Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সমুদ্র-যাত্রা – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প230 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সমুদ্র-যাত্রা – ১৬

    ১৬

    আমি কি নারীবিদ্বেষী হয়ে যাচ্ছি? কিংবা হয়েই জন্মেছি! আমার মা’র সঙ্গেও তো আমার সম্পর্ক হয়নি! সেটা কার দোষ, মায়ের না আমার? নাকি পরিস্থিতির? কোনও মেয়েকে আজ পর্যন্ত আমি চাইনি। কেন? এ কি সেই তরুণ বয়সে কুৎসিত উলঙ্গ বেশ্যাকে দেখার ফল? যা সুন্দর, যা স্বাভাবিক, সৃষ্টির প্রথম যে শর্ত আমাদের শরীর জুড়ে রয়েছে তাকে বিকৃত উৎকট চেহারায় দেখাল আমার নিয়তি। অথচ, আমার সহপাঠীদের তো কিছু হল না! তারা প্রথম যৌবনের কৌতূহল ও প্রবৃত্তি মেটাতে বেশ্যাসঙ্গ করল, তারপর একদিন কোনও মেয়েকে ভালবেসে বা গুরুজনের ব্যবস্থাপনায় বিয়ে করে জীবনভর আইনসঙ্গত নারীসঙ্গ করছে, কোথাও কোনও কাঁটা ফুটছে না, বিষ উগরাচ্ছে না! যদি বা সুন্দর আমাকে দেখা দিল, স্বর্গ আমার জানা হল, পরমুহূর্তে এ কী অদ্ভুত প্রতারণা! আমার ভাগ্যেই ছিল? এখন আবার জানতে পারছি আরও দুটি মেয়ে আমার অনুরক্ত। এমনই নাকি আমার চুম্বক টান! তা এরাও বোধহয় সেইভাবেই আমাকে চাইছে। এক রাতের বনিতাগিরি!

    কিন্তু, আমিই কি সত্যি চিরকালের জন্য কাউকে চাইছি। দীপাকে চেয়েছিলুম কেন না সেটাই সামাজিক রীতি। সামাজিক কর্তব্য, দায়িত্ব। যদি ঘটনাটা না ঘটত তা হলে তো চাইতুম না। এই প্রথম আমার মনে হল প্রশ্নটাকে না এড়িয়ে সোজাসুজি এর মুখোমুখি দাঁড়াই। কীভাবে দাঁড়াব? সোজাসুজি জিজ্ঞেস করব? তা কি করা যায়! আমার চাপা স্বভাব। স্বভাবের বিরুদ্ধে কি এতখানি যাওয়া যায়? ঠিক আছে। আমি পর্যবেক্ষণশীল হব। জীবনকে সহজে নিতুম। এবার সহজে নেব না। জটিলে নেব। নিজেও জটিল হব, সতর্ক।

    ছোড়দা, তোর কী হয়েছে বল তো? —আমার দিকে চোরা চাউনি হেনে ফিনকি অবধারিত বলল। ফিনকির চুল ফুলে রয়েছে। সালোয়ার কামিজ পরে আজ ওকে আরও ছেলেমানুষ দেখাচ্ছে। কনুই ভেঙে হাতের পাতায় মুখ রেখে ও আমার দিকে চেয়ে রয়েছে।

    —কী আবার হবে?

    —তা অবশ্য। আমাকে বলবিই বা কেন। কে একটা খুড়তুতো বোন।

    আমি হেসে ফেলি। ও—ও হাসে।

    —তুই প্রেমে পড়েছিস, না রে?

     

     

    আমি চমকে উঠি—ইসস কথাটা আমার মাথাতেই আসেনি ফিনকি বুঝলি। তুই নিশ্চয়ই প্রেমে পড়েছিস। আমার খোঁজ রাখা উচিত ছিল। কিন্তু কী জানিস জারতুতো ভাই তো! নিজের দাদা হলে যতটা…

    ফিনকি আমাকে একটা রাম—চিমটি কাটল। চোখ হাসিতে চকচক করছে।

    হঠাৎ আমার মনে হল আমি এক তেপান্তরের মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছি। পুরো দৃশ্যটা আধো—অন্ধকার। চারদিকে ভূতের মতো কয়েকটা গাছ। আকাশে তিন চারটে তারা জ্বলজ্বল করছে। বহুদূর থেকে কে আমার দিকে আসছে। মেয়েই বোধহয়। ফিনকি? ফিনকির মতোই তো দেখায়, কেমন একটা কালো মতো পোশাক পরেছে—ছায়ার সঙ্গে মিশে আছে যেন। আসছেই আসছেই, কিন্তু এগোচ্ছে না, একটুও এগোচ্ছে না।

    —কী রে? একটা ঝটকা দিল ফিনকি।

    —হ্যাঁ, কী বলছিলি?

     

     

    —বলছিলুম খুড়তুতো বোনকে প্রেমে পড়ার গপ্পো করা যায় না।

    —করা যায়, কিন্তু মজাটা হচ্ছে কিছুতেই প্রেম ঘটছে না।

    —তুই চেষ্টা করছিস?

    —ধুর, চেষ্টা করে হয়? তুই—ই বল।

    —চেষ্টা করাটা দরকার, তোর বিশেষ করে।

    —কেন? আমার আবার বিশেষ করে কেন?

    —ছোড়দা তুই বড্ড একা। এত একা হওয়া ভাল না।

    —তুই একা নয় তো?

     

     

    —না আমি একা নই। আমার অনেকে আছে। মা বাবা জেঠু, দিদা, বন্ধুবান্ধব, মাস্টারমশাই। তোর কেউ নেই!

    আমি এবার গম্ভীর ভাবে বলি—তুইও নেই?

    —আমি তো থাকতে চাই। কিন্তু তোর ঘরের ছিটকিনি তুই সব সময়ে লাগিয়ে রাখিস। তুই কাউকে ঢুকতে দিস না।

    —হয়তো আমার মন নেই।

    —মন যে আছে সেটা জানার জন্যে কারও দরকার হয় ছোড়দা, তুই প্রেমে পড় প্লিজ।

    আমি হাসি সামলাতে গিয়ে কেশে ফেলি, তারপর ও একটুও হাসছে না দেখে, গম্ভীর ভাবে বলি—প্রেমে পড়লেও যদি একা থেকে যাই?

    —দূর, প্রেমে পড়া মানেই দরজা খুলে গেল। মুখোমুখি দুটো দরজা। সেই খোলা দরজা দিয়ে একা মানুষটা বেরিয়ে যায়, অন্তত আর একটা মানুষের কাছে। ছোড়দা আমার কিন্তু তোর তিন কলিগকেই খুব ভাল লেগেছে।

     

     

    —তা হলে তুই—ই ওদের প্রেমে পড়েছিস?

    —ঠাট্টা নয় রে। তুই যাকে ইচ্ছে পছন্দ করতে পারিস, বাড়িতে কোনও আপত্তি হবে না।

    মনে—মনে ভাবলুম—হায় হায়, বাড়ির আপত্তির কথা কে কখন ভেবেছে! নিজের আপত্তিকেই সামলে উঠতে পারছি না।

    বলি—ছাড় ফিনকি, আমার এই প্রসঙ্গ ভাল লাগছে না, তোর কথা বল।

    —আমার কোন কথা? এত কথা আছে, কোনটা বাছব?

    —বাপ রে! বলিস কী! এত?

    —হ্যাঁ, যেন এটা স্বতঃসিদ্ধ এমন ভাবে বলল ও। অনেক কথা থাকাটাই যেন স্বাভাবিক।

     

     

    —তো আমাকে তার এক গণ্ডূষ দে।

    —ছোড়দা তুই কী নিয়ে ভাবিস জানি না, আমার মনে হয়, নিজেকে নিয়ে। মানে তুই স্বার্থপর, নিজের ছাড়া কারও কথা ভাববার তোর মন নেই এটা কিন্তু একেবারেই বলতে চাইছি না। সেদিক থেকে দেখতে গেলে তুই বরঞ্চ উল্টোটাই। তুই জেঠুর কথা এত করে ভেবেছিস, মাকে সেদিন কীভাবে বোঝালি আত্মত্যাগের ইউসলেস মোহ, দাদাকে আমাদের পারিবারিক প্রয়োজন থেকে ছেঁটে ফেলে মান বাঁচিয়েছিস আমাদের। এ সবই। কিন্তু ছোড়দা তুই নিজেকে নিজের সমস্ত সম্ভাবনাসুদ্ধ একটা কৌটোর মধ্যে আটকে রেখেছিস। তোর যেন অনেক দূরে একটা আলাদা বাড়ি আছে, সেখান থেকে এসে তুই আমাদের কাজগুলো করে যাস। তারপর ফিরে যাস তোর নিজের বাড়িতে।

    ফিনকি সব সময়ে হাসি—খুশিতে ভরা, ইয়ার্কি—ফাজলামিতে ভরা ফিনকি এইসব অপ্রত্যাশিত কথাগুলো বলছিল আর আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল বাড়ির পরে বাড়ি। বিরাট, ক্ষয়রোগে আক্রান্ত, পাঁচিল দিয়ে ডালপালা মেলে অট্টহাসি হাসছে বট পাকুড় অশথ, ঘরদালান সব খালি পড়ে রয়েছে। আওয়াজ করলে তার প্রতিধ্বনি উঁচু সিলিং—এ, দেয়ালে ধাক্কা খেতে খেতে ফিরে আসে, চতুর্দিকে ছড়িয়ে যায়। জানলা দিয়ে তাকালে চোখে পড়ে ধ্বংসস্তূপ, কত দেয়াল, কত ছাদ ভেঙে পড়ে রয়েছে, দালান দিয়ে উঠোনে, উঠোন থেকে ঘরে, ঘরের পর ঘরে ঘুরে বেড়াচ্ছে একজন ছোট্ট ছেলে, কিছু খুঁজছে। কিন্তু কী খুঁজছে তা আমার জানা নেই।

     

     

    সত্যিই তার সমস্ত মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে ওই নাম—না—জানা তল্লাশিতে। মন বলো মন, প্রাণ বলো প্রাণ। আর তাই—ই হয় তো সে পথ চলে আনমনে, কাজ করে যান্ত্রিক, সব বুঝতে পারে, যা করার করে যায় কিন্তু আধখানা সিকিখানা মন দিয়ে। বাকি আধখানা, বা তিন চতুর্থাংশ নিখোঁজ। কেউ কি নেই, কিছু কি নেই যা আমাকে ওই রহস্যাধার বাড়ি থেকে ছুটিয়ে বাইরে বার করে আনতে পারে?

    চুপ করে ভাইবোন মুখোমুখি বসে থাকি। এই যে ফিনকি, এ সত্যি—সত্যি কে? আমি একে বেশ পছন্দ করি, এ আমার খুব আদরের ছাত্রীও। কিন্তু এ কে? এ বাড়িতে এ—ই আমার ঘনিষ্ঠতম, এ জেনে ফেলেছে আমার অন্য বাড়ির কথা, আমিও জানি ওর সমকেন্দ্রিক বৃত্তীয় স্বভাব—কথা। এই জানা ইনস্টিংকটিভ, বা ইনটুইশন জাত। কিন্তু তা সত্ত্বেও তেমন কোনও দৃঢ় সেতু নেই যা বেয়ে আমরা পরস্পরের কাছে পৌঁছতে পারি।

    —ও বলে—এই ছোড়দা, মন খারাপ করছিস না কি, আমার কথায়?

    দূর ও জানেই না সে—অর্থে আমার মন খারাপ হয়ই না।

     

     

    —আমি জানি তুই এই উদাসীনতাটা পেয়েছিস মায়ের কাছ থেকে।

    এই তো একটা শব্দ পাওয়া গেছে। অন্ধের নড়ির মতো নির্ভরযোগ্য একটা শব্দ—’উদাসীনতা।’ শব্দটা আমরা চিনি, তার অনুষঙ্গগুলো আমাদের চেনা ফিনকি। ‘বাড়ি’ থেকে ‘উদাসীনতা’য় পৌঁছলে বড় স্বস্তি পাই। আমাকে যেন কে খোলামকুচির মতো ছুড়ে দিয়েছিল এক চলন বিলে। হাবুডুবু খাচ্ছিলুম। সযত্নে সেখান থেকে তুলে এনে কেউ স্থাপন করল পাথরের গর্তে জমে থাকা বৃষ্টির জলে। আমার কাজটা সোজা হয়ে গেল।

    আমি হাসি, —তো তারপর?

    —তারপর মানে, মায়ের উদাসীনতাটা কিন্তু কতকগুলো ঘটনার কারণ, মোটেই স্বভাব নয়। জানিস?

    —না তো! কী?

    —এই দ্যাখ, কোনওদিন মানুষটাকে জানবার চেষ্টাই করিসনি! আমরা যে একেক জন একেক রকম গড়ে উঠি তার পেছনে একটা কার্য—কারণ থাকে। স্বীকার করছি সহজাত স্বভাবও থাকে খানিকটা। কিন্তু কার্য—কারণটা ভীষণ ইমপর্ট্যান্ট!

     

     

    —তা তো বটেই, —আমি ঠেকা দিয়ে যাই। ফিনকি বাজুক। নিজের ইচ্ছে মতো বাজুক।

    —জানিস কি? মা একজন স্কলারশিপ পাওয়া মেয়ে! লজিক আর সিভিক্স—এ মায়ের হায়েস্ট মার্কস ছিল ইউনিভার্সিটিতে? সে সময়ে ইনটারমিডিয়েট পড়তে হত!

    এ খবর সত্যিই আমি জানতুম না। আরও কিছু শোনবার আশায় চেয়ে থাকি।

    —মা শুধু পড়াশোনায় ভালই ছিল না। ভালবাসত খুব। পড়াশোনাটাই প্রাণ ছিল। তার ওপরে মা অপূর্ব গাইত। তুই মায়ের গান শুনেছিস?

    আমি অবাক হয়ে বলি—কই না তো!

    —আমি মায়ের বাথরুমে গুনগুন থেকে ধরে ফেলি। তারপর জেরা, জেরা। শেষে স্বীকার করতে বাধ্য হল প্রথমে উস্তাদের কাছে, তারপর পঙ্কজ মল্লিক, শৈলজারঞ্জন এঁদের কাছে গান শিখেছিল। কিন্তু সুদ্ধু কালো মেয়ে বলে মায়ের বাবা—মা তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে মনস্থ করেন। যেদিন যেদিন মেয়ে দেখতে আসত মা কলঘরের ছিটকিনি দিয়ে বসে থাকত। কিছুতেই বেরোত না। আমাদের দাদু সব কথা শুনলেন, তারপর নিজে কলঘরের দরজায় ঘা দিয়ে বলেন—মা, আমি কথা দিচ্ছি তোমাকে কলেজে পড়াব, তুমি গান শিখবে—ঠিক যেমন আগে ছিলে তেমনই থাকবে। আমরা তোমার মতো গুণী মেয়েই চাই মা।

     

     

    এইভাবে বয়স্ক মানুষের পীড়াপীড়িতে আর আদরে মা বেরিয়ে এসেছিল।

    —তারপর?

    —তারপর? তোর তা হলে কৌতূহল আছে বলছিস!

    —নিশ্চয়ই—(ওই যে বললুম আমি শুধু ঠেকা দিয়ে যাই)।

    —তারপর খুব ঘটাপটা করে বিয়ে হল। মা থার্ড থেকে ফোর্থ ইয়ারে ওঠার পরীক্ষাটা মিস করল। তা সত্ত্বেও অত ভাল ছাত্রী বলে কোনও অসুবিধে হয়নি, কিন্তু তারপরই প্রেগন্যান্সি, মায়ের প্রাণান্তকর কষ্ট হয়েছিল, হাসপাতালে থাকতে হয় বহুদিন। ড্রিপ চালাতে হয়। দাদা হল ফাইন্যাল পরীক্ষা এসে গেল, বইয়ের সঙ্গে সম্পর্কহীন বহুদিন। মা বলল—পরীক্ষা দেব না।

    দাদু বললেন—ঠিক আছে, পরের বছর দিয়ো। পরের বছর মায়ের দ্বিতীয় সন্তান হল, মেয়ে এবং মারা গেল, পরীক্ষা দেবার প্রশ্ন নেই। তারপরে মা কলেজ যেতেও চায়নি। পরীক্ষা দিতেও অস্বীকার করে।

     

     

    —আর গান?

    —ওরে বাবা, দাদু লিবার‌্যাল হলে কী হবে, আমাদের ঠাকুমা ছিলেন ভীষণ গোঁড়া। ঠাকুমারা সবাই। বাড়ির বউ গান শিখবে?

    —কিন্তু সেই কথা দিয়েই তো আনা হয়েছিল!

    —এরকম ঠকানো তো অনেক মেয়েকেই হয়! এখনও হচ্ছে!

    ঠকানো! প্রতারণা! মেয়েকে! ‘ঠকানো’ এবং তার শুদ্ধ সংস্করণ ‘প্রতারণা’ দুটোই আমার ভীষণ চেনা—চেনা লাগে। জীবনে কত শব্দ ব্যবহার করি, তার পুরো মানে না বুঝেই তো করি। ভাষাটা শিখি শুনে শুনে, আবৃত্তি করে করে, তারপর তার শব্দাবলি নিয়মাবলি শিখি। কিন্তু একটা শব্দের পেছনে যে অনেক সময়েই একটা অনুভূতি থাকে, সেটাকে না বুঝলে শব্দটাকে জানা হয় না। ‘ভক্তি’—কী মানে এর? জানি না, বুঝি না শব্দটা ব্যবহার করি। ‘বিরহ’ মানে কী? ব্যবহার করে যাচ্ছি। তার বাইরের খোলসটাকে ছুঁচ্ছি। কিন্তু ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ আসল মানেটা জানবে না। ‘ঠকানো’, ‘প্রতারণা’ এগুলো সাধারণত টাকাপয়সা বিষয় সম্পত্তির ব্যাপারেই ব্যবহার হয়। টাকাপয়সা, বিষয়সম্পত্তি যেহেতু স্থূলতর বিষয় তাই ঠকানোর চতুর উল্লাস, ঠকে যাওয়ার ক্রোধ কিছুটা—কিছুটা বুঝি। কিন্তু প্রতারণা যে কত করম হতে পারে! মা বুঝেছিলেন প্রতারণার মানে, জেঠু বুঝেছিলেন, আমি বুঝেছি। মা পাষাণ হয়ে গেলেন, জেঠু পাগল হয়ে গেলেন, আর আমি কী হলুম? সিনিক, সিনিক বোধহয়। হঠাৎ একটা অদ্ভুত কথা আমার মনে হল।

     

     

    এই যে মা, জেঠু, আমি—আমাদের প্রতারণা, এটার মধ্যে কি একটা পরিকল্পনা আছে? কার? তা জানি না। কিন্তু মা, একজন নারী তাঁকে যেভাবে ঠকানো হল তার প্রতিক্রিয়া আশেপাশে চুপিচুপি রয়ে গেল। সুযোগ খুঁজতে লাগল। জেঠুর ঠকে যাওয়াটা একরকম বদলা। আমারটাও তাই। মায়ের বিশ্বাস ভঙ্গ করা হয়েছিল, অন্য নারীরা সেই বিশ্বাস ভঙ্গের প্রতিশোধ নিল। প্রতিহিংসার ইচ্ছে এবং ফলাফল পরের প্রজন্মে ফিকে হতে থাকে। তাই জেঠু যেভাবে যাতনা ভোগ করলেন, আমি ঠিক সেভাবে করলুম না।

    —দাদু কিন্তু ঠকাতে চাননি। ফিনকি বলল—যতদূর সম্ভব সাহায্য করে গেছেন মাকে। প্রথম কথা, প্রতিদিন সন্ধেয় দাদু ফিরলে মা গান শোনাত, ঠাকুমারাও ভক্তিভরে শুনতেন, দাদু চুপিচুপি বাপের বাড়ি নিয়ে যাবার নাম করে মাকে উস্তাদজির কাছে নিয়ে যান। কিন্তু মা বলে—কাউকে লুকিয়ে মা কিছু করতে পারবে না।

    —অর্থাৎ তথাকথিত সততাও এক ধরনের বোকামি, তাই নয়? আমি বলি—তারপর জিজ্ঞেস করি—এই সমস্তর মধ্যে বাবার কোনও ভূমিকা ছিল না?

    —নাঃ।

    —খুব অদ্ভুত, না?

    —নয় বোধহয়। খুব আত্মসর্বস্ব করে ওঁকে তৈরি করা হয়েছিল তো! মা আসাতে বাবার অনেকগুলো প্রয়োজন চমৎকার মিটে গেল। তারপরে সেই মেয়েটিকে পরিবার কেমন ভাবে চালাবে, কী দেবে না দেবে সেটা পরিবারের ব্যাপার।

    এইবারে ফিনকি আমার দিকে ফেরে। ওর মনোযোগের কেন্দ্রে আমি। বলল—শুনলি তো, মায়ের ব্যাপারটার পেছনে কতকগুলো কারণ আছে। তোরটার কোনও কারণ নেই। হঠাৎ দেখলে মনে হয় তুই উদাসীনতাটা মা’র কাছ থেকে পেয়েছিস, আত্মকেন্দ্রিকতাটা বাবার থেকে নিয়েছিস। কিন্তু তুই সে অর্থে উদাসীনও নোস, আত্মকেন্দ্রিকও নোস। এগুলো আমি বুঝি। তুই দাদুর খুব ফেভারিট নাতিও তো ছিলি।

    —তা হলে ধরে নে, দাদুই আমার সবচেয়ে বড় বন্ধু ছিল। দাদু নেই, তাই বন্ধুও নেই।

    —শোন, ধোঁকা দেবার চেষ্টা করে লাভ নেই। এতদিন ধরে কারও শোক একরকম থাকে না। থাকা সম্ভব নয়। তার ওপরে তুই যে—রকম হাড়—হিম—করা প্র্যাকটিক্যাল!

    —শোকের কথা হচ্ছে না ফিনকি। বন্ধুত্বের কথা হচ্ছে। যে বালক একজন প্রতিষ্ঠিত, জীবনের সব অভিজ্ঞতায় অভিজ্ঞ, সদাশয়, সমব্যথী টাইপের বয়স্ক মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে, সে আর কারও সঙ্গে সেটা পারবে কেন? সবটাই কি তার জলো আনইন্টারেস্টিং লাগবে না?

    হঠাৎ ফিনকির চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে এল। চোখ মুছতে মুছতে বলল।

    —আমি জলো, আমি আনইনটরেস্টিং?

    —আরে বাবা, এতে কান্নার কী হল? তোর কথা বলেছি না কি? বন্ধুদের কথা বলেছি।

    —দ্যাখ যার সঙ্গে যে সম্পর্কই থাক, বন্ধুত্ব হতে কোনও বাধা নেই।

    —ঠিক আছে। তোকে একটা ছোট বোন বলে দেখি তো! সেইজন্যে হয় তো! কিন্তু কথা দিচ্ছি, বলবার মতো কোনও কথা হলেই আমি তোকে বলব। ইন দা মীন টাইম ওই মায়ের উদাসীনতা আর বাবার আত্মকেন্দ্রিকতার কম্বিনেশনটা চলুক। হ্যাঁ?—ফিনকি, ছোট্ট একটা ভেংচি কেটে উঠে গেল। ফিনকি আমার ভিন্ন বাড়ির কথা জেনে গেছে। কী করে? জেনেও ও আমাকে কাছে টানে। সবাই ওর মন ছোঁয়, কী করে জানি না। হয়তো কোনওদিন ও কাকাকেও বুঝে ফেলবে, বিশ্বাসঘাতকের প্রতি নৈতিক অসমর্থন থাকা সত্ত্বেও কাছেই টানবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৈত্রেয় জাতক – বাণী বসু – উপন্যাস
    Next Article রাধানগর – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }