Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সমগ্র কিশোর সাহিত্য – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প712 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হরিশপুরের রসিকতা

    হরিশপুরের রসিকতা

    পৃথিবীর সব লোককেই বিশ্বাস করতে পারো, কিন্তু হরিশপুরের লোককে কখনও বিশ্বাস কোরো না। ভুলেও নয়।

    না না–চুরি জোচ্চুরির ভিতরে তারা নেই। তারা কাউকে ঠকায় না। এই কলকাতা শহরে একজন পকেটমারও হরিশপুরের লোক নয়–একথাও আমি হলফ করে বলতে পারি। তারা কেউ বদমেজাজী নয়–গায়ে পড়ে কখনও ঝগড়া করে না। তাদের মিঠাইয়ের দোকানে তিনদিনের পচা সিঙাড়াকে কখনও হাতে গরম বলে চালিয়েও দেয় না। আসল কথা হল

    কথাটা আর কিছু নয়। হরিশপুরের মানুষ একটু রসিক। খানিকটা বেশি মাত্রাতেই রসিক।

    কী বলছ? রসিক মানুষকে তো ভালোই লাগে? হুঁ, আমারও লাগত একসময়। কিন্তু সেবার সেই বরযাত্রী যাওয়ার পর–আচ্ছা, খুলেই বলছি তা হলে।

    আমরা চারজন একই অফিসে চাকরি করি। আমি, নিতাই, নেপাল আর বিষ্টুপদ। দারুণ বন্ধুত্ব আমাদের ভেতরে। একসঙ্গে পকৌড়ি কিনে খাই, সিনেমার টিকিট কিনি, মোহনবাগানের খেলা দেখতে যাই, মোহনবাগান জিতলে চারজনের ছাতা-জুতো হারিয়ে যায় আর মোহনবাগান গোল খেলে গলা জড়াজড়ি করে কাঁদতে বসি।

    আমাদের সেই বিষ্টুপদর বিয়ে ঠিক হয়ে গেল হরিশপুরে।

    তখন হরিশপুরের মহিমা কে জানত! আমরা তিন বন্ধুই খুশি হয়ে উঠলুম।

    বিষ্টুপদ বললে, আমার বিয়েতে তোরা যাবি তো?

    আমি, নিতাই আর নেপাল একসঙ্গে বললুম, নিশ্চয় নিশ্চয়! আমরা বরযাত্রী না গেলে তোর তো ভালো করেই বিয়েই হবে না!

    কিন্তু বিয়ের দিন বিষ্টুপদর সঙ্গে বেরুনো গেল না। সরকারি অফিস–তায় অসম্ভব কাজের চাপ পড়েছে। বন্ধুর বিয়ের জন্যে ছুটি চাইতে গেলে পুরো একটা দিনের মাইনেই কেটে নেবে। তাই বরকে নিয়ে আসল দলটা দুপুরের দিকে রওনা হয়ে গেল–আমরা ঠিক করলুম অফিস ছুটি হলে সওয়া পাঁচটার ট্রেনেই বেরিয়ে পড়ব।

    অবিশ্যি তাতে কোনও অসুবিধে ছিল না। হরিশপুর কলকাতা থেকে খুব দূরে নয়। ছোট লাইনের যেসব গাড়ি ঝিমুতে ঝিমুতে টিকিস টিকিস করে চলে তারাও ঘণ্টা দেড়েকের ভেতরেই হরিশপুর পৌঁছে যায়। আমরা হিসেব করে দেখেছিলুম, বিকেলের গাড়িতে গেলেও সন্ধে সাতটার ভেতরে বিয়ে শুরু হওয়ার আগেই হরিশপুরে হাজির হতে পারব।

    চারটে বাজতে না বাজতেই আমরা অফিস থেকে ছিটকে বেরুলুম। বন্ধুর বিয়ের বরযাত্রী যাচ্ছি, একটু সাজগোজ না হলেই বা চলে কী করে। আমি প্রাণপণে একটা শাদা জুতোকে রং করলুম, নেপাল তার খাড়া-খাড়া চুলগুলো আধঘণ্টা ধরে বাগাতে চেষ্টা করলে আর নিতাই নিজের পুরনো সিল্কের পাঞ্জাবিতে প্রায় এক শিশি সেন্ট ঢালল।

    তারপর হাওড়ায় এসে ট্রেন ধরা।

    প্রথমদিকে খুব ভিড় ছিল গাড়িতে। কেএকজন আমার শাদা জুতোটাকে মাড়িয়ে দিলে, নেপালের সিল্কের পাঞ্জাবিটার ভাঁজ-টাঁজ নষ্ট হয়ে গেল, একজন আবার নিতাইকে ঠাট্টা করে বললে, দাদা যেন গন্ধমাদন হয়ে চলেছেন। যাই হোক, হরিশপুরের গোটা তিনেক স্টেশন আগে গাড়িটা একেবারে ফাঁকা হয়ে গেল, তখন আমরা তিনজনে ভালো করে বসতে পেলুম।

    নিতাই বললে, এতক্ষণে একটু ভালো করে বসা গেলবাব্বাঃ! আমি বললুম, কতটুকুই বা বসা–এক্ষুনি তো নামতে হবে। নিতাই একটা হাই তুলে পাঞ্জাবিটা একবার শুকে নিলে। তারপর খুশি হয়ে বললে, নামলেই বাঁচি। যা খিদে পেয়েছে ভাই-কী বলব!

    নেপাল নিজের খাড়া-খাড়া চুলে হাত বুলিয়ে নিয়ে বললে, খিদে তো আমারও পেয়েছে। আমি যেন এখান থেকেই লুচিভাজার গন্ধ পাচ্ছি।

    আমি বললাম, আমার নাকে মাংসের কালিয়ার গন্ধ আসছে।

    নিতাই ভাবুক হয়ে উঠল। বেশ উদাস-উদাসচোখ করে বলে চলল, আর আমি পষ্ট দেখতে পাচ্ছি রাশি রাশি চপ ভাজা হচ্ছে বড়বড় থালায় সাজিয়ে রাখা হচ্ছে ভেটকির ফ্রাই

    আমি আর নেপাল বললুম, আহা-আহা! আর বলিসনি।

    আমাদের তোমরা পেটুক ভাবছ নিশ্চয়। কিন্তু আমরা কী করব বলল! তিনজনেই মেসে থাকি। বিউলির ডাল, পুঁই চচ্চড়ি আর শুকনো পোনামাছের টুকরো খেতে খেতে পেটে প্রায় চড়া পড়ে গেছে। তাই কিঞ্চিৎ খ্যাঁটের আশায় আমরা বেশ খানিকটা উত্তেজনা বোধ করছিলাম।

    ঠিক সেই সময় বুড়ো ভদ্রলোকটি জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় যাবেন আপনারা?

    কামরাতে আমরা তিনজন ছাড়া এই ভদ্রলোক হলেন চার নম্বরের যাত্রী। বেশ পাকা আমটির মতো ফরসা গোলগাল চেহারা, মুখে একজোড়া মানানসই কাঁচা-পাকা গোঁফ, মাথায় চকচকে টাক, দেখলেই ভক্তি আসে। সঙ্গে দুটি বিরাট সাইজের মুখ বাঁধা হাঁড়ি।

    এতক্ষণ এক কোণায় বসে আমাদের লক্ষ্য করছিলেন। এইবারে প্রশ্ন ছুঁড়লেন।

    -কোথায় যাবেন?

    আমরা এক সঙ্গেই বললুম, হরিশপুর।

    বরযাত্রী বুঝি?

    –আজ্ঞে হ্যাঁ

    ।–বেশ, বেশ। হরিশপুর কদমতলায় জগদীশ চক্কোত্তির মেয়ের বিয়েয় যাচ্ছেন–তাই না?

    আমরা অবাক হলুম একটু। নিতাই জিজ্ঞেস করলে, কী করে জানলেন?

    ভদ্রলোক হাসলেন। বললেন, আমরা এ-তল্লাটের লোক–সব রকম খবরই রাখি। ছেলেটির নাম বিষ্টুপদ গোস্বামী নয় কি?

    নেপাল চোখ কপালে তুলে বললে, তা-ও জানেন দেখছি।

    ভদ্রলোক গোঁফজোড়ায় বেশ একবার তা দিয়ে নিলেন। তারপর তেমনি শান্ত হাসি হেসে বললেন, বললুম যে আমরা পাড়াগাঁয়ের লোক সব খবরই রাখতে হয়। এ তো আর কী বলে আপনাদের কলকাতার ব্যাপার নয় যে দোতলায় বিয়ে হলে একতলার লোককে নেমতন্ন করে না।

    ট্রেন তখন আর একটা স্টেশন পার হয়েছে। এর পরেই হরিশপুর। ভদ্রলোক বেশ করে এক টিপ নস্যি নিয়ে আবার জিজ্ঞেস করলেন, তা নামবেন কোন স্টেশনে? খরিশপুরেই তো?

    আমি বললুম, খরিশপুরে কেন? আমরা তো হরিশপুরে যাব।

    –জানি–জানি। হরিশপুর কদমতলায়। সে তো খরিশপুর থেকেই কাছে হয়।

    বলেন কী! হরিশপুরের কদমতলা খরিশপুরে যেতে যাবে কেন?

    হাতের নস্যি ঝাড়তে ঝাড়তে ভদ্রলোক বললেন, হুঁ, এদিকে নতুন লোক কেউ এলে ওই ভুলটাই করে। নামে হরিশপুর কদমতলা হলে কী হয় হরিশপুর স্টেশন থেকে পাকা দুমাইল হাঁটতে হয়। আর খরিশপুর থেকে আধ মাইলও হবে না। মিথ্যে হরিশপুরে নেমে কষ্ট পাবেন কেন?

    নিতাই আপত্তি করল কই, আমাদের তো কেউ সেকথা বলে দেয়নি।

    বললুম তো, বাইরের লোক সবাই-ই ভুল করে। তা ইচ্ছে হলে আপনারা হরিশপুরেই নামতে পারেন–আমার তাতে কী বলবার আছে, বলুন।

    নেপাল বললে, তা হলে বরং খরিশপুরেই নামব আমরা। যা খিদে পেয়েছে–এখন দু মাইল হাঁটতে গেলে পেটের নাড়িভুড়ি সব হজম হয়ে যাবে! কিন্তু খরিশপুর আবার কোথায়?

    –বেশি দূর নয়–খরিশপুরের পরের স্টেশন। ভদ্রলোক হাসলেন–চলুন, আমিও খরিশপুরেই যাচ্ছি। রাস্তাটা দেখিয়ে দেব আপনাদের।

    বেশ তো, বেশ তো!–আমরা দারুণ খুশি হলুম।

    ট্রেন হরিশপুরে এল, দুমিনিট পরে ছেড়েও গেল। ট্রেন স্টেশন ছেড়ে একটু এগিয়ে যেতেই চোখে পড়ল বাঁ-দিকে একটা বাড়ির সামনে মস্ত চাঁদোয়া খাটানো, পেট্রোম্যাক্স জ্বলছে, বিস্তর লোক আনাগোনা করছে সেখানে।

    নেপাল ছটফট করে উঠল।

    –ওই তো একটা বিয়েবাড়ি ওখানে।

    ভদ্রলোক আর-এক টিপ নস্যি নিলেন। হেসে বললেন, ও অন্য বিয়ে। এখন তো মরশুম মশাই–চারদিকেই বিয়ে হচ্ছে।

    –তা বটে, তা বটে!–নিতাই দীর্ঘশ্বাস ফেলল–যা খিদে পাচ্ছে, ওখানে গিয়ে পাতা নিয়ে বসে পড়লেও হত।

    ভদ্রলোক বললেন, তা মন্দ নয়। আমিও একবার ভুল করে আর-এক বিয়ে বাড়িতে চলে গিয়েছিলুম। সে যা কাণ্ড! বলে বেশ একটা মজার গল্প জুড়ে দিলেন। দেখলুম, লোকটি ভারি রসিক।

    আমরা প্রাণ খুলে হাসছি, এমন সময় ঘটাং ঘটাং করে গাড়ি খরিশপুরে পৌঁছে গেল। হাঁড়ি দুটো তুলে নিয়ে ভদ্রলোক বলেন, নামুন–নামুন! গাড়ি এখানে এক মিনিটের বেশি দাঁড়ায় না।

    আমরা চটপট নেমে পড়লুম।

    ছোট্ট স্টেশন। ঘন হয়ে অন্ধকার নেমেছে ঝিঁঝি ডাকছে ঝাঁ ঝাঁ করে। দূরে কাছে কয়েকটা মিটমিটে আলো–স্টেশনের পাশেই গোটা দুই দোকান দেখা যাচ্ছে। ভদ্রলোক বললেন, স্টেশন থেকে বেরিয়েই দুটো পিপুলগাছের তলা দিয়ে যে রাস্তাটা বাঁ-দিকে গেছে-তাই ধরে এগোবেন। খানিক দূর গেলেই একটু জংলা মনে হবে পথটা-তাতে ঘাবড়ে যাবেন না। তারপরেই একটা ছোট নালা বাঁশের পুল রয়েছে–সেটা পেরুলেই

    স্টেশনমাস্টার টিকিটের জন্যে এগিয়ে এলেন। তারপর ভদ্রলোককে দেখে একগাল হেসে অভ্যর্থনা করলেন।

    -মুখুজ্যেমশাই আজ এখানে যে?

    হুঁ একটু কাজে আসতে হল। শুনুন, এঁরা তিনজন কলকাতা থেকে আসছেন, খরিশপুরের বদলে ভুলে হরিশপুরের টিকিট কেটেছেন। বাড়তি কিছু দিতে হবে নাকি?

    –ঠিক আছে–ঠিক আছে-রেল স্টেশনমাস্টার আমাদের টিকিট নিয়ে চলে গেলেন। আমরা মুখুজ্যেমশায়ের ওপর আরও খানিকটা কৃতজ্ঞ হয়ে উঠলুম।

    নিতাই জিজ্ঞেস করলে, আপনি কোথায় যাবেন?

    -আমি? আমিও যাব ওই দিকটাতেই। তবে একটু দেরি হবে আমার। দশ-বারো মিনিটের ভেতরেই উল্টো দিকের একটা গাড়ি আসছে। তাতে আমার এক বন্ধুর আসবার কথা। সে-ও এদিকে নতুন লোক, একেবারে তাকে সঙ্গে নিয়েই যাব। কিন্তু আপনারা আর দেরি করবেন না-এগোন।

    না, দেরি করা চলবে না, পেটে আগুন জ্বলছে-নেপাল আগেভাগেই পা বাড়াল। ভদ্রলোককে ধন্যবাদ আর নমস্কার জানিয়ে আমরা দুজনেই নেপালের পেছনে চলতে শুরু করে দিলুম।

    ভদ্রলোক ডেকে বললেন, কিছু অসুবিধে হবে না–এগিয়ে যান

    –আচ্ছা–আচ্ছা

    পিপুলগাছটার তলা দিয়ে বাঁয়ের রাস্তায় আমরা চলতে শুরু করলুম। দু-ধারে ছোট বড় কয়েকটা বাড়ি চোখে পড়ল বটে, কিন্তু কোনওটাকেই বিয়েবাড়ি বলে মনে হল না। খিদের তাড়ায় হনহন করে আমরা হাঁটতে লাগলাম। মাটির পথ-অন্ধকারে একটু অসুবিধেও হচ্ছিল। কিন্তু আধ মাইলের তো ঝামেলা–দেখতে দেখতে পেরিয়ে যাব।

    কিন্তু কোথায় সেই আধ মাইল?

    একটু পরেই দুপাশে শুরু হয়ে গেল ঘন জঙ্গল। এত অন্ধকার যে, চোখ আর চলতে চায়। চারপাশে খালি অসংখ্য জোনাকি জ্বলছে আর মাথার ওপর ঘনিয়ে এসেছে নিবিড় কালো মেঘ। আমি একবার পা পিছলে পড়তে পড়তে সামলে নিলুম-নিতাই একটা হোঁচট খেয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল।

    –এই ন্যাপলা ব্যাপারটা কী বল তো? এ কীরকম বিয়েবাড়ির রাস্তা? নেপাল মোটা মানুষ হলে কী হয়–খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে সে চিরকালই অত্যন্ত উৎসাহিত আর দারুণ রকম তৎপর।

    নেপাল বলে, দাঁড়াসনি, চল–চল। মোটে তো আধমাইল যেতে হবে।

    –আধ মাইল! আধ মাইল কাকে বলে আমি জানিনে?–নিতাই চটে গেল : সেই তখন থেকে হাঁটছি বাড়ি নেই, ঘর নেই–কেবল শাঁ শাঁ করছে অন্ধকার জঙ্গল–যেন আফ্রিকার বনের ভেতর দিয়ে চলেছি। নিশ্চয় রাস্তা ভুল হয়েছে।

    নেপাল বললে, রাস্তা ভুল হবে কেন? ভদ্রলোক যেভাবে বলে দিয়েছেন–সেই ডিরেকশনেই তো চলেছি। আর কোনও রাস্তা তো এদিকে দেখিনি।

    নিতাই গোঁ গোঁ করে বললে, দুত্তোর ডিরেকশন! যা জঙ্গল চারদিকে বিয়ে বাড়িতে ভোজ খাওয়ার আগে বাঘেই আমাদের ভোজে লাগাবে মনে হচ্ছে।

    আমি বললাম, পাড়াগাঁয়ের রাস্তা একটু জংলা হয়ই। আর একটু এগিয়ে দেখা যাক না। কিন্তু বেশি দূর এগোতে হল না। হঠাৎ রাস্তাটা শেষ হয়ে গেল। তারপরেই দেখা গেল, ঢালু পাড়ির নীচে খানিকটা জলের রেখা। আর একধারে ভূতুড়ে চেহারা নিয়ে একটা বাঁশের পুল দাঁড়িয়ে।

    নেপাল খুশি হয়ে বললে, ব্যস–এই তো এসে গেছি। এই সেই নালা, আর এই পুলটা পেরোলেই

    নিতাই বললে, নালা? এ তো দস্তুরমতো নদী দেখছি।

    আরে এসব দেশে নদীটাকেই নালা বলে। পাড়াগাঁয়ে তোক তো! চল, চল, খিদেয় দাঁড়াতে পারছি না।

    নেপাল বাঁশের পুলটার দিকে পা বাড়াল।

    আর ঠিক তক্ষুনি চারদিক ঝলসে দিয়ে বিদ্যুৎ চমকাল-কড়কড় করে ডেকে উঠল মেঘ। সেই বিদ্যুতের আলোয় সব স্পষ্ট দেখতে পেলুম আমরা। নীচে ছোট একটা নদীই বটে। বাঁশের পুলটা তার আধখানা পর্যন্ত গিয়ে ভেঙে পড়েছে। অন্তত পাঁচ বছরের ভেতর তার ওপর দিয়ে কেউ পার হয়নি। আমরা সেই পুলে উঠে একটু এগোলেই সোজা নদীতে গিয়ে পড়তুম। ওপারে অথই জঙ্গল–যেটুকু দেখতে পেলুম তাতে মনে হল শুধু বাঘ কেন, ওখানে হাতি, গণ্ডার, ভালুক–অজগর সব কিছু থাকা সম্ভব।

    আবার বিদ্যুতের চমক আর মেঘের ডাক। আর নদীর এপারে এবার যা আমরা দেখতে পেলুম, তাতে আমাদের চোখ সোজা কপালে উঠে গেল। ভাঙা কলসি, কয়লা ছাই আর কয়েকটা আধপোড়া বাঁশ। একটা দড়ির খাঁটিয়া তাদের মাঝখানে আকাশে চার পা তুলে উটে পড়ে আছে।

    আমি বললুম, শ্মশান।

    ওপারের নিবিড় জঙ্গল থেকে হু-উ-উ করে একটা শেয়াল ডেকে উঠল। আর সঙ্গে সঙ্গে এপারে ওপারে ডাইনে বাঁয়ে–আন্দাজ শখানেক শেয়াল একসঙ্গে সাড়া তুলল–হুঁয়াহুয়া–কেইসা হুয়া?

    যেন আমাদের ঠাট্টা করছে।

    -ওরে বাবা রে—

    যে-পথ দিয়ে এসেছিল, সেই পথ দিয়েই নিতাই প্রাণপণে ছুট লাগাল–আমরাও তার পেছনে পেছনে। আর চারদিক থেকে শেয়ালেরা সমস্বরে বলতে লাগল : মজা হুয়া-আচ্ছা হুয়াহুয়াহুয়া।

    এর মধ্যে আবার ঝমাঝম করে বৃষ্টি নামল।

    গর্তে পা পড়ে নিতাই ধপাৎ করে একটা আছাড় খেল, তার ওপর উবুড় হয়ে পড়ল নেপাল এবং সেই সঙ্গে আমাকেও টেনে নামাল। পাঁচ মিনিট জলে কাদায় জড়াজড়ি করে যখন আমরা দাঁড়ালুম, তখন নিতাইয়ের সিল্কের পাঞ্জাবির আধখানা আমার হাতে আর আমার শাদা জুতোটার একটা কোথাও খুঁজে পেলুম না।

    কিন্তু উঠে দাঁড়িয়েই নিতাই আবার বসে পড়ল।

    কী হল রে?

    –পা মচকে গেছে হাঁটতে পারছি না আর। ওফ! বৃষ্টিটা যেমন হঠাৎ এসেছিল–তেমনি ছেড়ে গেল। মাঝখান থেকে আমাদের দুঃখের বোঝাটা বাড়িয়ে গেল খানিকটা। আর আমরা সেই জঙ্গলের ভেতরে, জলকাদায় বসে পনেরো মিনিট ধরে নিতাইয়ের পা দলাই-মলাই করতে লাগলুম।

    নিতাই শেষ পর্যন্ত আমাদের কাঁধে ভর দিয়ে উঠে পড়ল। তারপর হাঁটতে লাগল নেংচে নেংচে।

    –এই ন্যাপলাটার বুদ্ধিতে পড়েই

    নেপাল ফোঁস করে উঠল : আমি কী করব? সেই ভদ্রলোক যেমন বলেছিলেন

    ভদ্রলোক!–নিতাই বিকট রকম মুখ ভ্যাংচাল : একটা মিথ্যেবাদী–লায়ার–জোচ্চোর–।

    আরও কী সব গাল দিতে যাচ্ছিল, হঠাৎ কোত্থেকে তিন চারটে টর্চের আলো পড়ল আমাদের গায়ে। দেখি আট-দশজন লোক হাতে তাদের লাঠি আর বল্লম। কী সর্বনাশ-ডাকাত নাকি?

    কারা আপনারা!কড়া গলায় কে জানতে চাইল।

    আমরা–আমরা বিদেশী লোক!–আমি হাউমাউ করে বললুম : আমরা বরযাত্রী কলকাতা থেকে আসছি হরিশপুর কদমতলায় যাব। আমাদের

    বরযাত্রী! হরিশপুর কদমতলা-লোকগুলো একসঙ্গে গলা ফাটিয়ে হেসে উঠল : তা বেশ–গল্পটা শুনতে ভালোই। চলুন–আপনাদের অভ্যর্থনা করতেই আমরা এসেছি। বিয়েবাড়িতেই নিয়ে যাব।

    তার মানে?–অভ্যর্থনাটা ঠিক সুবিধেমতো মনে হল না।

    –আমরা গ্রামের ডিফেন্স পার্টি। তিনজন বিদেশী লোক এই দুর্যোগের রাতে শ্মশানের জঙ্গলে কেন ঘুরছিলেন তার একটা ভালো কৈফিয়ৎ দিতে হবে। থানায় চলুন

    –থানা!-নেপাল হাহাকার করে উঠল :বরযাত্রীকে থানায় নেবেন মানে?

    কারণ, থানাই তাদের জায়গা। আর একটাও কথা নয়, চলুন।

    অগত্যা থানাতেই টেনে নিয়ে গেল।

    খরিশপুরের দারোগা আমাদের কাহিনী শুনে হেসে অস্থির।

    –আহা, হরিশপুর কদমতলার বরযাত্রী না হলে পাঁচ মাইল উজিয়ে খরিশপুরে কেন আসবে? হরিশপুর স্টেশনের পাশেই কদমতলা–সে সব ফেলে খরিশপুরের শ্মশানে না গেলে বরযাত্রী কিসের?–তারপর চোখ কটমট করে বললেন, ছোরা-বোমা–সিঁদকাঠি এ-সব কোথায়?

    –খবরদার, ভদ্রলোককে অপমান করবেন না। আমরা প্রতিবাদ করলুম।

    ভদ্রলোক!-দারোগা নাকটা শিকেয় তুললেন : এরকম কজন ভদ্রলোককে তিন মাস আগেই চুরির দায়ে আমরা চালান করেছি। তাদের জেল হয়ে গেছে। তোমরাও থাকো আজ হাজতে। কাল সকালে তোমাদের ওস্তাদি আমি দেখে নেব।

    দয়া করে যদি হরিশপুর জগদীশ চক্রবর্তীর বাড়িতে একটা খবর পাঠান

    –দেখা যাবে কাল বলে দারোগা সোজা আমাদের হাজতে চালান করলেন। সারারাত ভিজে কাপড়-জামায়, খিদেয় লজ্জায় আর ভয়ে আমাদের কী ভাবে যে কাটল, তা বোধহয় না বললেও চলে। নিতাই একটা কুটকুটে কম্বল মুড়ি দিয়ে চুপচাপ পড়ে থাকল, নেপাল দুহাতে মুখ ঢেকে কুঁইকুঁই করে একটানা কেঁদে চলল আর আমি সারা রাত ধরে অন্তত হাজার খানেক মশা মারলুম।

    সকালে উঠে তিনজনে জড়াজড়ি করে বসে আছি আর ভাবছি, এর পরে কপালে কী আছে–এমন সময়–হাজতের দরজা খুলে দারোগা, বিষ্টুপদ আর

    আর সেই ভদ্রলোক! সেই মুখুজ্যে মশাই–সেই গোলগাল লোকটি, পাকা আমের মতো চেহারা, কাঁচা-পাকা গোঁফ যিনি আমাদের হরিশপুর কদমতলার সোজা রাস্তাটি দেখিয়ে দিয়েছিলেন।

    আমরা তিনজনে একসঙ্গে চেঁচিয়ে উঠলুম : এই যে জোচ্চোর মিথ্যাবাদী—পাষণ্ড–ভণ্ড

    বিষ্টুপদ বললে, আরে, কাকে কী বলছিস! উনি যে আমার খুড়শ্বশুর হন সম্পর্কে। সকালে চৌকিদার গিয়ে খবর দিতে–উনিই তো আমাকে সঙ্গে নিয়ে তাড়াতাড়ি চলে এলেন! আর তোদের চেহারার বর্ণনা দিয়ে বললেন, এই রকম তিনজন লোক কাল সন্ধের ট্রেনে বলাবলি করছিল, তারা হরিশপুরে বরযাত্রী যাচ্ছে। আর তাতেই তো আঁচ করলুম, তোরা ভুল করে

    আমরা আবার চেঁচিয়ে উঠতে যাচ্ছিলুম–ভদ্রলোক একগাল হাসলেন। একেবারে নির্লিপ্ত অহিংস হাসি।

    বরযাত্রীদের নিয়ে একটু রসিকতা করেছিলুম মশাই, তারপর উল্টো ট্রেনটায় হরিশপুরে চলে এসেছিলুম। ভেবেছিলুম, একটু বাদে আপনারাও এসে যাবেন। কিন্তু এভাবে হাজতবাস করতে হবে সেটা ভাবিনি। এখন দয়া করে হরিশপুরে চলুন, চা-জলখাবার–গরম পোলাও-মাংস সব তৈরি।

    কিন্তু সে-মাংস-পোলাওয়ের আকর্ষণে আমরা আর হরিশপুরে যাইনি। সোজা কলকাতায় ফিরে এসেছিলুম। আর হরিশপুরে বিয়ে করার জন্যে বিষ্টুপদর সঙ্গে আমাদের চিরকালের মতোই বন্ধু-বিচ্ছেদ ঘটে গেছে। ওকেও কি বিশ্বাস আছে আর? সেই কালান্তক শ্বশুরবাড়ি থেকে কোন্ মারাত্মক রসিকতা আমদানি করে আমাদের একদম ফাঁসিয়ে দেবে কে জানে!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleছোটগল্প – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article কাঁটায়-কাঁটায় ৪ – নারায়ণ সান্যাল

    Related Articles

    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    ছোটগল্প – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    September 2, 2025
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    টেনিদা সমগ্র – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

    September 2, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }