Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সমুদ্র-যাত্রা – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প230 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সমুদ্র-যাত্রা – ১০

    ১০

    দাদু মারা যাবার পর আমার ঘাড়ে অতিরিক্ত বোঝা চেপেছে, তবু আমার কী রকম হালকা লাগে। কেন আমি বুঝি না। দাদুই ছিলেন আমার একমাত্র বন্ধু। দাদুকে যা বলতে পারতুম, অন্য কাউকেই তা পারতুম না। ঘোর বন্ধন একটা। হস্টেল থেকে বাড়ি আসতুম, শুধু ফিনকির জন্যে নয়, দাদুর জন্যেও। দাদুকে বুঝিয়ে দিতুম না। আমার প্রকাশ চিরকালই কম। তবু দাদু হয়তো বুঝতেন, তাঁর প্রকাশ বেশি, কিন্তু তিনিও আমাকে কোনওদিন বুঝতে দ্যাননি যে তিনি আমার টান বুঝেছেন। আর যেহেতু দাদু পুরোপরিবারটার ভাল—মন্দের সঙ্গে অমন নিবিড় ভাবে যুক্ত, তাই দাদুর আগ্রহগুলোতে অংশ না নিয়ে আমি পারতুম না। আর এমনই অন্তর্দৃষ্টি ছিল ওঁর আমাদের বিষয়ে! কী যেন বলেছিলেন দাদার বিষয়ে—ওর কাছ থেকে বিশেষ কিছু আশা কোরো না! কী যেন বলেছিলেন আমাকে—হেরোইন খেয়ে, খারাপ পাড়ায় যাবার পর!—তুমি বড়ো হয়ে গেছ। আর ফিনকি? ফিনকিই একমাত্র আশা তোমাদের। আমাকেও কি উনি ডিসমিস করে গিয়েছিলেন? তা হলে শেষ কথাগুলো কেন আমাকে বললেন? আর কেউ বলবার ছিল না, অথচ কথাগুলো বলা দরকার ছিল বলে?

    এখন কথাগুলো, দাদুর সে সময়কার আচরণ মনে মনে তোলাপাড়া করি, মেট্রো রেলের কাজ হচ্ছে। সাইটে আছি। ক্রেন, থিয়োডোলাইট, মিক্সার, স্তূপীকৃত স্টোন চিপস ও অজস্র শ্রমিকের মাঝখানে খোঁড়া গর্তের পাশে দাঁড়িয়ে আছি। একটানা আওয়াজ, আমি হঠাৎ বুঝতে পারি ঘটনাটা। দাদু জীবন সম্পর্কে সমস্ত আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। এটা কোনও মান—অভিমানের প্রশ্ন নয়। বাড়ির সকলের উদাসীনতা আত্মপরতার শূন্যতা দাদু নিজের প্রবল আসক্তি দিয়ে সারাজীবন পূর্ণ করে গেছেন। ওঁর মনে হত উনি ছাড়া আর কোনও কাণ্ডারী নেই। ওঁর দাদারা মৃত, দুই বিধবার বিপুল ভার, বড় ছেলে উন্মাদ, তার সমস্ত দেখাশোনা ও আর্থিক দায়িত্ব আর কেউই তো নিতে চায়নি। ভালবাসার সঙ্গে আসে কর্তব্যবোধ। তিনি করেছিলেন, মেজ ছেলের কোনও দায়িত্ববোধ ছিল না। অথচ পরিবার বলতে যা বোঝায় তা তো তাঁরই। ছোট ছেলে স্রেফ চুপচাপ পালিয়ে গেল। পরের প্রজন্মে দাদা অবিকল কাকার পথ অনুসরণ করল। এদের সবাইকার প্রেমহীনতার উল্টোদিকে তাঁর প্রবল ভালবাসা, নিঃশব্দ, নির্বিচার, কিন্তু সবসময়ে সক্রিয়। এই আসক্তিই জীবন। জীবনকে আঁকড়ে ছিলেন তিনি। একদিন কার জাদু ছোঁয়ায় খসে পড়ল আসক্তি। মৃত্যুর আগে যদি এই নিরাসক্তি না আসে তা হলে জীবন ছেড়ে যেতে বড় কষ্ট! শেষকালটায় তাই দাদুর হৃদয়ে আমরা কেউ, আমাদের কোনও সমস্যার জড় আর ছিল না। আমি ব্যাপারটা টের পেয়েছিলুম। পুরোপুরি বুঝতে পারিনি যদিও। আমার মনে হচ্ছিল—দাদু হঠাৎ বদলে গেছেন, এই বদলটা শুভ নয়। কিন্তু সেই রাতে ওঁর ঘরে আমার থাকায়, হয়তো নয়—নয় করেও কিছু ভাবনা—চিন্তা ওঁর নিরাসক্ত মনে বুদবুদের মতো ভেসে উঠেছিল। আমি না থাকলে বলতেন না। ছিলুম বলেই জোর করে পরলোক থেকে ফিরে এসেছিলেন। অর্থাৎ দাদু আগেই মারা গিয়েছিলেন।

     

     

    আমার সহকর্মীদের সঙ্গে আমার একেবারে বনে না। তার মানে যে ঝগড়া তা নয়। আমি বাইরের আচরণে সৌজন্য, ভদ্রতা সব সময়ে বজায় রাখি। কিন্তু এদের বেশির ভাগই এত ধড়িবাজ, এত পরশ্রীকাতর এবং আদিরসে আকণ্ঠ নিমজ্জিত যে এদের সঙ্গ আমি আদৌ সইতে পারি না। আমি জানি এরা আমাকে নিজেদের মধ্যে উন্নাসিক বলে। আমার তাতে কিছু যায় আসে না। আমারও তো ওদের খুব অপূর্ণ লাগে। যেন কোন ফসিল—স্তরে আটকে আছে।

    আমি অ্যাসিস্ট্যান্ট এঞ্জিনিয়ার, আমার সমগোত্র আরও জনা সাতেক আছে। কেউ কেউ সামান্য বড়। তিনজন মহিলা আছেন, এঁদের এরা অসম্ভব বিরক্ত করে। এদের মধ্যে একজন দীপা বেশ একটু রোখা টাইপের। অন্য দুজন জয়ন্তী আর মুকুলিকা চুপচাপ সব হজম করে যায়। এরা সকলেই আমার ব্যাচমেট। তবে অন্য কলেজের। দীপা ছাড়া।

    একদিন জয়ন্তী জিজ্ঞেস করল—আপনি পুলককে চেনেন?

    আমরা তখন অফিসার্স ক্যানটিনে খাওয়া সারছি। লাঞ্চের পরে আবার ফিরে যেতে হবে চৌরঙ্গিতে। কাজের হিসেব—পত্র নিয়ে অফিসে ফিরতে হবে। এবং রিপোর্ট। চিফ এঞ্জিনিয়ারের কাছে রিপোর্ট জমা দেবার পর অন্য কোনও কাজ না থাকলে ছুটি।

     

     

    জয়ন্তীর কথায় আমি হুঁশে ফিরে আসি—পুলক? নিশ্চয়ই। আজীবন আমার ক্লাস—মেট।

    —আমার কাজিন।

    কোথাও থেকে কেউ বলল—কী পুলক!

    জয়ন্তী ডাকল বাকি দুজনকে—দীপা, মুকুল, এদিকে এসো।

    আমার টেবিলেই বসল এসে তিনজনে।

    দীপা বেশ চড়া গলায় বলল—এখানে বোধহয় বসা যায়, তুমি ঠিকই ধরেছ জয়ন্তী। ইঁদুরের গর্ত—টর্ত নেই।

    —বেড়াল আছে—আবারও কেউ বলল।

    —ওসব কথায় কান দেবেন না, আমি নিচু গলায় বলি।

     

     

    —ফিগার ভাল, চৌত্রিশ চৌত্রিশ চৌত্রিশ।

    —দেখছেন তো। এতটুকু স্বস্তি দেবে না।

    —ইগনোর করুন। কিছুদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।

    —ধ্যাৎ, ঠিক বলিসনি। বাস্টের তফাত আছে, ছত্রিশ তো নিশ্চয়ই, চল্লিশও হতে পারে।

    —আমার তিরিশ হওয়াও অসম্ভব নয়।

    প্রত্যেকে খেতে খেতে নিজেদের মধ্যে কথাগুলো বলছিল। কেউ ধরতে পারবে না, দীপা বলল—তুমি বোধহয় আমায় চিনতে পারছ না সমুদ্র, আমি কিন্তু বি.ইরই। এই জাতীয়রা ওখানেও আমার জীবন অতিষ্ঠ করে দিয়েছে।

    আমি দীপাকে চিনতুম ঠিকই। দূর থেকে দেখা এক জটলা গাছের মতো। একটা থেকে আরেকটা আলাদা করা যায় না।

     

     

    বলি—চিনেছি বই কী! কিন্তু সেরকম আলাপ—পরিচয় তো ছিল না!

    —সে কী? চেনা ছিল না? জয়ন্তী অবাক।

    আসলে, মেয়ে ছিল মোটে চার—পাঁচজন। নিজেদের মধ্যে থাকত একটু ডাঁট নিয়ে। ইলেকট্রনিক্স, আর্কিটেকচার—এ ওদের দুগুণ, তিনগুণ, কিন্তু সিভল—এ সংখ্যা এরকমই।

    —চেনবার মতো চাঁদমুখ থাকলে তো চিনবে। ওদিক থেকে মন্তব্য এল।

    দীপার মুখ রাগে লাল হয়ে গেছে। হাত দুটো মুঠো করা।

    —নো একসাইটমেন্ট প্লিজ—আমি আস্তে বলি।

    —আসলে কী জান, গাঁইয়া তো। শহুরে মেয়ে দেখেনি। বুঝলে সমুদ্র, এখনও রিপোর্টে বানান ভুল করে। বাজে অসভ্যতাগুলোই ছিল ওদের ডিফেন্স।

     

     

    জয়ন্তী বলল—আমাদের যাদবপুরে গোড়ায় গোড়ায় একটু টিজিং হত বটে, তবে কিছুদিন পরই আর ফারাক থাকত না।

    মুকুলিকা বলল—আসলে কী জান…অনেকেই ফার্স্ট জেনারেশন লিটারেট।

    আমি বেগতিক দেখে উঠে পড়ি, বলি—আমাকে এক্ষুনি সাইটে যেতে হবে, নিচু গলায় বলি—তোমরাও প্লিজ বেরিয়ে এসো।

    পরদিন পুরো দলটা আমায় ধরল।

    —সেন, এক যাত্রায় পৃথক ফল কেন?

    —আমার যাত্রা একদম ভাল লাগে না। থিয়েটার সিনেমা বরং পছন্দ হয়। শম্ভু মিত্র আর একবার দেখতে বলো দেখব। কিংবা সত্যজিৎ রায়—তপন সিনহা। এনি থিং।

     

     

    —ফান বই তো কিছু না, সিরিয়স কিছু তো না!

    —দেখো অনিন্দ্য নিজেকে নিয়ে মজা করো কেউ বাধা দেবে না। কিন্তু অন্যকে নিয়ে ফান …এসব ছেলেমানুষি অসভ্যতার অভ্যেসগুলো তোমাদের ক্যাম্পাসের ফার্স্ট ইয়ারেই ফেলে আসার কথা। ইটস ভেরি ভেরি আনফর্চুনেট ইফ ইউ ডোন্ট।

    —এটা শুধু মজা নয় সেন, তুমি চিন্তা করো চাকরির এই বাজারে, এত খরচ করে খেটেখুটে পাশ করছি। ওদের কী রাইট আছে আমাদের চাকরিগুলো এইভাবে বাগিয়ে নেবার? —বিজিত বলল।

    —ওরা খেটেখুটে খরচ করে পাশ করেনি বলছ?

    —দরকারটা কী! সিটটা আটকাচ্ছে তো! বিয়ে করলেই তো ওদের হিল্লে হয়ে যাবে। আমাদের? আমাদের হবে? সেই তো শ্রাবন্তী বলে মেয়েটা বিয়ে বসে গেল। সে তো মাঝপথে? থার্ড ইয়ারে গিয়ে ছেড়ে দিল! একটা ছেলে তো পেতে পারত সিটটা। ছেলেদের ফ্যামিলি দেখতে হয়।

     

     

    —অনেক সময়ে মেয়েদেরও ফ্যামিলি দেখতে হয় কিন্তু, তুমি দুটোর তফাত কী করে করবে। যে চাকরি দেবে সে যোগ্যতা দেখে দেবে, প্রয়োজন দেখে কক্ষনও দেবে না। ওই জায়গাটায় বরঞ্চ আন্দোলন করলে একটা কাজের কাজ হয়।

    —হুঁঃ আন্দোলন! আমরা ওদের লাইফ হেল করে দেব, তাড়াব।

    —চেষ্টা করো। ওরা যদি কমপ্লেন করে তা হলে কিন্তু আমি সঠিক সাক্ষ্য দেব।

    —ওরা ফিল্ড ওয়ার্ক করতে পারবে? ওদের দেখবে বেশির ভাগ ডেস্ক জব দেওয়া হবে এর পর।

    —কিন্তু ওয়ার্ক তো করছে বলেই জানি। আর যদি মেয়েদের শুধু ডেস্ক জব দেওয়া হয়, তখন আপত্তি কোরো। এগুলো কোরো না। এগুলো ঠিক নয়। তোমার বোন কিংবা বউ যদি এই জায়গায় থাকত, তা হলে কিন্তু করতে না।

    —ওরা চিফদের পটায়, স্রেফ মেয়ে বলে সুবিধে আদায় করে।

     

     

    —সেইজন্যেই আরও বলছি কমপ্লেন হলে তোমাদের চাকরি যাবে, খামোখা।

    খুব ঠান্ডা গলায় কথাগুলো বলে চলে এলুম। আমি একা ওরা পাঁচজন, ইতিমধ্যেই উন্নাসিক, ডাঁটিয়াল বলে নাম কিনেছি। একটুও উত্তেজিত হইনি আজ। কে আমার ভেতর থেকে কথাগুলো বলল? আমার মনে হল—আমি বলিনি। দরকারের সময়ে, আমার ভেতর থেকে কেউ শীতল যুক্তি সাজায়, তেমন তেমন হলে বৌদ্ধিক প্রতি—আক্রমণ। এই ক্ষমতাটা আমার ছিল বলে আমি জানতুম না। আমি একলা, ভিড় অপছন্দ করি, অনেকের সঙ্গে মেলামেশা করতে পারি না, বলতে কি পুলক দুর্গাপুর চলে যাওয়ার পর আমার একজনও বন্ধু নেই। এ ধরনের অমিশুক লোকেরা একটু পাশ—কাটানো, ভিতু ধরনেরও হয়। আমি তাহলে তেমন নই? নার্ভ নেই আমার, না কী? স্নায়ুকোষ দিয়ে কোনও উদ্দীপক মাথায় পৌঁছয় না? হরমোন বেশি নেই? অ্যাড্রিন্যালিন? আমার ব্রেন সেল গুলো কী অন্যরকম?

    দাদার সঙ্গে শেষ সাক্ষাতেও এই শীতলতা, বা শীতল যুক্তিবোধ আমায় সাহায্য করেছিল। দাদা দাদুর শ্রাদ্ধে এসেছিল। উপস্থিত ছিল, কিছু টাকাও দিয়ে যায়। আমি দিল্লি থেকে ফিরে আসার দিনকয়েক পরেই ওরা রেজিস্ট্রি করে। কিন্তু সোনু আসেনি, বা দাদুর মৃত্যুর পরও ওদের দিক থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক সান্ত্বনা বাক্যও না।

     

     

    বাবা উপোস করতে পারবেন না, তাই কাজটা আমাকেই করতে হল। শেষ হলে, একেবারে বিকেলবেলায় অতিথি—অভ্যাগতরা চলে গেলে খুব ক্লান্ত লাগল। অশৌচপালন, লোকের বাড়ি গিয়ে গিয়ে আমন্ত্রণ। শ্রাদ্ধের ব্যবস্থা সব করা। পুরোহিত মশায় কিছু আনলেন, কিছু আমাকেই আনতে হল। হালুইকর বামুনের বন্দোবস্ত। সেখানেও বাজারের ঝামেলা। নিজের ঘরে চুপ করে শুয়ে আছি, দাদা ঢুকল। ওর একানে তক্তপোশ এখনও ওধারে। আজকে এক রকম বেড—কভার বালিশ দিয়ে সাজিয়ে দিয়েছে ফিনকি।

    —তুমি… তোমরা…বড্ড বেশি বাড়াবাড়ি করছ সমু। বলতে বাধ্য হচ্ছি।

    আমি শুধু তাকাই।

    —মানে, এই সবের তো কোনও মানেই হয় না। এ তো টাকার শ্রাদ্ধ…

    —টাকার শ্রাদ্ধ না দাদুর শ্রাদ্ধ…

     

     

    আমি আমার কথা অসম্পূর্ণ রেখে দিই।

    —টাকাটা যদি দাদুর চিকিৎসায় খরজ হত, তা হলে কিছু বলার ছিল না, কিন্তু এই ভূত ভোজন…

    —প্রচলিত রীতি—নীতির কিছু তো আমাদের মানতেই হয় দাদা। জীবিতকালে দাদুর চিকিৎসায় যে খরচ করতে হয়নি, সেটা আমাদের ভাগ্য, কিন্তু শ্রদ্ধা জানাবার এই রীতিই চালু। কী করা যাবে!

    —একটা উচ্চশিক্ষিত ছেলে হয়ে যে তুমি কী করে অন্যের কথায় চলো। অন্যের মতামতকে একটা গুরুত্ব দাও!

    —তুমিও তো তাই করছ, অন্যের মতে চলছ।

    —কী ভাবে?

    —মজা হচ্ছে তুমি হয় সেটা জানই না আর নয়তো সেটা মানছ না। না মানাটা বুদ্ধির পরিচয় নয় দাদা, আর যদি না মানো, তা হলেও সেটা খুব পৌরুষের লক্ষণ বলতে পারি না। তুমি অরোরাদের কাছে তোমার আত্মা বিক্রি করে দিয়েছ দাদা। তারা তোমাকে যেভাবে যা করতে বলছে তুমিও তাই করে যাচ্ছ, খুব সম্ভব ইজি লাইফের লোভে। এভাবে যদি নিজের অসম্মান করো, অন্যের মানে এমনকী অরোরাদের সম্মানও তুমি পাবে না।

     

     

    —একদম বাজে কথা বলছ সমু না জেনে। দে আর ভেরি ভেরি কনসিডারেট। আমাকে এখানে ওরাই আসতে বলেছে, ইনফ্যাক্ট যে টাকাটা দিলুম সেটা সোনুই হাতে গুঁজে দিয়েছে।

    —এই তো প্রমাণ হয়ে গেল, তুমি নিজেই প্রমাণ করে দিলে,—আমি হাসি,—যে ওরা যা বলছে তুমি তাই করছ। ভাল হোক মন্দ হোক সিদ্ধান্তটা ওদেরই। আর টাকাটা যদি বউদির হয় তা হলে… দাদা ওটা আমি ফেরত দিতে বাধ্য। এই নাও, আমি ড্রয়ার খুলে নোটের বান্ডিলটা দাদার দিকে এগিয়ে দিই।

    দাদা রাগে লাল হয়ে গেছে—তুমি আমাকে এভাবে অপমান করতে সাহস করো!

    —তুমি যে নিজেই নিজেকে অপমান করলে! সোনু টাকাটা দিয়েছে বললে! মানে যে সোনু বা অরোরা ফ্যামিলি দাদুর মৃত্যুতে একটা চিঠি দিয়েও সহানুভূতি জানানো দরকার মনে করেনি, সে। তারা। তাদের টাকা দাদু কেন নিতে যাবেন? আমিই বা কেন নেব? দাদা ঠান্ডা মাথায় ভেবে দ্যাখো বুঝতে পারবে, তোমার টাকায় আমাদের ষোলো আনা অধিকার, কিন্তু ওঁদের টাকা হল ভিক্ষার মতন, ওটা নিতে পারি না।

    —এর পরে কিন্তু আমার থেকে আর কিচ্ছু আশা কোরো না সমু। দাদা এখনও লাল, কিন্তু ওর ফোঁসানি বন্ধ হয়ে গেছে।

    —আশা করব না দাদা, দাবি করব। খুব অনুত্তেজিত ওঠাপড়াহীন গলায় বলি। যে দাদু তোমাকে পালন করেছেন, যে মা তোমাকে জন্ম দিয়েছেন, যে দিদা মায়ের সঙ্গে তোমাকে বড় করেছেন, যে বাবা তোমার লেখাপড়ার খরচ জুগিয়েছেন, যেখানেই যাও তাঁদের সবাইকার ন্যায্য দাবি আছে তোমার ওপরে। তুমি সেটা এড়িয়ে যেতে পারো, কিন্তু দাবিটা সত্যিই থাকে, থাকবে।

    দাদা চলে গেল, মাকে প্রণাম করল, দিদাদের প্রণাম করল, তাঁদের কান্নার জবাবে শুকনো চোখে মুখ নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল, বাবার পায়ের দিকে একটু নিচু হল, এবং ফিনকি যখন সেই ছোটবেলার মতো দাদাকে জড়িয়ে ধরে আদর করল, দাদা হঠাৎ বোকার মতো বলল—দিল্লির চটি, না? লাল, সবুজ? ফিনকি মজা পাওয়া হাসি হেসে বলল—দুৎ, ওসব চটিফটি আমার চাই না। তুমি বউদিকে নিয়ে আসবে এবার।

    ট্যাক্সি অপেক্ষা করছে, আমি দাদার স্যুটকেসটা বুটে ভরে দিয়েছি, ড্রাইভারের পাশের আসনে বসেছি। ডাক দিলুম—তাড়াতাড়ি এসো, দেরি হয়ে যাচ্ছে।

    সারাক্ষণ অস্বস্তিকর নীরবতার মধ্যে দিয়ে দাদাকে তার এ.সি কোচে তুলে দিলুম। একটু বসলুম—দাদা পকেট থেকে টাকার খামটা বার করে বলল—বিশ্বাস করো সমু। এটা আমারই টাকা। তোমার ইমপ্রেশন যাতে ভাল হয় তাই সোনুর নাম করেছিলুম। ওরা কি অত জানে টাকা ফাকা দেওয়া না দেওয়ার কথা? দে বিলং টু অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড, নেবে না?

    আমি হাত বাড়িয়ে নিই।

    —মাকে দিয়ে এলেই পারতে, ভাল হত।

    —মা! ঠিকই! কিন্তু মা এত এত ডিসট্যান্ট, কীরকম অপর—অপর, তোমাকেই আমার সবচেয়ে কাছের মনে হয়। প্লিজ!

    —ঠিক আছে, আমি মাকে দিয়ে দেব—আমি হেসে বলি, এটা মায়েরই প্রাপ্য। রাইট?

    —তুমি যা মনে করো!

    সত্যিই বলছি আমার কিন্তু কোনও আত্মবিশ্বাস ছিল না। আত্মবিশ্বাস ব্যাপারটা নিয়ে মাথাটাথাও ঘামাইনি কোনওদিন। যে অবস্থায় যা করেছি বলেছি একেবারে তাৎক্ষণিক ও স্বতঃস্ফূর্ত। প্রত্যেকবার এরকম ঘটে আর পরে ব্যাপারটার কথা মনে করে আমার অবাক লাগে। এগুলো কী? কোথা থেকে আসে? এগুলোর সঙ্গে আমার চেতনার কোনও যোগ নেই তো! বুদবুদের মতো ওঠে, বুদবুদের মতো মিলিয়ে যায়। কিন্তু নিটোল বর্ণালি এক একটা। যা কিছু শিখছি সারাজীবন ধরে, করছি, বলছি কোনওটার সঙ্গেই আমার ভেতরের কোনও আদানপ্রদান নেই। মাঝে মাঝে, খুব মাঝে মাঝে কিছুর প্রতিক্রিয়ায় একটা শক্তিশালী অনুভূতি আমাকে অধিকার করে বটে। রাগ, বেশির ভাগই ক্রোধ, কখনও কখনও কাম। কিন্তু আবার ফিরে যাই। কোথায় যাই? ভেবে দেখতে গেলে কোথাও না। কোনও দুশ্চিন্তা আমার আসে না। খারাপ বা খুব আহ্লাদে মেজাজে বেশিক্ষণ থাকতে পারি না। কোন আমিটা সত্য, এই দাদাকে, সহকর্মীদের উচিত কথা শুনিয়ে দেওয়া লোকটা, না সেই লোকটা যে কোনওরকম ভার বোধ না করে জীবনের যাবতীয় দায় পালন করে যায় এবং যে ঘুমের মধ্যে জেগে ওঠে, পার হয়ে যায় সীমান্ত, উড়ে চলে যায় দিক—দিশাহীন শূন্যে, এবং পায় সেই আহ্লাদ যা জেগে জেগে কখনও কোনও সফলতার সময়েও সে পায়নি!

    সুতরাং আমি দাদাকে চলে যেতে দেখি। প্রায় কোনও অনুভূতি ছাড়া। ট্রেন ছেড়ে দিল। আমি ওকে আর দেখতে পাচ্ছি না, ওর কিন্তু আমাকে দেখতে পাবার কথা। দাদা কি দেখছে? নাকি এখনই বহুদূর চলে গেছে, গ্রেটার কৈলাস, অরোরাদের জগতে! দেখুক না দেখুক আমি হাত নাড়তে থাকি, যতক্ষণ না ট্রেন প্ল্যাটফর্মের সীমা পার হয়ে চলে যায়, আমার উত্তোলিত হাত একটা আলিঙ্গন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। যাই ভাবুক দাদা রূঢ় ভাবতে পারবে না কিছুতেই। দু এক বছরের তফাতে এই দেখা—সাক্ষাৎ একটাও লাবণ্যময় হল না। আমার মধ্যে কোনও তিক্ততা নেই। দাদার মধ্যে যদি থাকে, যদি তৈরি হয়, তা হলে সেটা দাদার জীবন—যাপন, তার মন, তার সিদ্ধান্ত থেকেই উঠে এসেছে। এই তিক্ততার একটুও আমি নিলুম না। সুতরাং সবটাই দাদার কাছে ফিরে যাচ্ছে।

    বাড়ি ফিরে মাকে টাকাটা দিই। তার পেছনের দীর্ঘ ইতিহাস, দেওয়া—নেওয়া—ফিরিয়ে দেওয়া—আবার নেওয়া সেসব কিছুই আমি বলিনি। মা টাকাটা আমারই হাতে দিয়ে বলেন—খরচ মিটিও।

    —সে সব হয়ে গেছে। তুমি যা বুঝবে কোরো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৈত্রেয় জাতক – বাণী বসু – উপন্যাস
    Next Article রাধানগর – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }