Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সরস গল্প সমগ্র – তারাপদ রায়

    তারাপদ রায় এক পাতা গল্প1280 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রাঁধি মাছ না ছুঁই তেল

    রাঁধি মাছ না ছুঁই তেল

    আটত্রিশ বছর। হিসেব করলে আটত্রিশ বছরের চেয়েও বেশি। আটত্রিশ বছর, সাত মাস, এগারো দিন। এই এতদিন চাকরি করার পরে সুশোভন পাল অবশেষে অবসর গ্রহণ করলেন। ছোট চাকরিতে সাড়ে একুশ বছর বয়েসে টুক করে ঢুকে পড়েছিলেন পিসেমশায়ের দৌলতে। চাকরির কোনও স্থায়িত্ব ছিল না। স্টপ-গ্যাপ চাকরি, মানে অন্যের জায়গায় কাজ করা। সব সময়েই শুনতেন, সামনের মাসে কাজ চলে যাবে।

    তা যায়নি। সরকারি অফিস, তার অনেক আইনকানুন। বছর তিনেক স্টপ-গ্যাপ থাকার পরে। একদিন টেম্পোরারি হলেন। আবার বছর দুয়েক, এবার কোয়াসি পার্মানেন্ট। অবশেষে একদিন পার্মানেন্ট।

    সেই সময়েই পে কমিশন এসে মাইনের স্কেল ভাল করে দিল। তারপর দু-চার দশ বছর অন্তর ছোট ছোট প্রমোশন পেয়ে শেষ পর্যন্ত একটু মাঝারি গোছের পদস্থ অফিসার হয়ে সুশোভনবাবু রিটায়ার করলেন। সেও প্রায় এক বছর হয়ে গেল।

    চাকরি, ছোট থেকে মাঝারি, যাই হোক সারা জীবন ধরে গাধার মতো হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেছেন সুশোভন। অফিসের সবাই বলত, পালবাবু খাটেন খুব।

    সরকারি চাকরি সাধারণত এত পরিশ্রম করে কেউ করে না। কথায় আছে না–

    আসি যাই মাইনে পাই
    কাজ করলে উপরি চাই।

    অবশ্য উপরির দিকে ঝোঁক ছিল না সুশোভন পালের। তবে কোনও কাজ হয়ে গেলে কেউ খুশি হয়ে কিছু দিলে শেষের দিকে সেটা নিতেন। কখনও কেউ একটা বড় মাছ পাঠিয়ে দিল বাসায়। কখনও বা এক হাঁড়ি মিষ্টি। নগদ টাকা কখনও নেননি। সেটা পুরোপুরি ঘুষ। একবার শীতকালে একজন একটা শাল উপহার দিয়েছিল, সেটাই সারাজীবনে সবচেয়ে মূল্যবান উপরি।

    তবে অল্প বয়েসে এই ধরনের উৎকোচও গ্রহণ করেননি তিনি। দু-চারবার লোকে লোভ। দেখাতে গিয়ে তিরস্কৃত হয়েছে। খুব যে খারাপভাবে গালাগাল করতেন তা নয়, তবে শক্তভাবেই। বুঝিয়ে দিতেন, যথাসময়ে কাজ হবে এবং এই কাজের জন্যে কোনও টাকাপয়সা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

    বহুদিন আগের একটা কথা মনে পড়লে এখনও পালবাবুর হাসি পায়। একবার এক লেখককে তিনি গল্পটা বলে দিয়েছিলেন। আর লেখকের যা স্বভাব, পরের সপ্তাহেই ভদ্রলোক কাগজে লিখে গল্পটা বারোয়ারি করে দিলেন।

    গল্পটা একটা চিঠি নিয়ে। আর সেই চিঠিটা একটা সামান্য পোস্টকার্ড। এসেছে মফস্সল থেকে কলকাতায়। আসানসোল অঞ্চলের এক ভদ্রলোক তার ভাইপোকে চিঠিটা লিখেছেন। ভদ্রলোকের একটা বৈষয়িক ব্যাপারে তদবির আছে সুশোভনবাবুদের অফিসে, নথিটা সুশোভনবাবুই ডিল করেন। ভদ্রলোক নিজেই দুয়েকবার অফিসে এসেছেন। যথারীতি সুশোভনবাবু খুব একটা পাত্তা দেননি, মিথ্যে আশ্বাসও দেননি। বলেছিলেন, সময়মতো দেখব।

    ভদ্রলোকের ভাইপো কাকার চিঠি নিয়ে অফিসে এসেছেন ব্যাপারটার খোঁজখবর নিতে।

    ভাইপোটির বয়স বছর পঁচিশ-তিরিশ হবে। তখনকার সুশোভনবাবুর সমবয়সিই হবেন। সেই ভদ্রলোক কাকার পোস্টকার্ড হাতে করে নিয়ে এসেছেন, তাতে ফাইল নম্বর, প্রয়োজনীয় বিষয়, কোন কেরানির কাছে নথিটি রয়েছে ইত্যাদি সব তথ্য দেওয়া আছে। শুধু একটা ব্যাপারে খটকা লাগল সুশোভনবাবুর, ভাইপো ভদ্রলোক খুব শক্ত করে পোস্টকার্ডটা হাতে ধরে রেখেছেন, কিছুতেই আলগা করে রাখছেন না কিংবা চিঠিটা উলটোচ্ছেন না।

    কী খেয়াল হল সুশোভনবাবুর, ভাইপো ভদ্রলোক সুশোভনের পাশে দাঁড়িয়ে পোস্টকার্ডটা ধরে কাকার নথিটার বিষয়ে কথা বলছিলেন, তিনি কিঞ্চিৎ অন্যমনস্ক হতেই সহসা এক ঝটকায় ভদ্রলোকের হাত থেকে চিঠিটা ছিনিয়ে নিয়ে উলটিয়ে ফেললেন।

    ভাইপো ভদ্রলোক, আ হা হা, আ হা হা, করেন কী, করেন কী? বলতে বলতেই সুশোভন পোস্টকার্ডের উলটো পিঠটা পড়ে ফেললেন। সেখানে লেখা আছে, ওই কেরানিবাবু, সুশোভন পাল, পালবাবু অতিশয় বিপজ্জনক লোক। ঘুষ খান না, কাজও করেন না। পালবাবুকে টাকা দেওয়ার চেষ্টা করিবে না, তাহাতে হিতে বিপরীত হইবে। বরং তাঁহাকে তোষামোদ করিয়া যদি কাজ হাসিল করিতে পার, তাহাই চেষ্টা করিবে। অতি সাবধানে এই কার্য সমাধান করিবে।
    ইতি
    চিরআশীর্বাদক
    বিপদভঞ্জন চক্রবর্তী

    বিপদভঞ্জনের বিপদ অবশ্য যথাসময়ে কেটে গিয়েছিল। কিন্তু এই সামান্য ঘটনার মধ্যেই সুশোভন পালের চারিত্রিক ছায়া, বলা যায়, সুশোভন পাল নামক এক নিতান্ত সাধারণ মানুষের চেহারাটাই পাওয়া যাবে।

    আসল রক্তমাংসের মানুষটার চেহারা ভাল, উচ্চতা সোয়া পাঁচ ফুট, গায়ের রং শ্যামবর্ণ, চুল কোঁকড়া, ওজন পঞ্চাশ কেজি।

    এটা সেই চাকরিতে ঢোকার সময়ের হিসেব। এখনকার হিসেব প্রথম দুটো ঠিকই আছে, কিন্তু চুল কোঁকড়ার বদলে হবে মাথায় বিশাল টাক, ওজন পঞ্চাশ কেজির বদলে অন্তত আশি কেজি।

    .

    শুধু সুশোভনবাবুর সঙ্গে জানবুঝ করার জন্য এই কাহিনিতে এত দীর্ঘ গৌরচন্দ্রিকা প্রয়োজন হল।

    আগেই বলেছি, সুশোভনবাবু গত বছর অবসর গ্রহণ করেছেন। যেমন হয়, প্রায় কিছু বুঝবার আগেই তার ষাট বছর পূর্ণ হয়ে অবসরের দিন ঘনিয়ে এল।

    যথারীতি, রবীন্দ্রনাথের সঞ্চয়িতা এক কপি, এক বাক্স ভাল সন্দেশ, একটি তসরের চাদর আর একটি বেতের লাঠি, সেই সঙ্গে গলায় একটা ভারী বেলফুলের মালা।

    বিদায় সভা ভালই হল। উদ্বোধনী সংগীত গাইলেন হেড টাইপিস্ট রাবেয়া চৌধুরী, তোমার সমাধি ফুলে ফুলে… এরপর সহকর্মীদের বক্তৃতা, স্মৃতিচারণা। পঁচিশ বছর আগে সিঁড়ির নীচে একটা সদ্যপ্রসূতি মেনি বেড়াল আচমকা সুশোভনবাবুকে কামড়িয়ে দিয়েছিল। একজন সে ঘটনা বললেন।

    ব্যাপারটা সুশোভনবাবু ভুলেই গিয়েছিলেন। আজ বক্তৃতা শুনে মনে পড়ল। পরিষ্কার মনে পড়ল, সেই মা বেড়ালটা ছিল ডোরাকাটা, কিন্তু তার বাচ্চা দুটোর একটা হয়েছিল ফুটফুটে সাদা, আরেকটা সাদাকালো।

    পুরনো বন্ধু গোপীবাবু খুব রসিক লোক, তিনি আরেকবারের কথা বললেন। সেবার সুশোভন নতুন বড়সাহেবকে চিনতে না পেরে অফিসের প্যাসেজ দিয়ে বড়সাহেব যাওয়ার সময় সিগারেট ধরানোর জন্য দেশলাই চেয়েছিলেন, দাদা, একটু দেশলাই হবে?

    বড়সাহেবরা এ জাতীয় অনুরোধ রক্ষা করেন না। কিন্তু ইনি একটু বেশি রক্ষা করেছিলেন। নিজের চেম্বারে গিয়ে বেয়ারাকে দিয়ে এক ডজন দেশলাইয়ের একটা প্যাকেট কিনে সুশোভনবাবুকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।

    যাক, এসব কথা।

    অবসর তো হয়ে গেল, সুশোভন পাল, সহকারী অধিকর্তা। বিদায় সভার শেষে অফিস থেকে বেরিয়ে এলেন এক হাতে পাকানো বেতের লাঠি, অন্য হাতে চাদর আর সন্দেশের বাক্স। সঞ্চয়িতাটা এক সহকর্মী পড়ার জন্যে ধার নিয়েছেন, তার মেয়ে খুব কবিতা পড়তে ভালবাসে। বলেছেন, সাতদিনের মধ্যে ফেরত দেবেন। তবে কস্মিনকালেও ফেরত পাবেন, এ আশা তিনি রাখেন না।

    ভাবতে ভাবতে বাড়ি ফিরলেন সুশোভন পাল। বাড়িতে ফিরেও ভাবতে লাগলেন। কত রকম কথা। অফিসে প্রচুর খেটেছেন। ছুটি, বিশ্রাম এসব প্রায় ছিলই না।

    অফিসে আগে ছিলেন পালবাবু, শেষজীবনে অফিসার হয়েছিলেন, অফিসিভাষায় সাহেব। কিন্তু তখনও তাঁকে কেউ পালসাহেব বলেনি, পালবাবুই বলেছে।

    এসব কি গৌরবের কথা? অনেক কিছু ভাবেন সুশোভন।

    এখন তার হাতে অখণ্ড অবসর। শূন্যগৃহে প্রবীণা গৃহিণী। ছেলেমেয়েরা এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। খোঁজখবর নেয়, কিন্তু কদাচিৎ আসে।

    সুশোভন প্রথমে ভেবেছিলেন, সময় কাটানো খুব একটা সমস্যা হবে না। ঘুমিয়েই দিন কাটিয়ে দেবেন। আঃ! কতকাল ভাল করে ঘুমনো হয়নি।

    পরপর কয়েকদিন বেশ ভালই ঘুমলেন সুশোভন। ঘুমের একটা মাদকতা আছে, নেশার মতো ব্যাপার আছে। এক ঘুম থেকে অন্য ঘুম, অন্য ঘুম থেকে আরেক ঘুম এই ভাবে ঘুমের ওপর ভাসতে ভাসতে দিনের পর দিন। মোটামুটি ঠিকঠাক চলছিল, সকালে ঘুম থেকে উঠে হাতমুখ ধুয়ে খবরের কাগজ, চা-জলখাবার। তারপর প্রভাত নিদ্রা। বারোটা নাগাদ ঘুম থেকে উঠে স্নান খাওয়া। তারপর যাকে বলে দিবানিদ্রা। এরপর বিকেলে চা খেয়ে পাড়াটা একটু চক্কর দিয়ে, এসে একটু টিভি দেখে কিঞ্চিৎ তন্দ্রা। ঘণ্টাখানেক পরে চোখে মুখে জল দিয়ে নৈশাহার।

    কিন্তু ব্যাপারটা অল্পদিনেই একঘেয়ে হয়ে উঠল। তা ছাড়া একটা লোকের পক্ষে কত ঘুমনো সম্ভব। কয়েকদিন পরে সকালে ঘুমলে বিকেলে ঘুম আসে না। বিকেলে ঘুমলে রাতে ঘুম আসে না।

    এদিকে এত ঘুমনো দেখে পালগৃহিণী চিন্তিতবোধ করলেন। বাল্যবয়সে মহিলার শখের বেড়াল বেশি ঘুমিয়ে মরে গিয়েছিল। ডাক্তাররা বলেছিলেন, অসুখের নাম নিদ্রারোগ।

    পালগৃহিণীর দুশ্চিন্তা হল পতিদেবতা সেইরকম কোনও নিদ্রারোগে পড়েছেন কিনা। ডাক্তার ডাকা হল। তিনি ব্যাপারটাকে পাত্তা দিলেন না। তিনি বললেন, ও কিছু নয়। জানেন তো ছড়া আছে–

    কথায় কথা বাড়ে।
    টাকায় বাড়ে টাকা।
    ঘুমে ঘুম বাড়ে।
    ফাঁকায় ফাঁকা ফাঁকা ৷

    নাড়ি, প্রেসার কিছুই না দেখে, শুধুমাত্র এই ছড়াটি বলে ডাক্তারবাবু আশিটাকা ভিজিট নিয়ে বিদায় হলেন। অবশ্য ওই আশিটাকার মধ্যে যাওয়ার আগে অন্য এক রোগীর একটা গল্প বলে গেলেন।

    রোগী একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। সুতরাং সে তো শুধু ঘুমবেই। সারা জীবন অফিসে ঘুমিয়ে কাটিয়েছে। এখন নিজেকে শোধরাবে কী করে।

    এই বলে সেই পুরনো গল্পটা বললেন

    জনৈক সরকারি কর্মচারী দেরি করে অফিসে এসেছেন। ওপরওলা দেরির কারণ জিজ্ঞাসা করায় সে বলল, কাল রাতে সিনেমা দেখতে গিয়ে দেরি হয়ে যায়, আজ ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে চা-টা খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। এ কথা শুনে সেই ওপরওলা আকাশ থেকে পড়লেন, সে কী মশায়, আপনি কি বাড়িতেও ঘুমন নাকি?

    যাই হোক ঘুমের সাগর পাড়ি দিয়ে শেষপর্যন্ত বাস্তবের ডাঙায় উঠতে হল সুশোভনবাবুকে।

    সময় কাটানোর নানা উপায়, ফন্দিফিকির খুঁজতে লাগলেন তিনি।

    প্রথমে চেষ্টা করলেন, স্ত্রীর সঙ্গে রান্নাঘরে কাজ করে সময় কাটিয়ে দেওয়ার, ভদ্রমহিলা তো চমৎকার একটা জীবন কাটিয়ে দিলেন রান্নাঘরে। কিন্তু সেই সংকীর্ণ এলাকা থেকে অপমানিত হয়ে বিতাড়িত হলেন সুশোভন। এ কাহিনি বিশদ করে বলার কিছু নেই, যে কোনও পুরুষমানুষ রান্নাঘরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

    এরপর টিভির দিকে মনোযোগ দিলেন সুশোভন। এখন তো একশো আটটা চ্যানেল, অষ্টপ্রহর টিভি চলছে। দিনরাত বিরামবিহীন।

    যতক্ষণ জেগে থাকেন টিভি দেখেন সুশোভন। যে চ্যানেলে যখন যা হয় সবকিছু। ইতিহাস ফিসফাস কথা কয় থেকে ও পাগলমন বাউলগান। দেখে দেখে হিন্দি সিনেমার নায়িকাঁদের সব চিনে ফেললেন। প্রথম প্রথম গুলিয়ে ফেলতেন কে মনীষা, কে মাধুরী, কে ঐশ্বর্য। এসব এখন সড়গড় হয়ে গেছে ওঁর। এমনকী কখন মারামারি আসবে, কখন নাচাগানা আসবে, সব ধরতে পারেন। এরপর আর রোমাঞ্চ রইল না।

    এর ওপরে বহুক্ষণ ধরে দূরদর্শন দেখায় এবং অভ্যাসের অভাবে কয়েকদিন বাদেই তার চোখ টনটন করতে লাগল এবং খুব মাথা ধরতে লাগল।

    অগত্যা দূরদর্শন ছেড়ে সুশোভনবাবু খবরের কাগজে মনোনিবেশ করলেন। সব কয়টি বাংলা খবরের কাগজ পড়া শুরু করলেন। হকারকে বলে দিলেন বাংলা দৈনিক পত্রিকা যা আছে সব দেবে।

    যদিও কোনও কোনও খবরের কাগজের দাম কিছু কমেছে তবু মাসে প্রায় তিনশো-সাড়ে তিনশো টাকা খরচ। একজন অবসরপ্রাপ্ত পেনশনারের পক্ষে টাকাটা অনেক। অবশ্য সময়টা ভাল কেটে যায়।

    আজকাল খবরের কাগজে খবর ছাড়াও সাহিত্য, শিল্প, বিনোদন নানারকম লেখা বেরোয়। সুশোভনবাবু জানেন, এসব লেখায় যেমন সময় কাটে তেমনিই অল্পবিস্তর আয় হয়। তার অফিসের একটি ছোকরা গল্প লিখত। মাঝেমধ্যেই বেশ গর্বের সঙ্গে পাঁচশো টাকার চেক দেখাত। গল্পের পারিশ্রমিক।

    একদিস্তে ফুলস্কেপ কাগজ কিনে কোমর বেঁধে এবার গল্প লেখায় হাত দিলেন সুশোভন। গল্প লেখার চেষ্টায় সময় ভালই কাটতে লাগল। ঠিক অফিসের মতো সকাল দশটায় স্নান খাওয়া করে টেবিলে বসেন, বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ওঠেন।

    শুধু পালগৃহিণী গজগজ করতে লাগলেন, রিটায়ার করার পরও আমাকে অফিসের ভাত রাঁধতে হচ্ছে।

    সে না হয় হল, কিন্তু সুশোভনবাবুর গল্প একটাও হল না। সুশোভনবাবুর লিখতে লিখতে নায়ক-নায়িকার ওপর কনট্রোল চলে যায়। এটা অনেকেরই হয়, গল্প গুলিয়ে যায়।

    এদিকে তার চরিত্রদের মৃত্যুযোগ খুব বেশি। মধ্যকাহিনিতে বেশ কয়েকজন হার্টফেল করে মারা গেল। তিনজন গাড়ি চাপা পড়ে, মফসসলের স্কুল শিক্ষিকা এক নায়িকা সাপে কাটা পড়ে এবং অন্য একজন বিষ খেয়ে মারা পড়লেন। এরপরে গল্পও মারা পড়ে।

    এই সময় সুশোভনের নজরে পড়ল যে আজকাল খবরের কাগজে খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারটা খুব চালু হয়েছে। ভুরিভুরি রান্না রেসিপি, সুখাদ্যের রঙিন ছবি। যিনি যত নতুনত্ব রান্নায় দেখাতে পারছেন, তাঁর লেখা তত জনপ্রিয় হচ্ছে।

    সুশোভনবাবু দু-চারটে রন্ধনপ্রণালী পড়ে বুঝতে পারলেন, এর মধ্যে অনেকগুলো বাস্তবে সম্ভব নয়। একজন লিখেছেন কঁচা আমের সঙ্গে মানকচু সেদ্ধ মাখা বল করে আমকচুর ডালনা, অন্য একজন লিখেছেন, চিংড়িমাছের খোসা সেদ্ধ করে বেটে ময়দার সঙ্গে মিশিয়ে চিংড়ি পরোটা বানানোর কায়দা।

    সুশোভন জানতে পারলেন, হরেকরকম রান্নার বই বেরোচ্ছে। সেসব বই রমরম করে বিক্রি হচ্ছে। সেরকম কয়েকটা বই কিনে ফেললেন, তারপর নিজেই কোমর বেঁধে লেগে গেলেন রান্না নিয়ে লিখতে। তিনি স্থির করলেন, সরাসরি হেঁসেলের গৃহিণীদের উদ্দেশ্যে লিখবেন। অনেক কাটাকুটি করে, নানারকম মাথা খাটিয়ে সুশোভন প্রথমেই লিখলেন,

    ভরাবর্ষায় বাঁধাকপির ঘণ্ট

    মা লক্ষ্মীগণ, বৃথা অপব্যয় করিবেন না। শীতকালে যখন বাঁধাকপি সুলভ এবং অপর্যাপ্ত, তখন বাঁধাকপির বাইরের দিকের বড় বড় কালো কালো ঘন সবুজ পাতাগুলি আপনারা ফেলিয়া দেন। এ বিষয়ে অনেক কিছু লেখার আছে। আমি এ যাবৎকাল এরকম অপব্যয় অনেক লক্ষ করিয়াছি।

    মিষ্টি কুমড়া, যাহাকে কোথাও কোথাও বিলাতি কুমড়া বলা হয়, তাহার সুপক্ক বিচি আপনারা কি ব্যবহার করেন? এ বিচিগুলির খোসা ছাড়াইলেই একরকম হালকা, চিড়ার মতো আকারের বাদাম পাওয়া যায়, যাহার খাদ্যমূল্য পেস্তাবাদামের অপেক্ষা বেশি বই কম নহে এবং খাইতে অধিক সুস্বাদু। এই সূত্রে কঁচালঙ্কার কথাও বলিতে হয়। প্রতিদিন প্রতিগৃহে প্রচুর পরিমাণ কাঁচালঙ্কা বাটা হয়। এদিকে ঝালে-ঝোলে, ডালে-তরকারিতে আস্ত আস্ত কাঁচালঙ্কা দেওয়া হয়, যেগুলি কেউই খায় না, থালার কোনায় পড়িয়া থাকে। পরিবেশনের পূর্বেই বিভিন্ন ব্যঞ্জনের ভিতর হইতে কাঁচালঙ্কাগুলি আলাদা করিয়া চটকাইয়া লইলে, উহাতে লঙ্কাবাটার কাজ হইয়া যাইবে। অনর্থক খরচ এবং পরিশ্রম হইতে রক্ষা পাওয়া যাইবে।

    এইরূপ অপব্যয় লাঘবের বিস্তর উদাহরণ দেওয়া যায়। যেমন, লাউ, মূলা এবং আমের পরিত্যক্ত খোসার সংমিশ্রণে অল্প গুড় দিয়া প্রায় বিনামূল্যে লোভনীয় চাটনি করা যায়।

    অথবা, গতদিনের বাসি নিরামিষ তরকারি ফেলিয়া না দিয়া উহা বাসি ডালের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে জল দিয়া সিদ্ধ করিলে সকালবেলায় গরম গরম ভেজিটেবল স্যুপ খাওয়া যায়। সঙ্গে টমাটো সস থাকিলে অপূর্ব।

    অবশেষে বাঁধাকপির ঘণ্টের কথা বলিতেছি। শীতকালে বাঁধাকপির বাইরের দিকে বড় বড় প্রায় কালো, ঘন সবুজ পাতাগুলি আপনারা ফেলিয়া দেন। ভিতরের পাতাগুলি দিয়া আপনারা তরকারি রান্না করেন।

    যে পাতাগুলি বর্জন করেন, উহা কুচিকুচি করিয়া কাটিয়া রৌদ্রে ভাল করিয়া শুকাইয়া লউন। ইহার পর বায়ু নিরোধক একটি কৌটায় ভরিয়া রাখুন। আচার বা আমসত্ত্ব যেরূপ মাঝেমধ্যে রৌদ্রে দিতে হয়, সেইভাবে কয়েকবার ওই বাঁধাকপির শুষ্ক পাতা রৌদ্রে দিতে হইবে।

    পরে, বর্ষাকালে রন্ধন করিবার আগের দিন রাত্রিতে এই বাঁধাকপি জলে ভিজাইয়া রাখুন। পরের দিন কলমি শাকের সহিত মিলাইয়া আলুর টুকরো দিয়া পরিমাণ মতো নুন, ঘি, গরমমশলা দিয়া ঘন্ট তৈয়ারি করুন।

    খাইয়া দেখিলে বুঝিতে পারিবেন, ইহা সত্যিই কত উপাদেয়।

    বলা বাহুল্য, সাপ্তাহিক সুগৃহিণী পত্রিকায় এই রচনা প্রকাশিত হওয়ার পর রীতিমতো হইচই পড়ে গেল। তবে বাঁচোয়া এই যে, লেখাটি বেরোয় নববর্ষ সংখ্যায় অর্থাৎ বৈশাখ মাসে। তখন আর বড় বাঁধাকপির শীতকালের ঘন সবুজ ডাটা কোথায় পাওয়া যাবে, তার জন্যে শীতকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপর সেই কুচানো এবং শুকানো বাঁধাকপির পাতার কুচি শাক সহযোগে বর্ষাকালে ঘণ্ট হবে। সে অন্তত ষোলো মাসের ধাক্কা।

    প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, এই রচনাকে ব্যতিক্রমী চেহারা দেওয়ার জন্য সুশোভনবাবু লেখাটি সাধুভাষায় রচনা করেন। এবং আরেকটি বুদ্ধির কাজ করেন। নিজের সুশোভন পাল নাম বদল করেন, সুশোভনকে করেন শোভনা এবং পালকে করেন পালিত, অর্থাৎ শোভনা পালিত।

    পাঠক, পাঠিকা অবাক হবেন না।

    রন্ধন প্রণালীর বিখ্যাত সিরিজ, যাহা খাই তাহা ভুল করে খাই, সেই সিরিজের লেখিকা শোভনা পালিত হলেন অবসরপ্রাপ্ত সহঅধিকর্তা সুশোভন পাল। আমাদের পালবাবু।

    পুনশ্চ: গল্পে পনুশ্চের নিয়ম নেই। কিন্তু একটি খবর দিতে চাই। অবিলম্বে বেস্ট সেলার হবে শোভনা পালিতের প্রথম গ্রন্থ, রাধি মাছ, না ছুঁই তেল। তৈল বর্জিত মাছ রান্নার ষাটটি পদের সচিত্র রন্ধন প্রণালী জনপ্রিয় না হয়ে যায় না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখাজুরাহ সুন্দরী
    Next Article কীর্তিহাটের কড়চা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    তারাপদ রায়

    রম্যরচনা ৩৬৫ – তারাপদ রায়

    August 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }