাঢ় জড়িতস্বরে জিজ্ঞাসা করিল, আমাদের শৈলেন না? ব্যাপার কী রাজা?

    বলিলাম, অনাথ যে! ব্যাপার কিছু নয়, দুটো বোতল ছোঁড়াকে নিয়ে যেতে বলছি, তা নানান রকম ছুতো লাগিয়াছে, তাই—

    চক্ষু দুইটিকে যথাসম্ভব বিস্ফারিত করিয়া অনাথ বলিল, বোতল! দুটো বোতল! কবে থেকে তোর এ সুমতি—

    চাকরটা বোধহয় তাহার মনিবের মান বাঁচাইবার জন্য বলিল, ফিনাইল তো বা

    অনাথ আমার পানে চাহিয়া একটু মুচকিয়া হাসিল, তাহার পর কৃত্রিম রাগের সহিত চাকরটাকে ধমক দিয়া বলিল, ফেনাইল নেহি তো ক্যা রহেগা? হাম জানতা নেহি? আলবৎ ফেনাইল হ্যায়। চোপ রও।

     

     

    তাহার পর আমার প্ল্যান তাহার বুঝিতে বাকি নাই, আর সে চাকরের কাছে ফাঁস করিবার ছেলে নয়—চতুর দৃষ্টিতে আমায় এই কথা জানাইয়া প্রশ্ন করিল, আর এই শরবতের বোতলটা—এতে দেশি শরবত, না বিলিতি শরবত ভাই—স্মিত হাস্যে চাহিয়া ঈষৎ টলিতে লাগিল।

    বিরক্ত হইয়া বলিলাম, আঃ, কী পাগলামি করিস। এই দেখ না বাপু, কী রকম বিলিতি শরবত নিয়ে যাচ্ছি।—বলিয়া খালি বোতলটা উলটাইয়া দেখাইতে যাইব, অনাথ খপ করিয়া হাতটা ধরিয়া বলিল, আমি তোকে অবিশ্বাস করতে পারি শৈলেন? তোকে আজ দেখছি?

    বিব্রত হইয়া বলিলাম, তা হলে পথ ছাড়, এখন যাই, রাস্তার মাঝে একটা হই—চই করিসনি।

    অনাথ আমার ডান হাতটা দুই মুঠায় ধরিয়া হঠাৎ কাঁদ কাঁদ হইয়া সুরাদ্রব আবেগের সুর মোটা নানান সুরে বলিল, ছাড়ছি পথ। আর কখনও তোমার পথ আগলে দাঁড়াব না, কিন্তু আজ প্রাণে যে কী চোট দিলি শৈলেন—ও-ফ।

    কী গেরো! আজ কাহার মুখ দেখিয়া যাত্রা করিয়াছিলাম। জিজ্ঞাসা করিলাম, দ্যাখ দিকিন! কী আবার চোট দিলাম প্রাণে তোর?

    অনাথ ‘ও-ফ’ করিয়া আর একটা বুকভাঙা শব্দ করিয়া গদগদস্বরে বলিল, আজ অনাথ এতই পর হল? ধরেছিস তো তাকেও লুকোতে হয়?

    বলিলাম, ভ্যালা বিপদ! পর হতে যাবি কেন? কিন্তু ধরেছি তোকে কে বললে?

    অনাথ অভিমানভরে বলিল, কেউ না! তুই নিজেই যখন লুকোচ্ছিস তো অন্য আর কে বলতে যাবে ভাই?

    বলিলাম, কী আশ্চর্য! লুকোবার কোনও কথাই নেই তো লুকোতে যাব কেন?

    আমার হাতে দুইটা চাপিয়া ধরিয়া অনাথ বলিল, এই কথাই তো শুনতে চাই ভাই। আমার কাছে—তোর সেই ছেলেবেলার অনাথের কাছে এ কোন একটা লুকোবার কথা শৈলেন?

    এ কী ভাষার প্যাঁচে পড়া গেল মাতালের হাতে! এখন ইহাকে বুঝাই কী করিয়া? এর মুখ দিয়াই কথাটার জট খুলিয়া লইবার জন্য প্রশ্ন করিলাম, কী কোন একটা লুকোবার কথা বলছিস বল্‌ দিকিন?

    যেটা লুকোচ্ছিলি।

    কিছুই তো লুকোইনি; তুই বিশ্বাস না করলে কী করব?

    বিশ্বাস তো করেছি ভাই।

    অনেকটা আশান্বিত হইয়া বলিলাম, কী বিশ্বাস করেছিস বল্ তো?

    যা আর লুকোচ্ছিস না।

    একেবারে হতাশ হইয়া গেলাম। আপাতত নিস্তার পাইবার জন্য বলিলাম, এমন ফ্যাসাদে মনিষ্যি পড়ে! আচ্ছা ভাই, স্বীকার করছি, ধরেছি; এখন পথ ছাড়, দেরি হয়ে যাচ্ছে। ওই দ্যাখ, চাকরটা আবার মোড়লি করে ছোঁড়াগুলোর সামনে পরিচয় দিতে লেগেছে। পুনিয়া, এদিকে আয় হারামজাদা।

    অনাথের কাঁদ-কাঁদ ভাবটা যেমন হঠাৎ আসিয়াছিল, তেমনই হঠাৎ অদৃশ্য হইয়া গেল। আমার হাতটা ছাড়িয়া সিধা হইয়া দাঁড়াইল এবং আমার মুখের উপর সুরালস চক্ষু দুইটি খানিকক্ষণ নিবদ্ধ করিয়া গম্ভীরভাবে কহিল, ছাড়ছি পথ; তোমার পথ রোখবার আমি কে? শুধু একটি কথা জিজ্ঞেস করব, দয়া করে উত্তর দেবে কি ভাই শৈলেন?

    এ আর এক ভাব! অত দুঃখেও হাসি রুখিতে পারিলাম না; বলিলাম, না দয়া করলে তো উদ্ধার নেই, বল।

    আমরা না স্বরাজ চাই?

    উদ্দেশ্য বুঝিতে না পারিয়া উত্তর করিলাম, তা চাই বইকি।

    আর এমন মর‍্যাল কারেজ নেই যে, রাস্তা দিয়ে নিজের জিনিস দুটো বুক ফুলিয়ে হাতে লটকে নিয়ে যাব! ধিক, কোন মুখে আমরা—

    রাগ সামলাইতে পারিলাম না; বিশেষ করিয়া এই জাতীয় একজনের উপর ঝাল ঝাড়িবার দরকারও ছিল; বলিলাম, দোষ কী? জিনিসটা তোমাদের হাতে পড়ে এমন সুযশ লাভ করেছে যে, একটু আবছায়া হলে গঙ্গাজল ভর্তি করে নিয়ে যেতেও পা ওঠে না। এইটুকু আসতে যে কী দুর্ভোগ হয়েছে!

    অনাথ ত্রিভঙ্গ হইয়া টলিতে টলিতে আমার মুখের দিকে চাহিয়া বলিল, দুর্ভোগ! এই আমি বোতল নিয়ে যাচ্ছি, একটি কথা যে বলবে, তার দু সারি দাঁতের ওপর এই দুগাছি বোতল ভাঙব।

    একটা মতলব ঠাহর করিলাম! নিচু হইয়া কহিলাম, হ্যাঁ, তা হলে আর দুর্ভোগের মোটেই ভয় থাকে না। কিন্তু তোর অত হাঙ্গামা করে কাজ কী অনাথ? আমি এইটুকু পথ কাটিয়া যাবখন। তোকে দেখেই বোধ হচ্ছে, যেন বিশেষ একটা দরকারি কাজে যাচ্ছিস; তোকে আর আটকে রাখতে চাই না।

    দরকারি কাজের কথায় অনাথের মনটা যেন একটু ভিজিল; ভারিক্কে হইয়া বলিল, দরকারি! এত দরকারি যে—

    ঔষধ ধরিয়াছে আশা করিয়া তাড়াতাড়ি তাহার পিঠে হাত দিয়া বলিলাম, হ্যাঁ হ্যাঁ, আমায় বলতে হবে না, আমি বুঝি না? তা হলে আয় গিয়ে। নে পুনিয়া, তোল।

    পুনিয়া পা বাড়াইতেই অনাথ হাত উঠাইয়া তাহাকে বারণ করিল। আমার পানে চাহিয়া বলিল, কিন্তু খুব দরকারি বলেই আরও যাব না; তা না হলে আর স্যাক্রিফাইস হল কী? আমি মরাল কারেজের জন্যে আজ সব দরকারি কাজ ত্যাগ করতে চাই, এই দরকারি জীবনটা পর্যন্ত।

    বুদ্ধিমান মাতালের উপর বেশি রাগ ধরে; ও যে আমার কথাটাই এ রকম কাজে লাগাইবে, তাহা ভাবি নাই। বিরক্ত হইয়া বলিলাম, নে ছাড়, রাস্তার মাঝখানে একটা কেলেঙ্কারি—

    চাকরটাকে ধমকাইয়া বলিলাম, আয় না বেটা বদমাইশ, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছে তখন থেকে!

    অনাথ বোতল দুইটা বগলে করিয়া রাস্তায় বসিয়া পড়িল। বলিল, সত্যাগ্রহ করলাম—আমি গান্ধির চেলা, মাড়িয়ে যাও।

    বোতল দুইটা হাতের মুঠায় চাপিয়া ধরিয়া বলিল, জান যায়, তবভি নিমক নেহি দেগা।

    বেশ ভিড় দাঁড়াইয়া গিয়াছে; এমন কি একটা ঝালচানাওয়ালা তাহার খঞ্চে নামাইয়া বেশ দুই পয়সা করিয়া লইতেছে। নানা রকম টিপ্পনী, পরামর্শ, উৎসাহবাণী।

    লজ্জায় অপমানে আমি সত্যই ধৈর্য হারাইতেছিলাম। অনাথ বোধ হয় সেটা একটু একটু বুঝিল। বলিল, আচ্ছা, এস, রফা করা যাক—গান্ধি-আরউইন প্যাক্ট। হয় আমায় নিয়ে যেতে দাও, না হয় তুমি বুক ফুলিয়ে নিয়ে যাও—ইস মাফিক। চাকরকে দিতে পারবে না, আমি চাই মর‍্যাল কারেজ—নিজের মাল নিজে নিয়ে যাব, তার আবার—

    তাড়াতাড়ি বলিলাম, আচ্ছা দে, আমিই নিয়ে যাচ্ছি।—বলিয়া বোতল দুইটা তাহার হস্ত হইতে লইলাম, এবং এই সুযোগ হারাইবার ভয়ে তাড়াতাড়ি চাকরটার মাথায় মোটটা তুলিয়া দিয়া দ্রুত পা চালাইয়া দিলাম।

    কানে গেল, অনাথ সমবেত দর্শকদের বুঝাইতেছে, হামরা লঙ্গোটিয়া ইয়ার হ্যায়, নয়া শুরু কিয়া—ডরতা হ্যায়।

    ইহার পর কলেজের এক দল ছাত্র রাস্তায় পড়ে। তাহাদের অনেকেই আমার সহিত পরিচিত। কিন্তু হঠাৎ তাহাদের ভাবপরিবর্তন দেখিয়া মনে হইল, তাহারা যেন আমার যথেষ্ট পরিচয় এতদিন পর্যন্ত পায় নাই বলিয়া ঠাহর করিয়া ফেলিয়াছে।

    ভাবিতে ভাবিতে বাড়ি ফিরিলাম, আচ্ছা অভিশপ্ত জিনিস তো। সূর্যাস্তের পরে যেন মানেই বদলাইয়া যায়; তখন সঙ্গে লইয়া আর রাস্তা চলিবার জো নাই।

    প্রসন্ন মুখে চলিলে বলিবে, ফূর্তি আর ধরে না; লজ্জিতভাবে চলিলে বলিবে, এখনও আনাড়ি; যদি সহজভাবে চলো, বলিবে, বোঝে কার সাধ্য, একেবারে ঝানু; খোলাখুলি লইয়া গেলে বলিবে, ঘাগি, বেপরোয়া; একটু পর্দার মধ্যে লইয়া গেলে বলিবে, চোখে ধুলো দিচ্ছে; রাগিলে বলিবে, বেহেড; না রাগিলে বলিবে, পাঁড়, বেমালুম হজম করে ফেলেছে।

    সবচেয়ে বিপদের কথা এই যে, বুঝাইতে গেলে এত গভীর বিশ্বাসে এবং এত সহজে বুঝিয়া বসিবে যে, প্রমাণ দিয়া যে ধারণাটা মন হইতে একেবারে নির্মূল করিব, তাহার অবসরই পাওয়া যাইবে না।

    বলা বাহুল্য, অত আড়ম্বর করিয়া বাজার করাই সার হইল; মনের সে অবস্থায় আর বড়দিন জমিতে পাইল না।

    সমস্ত রাত ভালো ঘুমও হইল না। কেবল এলোমেলো স্বপ্ন—বোতলগুলার যেন হাত-পা গজাইয়াছে, তাহাদের নানা ভঙ্গিতে নাচ, এদিকে গৃহস্থালির বাকি তৈজসপত্র যে অতবড় মিটিং করিয়া তাহাদের হুঁকা তামাক বন্ধ করিয়া জাতে ঠেলিল, স্ফূর্তির চোটে সেদিকে ভ্রুক্ষেপও নাই। স্বপ্নের না আছে মাথা, না আছে মুণ্ড।

    .

    ৩

    পরদিন সকাল হইতেই ইহার জের চলিল, এবং সমস্ত দিন মনে হইল, সবাই অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ আপাতত মুলতুবি রাখিয়া আমার চরিত্র-সংশোধনের জন্য উঠিয়া পড়িয়া লাগিয়া গিয়াছে।

    সক্কালেই প্রতিবেশী বৃদ্ধ প্রসন্নবাবু লাঠি হাতে ঠুকঠুক করিয়া হাজির হইলেন। আমতা আমতা করিয়া কথাটি পাড়িলেন, শুনলাম নাকি কাল রাত্রে তুমি—

    আমি কথাটা কাড়িয়া লইয়া মুখের দিকে চাহিয়া উত্তর দিতে যাইতেছিলাম, তিনি নিজেই মাথা নাড়িয়া তাড়াতাড়ি বলিলেন, না না, আমায় সে বলতে হবে না; আমি কী তোমায় জানি না যে, লোকের কথায় বিশ্বাস করে বসব? হেঁ-হেঁ—তবে কথা হচ্ছে, কাজ কী ও বিলিতি ফেনাইল-টেনাইলে—দিব্যি শুদ্ধ গোবরজল রয়েছে—

    আমি শেষ কথাটার উদ্দেশ্য সম্বন্ধে সন্দিহান হইয়া মুখ তুলিতেই একটু হাসিয়া বলিলেন, বুড়ো সেকেলে লোক আমরা, একটু হেঁয়ালিতেই কথা কওয়া অভ্যেস —তা তুমি বুঝবে বইকি। তা ওই যা বললাম বাবা, শরীর-টরীর একটু খারাপ রইল নেহাৎ, এক দলা সিদ্ধি চালিয়ে দিলে—দিশি শুদ্ধ জিনিস, শিবের ভোগে লাগে। আর ওসব? নাঃ, ছি ছি! ও বোতল-টোতলের ধার দিয়েও যেও না। একটা বিশেষ কাজ ছিল যদু ডাক্তারের কাছে, তা ভাবলাম, আগে শৈলেনের সঙ্গে দেখাটাই করে যাই— ছেলেমানুষ, উঠতি বয়সে—

    প্রসাদের ঔষধের দোকানের একটা কাজ ছিল। যাইতেই বলিল, হ্যাঁরে, কাল কী কাণ্ড করেছিস? করুণাবাবু মুখ গম্ভীর করে ক্রমাগত বলে বেড়াচ্ছে, বেহারে চার পুস্তু হয়ে গেল মশায়, এমন চাপা মাতাল তো একটাও চোখে পড়ল না।

    বিরক্তভাবে চাহিতে বলিল, বিশ্রী রকম ঠান্ডা পড়েছে, যদি শরীর খারাপ হয়েছিল তো আমায় বললেই হ’ত, একটা মেডিসিন ডোজ দিয়ে দিতাম। এই আমিই তো কখনো কখনো—তোমার গিয়ে, শরীর-টরীর ম্যাজম্যাজ করলে—

    মনটা তিক্ত হইয়া উঠিতেছিল, মরিয়া হইয়া গম্ভীরভাবে বলিলাম, আমার আর মেডিসিন ডোজে পোষায় না।

    অফিসে বড়বাবু বলিলেন, ছিঃ, শৈলেনবাবু, এখন এই গান্ধির যুগে কোথায় লোক ছাড়ছে; আমি এতদিন মতিস্থির রেখে

    মতিস্থির আর রইল না মশাই।—বলিয়া মুখ ফিরাইয়া চলিয়া গেলাম।

    কথাটা এক হিসাবে ঠিকই ছিল। কাল সন্ধ্যা হইতে যা অবস্থা চলিয়াছে, ইহাতে মতিস্থির থাকা দুষ্কর। অন্যে পরে কা কথা, এমন কি অনাথ পর্যন্ত আমার জন্য উদ্‌বিগ্ন হইয়া উঠিয়াছে। দেখা করিয়া আগ্রহভরে কহিল, না, তোকে ছাড়তেই হবে। এ যে কী পাপ জিনিস! আর একবার যদি ধরেছিস তো হাজার চেষ্টা করেও আর ছাড়তে পারবিনি।

    আমি বলিলাম, কাল লাল-চোখে না হয় বিশ্বাস করতে পারিসনি; কিন্তু আজ সাদা-চোখে কেন বিশ্বাস করতে চাইছিস না যে, আমি ধরিনি?

    সেই কথাই তো বলছি, সাদা-চোখে তো আর ভুল হবে না। কিন্তু যাক, আর ধরিসনি, মাইরি।

    ওর সেই গোলমেলে তর্ক। উত্ত্যক্ত হইয়া বলিলাম, না ছাড়তে আমি পারব না। যা, আর ত্যক্ত করিসনি!

    মনটা লজ্জা, রাগ, বিরক্তি প্রভৃতি নানান খানায় এমন খিঁচড়াইয়া রহিল যে, বিকালবেলায় আর বাহির হইতে ইচ্ছা হইল না। বলা বাহুল্য, তাহাতে ফল ভালো হইল না; কেন না, আমার দরদির দল কাল্পনিক মূর্তিতে আমার শূন্য মনের মধ্যে আসিয়াই ভিড় জমাইলেন এবং তাঁহাদের সঙ্গে মানসিক দ্বন্দ্বে আমার মাথাটা পৰ্যন্ত একেবারে উত্তপ্ত হইয়া উঠিল। ভাবিলাম, এ কাজের কথা নয়, মাঠের দিকে গিয়া মাথায় একটু পরিষ্কার হাওয়া লাগানো দরকার। পাগল করিয়া দিবে নাকি।

    হায়, সন্দেহও করি নাই যে, শেষ চোপটি, আর সবচেয়ে মোক্ষম চোপটি তখনও বাকি, আর তাহা বাড়ির বাহিরেই আমার মস্তকের প্রতীক্ষায় উদ্যত হইয়া রহিয়াছে।

    জুতা জামা পরিয়া বাহির হইতেই দেখি, খদ্দর আর গান্ধিটুপি পরিহিত কতকগুলি ছেলের একটি মাঝারি-গোছের দল দুয়ারগোড়ায় দাঁড়াইয়া; কালকের কয়েকজন কলেজের ছেলেও তাহাদের মধ্যে। দেখা হইতেই অত্যন্ত বিনীতভাবে সবাই কপালে যুক্তকর ঠেকাইয়া অভিনন্দন করিল!

    অতিমাত্র বিস্মিত হইয়া প্রশ্ন করিতে যাইতেছিলাম, পূর্বাহ্ণেই জাতীয় পতাকাধারী একটি যুবক অগ্রসর হইয়া আর একটি অধিকতর বিনীত অভিবাদন করিয়া বলিল, আমাদের কর্তব্য অতি কঠিন, মাফ করবেন—আপনাকে আজ বেরুতে দিতে পারি না আমরা।

    বুঝিতে বাকি রহিল না, শ্রাদ্ধ অনেক দূর পর্যন্ত গড়াইয়াছে,—এ বাড়ি বহিয়া লিকার-পিকেটিং। ধৈর্যচ্যুতি ঘটিতেছিল, তবুও শান্তস্বরে জিজ্ঞাসা করিলাম, এ রকম কঠিন কর্তব্য করার আপনাদের উদ্দেশ্য?

    যুবক যুক্তকরেই দাঁড়াইয়া ছিল, বলিল, উদ্দেশ্য দেশমাতাকে বন্ধনমুক্ত করা!

    প্রশ্ন করিলাম, তার সঙ্গে আমায় আপাতত বন্ধনে ফেলার কোনও বিশেষ সম্বন্ধ আছে কি?

    সেই রকম বিনীত উত্তর হইল, আপনি শিক্ষিত, আপনার সঙ্গে কী তর্ক করব? তবে একবার ভেবে দেখুন, জিনিসটা কতই গর্হিত। আমেরিকা সেইজন্যেই স্পেশাল ল করে জিনিসটাকে দেশছাড়া করেছে।

    বলিলাম, আচ্ছা, আপনারা সত্যিই কী সন্দেহ করেন যে, আমি বাজার থেকে বোতল করে মদ নিয়ে—

    যুবক সসংকোচে তাড়াতাড়ি বলিয়া উঠিল, না না, সন্দেহ আমরা কী কখনও করতে পারি?

    তা হলে কি আপনারা এ বিষয় একেবারে নিঃসন্দেহ? দেখুন, কাল থেকে এই ধরনের তর্ক শুনতে শুনতে আমার মাথার ঠিক নেই। অথচ ব্যাপারটা—

    দলের মধ্যে আর একটি যুবক সামনে আগাইয়া আসিল এবং মাথা নিচু করিয়া গভীর বিনয়ের স্মিত হাস্যের সহিত বলিল, আমার অপরাধ নেবেন না; আপনি, মাথা ঠিক না থাকার প্রকৃত কারণটা বোধ হয় ধরতে পারেননি; তবে মাথাটা যে ঠিক নেই, এইটুকু স্বীকার করে আমাদের কাজটা অনেক হালকা করে দিয়েছেন, এবং সেইজন্যে আপনাকে ধন্যবাদ।

    হাঁ করিয়া রহিলাম, এর উপর আবার ‘ধন্যবাদ’ চাপায়!

    প্রথম যুবকটি বলিল, অনেকে এইটুকুও লুকোতে চান কিনা।

    আর একটি যুবক শীলতায় ইহাদেরও উপরে গিয়া বলিল, অথচ লুকোবার জো নেই—কথাবার্তায়, হাত-পার ভঙ্গিতে আপনি বেরিয়ে আসবে। আশা করি, আমাদের কথায় অফেন্‌স্‌ নেবেন না আপনি। আসলে আপনার এখনও কালকের ব্যাপারের আফ্‌টার এফেক্ট চলেছে।

    এমন বিনয়ের অত্যাচারের কখনও অভিজ্ঞতা ছিল না। অস্বস্তির চোটে মনে হইতেছিল, হাত-পা ছুঁড়িয়া চিৎকার করিয়া একটা কিছু করি। অনেক কষ্টে নিজেকে সংযত করিয়া বলিলাম, দেখুন, আপনারা সকলেই ভদ্রসন্তান, সহজেই বিশ্বাস করতে পারেন। ব্যাপারটা হচ্ছে—কাল সন্ধ্যার সময় চাকরের মাথায় কিছু তরিতরকারি আর অন্য দু-একটা জিনিস দিয়ে নিজে একটা ফেনাইলের বোতল আর তেল রাখবার জন্যে একটা খালি বোতল কিনে নিয়ে আসছিলাম। শীতের কনকনানিতে বোতল দুটো র‍্যাপারের মধ্যে

    পতাকাধারী যুবকটি বলিল, আমাদের অত কষ্ট করে কিছুই বলতে হবে না আপনাকে। শুধু অনুরোধ—আপনি অভ্যেসটা ছাড়ুন।

    মাথায় যেন আগুন জ্বলিয়া উঠিল, মুখের চেহারাতেও তাহার উত্তাপ অনেকটা প্ৰকাশ পাইয়া থাকিবে। তবুও ধীরকণ্ঠেই বলিলাম, বেশ, ছাড়ব; মাসে একটা করে ফেনাইলের বোতল আনলে এমন কিছু অভ্যেসও হয়ে যায় না। এখন অনুগ্রহ করে আমায় একটু পথ ছেড়ে দিন; একটু ঘুরে আসা নিতান্ত দরকার হয়ে পড়েছে।

    পতাকাধারী অন্য সবাইয়ের দিকে চাহিয়া ঠোঁট চাপিয়া একটু হাসিল। তাহার পর আমার পানে চাহিয়া বলিল, দরকার হয়ে পড়াটা স্বীকার করি। কিন্তু যেতে দেওয়ার আমাদের অধিকার নেই; ক্ষমা করবেন।

    আর একজন কথাটাকে একটু পরিষ্কার করিয়া দিল, সন্ধ্যার সময়েই আমাদের বেশি সাবধান থাকতে হয় কিনা।

    ইহাদের সঙ্গে তর্ক করা বৃথা; ইহাদের গালাগালও ক্রমে স্পষ্টতর হইয়া উঠিতেছে। অগ্রণী যুবকটির দিকে চাহিয়া বলিলাম, আপনাদের অধিকার আমার মাথায় ঢুকছে না; আমি জানি, আমার যাবার অধিকার আছে।—বলিয়া পা বাড়াইলাম।

    যুবক আমার পথ রোধ করিয়া দাঁড়াইয়া সঙ্গীদের দিকে ফিরিয়া বলিল, তা হলে তোমাদের এইবার আত্মিক বল প্রয়োগ করতে হল।

    সেটা আবার কী আকৃতিতে দেখা দিবে, ভাবিয়া ঠিক করিবার পূর্বেই দলের সব যুবকগুলি সটাং রাস্তার এমুড়ো ওমুড়ো জুড়িয়া চিৎ হইয়া শুইয়া পড়িল; সামনে এতটুকু পা ফেলিবার জায়গা রহিল না।

    আমার কান্না আসিতেছিল। রাস্তার লোক জড়ো হইতেছিল। আমি কিছুক্ষণ একটা কথাও কহিতে পারিলাম না। অত অত্যাচারের মধ্যেও এইটুকু বুদ্ধি ছিল যে, আর এ লইয়া ঘাঁটাঘাঁটি করিতে গেলেই সমস্ত পাড়া জাগাইয়া একটা গুলতান হইবে। অনেক চেষ্টায় মনটাকে সাধ্যমতো গুছাইয়া লইয়া বলিলাম, আচ্ছা, আপনারা যদি তাতেই সন্তুষ্ট হন তো আমি আর বার হব না, আপনারা যান।

    যুবক কোনও উত্তর না দিয়া নিশ্চলভাবে ঘাড়-হেঁট করিয়া দাঁড়াইয়া রহিল। অন্য সবাই সেই অবস্থায় পড়িয়া। রাস্তার ওদিক হইতে দর্শকদের প্রশংসাবাণী আমার কানে আসিয়া ধিক্কারের মতো বাজিতে লাগিল!

    বলিলাম, যান আপনারা, কেন আর কষ্ট করবেন! আমি বেরুব না তো বলছি। শুধু বাইরের শত্রুকে না আনলেই তো হল না, ঘরের শত্রুকেও বিদেয় করতে হবে। আমরা এইজন্যে আপনার মধ্যে যে দেবতা আছেন তাঁর কাছে ধন্না দিয়ে রইলাম।

    আমি আর রাগ চাপিতে পারিলাম না। গলা একটু চড়াইয়া বলিলাম, দেখুন, আমার মধ্যেকার দেবতাকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে দানবকে চটাচ্ছেন মাত্র। আচ্ছা, আপনারা কী বলতে চান যে, আমি বাড়ির মধ্যে বোতল ভরে—

    আমাদের কেন লজ্জা দিচ্ছেন?

    ও! আর আমার বুঝি লজ্জা বলে জিনিস নেই? ইঙ্গিত কিছুই বলতে তো বাকি রাখলেন না? আর এদিকে বাইরেও যেতে দেবেন না, বাড়িতেও স্থির হয়ে থাকতে দেবেন না, যেন কতবড় অপরাধ করেছি! তাও ছাই যদি স্পষ্ট করে বলেন, কী করলে আপনাদের বিশ্বাস করাতে পারি, কী প্রমাণ দিলে—আচ্ছা বেশ, থামুন। এর চেয়ে তো আর বড় প্রমাণ হতে পারে না?—বলিয়া রাগে মাথা গোঁজ করিয়া বাড়ির মধ্যে চলিয়া গেলাম এবং তখনই যেখানে ফেনাইল প্রভৃতির বোতল থাকে, সেই কুলুঙ্গি হইতে ভরা বোতল একটা লইয়া বাহিরে আসিয়া তুলিয়া ধরিলাম এবং দলটির পানে চাহিয়া বলিলাম, এই দেখুন, কাল যা নিয়ে এসেছিলাম; না বিশ্বাস হয়, কেউ এসে শুঁকে দেখুন, ফেনাইল কি না!

    সবাই অনড়; মুখে অমায়িক অবিশ্বাসের হাসি।

    উদ্‌ব্যস্ত হইয়া বলিলাম, তবুও বিশ্বাস করবেন না? এ যে মহা জ্বালা! আচ্ছা মশায়, আমি স্বীকার করছি, আমি অপরাধী—এটা ফেনাইল নয়, এটা এক্সট্রা নম্বর ওয়ান—আমায় মার্জনা করুন, আর অমন কর্ম করব না। এইবার যান। এ কী! এতেও নিস্তার নেই? আমার কোনও কথাই বিশ্বাস করবেন না? আচ্ছা নিন, আমায় চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে কীসে এতটা মিথ্যাবাদী চরিত্রহীন করে তুলেছে, এই আপনারাই বিচার করুন।

    সমস্ত শক্তি দিয়া সামনের দেওয়ালে হাতের বোতলটা আছড়াইয়া দিলাম। বলিলাম, বুঝুন কীসের গন্ধ! এবার তো আর অবিশ্বাস রইল না যে—

    ক্রোধান্ধ হইয়া তাড়াতাড়ি কীসের বোতল যে বাহির করিয়া আনিলাম, খেয়াল হয় নাই। আমার কথা শেষ হইবার পূর্বেই চূর্ণ বোতল হইতে মেথিলেটেড স্পিরিটের উগ্র সুরাগন্ধ চারিদিকে ছড়াইয়া পড়িল।

    দলটি ভূমিশয্যা ত্যাগ করিয়া গগন বিদীর্ণ করিয়া চিৎকার করিয়া উঠিল, একবার বোলো ভাই—গান্ধিজি কী জয়! ত্যাগী শৈলেনবাবু কী জয়!

    তাহার পর ক্যাপ্টেনের পরিচালনায় আমায় একটি নম্র অভিবাদন করিয়া সামরিক প্রথায় কুইক মার্চ করিয়া চলিয়া গেল।

    আমি মূঢ়ের মতো শূন্যদৃষ্টিতে সেইখানেই দাঁড়াইয়া রহিলাম।

    ***

    যাক, সহৃদয় বন্ধুবান্ধবেরা শুনিয়া আশ্বস্ত হইবেন যে, আমার নষ্ট চরিত্র পুনরায় ফিরিয়া পাইয়াছি। প্রমাণস্বরূপ আঠাশে ডিসেম্বরের ‘বজ্রবাণী’ পত্রিকা হইতে “মজঃফরপুরে সুরা পিকেটিং” শীর্ষক সমাচার হইতে খানিকটা তুলিয়া দিলাম—

    “…এই শোচনীয় সংবাদ শুনিয়া পরদিন সন্ধ্যার সময় স্থানীয় কংগ্রেস কমিটি একদল স্বেচ্ছাসেবককে শৈলেনবাবুর গৃহে সত্যাগ্রহ করিবার জন্য প্রেরণ করেন। শৈলেনবাবু প্রথমত দারুণ উগ্রভাবে ধারণ করেন, ভৃত্য দিয়া স্বেচ্ছাসেবকদের সবিশেষ অপমান করান, এমনকি শেষে পুলিশের সাহায্য পর্যন্ত লইবার ভয় দেখান; কিন্তু স্বেচ্ছাসেবকদের অটুট সহিষ্ণুতা ও অপরিসীম সৌজন্য এবং নম্রতায় মুগ্ধ হইয়া তাহাদের সমক্ষে সুরার বোতল, পানপাত্র, সোডার আধার প্রভৃতি যাবতীয় আনুষঙ্গিক দ্রব্য চূর্ণবিচূর্ণ করিয়া ভবিষ্যতে সুরাত্যাগে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন।

    “আমরা স্বেচ্ছাসেবকদের সাধনা, ধৈর্য এবং শৈলেনবাবুর হৃদয়ের বল—এই উভয়েরই প্রশংসা করি এবং সুরাসেবী মাত্রকেই শৈলেনবাবুর মহনীয় দৃষ্টান্ত অনুকরণ করিতে মিনতি করি।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাণুর প্রথম ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Next Article ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও ঊনিশ শতকের বাঙালী সমাজ – বদরুদ্দীন উমর

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর প্রথম ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর দ্বিতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর তৃতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর কথামালা – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচনাবলী ২ (দ্বিতীয় খণ্ড)

    October 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }