Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সরস গল্প সমগ্র – তারাপদ রায়

    তারাপদ রায় এক পাতা গল্প1280 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভাল-খারাপ

    ভাল-খারাপ

    হিব্রু ভাষায় একটা প্রবাদ আছে, হঠাৎ প্রভাকরবাবু বললেন।

    নানা কারণে আমাদের সন্ধ্যাসমিতির সভ্যেরা প্রায় কেউই প্রভাকরবাবুকে পছন্দ করেন না। প্রভাকরবাবু আমাদের এ পাড়ায় এসেছেন প্রায় পনেরো বছর কিন্তু আগাগোড়া আমাদের এড়িয়ে গেছেন। পুজো-পার্বণে চাঁদা-টাঁদা দিয়েছেন; কিন্তু সন্ধ্যাসমিতির ক্লাবঘরে, যেখানে প্রায় প্রতি সন্ধ্যায় আমাদের জমাট আড্ডা বসে, তাস খেলা হয়, সেখানে তিনি ভুলেও কোনও সন্ধ্যায় পা মাড়াননি।

    আসলে প্রভাকরবাবুর ঝোঁক ছিল অন্যত্র। আমাদের তরল আড্ডার চেয়ে তরলতর দ্রব্য অর্থাৎ শক্ত পানীয়ের প্রতি তার টান ছিল অনেক, অনেক বেশি।

    আমরা সন্ধ্যাসমিতির সদস্যেরা অনেকদিন রাতে তাস এবং আড্ডার শেষে যখন ক্লাবঘরে তালা দিচ্ছি, দেখেছি প্রভাকরবাবু টলতে টলতে ট্যাকসি বা রিকশা থেকে নামছেন এবং তারপর ভাড়া মিটিয়ে স্থলিত চরণে নিজের বাড়িতে ঢুকছেন।

    সন্ধ্যাসমিতি কোনও উঠতি মাস্তানদের ঠেক কিংবা রাজনৈতিক দলের ছদ্মবেশী প্রতিষ্ঠান নয়; পুরনো, বনেদি কলকাতার আদি ও অকৃত্রিম সমিতিগুলোর একটা। প্রতিটি সন্ধ্যায় অফিসকাছারির শেষে বাড়ি ফেরত ভদ্রলোকেরা এখানে বসে একটু গল্পগুজব করেন, তাস-টাস খেলেন। তবে সে সবই নিতান্ত নিরামিষ ব্যাপার।

    এতকাল এসব নিরামিষ ব্যাপার প্রভাকরবাবুর মোটেই পছন্দ ছিল না। তিনি এক সওদাগরি প্রতিষ্ঠানের মাঝারি সাহেব। সন্ধ্যায় চা খাওয়া তাঁর পোষায় না। তিনি আমাদের এড়িয়েই চলতেন। সন্ধ্যায় তার যাওয়ার জায়গা ছিল অন্যরকম।

    কিন্তু সম্প্রতি প্রভাকরবাবু এক দুর্বিপাকে পড়েছেন। তাঁর লিভার না কী যেন খারাপ হয়েছে। সব রকম দুমূল্য পানীয় ডাক্তার নিষেধ করে দিয়েছেন। বাধ্য হয়েই তিনি আমাদের সন্ধ্যাসমিতির আড্ডায় ভিড়েছেন। সন্ধ্যাবেলায় দূরদর্শনের প্রোগ্রাম বা বই পড়া, এসব কিছুই তাঁর সহ্য হয় না। কী আর করবেন, দু-চারদিন ইতস্তত করার পরে সন্ধ্যাসমিতিতে অনুপ্রবেশ করেছেন।

    বলা বাহুল্য, সন্ধ্যাসমিতির সাবেকি সদস্যেরা প্রায় কেউই প্রভাকরবাবুকে পছন্দ করেন না। তার উন্নাসিকতার ইতিহাস এত সহজে বিস্মৃত হবার নয়। তবে ভদ্রলোকের দুটো গুণ আছে।

    প্রথম গুণ হল, কথা বলায় ওস্তাদ। যেকোনও বিষয়ে যেকোনও কথা বলতে পারেন। শুধু কথা নয়, অনর্গল চটকদার বাক্যের নকশা, তার মধ্যে কল্পনার সোনালি ফুল মেশানো।

    প্রভাকরবাবুর দ্বিতীয় প্লাস পয়েন্ট হল, তিনি অমায়িক, দিলদরিয়া ব্যক্তি। নিজে আজকাল চা-সিগারেটও কদাচিৎ খান, কিন্তু সন্ধ্যাসমিতির আড্ডায় এই সব রসদ ঘুষ দিয়ে তিনি নিজের পূর্বকর্মের প্রায়শ্চিত্তই হয়তো করেন।

    অনেকদিন পরে এ বছর খুব জমাট শীত পড়েছে। তার ওপরে আজ সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা মেঘলা। এখন সন্ধ্যার দিকে একটু ঝিরঝির করে বৃষ্টিও শুরু হয়েছে, খুব জোর নয়, বর্ষাকালে যে বৃষ্টিকে ইলশেগুঁড়ি বলে সেই রকম। তবে বেশ জোর উত্তুরে হাওয়া সঙ্গে আছে।

    কথা হচ্ছিল এই অসময়ের বৃষ্টি নিয়ে। আমাদের এই সন্ধ্যাসমিতি বসে একটা পুরনো বাড়ির একতলার প্যাসেজের পাশে একটা বড় ঘরে। প্যাসেজ পেরিয়ে সামনে রাস্তার পাশেই একটা চায়ের স্টল। চা ছাড়া চানাচুর, বিস্কুট, সিগারেট, পান প্রায় সব কিছু আনুষঙ্গিক জিনিসই পাওয়া যায়। দোকানটা চালান এক কর্কশকণ্ঠী মহিলা, তার নাম কেউ জানে না। তবে তার ছেলের নাম জগা। জগাই দোকানের বয়ের কাজ করে এবং জগার সূত্রেই মহিলাকে সবাই জগার মা বলে।

    জগার মার ভূমিকা অবশ্য এ কাহিনিতে তেমন জোরদার নয়, তবু সূত্রপাত করে রাখলাম। এবার বৃষ্টির মধ্যে ফিরি।

    অকালের বৃষ্টি, জমাটি ঠান্ডা তার ওপরে উত্তুরে হাওয়া। সুতরাং আবহাওয়া নিয়ে একটু কথাবার্তা হবেই। তা ছাড়া অন্যান্যবার শীতকালে মোটেই লোডশেডিং হয় না কিন্তু এ বছর শীতকালেও ভয়াবহ বৈদ্যুতিক গোলমাল। আবহাওয়ার দুর্যোগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এসেছে ঘুটঘুঁটে অন্ধকার।

    সন্ধ্যাসমিতির ঘরের দরজা জানলা সব বন্ধ। ইলেকট্রিকের বিকল্প একটা কেরোসিন লণ্ঠনের বন্দোবস্ত ছিল, কিন্তু অনেকদিন কাজে না লাগায় সেটা ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ঘরের এক প্রান্তে একটা মোমবাতি জ্বালানো হয়েছে, কিন্তু কেউ ঘরে ঢুকলে বা বেরিয়ে গেলে যেই দরজা খুলতে হচ্ছে দমকা হাওয়া ভিতরে ঢুকে সঙ্গে সঙ্গে মোমবাতিটাকে ঘরের কোনা থেকে খুঁজে বার করে ধরে হুস করে নিবিয়ে দিচ্ছে।

    একটু আগে প্রভাকরবাবুর ফরমায়েস মতো জগা চা দিতে এসেছিল, তখন দরজা খুলে দিতেই মোমেবাতি নিবে গিয়েছিল। এখন আবার কে যেন দরজাটা ঠুকঠুক করে নাড়ছে, বোধহয় জগাই গেলাস ফেরত নিতে এল। সবাই ঠান্ডায় জড়সড় হয়ে আছে। আবার দরজা খুলতে হবে, কনকনে হাওয়া ঢুকবে, মোমবাতি নিববে। কেউই উঠে দরজা খুলতে যায় না। দরজার কাছেই আমি বসেছিলাম, বাধ্য হয়েই আমাকেই উঠে দরজা খুলতে হল।

    না, জগা নয়। বিলাসবাবু। বিলাসবাবু সন্ধ্যাসমিতির একজন স্থায়ী সদস্য। প্রতি সন্ধ্যাতেই আসেন। বিলাসবাবু চাকরি করেন আবহাওয়া দপ্তরে। তাঁর গলাবন্ধ ফুলহাতা সোয়েটারে এবং মাফলারে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি গুঁড়ো লেগে রয়েছে। বিলাসবাবুর দুর্ভাগ্য এই যে আবহাওয়া একটু এদিক ওদিক হলেই সবাই তাঁর সঙ্গে আবহাওয়া নিয়ে রসিকতা করেন।

    আমিও অবশ্য তাই করলাম আজকে। তাকে ঘরে ঢুকতে দেখে ঠাট্টা করে বললাম, কী, বৃষ্টিটা নামিয়ে এলেন বুঝি।

    এ কদিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ চলছিল বলে সবাই অল্পবিস্তর আবহাওয়া বার্তার দিকে নজর রাখছিল। আবহাওয়া দপ্তরের আজকের পূর্বাভাসে বৃষ্টির কথা একেবারেই ছিল না এবং বলা ছিল শীত কমবে।

    এরকম ভুল আবহাওয়া বার্তায় অনেক সময়েই হয়ে থাকে এবং সেটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বিলাসবাবু নিজে খুব সুরসিক লোক। তিনি ঘরে ঢুকে রুমাল দিয়ে মাথা মুছে একপাশে বসলেন। এর মধ্যে মোমবাতিটা নিবে গিয়েছিল, আবার সেটাকে দরজা বন্ধ করে জ্বালানো হল।

    বিলাসবাবু শক্ত হয়ে বসে প্রশ্ন করলেন, আপনারা ঘরের মধ্যে কী নিয়ে যেন গোলমাল করছিলেন? আমি বললাম, আপনার বিষয়েই, ওই আবহাওয়া নিয়ে কথা হচ্ছিল।

    হঠাৎ আমাকে থামিয়ে দিয়ে প্রভাকরবাবু ঘরের অন্য প্রান্ত থেকে বললেন, এই নিয়ে তৃতীয়বার বললেন কথাটা, আমি বলছিলাম, হিব্রু ভাষায় একটা প্রবাদ আছে।…

    আমরা সবাই জানি যে প্রভাকরবাবু হিব্রুভাষা জানেন না এবং প্রভাকরবাবু এখন যে প্রবাদের কথাটা বলবেন, সেটা হিব্রুভাষায় কেন, পৃথিবীর কোনও ভাষাতেই হয়তো নেই। কিন্তু সেই জন্যেই তার কথাবার্তা এত আকর্ষণীয় এবং তাকে অপছন্দ করা সত্ত্বেও তার গল্প শুনতে আমাদের খারাপ লাগে না।

    প্রভাকরবাবুর কায়দা হল এক-একটি বাক্য বলে কিছুক্ষণ থেমে থাকা। এতে ওঁর সুবিধে হয়, অনেক কিছু ভেবে নিতে পারেন; আমাদেরও সুবিধে হয় টিকাটিপ্পনি করার।

    সে যা হোক, আজকের আলোচনার গোড়ায় ফিরে যাই। শীতের বৃষ্টি নিয়ে কথা হচ্ছিল। উকিল নরেশবাবু বলছিলেন এই বৃষ্টি খুব খারাপ। ধান নষ্ট হবে, আমের বোল, লিচুর মুকুল, কঁঠালের মুচি সব কিছুর ক্ষতি হবে। উকিলবাবুর দেশে জমিজমা আছে, তার এই বক্তব্যের গুরুত্ব আছে। কিন্তু অন্য একজন, পরেশবাবু, ভারিক্কি ধরনের হেডমাস্টার মানুষ। এককালে রীতিমতো বখা ছিলেন এখন মেয়েদের স্কুলের হেডমাস্টার। একটু গম্ভীরভাবে সামলে সুমলে চলতে হয়, তার কথাবার্তায়ও হেডমাস্টারি ভাবটা এসে গেছে, তিনি বললেন, এ বৃষ্টি খুব ভাল ব্যাপার। এতে ফল ফসলের কোনও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং উপকার হবে। তিনি খনার বচন উদ্ধৃত করে রীতিমতো প্রত্যয়ের সঙ্গে বললেন, স্বয়ং খনা বলেছেন, যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্য রাজার পুণ্য দেশ।

    সত্যিই সময়টা মাঘের শেষ চলছে, খনা পক্ষে থাকায় পরেশ হেডমাস্টারের একটু সুবিধে হল। কিন্তু উকিলবাবুও ছাড়ার পাত্র নন, গত সপ্তাহেই তিনি গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরেছেন। সদ্য দেখে এসেছেন, আম গাছে বোল এসেছে, রবি ফসলে দানা বেঁধেছে। বৃষ্টি আর সেই সঙ্গে মেঘলা ভাবটা এক আধদিন থাকলেই সমূহ সর্বনাশ হবে, তখন কেতাবি বিদ্যা বা খনার বচনে মোটেই কাজ হবে না।

    তুমুল তর্ক বেধে গেল। শীতের অকাল বৃষ্টি ভাল না খারাপ, এই প্রশ্নে সদস্যেরা দুই দলে ভাগ হয়ে রীতিমতো হইহল্লা শুরু করে দিল। বলা বাহুল্য এদের কারওরই এ বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান অভিজ্ঞতা কিছুই নেই, সবাই মোটামুটি কলকাতার লোক, শুধু একজন ছোটবেলায় কয়েক বছর কাকদ্বীপে ছিলেন, তিনি বললেন, বৃষ্টি হলে তরমুজ খুব বড় বড় হয়।

    এরই মধ্যে খনার বচনের সুবাদে প্রভাকরবাবু পরপর দুবার হিব্রু প্রবাদের উল্লেখ করেছেন। এখন বিলাসবাবু ঘরে ঢুকতে তিনি আরেকবার বললেন, হিব্রুভাষায় একটা প্রবাদ আছে।

    আমরা জানি প্রভাকরবাবু যখন ধরেছেন প্রসঙ্গটা শেষ পর্যন্ত ধরে থাকবেন। তার আগে বিলাসবাবু একটা মজার কথা বললেন। বিলাসবাবু বললেন যে, এই হঠাৎ বৃষ্টিটা এসে গেল এটা তারা আবহাওয়া অফিসেও চব্বিশ ঘণ্টা আগে টের পাননি। কোথাও সহসা একটা নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে, তারই জের টেনে এই বৃষ্টি।

    অতঃপর বিলাসবাবু যা বললেন তা প্রণিধানযোগ্য। এই অকালবৃষ্টি। মাঘের শেষের বর্ষণ ভাল কি খারাপ, এমনকী হিব্রু প্রবাদের অবতারণার প্রচেষ্টা চাপা পড়ে গেল কিছুক্ষণের জন্যে।

    পাবলিক আর খবরের কাগজ আজ কিছুদিন হল যাচ্ছেতাই হেনস্তা করছে আবহাওয়া দপ্তরকে। বছরে তিনশো পঁয়ষট্টি দিনের মধ্যে অন্তত সাড়ে তিনশো দিন আবহাওয়া অফিস যা বলে তা মিলে যায় কিন্তু ওই যে বছরে দিন দশ পনেরো ভুলভাল হয় তাই নিয়ে সবাই কটুকাটব্য, তিক্ত ও বক্র মন্তব্য করে। হাসাহাসি করে।

    বিলাসবাবু বললেন, তাদের ওপরওয়ালারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এখন থেকে আর ওরকম হবে না, আবহাওয়া বুলেটিন এখন থেকে শতকরা একশো ভাগ শুদ্ধ হবে। এমনকী ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড এই সব দুর্যোগও আবহাওয়া বুলেটিনে পরিষ্কার এবং শুদ্ধ থাকবে।

    আমরা সবাই বুঝলাম, এটা সম্পূর্ণ বাজে কথা। এরকম হতেই পারে না, এর মধ্যে বিলাসবাবুর কোনও চালাকি বা রসিকতা আছে।

    অবশ্য সঙ্গে সঙ্গেই বিলাসবাবু নিজেই ব্যাপারটা ভাঙলেন, বিলাসবাবু বললেন, ঠিক হয়েছে যে, এখন থেকে আমরা আর পরবর্তী চব্বিশ ঘণ্টার আবহাওয়ার বুলেটিন না দিয়ে পূর্ববর্তী চব্বিশ ঘণ্টার আবহাওয়াবার্তা দেব। তাতে আর কোনও ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।

    একথা শুনে আমরা সবাই অল্পবিস্তর হাসলাম। তবে আমরা বিলাসবাবুর রসিকতা যতটা জোরালো হবে ভেবেছিলাম তা একেবারেই হয়নি।

    এই সুযোগে, প্রভাকরবাবু আবার আত্মপ্রকাশ করলেন। চতুর্থ বার বললেন, হিব্রু ভাষায় একটা প্রবাদ আছে।

    বিলাসবাবুর গল্পটা প্রায় মাঠে মারা যাওয়ায় এবার আর প্রভাকরবাবুর দিকে নজর না দিয়ে পারা গেল না। আমিই বললাম, প্রভাকরবাবু, আপনার ওই হিব্রু প্রবাদের ব্যাপারটা কী? আর তার সঙ্গে জল, বৃষ্টি, আবহাওয়ার কী সম্পর্ক? বিলাসবাবু বললেন, আবহাওয়া সম্পর্কে কোনও হিব্রু প্রবাদ আছে। নাকি?

    ইতিমধ্যে জগা এসে চায়ের কঁকা গেলাসগুলো তুলে নিয়ে গেল। আরেকবার মোমবাতি নিবল, আরেকবার জ্বালানো হল। জগার মা এসে বলল, বাদলার জন্যে আজ তাড়াতাড়ি দোকান বন্ধ করবে। যদি আর চা লাগে এখনই দিয়ে যাবে।

    প্রভাকরবাবু সঙ্গে সঙ্গে সকলের জন্যে আরেক রাউন্ড চা এবং চানাচুর আদেশ করলেন। তারপর বললেন, আপনারা এতক্ষণ এই বৃষ্টিটা ভাল না খারাপ তাই নিয়ে তর্ক করলেন। তাই শুনে আমার ওই হিব্রু প্রবাদটার কথা মনে পড়ল। আর সেই সঙ্গে একটা গল্প।

    উকিলবাবু জেরার ভঙ্গিতে প্রশ্ন করলেন, হিব্রু প্রবাদে এই বৃষ্টি সম্পর্কে কী বলেছে, ভাল না খারাপ? প্রভাকরবাবু বললেন, বৃষ্টি সম্পর্কে হিব্রু প্রবাদে কিছু বলা নেই। প্রবাদটার কথা হল, যা ভাল তাই খারাপ আর যা খারাপ তাই ভাল। যেমন এই বৃষ্টিটা ভাল আবার খারাপও বটে।

    বিলাসবাবু আর আমি সমস্বরে বললাম, এ আবার কী হেঁয়ালি?

    প্রভাকরবাবু বললেন, দেখুন হেঁয়ালি-পেঁয়ালি নয়। প্রবাদটা বোঝাবার জন্যে আমি একটা ঘটনা বলছি।

    আমরা এটাই আশা করেছিলাম, এবার চুপ করে প্রভাকরবাবু কী বলেন শুনতে লাগলাম।

    প্রভাকরবাবু বলতে লাগলেন, ধর্মতলার পূর্বদিকের শেষ মাথায় সানরাইজ বার বলে একটা জায়গা ছিল আমাদের মদ খাওয়ার আড্ডা।

    আমি বললম, সানরাইজ বার নামে কোনও কিছু ওদিকে দেখিনি তো। প্রভাকরবাবু বললেন, আগে গল্পটা শুনুন। এটা অনেকদিন আগের কথা। যে জায়গায় বারটা ছিল সে জমিতে এখন এগারোতলা বাড়ি উঠেছে।

    প্রভাকরবাবুকে আমরা আর বাধা দিলাম না। তিনি বললেন, ওই সানরাইজে একসময় আমি সন্ধ্যা থেকে রাত এগারোটা পর্যন্ত আড্ডা দিতুম। আড্ডা মানে মদ্যপান। তবে কখনও মাতাল হতুম না।

    আমরা কেউ কেউ তাঁর এ কথায় মুচকিয়ে হাসলাম, কিন্তু মোমবাতির সামান্য আলোয় প্রভাকরবাবু হয়তো সেটা দেখতে পেলেন না।

    যা হোক, চা এসে গিয়েছিল, চায়ের গেলাসে চুমুক দিতে দিতে প্রভাকরবাবু বলতে লাগলেন, সানরাইজে বসন্ত সেন বলে এক ভদ্রলোকের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হয়েছিল। দুজনে এক টেবিলে বসে প্রতিদিন সন্ধ্যায় মদ খেতাম। বেশ হৃদ্যতা হয়েছিল। শুনেছিলাম সে কোথায় এক কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কে কাজ করে। হঠাৎ একদিন বসন্ত এল না। তারপর, সে আর এলই না। কানাঘুষো শুনলাম, সে নাকি কোঅপারেটিভ থেকে লাখখানেক টাকা সরিয়ে উধাও হয়েছে। এরপরে তার আর খোঁজ পেলাম না। তাকে ভুলেই গিয়েছিলাম। হঠাৎ গতবার আগ্রায় বেড়াতে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা। স্টেশনের থেকে তাজমহলে যাওয়ার পথে বাজারের মোড়টায় একটা মদের দোকান আছে, সাজাহান ওয়াইন শপ, সেখানে এক পাঁইট রাম কিনতে গেছি। দেখি কাউন্টারে বসন্ত সেন। এতদিন বাদে হলেও আমি তাকে একবার দেখেই চিনতে পারলাম। সেও চিনতে পারল, মোটেই আত্মগোপনের চেষ্টা করল না। বরং সন্ধ্যায় তার বাড়িতে নিমন্ত্রণ করল। হোটেলে উঠব ভেবেছিলাম। সুটকেসটা হাতেই ছিল, সেটা তার দোকানে নামিয়ে বাড়ির ঠিকানা নিয়ে রিকশায় করে তাজমহল দেখতে চলে গেলাম। বললাম তাজমহল দেখেশুনে সরাসরি তার বাড়িতে সন্ধ্যায় চলে যাব।

    ইতিমধ্যে চা পান এবং চানাচুর খাওয়া শেষ হয়েছে। বাইরে বৃষ্টির জোর আরেকটু বেড়েছে। শীতের রাতের বৃষ্টি সহজে হয়তো ছাড়বে না। আমরা কেউ কেউ উঠি উঠি করছিলাম। বাড়িতে যদি আবহাওয়ার মেজাজ বুঝে খিচুড়ি-টিচুড়ি রান্না হয় তাহলে সময়মতো না পৌঁছালে গোলমাল আছে।

    কিন্তু প্রভাকরবাবু গল্পটা ভাল ধরেছেন। বসন্ত সেনের গল্পটা জমবে বলেই মনে হচ্ছে, তা ছাড়া গল্পের মধ্যপথে ওঠাটা ঠিক ভদ্রতাও নয়।

    সন্ধ্যায় গেলাম বসন্ত সেনের বাড়িতে। প্রভাকরবাবু বলতে লাগলেন, বসন্ত আগেই চলে এসেছিল। দেখলাম বাসায় সে একাই থাকে। এক মধ্যবয়সি দেহাতি কাজের মেয়ে আছে, নাম বোধহয় জানকী। জানকী সধবা না বিধবা না অবিবাহিতা কিছুই বোঝা গেল না। তবে বুঝলাম রান্না বান্না থেকে সংসারের সব কিছুই সে করে।

    একটা ছোটগলির একদম শেষে একটা ছোট একতলা বাড়ি, গেটে নেমপ্লেট রয়েছে এস বসন্ত (S. Vasanta)। বুঝলাম নামটা একটু ঘুরিয়ে দিয়েছে সে, সেনকে এস করে বসন্ত নামটাকে উপাধি বানিয়েছে। আত্মরক্ষার জন্যে বোধহয় এটা প্রয়োজন ছিল। নেমপ্লেটে নামের নীচে লেখা রয়েছে ওয়াইন মার্চেন্ট।

    বসন্ত কিন্তু খুব সমাদর করল। বাড়িতে আসার পথে একটা দোকান থেকে মাংসের বড়া আর কাবাব নিয়ে এসেছে। আমি পৌঁছে যাওয়ার পর সে সেগুলো উঠোনে একটা ছোট জনতা স্টোভে গরম করতে লাগল। জানকী মাছ-মাংস ছোঁয় না, শুদ্ধাচারী। তাই এই ব্যবস্থা।

    সে যা হোক, বসন্ত বড় এক বোতল ফৌজি রামও এনে রেখেছিল। একটু পরে গেলাস, বোতল, জল এই সব নিয়ে দুজনে পরিপাটি করে বসলাম। প্লেটে প্রচুর পরিমাণে মাংসের বড়া এবং কাবাবও রইল।

    কোনও কিছুরই অভাব নেই। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুজনের অন্তরঙ্গ আড্ডা জমে উঠল। কথায় কথায় পুরনো প্রসঙ্গও উঠল। বসন্ত কিছুই রাখঢাক না করে নিজের কথা সব বলতে লাগল।

    এই সময় হঠাৎ আলোটা জ্বলে উঠল, বিদ্যুৎ ফিরে এসেছে। সন্ধে কাবার করে রাতের দিকে এগোচ্ছে সময়। আলো জ্বলতে অনেকেই হাতঘড়ির দিকে তাকাল। সন্ধ্যা সমিতির দেয়ালেও একটা ওয়াল-ক্লক আছে। অভ্যাসমতো সেটার দিকে তাকিয়ে নিজের হাতঘড়ির সময় মনে মনে মিলিয়ে দেখা আমার অনেকদিনের অভ্যেস। দেখলাম দুটোতেই প্রায় সাড়ে আটটা বাজে। বৃষ্টির সন্ধ্যায় এর চেয়ে বেশি দেরি না করাই ভাল। যেকোনও সময় আরও বৃষ্টি আসতে পারে।

    আমি উঠতে যাব এমন সময় হেডমাস্টার পরেশবাবু প্রভাকরবাবুকে ধরলেন, আপনি যে তহবিল তছরুপের গল্প ধরেছেন মশায়, তার মধ্যে আবার মদও এনে ফেলেছেন। গোড়ায় বললেন যা ভাল তাই খারাপ, এই বৃষ্টিটা ভালও বটে, খারাপও বটে। এখন অন্য গল্প ধরলেন কেন?

    পরেশবাবু আমাদের সকলের মনের কথাই বলেছেন। আমরাও এই কথাই ভাবছিলাম।

    প্রভাকরবাবু পরেশবাবুর কথার জবাবে বললেন, যা ভাল তাই খারাপ। যা খারাপ তাই ভাল। সেই কথাই তো বলছি। বুঝতে পারছি বৃষ্টির জন্যে আপনাদের বাড়ি যাওয়ার তাড়া আছে। অল্প একটু ধৈর্য ধরুন। গল্পটা এখনই গুটিয়ে আনছি।তারপর প্রভাকরবাবু একটু ইতস্তত করে বললেন, আরেক কাপ চা হলে ভাল হত, তাই না?

    কিন্তু চায়ের আর উপায় নেই। একটু আগে জগা এসে আগের খালি গেলাসগুলো নিয়ে চলে গেছে। তাদের দোকান এখন বন্ধ।

    তবু প্রভাকরবাবুর আন্তরিকতা দেখে আরেকটু বসে গেলাম। যদি দশ-পনেরো মিনিটের মধ্যে গল্পটা মিটে যায়, দেখাই যাক না।

    প্রভাকরবাবু বললেন, চা তো হল না। আপনারা যদি অনুমতি করেন এবার তবে গল্পটা হোক। বলেছিলাম না, যা ভাল তাই খারাপ। এবার গল্পটায় সরাসরি যাচ্ছি। বুঝতে পারবেন কথাটার মানে।

    আমরা আর বাধা দিলাম না। এখন যত তাড়াতাড়ি শেষ করে ততই মঙ্গল।

    প্রভাকরবাবু আমাদের মনোভাব বুঝতে পেরেছিলেন। জানকী আর বসন্ত সেনকে নিয়ে একটা রসালো গল্প বোধহয় তার জিভের ডগায় সুড়সুড় করছিল। প্রভাকরবাবু বললেন, জানকীর ব্যাপারটা আজ না হয় থাক। বসন্তের সেই ভাল খারাপের ব্যাপারটা বলি।

    ভাল খারাপের ব্যাপারটা আমরা যত সোজা ভেবেছিলাম প্রভাকরবাবুর গল্পে কিন্তু ব্যাপারটা জটিল হয়ে গেল।

    আমি কারুকার্য করতে যাব না। প্রভাকরবাবুর লাইনেই গল্পটা বলি। সে লাইনটা আমার লাইনের চেয়ে খারাপ নয়।

    প্রভাকরবাবু বললেন, বসন্তের সঙ্গে নানা সুখদুঃখের গল্প হল। সে বলল, তহবিল তছরুপ না করে কোনও উপায় ছিল না। কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কে যা মাইনে-টাইনে পেতুম তাতে কায়ক্লেশে খাওয়া-দাওয়া চলে যেত কিন্তু এই মদের নেশাটা ধরে বেকায়দায় পড়ে গেলুম। সামান্য চাকরির টাকায় তো আর মদের খরচা চলে না। আমি অল্প অল্প ক্যাশ ভাঙতে লাগলুম। বছর খানেকের মধ্যে টাকার অঙ্কটা প্রায় তিরিশ হাজারে পৌঁছল। তখন রেস খেলতে শুরু করলাম এই আশায় যে রেসে জিতে যদি টাকাটা তুলতে পারি। সে তো হলই না বরং আরও হাজার কুড়ি টাকা গচ্চা গেল। তখন দেখলাম আর বেশিদিন ব্যাপারটা লুকিয়ে রাখা যাবে না, ধরা পড়বই, জেলে যাবই; সব রকম। ভেবেচিন্তে ক্যাশে বাকি যা হাজার পঞ্চাশেক টাকা ছিল সেটা নিয়ে কেটে পড়লাম।

    প্রভাকরবাবু থামলেন। গল্পটা শেষমেশ মোটেই জমল না। আমরা উঠতে যাচ্ছিলাম। এই এক মামুলি টাকা চুরির গল্পের জন্যে এত সব কায়দা, যা-ভাল তাই-খারাপ, হিব্রু প্রবাদ। আমি মনে মনে ঠিক করলাম আগামীকাল থেকে প্রভাকরবাবু গল্প আরম্ভ করলেই বাধা দেব।

    কিন্তু প্রভাকরবাবুর মুখ দেখে মনে হল, আজকের গল্পটাই এখনও শেষ হয়নি। তিনিও নিঃশব্দে হাত তুলে আমাদের একটু অপেক্ষা করতে বললেন, জানালেন যে এর পরে আর গল্প বিশেষ নেই শুধু তার সঙ্গে সেই রাতে বসন্ত সেনের যা বাক্যালাপ হয়েছিল সেটুকু শুনলেই হয়ে যাবে।

    .

    প্রভাকরবাবুর গল্প লিখছি আমি। প্রভাকরবাবু বলছেন বসন্ত সেনের কথা। ব্যাপারটা খুব জটিল হয়ে যাচ্ছে। তাই আমি এরপর পাঠক পাঠিকাদের সুবিধার্থে সরাসরি প্রভাকরবাবু কথিত বসন্তবাবুর ও প্রভাকরবাবুর বাক্যালাপ তুলে ধরছি।

    প্রভাকরবাবু: বসন্ত তুমি ওই টাকা নিয়ে কোথায় গেলে? পুলিশে তোমাকে ধরার চেষ্টা করেনি?

    বসন্তবাবু: দেখুন প্রভাকরদা, নিজে থেকে ধরা না দিলে কিংবা আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব ধরিয়ে না দিলে এসব কেসে পুলিশ কাউকে ধরার চেষ্টা করে না। আমি টাকা নিয়ে চলে এলাম এখানে আগ্রায়। পাশেই একটা দেহাতে ঘরভাড়া নিয়ে চুরির টাকায় দশটা দুধেল গোরু কিনলাম। দুধের ব্যবসা শুরু করে দিলাম।

    প্রভাকরবাবু: ভাল।

    বসন্তবাবু: ভাল আর কী বলছেন দাদা। দুধের ব্যবসায় খুব লাভ হতে লাগল।

    প্রভাকরবাবু: খুব ভাল।

    বসন্তবাবু: কিন্তু হঠাৎ গোমড়ক শুরু হল। সে এক সাংঘাতিক ব্যাপার। এক রাতে আমার দশটা গোরুই মরে গেল।

    প্রভাকরবাবু: খুব খারাপ।

    বসন্তবাবু: কিন্তু কিছুই ক্ষতি হল না আমার। তাজা গোরুর চেয়ে মড়া গোরুর চামড়ার দাম বেশি। ওই মরা গোরুগুলো কশাইয়ের কাছে বেচে ষাট হাজার টাকা পেলাম।

    প্রভাকরবাবু: ভাল।

    বসন্তবাবু: তা ছাড়া সরকার থেকে কয়েক মাস পরে ক্ষতিপূরণ পেলাম।

    প্রভাকরবাবু: খুব ভাল।

    বসন্তবাবু: তখন আর দুধের ব্যবসায় গেলাম না। চোলাই মদের ব্যবসা আরম্ভ করলাম। রমরমা কারবার শুরু হল।

    প্রভাকরবাবু: ভাল।

    বসন্তবাবু: একদিন পুলিশ এসে আমাকে থানায় ধরে নিয়ে গেল।

    প্রভাকরবাবু: খুব খারাপ।

    বসন্তবাবু: খারাপ আর কী? থানার বড়বাবুকে ব্যবসার পার্টনার করে নিলাম। ব্যবসা আরও জমে উঠল।

    প্রভাকরবাবু: ভাল। খুব ভাল।

    বসন্তবাবু: এবার ঠিক করলাম বিয়ে করব। খুব সুন্দরী এখানকার একটা পাত্রী দেখে বিয়ে করেই ফেললাম।

    প্রভাকরবাবু: খুব ভাল।

    বসন্তবাবু: কিন্তু মেয়েছেলেটা বড় দজ্জাল। বিয়ের সাত দিনের মধ্যে গালাগাল ঝগড়াঝাটি, এক মাসের মধ্যে মারধোর শুরু করল, ঝাটা দিয়ে, খুন্তি দিয়ে, চেলা কাঠ দিয়ে, এখনও শরীরে কালশিটের দাগ আছে।

    প্রভাকরবাবু: খারাপ। খুব খারাপ।

    বসন্তবাবু: এর মধ্যে একটা বাড়িও তৈরি করে ফেলেছিলাম। খুব সুন্দর দোতলা বাড়ি। ফুল গাছ, লন।

    প্রভাকরবাবু: খুব ভাল। ব

    সন্তবাবু: কিন্তু বউয়ের যন্ত্রণায় বাড়িতে টিকতে পারতাম না। বাড়িতে ঢুকতে গেলেই চেলাকাঠ ছুঁড়ে মারত, দোতলা থেকে গরমজল গায়ে ফেলার চেষ্টা করত। আর চেঁচামেচি, চৌদ্দপুরুষ উদ্ধার, মোগলাই গালিগালাজ, জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠল। এক মুহূর্ত বাড়িতে টিকতে পারছিলাম না।

    প্রভাকরবাবু: খারাপ।

    বসন্তবাবু: বাড়িটায় হঠাৎ একদিন আগুন লেগে গেল। আগুনে বাড়িটা সম্পূর্ণ পুড়ে গেল।

    প্রভাকরবাবু: খুব খারাপ।

    বসন্তবাবু: কিন্তু বাড়িটা ইনসিওর করা ছিল। দু লাখ টাকা পেয়ে গেলাম।

    প্রভাকরবাবু: ভাল।

    বসন্তবাবু: বাড়িটার সঙ্গে দজ্জাল বউটাও পুড়ে মরল। তার ইনসিওর থেকে আরও দেড় লাখ টাকা পেলাম।

    প্রভাকরবাবু: খুব ভাল।

    .

    এই ভাল, খুব ভাল, খারাপ, খুব খারাপ কতক্ষণ ধরে চলত বলা কঠিন। এই সময়ে হঠাৎ আবার লোডশেডিং হল, আলো নিবল। আমরা প্রভাকরবাবুকে আর সুযোগ না দিয়ে দ্রুত উঠে পড়লাম।

    এ বৃষ্টি সহজে থামবে বলে মনে হচ্ছে না। অন্ধকার রাস্তায় ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে তাড়াতাড়ি বাড়ির দিকে যেতে যেতে রাস্তায় বিলাসবাবুকে বললাম, এই বৃষ্টিটা ভাল না খারাপ কিছুই জানা গেল না। পিছনেই প্রভাকরবাবু ছিলেন, অন্ধকারে টের পাইনি, তিনি বললেন, একটা হিব্রু প্রবাদে আছে। ..তাকে কথা শেষ করতে দিলেন না বিলাসবাবু, দ্রুত পা চালাতে চালাতে বললেন, খুব ভাল, না খুব খারাপ?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখাজুরাহ সুন্দরী
    Next Article কীর্তিহাটের কড়চা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    তারাপদ রায়

    রম্যরচনা ৩৬৫ – তারাপদ রায়

    August 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }