Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সমান্তরাল

    উপন্যাস সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প12 Mins Read0

    সমান্তরাল

    পান্নালাল যখন ব্যাপারীগঞ্জে নামল তখনও ভোর হয়নি। ছোট স্টিমার স্টেশন। নির্জন অন্ধকার। স্টিমার যতক্ষণ রইল, সামান্য কোলাহল, তারপর স্টিমার ছেড়ে দিতেই শীতের রাতের ভারী স্তব্ধতা। সবুজ র‍্যাপারটা গায়ে ভালো করে জড়িয়ে নিয়ে বিছানার বাণ্ডিল আর রংচটা টিনের সুটকেসটা তুলে নিয়ে এগুলো পান্নালাল। একটু দূরেই তারাপদদা-র হাতে গরম কেবিন। দিবারাত্র খোলা থাকে। সে ঢুকল সেখানে। ছোকরা চাকরটা এক কোণে বসে দুলছে। তাকে একটা খোঁচা মারল পান্নালাল—এই, ওঠ, তারাদা কোথায় রে? ধড়মড় করে উঠে বসল চাকরটা। বিরক্তির সঙ্গে বলল, বাবু বাড়ি গেছেন।

    কিছু খাওয়া পাওয়া যাবে?

    আজ্ঞে হ্যাঁ, রুটি, মাখন, কেক, ঘুগনি, মেটের কারি—

    থাক, এক কাপ চা দে, আদা দিয়ে দিস।

    ছেলেটা গিয়ে উনুনের চাকাটা খুলে ফেলল। গনগনে আগুনের লাল আভা এসে পড়ল তার মুখে। ঘরের মাঝখানে একটা হ্যারিকেন দড়িবাঁধা ঝুলছে। হাওয়ায় দুলছে সেটা। তার দীর্ঘ বিলম্বিত ছায়া এসে পান্নালালের মুখে পড়তে লাগল। বাইরে ঝিঝির একটানা ডাক, নদীর অস্পষ্ট শব্দ। মাঝে-মাঝে পাড় ভাঙার আওয়াজ। দূরে স্টিমারের ভোঁ-টা কেমন যেন উদাস-উদাস লাগল।

    ছেলেটা চা-টা বেশ ভালোই বানিয়েছে। একটা বিড়ি ধরালে ভালো হত, কিন্তু দেশলাই নেই, উঠে গিয়ে উনুন থেকে ধরাতে ইচ্ছে করল না। এখান থেকে মাইলপাঁচেক হেঁটে যেতে হবে তার গ্রামে। রাত্তিরবেলা যাওয়াটা ঠিক নয়, রাস্তাঘাটের বদনাম আছে। ভোরের দিকেই যাব, কোমরে একবার হাত বুলিয়ে সে তার সযত্ন রক্ষিত জিনিসটা অনুভব করল। তারপর শুয়ে পড়ল। অয়েলক্লথ পাতা টেবিলের ওপর মাথা রেখে। তন্দ্রার ঘোরটা বড় মধুর। পান্নালাল এসেছে বিয়ে

    করতে। সেই আসন্ন বিবাহের মধুর কল্পনা অন্ধকারের মধ্যে চিত্রিত হতে লাগল।

    দাদা, বিড়ি খাবেন? দাদা—

    চমকে উঠে বসল পান্নালাল। পাশে আর একটি লোক কখন বসেছে।

    ও আপনার ঘুম এসেছিল? আমি ভাবলুম বুঝি জেগে আছেন। নেন, বিড়ি খান। এই যে দিয়াশালাই আমার সঙ্গেই আছে। দাদার বুঝি এই জাহাজেই আসা হল? আমিও একসঙ্গেই

    এলাম।

    পান্নালাল বিড়িটা ধরিয়ে লোকটার দিকে ভালো করে তাকাল। রোগা চেহারা, দুটি শীর্ণ চক্ষু কোটরের মধ্যে জ্বলজ্বল করছে। মুখটা কেমন যেন ছুচোলো। একটা নস্যি রঙের ছেড়খোঁড়া র‍্যাপার জড়িয়েছে গায়ে।—তা, আপনাকে তো ইস্টিমারে দেখলাম না— পান্নালাল প্রশ্ন করল।

    হেঁ-হেঁ, একটু আড়ালে আড়ালেই ছিলাম। মানে ইয়েতে এলাম কিনা! লোকটা ডান হাতের বুড়ো আঙুলটা তুলে দেখাল। তা, দাদার যাওয়া হবে কোথায়?

    পূব কুণ্ডুলেশ্বরী।

    আমার ধূলগাঁও। তবে তো আমাদের পাশাপাশি গেরাম। আর দেরি করা কীসের, চলেন যাই।

    পান্নালাল একটু গাইগুই করল। ভোর ভোরই যাব। রাস্তাঘাট তো তেমন ইয়ে না। লোকটা আবার হেসে উঠল। আমরা জোয়ান মানুষ যাব—আমাদের ভয় কী? আর সঙ্গেও কী বা হাতি ঘোড়া আছে? এবার পান্নালালকেও একটু শুকনো হাসি হাসতে হল।—হ্যাঁ, সঙ্গে আবার কী আছে! চলুন যাই, পান্নালাল অলক্ষে একবার কোমরে হাত দিয়ে দেখে নিল ঠিক আছে কি না!

    দুপাশে অন্ধকার সমুদ্রের মতো মাঠ। মাঝ দিয়ে উঁচু রাস্তা। মাঝে-মাঝে দু-একটা নিঃসঙ্গ গাছ গুরুমশাই-এর কাছে শাস্তি পাওয়া ছাত্রের মতো এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে। মাথার ওপর অস্পষ্ট নীল শীতের আকাশ। মায়ের স্পর্শের মতো মিষ্টি প্রথম শীতের হাওয়া। দূর থেকে একটা রাত জাগা পাখির ডাক ভেসে এল। আর নদীর শব্দ।

    পথ চলতে-চলতে পান্নালাল সঙ্গের লোকটার কাছে অনেক কিছু বলে ফেলল। বছরপাঁচেক একেবারে দেশে আসেনি পান্নালাল। কলকাতায় প্লাস্টিকের কারখানায় কাজ করে। এবারে এসেছে গাঁয়ে, মা-বাবা খুব ধরেছেন, বিয়ে করতে হবে। পাত্রী তাদেরই পাশের বাড়ির মেয়ে–হ্যাঁ, সুন্দরী বটে, যেমন রং তেমন…

    লোকটা এতক্ষণ মনোযোগ দিয়ে শুনছিল, হঠাৎ বলল, আপনি একটু দাঁড়ান, আমি একটু পেচ্ছাপ সেরে আসি। বাক্স-বিছানা হাতে ভূতের মতো দাঁড়িয়ে রইল একা। গা-টা একটু ছমছম করতে লাগল। লোকটা এত দেরি করে কেন?

    কোথায় হে, হল তোমার?

    এই যে রে, এই যে! আয়। ভীষণ গলায় লোকটা পিছন থেকে চেঁচিয়ে উঠল। ঘুরে তাকে দেখেই পান্নালালের বুক কেঁপে উঠল। র‍্যাপারখানা খুলে সে কোমরে বেঁধেছে, চোখদুটো জ্বলছে, ডান হাতে মস্তবড় একখানা হাঁসুয়া। সে হাঁসুয়াখানা তুলতেই পান্নালাল বাঁ-হাত দিয়ে তাকে ঠেকাল, সঙ্গে চিৎকার করে উঠল প্রাণপণে।

    —চিল্লা শালা, যত পারিস চিল্লা, এই মাঠে শুনবেই বা কে, আর বউ-বিছানা ফেলে উঠে আসবেই বা কে? লোকটা আরও কয়েকবার হাঁসুয়া চালাল, পান্নালাল আর দাঁড়াতে পারল না। মাটিতে পড়ে গেল, কিন্তু তখনও চিষ্কার করতে লাগল। লোকটা ধীরে-সুস্থে পান্নালালের বাক্স-বিছানা নিয়ে চলে গেল। ক্রমে ভোর হল। সমুদ্রের মধ্য থেকে রক্তবর্ণ সূর্য লাফিয়ে উঠে আকাশপথে যেতে-যেতে এই মাঠের মাঝখানে এসে থমকে গেল। চাপ-চাপ রক্তের মধ্যে পান্নালাল দুমড়ে বেঁকে শুয়ে আছে! ক্ষীণস্বরে শুধু বলছে, জল, জল!

    আস্তে-আস্তে লোক জমল। কাছেই মুসলমানপাড়া। সবাই এসে দূরে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ সামনে আসছে না ভরসা করে। কিছুদিন আগে এখানে দাঙ্গা হয়ে গেছে। যে আগে গিয়ে লোকটাকে ছোঁবে তাকেই যদি পুলিশ আসামি বলে ধরে? পান্নালাল শুধু ঘড়ঘড় করে বলতে লাগল, জল, জল।

    এমনসময় ভিড় ঠেলে এসে দাঁড়াল আকবর আলি। দড়ির মতন পাকানো চেহারা, বয়েস বছর পঞ্চান্ন, মুখভরতি চাপ-চাপ দাড়ি, বাঁ-হাতখানা কনুই থেকে কাটা। একসময়ে এ তল্লাটে বিখ্যাত ডাকাত ছিল। দশ বছরের মেয়াদ খেটে মাসতিনেক আগে মাত্র ছাড়া পেয়েছে। এখন আর। ডাকাতি করার সামর্থ্য নেই। ব্যাপার দেখে সে ভয়ানক রেগে গেল। এক চোট গালাগালি দিল ভিড় করে দাঁড়ানো লোকগুলোকে। কী শরমের কথা, একটা লোক পানি চাইছে, তোরা দিতে পারলি না। শালা, মুরগিগুলোকে জবাই করার আগেও তো একটু পানি দিস। ঠিক আছে, আমি আছি জেলখাটা ডাকু, আমার ডর নেই কিছু। পান্নালালের রং:্যাপারটার একটা পাশ সামনের ডোবা থেকে ভিজিয়ে এনে একটু-একটু করে জল নিঙরে দিতে লাগল ওর মুখে। পান্নালালের বাঁ হাতখানা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পাশে পড়ে আছে, ডান হাতখানাও ঝুলছে, মুখে-বুকে কোপ লেগেছে। তবুও জান বটে পান্নালালের। ফিসফিস করে বললে, আমার বাড়িতে খবর দাও, পূব কুণ্ডুলেশ্বরীর নেত্য সরকার আমার বাপ।

    খানিক বাদে পুলিশ এসে পড়ল। পান্নালালের তখনও জ্ঞান আছে, সে বলল, যে মেরেছে তাকে আমি একবার দেখলেই চিনতে পারব। হাসপাতালে পান্নালালের সামনে সারবন্দি হয়ে দাঁড়াল জন চোদ্দো দাগি আসামি। প্রথমেই একেবারে আকবর আলি। কিন্তু পান্নালাল ওর দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে উঠল, না, না, ও নয়। ও তো আমায় জল দিয়েছে। যে মেরেছে, তার দুটো হাতই ছিল। একে-একে অন্য আর সবকটাকেও দেখানো হল, কেউ নয়। যে মেরেছে, সে তাহলে নতুন মানুষ, ঝোপ বুঝে কোপ মেরেছে। পান্নালাল বিড়বিড় করতে লাগল, বাড়িতে খবর দাও, বাড়িতে খবর দাও।

    দাগি আসামিরা সব চলে গেল, শুধু আকবর আলি একা এককোণে দাঁড়িয়ে রইল। তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে পান্নালালের দিকে, চোখটা কেন যেন ঝাপসা হয়ে আসছে। এই এক রোগ। হয়েছে আজকাল। অন্য মানুষের দুঃখু দেখলে আজকাল চোখে জল আসে। কোথায় কে মরল গেল, তাতে আমার কী রে শালা! আর আমি তো মারিনি! নাঃ জেলের ভাত খেয়ে-খেয়ে তার আর শরীর মনের কিছুই অবশিষ্ট নেই। না হলে সেই বাঘের বাচ্চা আকবর আলি, যার নামে একসময় মায়েরা ছেলেদের ভয় দেখিয়ে ঘুম পাড়াত, তার আজ রক্ত দেখে চোখে জল আসে। মনে পড়ল, নলডাঙার চৌধুরীদের বড়ছেলের মুন্ডুটা কী করে তার হাতের খাঁড়ার এক ঘায়ে ছিটকে পড়েছিল। আর পটুয়াখালির মুখুজ্যেদের নতুন জামাইয়ের। মানুষ মারা ছিল তখন ছেলেখেলা। মহকুমা সদরের ট্রেজারি লুট করতে গিয়ে ধরা পড়ল শেষবার। বাঁ-হাতখানায় গুলি লেগেছিল, পচতে-পচতে শেষপর্যন্ত কনুই থেকে বাদ দিতে হল। তারপর জেলের মধ্যে হল টাইফয়েড, শরীর থেকে সমস্ত রস নিঙরে বার করে নিল, পড়ে রইল আখের ছোবড়ার মতো শুকনো দেহটা। টাইফয়েডের পর অন্য মানুষ হয়ে গেছে আকবর আলি, মাথারও গোলমাল হয়ে যায় মাঝে মাঝে। সাধারণ সংসারী মানুষের মতো সামান্য দুঃখ-কষ্টও আজকাল সইতে পারে না।

    এমনসময় পান্নালালের বাপ-মা, আরও সব এসে ঢুকল। সকলে মিলে কথা বলে চিৎকার করে একটা কান্নার হট্টগোল বাধিয়ে দিল। হাহা করে জনদুয়েক নার্স ছুটে এল, বেশি কথা বলা একেবারে বারণ, তাহলে রোগীকে বাঁচানো যাবে না। পান্নালাল শুধু মাকে ফিসফিস করে বলল, আমি তো বাঁচবই না মা, তুমি কাল বরং পাখিকে একবার পাঠিয়ে দিও, শেষ দেখাটা করে যাই। শুনে মা আরও কেঁদে উঠল।

    ততক্ষণে আকবর আলি ঘরের এককোণে বসে পড়েছে। বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে আজকাল তার পা টনটন করে। খানিক বাদে হাসপাতালের সুপারিন্টেন্ডেন্ট এসে ধমকে উঠল, এই নুলো, তুই এখানে কেন, ওঠ। নুলো! মনে-মনে হাসল আকবর আলি। সেই পুরোনো আকবর আলিকে বোধহয় দেখেনি এই ছোকরাবাবু। জানে না, তার দু-হাতেই সমানভাবে লাঠি-তলোয়ার ঘুরত। তবু অনুনয়ের হাসি হেসে বললে, বাবু, আমাকে এখানেই থাকতে দিন—আমি একটু দাদাঠাকুরের সেবা করি, শেষ বয়েসে একটু পুণ্যি করি।

    কী ভেবে সুপারিন্টেন্ডেন্ট ওকে আর কিছু বললেন না। পরদিন বেলা এগারোটার সময় ঝড়ের মতো একটি মেয়ে এসে ঢুকল পান্নালালের ঘরে। এই মেয়েটিই পাখি অর্থাৎ শ্রীমতী পটেশ্বরী দাসী। পান্নালালের সঙ্গে বিয়ের কথা ছিল পাখির পাশাপাশি বাড়ি দুজনের, ছেলেবেলার সাথী। পাখি এসে কোনওদিকে না চেয়ে পান্নালালের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে কাঁদতে লাগল ফুঁপিয়ে যুঁপিয়ে। পান্নালাল একটু সময় চুপ করে রইল, তারপর ক্ষীণকণ্ঠে বলল, ওঠ, পাখি লাগে। বুকে লাগে।

    উঠে বসল পাখি। শ্যামল রং-এর মেয়ে। দুই গাল দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে, টানাটানা দুটো চোখ কেঁদে লাল হয়ে গেছে, বোধহয় কাল সারারাত কেঁদেছে। আঁটসাঁট গড়ন, কাপড়-চোপড়ের। দিকে দৃষ্টি নেই, যেন সমস্ত লজ্জা-ভয় পিছনে ফেলে রেখে এসেছে। পান্নালাল বললে, আমার বুকে একটু হাত বুলিয়ে দে। সর্বাঙ্গে বিষের মতো ব্যথা। সারা বুক জুড়ে ব্যান্ডেজ, কোথায় হাত বুলোবে পাখি? আলতো করে হাত ছুঁইয়ে কোমরের কাছে এনে হাতটা রাখল। হাতে কী যেন শক্ত মতো ঠেকল। পান্নালাল একবার একদৃষ্টে তাকাল কোণে বসা আকবর আলির দিকে। আকবরের চোখে সে কী দেখল কে জানে, মুখ ফিরিয়ে পাখিকে বলল, আমার কোমরে একটা মোজা বাঁধা আছে, খোল! ওর মধ্যে চারশো সাতান্ন টাকা আছে। তোর নাম করে জমিয়ে ছিলাম। তোকে না দিয়ে পারি না, তুই নে। খুনেটা এ টাকার খোঁজ পায়নি।

    পাখি এবার শব্দ করে কেঁদে উঠল। বলল, কী হবে তোর টাকায়? তুই মরলে আমি বাঁচব না। পান্নালাল একটু চুপ করে থেকে বলল, না, তুই মরবি কেন, তুই বাঁচবি, তোর আবার বিয়ে হবে। কথা শেষ করে একটু হাসতে গেল পান্নালাল, পারল না, চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে এল।

    ওদিকে আকবর আলির চোখ দিয়ে জল পড়ে-পড়ে ছেঁড়া ফতুয়াটা একেবারে ভিজে গেছে। এত। জল তার চোখে এল কোথা থেকে। যৌবনে সে কখনও এক ফোঁটা চোখের জল ফেলেছে বলে। মনে পড়ে না, তখন শুধু আগুন বেরুত। বোধহয় সেইসব জমানো কান্না এখন বের হচ্ছে। সত্যি টাইফয়েডের পর সে একেবারে খাঁটি সংসারী মানুষদের মতো হয়ে গেছে। অতগুলো টাকা। দেখেও লোভ হল না। কিন্তু সারা জীবনে এমন দৃশ্য কখনও দেখেনি আকবর আলি। প্রেমিক প্রেমিকার এমন বিচিত্র মিলনের দৃশ্য!

    পাখিকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার পরই পান্নালালের শ্বাসকষ্ট উঠল। তার পরদিন ভোরবেলা সে মারা গেল। মরবার আগে সে শুধু অস্ফুটস্বরে পাখি, পাখি বলেছে। কোনও ঠাকুর দেবতার নাম মুখে আসেনি।

    আকবর আলির চোখে আর জল নেই। অমানুষিক চেষ্টা করেও বাঁচানো গেল না পান্নালালকে। হাসপাতাল থেকে যখন বেরুল, তখন তার মূর্তি দেখে যেসব ছোট-ছেলেরা তাকে নুলো আকবর বলে ডাকত তারা চুপ করে রইল। কাটা হাতখানা শক্ত করে বুকের ওপর রাখা, শরীরের সমস্ত শিরাগুলো ফুলে উঠেছে। রুক্ষ্ম চুল-দাড়ি—দু-দিন রাত্রি জাগরণে দু-চোখ লাল। আবার একবার তাকে ফিরে যেতে হবে পুরোনো দিনে। শেষবার।

    অনেকদিন বাদে। সে গেল পুরোনো চোর-ডাকাতদের আড্ডায়।

    জেল থেকে বেরিয়ে এসে এসব সংস্রব সে একেবারে ত্যাগ করেছিল। দলের লোকদের সে লোহার মতো ঠান্ডা গলায় বলল, কলকাতার ছোকরাবাবুকে কে মেরেছে রে? সরেস হাত তার। সকলে মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগল! কে মেরেছে কে জানে!

    একজন শুধু বলল, বোধহয় খালপাড়ের ইউসুফ। তার ঘরে দেখলাম নতুন স্যুটকেস, বিছানা। খালের জলে দেখলাম পরশু রাতে হাঁসুয়া ধুচ্ছে!

    সেখান থেকে বেরিয়ে এল আকবর। এল তার নিজের বাড়িতে। বাড়ি আর কী…শুধু ঝোপ-জঙ্গলে ভরা ভিটেটুকু। জেল থেকে ফিরে এসে দেখে শরিফনকে কারা নিয়ে পালিয়েছে। কেউ বলতে পারে না তার খবর। ঘরের দরজা-জানলা-চাল সব গেছে পাড়াপড়শীর উনুনে। তবুও তার মধ্যেই ঝোঁপজঙ্গল একটু পরিষ্কার করে থাকার জায়গা করেছিল আকবর।

    ঘরে এসে মুখের পেশি শক্ত হয়ে উঠল আকবরের। এখনও তার দেহে একটু শক্তি আছে। এখনও সে পারবে পান্নালালের মৃত্যুর শোধ নিতে। সে তার ঘরের ভিতের মাঝখানটা খুঁড়তে লাগল। হাতখানেক গর্ত করে তার মধ্যে থেকে টেনে তুলল এক হাত লম্বা একটা ভোজালি। তার কতকালের জিনিস! কত প্রিয় হাতিয়ার! এই অস্ত্রে সে সবজায়গায় জিতেছে। অস্ত্রখানা কোমরে গুঁজে সে তখুনি বেরিয়ে পড়লো। কাজ আগে সেরে রাখা ভালো। খালপাড়ের ইউসুফের বাড়িতে এসে ডাকল তাকে।

    ঘর থেকে বেরিয়ে এলো ইউসুফ। সেদিনকার রাত্রির সেই লোকটা! আকবরকে দেখে বলল, সালাম আলেকুম, সর্দার, বার্তাটা কী কন!

    আলেকুম সালাম, প্রত্যুত্তর দিল আকবর আলি, তোমার সঙ্গে আমার একটু কথা আছে।

    কীসের কথা? ইউসুফের চোখে কুটিল সন্দেহ।

    কেন, ভাইবেরাদরের সঙ্গে একটু বাতচিতও কি করতে পারব না?

    ঘর থেকে বেরিয়ে এলো ইউসুফ, কোচড়ভরতি তার মুড়ি। চলতে-চলতে আকবর তাকে জিগ্যেস করল, কাজকারবার কেমন?

    কোথায় আর কাজকর্ম! পরপর দু-বার বানের জলে সমস্ত ফসল ভেসে গেল। জোয়ান মানুষ, পেটের ভাত তো চাই! কোথা থেকে পাব তা…

    আকবর তীক্ষ্ণ চোখে তাকাল তার দিকে। এই সেই লোক, চিনতে ভুল হয়নি।

    ইউসুফ বাড়ির পাশের লঙ্কা আর ঢ্যাড়শ গাছে জল দিল। তারপর বলল, সর্দারের কথাটা কী, তা তো শোনা হল না।

    হবে-হবে, চলো একটু নিরিবিলিতে…তিনযুগী বটতলায়।

    ইউসুফের বাড়ির পিছনে পুকুর। সামনে খাল। পুকুরে ঘাটে নেমে ইউসুফ হাত দিয়ে জলের ওপর একটা অদ্ভুত শব্দ করতে লাগল। সেকালের বিরাট মজা পুকুর। খানিকটা বাদেই দুটো। বিরাট শ্যাওলা পড়া শোল মাছ এল ঘাটের কাছে। ইউসুফ মুড়িগুলো ছড়িয়ে দিল জলে। তারপর আর একমুঠো মুড়ি হাতে নিয়ে, আ-তু বলে ডাকতে লাগল। কোথা থেকে একটা কালো রোগা কুকুর ছুটে এল। তার সামনে মুড়িগুলো দিয়ে বলল ইউসুফ, আজ সাতদিন পর প্রাণীগুলোকে খেতে দিলাম। তা আমরাই বলে খেতে পাইনি, তা জীবজন্তু।

    আকবর আলি দেখছে আর মনে-মনে হাসছে। একটু পরেই তো তোর সব সম্পর্ক ঘুচে যাবে এদের সঙ্গে…যেমনভাবে তুই পান্নালালের সঙ্গে পাখির সম্পর্ক ঘুচিয়েছিস।

    জারুল গাছের জঙ্গলের মধ্য দিয়ে হাঁটতে-হাঁটতে দেখতে পেল একটি মেয়ে নীচু হয়ে শুকনো। পাতা কুড়োচ্ছে। দশ-এগারো বছর বয়েস…দেখতে অনেকটা শরিফনেরই মতো, আকবর আলি ভাবল। মেয়েটি মুখ তুলে ইউসুফকে দেখে বলল, বাজান, এখন আবার যাস কোথায়। আজ। অনেকদিন বাদে ভাত খাব…গরম গরম…খাল থেকে আমি চাঁদা মাছ ধরেছি।

    একটু সবুর করিস…আমি আসব এখনই।

    খালপারে গিয়ে তিনযুগী বটতলায় দাঁড়াল দুজন। ইউসুফের দিকে একবার তাকাল আবকর আলি। এখন যেন নিজেকে আবার ভয়ানক দুর্বল লাগছে। ইউসুফের কোটরাগত চক্ষুদুটোতে যেন ভাত খাওয়ার আনন্দ চকচক করছে। সব শেষ করে দেবো! কুকুরটা কোথা থেকে এসে আবার লেজ নাড়ছে। যা…যা…বলে ওকে তাড়াবার চেষ্টা করল, ওর সামনে যেন কেমন লজ্জা লাগছে আকবরের। আর ইউসুফের দুধের মেয়েটা…বাপ মরলে ওর কী হবে? শেষে কি ও-ও। শরিফনের মতো…

    আকবর মনস্থির করে কোমর থেকে ভোজালিটা বের করল। সেটা দেখেই ইউসুফ ইয়া আল্লা বলে চমকে দৌড়বার চেষ্টা করল।

    আরে পালাস কোথা, ভয় নেই দাঁড়া, কথা আছে…

    ইউসুফ একটু দূরে ভয়ে-ভয়ে দাঁড়াল। আকবর একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল অস্ত্রটার দিকে। আবেগে তার হাত কাঁপছে। সেটা ইউসুফের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ইউসুফ ভাই, এটা ঘরে থাকলে আমার বড় যন্তন্না, হাত নিশপিশ করে, মাঝে-মাঝে মানুষ মারবার জন্য। তাই এটাকে এবার বিদায় দেব, কিন্তু নিজের হাতে তো ফেলতে পারিনা, মায়া লাগে, পুরোনো বান্ধব, তুই এটাকে হাতে করে ফেলে দে!

    ইউসুফ অস্ত্রটা হাতে নিয়ে নির্বোধের মতো তাকিয়ে রইল।

    দে, প্রাণপণে মাঝদরিয়ায় ছুড়ে ফেলে দে!

    একটু ইতস্তত করে ইউসুফ সেটাকে ছুড়ে দিল খালের মাঝখানে। ঝুপ করে একটা আওয়াজ হল। কয়েকটা তরঙ্গ উঠে পারের কাছে আসবার আগেই ভেঙে গেল। চারদিকে আর কোনও চাঞ্চল্য নেই, পরিবর্তন নেই। পাশের বাঁশবন থেকে হাওয়ার শব্দ ভেসে আসতে লাগল, একটা গাঙশালিক ডেকে উঠল, তিনযুগের সাক্ষী বিশাল বটগাছটা নিশ্ৰুপ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল, কেউ জানল না, কত শোক, অশ্রু, হিংসার ইতিহাস শেষ হল। এইমাত্র পৃথিবীতে কী নিদারুণ একটি ঘটনা হতে-হতে নিবৃত্ত হল। কেউ জানল না।

    আকবর আলি একটা তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেলল। তারপর বলল, চল ইউসুফ, তোর মেয়ের রাঁধা ভাত দুজনে মিলে ভাগ করে খাব আজ…

    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশ্মশানবন্ধু
    Next Article সহযাত্রী

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    নগ্ন নির্জন – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    কোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ

    May 23, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রবার্টসনের রুবি – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    বোম্বাইয়ের বোম্বেটে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }