Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সঞ্জীবের সেরা ১০১ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1246 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রেম আর ভূত

    প্রেম আর ভূত

    অনেক শুকনো পাতা পড়ে আছে পার্কের বেঞ্চে। বছরের এই সময়টায় গাছ পাতা ঝরায়, নতুন সাজে সাজবে বলে। জলের ধারে ধারে কচি কচি ঘাস গজিয়েছে। লেকের জলেও কিছু শুকনো পাতা আনমনে ভাসছে। দিব্যেন্দু বেঞ্চে ছড়িয়ে থাকা শুকনো পাতার ওপরেই বসে পড়ল। দুপুরের রোদ হলুদ নেশার মতো ঝিমঝিম করছে চারপাশে। লেক এখন ফাঁকা। বাতাসে শীত শেষের গরম হলকা। আজ তো আর ছুটির দিন নয়। কারা আর আসবে এখন এই লেকে বেড়াতে! দূরে একটা গাছের তলায় একটা ছেলে আর মেয়ে পাশাপাশি বসে আছে গায়ে গা লাগিয়ে। নতুন প্রেম। দেখলেই বোঝা যায়। যা কথা ছিল সব ফুরিয়ে গেছে। হাতে হাত রেখে। দুজনে বসে আছে। বড় ক্লান্ত, বড় শ্রান্ত।

    দিব্যেন্দু চোখ সরিয়ে নিল। ভাবতে লাগল, একটা বছর কোথা দিয়ে কীভাবে চলে গেল! এই। সেই বেঞ্চ। দিব্যেন্দুচিড় ধরা কাঠের দিকে তাকাল। কত দিন, কত কত দিন, সে আর স্মিতা এই আসনে পাশাপাশি বসে গেছে! আজ সে একা আর কিছু ঝরা পাতা। দিব্যেন্দু আজ এসেছে, পুরোনো দিনের স্মৃতিতে ফিরে যেতে। মাঝে মাঝেই আসে, হিসেব করে, যখন তেমন কেউ থাকে না। কেউ বুঝতেও পারে না কেন সে এসেছে! মানুষকে মানুষ দ্যাখে, তার মন তো কেউ পড়তে পারে না। একটা লোক বসে আছে, এই মাত্র। হয় বেকার! না হয় কোনও অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে, সময়টা কাটিয়ে যাচ্ছে।

    গতকালই দিব্যেন্দু উত্তরবঙ্গ থেকে এসেছে কলকাতায় কয়েক দিনের ছুটি কাটাতে। সেখানে দিব্যেন্দু একটা ব্যাঙ্কে কাজ করে। এই চাকরিটা সে যদি আর কিছু দিন আগে পেত; তাহলে তার জীবনটা অন্যরকম হয়ে যেত! সে ভীরু, না স্মিতা ভীরু! বহুবার চেষ্টা করেছে এই প্রশ্নের উত্তর। পেতে। খুঁজে পায়নি সমাধান। মেয়েরা প্রেম চায়, না নিরাপত্তা! একটা ভালো চাকরি, একটা ফ্ল্যাট, নিটোল একটা সংসার!

    ‘ঝাল-মুড়ি আর চিনেবাদাম খেয়ে তো আর সারাজীবন কাটানো যায় না!

    এই বাঁ-পাশটিতে বসে ঠিক এই কথাই বলেছিল স্মিতা। সেই ছিল ওদের শেষ বসা। ‘তুমি এই কথা বলছ কেন স্মিতা? চাকরি আমি একটা পাবই।

    ‘তিন বছরেও পেলে না। তোমার সে ক্যালিবার নেই। মুখচোরা, লাজুকরা এ বাজারে চাকরি পায় না।’

    ‘তুমি আর ছ’টা মাস আমার জন্যে অপেক্ষা করো।’

    ‘আমি রাজি হলেও আমার বাড়ি রাজি হবে না।’

    ‘তুমি রাজি করাবে।’

    ‘আমি তিন বছর ঠেকিয়ে রেখেছি। আর কত রাখব! আর কতকাল খোলা আকাশের নীচে হাত ধরে বসে থাকব!’

    ‘আমরা দুজনেই যদি বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এসে একটা কিছু করি!’

    দিব্যেন্দু, বিয়ে করতে সময় লাগে মাত্র পনেরো মিনিট; তারপর? কোথায় গিয়ে উঠবে! হাওড়া স্টেশানের ওয়েটিং রুমে! খাবে কী! খাওয়াবে কী!’

    ‘কোথাও একটা ফ্ল্যাট ভাড়া করব।’

    ‘ছশো টাকার কমে ভদ্রলোকের থাকার মতো আস্তানা হয় না। কোথায় পাবে অত টাকা!’ দিব্যেন্দু আপনমনে হেসে উঠল। সে যেন চোখের সামনে দেখতে পেল স্মিতা তার পাশ থেকে উঠে চলে যাচ্ছে। নীল শিফন শাড়ি-মোড়া অনিন্দ্য একটা শরীর। রেশমি চুলের আলগা খোঁপা নিটোল। ঘাড়ের কাছে অল্প অল্প দুলছে। তীক্ষ্ণ নাক। টানা টানা চোখ, ধনুকের মতো ভুরু। শালুকের ডাঁটির মতো লতানে দুটি বাহু। পাতার ফাঁক দিয়ে রোদ এসে পড়েছে চুলে। আগুনের সুতোর মতো ঝিলমিল করছে। দিব্যেন্দুস্মিতাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেনি। সে শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছিল স্মিতার দূর থেকে দূরে চলে যাওয়া। তার হৃদয় থেকে একটা নরম পাখি যেন উড়ে চলে গেল। স্মিতার বাবা ডাক্তার। স্মিতার ঠাকুরদা ছিলেন হাইকোর্টের জজ সাহেব। বিলেতটিলেত ঘুরে বেড়াতেন। সাহেবি কেতার মানুষ ছিলেন। এই ধরনের নীল রক্ত যার শরীরে তার মনে বাঁধন ছেঁড়া বেদুইন-প্রেম থাকে কী করে, কী করে! দিব্যেন্দু হাত বাড়িয়ে ছিল কার দিকে! আজ দিব্যেন্দু যেভাবে বসে আছে একা, সেদিনও এইভাবেই বসেছিল স্থির সমাধি ফলকের মতো। শেষ শীতের বাতাসে ঠান্ডার কামড়। সন্ধে হয়ে গেল। ঝাপসা একটা চাঁদ ঠেলে উঠল পুব আকাশে। কুয়াশার অশরীরী আঁচল নেমে এল লেকের জলে।

    স্কুল শিক্ষকের ছেলে দিব্যেন্দু স্কটিশচার্চের মেধাবী ছাত্র। ভেবেছিল, লেখাপড়ায় ভালো হলেই বুঝি ভালো একটা চাকরি হেঁটে এসে হাত ধরবে। পৃথিবীর সঙ্গে বেশ কয়েক দিনের ঘষাঘষিতে দিব্যেন্দুবুঝে গেল দুটো জগৎ পাশাপাশি ঘুরছে, কল্পনার জগৎ আর বাস্তব জগৎ। বাস্তব জগতের চাঁদে কবিতা নেই। আছে অজস্র, অতল অন্ধকার গহুর। সূর্য আলোনা দেখালে চাঁদ পৃথিবীতে রাতের রুপালি আলো ঢালতে পারে না। সূর্য হল সোনার চাকতি। চাঁদির চাকতি ছাড়া পৃথিবীতে মানুষ এক অচল পশু।

    স্মিতা ছিল তার সহপাঠী। দিব্যেন্দুস্মিতাকে কবিতা লিখে শোনাত। কলেজ সোশ্যালে কাঁপা কাঁপা গলায় আবৃত্তি করত। অত শ্রোতার মধ্যে একমাত্র স্মিতাকেই সে শোনাত। পড়াশোনায় নড়বড়ে স্মিতাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লজিক আর ফিলোজফি পড়াত। আর মনে মনে ভাবত, স্মিতাকে বউ করবে। ছোট্ট নিখুঁত একটা সংসার। দোতলার বারান্দায় অর্কিড দোল খাবে। ছাদের টবে গোলাপ হাসবে। জানলা দিয়ে ধপধপে চাঁদের আলো এসে পড়বে সাদা বিছানায়। আকাশে চাঁদ, স্মিতার ছোট্ট কপালে রুপালি টিপ। ভিজে ভিজে গোলাপি ঠোঁট। শরীরে সমুদ্রের ঢেউ। দিব্যেন্দু একদিন স্মিতার কাছাকাছি আসতে চেয়েছিল! সেইদিনই বুঝেছিল স্মিতা কত। সাবধানী। দিব্যেন্দুকে দু-হাতে সরিয়ে দিয়ে বলেছিল, ‘ছিঃ, অমন করতে নেই।’ দিব্যেন্দু সেদিন ভীষণ অপমানিত বোধ করেছিল। মনে হয়েছিল, সে এক কাঙাল। পরে ভেবেছিল স্মিতা ঠিকই করেছে। প্রবল আকর্ষণে মানুষ বোধবুদ্ধি হারায়। তৃতীয় একটা প্রাণ এসে গেলে কে সামলাত!

    স্মিতা চলে গেলেও পদচিহ্ন রেখে গেছে। মানুষের মন তো আর সমুদ্রের বেলাভূমি নয় যে ঢেউয়ের পর ঢেউ এসে মুছে দিয়ে যাবে। মন হল কাঁচা সিমেন্টের মেঝে। দাগটা ছাঁচের মতো থেকেই যায়। যতই পালিশ করো অস্পষ্ট ফুটেই থাকে। আলোর বিপরীতে দেখলে স্পষ্ট বোঝা যায়। দিব্যেন্দুর মন সেই দাগ ধরা মেঝে।

    স্মিতার খবর সে আর রাখার চেষ্টা করেনি; তবু খবর তো উড়ে উড়ে আসবেই। খবর আর তুলোর ফুলে বিশেষ তফাত নেই। শিমুল যখন ফাটে বাতাসে পাখনা মেলে দেয় অজস্র বীজ। স্মিতা এক পাঞ্জাবি ধনকুবেরের ছেলেকে পাকড়েছে। কলকাতা, দিল্লি, বম্বে তিনটে শহরে তাদের বড় বড় তিনটে হোটেল। মানালিতে বিশাল আপেল-বাগান। তাদের পরিবারের প্রত্যেকের একটা করে গাড়ি আছে। প্রত্যেকের আলাদা আলাদা বাড়ি। এক উর্দু-কবি বলেছিলেন, ‘প্রেমিকা যদি সুখে থাকে প্রকৃত প্রেমিকের তো তাইতেই আনন্দ। বিবাহ প্রেমের কবর রচনা করে।’ দিব্যেন্দু অতটা ওপরে উঠতে পারেনি। কবি বলেছিলেন, ‘প্রেমিকাকে বউ হিসেবে কাছে পাওয়ার চেয়ে তার স্মৃতি নিয়ে সারা জীবন অবিবাহিত থাকাই স্বর্গীয়।’ দিব্যেন্দু ভেবেছিল বিমলের মতো আত্মহত্যা করবে। বিমল তারই কলেজে সিনিয়ার ছিল। নামকরা ছাত্র, আবার ডিবেট চ্যাম্পিয়ান। বিমল ভালোবাসত মাধুরীকে। মাধুরী ভালোবাসত পার্থকে। মাধুরীর প্রেমের পাল্লা হঠাৎ পার্থর দিকে বেশি ঝুঁকে গেল। একদিন খুব ভোরে দেখা গেল, হেদুয়ার রেলিং-এ মাথা রেখে বিমল অঘোরে ঘুমোচ্ছে। সে ঘুম আর ভাঙল না। পকেট থেকে বেরুল সামান্য এক চিরকুট। একটি মাত্র লাইন—’আমি হেরে গেছি।’ ডক্টর চ্যাটার্জির সবচেয়ে প্রিয় ছাত্র ছিল বিমল। তিনি খবর পেয়ে বলেছিলেন—’প্রেম এক ধরনের পাগলামি। মরে বেঁচেছে।’ এই শেষ উক্তিটিই দিব্যেন্দুকে বেঁচে থাকার শক্তি জুগিয়েছে। দিব্যেন্দু তখন উর্দু কবির নির্দেশে স্মৃতি নিয়ে অবিবাহিত থাকার সিদ্ধান্ত আত্মস্থ করে ফেলেছে। উত্তরবঙ্গের ছবির মতো শহরে, ছবির মতো এক কাঠের বাড়িতে দিব্যেন্দুর বসবাস। মাইনেও পাচ্ছে ভালো। সম্মানের চাকরি। তবু চিউইং গামের মতো স্মিতা আটকে আছে স্মৃতির চুলে। রাতে বড় একা লাগে। উত্তরবঙ্গে গিয়ে দিব্যেন্দু আবিষ্কার করেছে তার ভূতের ভয় আছে। রাতে কোথাও একটু খুট করে আওয়াজ হলে, তার চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। তারস্বরে রামনাম জপতে থাকে! এমনকী ছেলেবেলার ছড়াটাও ‘ভূত আমার পুত, শাকচুন্নি আমার ঝি, বুকে আছে রাম-লক্ষ্মণ ভয়টা আমার কী?’ এই ভূতের জন্যেই তাকে না বিয়ে করতে হয়!

    দিব্যেন্দু ঘড়ি দেখল। নার্সিংহোমে বিকেলের ভিজিটিং আওয়ার্স শুরু হয়ে গেছে। দিব্যেন্দু উঠে পড়ল। গাছের তলায় তলায় ধীরে ধীরে এগিয়ে চলল পথের দিকে। বেশ লোক চলাচল করছে। শহরের পথে বিকালের টান ধরেছে। দিব্যেন্দু হাঁটতে হাঁটতে চলে এল নার্সিংহোমের সামনে। সম্প্রতি চশমা নিয়েছে। মুখটা বেশ ভারী দেখাচ্ছে। উত্তরবঙ্গের পরিষ্কার জলবাতাসে স্বাস্থ্যটাও বেশ ফিরে গেছে। স্মিতার স্মৃতি মনকে কাবু করলেও শরীরকে কাবু করতে পারেনি। শরীর শরীরের কাজ ঠিকই করে চলেছে। নার্সিংহোমের বাগান মতো জায়গাটা পেরিয়ে দিব্যেন্দু দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মুখে থমকে দাঁড়াল। তেমন গলগলে ভিড় নেই। বেশ নির্জন নির্জন একটা ভাব। এই হোমে সাধারণত বড় বড় অফিসের কর্মীরা কোম্পানির টাকায় চিকিৎসা করাতে আসেন।

    দিব্যেন্দুতিনতলায় উঠে ঘরের নম্বর মিলিয়ে এগিয়ে গেল। চওড়া বারান্দা। ডানপাশে সব ঘর। পেতলের অক্ষরে নম্বর মারা। বারান্দায় শেষবেলার আলো প্রবীণ মানুষের মতো পায়চারি করছে। হাহা, খোলা আকাশে গাছের পাতার ঝালর বাতাসে দোল খাচ্ছে। দিব্যেন্দু আপনমনে চওড়া প্রশস্ত বারান্দায় এ-পাশ থেকে ও-পাশ একবার ঘুরে এল। তারপর এগিয়ে গেল মোলো নম্বর ঘরের দিকে। ধীরে ধীরে দরজাটা খুলল। ওপাশেই বড় জানলা। দুপাশে সরানো নেটের পর্দা। সেই আলোয় পাতা একটি খাট। ট্র্যাকশানে সটান শুয়ে আছে একটি মেয়ে। তার মাথার লম্বা চুল খাটের মাথার দিকে ঝুলছে। দিব্যেন্দু ভেবেছিল ঘরে কেউ না কেউ থাকবে। কেউই নেই। নেটের পর্দা মৃদু বাতাসে দুলছে। বসন্ত এসেছে শহরে।

    দিব্যেন্দু সামান্য ইতস্তত করে ডাকল, ‘মৃণাল।’ মেয়েটি দরজার দিকে ঘাড় ফেরাল। তার দুটো পা-ই সামান্য উঁচুতে ভারী ওজন ঝুলিয়ে টান করে রাখা।

    দিব্যেন্দু ঘরে ঢুকতেই স্প্রিং লাগানো দরজা নিঃশব্দে বন্ধ হয়ে গেল। দিব্যেন্দু ঘরের মাঝখানে। বিব্রত ভাবটা কাটাবার জন্যে আবার বললে, ‘মৃণাল, আমি দিব্যেন্দু।’ বহু দূর থেকে যেন। মৃণালের গলা ভেসে এল, ‘আসুন। আপনি কী করে এলেন? চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসুন।’ দিব্যেন্দু চেয়ারটা টেনে এনে বসতে বসতে বললে, ‘আমি তিন দিন হল এসেছি! মাসিমার কাছে শুনলুম তোমাকে গাড়ি ধাক্কা মেরেছে। তাই দেখতে এলুম। কেমন আছ তুমি?’

    মৃণাল দিব্যেন্দুর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললে, ‘সারা জীবনের মতোই বোধহয় পঙ্গু হয়ে গেলুম। হাঁটবার আশা আর নেই। তবু চেষ্টা করে দেখা! আপনি আসবেন আমি ভাবতেই পারিনি।’

    মৃণাল একবার বাঁ-হাত, একবার ডান হাত দিয়ে মাথার পাতলা বালিশের তলায় কী একটা খুঁজতে লাগল। দিব্যেন্দু বললে, ‘কী খুঁজছ?’ উঠে গেল বিছানার কাছে। মৃণালের দু-চোখের পাশ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়েছে। সে ফিশফিশ করে বললে, ‘রুমালটা যে কোথায় গেল!’ বালিশের তলা থেকে পাতলা একটা রুমাল বের করে দিব্যেন্দু সাবধানে মৃণালের চোখ মুছতে গেল। যত মোছে ততই জল বেরোয়! মৃণালের চোখদুটো ভারি সুন্দর। দীর্ঘ আঁখি-পল্লব! মূণালকে দিব্যেন্দু যখন পড়াত, তখন তার এই চোখ দুটো তাকে ভীষণ আকর্ষণ করত। সমুদ্রের মতো নীল আর গভীর। দীঘির মতো প্রশান্ত। দিব্যেন্দু বললে, ‘তুমি কাঁদছ কেন মৃণাল?’

    ‘আমি কাঁদিনি তো।। আমার চোখে ঠান্ডা লেগেছে।’

    দিব্যেন্দু রুমালটা মৃণালের হাতে দিয়ে চেয়ারে এসে বসল। মৃণাল কেন কাঁদছে তার মাথায় এল না। দুঃখ না আনন্দে! দিব্যেন্দু জানে মৃণাল তাকে ভালোবাসত। পড়াতে পড়াতে সে বুঝতে। পারত, সম্পর্কটা শিক্ষক আর ছাত্রীর মতো থাকতে চাইছে না, অন্যদিকে বাঁক নিচ্ছে। দিব্যেন্দু সেই সময় স্মিতা ছাড়া আর কারওর কথাই ভাবতে রাজি নয়। মৃণাল কিন্তু স্মিতার চেয়েও দেখতে সুন্দরী। মুখটা ঠিক মা দুর্গার মতো। একটাই তফাত—দুজনের ব্যক্তিতৃ দুরকমের। মৃণাল শীতল, স্মিতা উত্তপ্ত। মৃণাল গিরি। স্মিতা আগ্নেয়গিরি। মৃণাল গভীর, স্মিতা চটুল।

    দিব্যেন্দু চেয়ার ছেড়ে উঠে গিয়ে মৃণালের ছোট্ট কপালে হাত রাখল। কপালের কিনারায় মসৃণ চুলের সীমানা। মেয়েটাকে কেউ একটা টিপও পরিয়ে দেয়নি! কে দেবে! মৃণালের মা। আরথ্রাইটিসে প্রায় পঙ্গু। আত্মীয়স্বজনও বিশেষ কেউ নেই। দিব্যেন্দুর দিকে মৃণাল তাকিয়ে আছে এক নজরে। দু-চোখে টলটলে জল।

    দিব্যেন্দু জিগ্যেস করলে, ‘তোমার টিপ কোথায় গেল মৃণাল? টিপ পরলে তোমাকে ভারি সুন্দর দেখায়।’

    মৃণাল বললে, ‘টিপ? টিপ হারিয়ে গেছে দিবুদা।’

    মৃণাল দুহাত দিয়ে দিব্যেন্দুর হাতটা চেপে ধরল।

    দিব্যেন্দু বললে, ‘তুমি ভেঙে পড়ছ কেন? আমি তো আছি!’

    দিব্যেন্দুর হাতে মৃণালের হাতের চাপ বাড়ল।

    দিব্যেন্দু আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল, এমন সময় ঘরের দরজা খুলে এক ঝলক দমকা বাতাসের মতো ঘরে এল একটি যুবক। সুন্দর চেহারা। দেখলেই মনে হয় খেলাধুলো করে। ছেলেটি জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। মনে হয় ছুটতে ছুটতে এসেছে। ঘরে ঢুকেই সে বললে, ‘মৃণাল, আসতে। আঠারো মিনিট দেরি হয়ে গেল। বিলিভ মি, এই জ্যামের জন্যে কলকাতা ছাড়তে হবে। জানো তো, ফুটপাথে স্কুটার উঠিয়েছিলুম বলে পুলিশ আমার কান মলে দিয়েছে। তোমার জন্যে আমি ব্যাটাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।’

    ছেলেটি এক নিশ্বাসে কথাগুলো বলে দম নেবার জন্যে থামতেই দিব্যেন্দুর দিকে চোখ পড়ল। এতক্ষণ সে মৃণাল ছাড়া আর কারোকে দেখেনি। পাগলের মতো সাত মাইল স্কুটার চালিয়ে। এসেছে। পড়ি কি মরি করে। দিব্যেন্দুকে দেখে সামান্য থতমত খেয়ে গেল ছেলেটি। আরও কিছু বলতে গিয়েও বলা হল না।

    মৃণাল বিছানার পাশে একটা হাত ঝুলিয়ে দিয়ে বললে, ‘ভিক্টর! দিব্যেন্দুদা আমার মাস্টারমশাই ছিলেন।’ ভিক্টর হাতজোড় করে নমস্কার করলেও, দিব্যেন্দুর মাস্টারমশাই পরিচয়টা তেমন। ভালো লাগল না। মনে মনে সে নিজেকে যতখানি তুলেছিল ঠিক তেমনিই নেমে এল নীচে। মাস্টারমশাই বলে মৃণাল তার প্রেমিক আমির পেটে ভোজালি মেরে দিয়েছে। মৃণালের শীতল কপালে হাত রেখে, তার পদ্ম-ভাসা, জল টলটলে চোখের দিকে তাকিয়ে দিব্যেন্দু তার জীবনের চরম কথাটি বলতে যাচ্ছিল—’মৃণাল, তুমি পঙ্গু হয়ে গেলেও আমি তোমাকে বিয়ে করব। আর। প্রেম নয়, এবার সেবা। সারাজীবন তোমাকে সেবা করার অধিকার আমাকে দাও মৃণাল।’ ভেবেছিল খুব আবেগ দিয়ে, নাটক যে ভাবে করে, সেইভাবে বলবে। তার আবেগের বেলুন ফুটো করে দিয়েছে মৃণাল। মাস্টারমশাই! মাস্টারমশাই তো ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমালাপের অধিকারী হতে। পারে না। সে তো খুব নিন্দনীয় ব্যাপার। মৃণাল ততক্ষণে ভিক্টরের পরিচয় দিতে শুরু করেছে। সে পরিচয় দিব্যেন্দুর কানে গেল কি গেল না। ভিক্টর আচারিয়া মৃণালের সহকর্মী। দুজনেই কম্পিউটার বিজ্ঞানী। দুজনেরই ভীষণ ভালো মাইনে। ভিক্টর প্রাণোচ্ছল, মৃণালের বন্ধু। সবচেয়ে বড় কথা, ভিক্টর মাস্টারমশাই নয়।

    দিব্যেন্দু আর একটু হলেই মৃণালের কপালে ঠোঁট নামিয়ে ছোট্ট একটি চুমু খাবার আবেগ প্রকাশ করতে চলেছিল। সেই অবস্থায় ভিক্টর দেখে ফেললে লজ্জার একশেষ হত। সেই অপমান থেকে বেঁচে গেছে, সেইটাই তার পরম সৌভাগ্য। মৃণাল যখন তাকে শিক্ষক থেকে প্রেমিক করতে চেয়েছিল, তখন দিব্যেন্দু পাত্তা দেয়নি। প্রেম কি কারওর জন্যে অপেক্ষা করে থাকে! প্রেম আর ট্রেন প্রায় এক জিনিস। আসামাত্রই উঠে পড়তে হয়। ট্রেন যেমন কোনও স্টেশানে এক মিনিট কোথাও দু-মিনিট থামে। থেমেই চলে যায়। ট্রেনের গুমটি যেমন ইয়ার্ড, প্রেমের গুমটি হল। বিবাহ। দিব্যেন্দুর আর এক মিনিটও দাঁড়াতে ইচ্ছে করল না। এই প্রথম সে অনুভব করল ঈর্ষা। ভিক্টর এখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী। প্রেম আর চাকরি প্রায় একই ব্যাপার হয়ে দাঁড়াল। দিব্যেন্দু যেখানেই ইন্টারভিউ দিতে গেছে, সেখানেই দেখেছে বিশ-বাইশজন, পরস্পর পরস্পরের দিকে সন্দেহের চোখে তাকাচ্ছে। কে? কে? তুমি? তুমি?

    দিব্যেন্দু নীরস গলায় বললে, ‘মৃণাল, আমি তাহলে আজকে যাই।’

    মৃণাল কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললে, ‘আসুন। সময় পেলে আবার আসবেন।’

    দিব্যেন্দু নেমে এল পথে। খুব ইচ্ছে করছিল তার, তখনই একটা আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াতে। গোলমালটা কোথায়? চেহারায়? বোকা বোকা মুখ! মরামরা চোখ! না কি, মেয়েদের সে খেলাতে জানে না! মেয়ে আর মাছ কি এক জিনিস? প্রেমের চারে, কথার টোপে গাঁথতে হবে, তারপর। হুইল থেকে লোভের সুতো ছেড়ে ছেড়ে, জীবনের জলে খেলিয়ে খেলিয়ে তুলতে হবে। দিব্যেন্দু একটা ট্যাক্সিতে চড়ে বসল। কিছুদূর যাবার পর খেয়াল হল হাতের মুঠোয় কী একটা ধরা রয়েছে। মৃণালের রুমাল। ভুলে হাতের মুঠোয় রুমালটা নিয়ে চলে এসেছে। নরম, ফুলফুল, ছোট্ট একটা রুমাল।

    পরের দিনই দিব্যেন্দু ফিরে গেল উত্তরবঙ্গে। বসন্ত ফেটে পড়েছে শহরতলির বনস্থলীতে। দূর আকাশের পাহাড়ে অভ্ররেখা। সারাদিন কাজে কর্মে বেশ তবু কেটে যায়। রাতে, আটটার মধ্যে শহর নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। তখন! তখনই দিব্যেন্দু তার নিরালা ঘরে বসে ভাবতে থাকে। দুটো প্রশ্ন —প্রেম আছে? না প্রেম নেই? পরক্ষণেই হু-হু পাহাড়ি বাতাসে দুলে ওঠে জানলার পরদা, সঙ্গে সঙ্গে জেগে ওঠে দ্বিতীয় প্রশ্ন—ভূত আছে? না নেই? কেউ বলে আছে, কেউ বলে নেই। মৃণালের ছোট্ট লেডিজ রুমাল দিয়ে চশমার কাচ মুছে, দিব্যেন্দু কারওকে একটা চিঠি লেখার চেষ্টা করে। কাকে লিখবে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআকাশ পাতাল – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article হরি ঘোষের গোয়াল – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }