Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সমুদ্র-যাত্রা – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প230 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সমুদ্র-যাত্রা – ১৫

    ১৫

    দেয়ালের ধার ঘেঁষে পিঁপড়ে চলেছে। লম্বা সারি। লাল—পিঁপড়ে। গরম পড়েছে খুব, তাই ওরা বেরিয়ে আসছে। দেয়ালের কোণ বরাবর ওপর দিকেও যতদূর চোখ যায় পিঁপড়ে। কোথাও নিশ্চয় এর একটা আছে, অন্তত। কিন্তু সেটা কই দেখতে পাই না। কোথাও কোনও চিনি, মধু, সন্দেশের গুঁড়ো কিচ্ছু না। তবে খাটটা দেয়ালের ধার থেকে সরিয়ে আনতে হয়। একেবারে মাঝখানে, পাখার তলায়। নইলে পিঁপড়েরা সার বেঁধে বিছানায় উঠে আসবে এবং তখন আমিই ওদের চিনি হয়ে দাঁড়াব। কত লক্ষ যুগ ধরে এই কীটেরা ঠিক এক রকম আছে। একই শৃঙ্খলাবোধ, একই দলবদ্ধতা, একই খাদ্যস্পৃহা, বাড়ি বানবার রীতি। কোনও বিবর্তন হয়নি ওদের। আরশোলাও শুনতে পাই এ রকমই আর এক আদিম সৃষ্টি। ওদের চোখের সামনে দিয়ে কত তুষারযুগ পার হয়ে গেছে। কত মহাজাগতিক বিস্ফোরণ, কত ধবংস, কত সৃষ্টির প্রক্রিয়া অবিরাম চলেছে। এদের তো দেখতে পাচ্ছি। যাদের পাচ্ছি না! কত শত সহস্র ব্যাকটিরিয়া ভাইরাস! ঠিক কীভাবে এই বিপুল প্রাণীময় পৃথিবী চলেছে? কোনও নতুন প্রজাতি সৃষ্টি হচ্ছে না কেন আর? মানুষই কি বিবর্তনের, প্রকৃতির উদ্ভাবনার শেষ ধাপ? আমি কি সেই ধাপের অন্তর্গত? আমার মধ্যে এত প্রতিক্রিয়ার অভাব কেন? এই এক সময়ে ঘুম থেকে ওঠা। প্রাতঃকৃত্য, চা, মধ্যাহ্নভোজন যা ঠিক মধ্যাহ্নে হয় না। এই অফিস যাওয়া, পুলকারে, অভ্যস্ত নিপুণতায় যে বিদ্যা শিখেছি তার প্রয়োগ সারাদিন ধরে, কারও সঙ্গে তেমন আদানপ্রদান নেই, আবার বিকেলে বা সন্ধ্যায় ফিরে আসা, সবার প্রতি যা করণীয় তেমন ব্যবহার করা…এর মধ্যে একটা যান্ত্রিকতা নেই? আমার মা, দিদারা, বাবা এঁদের মধ্যেও, এমনকী আমার প্রবাসী দাদার মধ্যেও একটা যান্ত্রিকতা নেই? না, দাদা নয়। দাদা বোধহয় একটা দুঃসাহসিক অন্যরকম কাজ করেছে, স্বার্থপর কাজ কিন্তু অন্যরকম। জেঠুর ছিল তুমুল প্রতিক্রিয়ার জগৎ। অ—যান্ত্রিক ভাবে ভালবেসেছিলেন, প্রতারিত হওয়া সহ্য করতে পারেননি, দুঃখ, লজ্জা, ক্ষোভ, বিশ্বাসঘাতকতার অপমান—তাই তিনি উন্মাদ হয়ে গেলেন। সেই অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়ার জগৎ থেকে উনি আবার আস্তে আস্তে যান্ত্রিকতায় ফিরে আসছেন। প্রতিক্রিয়াহীনতাই তা হলে যান্ত্রিকতা! ফিনকি কিন্তু যান্ত্রিক নয়। অভ্যস্ত রুটিনের বাইরেও ওর একটা চিন্তাজগৎ আছে। কাকার সম্পর্কে নিঃশব্দে ভাবনা—চিন্তা করে ও একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে ওর একটা আলাদা আলাদা সম্পর্ক। তার বাইরের ফিনকি, স্কুল—কলেজের গবেষণা—ঘরের ফিনকি কেমন সে ব্যাপারে আমরা কোনও ধারণা নেই। কিন্তু আমি আন্দাজ করতে পারি, সেখানেও ও অগতানুগতিক, অযান্ত্রিক। যদি দীপাকে বিয়ে করে ফেলতে পারতুম, তা হলে নিঃসন্দেহে আমার এই প্রতিক্রিয়াহীন যান্ত্রিকতারই বিস্তার হত। মুম্বইয়ের ওই অঘটন বা অতিঘটনের পরেও তো আমি উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠিনি! কোনও রকম উপছে পড়া তো ছিল না আমার মধ্যে! আহার—নিদ্রা—ঔপার্জনিক কর্ম—মৈথুন—এই চক্রে বাঁধা আমি এক মানুষ পিঁপড়ে। তাই, সেটাই বুঝতে পেরে দীপা সরে গেছে, তাকে দোষ দিতে পারি না।

     

    আরও দেখুন
    বাইশে শ্রাবণ
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    বই
    বাংলা সাহিত্য
    লেখকের বই
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    গল্প, কবিতা

     

    মানুষ স্বপ্ন দেখে। কেরিয়ার নিয়ে। বিবাহ নিয়ে, সন্তান নিয়ে। আমি তো কোনওদিন কোনও স্বপ্ন দেখলুম না! আমার কোনও দিবাস্বপ্ন নেই। যা আছে তা রাতের ঘুমে। যখন আমার যান্ত্রিক উপর—চৈতন্য ঘুমিয়ে পড়ে ভেতর থেকে জেগে ওঠে প্রাচীন প্রত্ন বাড়ি সব এবং স্বাধীন এক অস্তিত্বের ছায়া—উড়ান, সে কখনও চার চৌকো ঘর কখনও বাদামি সাপের আয়ত্ত ছাড়িয়ে উড়ে যায়।

    দীপা, দীপা কী অসাধারণ বুদ্ধিমতী তুমি। কীভাবে আমাকে খুঁটিয়ে দেখেছ, বিশ্লেষণ করেছ, না কি এটা বুদ্ধির ব্যাপারই নয়। ইনস্টিংক্ট! বাহবা দীপা, বাহবা। তাই আমার মধ্যে যেটুকু লোভনীয় সেটা নিয়ে আমাকে ফেলে দিয়েছ। ঠিক যেমন বহু মানুষ বহু সুন্দরী মেয়েকে ভোগ করে ফেলে দেয়! আমি সাধারণ বাড়ির মূল্যবোধে বিশ্বাসী ছেলে। আমার ধারণা দৈহিক মিলনের সঙ্গে বিবাহের একটা অবিসংবাদী সম্পর্ক রয়েছে। তাই ধরেই নিয়েছিলুম দীপা ও আমি বিয়ে করব। ভেবে দেখিনি দীপাকে আমার কতটা ভাল লাগবে। তার দৈহিক আকর্ষণটাই বা আমার কতটা গভীর। সে আমার নারী কি না। ভাবিনি, কিন্তু দীপা চমৎকার ভেবেছে। বেশ পরিকল্পনা করে আমার কৌমার্যভঙ্গ করে দীপা এক রাত্রির উন্মাদনা ভেতরে নিয়ে নির্ধারিত পাত্রের গলায় মালা দিতে চলে গেল। তার ভেতরে কোনও দংশন নেই। তার চেয়েও বড় কথা, দংশন আমারও নেই। দীপার অর্থে নয় অবশ্য। প্রথমে বিস্ময় কিছুটা রাগ এসব তো হয়েছিলই। কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি সেটা কাটিয়ে উঠেছি। দীপা নামে একরাত্রির বনিতার জন্যে আমার কোনও বিরহবোধ নেই। প্রত্যাখ্যানে তেমন কোনও জ্বালা নেই। খালি টের পাচ্ছি, আমি একটু অদ্ভুত, যাকে আমি যান্ত্রিক বলছি, তাকেই কি দীপা আনরিয়্যাল বলছে? তুমি কী রকম আনরিয়্যাল সমুদ্র… যে কোনও মুহূর্তে কর্পূরের মতো উবে যেতে পার।

     

    আরও দেখুন
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    বইয়ের
    বাংলা কৌতুক বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বই পড়ুন
    লাইব্রেরি
    Library
    PDF
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন

     

    আমি আনরিয়্যাল কী? চারপাশের জগৎটাকেই তো আমার আনরিয়্যাল লাগে! ক্রমাগত হর্ন বাজাতে বাজাতে ঝড়ের বেগে ট্যাক্সি চলে গেল। কিছু লোক রাস্তা পার হচ্ছে, কেউ দেখে—শুনে, কেউ হাত তুলে গাড়ি থামাতে থামাতে। পুলুর ফোন—’সমু কেমন আছিস রে? আমাদের এখানে কেউ কাজ করে না। খালি ইউনিয়নবাজি, টিকতে পারব কিনা জানি না, সুযোগ পেলেই বাইরে চলে যাব, তুইও চেষ্টা কর।’ সমু বলে একটি ছেলে ছিল। পুলু বলে আর একটি ছেলে ছিল। পুলু খুব বিশ্বস্ত বন্ধু। অনেক সময়েই রক্ষকের ভূমিকা নেয়। সমু? সমু কোনও ভূমিকা নেয় না। তার কোনও উদ্যোগ নেই। পুলু অন্যত্র চাকরি পেয়ে চলে গেল। মাঝে মাঝে তার কথা মনে হতে হতে সমু একদিন পুলুকে একেবারে ভুলে গেল। তখন একদিন জয়ন্তী বলল—পুলককে চেনেন? আমার কাজিন। তাই তো? —অবশ্যই পুলু সমুর ঘনিষ্ঠতম বন্ধু। একদিন পুলু ফোন করল—’সুযোগ পেলেই বাইরে চলে যাব, তুইও চেষ্টা কর।’

    পুরোটাই একটা গল্প। তার খুঁটিনাটি ভুলে গেছি। সেই সমুকে, সেই পুলুকে মনে আছে ঠিক যেমন ভাবে ছোটবেলায় পড়া গল্পের অনুভূতিটা মনে থাকে, আবছা—আবছা। আবার পড়তে গেলে সেরকম ভাল লাগে না আর।

    জেঠু খুক খুক করে সন্তর্পণে কাশছেন, কোনও গল্পের জেঠু। মা, বাবাকে খেতে দিয়েছেন। সমু ঢুকছে। মা মুখ তুলে না তাকিয়েই বললেন—বসো সমু, ডালটা সম্বরা দিতে বাকি। —একটা ছবি, ভিডিয়োতে তুলেছি কোনও সময়ে, দেখছি আবার। অ্যামবাসাডারের সামনের সিটে অনিন্দ্য, পেছনে জয়ন্তী, আমি ঢুকে যাচ্ছি। ঠ্যালাগাড়ি লোহার বোঝা চাপানো—লোহার রড। এগুলো আমাদের দরকার হয়, সামনে দুজন পেছনে দুজন ঘামে চুপচুপ হয়ে টানছে, পেছনে এসে ধাক্কা মারে। শুয়োরের মতো মুণ্ডু নিচু করে একটা নির্দিষ্ট গতিতে আসছিল, টাল সামলাতে পারেনি। ড্রাইভার নেমে যাচ্ছে। প্রচণ্ড হুঙ্কার দিচ্ছে। গাড়ির সাইডটা টাল খেয়ে গেছে। অনিন্দ্য নেমে দাঁড়ায়—’আঃ সুদর্শন। ছাড়ো, দেরি হয়ে যাচ্ছে।’

     

    আরও দেখুন
    Books
    গ্রন্থাগার
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    ডিজিটাল বই
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    স্বাস্থ্য টিপস
    বই ডাউনলোড
    গল্প, কবিতা

     

    ঘোঁৎ ঘোঁৎ করতে করতে ঢোকে সুদর্শন—জানেন না সার, মারুতি হলে সাইড ফুটো হয়ে যেত। মেমসাহেবের গায়ে সোজা এসে ফুঁড়ে যেত…নেহাত…গোঁ—ও—ও করে স্টিয়ারিং ঘোরায় সুদর্শন যেন ম্যাটাডরের হাতের লাল কাপড় দেখা খ্যাপা মোষ শিং বাঁকিয়ে ছুটে যাচ্ছে।

    আমি মৃদু হেসে বলি—জয়ন্তি আজ খুব বেঁচে গেলে কিন্তু।

    —ঠাট্টা নয় সমুদ্র, সত্যি! মৃত্যুর থেকে মোটে আড়াই ইঞ্চি দূরে।

    —রিয়্যালি, আজ জয়ন্তীর একটা ফাঁড়া গেল। অনিন্দ্য বলল, তবে তোমারও স্বস্তিতে থাকবার কিছু নেই সমুদ্র! ভেবে দেখ ঠিক কী ছিল মোমেন্টামটা, গাড়ির খোলটার রেজিস্ট্যান্স কতটা, ব্যাটা জয়ন্তীকে ফুঁড়ে তোমার দিকে এগোত, না ওকে জাস্ট একটা ঝটকা মেরে তোমার দিকে এগোত…কষে না ফেললে তা বোঝা যাবে না?

    যতীন্দ্রমোহন থেকে সেন্ট্রাল অ্যাভেনিউ পার হয়ে আমরা এসপ্ল্যানেড ঢুকে যাই। কে যেন কোথাও থেকে বলেছিল ‘অ্যাকশন রিপ্লে’, এখন বলল—’কাট’। সারা দিন ধরে কাজে, অকাজে, অফিসে, বাইরে, একা, সহকর্মীদের সঙ্গে, ক্যান্টিনে, ইউরিন্যালে…দুঃশ্রাব্য কণ্ঠ নিচু স্বরগ্রামে অমোঘ স্বরস্থাপনা করে যায়—’অ্যাকশন’, অ্যাকশন রিপ্লে’ ‘কাট’—’ওভার।’

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    গল্প, কবিতা
    Library
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    কৌতুক সংগ্রহ
    স্বাস্থ্য টিপস
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    Books
    বইয়ের তালিকা
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি

     

    ‘মৃত্যুর থেকে আড়াই ইঞ্চি দূরে’—এই শব্দযূথ আমার মাথা থেকে কিছুতেই যেতে চায় না। সারাদিন ঘুরে ফিরে কথাগুলোর সঙ্গে আমার দেখা হয়ে যায়। এমন ভাবে আচ্ছন্ন হয়ে যাই যে ক্যান্টিনে বেয়ারাকে আর একটু হলে বলে ফেলেছিলুম, ফিসফিস করে।

    শিবেন বলল—কী বললেন সার, আড়াই ইঞ্চি দূরে?…

    —উঁহু, —আমি সজোরে মাথা নাড়ি, আড়াই ইঞ্চি পুরু বুঝলে? ওমলেটটা করবে আড়াই ইঞ্চি পুরু।

    —সে আবার হয় না কি সার? চার পাঁচটা ডিম দিয়ে সে যে একটা ছোট মতো যাচ্ছেতাই হবে…

    —আহা হা, তোমরা ময়দা দিয়ে ডিম দিয়ে কী যে একটা করো না?

    —ও, মোগালাই পরোটার কথা বলছেন? তাই বলুন সার, ওপরে কিমা দেব তো!

    —হ্যাঁ, হ্যাঁ, এই তো বুঝেছ…আমি ওকে ভাগাই।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    ই-বই পড়ুন
    গল্প, কবিতা
    বইয়ের তালিকা
    Library
    অনলাইনে বই
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা বই
    বাংলা সাহিত্য
    PDF বই

     

    —হঠাৎ আজ তোমার মোগলাই পরোটার শখ?—পাশের টেবিল থেকে সুমিত বলল।

    —হল…আমি প্রশ্নটাকে ওইখানেই থামিয়ে দিই। ওই যে বললুম কারও সঙ্গে আমার ঠিক জমে না। শুধু শুধু বেকার কথা কতকগুলো…আসে না। মোগলাই পরোটার সুতো ধরে অনেক দূর যাওয়া যেত। সুমিত তো অনায়াসে পারত। তৈরি হয়েই ছিল। ক্যান্টিনের রান্নার কোয়ালিটি। অফিসার গ্রেডের জন্যেই বা একটা সার্টন পার্সেন্টেজ সাবসিডি থাকবে না কেন? সেটা কি আমাদের পার্কস—এর অন্তর্গত হওয়া উচিত নয়?…এর থেকে মোগলাই কোথায় কোথায় ভাল করে, কোন রেস্তরাঁয় আলাদা করে মোগলাই ঘর খুলছে…এই মতো এক শব্দ—শৃঙ্খল, অবসর কাটানোর, শুধু সময় কাটানোর একটা খেলার মতো। এ একটা বলল, ও আর একটা যোগ করল। সে একটা…যে কোনও প্রসঙ্গ ধরে চলতে পারে এই খেলা—মোগলাই কুইজিন, অসুখ, মোজা, ফিলম, এন্টার দ্যা ড্রাগন, এম্পারার…ডাক্তার, নারী, লায়েবিলিটি, ভ্রমণ, ট্রাম—বাস, রাজনীতি, যুদ্ধ, পারমাণবিক অস্ত্র। যে কোনও, যে কোনও বিন্দু থেকে এক অনন্ত শব্দঘর তৈরি হতে পারে, হয়ে চলেছে অবিরাম। গমগম করছে পৃথিবীর প্রতিটি কোণ এই রকম নানান অপ্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গে। হয়তো অপ্রাসঙ্গিকও নয়। আসলে খুব দায়িত্বহীন লঘু জল্পনা, শব্দ থেকে শব্দে বয়ে যাচ্ছে শুধু। কোনও সিদ্ধান্ত বা সমাধানের ঘাটে ভিড়ছে না।

     

    আরও দেখুন
    কৌতুক সংগ্রহ
    লাইব্রেরি
    বাংলা সাহিত্য
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বুক শেল্ফ
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    অনলাইন বুকস্টোর
    স্বাস্থ্য টিপস
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি

     

    কে যেন বলে ওঠে জীবনটা তো শুধু সিদ্ধান্ত নয়। সমাধানও নয়। সমাধান হলে তো হয়েই গেল। সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারলে তো মন—মগজের আর কোনও কাজ থাকে না।

    —তাহ হলে কী? তা হলে কী?

    —তাই এই টেবিল। চারপাশে চেয়ার। উৎসাহী মুখ, তাই—ই এই শব্দযোগ। এ কোনওদিন শেষ হবে না। এটাই মজা এ খেলার।

    —অর্থহীন মনে হয় যে! আধ—পাগলের সিকি—পাগলের প্রলাপ।

    —অর্থ নেই। মানে নেই, শেষ মানে কে বলবে? অথচ বেঁচে থাকতে হলে, ভাবতে হয় মানে আছে। শব্দ শুধু শব্দ নয়, তার পেছনে মানে, তার পেছনে আইডিয়া। এমন একটা মোহচক্র তৈরি করতে পারাই বেঁচে থাকা।

    ক্রমাগত তারিখ পেছোতে পেছোতে শেষ পর্যন্ত আজ ত্রিমূর্তি—সৃষ্টি, স্থিতি, প্রলয় অর্থাৎ জয়ন্তী, মুকুলিকা ও দীপা আমাদের বাড়ি এসেছে। মেয়ে বলতে এতদিন আমি কয়েকটা রকম বুঝতাম। মা—রকম বোন—রকম সহকর্মী—রকম আর যৌনটান—রকম। তাই কোনওদিন তাঁদের দিকে ভাল করে তাকাইনি। কেন না মা একটা বলয়, তেল—হলুদ—ধনে—জিরে—সাবান—সিঁদুর, মৌন নম্রতা যাকে ইদানীং আর নম্রতা নয় উদাসীনতা বলে মনে হয়। বোন অবশ্য, বিশেষ করে আমার বোন, ঠিক শুধু একটা বলয় নয়। সে সমকেন্দ্রিক বৃত্তের মতো। মধ্যবিন্দুতে সেখানে ভালবাসা, যেখানে বিশ্বস্ততা সেখানে ঠিক আছে। কিন্তু তার বাইরে যে তরঙ্গ ক্রমাগত বিস্তৃত হয়ে যাচ্ছে তার সবটা আমি চিনি না। তবু জানি এইখানে একটা অনুকূল হাওয়া বয়, সারা দিন—রাত, ইচ্ছে করলেই সেই হাওয়ায় আমি স্নান করতে পারি। আমি ইচ্ছে করি না যখন—তখন। কিন্তু ফিনকি এখনও পর্যন্ত আছে। জয়ন্তীরা এতদিন ঠিক অনিন্দ্যদের মতোই ছিল, কেবল মেয়ে বলে তাদের সঙ্গে একটু বেশি সৌজন্য, বেশি দূরত্ব ছিল, দূরত্ব তো সবার সঙ্গেই। সৌজন্যেরও কোনও কমতি নেই। তবু জয়ন্তীরা লেডিজ সিট, লেডিজ ফার্স্ট। আর যৌন—টানটা ছিল নারী—নিরপেক্ষ। এক সময়ে, এখনও মাঝে মাঝে নিজের ভেতর থেকেই সেই টান অনুভব করি। ঠিক অন্য দৈহিক টানগুলোর মতো। মেয়েদের সংস্পর্শে যে যৌনতা জাগে তার সম্পর্কে আমি খুব সতর্ক। সেই চুম্বক কোথাও টান মারছে বুঝলেই আমি সরে যাই। দীপা আমাকে নারীস্পর্শের সম্মোহনের কথা দারুণ চিনিয়ে দিয়েছে। তাই আমি আর একটু চক্ষুষ্মান হয়েছি। ব্যক্তিস্বরূপিণী নারী কে কী সে সম্পর্কে আমি আর অত অবোধ অত অন্ধ নেই। তাই—ই বললাম সৃষ্টি, স্থিতি, প্রলয়।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    স্বাস্থ্য টিপস
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    ডিজিটাল বই

     

    জয়ন্তী সব সময়ে আগে এগিয়ে আসে। তার সমস্ত ধরনের মধ্যে একটা সরল আহ্বান আছে যা এক ভারহীন সম্পর্ক তৈরি করে। —আপনি পুলককে চেনেন? —আমার কাজিন… ওর কাছ থেকে আপনার কথা কত শুনেছি।… একদিন আপনাদের বাড়ি নিয়ে যাবেন… উঁহুহু বলে নয়…না বলে…ফিনকি কে?…ঠিক আছে ওকে, শুধু ওকে…এই রকম আধা—অন্তরঙ্গ কথায় জয়ন্তীর উপস্থিতি। ফর্সা, একটু মোঙ্গলীয় ধরনের চাপা মুখ। বুদ্ধির তীক্ষ্নতা চোখের বাঁকে, নাকের টানে। মুকুলিকাকে আমি আগে কোনওদিন দেখিনি ভাল করে, কেন না ও খুব চুপচাপ, নিজেকে লুকিয়ে রাখে। খুব হালকা রঙের শাড়ি পরে, প্রসাধন করে না, রং উজ্জ্বল কিন্তু ফর্সা নয়, ওর চুল কাঁধের একটু নীচে পর্যন্ত ঢেউ খেলানো। একটা ক্লিপ দিয়ে আটকে রাখে। মুখটা একটুও ভাল মানুষ ভাল মানুষ নয়। অথচ আন্তরিক। ও কিন্তু সোজা মুখের দিকে চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলে। যেন কিছু বলতে চায়। বলবার আছে। কিন্তু বলবে না। নিজের ভেতরে রেখে দেবে। না বলা কথার রহস্য মুকুলিকাকে কী রকম দুর্বোধ্য করে রেখে দিয়েছে। দীপা আজ এসেছে মোহিনী বেশে নয় একেবারেই। তার ছোট চুল একটু বড় হয়েছে বুঝি বা। চৌকো গড়নের মুখে স্মার্টনেস খেলা করে বেড়াচ্ছে, সাদা শাড়ি পরেছে একটা। তাতে ওকে খুব অধ্যাপক—অধ্যাপক লাগছে দেখতে।

     

    আরও দেখুন
    লাইব্রেরি
    বইয়ের
    অনলাইনে বই
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    বাইশে শ্রাবণ
    বাংলা অডিওবুক
    গ্রন্থাগার
    বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    Library

     

    জয়ন্তী বলল—জানেন তো মাসিমা, পুলু যে আমাকে সমুদ্রর কথা কত বলেছে! কত বলেছে! এক অফিসে কাজ করবি তো, দেখবি কী ম্যাচিওর, সব ঠিক করে দেবে।

    মা মৃদু হাসলেন—কী ঠিক করে দেবে? ঠিক করে দেবার কী আছে!

    —বাইরে তো আর বেরোননি মাসিমা, কর্মক্ষেত্র যে একটা কী জিনিস। —দীপা বলল।

    —তা সমু সব ঠিক করে দিয়েছে? মা মুকুলিকার দিকে তাকিয়ে বললেন। ও শুধু হাসল। সে হাসির অনেক রকম মানে হতে পারে। হয়তো বলতে চায়। —হ্যাঁ সব ঠিক করে দিয়েছে। হয়তো বলতে চায়—ঠিক করে দেবে? অত সহজ? আবার হয়তো কোনও মতামত দিতে চায় না। কোনটা আমি বুঝতে পারিনি।

    মা বললেন—হ্যাঁ আমার ছেলে খুব করিৎকর্মা।

    এই প্রথম আমি মায়ের মুখে কোনও বিশেষণ, আমার কোনও বর্ণনা শুনলাম। ‘আমার ছেলে’টুকু প্রথমে একটা তীব্রতায় এসে আছড়ে পড়ল আমার বেলাভূমিতে। তাই তো! মা তা হলে জানেন, স্বীকার করেন আমি মায়ের ছেলে? ‘আমার ছেলে’ না বলে তো ‘ও’ বলতে পারতেন, ‘সমু’ বলতে পারতেন, তা হলে আমার কিছুই মনে হত না। কিন্তু ‘আমার ছেলে’ বলার মধ্যে একটা মালিকানার স্বীকৃতি এমনকী অহঙ্কার আছে সেটা একটু পরে আরও স্পষ্ট হয়—’করিৎকর্মা’। এই বিশেষণটা আমার সম্পর্কে আদৌ প্রযোজ্য তা কখনও মনে করিনি তো? কোনও হীনম্মন্যতা আমার নেই। কিন্তু আমি একটা করিৎকর্মা মানুষ। মানে অনেক কিছু চটপট পারি? কী—ই বা পেয়েছি আমি কতকগুলো রুটিন কাজ ছাড়া? কীই বা পারতে চাই?

     

    আরও দেখুন
    ডিকশনারি
    অনলাইনে বই
    লাইব্রেরি
    Library
    PDF বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    নতুন বই
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বইয়ের তালিকা

     

    দীপা বলল—সেটা কিন্তু আমরা প্রথম—প্রথম একেবারেই বুঝতে পারিনি। হি নেভার শোজ অফ। কিন্তু কাজের সময়ে দেখি জাস্ট দু—চারটে কথা দিয়ে সব ঠান্ডা করে দিল।

    ফিনকি চোখ বড় বড় করে বলল, ঠান্ডা করে দিয়েছিস? ছোড়দা? তেড়ে মেরে ডাণ্ডা, না কি?

    সেটাই তো—জয়ন্তী হাসল—সমুদ্রকে ডাণ্ডা ধরতে হয় না। ওই যে দীপা বলল জাস্ট দু—চারটে কথা!

    —তা—ও উঁচু গলায় না, রেগেমেগেও না, এতক্ষণে মুকুলিকা বলল। এই মেয়েটিও তা হলে সব লক্ষ করেছে! আমি রাগি না, উঁচু গলায় কথা বলি না। ইত্যাদি ইত্যাদি।

    —তাই তো আমরা বলাবলি করি—দীপা বলল—একজন ডিপ্লোম্যাট হবার সব গুণ আছে সমুদ্রর। কী? কিছু বলো সমুদ্র? আমরা এত কিছু বললাম।

    আমি মৃদু হেসে শুধু বলি—’তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারই দান, গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।’

     

    আরও দেখুন
    অনলাইনে বই
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বাংলা বই
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    বাইশে শ্রাবণ
    বাংলা কৌতুক বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    গ্রন্থাগার

     

    দীপার মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। রংটা ফর্সা বলে ফ্যাকাশে হওয়াটা চট করে সবাই বুঝতে পারবে না। কিন্তু ওর মুখ—চোখ, কথা—বলা, চলন সবকিছুর মধ্যেই একটা উচ্ছ্বাস, সজীবতা আছে। সেটাই নিভে গেল। তবে সে—ও ডিপ্লোম্যাট কম নয়। মাথা ঝাঁকিয়ে বলল—বাপ রে কতক্ষণ ধরে আর এই তেলানো চলবে তোদের জয়ন্তী! মাসিমা স্যরি। একেবারে কবিতা—টবিতা, সেন্টিমেন্টালিটির চরম। চলো চুমকি তোমাদের বাড়িটা খুব ইন্টারেস্টিং। তুমি কোন ঘরে থাক, চলো দেখে আসি।

    —চুমকি নয়, ফিনকি।

    —এমা, স্যরি ভাই।

    —স্যরি হয়ে আর কী করবে! এই ভুল অনেকেই করে। আমার গা সওয়া হয়ে গেছে। চলো, দেখবে তো! ছোড়দা তোর বন্ধু, তুইও আয়।

    ফিনকি ওদের নিয়ে এগিয়ে যায়। আমি মায়ের দিকে চাই—কিছু আনব টানব? শিঙাড়া কচুরি মিষ্টি…

     

    আরও দেখুন
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বই ডাউনলোড
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বুক শেল্ফ
    PDF
    নতুন বই
    পিডিএফ
    বাংলা কৌতুক বই

     

    —না, ফিনি তো খুব কষেটষে মাংস রাঁধল। আমাকে বলে গেল লুচি করতে। আমি রান্নাঘরে যাই। তুমি ওপরে যাও। —যাবার সময়ে মা বলে গেলেন—মেয়েগুলি বেশ।

    আমার দিকে বিশেষ ভাবে তাকালেন না। অথচ কথাগুলোর মধ্যে কোথাও একটা বিশেষ সুর আছে। মা যেন তাঁর সম্মতি জানাচ্ছেন। হ্যাঁ ঠিক আছে। গো অ্যাহেড।

    আমাদের এই সব পুরনো বাড়ির এই রকমের সেকেলে ধাঁচ। বাড়িতে কোনও মেয়ের আগমন হলেই এঁরা ভাবেন, এটা বিয়ের জন্য দেখতে আসা, দেখাতে আসা। চাপা বিরক্তিতে আমার গা গুলিয়ে ওঠে। সেই কোন কাল থেকে মেয়েদের সঙ্গে ক্লাস করছি, ওয়ার্কশপ করছি, এখন চাকরি করছি। মেয়ে—বন্ধু মানেই প্রেমিকা এই বস্তাপচা ধারণাটার বাইরে আমাদের অন্দরমহল কিছুতেই আর ভাবতে পারল না। অন্তত পঞ্চাশ বছর পিছিয়ে এখনও। আমি বেরিয়ে যাই। কাছাকাছি এক বিখ্যাত দোকান থেকে দু’রকম মিষ্টি কিনি, এই সন্দেশগুলো খেতে খুব ভাল। ভেতরে বাদামের পুর দেওয়া, ওপরে গোলাপ গন্ধ। আর লেডিকেনি এরা করে একেবারে বিয়েবাড়ির ভিয়েনের মতো। মিষ্টিগুলো মায়ের কাছে জমা দিই। মাকে বলি—একটা প্লেটে কিছু মিষ্টি দিতে। জেঠুকে দেব। উনি মিষ্টি খেতে খুব ভালবাসেন।

    মিষ্টি নিয়ে জেঠুর ঘরে ঢুকছি, পাশের ঘর থেকে ঝনঝনে হাসির ঝঙ্কার এসে কানে লাগল।

    আমাকে দেখে জেঠু ভিতু খরগোশের মতো মুখ তুলে বললেন—কে সমু। কে, ওরা কে?

    —ওরা তিনটি মেয়ে জেঠু, আমার কলিগ। জাস্ট বেড়াতে এসেছে।

    —ফিনকির মতো?

    —হ্যাঁ। আর একটু বড় হবে। আপনার জন্যে মিষ্টি নিয়ে এসেছি। খেয়ে নিন।

    —খুব মাংসের গন্ধ পাচ্ছি।

    —হ্যাঁ। রাতে খাবেন। লুচি দিয়ে।

    —না, না রুটি। গ্যাস ভাল না। আমার গ্যাস হয়। সমু, ওঁদের সঙ্গে আমার আলাপ করিয়ে দেবে না?

    —আপনি করে বলছেন কেন? ওরা আপনার মেয়ের মতো।

    —তবু…

    —তবু নয়, আপনার মতো বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ আপনি—আপনি করলে কারও ভাল লাগবে না।

    উনি আমার মুখের দিকে ব্ল্যাঙ্ক চেয়ে রইলেন। কিছুক্ষণ। তারপর জানলার দিকে তাকিয়ে বললেন,

    —ওখানে কোনও মেয়ে ছিল না, জানো। রাঁধুনি না, ঝি না, নার্স না, সব ধুম্বো ধুম্বো ব্যাটাছেলে। কী বলব আমার দম আটকে আসত সমু। একেবারে রিভোল্ট করত মনটা…

    —আরে এখানে?…

    মুখটা আস্তে আস্তে নরম হয়ে এল—এখানে মা আছেন, মেয়ে আছে, ঠাকুমা আছেন, আহ—কী শান্তি! কী শান্তি! আমি বড় শান্তিতে ঘুমোই সমু।

    কী বলতে চাইলেন জেঠু। মেয়ে থেকে ওঁর আর ভয় নেই? পুরনো বিশ্বাসাঘাতের জ্বালা জুড়িয়ে গেছে? উনি কি এখন মেয়েদের প্রকৃত মূল্য, মানুষের জীবনে কোথায় তাদের স্থান—তা উপলব্ধি করেছেন? কে জানে? তবে আমার সামান্য একটু দ্বিধা ছিল সেটা কেটে গেল। যদিও ওঁর কথা আমি পুরোপুরি বুঝেছি বললে ভুল হবে।

    হইচই করতে করতেই ওরা ফিনকির সঙ্গে এ ঘরে এল। জেঠু তখনও তাঁর লেডিকেনি শেষ করেননি।

    চট করে উঠে উনি হাতজোড় করে নমস্কার করলেন। হাত থেকে স্টিলের রেকাবি আর চামচ ঝনঝন করে পড়ে গেল। আধখানা লেডিকেনিও।

    —এমা! ও জেঠু এ কী করলেন? নমস্কার করতে আপনাকে কে বলেছিল? কলকল করে উঠল জয়ন্তী।

    —ছি ছি, ফিনি দাঁড়াও মা আমি তুলে দিচ্ছি। —ফিনকিকে কিছুতেই তুলতে দিলেন না ওগুলো।

    —খালি অপাট। খালি অপাট—তোমার নমস্কার আগে না লেডিকেনি আগে? কৌতুকের স্বরে ফিনকি বলল, ঝটিতি একটা ন্যাতা নিয়ে এসে মুছে নিল লেডিকেনির রস।

    ওরা তিনজনে নিচু হতেই জেঠু কাঠের পুতুলের মতো হাতজোড় করে চোখ বুজিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। এ রকম একটা গরুড়ের স্ট্যাচু যেন আমি কোথায় দেখেছি।

    জেঠুর ঘরে বসে, দাঁড়িয়ে ওরা অন্তত মিনিট দশেক গল্প করল। দেয়ালে সাঁটা বোর্ডের ওপর ফর্মুলাগুলো দেখল। তারপর চলে আসতে আমি বাঁচলুম।

    লুচি—মাংস—মিষ্টি ইত্যাদি চেটেপুটে খেয়ে একেবারে বিদায় হতে আমি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলি।

    —ওফফফ।

    —তুই তো এত ভিতু অধৈর্য ছিলি না ছোড়দা!

    —তাই বলে বাড়ি এসে ঘরে ঘরে ঢুকে ইন্সপেক্ট করবে? চলো তোমার ঘরটা দেখে আসি। এনক্রোচমেন্ট নয়?

    —তোর ঘরটা কিন্তু দেখাইনি। বন্ধ করা ছিল। বাইরে থেকে ছিটকিনি দেওয়া আমি খুলিনি।

    —কেন? বলেনি ‘সমুদ্রের ঘরটা দেখব!’ মুখে তো কিছুই আটকায় না! আমি যদি ওদের কারও বাড়ি গিয়ে এর ঘর ওর ঘর দেখতে চাই, শোভন হবে!

    লুটিয়ে লুটিয়ে হাসতে লাগল ফিনকি। তারপরে চোখে হাসির জল নিয়ে মুখ তুলে বলল—তুই রাগ করছিস, দিস ইজ গুড।

    কেন কী বৃত্তান্ত আমি আর জিজ্ঞেস করিনি। তখন থেকে অফিসের পোশাক পরে আছি। ওদের যার যার বাসে তুলে দিয়ে তবে মুক্তি। চান করি। পাজামা—পাঞ্জাবি চাপাই। বেশ শীত পড়েছে, কিন্তু এমনই আমার অভ্যেস। দরজাটা তখনও খুলি না। কেন না ফিনকি নিশ্চয়ই কৌতূহলে বেলুন হয়ে রয়েছে। আমার বেরনোর যা অপেক্ষা। জানলাগুলো শেষ দুপুরের দিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়, মশার জন্য। এখন সন্ধে উতরে গেছে। আমি জানলা দুটো খুলে দিই। আমার জানলার বাইরে কুড়ি ফুট মতো রাস্তা। তার ওদিকে দোতলা বাড়ি—সামন্তদের। বহুদিন আমাদের প্রতিবেশী। পুলুদের বাড়ি এখান থেকে দেখতে পাওয়া যায় না। শীত মানেই ভারী বাতাস, ধোঁয়া—মেশা, ময়লাটে। এই ময়লাটে হাওয়া ভেদ করে আকাশের আসল মুখ দেখতে পাওয়া যায় না। এ যেন অস্বচ্ছ পর্দার ওপারে কোনও পর্দানশিনের মুখ, উৎসুক হয়ে যাত্রা দেখতে বসেছে। দেখা যায় না। দেখতে খারাপ লাগে। এত বিকৃতি। তবু ওই দিকেই তাকিয়ে থাকি, মনে প্রশ্ন নিয়ে, অস্বস্তি নিয়ে আর কোন দিকেই বা আমরা তাকাতে পারি!

    জয়ন্তীকে প্রথম তুলে দিই বাসে, বন্ধুদের দিকে চেয়ে খুব অর্থপূর্ণ হাসি হেসে ও বাসের হ্যান্ডেল ধরে উঠে গেল। শীত বলেই বোধহয় তেমন ভিড় নেই।

    মুকুলিকা লাল চাদরটা ভাল করে জড়িয়ে নিল—আস্তে করে বলল—আপনি কি লাকি! বাড়ির লোকেরা সবাই কী ভাল! শুধু আপনার বাবাকে দেখা হল না।

    আমি ঘড়ির দিকে তাকাই—আটটা বাজে, আর ঘণ্টাখানেক টেনে থাকতে পারলে শুনতে পেতে!

    —শুনতে পেতুম? কী?

    —আমার বাবার আগমন বা আবির্ভাব যাই বলো।

    —দেখা নয়? শোনা? —দীপা বলল।

    —শোনাও শুধু নয়, টের পাওয়া যাকে বলে।

    দুজনে দুরকম স্বরে হেসে উঠল।

    —তা হলে তো উনি তোমার মতো নয়।

    —না, উনি বাড়ির সবার প্রাণশক্তি একাই ধারণ করেন।

    —ইন্টারেস্টিং—দীপার উক্তি।

    আমি বলি—তোমার দেখাশোনার সবটাই কি ইন্টারেস্টিং আর আন—ইন্টারেস্টিং—এ বিভক্ত?

    তাকাইনি তবু বুঝতে পারছি মুকুলিকা মিটি মিটি হাসছে।

    —তোমার জীবনের সবটাই যেমন কর্তব্যে আর অকর্তব্যে বিভক্ত।

    আমি উত্তর দিতে যাই না আর। কেন না এ তো স্পষ্ট ও জিততে চায়। যা চায় তা ওকে পেতেই হবে। আমাকে চেয়েছিল, পেয়েছে। এখন কথার খেলায় জিততে চাইছে। জিতুক।

    মুকুলিকার বাস এসে গেল, ও থাকে উল্টোডাঙার দিকে, সল্টলেকের মুখে।

    —তুমি একটা ট্যাক্সি নিলে পার—আমি দীপাকে বলি।

    —ওহ, আর একটুও আমাকে সহ্য করতে পারছ না, না? ঝাঁঝিয়ে উঠল দীপা।

    আমি জবাব দিই না। ওর অভিযোগ হোক, অনুযোগ হোক সেটা তো সত্যিই! আমি কি বলব? —ঠিক বলেছ দীপা, তুমি বড় আনইন্টারেস্টিং।

    বলা যায় না। এ ধরনের অভদ্রতা, ঝগড়া—কাজিয়া আমার চরিত্রে নেই।

    —মৌন মানেই সম্মতি। ঠিক আছে আমাকে সইতে পারছ না। ইটস ন্যাচার‍্যাল। যাই হোক, তোমার জেঠু একটু…মানে বই—টইগুলো দেখছিলাম—খুব পণ্ডিত লোক মনে হল, বিয়ে করেননি কেন?

    আমি ধীর গলায় বলি—দীপা, যে বাড়িতে তোমার আসার কথা ছিল, অথচ আসনি, সে বাড়ির সব কথায় তোমার এত কৌতূহল কেন? এটা ঠিক নয়।

    ও একটু চুপ করে থাকে। তারপর বলে—স্যরি। কৌতূহল নয়। আমার কেমন মনে হল উনি খানিকটা তোমার মতো। চেহারায়, স্বভাবে। তাই—

    —হতেই পারে। বাড়ির একজনের সঙ্গে আর একজনের চেহারার, স্বভাবের মিল থাকতেই পারে। কিন্তু তাতে কী? আমার সম্পর্কে জানার প্রয়োজন তো তোমার ফুরিয়ে গেছে। আমার জেঠু আমার মতো না আমার কাকু আমার মতো এ খবরে তোমার কাজ কী!

    রাস্তার আলো ওর মুখের ওপর দিয়ে যাওয়া—আসা করছে। আমি বুঝতে পারছি ও আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি নিবিষ্টমনে টু বি বাসের আসার পথের দিকে চেয়ে আছি।

    —সমুদ্র। প্লিজ ডোন্ট মাইন্ড। আমার জন্যে না, আমি জয়ন্তী আর মুকুলের জন্যে খোঁজখবর করছিলাম। ওরা দুজনেই তোমাকে দারুণ পছন্দ করে। তুমি বয়স বাড়লে কীরকম হবে…

    এইবারে আমার ধৈর্যভঙ্গ হয়। আমি বুঝতে পারি আমার মাথা দিয়ে চিড়িক বিজলি হেনে যাচ্ছে ক্রোধ। আমার তা হলে ক্রোধ আছে!

    বলি—তুমি তা হলে একদিকে আমার আর আর একদিকে তোমার দুই বান্ধবীর গতি করতে চাইছ। তুমিই আমার, আমাদের ভাগ্যনিয়ন্তা! স্পর্ধা বটে! তবে শোনো, আমার জেঠু যে রকম ব্রিলিয়ান্ট ছিলেন তাঁর ধারে কাছে আমরা কেউ নেই। কিন্তু তিনি আমার ধাতুতে গড়া ছিলেন না। একটি মেয়ে প্রেমের ভান করে তাঁকে রাম ঠকান ঠকায়, তিনি উন্মাদ হয়ে যান। ভায়োলেন্ট। দীর্ঘ আঠারো বিশ বছর তিনি অ্যাসাইলামে ছিলেন। মানে পাগলা গারদ। প্রাইভেট। সম্প্রতি আমি নিয়ে এসেছি। তোমার বন্ধুদের সুযোগ—সুবিধে মতো এই ভেতরের কথাটা জানিয়ে দিয়ো। নাউ, গেট ইনটু দিস ট্যাক্সি।

    আমি একটা ট্যাক্সিকে দাঁড় করাই।

    —দেশপ্রিয় পার্ক ভাই, ঠিক সে লে যানা।

    ট্যাক্সি ছাড়বার আগেই আমি ছেড়ে যাই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৈত্রেয় জাতক – বাণী বসু – উপন্যাস
    Next Article রাধানগর – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }