Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সমগ্র কিশোর সাহিত্য – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প712 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভজরামের প্রতিশোধ

    ভজরামের প্রতিশোধ

    এক আকাশে দুই সূর্য কখনও শোভা পায়? উহুঁ!

    আর এক পাড়ায় দুজন সাহিত্যিক থাকলে? কী যে নিদারুণ অঘটন ঘটতে পারে সেটা বোঝা গেল সাতান্ন নম্বর বাড়িতে দোলগোবিন্দবাবু আসবার পর।

    এতদিন বেয়াল্লিশ নম্বরের ভজরামবাবুই ছিলেন পাড়ার একমাত্র লেখক। গল্প উপন্যাস দুই-ই তিনি লেখেন। উপন্যাস অবশ্য এখনও ছাপা হয়নি, তবে খানকুড়িক পাণ্ডুলিপি তাঁর ঘরে মজুত আছে–ভজরামবাবু আশা রাখেন ভবিষ্যতে একদিন প্রকাশকেরা তাঁর কদর বুঝবে–তাঁর বই ছাপার জন্যে বাড়িতে এসে লাইন দেবে। গল্প-টল্প প্রায়ই সম্পাদকের দপ্তর থেকে ফেরত আসে, হঠাৎ দু-একটা ছাপাও হয়ে যায়। তোমাদের চুপি চুপি বলি, দু-চারজন সম্পাদককে যখন-তখন বাড়িতে নেমন্তন্ন করে তিনি চর্ব-চূষ্য খাওয়ান, আর তাঁরাই নেহাত চক্ষুলজ্জার খাতিরে এবং ভোজের আশায়–।

    সে যাই হোক, পাড়ার লোকে ভজরামবাবুকে বেশ সমীহ করে থাকে। যাই লিখুন, একজন জলজ্যান্ত সাহিত্যিক তো বটে। ছাপার অক্ষরে নাম বেরোয় শ্রীভজরাম বসু–সে তো চারটিখানি কথা নয়। আর তাইতেই তিনি পাড়ার সাহিত্য সভায় সভাপতি হন, ছোটদের হাতে-লেখা পত্রিকায় বাণী দেন, লম্বা পাঞ্জাবি পরে বাসন্তী রঙের চাদর কাঁধে ফেলে–চুল উস্কোখুস্কো করে উদাস হয়ে হেঁটে যান। চাকরিবাকরি করেন না, ওসব তুচ্ছ জিনিস কি সাহিত্যিকদের জন্যে! খান তিনেক বাড়ি আছে, মোটা রকমের ভাড়া পান, আর ভজরামবাবু ভালো-মন্দ খেয়ে-দেয়ে উঁচু-উঁচু সাহিত্য-বিষয় নিয়ে চিন্তা করেন।

    এইভাবে দিনগুলো যখন চমৎকার কেটে যাচ্ছিল, তখন হঠাৎ সাতান্ন নম্বর বাড়িতে দোলগোবিন্দ দে এসে গেলেন। তিনি কোথায় ভালো একটা চাকরিবাকরি করেন, কিন্তু সেটাই তাঁর আসল পরিচয় নয়। তিনি বেশ নামডাকওলা কবি। তাঁর কবিতা কেউ ফেরত দেন না বরং সম্পাদকেরাই ধরনা দেন তাঁর কাছে। বাজারে তাঁর অনেক বই-টই আছে, ছোটরা তাঁর লেখার দারুণ ভক্ত।

    ভজরামবাবু প্রথমে বিশেষ পাত্তা-টাত্তা দেননি। একে কবি, তায় বাচ্চাদের লেখক-ছোঃ! কবিতা লেখে কারা? গল্প-উপন্যাস লিখতে যাদের বিদ্যায় কুলোয় না। আর শিশুসাহিত্যিক? রামোঃ, তাদের কেউ আবার লেখক বলে গণ্য করে নাকি? ভজরামের ছেলে নকুল রোমাঞ্চিত হয়ে বলতে এল : জানো বাবা, পাড়ায় একজন বিখ্যাত লেখক এসেছেন। কবি দোলগোবিন্দ দে।

    শুনে, ভজরাম দাঁত খিঁচিয়ে তাকে ধমক লাগালেন একটা।

    ইঃ দোলগোবিন্দ আবার লেখক! আরশোলাও পাখি, গুবরে পোকাও এরোপ্লেন! তোকে বেশি ওস্তাদি করতে হবে না, এখন মন দিয়ে জিয়োগ্রাফি পড়গে। আর ফের যদি ওসব দোলগোবিন্দ ঢোলগোবিন্দের কথা আমাকে বলতে আসবি, তা হলে কান দুটো একেবারে উপড়ে নেব। মনে থাকে যেন।

    নিজের ছেলের কান না হয় উপড়ে নেওয়া যায়, কিন্তু পাড়ার সব ছেলের কান যে অত সহজেই পাকড়ে ধরা যায় না, সেটা ভজরাম কিছুদিনের মধ্যেই টের পেয়ে গেলেন।

    পাকুড়গাছি লেনের শুভ্রিকা বরণ উৎসব এসে গেল। আসলে ব্যাপারটা সরস্বতী পুজো কিন্তু আজকাল নানা কায়দায় সালু টাঙানো হয়–কেউ লেখে বাগদেবী বন্দন, কেউ লেখে শুক্লাবরণ, কেউ বা লেখে শুভ্রা অর্চনা। এই শুভ্রাকেই আর একটু কাব্যিক মতে ভজরাম শুভ্রিকা করে দিয়েছিলেন। এতদিন সেটাই চলছিল, কিন্তু হঠাৎ রাস্তায় বেরিয়ে শুভ্রা বরণে লেখা সালু টাঙানো দেখেই মেজাজ বিগড়ে গেল তাঁর।

    পাড়ার দু-তিন জন পাণ্ডা গোছের ছেলে সামনেই রাস্তার ওপর উবু হয়ে বসে, বেশ মন দিয়ে, ফিরিওলার কাছ থেকে ফুচকা খাচ্ছিল। ভজরাম ডাকলেন, ওহে শ্যামল–নেবু–কেলো!

    ফুচকা চিবোতে চিবোতে তিনজনেই এসে হাজির হল!

    কী ব্যাপার?–কড়া গলায় ভজরাম জিজ্ঞেস করলেন, এর মানে কী? শুভ্রিকা বদলে সালুতে শুভ্রা লেখা হল কেন?

    তিনজনেই চুপ।

    রাস্তায় পা ঠুকে ভজরাম বললেন, চুপ করে থাকলে চলবে না–এর জবাব চাই।

    ফুচকা গিলতে গিয়ে একটা বিষম খেয়ে নেবু বললে, আজ্ঞে দোলগোবিন্দবাবু

    অঃ, সেই কবিবর?–ভজরাম ঠাট্টা করে বললন, তিনিই বুঝি ওস্তাদি করেছেন?

    আজ্ঞে ওস্তাদি করেননি।–নেবু এবার ঢোক গিলল : তিনি বললেন, শুভ্রিকা বলে কোনও শব্দ ব্যাকরণে হয় না সরস্বতী পুজোয় এসব ভুল থাকা উচিত নয়। তা ছাড়া কুড়ি টাকা চাঁদাও দিয়েছেন–

    বটে। কুড়ি টাকা চাঁদাই তবে আসল কথা। রাগের চোটে ভজরামের মগজের ভেতরে যেন তিন ডজন উচ্চিংড়ে লাফাতে লাগল : তা হলে আর আমাকে কেন? ওই কপিরাজকে নিয়েই থাকো। শুভ্রিকা হয় না? তা হলে কালী কালিকা হয় কী করে? বীথি বীথিকা হয়? পুঁটিমাছকে পুন্টিকা বলে কেন? ব্যাকরণ দেখাতে এসেছে। তা হলে ওই ব্যাকরণওলা ঢোলগোবিন্দকে নিয়েই তোমরা ব্যা ব্যা করো–তোমাদের সাহিত্য-সভায় আমাকে আর ডেকো না।

    স্যার স্যার শ্যামল-নেবু-কেলো এক সঙ্গেই হাহাকার করে উঠল। কিন্তু ভজরাম আর দাঁড়ালেন না, হনহন করে বাড়িতে এলেন।

    ফিরে এসে এক পেয়ালা চা খেয়ে মাথাটা একটু ঠাণ্ডা হল। ভাবলেন, এবার আচ্ছা জব্দ করে দিয়েছেন। প্রত্যেক বছর শুভ্রিকা বরণের দিন সন্ধেবেলায় প্যাণ্ডেলে একটা সাহিত্য-সভা হয়, পাড়ার ছেলেরা গল্প কবিতা পড়ে এবং সভাপতি হিসেবে ভজরাম তাঁদের নানারকম সদুপদেশ দেন। আট বছর ধরে বাঁধা সভাপতি হয়ে এই মহৎ কাজটি তিনি করে আসছেন। তিনি না গেলে সাহিত্য সভাই পণ্ড হয়ে যাবে।

    ভজরাম ভাবলেন, ছেলেরা আজই তাঁর কাছে আসবে–ক্ষমা চাইবে-সালুতে শুভ্রা কেটে শুভ্রিকা লেখা হবে। কিন্তু একদিন–দুদিন–তিন দিন সাত দিন কেটে গেল, কোথায় কী! শুভ্রা তেমনি ঝুলতে লাগল, মিত্তিরদের বাড়ির সামনে খোলা জায়গাটায় প্যাণ্ডেলের বাঁশ পড়ল, শ্যামল-নেবু-কেলো-মন্টু-হাবু ন্যাদা চাঁদা আদায় করে, প্রতিমা বায়না দিয়ে, মাইকের ব্যবস্থা করে হয়রান হয়ে গেল, কিন্তু তাঁর কাছে আসবার জন্যে কারও এতটুকুও গরজ দেখা। গেল না।

    এবং শেষ পর্যন্ত

    হতভাগা নকুলটাই হাতে করে চিঠিখানা নিয়ে এল তাঁর কাছে।

    সুধী! আমাদের শুভ্রা বরণে—

    চিঠিটা তক্ষুনি ছুঁড়ে ফেলতেন, কিন্তু মনে হল সাহিত্যসভা? সাহিত্য সভার কী হবে?

    স্বনামধন্য কবি শ্রীযুক্ত দোলগোবিন্দ দে সভাপতির আসন গ্রহণ করে

    স্বনামধন্য! দাঁতে দাঁতে কিড়মিড় করলেন ভজরাম। কই, এই আট বছর ধরে তাঁর নামের আগে তো কখনও স্বনামধন্য লেখা হয়নি! শ্রীযুক্ত দিয়েই কাজ সারা হয়েছে। যত খাতির ওই ঢোলগোবিন্দের জন্যে! বটে!

    নকুল গলা খাঁকারি দিয়ে বললে, বাবা!

    বজ্ৰদৃষ্টিতে ভজরাম তার দিকে তাকালেন।

    বাবা, ওরা তোমার কাছে আসবার সময় পেল না, আমাকে বলে দিয়েছে, দোলগোবিন্দবাবু মোটেই বক্তৃতা করতে পারেন না–তুমি যদি সভায় একটু ভাষণ দাও

    পায়ের নখ থেকে চুলের ডগা পর্যন্ত পাঁচ হাজার ভোল্ট ইলেকট্রিসিটি বয়ে গেল ভজরামের। এমন আকাট মুখখু গাড়ল ছেলেও মানুষের হয়! পিতার এই জ্বালাময়ী অপমানে কোথায় মরমে মরে যাবে তা নয়-দাঁত বের করে বলছে : যদি একটু ভাষণ দাও।

    নকুলকে লক্ষ্য করে দেড় মন ওজনের চাঁটি হাঁকড়ালেন একটা–নকুল লাফিয়ে পালিয়ে গেল, লক্ষ্যভ্রষ্ট চাঁটিটা একটা কালির শিশিতে গিয়ে পড়ল; সেটা ছিটকে চলে গেল দরজার বাইরে, ভেঙে গুঁড়ো হয়ে গেল আর ভজরামবাবুর শখের শাদা নাগরা জুতোজোড়াটার বারোটা বেজে গেল।

    শুভ্রা কিংবা শুভ্রিকা বরণের সাহিত্য বাসর বসছে। কিছুতেই যাব না পণ করেও শেষ পর্যন্ত আসরে হাজির হয়েছেন ভজরাম, দোলগোবিন্দ লোকটাকে একবার ভালো করে দেখে নিতে চান। বাচ্চাদের কবিতা লেখে–সে আবার সাহিত্যিক! তা হলে তো যেসব গুবরে পোকা ঘুর ঘুর করে উড়ে বেড়ায় তাদেরও জেট-প্লেন বলতে হয়!

    পাড়ার ছেলেরা ভজরামকে খাতির করে একেবারে মঞ্চের ওপর দোলগোবিন্দের পাশে বসিয়ে দিলে। হাজার হোক তিনিও তো লেখক, আর কমসে কম আটবার এই সভায় সভাপতি হয়েছেন। ছেলেরা পরিচয় করিয়ে দিলে, দোলগোবিন্দ মিষ্টি হাসিতে ভজরামকে অভ্যর্থনা করলেন, আর সেই হাসি দেখে ভজরামের পিত্তি পর্যন্ত জ্বালা করে উঠল।

    তখন কবিতা-টবিতা পাঠ শুরু হয়েছে, কিন্তু কিছুই কানে যাচ্ছিল না ভজরামের। তিনি কটকটে চোখ মেলে এক দৃষ্টিতে দোলগোবিন্দকে–যাকে বলে অভিনিবেশ সহকারে পর্যবেক্ষণ তাই করতে লাগলেন। আরে ধ্যাৎ–ইনি আবার স্বনামধন্য। গুটগুটে ছোট চেহারা, রং কালো, মাথায় নিটোল একটা টাক–এ যদি কবি হয়, তা হলে তো চামচিকেও–কী বলে পক্ষিরাজ ঘোড়া। একে বরং বাঁধাকপি বলা যায়, অনেকটা সেইরকম দেখতে। আর ভজরাম? তাঁর লম্বা-চওড়া মস্ত চেহারা, ফুটফুটে গায়ের রং, সোজা সিঁথি কাটা চুলের দুপাশে বাবরি–চোখে সোনার চশমা–অচেনা লোকেও সমীহ করে ভাবে–একটা কেউকেটা হবেন! তাঁর জায়গায় এ সভাপতি? সিংহের আসনে শেয়াল?

    সাহিত্যসভার কাব্য পাঠ-টাঠ হয়ে গিয়েছিল। মুচকি হেসে দোলগোবিন্দ উঠে দাঁড়ালেন। মিনমিন করে বললেন, তিনি অল্প-স্বল্প লেখেন বটে, কিন্তু বক্তৃতা-টক্তৃতা তাঁর আসে না। ছোটদের লেখা শুনে খুব খুশি হয়েছেন-এইটুকুই তাঁর বক্তব্য। তিনি এবারে পল্লীর বিশিষ্ট লেখক ভজরাম বসুকে আহ্বান জানাচ্ছেন কিছু বলবার জন্যে।

    কাঁকড়া-বিছের ল্যাজেই বিষ!–ভজরাম ভাবলেন : কেন, স্বনামধন্যটন্য বলতে কি জিভ টাকরায় আটকে গেল? পল্লীর বিশিষ্ট লেখক! পল্লীর বাইরে তাঁর লেখা বুঝি কেউ পড়ে না?

    আগুন হয়ে ভজরাম বলতে শুরু করলেন। মাইকের ভেতর দিয়ে তাঁর মেঘমন্দ্র স্বর ছড়িয়ে পড়ল : আমার আর বলবার কী আছে, যখন স্বনামধন্য একজন কবি এখানে হাজির আছেন। তিনি আবার যে-সে কবি নন বাচ্চাদের জন্যে কবিতা লেখেন। আমি তাঁর লেখা পড়িনি, পড়বার দরকার হয় না। আমার বলবার কথা হল, যেখানে বাচ্চাদের কোন এক কবিরাজকে এনে সভাপতি করা হয়, সেখানে আমার মতো ঔপন্যাসিককে ডেকে আনার কোনও প্রয়োজন

    সভায় একটা গোলমাল শুরু হল। কে যেন চেঁচিয়ে বললে, ঔপন্যাসিক না হাতি। ছাই লেখেন। আর একজন চেঁচিয়ে উঠল : দোলগোবিন্দবাবু আমাদের সভাপতি–তাঁকে অপমান

    ইউ শাট আপ!-বলে এক রাম-চিৎকার ছাড়লেন ভজরাম : অমন সভাপতি আমি ঢের দেখেছি! কবি না বাঁধাকপি।

    অ্যাপোলজি চান শিগগির-আট দশ জন দাঁড়িয়ে উঠল।

    অ্যাপোলজির নিকুচি করেছে–ডাকাত-পড়া হুংকার ছাড়লেন ভজরাম।

    এবার শেয়াল-কুকুরের হাঁক উঠতে লাগল সভায়। ভজরাম চেয়ার উলটে দিয়ে দুড়দাঁড়িয়ে বেরিয়ে গেলেন। আর দোলগোবিন্দ উঠে দাঁড়িয়ে বলতে লাগলেন : আপনারা শান্ত হোন, আজ বাণী বন্দনার পবিত্র দিন–আজকে আপনারা স্থির হয়ে থাকুন। আর সত্যিই তো আমি সামান্য শিশু-সাহিত্যিক, উনি তো কোনও অন্যায় কথা ইত্যাদি ইত্যাদি।

    ব্যাপারটা যে মিটল বটে, কিন্তু ভজরাম পরে বুঝলেন কাজটা ভালো হয়নি। ঢোলগোবিন্দ যেমনই লিখুক, ও-ভাবে সভায় বলাটা তাঁর অন্যায় হয়ে গেছে। আর ওই বক্তৃতা দিয়ে পাড়াতেও তিনি আনপপুলার হয়ে গেছেন, নকুল হাঁড়িমুখ করে কয়েক বারই এসে বলেছে : সবাই তোমার নিন্দে করছে বাবা বলছে দোলগোবিন্দবাবু কত মহত্ত্বের পরিচয় দিয়েছেন, আর তুমি

    ইউ শাট আপ বলে নকুলকে থামিয়ে দিয়েও ভজরাম মনে-মনে লজ্জা পাচ্ছিলেন। দোলগোবিন্দের কাছে গিয়ে একটা ক্ষমা-টমা–উহঁ, সে-ও অসম্ভব। ভাবতে গিয়েই মাথা গরম হয়ে গেল। যদি সে বলত স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক কিংবা বিখ্যাত লেখক–তাহলেও বরং সহ্য করা যেত। কিন্তু তার বদলে পল্লীর বিশিষ্ট লেখক–আর দোলগোবিন্দ থাকবে স্বনামধন্য হয়ে? তৎক্ষণাৎ ভজরাম ভাবলেন, যা করেছেন বেশ করেছেন।

    দিন পনেরো বাদে ডাকে একটা পত্রিকা এল তাঁর নামে। খুলে দেখলেন, একটা বাচ্চাদের কাগজ। এ তাঁকে কে পাঠাল? তিনি তো এসব কাগজে কোনও লেখা কখনও দেন না!

    পাতা ওলটাতেই একটা কবিতা। তার নাম গজাও আবার গল্প লেখে। লেখক শ্রীদোলগোবিন্দ দে। কবিতাটার মাথায় আবার লাল কালির একটা দাগ দেওয়া–যেন তাঁকে এইটেই বিশেষভাবে পড়তে বলা হচ্ছে।

    লাইন কয়েক পড়বার পরেই আর সন্দেহ রইল না। সেই মিটিঙের জবাব দিয়েছে ঢোলগোবিন্দ। কী নিদারুণ জবাব।

    শ্রীগজরাম ঘোষ
    সেটাও যখন লেখক হল
    রইল বাকি মোষ।
    মোষের মতোই কাঁপিয়ে পাড়া
    বাগদেবীকে করল তাড়া
    ব্যাকরণের পিণ্ডি গিলে
    ফোঁপায় সে ফোঁসফোঁস!
    সভায় গিয়ে হাঁকড়ে বলে
    কী যে আমি হনু
    দেখল সবাই মোযটা তখন
    ল্যাজকাটা এক হনু—

    এরপরে কেউ আর পড়তে পারে না, ভজরামও পারলেন না। কাগজটা ছুঁড়ে ফেলে দিলেন। ভজরাম আর গজরামের মিল কে না বুঝতে পারে। আর বোসকে ঘোষ করা তো

    পরমুহূর্তেই রাস্তা থেকে শ্যামল-নেবু-কেলো-ন্যাদা-নেপালের কোরাস শোনা গেল :

    শ্রীগজরাম ঘোষ।
    সেটাও যখন লেখক হল—

    ধড়াম করে জানলা বন্ধ করে দিয়ে ভজরাম মাথার চুল ছিঁড়তে লাগলেন। দোলগোবিন্দ তা হলে তো সত্যিই কাঁকড়া বিছে! শুধু কবিতাই লেখেনি, পাড়াসুদ্ধ ছেলেকে তা মুখস্থ করিয়েছে! আচ্ছা-দেখ লেঙ্গে।

    তখন গায়ে জামা চড়িয়ে চলে গেলেন উকিলের বাড়ি। পথে যেতে যেতে গলির মোড়ে মোড়ে শুনতে লাগলেন : শ্ৰীগজরাম ঘোষ

    দাঁত কিড়মিড় করে মনে-মনে ভজরাম বললেন, আচ্ছা ঢোলগোবিন্দ, দাঁড়াও! মানহানির দায়ে যদি ছমাস তোমার শ্রীঘর না ঘোরাই, তবে আমি ভজরাম বোসই নই।

    উকিল সব শুনলেন, কবিতাটাও বেশ মন দিয়ে পড়ে দেখলেন। তারপর মাথাটাথা চুলকে বললেন, এতে মানহানির মামলা হবে না।

    হবে না? আমাকে মোষ বলেছে, হনু বলেছে, কচ্ছপ বলেছে, আর শেষে বলেছে দুম্বা ওটা ধুম্বো লেজ চিবোয় বালাপোশ–এর পরেও মানহানি হবে না?

    ভজরাম খেপে গেলেন।

    উকিল বললেন, সবই তো বুঝছি মশাই, কিন্তু আপনাকেই যে বলেছে তা তো প্রমাণ করা যাবে না। আপনি তো মোষ নন, হনু নন, ধুম্বো ল্যাজওলা দুম্বাও নন, বালাপোশও আপনি কখনও চিবোন না। ওরা বলবে, বাচ্চাদের হাসির কবিতা। আর তা ছাড়া এ-ও ভেবে দেখুন মামলা করলে ব্যাপারটা দেশসুদ্ধ লোকে জেনে ফেলবে, যারা এখনও কবিতাটি। পড়েনি তারাও পড়ে ফেলবে–তাতে আপনারই কেলেঙ্কারি।

    গুম হয়ে থেকে শেষ কথাটা চিন্তা করে দেখলেন ভজরাম। তারপর ভাঙা গলায় বললেন, তা হলে এই যে জ্বালাময়ী অপমান

    আপনি পাল্টা একটা গল্প লিখে দিন না। তবে নাম-টাম একটু বদলে যেমন দোলগোবিন্দ দে-কে করুন গোবিন্দলাল ঢোল, শিশুকবি না করে করুন একটা নাট্যকার-ফাট্যকার–মানে পড়ে লোকে বুঝতে পারবে, অথচ মানহানিও হবে না।–উকিল পরামর্শ দিলেন : আর কবিতার জবাব গল্পেই তো দেওয়া ভালো, বিশেষ করে আপনি যখন নামজাদা লেখক।

    নামজাদা শব্দটা কানে মধু ঢালল। ঠিক কথা-কবিতার জবাব গল্পেই দেবেন। ভজরাম মনঃস্থির করে উঠে পড়লেন।

    .

    লেখা হল গল্প। লাইনে লাইনে তার নিদারুণ ব্যঙ্গ। গোবিন্দলাল ঢোল নামটা ভালো লেগেছিল, সেইটেই রাখলেন ভজরাম। নাট্যকার করলেন না, করলেন কবি। লিখলেন, গোবিন্দলাল ঢোলের অখাদ্য কবিতা পড়ে দেশসুদ্ধ লোক তাকে লাঠি নিয়ে তাড়া করল– বাঁধাকপির মতো চেহারাওলা গোবিন্দ ঢোল শেষে জঙ্গলে পালিয়ে গেল, তারপর কপিদের দলে ভিড়ে গিয়ে গাছে উঠে কচি কচি পাতা চিবুতে লাগল।

    লিখে, আনন্দে নাচতে ইচ্ছে করল। মোক্ষম গল্প। দোলগোবিন্দ এই গল্পে একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে যাবে। তক্ষুনি চিঠি লিখে ডেকে আনলেন বর্ধমান সখা পত্রিকার সম্পাদককে, তাকে পেট পুরে মাংস পরোটা খাইয়ে, এক ঝুড়ি কমলালেবু উপহার দিয়ে অনুরোধ করলেন–এই সংখ্যাতেই লেখাটা ছাপতে হবে।

    সম্পাদক কান চুলকে বললে, কিন্তু জায়গা নেই যে। আমরা আট পৃষ্ঠা নিলাম ইস্তাহার–

    আমি খরচা দিচ্ছি। বাড়তি কাগজ দিয়ে ছাপুন। একশো দুশো টাকা লাগে দেব।

    সম্পাদক খুশি মনে রাজি হয়ে গেল।

    গল্প ছাপা হল। দশ কপি কাগজ চলে এল ভজরামের কাছে। ভজরাম নকুলের হাত দিয়ে পাড়ায় বিলি করতে আরম্ভ করলেন। দোলগোবিন্দের জন্যে ভাবনা নেই, তার কাগজ তো ডাকেই যাবে বর্ধমান সখার অফিস থেকে।

    ময়ুরের মতো পেট পুরে সাতটা দিন আনন্দে পেখম মেলে কাটালেন ভজরাম। কিন্তু অষ্টম দিনে

    অষ্টম দিনে ডাকে এল উকিলের চিঠি এল। মানহানির মকদ্দমার চিঠি।

    না, দোলগোবিন্দ পাঠাননি। এসেছে হুগলি থেকে। এক সত্যিকারের গোবিন্দলাল ঢোলের পক্ষ থেকে। আমার মক্কেল শ্ৰীযুক্ত গোবিন্দলাল ঢোল বাঁধাকপির বিখ্যাত ব্যবসায়ী। তিনি অবসর সময়ে কিছু কিছু কাব্য রচনাও করেন। কিন্তু অদ্যাবধি কেহ তাঁহার কবিতাকে অখাদ্য বলে নাই, তাঁহাকে লাঠি লইয়া তাড়া করে নাই, তিনি কখনই চুটুপালুর জঙ্গলে গিয়ে গাছে চড়িয়া কচি পাতা ভোজন করেন নাই। আপনি বর্ধমান সখা পত্রিকায় তাঁহার নামে যে অকারণ নিন্দাবাদ করিয়াছেন, তাঁহাকে বাঁদর এবং অন্যান্য কুৎসিত বিশেষণ দিয়াছেন, সেজন্য কেন আপনার নামে মানহানির মকদ্দমা করা হইবে না ও পঞ্চাশ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হইবে না, তাহার কারণ দর্শাইবার জন্য–।

    কারণ দর্শাইবার আগেই ভজরাম ধপাৎ করে ঘরের মেজেতে বসে পড়লেন। আর সেই মুহূর্তে তাঁর মনে হল তিনি একটি বাঁধাকপি–ঠাসা, নিরেট অতিকায় একটি বাঁধাকপি!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleছোটগল্প – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article কাঁটায়-কাঁটায় ৪ – নারায়ণ সান্যাল

    Related Articles

    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    ছোটগল্প – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    September 2, 2025
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    টেনিদা সমগ্র – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    September 2, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }