Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সঞ্জীবের সেরা ১০১ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1246 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আলো

    আলো

    সেকালটাই ছিল মজার কাল। সবেতেই মজা। বাড়িতে চোর পড়লেও মজা। চোরেরাও ছিল অন্যরকম। প্রকৃতই অভাবী মানুষ। পেটের দায়ে চোর। ছিচকে চোর। ঘটি, বাটি, গামছা, জামা, লোহার বালতি, তোলা উনুন, কেরোসিন তেলের বোতল, হাতের কাছে যা পাওয়া যায় তাইতেই সন্তুষ্ট। কোনওক্রমে রান্নাঘরে ঢুকতে পারলে সেই মাঝরাতেই হাপুসহুপুস করে খানিক পায়েস খেয়ে নিলে।

    কোনও ইজ্জত ছিল না তাদের। চরিত্রে আত্মসম্মান বোধটাই অনুপস্থিত। সেকালের চোর ধরা পড়লে গণপিটুনিতে মরত না। ভোর হওয়ার আগেই চড়চাপড় দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হত। সে ছিল শান্তির কাল।

    একদিন মাঝরাতে চোর এসেছে! জ্যাঠামশাইয়ের ঘরে। খাটের কাছে গিয়ে ঝুঁকে পড়ে দেখছে, ঘুম কতটা গভীর! জ্যাঠামশাইয়ের ভরাট মুখে অসাধারণ এক জোড়া গোঁফ ছিল, ইংরেজিতে। যাকে বলে, ‘হ্যান্ডলবার মুস্ট্যাশ।’ গোঁফ জোড়া দেখে চোর মুগ্ধ। আলতো করে টেনেছে।

    জ্যাঠামশাই ঘুমোতে-ঘুমোতেই বলছেন—আসল, আসল। বিরক্ত না করে ডিবেতে কাশীর জর্দা দেওয়া পান আছে, দুটো খিলি মুখে পুরে চলে যা।

    চোর বললে—কত্তা, রাতে খাওয়াই জোটেনি। শুধু-শুধু পান খেয়ে কী করব!

    খুব রেগে গিয়ে জ্যাঠামশাই বলছেন—হতচ্ছাড়া! রাতের খাবারটাও জোটাতে পারিস না, চুরি করতে এসেছিস!

    বালিশের তলা থেকে একটা পাঁচ টাকার নোট বের করে চোরকে দিয়ে বললেন—নে ধর।

    পুরো ব্যাপারটাই হচ্ছে চোখ বুজিয়ে।

    চোর বললে কত্তা, মাথাটা একটু তুলুন না, দেখি বালিশের তলায় আর কী আছে!

    জ্যাঠামশাই বললেন—সমান দুভাগ করেছি। বউয়ের তবিল থেকে দশ ঝেড়েছিলুম, তোর পাঁচ আমার পাঁচ। একেবারে ন্যায়বিচার। ওই পাঁচ-ও দিতে পারি যদি আমার পা-দুটো টিপে দিস!

    সে আমি দিচ্ছিখন। তোমার ঘরে খাবারদাবার কিচ্ছু নেই?

    গাছপাকা দুটো আতা আছে তাকে। খবরদার ঘরের মেঝেতে বিচি ফেলবি না।

    রাত আড়াইটের সময় আতা খেয়ে চোর পা টিপতে বসল। আবার জিগ্যেস করল কাল কী এই টাইমে আসব?

    দুঃখ মেশানো গলায় জ্যাঠামশাই বললেন—সুখের দিনের আজই শেষ রাত্তির। কাল সকালেই ফিরে আসছেন বাপের বাড়ি থেকে। তুই বরং একটা কাজ করতে পারিস, এক ফাঁকে এসে বলে যেতে পারিস, টাকা দশটা তুই নিয়েছিস।

    চোর বলল—মাপ করো কত্তা। মা ঠাকুরুনকে আমরা খুব চিনি। টাকা তুমি ফিরিয়ে নাও।

    আর আতা!

    কত্তা! সে তো খেয়ে ফেলেছি। এই লাইটারটা কাল চুরি করেছিলুম। তুমি রাখো। যা হয় কোরো।

    আর একদিন চোর মাঠের ওপর দিয়ে দৌড়োচ্ছে, পেছন-পেছন আমার বলশালী কাকাবাবু ছুটছেন, ব্যায়ামবীর। তার পেছনে আমরা। ওপাশে চোর মুখ ঘুরিয়ে থমকে দাঁড়িয়েছে, এপাশে আমার কাকাবাবু। মাঝখানের ব্যবধান হাত পঞ্চাশ। এতক্ষণ হচ্ছিল দৌড়ের অলিম্পিক। এবার রেস্টলিং।

    দুজনেই দুজনকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ছে।

    চোর বলছে–কী হল! হিম্মত থাকে এসে ধরো।

    কাকাবাবু বললেন—হিম্মত থাকে তো তুই আয় না।

    চোর বললে—কোনও দিন শুনেছ, চোর এসে সাধ করে ধরা দিচ্ছে! চোর সবসময় পালায়, আর চোর পালালে তোমাদের বুদ্ধি বাড়ে।

    তা পালা, থামলি কেন হঠাৎ! চোর আর ছুঁচো এই দুটোকে আমি ধরি না। আমার ঘেন্না করে। নে নে, ছোট-ঘোট।

    আর কত ছুটব! প্রায় এক মাইল হল, সেই গজার মোড় থেকে দৌড় শুরু হয়েছে।

    কাকাবাবু বললেন—তুই তো ব্যাটা আচ্ছা অধার্মিক। চোরের ধর্মই হল পালানো।

    এতক্ষণে এটা তো বুঝেছ, আমি তোমার চেয়ে জোরে দৌড়োই। ইচ্ছে করলে পালাতে পারি।

    তা পালাচ্ছিস না কেন?

    কী করে পালাব? তোমাদের বাগানে কৃষ্ণকলির ঝোপে আমার মাল পড়ে আছে যে!

    তোর চোরাই মাল আমাদের বাগানে! নিয়ে যা, নিয়ে যা।

    চোর আর কাকাবাবু দুজনে গল্প করতে-করতে ফিরে এলেন, যেন হলায়-গলায় বন্ধু। দাওয়ায় বসে কাকাবাবু বললেন—আয় বোস, একটু জিরিয়ে নেওয়া যাক। দৌড়টা বেশ ভালোই হল কী বল? তামাক সাজতে পারিস?

    তা আর পারি না!

    যা, ওইধারে সব আছে। টিকে, দেশলাই, দুটো-কো, অম্বুরি তামাক। ভালো করে সেজে আন।

    দুজনে আয়েস করে তামাক খেতে লাগলেন। ওদিকে ভোর হতে শুরু করেছে। এই চোর কালু কিছুদিনের মধ্যেই কাকাবাবুর ব্যবসায় কাকাবাবুর ডান হাত হয়ে গেলেন। আরামবাগে। কাকাবাবুর বিরাট কাপড়ের আড়ত। কালীবাবু বিশ্বাসী ম্যানেজার। ভীষণ খাঁটিয়ে।

    বেশ কিছুদিন পরে কাকাবাবু বললেন কালু, এইবার একটি ভালো মেয়ে দেখে তোর বিয়ে দেবো।

    কালু বলল—আবার! ওই চক্করে আর পা দিচ্ছি না।

    সে কী রে! বিয়ে করিছিলি? বউ কোথায়?

    চুরি হয়ে গেছে।

    এখন তাই ভাবি, এই হাইটেক যুগে এইরকম সৎ চোর আর দেখতে পাওয়া যাবে না। আর রসিক গৃহস্থ! আমার দাদু, চোরের কাঁঠাল কাঁধে করে চোরের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে এসেছেন!

    .

    ২.

    দাদু আমাদের পরিবারে সবচেয়ে মজার মানুষ। নাম করা আইনজীবী। খুব ‘পপুলার’। যখন গম্ভীর তখন ধারেকাছে যাওয়ার সাহস থাকে না কারুর। মারাত্মক চেহারা। ছ’ফুটের ওপর লম্বা। সেই রকম স্বাস্থ্য। ভোরবেলা দমাদ্দম ব্যায়াম করেন। মুঠো-মুঠো ভিজে ছোলা হল ব্রেকফাস্ট। গায়ে সরষের তেল ডলে গঙ্গাস্নান। কথায়-কথায় গরিলাদের মতো বুকে দুমদুম চাপড় মেরে সঘোষে নির্ঘোষ—শরীরম আদাম খলু ধর্ম সাধনম। আই অ্যাম এ হোয়াইট গরিলা। আমাকে যথেষ্ট সম্মান করে, সকলের সামনে, স্কুলের বন্ধুদের সামনেও ‘টিকটিকি’ বলে ডাকেন। হুইচ ইজ সো ইনসাল্টিং। মাকে বহুবার বলেছি—মা, তোমার বাবাকে সাবধান করে দিও।

    মা বললে–বাবাকে সাবধান! আমার নাম রেখেছে ঘৃতকুমারী। তোর বাবার নাম হয়েছে মুষল। জ্যাঠামশাইয়ের নাম রেখেছে হাবিলদার। কাকাবাবু চৌকিদার। কী করবি বল!

    দাদু একদিন রাতে খাওয়ার আগে খানাঘরে আসনে বসে বললেন—তোমাদের ভোজের আসরে আমার একটি সারস্বত নিবেদন আছে। ইদানীংকাব্যরচনায় মনোনিবেশ করেছি। লিখেও। ফেলেছি কয়েকছত্র। এতে মহাকাব্যের গুণ দেখতে পাচ্ছি। অনেক-অনেক দিন মহাকাব্য কেউ লিখলেন না। তার কারণ মুনি-ঋষিরা কেউ নেই। অবশেষে আমাকেই হাত দিতে হল। এই কাব্যের নাম, ‘টিকটিকিকাব্য’।

    আমার ভীষণ প্রতিবাদ—এই কাব্য পাঠ করলে, আমি খাবার ঘর ছেড়ে চলে যাব। দাদু বললেন—সেটা অবশ্যই খুব বোকামির কাজ হবে; কারণ আজ শনিবার। তুমি স্পেশ্যাল ভোজ মিস করবে। পোলাও, মালাইকারি, রসনাসিক্তকারী সুখাদ্য যাবতীয়। বৎসে! ইংরেজরা আইন করেও কলমের স্বাধীনতা হরণ করতে পারেনি। সুতরাং শান্ত হয়ে বসে শ্রবণ করো। এটি পরে। নানাভাষায় অনূদিত হবে। চতুর্দিক থেকে মানুষ আসবে এই টিকটিকি কুঞ্জে অবতার দর্শনে।

    এ অতি সুস্বাদু জীবন কাহিনি
    অবতরিলেন এক সুদৃশ্য টিকটিকি।
    মাথা ভরা কৃষ্ণ কেশ কৃষ্ণের মতো।
    সারাদিন নানাভাবে পরিচয্যারত।

    আর এগোলো না। খাবার এসে গেল। পোলাও-এর সুগন্ধে মহাকাব্য চাপা পড়ে গেল। খেতে খেতে দাদু বললেন—জানো তো, আমার আর ভালোমন্দ খেতে ইচ্ছে করে না। নিজেকে অপরাধী মনে হয়। সেদিন ভোলানাথের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। অত বড় গুণী মানুষ; কিন্তু নেগলেকটেড। একসময় মানুষটা খেয়ে আর খাইয়ে আনন্দ পেত। আমাকে বলছে—ধোঁকা খেতে কী ভালোই বাসতুম। স্ত্রী চলে যাওয়ার পর কাকেই বা বলব, কে-ই বা শুনবে! কারই বা সময় আছে!

    আমার খুব ইচ্ছে!

    সকলেই উন্মুখ! জ্যাঠামশাই বললেন সামনের রবিবার নেমন্তন্ন করা যাক। ধোঁকা এমন একটা কিছু হাতি-ঘোড়া ব্যাপার নয়!

    দাদু বললেন—আমি সমস্যার গভীরে যেতে চাই।

    বাবা বললেন—ডিপ ইনসাইড।

    দাদু ভীষণ খুশি হয়ে বললেন—অ্যায়! তুমি ঠিক বাঙলাটা বলেছ—ডিপ, ডিপ, ডিপ ইনসাইড দা প্রবলেম।

    জ্যাঠামশাই বললেন—বিস্তারিত জানতে ইচ্ছে করছে। বাংলা করলে, ইন ডিটেলস।

    বাড়ির বাইরে লাল রঙের আলাদা একটা লেটার বক্স প্লেস করব। তার গায়ে লেখা থাকবে— ভোজন বক্স।

    জ্যাঠামশাই বললেন—ওয়ান্ডারফুল। তার মধ্যে ধোঁকা থাকবে। ভোজন বক্স না লিখে ধোঁকার বাক্স লিখলে কেমন হয়?

    আমার আইডিয়া আরও সুদূরপ্রসারী। এই পাড়ায় যার যা খেতে ইচ্ছে করছে, বিশেষ কোনও পদ, অতীতে খেয়েছে, স্মৃতিতে আছে, যেমন ধরো কচুরলতি, কি ইলিশপাতুরি, কি কইমাছের গঙ্গা-যমুনা, ভাপা ভেটকি, জাস্ট একটা স্লিপে লিখে ভোজন বক্সে ফেলে যাবে। শনিবার আমরা খুলে দেখব, রবিবার দুপুরে সার্ভ করা হবে।

    বাবা বললেন—শুধু একটা আইটেমে তো হবে না, রীতিমতো খাওয়াতে হবে পাতা পেড়ে।

    অফকোর্স। এতে আমাদেরও লাভ, আমরাও খাব। আমরা তো অনেক সময় আইটেম খুঁজে পাই না। আর আমাদের মেয়েরাও খুব উৎসাহ পাবে। আমাদের রবিবারগুলো উৎসবের চেহারা নেবে। সবাই লাইন দিয়ে আসছেন, কচুরলতি, মোচা, দই-করলা, ভাপা ইলিশ। সব পিলপিল করে আসছেন। হাঁচতে-হাঁচতে। কাশতে-কাশতে। লাঠি ঠকঠক করতে-করতে। কেউ কোমর সোজা করতে পারে না, কারও হাঁটু মোড়ে না। সকলেরই ওপরে যাওয়ার নোটিশ এসে গেছে।

    জ্যাঠামশাই মুগ্ধ হয়ে বললেন—পৃথিবীর কোথাও এমন হয়নি। বাঙলায় বললে, দিস ইজ দি ফাস্ট টাইম ইন দি ওয়ার্লড।

    বাবা এতক্ষণ একটাও কথা বলেননি, এইবার বললেন—তাহলে দক্ষিণ পাড়ারটা।

    দাদু বললেন—দক্ষিণ পাড়ারটা মানে?

    প্রথমে দক্ষিণ পাড়ার জমিটা বিক্রি করা যাক, তারপর চাঁপাডাঙ্গা, তারপর মধুপুরের বাগানটা।

    কেন-কেন, জমিজায়গা বিক্রি করবে কেন? খুব অর্থাভাব! আমাকে বললেই হয়। মক্কেলরা সব টাকা নিয়ে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

    আপনার এই পরিকল্পনা কার্যকরী হলে মাসে কী পরিমাণ টাকা লাগবে ধারণা আছে?

    পুঁইশাক, কচুরলতি, মোচা, ডুমুর, পেঁপে, এসবের আর কী এমন দাম!

    জ্যাঠামশাই বললেন—প্রজেক্ট কস্টটা তুই বের করে ফেল ছোট। এটা তোর সাবজেক্ট।

    বাবা সায়েনসের। গণিতজ্ঞ। অঙ্ক নিয়ে খেলা করেন। জ্যাঠামশাই আর্টসের। ইংরিজি কেটে জোড়া দেন। সাহেবরা ইংরিজি শিখতে আসেন। দাদু আইনের। যার কেস ধরেন সেই মামলা জেতে। পাড়ার অনেকেই আমাদের হিংসে করে।

    জ্যাঠামশাই অনেকক্ষণ ধরে একটা মাংসর হাড় নিয়ে কসরত করছেন। চুষে কিছুতেই ম্যারোটা বেরোচ্ছে না। থালায় ঠকাস-ঠকাস করে ঠুকছেন। বাবা বললেন—হয় তবলা ঠোকা হাতুড়িটা চেয়ে নাও, না হয় ওটার মায়া ত্যাগ করো।

    বাবার কথায় কান না দিয়ে জ্যাঠামশাই বললেন—কিছু লিফলেট ছাপিয়ে বাড়ি-বাড়ি বিলি করতে হবে। তাতে লেখা থাকবে, নিমন্ত্রণের তারিখ আমরা জানাব। তাহলে হবে কী, ব্যাপারটা আমাদের কন্ট্রোলে থাকবে। সপ্তাহে একজন। জমিজমা বিক্রির প্রয়োজন হবে না।

    দাদু বললেন—যদি দেখা যায় তিনজন কী চারজন একই আইটেম খেতে চাইছে, আমরা একই দিনে সেই ক’জনকেই আমন্ত্রণ জানাব।

    জ্যাঠামশাই বললেন—গুড আইডিয়া, ভেরি গুড আইডিয়া।

    বাবা বললেন—সমস্ত ব্যাপারটাই ভেরি রিস্কি। কিছু লোক পেয়ে বসবে। শুধু তাই নয়, তাদের বাড়ির লোককে অপমান করা হবে। তাঁরা বলবেন—কী আমরা খাওয়াতে পারি না? মার চেয়ে মাসির দরদ বেশি! ফলে হবে কি, সেই লোকটির বাড়িতে তিষ্ঠানো দায় হবে। গাল বাড়িয়ে চড় খাওয়ার মানে হয় না।

    দাদু বেশ চিন্তিত—অতি যুক্তিপূর্ণ কথা। তাহলে আমরা কী করব? অভিনব একটা কিছু। তোমরা সবাই ভাবো।

    জ্যাঠামশাই বললেন,—আপাতত আমরা মন দিয়ে খাওয়াটা সেরে ফেলি; কারণ আমরা উঠলে তবেই মেয়েরা খেতে বসতে পারবে। অলরেডি আমরা অনেকটা সময় নিয়ে ফেলেছি।

    দাদু বললেন—ঠিক-ঠিক। এ ব্যাপারটা আমাদের মনে ছিল না। রান্না তো উপাদেয় হয়েছে। অ্যাজ উপাদেয় অ্যাজ পসিবল। আচ্ছা আমি কি আর এক রাউন্ড চাটনি পেতে পারি!

    অফকোর্স, অফকোর্স!

    জ্যাঠামশাই সেই হাড়টার মায়া ছাড়তে পারেননি। আবার বারকতক ঠকঠক করলেন।

    বাবা বললেন—ওরে কে আছিস, মেজদাকে দেখেশুনে একটা সহজ হাড় দে না।

    জ্যাঠামশাই বললেন—ছোটু! খাওয়াটা বড় কথা নয়, বড় কথা হল বের করা। প্রশ্ন হল— বেরোবে না কেন?

    ওটা আর্টের পথে বেরোবে না। বেরোবে বিজ্ঞানের পথে। আমার হাতে দাও।

    তোর এখনও খাওয়া হয়নি। আমার এঁটোটা হাতে নিবি!

    জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা পিতৃতুল্য।

    শোন ছোটু, সামনের বার আবার আমরা একসঙ্গে জন্মাব। তোর কোনও আপত্তি নেই তো?

    একটুও নেই। তবে একটা কথা, চ্যাটাস-চ্যাটাস করে যখন-তখন মারতে পারবে না।

    তাহলে আমারও একটা কথা আছে। যখন-তখন আমার তলপেটে তোমার মাথা দিয়ে ভেড়ার মতো ঢুঁস মারা চলবে না।

    আমাকে গরু, ভেড়া, ছাগল, না বললেই হল। মাঙ্কি বলা তো একেবারেই চলবে না। তাহলেই মারব ঘাড়ে লাফ।

    বাবা একটা কায়দা করে নলিটার পিছন দিকে ছোট্ট একটা ফুটো করে দিলেন।

    নাও, এবার টানো।

    ফুড়ুত করে একটা শব্দ হল। জ্যাঠামশাই আধ-বোজা চোখে বললেন—স্পেলনডিড!

    মনে রেখো, এই হল টেকনিক।

    পরের জন্মে এই জন্মের কিছু মনে থাকবে না রে ছোটু!

    সদরে গাড়ি থামার শব্দ হল। ছোট কাকা মার্চ করে ঢুকলেন, পিছনে কালীদা। দু-হাতে দুটো পেল্লায় ইলিশ ঝুলছে।

    কাকাবাবু বললেন—যাঃ, খাওয়া ফিনিশ! বউদি দুটো গেল কোথায়?

    দাদু বললেন হয়ে গেল। চারটে নাগাদ আবার আমাদের খেতে বসতে হবে। কোনও উপায় নেই।

    কাকাবাবু আরামবাগ থেকে মাঝে-মাঝেই হুট করে চলে আসেন, তখন বাড়ি একবারে জমজমাট। খেতে আর খাওয়াতে ভালোবাসেন। ব্যায়ামবীর। ফুটবল পাগল এখনও। মাঝে মাঝে আমার কাঁধে হাত রেখে তেপান্তরের মাঠে বেড়াতে-বেড়াতে কত গল্প। সব কথাই শেষ হয়ে একটি কথায়—ঘনশ্যাম, আমিও বিয়ে করিনি, তুইও বিয়ে করিস না। তোর বাবাকে অনেক বারণ করেছিলুম, অবশ্য এটাও ঠিক, তোর বাবা বিয়ে না করলে তোকে তো পেতুম না। আই। লাভ ইউ ভেরি মাচ বাদশা খান।

    যেটাকে আমরা তেপান্তরের মাঠ বলি, সে এক বিশাল মাঠ। উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিমে চারটে পাড়া। পশ্চিমে কুমোর পাড়া। সুন্দর-সুন্দর চালা বাড়ি। মাঝখান দিয়ে মোটামুটি চওড়া একটা পথ, সোজা চলে গেছে নদীর ধারে। ওই নদীপথেই আসে এঁটেল মাটি বোঝাই নৌকো, পুজোর আগে। বিশ্বকর্মার মূর্তি তৈরির ফাঁকে-ফাঁকেই মা দুর্গা গড়ার কাজ শুরু হয়ে যায়। রাত্তির বেলায় দাওয়ায়-দাওয়ায় লণ্ঠন ঝোলে। ঘরে-ঘরে দেব-দেবীর মূর্তি। সেই আলো-আঁধারিতে হঠাৎ হাজির হলে মনে হয় স্বর্গে এসেছি।

    আমার এক বান্ধবী আছে এই পটুয়াপাড়ায়। তার নাম সৌরভী। ঠিক যেন মা দুর্গা, ফ্রক পরে। হাঁটছে। লেখাপড়ায় ভীষণ ভালো। আমার বাবা লেখাপড়ার ভীষণ ভক্ত। কেউ ভালো লেখাপড়া করছে জানতে পারলে, ডেকে পাঠাতেন। তার প্রায় সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিতেন। তাকে নিজেই পড়াতেন। সৌরভী বাবার প্রিয় ছাত্রী। সৌরভীর ঠাকুরদার বাবা কৃষ্ণনগর থেকে। আমাদের গ্রামে এসেছিলেন। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের সব কাজ এঁরাই করতেন। রাজপটুয়া। সবাই লেখাপড়া জানা। সৌরভীর ঠাকুরদা ছিলেন সংস্কৃতে পণ্ডিত। আমি তাঁর কাছে সংস্কৃত পড়েছি। সৌরভীর মা খুব ভালো কীর্তন করেন। মা আর মেয়েকে প্রায় একরকম দেখতে। কালীবাবুর কাঁধে এক গাঁট কাপড়, আমার মাথায় একটা বড়সড় পোঁটলা। কাকাবাবুর দু-হাতে দুটো পেল্লায় ব্যাগ। তেপান্তরের মাথার ওপর ঝুলছে তেপান্তর আকাশ। শরৎ-নীল। হালকা-হালকা, সাদা পালতোলা মেঘ। এক সার বক তিরের ফলার মতো উড়ে যাচ্ছে। মাঠ পেরিয়ে যাচ্ছি আমরা পটুয়াপাড়ার দিকে। যেখান থেকে পাড়ার শুরু সেখানে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল বট। পটুয়াপাড়ার যেসব দেব-দেবী কোনও কারণে পূজা পায় না, সেইসব মূর্তি বটতলায় বেড় দিয়ে সাজানো। মহাদেব হাঁটছেন। মা শীতলার গাধা দাঁড়িয়ে গেছে। বিশ্বকর্মার হাতে হাতুড়ি। প্রতিমাদের ফাঁকে-ফাঁকে কাঠবিড়ালির ভীষণ লুকোচুরি। আর তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গাছের মাথায় এক ঝাঁক টাটকা টিয়া প্রচণ্ড আলোচনায় ব্যস্ত। আকাশ ফেটে পড়ছে।

    পটুয়াপাড়ায় ঢুকেই একটা অঙ্গন, চারপাশ ঘিরে পরিচ্ছন্ন চালা কয়েকটি। সেই জায়গায় চলেছে জোর কপাটি খেলা। সৌরভীও রয়েছে সেই খেলায়। সে যেন নায়িকা। তার ফ্রক উড়ছে, বিনুনি দুলছে। ফরসা মুখ ঘাম-চকচকে।

    কাকাবাবু ডাকলেন—সৌরভী।

    সঙ্গে-সঙ্গে সে দৌড়ে এসে কাকাবাবুর কোমর জড়িয়ে ধরল।

    দাও, একটা ব্যাগ আমার হাতে দাও।

    পারবি? বেশ ভারী!

    দাও না।

    আমরা মিছিল করে এগিয়ে চলেছি। সামনে সৌরভী। তারপর আমরা। বাঁশঝাড়ের পাশ দিয়ে, কলাবাগান, তালপুকুর, প্রাথমিক বিদ্যালয়। এরা সবাই মিলে পাড়াটাকে এত সুন্দর করে রেখেছে, হাঁ করে তাকিয়ে দেখার মতো।

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঠিক পিছন দিকে সৌরভীদের সুন্দর বাড়ি। ছোট সংসার। বাবা, মা আর ওই মেয়ে। ঝামেলা নেই ঝঞ্চাট নেই। বিদ্যালয়টা চালান বাবা আর মা। তকতকে নিকোনো দেয়ালে অপূর্ব আলপনা। দরজার মাথায় ঝুলছে শোলার ফুলের মালা। সৌরভীদের বাড়িটা যেন মন্দির। দালানের সামনে দাঁড়ালেই দেখা যায় ঘরের ভেতর মা সরস্বতীর অপূর্ব মূর্তি।

    দাওয়ার ওপর কাপড়ের গাঁট, পোঁটলা-পুঁটলি, ব্যাগ, সব নামানো হল। তিনটে খরগোশ ভয় পেয়ে ছুটে পালাল। খরগোশের দৌড় দেখতে বেশ মজা লাগে। ওঠ-বোস করতে করতে কেমন দৌড়োয়। সৌরভীর মা-বাবা বেরিয়ে এলেন। এইসব কাপড়, জামা-প্যান্ট, সোয়েটার, লজেন্স, বিস্কুট সব বিতরণ করা হবে। দুর্গাপুজো এসে গেল। আর বসে থাকলে চলবে! একটা সোশ্যাল ব্যাগ, সেই ব্যাগে সৌরভীর বাবা, মা আর সৌরভীর জামা-কাপড়। সেই ব্যাগটি মায়ের হাতে তুলে দিতে-দিতে কাকাবাবু বললেন—আমাদের বাড়িতে আজ রাতে আপনাদের নিমন্ত্রণ। একজোড়া ইলিশ—যা পেয়েছি না, আপনারা না খেলে শান্তি পাব না।’

    সৌরভী আমার কানে-কানে বললে—আমরা এখানে থেকে কী করব, চলো কপাটি খেলি।

    সবাই তো মেয়ে!

    তোমাকে আমি মেয়ে সাজিয়ে দেব। হাসতে লাগল সৌরভী।

    খুব জোর খেলা শুরু হল। শরতের মাঠে, শরতের আকাশের তলায়। পুকুরের স্থির জলে মেঘ ভাসছে। বিরাট যেন রাজহাঁস। সৌরভী আমার বিপরীত দলে। কিত-কিত শব্দ করতে-করতে ঢুকেছি। ওদের কয়েকটাকে মোর করে বেরিয়ে আসছি; জাপটে ধরল সৌরভী। কী জোর! বাপরে! মাটিতে চিত। সৌরভী আমার বুকের ওপর। আমার পিঠের তলায় নরম-নরম ঘাস। সন্ধে হল। দিনের আলো কমছে। এক ঝাঁক ফড়িং উড়ছে। প্রাণপণে কিত-কিত শব্দ করছি। দম ফুরিয়ে আসছে। আর পারছি না। সৌরভীর ঠোঁট দুটো আমার ঠোঁটের ওপর চেপে বসল। থেমে গেল কিত-কিত।

    হেরে গেছি। তবু সৌরভী আমাকে ছাড়ছে না। ফিশফিশ করে বললে—এইবার কী হবে? পালাবে? আমার কাছ থেকে পালাতে পারবে? আমি দুর্গা।

    রাত্তির বেলা পড়ায় মন বসল না। কেবল সৌরভীকে মনে পড়ছে। চাঁদ উঠেছে। হু-হু চাঁদের আলো তেপান্তরের মাঠে খেলা করছে। কাকাবাবু এসেছেন, বড়রা সব গল্পে ব্যস্ত। কালীদা খাটের তলায় বালি বিছিয়ে আলু রাখছেন, সারা বছরের আলুর স্টক। রান্নাঘরে মা আর জ্যাঠাইমা ইলিশ নিয়ে ব্যস্ত। হঠাৎ মনে হল কাকাবাবু সৌরভীদের নেমন্তন্ন করেছেন, আমি যদি গিয়ে বলি, আপনাদের নিতে পাঠিয়েছেন, তাহলে কেউ কিছু মনে করতে পারবেন না। আমার যে সৌরভীকে ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করছে।

    মনে হওয়া মাত্রই যাত্রা শুরু। একদিন না পড়লে কী আর হবে! ফাঁকা মাঠ। কেউ কোথাও নেই। দূরে কোথাও গান হচ্ছে। সুর ভেসে আসছে। মনে পড়েছে, দক্ষিণপাড়ায় রায় জমিদারদের মন্দিরে কীর্তন হচ্ছে। প্রত্যেক পুর্ণিমায় হয়। মাঝমাঠ বরাবর যেতে না যেতেই দেখি, ওরা তিনজন ওদিক থেকে আসছে। সৌরভী বললে কোথায় যাচ্ছ?

    তোমাদের ডাকতে।

    সৌরভী বললে—ভালোই হয়েছে। মা, তোমরা এগিয়ে যাও, আমরা মদনমোহনের মন্দির ঘুরে যাচ্ছি।

    অনেক দেরি হয়ে যাবে না?

    দেরি কী গো, এই তো একটু আগে সন্ধে হল। শুনছ না, আরতি হচ্ছে!

    আমরা দক্ষিণপাড়ার দিকে এগোচ্ছি। চাঁদের আলোয় মন্দিরের সাদা চূড়াটা ধকধক করছে, যেন আকাশের গায়ে কাঞ্চনজঙ্! দাদুর মুখে শুনেছি, একশো বছর আগে এই মাঠটা ছিল। ডাকাতদের, ফাঁসুড়েদের। কত মানুষ যে খুন হয়েছে এই মাঠে! কথাটা মনে হওয়া মাত্রই আমি সৌরভীর গা-ঘেঁষে হাঁটতে লাগলুম।

    কী হল, ভয় করছে?

    জানো, দাদু বলেছেন, একশো বছর আগে এই মাঠে ডাকাতরা মানুষ মেরে পুঁতে দিত। তারা সব ভূত হয়ে এখানে আছে।

    আছে তো আছে। তাতে তোমারই বা কী, আর আমারই বা কী? আমি দুবার দেখেছি। একদিন দুপুরবেলায় দেখেছি।

    দুপুরবেলায় ভূত!

    ও মা, তুমি সেই কথাটা শোনোনি, ঠিক দুপুরবেলা ভূতে মারে ঢেলা! একটা লোক দড়িতে বাঁধা একটা ছাগল নিয়ে হাঁটতে-হাঁটতে যাচ্ছে। যেই জিগ্যেস করলুম, কাকু! কোন হাট থেকে ছাগলটা কিনলে? ব্যস, সঙ্গে-সঙ্গে ভ্যানিশ। মানুষটা নেই, ছাগলটা আছে। এইবার শুনবে! ছাগলটা আমাদের পাড়ার বিমলাদের ছাগল। ছাগলটা পাগল হয়ে গেল।

    ছাগলও পাগল হয়?

    হবে না, ভূতে ধরেছিল যে! থেকে-থেকে তার চোখ দুটো সাদা হয়ে যেত। আর ভীষণ-ভীষণ সব কাণ্ড করত। পায়রা, মুরগি এইসব ধরে-ধরে খেত।

    শেষে কী হল?

    জলে ডুবে মারা গেল।

    মন্দির যত এগিয়ে আসছে বাদ্যিবাজনার আওয়াজ তত জোর হচ্ছে। বাড়ির দাওয়া থেকে আমাদের সকলের ‘রাঙা দিদিমা’ জিগ্যেস করলেন—দুটিতে চল্লে কোথায় গো? রাধা আর কৃষ্ণ!

    সৌরভী বললে রাধা আর কৃষ্ণ দেখবে দিদিমা? আমাকে বললে—বাঁশি ধরে বাঁ-দিকে বেঁকে যাও। সৌরভী আমার গায়ে-গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। দিদার কী হাসি!

    নাড়ু খাবি আয়।

    আজ নয় গো দিদা। আজ তোমার রাধাকৃষ্ণ ইলিশ খাবে।

    মন্দিরে মদনমোহন আজ কী সেজেছেন! কীর্তনীয়া মাথুর গাইছেন ভঙ্গি করে।

    প্রচুর খাওয়ার পর প্রচুর গল্প। দাদু জিগ্যেস করলেন—দুটোতে কোথায় গিয়েছিলিস? দাদুর সঙ্গে আমাদের বন্ধুর সম্পর্ক। ইয়ারকি-টিয়ারকি একটু আধটু চলে। সৌরভীটা আজকাল একটু ফাজিল হয়েছে।

    সৌরভী বললে—প্রেম দেখতে।

    কার প্রেম?

    রাধাকৃষ্ণের।

    সে ভালো। প্রেম করেছিস?

    একটু। তোমার নাতিকে আজ বেশ করে চুমু খেয়েছি।

    আগেই খেয়ে ফেললি? বিয়ে পর্যন্ত অপেক্ষা সইল না?

    ধুর, তার এখনও অনেক দেরি।

    মদনমোহনতলায় মন্দিরের পেছনে একটা কুয়ো আছে, দেখেছিস?

    না!

    ওর কোনও তল নেই।

    মানে?

    পাতাল পর্যন্ত নেমে গেছে। ভেতর দিকে জলের কিছুটা ওপরে ডান দিকে একটা সুড়ঙ্গ আছে, সেটা সোজা চলে গেছে পাইনদের রাজবাড়িতে। একেবারে গর্ভমন্দিরে। নবাবি আমলে, যখন মন্দির ভাঙাভাঙি হচ্ছে, মূর্তি চুরমার করছে, মদনমোহন তখন ওই সুড়ঙ্গে অনেকদিন ছিলেন। পাইনদের রাজবাড়ির পুরোহিত ওই দিক থেকে রোজ দুবেলা এসে চুপিচুপি পুজো করে যেতেন। ওপরে জঙ্গল। বোঝার উপায় ছিল না, যে, তলা দিয়ে চলে আসছে একটা সুড়ঙ্গ-পথ।

    সৌরভী জিগ্যেস করলে—এখনও সেই পথ আছে?

    এদিকে, ওদিকে কিছুটা তো আছে। মাঝে-মাঝে নেই। জঙ্গলটাই চলে গেছে। মানুষের বসতি হয়ে গেছে। জঙ্গলের শক্র মানুষ।

    এইবার সবাই এসে ঘিরে বসলেন। আমাদের লাইনের গল্প থেমে গেল। জ্যাঠামশাইয়ের প্রিয় বিষয় হল, মাছ। আসরে বসেই বললেন—আহা, এমন চাঁদের আলো, মাছ ধরতে গেলে হত। কবিতার মতো রাত। জলার ধারে এইরকম রাতে অনেক রকমের অভিজ্ঞতা হয়। আমি একবার কথা-বলা মাছ দেখেছিলুম। বিরাট মাছ। জল থেকে রুপোর তৈরি মাথাটা তুলে বললে, আমার নাম সৌরভী, তোমার নাম?

    সৌরভী বললে—সৌরভী তো আমার নাম।

    জ্যাঠামশাই বললেন—সে আমি কী করব। মাছ বললে, আমার নাম সৌরভী। কী সুন্দর দেখতে। নাকে নোলক। চোখ দুটো টানা-টানা। কপালে টায়রা। আর এক চাঁদের আলোর রাতে দেখি, অপূর্ব সুন্দর, রাজার মতো একজন মানুষ জলের কাছে দাঁড়িয়ে আছেন। আর ওপারে সাদা ধবধবে একটা বক। বেশ বড়। মাথায় রুপোলি একটা ঝুঁটি। চাঁদের আলোয় ঝিলমিল করছে। এমন বক কখনও দেখিনি! ভয়ে-ভয়ে জিগ্যেস করলুম—আপনি কে?

    সে কী? আমাকে চিনতে পারছ না? মহাভারত পড়োনি?

    সংক্ষিপ্ত মহাভারত পড়েছি।

    যুধিষ্ঠিরকে চিনতে পারছ না? ওই দেখো ওপারে বকরূপী ধর্ম। কিছুতেই জল নিতে দিচ্ছে না। মহাভারতের সেই প্রশ্নোত্তরের ‘কুইজ কন্টেস্ট’ শুরু হয়ে গেল, আমি ছিপ হাতে চুপটি করে বসে-বসে শুনছি—

    বক। বলো যুধিষ্ঠির, পৃথিবীর চেয়ে গুরুতর কী, আকাশের চেয়ে উঁচুকী, বাতাসের চেয়ে দ্রতগামী কী, ঘাসের চেয়ে বিস্তৃত কী? সৌরভী বললে—আমি জানি। বেশ, তাহলে তুমি হও যুধিষ্ঠির আর আমি বুড়ো বক। উত্তর দাও।

    মা পৃথিবীর চেয়ে গুরুতর। মদনমোহন মন্দিরের লালাজি আমাকে শিখিয়েছেন, ‘জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী।’ আকাশের চেয়ে উঁচু পিতা। বাতাসের চেয়ে দ্রুতগামী আমাদের মন। আর আমাদের চিন্তা ঘাসের চেয়ে বিস্তৃত।

    বক।। কোন ধর্ম শ্রেষ্ঠ?

    সৌরভী।। দয়া।

    কোন ধর্ম ভালো ফল দেয়?

    শাস্ত্রের ধর্ম।

    মানুষ কী করলে দুঃখ পাবে না?

    মনকে বশে রাখলে।

    কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করলে মানুষ ঠিক থাকবে, নষ্ট হবে না? এই যে এইটার সঙ্গে।

    সবাই গুরুজন, তাঁদের সামনে সৌরভী আমার কাঁধে হাত রেখে বললে—সৎলোক।

    কাঁধ থেকে হাতটা নামল না। ঘাড়ের কাছে ঠান্ডা-ঠান্ডা চুড়ির স্পর্শ। ভীষণ লজ্জা করছে। কেউ কিছু মনে করছেন না। সবাই জানেন, আমরা দুজনে ভীষণ বন্ধু।

    বকরূপী জ্যাঠামশাই প্রশ্ন করলেন–বলো যুধিষ্ঠির, বার্তা কী?

    সবাই থমকে আছেন, এইবার সৌরভী কী বলে! সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন। সৌরভী হাসতে-হাসতে বললে—শুনুন ধর্মরাজ! পৃথিবীর এই মায়ার কড়াতে, সূর্যের আগুনে দিন আর রাতের কাঠ দিয়ে, মাস আর ঋতুর হাতা দিয়ে ঘেঁটে রাঁধুনী কাল জীবদের পাক করছে। ধর্মরাজ! এই হল বার্তা।

    সবাই চটাপট-চটাপট হাততালি দিয়ে বললেন—এ মেয়েটা কে রে! কোথায় শিখলি?

    ওই লালাজি। রামায়ণ, মহাভারত পড়েন, আমি বসে-বসে শুনি।

    ধর্মরাজ বললেন—সাইলেন্স, সাইলেন্স। শেষ হয়নি এখনও। বলল, আশ্চর্য কী?

    রোজ মানুষ মরছে। মানুষ দেখছে, তবু ভাবছে, আমি বোধহয় অমর। এরচেয়ে আশ্চর্য আর কী আছে!

    বলো, পথ কী?

    ‘মহাজনো যেন গতঃ স পন্থাঃ।’

    জ্যাঠামশাই আর পারলেন না। সৌরভীকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। কী পুরস্কার চাস, বল? জ্যাঠামশাইয়ের বুকে মুখ গুঁজে সৌরভী বললে—একটা রাজকুমার।

    রাজকুমার কোথায় পাব মা?

    মুখ না তুলে, পেছন দিকে হাত ঘুরিয়ে বললে—ওই যে, ওইখানে একটা বসে আছে। দাদু এতক্ষণ মৌজ করে পান চিবোচ্ছিলেন। দাদুর পান আমার বড়মা ছাড়া কেউ সাজতে পারেন না। বড়মা জমিদারের মেয়ে। বন্দুক চালাতে পারেন। ভীষণ সাহসী। একবার কোথা থেকে ঘোড়ায় চেপে একটা লোক। দুপুরবেলা। পুরুষরা কেউ ছিল না। যেন চম্বলের দস্যু। গুলি-গুলি চোখে। আমার দিকে তাকিয়ে ভয় দেখাবার চেষ্টা করছিল। বড়মাবন্দুক হাতে বেরিয়ে এলেন। একটা ফাঁকা আওয়াজ করতেই লোকটা দমাস করে ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গেল। পরে জানা গেল, পাইনদের বড় ছেলে ঘোড়ায় চেপে বিয়ে করতে যাবে, তাই তারকেশ্বর থেকে ঘোড়া। আনিয়েছিল। ওদের বাড়ির একজন ডাকাত সেজেছিল।

    দাদু বললেন—এই টিকটিকিকে বিয়ে করবি গিরগিটি? তোর কী পছন্দ রে! আমরা বিয়ে করে ফেলেছি।

    কবে করলি?

    আজ।

    কোথায় করলি?

    মদনমোহনের মন্দিরে গেলুম কেন? ও কৃষ্ণ আর আমি রাধা। ওই জন্যেই না তোমরা এত খাওয়ালে!

    দাদু বললেন—এবারে ডাকাতদের গল্প শোনো। ভয় পাবে না তো? না, ভয় পাবে কেন!

    সেকালের ডাকাতদের কোনও তুলনা একালে খুঁজে পাওয়া যাবে না। সকালে জমিদার, রাত্তিরে ডাকাত। আমার মেসোমশাই যথেষ্ট ধনী ছিলেন। হরেকরকম ব্যবসা করে এত টাকা করে ফেললেন যে ডাকাতদের লিস্টে নাম উঠে গেল। মাসিমা অনেকবার সাবধান করেছিলেন, আর যাই করো বিপজ্জনক রকমের বড়োলোক হোয়োনা।

    মেসোমশাই করুণ গলায় বলেছিলেন—আমি কী ইচ্ছে করে হচ্ছি! জোয়ারের জলের মতো টাকা এলে আমি কী করব! টাকায় আমার অরুচি ধরে গেছে। যাতে হাত দিচ্ছি সেইটাই লেগে যাচ্ছে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন—ভাই রে! একেই বলে কপাল!

    ডাকাতের চিঠি এল:

    প্রিয় ব্রজবাবু, আগামী বুধবার আমরা আপনার অতিথি হব। তা জন পঞ্চাশ। মায়ের পুজো সেরে বেরোতে-বেরোতে মধ্যরাত হবে। এর আগে সাধারণত আমরা কোথাও যাই না। ফুলকো ফুলকো লুচি আর পাঁঠার মাংসর ব্যবস্থা রাখবেন। চার-পাঁচ রকমের ভালো মিষ্টি অবশ্যই। মঙ্গলবার যে-কোনও সময় আমাদের একজন যাবে একটা সাইনবোর্ড নিয়ে। সঙ্গে-সঙ্গে বাড়ির বাইরে ঝুলিয়ে দেবেন। আপনার সম্মান বাড়বে। আমরা যেখানে-সেখানে ডাকাতি করি না। আমাদের দল, এক নম্বর বনেদি দল। আমরা তিন পুরুষে ডাকাত। কোনও ভেজাল নেই। মায়ের দিকে তিন পুরুষ, বাপের দিকেও তিন পুরুষ। একমাত্র আমাদের দলেই সাতটা ‘মসার’ পিস্তল। দশটা গাদা বন্দুক আছে। আমরা অন্যদলের মতো মরচে ধরা তরোয়াল, টিনের পাতপ্যাতে। খাঁড়া, পাকা বাঁশের লাঠি, এ-সব ব্যবহার করি না। রণপা-র প্রয়োজন হয় না। ও-সব ভড়ং। সার্কাস। নিকৃষ্ট ডাকাতরা ব্যবহার করে। আমরা রেজিস্টার্ড। পুলিশকে নিয়মিত চাঁদা দি। কমসে কম দুশো মেয়ের ভালো পাত্রে বিয়ে দিয়েছি নিজে বসে থেকে। হাজার বিধবাকে কাশী, বৃন্দাবনে পাঠিয়েছি। নিয়মিত মাসোহারা পায়। আমার পূর্বপুরুষরা ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে নরবলি দিত। হিংসা আমি সহ্য করতে পারি না, তাই কুমড়ো বলি দি। আমার স্ত্রী পরে ছক্কা বেঁধে, মহাপ্রসাদ হিসেবে বাড়ি-বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসে।

    আমাদের বাড়িতে দোল, দুর্গোৎসব সবই হয়। নিত্য দরিদ্র নারায়ণ সেবা।

    ইতি,

    বিনীত, বিশ্বনাথবাবু

    চিঠিটা পাওয়ার পর পাড়াসুদ্ধ লোকের সে কী আনন্দব্রজ, এতদিন তুমি একটা বড়লোকই ছিলে, আজ, তুমি জাতে উঠলে। ব্রাহ্মণ সন্তানের যেমন পৈতে হয়।

    প্রায় তিন বিঘে জমির ওপর চকমেলানো বাড়ি। দু-খানা পুকুর। আম, জাম, লিচু, সবেদা, কাঁঠাল গাছ। অনেকটা ফাঁকা জায়গা। সেখানে ম্যারাপ বাঁধা হল। বিশ্বনাথবাবু বসবেন। কার্পেট ঢাকা। মঞ্চ। রুপোর নল লাগান ফর্সি। অম্বুরি তামাক। সাদা পাগড়ি মাথায় মেলোমশাইয়ের কর্মচারীর দল। গোরা ব্যান্ড এসেছে। ভিয়েন বসেছে। বিরাট-বিরাট সাইজের ডাকাতে লাড়ু তৈরি হচ্ছে। যেন মেসোমশাইয়ের মেয়ের বিয়ে।

    সকাল থেকেই উদবেগ। বিশ্বনাথ ডাকাতবাবুর সাইনবোর্ড তো এল না। সাইনবোর্ডে লেখা। থাকবে, ‘বিশ্বানাথবাবু কৃপা করেছেন।’ এল না কেন! ‘কৃপাবোর্ড’ এল না কেন? সকলের মুখে মুখে একই উদবেগ। ডাকাতরা যে আসছে, তার আবার সিগন্যাল ছিল। দূরে রাতের আকাশ। কুঁড়ে পরপর তিনটে তারাবাজি উঠে ফুল ছড়াবে। তিনখানা আগুনে-মালা আকাশ পথে দুলতে দুলতে যে বাড়িতে ডাকাতি হবে, সেই বাড়ির দিকে এগিয়ে আসবে।

    সূর্য ডুবতে-না-ডুবতেই চারপাশ আলোয় আলো। সবাই উৎসবের সাজে সেজে উঠল। মেয়েদের মাথায় বড়-বড় খোঁপা। গলায় চিকচিকে সোনার হার। রং-বেরং-এর শাড়ি। মেসোমশাই পরেছেন চুনোট করা ফরাসডাঙ্গার ধুতি। গিলে করা আদ্দির পাঞ্জাবি। হাতে দুলছে মোষের শিঙের স্টিক। গোঁফে আতর।

    রাত আটটার সময় রব উঠল, আসছে, আসছে! ঘোড়া আসছে, কৃপা আসছে। এল একটা চিঠি।

    ‘প্রিয় ব্রজবাবু, আমাদের ভুল হয়েছে। আপনারই গ্রামের স্বরূপ দামোদরবাবু আবেদন করেছেন। তিনি আপনার চেয়ে ঢের বড়লোক। তাঁর কাছে বাদশাহি মোহর আছে, যা আপনার নেই। আমি দুঃখিত।

    ইতি’

    মেসোমশাই হাত থেকে ছড়ি ছুড়ে ফেলে দিয়ে বললেন—আমি মামলা করব।

    সব গল্পই যেমন হয়, মধুরেণ সমাপয়েৎ। প্রবীণদের পরামর্শে মেসোর বড় মেয়ে চম্পার সঙ্গে দক্ষিণপাড়ার বিশ্বনাথের বিয়ে হল ওই রাতে। তিনি ডাক্তার, নাম করা। ডাকাতের বদলে ডাকতার এল ঘরে।

    গল্পে-গল্পে রাত এগোচ্ছে। সময় খালি হাঁটে। বসতে জানে না। তেপান্তরের মাঠের ও-মাথায়, বোসপাড়ার দিকে শেয়াল ডাকছে। প্রহর ঘোষণা করছে। সেই শজারুটা বেরিয়েছে। রোজ রাতে নাচতে বেরোয়। তেপান্তরের মাঝমাঠে গোল হয়ে ঘুরে-ঘুরে নাচে। ঝমঝম আওয়াজ হচ্ছে।

    সৌরভী জ্যাঠামশাইয়ের কোলে মাথা রেখে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে। বড়মা একটা বালিশ এনেছেন। সৌরভীর মাথাটা আস্তে করে তুলে বালিশে রাখছেন, ঘুমন্ত সৌরভী বলছে,—আমার খোঁপা, খোঁপা, আমার খোঁপা।

    বড়মা আস্তে একটা আদরের চাপড় মেরে বললেন—এদিকে ঘুমে ন্যাতা, ওদিকে খোঁপা ভেঙে যাওয়ার চিন্তা।

    কপালে ছোট্ট করে একটা চুমু খেলেন।

    দাদু বললেন—’নাঃ, পৃথিবীটা সত্যিই খুব সুন্দর। এখানে বারেবারে আসতে হবে বেড়াতে। এই গ্রুপ। একেবারে পাক্কা। দেখো, সায়েবদের বিয়ের আগে একটা ব্যাপার থাকে—’এনগেজমেন্ট’। সেই কাজটা আমি করে ফেলতে চাই। পরির মতো এই মেয়েটার সঙ্গে দেবদূতের মতো এই ছেলেটার ‘এনগেজমেন্ট’। তোমাদের আপত্তি আছে?’

    কী আশ্চর্য! আমরা সবাই তো এই একই কথা ভাবছি।

    তাহলে দেবদূত পরির অনামিকায় এই রুবির আংটিটা পরাও।

    ঘুমোচ্ছে; কিন্তু আঙুলটা উঁচু করল।

    দাদু বললেন—ভীষণ আনন্দ হচ্ছে আমার। বিয়েটা যখন হবে তখন তো আমি থাকব না। পৃথিবীর দিন ফুরিয়ে যাবে।

    হালুম করে বাঘ যেমন শিকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সৌরভী সেইভাবে দাদুর ঘাড়ে গিয়ে পড়ল

    —থাকবে না মানে? থাকবে না মানে?

    দুজনে জড়াজড়ি করে মাটিতে গড়াগড়ি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআকাশ পাতাল – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article হরি ঘোষের গোয়াল – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }