Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সমুদ্র-যাত্রা – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প230 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সমুদ্র-যাত্রা – ১৩

    ১৩

    আজকাল সংসারের অবস্থা বেশ স্থিতিশীল হয়েছে। ফিনকি খুব ভাল রেজাল্ট করেছে। পাশ করা মাত্র ইউ. জি. সি স্কলারশিপ পেয়ে গেল। মেজদিদা সামান্য পেটের অসুখে মারা গেলেন। জেঠু ক্রমশ নিজের ঘর থেকে বেরোতে বেরোতে রোজ বাইরে বেড়াতে যাচ্ছেন। সবচেয়ে কাছে চিলড্রেন্স পার্ক, আর একটু দূরে গঙ্গার ধার। এখানকার কেউ জানে না, জেঠু একদিন মনোরোগী ছিলেন। একদিন আমাকে ডাকলেন—সমু!

    এখনও খানিকটা সংকুচিত। কিন্তু তার মধ্যে আগের মতো অস্বাভাবিকতা নেই।

    —বলুন।

    —আমি কিছু কাজ করতে পারি না?

    —কী কাজ? আপনিই বলুন।

    —আমার খুব লজ্জা করে। কিছু করি না।

    —লজ্জা করার কিছু নেই জেঠু।

    —না না লজ্জা, ভীষণ লজ্জা। ওইটুকু মেয়ে ফিনকি পর্যন্ত কত কাজ করে। তোমার মা, তোমার বাবা। তোমার তো কথাই নেই। এতটুকু ছেলে তুমি!

    —এতটুকু ছেলে? আমি? লোকে শুনলে হাসবে জেঠু।

    —না না, আমি ঠিক বলছি। আমি একটু পড়াশোনা শুরু করেছি, যদি একটু ছাত্র পড়াই?

    আমি একটু ঘাবড়ে যাই। ছাত্র পড়ানোর পরিশ্রম কি ওঁর সইবে? মাথার ওপরই তো প্রেশারটা বেশি পড়বে।

    —আমি একটু ভেবে দেখি জেঠু।

    বাবাকে বলতে তো বাবা হাঁ হাঁ করে উঠলেন। ব্রিলিয়ান্ট ছেলেদের বেশি মগজ খাটাতে খাটাতে এই রকম হয়। বাবার আরও কেস জানা আছে। মা বললেন—যা করবে ভেবেচিন্তে করো সমু। সুখের চেয়ে স্বস্তি ভাল।

     

     

    শেষ পর্যন্ত জেঠুর ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করি।

    উনি একবার দেখতে চাইলেন জেঠুকে। অনেকক্ষণ ধরে পরীক্ষা করলেন, বেশ সময় নিয়ে কথাবার্তা বললেন। আমাকে ডাকলেন—উনি ঠিক আছেন। ইচ্ছে হয়েছে যখন করুন। তবে বেশি চাপ যেন না নেন। আর দুষ্টু বা বিরক্ত করে কি খুব বোকা এ রকম ছাত্র ওঁকে যেন পড়াতে না হয়। আর…একটা কথা…কোনও মেয়েও নয়, বাচ্চা হলে ঠিক আছে। কিন্তু তরুণী—যুবতী মেয়ে কদাপি নয়।

    আসল সময়ে কিন্তু দেখলুম উনি হাইস্কুলের ছেলেদের খুব অনায়াসে বিজ্ঞান ও অঙ্ক পড়িয়ে দিচ্ছেন। বেশি কথা বলেন না। খুব ধৈর্য ধরে আস্তে আস্তে নিচু গলায় বোঝান। খাতায় কষে দ্যান অঙ্ক। ক্রমে কলেজের ছাত্ররাও আসতে লাগল। উনি আমার কাছ থেকে সিলেবাসের বই চান, খুব মনোযোগ দিয়ে পড়েন। চট করে পাতা উল্টে দ্যান। কোনও কোনও জায়গায় আমাকে জিজ্ঞেস করেন। স্মৃতির একটু অসুবিধে আছে বুঝি। উনিও বোঝেন, কাগজে বড় বড় করে ফর্মুলা লিখে রাখেন, কোনও কিছু সংজ্ঞা, নিয়ম, ঠিকঠাক ভাষায় লিখে রেখে দ্যান চোখের সামনে। কিন্তু ওঁর যুক্তি বুঝতে বা বোঝাতে কোনও অসুবিধে নেই।

     

     

    আমি মাঝে মাঝেই বসি। ইচ্ছে করে। নজর রাখা দরকার। উনি প্রথম প্রথম একটু লজ্জা পেতেন। তারপর অভ্যেস হয়ে গেল।

    জেঠু একদিন তাঁর উপার্জনের হাজার ছয়েক টাকা আমার হাতে দিয়ে বললেন—বউমাকে দিতে লজ্জা করল, সমু, তুমি ওঁকে দিয়ো। চোখমুখে খুশির ছাপ এতই স্পষ্ট, যে আমার না বলতে মন সরল না।

    অতএব আমি দীপাকে বলি—দীপা আমাদের বাড়ি চলো। জাস্ট হঠাৎ একদিন। আমি শুধু শিওর হয়ে নেব ফিনকি থাকছে কি না।

    —কিন্তু তুমি যে বলেছিলে আমাদের তিনজনকে একসঙ্গে নিয়ে যাবে?

    ভেবে—চিন্তে দেখি। ঠিকই। বলেছিলুম বটে। যদি জয়ন্তী মুকুলিকা জানতে পারে আমি একা দীপাকে নিয়ে গেছি, ওদের খারাপ লাগবে। শুধু শুধু কাউকে আঘাত দেওয়া তো আমার উদ্দেশ্য নয়। তা ছাড়া সত্যপালন। সত্যপালনের দায় আছে। অথচ সময় পার হয়ে যাচ্ছে। পার হয়ে যাচ্ছে। এত কাজ, দীপার সঙ্গে কথা হচ্ছে না।

     

     

    —সে ক্ষেত্রে দীপা বাড়িতে একটু নোটিস দিয়ে অর্থাৎ জানিয়েই নিয়ে যেতে হবে। বাড়ির সবাই একটু হতবুদ্ধি হয়ে যেতে পারেন।

    —কেন? খুব প্রাচীনপন্থী না কি!

    —এটা আমি বলতে পারব না। আমি আমার বাড়ির লোকেদের খুব একটা বুঝি না।

    দীপা অদ্ভুত ভাবে হাসল।

    আমি বললুম আমার দাদা দিল্লিতে পঞ্জাবি মেয়ে বিয়ে করেছে। কোনও সমস্যা হয়নি।

    একটু চুপ করে থেকে দীপা বলল—উনি কি কারও মতামতের ধার ধেরেছিলেন?খুবই সংসারাভিজ্ঞ ও স্পষ্টবাদী মেয়েটি।

    আমি হেসে বলি—ধরেছ ঠিকই। কিন্তু তার তো পরও আছে। দাদা এসেছে, সবাই তাকে স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছেন তো!

     

     

    —তুমি বলছ তোমার দাদা—বউদি এখন তোমাদের বাড়িতেই থাকেন!

    —তা কী করে থাকবে? দুজনেরই কর্মস্থল দিল্লি।

    —তাই। এসে থাকলে কী হত তুমি জানে না, তাই না?

    —এসব ছাড়ো। দীপা, আমাদের বাড়ি অতিথি—অভ্যাগতের আসা—যাওয়া একটু কম, ছোট থেকেই দেখছি। তাই—ই বলছি তোমরা তিনজনে হঠাৎ গিয়ে পড়লে ওঁদের ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়তে হবে। ঘাবড়ে যাবেন আর কি!

    —না—মঞ্জুর।

    —সে কী?

    —ওই আগে যা ব্যবস্থা ছিল, ফিনকি থাকছে কি না শিওর হয়ে বা ওকে আলাদা করে বলে উইদাউট নোটিস নিয়ে যেতে হবে।

     

     

    —মামার বাড়ির আবদার?

    —তাই বলো তো—তাই।

    —ঠিক আছে, যা থাকে কপালে।

    আমি আসলে আমার বাড়িকে প্রস্তুত করে নিতে চাইছিলুম। চাইছিলুম দীপা একাই যাক। সেই যাওয়াটাই হবে উপক্রমণিকা। তারপর পাঁচজনের মতামত। বিশেষ করে ফিনকির। ফিনকির কাছ থেকে মা—বাবা এঁদের মতামত জানতে পারব। জানা দরকার। যদিও তার জন্য কিছু আটকাবে না। তবু জানা দরকার। তিনজনকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব আমিই দিয়েছিলুম। তার কারণ ছিল অন্য, জয়ন্তীকে আমি আলাদা করে দেখিনি, অথচ ও গেলে সেটাই এক রকম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যেত। কিন্তু দীপা কেন তিনজনে যেতে চাইছে তাও আবার উইদাউট নোটিস—আমি বুঝতে পারছি না। ঠিক আছে যা বলছে তাই—ই করি অতএব। ফিনকিকে বলব ঠিক করি।

    ফিনকি এত ভাল পাশ করে গবেষণা করছে, হেঁজিপেঁজি বিষয় নয়, মুদ্রা নিয়ে কাজ। কিন্তু প্রায় এক রকমই আছে। দেখায় সেই ছটফটে অষ্টাদশীটি। জেঠুর সঙ্গে কত গল্প করে, বড় দিদার পান ছেঁচবার সময়ে ছ্যাঁচা পান টুক করে তুলে নিয়ে রাগায়, মাকে সাহায্য করে, বাবার মেজাজ সামলায়। আমার সময় হলে আমার সঙ্গেও বসে গল্প করে।

     

     

    —কী রে ছোড়দা—কী করছিস? —একেবারে ডাকাতের মতো এসে পড়ল। ওর ছোটবেলাকার ডলি—ডলি শিশুমুখ খুব একটা ছাঁদ পাল্টায়নি। বড় বড় চোখ, বুদ্ধিদীপ্ত, কোঁকড়া ছোট চুল, কাটেনি, কিন্তু বাড়ে না বিশেষ। ফর্সা নয়, একেবারেই কিন্তু খুব উজ্জ্বল, কোনওদিন ব্রণ হতে দেখিনি। আমাদের বিশেষত দাদার তো ব্রণ হয়ে হয়ে গালে দাগই হয়ে গেল। দাদু বলতেন ‘বয়ঃব্রণ’, ঘাবড়িও না, হরমোন্যাল চেঞ্জের সময়ে ছেলে—মেয়ে সবারই হয়।’ কিন্তু ফিনকির মুখে কোনওদিন কোনও ব্রণ দেখিনি। মুখে দাগ না থাকলে মুখটা খুব নিষ্পাপ নির্মল দেখায়। প্রচুর বুদ্ধি থাকা সত্ত্বেও ফিনকিকে তেমনই নির্মল দেখায়। তীক্ষ্ন বুদ্ধির শাণিত ভাবটা ওর মুখে একেবারেই নেই।

    একদিন শীতের রোববার। কুয়াশা ভাল কাটেনি। কুয়াশা ভেদ করা স্যাঁতা রোদ ঘরে, ঠিক যেন একটা উজ্জ্বল বাঘ নিস্তেজ হয়ে ঘুমোচ্ছে। জানি ঘুম ভাঙবে, লাফিয়ে উঠবে তখন, আর সঙ্গে সঙ্গে বাঘের গায়ের রং মেখে শীত—সকালের গায়ে—হলুদ হয়ে যাবে। একটু দেরি করে উঠেছি। মনে হচ্ছে একটু বেশিই দেরি হয়ে গেছে। প্রত্যেক ঘর—সংসারের বিভিন্ন সময়ে কিছু বিশেষ শব্দ—গন্ধ থাকে। তাতে সকালে—বিকেলে তফাত হয়ে যায়। ঠিক যে কী, বলতে পারব না। মাংসের গন্ধ কি হাওয়ায়? হ্যাঁ, খুবই সুবাস।

     

     

    ফটাস ফটাস করে বাবা নেমে গেলেন। প্রত্যেকটা ফটাসে যেন এক একটা করে পটকা ফাটছে। বাবাও রোববার দেরি করে ওঠেন। জেঠুর একটু কুণ্ঠিত কাশির শব্দ, কেউ চান করে গেছে, বাথরুমের দরজা বোধহয় খোলা, হুড়হুড় করে একটা ভাল কোনও সাবানের গন্ধ আসছে। ফিনকির উপস্থিতিতেই সেই গন্ধ। ও—ই তবে চান করে এল এইমাত্র।

    আমার মুখোমুখি চেয়ারে বসে ছ্যাঁক করে দুটো চিঠি রাখল আমার সামনে। একটা দেখি এরোগ্রাম, আর একটা লম্বা অফিশিয়্যাল চিঠি।

    —কী ব্যাপার? এগুলো কোথা থেকে? বিদেশে চাকরি পাচ্ছিস? কোথায়?

    —পেলে যেতে দিবি তো?

    আমি ওর দিকে একটু তাকিয়ে থাকি। —কী যে বলিস ফিনকি? তুই চাকরি পেয়েছিস। পাচ্ছিস। নিবি তোর নিজের সিদ্ধান্তে, আমি কেন বাধা দেব?

     

     

    —তোর কথা বলছি না ছোড়দা, ধর মা, বাবা, জেঠু, দিদা।

    —বাবা একটু চেঁচামেচি করতে পারেন। আর কেউ কিচ্ছু বলবেন না।

    —বলবেন না হয়তো। কিন্তু মা মনের কষ্টে গুমরে শেষ হয়ে যাবে। জেঠু খুব অসহায় বোধ করবেন, দিদুও তাই।

    আমি চুপ করে থাকি।

    —ছোড়দা তোরা কারও মনের খবর রাখিস না, না?

    ভেবে দেখলুম সত্যিই রাখি না। যাকে যেমন দেখছি তেমনই মেনে নিয়েছি। না। এমনকী দাদুরও না। মন? মন কোথায় থাকে? পৃথিবীর কোন দুর্গম গুহায়? কত অধ্যবসায় স্বীকার করে তবে সেখানে যাওয়া যায়? খুব তাগিদ না থাকলে সে অধ্যবসায়ও আসে না, গুহায় পৌঁছনোও হয় না। নিজের মনকেও কি খুব ভাল করে জানি আমি? যা কিছু চারপাশে ঘটছে, বাইরে ও ভেতরে সবই যেন এক অন্তহীন জলছবি। টলটল করছে জলে, ঠিকমতো উঠছে না খাতায়, বা কিছু উঠছে কিছু উঠছে না। ডগডগে রং ফিকে হয়ে গেছে অপ্রত্যাশিত ভাবে।

     

     

    —রাগ করলি?

    —না। ভাবছি। তুই যেটা বললি…সত্যিই…আমি কি কোনও কর্তব্যে অবহেলা করেছি! সেটাই…

    ফিনকি এবার ভারী রেগে উঠল—কর্তব্যের কথা কে তোকে বলেছে? আমি কি সে সবে কোনও গাফিলতির কথা বলেছি? কর্তব্য ছাড়া আর কিছুর কথা ভাবতে পারিস না, না?

    —আমি জানি না রে ফিনকি। সত্যিই তুই, তুই—ই কিন্তু সবাইকার একমাত্র আশা।

    যে কথাটা দাদু মৃত্যুর আগে বলেছিলেন, সেটাই আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল।

    —গ্যাস দিচ্ছিস? শোন, আমি দুটো দু—রকমের চাকরি পাচ্ছি। একটা এশিয়াটিক সোসাইটিতে ওদের ইনসক্রিপশন সেকশনে, সংরক্ষণ, ক্যাটালগিং রিসার্চ…সবই। আর দ্বিতীয়টা কানাডায় কাকার কাছে। কী ধরনের চাকরি তা জানি না, যিনি স্ত্রী মারা যেতে দুধের শিশুকে ফেলে চলে যেতে পারেন, বছর না ঘুরতেই বিয়ে করে পগার পার, কোনওদিনও সে মেয়ের খোঁজ নেন না, তিনি হঠাৎ এ রকম দরাজ হয়ে উঠলেন কেন? কী চাকরি…সেটা? তোরা ওঁকে জানাসনি আমি নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে গেছি, আমার আর গার্জেনের দরকার নেই?

     

     

    আমি অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকি।

    ও একটু রাগী হাসি হাসে। —কাকা আমাকে আগেও একটা চিঠি দিয়েছিলেন তাতেই নিজের গুণপনা ব্যক্ত করে ফেলেছেন। এখন লিখছেন আমাকে উচ্চশিক্ষা দেবেন। আমার ভাই বড় হয়ে যাচ্ছে, কাকিমা ওঁকে ছেড়ে গেছেন তো! আবার বিয়ে করেছেন।

    —সে কী? আমার তো জানি মোটর দুর্ঘটনায় উনি আর ওঁর বড় ছেলে মারা গেছে।

    —আমিও তো তেমনই কানাঘুষো শুনেছিলুম। তা উনি যদি নিজে লেখেন কাকিমা ডিভোর্স করে অন্য এক ধনকুবেরকে বিয়ে করেছেন। এক ছেলে তিনি নিয়েছেন, আর এক ছেলে এঁর। তা হলে তো ওঁর এই কথাটাই সত্যি বলে মেনে নিতে হয়।

    আমি বিমূঢ়।

     

     

    —কী বল?

    —কী বলব ফিনকি? স—বই তোর। এ বাড়ি ও বাড়ি। তুই যেখানে যেতে চাস…

    এবারে ফুঁসে উঠল ফিনকি—এত নিষ্ঠুর তুই? একবার মুখ ফুটে বলতে পারছিস না—ফিনকি তুই আমাদের, যাস না, কোথাও যেতে দেব না! ভারী বিবেচক ভদ্রলোক হয়েছিস, না?

    ওর চোখ জলে ভরে উঠছে।

    —শোন শোন। আমি আমরা তোকে যেতে দিতে চাই না, ভুল বুঝিস না। কিন্তু তোর বাবার কাছে যদি তুই যেতে চাস?

    —কে আমার বাবা? রাজকুমার না নবকুমার? কে আমার ভাই, তুই না সেই এঁচড়ে—পক্বটা?

    —শুধু—শুধু কেন গালাগাল দিচ্ছিস, কেন? বেচারা ছেলেটাকে?

    —না রে গোল্লায় গেছে, কাকার চিঠি পড়ে আমি ঠিকই বুঝতে পেরেছি।

    —সে দোষটা পুরোপুরি ওর কি? ব্রোকন ফ্যামিলি…

    —দরদ উথলোচ্ছে যে রে। এবার বলবি না তো আহা তুই দিদি হলি। মা—হারা ছেলেটার জন্যেও যা! বল। কর্তব্য। কর্তব্যটা তো খুব বুঝিস!

    —ঠিক আছে তাই বললে তুই কী বলবি?

    —বলব পৃথিবীতে কত শত ব্রোকন ফ্যামিলি আছে, ছেলেমেয়ে অসহায়, বখে যাচ্ছে। ভেসে যাচ্ছে—অত দায় নেবার সাধ্য কী আমার! …ওহ, আর একটা চিঠিও আছে। তোর। কার যেন বিয়ের কার্ড।

    স্বস্তিকা আঁকা হ্যান্ড—মেড পেপারের একটা শুভভিবাহের কার্ড আমার হাতে দিল ফিনকি।

    সবিনয় নিবেদন,

    আগামী…অমুক তারিখে অমুক লগ্নে আমার জ্যেষ্ঠা কন্যা কল্যাণীয়া দীপার সহিত শ্রীযুক্ত অমলেন্দু ও উষা চক্রবর্তীর একমাত্র পুত্র কল্যাণীয় আঞ্জনেয়র শুভবিবাহ অনুষ্ঠিত হইবে। অনুগ্রহ করিয়া….

    কে রে মেয়েটি?

    —ওই যে আসছে শনিবার যে তিনজন আমাদের বাড়ি আসবে বলেছে, তাদেরই একজন।

    —তোর তো ছেলে—কলিগও আছে। তাদের ডাকলি না তো?

    —আমি এদেরও ডাকিনি ফিনকি, ওরা নিজেরাই…অন্যরা ওদের বড্ড হেকল করত, আমি করতুম না। এই থেকে…

    —যাক তিন থেকে এক কমে গেলে দুই।

    ও কী বলতে চায় আমি বুঝতে পেরেছি। কিন্তু আপাতত আমার মাথায় কিছু মৌমাছি। তাদের তাড়াতে পারছি না। ফিনকির কথার জবাবে কিছুই আমার মুখ দিয়ে বেরোয় না।

    ও বোধহয় ঘাবড়ে যায়। এত ফাজলামি ছোড়দা পছন্দ করছে না,—বলে—কী খাওয়াব ছোড়দা?

    —তুই যা ভাল বুঝিস!

    —বাঃ! আসছে তোর অ্যাডমায়ারার, আর বুঝব আমি?

    —আমি কী—ই বা বুঝি?

    —তার মানে আমার অ্যাডমায়ারার এলেও মেনুটা আমাকেই বানাতে হবে? কী রে?

    ইয়ার্কির উত্তরে পাল্টা ইয়ার্কি করতে পারি না। বলি—তখন দেখা যাবে। এখন যা তো! আমার কয়েকটা ড্রয়িং দেখবার আছে।

    —তুই যেন কেমন! —ফিনকি হাল ছেড়ে দিয়ে চলে যায়।

    কুয়াশাটা বোধহয় কেটে গেছে। জানলা দিয়ে ঘর—ভাসানি রোদ। কিন্তু কুয়াশাটাকে তো কোথাও যেতে হবে! তাই আমার কাছে এসেছে। আমাকে সাত পাকে জড়িয়ে। ঘরটা যেন টং ঘর। কত উঁচুতে? সাত ফুট? আট ফুট? না তার চেয়েও বেশি? মাটির সঙ্গে সম্পর্ক তার কতকগুলো লম্বা লম্বা খুঁটির। কুয়াশা, ভোঁতা শীত, আমি। আমি, ভোঁতা শীত, কুয়াশা। কাজকর্ম? চলছে, যেমন চলে। আমি বুঝেও বুঝতে পারছি না। আমি উঠে দাঁড়াই, আমার কোল থেকে কুয়াশা গড়িয়ে যায়, উঠে দাঁড়ায়, আস্তে আস্তে হেঁটে বইয়ের দিকে যাই। চোখ বুলিয়ে যাই পরপর। —’ডাবল হেলিক্স’ ‘শিওরলি য়ু আর জোকিং মিঃ ফেইনম্যান’ ‘সামার লাইটনিং’, রিলকে। ‘সঞ্চয়িতা’, ‘ছাড়পত্র’, ‘টাইম—মেশিন’, ‘আরণ্যক’, আমার বিষয়ের কিছু বই। সব উল্টেপাল্টে দেখি কোথাও যদি কিছু পাই, যার এই মুহূর্তে আমার কাছে বিশেষ মানে আছে।

    ‘আই লাভ দা ডার্কার আওয়ার্স অব মাই এগজিসটেন্স

    হোয়্যার ইন, অ্যাজ ইন ওল্ড লেটার্স, আই ডিসকভার

    মাই ডেইলি লাইফ অলরেডি লিভড অ্যান্ড ওভার

    অ্যান্ড লাইক সাম লেজেন্ড লস্ট ইন ফার্দেস্ট ডিসট্যান্স…’

    রিলকেরও তা হলে এমন মনে হয়েছিল? বারবার হচ্ছে। যেভাবে বাঁচছি সব বারবার ফিরে আসছে। খুব পুরনো, ‘মাই ডেইলি লাইফ অলরেডি লিভড অ্যান্ড ওভার’। সব অভিজ্ঞতাই সুদূর অতীতের ছেঁড়া পাতা হঠাৎ উড়ে আসছে। উড়ে আসছে যেন নতুন পাতা, নতুন চিঠি। কুড়িয়ে দেখি, ওহ হো! এ তো সেই পুরনো গল্প লোককথায় কথায় যা পৃথিবীময় ছড়িয়ে গেছে। পৃথিবীর পাতায় আমি একটা পুনরাবৃত্তি। অথচ এই অন্ধকারতম অস্তিত্ব কেমন দপদপ করছে। পুনরাবৃত্তি বলে চিনলে কেন এই অন্ধকার? কেন এই দপদপানি?

    তবে? তবে কি আমি দীপাকে এতই ভালবাসি? আর কেউ যে দুঃখবোধ আমাকে দিতে পারেনি, সে পেরেছে! কিন্তু দীপার প্রতি বম্বের সেই রাতের আগে আমি তো সত্যিই কোনও ভালবাসা বোধ করিনি? এখনও, এখনও দীপার অদর্শনে আমার কোনও কষ্ট তো হয় না, দেখা করার জন্য কোনও উদগ্র বাসনা নেই, অন্য সবাইকে জীবনে যেভাবে নিয়েছি, এই বন্ধুটিকেও তাই। কাকে তা হলে ভালবাসা বলে? কেনই বা এই তিমিরবোধ? অপমান? প্রতারণা? আমাকে একজন ঠকিয়েছে সেই লজ্জা, সেই নৈরাশ্য? ব্যস?

    আমি চুপ করে বসে থাকি আর জাগ্রতেই এই বাড়ি ছাপিয়ে আমার চোখে ভেসে ওঠে অন্য এক বাড়ি। বিরাট। ভাঙা ভাঙা গাবদা থাম। আগাছা গজিয়েছে, আস্তর খসে পড়ছে। দূরে সাপের মুখে ব্যাঙের অদ্ভুত চিৎকার। ঢুকতে চাইছি ঢুকতে পারছি না। যে দিকেই যেতে চাই হঠাৎ যেন পা আটকে যায়। শুধু প্রশস্ত উঠোনে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকি ঘরের পর ঘর, ঘরের পর ঘর, সব কার ঢোকবার অপেক্ষায় আছে। অপেক্ষার রুদ্ধ নিশ্বাস টের পাচ্ছি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৈত্রেয় জাতক – বাণী বসু – উপন্যাস
    Next Article রাধানগর – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }